মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   পরিবেশ
  বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ নদীভাঙন: পর্ব- ২
  25, September, 2017, 6:02:33:PM

বশীর আহমেদ
প্রকৃতি তার বিচিত্র খেয়ালে বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বিশাল ভারতীয় এলাকাকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে একই ভৌগলিক বৈশিষ্টের অধিকারী করেছে। এমন বৈশিষ্ট বিদ্যমান আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যে। এলাকাগুলো যুগপৎ সাগর সংলগ্ন এবং উল্লেখযোগ্য ভাবে সমতল। বাংলাদেশের সমতল ভূমির উচ্চতা সাগর সমতলের মাত্র কুড়ি মিটারের মধ্যে যা নদীতে পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে গড়পড়তা দশ মিটারে কার্যকর প্রভাব রাখে। ভূমি সমতলের এ অনন্য বৈশিষ্ট প্রতি বর্ষায় দেশের প্লাবন এলাকা এবং নদীর বুকে ছড়িয়ে দেয় কোটি কোটি টন পলিমাটির পাহাড়। নদীগুলো আছে আগের জায়গায় এবং ক্রমাগত ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। তথাপি প্রধান নদী পদ্মা-যমুনা এবং মেঘনাতে পরিবাহিত হয় বাংলাদেশ ভূখন্ডের দশ গুণ অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকার নির্গমিত পানি। নদীগুলোর পানি প্রবাহের এ সক্ষমতা বাংলাদেশসহ ভারত, চীন, তিব্বত তথা সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

পাহাড়ী উপত্যকা এবং কঠিন শীলাবিহীন নরম পলিমাটির তলদেশ নিয়ে সমতল ভূমিতে গড়িয়ে চলা পদ্মা-যমুনা এবং মেঘনায় পানির ¯্রােত বছরের বড় একটি সময় প্রায় নিথর হয়ে পড়ে। ভূখন্ডের অতি সমতল প্রকৃতিই নদীর প্রবাহ স্তিমিত করার অন্যতম কারণ। এ হল গোটা বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির স্বাভাবিক ধরণ। গ্লোবাল ওয়ার্মিং সাগরের স্ফিতি বাড়ালে অতি সমতল ভূমিতে গড়া বাংলাদেশের বিশাল এলাকা জলমগ্ন এবং প্রলয়ঙ্করী ঝড়-জলোচ্ছাসের ঝুঁকিতে পড়বে। এই ভূ-পরিবেশে যুগ যুগ ধরে মানুষ বসবাস করে আসছে এবং অতি সমতলের খাঁড়া এদেশকে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বন্যা-প্রবণ এলাকার পরিচিতি। বস্তুত বাংলাদেশে বাৎসরিক বন্যা যেন এক ‘স্বাভাবিক’ ঘটনা এবং বলা যায় প্রকৃতির নিয়ম মাফিক প্রবৃত্তিগত আচরণ।

বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অতি সমতল এই ভূ-প্রকৃতি নদী-ঢালের মাত্রা সীমিত রাখায় নদীবক্ষে প্রবাহমান পানি খরস্রোতা হতে পারে না। যেমন প্রধান নদী যমুনায় নদী-ঢালের মাত্রা প্রায় ০.০০০০৭৭, সাগরে পতিত হওয়ার আগে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ০.০০০০৫৫। নদী-ঢালের নিচু মাত্রা নদীর তলদেশে পলি-ভরাট ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং নদী-ক্যানালগুলোকে বাধ্য করেছে নাব্যতা হারাতে । এতে বর্ষাকালীন তীব্র স্রোত পাড় ভেঙে গ্রাস করে জনবসতি ও ফসলের মাঠ। এ হ’ল সেই ‘নদী-ভাঙন’ যা মুর্তিমান আতঙ্ক হয়ে আছে এদেশের চিরকালীন জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে।
অপরদিকে, বাংলাদেশের প্রায় ১৬২ মিলিয়ন জনসম্পদ যা সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে যুক্তরাষ্টের প্রায় অর্ধেক এবং রাশিয়ার প্রায় সমান, এরা বসবাস করে ১ লাখ ৩৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এক অতি সমতল ভূখন্ডে। জনসংখ্যার গড় ঘনত্ব বিষ্ময়করভাবে প্রতি কিলেমিটারে প্রায় ১ হাজার ২শ যা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫শ জন। এ সংখ্যা কিলোমিটার প্রতি ভারতে প্রায় ৩শ ৫০, চীনে প্রায় ১শ ৪০ এবং জাপানে প্রায় ৩শ ৪০ জন। বিপুল বিশাল এই জনসংখ্যার যাবতীয় চাহিদার সর্বশেষ পরিণতিও এসে গড়ায় সমতলে প্রবাহমান নদীর বুকে এবং বলাবাহুল্য, নদী ভরাট প্রক্রিয়ায় তা বিশেষভাবে অবদান রাখে।
     
ভূমি-সমতলের এরুপ কৌশলী প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা আর তা থেকে সৃষ্ট বাৎসরিক বন্যার সাথে জনসম্পদের ক্রমাগত দূষণক্রিয়ায় ভারাক্রান্ত নদী বদলায় তার গতিপথ। নদীর বিধংসী অবস্থান বদলের সাথে নিশ্চিহ্ন হয় নদীপাড়ের সব কিছু। এতে কপাল ভাঙ্গে দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের যারা মূলত: কৃষিকাজে জীবন চালায় এবং যাদের শতকরা ৮০ ভাগের বসবাস গ্রামীন এলাকায়।

১৯৭৯-৮০ সালে আসাম থেকে পলিমাটি প্রবাহের ব্যাপক ঢল নামে। থেরেসা ব্লানচেট নামের এক ফরাসী অ্যানথ্রোপোলজিষ্ট সে সময় সিরাজগঞ্জের যমুনা বিধৌত গামারিয়া গ্রামে অবস্থান করেছেন। পলিমাটির স্তুপে ভারাক্রান্ত যমুনা সে বছর বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং গামারিয়া গ্রাম নদী ভাঙনের শিকার হয়। বসতবাড়ী, মসজিদ, কবরস্থান, বাঁশবাগান গ্রাস করে যমুনা। গ্রামবাসীর কথায় - ‘সব কিছু গিলে ফেললো পাগলা নদী’। ‘৮০ সালের সে নদী ভাঙনে সহায় সম্বলহীন মানুষদের শতকরা ৪০ ভাগ পরে রাজধানী ঢাকা শহরে বস্তিবাসী হন। গামারিয়ার হতভাগ্য সে মানুষদের স্মৃতিময় গ্রাম এবং বাড়ীঘর স্থায়ীভাবে আপন উদরে স্থান দেয় রাক্ষুসে নদী যমুনা।

নদী ভাঙছে এবং গতিপথ বদলাচ্ছে আদিকাল থেকে। প্রায় ৩শ বছর আগে জনসংখ্যা সীমিত থাকায় জনবসতি ও আবাদের জমি ছিল সহজলভ্য। আর ছিল অনাবাদি জমি এবং তাতে ব্যাপক ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চল। সে সময় গড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার চওড়া যমুনা নদীর নব্যতা ছিল অতস্পর্শী এবং পানি ধারণের ক্ষমতায় পরিপূর্ণ। বর্ষায় বানের পানি গোটা দেশকে প্লাবন ভূমি বানালেও ব্যাপক বন আর ঝোপঝাড় বানের পানিকে সামলে  নিয়েছে অনেকটা স্পঞ্জের মত করে। দেড় শ’ বছর আগেও রাজধানী ঢাকার ৫০ মাইলের মধ্যে শোনা গেছে বাঘের গর্জন। আর এখন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশটিতে বাস করে প্রায় ১৬২ মিলিয়ন মানুষ। জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বিষ্ফোরণে দিশেহারা মানুষ জীবন বাঁচাতে শুকনো মৌসুমে বাধ্য হন ১২ কিলোমিটার চওড়া যমুনার বুকে ফসল ফলাতে। এ অবস্থায় বছরান্তের নিয়মিত বন্যা বিশেষ করে সম্পদ বিনাশী নদীভাঙন বছরের পর বছর ওলট-পালট করছে সবকিছু।

প্রধান নদীগুলোর ভাঙনপ্রবন প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটাই সম্ভবত বিশ্বে সর্ববৃহৎ নদীতীর সংরক্ষণের উদ্যোগ যা কতদিনে বাস্তবায়িত হবে তা কারো জানা নেই। ১৯৫০ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প পরবর্তী পলিমাটির প্রবাহ যমুনায় নির্গমিত হয়েছে অনেক আগে এবং নদীর প্রশস্ততা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। স্থায়ীভাবে নদীতীর সুরক্ষা কর্মসূচী সফল করতে এগিয়ে এসেছে দাতা সংস্থাগুলো এবং কাজ চলছে অনেকদিন থেকে। শুরুতে ব্যায়বহুল পাথুরে বোল্ডার অত:পর কংক্রিট ব্লক এবং পরিশেষে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উদ্ভাবিত কম খরচের প্রযুক্তিগত সহজ সমাধান ৭৮ এবং ১২৬ কেজির জিও স্যান্ডব্যাগ নদী ভাঙন প্রতিরোধে কাজে লাগানো হচ্ছে।

তথাপি নদী ভাঙছে প্রতিবছর, বিলীন হচ্ছে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কারিগরী কৌশলে গড়া সংরক্ষিত নদী-তীরগুলোর সাথে অরক্ষিত তটরেখা। হারিয়ে যাচ্ছে অন্ত:সীমান্তে প্রবাহমান নদী ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বাংলাদেশ অংশে ২শ ৭৬ কিলেমিটার, গঙ্গা-পদ্মার ১শ ২০ কিলোমিটার এবং অর্ধ-ডজন নদী বিধৌত মেঘনার দীর্ঘ প্রায় আড়াই শ’ কিলোমিটার এলাকায় নদীপাড়ের যাবতীয় সম্পদ। পলিমাটিতে ভারাক্রান্ত নদীবক্ষ পানি ধারণে অক্ষম হওয়ায় নদী অস্বাভাবিক ভাবে বাড়িয়ে চলছে তার প্রস্থ - যা গড়ে এখন প্রায় ১০ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৬শ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান তিন নদী তাদের ১০ কিলেমিটার চওড়া বুকে সাড়ে ছয় হাজার বর্গ কিলোমিটার ভূখন্ডের মধ্যে জবরদখল করে রেখেছে প্রায় ৪ হাজার বর্গ-কিলোমিটার ভূখন্ড।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ভাঙন-প্রবণ ১ হাজার কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেয়া হলেও ভাবা হয়নি নদীর বুকে ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে ঠিকানা হওয়া সব হারানো মানুষদের জমি-জিরাতের কথা। জন-বিষ্ফোরণে ইতোমধ্যে নাজেহাল বাংলাদেশ কি অপদখলীয় সে মূল্যবান ভূখন্ড চিরস্থায়ী দানছত্র করে দেবে রাক্ষুসে নদী পদ্মা-যমুনা আর মেঘনাকে? নদীতীর স্থায়ীভাবে সামলানোর পাশাপাশি তাই এখন বড় বেশি দরকার নদীর করাল গ্রাসে বিলীন সে সব জমি উদ্ধারের প্রযুক্তিগত সামর্থ্য খোঁজা। আর নদীকে বশে এনে বাধ্য করা নির্দিষ্ট পথে চলতে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 225        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     পরিবেশ
লক্ষীপুরে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার ছড়াছড়ি
.............................................................................................
শব্দ দূষণ মানব দেহের জন্য নিরব ঘাতক
.............................................................................................
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
.............................................................................................
বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ নদীভাঙন: পর্ব- ২
.............................................................................................
‘নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’
.............................................................................................
একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা
.............................................................................................
গাজীপুরে জয়দেবপুর পিটিআই-এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন
.............................................................................................
পরিবেশ রক্ষায় ১০ বছর ধরে কাজ করছে চীনের কুকুর
.............................................................................................
সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল মালিকদের তলব
.............................................................................................
বিশ্বে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় ঢাকা
.............................................................................................
রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও যানবাহন
.............................................................................................
সুন্দরবনে শেলা নদীতে কোস্টার ডুবি: তদন্ত কমিটি গঠন
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় ২১ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল
.............................................................................................
বরিশালে কীর্তনখোলা নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখে জনযাত্রা শুরু
.............................................................................................
ছাতকে সুরমা নদীর পানি দূষন তদন্তে টালবাহানা
.............................................................................................
সিলেটে অবৈধ ১৩শ’ স্টোন ক্রাশার মেশিন চলছে
.............................................................................................
জলবায়ু রক্ষায় বেসরকারি খাতকে কাজে লাগানোর পরামর্শ আইএফসি’র
.............................................................................................
বরিশালে অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা
.............................................................................................
ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সরাইলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা
.............................................................................................
পরিবেশ দূষণ ও শিশুরোগ
.............................................................................................
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৫: সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্ব না পেলে রিট করবে বাপা
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি স-মিল বন্ধ করলেও অজ্ঞাতকারণে অন্যগুলো এখনও চালু
.............................................................................................
পশুর নদীতে কার্গোডুবি: চালকের গাফিলতি ও অদক্ষতাই দায়ী
.............................................................................................
পাবনায় পদ্মা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন
.............................................................................................
বরিশাল নগরীর অসংখ্য পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে বাম মোর্চার রোডমার্চ
.............................................................................................
চলুন, ৫ মিনিটেই হয়ে যাই তুলসী বিশারদ !
.............................................................................................
সাপের চেয়েও বিষধর ব্যাঙ!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft