শনিবার, ১৬ অক্টোবর 2021 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   পরিবেশ
  রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও যানবাহন
  25, March, 2016, 6:06:50:PM

বিশেষ প্রতিবেদক: যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও অন্যতম ভূমিকা রাখছে অধিকাংশ যানবাহন। বিআরটিএ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করা হলেও বাস্তবে এগুলোর ফিটনেস নেই। সারাক্ষণ ইঞ্জিনের বিকট আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে কালো ধোয়াও নির্গমন করে চলেছে এগুলো। পরিবেশ অধিদফতরের অভিযানে নিয়মিত ধরা পড়ছে এসব যানবাহন। কিন্তু দূষণমুক্ত হচ্ছে না। পরিবহন মালিকরা এজন্য ভেজাল জ¦ালানিকে দায়ী করেছেন। পরিবেশ অধিদফতরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট জানিয়েছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লাখ যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের বিরাট একটা অংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। এসব মোটরযান থেকে ক্ষতিকর বস্তুকণা (কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ওজোন) নির্গত হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, মোটরযান চলাচলের প্রধান সড়কগুলো আবাসিক এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় এসব এলাকার লোকজন উচ্চ হারে বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে। সবচাইতে অরক্ষিত গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে পথচারী, ফেরিওয়ালা ও দোকানদার, ট্রাফিক পুলিশ এবং গাড়ি চালকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনের প্রায় সবগুলো বাস-মিনিবাস লক্কর-ঝক্কর হয়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। টেম্পো, হিউম্যান হলার বা এ ধরণের একটা গাড়ির অবস্থাও ভালো নেই। বেশ কিছু প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসও রয়েছে দূষণের তালিকায়। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় এগুলো দাবড়ে বেড়াচ্ছে গোটা নগরী। এসব যানবাহন থেকে নিঃসরিত বিষাক্ত পদার্থ বাতাসের সঙ্গে মিশে ঢুকে পড়ছে মানবদেহে।
জানা গেছে, যানবাহনগুলো এভাবে পরিবেশ দূষণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরণের কোনও জরিপ বা সমীক্ষা করা হয়নি। তবে রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নগরীর ১৩টি পয়েন্টে বিভিন্ন যানবাহনের ওপর বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালনা করে এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট। এই সমীক্ষায় ৪৬.৬৭ শতাংশ একতলা বাস, ৫৫.৪৭ শতাংশ টাটা বাস, ৬০.২০ শতাংশ মিনিবাস, ৫০ শতাংশ মাইক্রোবাস ও জিপ, ৯০ শতাংশ ম্যাক্সি ও হিউম্যান হলার, ৭১ শতাংশ পিকআপ ও মিনি কাভার্ড ভ্যান, ৫০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ২৩.৯৬ শতাংশ প্রাইভেটকার, ২৯.৭৩ শতাংশ মাইক্রোবাস ও জিপ বায়ু দূষণ করছে বলে মন্তব্য করা হয়।
এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রধানত তিন ধরনের জ¦ালানি- ডিজেল, পেট্রোল ও সিএনজি ব্যবহার করছে। ইঞ্জিনের ডিজাইন ত্রুটি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, মানসম্মত জ¦ালানি ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বোঝাই, নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট ব্যবহার ইত্যাদি কারণে এগুলো বায়ু দষূণ করছে। কোনও কোনও যানবাহনের ইঞ্জিনের ডিজাইন যথার্থ হলেও জ¦ালানিতে সালফারের মাত্রা বেশি থাকায় এগুলোও সুক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণ করে বায়ু দষূণ করছে। তারা বলেন, সুক্ষ্ম বস্তুকণা নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি স্থায়ী গতিবেগের প্রয়োজন। কিন্তু যানজটের নগরীতে এই গতিবেগ অর্জন কিছুতেই সম্ভব না। ডিজেল নিঃসরণে যেসব দূষক পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অতি সুক্ষ্ম বস্তুকণা, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন, জৈব বিষ-পলিনিউক্লিয়ার অ্যারোমেটিক্স। পেট্রোল, অকটেন ও সিএনজিচালিত যানবাহন থেকে নিঃসরিত দূষণকারী পদার্থের মধ্যে রয়েছে- আইডল কার্বন মনোক্সাইড ও আইডল হাইড্রোকার্বন। এসব বস্তুকণার কারণে মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের অকার্যকারিতা ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমীবলেন, শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই দূষণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলে কমে। এই দূষণ কমানোর জন্য দেশে লেড বা সীসামুক্ত পেট্রোল আমদানি করা হচ্ছে। এতে পেট্রোল ব্যবহারকারী যানবাহনে দূষণ কমেছে। এবার সালফার কম আছে এমন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে ডিজেল আমদানি হয় তাতে সালফার থাকে ২৫০০ পিপিএম। আমরা ৫০০ পিপিএমের ডিজেল আমদানির সুপারিশ করেছি। বিএসটিআই এর স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দেবে। আর আমদানির ব্যবস্থা করবে জ¦ালানি মন্ত্রণালয়। পরিবহন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজের (এবিসি) সভাপতি খন্দকার রফিকুল হুদা কাজলবলেন, ঢাকার বেশির ভাগ গাড়ি এখন সিএনজিতে চলে। এ ধরনের গাড়ি পরিবেশ দূষণ করে না। তবে ডিজেলচালিত যানবাহন পরিবেশ দূষণ করে থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে ডিজেল পাওয়া যায় সেটা খুবই নিম্নমানের। এ কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে বাস বিক্রি করতে সহজে রাজি হয় না। তিনি বলেন, ইঞ্জিন অয়েল ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেক গাড়ি মালিক কম দামে নিম্নমানের জ¦ালানি ব্যবহার করেন। মূলত এসব যানবাহনই বায়ু দূষণ করছে। পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, রাজধানীতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় যতগুলো যানবাহন পরীক্ষা করা তার বেশির ভাগই পরিবেশ দূষণকারী হিসেবে ধরা পড়ছে। এজন্য মামলাও হচ্ছে। এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির বায়ু দূষণ পরীক্ষার ইউনিট হল-‘হার্টরিজ স্মোক ইউনিট’ (এইচএসইউ)। ২০০৫ সালের ১৯ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যেকোনও গাড়ি থেকে নিঃসরিত বায়ুর সহনীয় মাত্রা হল ৬৫ এইচএসইউ’র নিচে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আমরা বিশেষ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে যখন বায়ুর মান ৬৫ এইচএসইউ’র নিচে দেখি তখন সেটাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর বেশি হলে নেওয়া হয় আইনানুগ ব্যবস্থা।
ওই কর্মকর্তা জানান, মোবাইল কোর্টের অভিযান যতগুলো যানবাহন পরীক্ষা করা হয়, তার অর্ধেকের বেশিরই বায়ুর মান থাকে ৬৫ এইচএসইউ’র ওপর। কোনও গাড়ির বায়ুর মান ৯০ এইচএসইউ কিংবা আরও বেশি পাওয়া যায়। তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি বনানী এলাকায় মোবাইল কোর্ট ১৬টি ডিজেল এবং ১০টি পেট্রোল ও সিএনজিচালিত যানবাহন পরীক্ষা করে। এতে ১৩টি ডিজেল এবং ২টি সিএনজি ও পেট্রোলচালিত যানবাহনের এইচএসইউ বিপদজ্জনক মাত্রায় পাওয়া যায়।



   শেয়ার করুন
   আপনার মতামত দিন
     পরিবেশ
বিপন্ন ময়ূরটিকে আঘাত করে স্থানীয়রা
.............................................................................................
এবার মোজাম্বিকের উপকূলে ৮৬টি মৃত ডলফিন
.............................................................................................
এশিয়ার সবচেয়ে বিষধর সাপ উদ্ধার ঝিনাইদহে
.............................................................................................
গাছ লাগাও জীবন বাঁচাও
.............................................................................................
লক্ষীপুরে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার ছড়াছড়ি
.............................................................................................
শব্দ দূষণ মানব দেহের জন্য নিরব ঘাতক
.............................................................................................
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
.............................................................................................
বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ নদীভাঙন: পর্ব- ২
.............................................................................................
‘নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’
.............................................................................................
একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা
.............................................................................................
গাজীপুরে জয়দেবপুর পিটিআই-এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন
.............................................................................................
পরিবেশ রক্ষায় ১০ বছর ধরে কাজ করছে চীনের কুকুর
.............................................................................................
সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল মালিকদের তলব
.............................................................................................
বিশ্বে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় ঢাকা
.............................................................................................
রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও যানবাহন
.............................................................................................
সুন্দরবনে শেলা নদীতে কোস্টার ডুবি: তদন্ত কমিটি গঠন
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় ২১ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল
.............................................................................................
বরিশালে কীর্তনখোলা নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখে জনযাত্রা শুরু
.............................................................................................
ছাতকে সুরমা নদীর পানি দূষন তদন্তে টালবাহানা
.............................................................................................
সিলেটে অবৈধ ১৩শ’ স্টোন ক্রাশার মেশিন চলছে
.............................................................................................
জলবায়ু রক্ষায় বেসরকারি খাতকে কাজে লাগানোর পরামর্শ আইএফসি’র
.............................................................................................
বরিশালে অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা
.............................................................................................
ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সরাইলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা
.............................................................................................
পরিবেশ দূষণ ও শিশুরোগ
.............................................................................................
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৫: সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্ব না পেলে রিট করবে বাপা
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি স-মিল বন্ধ করলেও অজ্ঞাতকারণে অন্যগুলো এখনও চালু
.............................................................................................
পশুর নদীতে কার্গোডুবি: চালকের গাফিলতি ও অদক্ষতাই দায়ী
.............................................................................................
পাবনায় পদ্মা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন
.............................................................................................
বরিশাল নগরীর অসংখ্য পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে বাম মোর্চার রোডমার্চ
.............................................................................................
চলুন, ৫ মিনিটেই হয়ে যাই তুলসী বিশারদ !
.............................................................................................
সাপের চেয়েও বিষধর ব্যাঙ!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT