রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
১ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে না মুলা; কৃষকের মাথায় হাত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন হাটে ১টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ১ টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না কৃষকরা। হতাশায় নিমজ্জিত কৃষকরা মুলা নিয়ে বসে আছেন বিভিন্ন হাটে। শুধু মুলা নয়, দম কমেছে অন্যান্য সবজিরও।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুলার মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০টাকায়। ফুলকপির মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে এতো পরিমাণ মুলার আমদানি বেড়েছে যে, স্থান সংকুলান না পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মাঠে মুলা নিয়ে বসে আছেন চাষীরা। চাষীরা জানান, মাত্র ১ টাকা দরে মুলার কেজি বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না। মুলা নিয়ে হাটে বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে চাষীদের। হতাশা নিয়ে চাষীরা বলেন, মূল্যপতনের ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূল খরচটাই আসবে না। তারপরও ক্রেতা নেই।

স্থানীয় মূলা ব্যবসায়ীরা জানান, ধাপেরহাটে প্রতি মণ মুলা প্রকার ভেদে ৪০-৬০ টাকা মণ দরে ক্রয় করছি। হাটে প্রচুর মুলার আমদানি হয়েছে। তাই দাম কম। এসব মুলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার পর চাষিরা এক সঙ্গে সবজি চাষ করেছে। ফলও ভাল হওয়ায় হাট-বাজারে আমদানিও বেশি। তাই দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে।

১ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে না মুলা; কৃষকের মাথায় হাত
                                  

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন হাটে ১টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ১ টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না কৃষকরা। হতাশায় নিমজ্জিত কৃষকরা মুলা নিয়ে বসে আছেন বিভিন্ন হাটে। শুধু মুলা নয়, দম কমেছে অন্যান্য সবজিরও।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুলার মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০টাকায়। ফুলকপির মণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে এতো পরিমাণ মুলার আমদানি বেড়েছে যে, স্থান সংকুলান না পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মাঠে মুলা নিয়ে বসে আছেন চাষীরা। চাষীরা জানান, মাত্র ১ টাকা দরে মুলার কেজি বিক্রি করতে গিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না। মুলা নিয়ে হাটে বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে চাষীদের। হতাশা নিয়ে চাষীরা বলেন, মূল্যপতনের ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূল খরচটাই আসবে না। তারপরও ক্রেতা নেই।

স্থানীয় মূলা ব্যবসায়ীরা জানান, ধাপেরহাটে প্রতি মণ মুলা প্রকার ভেদে ৪০-৬০ টাকা মণ দরে ক্রয় করছি। হাটে প্রচুর মুলার আমদানি হয়েছে। তাই দাম কম। এসব মুলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার পর চাষিরা এক সঙ্গে সবজি চাষ করেছে। ফলও ভাল হওয়ায় হাট-বাজারে আমদানিও বেশি। তাই দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে।

যেভাবে একই সাথে চাষ করবেন মাছ ও মুরগি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : গবেষকরা বলছেন সীমিত জায়গার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাছ ও মুরগি সমন্বিত চাষ করা যায় এবং এ ধরণের সমন্বিত চাষের ফলে অল্প খরচে বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়।

তারা বলছেন এ পদ্ধতিতে মাছের জন্য আলাদা করে সার বা খাদ্য দেয়ার প্রয়োজন হয় না বরং মুরগির উচ্ছিষ্টই মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আর মিশ্র এ চাষ পদ্ধতিতে প্রতি শতাংশে ২০ থেকে ২৫ কেজি মাছ উৎপাদন সম্ভব। তাছাড়া সমন্বিত পদ্ধতিতে শুধু মুরগিই নয়, হাঁসও চাষ করা যায়।


মুরগি ও মাছ এক সাথে চাষের সুবিধা

বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি প্রোগ্রামের কৃষিশিক্ষা বইতে বলা হয়েছে মুরগির বিষ্ঠা ও পড়ে যাওয়া খাদ্য মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আবার পুকুরের পাড়ে বা পানির উপর ঘর তৈরি করা হয় বলে মুরগির ঘরের জন্য আলাদা করে জায়গার দরকার হয়না।

আবার পানির ওপরে ঘর হওয়ার কারণে মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পানিতেই পড়ে।

পাশাপাশি মুরগিকে যে খাবার দেয়া হয় তার অব্যবহৃত অংশ এবং পানিতে পড়ে যাওয়া খাদ্য মাছের সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে মাটির সংস্পর্শে না থাকায় মুরগির রোগ বালাই কম হয় ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

আর মুরগির বিষ্ঠা পুকুরের সার হিসেবেও কাজ করে।


মাছের জাত নির্বাচন ও সংখ্যা

সমন্বিত মুরগি ও মাছ চাষ পদ্ধতিতে পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ ছাড়তে হবে এবং মাছ যেন একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়।

বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন মাছ ছাড়লে পুকুরে উৎপাদিত খাদ্যসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

শুধু এক প্রজাতির মাছ ছাড়লে এক জাতীয় এবং এক স্তরের খাদ্য খাবে, তাদের খাদ্যের সম্পূর্ণ ব্যবহার হবেনা। ফলে মাছ উৎপাদন কম হবে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি প্রোগ্রামের কৃষিশিক্ষা বইতে লেখা হয়েছে, "তাই সমন্বিত মুরগি ও মাছ চাষ পদ্ধতিতে পুকুরের তলা, পানির মধ্য ভাগ এবং উপরিভাগের খাদ্য খায় এমন প্রজাতি যথাক্রমে মৃগেল, কালা বাউশ, রুই কাতলা কিংবা সিলভার কার্প জাতীয় মাছ ছাড়তে হয়"।

এতে আরও বলা হয়েছে যে ৩৩ শতাংশের একটি পুকুরে আট থেকে দশ সেন্টিমিটার আকারের এক হাজার পোনা মাছ ছাড়া যেতে পারে।

এছাড়া নির্ধারিত হারে মাছ ছাড়লে প্রতি বিঘায় অন্তত ৬শ কেজি মাছ, ১২-১৫ হাজার ডিম ও প্রায় এক হাজার কেজি ব্রয়লারের মাংস উৎপাদন সম্ভব।


মুরগির সংখ্যা কেমন হবে

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ লিখেছেন, প্রতি শতাংশে দুটি হারে মুরগি পালন করলে মাছ চাষের জন্য কেনো সার বা খাদ্য দিতে হয়না।

এ হিসেবে বিঘাপ্রতি ৬০-৭০টি ও একর প্রতি দুশো মুরগি পালন করা যায়।

তবে সময়মত দরকারি ভ্যাকসিন দিতে হবে এবং মুরগি অসুস্থ হলে ঘর থেকে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।


কিন্তু বাণিজ্যিক ভাবে দেখা যাচ্ছেনা কেন?

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিউটের যশোর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের প্রধান ডঃ রবিউল আউয়াল হোসেন বলছেন গৃহস্থালি হিসেবে এটি দারুণ একটি আইডিয়া যা ইন্সটিটিউট থেকে অনেক আগেই প্রবর্তন করা হয়েছিলো।

"ধরুন বাড়িতে একটি পুকুর আছে সেখানে একই সাথে মাছ ও মুরগি চাষ তো বটেই সাথে পুকুরের পাড়ে সবজি আবাদ করা যায়। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু মাছ চাষ নিয়ে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চিন্তার কারণে এটির প্রচলন হয়তো খুব বেশি হয়নি"।

তিনি বলেন, ধারণাটি যতটা সম্ভাবনাময় ছিলো ততটা হয়নি - কারণ মাছ চাষ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প এসেছে এবং তাতে বেশি ঘনত্বের মাছ চাষ হচ্ছে।

"মুরগি ও মাছ- সমন্বিত চাষে ঘনত্বের বিষয়টি ঠিক মতো করতে হয়। অতিরিক্ত ঘনত্বের মাছ চাষে সেটি হয়না। তাই এখন ঘর গৃহস্থালির ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাড়িতে যাদের পুকুর আছে তারা এটি করলে বেশি সুবিধা পাবেন বলে আমি মনে করি"। সূত্র : বিবিসি

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

আগামী মৌসুমে বোরো আবাদ ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানো হবে : কৃষিমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : আগামী মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বন্যাসহ নানা কারণে এ বছর আমনের উৎপাদন ভালো না হওয়ায় ধানের দাম খুব বেশি। যেটি নিয়ে খুব চিন্তার মধ্যে রয়েছি। সেজন্য, যে কোন মূল্যে আমাদের আগামী মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় সভায় এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, বোরোর চাষযোগ্য কোন জমি যাতে খালি না থাকে সে ব্যাপারে কৃষকদের উৎসাহ দিতে হবে। বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে মাঠ থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সকল কর্মকর্তাকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং কৃষকের পাশে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় চাষি-কৃষকেরা খুশি ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় আছে। অন্যদিকে, আমরা কৃষকদেরকে যে বোরো ধানের উন্নত বীজ সরবরাহ করছি, সার, সেচসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় যে প্রণোদনা দিচ্ছি তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, শুধু বোরো ধান নয়, সামনে রবি মৌসুমে যে ফসলগুলো আছে যেমন: পেঁয়াজ, গম, আলু, ভুট্টা, সরিষা, শাকসবজি, মাসকলাইসহ সকল ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এখনই কাজ করতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিসহ সারােশে ভুট্টা চাষের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই, এসকল ফসল অত্যন্ত সফলভাবে উৎপাদনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব সাফল্য আজ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে-উৎপাদন বাড়িয়ে সে ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো: মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা) মো: আব্দুল কাদের এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ১৬.৩০%। যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি প্রায় ১৩%।

স্বাধীন বাংলা/এআর

নওগাঁয় করলা চাষে সফল কৃষক জলিল
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি:
এক সময় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন আব্দুল জলিল। পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকায় থাকতে হতো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্রামের বাড়িতে আসতেন। আসা-যাওয়ায় কাজে মন টিকতো না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ ছেড়ে দিয়ে গত জানুয়ারী মাসে নিজ গ্রাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার বড়পই চলে আসেন। এরপর থেকে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। জমানো টাকায় পুনে তিন বিঘা জমি ইজারা (চুক্তি) নিয়ে রানী জাতের করলার আবাদ করে তার ভাগ্য বদলেছে। বাজারে ভাল দাম পেয়ে খুশি তিনি।

চাষি আব্দুল জলিল বলেন, গত ১৩ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেছেন। সেখানে স্বল্প পরিসরে খাবার জন্য শাক-সবজির আবাদ করতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হতো। এবার আর ঢাকায় কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জমি বন্ধক নিয়ে গ্রামে তিনি শাক-সবজি চাষ করছেন। দুই দফায় পুনে তিন বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। ২২ কাঠা জমি ২ বছরের জন্য নিয়েছেন ৩২ হাজার টাকায়। বাকী জমি ১৪ হাজার এবং ১৬ হাজার টাকা বছর। মোট জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এ বছর এক বিঘা জমির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জমি প্রস্তুত করে গত ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে করলার চারা রোপন করেন। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাঁচা তৈরী করে চারা রোপন করেন। এক বিঘা জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরীতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ২৬-২৭ হাজার টাকা। মোট জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। চারা রোপনের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল ধরা শুরু হয়। সপ্তাহে ২ দিন ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মণ করলা উঠানো হয়। যেখানে প্রথম দিকে ৩ হাজার টাকা মণ পাইকারী দাম পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ২৪শ-২৬শ টাকা মণ। সর্বোচ্চ সাড়ে তিনমাস পর্যন্ত এ মাঁচায় করলা থাকবে। এরপর পটল। সব খরচ বাদ দিয়ে করলা মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

ইতোমধ্যে করলার মধ্যে পটলের গাছ লাগানো হয়েছে। করলা শেষ হওয়ার পর পটলের গাছ মাঁচায় উঠে যাবে। একই মাঁচায় পটলের আবাদ করা হলে মাঁচা তৈরীর খরচটা লাগবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার কারণে সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা ভাল পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া ২ কাঠা জমিতে বসত বাড়ি। ৫ জন ছেলে এবং বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৯ জন। বড় দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে এবং ছোট তিন ছেলে পড়াশুনার পাশাপাশি তাকে সহযোগীতা করে।
তিনি মনে করেন ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

মান্দা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ করা হয়েছে।

বায়োফ্লক : বাংলাদেশে দ্রুত বাড়াতে পারে মাছ উৎপাদন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের তরুণ মৎস্য চাষিদের মধ্যেই অনেকেই নতুন এক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন যার নাম বায়োফ্লক, যা দেশে মাছের উৎপাদন অতি দ্রুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাছ চাষের এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশে এসেছে মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে।

এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অল্প জায়গায় বিপুল পরিমান মাছ চাষ করা হয়।

সরকারের মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা কতটা সঠিক হবে কিংবা চাষিরা কতটা লাভবান হবেন, তা নিয়ে এখন তারা গবেষণা করছেন।

বায়োফ্লক পদ্ধতি দেশের এ মূহুর্তে সব চেয়ে বড় প্রকল্প করছেন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলের জিহাদ আহমেদ।

বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান যে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ চাষের চেয়ে এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ আলাদা।

"এখানে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সুচারুরূপে দেখতে হয়। আমি প্রায় ৩৯টি ট্যাংকে শিং, কই, মাগুর ও পাবদাসহ বেশ কয়েক ধরনের মাছ চাষ করছি"।

নিজের ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়া গিয়ে বায়োফ্লকের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জিহাদ আহমেদ, যিনি এর আগে পোলট্রি খামারের উদ্যোগ নিয়ে কার্যত ব্যর্থ হয়েছিলেন।

বায়োফ্লক কি?

মৎস্য গবেষকদের মতে, বায়োফ্লক এমন একটি পদ্ধতি যেখানে জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে পুনঃব্যবহারযোগ্য খাবার তৈরি করা হয়।

অর্থাৎ যে ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল তৈরি হয় তা পানিতে উৎপন্ন হওয়া নাইট্রোজেন গঠিত জৈব বর্জ্যকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হতে না দিয়ে নিজেদের বংশ বাড়ায় এবং এটিকেই ফ্লক বলে।

এসব ফ্লকে প্রচুর উপাদান থাকে, যা মাছের পুষ্টির যোগান দেয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে প্রোবায়োটিক কালচারের মাধ্যমে ফ্লক তৈরি করা হয়।

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ডঃ মো. খলিলুর রহমান জানান, মূলত যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অল্প জায়গায় অনেক পরিমান মাছ চাষ করা হয়, সেই পদ্ধতিকেই বায়োফ্লক বলা হয়।

তিনি বলেন, এতে পানির মধ্যে বিশেষ কায়দায় ব্যাকটেরিয়া তৈরি করা হয় এবং সেটাই মাছের খাবারকে রিসাইকেল করে - আবার এটা পানি পরিশোধন করতেও সক্ষম।

"তবে মনে রাখতে হবে পানিতে নাইট্রোজেন আর কার্বনের ব্যালেন্স ঠিকমতো না হলে এটা কাজ করবে না এবং মাছ মারা যাবে। অর্থাৎ পদ্ধতিটির সঠিক প্রয়োগ না হলে মাছের রোগ হবে বা মাছ মারা যাবে।"

এ কারণে বায়োফ্লক পদ্ধতির জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনার দরকার হয়, যা অনেক সময় ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানান ডঃ রহমান।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতির মাছ চাষের অবকাঠামোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে এবং মাছের ট্যাংকের পানি পরিবর্তন করা যাবে না।

মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বলেন, অনেকে বায়োফ্লক পদ্ধতির ক্ষেত্রে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা ঠিক নয়।

"সাধারণভাবে মাছ চাষের ক্ষেত্রে আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি শতাংশে আড়াইশো গ্রাম লবণ দিতে বলি, যা মাছকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এখানেও সেটি হতে পারে। তবে বায়োফ্লকের জন্য লবণাক্ত পানি লাগবে, এটি সঠিক তথ্য নয়"।
বায়োফ্লকে মাছের ট্যাংক যেমন হয়

একেবারে শুরুতে সাধারণত একটি খাচার মতো তৈরি করা হয়, যার নিচের দিকে ঢালাই দিয়ে মাটির সাথে আটকে দেয়া যেতে পারে। এর ঠিক মাঝামাছি জায়গায় পানির পাইপ সেট করা হয়। অনেকে ঢালাই না করে পলিথিন দিয়েও মেঝের জায়গা প্রস্তুত করে।

পরে ওপর থেকে খাচাটি ঢেকে দিতে হবে। আর মেঝেতে পুরু পলিথিন দিয়ে পানি রাখতে হবে।

পানির তাপমাত্রা ২৪-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে, আর পানির রং হবে সবুজ, হালকা সবুজ বা বাদামী। এর দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ, ক্ষারত্ব, খরতা, ক্যালসিয়াম, অ্যামোনিয়া, নাইট্রেইট, ফসফরাস, আয়রন, পানির স্বচ্ছতা, গভীরতা, লবণাক্ততা - এগুলোসহ সবকিছুর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে ব্যবস্থা নিতে হয়।

এরপর পানিতে দরকারি সব উপাদান ঠিক মতো দিয়ে ফ্লক তৈরি করতে হয়, যার জন্য দরকার হয় সার্বক্ষনিক অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা।

ঠিক মতো ফ্লক তৈরি হলে পানির রং হবে সবুজ বা বাদামি, আর পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দেখা যাবে।

বায়োফ্লকের বৈশিষ্ট্য

কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ গত ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি পত্রিকায় লিখেছেন যে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনের অঙ্ক ও বাণিজ্য হচ্ছে অল্প জায়গায় অধিক মাছ।

এর বাইরেও এটি মাছের খাবারের অপচয় কমিয়ে দেয়, নাইট্রোজেন গঠিত বর্জ্যকে মাইক্রোবিয়াল প্রোটিনে রূপান্তর করে এবং পানিতে জৈব বর্জ্য জমা হওয়া প্রতিরোধ করে।

মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ডঃ রহমান জানান, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত পানিতে দুর্গন্ধ থাকে না এবং পানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

"এ পদ্ধতিতে পানির গুনগত মান বজায় থাকে, কারণ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ হয় এক্ষেত্রে"।
ঝুঁকি আছে?

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলের জিহাদ আহমেদ বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আলোচনায় এসেছেন নিজ এলাকা এবং এর বাইরেও। আর তাকে অনুসরণ করে ওই এলাকায় আরও অনেকে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

এসব কারণে ওই এলাকার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান নিজ উদ্যোগেই জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ মিস্টার আহমেদের বায়োফ্লক পরিদর্শন করেছেন সম্প্রতি।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "উনার যে ফিশট্যাংক দেখলাম তাতে মনে হচ্ছে উনি কাজটা করতে পারছেন। মাছগুলোও তরতাজা আছে। তবে এ এলাকায় অনেকেই চেষ্টা করে পারেননি।"

তিনি আরও বলেন, এখানে প্রতিমূহুর্তে ট্যাংকের ভেতরের পানিতে নানা পরিবর্তন হয় যেগুলো মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। উনার লোকজন আছে বলে সেটি তিনি করতে পারছেন। তবে চাষে সাফল্য কতটা এসেছে, সেটি আমাদের এখনও জানা নেই।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ভালোভাবে নিয়ম মেনে সবকিছু করতে পারলে লাভ। কিন্তু ক্ষতি হলে হবে বড় ক্ষতি"।

তিনি জানান যে ওই এলাকাতেই আরও কয়েকজন বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের উদ্যোগ নিলেও তাদের ক্ষেত্রে খুব একটা সাফল্য আসেনি।
কতদিনে বিক্রির উপযোগী হয় মাছ?

মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান জানান, সঠিকভাবে চাষ করতে পারলে তিন মাসের মধ্যে মাছ বিক্রির উপযোগী হতে পারে।

"এখানে মাছ খাবার খায় আর বড় হয় - এটাই এর মুল থিম। অক্সিজেন ভালো থাকার কারণে মাছগুলো আনন্দে থাকে, যেটা পুকুরে সবসময় হয় না। একটা কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে মাছ দ্রুত বড় হয়"।

মাছ চাষি জিহাদ আহমেদ অবশ্য আরও খানিকটা সময় দেন মাছ বড় করতে। তিনি বলেন, বাজারে মাছ বিক্রির উপযোগী হতে চার মাস সময়ই যথেষ্ট।
প্রত্যেক প্রজাতির মাছের জন্য চাই আলাদা ব্যবস্থাপনা

গবেষক ও মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বায়োফ্লকের রসায়ন ঠিকমতো জানা না থাকলে এতে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এতে প্রত্যেক মাছের প্রজাতির জন্য আলাদা ধরণের পরিচর্যা বা ব্যবস্থাপনার দরকার হতে পারে।

মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান জানান যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মাছ চাষের পানিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ের প্রস্তুত করা।

"ট্যাংকের পরিবেশ ও পানির ব্যবস্থাপনা প্রতি মূহুর্তে নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরকার হবে ভালো মানের মাছের পোনা। লবণাক্ততা, অ্যামোনিয়া, অক্সিজেন কিংবা টিডিএস সঠিক মাত্রায় থাকতেই হবে," বলছিলেন তিনি।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার জিহাদ আহমেদের মতো অনেকেই অবশ্য এরই মধ্যে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঝুঁকেছেন, কারণ খুব অল্প জায়গায় বিপুল পরিমান মাছ চাষ সম্ভব হচ্ছে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।

আগ্রহ দেখাচ্ছেন আরও অনেক তরুণ মাছ চাষি।

তবে ডঃ খলিলুর রহমান মনে করছেন যে বায়োফ্লক যেহেতু মাছ চাষের একটি নতুন টেকনিক, তাই এক্ষেত্রে বুঝেশুনে এগুতে হবে।

"আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এক্সপেরিমেন্ট এখনো চলছে। এর ফল হাতে পাওয়ার পর আমরা হিসেব করে দেখবো যে এতে কেমন ব্যয় হয় কিংবা মৎস্য চাষিরা এতে লাভবান হবেন কি-না"।

বায়োফ্লক ধারণা: বিস্তার ঘটছে

জিহাদ আহমেদ নিজেই বিবিসিকে জানান যে এ পর্যন্ত অনেক আগ্রহী ব্যক্তিকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন এবং তারা এখন এ পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ চাষ করছেন।

"এটার এখন ব্যাপক বিস্তৃতি হচ্ছে। আমারই দু`হাজার ছাত্র আছে," বলছিলেন তিনি।

ধারণা করা হচ্ছে, মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প শেষ হলে এবং তাতে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উঠে এলে বাংলাদেশে আগামীতে বায়োফ্লকের আরও বিস্তার ঘটবে।

ডঃ খলিলুর রহমান বলছেন, "আমরা সতর্ক থেকে বায়োফ্লক নিয়ে কাজ করছি, যাতে করে উদ্যোক্তারা পরে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা বলে দিলাম আর লোকজন শুরু করে ক্ষতির শিকার হলো - এমনটি আমরা চাই না"।

তবে সরকারিভাবে কী বলা হবে তার অপেক্ষা না করেই যেমন অনেকে নিজ উদ্যোগে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন, তেমনি এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও সহজলভ্য হয়ে উঠছে বাংলাদেশে। সূত্র : বিবিসি

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

নোয়াখালীতে পতিত জমিতে ব্রি ধান-৫৪ চাষে সফল কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ
                                  

নোয়াখালী প্রতিনিধি: “দেশের এক ইঞ্চি পতিত জমিও খালি থাকবে না” করোনাভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা ও মুজিববর্ষের গাছ লাগানোর আওতায় কর্মসূচির ডাকে সাড়া দিয়ে নোয়াখালীতে পতিত জমিতে ধান, সবজি ও বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ লাগিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী সৌখিন কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ।

একান্ত সাক্ষাতে এর ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্যোগে সফল এবং অত্যন্ত খুঁশি হয়েছেন। তাঁর পিতা মৃত গনু মিয়া ছিলেন একজন কৃষক। শুরু থেকে পিতার পরিবারে গোলাভরা ধান ও পুকুরভরা মাছ ছিল। তিনি নোয়াখালী পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের একজন আওয়ামী পরিবারের গর্বিত কৃষকের ছেলে।

তিনি সুধারাম থানার কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতির ম্যানেজার হিসেবে ১৯৭২ সালে যোগদান করে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে ১৫ ই আগস্ট নির্মন হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে মনের দুঃখ ও ক্ষোভে পদোন্নতি বিসর্জন দিয়ে অবসর যাপন করেন। তিনি একজন গর্বিত পিতার একজন আওয়ামী সমর্থক দাবি করে বলেন, ১৯৭০ সালে সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রফেসর মোঃ হানিফের সফর সঙ্গী হয়ে ভারতে গিয়েছেন সাংগঠনিক কাজে। ১৯৯১ সালে তাঁর তৃতীয় ছেলে মৃত তৈয়ুব হোসেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের জিএস হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ২০১০ সালের ৯ই আগস্ট সাউথ আফ্রিকায় সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার জানাজায় সদর-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুৃরীও উপস্থিত ছিলেন। বড় ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন সোহাগ বর্তমানে শহর আওয়ামীলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করে যাচ্ছেন।

দ্বীন মোহাম্মদ পৌর অঞ্চলে শহরের উপর পতিত জমিতে অসময়ে ব্রী ধান-৫৪ এর ফলন করেন ৬০ ডিসিম জমির উপর। ভালো ফলন দেখে পতিত জমিতে চাষে উদ্বুদ্ধ হন অনেকে। এবং বাড়ির আঙ্গিনাসহ শাক-সবজির চাষ করেন ৪০ শতাংশ জমিতে। মোট ১ (এক একর)  জমিতে বিষমুক্ত ফলন পেয়ে খুশি কৃষক পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে তাঁর বড় ছেলে শহর আওয়ামীলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারী বলেন, আমার শুদ্ধেয় পিতাকে সৃজনশীল ফসল উৎপাদনে সবসময় সহযোগীতা ও উৎসাহ প্রদান করে আসছি। কৃষি অধিদপ্তরসহ সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পেলে ধান উৎপাদনসহ অন্যান্য শবজি চাষের পরিমান আরও বৃদ্ধি করার আশা প্রকাশ করেন।

সফল মৌ চাষি মনিরুল
                                  

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : “মৌমাছি মৌমাছি, কোথা যাও নাচি নাচি, দাড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই।” মধুকবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতার এই লাইনগুলোর সাথে একেবারেই মিলে গেছে মৌয়ালদের জীবন। এর বাস্তব প্রতিচ্ছবি পাওয়া গেলো মৌচাষী মনিরুলের খামারে।

ঝিনাইদহ জেলা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে শৈলকুপা উপজেলা শহর। এই শহরতলীতেই কবিরপুর এলাকায় মনিরুল হকের বাস। নিজের বাড়িটিকেই মনিরুল বেছে নিয়েছেন মৌ চাষের জন্য। তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন মৌ খামার। নাম দিয়েছেন মামনি মৌ খামার। এই মামনি খামার থেকেই এবার মনিরুল উৎপাদন করেছেন প্রায় শত মন মধু। উপার্জন করেছেন কয়েক লক্ষ টাকা। হতাশ জীবনে পেয়েছেন সফলতা।

প্রায় ২০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুর পাড়ি দেন মনিরুল হক। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রবাস জীবনের মায়া কাটিয়ে বছর পাঁচেক আগে দেশে ফিরে আসেন মনিরুল। দেশে ফেরার পর খুঁজে পাচ্ছিলেন না ভালো কোন কাজ। হতাশা তাকে আষ্টেপিষ্টে ধরে। মাথার মধ্যে হঠাৎ করে মৌমাছির গুনগুন গান বেজে উঠলো। যেই ভাবা সেই কাজ। কোনোরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই চারটি মৌ বাক্স যোগাড় করে শুরু করেন মৌ চাষ। ধীরে ধীরে অন্য খামারিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন বড় আকারের খামার।

মনিরুলের বাড়িতে ঢুকতেই এক পাশে দেখা গেলো সারি সারি মৌ চাষের বাক্স। বাক্সগুলো পরিচর্যায় ব্যস্ত তিনি। ঘুরে ঘুরে বাক্স খুলে মৌচাকগুলো দেখালেন।

মনিরুল আমাদের জানালেন, বিভিন্ন স্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মধু সংগ্রহ করতে হয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ থেকে নভেম্বর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি, এই তিন মাস শুধু সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে হয়। আবার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে শরিয়তপুর ও মাদারিপুর থেকে রাই সরিষা, কালোজিরা ও তিল ফুলের মধু সংগ্রহ করতে হয়। আর মার্চ মাসে লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করেন নাটোর, পাবনাসহ দেশের অন্যান্য স্থান থেকে।

আমাদের প্রতিবেদককে মনিরুল জানান, মৌ চাষ করে আল্লাহর রহমতে পরিবারের সবার সাথে ভালভাবে জীবন যাপন করছি। মৌ বাক্স যতো বাড়াতে পারবো, আমার আয় ততো বেশি হবে। তবে করোনাকালীন সময়ে মধুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর আর হলো না। আগামী বছর থেকে মৌ বাক্স বাড়াতে পারবো ইনশাল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তেমন কোনো ফুলের সমারোহ থাকে না। তাই মৌমাছি খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে না। এসময় তাদের চিনি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

স্বাধীন বাংলা/এআর

মীরসরাইয়ে আউশের বাম্পার ফলন
                                  

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : কৃষি প্রধান জনপদ চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় শুরু হয়েছে আউশ ধান কাটার উৎসব। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আউশের ফলন দেখে কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হওয়ায় আউশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। মীরসরাই উপজেলার কৃষকরা উন্নত জাতের (ব্রি. ধান-৪৮) আউশ ধান চাষ করে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি ফলন পেয়েছে। তবে উপজেলার ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়নের আউশের আবাদ বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ১ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা হলেও আবাদ করা হয় ৭ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৫ হাজার ২শ মেক্ট্রিক টন। উপজেলা ব্যাপী লক্ষ্যমাত্রার চাইতেও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী উপজেলা কৃষি অফিস ।

অতীতের মতো স্থানীয় জাত ও উন্নত জাতের ধান বীজ অনেকেই বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন। ধান বীজ গুলো কাজলআইল, চিনালধান, ভিন্নাতোয়া, ধলবাচাই, বৈলাম, আশ্বিনী, নাজিরআইল, বাধই, হলোই ধান, বাতুইধান, জিইস ধান, পাইজম ধান ইত্যাদি। সরকারী ধান বিএডিসি, বেসরকারী বীজ কোম্পানী মধ্যে সুপ্রীম সীড কোম্পানী, লালতীর, পাশাপাশি, মল্লিকা সীড, আলফা এগ্রো, ইউনাইটেট, এসিআই, অটো ক্রপকেয়ার এদের উল্লেখযোগ্য বি-৪৮, বি-২৮, বি-৪৩, বি-৭২ নং ধানের বীজ গুলো ভালো ফলন দিয়েছে।

উপজেলার ৯নং মীরসরাই সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামের (কৃষি বিষয়ক ক্লাব) আইপিএম ক্লাবের সভাপতি আউশ চাষী হানিফ ভুঁইয়া ও সজল দেবনাথ বলেন, আমাদের বাপ-দাদাদের আমল থেকে আমরা আমাদের চাষের জমি থেকে ধান বীজ সংগ্রহ করে সাধারণ চাষাবাদ করতাম। এতে সমস্য হলো বিভিন্ন ধরণে মিশ্রিত ধান হতো এবং ফসল ও কম হতো। ফলে আধুনিক চাষাবাদের তাল মিলিয়ে বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীর উন্নতমানের হাইব্রীড ধান বীজ সংগ্রহ করে ভালো ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছি।

১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নের ঘড়ি মার্কেট এলাকার কৃষক মো.জসিম জানান, সার, বীজ, কীটনাশক এর দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফসল যাই হোক না কেন বিগত বছর গুলোতে কৃষক ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ সাহা বলেন, এই উপজেলার কৃষকরা আগে স্থানীয় আউশ ধানের আবাদ করত। এই বছর সরকার কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা, বীজ ও সার দিয়ে চাষীদের উৎসাহিত এবং সহযোগীতা করেছে। এতে কৃষকেরা উৎসাহিত হয়ে ব্যাপক চাষ করেছে এবং বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্বাধীন বাংলা/এআর

রাজৈরে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বিক্রয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকেরা
                                  

রাজৈর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় কৃষকদের পাট কাটা ও পচানোর পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়। এখন আঁশ ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে রোদে শোকানো হচ্ছে। আবার অনেকের আঁশ আগে শুকিয়ে যাওয়ায় বিক্রয়ের জন্য নিয়ে গেছে বিভিন্ন হাট-বাজারে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু পানি বাড়তে থাকায় কৃষান খরচ হয়েছে বেশি। এজন্য আঁশ ছাড়ানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অধিকাংশ কৃষক পরিবার। কিছু এলাকায় টাকা দিয়েও করাতে হচ্ছে আঁশ ছাড়ানো ও পরিষ্কারের কাজ। এতো পরিশ্রমের পর ন্যায্য মূল্য পাবেন কিনা তা নিয়ে শংকায় আছেন তারা।

লটকনের বাম্পার ফলন: নরসিংদীতে চাষীর মুখে আনন্দের হাসি
                                  

আলমগীর পাঠান: বাম্পার ফলনে অধিক লাভের আশায় নরসিংদীর সুস্বাদু লটকন চাষীরা। এক সময়ের জংলী ফলের দীর্ঘ ১২ বছরে কদর বেড়েছে শতগুণ। ঝোপ-ঝাড়ে গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরে থাকতো এ ফল। তবে সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ ফলের পুষ্টিগুণ সবার জানা হয়ে গেছে। তাই কদরসহ বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এই লটকন। নরসিংদী জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল রংয়ের মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়।

জানা যায়, মানুষের শরীরে ভিটামিন ‘সি’ এর চাহিদা মেটায় এই লটকন। ছোট এ ফলটি ভিটামিন ‘বি-টু’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। যা এই করোনাকালে আমাদের সবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বাংলাদেশের লটকন চাষের একমাত্র বৃহত্তর এলাকা নরসিংদী জেলা। কারণ এ অঞ্চলের লটকন অন্য যে কোনো জেলা থেকে মিষ্টি এবং রসালো হয়ে থাকে। এখানকার বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে ফলটির ফলন ভালো হয়। সেজন্য এ জেলার মানুষজন লটকনের বাণিজ্যিক চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে বলে প্রতিবছরই বাড়ছে এর উৎপাদন। লটকন চাষ করে ভাগ্যবদল হয়েছে হাজারো কৃষকের। এবার ফলন ভালো হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ন্যায্য মূল্য নিয়ে বিপাকে চাষীরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লটকন গাছ সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণের উপযুক্ত সময়। বর্ষার শেষের দিকে মানে ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। লটকনের গাছ ঝোপের মতো হয়ে থাকে। প্রতিবছর মাঘ-ফাল্গুনে লটকনগাছে মুকুল আসা শুরু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে এ ফল পরিপক্ক হয়ে থাকে। এটি চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। স্ত্রী গাছ লাগিয়ে দিলেই হয়। সময়ে সময়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গোড়ার চারদিকে জৈব সার দিলে ফলন ভালো হয়। পিঁপড়া বা পোকামাকড়ের হাত থেকে ফল বাঁচাতে ছত্রাকনাশক দিতে হয়। এদিকে মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসে লটকনের বাজার।

এ বিষয়ে মরজাল বাজারের লটকন ব্যবসায়ী কাওসার, এস আলম ও আমান সাথে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদীর লটকন ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এই লটকন রফতানি করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, প্রকারভেদে পাইকারি মণ প্রতি দাম ওঠে ১ হাজার ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

মরজাল রাজাবাড়ি গ্রামের লটকন চাষী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, কম খরচে লাভজনক ফসলের মধ্যে একমাত্র ফল হলো লটকন। লটকন বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বেশি পড়লেও পরবর্তী সময়ে বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। সে তুলনায় লাভ বেশি হয়। কখনও কখনও এত বেশি ফল আসে যে গাছের ডাল পর্যন্ত দেখা যায় না। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। মোট ৫ বিঘা জমিতে লটকন চাষ করে ভেবে ছিলাম ৩ লক্ষ টাকা লাভ হবে কিন্তু পরিচর্যার অভাবে ফলন কম হওয়ায় দেড় লক্ষ টাকা লাভ হয়েছে। তবে লটকন ফল বিক্রি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না তেমন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও লটকনের ফল ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেওয়া যায়। পাইকাররা বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আমলাব ইউনিয়নের রুমেল বলেন, তিনি মোট ৫ একর জমিতে লটকন চাষ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এ ফল চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিক্রির জন্য কোনো টেনশন করতে হয় না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লটকন কাঁচা থাকা অবস্থায় বাগান থেকেই কিনে নেন। তিনি প্রতি বছর এই লটকন থেকে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লাভবান হয়ে থাকেন। তাছাড়া শিবপুর ও মরজাল বাজারেও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা আসেন লটকন নিতে।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিম উর রউফ খান বলেন, চলতি মৌসুমে ১৭৫ হেক্টর জমিতে লটকন বাগান করা হয়েছে। রোপণের তিন বছরের মধ্যে ফলন আসে এ গাছে। ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না। ফল সংগ্রহের ৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা ও আকার বাড়ে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এখানকার সু-স্বাদু এ লটকন ফল। কিন্তু এ বছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে লটকন দেশের বাইরে রপ্তানি করার সম্ভবনা নিয়ে সংসয় থাকলেও এখন দেশে আমদানী রফতানিতে স্বাভাবিক হচ্ছে। তাই দেশের বাইরে লটকন রপ্তানি করতে পারবে ব্যবসাীরা।

নরসিংদীতে সবজির ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি
                                  

আলমগীর পাঠান, বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি: দেশে লকডাউনের ফলে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সবজির ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনছিলেন নরসিংদী জেলার কৃষকরা। এতে অনেক কৃষক সবজির বাগান পরিচর্যা বন্ধ করে দেয়া, এমন কী কেউ কেউ বাগান কেটে ফেলেন। লকডাউন তুলে নেয়ার পর থেকে নরসিংদীর পাইকারী বাজারগুলোতে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। এতে সবজির ন্যায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।

কৃষকরা জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নরসিংদীর পাইকারী সবজির বাজার বেলাবো উপজেলার বারৈচা, নারায়ণপুর, রায়পুরার জঙ্গী শিবপুর, শিবপুর উপজেলা সদর, সিএন্ডবি বাজার, পালপাড়া বাজারে ক্রেতা না থাকায় বিপাকে পড়েন কৃষকরা। ক্রেতার অভাবে ব্যাপক দরপতন ঘটে সবধরনের শাক-সবজির। গণপরিবহন সংকটের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা সবজির বাজারে না আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। করোনার এই পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি বিক্রি করতে গিয়ে রিকশাভ্যানের ভাড়াও উঠাতে পারছিলেন না কৃষকরা। সবজির উৎপাদন খরচ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে কৃষকদের।  

গত ৩১ মে থেকে লকডাউন তুলে নেয়ার পর নরসিংদীর পাইকারী বাজারগুলোতে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির দাম। সবধরনের সবজির ন্যায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এতে নতুন করে ফসলী জমির পরিচর্যা বাড়িয়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (০৫ জুন) জেলার অন্যতম পাইকারী সবজির হাট জেলার বেলাব উপজেলার বারৈচা বাজারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে বাজারে আসার আগেই কৃষকদের ঘিরে ধরছেন পাইকারী ক্রেতারা। দরদামে মিললে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বাজারে প্রবেশের আগে সড়কেই। দেশব্যাপী খুচরা বাজারে সবজির চাহিদা বাড়ায় ক্রেতারাও সবধরনের সবজি কিনছেন। ৩১ মে লকডাউন তুলে নেয়ার ঘোষণা আসার পর থেকে প্রতিদিনই সবধরনের সবজির দাম বাড়ায় খুশি কৃষকরা। তবে সবজির বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

পাইকারী ক্রেতা ও কৃষকরা জানান, শুক্রবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা বাজারে কাকরুল প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা, চিচিংগা প্রতি কেজি ২০ টাকা, ঢেড়শ প্রতি কেজি ২০টাকা, বরবটি কেজি ২৫ টাকা, বেগুন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি, লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধরনের শাক-সবজিরও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে।

শাক-সবজির এমন দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের লোকসান কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

সমন্বিত সবজি চাষে সচ্ছল কৃষক
                                  

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে রায়গঞ্জে একই জমিতে একসঙ্গে একাধিক ফসলের চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। মরিচের সঙ্গে ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি, বেগুনের সঙ্গে মরিচ, আলুর সঙ্গে মরিচ, মুলা, পালংক শাক ও ধনিয়া পাতা ইত্যাদি একযোগেই চাষাবাদ করছেন চাষিরা। অপরদিকে আলুর ক্ষেতে মাচায় শিম বা লাউ চাষও করা হচ্ছে।

তাদেরই একজন কৃষক আব্দুল লতিফ। তিনি বাড়ির পাশের জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। একই জমিতে তিনি রোপণ করেছেন মরিচের চারাও। তিনি জানান, একসঙ্গে একই জমিতে দুই ধরনের সবজি চাষ করলেও ফলনে কোনো প্রভাব পড়েনি। বেগুন আর মরিচ দুটোরই ফলন ভালো হয়েছে। লতিফের মতো সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আরো অনেকে কৃষক একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করছেন।

কৃষকরা জানান, অন্যান্য সবজির চেয়ে বেগুন বেশ লাভজনক। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বিঘা প্রতি ৬০/৭০ মণ বেগুন উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতিমণ বেগুন পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়। বেগুনের সঙ্গে মরিচ চাষ করলে বাড়তি কিছু আয় হয়। বেগুন গাছের ফাঁকে ফাঁকে যদি মরিচের আবাদ করা যায় তাতে প্রতি বিঘাতে ৬/৭ মণ কাঁচা মরিচ উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা।

এছাড়াও সদর উপজেলার জগৎগাঁতী, বাগবাটি, রতনকান্দি ও বহুলী এলাকাতেও একইভাবে একসঙ্গে একাধিক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। এতে একটা ফসলে লোকসান হলেও দ্বিতীয় ফসলে লাভ হবেই। এ কারণে কৃষকের লোকসানের সম্ভাবনা নেই।

কৃষকরা বলেন, জমিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে চাষাবাদে লাভ আসবেই। আগের দিনে কৃষকেরা এক ধরনের ফসল চাষে অভ্যস্ত ছিল। বর্তমানে সেটা আর নেই। বেশিরভাগ চাষিই একাধিক ফসল চাষে লাভবান হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুর হক জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুমে সিরাজগঞ্জের অধিকাংশ কৃষক একইসঙ্গে একাধিক ফসল চাষ করছে। সেক্ষেত্রে কৃষি বিভাগও তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। একাধিক ফসল চাষে কৃষকের যেমন বেশি মুনাফা হয় তেমনি জমির উর্বরতা শক্তিও বাড়ে।

উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : আমন ও বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী তিনটি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এগুলো হলো রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান ৯০ ও বোনা আমনের জাত ব্রি ধান ৯১ এবং বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান ৯২। ব্রি ধান ৯০-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি পাঁচ টন। এ ফলন আমন মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে হেক্টরে এক থেকে ১.৪ টন বেশি। ব্রি ধান ৯১-এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২.৩৭ টন যা স্থানীয় জাত ফুলকরির চেয়ে ১.৫ টন বেশি। আর বোরো জাত ব্রি ধান ৯২-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন।

তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টর প্রতি ৯.৩ টন ফলন দিতে সক্ষম। জাতীয় বীজ বোর্ডের বুধবারের সভায় নতুন এ জাতগুলো চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, নতুন উদ্ভাবিত জাত ব্রি ধান ৯০-এ আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর দানার আকৃতি ব্রি ধান ৩৪-এর মতো হালকা সুগন্ধযুক্ত। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার। এ জাতের গড় জীবনকাল ১১৭ দিন, যা ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে ২১ দিন আগাম। এর চাষাবাদের জন্য সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের মতোই, তবে ইউরিয়া সারের পরিমাণ এতে কিছুটা কম প্রয়োজন হয়। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.২ শতাংশ এবং প্রোটিন ১০.৩ শতাংশ। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ১২.৭ গ্রাম। ব্রি ধান ৯০ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর কা- শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া ও ফুল প্রায় এক সঙ্গে ফোটে বিধায় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। এর গড় ফলন পাঁচ টন হলেও উপযুক্ত পরির্চযায় এটি সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

আশা করা হচ্ছে, নতুন উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুঁড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে। নতুন উদ্ভাবিত অপর বোনা আমনের জাতটি হলো ব্রি ধান ৯১। এ জাতের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো, এর পাতা গাঢ় সবুজ রঙের ও ডিগপাতা খাড়া। গাছের চারা বেশ লম্বা ও দ্রুত বর্ধনশীল। এ জাতের ধানগাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। এটি মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলঙ্গেশন গুণ সম্পন্ন অর্থাৎ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিু। এ জাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরে হেলে পড়লেও গাছের কা- শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। এটি মুড়ি ফসল হিসেবে চাষ উপযোগী। এর গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন যা স্থানীয় জলি আমন ধানের জাতের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগাম। এর এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৬ গ্রাম। এর ভাত ঝরঝরে ও সাদা। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়।

স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা জলি আমনের জাতের মধ্যে আছে মানিকগঞ্জ অঞ্চলে দীঘা, দুধবাওয়াইলা, ঝিঙ্গাশাইল, ভেপা; ফরিদপুর অঞ্চলে বাইল্যা দীঘা, খইয়ামটর এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ফুলকুড়ি, কাইত্যা বাগদার ইত্যাদি। এসব স্থানীয়জাত থেকে ব্রি ধান ৯১ হেক্টরে অন্তত এক টন ফলন বেশি দেয়। এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে মোট ধান উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী অপর জাতটি ব্রি ধান ৯২। এ ধান চাষে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করেও ব্রি ধান ২৯-এর সমান ফলন পাওয়া যায়।

সেজন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে যেখানে পানির স্তর নিচে নেমে যায় সেখানে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। ড. মো. শাহজাহান কবীর আরো জানান, ব্রি ধান ৯২ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯-এর সমান অর্থাৎ ১৫৬-১৬০ দিন। এ জাতের কা- শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া। এ ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতার উপরে থাকে। এর চাল লম্বা ও সোজা। এ জাত হেক্টরে গড়ে ৮.৪ টন ফলন দেয়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরে ৯.৩ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৭ সেন্টিমিটার। এ জাতের গাছের কা- শক্ত। তাই গাছ লম্বা হলেও হেলে পড়ে না। এর দানা লম্বা ও চিকন। এর পাতা হালকা সবুজ রঙের। ডিগপাতা খাড়া এবং ব্রি ধান ২৯-এর চেয়ে প্রশস্ত। এ ধান পাকার সময় কা- ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩.৪ গ্রাম। এ জাতের ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬ ভাগ। ব্রির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

দিনাজপুরে ধান কাটা শুরু
                                  

মো. নূর ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ধান কেঁটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে।
জেলায় বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা যায়, বাংলা সনের আশ্বিন শেষ কার্তিক শুরু হতে না হতেই চারিদিকে আগাম জাতের আমন ধান কাঁটা শুরু হয়েছে। তবে যে সকল মাঠ উচু এবং আগাম জাতের আলু রোপন করার মতো জমি। সেই সকল জমিতে আগাম জাতের আমন ধান কাঁটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। সেই সাথে গৃহিনীরাও বাড়ির আঙ্গিনা ও উঠান তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তা সাথে কথা হলে তিনি জানান, কৃষকেরা গত বছরের চেয়ে সঠিক সময়ে ধান চাষ করায় বর্তমান মৌসুমে আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অভয়নগরে বোরো বীজ ধানের সংকট
                                  

অভয়নগর থেকে সিরাজুল ইসলাম: অভয়নগর উপজেলা ৮টি ইনিয়নে বোরো মৌসুমের শুরুতে বীজ ধানের সংকট দেখা দিয়েছে প্রকট ভাবে। কৃষকরা বীজ ধান না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। নওয়াপাড়া বাজারের সব বীজ ডিলারদের ঘরে খোজ নিয়ে জানা যায় প্রতিদিন শতাধিক কৃষক বীজ ধান কিনতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। সময়মতো বীজ না পেলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ ব্যহত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আমন ধান কাটার পরে বোরো মৌসুমের বীজ তলা তৈরীর কাজ শুরু হয়ে যায়। কিছু জমিতে সরিষার চাষ হয়ে থাকে। সরিষা ওঠার পরে বোরো ধানের চাষ করা হয়। এ ব্যাপারে ডিলার আব্দুর রব জানান, আমি অগ্রিম টাকা দিয়েছি বীজ ধানের জন্য ব্যাবীলন কোম্পানীকে। তারা আমার টাকা ফেরত দিয়েছে। আর জানিয়েছে বীজ ধান নেই। ডিলার ওসমান গণি জানান, আমার ঘরে অল্প কিছু মদিনা ওয়ান হাইব্রিড ধানের বীজ আছে। হিরা কোম্পানী, এসিআই কোম্পানী, লালতীর কোম্পানী, গ্রীনল্যান্ড কোম্পানীর সকল হাইব্রিড ধানের বীজের সংকট বলে জানিয়েছে। যার ফলে উন্নতমানের ধানের বীজ কৃষকের মাধ্যমে সাপ্লাই করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা, যাতে অতি সত্তর হাইব্রীড উন্নতমানের ধানের বীজ ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কোম্পানীর কয়েকজন মার্কেটিং সেলস্ ম্যান জানান, হাইব্রীড ধান কিছু আছে আমরা বেছে বেছে কিছু ডিলারদের সাপ্লাই দিচ্ছি।

লংগদুতে কৃষি প্রনোদনা প্রদান
                                  

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির লংগদুতে ২০১৮-১৯ মৌসুমে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৭০ জন কৃষকের মাঝে প্রনোদনা হিসেবে ধানবীজ ও সার বিতরণ করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজনে সকালে এ সকল উপকরণ বিতরণ উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন,বর্তমান সরকার কৃষি বান্বব সরকার। এ সরকার কৃষকদের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক,সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিলন কান্তি দত্ত, স্থানীয় কৃষক ও ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

সভা শেষে অতিথিবৃন্দ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৭০ জন কৃষান কৃষাণির মাঝে প্রতি জনকে সল্প মেয়াদী ফলনশীল ৫ কেজি ধানবীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিওপি সার বিতরণ করেন। এছাড়াও এসকল ধানবীজ রোপনের পরবর্তী সময়ে আগাছা পরিষ্কার ও সেচ প্রদানের জন্য কৃষকদের স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে ৫০০ ও ১০০০ টাকা হারে প্রদান করা হবে।


   Page 1 of 4
     কৃষি
১ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে না মুলা; কৃষকের মাথায় হাত
.............................................................................................
যেভাবে একই সাথে চাষ করবেন মাছ ও মুরগি
.............................................................................................
আগামী মৌসুমে বোরো আবাদ ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানো হবে : কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
নওগাঁয় করলা চাষে সফল কৃষক জলিল
.............................................................................................
বায়োফ্লক : বাংলাদেশে দ্রুত বাড়াতে পারে মাছ উৎপাদন
.............................................................................................
নোয়াখালীতে পতিত জমিতে ব্রি ধান-৫৪ চাষে সফল কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ
.............................................................................................
সফল মৌ চাষি মনিরুল
.............................................................................................
মীরসরাইয়ে আউশের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
রাজৈরে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বিক্রয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকেরা
.............................................................................................
লটকনের বাম্পার ফলন: নরসিংদীতে চাষীর মুখে আনন্দের হাসি
.............................................................................................
নরসিংদীতে সবজির ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি
.............................................................................................
সমন্বিত সবজি চাষে সচ্ছল কৃষক
.............................................................................................
উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
.............................................................................................
দিনাজপুরে ধান কাটা শুরু
.............................................................................................
অভয়নগরে বোরো বীজ ধানের সংকট
.............................................................................................
লংগদুতে কৃষি প্রনোদনা প্রদান
.............................................................................................
হাওরে ছত্রাকজনিত ব্লাস্টের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক
.............................................................................................
ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ নিয়ে বিপাকে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক
.............................................................................................
ছাতকে টমেটো চাষে সফল ‌‌টমেটো বক্কর
.............................................................................................
পলাশে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি
.............................................................................................
বরিশালের সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প এখন কৃষকের গলার কাঁটা
.............................................................................................
বরিশালে আমড়ার বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পার্বতীপুরে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
.............................................................................................
পার্বতীপুরে আগাম হাইব্রীড এসিআই আমন ধান কাটা শুরু
.............................................................................................
পাট নিয়ে বিপাকে নীলফামারীর চাষিরা
.............................................................................................
পাটের মূল্য ২হাজার ৫শত টাকার দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন
.............................................................................................
পাটের বাম্পার ফলন: পাবনায় ফিরে আসছে পাটের হারানো ঐতিহ্য
.............................................................................................
ছাতকের মানিকপুরে লিচুর বাম্পার ফলন
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় লিচু উৎপাদনে বিপর্যয়; চাষীরা বিপাকে
.............................................................................................
ভুরুঙ্গামারীতে কৃষক ফলন দিবস অনুষ্টিত
.............................................................................................
নিম্নমানের বীজ: ডিমলায় সহস্রাধিক বিঘা জমিতে ভুট্টার গাছ আছে, দানা নেই
.............................................................................................
নোয়াখালীর হাতিয়া ও সূবর্ণচরে অর্ধলক্ষ হেক্টর রোপা আমন নষ্ট
.............................................................................................
ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সোনালী ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ
.............................................................................................
পাবনায় এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
.............................................................................................
ছাতকের লিচুর গ্রাম মানিকপুর: বাম্পার ফলনে খুশি চাষীরা
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে পাউবো’র দূর্নীতিতে তলিয়ে গেছে ২হাজার কোটি টাকার ফসল
.............................................................................................
দেশে আলুর বাম্পার ফলন কোটি টন উৎপাদন সম্ভাবনা
.............................................................................................
ধানের দাম কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা
.............................................................................................
নাটোরে মসুরের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
বোদায় পিয়াজ চাষ বৃদ্ধি পেয়ে
.............................................................................................
চন্দনাইশে আলুর বাম্পার ফলন
.............................................................................................
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বারটি গ্রামে বোরো আবাদ অনিশ্চিত
.............................................................................................
মানসম্মত রেনুর ঘাটতি: গলদার উৎপাদন ব্যাহত
.............................................................................................
আমন ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই
.............................................................................................
কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবিতে মানববন্ধন
.............................................................................................
শেষ সময়ে আলুর দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
.............................................................................................
আধুনিক বোরো ধানের চাষ
.............................................................................................
ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর কলাকৌশল
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT