শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য

দেশে যখন কোনও নতুন আইন প্রণয়ন বা কার্যকর হয় তখন সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষের জন্য তা অন্তরায় হয়ে ওঠে। নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি তারই একটি উদাহরণ। এটি কার্যকরের আগে দুই সপ্তাহ দেওয়া হলে তা এ সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। নতুন আইনটির কার্যকারিতা শুরু হতে না হতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরোধীতা শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশের কয়েকটি জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা হঠাৎ করেই গাড়ি বন্ধ করে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা, যা মোটেই কাম্য নয়।

গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছর ৫ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় সড়ক পরিবহন আইন এবং ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাসের পর গত ৮ অক্টোবর গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন আইন কার্যকর উপলক্ষে ইতোমধ্যে রোড শো, প্রচারপত্র বিলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে নতুন আইনকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারছে না পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাছাড়া বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়া আইন কার্যকর করা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত চালক দায়ী; তবে এর পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতি ও দুর্নীতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, মালিকদের অতি মুনাফালোভী প্রবণতা, রাস্তার আশপাশে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি, মহাসড়কে নসিমন-করিমন ও সিএনজিসহ অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণও দায়ী। বস্তুত দেশের সড়ক-মহাসড়ক কবে আমাদের জন্য নিরাপদ হবে, তা কারও জানা নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছে।

এ অবস্থায় নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় এমন বিধান থাকা উচিত, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের নিহত, আহত বা পঙ্গু হওয়া থেকে রক্ষা করবে। দুঃখজনক হল, দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা কেউ দিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতোমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে।

আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এককথায় ভয়াবহ। একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করে। তবে শুধু শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশিমতো যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের ওপর ম্যাক্সি-টেম্পোস্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাটবাজার স্থাপন এবং পথচারীদের অসচেতনতাও সড়কপথে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এসব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সড়কপথের সংস্কার ও উন্নয়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর দিতে হবে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরে বাধা সৃষ্টি মোটেই কাম্য নয়। যারা বলছে, এই আইন তাদের জন্য অনেক কড়াকড়ি হয়েছে -তাদেরকে বুঝতে হবে আইন মানেই বাধ্যবাধকতা। তাই জনস্বার্থে নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলতে হবে। যারা এর বিরোধীতা করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই না, সড়কে আর একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
                                  

দেশে যখন কোনও নতুন আইন প্রণয়ন বা কার্যকর হয় তখন সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষের জন্য তা অন্তরায় হয়ে ওঠে। নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি তারই একটি উদাহরণ। এটি কার্যকরের আগে দুই সপ্তাহ দেওয়া হলে তা এ সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। নতুন আইনটির কার্যকারিতা শুরু হতে না হতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরোধীতা শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশের কয়েকটি জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা হঠাৎ করেই গাড়ি বন্ধ করে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা, যা মোটেই কাম্য নয়।

গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছর ৫ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় সড়ক পরিবহন আইন এবং ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাসের পর গত ৮ অক্টোবর গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন আইন কার্যকর উপলক্ষে ইতোমধ্যে রোড শো, প্রচারপত্র বিলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে নতুন আইনকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারছে না পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাছাড়া বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়া আইন কার্যকর করা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত চালক দায়ী; তবে এর পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতি ও দুর্নীতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, মালিকদের অতি মুনাফালোভী প্রবণতা, রাস্তার আশপাশে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি, মহাসড়কে নসিমন-করিমন ও সিএনজিসহ অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণও দায়ী। বস্তুত দেশের সড়ক-মহাসড়ক কবে আমাদের জন্য নিরাপদ হবে, তা কারও জানা নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছে।

এ অবস্থায় নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় এমন বিধান থাকা উচিত, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের নিহত, আহত বা পঙ্গু হওয়া থেকে রক্ষা করবে। দুঃখজনক হল, দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা কেউ দিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতোমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে।

আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এককথায় ভয়াবহ। একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করে। তবে শুধু শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশিমতো যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের ওপর ম্যাক্সি-টেম্পোস্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাটবাজার স্থাপন এবং পথচারীদের অসচেতনতাও সড়কপথে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এসব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সড়কপথের সংস্কার ও উন্নয়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর দিতে হবে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরে বাধা সৃষ্টি মোটেই কাম্য নয়। যারা বলছে, এই আইন তাদের জন্য অনেক কড়াকড়ি হয়েছে -তাদেরকে বুঝতে হবে আইন মানেই বাধ্যবাধকতা। তাই জনস্বার্থে নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলতে হবে। যারা এর বিরোধীতা করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই না, সড়কে আর একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক।

ক্রীড়াঙ্গনে কলঙ্কের ছাপ
                                  

ক্লাব, পাঠাগার, বিভিন্ন সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বা একাডেমিগুলো গড়ার উদ্দেশ্যই হলো শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক, বয়স্কদের নিয়ে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনমূলক কর্মকা- পরিচালনা করা। একটা সময় রাজধানীসহ দেশের নামী-দামী ক্লাবগুলোর পরিচিত ছিলো ফুটবলার গড়ার কারখানা হিসেবে। অথচ ভাবতেই লজ্জা লাগে, আমাদের প্রাণের ক্লাবে এখন অবৈধ, অন্যায় ও অনৈতিক কাজ চলছে। ক্লাব পরিচালনাকারীরা খেলাধুলাকে বাদ দিয়ে জুয়া, নারী, মদ ও ক্যাসিনোতে ব্যস্ত রয়েছে।

সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে একের পর এক বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল। ক্যাসিনোর অস্তিত্ব যেন বাংলাদেশি মানুষের জন্য চমকে ওঠার মতো কাহিনী। এ ব্যবসার রহস্য উদঘাটন ও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া ব্যক্তিদের নামও একের পর এক বেরিয়ে আসছে।

গত আট/দশ বছর আগেও যারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচশ-এক হাজার টাকা ধার নিয়ে সংসার চালাতেন। শূন্য থেকে কয়েক বছরেই ৩০টি বাড়ি, আর হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে সম্প্রতি ধরা খেলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার আলোচিত দুই ভাই, এনামুল হক এনাম ওরফে এনা ও তার ভাই রূপন। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবসহ চার ক্লাবের শেয়ারহোল্ডার তারা। ক্লাব থেকে পাওয়া টাকা সূত্রাপুরের বানিয়া নগরের নিজ বাড়িতে রাখার সিন্ধুক বানিয়েছেন। বিপুল পরিমাণ টাকা রাখার জায়গা না থাকায় তারা স্বর্ণালঙ্কার কিনতেন। র‌্যাব তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা, ৭২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। এসব অস্ত্র দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন দুই ভাই।

গ্রেপ্তারকৃত চাঞ্চল্যকর ক্যাসিনো ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার তথ্যের ভিত্তিতেই এনামুল হক এনা ও রূপনের আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এছাড়াও কেরানীগঞ্জে প্রায় ১০০ বিঘা জমিসহ এখন তারা হাজার কোটি টাকার মালিক। সূত্রাপুরে এনামুলের ছয়তলা বাসার দোতলা ও পাঁচতলায় তিনটি টাকার ভোল্ট ছাড়াও ইংলিশ রোডে টাকা রাখার জন্য আরও পাঁচটি ভোল্ট ভাড়া নেন বলে জানা গেছে।

পশ্চিমা ধাঁচের অবৈধ ক্যাসিনোগুলো এতোদিন প্রশাসনের প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যেই চালিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ক্লাবগুলোতে অনেকটাই জোরপূর্বক ক্যাসিনো বসিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও পুলিশ প্রশাসন। ক্লাবগুলোর প্রকৃত সংগঠকরা ছিলো নিরুপায়। যেখানে অনুদানের টাকায় চলতো ক্লাব, সেখানে ক্লাবগুলোতে ভিক্ষা পরিমাণ অর্থ দিয়েই ক্যাসিনো চালিয়ে লুটেপুটে খেয়েছে রাজনৈতিক নেতা। না পোষালেও বলার মতো সাহস ছিলো না ক্লাব কর্তৃপক্ষের। এতে ধ্বংস ও কলঙ্কিত করা হয়েছে ক্রীড়াঙ্গন।

আমাদের একটাই কথা, ক্লাবগুলোতে যারা কলঙ্কের ছাপ লাগিয়েছে। তারা যত বড় নেতা, প্রশাসনের ব্যক্তি কিংবা ক্লাব কর্মকর্তা হোক, ক্রীড়াঙ্গনের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন
                                  

নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের নাগরিকদের এদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মানবিকতার কারণে এগারো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রিত থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। অথচ তারপরও তারা এইদেশে নানা অপকর্ম চালাচ্ছে। মাদক কারবার, সন্ত্রাস, জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা, ডাকাতিসহ নানা অভিযোগ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। আর তাদের এসব কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এদেশেরই কিছু মানুষ। তারই একটি উদাহরণ রোহিঙ্গাদের স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র- এনআইডি) দেওয়া।

কিছুদিন আগে লাকী নামের ৩২ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নারী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাম-ঠিকানা দিয়ে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। অবাক করার মতো হলেও সত্য, যে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তাঁর সেই ভুয়া নাম-ঠিকানাও সংরক্ষিত ছিল। এটি কীভাবে সম্ভব তা বুঝতে পারছিলেন না খোদ নির্বাচন কর্মকর্তারা। সর্বশেষ কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নুর মোহাম্মদ নামে এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হন। তিনি মিয়ানমারের আকিয়াব এলাকার কালা মিয়ার ছেলে। তিনি টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছিলেন। বাংলাদেশে তাঁর চারটি বাড়িও রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর মেয়ের কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে এক কেজির বেশি স্বর্ণ ও নগদ কয়েক লাখ টাকা উপহার সামগ্রী হিসেবে জমা পড়ে।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, নুর মোহাম্মদের কাছে বাংলাদেশের একটি স্মার্টকার্ড ছিল। সেখানে তার নাম ছিল নুর আলম। গত ২২ আগস্ট রাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (৩০) গুলি করে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের অভিযোগ, একদল রোহিঙ্গা ফারুককে বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একটি পাহাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছাড়াও এই রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদ আরও কয়েকটি মামলার আসামি ছিলেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে বসবাসকারী এই দাগী আসামিকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছে কে? এর সাথে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের কর্মী এবং কোনও প্রভাবশালীর ছত্রছায়া রয়েছে। নইলে একজন উদ্বাস্তুর পক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা সম্ভব নয় বলে মনে করি। এভাবে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র তথা নাগরিকত্ব দেওয়া দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা এই এনআইডি ব্যবহার করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেশের বাইরে গিয়েও বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছে।

এতে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রোহিঙ্গদের অবৈধভাবে স্মার্টকার্ড পাওয়ার ব্যপারটি গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করে বের করতে হবে এ পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গা স্মার্টকার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন। কোন কোন অফিস থেকে এসব কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত সেটাও খুঁজে বের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

একটি বিলম্বিত বোধদয়ের অবিশ্বাস্য কালক্ষেপণ
                                  

গতকাল স্বাধীন বাংলাসহ বেশ কয়েকটি  সহযোগী দৈনিক পত্রিকা, ফেসবুক এবং অন্যান্য ইলেকট্রোনিক প্রচার মাধ্যমে সরকারী প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ ভবনের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের খবর ফলাও প্রচার পেয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা সুদীর্ঘ আটচল্লিশ বছর আগে তাদেরই আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সংরক্ষণের দাবীতে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে সমবেত হয়েছিলেন এ মানববন্ধনে।

খবরসূত্রে জানা যায়, ‘১৯৭১ সালের ৩০ অক্টোবর মুক্তিবাহিনীর দুঃসাহসী নৌ-কমান্ডোরা দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে চাঁদপুর নদীবন্দরে শত্রুবাহিনীর সমরাস্ত্র বোঝাই অপদখলীয় জাহাজ এম ভি ইকরাম সাফল্যের সাথে লিম্পেট মাইন বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত করেছিলেন। মুক্তিযুুদ্ধ শেষ হলে পর দেশের নৌ-নিরাপত্তার জন্য নৌ-কমান্ডোদের সুইসাইডাল অপারেশনে  চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, মোংলাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত জাহাজ, পন্টুন এবং অন্যান্য নৌ-স্থাপনা সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে উদ্ধার ও অপসারণ করা হলেও চাঁদপুর নৌবন্দরে ডুবে থাকা এম ভি ইকরাম উদ্ধারে ৩৭ বছরেও এগিয়ে আসেননি কেউ।

১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে নিমজ্জিত জাহাজটি ‘যেখানে যে অবস্থায় আছে’ ভিত্তিতে নিলাম ডাকে বিক্রী করেন এর মালিক বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক। অতঃপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত জাহাজটির মালিকানা আরও পাঁচবার হাতবদল হলেও পানি-মাটির তলায় পড়ে থাকা জাহাজটি উদ্ধারে কেউ সফল হননি। ২০০৭ সালের শেষ দিকে এর মালিকানা শেষবারের মত হাতে পান নারায়ণগঞ্জ সোনাকান্দার একটি স্যালভেজ অপারেশন গ্রুপ। এ গ্রুপটি মাত্র এক বছরে বিপজ্জনকভাবে ডুবে থাকা বিধ্বস্ত জাহাজটি সাফল্যের সাথে উদ্ধার করে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসেন।’

এ খবর জানাজানি হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা- বিশেষ করে নৌ-কমান্ডোরা জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবী তোলেন। জানা যায়, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) এম এ মতিন বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের এই দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণে উদ্যোগী হন এবং বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর এক চিঠিতে নিদর্শনটি ‘পরবর্তী ফয়সালা’ পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখার অনুরোধ করে উদ্ধারকারী গ্রুপকে। কিন্তু ওই পর্যন্তই শেষ, তারপর আর কেউ খবর নেননি এম ভি ইকরামের।

২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নতুন উদ্যোগ নেবার এক পর্যায়ে তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, এমপি নিদর্শনটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেন। প্রায় দুই বছরের চেষ্টায় তিনি উদ্ধারকারীদের জন্য অনুদান এবং সংরক্ষণের জন্য বাজেটে অর্থ সঙ্কুল করেন- যা গত মার্চ মাসে উত্তোলন করেছে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু সে টাকা মালিকপক্ষকে পরিশোধ করা হয়নি; এমন কি- নিদর্শনটি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। মুক্তিবাহিনীর দুনিয়া কাঁপানো নৌ-কমান্ডো অপারেশনের খুঁজে পাওয়া একমাত্র নিদর্শনটি শীতলক্ষ্যার পানিতে ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হতে থাকলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিটিতেÑ যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত মঙ্গলবারের স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের উদ্ধারকৃত নিদর্শনটি একাত্তরে পাকিস্তানীদের পরাজয় নিশ্চিত করতে সুইসাইডাল অপারেশনে ডুবিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা- যা ছিল এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। জানা যায়, সুদীর্ঘ সাইত্রিশ বছর পানি-মাটির তলায় নিখোঁজ বিধ্বস্ত জাহাজটির বিস্ময়কর উদ্ধার ও সংরক্ষণ মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা- সেটাও নিঃসন্দেহে আরেক যুদ্ধ। এখন স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য অপেক্ষমান বিপদে পড়া এম ভি ইকরাম এবং এর ভূক্তভোগী উদ্ধারকারী মালিকদের সুদীর্ঘ এগার বছরের যন্ত্রণা অবসানেও দেখা যাচ্ছে মাঠে নামতে হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

সঙ্গত কারণে তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, এই বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দের প্রত্যাশায় এদেশ স্বাধীন করেছিলেন- সেই সব সুবিধাভোগীদের কি তাহলে কোনই দায়িত্ব নেই? নিজেদের কীর্তি সংরক্ষণের দায়িত্বটিও কি তাহলে জাতির বীর সন্তানদেরই প্রতিপালন করতে হবে? আর তা নিয়ে সরকারী দফতরওয়ালারা যে ন্যাক্কারজনক অবহেলা, সময়ক্ষেপণ আর প্রতি পদে প্রতিবন্ধকতা রচনা করে সুদীর্ঘ এগারটি বছর অমাবিক যন্ত্রণায় বিদ্ধ করেছেন নিদর্শনটির সফল উদ্ধারকারী মালিকদের- তার কি কোন উত্তর চাওয়া যেতে পারে না? এক্ষেত্রে বিধিবিধানের প্রশ্ন উঠলে প্রয়োজনে নতুন বিধান তৈরী করতে হবে। কিন্তু বিধির অযুহাত তুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সুরক্ষা এবং তার অবিনাশী চেতনা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সংকুচিত, সীমায়িত অথবা ক্ষতিগ্রস্ত করা যেতে পারে না। যেমনটি হয়েছে হতভাগ্য এম ভি ইকরাম এবং এর দুর্ভাগা উদ্ধারকারীদের বেলায়।

কথা আরও আছে। দেশের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায় এবং দপ্তর-অধিদপ্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কত শত ‘কেস’ যে বছরের পর বছর অনিস্পন্ন অবস্থায় রয়েছে- কে তার হদিস করবে! কেবল মুক্তিযোদ্ধার কেস বলেই সেগুলো ফেলে রাখা হয়েছে সবার নীচে। কেন? যারা জীবন দিল- বুকের রক্ত ঢেলে তৈরী করলো নতুন জাতিরাষ্ট্র এবং তার গর্বিত ইতিহাসÑ তাদের কাজ কি এতটাই অ-দরকারী? আমরা মনে করি- এম ভি ইকরামই একমাত্র ইস্যু নয়, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যসব ইস্যু সমাধানের উদ্যোগও শীঘ্রই নেয়া দরকার। সরকারী সকল দপ্তরে কঠোর বার্তা দেয়া দরকার- যেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আইনানুগ কোন কাজ অযথা সময়ক্ষেপণের গোলকধাঁধাঁয় বিলম্বিত করা না হয়।

সুখের কথা, এম ভি ইকরাম সংরক্ষণের দাবীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনের খবর জেনে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি। তিনি সেদিন বিকেলেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি- নিদর্শনটি সংরক্ষণের প্রাণপুরুষ, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, এমপি-কে সাথে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দায় রক্ষিত এম ভি ইকরাম পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের স্বার্থে তিনি পরিদর্শন টীমে আরও সঙ্গে নেন নৌপরিবহন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের।

এম ভি ইকরাম পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী এ নিদর্শন অবশ্যই যথাযোগ্য মর্যাদায় অতি শীঘ্র সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হবে। জানা যায়, গোটা বিষয় অবহিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ভূক্তভোগী মালিকদের ফোন করে দীর্ঘ দুর্ভোগের জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গণমানুষের কাতার থেকে উঠে আসা রাজনীতিক-মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শনটি সংরক্ষণের অবশিষ্ট কাজে উদ্যোগী হওয়ায় এবং দুর্দশাগ্রস্ত মালিকদের প্রতি তিনি যে সহমর্মিতার ঐদার্য দেখিয়েছেন- তাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাচ্ছি।

অনস্বীকার্য যে, এম ভি ইকরাম সাধারণ কোন যুদ্ধ-স্মারক নয়। একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের দুনিয়া কাঁপানো নৌ-হামলাগুলোর সফলতা একেবারে বদলে দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের গোটা দৃশ্যপট। মুক্তিবাহিনীর সমর কুশলীদের কাছে পরাভূত হয়েছিল বর্বর পাকিস্তানী যুদ্ধবাজদের সমর-কৌশল। সে কারণে এম ভি ইকরাম হল বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরাজয়ের ক্ষতচিহ্ন আর মুক্তিবাহিনীর বিজয় গৌরবের দূর্লভ স্মারক। মুক্তিবাহিনীর অকুতোভয় নৌ-কমান্ডোদের বিস্ময় জাগানো সেই নৌ-অপারেশনের খুঁজে পাওয়া একমাত্র নিদর্শন এম ভি ইকরাম। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধের এ ঐতিহাসিক নিদর্শন জনবহুল কোন দর্শনীয় স্থানে উপযুক্ত মর্যাদায় সংরক্ষণ করার বিকল্প নেই। এ গণদাবীই গত পরশু ধ্বণিত-প্রতিধ্বণিত হয়েছে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কন্ঠে।
এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, মুক্তিযুদ্ধের সুবিস্তৃত সঠিক ইতিহাস জানে না বর্তমান প্রজন্ম। আমাদের ‘বিস্মৃতিপ্রবণ মনোবৃত্তি’র চোরাবালীতে হারিয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব করার মত অসংখ্য নিদর্শন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সে গৌরবগাথা ইতিহাস না জেনেই বড় হচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম; তাদের অন্তরে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে কিভাবে! এর সুচিন্তিত ও কার্যকর সমাধান অবশ্যই খুঁজে পেতে হবে।
সুতরাং, আমরা বলতে চাই-মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী স্মারক এম ভি ইকরাম যেন অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে না যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে নিদর্শনটির উদ্ধারকারী ভূক্তভোগী মালিকপক্ষও যেন বঞ্চিত না হন তাদের ন্যয্য পাওনা থেকে- সেটাও অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে ন্যয়বিচারের স্বার্থেই। আর দায়িত্ব দেওয়া সত্ত্বেও এ কাজে যারা অবহেলা প্রদর্শন করেছেন তাদেরকেও খুঁজে বের করা দরকার- কেন এই ‘জাতীয় দায়িত’¡ প্রতিপালনে নিদারুণ গাফিলতি দেখানো হলো।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
                                  

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বন্যা। গত কয়েক দিনে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। চট্টগ্রাম জেলার বন্যাকবলিত ১৪ উপজেলায় দুর্গত পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৭২৫ জন। ২০ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত। বান্দরবানের পাঁচ উপজেলা প্লাবিত। ১০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। খাগড়াছড়ির চার উপজেলায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে ১৫ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় রাঙামাটির ক্ষতিগ্রস্ত ১০ উপজেলার ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার তিন লাখ ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ২৭৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করলেও বিপৎসীমার ওপরে বইছে। নীলফামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা দুই উপজেলায় ২৮ হাজারেরও বেশি। যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। ৮২ হাজার মানুষ দুর্গত। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার শ পরিবার। গাইবান্ধায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার মানুষ বানভাসি। এদিকে অবিরাম বর্ষণ আর উজানের ঢলে গাইবান্ধায় রেলপথ ডুবে যাওয়ায় ঢাকার সঙ্গে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের রেল যোগাযোগ গত বুধবার সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

ওদিকে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমতে থাকায় কোথাও কোথাও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানে বর্ষণ কমলেও পানির ঢলে দেশের নদ-নদীর ২৩টি পয়েন্টে এখনো পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫ জুলাই থেকে বন্যা শুরু হয়। চলতি মাসের প্রথমার্ধে বন্যা ২১টিরও বেশি জেলায় বিস্তার ঘটে। এখন প্রভাব পড়ছে মধ্যাঞ্চলেও। ধীরে ধীরে শনিবার থেকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বাংলাদেশের উজানের এলাকাগুলোয় আগামি ৪৮ ঘণ্টা ভারি বর্ষণের আভাস না থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা-পদ্মার পানি বাড়বে আরো ৪৮ ঘণ্টা। এরইমধ্যে বন্যাকবলিত বেশির ভাগ এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। বন্যায় গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে বিপদে পড়েছে মানুষ। শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি, গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

ওদিকে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় গরমে দুর্গত এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বন্যার পানি যাতে বেশিদিন আটকে না থাকে তার জন্য এখন থেকেই নদী খননে মনোনিবেশ করতে হবে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা আশা করব, বন্যাদুর্গতদের কষ্ট লাঘবে সম্ভব সব ব্যবস্থা নেবে সরকার।

বাণিজ্য বাড়ছে ভারতে
                                  

ভারতে বাংলাদেশের বাণিজ্য তথা রফতানি আয় বাড়ছে শীর্ষক সংবাদটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বেড়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য। ইইউ, যুক্তরাজ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির খবর তো আছেই। এমনকি জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য বেড়েই চলেছে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছর ২০১৮-১৯ এ দেশের সামগ্রিক পণ্য রফতানি ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মাইফলক স্পর্শ করেছে।

যদিও রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ইত্যবসরে প্রবাসী আয় বা হোম রেমিটেন্সের পরিমাণও বেড়েছে আশাব্যঞ্জক গতিতে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি। এই প্রথমবারের মতো ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল মাত্র ৮৭ কোটি ডলার। তার মানে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯২ শতাংশ। মোট রফতানির ৪০ শতাংশই তৈরি পোশাক। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে অস্ত্র ও মাদক বাদে প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। এতে ভারতের এক শ্রেণীর উদ্যোক্তা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে খবরও আছে, বিশেষ করে পোশাক খাতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার প্রশ্নে। তবে ভারতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এও মনে করে যে, শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ বা প্রত্যাহারের কোন সুযোগ নেই। কেননা, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মজুরি সস্তা, পণ্য বৈচিত্র্যও বেশি। এই প্রেক্ষাপটে বিজিএমই-এর সভাপতির বক্তব্য, ভারতে পোশাক রফতানি আরও বাড়তে পারে যদি সে দেশের কাপড় ব্যবহারসহ ডিজাইন ও নক্সায় আরও বৈচিত্র্য আনা হয়। এর পাশাপাশি আগামীতে পোশাকশিল্পে সবচেয়ে বড় বাজার হতে পারে আসিয়ান। বর্তমানে সেখানে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ আসিয়ান হবে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।


প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারও ভারত। তবে বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্ক (বাজার দখলে কম দামে পণ্য ছাড়ার শাস্তিস্বরূপ শুল্ক) আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের ডাম্পিং নিয়ন্ত্রণকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান ‘এন্টি ডাম্পিং এ- এ্যালাইড ডিউটিস (ডিজিএডি)’। এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানিকারকরা। এতে বাংলাদেশের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ওই শুল্ক আরোপ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ী মহলের।

তবে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সহজীকরণে স্থলবন্দর, রেলপথ, সড়কপথসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাণিজ্য কার্যক্রমের জন্য এক স্থানে সব সুবিধা (সিঙ্গেল উইনডো ফ্যাসিলিটিজ) দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। ঢাকা ও দিল্লীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে যেসব ইস্যু বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মূলত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুগমতার সঙ্কট।

এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণ এবং পর্যালোচনা করা হবে, এমনটাই প্রত্যাশা। দেশের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা দরকার। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার এখনই সময়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ আরও বেশি প্রত্যাশিত।

রাজধানীতে যানজট জলজট : নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করুন
                                  

এমনিতেই ঢাকা যানজটের শহর। বৃষ্টি হলে রক্ষা নেই, জলাবদ্ধতায় সব স্থবির হয়ে যায়। গত দুই দিন ছিল রিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ। তিনটি বড় সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। সব মিলে যানজট পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার ধারণ করে। উপরন্তু গণপরিবহন সংকট ও অ্যাপভিত্তিক পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার কারণে রাজধানীর জন-চলাচল পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সোমবার সকাল থেকে রিকশাচালকদের অবরোধের ফলে মুগদা হয়ে মালিবাগ-রামপুরা-প্রগতি সরণি-কুড়িল প্রধান সড়ক এলাকায় গণপরিবহন সংকট দেখা দেয়। বেশ কিছু কম্পানির বেশির ভাগ বাস চলেনি। বিকল্প পথে ঘুরে দ্বিগুণ বা তারও বেশি সময় যানজট সয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে অনেক যাত্রীকে। দুপুরে প্রবল বর্ষণ শুরু হলে প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দিন শেষে কর্মস্থল থেকে ফিরতে গিয়ে যানজট ও তীব্র পরিবহন সংকটে পড়তে হয় নাগরিকদের। বাসের দূরত্ব রিকশায় বা হেঁটে পেরোতে হয় তাদের। উন্নয়নকাজের জন্য সড়ক স্থানে স্থানে বন্ধ থাকায় ভোগান্তির অন্ত ছিল না।

গতকাল সকালেও রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডাসহ কয়েকটি পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে রিকশাচালকরা। দুর্ভোগে পড়ে অফিসগামী লোকজনসহ সবাই। দাবি না মানলে আজও তারা আন্দোলনে নামবে। তিন সড়কে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে রিকশা চলাচল। রিকশা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভ্যান রয়েছে। দিনের বেশ কিছু সময় যানজট কম ছিল। কিন্তু বিকল্প গণপরিবহন না থাকায় তিন সড়কেই তীব্র গণপরিবহন সংকটে পড়ে নগরবাসী। ফলে দিনের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক ছিল না। নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানোর প্রবণতাও ছিল। এটাও যানজটের কারণ। অফিসে যাওয়া ও অফিস থেকে ফেরার পথে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।

বড় সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করলে গণপরিবহনের চলাচলে সুবিধা অবশ্যই হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে তা করলে বিপদ বাড়ে বৈ কমে না। সেটাই হয়েছে। তাই এ সিদ্ধান্তে শুধু রিকশাচালক নয়, যাত্রীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। তারা রিকশাও পাচ্ছে না; বাসও পাচ্ছে না। রাস্তা অনেকাংশে ফাঁকা হওয়ার সুবিধা মিলছে না। যাদের সুবিধার জন্য সিদ্ধান্ত, তারাই যদি সেটা না পায় তাহলে লাভ কী? যাত্রী-পথচারীদের অভিমত, বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তাই আগে করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বিকল্প পরিবহনের চিন্তা করে ধাপে ধাপে বড় সড়কে রিকশা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত ছিল। যানজটের অন্যান্য কারণ দূর করার ক্ষেত্রেও সমন্বিত চিন্তা দরকার। আমরা মনে করি, যানজট কমানোর সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভালো। কিন্তু তা কার্যকর করতে হবে সুচিন্তিতভাবে।

গণপরিবহনে বিড়ম্বনা
                                  

রাজধানীতে স্কুল, কলেজ, অফিস ও অসুস্থতাজনিত কারণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে রিকশায় চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষের। অথচ এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধ করায় ব্যাপক বিড়ম্বনার সম্মুখীন স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা। রাজধানীতে সড়কের মোড়ে মোড়ে সিগন্যাল বাতি, ট্রাফিক পুলিশ ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করেও যানজট কমানো সম্ভব না হওয়ায় এবার বেশকিছু এলাকায় রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে যানজট নিরসনের পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

গত ৩ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে ডিটিসিএর (ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল অথরিটি) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তে রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়। গত রোববার থেকে প্রগতি সরণির কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা মালিবাগ, হয়ে খিলগাঁও-সায়েদাবাদ এবং মিরপুর রোডের গাবতলী থেকে আসাদগেট, ধানমন্ডি হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে পারবে না বলে জানানো হয়। তবে মূল সড়ক ছাড়া অন্য সড়কগুলোতে রিকশা চলবে।

যদিও বৈঠকে রিকশা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি এই দুটি সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন চালু করার জন্য বিআরটিসি এবং বাস মালিক সমিতির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু ডিএনসিসিকে মনে রাখতে হবে, বিআরটিসি ও মালিকদের বাস চলাচলের আহবান জানালেই সর্বসাধারণের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়নি।

যানজট নিরসনে রাজধানীর প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও, আগে যাত্রীদের কথা ভেবে বিকল্পের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন- রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, সায়েদাবাদ এবং মিরপুর রোডের গাবতলী থেকে আসাদগেট, ধানমন্ডি, আজিমপুর এসব রুটে লোকাল বাসে অসহনীয় যাত্রীর চাপ থাকে। একজন সুস্থ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও স্বাভাবিকভাবে ওঠার কোনো বাস পাবেন না। আর সেখানে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ, শিক্ষার্থী, অফিসগামী কিংবা মহিলাদের কী অবস্থা হবে সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখেছেন কী? এসব রুটে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হলেও রিকশা ছাড়া বিকল্প নেই।

ঢাকায় যানজট কমাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে শুধু রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেই নয়, একই সঙ্গে প্রাইভেটকারও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ঢাকায় বর্তমানে প্রাইভেটকার ২ লাখ ৪৯ হাজার। ঢাকার রাস্তা ৮০ ভাগ প্রাইভেটকারের দখলে থাকে। যাত্রী বহন করে মাত্র ৮ ভাগ। রিকশা যাত্রী বহন করে ৩২ ভাগ। ঢাকায় রিকশা প্রাইভেটকারের চেয়ে কার্যকর। কারণ গতির দিক দিয়ে ঢাকায় গড় গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। অথচ রাজধানীর রিকশার ওপর বারবার খড়গ নেমে আসলেও প্রাইভেটকার ঠেকাবে কে? সড়ক গতিশীল ও যানজটমুক্ত করতে গণপরিবহন সহজলভ্য করে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গণপরিবহন যে রাস্তায় যতটুকু আছে সেগুলোর সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে বিত্তবান ও মধ্যম আয়ের মানুষ বাধ্য হয়েই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

হঠাৎ করে এসব সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ কার্যকর হওয়া মানে, অসহায়-দরিদ্র রিকশাচালকদের পেটে লাথি মারা। মাতা-পিতাসহ ৫/৭ জনের ভরণ-পোষণের ভার নিয়ে অনেকেই রিকশা চালিয়ে রোজগার করে থাকে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ অসুখ-বিসুখের ব্যয়ভার নিয়ে তাদের সংসার চালাতে হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রিকশা চালকের বিষয়ে বিকল্প কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে ভাবা দরকার। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে দাবিতে ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা চালকরা অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর রিকশাচালকদের জীবন-সংগ্রাম, দেশের পণ্য ও নাগরিক পরিবহনে তাদের প্রয়োজনীয়তা, অবদান এবং সংগঠিতকরণ বিষয়ে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সেখানে বলা হয়, ঢাকা শহরের অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ রিকশায় চড়ে। রিকশাচালকদের মাসিক গড় আয় ১৩ হাজার ৩৮২ টাকা। রিকশাচালকরা অত্যন্ত দরিদ্র। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কোনো জমি নেই। ঢাকায় রিকশা চালনা শুরু করার আগে বেশিরভাগই (৫৭.১ ভাগ) ছিল দিনমজুর, ১৩.৮ ভাগ যুক্ত ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়, ১২.১ ভাগ কৃষিকাজে। রিকশাচালক হিসেবে কাজে আসার পেছনে প্রধান কারণ ছিল অন্য কোনো কর্মসংস্থানের অভাব এবং এই পেশায় আসতে উৎসাহের কারণ ছিল এতে কোনো পুঁজি ও দক্ষতার প্রয়োজন নেই।

রাজধানীতে স্বল্প দূরত্বের মানুষ যে হেটে যাতায়াত করবে সে ব্যবস্থাও নেই। সড়ক ও ফুটপাতগুলো হকারদের অবৈধ দখল ও পার্কিংয়ে ভরপুর। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, জনগণের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে, ফুটপাত ও সড়কে রাখা নির্মাণ সামগ্রী, দোকান এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আহ! একটি ৭ বছরের শিশু...!
                                  

পরন্ত বিকেলে যখন একটি শিশুর হাতে থাকবে খেলারসামগ্রী, যে সময়টায় সে হাসবে, খেলবে, ঘুরে বেড়াবে, সে সময়টাই নিষ্ঠুরতা ও লালসার শিকার হলো শিশু সামিয়া আক্তার সায়মা (৭)। শিশু সায়মাতো তার মমতাময়ী মায়ের হৃদয়ের ফুল। শিশুরা আমাদের মানব উদ্যানের হৃদয়কাড়া সৌন্দর্য, গোলাপের মত সুন্দর, হাসনাহেনার মত সুগন্ধি ছড়ানো, নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ, হৃদয়ের বাঁধন, নয়নের পুত্তলি, অতি আদরের সোনামণি সেই শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হলো! দেশ আজ বর্বর দেশে পরিণত হয়েছে নাকী? নারী ও শিশুরা আজ নিজ বাড়িতে নিরাপদ নয়, স্কুলে নয়, বিশ্ববিদ্যালয় নয়, মাদ্রাসাতেও নয়, ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতে নয়, গাড়িতে নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও নয়! তাহলে কোথায় নিরাপদ নারী ও শিশুরা?

সহ্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে কতিপয় মানবিকবোধহীন মানুষরুপি পশুর বর্বরতায়। জাগ্রত বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়ে পারে না- কোথায় আছি আমরা? বর্বরতার জঘন্যতা লালন করা কি কতিপয় পুরুষের নেশা হয়ে উঠেছে? এর চেয়ে লজ্জার, কষ্টের, বেদনার আর কি হতে পারে। সায়মা ধর্ষণ দুঃসহ বাস্তবতার ও প্রতিনিয়ত বিভৎস অসহনীয় ঘটনার একটি অতি সাধারণ চিত্র মাত্র।

রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় নিখোঁজ হয় সিলভারডেল স্কুলের ছাত্রী সায়মা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নির্মাণাধীন ভবনের অষ্টম তলার একটি কক্ষ থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়। সায়মার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরে ব্যবসা করেন। পুলিশ বলছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আহ! ৭ বছরের শিশু...! এই রকম একটি মেয়ে অনেকের ঘরেই আছে। ভাবতেই ঘা শিউরে উঠে! বুকের ভেতরটা ধ্বক করে উঠলো। খবরটা পড়ে যে কোন মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারবে কী? প্রতিক্রিয়া জানানোর কেনো ভাষাই যেনো নেই। পশু হতে আর কত বাকি আমাদের। হায়রে মানবতা! পশুরাও ওদের দেখে লজ্জায় মুখ লুকাবে। সবাই আজ মূক, নির্বাক, স্বরহীন, কি আর বলার আছে! সব ভাষা যেন আজ থেমে গেছে! কী অপরাধ ছিলো সায়মার? বিকেল বেলায়, শিশুদের খেলা-ধুলায় সময়ে, একটি শিশুর জন্য একই বাড়িতে ভীষণ অনিরাপদ হয়ে গেলো? এতো কাছে বসেও ধর্ষণ করার সাহস রাখে! অবশ্য ইতোপূর্বে খবর হয়েছে, খেতে বসা ছয় বছর বয়সী শিশুকেও নরপিচাশেরা টেনে নিয়ে ধর্ষণ করেছে।


‘শিশু অধিকার সংরক্ষণে ২০১৮-এর পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে সারা দেশে ২৮ প্রতিবন্ধী শিশুসহ ৫৭১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৬ শিশু ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে। এদিকে একই বছরে ৮১২ শিশু বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এছাড়া গত বছর ৪৩ শিশু উত্ত্যক্তের এবং ৮৭ শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।  প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে, এটা দেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতির অবস্থা। এই সংখ্যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং রিপোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নরপিচারশদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে, অপরাধের ভীতিটা জানাতে হবে। রোগ হলে প্রথম কাজ রোগচিহ্নিত ও সনাক্তকরণ। এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত এবং আন্তরিক চিকিৎসক, রোগ নির্ণয়ের সঠিক ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতি। তারপর চিকিৎসা। তবেই সফলতা আশা করা যেতে পারে।

দেশের ধর্ষণ সমস্যার মূল জায়গায় এখনো কেউ হাত দেয়নি! ধর্ষক তৈরি হচ্ছে পর্নগ্রাফির ব্যাপক সম্প্রসারণের পরিণতি হিসেবে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে ধর্ষণ ঘটবার সহজ পরিবেশ, উপায়, উপাত্ত বহাল তবিয়তে রেখে এই পাপ থেকে মানুষ মুক্তি পেতে পারে না। এজন্য ধর্ষণ কেন বাড়ছে বা ধর্ষণ কেন করা হচ্ছে, এই বিষয়টা নিয়ে ভাবার মতো যথেষ্ট সময় এসেছে। এখনই এই সমস্যা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে। ধর্ষণ মূলত একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। এই বিষয়কে সমাধান করতে হলে মনস্তাত্ত্বিকভাবেই এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবিকতার শিক্ষাকে আরো বেশি জাগ্রত ও জোরদার করতে হবে। ধর্ষণের পরে আইন-আদালতে শাস্তি হওয়াই মূল সমাধান নয়। এটা অনেকটা অসুখ হওয়ার পর ওষুধ দেয়ার মত। অসুখ আসার আগেই প্রতিরোধ করতে হবে। সমাজ সংস্কৃতিতে নৈতিক শিক্ষার অভাবই এসব অপরাধ ঘটার মূল কারণ।

প্রকল্প নেয়ার হিড়িক : হুমকিতে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য
                                  

সুন্দরবনের জন্য গভীর উদ্বেগ ও দৃঢ় সংহতির জায়গা তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কল-কারখানা বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির বিকল্প দেশে বহু স্থান ও জায়গা আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের দরকার, কিন্তু এ কারণে দেশকে মহাবিপদে নিক্ষেপ করা যাবে না। অসাধারণ জীববৈচিত্র্য ভরা, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত সুন্দরবন আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। যে সুন্দরবন আমাদের বিপুল সম্পদ জোগান দেয়। যে সুন্দরবন লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করে। জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ আধার হিসেবে আমাদের সকলের প্রাণ সমৃদ্ধ করে। এই বন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের প্রধান অবলম্বন। যে বন জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের টিকে থাকার প্রধান শক্তি।

ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপন ও মহাকাশে বাংলার নতুন ঠিকানা স্থাপন করে দেশ আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে পদার্পন করেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাওয়া জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এরপর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপনের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং এটা সম্ভবও। কিন্তু অসাধারণ জীববৈচিত্র্য ভরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত আরেকটি সুন্দরবন তৈরি করা বিশ্বের কারো দ্বারাই সম্ভব নয়।

বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবনের চারপাশে ১৫৪টি শিল্পকারখানা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিটি বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে। সুন্দরবনের সুরক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ১১ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভার বিষয়ে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনেসকো।

এছাড়া সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষায় এক বছর বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০২০ সালের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম অধিবেশনে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি হবে না, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সুন্দরবনে আসবে। তারা সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও পানিপ্রবাহের ওপর একটি সমীক্ষা করবে। চারপাশের শিল্পকারখানা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করে দেখবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যেসব অঙ্গীকার করেছিল, তা যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে আসছে ইউনেসকো। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র।

আজারবাইজানের সভায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ মোট ১০ জন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার শুরুতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভাপতি আঠুলফাস গারায়াভ সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেসকোর অবস্থান তুলে ধরতে আহ্বান জানান। সেখানে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের ১৬.৩ ধারা অনুযায়ী বিশ্ব ঐতিহ্যের পাশে বড় কোনো শিল্পকারখানা হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ তা লঙ্ঘন করেছে।

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের দুটি লাইন তুলে ধরে বলেন, ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি’। এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ দরকার। আর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা থেকে অনেক দূরে।

সুন্দরবনের সম্পদ এখনো হিসাব করে বলা সম্ভব না। কেননা, এই বনের জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার অনেক কিছুই আজও বিজ্ঞানীদের অজানা। এ ছাড়া এই বনের প্রাণীদের মধ্যে যে জিনগত সম্পদ রয়েছে, তা এখনও অমূল্য সম্পদ হিসেবেই বলা হয়। আমরা চাই সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান অটুট থাকুক। এজন্যে রামপাল প্রকল্প বা সুন্দরবন ঘিরে ফেলা বনগ্রাসী, ভূমিগ্রাসী প্রকল্পের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে সরকারকে আরো শতবার ভাবতে হবে।

সত্য জানা হলো না
                                  

সমাজে যারা নয়ন বন্ডদের বীজ বপন করে, পানি দেয়, সার দেয়, পরিচর্যা করে। আর (পর্দার আড়াল থেকে) ফল ভোগ করে, তাদের ‘ক্রসফায়ার’ কি কখনো দেশবাসী দেখতে পারবে? এমন গভীর রাতে পুলিশ সুধুমাত্র নয়ন বন্ডকেই গুলির নিশানায় পেয়ে হত্যা করতে পারলো? আর কোন সহযোগীই ন্যূনতম আহত পর্যন্ত হলো না? সুস্থভাবে পালিয়ে গেলো? নয়ন যে অন্যায় করেছে, এতে তার মৃত্যুই কাম্য ছিল, তবে সেটা বিচাররকের রায়ে। এ বন্দুকযুদ্ধের অন্তরালের ঘটনায় কাউকে আড়াল করা হলো নাতো?

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি তাজা গুলি, তিনটি রামদা ও তিনটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে। একজন নয়ন বন্ড কীভাবে তৈরি হয়? কিংবা নয়ন বন্ড কার লোক? এ প্রশ্নের উত্তর কখনো পাওয়া  যায় না। মাঝে মধ্যে চুনোপুঁটি মেরে রাঘব-বোয়ালদের আড়াল করা হয় মাত্র! কথা হলো, আড়ালে থাকা এই মহারথীরা কারা? কেন এদেরকে আড়াল করা হচ্ছে? এদের কালো হাত কতদূর বিস্তৃত? কখনো জানতে পারা যাবে কী?

সম্প্রতি বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফ নামের এক তরুণকে। এ সময় বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা তার স্বামীকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকে (রিফাত) উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে।

একথা শতভাগই ঠিক যে, নয়ন বন্ডরা খেলার পুতুল মাত্র! ক্রসফায়ার তাদেরও প্রাপ্য, যারা নয়ন বন্ডদের তৈরি করে। বন্ধুকযুদ্ধ হলো, নয়ন বন্ড নিহত হলো, কিন্তু তার সহযোগীদের কেউ ধরা পড়লো না, বা আহতও হলো না! নয়ন বন্ডকে যারা তৈরী করেছে, বন্ডকে বিচারের মুখোমুখি করলে যাদের নাম প্রকাশ পেতো, সেই গডফাদারদের অদৃশ্য ইশারাতেই যে নয়ন বন্ডকে হত্যা করা হয়েছে, এতে সন্দেহ নেই। বন্দুক যুদ্ধ শুধুই মুখোশধারী রাজনীতিকদের রক্ষা করে। এসব শুধুই প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা ও আশ্রয়-প্রশ্রয় ধামাচাপার অপকৌশল মাত্র! সেই সাথে দেশও ‘আসল’ সত্যটা জানতে পারলো না। গডফাদারদের ঘুম নিশ্চিন্ত হলো! নয়ন তো একজন নয়। বরগুনার সন্ত্রাস ও মাদক সাম্রাজ্যে ছোট্ট একটি হিস্যা মাত্র, এই সাম্রাজ্যে প্রতিটি কোনায় কোনায় নয়নরা আছে, তাদের কী হবে? সে উত্তর কারো কাছে আছে কী? তবে একথা ঠিক, এই সন্ত্রাস সাম্রাজ্যের মূল মালিকরা বরাবরই যখন যারা ক্ষমতায় থাকে ক্ষমতার তাদের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েই থাকে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিচারহীন কতিপয় খুনেও শান্তিপ্রিয় মানুষের নেচে ওঠে! মন ভাল লাগে! বোঝা যায়, পাড়ায়-মহল্লায়, বেকার, চাঁদাবাজ, অহেতুক যন্ত্রণাবাজ এসব রাজনৈতিক লেজুরধারী কীটদের সর্বসাধারণ মন থেকে কতটা ঘৃনা করে! সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহতে ঘটনায় মানুষ শোক নয়, নানাভাবে আনন্দ প্রকাশ করেছে। কোনো করুণা বা আক্ষেপের কথা শোনায় যায়নি। এ থেকে  নয়ন বন্ডের সাঙ্গ-পাঙ্গদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। নয়ন বন্ডের মদদদাতারা এভাবেই তাদের স্বার্থসিদ্ধি করে নিজ দলের ক্যাডারদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

একটি ছবিতে দেখা গেছে, কলাপাতার ওপর হাফ প্যান্ট পরা নয়ন বন্ডের লাশ অযত্নে, অবহেলায় পড়ে আছে। অথচ ৩ দিন আগেও তার ভয়ে বরগুনা প্রকম্পিত ছিল! পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম ব্যক্তিরও বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়া উচিত নয়। যারা এই হত্যাকে সাধুবাদ দিচ্ছেন, তারা কি ভেবে দেখেছেন বাংলাদেশে এই ক্রসফায়ার নাটক কতদিন শুরু হয়েছে? তাতে কয়জন সন্ত্রাসী ভয় পেয়েছে? কয়জন দমেছে? একটা অন্যায়কে কখনোই আর একটা অন্যায় দিয়ে জাস্টিফাই করা যায় না। অন্যায়কে অন্যায় হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। যদিও কারো বিচার বর্হিভূত মৃত্যু চাওয়া অন্যায়, তারপরও বর্তমান আইনি কাঠামোয় বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় না চেয়ে উপায় নেই দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের। দেখা যেতো আইনের মারপ্যাচে পড়ে ও উকিল, আদালতে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে স্বামী হারা নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আশেয়া সিদ্দিকার জীবনে কত ভোগন্তি নেমে আসতো তার সীমা নেই।

এজন্যে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচারে, জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্র আইন সংশোধন করে হলেও, ‘নগদ শাস্তির’ বিধান কার্যকরে আইন করত হবে।

ভাষাই মনের পরিচয়
                                  

দেশের রাজনীতির মাঠ পেরিয়ে মহান জাতীয় সংসদেও কথায় রুচি, শালীনতা ও সহিষ্ণুতার যে মহাদুর্ভিক্ষ চলছে, তা স্পষ্ট। জনগণের অর্থে পরিচালিত পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে নোংরা কথাবার্তা বলার ধৃষ্টতা কারো থাকতে পারে না। বেশি কথা হলে যে বাজে কথা হয়, তা কারো অজানা নয়। আমাদের দেশে রাজনীতিকদের সভা-সমাবেশে একে-অন্যের বিরুদ্ধে (সত্য-মিথ্যা) বিষোদগার, গাল-মন্দ, কুৎসা রটনা খুবই স্বাভাবিক। এ কাজটি তারা করছেন জাতীয় সংসদেও। বর্তমানে সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে। বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ জরুরি। বিজ্ঞ সাংসদদের আলোচনার মধ্য দিয়ে বাজেটের ভালো-মন্দ, ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো বের হয়ে আসছে। জনগণও দেশের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যা চায়, নেতা-নেত্রীরা ঠিক তার বিপরীতটাই আমাদের উপহার দেন।
বর্তমান সংসদে বিরোধীদলের সংখ্যা কম। অতীতে যে সংসদগুলোয় পর্যাপ্ত বিরোধী দল ছিল, তখনও কতদিন তারা সংসদে যেয়ে গণমানুষের কথা বলেছে? সদস্যপদ বাঁচানো ও রাষ্ট্রীয় সুবিধাদি ভোগ করতে, মাঝে মাঝে হাজিরা বইয়ে সহি করে আসাই যদি গণতন্ত্র হয়, তাহল বুঝতে হবে আমাদের মধ্যে বড় সমস্যা রয়েছে!
নিজেরা শান্তিনে থাকা ও দেশকে শান্তিতে রাখার দায়িত্ব জনগণ যাদের হাতে অর্পণ করেছে, সেই মাননীয় সাংসদেরা নিজেরাই প্রতিনিয়ত অশান্তির মহড়া দিয়ে থাকেন সংসদের ভেতরে। সেখানে তারা এমন সব শব্দ ও বাক্য উচ্চারণ করেছেন, যা কেবল অরুচিকর নয়, অশালীন ও নোংরা। কে কার বিরুদ্ধে কত বেশি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, সংসদ যেন তার প্রতিযোগিতার স্থান। জাতীয় নেতা-নেত্রীদের চরিত্র হরণসহ  টিপ্পনি ও খোঁচা দিয়ে পরস্পরকে ঘায়েল করার চেষ্টার সাথে মা-বাপ তুলে গালি দেয়ারও নজির রয়েছে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এসব গালাগালিতে এগিয়ে আছেন দুই দলের সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত কয়েকজন নারী সাংসদ। তারা দলের ও নেত্রীর প্রতি অতি আনুগত্য দেখাতে গিয়ে এমন সব আচরণ ও কথাবার্তা বলছেন, যা আপত্তিকর ও শিষ্টাচারবহির্ভূত। ইতোপূর্বে বর্তমান সংসদ নির্বাচিত নয় বলে দাবি করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সাংসদ রুমিন ফারহানা। তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা কেউ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি।’ রুমিন ফারহানাকেও মনে রাখতে ইতোপূর্বে বিএনপি তাদের দ্বিতীয় শাসনকাল অবসানের শেষ দিনগুলোতে আবারও ক্ষমতায় আসার মানসে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও কারসাজির পরিকল্পনা করছিল। ফলে ব্যাপক গণরোষের কারণে সেনাবাহিনীর সমর্থনে দু’বছরের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করে। সর্বসাধারণের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য ‘শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন’ ও সাংবিধানিক কাঠামো অতীতে বিএনপিসহ কোন সরকারই করেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে তাদের নির্বাচনী কূটকৌশল, টালবাহানার বিরুদ্ধে ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার আশায় আওয়ামী লীগের শত অনুনয়-বিনয়ে কাজ না হলে- হরতাল, আন্দোলন, জ¦ালাও পোড়াওয়ে বাধ্য হয়েছিলেন। নিয়তির কি নির্মম ও নিষ্ঠুর পরিহাস! আজ বিএনপি তাদের অতীতের পাতানো সেই গ্যারাকলের ফাঁদেই আটকে গেছে।
সাংসদ রুমিন ফারহানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে বক্তব্য শুরু করেছেন। রুমিনের এ বক্তব্যের সময় সরকারদলীয় সাংসদ ও জাতীয় পার্টির সাংসদেরা হইচই করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে ছোট করা ও অকারণে বিতর্কে টেনে আনা কি খুবই জরুরি। জাতীয় নেতাদের নিয়ে কটূক্তি কারো জন্যই ঠিক নয়। যারা কবরে শুয়ে আছেন, তাদের নিয়ে কটুক্তিমূলত বাজে কথা বলা কি দরকার? এক্সপাঞ্জ করা কথাগুলোও কিন্তু বলা হয়ে যায়। হয় প্রচারিতও। এ কদর্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে সব দলকেই। তবে বেদনাদায়কভাবে দেখা যায়, এসব ভাষা ব্যবহারকারীদের তার দলের সাংসদেরা টেবিল চাপড়ে উৎসাহ জোগান। এমনটা কিন্তু কম-বেশি আগের সংসদগুলোতেও ঘটেছে।
কথায় আছে যেমন চাল, তার তেমন ভাত...! মুখের ভাষাই নাকি মানুষের রুচি ও মনের পরিচয়। যে সাংসদেরা সংসদে অবলীলায় অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করছেন, তারা কি ঘরে মা-বাবা, সন্তান-স্বামী কিংবা নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেও একই ভাষায় কথা বলেন? হতাশা ও ক্ষোভ থেকে প্রশ্ন জাগে, কীভাবে আমরা এরূপ একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করলাম? আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে রাজনীতিকদের আচরণ ও কার্যকলাপ সুস্পষ্ট বিপরীতমুখী। আমরা যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হতে সক্রিয়, তখন আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দৈন্যের দ্বারপ্রান্তে। এর পরিণতি কী হতে পারে ভেবে দেশর শান্তিপ্রিয় মানুষ পীড়িত হন। একটি বিষয়ে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যমান ইনস্টিটিউশন বা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিবিদদের ওপর মানুষের আস্থা টলে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যতের জন্য যা শুভ নয়!

মাদকের চোরাগলিতে পুলিশ!
                                  

মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন মিডিয়ার শিরোনাম দেখা যায়, ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার। পুলিশ যদি এভাবে মাদক কারবারের সাথে জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে দেশ থেকে মাদক নির্মুল করা সম্ভব নয়। মাদকের ব্যবসা এখন আর সাধারণ পাবলিকের মধ্যে নেই। এ ব্যবসা এখন উচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে। ইয়াবা ব্যবসা নিজের বাসনা ও সুবিধামতো করার সুযোগ ও সাহস দেশে কারোরই নেই। কতিপয় অসৎ পুলিশই পাবলিক দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করিয়ে থাকে। এ কারণেই দেশে ইয়ারা ব্যবসা জমজমাট।

প্রশাসনের লোকজন জড়িয়ে পরার কারণেই সারা দেশে মাদকদ্রব্য এখন সহজলভ্য! কতিপয় পুলিশই নির্বিঘœ পাচারের নিরাপত্তা বেষ্টনির সাথে সাধারণ মানুষের সহযোগে দেশে মাদক ব্যবসা জিইয়ে রেখেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সিজিএস কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ছিদ্দিকুরকে ১০ হাজার ইয়াবা ও ৮০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট চট্টগ্রামের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আর কেউ জড়িত আছেন কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। এর আগে গত বছরের ৩১ আগস্ট নগরের কোতোয়ালি থানার লালদীঘির পাড় পুরোনো গির্জা লেনের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৮০০ ইয়াবাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন জহিরুল ইসলাম, পলাশ ভট্টাচার্য ও আনোয়ার হোসেন। তাদের মধ্যে জহিরুল পুলিশ কনস্টেবল। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন (জিআরও) শাখায় কর্মরত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর তিনি কোতোয়ালি থানার পুলিশকে জানান, বিক্রির জন্য ইয়াবাগুলো তার কাছে রেখেছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল ওয়াদুদ। পলাশ ও আনোয়ার এগুলো কেনার জন্য এসেছিলেন। মাদকদ্রব্য পরিবহনের কাজ পুলিশে নয়। পুলিশের কাজ, মাদকদ্রব্য সনাক্তকরণ ও আটক করা। কিন্তু কতিপয় পুলিশ আটকে গেছে মাদকের অধিক মুনাফার চোরাগলিতে! একটি বিষয় ভাবতে অবাক লাগে! এই পুলিশই আবার মাদকের খোঁজে ও তল্লাশির নামে হয়রানি করে থাকে নিরীহ মানুষদের। পুলিশ নিজের পকেটের ইয়াবা সাধারণ মানুষের পকেটে পুড়িয়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে, মামলা ও ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকে।

ইতোপূর্বে মাদক নির্মূলে কয়েক যুগের ব্যর্থতা, অসহায়ত্ব আর উদ্বেগের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী ও কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইখতেখার উদ্দিন। ২ জানুয়ারি ২০১৮ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে সংস্থাটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছিন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও অনেক শক্তিশালী। তাদের ধারেকাছেও যাওয়া যাচ্ছে না।’ এছাড়াও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান তীক্ত, আবেগী, সাহসী, সত্য ভাষণ হলেও অত্যন্ত জোড়ালোভাবে বলেছিলেন, ‘মাদকের সঙ্গে যুক্তদের ধরে ধরে গুলি করাই একমাত্র সমাধান হতে পারে।’

আর কতো বাহানা করবে মিয়ানমার
                                  

হত্যা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া ও ধর্ষণের মতো নৃশংসতা চালিয়ে যে দেশটি ১১ লাখের বেশি মানুষকে উচ্ছেদ করল, সেই দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে বাংলাদেশ নমনীয় হলে চলবে না? মায়ানমার একটি ধূর্ত দেশ, এ যাবৎ কোনো চুক্তিই ওরা পালন করেনি, তাই ওদের সাথে কোনো চুক্তিই কাজে আসার সম্ভাবনা নেই। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, সেখানে ‘সম্ভব হলে’ দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন শেষ করার কথা ছিল। সেই দুই বছর শেষের দিকে, ফলাফলও শূন্য।

অর্থাৎ, ‘সম্ভব হলে’ প্রত্যাবাসন এখন ‘অসম্ভবে’ পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না’। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো মিয়ানমার এখন বলছে, ‘বাংলাদেশের কারণেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া যাচ্ছে না’। বর্তমানে শরণার্থী প্রত্যাবাসনে যে কোনো অগ্রগতি নেই, তার দোষ তারা বাংলাদেশের ওপর চাপাচ্ছে। দেশটির স্টেট কাউন্সিলরের মন্ত্রী চ টিন্ট সোয়ের অভিযোগ, ‘সব রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন ও নাগরিকত্ব কার্ড দেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের উদ্যোগে বাংলাদেশ সহায়তা করছে না’।

সম্প্রতি জাপানে ২৫ তম ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফিউচার অব এশিয়া’র অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার কথার মূল দিক হচ্ছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে যে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা বাংলাদেশের কারণে সম্ভব হচ্ছে না। রোহিঙ্গা মুসলমানরা যে মিয়ানমারের বাসিন্দা তা প্রমাণ করারও সুযোগ রাখেনি বার্মার সামরিক জান্তা। ১৯৮২ সাল থেকে সামরিক জান্তা মুসলমানদের নাগরিক ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগত অধিকার কেড়ে নেয়। ১৯৯৪ সাল থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের সরকারি জন্মসনদের আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়। রোহিঙ্গাদের বাদ রেখেই চালানো হয় ২০১৪ সালের আদমশুমারি। তাহলে এসব রোহিঙ্গারা কিভাবে তাদের নাগরিকত্বের পরিচয় দিবেন, আর কিভাবে দেশে ফেরত গিয়ে তাদের সহায়-সম্পদ ফিরে পাবার আশা করতে পারেন!

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করেছে একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। নিয়মিত তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে এবং সময়-সুযোগমতো তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। তারপর ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে চাতুরতার সাথে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করেছে, কিন্তু নেয়নি। এখন এটাও পরিস্কার, আন্তর্জাতিক চাপ থেকে বাঁচার কৌশল হিসেবে মিয়ানমার চুক্তি করেছিল। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ তখন যে মাত্রায় জোরালো হতে শুরু করেছিল, সেখানে তারা বরফ ঢালতে পেরেছে, এটাই তাদের সফলতা। যে ‘অবিশ্বাস্য সরলতায়’ সধূর্ত মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশ চুক্তি করেছিল তার খেসারত তো এখন দিতেই হবে!

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের যে প্রতিবেদনটি সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, অত্যাচার ও নির্যাতন নিয়ে একটি শব্দও নেই। নেই ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও। এর বদলে আছে ‘মুসলিম’ শব্দটি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ। এই প্রতিবেদনেও শরণার্থী প্রত্যাবাসনে গাফিলতির জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করা হয়েছে। উল্টো শরণার্থীদের ‘সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে’ ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে।

গত মিয়ানমার সফরে পোপ ফ্রান্সিস তার ভাষণে একবারও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এর আগে মিয়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ তাকে বলেছিল, রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হলে তা ক্যাথলিকদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকেও একই রকম বার্তা ছিল। এ ছাড়া প্রটোকল ভেঙে প্রথমদিনই পোপের সাথে অনির্ধারিত সেনা নেতৃত্বের বৈঠক হয়েছে মিয়ানমারে। বাস্তবতায় দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনতাকে নাখোশ করতে চাননি পোপ।

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
                                  

গত বৃহস্পতিবার ভোরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বাস থেকে তিনজনকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয় দেওয়া একদল লোক। এরপর শুক্রবার রূপগঞ্জ থানায় তাঁদের লাশ পায় স্বজনরা। তিনজনকে কারা, কেন খুন করেছে সে রহস্যের কিনারা করতে না পারলেও রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসা মাকে আনতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন দুই ভাই। সঙ্গে ছিলেন এক বন্ধু, তাঁদের তিনজনকেই ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগের মেস থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকা কলেজ ও স্থানীয় মাদরাসার দুই শিক্ষার্থীকে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের কোনো খোঁজ মিলছে না। এই পাঁচজনের পরিবার গত শনিবার ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে ঢাকার পুরানা পল্টন থেকে শনিবার রাতে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়েছে এ বিষয়ে তারা কিছু জানে না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। যেখানে বলা হয়েছে, আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে এর কারণ জানাতে হবে। বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোনে বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তাঁর পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনা কি মানা হচ্ছে? একের পর এক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে একধরনের ভীতির সঞ্চার হবে। যাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আইনের চোখে তাঁরা অপরাধী হলেও আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার তো সবারই আছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে। এ ধরনের ঘটনা অন্য কোনো দেশে কি ঘটে থাকে? একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো শাখা থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে এর সুযোগ নিতে পারে দুর্বৃত্তরাও। দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ব্যাপারে স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। পরিচয় না দিয়ে এভাবে আটক করা বা তুলে নেওয়ার ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কেউ দুর্বৃত্তদের ব্যবহার করতে পারে। সামনে নির্বাচন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও সক্রিয় হয়ে ডিবির ওপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারে। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। মানতে হবে আদালতের নির্দেশনা।

প্রতিদিন ১৫ জন নিহত দুর্ঘটনায়
                                  

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাগুলো কেন হচ্ছে, কারা এজন্য দায়ী, তা শনাক্ত করে দায়ীদের শাস্ত্মি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের মনোযোগ ও তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণেই এ দেশের মানুষ আপনজন হারিয়ে চোখের পানি ঝরাচ্ছে আর নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, কেবল ফেব্রম্নয়ারিতেই সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড়ে ১৫ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এক মাসে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে গড়ে ১৩টি। এ ছাড়া ফেব্রম্নয়ারিতে রেল দুর্ঘটনায় ২২ জন ও নৌ দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এই চিত্র কোনোভাবেই সুখকর নয়। দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহনের চালকদের অসতর্কতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে। এ ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ নজরদারির অভাব রয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে ক্ষুদ্র যানবাহনের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, সকল টার্মিনালসহ বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক অসন্ত্মোষসহ সড়ক পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অন্যদিকে মানুষ মোবাইলফোনে কথা বলতে বলতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্ত্মা পারাপার হচ্ছে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্ত্মা পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাঁটা পড়ে বা বাসের চাকায় পিষ্ট হওয়ার ঘটনা দেশে অনেক রয়েছে। এগুলো অসচেতন মানুষের কাজ। এটা এক ধরনের আত্মহত্যার চেষ্টার শামিল। সম্প্রতি এমন ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য বেড়েই চলছে।
বাংলাদেশে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে আট হাজার জন নিহত হন বলে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যাত্রীকল্যাণ সমিতি নামের একটি সংগঠন। তবে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকদের অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। একই মত সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়েরও।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্ঘটনা আর অপমৃত্যুর দেশে কেন পরিণত হবে আমাদের এ দেশটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রশিক্ষণই নয়, চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে নজর দিতে হবে। সড়কপথে যেমন মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে তেমনি বাড়ছে নৌরম্নটেও। সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে হলে দোষীদের তাৎক্ষণিক শাস্ত্মি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকেও সড়কপথে ভ্রমণ ও রাস্ত্মা পারাপারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাস্ত্মা পারাপার হওয়ার সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন লাগিয়ে কথা বলা। জনগণ সচেতন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তার আগে নতুন আইন প্রয়োজন। পরিকল্পিত ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে এমন মর্মান্ত্মিক মৃত্যু রোধ করতে।


   Page 1 of 3
     সম্পাদকীয়
দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
.............................................................................................
ক্রীড়াঙ্গনে কলঙ্কের ছাপ
.............................................................................................
দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন
.............................................................................................
একটি বিলম্বিত বোধদয়ের অবিশ্বাস্য কালক্ষেপণ
.............................................................................................
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
.............................................................................................
বাণিজ্য বাড়ছে ভারতে
.............................................................................................
রাজধানীতে যানজট জলজট : নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করুন
.............................................................................................
গণপরিবহনে বিড়ম্বনা
.............................................................................................
আহ! একটি ৭ বছরের শিশু...!
.............................................................................................
প্রকল্প নেয়ার হিড়িক : হুমকিতে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য
.............................................................................................
সত্য জানা হলো না
.............................................................................................
ভাষাই মনের পরিচয়
.............................................................................................
মাদকের চোরাগলিতে পুলিশ!
.............................................................................................
আর কতো বাহানা করবে মিয়ানমার
.............................................................................................
ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
.............................................................................................
প্রতিদিন ১৫ জন নিহত দুর্ঘটনায়
.............................................................................................
খুন-খারাবি চলছেই
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে
.............................................................................................
সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র
.............................................................................................
ঢাকার খুচরা দোকানিরা বেপরোয়া
.............................................................................................
চাল নিয়ে কারসাজি
.............................................................................................
প্রতারণা সৌদি আরবেও
.............................................................................................
বেড়েছে চাল আমদানি, উৎপাদন বাড়াতে হবে
.............................................................................................
শ্রমঘন শিল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিন
.............................................................................................
গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
ইয়াবার বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
.............................................................................................
দক্ষ কর্মীর অভাব
.............................................................................................
শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: নজিরবিহীন বর্বরতা
.............................................................................................
অবাধ লুটপাট বিমানে
.............................................................................................
অস্থিরতা বিদেশি শ্রমবাজারে
.............................................................................................
বেড়েই চলেছে ধর্ষণ গণধর্ষণ: সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি
.............................................................................................
আবারও বাড়ল গ্যাসের দাম
.............................................................................................
অস্থির চালের বাজার
.............................................................................................
নিঝুম দ্বীপে নৈরাজ্য
.............................................................................................
অর্থ প্রেরণ-বিতরণ সহজ হোক
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
.............................................................................................
এমপি লিটন হত্যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত
.............................................................................................
দুর্নীতি কর আহরণে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft