মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   এক্সক্লুসিভ
  অগ্নিঝরা মার্চ
  10, March, 2018, 3:51:29:PM

১৯৭১-এর সালের ১১ মার্চ ছিল বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালের রক্তঝরা মার্চের উত্তাল অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আজ চতুর্থ দিবস। সারাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ডাকে শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাÍক অসহযোগ পালন করে। গত কয়েক দিন ধরেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বত্র ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গড়ে তোলার কাজ চলতে থাকে। আমরা নিজেদের উজাড় করে দিয়ে উদয়াস্ত এ কাজেই নিয়োজিত থাকি। কোন গণশত্রু বা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন কোথাও বিশৃ´খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য আমাদের দলের স্বেচ্ছাসেবকগণ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজধানীতে নৈশকালীন টহল কার্যক্রম শুরু করে। এতে শান্তি শৃ´খলার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দেয়া বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মোতাবেক যে সব যানবাহন চলার কথা সেগুলো চলাচল শুরু করে; যে সব বেসরকারী অফিস খোলা থাকার কথা সে সব খোলা থাকে। যথারীতি সরকারী দফতরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলে এবং সর্বত্র যা দৃশ্যমান হয় সেটি হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সমগ্র বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে। স্বাধিকারের দাবিতে অটল-অবিচল সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে। ১৯৭১-এর মার্চের এদিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। হাইকোর্টের বিচারপতিসহ সরকারী ও আধা সরকারী প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মচারীগণ তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিস বর্জন করেছেন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো, অসহযোগ সমর্থনকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংস্থা, পেশাজীবীগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচীর সমর্থনে সোচ্চার হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে মানুষের মনে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের অবিচল সংগ্রামী মনোভাব বিরাজ করতে থাকে। এদিন বর্ষীয়ান মজলুম নেতা মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলে এক জনসভায় সকল রাজনৈতিক পক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, “সাত কোটি বাঙালীর নেতা শেখ মুজিবের নির্দেশ পালন করুন।” অপরদিকে জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান সামরিক সরকারের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে বলেন, “এক রাষ্ট্রের জোয়ালে আবদ্ধ না থাকলেও দুটি স্বাধীন ভ্রাতৃরাষ্ট্র হিসেবে আমরা পরস্পরের এবং বিশ্বের এই অংশের সমৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারব।” ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে তাঁর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। পাঞ্জাব প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব খুরশীদ হক বঙ্গবন্ধুর সাথে তাঁর বাসভবনে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে জনাব খুরশীদ আগের দিন রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে তার বৈঠকের বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করেন। এদিন পশ্চিম পাকিস্তানের কাম্বেলপুর হতে নির্বাচিত কাউন্সিল মুসলিম লীগ নেতা পীর সাইফুদ্দীন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্কট উত্তরণের উপায় এবং কাউন্সিল মুসলিম লীগ সভাপতি মিয়া মমতাজ দৌলতানার একটি পত্র বঙ্গবন্ধুর কাছে হস্তান্তর করেন। এদিন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি মি. কে. উলফ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাত করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে যতদিন খুশি বাংলাদেশে থাকার অনুরোধ করে বলেন, “পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশে গণহত্যা চালানোর পাঁয়তারা করছে।” এ অবস্থায় মানবতা রক্ষায় তাদের দেশ না ছাড়তে অনুরোধ করেন। এদিকে সদ্য ঢাকা ত্যাগকারী এয়ার মার্শাল আসগর খান করাচী প্রত্যাবর্তন করে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “কুর্মিটোলার ক্যান্টনমেন্ট ব্যতীত অন্য কোথাও পাকিস্তানের পতাকা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। কার্যত পূর্ব পাকিস্তানে প্রশাসনের সচিব ও কর্মকর্তাগণ শেখ মুজিবের নির্দেশ পালন করে চলছে। সরকারের এখন উচিত শেখ সাহেব প্রদত্ত শর্তসমূহ মেনে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।” সমগ্র পাকিস্তানের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সমর্থনসূচক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও জনাব ভুট্টো এবং ইয়াহিয়ার কিছু বশংবদ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন না করে আপোস-সমঝোতার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকে। এমতাবস্থায় আজ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার জন্য ন্যাপ প্রধান ওয়ালী খান ঢাকায় আগমন করেন।
এদিন হাইকোর্টের বিচারপতিসহ সরকারী-আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানের সকল বিভাগের কর্মচারীরা তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস-আদালত বর্জন অব্যাহত রাখে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত সময়সূচী অনুযায়ী স্টেট ব্যাংক, বিভিন্ন তফসিলী ব্যাংক, ট্রেজারি অফিসে লেনদেন চলে। স্বাভাবিকভাবেই রেল ও বিমান চলাচল করে। অভ্যন্তরীণ ডাক, টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। রাজধানীর বিপণি কেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। স্বাধিকার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এদিনও প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ সকল অফিস এবং বাড়িতে-গাড়িতে কালো পতাকা উত্তোলিত থাকে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশানুযায়ী সিনেমা হলগুলোর মালিকগণ প্রমোদকর ব্যতীত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। বরিশালে এদিন কারাগার ভেঙ্গে ২৪ কয়েদী পালিয়ে যায় এবং পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। কুমিল্লাতেও অনুরূপ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়।
বিগত কয়েক দিনের ন্যায় আজও বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ নিহত ও আহতদের সাহায্যার্থে গঠিত সাহায্য তহবিলে উদারহস্তে অর্থ সাহায্য প্রদান করেন। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃ চতুষ্টয় এক বিবৃতিতে সামরিক সরকার প্রদত্ত যাবতীয় খেতাব, উপাধি বর্জনের আহ্বান জানান। সামরিক বাহিনীর চলাচলের ব্যাপারে জনসাধারণকে সহযোগিতা না করার অনুরোধ করেন এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার পূর্বে ছাত্রনেতৃবৃন্দ শর্তারোপ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পূর্বে ইয়াহিয়া প্রদত্ত ৬ মার্চের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু নীতির প্রশ্নে অবিচল থেকে বাংলাদেশের জনগণের নামে প্রতিদিন একের পর এক নির্দেশ জারি অব্যাহত রাখেন। জনসাধারণের নামে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদের স্বাক্ষরিত নয়া নির্দেশ জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “জনগণের আন্দোলন নজিরবিহীন তীব্রতা লাভ করেছে। বাংলাদেশে জনগণের নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সব নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রতিটি লোক আপন স্থানে থেকে পবিত্র দায়িত্ব জ্ঞানে তার সবগুলো কার্যকর করেছে বলেই অসহযোগ আন্দোলন এরূপ সর্বাÍক হয়ে উঠেছে। জীবনের প্রতিটি স্তরের লোকজনের এই উচ্চ দায়িত্ববোধ সকলের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস। এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ হারে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং আমাদের অর্থনীতিকে পরিপূর্ণভাবে চালু রাখার জন্যও আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করার এবং আমাদের বুভুক্ষু জনসাধারণকে দুঃখ-দুর্দশায় নিপতিত করার কায়েমী স্বার্থবাদী এবং গণবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য জনসাধারণ উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সকল শক্তি নিয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তারা কঠোর কৃচ্ছ্র পালনেও প্রস্তুত। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য অর্থনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত সকল লোক প্রতিটি ক্ষেত্রে অবশ্যই সুকঠোর শৃ´খলা পালন করবে।” এ সব উদ্দেশ্য সামনে রেখে এদিন থেকে কিছু বিষয় হরতালের আওতামুক্ত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। যেমনÑব্যাংকিং কার্যক্রমে ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক যে সব ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক লেনদেন অনুমোদিত হয়েছে সেগুলো সাপেক্ষে ছুটির দিনসহ নির্দেশিত সময়সূচী অনুযায়ী চলবে। মজুরি ও বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে শ্রমিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সার্টিফায়েড পে-বিলের মাধ্যমে তা করতে হবে। এ ছাড়াও কৃষি তৎপরতা, বন্দর পরিচালনা, ইপিআইডিসি ফ্যাক্টরি পরিচালনা, সাহায্য, পুনর্বাসন ও পল্লী উন্নয়ন কাজ, প্রাইমারী স্কুল শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ, সরকারী কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে এজি অফিস আংশিক সময় খোলা রাখা, কারাগারের ওয়ার্ড অফিস খোলা রাখা, আনসারদের দায়িত্ব পালন, বিদ্যুত ও পানি সরবরাহ চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতর খোলা রাখাসহ সকল ইন্স্যুরেন্স অফিস খোলার রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও তাজউদ্দীন আহমেদ চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কঠোর শৃ´খলা রক্ষার আহ্বান জানান। অর্থনৈতিক বিষয়াবলির জন্য নির্ধারিত টিম সদস্যদের পরামর্শক্রমেই এ ব্যবস্থাদি অবলম্বিত হয়।
বঙ্গবন্ধুর একান্ত সান্নিধ্যে থেকে এ সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অবলোকনের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। অতুলনীয় দক্ষ সংগঠক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। প্রতিটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণের জন্য পৃথক পৃথক টিম ছিল বঙ্গবন্ধুর। তাদের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জাতীয় চার নেতার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হতেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। আমার মনে আছে, কখনও কখনও আলোচনার প্রয়োজনে যেতে হতো সহকর্মী বা টিম সদস্যদের বাড়িতে। সঙ্গে থাকতেন জাতীয় চার নেতার কখনও তিনজন বা দু’জন আর আমি। সে সময় ঢাকা শহরে খুব কম মানুষের গাড়ি ছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেবল বঙ্গবন্ধুরই গাড়ি ছিল। যখন কোথাও যেতে হতো তখন গাড়ির সামনের আসনে চালক এবং বঙ্গবন্ধুর মাঝের স্থানে বসতাম আমি, পেছনে জাতীয় নেতৃবৃন্দ। সবাইকে তাদের স্ব-স্ব বাসভবন থেকে তুলে নিতেন বঙ্গবন্ধু। আবার কাজ শেষে প্রত্যেককে তাদের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে তবে বাড়ি ফিরতেন। একবার বঙ্গবন্ধু সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন মগবাজারের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধনাঢ্য এক ব্যক্তির বাড়িতে। বাড়ির নাম মালদা হাউস। সে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আমাদের প্রিয় মজু ভাই, সৈয়দ মুজতবা আহসান খান। বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের প্রিয় একজন মানুষ, দুর্দিনের সহযোগী, পরম শুভানুধ্যায়ী, বিশ্বস্ত বন্ধু। আমাদের অনেকেই তাঁর কাছে ঋণী। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বাসায় বঙ্গবন্ধু গিয়েছিলেন পাকিস্তানের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে। সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল পীরজাদা, জেনারেল হামিদ, জেনারেল মিঠ্ঠা। আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গিয়েছি, পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করছি। আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলছেন, ডযধঃ ফড় ুড়ঁ ঃযরহশ ড়ভ সব? উড় ুড়ঁ ঃযরহশ ঃযধঃ ঝযবরশয গঁলরন রিষষ ংঁৎৎবহফবৎ? ঘড়, ঝযবরশয গঁলরন রিষষ মরাব যরং ষরভব নঁঃ যব রিষষ হড়ঃ ংঁৎৎবহফবৎ ধহুনড়ফু বষংব. অর্থাৎ পাকিস্তান সামরিক কর্তৃপক্ষ তাঁকে কোন আপোস প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে উত্তেজিত হয়ে তিনি এ কথাগুলো উচ্চারণ করেছিলেন।
অসহযোগ আন্দোলনের এই দিনগুলোতে কেবলই মনে পড়ত ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের কথা। ১৯৬৬ থেকে ’৬৯ এ সময়টা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ড্রেস রিহার্সেল পর্ব। আমরা চারজন শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও আমি, আমরা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ভওয়াগন গাড়িতে চেপে রাতের বেলায় পোস্টার, দেয়াল লিখন লিখতে বের হতাম। গাড়ির সামনের সিটে আমি, পেছনে অপর তিনজন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নিজেই গাড়ি চালাতেন। চালকের আসনে বসা মঞ্জু সব সময় গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রাখতেন। আমরা নিজ হাতে দেয়ালে পোস্টার সাঁটতাম।
সেদিন আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে নেতাকে আমরা কারামুক্ত করেছিলাম, ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্তমানব হিসেবে বের করে এনেছিলাম। আজ সেই নেতার নেতৃত্বে ও নির্দেশে স্বাধিকার আন্দোলনে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। নেতার নৈকট্যে থেকে দেখেছি, শিখেছি কী করে কোন্ প্রক্রিয়ায় জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হয়। কিভাবে একটি সর্বাÍক অসহযোগ সফলভাবে এগিয়ে নিতে হয়। ধানম-ির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটি এ সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও লোকজনে সরগরম থাকত। বঙ্গবন্ধু সকলের সঙ্গে কথা বলতেন, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করতেন। প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংবিধানিক সকল বিষয়ে টিম সদস্যদের নিকট থেকে বাস্তবসম্মত পরামর্শ গ্রহণ করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। আজ যখন স্মৃতির পাতা থেকে সে সব ঘটনা স্মরণ করি কেবলই মনে হয়, সবাইকে ঘিরে সূর্যের মতো দেদীপ্যমান এই মহান মানুষটি গভীর সঙ্কটকালেও হাস্যোজ্জ্বল মুখে সবাইকে সময় দিয়েছেন। আন্তরিকভাবে সবার কথা শুনেছেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে অগ্রসর হয়েছেন।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 103        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     এক্সক্লুসিভ
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের বিকাশে করণীয়
.............................................................................................
সেলুলয়েডে ‘অপারেশন জ্যাকপট’: সংরক্ষণ হচ্ছে যুদ্ধ স্মারক এমভি ইকরাম
.............................................................................................
অগ্নিঝরা মার্চ
.............................................................................................
কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা
.............................................................................................
অগ্নিঝরা মার্চ: ৬ মার্চ সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়
.............................................................................................
পুশব্যাকের শঙ্কায় আসামের দেড় কোটি বাংলাভাষী
.............................................................................................
ব্যাংক খাতে কোনঠাসা ‘বাংলা’
.............................................................................................
বাংলাদেশে গণহত্যা: পর্ব- ২ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ইতিহাসের দায়মোচন
.............................................................................................
বাংলাদেশে গণহত্যা: পর্ব-১ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ইতিহাসের দায়মোচন
.............................................................................................
কে হচ্ছেন ১৯ হেয়ার রোডের বাসিন্দা
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের অজানা ইতিহাস
.............................................................................................
বিশ্বে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষে সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ৯০তম
.............................................................................................
ফারাক্কা বাঁধ ‘ডি-কমিশন’ সময়ের দাবী
.............................................................................................
নৌ-কমান্ডোরা পূর্ব পাকিস্তানকে নৌ-যানবিহীন অবরুদ্ধ দেশে পরিণত করে
.............................................................................................
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের সাহায্য আশা করা যায় না: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মুক্তিযুদ্ধে ‘অপারেশন জ্যাকপট’ ও কিছু কথা: পর্ব-২
.............................................................................................
একটি সংবাদের পোস্টমর্টেম
.............................................................................................
স্রোতের বেগে আসছে ভারতীয় গরু, আতঙ্কে দেশীয় খামারিরা
.............................................................................................
মুক্তিযুদ্ধে ‘অপারেশন জ্যাকপট’ ও কিছু কথা: পর্ব- ১
.............................................................................................
কুরুচির থাবা ছিনিয়ে নিল ঊর্মির প্রাণ
.............................................................................................
বাঙালির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিব
.............................................................................................
মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব
.............................................................................................
শোকের মাস
.............................................................................................
২০ জুন রাতে সৌদি রাজপ্রাসাদে যা ঘটেছিল!
.............................................................................................
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছাতকের আনিক বাঁচতে চায়
.............................................................................................
নাম সর্বস্ব রাজনৈতিক দল! লাভ কার?
.............................................................................................
লালমনিরহাটে গরুর গাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি
.............................................................................................
শিশুবিবাহ: বর্তমান প্রেক্ষাপট
.............................................................................................
কমিটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে বাড়ছে সন্দেহ-অবিশ্বাস
.............................................................................................
রাজনীতিতে টিকে থাকার কৌশল খুঁজছে জামায়াত
.............................................................................................
কাউন্সিলে নতুন কিছু আশা করছে বিএনপি
.............................................................................................
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে সাংসদদের কাছেই ধরনা
.............................................................................................
মহাসচিব কে হচ্ছেন? -গুঞ্জন বিএনপি’তে
.............................................................................................
ঘোষিত রায় পরে লেখা অবৈধ মনে করছেন না বিচারপতি আমির
.............................................................................................
জঙ্গি নির্মূলে মাদ্রাসার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকেও নজর দিতে হবে
.............................................................................................
এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬৪২
.............................................................................................
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর
.............................................................................................
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর
.............................................................................................
বেকার যুবকদের ভাগ্য বদলে বিশেষ ঋণ
.............................................................................................
খাদ্য নিরাপত্তায় এখনও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ
.............................................................................................
খুলনায় মাদক সম্রাট শাহজাহান আটক
.............................................................................................
স্থানীয় নির্বাচন: ক্ষমতাসীন দলে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আশঙ্কা
.............................................................................................
নাশকতার আশঙ্কায় দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা
.............................................................................................
গম উঠাচ্ছে না মিলাররা
.............................................................................................
বর্জ্য পরিশোধনের নামে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা
.............................................................................................
নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজারে
.............................................................................................
কোরবানির গরু ফুলানো হচ্ছে ভিটামিন দিয়ে
.............................................................................................
‘ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর উদ্দেশে যা বলেছিলেন এরশাদ শিকদার’
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft