মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   পরিবেশ
  একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা
  18, September, 2017, 1:51:42:PM

বশীর আহমেদ

‘রাক্ষুসী যমুনা নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল আবারো বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছেই এবং বিপদসীমার কাছাকাছির দিকেই ধাবিত হচ্ছে। উত্তরের জনপদে অন্যান্য নদ-নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রংপুর বিভাগসহ উত্তর জনপদ চলতি মওসুমে তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে’ ...সহযোগী এক পত্রিকায় এ ছিল গত সোমবার প্রকাশিত খবর। বস্তুত. নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি বিশেষ করে প্রতি বর্ষার বানভাসি হরহামেশা মিডিয়ার নজর কাড়লেও এর অন্তরালবর্তী কারণ যে নদী ভাঙন তা খুব কমই খবর হয় মিডিয়ায়। সে যাই হোক, আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব রেডক্রস এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিজ একদা এক রিপোর্টে উল্লেখ করে ‘বাংলাদেশের ১০ লাখ মানুষ প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারায়। নদীর ছোবলে তাৎক্ষণিকভাবে সব হারানো এ মানুষগুলোর মাত্র অর্ধেক কালক্রমে সাময়িক ঘর দুয়ারের ব্যবস্থা করতে পারলেও বাকী অর্ধেকের ঘরে ফেরা হয় না আর কোনদিন।’ রিপোর্টে বলা হয় ‘সর্বগ্রাসী নদী গিলে ফেলে ভিটেমাটি, প্রধানত ফসলের জমি- যার পরিমান ফি বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। এ দুর্যোগ বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সমস্যা। নদী ভাঙ্গন সমাজ-অর্থনীতিতে মারাত্বক ধস নামায়, যদিও এ নিয়ে কাউকে জোর গলায় তেমন কিছু বলতে শোনা যায় না। অথচ এটা এক মানবিক দায়িত্ব।’ নদী ভাঙ্গনে মানুষ মারা যায় না এবং রাতারাতি এটা ঘটেও না। অভ্যস্ত চোখের সামনে ঘটে নিরবে, সময় নিয়ে- মৃদুগতির প্রাণসংহারী বিষক্রিয়ার মত। যে কারণে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য বিপদের তালিকায় নদী ভাঙ্গনের দুর্যোগটি থাকে সবার শেষে। যদিও ভয়ানক এ দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে জনসংখ্যা এবং ভূমির অনুপাত ক্রমশ: ভারসাম্যহীন করে তুলেছে।
গুরুত্ব বিচারে অন্য দুর্যোগের পাশে হালকা মনে হতে পারে নদী ভাঙ্গনের বিপদটি। অথচ এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আমরা দেখছি প্রতিনিয়ত। নদী গতিপথ বদলায় আর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলে জনবসতি এবং ফসলের জমি। ভিটেমাটি হারা উদ্বাস্ত জনস্রোত জীবন বাঁচাতে হয় শহরমুখি এবং সেখানে তারা গড়ে তোলে নতুন নতুন বস্তি। এ দুর্যোগ আবহাওয়ার প্যাটার্ন বদলে দেয় এবং বাৎসরিক বন্যার কারণ সৃষ্টি করে।
নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতা খুব অল্পই খবর হয় মিডিয়াতে। যদিও প্রতি বর্ষা মৌসুমে এটা এক নিয়মিত দুর্যোগের নাম। নদীর ভাঙ্গন বদলে দেয় তার গতিপথ এবং বাস্তহারা হয় লাখ লাখ মানুষ। চলার পথে নদী গিলে ফেলে ফসলের জমি, বসত বাড়ী, স্কুল, বাজার, মসজিদ, মন্দির- যা কিছু সামনে পায়। এটা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু প্রকৃতির সংহারী এ দুর্যোগটি অন্যতম জাতীয় দুর্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে না।
আগ্রাসী নদীগুলোর শীর্ষে রয়েছে আন্ত:সীমান্তে প্রবাহমান, আচরণে বিধ্বংসী নদী গঙ্গা এবং ব্রক্ষ্মপুত্র - বাংলাদেশে যাদের পরিচিতি পদ্মা আর যমুনা। পাবনা জেলার কাজিরহাট নৌ-বন্দরের ভাটিতে আরিচা-দৌলতদিয়া পয়েন্টে তারা এক হয়েছে পানির রঙ আলাদা রেখেই। প্রতি বছর এরা সম্পদ বিনাশ করে অনেকটা নিয়ম করে। তবে যমুনাই হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বসেরা সম্পদ-বিনাশী ভাঙ্গন-প্রবণ নদী। কেবল নামের ভিন্নতা ছাড়া ভারতেও এর বিনাশী আচরণ এমনটাই । বাংলাদেশে যমুনা নদীর বিস্তৃতি গড়পড়তা ৫ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভরা বর্ষায় এ নদী প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ কিউবিক মিটার পানি সঞ্চালন করে। এর বাৎসরিক বিধ্বংসী প্রবণতা এক চিরায়ত ঘটনা যা মারাত্বক আকার ধারণ করে আগষ্টের মৌসুমী বৃষ্টিপাতের সময়। যমুনা তখন দু’কূল ছাপিয়ে ৭ মিটার উচ্চতায় উঠে প্রলয়ঙ্করী রুপ নেয়। আর এটাই হ’ল এ নদীর গতিপথ ও আকার বদলাবার চলমান ধারা যা তাকে দুর্যোগ সৃষ্টির মহানায়ক হতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৭৬২ সালে এ অঞ্চলে সংঘটিত মারাত্বক ভূমিকম্পের প্রভাবে যমুনা গতিপথ বদলায়। ‘ময়মনসিংহ-ভৈরব’ রুট বদলিয়ে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় শ’ কিলোমিটার পশ্চিম দিক দিয়ে সে হয় সোজা দক্ষিণমুখি। নতুন পথে গোয়ালন্দের ভাটিতে ভাগ্যকুলের কাছে যমুনা মিলিত হয় গঙ্গা ওরফে পদ্মা নদীর সাথে। কুড়ি শতকের মাঝে যমুনা নদীর প্রশস্ততা দাঁড়ায় গড়পড়তা প্রায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞের মতে, যমুনা নদী এক কিলোমিটার সরে যাবার অর্থ হ‘ল ১০ লাখ মানুষ সহায় সম্বলহীন হওয়া। তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভাঙ্গা বালি-মাটি মিশে যায় পানিতে। এমনিতেই যমুনার পানি হিমালয় অঞ্চলের তাবৎ পলিমাটি বহন করে। এ যেন দানব আকৃতির বৃহদাকার এক কনভেয়ার বেল্ট যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী থেকে নির্গমিত পানি আর পলিমাটি বঙ্গোপসাগরে বহন করে নেয়।
১৯৫০ সালের দ্য গ্রেট বেঙ্গল ভূকম্পন যা পৃথিবীর ইতিহাসে আজও সর্বোচ্চ কম্পনমাত্রার রেকর্ড নিয়ে আছে- নড়িয়ে দেয় হিমালয় পর্বতশ্রেণীকে। ভয়াবহ সে কম্পনে স্থানচ্যুৎ হয় হিমালয় অঞ্চলের বিশাল এলাকার ভূপৃষ্ঠ এবং প্রায় ৪৫ বিলিয়ন টন পলিমাটি নেমে আসে পানির সাথে ব্রক্ষ্রপুত্র অববাহিকায়। বিপুল বিশাল সে পলির স্তুপ ধীরে ধীরে জমতে থাকে নদীর বুকে স্থায়ীভাবে। প্রলঙ্করী সে ভূমিকম্প পরবর্তী চার দশক আসামের পান্ডু নদী বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন ভূমিকম্পের আবর্জনা বহন করেছে। বর্তমান পৃথিবীর সমুদয় বৃহদাকার কার্গো জাহাজ সম্মিলিত ভাবে এক বছরেও যা বহন করতে সক্ষম নয়।

ভূমিকম্পের পর পানিবাহিত বিপুলায়তন পলিমাটির এই হঠাৎ স্থানবদল যমুনা নদীর প্রশস্ততা বাড়াতে নাটকীয় ভূমিকা রেখেছে। পলিমাটির স্তুপ নদীর তলায় স্থায়ী আসন গেড়ে বসলে পানি বহনের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারায় যমুনা নদী এবং প্রশস্ততা বাড়াতে থাকে। এর পার্শ-প্রতিক্রিয়া দারুনভাবে বদলে দেয় নদী-তলদেশের গঠন প্রকৃতি। নদীর বুকে জেগে ওঠে বালুচর যা মূল প্রবাহকে প্রান্ত রেখার দিকে ঠেলে দিয়ে নদীর প্রশস্ততা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশাল যমুনার এ নি:শব্দ অবস্থান বদলের করুণ পরিণতিতে লাখ লাখ গরীব মানুষ সহায় সম্বলহীন হতে বাধ্য হন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যমুনা নদীর এই ভয়ানক স্বরুপ বদল এবং তার অসহায় শিকাররা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বার্ষিক পরিসংখ্যানে আজও উল্লেখহীনই থেকে গেছেন।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 212        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     পরিবেশ
লক্ষীপুরে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার ছড়াছড়ি
.............................................................................................
শব্দ দূষণ মানব দেহের জন্য নিরব ঘাতক
.............................................................................................
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
.............................................................................................
বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ নদীভাঙন: পর্ব- ২
.............................................................................................
‘নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’
.............................................................................................
একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা
.............................................................................................
গাজীপুরে জয়দেবপুর পিটিআই-এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন
.............................................................................................
পরিবেশ রক্ষায় ১০ বছর ধরে কাজ করছে চীনের কুকুর
.............................................................................................
সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল মালিকদের তলব
.............................................................................................
বিশ্বে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় ঢাকা
.............................................................................................
রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও যানবাহন
.............................................................................................
সুন্দরবনে শেলা নদীতে কোস্টার ডুবি: তদন্ত কমিটি গঠন
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় ২১ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল
.............................................................................................
বরিশালে কীর্তনখোলা নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখে জনযাত্রা শুরু
.............................................................................................
ছাতকে সুরমা নদীর পানি দূষন তদন্তে টালবাহানা
.............................................................................................
সিলেটে অবৈধ ১৩শ’ স্টোন ক্রাশার মেশিন চলছে
.............................................................................................
জলবায়ু রক্ষায় বেসরকারি খাতকে কাজে লাগানোর পরামর্শ আইএফসি’র
.............................................................................................
বরিশালে অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা
.............................................................................................
ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সরাইলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা
.............................................................................................
পরিবেশ দূষণ ও শিশুরোগ
.............................................................................................
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৫: সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্ব না পেলে রিট করবে বাপা
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি স-মিল বন্ধ করলেও অজ্ঞাতকারণে অন্যগুলো এখনও চালু
.............................................................................................
পশুর নদীতে কার্গোডুবি: চালকের গাফিলতি ও অদক্ষতাই দায়ী
.............................................................................................
পাবনায় পদ্মা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন
.............................................................................................
বরিশাল নগরীর অসংখ্য পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে বাম মোর্চার রোডমার্চ
.............................................................................................
চলুন, ৫ মিনিটেই হয়ে যাই তুলসী বিশারদ !
.............................................................................................
সাপের চেয়েও বিষধর ব্যাঙ!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft