বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
‘আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার’

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:

আল্লাহর পথে মানুষদের আহ্বান করা ওয়াজিব তথা আবশ্যক কাজ। এখন প্রশ্ন হলো- এ কাজ কি সবার জন্য আবশ্যক নাকি কিছু মানুষ আদায় করলে দায়িত্ব শেষ? বিষয়টি নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, এটা সবার জন্য ওয়াজিব নয়।

কিছু মানুষ আদায় করলেই হয়ে যাবে। তাই ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- সমাজে এমন কিছু লোক থাকবেন, যারা সর্বদা আল্লাহর দিকে মানুষদের আহ্বান করবেন।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি; নির্দেশ দিবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে- আর তারাই হলো সফলকাম। ’ -সূরা আলে ইমরান: ১০৪

অন্ধকার হতে আলোর দিকে, অজ্ঞতা হতে জ্ঞানের দিকে, মন্দ থেকে ভালোর দিকে মানুষকে আহ্বান করা জরুরি বিষয়। পাশাপাশি মন্দ কাজ দেখলে তা প্রতিহত করা ঈমানের দাবি।

হাদিসের ভাষায়, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ দেখবে, সে তা নিজ হাত দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দ্বারা প্রতিহত করার চিন্তা ও পরিকল্পনা করবে। আর এটাই ঈমানের দুর্বল স্তর।’

সহিহ মুসলি বর্ণিত আয়াত ও হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা নৈতিক দায়িত্ব। তবে আহ্বানকারীদের থাকা প্রয়োজন বিশেষ কিছু গুণ।

আল্লাহর পথে আহবানকারীর যে সব গুণ থাকা বাঞ্চনীয় তন্মধ্যে আহবানকারীর আলেম তথা জ্ঞানী হওয়া। অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে পুরো জ্ঞান থাকা।

প্রত্যেক কাজ যেহেতু নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। তাই আল্লাহর পথে আহবানকারীর নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি। লোক দেখানো, দুনিয়ার সম্মান বা উচ্চাসন পাওয়ার আশায় এ কাজ করা যাবে না।

দাওয়াতের ক্ষেত্রে কম গুরুত্বের চেয়ে অধিক গরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে আরম্ভ করা। যেমন প্রথমে তাওহিদের দিকে আহ্বান করা। পরে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির দিকে ধীরে ধীরে আহ্বান করা।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে কম গুরুত্বের বিষয় প্রাধান্য না দেওয়া। যা ছিল নবী-রাসূল এবং সাহাবি-তাবেয়িদের কাজের পদ্ধতি। কাজেই সেসব পদ্ধতিসমূহকে আমাদের অনুসরণ করা দরকার।

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীকে ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে যেতে হবে। নবী-রাসূলরা আল্লাহর পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে এ শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।

আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা নবী-রাসূলদের কাজ। যারা মানুষকে ওই পথে ডাকে তারা মহৎ কাজের অধিকারী। এমন মানুষদের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ।

যারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবেন। সর্বোপরি তার জন্য রয়েছে ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে ও আপনাদেরকে উপরোক্ত কাজ গুলো আঞ্জাম দেওয়ার তাওফিক দান করেন আমিন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ

‘আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার’
                                  

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:

আল্লাহর পথে মানুষদের আহ্বান করা ওয়াজিব তথা আবশ্যক কাজ। এখন প্রশ্ন হলো- এ কাজ কি সবার জন্য আবশ্যক নাকি কিছু মানুষ আদায় করলে দায়িত্ব শেষ? বিষয়টি নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, এটা সবার জন্য ওয়াজিব নয়।

কিছু মানুষ আদায় করলেই হয়ে যাবে। তাই ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- সমাজে এমন কিছু লোক থাকবেন, যারা সর্বদা আল্লাহর দিকে মানুষদের আহ্বান করবেন।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি; নির্দেশ দিবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে- আর তারাই হলো সফলকাম। ’ -সূরা আলে ইমরান: ১০৪

অন্ধকার হতে আলোর দিকে, অজ্ঞতা হতে জ্ঞানের দিকে, মন্দ থেকে ভালোর দিকে মানুষকে আহ্বান করা জরুরি বিষয়। পাশাপাশি মন্দ কাজ দেখলে তা প্রতিহত করা ঈমানের দাবি।

হাদিসের ভাষায়, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ দেখবে, সে তা নিজ হাত দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দ্বারা প্রতিহত করার চিন্তা ও পরিকল্পনা করবে। আর এটাই ঈমানের দুর্বল স্তর।’

সহিহ মুসলি বর্ণিত আয়াত ও হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা নৈতিক দায়িত্ব। তবে আহ্বানকারীদের থাকা প্রয়োজন বিশেষ কিছু গুণ।

আল্লাহর পথে আহবানকারীর যে সব গুণ থাকা বাঞ্চনীয় তন্মধ্যে আহবানকারীর আলেম তথা জ্ঞানী হওয়া। অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে পুরো জ্ঞান থাকা।

প্রত্যেক কাজ যেহেতু নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। তাই আল্লাহর পথে আহবানকারীর নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি। লোক দেখানো, দুনিয়ার সম্মান বা উচ্চাসন পাওয়ার আশায় এ কাজ করা যাবে না।

দাওয়াতের ক্ষেত্রে কম গুরুত্বের চেয়ে অধিক গরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে আরম্ভ করা। যেমন প্রথমে তাওহিদের দিকে আহ্বান করা। পরে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির দিকে ধীরে ধীরে আহ্বান করা।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে কম গুরুত্বের বিষয় প্রাধান্য না দেওয়া। যা ছিল নবী-রাসূল এবং সাহাবি-তাবেয়িদের কাজের পদ্ধতি। কাজেই সেসব পদ্ধতিসমূহকে আমাদের অনুসরণ করা দরকার।

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীকে ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে যেতে হবে। নবী-রাসূলরা আল্লাহর পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে এ শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।

আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা নবী-রাসূলদের কাজ। যারা মানুষকে ওই পথে ডাকে তারা মহৎ কাজের অধিকারী। এমন মানুষদের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ।

যারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবেন। সর্বোপরি তার জন্য রয়েছে ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে ও আপনাদেরকে উপরোক্ত কাজ গুলো আঞ্জাম দেওয়ার তাওফিক দান করেন আমিন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ

লোক দেখানো ইবাদতের পরিণতি ভয়াবহ
                                  
 হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:
 
 
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। তবে ইবাদত বা আমল কাউকে দেখানোর জন্য হলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। লোক দেখানো ইবাদতে মানুষের জন্য রয়েছে দুর্ভোঘ শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণতি।
 
লোক দেখানো ইবাদত মানুষকে শিরকের অপরাধের দিকে ধাবিত করে। কেননা লোক দেখানো ইবাদতকারী ছোট শিরকের অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এক সময় একাধিক ছোট শিরক বড় শিরকে পরিণত হয়।
 
রিয়াকারী বা লোক দেখানো ইবাদতকারীর সব আমল বরবাদ হয়ে যায়। তাই আল্লাহ তাআলার কাছে আমল কবুল হওয়ার জন্য তা হতে হবে লৌকিকতামুক্ত এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত। আল্লাহ তাআলা লোক দেখানো ইবাদতকারীদের সম্পর্কে বলেন-
اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ یُخٰدِعُوۡنَ اللّٰهَ وَ هُوَ خَادِعُهُمۡ ۚ وَ اِذَا قَامُوۡۤا اِلَی الصَّلٰوۃِ قَامُوۡا کُسَالٰی ۙ یُرَآءُوۡنَ النَّاسَ وَ لَا یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰهَ اِلَّا قَلِیۡلًا
‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়। অথচ তিনিও তাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে সক্ষম। যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়; তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় যে, তারা নামাজ আদায় করছে, কিন্তু আল্লাহকে তারা কমই স্মরণ করে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৪২)
 
আল্লাহ তাআলা লোক দেখানো ইবাদতকারীর শাস্তিও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন-
فَوَیۡلٌ لِّلۡمُصَلِّیۡنَ ۙالَّذِیۡنَ هُمۡ عَنۡ صَلَاتِهِمۡ سَاهُوۡنَ الَّذِیۡنَ هُمۡ یُرَآءُوۡنَ ۙ
‘অতএব দুর্ভোগ সে সব নামাজিদের জন্য; যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে বেখবর; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে।’ (সুরা মাউন : ৪-৬)
 
উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তাআলা উদাসীন ও লোক দেখানো ইবাদতকারী নামাজি ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে তাদের দুর্ভোগ, শাস্তি ও খারাপ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
 
লোক দেখানো ইবাদতের পরিণতি: আবার বাহবা পাওয়ার নিয়তে কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য নয়। নামাজ, রোজা, হজ, কোরবানি, জাকাতসহ সমাজ কল্যাণমূলক সব ভালো কাজ হবে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। আল্লাহ বলেন- ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, কুরবানি, জীবন, মৃত্যু সব কিছুই সমগ্র বিশ্ব জাহানের মালিক আল্লাহ তাআলার জন্য।’
 
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোক দেখানো ইবাদতকারীকে তার ইবাদতের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-
১. হজরত মাহমুদ ইব্‌ন লাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শিরকে আসগর তথা ছোট শিরক।’ তাঁরা (সাহাবায়েকেরাম) বলল, হে আল্লাহর রাসুল! শিরকে আসগর কি?
 
তিনি বললেন, ‘রিয়া’ (লোক দেখানো ইবাদত); আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাদেরকে (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাদের ইবাদতের বা আমলের বিনিময় দেয়া হবে। তখন তোমরা তাদের (ওই সব লোকদের) কাছে যাও; যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে (ইবাদত করে) দেখাতে। দেখ! তাদের কাছে থেকে (লোক দেখানো ইবাদতের) কোনো প্রতিদান পাও কিনা।’ (মুসনাদে আহমদ)
 
২. অন্য হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার বদলে (কেয়ামতের দিন) তাকে শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে (কেয়ামতের দিন) তাকে দেখিয়ে দিবেন।’ অর্থাৎ তিনি এসব লোকদেরকে কেয়ামতের দিন মানুষের সামনে অপমানিত করবেন এবং কঠোর শাস্তি দিবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
 
৩. আবার যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানুষের সন্তুষ্টির জন্যও ইবাদত করবে; ওই ব্যক্তির আমলও বরবাদ হয়ে যাবে। আর লোক দেখানো ইবাদতে রয়েছে শিরকের ইঙ্গিত। হাদিসে কুদসিতে এসেছে- ‘আমি অংশীদারিতা (শিরক) থেকে সব অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। যে কেউ কোনো আমল করে এবং তাতে অন্যকে আমার সঙ্গে শরিক করে; আমি তাকে (ওই ব্যক্তিকে) ও তার আমলকে উভয়কেই বর্জন করি।’
 
আশার কথা হলো: কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো আমল শুরু করার পর তার মধ্যে লোক দেখানোর ভাব আসে। অতঃপর সে লোক দেখানো ভাবকে ঘৃণা করে এবং তা থেকে সরে আসার চেষ্টা করে; তবে তার ওই আমল শুদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য হবে।
কিন্তু যদি ওই ব্যক্তি লোক দেখানো অবস্থা থেকে ফিরে না আসে বরং লোক দেখানো ভাব মনে জাগ্রত রেখে প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করে। তবে (অধিকাংশ আলিমের মতে) তার ওই আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
 
সুতরাং রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত পরিহার যোগ্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে রিয়া পরিত্যাগ করা ঈমানে অপরিহার্য দাবি। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ছোট-বড় সব ধরনের শিরক ও রিয়া তথা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বেঁচে থাকা।
 
আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুসলিমাকে রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআন এবং সুন্নাহ ঘোষিত লোক দেখানো ইবাদতের শাস্তি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দেখানো পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : আজ ১২ রবিউল আউয়াল। ৫৭০ সালের এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর শুভ আবির্ভাবের দিন। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

এক সময় গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃংখলা। এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং করত মূর্তিপূজা। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রেরণ করেন এই ধরাধমে।

মহানবী(সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেম অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজা নামের এক ধর্ণাঢ্য মহিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন। আল্লাহতাআলার নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সকল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্ত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সেমিনার, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন বিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ।

এছাড়াও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন ও ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দেনমোহর মাফ চাওয়া যাবে স্ত্রীর কাছে?
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
বিয়ে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। ইসলামে কোনো নারীকে বিয়ে করলে তাকে অবশ্যই মোহর দিতে হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে মানুষকে দেখানোর জন্য কোটি টাকা মোহর ধার্য করতে হবে। মোহর ধার্য করা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, মোহর স্ত্রীর অধিকার।

স্ত্রী যেন ন্যায্য অধিকার সঠিকভাবে পায় এবং নারীর যেন অবমূল্যায়ন না হয়— তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি মোহর নির্ধারণের সময় স্বামীর আর্থিক অবস্থার প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে মোহর ধার্য করে— তাকে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেউ যদি বিয়ের সময় মোহরের টাকা নগদ পরিশোধ না করে পরে যদি স্ত্রীর কাছে মাফ চায় তাহলে কি এতে মোহর মাফ হবে?

এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে করে তাহলে তার জন্য উত্তম হচ্ছে-বাসর রাতে (সহবাসের পূর্বে) ওই দেনমোহর পরিশোধ করে দেওয়া। কেননা এটি স্ত্রীর হক বা প্রাপ্য। একই সঙ্গে এটি স্বামীর দায়িত্বে একটা ঋণ, যা অন্যান্য ঋণের মতো পরিশোধ করা জরুরি।

স্ত্রী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তুষ্টচিত্তে মোহরের টাকা হাতে পাওয়ার পর স্বামীকে মোহরের কিছু অংশ বা পূর্ণ মোহর হাদিয়া করে দেয়, তাহলে মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু চাপে পড়ে মাফ করলে বা লৌকিকতার দ্বারা মোহর মাফ হয় না। সম্পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে মাফ করলেই মাফ হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে  দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর। -(সূরা নিসা : ৪)

মোহর সম্পূর্ণরূপে নারীর প্রাপ্য। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো তাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সুতরাং মুমিনের কর্তব্য খুশিমনে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে স্ত্রীর মোহর আদায় করা। কারো অনুরোধ-উপরোধ বা জোর-জবরদস্তির অপেক্ষায় থাকা কুরআনী শিক্ষার পরিপন্থী ও অতি নিন্দনীয় প্রবণতা।

স্ত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দিলেই কিংবা গ্রহণ করার পর স্বামীকে উপহার দিলে স্বামী তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করতে পারবে। শুধু স্বামী নয় নারীর পিতা-মাতা, ভাইবোন বা অন্য কেউ নিজ কন্যার, বোনের বা আত্মীয়র মোহর তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া নিতে পারে না। নিলে তা হবে কুরআনের ভাষায় অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার মতো।

স্বামীর জন্য মোহর মাফ করাতে স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করা বা দুর্ব্যবহার করা বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা বৈধ হবে না। এভাবে স্ত্রী মাফ করলেও মাফ হবে না। কারণ, মোহরের টাকা হাতে না দিয়ে স্ত্রীর অন্তরের সন্তুষ্টি বোঝা মুশকিল। এ জন্য হাতে দেওয়ার কথা বলেছেন হজরত থানবী (রহ.)। -

হাফেজ তাকরিমকে সংবর্ধনা
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশি প্রতিযোগী হাফেজ সালেহ আহমেদ তাকরিমকে সংবর্ধনা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল বেলা ১১টার দিকে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বিশ্বজয়ী হাফেজ তাকরিমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন মানবজাতির হেদায়েতের নির্দেশনা। আজকে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজয়ী হাফেজ ও কারীদের শুভেচ্ছা জানাই। আমরা এ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশে ১১৮ জন হাফেজক পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে ৯৬ জন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলামের প্রসারে বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। সারা দেশে ৫৬৩টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে তাকরিমের বাবা হাফেজ আবদুর রহমান বলেন, আমার মেঝো ছেলে তাকরিম বিশ্ব দরবারে বাংলার পতাকাকে সমুন্নত করেছে। ওস্তাদদের পরিশ্রম এবং দেশের মানুষের দোয়ায় সে এই সফলতা পেয়েছে। তার জন্য সবার দোয়া চাই।

মুমিনের প্রকৃত সঞ্চয় ‘নেক আমল’
                                  

নিজামুল ইসলাম নিজাম
মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানোর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর ইবাদত করা এবং এর মাধ্যমে পরকালের জীবন সমৃদ্ধ করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, মানুষ আল্লাহ তায়ালার এই মহান উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে পার্থিব মোহে পড়ে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো চলছে। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সুখ-শান্তির পেছনে পড়ে মানুষ আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির কথা ভুলে যাচ্ছে। আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি পেতে হলে আল্লাহর ইবাদত- বন্দেগির কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি কতটুকু সময় করতে হবে সে ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদাত করুন’ (সুরা হিজর : ৯৯)। জীবন বাকি থাকতেই আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। কেননা মৃত্যু এসে গেলে পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়ার আশা এবং নেক আমল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নচেৎ ওই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ন্যায় মৃত্যুর সময় আফসোস করতে হবে আর বলতে হবে, ‘হে আমার রব! আমাকে আবার দুনিয়াতে ফেরত পাঠান, যাতে করে আমি সৎকাজ করতে পারি, যা আমি আগে করিনি।’ (সুরা মুমিনুন : ৯৯-১০০)

আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির তুলনায় দুনিয়ার সুখ-শান্তি কিছুই নয়। কিন্তু আমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসের ধোঁকায় পড়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি, ভোগ-বিলাসের কথা ভুলে গেছি। আসলে দুনিয়াটা হলো চূড়ান্ত ধোঁকার জায়গা। দুনিয়ার এই চূড়ান্ত ধোঁকায় পড়ে কত মানুষ প্রতারিত হয়েছে। আবার কত মানুষ দুনিয়া নামক প্রতারণার মহাসমুদ্রে নিমজ্জিত হচ্ছে। তাই দুনিয়া নামক এই মহাসমুদ্রে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের তাকওয়া নামক নৌকা বানাতে হবে। নচেৎ আমরাও এক দিন পথভ্রষ্ট হয়ে এই দুনিয়া নামক মহাসমুদ্রের অতল গহ্বরে ডুবে যাব। এ জন্য দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী সুখ-শান্তির ধোঁকায় পড়ে কেউ যাতে পথভ্রষ্ট না হয়ে দুনিয়া নামক মহাসমুদ্রে ডুবে না যায়, সে জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে আগেই মানুষদের দুনিয়ার চূড়ান্ত ধোঁকার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কাজেই দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের কিছুতেই প্রতারিত না করে’ (সুরা ফাতির : ৫)।


ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন হলো ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার উপভোগের সামগ্রী। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে এগুলো কাজে এলেও আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে এগুলো বিন্দু পরিমাণে কাজে আসবে না। আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে কাজে আসবে একমাত্র নেক আমল। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভামাত্র; আর স্থায়ী হবে সৎকাজ, যা আপনার রবের কাছে পুরস্কারপ্রাপ্তির জন্য হবে শ্রেষ্ঠ এবং কাক্সিক্ষত হিসেবেও হবে উৎকৃষ্ট’ (সুরা কাহাফ : ৪৬)। এ ব্যাপারে অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না’ (সুরা শুয়ারা : ৮৮)।

মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর কবর থেকে আপনজন এক-এক করে সবাই উঠে চলে গেলেও একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকবে মৃত ব্যক্তির নেক আমল। তাই ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন আমরা যা-ই বলি না কেন; মরণের পরে মৃত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নেক আমল ছাড়া কোনো কিছুই কাজে আসবে না। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) চমৎকার একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনটা জিনিস মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে কবর পর্যন্ত যায়- ১. তার পরিবার-পরিজন, ২. তার ধন-সম্পদ ও ৩. তার নেক আমল। দুইটা জিনিস মৃত ব্যক্তির কবর থেকে ফিরে আসে আর একটি জিনিস তার সঙ্গে চিরদিনের জন্য সঙ্গী হয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজন এবং তার ধন-সম্পদ কবর থেকে ফিরে আসে আর তার নেক আমল চিরদিনের জন্য তার সঙ্গী হয়ে থাকে’ (বুখারি : ৬৫১৪)। হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন কেউ আপন নয়, বরং সবাই পর। একমাত্র আপন হলো নেক আমল। সুতরাং, আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে সুখ-শান্তি পেতে চাইলে নেক আমলের কোনোই বিকল্প নেই।


আসলে কবর হচ্ছে নেক আমলের সিন্দুক। সুতরাং, যে ব্যক্তি কবর নামক সিন্দুক নেক আমলের দ্বারা পূর্ণ করতে চায়, সে যেন মরণের আগে নেক আমলের পাশাপাশি তিনটি নেক আমলের অ্যাকাউন্ট খুলে যায়। কেননা মরণের পরে মানুষের সব নেক আমল চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেলেও তিনটি নেক আমলের অ্যাকাউন্টের সওয়াব কখনো বন্ধ হবে না। জীবিত থাকাকালে যে ব্যক্তি এই তিনটি নেক আমলের অ্যাকাউন্ট দুনিয়াতে খুলে যেতে পারবে, সে কবরে শুয়ে শুয়ে আমল না করেও অটোমেটিক তার সওয়াব পেতে থাকবে। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে তখন তার সকল কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি কর্মের সওয়াব সে অব্যাহতভাবে পেতে থাকে- ১. প্রবহমান দান তথা সদকায়ে জারিয়া। ২. উপকারী ইলম। ৩. নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে’ (মুসলিম : ৩/১২৫৫)।

সুতরাং, আমাদের উচিত হলো মরণের আগে নেক আমলের পাশাপাশি কমপক্ষে তিনটি নেক আমলের যেকোনো একটি নেক আমলের অ্যাকাউন্ট খুলে যাওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমল করার তওফিক দান করুন।

জীবন যেভাবে সুবাসিত
                                  

মুফতি আবদুল্লাহ নোমান
সুকুমারবৃত্তি ও উত্তম শিষ্টাচারে মানুষ একদিকে যেমন পৌঁছতে পারে সম্মান, নিরাপত্তা ও গৌরবের সর্বোচ্চ চূড়ায়, তেমনি খারাপ চরিত্রের প্রভাবে মানুষ নিক্ষিপ্ত হয় ধ্বংস, কলঙ্ক ও কদর্যতার পূতিগন্ধময় আঁস্তাকুড়ে। সবাই চাই নিজেকে উত্তম আখলাকের বিভায় আলোকিত করতে, সুন্দর চরিত্রের ভূষণে শোভিত করতে। তাই তো সমাজের কুখ্যাত ঘাতকও যখন উচ্চ পদের প্রার্থী হয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চায় তখন তার নামেও স্লোগান তোলা হয়, ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র’। আর যখন কারও নামের সঙ্গে চরিত্রহীনতার তকমা লেগে যায়, তখন তার ব্যক্তিত্ব ও ভাবমর্যাদা নষ্ট হওয়ার জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না।

সুন্দর চরিত্রে ঈমানের পূর্ণাঙ্গতা
উত্তম আচরণ ও সুন্দর উচ্চারণে ফুটে ওঠে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতা। এমনকি মুমিনের ঈমানও পূর্ণাঙ্গতা পায় উত্তম আখলাক ও সুন্দর চরিত্রে। চরিত্র মাধুর্যের মূর্ত প্রতীক। বিশ্ব মানবতার অনুপম রূপকার মহানবী (সা.) এ মর্মে ইরশাদ করেছেন, ‘চরিত্রে যারা সবচেয়ে উত্তম, ঈমানের বিচারেও তারাই পূর্ণাঙ্গ মুমিন’ (আবু দাউদ : ৪৬৮২)। উত্তম চরিত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহান এই শিক্ষক তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বাঁকে বাঁকে যেমন সুন্দর চরিত্রের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তেমনি তাঁর সম্মানিত সহচরদেরও এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা চরিত্রে সবচেয়ে উত্তম তারাই সবচেয়ে ভালো মানুষ’ (বোখারি : ৬০২৯)। শুধু ব্যক্তিজীবন, পারিবারিকজীবন ও সমাজজীবন নয়, ঈমানি জীবনের পূর্ণতার মাপকাঠিও চরিত্র। তাই চারিত্রিক সততা, আচরণের নান্দনিকতা ও সুকুমারবৃত্তিকে উপেক্ষা করে ভালো মুমিন হওয়ার সুযোগ নেই।

উত্তম আখলাকের মর্যাদা
মুসলমান মাত্রই অবগত, মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা হলো পরকালীন মুক্তি। সেদিন যার আমলের পাল্লা ভারী হবে সে-ই হবে চিরস্থায়ী সুখময় জীবনের অধিকারী। পবিত্র কোরআনের চিরন্তন বাণী, ‘সেদিন যার পাল্লা ভারী হবে সে তো সন্তোষজনক জীবনে থাকবে। আর যার পাল্লা হালকা হবে তার ঠিকানা হবে এক গভীর গর্ত। তুমি কি জানো সেই গভীর গর্ত কি? এক উত্তপ্ত আগুন’ (সুরা কারিয়া : ৬৯)। কেয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে আমলের পাল্লাকে ভারী করতে কে না চায়? সেদিন সবার অভিপ্রায় ও আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে, জীবনের সব অর্জন ও সঞ্চিত সম্পদ দিয়ে হলেও আমলের পাল্লাকে অধিক ওজনবিশিষ্ট করতে। অথচ সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমেই তা সম্ভব। আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন আমলের পাল্লায় সৎ চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছুই নেই।’ (আবু দাউদ : ৪৭৯৯)

উত্তম চরিত্রে মেলে জান্নাত
সুন্দর চরিত্রে একদিকে যেমন দুনিয়াতে সুবাসিত ও নির্মল জীবন লাভ করা যায়, তেমনি পরকালেও পাওয়া যায় চিরসুখের জান্নাত ও স্বর্গীয় অফুরন্ত নেয়ামত। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র।’ আবার প্রশ্ন করা হলো, ‘কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে?’ তিনি বললেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান’ (তিরমিজি : ২০০৪)। বলার অপেক্ষা রাখে না, শেষ রাত্রের কোমল পরিবেশে প্রভুপ্রেমে মগ্ন হয়ে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করা ও দিনের বেলায় সিয়াম পালন করা চাট্টিখানি কথা নয়! এমন মহা সৌভাগ্য কয়জনের হয়! মজার বিষয় হলো, সদাচার ও উত্তম চরিত্রে এ মহা মর্যাদা লাভ করা যায় অনায়াসেই। আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ঈমানদার বান্দা তার উত্তম চরিত্রের বিনিময়ে তাদের মর্যাদায় উন্নীত হয়, যারা দিনে সর্বদা রোজা রাখে আর রাতে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে।’ (আবু দাউদ : ৪৭৯৮)

চরিত্র ও শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ের কষ্টিপাথর
সন্দেহ নেই, উত্তম চরিত্রের কথা মুখে বলা যেমন সহজ, যাপিত জীবনে এর বাস্তব প্রতিফলন ও যথাযথ প্রয়োগ তত সহজ নয়। অনেকের পোশাকি ও ঠুঁটো চরিত্রমাধুর্য বাইরের মানুষকে মুগ্ধ করলেও ঘরে আসামাত্র তার মুখোশ উন্মোচন হয়ে যায়। দূর হয়ে যায় তার মনোমুগ্ধকর কৃত্রিম মেকআপের আবরণ। পরিবারের সঙ্গে মানসিক রোগীর মতো সে আচরণ শুরু করে। ঠুনকো বিষয়ে অগ্নিশর্মা হয়ে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে, যা কখনোই উচিত নয়। তাই তো বিশ^নবী (সা.) চরিত্র নির্ণয়ের কষ্টিপাথর সাব্যস্ত করেছেন স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে আচরণের প্রকৃতিকে। বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই সর্বশ্রেষ্ঠ যে তার স্ত্রীর চোখে তোমাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ। আর আমি আমার স্ত্রীদের চোখে তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (তিরমিজি : ৩৮৯৫)

সুন্দর চরিত্রের আদর্শ রূপরেখা
সত্যি কথা বলতে কী, আমরা সমাজজীবনে আখলাক ও চরিত্র বলতে শুধু কিছু স্থূল আচরণ, কৃত্রিম ব্যবহার ও মধুময় সৌজন্যকে বুঝে থাকি। অথচ এর মর্মার্থ অনেক ব্যাপক, সুদূরপ্রসারী। মানবজীবনের সব ক্ষেত্রেই রয়েছে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা ও নির্দেশনা। প্রিয় নবী (সা.) চারিত্রিক সদাচারের রূপরেখা অঙ্কন করেছেন এভাবে, ‘যে তোমার সাথে সম্পর্কছেদ করে, তুমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো। যে তোমার প্রতি অন্যায় অবিচার করে, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। যে তোমার সাথে অসদাচরণ করে, তুমি তার সাথে সদাচরণ করো। নিজের বিপক্ষে হলেও হক কথা বলো’ (সহিহ আত-তারগীব : ২৪৬৭)। এ যেন সাগরসেচা মুক্তা! তিনি উত্তম চরিত্রকে অনুপদ বাণীতে চিত্রিত করেছেন। এই গুণগুলো যদি কেউ ব্যবহারিক জীবনে ধারণ করতে পারে এবং আচরণে-উচ্চারণে এর প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তাহলে তার জীবন হবে যেমন হৃদয়গ্রাহী সৌরভে সুরভিত, তেমনি তার হৃদয়জগৎ থাকবে সদাপ্রশান্ত, প্রাণবন্ত ও আলোকিত।

জুমার দিনের যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয়
                                  

মুফতি ইবরাহিম সুলতান
আজ শুক্রবার। সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম।

এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)


এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল : মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের অনেক আমল হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু আমল ধারাবাহিক উল্লেখ করা হচ্ছে। ১. গোসল করা। ২. উত্তম পোশাক পরিধান করা। ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৪. মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।

এই চারটি আমলের কথা একসঙ্গে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার কাছে থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ৩৪৩)

৫. বেচাকেনা বন্ধ রাখা : জুমার দিন আজানের পর বেচাকেনা বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো। ’ (সুরা : জুমআ, আয়াত : ৯)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : উত্তম আমল হচ্ছে দ্রুত মসজিদে যাওয়া। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভি কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর মতো। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

৭. সুরা কাহফ তিলাওয়াত : মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের বিশেষ একটি আমল হচ্ছে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

৮. সুরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পাঠ : অপর হাদিসে সুরা কাহাফের শেষের আয়াত পাঠের সুফল হিসেবে দাজ্জালের ক্ষতি থেকে মুক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যে ব্যক্তি অজুর পর এই দোয়া পড়বে তার নাম একটি চিঠিতে লেখা হবে। অতঃপর তাতে সিল দেওয়া হবে, যা কেয়ামত পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না। ’ (সহিহ তারগিব, হাদিস নম্বর : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৯. বেশি বেশি দরুদ পাঠ : এই দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সব সৃষ্টিকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

১০. দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া : জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ একটি আমল হচ্ছে দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

সরানো হলো কাবা শরিফের চারপাশের বেষ্টনী
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
ওমরা সিজনের শুরুতে কাবা শরিফের চারপাশে দেওয়া বেষ্টনী সরানো হয়েছে। হারামাইন শরিফাইনের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান আস-সুদাইস এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে ওমরা পালনকারীদের ইবাদত করতে সুবিধা হবে এবং এতে তারা প্রশান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। তিনি আরো বলেন, ওমরা পালনকারীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে মসজিদুল হারামে কর্মরত সকল দায়িত্বশীল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

এর আগে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের জুলাই মাসে কাবা শরিফের চারপাশে বেষ্টনী দেওয়া হয়। ভাইরাসের দিনগুলোতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বেষ্টনী দেওয়ার কারণে এতোদিন হজ ও ওমরাপালনকারীরা হাজরে আসওয়াকে সরাসরি চুম্বন, মুলতাজিমে দোয়া ও হাতিমে নামাজ আদায় করতে পারতেন না। তবে এখন থেকে হজ ও ওমরাহকারীরা কাবা শরিফ, হাজরে আসওয়াদ চুম্বন ও হাতিমে প্রবেশাধিকার ফিরে পাবেন।

এর আগে শনিবার (৩০ জুলাই) মসজিদুল হারামের পরিচালনা কর্তৃপক্ষের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইসের নেতুত্বে পাল্টানো হয় কাবা শরিফের পুরনো গিলাফ। প্রতি বছর ৯ জিলহজ সকালে পরিবর্তন করা হলেও এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন এনে হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন (শনিবার) কাবার গিলাফ পাল্টানো হয়। গিলাফ পরিবর্তনের কাজে অংশ নেন দুই শ’জন কর্মী। গিলাফ পরিবর্তন করতে সময় লেগেছে চার ঘণ্টা।

সূত্র : আল-আরাবিয়া

কাবা শরিফে নতুন গিলাফ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
মহররম মাসের প্রথম দিনে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবছর ৯ জিলহজ হজের সময় ঐতিহ্য অনুযায়ী গিলাফ পরিবর্তন করা হলেও এবার সেটা করা হয়নি।

মক্কার মসজিদ আল–হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী পরিচালনা পর্ষদের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার মক্কায় কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়েছে। খবর গালফ নিউজের এ বছর গিলাফ পরিবর্তনে ১৬৬ জন মিস্ত্রি ও কারিগরের একটি দল অংশ নেয়। তারা পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করে।

কাবা শরিফের দরজা ও বাইরের গিলাফ—দুটোই রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরো বানানো হয়। চারটি টুকরো চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরোটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরোগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত। কাবা শরিফের গিলাফের প্রতিটি কাপড়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬৭০ কেজি রেশম, ১৫০ কেজি সোনা ও রুপার চিকন তার।

৪৭ থান সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় এই গিলাফ। মোট আয়তন ৬৫৮ বর্গমিটার। প্রতিটি থান এক মিটার লম্বা ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া। একটা আরেকটার সঙ্গে সেলাই করা।

প্রতিবছর দুটি করে (একটি সতর্কতামূলক) গিলাফ তৈরি হয়। একটি হাতে তৈরি, বানাতে সময় লাগে আট-নয় মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়।

কোরআনের বর্ণনায় মানুষের ভাগ্য
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
ভাগ্য আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত। ভাগ্য আল্লাহর এক রহস্যময় জগৎ। তবে তকদিরকে মুসলিম দার্শনিকেরা দুভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: মুবরাম ও মুআল্লাক। মুবরাম অর্থ স্থিরকৃত, মুআল্লাক অর্থ পরিবর্তনীয়। আল্লাহ তাআলা ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং তিনিই পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন। মূলত তকদির বা ভাগ্য নেক আমল দ্বারা, পিতা-মাতার দোয়ায় ও সদকা ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবর্তন হয়।

ভাগ্য সেসব বিষয়ের একটি যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, ‘অদৃশ্য সম্পর্কে তোমাদেরকে আল্লাহ অবহিত করার নয়; তবে আল্লাহ তাঁর রাসুলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৯) কোরআনের বর্ণনায় ভাগ্য: ভাগ্য সম্পর্কে মানুষ ততটুকু জানে, যতটুকু আল্লাহ কোরআন ও তাঁর নবীর মাধ্যমে জানিয়েছেন।

নিম্নে ভাগ্য বিষয়ে কোরআনের বর্ণনা তুলে ধরা হলো—

১. আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত: মানুষের ভাগ্যের ভালো ও মন্দ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আল্লাহ বলেন, ‘আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে, আমার আদেশ তো একটি কথায় নিষ্পন্ন, চোখের পলকের মতো। ’ (সুরা : কামার, আয়াত : ৪৯-৫০)

২. ভাগ্য অনিবার্য: আল্লাহ মানুষের জন্য যা নির্ধারিত করে রেখেছেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেনই; আল্লাহ সব কিছুর জন্য স্থির করেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা। ’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)

৩. ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত: মানুষের ভাগ্যে যা ঘটে তা পূর্ব থেকেই আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার আগেই তা লিপিবদ্ধ থাকে। আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ। ’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২২)

৪. ভাগ্য জীবনে সংযম আনে: ভাগ্য মানুষের জীবনকে সংযত করে। আল্লাহ বলেন, ‘এটা (ভাগ্য নির্ধারণ) এ জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার জন্য হর্ষোৎফুল্ল না হও। আল্লাহ পছন্দ করেন না উদ্ধত ও অহংকারীদের। ’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৩)

৫. ভাগ্য অনুসারেই সব হয়: আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব কিছু সংঘটিত হয়। আর আল্লাহ তা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘জলে ও স্থলে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে (ভূগর্ভের অন্ধকার স্তরে) এমন কোনো শস্যকণাও অংকুরিত হয় না অথবা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নাই। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯)

মুমিনের ভাগ্যে বিশ্বাস যেমন হবে: আবু আবদুল্লাহ ইবনে দায়লামি (রহ.) বলেন, আমি উবাই বিন কাব (রা.)-এর কাছে এসে তাকে বললাম, তাকদির সম্পর্কে আমার মনে একটা দ্বিধার উদ্রেক হয়েছে। তাই আপনি আমাকে এমন কিছু বলুন যাতে মহান আল্লাহ আমার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করবেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ তাঁর আসমান ও পৃথিবীবাসী সবাইকে শাস্তি দিতে পারেন। তার পরও তিনি তাদের প্রতি অন্যায়কারী হবেন না। পক্ষান্তরে তিনি যদি তাদের সবাইকে দয়া করেন তাহলে তাঁর এই দয়া তাদের জন্য তাদের নেক আমল হতে উত্তম হবে।

সুতরাং যদি তুমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর পথে দান করো আর তাকদিরে বিশ্বাস না রাখো, তবে তা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না তুমি পুনরায় তাকদিরে বিশ্বাস করবে এবং উপলব্ধি করবে যে, যা তোমার ঘটেছে তা ভুলেও তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। আর যা এড়িয়ে গেছে তা কখনো ভুলেও তোমার বেলায় ঘটার ছিল না। আর এ বিশ্বাস ছাড়া তুমি মারা গেলে জাহান্নামে যাবে। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৬৯৯)

মুমিন ভাগ্যে সন্তুষ্ট থাকে: ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ব্যাপারে মুমিন সন্তুষ্ট থাকে। কখনো তাকে অপছন্দের কোনো বিষয় স্পর্শ করলেও সে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে না। কেননা আল্লাহর নির্দেশ হলো, ‘তিনি (আল্লাহ) যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ২৩)

ধৈর্য যে কারণে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
ধৈর্য একটি মহৎ গুণ। প্রিয়নবীজি (স.) সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ছিলেন। ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ হয়েও তাঁকে অবিশ্বাসীদের বহু জুলুম-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তবুও তিনি সবসময় ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। মহান আল্লাহই তাঁকে এই অমূল্য নেয়ামত দান করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আপনি ধৈর্যধারণ করুন, আপনার ধৈর্য হবে আল্লাহর সাহায্যেই।’ (সুরা আন-নাহাল: ১২৭)
অভাব-অনটন, মৃত্যুর ভয় ইত্যাদি ছাড়া ধৈর্যধারণ করার সুযোগ নেই, তাই আল্লাহ বিপদ-মসিবত দিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা নেন। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। আর তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। (সুরা বাকারা: ১৫৫)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, নিশ্চয় ধৈর্যশীলদের অপরিমিত পুরস্কার দেয়া হবে। (সুরা জুমার: ১০)
ধৈর্যের আরেক নাম সফলতা। কারণ ‘মহান আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারীর সঙ্গে থাকেন’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)। আর আল্লাহ যার সঙ্গে থাকবেন, তার সফলতা অবধারিত। তাই মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদেরও ধৈর্যধারণের তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধরো ও ধৈর্যে অটল থাকো এবং পাহারায় নিয়োজিত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হও।’ (সুরা আলে ইমরান: ২০০)

শুধু তা-ই নয়, ধৈর্যধারণ মহান আল্লাহর কাছে এতটাই প্রিয় যে তিনি ধৈর্যের বিনিময়ে পুরস্কার বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের দুবার প্রতিদান দেওয়া হবে এ কারণে যে তারা ধৈর্যধারণ করে এবং ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করে। আর আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। (সুরা আল কাসাস: ৫৪)
বিপদে ধৈর্যধারণ করার কারণে গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়, একইসঙ্গে আল্লাহর রহমতও অর্জিত হয়। মসিবতে যে মহান প্রভুর প্রশংসা করে, আল্লাহ তাআলা বিনিময়ে তার উপর রহমত করেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তারা সে সব লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৭)

ধৈর্যকে সর্বোত্তম নেয়ামত আখ্যা দিয়ে নবীজি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলতা দান করেন। ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (বুখারি: ১৪৬৯)
আবু উমামা থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে বনি আদম, যদি তুমি ধৈর্যধারণ করো ও প্রথম দুঃখের সময় অধৈর্য না হয়ে তাতে সাওয়াবের আশা করো, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ছাড়া কোনো প্রতিদানে সন্তুষ্ট হবো না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৫৯৭)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে এই মহা নেয়ামত ও মহৎ গুণ অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

দেশে ফিরলেন ১১৭৪ হাজি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরেছেন এক হাজার ১৭৪ হাজি। বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দিনগত রাত ২টা পর্যন্ত তারা দেশে এসেছেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে হজ করতে গিয়ে এ বছর ১৬ জন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ১১ জন, নারী পাঁচজন।

উল্লেখ্য, এবার বাংলাদেশ থেকে ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজ পালন করেছেন। হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্রতিনিধি দলসহ এবার ১৬৫টি ফ্লাইটে হজে যান তারা। এরমধ্যে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৩৬৩ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ২৩ হাজার ৯১৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৮৬৪ জন হজযাত্রী সৌদি গিয়েছিলেন।

আজ হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইট জেদ্দা থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দেবে। তবে প্রথম ফ্লাইটে কতজন যাত্রী থাকবেন, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। বাংলাদেশ হজ অফিস (ঢাকা) সূত্রে জানা যায়, একই দিন সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসেরও (সাউদিয়া) ফ্লাইট রয়েছে। বিমান, সাউদিয়া ও ফ্লাইনাসের ফ্লাইটে সব হজযাত্রী ফিরতে আগামী ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় ৫৭ হাজার ৫৮৫ জনকে হজে যাওয়ার সুযোগ দেয় সৌদি সরকার। জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় অতিরিক্ত ২ হাজার ৪১৫ জনকে পাঠানোর কোটা মঞ্জুর করে তারা।


হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্রতিনিধিদলসহ এবার ১৬৫টি ফ্লাইটে হজে যান মোট ৬০ হাজার ১৪৬ জন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৭টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৩৬৩ হজযাত্রী পরিবহন করেছে, সাউদিয়া পরিবহন করেছে ২৩ হাজার ৯১৯ জন হজযাত্রী, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫ হাজার ৮৬৪ জন হজযাত্রী।

এদিকে, বাংলাদেশ হজ অফিস মক্কার কনফারেন্স কক্ষে মঙ্গলবার সকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদারের সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের সমন্বয় সভা হয়। সভায় হজ পরবর্তী হজ ব্যবস্থাপনার করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে হজ প্রশাসনিক (প্রথম এবং দ্বিতীয়) দলের দলনেতা, কাউন্সিলর (হজ), প্রশাসনিক, চিকিৎসক এবং আইটি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, মিনায় হাজিরা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মিনা প্রান্তর। দশ লক্ষাধিক হাজি এখন সেখানে অবস্হান করছেন। যাদের মধ্যে সাড়ে আট লক্ষাধিক বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা আর বাকি দেড় লক্ষাধিক সৌদি আরবের হাজি। বাংলাদেশের আছে প্রায় ৬০ হাজার হজযাত্রী। করোনা অতি মহামারী দুই বছর পর এতো সংখ্যক হাজির অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চলতি বছরের হজ।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাবুর শহর ঐতিহাসিক মিনায় হাজিদের অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ১৪৪৩ হিজরির হজের আনুষ্ঠানিক মূল কার্যক্রম। এর আগে তাওয়াফে কুদুম শেষ করেন হাজিরা। মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মিনা। হজযাত্রীরা কেউ বাসে, কেউ পায়ে হেঁটে বা অন্য যানবাহনে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা করেন। আগামীকাল শুক্রবার সূর্যোদয়ের পর প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফায় গমন করবেন হাজিরা। সেখানে দিনভর অবস্থান করে সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা।


পরদিন শনিবার সূর্যাস্তের পর মদিনায় গিয়ে বড় জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করে ফিরবেন মক্কায়, সেখানে কুরবানি পর্ব শেষ করে মাথা মুন্ডানোর পর প্রাথমিক হালাল হবেন। তারপর কাবায় ফরজ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ সেরে রাতেই আবার ফিরে যাবেন মিনার তাবুতে। ওখানে পরপর দুইদিন তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করার মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

এ বছর হাজিদের নিরাপত্তায় কয়েক হাজার নিরাপত্তাকর্মী, স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী, রোবার স্কাউট নিয়োগ রয়েছেন। আকাশে এয়ারফোর্সের হেলিকপ্টার, স্থলভাগে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

মদিনায় জিয়ারতে গিয়ে অসুস্থ হওয়া হজযাত্রীদের গতকালই এম্বুল্যান্সে মক্কায় নিয়ে আসা হয়। এছাড়া সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ব্যাবস্হাপনায় তিন’শ এতিম, শারিরীক প্রতিবন্ধীও হজে অংশগ্রহণ করছেন।

৫৩৩৬৭ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
চলতি বছর এখন পর্যন্ত (৩ জুলাই রাত ২টা) ৫৩ হাজার ৩৬৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩৮৫ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন।

হজ সম্পর্কিত প্রতিদিনের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক।

মোট ১৬৭টি ফ্লাইটে সৌদি গেছেন হজযাত্রীরা। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮২টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৫৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১০টি।

সৌদি আরবের হজ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া এগারোজন হলেন- মাদারীপুরের শিবচরের লায়লা আক্তার, ঢাকা জেলার তপন খন্দকার, রাজধানীর বাড্ডা সাতারকুল এলাকার মোছা. ফাতেমা বেগম, সিরাজগঞ্জ কামারখন্দের রফিকুল ইসলাম, টাঙ্গাইলের আব্দুল গফুর, রংপুরের পীরগাছার মো. আবদুল জলিল খান, ঢাকার বিউটি বেগম, কুমিল্লা আদর্শ সদরের ধনপুরের মোছা. রামুজা বেগম, জয়পুরহাট সদরের মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, নোয়াখালী জেলার নুরুল আমিন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. জাহাঙ্গীর কবির।

সৌদি আরবে আগামী ৮ জুলাই হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা ৪ হাজার জন (রাষ্ট্রীয় খরচ ও গাইডসহ), অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোটা ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট গত ৫ জুন শুরু হয়েছে। সৌদি আরবে যাত্রার শেষ ফ্লাইট ৩ জুলাই। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই। ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ৪ আগস্ট।


   Page 1 of 11
     ইসলাম
‘আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার’
.............................................................................................
লোক দেখানো ইবাদতের পরিণতি ভয়াবহ
.............................................................................................
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
.............................................................................................
দেনমোহর মাফ চাওয়া যাবে স্ত্রীর কাছে?
.............................................................................................
হাফেজ তাকরিমকে সংবর্ধনা
.............................................................................................
মুমিনের প্রকৃত সঞ্চয় ‘নেক আমল’
.............................................................................................
জীবন যেভাবে সুবাসিত
.............................................................................................
জুমার দিনের যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয়
.............................................................................................
সরানো হলো কাবা শরিফের চারপাশের বেষ্টনী
.............................................................................................
কাবা শরিফে নতুন গিলাফ
.............................................................................................
কোরআনের বর্ণনায় মানুষের ভাগ্য
.............................................................................................
ধৈর্য যে কারণে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
.............................................................................................
দেশে ফিরলেন ১১৭৪ হাজি
.............................................................................................
আজ হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
.............................................................................................
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, মিনায় হাজিরা
.............................................................................................
৫৩৩৬৭ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
.............................................................................................
বাংলাসহ ১৪ ভাষায় সম্প্রচার হবে হজের খুতবা
.............................................................................................
পবিত্র ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
.............................................................................................
সৌদি-আমিরাতে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই
.............................................................................................
ওমরাহ করতে লাগবে না এজেন্সি
.............................................................................................
প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ; ৪ স্থরের নিরাপত্তা
.............................................................................................
সদকায়ে ফিতর: কিছু কথা
.............................................................................................
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনী যে কারণে
.............................................................................................
রোজায় নিজের যত্ন
.............................................................................................
এ বছর হজে যেতে পারবেন ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন
.............................................................................................
বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো তানযীমুল উম্মা ফাউন্ডেশনের কুরআন উৎসব
.............................................................................................
কাবার গিলাফ তৈরিতে অংশ নিলেন এই অভিনেত্রী
.............................................................................................
এবার শোলাকিয়ায় হবে ১৯৫তম ঈদ জামাত
.............................................................................................
সৌদির সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে রোজা শুরু
.............................................................................................
শ্রীমঙ্গলে অনিন্দ্য স্থাপত্যশৈলীর কাজী আশরাফ মসজিদ
.............................................................................................
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সিলেটের ইজতেমা
.............................................................................................
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শুভাগমন অন্ধকারে আলোর ঝিলিক
.............................................................................................
আশুরার তাৎপর্য ও ফযীলত
.............................................................................................
ফ্রান্সে বাংলাদেশী হাফেজকে পাগড়ী প্রদান
.............................................................................................
আজ মহিমান্বিত রাত
.............................................................................................
শায়েস্তাগেঞ্জে মামুনুল হকের মাহফিলে মুসল্লিদের ঢল
.............................................................................................
নামাজের সিজদায় ইমামের মৃত্যু
.............................................................................................
সোনাকান্দায় দারুল হুদা দরবার শরীফের দু’দিনব্যাপী মাহফিল শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
.............................................................................................
হাটহাজারীর মাহফিলে বক্তব্য রাখেননি হেফাজত নেতা মামুনুল হক
.............................................................................................
আজ শুরু হচ্ছে চরমোনাইয়ে ৩ দিন বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল
.............................................................................................
মুসলমানদের আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে উৎপল কুমারের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
পবিত্র মসজিদুল হারাম নামাজের জন্য খুলে দেয়া হলো
.............................................................................................
দ্বিতীয় ধাপে আড়াই লাখ মুসল্লি ওমরাহ পালন করবেন
.............................................................................................
আল আকসায় টানা তিন সপ্তাহ জুমা বন্ধ
.............................................................................................
ধর্ষণ, জেনা-ব্যাভিচার পরিহারের পরকালীন পুরস্কার
.............................................................................................
এই প্রথম আল কুরআনের পূর্ণাঙ্গ কাব্যানুবাদ করলেন মুহিব খান
.............................................................................................
জার্মানিতে মাইকে আজান নিষিদ্ধের মামলায় মুসলমানরা জয়ী
.............................................................................................
ওমরাহ পালনের জন্য কাবা খুলে দিচ্ছে সৌদি সরকার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT