শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয়
  রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি
  29, September, 2019, 12:21:2:PM

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে এর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে এই ইস্যুতে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্যবারের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথম প্রস্তাবে বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ প্রস্তাবে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন প্রদেশে বেসামরিক তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করে বলেন, এটি বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এই মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে, যারা হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।

এই সমস্যার অনিশ্চয়তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুধাবনের অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু, ক্রমবর্ধমান স্থান সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে এই এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে মিয়ানমার এবং তাঁদের নিজস্ব জনগণের সমস্যা আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি, যা মিয়ানমারের তৈরি। এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। বিশেষ করে নিরাপদ অভিবাসন, উদ্বাস্তু সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, এসডিজি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে।

বাঙালিদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসরদের পরিচালিত গণহত্যায় ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষ নিহত এবং ২ লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হন।

শেখ হাসিনা বলেন আমাদের এই নির্মম অভিজ্ঞতাই সব সময় আমাদের নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছে। যত দিন পর্যন্ত আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের ন্যায়সংগত ও বৈধ সংগ্রাম সফল না হচ্ছে, তত দিন তাঁদের পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের গতিশীল নেতৃত্বের জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, আমরা শান্তির সংস্কৃতি ধারণাকে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করে আসছি। সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে এটি জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্যে পরিণত হয়েছে। এ মাসের শুরুতে এই সভাকক্ষেই কালচার অব পিস ঘোষণার ২০ বছর পূর্তি উদযাপনের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ফলে মানুষের মনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একটি শক্তিশালী বহুপাক্ষিক ফোরাম হিসেবে জাতিসংঘের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এর সংগঠন এবং সনদে বর্ণিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সদা প্রস্তুত থাকব।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী মোতায়েনে জাতিসংঘের আহ্বানে নিয়মিতভাবে সাড়া দিয়ে আসছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে তুলতে জাতিসংঘ মহাসচিবের গৃহীত উদ্যোগের প্রতি আমরা সমর্থন ব্যক্ত করছি। তাঁর “অ্যাকশন ফর পিস কিপিং” উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা অন্যতম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে এই উদ্যোগে শামিল হয়েছি। এ ছাড়া, “টেকসই শান্তি”-এর ধারণাগত কাঠামো প্রণয়নে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি বহুপাক্ষিকতাবাদ বৈশ্বিক সমস্যা সমাধান এবং সর্বজনীন মঙ্গলের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘই আমাদের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই আশাই ব্যক্ত করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত প্রথম বাংলায় ভাষণের উদ্ধৃতি প্রদান করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘এই দুঃখ-দুর্দশা-সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে জাতিসংঘ মানুষের ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল। নানা অসুবিধা ও বাধা–বিপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠার পর সিকি শতাব্দী কালেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মানবজাতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্তুতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার বিষয়টিই তুলে ধরেন।’ শেখ হাসিনা এ সময় জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে তা শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁর দর্শন ও চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামী বছর জাতিসংঘে আমরা এ উৎসব উদযাপন করতে চাই।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সদ্য সমাপ্ত ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক যে কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণা এসেছে, তা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের অংশ হিসেবে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নকে আরও বেগবান করবে। তিনি বলেন, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন-সংক্রান্ত জোটের অংশীদার হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানা বাধা-বিপত্তি ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা রূপান্তরযোগ্য এবং জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি ও শস্য উদ্ভাবন করেছি এবং এ বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযোজন ও সহনশীলতার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অর্থ-প্রযুক্তিগত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।’ এতে খাদ্যনিরাপত্তা, নিরাপদ পানি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই পরিবেশ, দুর্যোগ–ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ সভার ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকায় একটি গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডাপটেশন স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

অভিবাসন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ, সুষ্ঠু ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ সফলভাবে গৃহীত হওয়ার পর বাংলাদেশ এটি বাস্তবায়নের কার্যবিধি প্রণয়ন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ অভিবাসনের বিভিন্ন ইস্যুকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে অঙ্গীভূত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মূলে রয়েছে জটিল ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং মানব পাচার–সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি মানব পাচারবিষয়ক ‘পালেরমো প্রোটোকল’-এ যোগদান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে তাঁর সরকারের বিগত ১০ বছরের কিছু বেশি সময়ের দেশ শাসনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিকও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আজকাল প্রায়ই “উন্নয়নের বিস্ময়” হিসেবে আলোচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বে নানা অস্থিরতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমাগত আর্থিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১০ বছর ধরে সমৃদ্ধি বজায় রেখেছে। স্পেকটেটর ইনডেক্স ২০১৯ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে মোট ২৬টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ। এ সময়ে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনের ব্যাপ্তি ঘটেছে ১৮৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে আমাদের জিডিপির আকার ছিল ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বেড়ে চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকা-ের খতিয়ান তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের রপ্তানি আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। একই সঙ্গে গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যে আমাদের বিনিয়োগ জিডিপির ২৬ শতাংশ থেকে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সেই সাথে বেসরকারি বিনিয়োগ ৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ৭০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৯ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাঁর সরকার এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অভীষ্ট লক্ষ্যের প্রসঙ্গ টেনে এনে শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে আমাদের যে অঙ্গীকার ও যৌথ আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে, যা আমাদের জনগণের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ কারণে আমরা টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছি এবং আমাদের ২১ দফার রাজনৈতিক অঙ্গীকার মূলত জনগণের কল্যাণের নিমিত্তে গৃহীত অঙ্গীকার।

‘দারিদ্র্য’ ও ‘অসমতাকে’ উন্নয়নের দুটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে আমাদের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ যা ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে ২১ শতাংশ হয়েছে এবং অতিদারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক জনবান্ধব প্রকল্প যেমন, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’, ‘আশ্রয়ণ’, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ শীর্ষক প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে সমাজের অনগ্রসর ও অরক্ষিত অংশের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। অর্থ, খাদ্য, কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ও সমবায়ের মাধ্যমে এই সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশে নারী-পুরুষ সমতা এবং বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির মাইলফলক অর্জনের পর এখন মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে মনোনিবেশ করেছে। এ লক্ষ্যে ই-শিক্ষা এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরির ওপর গুরুত্ব প্রদান করায় বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

বছরের প্রথম দিনে সারা দেশের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার সরকারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগসহ শিক্ষার সম্প্রসারণে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রকার বৃত্তি দেওয়ার তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মায়ের কাছে উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা এবং সেখান থেক বিনা মূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ বিতরণসহ প্রতিবন্ধী, অটিজম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ এবং হতদরিদ্র মানুষকে বিভিন্ন ভাতা এবং সহযোগিতা প্রদান এবং সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত করার বিশেষ পদক্ষেপসমূহও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে ৫ হাজার ৮০০ ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৬০০ সরকারি ই-সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মানুষের সংখ্যা ৯ কোটি এবং টেলি-ঘনত্ব ৯৩ শতাংশ অতিক্রম করেছে। চলতি বছর আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি, যা প্রত্যন্ত এলাকায় সম্প্রচার সেবা সম্প্রসারণ সহজতর করেছে এবং উন্নয়নের জন্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমুদ্র সীমার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান বাংলাদেশের জন্য সুনীল অর্থনীতি তথা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনার আরেকটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মূলনীতিকে উপজীব্য করে আমরা রূপপুরে আমাদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। ইতিমধ্যে ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতি অঙ্গীকার মূলত পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানেরই বলিষ্ঠ প্রতিফলন। আমরা সম্প্রতি ২৬তম দেশ হিসেবে “ট্রিটি অন দ্য প্রহিবিশিন অব নিউক্লিয়ার উইপন্স” অনুস্বাক্ষর করেছি।

শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে আগামী বছর জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মানবসভ্যতার জন্য একটি শক্তিশালী জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান, যেন তা আগামী শতকের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় সক্ষম হয়।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 73        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     জাতীয়
ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ
.............................................................................................
তিন বিভাগে তেল বিক্রি বন্ধ দ্বিতীয় দিনে
.............................................................................................
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য করযোগ্য সবাইকে কর দিতে হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান
.............................................................................................
লাইনের সংস্কারসহ বাড়ছে ট্রেনের গতি
.............................................................................................
সাত জঙ্গির ফাঁসি
.............................................................................................
জনবল আছে পদায়ন নেই
.............................................................................................
রাজধানীর সবুজবাগে ট্রাফিক সচেতনতামূলক প্রচারণা
.............................................................................................
৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
.............................................................................................
হলি আর্টিজান মামলার রায় : রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা
.............................................................................................
চুক্তি বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
.............................................................................................
বাড়ছে সড়কের গতি
.............................................................................................
সৌদি থেকে দেশে আনা হচ্ছে হবিগঞ্জের হোসনাকে || স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
ভারতীয় সীমান্তে ‘পুশ ইন’ সম্পর্কে কিছু জানেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
চাল-পেঁয়াজে অস্থিরতা
.............................................................................................
চট্টগ্রামে বন্য হাতির আক্রমণে ৩ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ
.............................................................................................
শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
.............................................................................................
সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ
.............................................................................................
টাঙ্গাইলে এনজিও কর্মীর লাশ উদ্ধার, আটক ২
.............................................................................................
গণপরিবহনের দেখা মিলছে না রাজধানীতে
.............................................................................................
বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে পণ্যবাহী যানবাহন
.............................................................................................
রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিভিন্ন জেলায় বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
.............................................................................................
ধর্মঘটে বাস শ্রমিকরা
.............................................................................................
ভাইরাল হওয়া সেই সুমি সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
রেল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে
.............................................................................................
কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬
.............................................................................................
সদরঘাট থেকে নৌযান চলাচল শুরু
.............................................................................................
স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর জন্মদিন আজ ॥ দৈনিক স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : মোংলা-পায়রায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত
.............................................................................................
জাবি উপাচার্যের দুর্নীতি প্রমাণে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ : ডিএমপি কমিশনার
.............................................................................................
‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ সড়ক আইন
.............................................................................................
পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
.............................................................................................
প্রশ্নফাঁসের গুজব রটালে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
ভয় শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নাই: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সাকিবের পাশে আছি: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
রাজধানীতে ছাত্রী ও বরগুনায় ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
.............................................................................................
দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
.............................................................................................
প্রাথমিক শিক্ষকদের সমাবেশে পুলিশের বাধা
.............................................................................................
সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে
.............................................................................................
ভৌগলিক কারণেই প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিজিবির পাল্টা গুলিতে বিএসএফ সদস্য নিহত
.............................................................................................
বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft