বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জয়পুরহাটে কমলা চাষে দম্পতির সাফল্য

রাকিবুল হাসান রাকিব,জয়পুরহাট : কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নেই।কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে থাকলে যে কোনো কাজে সফলতা পাওয়া যায়। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।কঠোর পরিশ্রম আর কাজের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে সহজেই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। সেটাই দেখিয়ে দিয়েছেন ইমরান হোসেন ও সুমি আক্তার দম্পতি।

তারা এখন সফল ফলচাষি। মাত্র ৩ বছরে পেয়েছেন অভাবনীয় সফলতা।সারি সারি কমলার গাছ।কমলার ভারে গাছের ডাল গুলো নুয়ে পড়েছে। কমলার কালার গুলো ও খুব সুন্দর।তাদের চাষ পদ্ধতি আর সফলতা দেখে এলাকার মানুষদের কাছে হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় আদর্শ। বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ফলচাষিরা। ফলন ভালো দেখে অনেকেই উৎসাহী হয়ে বাগান থেকে কমলার চারা কিনছেন।অনেকে সদ্য গাছ থেকে পারা কমলা কিনতে দূরদুরান্ত থেকে আসছেন।কমলার বাগান দেখতে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ভিকনি গ্রামের ইমরান হোসেন উজ্জ্বল বসবাস করতেন ঢাকার সাভারে। উদ্যোক্তা ইমরান হোসেনের টেলিকমের দোকানের ব্যবসা ছিল। করোনার সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।এরপর কৃষি কাজের দিকে মনোযোগ দেন। নিজের গ্রাম জয়পুরহাটের ভিকনিতে চলে আসেন। নিজের চিন্তা থেকে ২০ কাঠা জমিতে রোপণ করেন কয়েকটি (বারি কমলা-২) জাতের চারা। সেই চারাগুলো থেকে গ্রাফটিং করে আরও চারা বাড়ান। এখন তার বাগানে ১৩০টি কমলার গাছ রয়েছে। কমলাগুলো বারি-২ জাতের। ১৩০টি গাছের মধ্যে ৬০টি গাছে কমলা ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১৫-৪০ কেজি পর্যন্ত কমলা ধরেছে। প্রতি কেজি কমলা পাইকারি ১৩০ টাকা করে দাম বলছেন ব্যবসায়ীরা।

উদ্যোক্তা ইমরান বলেন, করোনাকালীন সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।প্রথমে কৃষি কাজ ধান-আলু চাষে মনোযোগ দেই। এতে তেমন সফল না হতে পেরে ফিরে এলাম আধুনিক কৃষিতে। ইউটিউব দেখে এবং টেলিভিশনে কিছু কৃষি ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০ কাঠা জমিতে (বারি কমলা-২) জাতের কমলার চারা রোপন করি। এই গাছ গুলোর আয়ুষ্কাল ৫০-৬০বছর। ২০২০ সালে প্রথম আমি কমলার চারা রোপণ করি এখন পর্যন্ত এই জমিতে ১৩০ টি গাছের পিছনে আমার প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যায় হয়েছে।বর্তমানে আমার ১৩০টা গাছে কমলা ধরেছে। আমি আশা করছি এখান থেকে কমপক্ষে ৩০ মন কমলা বিক্রি হবে।

তিনি বলেন, আমি ১৫০ টাকা কেজি দরে এই সুস্বাদু মিষ্টি কমলা বিক্রি করছি এবং গাছের কলমের চারা বিক্রি করেছি দেড় লক্ষ টাকার মত।বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় প্রতিদিন অনেক লোক আসছে আমার এই কমলা বাগান দেখতে। আমি আশা করছি এ বছরই আমার সমস্ত খরচ মিটিয়ে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা আয় হবে।যারা বেকার যুবক আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই চাকুরী নামক সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে তারা এই কমলার বাগান করে বেকারত্ব দূর করতে পারেন।

ইমরানের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমি এবং আমার স্বামী এই কমলার বাগানের যত্ন করে থাকি । আমরা গাছে ফল না আশা পর্যন্ত একটু হতাশ ছিলাম। কারণ আশেপাশের লোকজন অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। অনেকেই বলেছেন ফল হবে না, ফল যদিও হয় তাহলে টক হবে। মানুষ খেতে পারবে না। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি, আমি এবং আমার স্বামী প্রতিনিয়ত বাগানের পরিচর্যা করেছি আল্লাহর রহমতে তার কারণে ভালো ফল পেয়েছি। কমলা অনেক ভালো এবং সুমিষ্ট। আমি সংসারে কাজের পাশাপাশি বাগান পরিচর্যা করি।

কমলার চারা কিনতে আসা জয়পুরহাটের তেঘর বিশা গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, আমি কমলা বাগানের বিষয়টি ফেসবুকে দেখে জেনে এখানে এসেছি। বাগানটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। বাগানে কমলার ফলন দেখার মতো হয়েছে। আসলে বাংলাদেশের আবহাওয়াতে আমাদের অঞ্চলে এমন কমলা হবে তার ধারণা ছিল না।

আক্কেলপুর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: ইমরান হোসেন জানান, বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে খ্যাত আক্কেলপুরের গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনি গ্রামের আত্মপ্রত্যয়ী যুবক ইমরানের কমলা চাষ একটি বিপ্লব। কমলা সাইট্রাস জাতীয় ফল, এটি পাহাড়ে হয়। কিন্তু এটি এখন সমতলেও হচ্ছে। অনেক বেকার যুবক চাইলে কমলা চাষ করতে পারেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফলবাগান সৃজন কর্মসূচির আওতায় কমলার চারা প্রদান, সার, কীটনাশক ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে ।

জয়পুরহাটে কমলা চাষে দম্পতির সাফল্য
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব,জয়পুরহাট : কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নেই।কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে থাকলে যে কোনো কাজে সফলতা পাওয়া যায়। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।কঠোর পরিশ্রম আর কাজের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে সহজেই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। সেটাই দেখিয়ে দিয়েছেন ইমরান হোসেন ও সুমি আক্তার দম্পতি।

তারা এখন সফল ফলচাষি। মাত্র ৩ বছরে পেয়েছেন অভাবনীয় সফলতা।সারি সারি কমলার গাছ।কমলার ভারে গাছের ডাল গুলো নুয়ে পড়েছে। কমলার কালার গুলো ও খুব সুন্দর।তাদের চাষ পদ্ধতি আর সফলতা দেখে এলাকার মানুষদের কাছে হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় আদর্শ। বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ফলচাষিরা। ফলন ভালো দেখে অনেকেই উৎসাহী হয়ে বাগান থেকে কমলার চারা কিনছেন।অনেকে সদ্য গাছ থেকে পারা কমলা কিনতে দূরদুরান্ত থেকে আসছেন।কমলার বাগান দেখতে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ভিকনি গ্রামের ইমরান হোসেন উজ্জ্বল বসবাস করতেন ঢাকার সাভারে। উদ্যোক্তা ইমরান হোসেনের টেলিকমের দোকানের ব্যবসা ছিল। করোনার সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।এরপর কৃষি কাজের দিকে মনোযোগ দেন। নিজের গ্রাম জয়পুরহাটের ভিকনিতে চলে আসেন। নিজের চিন্তা থেকে ২০ কাঠা জমিতে রোপণ করেন কয়েকটি (বারি কমলা-২) জাতের চারা। সেই চারাগুলো থেকে গ্রাফটিং করে আরও চারা বাড়ান। এখন তার বাগানে ১৩০টি কমলার গাছ রয়েছে। কমলাগুলো বারি-২ জাতের। ১৩০টি গাছের মধ্যে ৬০টি গাছে কমলা ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১৫-৪০ কেজি পর্যন্ত কমলা ধরেছে। প্রতি কেজি কমলা পাইকারি ১৩০ টাকা করে দাম বলছেন ব্যবসায়ীরা।

উদ্যোক্তা ইমরান বলেন, করোনাকালীন সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।প্রথমে কৃষি কাজ ধান-আলু চাষে মনোযোগ দেই। এতে তেমন সফল না হতে পেরে ফিরে এলাম আধুনিক কৃষিতে। ইউটিউব দেখে এবং টেলিভিশনে কিছু কৃষি ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০ কাঠা জমিতে (বারি কমলা-২) জাতের কমলার চারা রোপন করি। এই গাছ গুলোর আয়ুষ্কাল ৫০-৬০বছর। ২০২০ সালে প্রথম আমি কমলার চারা রোপণ করি এখন পর্যন্ত এই জমিতে ১৩০ টি গাছের পিছনে আমার প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যায় হয়েছে।বর্তমানে আমার ১৩০টা গাছে কমলা ধরেছে। আমি আশা করছি এখান থেকে কমপক্ষে ৩০ মন কমলা বিক্রি হবে।

তিনি বলেন, আমি ১৫০ টাকা কেজি দরে এই সুস্বাদু মিষ্টি কমলা বিক্রি করছি এবং গাছের কলমের চারা বিক্রি করেছি দেড় লক্ষ টাকার মত।বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় প্রতিদিন অনেক লোক আসছে আমার এই কমলা বাগান দেখতে। আমি আশা করছি এ বছরই আমার সমস্ত খরচ মিটিয়ে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা আয় হবে।যারা বেকার যুবক আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই চাকুরী নামক সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে তারা এই কমলার বাগান করে বেকারত্ব দূর করতে পারেন।

ইমরানের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমি এবং আমার স্বামী এই কমলার বাগানের যত্ন করে থাকি । আমরা গাছে ফল না আশা পর্যন্ত একটু হতাশ ছিলাম। কারণ আশেপাশের লোকজন অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। অনেকেই বলেছেন ফল হবে না, ফল যদিও হয় তাহলে টক হবে। মানুষ খেতে পারবে না। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি, আমি এবং আমার স্বামী প্রতিনিয়ত বাগানের পরিচর্যা করেছি আল্লাহর রহমতে তার কারণে ভালো ফল পেয়েছি। কমলা অনেক ভালো এবং সুমিষ্ট। আমি সংসারে কাজের পাশাপাশি বাগান পরিচর্যা করি।

কমলার চারা কিনতে আসা জয়পুরহাটের তেঘর বিশা গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, আমি কমলা বাগানের বিষয়টি ফেসবুকে দেখে জেনে এখানে এসেছি। বাগানটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। বাগানে কমলার ফলন দেখার মতো হয়েছে। আসলে বাংলাদেশের আবহাওয়াতে আমাদের অঞ্চলে এমন কমলা হবে তার ধারণা ছিল না।

আক্কেলপুর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: ইমরান হোসেন জানান, বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে খ্যাত আক্কেলপুরের গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনি গ্রামের আত্মপ্রত্যয়ী যুবক ইমরানের কমলা চাষ একটি বিপ্লব। কমলা সাইট্রাস জাতীয় ফল, এটি পাহাড়ে হয়। কিন্তু এটি এখন সমতলেও হচ্ছে। অনেক বেকার যুবক চাইলে কমলা চাষ করতে পারেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফলবাগান সৃজন কর্মসূচির আওতায় কমলার চারা প্রদান, সার, কীটনাশক ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে ।

কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আনন্দের ঝলকানি
                                  

মাসুদ রানা বিরামপুর: চলতি শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের গাছ থেকে কাঁচা মরিচ তুলতে এবং তা বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী শ্রমিকরা।  

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ১০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এই মরিচ বাজারে  ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করছেন।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর বালুপাড়া গ্রামে গিয়ে গোলাম মোস্তফার সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্ষেতের প্রতিটি গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। ছোট ছোট গাছের সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে সবুজ-লাল কাঁচা মরিচ। বাজার জাত করার মতো হয়েছে প্রতিটি গাছের মরিচ। এক মণ মরিচ তুলতে পারলে শ্রমিকরা পান ১২০ টাকা। তাই গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন নারী একত্রে হয়ে ক্ষেতের মরিচ তোলার কাজ করছেন।

এদিকে এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে কৃষকের খরচ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। লাগানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে গাছে মরচি ধরতে শুরু করে। এর ১৫ দিন পরপর ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে হয় কৃষককে। এক বিঘা জমিতে প্রতিবার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মণ মরিচ পেয়ে থাকেন চাষীরা।

আলুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে আশঙ্কায় কৃষকরা
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব , জয়পুরহাট:

আলু উৎপাদনে দেশের বৃহতম জেলা জয়পুরহাট। জয়পুরহাটে বেড়েছে আলু উৎপাদন খরচ, আলু ফলন ও দাম নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে জেলার কৃষকরা। আলু বীজ ও সার সংকট থাকায় বেশি দাম কিনতে হচ্ছে আলুচাষীদের সার ও বীজ। এ জন্য এবার আলুর বীজ এবং সারের দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষও গত বারের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এ জেলার উৎপাদিত আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে, বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে আগাম জাতির আলু লাগানো শেষ হয়েছে। এখন চলছে অন্যান্য জাতের আলু লাগানোর ভরা মৌসুম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় আলু চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৩শ’৬৫ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত ল্যমাত্রার শতকরা ৬৩ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে আলু রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে বাকি আলু রোপণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মজিবুর রহমান জানান, জাতীয় ভাবে কিছুটা ল্যমাত্রা কমানো হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে এবারে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর কম। গত বছর এ ল্যমাত্রা ছিল ৪১ হাজার হেক্টর জমি। আর এবার ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৩শ’ ৬৫ হেক্টর জমি। এছাড়াও কৃষকদের আমরা আলুর পাশাপাশি সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষক পর্যায়ে সরিষা চাষের জন্য সরকার প্রনোদনাও দিয়েছে। এজন্য আলু চাষের ল্যমাত্রা গত বারের তুলনায় কম ধরা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠে মাঠে চাষিরা এখন আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ চাষ দেওয়ার আগে, জমিতে জৈব এবং রাসায়নিক সার ছিটিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ মেসি বা পাওয়ার টিলার দিয়ে আলু রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কেউবা রোপণ করছেন আলু। আবার কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন।

জয়পুরহাট সদরের কড়ই উত্তর পাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল বলে, ‘এবার  আমি মাত্র এক বিঘা জমিতে গ্যানোলা জাতের আলু চাষ করেছি। প্রতি বস্তা আলুর বীজ কিনেছি ১ হাজার ৬শ’ টাকায়। সারও কিনেছি চড়া দামে। গত বছরের চেয়ে এবার বিঘা প্রতি ৫-৬ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। আলু তোলার মৌসুমে, দাম ধানের মতন একটু বেশি পাওয়া গেলে সংসারের ঋণ-দেনাগুলো শোধ করা সহজ হবে।

একই গ্রামের মনোয়ার বলে, আমি এবার ৬ বিঘা জমিতে গ্রানোলা, অ্যাস্টেরিক, ক্যারেজ জাতের আলু লাগাইছি। বাড়ির বীজ। তাই খরচ একটু কম হচ্চে। আমার প্রতি বিঘায় খরচ পরবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। বীজ কিনা লাগলে প্রতি বিঘায় খরচ হতো প্রায় ২৪-২৫ হাজার টাকা’।

সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ভোলা বলেন, এবার আলু চাষে খরচ হচ্ছে বেশি। কারণ ব্যবসায়ীরা চালাকি করে চড়া দামে সার ও বীজ বিক্রি করতেছে। সেচের জন্য জ্বালানী তেলের দামও বেশি। তাই এবার সবমিলিয়ে খরচ বেশিই হচ্ছে। শেষমেশ লাভ হবে না লোকসান হবে বোঝা যাচ্ছে না। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে লাভের আশায় আলু লাগাচ্ছি।

সফল সবজি চাষি বিরামপুরের ইব্রাহিম
                                  

মাসুদ রানা, বিরামপুর:

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর দয়ের পাড় এলাকায় বসবাসরত হেরে না যাওয়া একজন সফল কৃষকের গল্প। সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের দয়ের পাড় গ্রামের বসবাসরত মন্টু মিঞার ছেলে কৃষক মো. ইব্রাহিম মজনু (৪৪) বহুদিন যাবৎ বেকার জীবন যাপন করে হতাশায় ভুগছিলেন।

এরপর সবজি চাষের মাধ্যমেই শুরু হয় ইব্রাহিম মজনুর সফলতার গল্প। বর্তমানে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। সবজি চাষ করেই সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। এলাকায় সৃষ্টি করেছেন সফলতার উদাহরণ।

ইব্রাহিম বলেন, আমি বহুদিন যাবৎ পরিবার পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছিলাম। তখন বিভিন্ন এনজিও হতে লোন নিয়ে এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। এখন আমার প্রতি মাসে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ থাকে। আমি বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছি। আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন আমি ভাল আছি। বর্তমানে আমার জমিতে কাজ করে অনেকের সংসার চলে। ইব্রাহিম বলেন কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া নিজের চেষ্টায় আমি এখানে এসেছি।

তিনি আরোও বলেন, আমি শীত মৌসুম উপেক্ষা করে চার বিঘাতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, পালংশাক, মুলা, শিম, টমেটো, লাউ চাষ করেছি আমার বিশ্বাস শীত এই মৌসুমে আমি ৩/৪ লাখ টাকা উপার্জন করবো।

সফল চাষি ইব্রাহিম বলেন, সবজি চাষের লাভ থেকে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালান। বর্তমানে পাঁচ জনের সংসারের ভরণপোষণ এবং ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ আসে সবজি চাষের লাভের টাকা থেকেই।সবজি চাষ করেই তিনি পরিবার নিয়ে ভালোই আছেন। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় বাজারে তার সবজির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিক্রিতেও ভালো দাম পাওয়া যায়। কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে লাভবান হতে পারেন।

 বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিক্সন চন্দ্র পাল  বলেন, চাষি ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ তিনি সফলতার সঙ্গে সবজি চাষ করে যাচ্ছেন, তিনি আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে সব সময় পাশে পাবেন।

বিশ্বনাথে পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন কৃষক
                                  

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ফসল রক্ষায় প্রাকৃতিক উপায়ে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। ব্যয়বিহীন ও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতির ব্যবহারে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে জমির ফসল রক্ষা হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। পার্চিংয়ের ব্যবহারে প্রাকৃতিক ভারসাম্য  রক্ষায় পাশাপাশি কৃষকদের সাশ্রয় হচ্ছে টাকাও।

উপজেলার দঘশর ইউনিয়নের সমের্মদান গ্রামের কৃষক লুৎফুর রহমান এ বছর ৪৭ বিঘা জমিতে রোপন করেছেন আমন ধান।

এর মধ্যে তিনি ৪৫ বিঘা জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বিঘা প্রতি জমিতে ৪টি করে ১৮০টি বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে রাখেন। সেখানে প্রতিনিয়ত পাখিরা বসে, ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। তাই এ বছর আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি তার।

৪৫ বিঘায় এতে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। আর ২ বিঘা পরখ করতে রেখেছিলেন পার্চিং ছাড়া। ওই বিঘায় আক্রমণ করেছে মাজরা পোঁকা।

তিনি জানান, পোকামাকড়ের হাত থেকে ধানের গাছ রক্ষা করতে চারা রোপণের মাসখানের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যবধানে তিনি গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি ও খুঁটি পুঁতে রাখেন।

ওগুলোতে বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায় ফিঙ্গে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল পাখিরা। অন্যবার যেখানে তাকে তিন-চার দফা কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো, এ বছর মাত্র একবার তিনি কীটনাশক ব্যবহার করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও উপকরণ সহযোগিতায় নতুন জাতের ধান ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৯৫সহ ধান লাইনে রোপণ ও পার্চিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ বছর কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে পার্চিং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, পার্চিং হলো পোকা দমনে একটি জৈবিক পদ্ধতি। পার্চিয়ের পোতানো ডাল বা বাঁশের কঞ্চিতে পাখি বসে ধানের ক্ষতিকর পোকা, যেমন মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, শীশ কাটা লেদা পোকার মা পোকা তথা মথকে খেয়ে তাদের দমন করে। ফলে সঠিক সময়ের পার্চিং করা হলে এ পোকাগুলো ধানের ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না।

জয়পুরহাটে সবজির চারায় কৃষকের ভাগ্য বদল
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট জেলার সর্বত্র শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি হিসেবে এখন চারা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি করে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। কৃষকরা তাদের জমিতে শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করেছেন।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখানকার কৃষকরা তাদের প্রয়োজনে চারা উৎপাদন করেন আবার অনেকেই কিনে জমিতে লাগান। বর্তমানে জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির এ চারা বিক্রি করে অনেকে লাখপতিও হয়েছেন। চলতি মৌসুমের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি চলবে নভেম্বর মাস শেষ পর্যন্ত। এ চার মাস সময়কালে পলিথিনে মোড়ানো শেড তৈরি করে চার-পাঁচবার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন কৃষকরা।

চারা প্রস্তুতকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের জুলাই মাস থেকে শীতকালীন সবজি বীজতলা প্রস্তুত করে এতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, চিচিঙ্গা, মরিচ ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়।ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে জমি থেকে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা এক টাকা থেকে দুই টাকা এবং বাঁধাকপির চারা প্রকারভেদে এক টাকা থেকে দুই টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরহাট ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা এখানে সবজি চারা ক্রয় করতে আসেন।

চারা ক্রয় করতে আসা আক্কেলপুর উপজেলার কৃষক আনোয়ার বলেন, আমি আমার জমিতে বাঁধাকপি লাগাবো, তাই চারা কিনতে এসেছি।গত বছর এখান থেকে চারা কিনে বেশি ফলন পেয়েছি। পাঁচবিবি উপজেলার উচাই এলাকার কয়েকজন ক্রেতা জানান, এখান থেকে চারা নিয়ে রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। সে জন্য তারা এখানে চারা নিতে আসেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার পূরানাপূল ইউনিয়নের হিলি রোড এলাকায় মাঠজুড়ে পলিথিনে মোড়ানো বীজতলা। এ সকল বীজতলায় বিভিন্ন জেলা থেকে চাষিরা আসছেন চারা কেনার জন্য। বীজতলার মালিকরা তাদের জমি থেকে চারা তুলছেন বিক্রয়ের জন্য। কেউ কেউ বীজতলার উপরের পলিথিন খুলে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। আবার কেউ আগাছা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সদর উপজেলার পূরানাপূল এলাকার বীজতলার মালিক কৃষক মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, ‘আমি বিগত ২২ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি। এ চারা বিক্রি করে আমি অনেক লাভবান হয়েছি। দুই বিঘা জমিতে অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে থাকি এবং এগুলো বিক্রি করে প্রতি বছর সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার যতটুকু আবাদি জমি আছে সেখানে চারা কিনে নিয়ে এসে আবাদ করা লাগতো।তারপর সময় মত চারা পাওয়া যেতো না।তাই সময়ের ফসল অসময়ে লাগানোর জন্য ফলনও কম পাওয়া যেতো।তাই নিজেই অল্প জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা লাগানো শুরু করি। তার থেকে লাভবান হওয়ার কারনে এখন ব্যাবসা হিসাবে চারা উৎপাদন করি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় উপজেলা ও জেলা কৃষি অফিস বিভিন্নভাবে কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।জয়পুরহাটে বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক ব্যবসা বলে কৃষকরা এদিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও চারার গুণগত মান বজায় রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন এবং নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনে পরামর্শ দিচ্ছেন।

শীতকালীন আগাম সবজি চাষে উৎপাদন খচর বেশি; আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক
                                  

আকরামুজ্জামান আরিফ:

অধিক লাভের আশায় জাত ভেদে ফসলের মৌসুমকে অগ্রাহ্য করে সময়ের ফসল অসময়ে চাষে একদিকে যেমন খচর বাড়ছে লাফিয়ে অন্যদিকে ফলন কমছে মারাত্মকভাবে এতে করে লোকসানের মুখে পড়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তাও দিন দিন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ক্রমাগত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সময়ের ফসল অসময়ে চাষে কৃষকের পাশাপাশি কৃষিতে সরকারের ভর্তুকিরও সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় ক্ষুদ্র আয়তনের দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে। একটা সময় কৃষকেরা মৌসুমকে গুরুত্ব দিয়েই ফসলের চাষাবাদ করে আসতেন এতে ফসল চাষে ঝুঁকি ও খরচ অনেকাংশে কম হতো সাথে ফলনও পেতেন আশানুরুপ।

সূত্রে জানা যায়, কৃষিতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার যুক্ত হওয়ায় কৃষকেরা সময়ের ফসল অসময়ে চাষ করে একটা সময় বেশ লাভবান হওয়ায় ফসলের মৌসুমকে গুরুত্ব না দিয়েই আগাম চাষে ঝুঁকে পড়েন। সময়ের আগেই বাজারে আসা ঐসকল সবজির চাহিদাও ভোক্তাদের কাছে বেশ কদর পেতে শুরু করেন।

মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বছর পাঁচেক আগেও শীতকালিন ফুলকপি বাঁধাকপির ফলন বেশ ভালো হতো সাথে খরচও কম হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে শীতকালিন এসব সবজি গ্রীষ্মকালে আগাম চাষে খরচ বাড়ছে সাথে ফলন কমছে আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেড়ে চলেছে।

এক সবজি চাষী বলেন, আমি অনেক বছর ধরেই শীতকালিন সবজি বাঁধাকপি আগাম গ্রীষ্মকালে চাষ করে আসছি, এতে বেশ লাভবানও হয়েছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশিই গরম পড়ছে সাথে সূর্যের তাপও খুব বেশি হওয়ায় এবছর আমার ফসলের ফলন তেমন একটা ভালো হয়নি। আমি এবছর এক বিঘা জমিতে ৬ হাজার বাঁধাকপির চারা রোপণ করেছিলাম। বাঁধাকপির গড় ফলন হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম। প্রচন্ড গমর সাথে বৃষ্টি হওয়ায় জমির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কপি পঁচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। যদি পঁচে নষ্ট না হতো তাহলে আমি প্রায় ৪২০০ কেজি কপি পেতাম। কিন্ত পঁচে নষ্ট হওয়ায় সেখানে ২ হাজার কেজির মত কপি সংগ্রহ করতে পেরেছি এতে করে কোনমতে আমার খরচটা ফিরে পেয়েছি। এক বিঘা আগাম এই বাঁধাকপির চাষ করতে আমার প্রায় ৩৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে।

অপর এক কৃষকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বছর আমি তিন বিঘা জমিতে আগাম বাঁধাকপির চাষ করেছিলাম। এতে আমার প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছিলো। প্রচন্ড গরম আর বৃষ্টিতে আমার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কপি পঁচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো যা ছিলো তারও ওজন তেমন একটা না হওয়ায় লাভ তো দুরের কথা আমার লোকসান হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামিতে আমি আর আগাম কপির চাষ করবো না। কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগাম চাষে খরচ অনেক বেশি আর প্রাকৃতিক দূর্যোগেরও ঝুঁকি বাড়ছে। শীতকালে যদি বাঁধাকপির চাষ করা হয় তাহলে বিঘা প্রতি খুব বেশি হলেও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার মত খরচ হয় সাথে এক একটি বাঁধাকপির ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২ হাজার ৫ শ গ্রামের মত। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি না থাকায় গাছ পঁচে মরে যাওয়ার কোন ভয় থাকে না। চাষের হিসেবের সূত্র ধরে এক বিঘা জমিতে ৬ হাজার চারায় গ্রীষ্মকালে যেখানে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ হাজার কেজি বাঁধাকপির ফলন পাওয়া যায় সেখানে মৌসুমকে গুরুত্ব দিয়ে যদি শীতকালে বাঁধাকপির চাষ করা হয় তাহলে মাত্র ১৪ হাজার টাকা খরচে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ছাড়াই নিরাপদে প্রায় ১৫ হাজার কেজি বাঁধাকপির ফলন পাওয়া সম্ভব। গরমের সময় বাঁধাকপিতে পোকার ও পঁচন রোগে তীব্র আক্রান্ত হয় আবার সার সেচও লাগে বেশি কিন্তু শীতকালে বাঁধাকপিতে তেমন একটা রোগবালাই হয় না বললেই চলে, তাই খরচ খুবই কম হয় সাথে ফলনও পাওয়া যায় অনেক বেশি।

অন্য এক কৃষকের সথে কথা হলে তিনি জানান, আামর গত কয়েক বছর ধরে আগাম কপি চাষে লোকসান হওয়ায় এবছর থেকে আগাম কপির চাষ ছেড়ে দিয়েছি। এলাকার সচেতন মহলের দাবী কৃষিতে যদি সরকারের নজরদারী না বাড়ে তাহলে সময়ের ফসল অসময়ে চাষে কৃষকেরা পড়বে আর্থিক ক্ষতির মুখে আর দেশ পড়তে পারে খাদ্য সংকটে। অন্যদিকে কৃষিতে ভর্তুকির হার বাড়বে লাগামহীন। তারা আশার করেন কৃষিতে সরকারের ভর্তুকির যেন সঠিক ব্যবহার হয়।

আমনের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফুলবাড়ীর কৃষক
                                  

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। সে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কৃষকের উঠান ভরে থাকছে আমনের ঘ্রাণে। মাড়াইয়ে সমানতালে কাজ করছেন নারী ও পুরুষ।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এ বছর ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগাম আমন ধান কাটা হয়েছে ৬৮৫ হেক্টর জমির। প্রতি হেক্টরে চাল আকারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হাইব্রিড জাতের ৩ দশমিক ৭৫ এবং উফসি জাতের ২ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। কতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। মোট চাষের আমন ধান থেকে এবার প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ তথ্য কৃষি অফিসের।

অন্যদিকে কৃষকদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ধান। কৃষকরা বলেছেন, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। বর্তমানে ৪০ কেজির প্রতিমণ ধান আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকায়। চাষ, সেচ, সার, কীটনাশক সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমনের প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের আদর্শ কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, ২০ বিঘা জমিতে তিনি আমনের চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় আমন উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে ধান পারেন ১৮ থেকে ২০ মণ। এতে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা।

উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের চকমামুদপুর গ্রামের কৃষক চন্দন রায় বলেন, আবাদের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন উৎপাদনে সেচের কোনো বিকল্প ছিল না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে সেচ খরচ বেড়েছে। ধানে কিছু পোকাও আক্রমণ করেছিল। তাই কীটনাশকেও বাড়তি টাকা লেগেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। আগাম জাতের ধানের দাম আরেকটু বাড়তি হলে ভালো হতো।

কৃষিশ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, এক বিঘা জমির ধান কেটে কৃষকের উঠানে এনে দিতে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মজুরি নিচ্ছেন। তবে এটি শ্রমিকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। যে এলাকায় শ্রমিক যত বেশি, সে এলাকায় মজুরি তত কম।

ফুলবাড়ী পৌরশহরের ধান ব্যবসায়ি রতন চক্রবর্তী বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর কৃষক ধানের দাম বেশি পাচ্ছেন। ব্যবসায়িরা আমনের মোটা ধান প্রতিমণ কিনছেন ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। আর চিকন ধানের দাম সাড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, এবার আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। মোট চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন ও দাম দুটোই ভালো হয়েছে।

হবিগঞ্জে ৭৬৪ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদনের আশা
                                  

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের হাওরে এবার রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৯ উপজেলার মধ্য ৪উপজেলায় হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। সিলেট বিভাগের এ জেলা এবার ৭৬৪ কোটি টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিগত বছরের চেয়ে এবার ধানের মূল্য বেশি পাবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার হবিগঞ্জ জেলায় ৮০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধান আবাদ হয়েছে ৮৮ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যেই জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার হাওরে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আশেক পারভেজ জানিয়েছেন, রোপা আমন মৌসুমে ৪টি উপজেলার হাওরে চাষ করা আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। যে জমিগুলোয় ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৭৫ ও বিনা-৭ রকমের ধান চাষ করা হয়েছিল, সেগুলো এখন কাটা হচ্ছে। এগুলো শেষ হওয়ার আগেই শুরু হবে হাইব্রিড ধান তোলা। পুরোপুরিভাবে ধান তোলার মহাযজ্ঞ শুরু হবে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।

তিনি বলেন, এবার প্রতি হেক্টর জমি থেকে সোয়া ৩ মেট্রিক টন হিসেবে জেলায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১২ টন ধান তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। মনের হিসাবে মোট ধান উৎপাদন হবে ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ৩১৭ মন।

আশেক পারভেজ জানান, গত বছর সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা মণ দরে ধান কিনছে। এবার যেহেতু খরচ কিছুটা বেড়েছে তাই ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে ধান কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ৭৬৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হবে।

রৌমারীতে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
                                  

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। খুশিতে মন ভরে গেছে কৃষকদের। কৃষির উপর নিরর্ভশীল কৃষকরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে মাঠের বুক ছিড়ে ফলিয়েছে সোনালী রংয়ের আমনের ফসল।

আর কয়েকদিন পরেই ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে এমনটাই আশার আলো বুকে নিয়ে বুক বেধে বসে দিন গুনছে কৃষকরা। ইরি ধান আবাদে খরচের চেয়ে আমন আবাদে কৃষকদের খরচ অনেক কম হয়। ফলে লাভজনক ফসল এটি। ৬২ শতাংশের জমিতে আমন ধান হয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মন।
 
কুড়িগ্রাম জেলার  রৌমারী উপজেলার ফসলি জমির মাটি বেশ উর্বর। প্রতিবছরই বন্যার সময় ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের ঘোলা পানি জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মাটির উর্বরতা বেড়ে যায়। যার ফলে এ অঞ্চলের জমিতে বাম্পার ফলন উৎপাদন সম্ভব হয়।
 
নওদাপাড়া গ্রামের কৃষক সৈয়দ জামাল জানান, এবার প্রায় ৩ একর জমি আমনের চাষ করেছি। ঘনঘন বৃষ্টি হওয়ায় খরচ অনেকটা কম হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা পড়বে। ভালো ফলন হওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি।
 
খনজনম্রাা গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। এত সুন্দর ধান হয়েছে যা ইতিপূর্বে ককনো হয়নি।
 
এবিষয়  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধরী জনান, চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষমাত্রা ছিলো ৮ হাজার ৫’শ হেক্টর সেখানে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে আমন চাষ হয়েছে প্রায়ই ১০ হাজার হেক্টরের মতো। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই কৃষকরা ধান কাটা মাড়াই শুরু করবেন বলে আশা করছি।

রৌমারীর জমিতে সেচ পাম্প স্থাপনে সুবিধা পাবে ১২০ পরিবার
                                  

রৌমারী প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন পূরণে গ্রামকে শহরে পরিণত করার অংশ বিশেষ লোকাল গর্ভনমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেইঞ্জ (লজিক) প্রকল্পের সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ পাম্প ও পানি শোধানাগার এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার ১১টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের কেহুলার চর ও সুতিরপাড় গ্রামে পৃথক ২টি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ সুবিধার ও এমআর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারিদের জন্য পানিশোধানাগার এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সদস্য সোনা মিয়া, হোসনে আরা, ইউনুস, কনিকা, সচিব সিরাজুল ইসলাম, লজিক প্রকল্পের উপজেলা ফ্যাসিলেটিটর নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন কমিউনিটি মোবিলাইজেশন ফ্যাসিলেটিটর (সিএমএফ)  আবু হানিফ, আনোয়ারুল ইসলাম ও আকতারুন্নাহার প্রমুখ।

জানা যায় ২১-২২ অর্থ বছরের লজিক এর দুটি প্রকল্পের ২৮ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা ব্যয় খরা থেকে কৃষি জমি রক্ষা করতে দরিদ্র কৃষকের জন্য উপজেলার বেহুলার চর, সুতিরপাড় ও এমআর উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক ৩টি সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করা হয়।
 
প্রকল্প দুটির ওই এলাকায় ১২০ জন কৃষি পরিবারের প্রায় ১০০ একর জমিতে পানি সেচ দেওয়া হবে। এতে পরিবারগুলো জ্বালানী খরচ থেকে অনেক রেহাই পাবেন।
 
বেহুলার চর গ্রামের জমিদাতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় লজিক প্রকল্পের সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ পাম্প দিয়েছে তাতে আমরা এলাকাবাসির অনেক উপকারে আসবে।

জগন্নাথপুরে আমন ধান কাটা শুরু, বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
                                  

কলি বেগম, জগন্নাথপুর:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। জমিতে বাম্পার ফলন দেখে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অল্প সংখ্যক জমিতে ধান কাটা শুরু হয়। আগামী নভেম্বরে পুরোদমে ধান কাটার ধুম পড়বে।

বুধবার উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের হাপাতিয়া হাওরে কৃষকরা মনের আনন্দে ধান কাটতে দেখা যায়। এ সময় ধান কাটতে আসা কৃষক ও শ্রমিকরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, এবার নিয়মিত বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই জমিতে বেশি ফলন পেয়ে তারা বেজায় খুশি হন।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান মজুমদার জানান, এবার জগন্নাথপুর উপজেলায় রোপা আমন আবাদে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি। তবে আমাদের পরামর্শ ও সরকারি বিভিন্ন উপ-করণ সহায়তা পেয়ে কৃষক ভাইয়েরা এবার জমি আবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি। এবার প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৮ হাজার মেট্রিকটন ধান। আশা করছি, এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অধিক ফসল কৃষকদের গোলায় উঠবে। এর মধ্যে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অল্পঅল্প জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে আগামী নভেম্বরে।

সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকের সাফল্য
                                  

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন সাতক্ষীরার কৃষক। এই টমেটো চাষে কৃষকরা অসামান্য সফলতা পেয়েছেন। হেক্টর প্রতি ৩৫ টন পর্যন্ত এ টমেটো উৎপাদন করেছেন তারা। এ জেলার উৎপাদিত টমেটো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক খুশি। উৎপাদন খরচ বাদে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান চাষীরা। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ বাড়ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল বারি টমেটো চাষের জন্য সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরা জেলা। বর্তমানে হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত হচ্ছে।

কলারোয়া উপজেলার কামারালি গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন গাজী জানান, তিনি লিজ নিয়ে আট বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমের জন্য গ্রীষ্মকালীন বারি-১১ জাতের টমেটো চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে আট বিঘায় তার উৎপাদন খরচ ১২ লাখ টাকা। এবার গাছে যে পরিমাণ টমেটো ধরেছে তা ২০-২২ লাখ টাকা বিক্রি হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ পরিমাণ টমেটো বিক্রি হয়েছে, যা ১০ লাখ টাকার বেশি।

তিনি জানান, এসব টমেটো হাটে বা বাজারে উঠানো লাগে না তার। উত্তরবঙ্গের নীলফামারী, গাইবান্ধা ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন পাইকাররা তার খেত থেকেই এসব টমেটো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে দাম ভালো পাওয়া যচ্ছে। গত মৌসুমে যে টমেটোর দাম পাওয়া গিয়েছে কেজিপ্রতি ৫০-৫৫ টাকা তার বর্তমান দাম পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা। দামের যদি হেরফের না হয় তাহলে আশা করা হচ্ছে চলতি মৌসুমে ১০-১২ লাখ টাকা লাভ হতে পারে।

কৃষক আলিম সরদার জানান, অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ। যে কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ঝুঁকি নিতে চান না। তারপরও এই গ্রামের অনেক কৃষক এ টমেটো চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে ফসলটি চাষ করে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেন। এতে তার ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে খরচ একটু বেশি হবে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত ঠিকমতো না হওয়ায় সেচ ও সার কীটনাশকের খরচ বেশি পড়ে গিয়েছে।

জেলা সদরের সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান জানান, গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বেশ চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি ভারতীয় টমেটো আমদানি বন্ধ থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি গ্রীষ্মকালীন টমেটো ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২২-২০২৩ মৌসুমে জেলায় ৭১২ দশমিক ৫০ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল গ্রীষ্মকালীন বারি টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৬০ বিঘা, কলারোয়ায় ৫৫৫ বিঘা, তালায় ৭৫ বিঘা, কালিগঞ্জে ১৫ বিঘা, শ্যামগনর সাড়ে সাত বিঘা এবং আশাশুনিতে দুই বিঘা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ চাষ হচ্ছে কলারোয়া উপজেলায়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিনেরপোতা সাতক্ষীরার দায়িত্বরত বিজ্ঞানী ও প্রধান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওলি আহমেদ ফকির জানান, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে খুবই সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরা জেলা। জেলার মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের টমেটো চাষে বেশ উপযোগী। এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। অন্যান্য সবজির তুলনায় এটি অত্যন্ত লাভজনক। ২০১০ সালের দিকে মূলত এই জেলায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ শুরু হয়।

তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন টমেটো বারি-৪, ৮, ১০ ও ১১ চাষ হচ্ছে সাতক্ষীরায়। এর মধ্যে বারি-৮ ও ১১ জাতের টমেটো বেশি পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে। তিনি বলেন, এ দুই প্রজাতির টমেটো আকারে যেমন বড় হয়, তেমনি ফলনও খুব বেশি। সাতক্ষীরায় হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দিন জানান, উচ্চ ফলনশীল গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ লাভজনক একটি ফসল। এর উৎপাদন খরচের পরিমাণও বেশি। হেক্টর প্রতি ১০-১১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। তারপরও কৃষকের হেক্টরে ৮/৯ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

পেঁপের বাগান করে স্বাবলম্বী সাকিনুর ইসলাম
                                  

মাসুদ রানা, বিরামপুর:

গ্রামীণ আবহে জন্ম নেয়া একজন সফল কৃষক সাকিনুর ইসলাম। পড়াশুনা করেছেন স্কুল পর্যন্ত। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় লেখাপড়ায় বেশি দূর এগুতে পারেননি। বড় ছেলে হওয়ায় সংসারের হাল ধরতে হয়েছে সাকিনুরকে। মাধ্যমিক পাশ করার পর বসে নানা থেকে পৈত্রিক জমি আঁকড়েই সাবলম্বী হতে চেয়েছিলেন তিনি। এমন প্রত্যাশা থেকেই কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। বিভিন্ন সময় জমিতে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে ভাগ্যের চাকা সচল করার চেষ্টা করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় বিরামপুর পৌর শহরের মিরপুর গ্রামের সেকেন্দারের ছেলে সাকিনুর ইসলাম পৈত্রিক জমিতে শুরু করেন হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ। প্রথম দিকে স্বল্প পরিসরে এ চাষ শুরু করলেও এবছর বাণিজ্যিকভাবে ২ বিঘা জমিতে প্রায় ১ হাজার ৫ শত পেঁপের চারা রোপন করেন তিনি। আর তাতেই পেয়ে যান সাফল্য। পেঁপের বাম্পার ফলনে উঠতে থাকে তার আর্থিক অবস্থা।  
    
চারা রোপনের ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যেই ফলন পেতে শুরু করেন তিনি। একেকটি পেঁপে ২ থেকে ৪ কেজি ওজনের। বিশাল আকৃতির এই পেঁপে চাষ করে এলাকার সবার দৃষ্টি কেড়েছেন সাকিনুর। প্রতিদিন লোকজন আসছেন তাঁর পেঁপে বাগান দেখতে। অনেকেই এখন তাঁর সাথে কথা বলে পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। অনেকে বাগান করা শুরুও করেছেন।

এ ব্যাপারে সাকিনুর ইসলাম বলেন, যে কেউ পেঁপে চাষ করে স্বল্প সময়ে স্বল্প পরিশ্রমে বেকারত্ব দুর করার পাশাপাশি সাবলম্বীও হতে পারবেন। জমি তৈরী, চারা রোপন, সার, বালাইনাশক, আগাছা পরিস্কার ও শ্রমিকের টাকাসহ প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। এখন গাছ থেকে প্রায় প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মন কাঁচা-পাকা পেঁপে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। তবে লাভের অংক বেশি হওয়ায় তিনি পাকা পেঁপেই বেশি বিক্রি করছেন। প্রতিমন পাকা পেঁপে বাগান থেকে ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে পাকা পেঁপে সংগ্রহ করে এ জেলা ছাড়াও রংপুর-বগুড়াসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করছেন। বাগান করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করে ইতোমধ্যে হাজার টাকার লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। তাঁর মুখেও সেই ছাপ স্পষ্ট। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছরে আরো ১ থেকে ২ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে আগামী বছরেও প্রায় এমন ফলনই আশা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আরো বেশি ফলন ঘরে তুলতে পারতেন বলে সাকিনুর জানান।

পেঁপে বাগান দেখতে আসা স্থানীয় মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারি অধ্যাপন মশিহুর রহমান বলেন, পরিশ্রম ও লক্ষ্য অটুট থাকলে কৃষি কাজে সফল হওয়া সম্ভব। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো সাকিনুর ইসলাম। তিনি পেঁপে বাগান করে বাজিমাত করেছেন। তার বাগান দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহ পাচ্ছেন পেঁপে চাষে। বিরামপুর উপজেলার অনেক গ্রামেই এখন সবুজ-হলুদ পেঁপের সারিবদ্ধ গাছের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য সকলের চোখ টানছে। কৃষকরাও পাচ্ছেন লাভের পরশ। সেইসাথে অভাব নামক শব্দটি উধাও হচ্ছে গ্রামীণ জনপথ থেকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল বলেন, এ উপজেলায় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রচুর পরিমাণে হাইব্রিড জাতের পেঁপের চাষ বেড়েছে। উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করে স্বল্পসময়ে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।

ব্রি-৭৫ ধান আগাম রোপণে সফল কৃষক রফিকুল
                                  

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালায় আমন মৌসুমে ব্রি-৭৫ জাতের ধান আগাম রোপণ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। হেক্টর প্রতি প্রায় সাড়ে ছয় টন করে ফলন হয়েছে। তালার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেতু ইসলাম কৃষক রফিকুল ইসলামের জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের ধান কর্তন পরিদর্শন করেন।

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এবছর আমি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের ধান রোপন করেছি। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। পোকামাকড়ের বালাই নেই আর সুগন্ধি জাতের এ ধান চাষের পরও সরিষা লাগানোর সুযোগ থাকে আমাদের।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেতু ইসলাম বলেন, ব্রি-৭৫ ধান ৭৫ চাষে নতুন জাত হিসেবেও কৃষকেরা ভালো সাফল্য পাচ্ছেন। রফিকুল ইসলাম যেকোনো নতুন কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সবার আগে করে থাকেন সব সময়। এবারও আগাম রোপণে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। হেক্টর প্রতি প্রায় সাড়ে ছয় টন করে ফলন হয়েছে।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, এবছর তালা উপজেলায় ৭৪০ হেক্টর জমিতে ব্রি-৭৫ জাতের ধান আবাদ হয়েছে। এই ধানের আয়ুষ্কাল কম হওয়ায়, ধান কেটে কৃষকেরা দ্রুত তেলজাতীয় ফসলের আবাদ করতে পারেন। নতুন এই জাতের ফলনও ভালো হওয়ায় কৃষকেরা উৎসাহী হচ্ছেন।
 
এসময় তিনি বলেন, ব্রি-৭৫ ধান চাষে নতুন জাত হিসেবেও কৃষকেরা ভালো সাফল্য পাচ্ছেন। রফিকুল ইসলাম যেকোনো নতুন কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সবার আগে করে থাকেন সব সময়। এবারও আগাম রোপণে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি, হেক্টর প্রতি প্রায় সাড়ে ছয় টন করে ফলন হয়েছে।

শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে মরিয়মের সাফল্য
                                  

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী সৈয়দপুর গ্রাম। এ গ্রামের অন্যান্য সাধারণ নারীদের মতই কৃষাণী মরিয়ম খাতুনের রয়েছে স্বামী-সন্তান ও সংসার। সংসারের সব সামলে নিয়ে তিনি এখন সমাজের মডেল নারীতে পরিণত হয়েছেন।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে ২য় শ্রেষ্ট এসএমই বীজ উৎপাদনকারী নারী মরিয়ম। ইতোমধ্যেই তিনি এলাকায় বীজের কারিগর হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। সিরাজগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে সারাদেশে তার উৎপাদিত বীজ পৌঁছে যাচ্ছে। বীজ উৎপাদন করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও অনেক চাষির কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি বীজ উৎপাদন করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। গত ৪ বছর যাবত তার উৎপাদিত উৎকৃষ্ট মানের ‘রবি সিড’ বীজ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কৃষণী মরিয়ম খাতুন জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রথমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে বারি সরিষা-১৪, খেসারী এবং তিলের বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী দেয়। এর পরের বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী পায়। সেখান থেকে যে পরিমাণ বীজ পাই তাতে ব্যাপক লাভবান হই। সেই থেকে বীজ ব্যবসার হাতেখড়ি। সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাপক উৎসাহ নিয়েই নিয়মিতভাবে বারি সরিষা-১৪ ও ১৭, তাহেরপুরি পেঁয়াজ বীজ, খেসারী, মসুর, তিল ও ধানের বীজ উৎপাদন করছেন বলে জানান তিনি।

এবছর তার উৎপাদিত বীজের মধ্যে রয়েছে- সরিষা ৫৫ মন, ডাল জাতীয় ৮০০ কেজি, তিল ৩০০ কেজি, পেঁয়াজ বীজ ৫৪ কেজি, ধানের বীজ ২৫০ মন, ও ব্রি-ধান-১০০ (বঙ্গবন্ধু ধান নামে পরিচিত) ৫০ মন। তার এসব উৎপাদিত বীজ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। চাষিরা তার বীজ কিনে চাষে আশানুরুপ ফল পান।

এখন প্রায় সারাদেশেই ‘রবি সিড’ বীজ পৌছে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন- ‘ভালো মানের বীজ সরবরাহে আমি সফল হয়েছি। তিনি বলেন, বীজ উৎপাদনে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদিত বীজ ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা বিক্রি করেন।

তিনি জানান, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান ও সুবর্না ইয়াসমিন সর্বক্ষণিকভাবে মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বীজ উৎপাদনে গুনগত মান নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি আরো বলেস, উৎপাদিত বীজের গুনগত মান ভালো থাকায় প্রতি বছরই চাহিদা বাড়ছে কিন্তু পর্যাপ্ত জমি না থাকার ফলে ব্যবসা বাড়াতে পারছি না। তাই সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বেশি লাভবান হতে পারবে বলেও কৃষাণী জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. এহসানুল হক বলেন, এ এলাকার মানুষ নিজেরা বীজ রাখতে অভ্যস্ত নয়। সেজন্য এ এলাকায় ভালো বীজের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষে ওই ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি র্ককর্তারা কৃষকদের সর্বক্ষণিক মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে কৃষাণী মরিয়মের বীজ উৎপাদনে গুনগত মান নিশ্চিত করণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুস ছালাম বলেন, কৃষাণী মরিয়ম সিরজাগঞ্জ জেলার মধ্যে ২য় শ্রেষ্ট এসএমই বীজ উৎপাদন কারী। তিনি একজন উদ্যোমী কর্মট এবং আধুনিক কৃষাণী। কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষাণী মরিয়ম একটি প্রদর্শনী নিয়ে কয়েক বছর ধরে বীজ উৎপাদন করে আসছেন। দেশে ভালো বীজের চাহিদা মেটাতেই সরকারের এ উদ্যোগ। আর সরকারের এই উদ্যোগের সাথে একাত্ম হয়ে তিনি ভালো মানের বীজ উৎপাদন করে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছেন। আমি তার সাফল্য কামনা করি।

স্বাধীন বাংলা/এমএ


   Page 1 of 9
     কৃষি
জয়পুরহাটে কমলা চাষে দম্পতির সাফল্য
.............................................................................................
কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আনন্দের ঝলকানি
.............................................................................................
আলুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে আশঙ্কায় কৃষকরা
.............................................................................................
সফল সবজি চাষি বিরামপুরের ইব্রাহিম
.............................................................................................
বিশ্বনাথে পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন কৃষক
.............................................................................................
জয়পুরহাটে সবজির চারায় কৃষকের ভাগ্য বদল
.............................................................................................
শীতকালীন আগাম সবজি চাষে উৎপাদন খচর বেশি; আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক
.............................................................................................
আমনের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফুলবাড়ীর কৃষক
.............................................................................................
হবিগঞ্জে ৭৬৪ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদনের আশা
.............................................................................................
রৌমারীতে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
রৌমারীর জমিতে সেচ পাম্প স্থাপনে সুবিধা পাবে ১২০ পরিবার
.............................................................................................
জগন্নাথপুরে আমন ধান কাটা শুরু, বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকের সাফল্য
.............................................................................................
পেঁপের বাগান করে স্বাবলম্বী সাকিনুর ইসলাম
.............................................................................................
ব্রি-৭৫ ধান আগাম রোপণে সফল কৃষক রফিকুল
.............................................................................................
শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে মরিয়মের সাফল্য
.............................................................................................
আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন রায়গঞ্জের কৃষকেরা
.............................................................................................
গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষক
.............................................................................................
বৃষ্টি নেই, দুশ্চিন্তায় পাটচাষীরা
.............................................................................................
ভেড়ামারায় জি-কে সেচ প্রকল্পের ৩ পাম্পের দু’টিই বিকল, চাষিরা বিপাকে
.............................................................................................
বকুল বেগমকে সাবলম্বীর পথ দেখালো তার অদম্য শ্রম
.............................................................................................
আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
আগাম সবজি চাষ লাভজনক
.............................................................................................
গম ও ভুট্টা চাষে কৃষকরা পাবেন হাজার কোটির ঋণ
.............................................................................................
শাহজাদপুরে আউশ ধানের বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি
.............................................................................................
মধুখালীতে কাঁচামরিচ ৮হাজার টাকা মণ
.............................................................................................
দেশীয় জাতের ওল চাষে ঝুকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা
.............................................................................................
আমন চারা রোপনে মাঠে ব্যস্ত রায়গঞ্জের কৃষকরা
.............................................................................................
গ্রিনল্যান্ড নার্সারীর বনসাই বট গাছের মূল্য এক লাখ আশি হাজার টাকা
.............................................................................................
সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব দিয়ে চাষে ৩০ শতাংশ ফলন বাড়ে: গবেষণা
.............................................................................................
বিরোধীরা আন্দোলনে নামলে পাল্টা আন্দোলন হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
তপ্ত দিনে বিরামপুরে উঠেছে রসালো তালশাঁস
.............................................................................................
যশোরে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও দাম পাচ্ছে না চাষিরা
.............................................................................................
বোরো ধানের ফলনে হাসলেও দামে হতাশ আনোয়ারার কৃষকেরা
.............................................................................................
মিঠাপুকুরে বোরো ধান পানিতে, শ্রমিক সংকট চরমে
.............................................................................................
আম উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ
.............................................................................................
ধান ও সয়াবিন নিয়ে শঙ্কায় লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা
.............................................................................................
কুমিল্লার লালমাইয়ে কচুর বাম্পার ফলনে স্বস্তিতে কৃষকরা
.............................................................................................
গোলায় ধান তোলার অপেক্ষায় চৌহালীর কৃষক
.............................................................................................
এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক
.............................................................................................
কালবৈশাখীর প্রভাব: বোরোধান ঘরে তুলতে ব্যয় দ্বিগুণ
.............................................................................................
কুমিল্লার হলুদ তরমুজ দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি
.............................................................................................
ভালুকায় কৃষকদের মাথায় হাত
.............................................................................................
বগুড়ায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু
.............................................................................................
কৃষক থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ শুরু
.............................................................................................
তরুণদের কৃষিতে টানতে গঠন হচ্ছে ‘উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’
.............................................................................................
জয়পুরহাটে সবজি চাষ করে সফল মনোয়ারা বেগম
.............................................................................................
লোকসানের মুখে চাষিরা, সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ
.............................................................................................
কৃষি ও খাদ্য পণ্য উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব
.............................................................................................
জোয়ারের পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT