রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   পরিবেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
এশিয়ার সবচেয়ে বিষধর সাপ উদ্ধার ঝিনাইদহে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ধানক্ষেতের মোটরহাউসে আটকাপড়া এশিয়ার দুটি সর্বাধিক বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে চট্টগ্রামের ভেনমরিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তারা সাপ দুটি উদ্ধার করে। বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপার চতুড়া গ্রামের ধান ক্ষেতের মোটরহাউসে সাপ দুটিকে দেখতে পেয়ে শৈলকুপার নেচার অ্যান্ডওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার আবীর হাসান চট্টগ্রামের ভেনমরিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তাদের জানান। পরে তারা সাপ দুটি মোটরহাউস থেকে উদ্ধার করেন।

আবীর হাসান জানান, এ অঞ্চলে বিষধর কমন ক্রেইট প্রজাতির সাপ দেখতে পাওয়া যায়, এ সাপ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বাধিক বিষধর সাপ বলে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে এই সাপকে কালাচ বলা হয়। তবে ঝিনাইদহসহ এ অঞ্চলে এ সাপকে কানন বোড়া বলা হয়ে থাকে। ইংরেজিতে এ সাপের নাম কমন ক্রেইট।

চট্টগ্রামের ভেনমরিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস জানান, বেশিরভাগ সময় আত্মরক্ষার্থে গোখরা কামড় দেয় তবে বিষ ঢালে না। কিন্তু এই কালাস বা কমন ক্রেইট সাপের শতভাগ কামড়েই বিষ ঢালে। আর তাদের কামড় সাধারণত ভুক্তভোগীরা টের পায় না। কারণ, এই সাপগুলোর কামড়ের দাগ বা রক্তপাতের জ্বালাপোড়া করে না। ফলে নীরব ঘাতকের মতো এই সাপের কামড়ে মানুষ দ্রুত মারা যায়।

এই জাতীয় সাপের ফনা থাকে না, দেখতে কালোর উপরে সাদা চক্র থাকে। চক্রগুলো গলার নিচ থেকে লেজ পর্যন্ত হয়। এরা ইঁদুর বা খাবারের খোঁজে লোকালয়ে মানুষের ঘরে চলে আসে আর ঘুমন্ত মানুষ বেশি কামড়ের শিকার হয়। প্রায়ই শৈলকুপাসহ নানা এলাকায় এ সাপের কামড়ে মৃত্যু ঘটছে বলেও জানান তিনি। উদ্ধার করা সাপ থেকে ভেনম নিয়ে বাংলাদেশে এন্টি ভেনম বানানো হচ্ছে, যেটা সরকারিভাবে ফ্রি দেওয়া হবে।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

এশিয়ার সবচেয়ে বিষধর সাপ উদ্ধার ঝিনাইদহে
                                  

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ধানক্ষেতের মোটরহাউসে আটকাপড়া এশিয়ার দুটি সর্বাধিক বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে চট্টগ্রামের ভেনমরিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তারা সাপ দুটি উদ্ধার করে। বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপার চতুড়া গ্রামের ধান ক্ষেতের মোটরহাউসে সাপ দুটিকে দেখতে পেয়ে শৈলকুপার নেচার অ্যান্ডওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার আবীর হাসান চট্টগ্রামের ভেনমরিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তাদের জানান। পরে তারা সাপ দুটি মোটরহাউস থেকে উদ্ধার করেন।

আবীর হাসান জানান, এ অঞ্চলে বিষধর কমন ক্রেইট প্রজাতির সাপ দেখতে পাওয়া যায়, এ সাপ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বাধিক বিষধর সাপ বলে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে এই সাপকে কালাচ বলা হয়। তবে ঝিনাইদহসহ এ অঞ্চলে এ সাপকে কানন বোড়া বলা হয়ে থাকে। ইংরেজিতে এ সাপের নাম কমন ক্রেইট।

চট্টগ্রামের ভেনমরিসার্চ সেন্টারের প্রশিক্ষক বোরহান বিশ্বাস জানান, বেশিরভাগ সময় আত্মরক্ষার্থে গোখরা কামড় দেয় তবে বিষ ঢালে না। কিন্তু এই কালাস বা কমন ক্রেইট সাপের শতভাগ কামড়েই বিষ ঢালে। আর তাদের কামড় সাধারণত ভুক্তভোগীরা টের পায় না। কারণ, এই সাপগুলোর কামড়ের দাগ বা রক্তপাতের জ্বালাপোড়া করে না। ফলে নীরব ঘাতকের মতো এই সাপের কামড়ে মানুষ দ্রুত মারা যায়।

এই জাতীয় সাপের ফনা থাকে না, দেখতে কালোর উপরে সাদা চক্র থাকে। চক্রগুলো গলার নিচ থেকে লেজ পর্যন্ত হয়। এরা ইঁদুর বা খাবারের খোঁজে লোকালয়ে মানুষের ঘরে চলে আসে আর ঘুমন্ত মানুষ বেশি কামড়ের শিকার হয়। প্রায়ই শৈলকুপাসহ নানা এলাকায় এ সাপের কামড়ে মৃত্যু ঘটছে বলেও জানান তিনি। উদ্ধার করা সাপ থেকে ভেনম নিয়ে বাংলাদেশে এন্টি ভেনম বানানো হচ্ছে, যেটা সরকারিভাবে ফ্রি দেওয়া হবে।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

গাছ লাগাও জীবন বাঁচাও
                                  

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৃক্ষের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বলেছেন, - ‘আমরা যেমন স্নান করি এবং শুভ্র বস্ত্র পরিধান করি, তেমনি বাড়ির চারপাশে যত্ন পূর্বক একটি বাগান করে রাখা ভদ্র প্রথার একটি অবশ্য কর্তব্য অঙ্গ হওয়া উচিত।’ পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টি এম দাস ১৯৭৯ সালে পূর্ণবয়স্ক একটি বৃক্ষের অবদানকে আর্থিক মূল্যে বিবেচনা করে দেখান, ৫০ বছর বয়সী একটি বৃক্ষের অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার (সূত্র: ইন্ডিয়ান বায়োলজিস্ট, ভলিউম-১১, সংখ্যা ১-২)

  প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক  মোতাহের হোসেন চৌধুরী জীবনাদর্শনের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছেন সজীব বৃক্ষকে। কারণ মানবজীবনের আদর্শ হিসেবে বৃক্ষের মত জীবন্ত উপমা আর নেই। এটির কাজ শুধু মাটির রস টেনে নিয়ে নিজেকে মোটাসোটা করে তোলা নয়,  এটিকে ফুল ফোটাতে হয়, ফুল ধরাতে হয়। তিনি আরও বলেছেন- বৃক্ষের ন্যায় মানুষকেও জগতের কল্যাণে নীরব ধূপের মত নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার সাধনা করতে হবে।

 আমাদের জীবন ও জীবিকার জন্য গাছগাছালির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এটি সমগ্র প্রাণীকুলের খাদ্যের যোগান দেয় এবং সুবিশাল শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে উত্তপ্ত ধরণীকে শীতল রাখে। গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে আমাদের উপকার করে তা নয়। বড় বৃক্ষ বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যেখানে বড় গাছপালা থাকে,  সেখানে নদী ভাঙ্গনের হারও কমে যায়। এছাড়াও বৃক্ষরাজি  বন্যা, জলোচ্ছ্বাস,  খরা, ঘূর্ণিঝড়,  অতিবৃষ্টি প্রতিরোধ করে,  জীববৈচিত্র টিকিয়ে রাখে। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। এটি মানুষের খাদ্য, ঔষধ, গৃহ নির্মাণ, মাটির ক্ষয় প্রতিরোধ, জ্বালানি, আবহাওয়া ও জলবায়ু সঠিক রাখা, কৃষি জমির উৎপাদন বৃদ্ধি করা,  কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূরীকরণে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লেখার কাগজ, কর্ক, রবারসহ রাশি রাশি জিনিসপত্র আমরা বৃক্ষ থেকে পেয়ে থাকি।

  আমাদের দেশকে সুজলা-সুফলা, শস্য- শ্যামলা বলা হলেও বৃক্ষের প্রতি আমাদের রয়েছে চরম অনীহা।  বিশেষজ্ঞদের মতে,  পরিবেশের ভারসাম্য ও সুষম জলবায়ুর প্রয়োজনে একটি দেশের মোট আয়াতনের অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। ডব্লিউআরআই এবং জিএফওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০১০ সালে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ হেক্টর, যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থার আশু পরিবর্তণ আবশ্যক। বৃক্ষ নিধন, বন উজাড়,  পরিবেশের বিপর্যয়ের জন্য আজকাল বজ্রপাতে লোক মারা যাচ্ছে। মানুষের জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে ধ্বংশ হচ্ছে বনভুমি।  প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে অনেক পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে হচ্ছে সর্বহারা।

মানুষ না থাকলে গাছের কোন অসুবিধা হতো না, কিন্তু বৃক্ষরাজি না থাকলে মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত।বৃক্ষের প্রয়োজনে নয়,  আমাদের প্রয়োজনেই গাছ লাগাতে হবে। বাড়ির পাশে, রাস্তাঘাট, পরিত্যক্ত জায়গা, নদীর পারে, রেললাইনের দুইপাশে,  বাঁধের ধারে, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা বৃক্ষ রোপন করতে পারি। শহর অঞ্চলের বাসাবাড়ির ছাদগুলোকে যদি একটু সবুজ করা যায়,তাহলে শহরের তাপমাত্রা কমে যাবে। ছাদের বাগান বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে পারে এমনটাই বলছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

পরিবেশ বা বৃক্ষ রোপন নিয়ে আমাদের উদ্যোগ ক্লাসরুম, সেমিনার, সভা-সমিতির  মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না, প্রয়োজন তার বাস্তব প্রতিফলন।  পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। করোনার এ সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এটা তাদের জন্য আরো উপযুক্ত সময় বলে আমি মনে করি। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পৃথিবীর প্রায় দেশে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই বাড়ির কোণ বা ছাদে ফলমূল, শাক-সবজি গাছ লাগিয়ে; পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে  দেশের অর্থনীতিতেও আমরা অবদান রাখতে পারি।

- মোঃ মারুফ হোসেন
শিক্ষার্থী, ধর্মতত্ত্ব অনুষদ,  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

লক্ষীপুরে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার ছড়াছড়ি
                                  

নাজিমউদ্দিন রানা: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর উভূতি ও আঁধার মানিক নামক স্থানে অবাদে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটা স্থাপনের প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটাগুলোতে বেশীর ভাগ জ্বালানো হচ্ছে নানা প্রজাতির বৃক্ষাধি। যাতে একদিকে কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে অন্যদিকে নিধন হচ্ছে মূল্যবান গাছপালা আর জ্বলছে ফসলীয় জমি। অভিযোগ রয়েছে ইটভাটা মালিক সমিতির যোগসাজসে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোয়াখালী অঞ্চলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে বাংলা ইটভাটা স্থাপনে মালিকদের সহযোগীতা করেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, আঁধার মানিক পূর্ব এলাকায় মেসার্স খোরশেদ এন্ড হুমায়ন ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারিং এ ফিল্ডে একটি বাংলা চিমনী ইটবাটা, এবং একই এলাকায় আধারমানিক নামক স্থানে একই নামে আরেকটি বাংলা ইট ভাটা মোঃ খোরশেদ আলম এন্ড হুমায়ুন ব্রিকস্ নামের এই দুইটি বাংলা ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একই মালিক পক্ষের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়াও ওই এলাকায় অবাধে চলছে বিভিন্ন নামের বাংলা ব্রিকস্ ইট ভাটা।

কাঠ পোড়ানোর এসব ইটভাটার মালিকদের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ কেউ জানান ছাড়পত্র প্রক্রিয়াধীন আছে, আবার কেউ বলেন ছাড়পত্র পেয়েছি। পরিবেশের ক্ষতি বা দূষণ যেন না হয় সে জন্য অধিদপ্তর  ছাড়পত্র দেয় ব্রয়লার অথবা জিকজাক ইটভাটা স্থাপনের জন্য। কিন্তু যারা ছাড়পত্র পেয়েছেন বা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন, তারা কিভাবে বাংলা ইটভাটা স্থাপন করেছেন, এসব প্রশ্নের জবাব কেউ দিতে পারেননি। তাদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসব ইট ভাটা পরিদর্শন করে যায়, তাতে কোন অসুবিধা হয়না।

যদিও ১৯৯৫ইং সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করা আছে, কিন্তু উৎকোচ বিনিময় প্রথা চালু থাকার কারণে এসব আইনের কোন কার্যকারিতা নেই। অথচ এই আইনে পরিবেশ দূষণকারীদের জন্য কারাদন্ড ও অর্থদন্ডেরও বিধান আছে। তাই এলাকাবাসীর দাবী পরিবেশ বিপর্যয় হতে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শব্দ দূষণ মানব দেহের জন্য নিরব ঘাতক
                                  

মো: হাসিবুর রহমান: সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব একটি সুন্দর নির্মল পরিবেশ। বিশ্বব্যাপী আজ পরিবেশ দূষণ সমস্যা ও তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া এক প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সমগ্র মানব জাতির জন্য ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা, সেই সাথে বাংলাদেশেও তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রমাগত পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীর জীব-বৈচিত্রের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। মানবজাতি নিজেদের প্রয়োজনে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ-বিলাসিতার জন্য প্রকৃতিকে ধ্বংসের ফলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা আজ অসহনীয় পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধূয়া, বিষাক্ত র্বজ্য, শব্দ ও যানবহনের কালো ধূয়ার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে মানব দেহে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। মানব দেহে শব্দের সহনশীল মাত্রা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ ডেসিবল পর্যন্ত। কিন্তু যানবাহনের উচ্চ শব্দ ও হাইড্রোলিক হর্ণের শব্দের মাত্রা ১২০ থেকে ১৮০ ডেসিবল পর্যন্ত হতে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ও বর্তমান সরকার হাইড্রোলিক হর্ণের উপর সর্বোচ্চ নিষেদ্ধাজ্ঞা জারী করেছে ও কার্যক্রম ভুমিকা পালনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবু দেখা যায় কিছু কিছু ট্রাক ও বাসে আজও হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার অব্যাহত আছে। এক সমীক্ষায় জানা যায় যে, কোন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত ৮ ঘন্টা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবল মাত্রার শব্দের মধ্যে বসবাস করে তবে সে ২৪ বছরের মধ্যে বধির হয়ে যাবে এবং ১২৫ ডেসিবল মাত্রার শব্দের মধ্যে বসবাস করে তবে মস্তিকে ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে। এছাড়া র্নাভ সিস্টেম প্রংিতক্রিয়ায় হৃদরোগ, মানসিক ভারসাম্য ও লিভার সেরোসিস হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে ধাবিত হতে পারে। দেখা যায়, এয়ার র্পোট কিংবা রেললাইনের সন্নিকটে বসবাসকারী জনগোষ্টির অনেকেই হৃদরোগ ও ঘুমের ব্যঘাত জনিত রোগে ভোগে। তাই অতি সহজেই বোঝা যায় যে, উচ্চ শব্দ মানব দেহে কি পরিমাণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। শহরের বহু বিপনীতে, রেকডিং সেন্টারে ও বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনের উচ্চ শব্দে মাইকিং এর কারণে সৃষ্ট শব্দ দুষণ মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সুজলা শ্যামলা গ্রাম বাংলা আজ ব্যস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে। তাই বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জের আবাসিক এলাকায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মাইকে উচ্চস্বরে বিজ্ঞাপনের শব্দ ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য মাইকিং তথা মাইকের ভলিয়ম বাড়িয়ে সবার দৃষ্টি আর্কষণ করে। শ্যালো মেশিনদ্বারা তৈরীকৃত অবৈধ নছিমন, করিমন আর ফিটনেস বিহীন বাস-ট্রাক, ট্রাকটরের শব্দে গ্রামবাসী আজ অতীষ্ট। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক শব্দ দুষণ এর জন্য আইন আছে কিন্তু বাস্তবে তার তেমন কোন প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন বেড়েই চলছে উচ্চশব্দে মাইকিং ও নছিমন-করিমনের দৌরাত্ম্য। উচ্চশব্দে মাইক বাজানোর শব্দ দূষণে অতিদ্রুত শিশুদের শ্রবণ সমস্যা দেখা দেয়। কানের রোগে আক্রান্ত হয়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সম্যসা হয়। তাছাড়া অসহনীয় উচ্চস্বরে মাইকিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে। তাই অবিলম্বে শব্দ দুষণ রোধে যথাযথ আইনের প্রয়োগ করে নিয়ম বর্হিভূত এসব মাইকিংসহ শ্যালো মেশিদ্বারা তৈরীকৃত নছিমন ও করিমন বন্ধ করা প্রয়োজন। তাছাড়া, বড় বড় ইমারত তৈরী করার সময় মেশিনে ইট ভাংগানো হয় এবং পাথর ভাংগানোর শব্দে কর্মরত শ্রমিকদের শ্রবণশক্তি ও ধীরে ধীরে জীবনীশক্তি কমে যায়। তাই বলা যায় এই কোলাহলপূর্ণ শব্দ দুষণ এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য এ যেন এক অশনি সংকেত, এ যেন এক নিরব ঘাতক।

আকস্মিক উচ্চ শব্দের ফলে মানব দেহে উচ্চ রক্তচাপ, মাংসপেশীর খিচুনী, হজম শক্তির ব্যাঘাতসহ হৃদপিন্ডের কম্পন শিশুদের মানসিক ভারসাম্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, প্রসূতি মায়ের গর্ভে ভ্রুণের জন্য শব্দ দুষণ মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে। শব্দ দুষণ প্রতিরোধে সরকারিভাবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া, সুস্থ্য পরিবেশ রক্ষায়, শব্দ দূষণরোধে ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজের সকলস্তরের জনসাধারনের সম্পৃক্ততা ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের জন্য একটি সুস্থ্য পরিবেশ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান প্রজন্মের পক্ষ থেকে সঠিক দিক-নির্দেশনা তৈরী করে পরিকল্পিতভাবে একটি টেকসই পরিবেশ তৈরী করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক।

বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ গত আট লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। যার জন্য দায়ী মানব সমাজের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও ‘এল নিনো’র উষ্ণতা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, একক বছর হিসেবে ২০১৬ সালে বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি পরিমাপ করা হয়েছে। গত ১০ বছরে গড়ে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি পেয়েছে তার তুলনায় গত বছরের পরিমাণ ছিল ৫০ শতাংশ বেশি।

নতুন তথ্য দেখে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রার পরিমাণ কমিয়ে আনার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা অর্জন করা অসাধ্য হবে। বিশ্বের ৫১টি দেশ থেকে সংগ্রহ করা উপাত্তের ভিত্তিতে গ্রিনহাউজ গ্যাস বিষয়ক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডব্লিউএমও। সেখানে কার্বন ডাই অক্সাইডের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে জমা হওয়া মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৫ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব ছিলে ৪০০ পিপিএম (প্রতি ১০ লাখে কত কণা)। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে হয়েছে ৪০৩.৩ পিপিএম।

গবেষক দলের প্রধান ড. ওকসানা তারাসোভা বলেন, “৩০ বছর ধরে চালানো পর্যবেক্ষণে এটাই হচ্ছে এখন পর্যন্ত পাওয়া সর্বোচ্চ বৃদ্ধির নজির। এর আগে ১৯৯৭-৯৮ সালে সবচেয়ে বেশি ২.৭ পিপিএম বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবার এর পরিমাণ ৩.৩ পিপিএম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ বরফযুগের শেষদিকে বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড ছিল, গত ৭০ বছরে তার উপস্থিতি ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র: বিবিসি

বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ নদীভাঙন: পর্ব- ২
                                  

বশীর আহমেদ
প্রকৃতি তার বিচিত্র খেয়ালে বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বিশাল ভারতীয় এলাকাকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে একই ভৌগলিক বৈশিষ্টের অধিকারী করেছে। এমন বৈশিষ্ট বিদ্যমান আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যে। এলাকাগুলো যুগপৎ সাগর সংলগ্ন এবং উল্লেখযোগ্য ভাবে সমতল। বাংলাদেশের সমতল ভূমির উচ্চতা সাগর সমতলের মাত্র কুড়ি মিটারের মধ্যে যা নদীতে পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে গড়পড়তা দশ মিটারে কার্যকর প্রভাব রাখে। ভূমি সমতলের এ অনন্য বৈশিষ্ট প্রতি বর্ষায় দেশের প্লাবন এলাকা এবং নদীর বুকে ছড়িয়ে দেয় কোটি কোটি টন পলিমাটির পাহাড়। নদীগুলো আছে আগের জায়গায় এবং ক্রমাগত ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। তথাপি প্রধান নদী পদ্মা-যমুনা এবং মেঘনাতে পরিবাহিত হয় বাংলাদেশ ভূখন্ডের দশ গুণ অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকার নির্গমিত পানি। নদীগুলোর পানি প্রবাহের এ সক্ষমতা বাংলাদেশসহ ভারত, চীন, তিব্বত তথা সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

পাহাড়ী উপত্যকা এবং কঠিন শীলাবিহীন নরম পলিমাটির তলদেশ নিয়ে সমতল ভূমিতে গড়িয়ে চলা পদ্মা-যমুনা এবং মেঘনায় পানির ¯্রােত বছরের বড় একটি সময় প্রায় নিথর হয়ে পড়ে। ভূখন্ডের অতি সমতল প্রকৃতিই নদীর প্রবাহ স্তিমিত করার অন্যতম কারণ। এ হল গোটা বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির স্বাভাবিক ধরণ। গ্লোবাল ওয়ার্মিং সাগরের স্ফিতি বাড়ালে অতি সমতল ভূমিতে গড়া বাংলাদেশের বিশাল এলাকা জলমগ্ন এবং প্রলয়ঙ্করী ঝড়-জলোচ্ছাসের ঝুঁকিতে পড়বে। এই ভূ-পরিবেশে যুগ যুগ ধরে মানুষ বসবাস করে আসছে এবং অতি সমতলের খাঁড়া এদেশকে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বন্যা-প্রবণ এলাকার পরিচিতি। বস্তুত বাংলাদেশে বাৎসরিক বন্যা যেন এক ‘স্বাভাবিক’ ঘটনা এবং বলা যায় প্রকৃতির নিয়ম মাফিক প্রবৃত্তিগত আচরণ।

বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অতি সমতল এই ভূ-প্রকৃতি নদী-ঢালের মাত্রা সীমিত রাখায় নদীবক্ষে প্রবাহমান পানি খরস্রোতা হতে পারে না। যেমন প্রধান নদী যমুনায় নদী-ঢালের মাত্রা প্রায় ০.০০০০৭৭, সাগরে পতিত হওয়ার আগে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ০.০০০০৫৫। নদী-ঢালের নিচু মাত্রা নদীর তলদেশে পলি-ভরাট ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং নদী-ক্যানালগুলোকে বাধ্য করেছে নাব্যতা হারাতে । এতে বর্ষাকালীন তীব্র স্রোত পাড় ভেঙে গ্রাস করে জনবসতি ও ফসলের মাঠ। এ হ’ল সেই ‘নদী-ভাঙন’ যা মুর্তিমান আতঙ্ক হয়ে আছে এদেশের চিরকালীন জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে।
অপরদিকে, বাংলাদেশের প্রায় ১৬২ মিলিয়ন জনসম্পদ যা সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে যুক্তরাষ্টের প্রায় অর্ধেক এবং রাশিয়ার প্রায় সমান, এরা বসবাস করে ১ লাখ ৩৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এক অতি সমতল ভূখন্ডে। জনসংখ্যার গড় ঘনত্ব বিষ্ময়করভাবে প্রতি কিলেমিটারে প্রায় ১ হাজার ২শ যা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫শ জন। এ সংখ্যা কিলোমিটার প্রতি ভারতে প্রায় ৩শ ৫০, চীনে প্রায় ১শ ৪০ এবং জাপানে প্রায় ৩শ ৪০ জন। বিপুল বিশাল এই জনসংখ্যার যাবতীয় চাহিদার সর্বশেষ পরিণতিও এসে গড়ায় সমতলে প্রবাহমান নদীর বুকে এবং বলাবাহুল্য, নদী ভরাট প্রক্রিয়ায় তা বিশেষভাবে অবদান রাখে।
     
ভূমি-সমতলের এরুপ কৌশলী প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা আর তা থেকে সৃষ্ট বাৎসরিক বন্যার সাথে জনসম্পদের ক্রমাগত দূষণক্রিয়ায় ভারাক্রান্ত নদী বদলায় তার গতিপথ। নদীর বিধংসী অবস্থান বদলের সাথে নিশ্চিহ্ন হয় নদীপাড়ের সব কিছু। এতে কপাল ভাঙ্গে দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের যারা মূলত: কৃষিকাজে জীবন চালায় এবং যাদের শতকরা ৮০ ভাগের বসবাস গ্রামীন এলাকায়।

১৯৭৯-৮০ সালে আসাম থেকে পলিমাটি প্রবাহের ব্যাপক ঢল নামে। থেরেসা ব্লানচেট নামের এক ফরাসী অ্যানথ্রোপোলজিষ্ট সে সময় সিরাজগঞ্জের যমুনা বিধৌত গামারিয়া গ্রামে অবস্থান করেছেন। পলিমাটির স্তুপে ভারাক্রান্ত যমুনা সে বছর বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং গামারিয়া গ্রাম নদী ভাঙনের শিকার হয়। বসতবাড়ী, মসজিদ, কবরস্থান, বাঁশবাগান গ্রাস করে যমুনা। গ্রামবাসীর কথায় - ‘সব কিছু গিলে ফেললো পাগলা নদী’। ‘৮০ সালের সে নদী ভাঙনে সহায় সম্বলহীন মানুষদের শতকরা ৪০ ভাগ পরে রাজধানী ঢাকা শহরে বস্তিবাসী হন। গামারিয়ার হতভাগ্য সে মানুষদের স্মৃতিময় গ্রাম এবং বাড়ীঘর স্থায়ীভাবে আপন উদরে স্থান দেয় রাক্ষুসে নদী যমুনা।

নদী ভাঙছে এবং গতিপথ বদলাচ্ছে আদিকাল থেকে। প্রায় ৩শ বছর আগে জনসংখ্যা সীমিত থাকায় জনবসতি ও আবাদের জমি ছিল সহজলভ্য। আর ছিল অনাবাদি জমি এবং তাতে ব্যাপক ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চল। সে সময় গড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার চওড়া যমুনা নদীর নব্যতা ছিল অতস্পর্শী এবং পানি ধারণের ক্ষমতায় পরিপূর্ণ। বর্ষায় বানের পানি গোটা দেশকে প্লাবন ভূমি বানালেও ব্যাপক বন আর ঝোপঝাড় বানের পানিকে সামলে  নিয়েছে অনেকটা স্পঞ্জের মত করে। দেড় শ’ বছর আগেও রাজধানী ঢাকার ৫০ মাইলের মধ্যে শোনা গেছে বাঘের গর্জন। আর এখন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশটিতে বাস করে প্রায় ১৬২ মিলিয়ন মানুষ। জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বিষ্ফোরণে দিশেহারা মানুষ জীবন বাঁচাতে শুকনো মৌসুমে বাধ্য হন ১২ কিলোমিটার চওড়া যমুনার বুকে ফসল ফলাতে। এ অবস্থায় বছরান্তের নিয়মিত বন্যা বিশেষ করে সম্পদ বিনাশী নদীভাঙন বছরের পর বছর ওলট-পালট করছে সবকিছু।

প্রধান নদীগুলোর ভাঙনপ্রবন প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটাই সম্ভবত বিশ্বে সর্ববৃহৎ নদীতীর সংরক্ষণের উদ্যোগ যা কতদিনে বাস্তবায়িত হবে তা কারো জানা নেই। ১৯৫০ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প পরবর্তী পলিমাটির প্রবাহ যমুনায় নির্গমিত হয়েছে অনেক আগে এবং নদীর প্রশস্ততা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। স্থায়ীভাবে নদীতীর সুরক্ষা কর্মসূচী সফল করতে এগিয়ে এসেছে দাতা সংস্থাগুলো এবং কাজ চলছে অনেকদিন থেকে। শুরুতে ব্যায়বহুল পাথুরে বোল্ডার অত:পর কংক্রিট ব্লক এবং পরিশেষে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উদ্ভাবিত কম খরচের প্রযুক্তিগত সহজ সমাধান ৭৮ এবং ১২৬ কেজির জিও স্যান্ডব্যাগ নদী ভাঙন প্রতিরোধে কাজে লাগানো হচ্ছে।

তথাপি নদী ভাঙছে প্রতিবছর, বিলীন হচ্ছে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কারিগরী কৌশলে গড়া সংরক্ষিত নদী-তীরগুলোর সাথে অরক্ষিত তটরেখা। হারিয়ে যাচ্ছে অন্ত:সীমান্তে প্রবাহমান নদী ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বাংলাদেশ অংশে ২শ ৭৬ কিলেমিটার, গঙ্গা-পদ্মার ১শ ২০ কিলোমিটার এবং অর্ধ-ডজন নদী বিধৌত মেঘনার দীর্ঘ প্রায় আড়াই শ’ কিলোমিটার এলাকায় নদীপাড়ের যাবতীয় সম্পদ। পলিমাটিতে ভারাক্রান্ত নদীবক্ষ পানি ধারণে অক্ষম হওয়ায় নদী অস্বাভাবিক ভাবে বাড়িয়ে চলছে তার প্রস্থ - যা গড়ে এখন প্রায় ১০ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৬শ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান তিন নদী তাদের ১০ কিলেমিটার চওড়া বুকে সাড়ে ছয় হাজার বর্গ কিলোমিটার ভূখন্ডের মধ্যে জবরদখল করে রেখেছে প্রায় ৪ হাজার বর্গ-কিলোমিটার ভূখন্ড।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার ভাঙন-প্রবণ ১ হাজার কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে নিরাপদ করার উদ্যোগ নেয়া হলেও ভাবা হয়নি নদীর বুকে ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে ঠিকানা হওয়া সব হারানো মানুষদের জমি-জিরাতের কথা। জন-বিষ্ফোরণে ইতোমধ্যে নাজেহাল বাংলাদেশ কি অপদখলীয় সে মূল্যবান ভূখন্ড চিরস্থায়ী দানছত্র করে দেবে রাক্ষুসে নদী পদ্মা-যমুনা আর মেঘনাকে? নদীতীর স্থায়ীভাবে সামলানোর পাশাপাশি তাই এখন বড় বেশি দরকার নদীর করাল গ্রাসে বিলীন সে সব জমি উদ্ধারের প্রযুক্তিগত সামর্থ্য খোঁজা। আর নদীকে বশে এনে বাধ্য করা নির্দিষ্ট পথে চলতে।

‘নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: নদী দখলদারদের সংখ্যা খুবই কম কিন্তু জনগণ অনেক বেশি। আমরা জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কাজ করি তাহলে তাদের হাত থেকে নদী রক্ষা করা সম্ভব। তাই নদী রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

‘দখল-দূষণমুক্ত প্রবহমান নদী, বাঁচবে প্রাণ ও প্রকৃতি’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ শনিবার চতুর্থবারের মতো পালিত হয়েছে নদীর জন্য পদযাত্রা। সকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে ৪২টি সংগঠনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথমে আলোচনা সভা ও পরে বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে সদরঘাটে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন’র (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে পদযাত্রায় বক্তব্য দেন জাতীয় নদী কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, রিভার কিপার অ্যালায়েন্স শরীফ জামিল, রিভাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, হাওড় আন্দোলন নেত্রী জাকিয়া শিশির প্রমুখ।

রিভার কিপার অ্যালায়েন্স শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন রিভাইন পিপল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন, ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ, হাওর অঞ্চলবাসী, জলপরিবেশ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল, ওয়াটার কমনস ফোরাম , গ্রিন সেভারস, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি, সবুজ পাতা ,নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনসহ ৪২টি সংগঠন।  

প্রধান অতিথি বলেন, ‘আমরা ক্রমান্বয়ে নদী থেকে দূরে সরে এসেছি, আমাদের আবার নদীর কাছেই ফিরে আসতে হবে। একা একা নয়, সবাই মিলে পায়ে পা মিলিয়ে ফিরতে হবে নদীর কাছে। পদযাত্রার মধ্য দিয়ে শানিত হবে নদী রক্ষার শপথ। একমাত্র নদী রক্ষার কাজে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়েই সতেজ নদী নিশ্চিত হতে পারে।’

ঢাকারবাসীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হলে সবার আগে ঢাকাবাসীকে সতর্ক হতে হবে। কেননা ঢাকাবাসী যদি তাদের গৃহস্থালি বর্জ্য নদীতে না ফেলে তাহলে বুড়িগঙ্গা দূষণ থেকে রক্ষা পাবে। অন্যথায় এক সময় বুড়িগঙ্গাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আন্তঃদেশীয় নদী রয়েছে ৫৪টি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সকল নদীকে গ্রেডিং করার কথা বলেছেন। গ্রেডিং করার মাধ্যমে সরকার দেশের নদীগুলোকে  প্রবহমান করার চেষ্টা করছে। সরকার গ্রীষ্ম মৌসুমে যমুনা নদী থেকে পানি এনে অন্য নদীগুলোর প্রবাহ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে।’

একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা
                                  

বশীর আহমেদ

‘রাক্ষুসী যমুনা নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল আবারো বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ছেই এবং বিপদসীমার কাছাকাছির দিকেই ধাবিত হচ্ছে। উত্তরের জনপদে অন্যান্য নদ-নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রংপুর বিভাগসহ উত্তর জনপদ চলতি মওসুমে তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে’ ...সহযোগী এক পত্রিকায় এ ছিল গত সোমবার প্রকাশিত খবর। বস্তুত. নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি বিশেষ করে প্রতি বর্ষার বানভাসি হরহামেশা মিডিয়ার নজর কাড়লেও এর অন্তরালবর্তী কারণ যে নদী ভাঙন তা খুব কমই খবর হয় মিডিয়ায়। সে যাই হোক, আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব রেডক্রস এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিজ একদা এক রিপোর্টে উল্লেখ করে ‘বাংলাদেশের ১০ লাখ মানুষ প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারায়। নদীর ছোবলে তাৎক্ষণিকভাবে সব হারানো এ মানুষগুলোর মাত্র অর্ধেক কালক্রমে সাময়িক ঘর দুয়ারের ব্যবস্থা করতে পারলেও বাকী অর্ধেকের ঘরে ফেরা হয় না আর কোনদিন।’ রিপোর্টে বলা হয় ‘সর্বগ্রাসী নদী গিলে ফেলে ভিটেমাটি, প্রধানত ফসলের জমি- যার পরিমান ফি বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। এ দুর্যোগ বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সমস্যা। নদী ভাঙ্গন সমাজ-অর্থনীতিতে মারাত্বক ধস নামায়, যদিও এ নিয়ে কাউকে জোর গলায় তেমন কিছু বলতে শোনা যায় না। অথচ এটা এক মানবিক দায়িত্ব।’ নদী ভাঙ্গনে মানুষ মারা যায় না এবং রাতারাতি এটা ঘটেও না। অভ্যস্ত চোখের সামনে ঘটে নিরবে, সময় নিয়ে- মৃদুগতির প্রাণসংহারী বিষক্রিয়ার মত। যে কারণে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য বিপদের তালিকায় নদী ভাঙ্গনের দুর্যোগটি থাকে সবার শেষে। যদিও ভয়ানক এ দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে জনসংখ্যা এবং ভূমির অনুপাত ক্রমশ: ভারসাম্যহীন করে তুলেছে।
গুরুত্ব বিচারে অন্য দুর্যোগের পাশে হালকা মনে হতে পারে নদী ভাঙ্গনের বিপদটি। অথচ এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আমরা দেখছি প্রতিনিয়ত। নদী গতিপথ বদলায় আর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলে জনবসতি এবং ফসলের জমি। ভিটেমাটি হারা উদ্বাস্ত জনস্রোত জীবন বাঁচাতে হয় শহরমুখি এবং সেখানে তারা গড়ে তোলে নতুন নতুন বস্তি। এ দুর্যোগ আবহাওয়ার প্যাটার্ন বদলে দেয় এবং বাৎসরিক বন্যার কারণ সৃষ্টি করে।
নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতা খুব অল্পই খবর হয় মিডিয়াতে। যদিও প্রতি বর্ষা মৌসুমে এটা এক নিয়মিত দুর্যোগের নাম। নদীর ভাঙ্গন বদলে দেয় তার গতিপথ এবং বাস্তহারা হয় লাখ লাখ মানুষ। চলার পথে নদী গিলে ফেলে ফসলের জমি, বসত বাড়ী, স্কুল, বাজার, মসজিদ, মন্দির- যা কিছু সামনে পায়। এটা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু প্রকৃতির সংহারী এ দুর্যোগটি অন্যতম জাতীয় দুর্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে না।
আগ্রাসী নদীগুলোর শীর্ষে রয়েছে আন্ত:সীমান্তে প্রবাহমান, আচরণে বিধ্বংসী নদী গঙ্গা এবং ব্রক্ষ্মপুত্র - বাংলাদেশে যাদের পরিচিতি পদ্মা আর যমুনা। পাবনা জেলার কাজিরহাট নৌ-বন্দরের ভাটিতে আরিচা-দৌলতদিয়া পয়েন্টে তারা এক হয়েছে পানির রঙ আলাদা রেখেই। প্রতি বছর এরা সম্পদ বিনাশ করে অনেকটা নিয়ম করে। তবে যমুনাই হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বসেরা সম্পদ-বিনাশী ভাঙ্গন-প্রবণ নদী। কেবল নামের ভিন্নতা ছাড়া ভারতেও এর বিনাশী আচরণ এমনটাই । বাংলাদেশে যমুনা নদীর বিস্তৃতি গড়পড়তা ৫ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভরা বর্ষায় এ নদী প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ কিউবিক মিটার পানি সঞ্চালন করে। এর বাৎসরিক বিধ্বংসী প্রবণতা এক চিরায়ত ঘটনা যা মারাত্বক আকার ধারণ করে আগষ্টের মৌসুমী বৃষ্টিপাতের সময়। যমুনা তখন দু’কূল ছাপিয়ে ৭ মিটার উচ্চতায় উঠে প্রলয়ঙ্করী রুপ নেয়। আর এটাই হ’ল এ নদীর গতিপথ ও আকার বদলাবার চলমান ধারা যা তাকে দুর্যোগ সৃষ্টির মহানায়ক হতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৭৬২ সালে এ অঞ্চলে সংঘটিত মারাত্বক ভূমিকম্পের প্রভাবে যমুনা গতিপথ বদলায়। ‘ময়মনসিংহ-ভৈরব’ রুট বদলিয়ে ঢাকা থেকে প্রায় দেড় শ’ কিলোমিটার পশ্চিম দিক দিয়ে সে হয় সোজা দক্ষিণমুখি। নতুন পথে গোয়ালন্দের ভাটিতে ভাগ্যকুলের কাছে যমুনা মিলিত হয় গঙ্গা ওরফে পদ্মা নদীর সাথে। কুড়ি শতকের মাঝে যমুনা নদীর প্রশস্ততা দাঁড়ায় গড়পড়তা প্রায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞের মতে, যমুনা নদী এক কিলোমিটার সরে যাবার অর্থ হ‘ল ১০ লাখ মানুষ সহায় সম্বলহীন হওয়া। তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভাঙ্গা বালি-মাটি মিশে যায় পানিতে। এমনিতেই যমুনার পানি হিমালয় অঞ্চলের তাবৎ পলিমাটি বহন করে। এ যেন দানব আকৃতির বৃহদাকার এক কনভেয়ার বেল্ট যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী থেকে নির্গমিত পানি আর পলিমাটি বঙ্গোপসাগরে বহন করে নেয়।
১৯৫০ সালের দ্য গ্রেট বেঙ্গল ভূকম্পন যা পৃথিবীর ইতিহাসে আজও সর্বোচ্চ কম্পনমাত্রার রেকর্ড নিয়ে আছে- নড়িয়ে দেয় হিমালয় পর্বতশ্রেণীকে। ভয়াবহ সে কম্পনে স্থানচ্যুৎ হয় হিমালয় অঞ্চলের বিশাল এলাকার ভূপৃষ্ঠ এবং প্রায় ৪৫ বিলিয়ন টন পলিমাটি নেমে আসে পানির সাথে ব্রক্ষ্রপুত্র অববাহিকায়। বিপুল বিশাল সে পলির স্তুপ ধীরে ধীরে জমতে থাকে নদীর বুকে স্থায়ীভাবে। প্রলঙ্করী সে ভূমিকম্প পরবর্তী চার দশক আসামের পান্ডু নদী বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন ভূমিকম্পের আবর্জনা বহন করেছে। বর্তমান পৃথিবীর সমুদয় বৃহদাকার কার্গো জাহাজ সম্মিলিত ভাবে এক বছরেও যা বহন করতে সক্ষম নয়।

ভূমিকম্পের পর পানিবাহিত বিপুলায়তন পলিমাটির এই হঠাৎ স্থানবদল যমুনা নদীর প্রশস্ততা বাড়াতে নাটকীয় ভূমিকা রেখেছে। পলিমাটির স্তুপ নদীর তলায় স্থায়ী আসন গেড়ে বসলে পানি বহনের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারায় যমুনা নদী এবং প্রশস্ততা বাড়াতে থাকে। এর পার্শ-প্রতিক্রিয়া দারুনভাবে বদলে দেয় নদী-তলদেশের গঠন প্রকৃতি। নদীর বুকে জেগে ওঠে বালুচর যা মূল প্রবাহকে প্রান্ত রেখার দিকে ঠেলে দিয়ে নদীর প্রশস্ততা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশাল যমুনার এ নি:শব্দ অবস্থান বদলের করুণ পরিণতিতে লাখ লাখ গরীব মানুষ সহায় সম্বলহীন হতে বাধ্য হন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যমুনা নদীর এই ভয়ানক স্বরুপ বদল এবং তার অসহায় শিকাররা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বার্ষিক পরিসংখ্যানে আজও উল্লেখহীনই থেকে গেছেন।

গাজীপুরে জয়দেবপুর পিটিআই-এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে জয়দেবপুর প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি-২০১৭ পালন করা হয়েছে।

২৩ জুলাই রবিবার দুপুর ১২টায় পিটিআই-এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ হাসানারুল ফেরদৌস একটি নিম গাছের চারা রোপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

পরে ওই প্রতিষ্ঠানের ইন্সট্রাক্টরদের মধ্যে আইরিন পারভীন, হাসিনা আফরিন, হোসনেয়ারা বেগম, হোসনে আরা বেগম, সুলতান উদ্দিন মোকামী, ফজলুল হক ভূঞা, নাজমুন নাহারসহ সকল ইন্সট্রাক্টর, কর্মচারী ও ডিপিএড-এর ২১৩জন শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা মাঠের বিভিন্ন স্থানে ২৫০টি ঔষধিগুন সম্পন্ন নিম গাছের চারা রোপন করেন।

বৃক্ষরোপন প্রসঙ্গে জয়দেবপুর পিটিআই-এর সুপারিন্টেনডেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ হাসানারুল ফেরদৌস বলেন, বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। বৃক্ষ শুধু প্রাকৃতিক শোভাই বর্ধন করে না, মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যা প্রতিরোধ করে, ঝড়তুফানকে বাধা দিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম।

তিনি বলেন, জয়দেবপুর পিটিআই-এ ইতিমধ্যে পরিবেশ বান্ধব ফলজ, বনজ, বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালাসহ অন্যান্য বৃক্ষ রয়েছে। এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মানিত সুযোগ্য মহাপরিচালক ডঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল মহোদয়ের উদ্যোগে সারা দেশে একযোগে ৪ লক্ষ গাছ লাগানোর কর্মসূচীর আলোকে জয়দেবপুর পিটিআই-এ ২৫০টি নিম গাছ লাগানোর প্রচেষ্টা গ্রহণ ও সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানি, নিম একটি ঔষধিগুন সম্পন্ন গাছ। এই গাছের পাতা, বাকল, ডালপালা মানুষের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় প্রভূত ভূমিকা পালন করে থাকে। ঘরের পোকা মাকড় দমনসহ ফসলের পোকা দমনেও এ গাছের ব্যবহার রয়েছে। এইসব দিক বিবেচনায় এই বছর পিটিআই-এ নিম গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। পিটিআই যেহেতু একটি শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সেহেতু শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে নিম গাছের ব্যবহার ও এর গুনাগুনের ধারণা হাতেকলমে শিক্ষা প্রদানসহ এই গাছ সমন্ধে ব্যাপক প্রচারণার কৌশল হিসেবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

পরিবেশ রক্ষায় ১০ বছর ধরে কাজ করছে চীনের কুকুর
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: চীনের জিয়ান সু প্রদেশের সু ঝোউ নদীতে সাতার কেটে ভেসে থাকা আবর্জনা বিশেষ করে প্লাস্টিকে বোতল অপসারণ করছে একটি কুকুর। প্রায় ১০ বছর ধরে কুকুটি সেচ্ছাশ্রমে নিরলসভাবে এ কাজ করে যাচ্ছে।

চীনের পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, কুকুরটি নদীতে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের বোত তুলে নির্দিষ্ট একটি ডাস্টবিনে এনে ফেলে দেয়। প্রতিদিন সে গড়ে ২০-৩০টি বোতল নদী থেকে তুলে আনে। এ পর্যন্ত সে ২ হাজারের বেশি প্লাস্টিক আবর্জনা তুলে এনেছে।

টুইটারে কুকুরটিকে নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মজা করে বলেছে, স্থানীয় সিটি করপোরেশন কুকুরটিকে কোনো ভালো পদে চাকরি দিলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। প্রকৃতির এই সেবক সভ্য মানব সমাজকে আবারো জানিয়ে দিল, মানুষ হিসেবে আমাদেরও পরিবেশ রক্ষায় অনেক কিছুই করার আছে।

অনেক পরিবেশবাদীরা আছেন, যারা শুধু গলাবাজি করে থাকেন। পরিবেশ নিয়ে শুধু সভা-সেমিনারে বক্ত দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে থাকেন। এই কুকুরটি তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, শুধু গলাবাজি আর সেমিনার নয়। প্রত্যেকেই পরিবেশ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়তে হবে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু উদ্যোগ নিলেই পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।

সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল মালিকদের তলব
                                  

কক্সবাজার প্রতিনিধি: সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১০৬ আবাসিক হোটেলের মালিককে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেন হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে পরিবেশ অধিদফতরের চট্রগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার অধিদফতরের চট্রগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাসুদ করিম লিখিতভাবে এ নির্দেশনা দেন।

হোটেল মালিকদের দেয়া পরিবেশ অধিদফতরের কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) হোটেল পরিচালনা করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ক্ষতি ও ইসিএ আইন এবং বিধি লংঘন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সংরক্ষিত এলাকায় হোটেল নির্মাণ করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি সাধন এবং দ্বীপের সমুদ্র পাড়ে লাইটিং এর মাধ্যমে কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর স্বাভাবিক জীবণ যাত্রা ও প্রজননে ব্যাঘাত করে দণ্ডনীয় অপরাধ করছে হোটেল মালিকরা।

এতে বলা হয়, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসিএ বিধিমালা ও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনাও রয়েছে।

তাই পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া হোটেল নির্মাণ ও পরিচালনা করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা সোমবার পরিবেশ অধিদফতর চট্রগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তার কারণ দর্শানোর জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হলো।

অন্যথায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ আদালত আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদফতরের চট্রগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাসুদ করিম বলেন, যেকোনো ভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপটি রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, আদালতের সুষ্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা সেন্টমার্টিনে গড়ে উঠেছে হোটেল, মোটেলসহ নানা স্থাপনা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সেন্টমার্টিন ও এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যর্থতা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবজ্ঞা ও উদাসীনতার পরিচায়ক।

বিশ্বে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় ঢাকা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের করাচি ও চীনের বেইজিং। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে বায়ু দূষণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে একযোগে প্রকাশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইন্সটিটিউট এবং ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বায়ুতে যেসব তিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক উপাদান হচ্ছে পিএম ২.৫।

এতদিন এ উপাদান সবচেয়ে বেশি নির্গত করত চীন। গত দুই বছরে চীনকে টপকে ওই দূষণকারী স্থানটি দখল করে নিয়েছে ভারত। চীন ও ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও শহর। প্রতিবেদনে বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। গার্ডিয়ান।

রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও যানবাহন
                                  

বিশেষ প্রতিবেদক: যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও অন্যতম ভূমিকা রাখছে অধিকাংশ যানবাহন। বিআরটিএ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করা হলেও বাস্তবে এগুলোর ফিটনেস নেই। সারাক্ষণ ইঞ্জিনের বিকট আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে কালো ধোয়াও নির্গমন করে চলেছে এগুলো। পরিবেশ অধিদফতরের অভিযানে নিয়মিত ধরা পড়ছে এসব যানবাহন। কিন্তু দূষণমুক্ত হচ্ছে না। পরিবহন মালিকরা এজন্য ভেজাল জ¦ালানিকে দায়ী করেছেন। পরিবেশ অধিদফতরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট জানিয়েছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লাখ যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের বিরাট একটা অংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। এসব মোটরযান থেকে ক্ষতিকর বস্তুকণা (কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ওজোন) নির্গত হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, মোটরযান চলাচলের প্রধান সড়কগুলো আবাসিক এলাকা সংলগ্ন হওয়ায় এসব এলাকার লোকজন উচ্চ হারে বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে। সবচাইতে অরক্ষিত গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে পথচারী, ফেরিওয়ালা ও দোকানদার, ট্রাফিক পুলিশ এবং গাড়ি চালকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনের প্রায় সবগুলো বাস-মিনিবাস লক্কর-ঝক্কর হয়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। টেম্পো, হিউম্যান হলার বা এ ধরণের একটা গাড়ির অবস্থাও ভালো নেই। বেশ কিছু প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসও রয়েছে দূষণের তালিকায়। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় এগুলো দাবড়ে বেড়াচ্ছে গোটা নগরী। এসব যানবাহন থেকে নিঃসরিত বিষাক্ত পদার্থ বাতাসের সঙ্গে মিশে ঢুকে পড়ছে মানবদেহে।
জানা গেছে, যানবাহনগুলো এভাবে পরিবেশ দূষণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরণের কোনও জরিপ বা সমীক্ষা করা হয়নি। তবে রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নগরীর ১৩টি পয়েন্টে বিভিন্ন যানবাহনের ওপর বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালনা করে এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট। এই সমীক্ষায় ৪৬.৬৭ শতাংশ একতলা বাস, ৫৫.৪৭ শতাংশ টাটা বাস, ৬০.২০ শতাংশ মিনিবাস, ৫০ শতাংশ মাইক্রোবাস ও জিপ, ৯০ শতাংশ ম্যাক্সি ও হিউম্যান হলার, ৭১ শতাংশ পিকআপ ও মিনি কাভার্ড ভ্যান, ৫০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ২৩.৯৬ শতাংশ প্রাইভেটকার, ২৯.৭৩ শতাংশ মাইক্রোবাস ও জিপ বায়ু দূষণ করছে বলে মন্তব্য করা হয়।
এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রধানত তিন ধরনের জ¦ালানি- ডিজেল, পেট্রোল ও সিএনজি ব্যবহার করছে। ইঞ্জিনের ডিজাইন ত্রুটি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, মানসম্মত জ¦ালানি ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বোঝাই, নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট ব্যবহার ইত্যাদি কারণে এগুলো বায়ু দষূণ করছে। কোনও কোনও যানবাহনের ইঞ্জিনের ডিজাইন যথার্থ হলেও জ¦ালানিতে সালফারের মাত্রা বেশি থাকায় এগুলোও সুক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণ করে বায়ু দষূণ করছে। তারা বলেন, সুক্ষ্ম বস্তুকণা নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি স্থায়ী গতিবেগের প্রয়োজন। কিন্তু যানজটের নগরীতে এই গতিবেগ অর্জন কিছুতেই সম্ভব না। ডিজেল নিঃসরণে যেসব দূষক পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অতি সুক্ষ্ম বস্তুকণা, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন, জৈব বিষ-পলিনিউক্লিয়ার অ্যারোমেটিক্স। পেট্রোল, অকটেন ও সিএনজিচালিত যানবাহন থেকে নিঃসরিত দূষণকারী পদার্থের মধ্যে রয়েছে- আইডল কার্বন মনোক্সাইড ও আইডল হাইড্রোকার্বন। এসব বস্তুকণার কারণে মানবদেহে ক্যানসার, হৃদরোগ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের অকার্যকারিতা ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমীবলেন, শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই দূষণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলে কমে। এই দূষণ কমানোর জন্য দেশে লেড বা সীসামুক্ত পেট্রোল আমদানি করা হচ্ছে। এতে পেট্রোল ব্যবহারকারী যানবাহনে দূষণ কমেছে। এবার সালফার কম আছে এমন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে ডিজেল আমদানি হয় তাতে সালফার থাকে ২৫০০ পিপিএম। আমরা ৫০০ পিপিএমের ডিজেল আমদানির সুপারিশ করেছি। বিএসটিআই এর স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দেবে। আর আমদানির ব্যবস্থা করবে জ¦ালানি মন্ত্রণালয়। পরিবহন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজের (এবিসি) সভাপতি খন্দকার রফিকুল হুদা কাজলবলেন, ঢাকার বেশির ভাগ গাড়ি এখন সিএনজিতে চলে। এ ধরনের গাড়ি পরিবেশ দূষণ করে না। তবে ডিজেলচালিত যানবাহন পরিবেশ দূষণ করে থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে ডিজেল পাওয়া যায় সেটা খুবই নিম্নমানের। এ কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে বাস বিক্রি করতে সহজে রাজি হয় না। তিনি বলেন, ইঞ্জিন অয়েল ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেক গাড়ি মালিক কম দামে নিম্নমানের জ¦ালানি ব্যবহার করেন। মূলত এসব যানবাহনই বায়ু দূষণ করছে। পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, রাজধানীতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় যতগুলো যানবাহন পরীক্ষা করা তার বেশির ভাগই পরিবেশ দূষণকারী হিসেবে ধরা পড়ছে। এজন্য মামলাও হচ্ছে। এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির বায়ু দূষণ পরীক্ষার ইউনিট হল-‘হার্টরিজ স্মোক ইউনিট’ (এইচএসইউ)। ২০০৫ সালের ১৯ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যেকোনও গাড়ি থেকে নিঃসরিত বায়ুর সহনীয় মাত্রা হল ৬৫ এইচএসইউ’র নিচে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আমরা বিশেষ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে যখন বায়ুর মান ৬৫ এইচএসইউ’র নিচে দেখি তখন সেটাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর বেশি হলে নেওয়া হয় আইনানুগ ব্যবস্থা।
ওই কর্মকর্তা জানান, মোবাইল কোর্টের অভিযান যতগুলো যানবাহন পরীক্ষা করা হয়, তার অর্ধেকের বেশিরই বায়ুর মান থাকে ৬৫ এইচএসইউ’র ওপর। কোনও গাড়ির বায়ুর মান ৯০ এইচএসইউ কিংবা আরও বেশি পাওয়া যায়। তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি বনানী এলাকায় মোবাইল কোর্ট ১৬টি ডিজেল এবং ১০টি পেট্রোল ও সিএনজিচালিত যানবাহন পরীক্ষা করে। এতে ১৩টি ডিজেল এবং ২টি সিএনজি ও পেট্রোলচালিত যানবাহনের এইচএসইউ বিপদজ্জনক মাত্রায় পাওয়া যায়।

সুন্দরবনে শেলা নদীতে কোস্টার ডুবি: তদন্ত কমিটি গঠন
                                  

বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনের শেলা নদীতে কয়লা বোঝাই কোস্টার ডুবির পর এক দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে রোববার একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এক হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে গত শনিবার বিকালে দুর্ঘটনায় পড়ে সি হর্স-১ নামের নৌযানটি। তলা ফেটে গেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শেলা নদীতে ডুবে যায় সেটি। জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোস্টারটি কীভাবে ডুবলো, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণ করে এই কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- চাঁদপাইরেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার গাজী মতিয়ার রহমান খান, ফরেস্টার সুলতান মাহমুদ ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জীববৈচিত্র কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। বন বিভাগ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা রোববার সকাল থেকে আলাদা আলাদাভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। বন বিভাগ, মংলা বন্দর, কোস্টগার্ডসহ সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম বলেন, পণ্যবাহী কোস্টারটি যে এলাকায় ডুবেছে সে এলাকা পরিদর্শন করেছি আমরা। কোনো নৌযান যাতে সেখানে গিয়ে দুর্ঘটনায় না পড়ে সেজন্য লাল পতাকা দিয়ে নিশানা দেওয়া হয়েছে। ডুবে যাওয়া কোস্টারটি দ্রুত কীভাবে তোলা যায় তা ঠিক করতে বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টারের মালিক পক্ষ এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কোস্টারের মাস্টার মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা জানান, চট্টগ্রামের সমতা ট্রান্সপোর্ট এই কোস্টারের মালিক। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এই শেলা নদীতে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি ওয়েল ট্যাঙ্কার ডুবে যায়। ওই সময় থেকে সুন্দরবনের এই নৌপথটিতে যান চলাচল বন্ধ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছে।

সুন্দরবন রক্ষায় ২১ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল
                                  

স্টাফ রিপোর্টার: সুন্দরবন রক্ষায় আগামী সোমবার ২১ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে সর্বজন বিপ্লবী দল। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ হরতাল পালনের আহ্বান জানান দলটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারকে সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন থেকে বিরত থাকার অনুরোধের পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ করার আহ্ববান জানানো হয়। সুন্দরবনকে ১৮৭৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। সুন্দরবনের ৩২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তিনটি বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এমন তথ্য তুলে ধরে ম. ইনামুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ পুরস্কার পেয়েছেন। আর তার হাতেই ধ্বংস হবে সুন্দরবন, এটা মানা যায় না। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- কৃষিবিদ রফিক চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, শেখ লিয়াকত আলী, হাজী মো. শহীদ, তুসার রেহমান প্রমুখ।

বরিশালে কীর্তনখোলা নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
                                  

বরিশাল প্রতিনিধি: কীর্তনখোলা নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বরিশালবাসী। সোমবার আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবসের সকালে নদী রক্ষা দিবস সম্মিলিত উদযাপন পরিষদের আয়োজনে কীর্তনখোলার তীরে এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম। রফিকুল ইসলাম বলেন, কীর্তনখোলা নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে ভূমি দস্যুরা। বিষয়টি নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কীর্তনখোলা নদীসহ জেলার সব নদী ও খাল দখল এবং দূষণমুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


   Page 1 of 2
     পরিবেশ
এশিয়ার সবচেয়ে বিষধর সাপ উদ্ধার ঝিনাইদহে
.............................................................................................
গাছ লাগাও জীবন বাঁচাও
.............................................................................................
লক্ষীপুরে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার ছড়াছড়ি
.............................................................................................
শব্দ দূষণ মানব দেহের জন্য নিরব ঘাতক
.............................................................................................
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
.............................................................................................
বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ নদীভাঙন: পর্ব- ২
.............................................................................................
‘নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’
.............................................................................................
একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা
.............................................................................................
গাজীপুরে জয়দেবপুর পিটিআই-এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন
.............................................................................................
পরিবেশ রক্ষায় ১০ বছর ধরে কাজ করছে চীনের কুকুর
.............................................................................................
সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল মালিকদের তলব
.............................................................................................
বিশ্বে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় ঢাকা
.............................................................................................
রাজধানীর পরিবেশ দূষণেও যানবাহন
.............................................................................................
সুন্দরবনে শেলা নদীতে কোস্টার ডুবি: তদন্ত কমিটি গঠন
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় ২১ মার্চ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল
.............................................................................................
বরিশালে কীর্তনখোলা নদী দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখে জনযাত্রা শুরু
.............................................................................................
ছাতকে সুরমা নদীর পানি দূষন তদন্তে টালবাহানা
.............................................................................................
সিলেটে অবৈধ ১৩শ’ স্টোন ক্রাশার মেশিন চলছে
.............................................................................................
জলবায়ু রক্ষায় বেসরকারি খাতকে কাজে লাগানোর পরামর্শ আইএফসি’র
.............................................................................................
বরিশালে অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা
.............................................................................................
ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সরাইলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা
.............................................................................................
পরিবেশ দূষণ ও শিশুরোগ
.............................................................................................
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৫: সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্ব না পেলে রিট করবে বাপা
.............................................................................................
সুন্দরবন রক্ষায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগৈলঝাড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি স-মিল বন্ধ করলেও অজ্ঞাতকারণে অন্যগুলো এখনও চালু
.............................................................................................
পশুর নদীতে কার্গোডুবি: চালকের গাফিলতি ও অদক্ষতাই দায়ী
.............................................................................................
পাবনায় পদ্মা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন
.............................................................................................
বরিশাল নগরীর অসংখ্য পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে বাম মোর্চার রোডমার্চ
.............................................................................................
চলুন, ৫ মিনিটেই হয়ে যাই তুলসী বিশারদ !
.............................................................................................
সাপের চেয়েও বিষধর ব্যাঙ!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT