শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয়
  গণপরিবহনে বিড়ম্বনা
  10, July, 2019, 12:20:8:PM

রাজধানীতে স্কুল, কলেজ, অফিস ও অসুস্থতাজনিত কারণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে রিকশায় চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষের। অথচ এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধ করায় ব্যাপক বিড়ম্বনার সম্মুখীন স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা। রাজধানীতে সড়কের মোড়ে মোড়ে সিগন্যাল বাতি, ট্রাফিক পুলিশ ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করেও যানজট কমানো সম্ভব না হওয়ায় এবার বেশকিছু এলাকায় রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে যানজট নিরসনের পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

গত ৩ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে ডিটিসিএর (ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল অথরিটি) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তে রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়। গত রোববার থেকে প্রগতি সরণির কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা মালিবাগ, হয়ে খিলগাঁও-সায়েদাবাদ এবং মিরপুর রোডের গাবতলী থেকে আসাদগেট, ধানমন্ডি হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে পারবে না বলে জানানো হয়। তবে মূল সড়ক ছাড়া অন্য সড়কগুলোতে রিকশা চলবে।

যদিও বৈঠকে রিকশা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি এই দুটি সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন চালু করার জন্য বিআরটিসি এবং বাস মালিক সমিতির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু ডিএনসিসিকে মনে রাখতে হবে, বিআরটিসি ও মালিকদের বাস চলাচলের আহবান জানালেই সর্বসাধারণের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়নি।

যানজট নিরসনে রাজধানীর প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও, আগে যাত্রীদের কথা ভেবে বিকল্পের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন- রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, সায়েদাবাদ এবং মিরপুর রোডের গাবতলী থেকে আসাদগেট, ধানমন্ডি, আজিমপুর এসব রুটে লোকাল বাসে অসহনীয় যাত্রীর চাপ থাকে। একজন সুস্থ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও স্বাভাবিকভাবে ওঠার কোনো বাস পাবেন না। আর সেখানে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ, শিক্ষার্থী, অফিসগামী কিংবা মহিলাদের কী অবস্থা হবে সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখেছেন কী? এসব রুটে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হলেও রিকশা ছাড়া বিকল্প নেই।

ঢাকায় যানজট কমাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে শুধু রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেই নয়, একই সঙ্গে প্রাইভেটকারও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ঢাকায় বর্তমানে প্রাইভেটকার ২ লাখ ৪৯ হাজার। ঢাকার রাস্তা ৮০ ভাগ প্রাইভেটকারের দখলে থাকে। যাত্রী বহন করে মাত্র ৮ ভাগ। রিকশা যাত্রী বহন করে ৩২ ভাগ। ঢাকায় রিকশা প্রাইভেটকারের চেয়ে কার্যকর। কারণ গতির দিক দিয়ে ঢাকায় গড় গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। অথচ রাজধানীর রিকশার ওপর বারবার খড়গ নেমে আসলেও প্রাইভেটকার ঠেকাবে কে? সড়ক গতিশীল ও যানজটমুক্ত করতে গণপরিবহন সহজলভ্য করে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গণপরিবহন যে রাস্তায় যতটুকু আছে সেগুলোর সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে বিত্তবান ও মধ্যম আয়ের মানুষ বাধ্য হয়েই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

হঠাৎ করে এসব সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ কার্যকর হওয়া মানে, অসহায়-দরিদ্র রিকশাচালকদের পেটে লাথি মারা। মাতা-পিতাসহ ৫/৭ জনের ভরণ-পোষণের ভার নিয়ে অনেকেই রিকশা চালিয়ে রোজগার করে থাকে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ অসুখ-বিসুখের ব্যয়ভার নিয়ে তাদের সংসার চালাতে হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রিকশা চালকের বিষয়ে বিকল্প কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে ভাবা দরকার। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে দাবিতে ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা চালকরা অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর রিকশাচালকদের জীবন-সংগ্রাম, দেশের পণ্য ও নাগরিক পরিবহনে তাদের প্রয়োজনীয়তা, অবদান এবং সংগঠিতকরণ বিষয়ে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সেখানে বলা হয়, ঢাকা শহরের অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ রিকশায় চড়ে। রিকশাচালকদের মাসিক গড় আয় ১৩ হাজার ৩৮২ টাকা। রিকশাচালকরা অত্যন্ত দরিদ্র। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কোনো জমি নেই। ঢাকায় রিকশা চালনা শুরু করার আগে বেশিরভাগই (৫৭.১ ভাগ) ছিল দিনমজুর, ১৩.৮ ভাগ যুক্ত ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়, ১২.১ ভাগ কৃষিকাজে। রিকশাচালক হিসেবে কাজে আসার পেছনে প্রধান কারণ ছিল অন্য কোনো কর্মসংস্থানের অভাব এবং এই পেশায় আসতে উৎসাহের কারণ ছিল এতে কোনো পুঁজি ও দক্ষতার প্রয়োজন নেই।

রাজধানীতে স্বল্প দূরত্বের মানুষ যে হেটে যাতায়াত করবে সে ব্যবস্থাও নেই। সড়ক ও ফুটপাতগুলো হকারদের অবৈধ দখল ও পার্কিংয়ে ভরপুর। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, জনগণের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে, ফুটপাত ও সড়কে রাখা নির্মাণ সামগ্রী, দোকান এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 25        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     সম্পাদকীয়
দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
.............................................................................................
ক্রীড়াঙ্গনে কলঙ্কের ছাপ
.............................................................................................
দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন
.............................................................................................
একটি বিলম্বিত বোধদয়ের অবিশ্বাস্য কালক্ষেপণ
.............................................................................................
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
.............................................................................................
বাণিজ্য বাড়ছে ভারতে
.............................................................................................
রাজধানীতে যানজট জলজট : নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করুন
.............................................................................................
গণপরিবহনে বিড়ম্বনা
.............................................................................................
আহ! একটি ৭ বছরের শিশু...!
.............................................................................................
প্রকল্প নেয়ার হিড়িক : হুমকিতে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য
.............................................................................................
সত্য জানা হলো না
.............................................................................................
ভাষাই মনের পরিচয়
.............................................................................................
মাদকের চোরাগলিতে পুলিশ!
.............................................................................................
আর কতো বাহানা করবে মিয়ানমার
.............................................................................................
ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
.............................................................................................
প্রতিদিন ১৫ জন নিহত দুর্ঘটনায়
.............................................................................................
খুন-খারাবি চলছেই
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে
.............................................................................................
সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র
.............................................................................................
ঢাকার খুচরা দোকানিরা বেপরোয়া
.............................................................................................
চাল নিয়ে কারসাজি
.............................................................................................
প্রতারণা সৌদি আরবেও
.............................................................................................
বেড়েছে চাল আমদানি, উৎপাদন বাড়াতে হবে
.............................................................................................
শ্রমঘন শিল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিন
.............................................................................................
গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
ইয়াবার বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
.............................................................................................
দক্ষ কর্মীর অভাব
.............................................................................................
শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: নজিরবিহীন বর্বরতা
.............................................................................................
অবাধ লুটপাট বিমানে
.............................................................................................
অস্থিরতা বিদেশি শ্রমবাজারে
.............................................................................................
বেড়েই চলেছে ধর্ষণ গণধর্ষণ: সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি
.............................................................................................
আবারও বাড়ল গ্যাসের দাম
.............................................................................................
অস্থির চালের বাজার
.............................................................................................
নিঝুম দ্বীপে নৈরাজ্য
.............................................................................................
অর্থ প্রেরণ-বিতরণ সহজ হোক
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
.............................................................................................
এমপি লিটন হত্যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত
.............................................................................................
দুর্নীতি কর আহরণে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft