শনিবার, ১৩ জুলাই 2024 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আইন - অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সরাইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী, থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা

হালিমা খানম, স্টাফ রিপোর্টার:

সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং অন্যের বাড়ি দোকান ঘরে হামলা ও জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং ০২।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সরাইল উপজেলা অরুয়াইল এলাকার খসরু মিয়ার স্ত্রী তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে সরাইল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার ভুক্ত আসামিরা হলেন- অরুয়াইল এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, আওয়াল উদ্দিনের ছেলে জাবেদ মিয়া, মৃত গণি মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া ও মৃত বোরহান খন্দকারের ছেলে হোসেন খন্দকার। এছাড়াও এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০জনকে আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরাইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী, থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা
                                  

হালিমা খানম, স্টাফ রিপোর্টার:

সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং অন্যের বাড়ি দোকান ঘরে হামলা ও জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং ০২।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সরাইল উপজেলা অরুয়াইল এলাকার খসরু মিয়ার স্ত্রী তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে সরাইল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার ভুক্ত আসামিরা হলেন- অরুয়াইল এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, আওয়াল উদ্দিনের ছেলে জাবেদ মিয়া, মৃত গণি মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া ও মৃত বোরহান খন্দকারের ছেলে হোসেন খন্দকার। এছাড়াও এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০জনকে আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ড. ইউনূসের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছয় মাসের সাজা ও দণ্ড শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থগিতের আদেশ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শ্রম আপিলের ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রকাশিত ৫০ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত আরও বলেছেন, সাজা কখনো স্থগিত হয় না।

রায় প্রকাশের বিষয়টি বুধবার (৩ জুলাই) সকালে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

তবে রায়ের অনুলিপি হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাওয়া গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের দণ্ডের রায় ও আদেশ স্থগিত করে দেওয়া শ্রম আপিলের ট্রাইব্যুনালের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে ড. ইউনূসের ৬ মাসের সাজা চলমান থাকে।

চারজনের দণ্ড স্থগিতের বৈধতা প্রশ্নে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি নিষ্পত্তি করে গত ১৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে ওইদিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার তানভীর শিহাব খান।

এর আগে তৃতীয় শ্রম আদালতের ১ জানুয়ারি দেওয়া রায় ও আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ২৮ জানুয়ারি দেওয়া আদেশ কেন বাতিল হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ড. ইউনূসসহ চারজন ও রাষ্ট্রের পক্ষে ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

একই সঙ্গে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজার রায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এ মামলার বাকি তিন আসামিকেও বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে একই আদেশ প্রতিপালন করতে হবে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে ড. ইউনূসসহ চারজনের সাজার রায় স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

এ দিন ড. ইউনূসের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায়ের কার্যক্রম স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা আবেদনের বিষয়ে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এর বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা তাদের বিরুদ্ধে সাজার রায় দেন। তাদের শ্রম আইনের ৩০৩ (ঙ) ধারায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, ৩০৭ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন আদালত।

এরপর আসামিপক্ষ আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে এক মাসের জন্য জামিন দেন। সেই সময়সীমার মধ্যেই আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা। ড. ইউনূস ছাড়া অন্য তিন বিবাদী গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

গত ২৮ জানুয়ারি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ৩ মার্চ পর্যন্ত জামিন দেন। আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে নথি তলব করেন।

এ স্থগিতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন। এছাড়া দণ্ডিতদের বিদেশ যেতে হলে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে যেতে হবে বলে আদেশ দেন।

গত বছরের ৮ মে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা বাতিলের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর ৬ জুন আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ শ্রম বিধিমালা ১০৭ বিধি ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

 

এবার বাতিল হচ্ছে বেনজীরের পিএইচডি ডিগ্রি
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:

দুর্নীতির অভিযোগে পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলের জন্য সিনেটে প্রস্তাব করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যরা। বেনজীরের পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে সম্প্রতি প্রথম আলো একটি প্রতিবেন প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে।

বুধবার (২৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে বৈঠকে সিনেটের অন্তত তিনজন সদস্য এ প্রস্তাব দেন। সিনেট সদস্য বলেন, বেনজীর আহমেদ ভর্তির যোগ্যতা পূরণ না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পেয়েছেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ডিগ্রি পাওয়ার পর তিনি তার নামের শুরুতে ‘ড.’ ব্যবহার শুরু করেন। তবে বেনজীরের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা ছিল না। তাকে ভর্তির জন্য অনিয়ম করে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়েছিল।

বেনজীর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। এই প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রয়োজন স্নাতক ডিগ্রি। এই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে, যা বেনজীরের ছিল না।

সিনেট সদস্য রণজিৎ কুমার সাহা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বেনজীরের ডিগ্রি বাতিলের প্রস্তাব করেন।

পরকীয়া প্রেমিকের হাতে প্রেমিক খু ন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই ঘরে একসঙ্গে দেখে প্রেমিকার চাচাতো ভাইকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন এক প্রেমিক। বুধবার (২৬ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন মিয়া (২৬) ওই এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে (৪৪) আটক করেছে। নজরুল গোপালগঞ্জ জেলা সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র বনিক জানান, নজরুল ইসলামের বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও তিনি বর্তমানে সাভারে থাকেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে আছেন।

তিনি জানান, পুলিশের কাছে আটকের পর প্রাথমিক অবস্থায় নজরুল জানিয়েছেন বেতবাড়িয়ার সুরমা আক্তার পাখি নামের এক নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার সম্পর্ক হয়। গত আড়াই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলছিল। তিনি মাঝে মাঝে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসতেন। এরই মাঝে নজরুল খবর পান পাখি তার চাচাতো ভাই সুমনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছেন।

এই খবরে বুধবার ভোরে পাখিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে তার ঘরে ঢোকেন। ঘরে ঢুকে পাখির সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সুমনকে দেখতে পান। এই অবস্থায় নজরুল হামলা করলে ছুরিকাহত হন সুমন। তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ পরিদর্শক সুমন আরও জানান, নজরুলের দেওয়া এই তথ্য পুলিশ যাচাই-বাছাই করছে। নজরুল ও পাখিসহ তার পরিবারকে মুখোমুখি করে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাখরাবাদ গ্যাসের তিন কর্মকর্তা ও এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা
                                  

মোঃ রেজাউল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (বিজিডিসিএল) তিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে ও আবারো উৎকোচ দাবি করে বৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আদালতে মামলা।

গত (১১) জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে হাবিব মিয়া (৬২) নামে এক ভুক্তভোগী এ মামলা দায়ের করে। মামলা নং- সিআর/৯৮৭।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে আশুগঞ্জ টু আখাউড়া স্থলবন্দর রাস্তার কাজ করার সময় ভোলাচং গ্রামের গ্যাস লাইনের লিকেজের সৃষ্টি হলে ভোলাচং গ্রামের গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম (সাবেক ম্যানেজার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ ঘাটুরা সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া), তারেক (সহকারী প্রকৌশলী), সেলিম চৌধুরী (রাইজার ঠিকাদার, মধ্যপাড়া) তাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, সরকারিভাবে গ্যাস সংযোগ দিতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তড়িৎ সংযোগ নিতে চাইলে তাহাদেরকে ৭ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে হবে। এমনকি উল্লেখিত টাকা না দিলে এই অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে দাবিকৃত ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হলেও মাত্র এক মাস পর আবারো লাইল কেটে দেওয়া হয়। তখন শফিকুল ইসলাম ও সেলিম চৌধুরী আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করলে মামলার বাদী হাবিব নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসীর সাথে আলাপআলোচনা করে ৮ লাখ টাকা দিয়ে সংযোগটি আবারো সচল করেন।

তারপর শফিকুল ইসলাম বদলি হয়ে কুমিল্লা চলে গেলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাখরাবাদ ডিজিএম শাহ আলম আবারো গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, সাবেক ম্যানেজার শফিকুল এই গ্যাস সংযোগটি অবৈধ বলে রিপোর্ট দিয়ে গেছে। তখন ডিজিএম শাহ আলম গ্যাস লাইন সংযোগ বাবত ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিলেই কেবল তিনি পুনরায় লাইন সংযোগ দেবেন বলে জানান। গ্যাস গ্রাহকরা ডিজিএমকে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরও দাবীকৃত ঘুষের টাকার জন্য অটল থাকেন। অবশেষে ভুক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্ত হন।

অর্থ পাচার মামলায় ড. ইউনূসের বিচার শুরু
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা মামলায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪-এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন এ আদেশ দেন।

দদুকের পক্ষে প্রিসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল তাদের বিরুদ্ধে চার্জ পড়ে শুনালে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এর পর আদালত তাদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের আদেশ দেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এসএম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক কামরুল ইসলাম।

এর আগে গত ২ জুন ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১২ জুন দিন ধার্য করেন।

২ জুন আদালতে ঢুকে এজলাসের বেঞ্চে বসেন ড. ইউনূস। এরপর আদালত থেকে ড. ইউনূস ছাড়া বাকি আসামিদের ডগে (কাঠগড়া) যেতে বলা হয়। ড. ইউনূস সবার সঙ্গে লোহা দিয়ে ঘেরা কাঠগড়ায় স্বেচ্ছায় গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে তিনি তিন মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর বিচারক সবাইকে কাঠগড়া থেকে বের হতে বললে ড. ইউনূস কাঠগড়া থেকে বের হন।

কাঠগড়া থেকে বের হয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘দুটো নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। একটা আমার নামে, আরেকটা গ্রামীণ ব্যাংকের নামে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নজির নেই যে, এক নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে আরেক নোবেল বিজয়ী মামলা করেছে, দুদকে হাজির হয়েছে। এটা আমাদের কপালে হয়েছে, এটা অভিশাপের একটা অংশ। এই অভিশাপ আমরা বহন করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হয়েছে। কোনো নিস্তার নেই, একটার পর একটা চলছে। অভিশপ্ত জীবনের একটা বড় পর্যায়ে পৌঁছে গেছি।’

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিকে দোকানিদের গণপিটুনী!
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান এবং তার সহযোগী শহিদুল ইসলামকে গণপিটুনি দিয়েছে দোকানিরা। রোববার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর পলাশী বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজিতে বাঁধা দেওয়ায় চাপাতি দিয়ে নজরুল এবং মাহবুব নামে দুই ব্যবসায়ীকে মারতে গেলে দোকানিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজার থানায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

দোকানিরা জানান, প্রায় প্রত্যেকদিন চাঁদাবাজি করতে আসে সলিমুল্লাহ হল ছাত্রলীগের এই সাবেক সভাপতি ও তার সহযোগী শহিদুল। এর আগে পলাশী বাজারের কলা বিক্রেতা দেলোয়ার থেকে এক হাজার টাকা এবং কনফেকশনারি দোকানের মালিক সানাউল্লাহ থেকে টাকা চাঁদা নেয়। এছাড়া প্রত্যেকদিন তারা এ বাজারে চাঁদাবাজি করে বলে দেশ গণমাধ্যমকে জানান একাধিক দোকান মালিক।

পলাশী দোকান মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বলেন, রাত ১১টার দিকে এসে এই ছাত্রলীগ নেতা আমাদের দোকানিদের থেকে চাঁদা দাবি করে। তাকে বাধা দিলে তিনি নজরুল নামে এক ব্যবসায়ী মারধর করে এবং চাপাতি দিয়ে কোপাতে যান, পরে ওই ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলে আমাকে চাপাতি দিয়ে মারতে আসে। আশেপাশে থাকা দোকানিরা আমাকে উদ্ধার করে এবং তাদের ধরে ফেলে। তারপর সবাই মিলে গণপিটুনি দেয়। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে নিয়ে যায়।

আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, চাঁদা চাইতে আসলে আমরা তাকে বাধা দিই। তাতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথম আমাকে ঘুসি মারেন এবং পরবর্তীতে চাপাতি নিয়ে আসে কিন্তু আমি সরে যাই। তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। নিয়মিত অত্যাচার এবং চাঁদাবাজি করেন তারা।

পলাশী বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ বলেন, এরা দুজন নিয়মিত চাঁদাবাজি করতে আসেন বাজারে। আমরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারি না। আজকে মারতে আসলে আমরা সবাই ধরে তাদের গণপিটুনি দিই এবং পুলিশের হাতে তুলে দিই। আমরা এই চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চাই।

ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, একজন সাবেক শিক্ষার্থীকে মার্কেটে চাঁদাবাজির অভিযোগে ধরে রেখেছে বলে আমরা শুনেছি। তাকে পুলিশে দিয়েছে সেটা মাত্র শুনলাম। যেহেতু সে হলে থাকে তাহলে সেটা হল প্রশাসন দেখবে। বর্তমানে সে যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থী না, তাই আমাদের এখানে কোনো দায় নেই। ফলে বিধি অনুযায়ী তাকে কোনো শাস্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারবে না। সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে।

মেহেদীর হলে থাকার প্রসঙ্গে সলিমুল্লা মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, সে অবৈধভাবে হলে থাকে। আমরা তাকে আগে চিহ্নিত করতে পারলে আগেই হল থেকে বের করে দিতাম। এখন একজন সাবেক ছাত্রের দায় তো বিশ্ববিদ্যালয় বা হল নেবে না।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সলিমুল্লাহ হল থেকে মাদক এবং নারীসহ আটক হন এই নেতা। সে সময় হল প্রশাসন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দেয়। এর আগে ২০১৪ সালে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় ছাত্রলীগ। মদের বারে মারামারি করার কারণেই তাকে অব্যাহতি দেয় সংগঠনটি। তিনি মাদক ব্যবসার জড়িত বলেও জানা যায়।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি, জবি শিক্ষার্থী তিথির কারাদণ্ড
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা এক মামলায় সোমবার তাকে এ কারাদণ্ড দেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত।

২০২০ সালের ৫ই নভেম্বর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে তিথি সরকারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন আবু মুসা রিফাত নামে এক ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী জুয়েল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামি তিথি সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। তিনি ১৬ই অক্টোবর থেকে ২৩শে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেন। যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আসামি তিথি সরকার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের (জ.বি) শাখার দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে তাকে সংগঠন থেকে বরখাস্ত করা হয়। একই অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬শে অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত আদেশে তিথি সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

৩ দিনের রিমান্ডে মিল্টন সমাদ্দার
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:

বহুল আলোচিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ এর চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারকে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। প্রতারণার মাধ্যমে মৃত্যুর জাল সনদ তৈরি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে ৩ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর জোনাল টিম গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এসআই মোহাম্মদ কামাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এসময় মিল্টনের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মিল্টন সমাদ্দারের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মিল্টনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। এরপর তাকে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল সোয়া তিনটার দিকে এজলাসে তোলা হয় আসামিকে।

গত ১ মে রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ উঠে আসে।

এতে বলা হয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১৬টির বেশি নম্বর এবং তিনটি ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হয়। এর বাইরে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দিয়ে আসেন। এই অর্থের অপব্যবহার করেন তিনি। মানবিক কাজের জন্য এ পর্যন্ত তিনি তিনটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

র‌্যাবের অভিযানে হ ত্যা মামলার আসামী ইয়াছিনসহ গ্রেফতার ৬
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফের বার্মিজ মার্কেটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার সাবের হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামী ইয়াছিন(৩৫)সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৩ এবং ১৫ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার অপর আসামীরা হলেন- মোঃ সালমান (২৭), আব্দুল্লাহ (৪৩), সোহাগ (৩২), বাবলু (২৮), আব্দুল জব্বার (৩১)।

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম সাবের টেকনাফ থানাধীন বার্মিজ মার্কেটে জুতার ব্যবসা করতো। তার দোকানের সামনে ইয়াছিনের একটি বন্ধ দোকান রয়েছে। ইয়াছিন পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেরের ব্যবসা শুরুর পর হতেই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অহেতুক হয়রানি করে বেচা-বিক্রিতে ক্ষতিসাধন করতো। উক্ত বিষয়ে ভিকটিম সাবের মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জানালে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন ও অন্যান্য আসামিরা সাবেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।

গত ২ এপ্রিল সাবের নিজ দোকানের জায়গা সংকটের কারণে ইয়াছিনের বন্ধ থাকা দোকানটির সামনে একটি জুতার বস্তাসহ কয়েক জোড়া জুতা ঝুলিয়ে রাখে। এ নিয়ে ইয়াছিন ভিকটিমকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকলে ভিকটিম প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইয়াছিন, সালমান, আব্দুল্লাহ, সোহাগ, বাবলু, জব্বার এবং পলাতক আসামি নুর হোছন, এমরান ও কেফায়েতসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন মিলে ধারালো টিপ ছুরি, রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিকটিম সাবেরকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তার উপর নৃশংস হামলা চালায়। গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন তার হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ভিকটিম সাবেরের মাথায় আঘাত করলে সাবের মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপরও আসামিরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে উপুর্যপরি আঘাত করতে থাকলে ভিকটিম সাবের অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মার্কেটের লোকজন এবং ভিকটিমের ভাই ঘটনাস্থলে এসে হাজির হলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে উদ্ধারপূর্বক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবের মৃত্যুবরণ করে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই সাদেক বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই আসামিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। অবশেষে গত ২৯ এপ্রিল র‌্যাব-৩ এবং র‌্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর পল্টন এলাকা হতে হত্যা মামলার ৬ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

রংপুরে যুবলীগ নেতা ডিজেলকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি
                                  

রবিউল ইসলাম লাভলু:

রংপুরের বিশিষ্ট ঠিকাদার, যুবলীগ নেতা এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক ডিজেল আহমেদকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। ডাক বিভাগের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা খামে করে এ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন যুবলীগ নেতা ডিজেল আহমেদ।

ডিজেল জানান, দুপুরে বাসায় ভাত খাওয়ার জন্য গেলে, ডাকবিভাগ থেকে একটি রেজিস্ট্রি করা খাম এসেছে বলে জানান স্ত্রী। সেই চিঠির খাম খুলে দেখেন সাদা কাফনের কাপড়ে হত্যা করার বিষয়ে লেখা রয়েছে।

লেখাটি হলো, ‘ডিজেল মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাক। যে কোনো সময় তুই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবি। তোর জন্য সামান্য কাফনের কাপড় উপহার দিলাম ‘প্রস্তুত থাক’। খামের এক পাশে প্রেরকের স্থানে আব্দুল জলিল এবং রংপুর নগরীর কটকিপাড়া এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে প্রেরকের ঠিকানার নিচে একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিজেল আহমেদ বলেন, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। তারপরও বিষয়টি যেহেতু হত্যার হুমকি, তাই আজকে রাতের মধ্যেই একটি জিডি করবো রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায়। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

আরপিএমপি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাসির বিল্লাহ জানান, ডিজেল আহমেদকে ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকির বিষয়ে জেনেছি। ডিজেল আহমেদের সাথে এখনও কথা হয়নি। উনি জিডি কিংবা অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে খুন, অতপর...
                                  

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর:

ফরিদপুর জেলার মধুখালিতে “শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে দুলাভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা” শীর্ষক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি আশারুল শেখ এবং তার প্রধান সহযোগী ইলিয়াস শেখ ও খায়রুল শেখকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানাধীন হাটঘাটা এলাকার নিজামউদ্দিন একই থানাধীন পার্শ্ববর্তী দিঘলিয়া এলাকায় মৃত জাহিদুল শেখের মেয়ে জামেলা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর নিজাম তার শ্যালিকা জলি খাতুনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি জলি খাতুনের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। নিজাম গত ২১ মার্চ সকালে তার শ্যালিকা জলিকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে যান। সেখান থেকে জলিকে নিয়ে নিজাম তার বাড়িতে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে ওইদনি রাতে জলির পরিবারের লোকজনসহ ৯-১০ জন মধুখালীর হাটঘাটা এলাকার নিজামের ঘরে প্রবেশ করে নিজামের শ্যালক শরিফুলসহ বেশ কয়েকজন মিলে নিজামকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে জলিকে নিয়ে যায়। অতঃপর নিজামের আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজন নিজামকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নিজামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক নিজামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঐদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথিমধ্যে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৌছালে এ্যাম্বুলেন্সের ভিতর নিজাম মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় মৃত নিজামের ভাই মোঃ আজিম উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানায় চাঞ্চল্যকর নিজামউদ্দিন হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত মোঃ শরিফুল শেখ ও মোসাঃ তথি বেগমসহ ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল জেলার কোতোয়ালি এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে এ হত্যা মামলার যথাক্রমে ৫নং ও ৬নং পলাতক আসামি মোঃ শরিফুল শেখ (২০) ও মোসাঃ তথি বেগমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি ও তাদের দেয়া তথ্যমতে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর নিজামউদ্দিন হত্যা মামলার ০১, ০২ ও ০৪ নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ আশারুল শেখ (২৮), মোঃ ইলিয়াস শেখকে (২৪) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা উক্ত হত্যাকান্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে।

 

ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়ালো শ্রম আদালত
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের ৩ শীর্ষ কর্মকর্তার জামিনের মেয়াদ ২৩ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করলো শ্রম আদালত। শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা চলমান।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানটির তিন শীর্ষ কর্মকর্তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

গ্রামীণ টেলিকমের ওই তিন শীর্ষ কর্মকর্তা হলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আশরাফুল হাসান, নুরজাহান বেগম ও মোহাম্মদ শাহজাহান। আজ সকালে আদালতে উপস্থিত হয়ে তারা স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে এই মামলায় আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। পরে আদালত জামিনের মেয়াদ ২৩ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন।

এর আগে গত ৩ মার্চ এই মামলায় তাদের জামিনের মেয়াদ বাড়ান আদালত। সেদিন পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালত।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত ১ জানুয়ারি ঢাকার শ্রম আদালত-৩ ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

খালেদা জিয়া সাজা স্থগিত হচ্ছে আরও ৬ মাস, তবে...
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানের হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। আজ বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, আগের শর্তে (বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং দেশে চিকিৎসা নিতে হবে) তার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর জন্য মতামত দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ নির্বাহী আদেশে আটবারের মতো বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়ার ভাইয়ের যে আবেদন ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মতে, তার (খালেদা জিয়া) সাজা স্থগিত রেখে দুটি শর্তে যে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেটা সাতবার বাড়ানো হয়েছে। আজ একই শর্তে সাজা স্থগিত রেখে মুক্তির আদেশ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হচ্ছে। আমি এ মতামত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখনই ফাইল পাঠিয়ে দিচ্ছি।

বেগম জিয়ার পরিবারের আবেদনে ছিল তার স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা- এ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আনিসুল হক বলেন, আমি এ ব্যাপারে দু-দিন আগেও আপনাদের বলেছি। যেহেতু ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় যে আবেদন ছিল সেটি নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন সে আবেদনের ওপরে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই, শুধু মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া। ঠিক সে কারণে আমি মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলে সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠাচ্ছি।

মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো যাবে কি না, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, না, যাই করতে হবে আইনের মাধ্যমে করতে হবে। যে আইনে তাকে বের করা হয়েছে, সে আইনে এ (বিদেশে পাঠানো) সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ৬ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পরে সে আবেদনের বিষয়ে মতামত নিতে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সর্বশেষ গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ আগামী ২৪ মার্চ শেষ হবে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্যের কিছু পরীক্ষা শেষে গত ১৪ মার্চ গুলশানের বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এর আগে ১৩ মার্চ রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতা বাড়লে মাঝে মাঝে তাকে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত রয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়।

এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এরপর ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়।

তিনি অভিজাত চোর, ১২ বছর ধরেই এ কাজ করছেন
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদন :

তিনি অভিজাত চোর। জন্ম ও বেড়ে ওঠা অভিজাত পরিবারে। বাবা ছিলেন সাবেক যুগ্ম সচিব। তবে, তার পেশা চুরি। নাম তার জুবাইদা সুলতানা। বর্তমানে তার বয়স ৪৪। বিভিন্ন সময় রাজধানীর অভিজাত পাড়ায় ভুয়া পরিচয়ে হোটেল, ক্লাবে সেমিনার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দামি জিনিসপত্র চুরি করতেন। গত ১২ বছর ধরে তিনি এভাবে চুরি করে আসছিলেন। এ পর্যন্ত প্রায় সাতশ থেকে আটশ মোবাইল, ল্যাপটপ ও দামি ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করেছেন অভিজাত এলাকা থেকে।

গত ৩ মার্চ ঢাকা ক্লাবে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজিবিষয়ক এক সিমিনারে অংশগ্রহণ করে জুবাইদা চুরি করেন ডা. ফারহানা হকের মোবাইল, ব্যাগ ও গয়না। ডা. ফারহানা হক গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসক। চুরির জিনিসপত্র বিক্রি করে দিলেও তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি নিজের মোবাইলে হস্তান্তর করে নেন জুবাইদা। সেই থেকে ডা. ফারহানা সেজে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে যাচ্ছিলেন বিভিন্ন রোগীদের এবং হাতিয়ে নিচ্ছিলেন মোটা অংকের টাকা।

এ বিষয়ে গত ১২ মার্চ রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা হওয়ার পর থেকে এ বিষয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তের এক পর্যায়ে শুক্রবার জুবাইদা সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে নারীদের ১৬টি হ্যান্ডব্যাগ, ৪টি মোবাইল, ৫টি বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, অলংকার, বিভিন্ন সুপার শপের কার্ড, ৪টি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়।

ডিবি জানায়, জুবাইদা সুলতানা গত ১২ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত ক্লাব ও হোটেলে চুরি করে আসছিলেন। এ পর্যন্ত প্রায় সাত থেকে আটশ মোবাইল, ল্যাপটপ ও দামি ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করেছেন অভিজাত এলাকা থেকে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, জুবাইদা অভিজাত চোর। তার টার্গেট চাকরিজীবী নারী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়া নারী শিক্ষার্থীরা। তিনি ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, রেডিসন এবং সোনারগাঁওয়ের মতো অভিজাত হোটেলে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নিয়ে চুরি করতেন। চোরাই জিনিস ব্যবহার করে যাপন করতেন বিলাসী জীবন।

তিনি বলেন, গ্রেফতার জুবাইদা বিভিন্ন পাঁচ-তারকা হোটেলে ও রেস্টুরেন্টে পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের সভা-সিম্পোজিয়াম, সেমিনারে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে অংশগ্রহণ করতেন। সারাদিন গুরু-গম্ভীর আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে চুরি করে সটকে পড়তেন এই নারী।

ডিবিপ্রধান বলেন, গত ১২ বছর ধরে জুবাইদা চুরি করে আসছিলেন। নিজেকে রাখতেন পরিমিতভাবে গুছিয়ে। রেজিস্ট্রেশন করে অংশ নিতেন বড় বড় সভা-সেমিনার ও ওয়ার্কশপে। এসব অনুষ্ঠানে গিয়ে সুকৌশলে চুরি করতেন বিভিন্ন দামি দামি জিনিসপত্র। তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল ঢাকা-ক্লাব, গুলশান-ক্লাব, উত্তরা ক্লাবসহ বিভিন্ন পাঁচ-তারকা হোটেল ও রেস্ট্যুরেন্টে। জুবাইদা সুলতানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন এসব তথ্য।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, জুবাইদার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব। তার বোন গ্রামীণফোনের একজন বড় কর্মকর্তা। তার এসব খারাপ অভ্যাসের জন্য তাকে পরিবার থেকে বিতারিত করা হয়েছে। জুবাইদা বিয়ে করেছেন দুটি। তার বর্তমান স্বামীর চতুর্থ স্ত্রী তিনি। তার স্বামী বর্তমানে সৌদি প্রবাসী। স্বামী সৌদিতে থাকলেও জুবাইদার চুরি করা জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন।

অপহরণের ৩ দিন পর ছাত্রীকে উদ্ধার
                                  

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন এক ছাত্রী। পথিমধ্যে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বখাটেরা। অবশেষে অপহরণের ৩ দিন পর ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে অপহরণকারী পিয়াস আলীকেও গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ১০ মার্চ বাঘা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল ওই স্কুলছাত্রী। সে হরিরামপুর এলাকায় পৌঁছলে হরিরামপুর গ্রামের আফিদুল মৃধার ছেলে পিয়াস আলীসহ তিন বন্ধুর সহায়তায় ছাত্রীকে সিএনজিতে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ওই দিন পিয়াস আলীকে প্রধান আসামি করে বাঘা থানায় মামলা করেন।

বাঘা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেব খান বলেন, ছাত্রীকে উদ্ধার ও গ্রেফতার অপহরণকারীকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ছাত্রীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।


   Page 1 of 125
     আইন - অপরাধ
সরাইলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী, থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা
.............................................................................................
ড. ইউনূসের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
.............................................................................................
এবার বাতিল হচ্ছে বেনজীরের পিএইচডি ডিগ্রি
.............................................................................................
পরকীয়া প্রেমিকের হাতে প্রেমিক খু ন
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাখরাবাদ গ্যাসের তিন কর্মকর্তা ও এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
অর্থ পাচার মামলায় ড. ইউনূসের বিচার শুরু
.............................................................................................
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিকে দোকানিদের গণপিটুনী!
.............................................................................................
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি, জবি শিক্ষার্থী তিথির কারাদণ্ড
.............................................................................................
৩ দিনের রিমান্ডে মিল্টন সমাদ্দার
.............................................................................................
র‌্যাবের অভিযানে হ ত্যা মামলার আসামী ইয়াছিনসহ গ্রেফতার ৬
.............................................................................................
রংপুরে যুবলীগ নেতা ডিজেলকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি
.............................................................................................
শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে খুন, অতপর...
.............................................................................................
ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়ালো শ্রম আদালত
.............................................................................................
খালেদা জিয়া সাজা স্থগিত হচ্ছে আরও ৬ মাস, তবে...
.............................................................................................
তিনি অভিজাত চোর, ১২ বছর ধরেই এ কাজ করছেন
.............................................................................................
অপহরণের ৩ দিন পর ছাত্রীকে উদ্ধার
.............................................................................................
উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
.............................................................................................
সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোট গণনার সময় আ.লীগের দু’পক্ষের মারামারি
.............................................................................................
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আবারো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
.............................................................................................
জামিনের মেয়াদ বাড়লো ড. ইউনূসের
.............................................................................................
অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার
.............................................................................................
পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করতে গিয়েছিলো, অতপর...
.............................................................................................
গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ নিয়ে যে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট
.............................................................................................
ছাত্রলীগ নেতার হাতে খু/ন: ৬ স্থান থেকে যুবকের ৯ খন্ড লা/শ উদ্ধার
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হ/ত্যা মামলায় ১ জনের ফাঁসি
.............................................................................................
স্ত্রী হ/ত্যার দায়ে স্বামী রুবেল গ্রেফতার
.............................................................................................
‘গণহারে আসামীদের ডান্ডাবেড়ি পরানো যাবে না’
.............................................................................................
আট বছরের শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
.............................................................................................
স্থায়ী জামিন পেলেন সম্রাট
.............................................................................................
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
.............................................................................................
সমকামী বান্ধবীকে বিয়ে করতে সিলেটের গোয়াইনঘাটের তরুণী সাতক্ষীরায়
.............................................................................................
জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের কারাদণ্ড
.............................................................................................
মুক্তি পেলেন মাওলানা আমির হামজা
.............................................................................................
ভারত সফরে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান
.............................................................................................
সাভারে ৮ জুয়াড়ীকে আটক করেছে ডিবি
.............................................................................................
পৌর মেয়রের উপর হামলা: আ.লীগ নেতাদের নামে চার্জশীট
.............................................................................................
জামিন পেলেন অধিকারের আদিলুর রহমান
.............................................................................................
মা শিখিয়েছেন চুরি, ছিনতাইয়ের আগে করেন রূপচর্চা
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া সিআইডির মূলহোতা জেলহাজতে
.............................................................................................
শিকলবন্দী কৃষককে উদ্ধার, সুদ কারবারি আটক
.............................................................................................
সাংবাদিক নাদিম হত্যা : প্রধান আসামি বাবুর জামিন স্থগিত
.............................................................................................
জঙ্গি ছিনতাই মামলার প্রতিবেদন ১৬ অক্টোবর
.............................................................................................
চেম্বার আদালতেও জামিন পাননি বিএনপি নেতা আমান
.............................................................................................
এএসপি আনিসুল হত্যায় ১৫ জনের বিচার শুরু
.............................................................................................
বিএনপি নেতা আমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
.............................................................................................
দুর্নীতি মামলা : বিএনপি নেতা আমানের স্ত্রীর জামিন
.............................................................................................
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের বাইরে বিএনপিপন্থিদের কালো পতাকা মিছিল
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলবে: হাইকোর্ট
.............................................................................................
জামায়াতের মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল
.............................................................................................
১ লাখ টাকার জাল নোট বিক্রি করতো ২০ হাজার টাকায়
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT