বৃহস্পতিবার, ৬ মে 2021 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বগুড়ায় মাচায় হলুদ তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া

বগুড়া প্রতিনিধি :
গরমের সময় শরীরে পানি শূন্যতা রোধ করতে এমনিতেই তরমুজের জুড়ি নেই। তার ওপর নতুন জাতের তরমুজ দেখে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। হলুদ তরমুজের ওপরে গায়ের রং হলুদ হলেও ভেতরে একদম অন্যসব তরমুজের মতো লাল এবং স্বাদও অনেক বেশি। রাস্তার পার্শ্বে আবাদ হওয়ায় প্রতিদিনই শত শত লোকজন দেখতে আসছেন এবং তরমুজ ক্রয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বড়ইদহ গ্রামের পেশায় শিক্ষক হওয়ার পরও একজন কৃষি প্রেমি হাইস্কুল শিক্ষক আব্দুস সালাম রসালো ফল ‘হলুদ জাতেরথ ও কালো জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে গাছে ফল দেখে অধিক লাভ হবে এমনটায় আশা করছেন আব্দুস সালাম।
 
দেখা গেছে, ৮৬ শতক জমিতে উন্নত জাতের তিপ্তি, ব্লাক বেবি ও ব্লাক সুইট তরমুজ চাষ করে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে। তরমুজগুলো পলি মাটিতে লাগানো চারা গাছ গুলো ফল আসার আগ মুহুর্তে বাঁশের মাচায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জমির মাচায় হলুদ ও ঘাঢ় সবুজ তরমুজ ঝুলছে। হলুদ রং বেষ্টিত তিপ্ত জাতের তরমুজ, ঘাঢ় সবুজ ব্লাক বেবি ও ব্লাক সুইট এসব উন্নত জাতের তরমুজগুলো সুন্দরভাবে মাঁচার নিচে ঝুলছে।

চাষী আব্দুস সালাম জানান, বিভিন্ন ধরণের ফলের বাগান আছে। যেমন, মালটা, পেয়ারা, ভিয়েতনাম নারিকেলসহ অন্যন্যা। তবে নতুন জাতের এই তরমুজ চাষ করতে তিনি আরো উৎসাহিত। কারণ শেরপুরে তিনিই প্রথম মাচায় তরমুজ চাষ করে সফল। গত বছর করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় ইউটিউব দেখে মাচায় তরমুজ চাষ করে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল আসলেও তরমুজ বাজারজাত করার মাঝামাঝি সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লোকশান গুনতে হয়েছে।
 
আব্দুস সালাম আরো জানান, শুরু থেকে জমিতে জৈবসার, অন্যান্য সার প্রয়োগের পর বেড তৈরি করে পুরো বেড পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে গাছ রোপণ করেছেন। বর্তমানে এই ফলগুলির বয়স ৪৬ দিন। এরই মধ্যে ফলগুলোতে নেটিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফলগুলি ৬০ দিনের মাথায় প্রায় ৩/৪ কেজি ওজন হলে পরিপক্ক হবে এবং তা বাজারজাত করার উপযোগী হবে। তিনি ৮৬ শতক জমিতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেছে এবং সেখান থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রয় করবেন বলে আশাবাদী। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে লাভবান হবেন। এই ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফল পাওয়া যাবে, এখানে আবার কিছু নষ্ট হবে আবার এলাকাবাসীও সখের বশে খাবে। এই তরমুজগুলো বাজারে ৪৫ থেকে ৫৫টাকা কেজি দরে বাজার মূল্য সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা বিক্রয় হবে।

উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: মাসুদ আলম তিনি জানান, নতুন জাতের ফসল হিসেব আমরা কৃষকের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছি ও পরামর্শ প্রদান করিছ। যেন কোন রোগবালাই ধরতে না পারে। চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

শেরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, উপজেলায় এবার প্রায় নতুন ফসল হিসেবে ২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কিন্তু হলুদ জাতের তরমুজ এই প্রথম চাষ করেছেন আব্দুস সালাম। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছি এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। আসা করছি, আগামী বছর এই জাতের তরমুজ চাষ আরো বাড়বে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।

বগুড়ায় মাচায় হলুদ তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া
                                  

বগুড়া প্রতিনিধি :
গরমের সময় শরীরে পানি শূন্যতা রোধ করতে এমনিতেই তরমুজের জুড়ি নেই। তার ওপর নতুন জাতের তরমুজ দেখে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। হলুদ তরমুজের ওপরে গায়ের রং হলুদ হলেও ভেতরে একদম অন্যসব তরমুজের মতো লাল এবং স্বাদও অনেক বেশি। রাস্তার পার্শ্বে আবাদ হওয়ায় প্রতিদিনই শত শত লোকজন দেখতে আসছেন এবং তরমুজ ক্রয় করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বড়ইদহ গ্রামের পেশায় শিক্ষক হওয়ার পরও একজন কৃষি প্রেমি হাইস্কুল শিক্ষক আব্দুস সালাম রসালো ফল ‘হলুদ জাতেরথ ও কালো জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে গাছে ফল দেখে অধিক লাভ হবে এমনটায় আশা করছেন আব্দুস সালাম।
 
দেখা গেছে, ৮৬ শতক জমিতে উন্নত জাতের তিপ্তি, ব্লাক বেবি ও ব্লাক সুইট তরমুজ চাষ করে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে। তরমুজগুলো পলি মাটিতে লাগানো চারা গাছ গুলো ফল আসার আগ মুহুর্তে বাঁশের মাচায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে জমির মাচায় হলুদ ও ঘাঢ় সবুজ তরমুজ ঝুলছে। হলুদ রং বেষ্টিত তিপ্ত জাতের তরমুজ, ঘাঢ় সবুজ ব্লাক বেবি ও ব্লাক সুইট এসব উন্নত জাতের তরমুজগুলো সুন্দরভাবে মাঁচার নিচে ঝুলছে।

চাষী আব্দুস সালাম জানান, বিভিন্ন ধরণের ফলের বাগান আছে। যেমন, মালটা, পেয়ারা, ভিয়েতনাম নারিকেলসহ অন্যন্যা। তবে নতুন জাতের এই তরমুজ চাষ করতে তিনি আরো উৎসাহিত। কারণ শেরপুরে তিনিই প্রথম মাচায় তরমুজ চাষ করে সফল। গত বছর করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় ইউটিউব দেখে মাচায় তরমুজ চাষ করে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল আসলেও তরমুজ বাজারজাত করার মাঝামাঝি সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লোকশান গুনতে হয়েছে।
 
আব্দুস সালাম আরো জানান, শুরু থেকে জমিতে জৈবসার, অন্যান্য সার প্রয়োগের পর বেড তৈরি করে পুরো বেড পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে গাছ রোপণ করেছেন। বর্তমানে এই ফলগুলির বয়স ৪৬ দিন। এরই মধ্যে ফলগুলোতে নেটিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফলগুলি ৬০ দিনের মাথায় প্রায় ৩/৪ কেজি ওজন হলে পরিপক্ক হবে এবং তা বাজারজাত করার উপযোগী হবে। তিনি ৮৬ শতক জমিতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেছে এবং সেখান থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রয় করবেন বলে আশাবাদী। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে লাভবান হবেন। এই ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফল পাওয়া যাবে, এখানে আবার কিছু নষ্ট হবে আবার এলাকাবাসীও সখের বশে খাবে। এই তরমুজগুলো বাজারে ৪৫ থেকে ৫৫টাকা কেজি দরে বাজার মূল্য সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা বিক্রয় হবে।

উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো: মাসুদ আলম তিনি জানান, নতুন জাতের ফসল হিসেব আমরা কৃষকের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছি ও পরামর্শ প্রদান করিছ। যেন কোন রোগবালাই ধরতে না পারে। চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

শেরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, উপজেলায় এবার প্রায় নতুন ফসল হিসেবে ২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কিন্তু হলুদ জাতের তরমুজ এই প্রথম চাষ করেছেন আব্দুস সালাম। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছি এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। আসা করছি, আগামী বছর এই জাতের তরমুজ চাষ আরো বাড়বে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।

কচুয়ায় কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
                                  

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের কচুয়ায় কৃষকের লাউ, টমেটোসহ মিশ্র সবজি ক্ষেত কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার রাতে পৌরসভার কড়ইয়া মধ্যপাড়া গ্রামে কে বা কারা শত্রুতার জের ধরে কৃষক জাহাঙ্গীর আলমে সবজি ক্ষেত কেটে নষ্ট করে দেয়। এতে করে কৃষকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন।
 
তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় চলতি মৌসুমে ২৭ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষাবাদ করি। গতকাল রাতে কে বা কারা আমার জমির ফসল কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের সবজি কেটে নষ্ট করার ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ঘটনাটি খুবই দু:খজনক।  তবে যারা এ কাজটি করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

রক্ষণাগার না থাকায় আলুতে পচন, ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক
                                  

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আলু সংরক্ষণাগার না থাকায় আলুতে পচন ধরেছে। উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ কৃষক। এতে এক দিকে কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে আগামীতে তারা আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় ৪০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৪৬০ মেট্রিক টন বেশি। উৎপাদন মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় কৃষক উৎপাদিত আলু কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। স্থানীয় পর্যায়ে কোন কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় পাশের উপজেলা পাকুন্দিয়ায় আলুর ভালো উৎপাদন হওয়ায় সেখানকার চাহিদা মেটানোর পর হোসেনপুরের চাষিদের চালু সংরক্ষণের জন্য স্থান পায় না। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও একই চিত্র।

হোসেনপুর উপজেলা ভৌগলিকভাবে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও নরসুন্দা নদী বেষ্টিত হওয়ায় আলু চাষের জন্য উপযোগী। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কোন সংরক্ষণাগার না হওয়ায় এখানকার কৃষককে তাদের উৎপাদিত আলু খাবারের বা বীজের জন্য হন্নে হয়ে দৌড়াতে হয় এদিক-ওদিক। এক সময় দেশি আলু চাষ করে তা দীর্ঘদিন পরও বীজ ও খাবারের জন্য রাখতে পারলেও এখন সেগুলো বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন জাত হিসেবে ডায়মন্ড ও এসটারিস আলু চাষ হয়ে থাকে। যেগুলো এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় কোল্ড স্টোরের বাইরে সংরক্ষণ করা যায় না।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে কথা আলু চাষীদের সাথে কথা হয়। তাদের মধ্যে হাজীপুর বাজারে আলু বিক্রি করতে আসা সিদলা ইউনিয়নের পোড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির, আব্দুল আজিজ, আব্দুর রাশিদ, সাহেবেরচর নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল জানান, ৪০ কাঠা জমিতে এ বছর আলু চাষ করে কম করে হলেও ৩ লাখ টাকা লস হয়েছে।

কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, ৩ ঘন্টা ধরে আলু নিয়ে বসে আছি, কেউ দাম করছে না।
বৃহস্পতিবার হোসেনপুর বাজারে কথা হয় জামাইল গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন, বরুয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন, চরজামাইল গ্রামের ইব্রাহিম খলিল সোহাগসহ অন্তত ১০জন কৃষকের সাথে। তারা বলেন, তাদের এখনও কয়েকশ’ মণ আলু অবিক্রিত থাকায় আলুতে পচন ধরছে।
সাহেবের চর গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আগামীতে আর আলু করবো না।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল কায়েস বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থা করতে পারলে পরিবহন খরচ রক্ষার পাশাপাশি কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে। এজন্য উপজেলায় কম করেও হলেও ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি কোল্ড স্টোরেজ প্রয়োজন।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ বলেন, সরকারিভাবে এ উপজেলায় একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূরের কাছে একটি প্রস্তাবনা রাখবো।

কচুয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
                                  

কচুয়া(চাঁদপুর)প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অনেক কৃষকেরা এ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছে। নতুন ধানের বাজার মূল্য এখন ভাল থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ফলন ভাল পেয়ে কৃষকের চোখে মুখে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। কষ্টের ফসল সুষ্ঠ ভাবে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পারছেন কৃষক। এলাকায় কৃষক ও দিনমজুর সংকট থাকায় শ্রমিকের দামও দিতে হচ্ছে বেশি।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সোনার ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে না উঠানো পর্যন্ত কৃষকের চিন্তার শেষ নেই। উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৫শ’ ১৫হেক্টার জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে তবে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ২শ ২৫ হেক্টর। এদিকে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বোরো ও ইরি ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

পালাখাল, তেগুরিয়া, সাচার, যুগিচাপড়সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক সফিক হোসেন, স্বপন, আবুল বাসারসহ একাধিক কৃষকরা জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি বছরে আমাদের বোরো ধান অনেক ভালো হয়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ায় বাইরে থেকে ৪ থেকে ৫শ’ টাকা দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক আনা হচ্ছে। কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে আমরা অতিরিক্ত টাকা দিয়েই শ্রমিক কিনে ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছি। তারা আরো জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে গরম বাতাসে কিছুটা ধান নষ্ট হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে সার প্রয়োগ করায় ভালো ফলন হয়। এতে করে আমরা অনেকটাই খুশি। আশাকরি এবছর ধানের দাম ভালো পেলে আগামীতে আরো বেশি ধানের আবাদ করব।
 
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, উপজেলায় ১২ হাজার ৫শ’ ১৫হেক্টার জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে তবে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ২শ ২৫ হেক্টর।  গত বছরের চেয়ে এবার ইরি বোরো ধান চাষাবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় কৃষকদের  পাকা ধান কাটার পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং বর্তমান চলতি মৌসুমে ধানের দাম বৃদ্ধি করলে কৃষকরা অনেকটাই উপকৃত হবেন।


কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না
                                  

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলসহ আশপাশ এলাকায় ঝড়ো আবহাওয়ায় হঠাৎ শুরু হওয়া গরম হাওয়ায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোরো ফসল হারানোর আশংকায় এখন দিশেহারা বর্গা ও প্রান্তিক চাষীরা। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সোনালী ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষক। এর মধ্যেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

গত রোববার বিকেলেও বিশাল হাওরের জমির রং ছিল সবুজ। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া তিন-সাড়ে তিন ঘন্টার কালবৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাসে হাওরের বেশিরভাগ বোরো জমির ধান সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। হাওরের ইটনা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলার ২৫ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান একইভাবে আক্রান্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে এবং ফলনও অনেক ভাল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু গত রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাসে কিশোরগঞ্জে হাওরের ইটনা উপজেলার রায়টুটী, বাদলা, বড়িবাড়ী ইউনিয়ন, কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, হোসেনপুর, তাড়াইল, নিকলী ও কটিয়াদী উপজেলায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও হাওরের মিঠামইন উপজেলা, অষ্টগ্রাাম উপজেলা, কুলিয়ারচর ও বাজিতপুর উপজেলায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে ব্রি ধান-২৮, ব্রিধান-২৯ সহ স্থানীয় জাতের ফুলধরা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, এর আগে কৃষকরা শিলাবৃষ্টি কিংবা আগাম বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হলেও গরম বাতাসে বোরো জমি নষ্ট হতে এই প্রথম দেখেছেন। জমিতে বোরো ধানের ফুল আসা গাছের শীষ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। মঙ্গলবারও হাওরের জমিগুলোতে গরম আবহাওয়া বিরাজ করছিল। বিস্তীর্ণ বোরো জমিতে গরম বাতাসে এ রকম ক্ষতির সাথে অপরিচিত কৃষক বর্তমানে দিশেহারা।

রাজী গ্রামের কৃষক আতাউর বলেন, আর ১০-১৫ দিন পরে ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু গরম বাতাসে ধান সব নষ্ট হয়ে গেছে । উত্তর রাজী গ্রামের বুদু মিয়া জমিতে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১৪ কাটা জমিতে ধান লাগাইছিলাম, কিন্তু রোববাবের গরম বাতাস আমার সব শেষ করে দিছে। এখন ধান কাটার আর ইচ্ছে নাই।

কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো জমি আক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সর্বমোট ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানতে চেয়েছেন। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হবে।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘আমি কৃষি বিভাগকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা হাতে পেলে সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন
                                  

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ন্যায্য দাম পাওয়ার ব্যাপারে কৃষকরা খুবই আশাবাদী। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আলুর আকাশচুম্বি দাম দেখে কৃষকরা আলু চাষে লাভবান হবে বলে আশাবাদী হয়ে পূর্বের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমানে আলু চাষ করেছে।

গত তিন বছর আলু মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের আলু নষ্ট হয়েছে। এতে করে কৃষকরা অনেকটাই ক্ষতি হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। চলতি বছর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি পরিমানে আলু  চাষ করে । আলু চাষে এবছর বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম নিয়ে কৃষকরা আশাবাদী। কচুয়ায় চলতি বছর আলু চাষাবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫শ হেক্টর।

উপজেলার পালাখাল গ্রামের আলু চাষী রফিক ও নজরুল হোসেন জানান, গত তিন বছর ধরে আলু মৌসুমে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক আলু নষ্ট হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে দাম পাবার আশায় আলু চাষাবাদ করেছি। এবছর আলুর বাম্পার ফলণ হওয়ায় ভালো দাম পাবো আশাবাদী। গত কয়েকদিন ধরে আলু তোলা শুরু হলেও কোন কোন জমির আলু পুষ্ট হতে আরো ৭-৮দিন সময় লেগে যাবে। তাই এবছর বৃষ্টিপাত দেখা দেয়ার আগেই আলু ঘরে তোলার চেষ্টা করছি।  

দোয়াটি গ্রামের আলু চাষী শহীদ আব্দুর রশিদ বলেন, গত বছর এক একর বিশ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করি। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর ৫ একর জমিতে আলুর চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন জানান, কচুয়ায় এ বছর আলু চাষে কৃষকদের বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে এ বছর কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বৃষ্টিবাদল শুরুর পূর্বে আলী চাষিদের ঘরে আলু তুলতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তীব্র শীত উপক্ষো করে কচুয়ায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা
                                  

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় ধুম পড়েছে বোরো চাষের। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটছে উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ জমিতে হালচাষ করছেন। শীত বেশি থাকায় আবার অনেকে একটু অপেক্ষা করছেন। সূর্যের দেখা মেলার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় পালাখাল ও সেঙ্গুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম,সাত্তার,আবু হানিফ ও রানা হোসেন বলেন, গত বছর রোপা আমনে  ফসল ভালো হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ মাত্রারিক্ত সম্পন্ন করে ফেলেছেন চাষিরা। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় শেষ ভাগই বোরো চারা রোপণ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চফলনশীল হতে সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


গঙ্গাচড়ায় আলুর সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষ
                                  

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আলুর সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের মাঝে। অল্প সময়ে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়ায় আশায় উপজেলার অনেক কৃষক আলুর জমিতে সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়া চাষ করছেন। সাধারণত জমি থেকে আলু তুলে নেয়ার পর অন্য ফসল রোপনের পূর্ব পর্যন্ত জমি পতিত পড়ে থাকে।

রোপনকৃত আলুর চারা গজানোর ২৫/৩০ দিন পর সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার বীজ রোপণ করলে জমি আর পতিত ফেলে রাখতে হয় না। আলু তোলার সময় যখন ঘনিয়ে আসে মিষ্টি কুমড়ার চারাগুলো ততদিনে ডালপালা মেলতে শুরু করে। মিষ্টি কুমড়ার ডালপালা সরিয়ে রেখে আলু তুলে নেয়া হয়। এর কিছুদিন পর কুমড়া ধরতে শুরু করে। তখন কৃষকের ক্ষেত ভরে থাকে মিষ্টি কুমড়ায়।

উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের  কিশামত হাবু গ্রামের কৃষক কমল রায় বলেন, এ বছর তিনি ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৭ বিঘা জমিতেই আলুর সাথে মিষ্টি কুমড়া লাগিয়েছেন। তবে তিনি আলুর ৫কান্দি (সারি) পর পর মিষ্টি কুমড়া লাগিয়েছেন বলে জানান। ফলন ভালো হলে বাড়তি আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী।
 
কোলকোন্দ ইউনিয়নের উত্তর কোলকোন্দ গ্রামের কৃষক মহুবার রহমান, আব্দুস সালাম, আব্দুল কাদের, হাফেজ আলী ও ইসমাইল হোসেন জানান, তারা প্রত্যেকেই তিস্তার চরে ২ বিঘা করে জমিতে আলুর সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন। তবে আলুর ২ কান্দি(সারি) পর পর মিষ্টি কুমড়া লাগিয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, আলুর সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষ করা হলে তেমন বাড়তি খরচ হয় না কিন্তু অল্প সময়ে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

হলুদ জমিনে দুরন্ত মৌ
                                  

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : মাঠের পর মাঠ সরিষার চাষ। শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে সবুজ সরিষা গাছের হলুদ ফুল। প্রকৃতি সেজেছে হলুদ বরণে। এ এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ। কুয়াশায় ঢাকা শীতে হলুদ রঙের চাঁদরে আবৃত টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার আবাদের মাঠ। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জন আর মধু আহরণে মুখরিত হয়ে ওঠেছে গোটা মাঠ। কাঙ্খিত ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা চাষীদের।

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, যতদুর চোখ যায় ততদুর সবুজের ফাঁকে হলুদের সমাহার। আর এ সুযোগটা লুফে নিচ্ছে মৌমাছিরা। শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে সরিষা ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। শীঘ্রই সরিষা ঘরে তুলবেন কৃষকরা। রাস্তার দু’পাশের জমিগুলোতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। বাতাসে দুলছে এসব সরিষা ফুল।

ফুলের এই দোল খাওয়া সবার মন কেড়ে নেয়।  সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্ণের জমিগুলোতে আশপাশ সহ দূর-দূরান্ত থেকে সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসছেন। ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে তরুণ-তরুণীরা ছুটে যাচ্ছেন হলুদের মাঠে। নিজের ছবির সাথে সরিষা ফুলের ছবি ধরে রাখছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার উফশী জাতের ২১ হাজার ২১৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২৪ হাজার ৪৪৫ হেক্টর মোট ৪৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। ফলনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৬৮ মেট্রিকটন।

এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৩০ হেক্টর, বাসাইলে ৪ হাজার ৮২০হেক্টর, কালিহাতীতে  ৩ হাজার ১৩০ হেক্টর, ঘাটাইলে ২ হাজার ৩৫২ হেক্টর, নাগরপুরে ১০ হাজার ৭৫ হেক্টর, মির্জাপুরে ৮ হাজার ৯৪৫ হেক্টর, মধুপুরে ৪৬২ হেক্টর, ভূঞাপুরে ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর, গোপালপুরে ৩ হাজার ৬০ হেক্টর, সখীপুরে ২ হাজার ১৪০ হেক্টর, দেলদুয়ারে ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। জেলায় গত বছর ৪১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছিল।
 
কৃষকরা জানান, এবার সরিষা ক্ষেতে ভালো ফুল ফুটেছে বিধায় ভালো ফলনও আশা করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকরা। আমন ধান ওঠার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত জমি ফাঁকা থাকে। তাই শাক-সবজির পাশাপাশি তারা সরিষার আবাদ করে থাকেন। প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৬ মণ সরিষা উৎপাদিত হয়।

সদর উপজেলার কৃষক বাহেজ সরকার, কালিহাতী উপজেলার মোমিনুল হক, আব্দুর রশিদ, কাদের প্রামাণিক, মির্জাপুরের জাহিদ হোসেন, রকিবুল আলম, নাগরপুরের ছালামত মিয়া, নাজমুল করিম সহ অনেকেই জানান, সরিষা আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক অনেক কম ব্যবহৃত হওয়ায় খরচও কম হয়। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলন হবে।

তারা আরও জানান, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল তৈরি করে না। এই সরিষা ভাঙিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরি হয়। যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌচাষিরা বাক্স স্থাপন করে মধু উৎপাদন করে থাকে। মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণ করে থাকে। এতে সরিষার পরাগায়ণ বেড়ে যায়, ফলনও ভালো হয়।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, সরিষা দেশের আবহাওয়া বান্ধব এবং লাভজনক ফসল। মাত্র ৭০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদেরকে এক বিঘা জমির জন্য সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

স্বাধীন বাংলা/এআর

শিমের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় চাষীরা
                                  

নিজস্ব সংবাদদাতা:
এ বছর ভোলায় শিমের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও শিমের ন্যায্য মূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। তবে কৃষি অধিদফতরের বিপনন বিভাগ থেকে মূল্য নির্ধারণ করে দিলে বাজারে ন্যায্য মূল্যে শিম বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে দাবি চাষিরা।

চলতি বছর মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভোলা জেলায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে চাষিরা। এ বছর ক্ষেতে কোনো প্রকার পোকামাকড়ের আক্রমণও ছিল না।

চাষিরা জানান, খেতে কোনো পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই।  ব্যাপক শিম উৎপাদন হয়েছে। বাজারের দাম ভালো থাকলে তারা লভবান হবেন। বিগত বছরগুলোর লোকসান কাটিয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

ভোলা কৃষি বিপনন অধিদফতরের জেলা মাকেটিং কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল জানান, শিমের পাইকারি ও খুচরা বাজারের দাম নির্ধারণ করার বিষয়ে কৃষকদের দাবি আমরা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।

ভোলা কৃষি অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. রাশেদ হাসনাত জানান, এবছর পোকাপাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় শিমের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এতে খুশি কৃষকরা। তিনি আরো জানান, জেলা জেলার সাত উপজেলায় এবছর শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল হাজার ছিলো ১ হাজার ৩০০ হেক্টর। আর চাষ হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫০ হেক্টর বেশি।

১ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে না মুলা; কৃষকের মাথায় হাত
                                  

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন হাটে ১টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ১ টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না কৃষকরা। হতাশায় নিমজ্জিত কৃষকরা মুলা নিয়ে বসে আছেন বিভিন্ন হাটে। শুধু মুলা নয়, দম কমেছে অন্যান্য সবজিরও।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুলার মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০টাকায়। ফুলকপির মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে এতো পরিমাণ মুলার আমদানি বেড়েছে যে, স্থান সংকুলান না পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মাঠে মুলা নিয়ে বসে আছেন চাষীরা। চাষীরা জানান, মাত্র ১ টাকা দরে মুলার কেজি বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না। মুলা নিয়ে হাটে বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে চাষীদের। হতাশা নিয়ে চাষীরা বলেন, মূল্যপতনের ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূল খরচটাই আসবে না। তারপরও ক্রেতা নেই।

স্থানীয় মূলা ব্যবসায়ীরা জানান, ধাপেরহাটে প্রতি মণ মুলা প্রকার ভেদে ৪০-৬০ টাকা মণ দরে ক্রয় করছি। হাটে প্রচুর মুলার আমদানি হয়েছে। তাই দাম কম। এসব মুলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার পর চাষিরা এক সঙ্গে সবজি চাষ করেছে। ফলও ভাল হওয়ায় হাট-বাজারে আমদানিও বেশি। তাই দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে।

যেভাবে একই সাথে চাষ করবেন মাছ ও মুরগি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : গবেষকরা বলছেন সীমিত জায়গার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাছ ও মুরগি সমন্বিত চাষ করা যায় এবং এ ধরণের সমন্বিত চাষের ফলে অল্প খরচে বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়।

তারা বলছেন এ পদ্ধতিতে মাছের জন্য আলাদা করে সার বা খাদ্য দেয়ার প্রয়োজন হয় না বরং মুরগির উচ্ছিষ্টই মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আর মিশ্র এ চাষ পদ্ধতিতে প্রতি শতাংশে ২০ থেকে ২৫ কেজি মাছ উৎপাদন সম্ভব। তাছাড়া সমন্বিত পদ্ধতিতে শুধু মুরগিই নয়, হাঁসও চাষ করা যায়।


মুরগি ও মাছ এক সাথে চাষের সুবিধা

বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি প্রোগ্রামের কৃষিশিক্ষা বইতে বলা হয়েছে মুরগির বিষ্ঠা ও পড়ে যাওয়া খাদ্য মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আবার পুকুরের পাড়ে বা পানির উপর ঘর তৈরি করা হয় বলে মুরগির ঘরের জন্য আলাদা করে জায়গার দরকার হয়না।

আবার পানির ওপরে ঘর হওয়ার কারণে মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পানিতেই পড়ে।

পাশাপাশি মুরগিকে যে খাবার দেয়া হয় তার অব্যবহৃত অংশ এবং পানিতে পড়ে যাওয়া খাদ্য মাছের সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে মাটির সংস্পর্শে না থাকায় মুরগির রোগ বালাই কম হয় ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

আর মুরগির বিষ্ঠা পুকুরের সার হিসেবেও কাজ করে।


মাছের জাত নির্বাচন ও সংখ্যা

সমন্বিত মুরগি ও মাছ চাষ পদ্ধতিতে পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ ছাড়তে হবে এবং মাছ যেন একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়।

বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন মাছ ছাড়লে পুকুরে উৎপাদিত খাদ্যসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

শুধু এক প্রজাতির মাছ ছাড়লে এক জাতীয় এবং এক স্তরের খাদ্য খাবে, তাদের খাদ্যের সম্পূর্ণ ব্যবহার হবেনা। ফলে মাছ উৎপাদন কম হবে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি প্রোগ্রামের কৃষিশিক্ষা বইতে লেখা হয়েছে, "তাই সমন্বিত মুরগি ও মাছ চাষ পদ্ধতিতে পুকুরের তলা, পানির মধ্য ভাগ এবং উপরিভাগের খাদ্য খায় এমন প্রজাতি যথাক্রমে মৃগেল, কালা বাউশ, রুই কাতলা কিংবা সিলভার কার্প জাতীয় মাছ ছাড়তে হয়"।

এতে আরও বলা হয়েছে যে ৩৩ শতাংশের একটি পুকুরে আট থেকে দশ সেন্টিমিটার আকারের এক হাজার পোনা মাছ ছাড়া যেতে পারে।

এছাড়া নির্ধারিত হারে মাছ ছাড়লে প্রতি বিঘায় অন্তত ৬শ কেজি মাছ, ১২-১৫ হাজার ডিম ও প্রায় এক হাজার কেজি ব্রয়লারের মাংস উৎপাদন সম্ভব।


মুরগির সংখ্যা কেমন হবে

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ লিখেছেন, প্রতি শতাংশে দুটি হারে মুরগি পালন করলে মাছ চাষের জন্য কেনো সার বা খাদ্য দিতে হয়না।

এ হিসেবে বিঘাপ্রতি ৬০-৭০টি ও একর প্রতি দুশো মুরগি পালন করা যায়।

তবে সময়মত দরকারি ভ্যাকসিন দিতে হবে এবং মুরগি অসুস্থ হলে ঘর থেকে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।


কিন্তু বাণিজ্যিক ভাবে দেখা যাচ্ছেনা কেন?

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিউটের যশোর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের প্রধান ডঃ রবিউল আউয়াল হোসেন বলছেন গৃহস্থালি হিসেবে এটি দারুণ একটি আইডিয়া যা ইন্সটিটিউট থেকে অনেক আগেই প্রবর্তন করা হয়েছিলো।

"ধরুন বাড়িতে একটি পুকুর আছে সেখানে একই সাথে মাছ ও মুরগি চাষ তো বটেই সাথে পুকুরের পাড়ে সবজি আবাদ করা যায়। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু মাছ চাষ নিয়ে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চিন্তার কারণে এটির প্রচলন হয়তো খুব বেশি হয়নি"।

তিনি বলেন, ধারণাটি যতটা সম্ভাবনাময় ছিলো ততটা হয়নি - কারণ মাছ চাষ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প এসেছে এবং তাতে বেশি ঘনত্বের মাছ চাষ হচ্ছে।

"মুরগি ও মাছ- সমন্বিত চাষে ঘনত্বের বিষয়টি ঠিক মতো করতে হয়। অতিরিক্ত ঘনত্বের মাছ চাষে সেটি হয়না। তাই এখন ঘর গৃহস্থালির ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাড়িতে যাদের পুকুর আছে তারা এটি করলে বেশি সুবিধা পাবেন বলে আমি মনে করি"। সূত্র : বিবিসি

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

আগামী মৌসুমে বোরো আবাদ ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানো হবে : কৃষিমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : আগামী মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বন্যাসহ নানা কারণে এ বছর আমনের উৎপাদন ভালো না হওয়ায় ধানের দাম খুব বেশি। যেটি নিয়ে খুব চিন্তার মধ্যে রয়েছি। সেজন্য, যে কোন মূল্যে আমাদের আগামী মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় সভায় এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, বোরোর চাষযোগ্য কোন জমি যাতে খালি না থাকে সে ব্যাপারে কৃষকদের উৎসাহ দিতে হবে। বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে মাঠ থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সকল কর্মকর্তাকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং কৃষকের পাশে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় চাষি-কৃষকেরা খুশি ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় আছে। অন্যদিকে, আমরা কৃষকদেরকে যে বোরো ধানের উন্নত বীজ সরবরাহ করছি, সার, সেচসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় যে প্রণোদনা দিচ্ছি তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, শুধু বোরো ধান নয়, সামনে রবি মৌসুমে যে ফসলগুলো আছে যেমন: পেঁয়াজ, গম, আলু, ভুট্টা, সরিষা, শাকসবজি, মাসকলাইসহ সকল ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এখনই কাজ করতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিসহ সারােশে ভুট্টা চাষের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই, এসকল ফসল অত্যন্ত সফলভাবে উৎপাদনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব সাফল্য আজ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে-উৎপাদন বাড়িয়ে সে ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো: মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা) মো: আব্দুল কাদের এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ১৬.৩০%। যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি প্রায় ১৩%।

স্বাধীন বাংলা/এআর

নওগাঁয় করলা চাষে সফল কৃষক জলিল
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি:
এক সময় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন আব্দুল জলিল। পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকায় থাকতে হতো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্রামের বাড়িতে আসতেন। আসা-যাওয়ায় কাজে মন টিকতো না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ ছেড়ে দিয়ে গত জানুয়ারী মাসে নিজ গ্রাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার বড়পই চলে আসেন। এরপর থেকে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। জমানো টাকায় পুনে তিন বিঘা জমি ইজারা (চুক্তি) নিয়ে রানী জাতের করলার আবাদ করে তার ভাগ্য বদলেছে। বাজারে ভাল দাম পেয়ে খুশি তিনি।

চাষি আব্দুল জলিল বলেন, গত ১৩ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেছেন। সেখানে স্বল্প পরিসরে খাবার জন্য শাক-সবজির আবাদ করতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হতো। এবার আর ঢাকায় কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জমি বন্ধক নিয়ে গ্রামে তিনি শাক-সবজি চাষ করছেন। দুই দফায় পুনে তিন বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। ২২ কাঠা জমি ২ বছরের জন্য নিয়েছেন ৩২ হাজার টাকায়। বাকী জমি ১৪ হাজার এবং ১৬ হাজার টাকা বছর। মোট জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এ বছর এক বিঘা জমির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জমি প্রস্তুত করে গত ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে করলার চারা রোপন করেন। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাঁচা তৈরী করে চারা রোপন করেন। এক বিঘা জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরীতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ২৬-২৭ হাজার টাকা। মোট জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল ধরা শুরু হয়। সপ্তাহে ২ দিন ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মণ করলা উঠানো হয়। যেখানে প্রথম দিকে ৩ হাজার টাকা মণ পাইকারী দাম পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ২৪শ-২৬শ টাকা মণ। সর্বোচ্চ সাড়ে তিনমাস পর্যন্ত এ মাঁচায় করলা থাকবে। এরপর পটল। সব খরচ বাদ দিয়ে করলা মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

ইতোমধ্যে করলার মধ্যে পটলের গাছ লাগানো হয়েছে। করলা শেষ হওয়ার পর পটলের গাছ মাঁচায় উঠে যাবে। একই মাঁচায় পটলের আবাদ করা হলে মাঁচা তৈরীর খরচটা লাগবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার কারণে সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা ভাল পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া ২ কাঠা জমিতে বসত বাড়ি। ৫ জন ছেলে এবং বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৯ জন। বড় দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে এবং ছোট তিন ছেলে পড়াশুনার পাশাপাশি তাকে সহযোগীতা করে।
তিনি মনে করেন ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

মান্দা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ করা হয়েছে।

বায়োফ্লক : বাংলাদেশে দ্রুত বাড়াতে পারে মাছ উৎপাদন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের তরুণ মৎস্য চাষিদের মধ্যেই অনেকেই নতুন এক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন যার নাম বায়োফ্লক, যা দেশে মাছের উৎপাদন অতি দ্রুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাছ চাষের এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশে এসেছে মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে।

এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অল্প জায়গায় বিপুল পরিমান মাছ চাষ করা হয়।

সরকারের মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা কতটা সঠিক হবে কিংবা চাষিরা কতটা লাভবান হবেন, তা নিয়ে এখন তারা গবেষণা করছেন।

বায়োফ্লক পদ্ধতি দেশের এ মূহুর্তে সব চেয়ে বড় প্রকল্প করছেন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলের জিহাদ আহমেদ।

বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান যে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষের চেয়ে এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ আলাদা।

"এখানে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সুচারুরূপে দেখতে হয়। আমি প্রায় ৩৯টি ট্যাংকে শিং, কই, মাগুর ও পাবদাসহ বেশ কয়েক ধরনের মাছ চাষ করছি"।

নিজের ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়া গিয়ে বায়োফ্লকের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জিহাদ আহমেদ, যিনি এর আগে পোলট্রি খামারের উদ্যোগ নিয়ে কার্যত ব্যর্থ হয়েছিলেন।

বায়োফ্লক কি?

মৎস্য গবেষকদের মতে, বায়োফ্লক এমন একটি পদ্ধতি যেখানে জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে পুনঃব্যবহারযোগ্য খাবার তৈরি করা হয়।

অর্থাৎ যে ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল তৈরি হয় তা পানিতে উৎপন্ন হওয়া নাইট্রোজেন গঠিত জৈব বর্জ্যকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হতে না দিয়ে নিজেদের বংশ বাড়ায় এবং এটিকেই ফ্লক বলে।

এসব ফ্লকে প্রচুর উপাদান থাকে, যা মাছের পুষ্টির যোগান দেয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে প্রোবায়োটিক কালচারের মাধ্যমে ফ্লক তৈরি করা হয়।

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ডঃ মো. খলিলুর রহমান জানান, মূলত যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অল্প জায়গায় অনেক পরিমান মাছ চাষ করা হয়, সেই পদ্ধতিকেই বায়োফ্লক বলা হয়।

তিনি বলেন, এতে পানির মধ্যে বিশেষ কায়দায় ব্যাকটেরিয়া তৈরি করা হয় এবং সেটাই মাছের খাবারকে রিসাইকেল করে - আবার এটা পানি পরিশোধন করতেও সক্ষম।

"তবে মনে রাখতে হবে পানিতে নাইট্রোজেন আর কার্বনের ব্যালেন্স ঠিকমতো না হলে এটা কাজ করবে না এবং মাছ মারা যাবে। অর্থাৎ পদ্ধতিটির সঠিক প্রয়োগ না হলে মাছের রোগ হবে বা মাছ মারা যাবে।"

এ কারণে বায়োফ্লক পদ্ধতির জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনার দরকার হয়, যা অনেক সময় ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানান ডঃ রহমান।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতির মাছ চাষের অবকাঠামোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে এবং মাছের ট্যাংকের পানি পরিবর্তন করা যাবে না।

মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বলেন, অনেকে বায়োফ্লক পদ্ধতির ক্ষেত্রে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা ঠিক নয়।

"সাধারণভাবে মাছ চাষের ক্ষেত্রে আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি শতাংশে আড়াইশো গ্রাম লবণ দিতে বলি, যা মাছকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এখানেও সেটি হতে পারে। তবে বায়োফ্লকের জন্য লবণাক্ত পানি লাগবে, এটি সঠিক তথ্য নয়"।
বায়োফ্লকে মাছের ট্যাংক যেমন হয়

একেবারে শুরুতে সাধারণত একটি খাচার মতো তৈরি করা হয়, যার নিচের দিকে ঢালাই দিয়ে মাটির সাথে আটকে দেয়া যেতে পারে। এর ঠিক মাঝামাছি জায়গায় পানির পাইপ সেট করা হয়। অনেকে ঢালাই না করে পলিথিন দিয়েও মেঝের জায়গা প্রস্তুত করে।

পরে ওপর থেকে খাচাটি ঢেকে দিতে হবে। আর মেঝেতে পুরু পলিথিন দিয়ে পানি রাখতে হবে।

পানির তাপমাত্রা ২৪-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে, আর পানির রং হবে সবুজ, হালকা সবুজ বা বাদামী। এর দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ, ক্ষারত্ব, খরতা, ক্যালসিয়াম, অ্যামোনিয়া, নাইট্রেইট, ফসফরাস, আয়রন, পানির স্বচ্ছতা, গভীরতা, লবণাক্ততা - এগুলোসহ সবকিছুর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে ব্যবস্থা নিতে হয়।

এরপর পানিতে দরকারি সব উপাদান ঠিক মতো দিয়ে ফ্লক তৈরি করতে হয়, যার জন্য দরকার হয় সার্বক্ষনিক অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা।

ঠিক মতো ফ্লক তৈরি হলে পানির রং হবে সবুজ বা বাদামি, আর পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দেখা যাবে।

বায়োফ্লকের বৈশিষ্ট্য

কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ গত ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি পত্রিকায় লিখেছেন যে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনের অঙ্ক ও বাণিজ্য হচ্ছে অল্প জায়গায় অধিক মাছ।

এর বাইরেও এটি মাছের খাবারের অপচয় কমিয়ে দেয়, নাইট্রোজেন গঠিত বর্জ্যকে মাইক্রোবিয়াল প্রোটিনে রূপান্তর করে এবং পানিতে জৈব বর্জ্য জমা হওয়া প্রতিরোধ করে।

মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ডঃ রহমান জানান, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত পানিতে দুর্গন্ধ থাকে না এবং পানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

"এ পদ্ধতিতে পানির গুনগত মান বজায় থাকে, কারণ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ হয় এক্ষেত্রে"।
ঝুঁকি আছে?

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলের জিহাদ আহমেদ বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আলোচনায় এসেছেন নিজ এলাকা এবং এর বাইরেও। আর তাকে অনুসরণ করে ওই এলাকায় আরও অনেকে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

এসব কারণে ওই এলাকার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান নিজ উদ্যোগেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ মিস্টার আহমেদের বায়োফ্লক পরিদর্শন করেছেন সম্প্রতি।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "উনার যে ফিশট্যাংক দেখলাম তাতে মনে হচ্ছে উনি কাজটা করতে পারছেন। মাছগুলোও তরতাজা আছে। তবে এ এলাকায় অনেকেই চেষ্টা করে পারেননি।"

তিনি আরও বলেন, এখানে প্রতিমূহুর্তে ট্যাংকের ভেতরের পানিতে নানা পরিবর্তন হয় যেগুলো মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। উনার লোকজন আছে বলে সেটি তিনি করতে পারছেন। তবে চাষে সাফল্য কতটা এসেছে, সেটি আমাদের এখনও জানা নেই।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ভালোভাবে নিয়ম মেনে সবকিছু করতে পারলে লাভ। কিন্তু ক্ষতি হলে হবে বড় ক্ষতি"।

তিনি জানান যে ওই এলাকাতেই আরও কয়েকজন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের উদ্যোগ নিলেও তাদের ক্ষেত্রে খুব একটা সাফল্য আসেনি।
কতদিনে বিক্রির উপযোগী হয় মাছ?

মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান জানান, সঠিকভাবে চাষ করতে পারলে তিন মাসের মধ্যে মাছ বিক্রির উপযোগী হতে পারে।

"এখানে মাছ খাবার খায় আর বড় হয় - এটাই এর মুল থিম। অক্সিজেন ভালো থাকার কারণে মাছগুলো আনন্দে থাকে, যেটা পুকুরে সবসময় হয় না। একটা কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে মাছ দ্রুত বড় হয়"।

মাছ চাষি জিহাদ আহমেদ অবশ্য আরও খানিকটা সময় দেন মাছ বড় করতে। তিনি বলেন, বাজারে মাছ বিক্রির উপযোগী হতে চার মাস সময়ই যথেষ্ট।
প্রত্যেক প্রজাতির মাছের জন্য চাই আলাদা ব্যবস্থাপনা

গবেষক ও মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বায়োফ্লকের রসায়ন ঠিকমতো জানা না থাকলে এতে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এতে প্রত্যেক মাছের প্রজাতির জন্য আলাদা ধরণের পরিচর্যা বা ব্যবস্থাপনার দরকার হতে পারে।

মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান জানান যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মাছ চাষের পানিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ের প্রস্তুত করা।

"ট্যাংকের পরিবেশ ও পানির ব্যবস্থাপনা প্রতি মূহুর্তে নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরকার হবে ভালো মানের মাছের পোনা। লবণাক্ততা, অ্যামোনিয়া, অক্সিজেন কিংবা টিডিএস সঠিক মাত্রায় থাকতেই হবে," বলছিলেন তিনি।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার জিহাদ আহমেদের মতো অনেকেই অবশ্য এরই মধ্যে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঝুঁকেছেন, কারণ খুব অল্প জায়গায় বিপুল পরিমান মাছ চাষ সম্ভব হচ্ছে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।

আগ্রহ দেখাচ্ছেন আরও অনেক তরুণ মাছ চাষি।

তবে ডঃ খলিলুর রহমান মনে করছেন যে বায়োফ্লক যেহেতু মাছ চাষের একটি নতুন টেকনিক, তাই এক্ষেত্রে বুঝেশুনে এগুতে হবে।

"আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এক্সপেরিমেন্ট এখনো চলছে। এর ফল হাতে পাওয়ার পর আমরা হিসেব করে দেখবো যে এতে কেমন ব্যয় হয় কিংবা মৎস্য চাষিরা এতে লাভবান হবেন কি-না"।

বায়োফ্লক ধারণা: বিস্তার ঘটছে

জিহাদ আহমেদ নিজেই বিবিসিকে জানান যে এ পর্যন্ত অনেক আগ্রহী ব্যক্তিকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন এবং তারা এখন এ পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ চাষ করছেন।

"এটার এখন ব্যাপক বিস্তৃতি হচ্ছে। আমারই দু`হাজার ছাত্র আছে," বলছিলেন তিনি।

ধারণা করা হচ্ছে, মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প শেষ হলে এবং তাতে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উঠে এলে বাংলাদেশে আগামীতে বায়োফ্লকের আরও বিস্তার ঘটবে।

ডঃ খলিলুর রহমান বলছেন, "আমরা সতর্ক থেকে বায়োফ্লক নিয়ে কাজ করছি, যাতে করে উদ্যোক্তারা পরে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা বলে দিলাম আর লোকজন শুরু করে ক্ষতির শিকার হলো - এমনটি আমরা চাই না"।

তবে সরকারিভাবে কী বলা হবে তার অপেক্ষা না করেই যেমন অনেকে নিজ উদ্যোগে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন, তেমনি এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও সহজলভ্য হয়ে উঠছে বাংলাদেশে। সূত্র : বিবিসি

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

নোয়াখালীতে পতিত জমিতে ব্রি ধান-৫৪ চাষে সফল কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ
                                  

নোয়াখালী প্রতিনিধি: “দেশের এক ইঞ্চি পতিত জমিও খালি থাকবে না” করোনাভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা ও মুজিববর্ষের গাছ লাগানোর আওতায় কর্মসূচির ডাকে সাড়া দিয়ে নোয়াখালীতে পতিত জমিতে ধান, সবজি ও বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ লাগিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী সৌখিন কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ।

একান্ত সাক্ষাতে এর ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্যোগে সফল এবং অত্যন্ত খুঁশি হয়েছেন। তাঁর পিতা মৃত গনু মিয়া ছিলেন একজন কৃষক। শুরু থেকে পিতার পরিবারে গোলাভরা ধান ও পুকুরভরা মাছ ছিল। তিনি নোয়াখালী পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের একজন আওয়ামী পরিবারের গর্বিত কৃষকের ছেলে।

তিনি সুধারাম থানার কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে ১৯৭২ সালে যোগদান করে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে ১৫ ই আগস্ট নির্মন হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে মনের দুঃখ ও ক্ষোভে পদোন্নতি বিসর্জন দিয়ে অবসর যাপন করেন। তিনি একজন গর্বিত পিতার একজন আওয়ামী সমর্থক দাবি করে বলেন, ১৯৭০ সালে সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রফেসর মোঃ হানিফের সফর সঙ্গী হয়ে ভারতে গিয়েছেন সাংগঠনিক কাজে। ১৯৯১ সালে তাঁর তৃতীয় ছেলে মৃত তৈয়ুব হোসেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের জিএস হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ২০১০ সালের ৯ই আগস্ট সাউথ আফ্রিকায় সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার জানাজায় সদর-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুৃরীও উপস্থিত ছিলেন। বড় ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন সোহাগ বর্তমানে শহর আওয়ামীলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করে যাচ্ছেন।

দ্বীন মোহাম্মদ পৌর অঞ্চলে শহরের উপর পতিত জমিতে অসময়ে ব্রী ধান-৫৪ এর ফলন করেন ৬০ ডিসিম জমির উপর। ভালো ফলন দেখে পতিত জমিতে চাষে উদ্বুদ্ধ হন অনেকে। এবং বাড়ির আঙ্গিনাসহ শাক-সবজির চাষ করেন ৪০ শতাংশ জমিতে। মোট ১ (এক একর)  জমিতে বিষমুক্ত ফলন পেয়ে খুশি কৃষক পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে তাঁর বড় ছেলে শহর আওয়ামীলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারী বলেন, আমার শুদ্ধেয় পিতাকে সৃজনশীল ফসল উৎপাদনে সবসময় সহযোগীতা ও উৎসাহ প্রদান করে আসছি। কৃষি অধিদপ্তরসহ সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পেলে ধান উৎপাদনসহ অন্যান্য শবজি চাষের পরিমান আরও বৃদ্ধি করার আশা প্রকাশ করেন।


   Page 1 of 5
     কৃষি
বগুড়ায় মাচায় হলুদ তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া
.............................................................................................
কচুয়ায় কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
.............................................................................................
রক্ষণাগার না থাকায় আলুতে পচন, ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক
.............................................................................................
কচুয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জের হাওরে কৃষকের কান্না
.............................................................................................
কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন
.............................................................................................
তীব্র শীত উপক্ষো করে কচুয়ায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা
.............................................................................................
গঙ্গাচড়ায় আলুর সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষ
.............................................................................................
হলুদ জমিনে দুরন্ত মৌ
.............................................................................................
শিমের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় চাষীরা
.............................................................................................
১ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে না মুলা; কৃষকের মাথায় হাত
.............................................................................................
যেভাবে একই সাথে চাষ করবেন মাছ ও মুরগি
.............................................................................................
আগামী মৌসুমে বোরো আবাদ ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানো হবে : কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
নওগাঁয় করলা চাষে সফল কৃষক জলিল
.............................................................................................
বায়োফ্লক : বাংলাদেশে দ্রুত বাড়াতে পারে মাছ উৎপাদন
.............................................................................................
নোয়াখালীতে পতিত জমিতে ব্রি ধান-৫৪ চাষে সফল কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ
.............................................................................................
সফল মৌ চাষি মনিরুল
.............................................................................................
মীরসরাইয়ে আউশের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
রাজৈরে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বিক্রয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকেরা
.............................................................................................
লটকনের বাম্পার ফলন: নরসিংদীতে চাষীর মুখে আনন্দের হাসি
.............................................................................................
নরসিংদীতে সবজির ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি
.............................................................................................
সমন্বিত সবজি চাষে সচ্ছল কৃষক
.............................................................................................
উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
.............................................................................................
দিনাজপুরে ধান কাটা শুরু
.............................................................................................
অভয়নগরে বোরো বীজ ধানের সংকট
.............................................................................................
লংগদুতে কৃষি প্রনোদনা প্রদান
.............................................................................................
হাওরে ছত্রাকজনিত ব্লাস্টের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক
.............................................................................................
ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ নিয়ে বিপাকে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক
.............................................................................................
ছাতকে টমেটো চাষে সফল ‌‌টমেটো বক্কর
.............................................................................................
পলাশে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি
.............................................................................................
বরিশালের সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প এখন কৃষকের গলার কাঁটা
.............................................................................................
বরিশালে আমড়ার বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পার্বতীপুরে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
.............................................................................................
পার্বতীপুরে আগাম হাইব্রীড এসিআই আমন ধান কাটা শুরু
.............................................................................................
পাট নিয়ে বিপাকে নীলফামারীর চাষিরা
.............................................................................................
পাটের মূল্য ২হাজার ৫শত টাকার দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন
.............................................................................................
পাটের বাম্পার ফলন: পাবনায় ফিরে আসছে পাটের হারানো ঐতিহ্য
.............................................................................................
ছাতকের মানিকপুরে লিচুর বাম্পার ফলন
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় লিচু উৎপাদনে বিপর্যয়; চাষীরা বিপাকে
.............................................................................................
ভুরুঙ্গামারীতে কৃষক ফলন দিবস অনুষ্টিত
.............................................................................................
নিম্নমানের বীজ: ডিমলায় সহস্রাধিক বিঘা জমিতে ভুট্টার গাছ আছে, দানা নেই
.............................................................................................
নোয়াখালীর হাতিয়া ও সূবর্ণচরে অর্ধলক্ষ হেক্টর রোপা আমন নষ্ট
.............................................................................................
ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সোনালী ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ
.............................................................................................
পাবনায় এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
.............................................................................................
ছাতকের লিচুর গ্রাম মানিকপুর: বাম্পার ফলনে খুশি চাষীরা
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে পাউবো’র দূর্নীতিতে তলিয়ে গেছে ২হাজার কোটি টাকার ফসল
.............................................................................................
দেশে আলুর বাম্পার ফলন কোটি টন উৎপাদন সম্ভাবনা
.............................................................................................
ধানের দাম কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা
.............................................................................................
নাটোরে মসুরের বাম্পার ফলন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT