মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয়
  দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
  19, November, 2019, 11:34:1:AM

দেশে যখন কোনও নতুন আইন প্রণয়ন বা কার্যকর হয় তখন সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষের জন্য তা অন্তরায় হয়ে ওঠে। নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি তারই একটি উদাহরণ। এটি কার্যকরের আগে দুই সপ্তাহ দেওয়া হলে তা এ সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। নতুন আইনটির কার্যকারিতা শুরু হতে না হতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরোধীতা শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশের কয়েকটি জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা হঠাৎ করেই গাড়ি বন্ধ করে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা, যা মোটেই কাম্য নয়।

গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছর ৫ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় সড়ক পরিবহন আইন এবং ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাসের পর গত ৮ অক্টোবর গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন আইন কার্যকর উপলক্ষে ইতোমধ্যে রোড শো, প্রচারপত্র বিলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে নতুন আইনকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারছে না পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাছাড়া বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়া আইন কার্যকর করা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত চালক দায়ী; তবে এর পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতি ও দুর্নীতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, মালিকদের অতি মুনাফালোভী প্রবণতা, রাস্তার আশপাশে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি, মহাসড়কে নসিমন-করিমন ও সিএনজিসহ অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণও দায়ী। বস্তুত দেশের সড়ক-মহাসড়ক কবে আমাদের জন্য নিরাপদ হবে, তা কারও জানা নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছে।

এ অবস্থায় নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় এমন বিধান থাকা উচিত, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের নিহত, আহত বা পঙ্গু হওয়া থেকে রক্ষা করবে। দুঃখজনক হল, দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা কেউ দিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতোমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে।

আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এককথায় ভয়াবহ। একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করে। তবে শুধু শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশিমতো যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের ওপর ম্যাক্সি-টেম্পোস্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাটবাজার স্থাপন এবং পথচারীদের অসচেতনতাও সড়কপথে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এসব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সড়কপথের সংস্কার ও উন্নয়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর দিতে হবে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরে বাধা সৃষ্টি মোটেই কাম্য নয়। যারা বলছে, এই আইন তাদের জন্য অনেক কড়াকড়ি হয়েছে -তাদেরকে বুঝতে হবে আইন মানেই বাধ্যবাধকতা। তাই জনস্বার্থে নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলতে হবে। যারা এর বিরোধীতা করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই না, সড়কে আর একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 8        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     সম্পাদকীয়
দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
.............................................................................................
ক্রীড়াঙ্গনে কলঙ্কের ছাপ
.............................................................................................
দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন
.............................................................................................
একটি বিলম্বিত বোধদয়ের অবিশ্বাস্য কালক্ষেপণ
.............................................................................................
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
.............................................................................................
বাণিজ্য বাড়ছে ভারতে
.............................................................................................
রাজধানীতে যানজট জলজট : নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করুন
.............................................................................................
গণপরিবহনে বিড়ম্বনা
.............................................................................................
আহ! একটি ৭ বছরের শিশু...!
.............................................................................................
প্রকল্প নেয়ার হিড়িক : হুমকিতে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য
.............................................................................................
সত্য জানা হলো না
.............................................................................................
ভাষাই মনের পরিচয়
.............................................................................................
মাদকের চোরাগলিতে পুলিশ!
.............................................................................................
আর কতো বাহানা করবে মিয়ানমার
.............................................................................................
ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
.............................................................................................
প্রতিদিন ১৫ জন নিহত দুর্ঘটনায়
.............................................................................................
খুন-খারাবি চলছেই
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে
.............................................................................................
সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র
.............................................................................................
ঢাকার খুচরা দোকানিরা বেপরোয়া
.............................................................................................
চাল নিয়ে কারসাজি
.............................................................................................
প্রতারণা সৌদি আরবেও
.............................................................................................
বেড়েছে চাল আমদানি, উৎপাদন বাড়াতে হবে
.............................................................................................
শ্রমঘন শিল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিন
.............................................................................................
গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
ইয়াবার বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
.............................................................................................
দক্ষ কর্মীর অভাব
.............................................................................................
শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: নজিরবিহীন বর্বরতা
.............................................................................................
অবাধ লুটপাট বিমানে
.............................................................................................
অস্থিরতা বিদেশি শ্রমবাজারে
.............................................................................................
বেড়েই চলেছে ধর্ষণ গণধর্ষণ: সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি
.............................................................................................
আবারও বাড়ল গ্যাসের দাম
.............................................................................................
অস্থির চালের বাজার
.............................................................................................
নিঝুম দ্বীপে নৈরাজ্য
.............................................................................................
অর্থ প্রেরণ-বিতরণ সহজ হোক
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
.............................................................................................
এমপি লিটন হত্যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত
.............................................................................................
দুর্নীতি কর আহরণে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft