শনিবার, ১৬ অক্টোবর 2021 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   উপসম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পূর্বশর্ত স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন

২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশসহ ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা “ট্রান্সফরমিং আওয়ার ওয়াল্ড দ্যা ২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” শিরোনামে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুমোদন করেন। আর এই “এসডিজি” বিশ্বমানবতার সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত একটি কর্মপরিকল্পনা, যা মূলত বিশ্বব্যাপী শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। এরই লক্ষ্যে “এসডিজি”তে ১৭টি লক্ষ্য এবং ১৬৯টি টার্গেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
“এসডিজি”র প্রথম আর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য “দারিদ্রের অবসান”। যখনই দারিদ্রের কথা উঠে তখনই চোখে ভেসে উঠে “বেকারত্ব”। সব কিছুর সমাধান যেন বেকারত্ব, তাই এর সমাধানে দেশের প্রতিটা নাগরিক উচ্চ শিক্ষিত, অর্ধ বা অল্প শিক্ষিত সকলেরই “কোন কাজই ছোট নয়“ এই ধারণায় বিশ্বাসী হতে হবে। শুধু সরকারি চাকুরির প্রতি না ছুটে আত্মবিশ্বাসী হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের কথাও মাথায় রাখা উচিত। তাছাড়াও বর্তমান বিশ্বে আউটসোর্সিং করেও নাগরিকেরা বিশাল পরিমাণের আয় করতে পারে। এক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থা বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। এতে ব্যক্তিকে উৎসাহিত করতে সরকার নানা ধরনের স্বল্প সুদে ঋণ ব্যবস্থা সুবিধাসহ ভর্তুকি প্রদান করবে। দেখা যাবে আত্মকর্মসংস্থানকারী নিজেই তার অধিক উৎপাদনে অধিক জনবল নিয়োগ দেবার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করবে, যার মধ্যদিয়ে বেকারত্ব হ্রাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের হাতে টাকা আসবে ফলে ব্যক্তি বিনিয়োগে উৎসাহিত হলে বিনিয়োগ বাড়বে আর জাতীয় আয় বা জিডিপি বৃদ্ধিপাবে।
“ক্ষুধা মুক্তি” এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য আর আমাদের বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশ তাই এই ক্ষুধা মুক্তির জন্যে প্রথমে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে আর এই লক্ষ্যে ইউরিয়া ব্যতীত সকল প্রকার সারের মূল্য অর্ধেকে কমিয়ে আনতে হবে, ভালো বীজ সহজলভ্য করা, ডিজেলের মূল্যে কৃষককে ভর্তুকি দেয়া, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সহজলভ্য ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সেচ যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণ সহজ করলে কৃষককেরা উৎসাহিত হবে ফলে অধিক ফলন নিশ্চিত হলে দেশে ক্ষধা মুক্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া নাগরিকদের একে অপরের প্রতি দয়ালু হলে একে অপরকে নিজের ভাই ভেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে দেশের কোন নাগরিকই না খেয়ে থাকবে না। অন্যদিকে সরকার খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন যারা অসাধু ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবে আর নিরাপদ খাদ্য মজুদে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে খাদ্য শস্য সংগ্রহ করবে। আমদানিকৃত পণ্য নিজ দেশে উৎপাদনের পরিবেশ সৃষ্টি করলে দেশের জাতীয় আয়ের সাথে সাথে নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। অন্যদিকে “সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ” নিশ্চিত করতে নাগরিকের সচেতনতা আবশ্যক, কোন অসুস্থতায় ঘরে বসে নিজ থেকে চিকিৎসা না নিয়ে বা ইউটিউবের মতো চ্যানেলের সব বিষয় বিশ্বাস না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নাগরিকেরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এলাকায় একটা স্বাস্থ্যালয় গড়ে তুলতে পারে, যেখানে মাসে ২ বার ডাক্তারের সাথে এলাকাবাসীর সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করতে পারে এবং ডাক্তার নিজেই সু-স্বাস্থ্য বিষয়ে সকলের সাথে আলোচনা করবেন। এবং ঐ প্রতিষ্ঠান উচ্চমান সম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা, সাশ্রয়ী ও সহজপ্রাপ্য ঔষুধ ও টিকাসহ এলাকার সবার সুস্বাস্থ্যের বিষয়ে লক্ষ্য রাখবে। তাছাড়াও ইমাম থেকে শুরু করে শিক্ষিত নাগরিকেরা সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রসার সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে করে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু সহ নানা অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কমে আসবে এবং নাগরিকের প্রত্যকের একে অপরের প্রতি সচেতন হতে হবে যা নিজের জন্যে আমরা উত্তম মনে করি তাই অন্যের জন্যে করার মানসিকতা তৈরি করলে তবেই সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
“মানসম্মত শিক্ষা”র জন্যে শিক্ষিত নাগরিকেরা এগিয়ে আসবে তার আশেপাশের লোকজনকে শিক্ষার ব্যাপারে বুঝাবে আর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষাকে আরও সম্প্রসারণ করতে জোরদার ব্যবস্থা নিবেন এক্ষেত্রে যেসব বাবা-মা সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেনা তাদের জন্যেও আইনের ব্যবস্থা নিতে পারে। শিক্ষার প্রসারের জন্যে গবেষণাগারের বৃদ্ধি সহ নিরাপদ পরিবেশের সৃষ্টি করতে হবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত করতে হবে। এভাবেই দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। আবার “এসডিজি” বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে আমাদের দেশ প্রকৃতির আশীর্বাদে পরিপূর্ণ সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা আছে। সূর্যের আলো, তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, বায়ু প্রবাহ, জল্প্রবাহ, জৈব শক্তি এবং শহরের আবর্জনা ইত্যাদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচনায় রেখে এসব কার্যকরীভাবে কিভাবে কাজে লাগান সম্ভব সেই পদ্ধতি সকল নাগরিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় খুঁজে বের করতে হবে কেননা এর ব্যবহার নিশ্চিত হলে দেশের জ্বালানি চাহিদা বিপুল পরিমানে মিটবে পাশাপাশি অর্থনৈতিক সফলতাও ত্বরান্বিত হবে। এদিকে জলাবায়ু পরিবর্তন  প্রায় সকল রাষ্ট্রের জন্যে এক বিরাট উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিশেষজ্ঞদের মতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় যা গত ১০০ বছরে ১০ থেকে ২৫ সে. মি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে প্রায় বন্যা, বৃষ্টি আবার খরা লেগে আছে যা উৎপাদন আর কৃষিভূমি হ্রাস করছে এমন পরিস্থিতি বহাল থাকলে পাশাপাশি  লবনাক্ততার হার বৃদ্ধি পেয়ে পানির সংকট সহ নানা অজানা রোগের দেখা দিবে। তাই এই জলবায়ু রক্ষায় নাগরিকদের একজোটে মাঠে নামতে হবে এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা থেকে শুরু করে বনায়ন, অযথা পশু শিকার হতে বিরত থাকবে, সরকার নাগরিকদের জন্যে এ বিষয়ে প্রণোদনামূলক প্রদক্ষেপ নিতে পারেন এবং ফোসিল ফুয়েলে অধিক পরিমাণে টেক্স বসালে এর সরবরাহ কমে আসবে এর পরিবর্তে কলকারখানা চলবে উয়িন্ড মিল আর সোলার পেনেলে, তবেই ওজন স্তর ঠিক থেকে বিশ্ব গ্রীন হাউস ইফেক্ট থেকে রক্ষা পাবে।  
একটা রাষ্ট্র চালনায় শান্তি ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম। এক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রত্যেকের  নিজেদের অধিকার বিষয়ক নূন্যতম আইনের ধারনা থাকতে হবে। আইন রক্ষা বাহিনির মানসিকতা এমন হতে হবে যে “আমার এলাকায় একজনের প্রতিও অন্যায় বিচার হবে না”। অন্যদিকে নাগরিকেরা একে অপরকে সম্মান করবে, একে অপরের অধিকার নিয়ে সচেতন থাকবে। প্রত্যেক নাগরিকের “আমি” ধারণা থেকে বেড়িয়ে “আমরা” ধারনায় বিশ্বাসী হতে হবে। জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয় নিরসনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করতে হবে। রাষ্ট্রের যাবতীয় সকল সিদ্ধান্তে নাগরিকের মতামত গ্রহন করা। এতেই নাগরিকের অধিকার বাস্তবায়ন হলে প্রত্যেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে যা দেশের আর দশের জন্যে সুফল বয়ে আনবে।
প্রতিটা রাষ্ট্র গঠিত তাঁর দেশের এক এক জন ব্যক্তি নিয়ে আর এই এক একজন ব্যক্তিই দেশের সম্পদ যাদের নিয়ে পরিবার, সমাজ আর রাষ্ট্র গঠিত। তাই এই এক এক জন নাগরিককেই নিজ দেশকে নিজ পরিবার ভাবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে এবং “এসডিজি” বাস্তবায়নে ইতিবাচক অংশগ্রহণ করতে হবে তবেই ২০৩০ সালের মধ্যেই আমাদের সোনার বাংলা “এসডিজি” তে সফল হয়ে উন্নতির চরম শিকরে দাঁড়াবে।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “আমার দেখা নয়াচীন “ বই এ তিনি দেখিয়েছেন চীনের অধিবাসীরা নিজ দেশকে নিজ পরিবার ভাবে আর দেশের  সকল কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে, তাদের মধ্যে বিশ্বাস আর ন্যায়পরায়ণতা ছিল উল্লেখ করার মত। আমাদের দেশের নাগরিকদেরও এমন হতে হবে যাতে করে ভিন্ন সকল রাষ্ট্র আমাদের দেখে মুগ্ধ হয়।
লেখক
সুমাইয়া বিনতে হোসাইন
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পূর্বশর্ত স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন
                                  

২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশসহ ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা “ট্রান্সফরমিং আওয়ার ওয়াল্ড দ্যা ২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” শিরোনামে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুমোদন করেন। আর এই “এসডিজি” বিশ্বমানবতার সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত একটি কর্মপরিকল্পনা, যা মূলত বিশ্বব্যাপী শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। এরই লক্ষ্যে “এসডিজি”তে ১৭টি লক্ষ্য এবং ১৬৯টি টার্গেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
“এসডিজি”র প্রথম আর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য “দারিদ্রের অবসান”। যখনই দারিদ্রের কথা উঠে তখনই চোখে ভেসে উঠে “বেকারত্ব”। সব কিছুর সমাধান যেন বেকারত্ব, তাই এর সমাধানে দেশের প্রতিটা নাগরিক উচ্চ শিক্ষিত, অর্ধ বা অল্প শিক্ষিত সকলেরই “কোন কাজই ছোট নয়“ এই ধারণায় বিশ্বাসী হতে হবে। শুধু সরকারি চাকুরির প্রতি না ছুটে আত্মবিশ্বাসী হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের কথাও মাথায় রাখা উচিত। তাছাড়াও বর্তমান বিশ্বে আউটসোর্সিং করেও নাগরিকেরা বিশাল পরিমাণের আয় করতে পারে। এক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থা বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। এতে ব্যক্তিকে উৎসাহিত করতে সরকার নানা ধরনের স্বল্প সুদে ঋণ ব্যবস্থা সুবিধাসহ ভর্তুকি প্রদান করবে। দেখা যাবে আত্মকর্মসংস্থানকারী নিজেই তার অধিক উৎপাদনে অধিক জনবল নিয়োগ দেবার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করবে, যার মধ্যদিয়ে বেকারত্ব হ্রাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের হাতে টাকা আসবে ফলে ব্যক্তি বিনিয়োগে উৎসাহিত হলে বিনিয়োগ বাড়বে আর জাতীয় আয় বা জিডিপি বৃদ্ধিপাবে।
“ক্ষুধা মুক্তি” এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য আর আমাদের বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশ তাই এই ক্ষুধা মুক্তির জন্যে প্রথমে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে আর এই লক্ষ্যে ইউরিয়া ব্যতীত সকল প্রকার সারের মূল্য অর্ধেকে কমিয়ে আনতে হবে, ভালো বীজ সহজলভ্য করা, ডিজেলের মূল্যে কৃষককে ভর্তুকি দেয়া, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সহজলভ্য ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সেচ যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণ সহজ করলে কৃষককেরা উৎসাহিত হবে ফলে অধিক ফলন নিশ্চিত হলে দেশে ক্ষধা মুক্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া নাগরিকদের একে অপরের প্রতি দয়ালু হলে একে অপরকে নিজের ভাই ভেবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে দেশের কোন নাগরিকই না খেয়ে থাকবে না। অন্যদিকে সরকার খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন যারা অসাধু ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবে আর নিরাপদ খাদ্য মজুদে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে খাদ্য শস্য সংগ্রহ করবে। আমদানিকৃত পণ্য নিজ দেশে উৎপাদনের পরিবেশ সৃষ্টি করলে দেশের জাতীয় আয়ের সাথে সাথে নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। অন্যদিকে “সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ” নিশ্চিত করতে নাগরিকের সচেতনতা আবশ্যক, কোন অসুস্থতায় ঘরে বসে নিজ থেকে চিকিৎসা না নিয়ে বা ইউটিউবের মতো চ্যানেলের সব বিষয় বিশ্বাস না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নাগরিকেরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এলাকায় একটা স্বাস্থ্যালয় গড়ে তুলতে পারে, যেখানে মাসে ২ বার ডাক্তারের সাথে এলাকাবাসীর সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করতে পারে এবং ডাক্তার নিজেই সু-স্বাস্থ্য বিষয়ে সকলের সাথে আলোচনা করবেন। এবং ঐ প্রতিষ্ঠান উচ্চমান সম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা, সাশ্রয়ী ও সহজপ্রাপ্য ঔষুধ ও টিকাসহ এলাকার সবার সুস্বাস্থ্যের বিষয়ে লক্ষ্য রাখবে। তাছাড়াও ইমাম থেকে শুরু করে শিক্ষিত নাগরিকেরা সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রসার সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে করে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু সহ নানা অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কমে আসবে এবং নাগরিকের প্রত্যকের একে অপরের প্রতি সচেতন হতে হবে যা নিজের জন্যে আমরা উত্তম মনে করি তাই অন্যের জন্যে করার মানসিকতা তৈরি করলে তবেই সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
“মানসম্মত শিক্ষা”র জন্যে শিক্ষিত নাগরিকেরা এগিয়ে আসবে তার আশেপাশের লোকজনকে শিক্ষার ব্যাপারে বুঝাবে আর স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষাকে আরও সম্প্রসারণ করতে জোরদার ব্যবস্থা নিবেন এক্ষেত্রে যেসব বাবা-মা সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেনা তাদের জন্যেও আইনের ব্যবস্থা নিতে পারে। শিক্ষার প্রসারের জন্যে গবেষণাগারের বৃদ্ধি সহ নিরাপদ পরিবেশের সৃষ্টি করতে হবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত করতে হবে। এভাবেই দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। আবার “এসডিজি” বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে আমাদের দেশ প্রকৃতির আশীর্বাদে পরিপূর্ণ সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা আছে। সূর্যের আলো, তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, বায়ু প্রবাহ, জল্প্রবাহ, জৈব শক্তি এবং শহরের আবর্জনা ইত্যাদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচনায় রেখে এসব কার্যকরীভাবে কিভাবে কাজে লাগান সম্ভব সেই পদ্ধতি সকল নাগরিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় খুঁজে বের করতে হবে কেননা এর ব্যবহার নিশ্চিত হলে দেশের জ্বালানি চাহিদা বিপুল পরিমানে মিটবে পাশাপাশি অর্থনৈতিক সফলতাও ত্বরান্বিত হবে। এদিকে জলাবায়ু পরিবর্তন  প্রায় সকল রাষ্ট্রের জন্যে এক বিরাট উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিশেষজ্ঞদের মতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় যা গত ১০০ বছরে ১০ থেকে ২৫ সে. মি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে প্রায় বন্যা, বৃষ্টি আবার খরা লেগে আছে যা উৎপাদন আর কৃষিভূমি হ্রাস করছে এমন পরিস্থিতি বহাল থাকলে পাশাপাশি  লবনাক্ততার হার বৃদ্ধি পেয়ে পানির সংকট সহ নানা অজানা রোগের দেখা দিবে। তাই এই জলবায়ু রক্ষায় নাগরিকদের একজোটে মাঠে নামতে হবে এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা থেকে শুরু করে বনায়ন, অযথা পশু শিকার হতে বিরত থাকবে, সরকার নাগরিকদের জন্যে এ বিষয়ে প্রণোদনামূলক প্রদক্ষেপ নিতে পারেন এবং ফোসিল ফুয়েলে অধিক পরিমাণে টেক্স বসালে এর সরবরাহ কমে আসবে এর পরিবর্তে কলকারখানা চলবে উয়িন্ড মিল আর সোলার পেনেলে, তবেই ওজন স্তর ঠিক থেকে বিশ্ব গ্রীন হাউস ইফেক্ট থেকে রক্ষা পাবে।  
একটা রাষ্ট্র চালনায় শান্তি ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম। এক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রত্যেকের  নিজেদের অধিকার বিষয়ক নূন্যতম আইনের ধারনা থাকতে হবে। আইন রক্ষা বাহিনির মানসিকতা এমন হতে হবে যে “আমার এলাকায় একজনের প্রতিও অন্যায় বিচার হবে না”। অন্যদিকে নাগরিকেরা একে অপরকে সম্মান করবে, একে অপরের অধিকার নিয়ে সচেতন থাকবে। প্রত্যেক নাগরিকের “আমি” ধারণা থেকে বেড়িয়ে “আমরা” ধারনায় বিশ্বাসী হতে হবে। জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয় নিরসনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করতে হবে। রাষ্ট্রের যাবতীয় সকল সিদ্ধান্তে নাগরিকের মতামত গ্রহন করা। এতেই নাগরিকের অধিকার বাস্তবায়ন হলে প্রত্যেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে যা দেশের আর দশের জন্যে সুফল বয়ে আনবে।
প্রতিটা রাষ্ট্র গঠিত তাঁর দেশের এক এক জন ব্যক্তি নিয়ে আর এই এক একজন ব্যক্তিই দেশের সম্পদ যাদের নিয়ে পরিবার, সমাজ আর রাষ্ট্র গঠিত। তাই এই এক এক জন নাগরিককেই নিজ দেশকে নিজ পরিবার ভাবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে এবং “এসডিজি” বাস্তবায়নে ইতিবাচক অংশগ্রহণ করতে হবে তবেই ২০৩০ সালের মধ্যেই আমাদের সোনার বাংলা “এসডিজি” তে সফল হয়ে উন্নতির চরম শিকরে দাঁড়াবে।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “আমার দেখা নয়াচীন “ বই এ তিনি দেখিয়েছেন চীনের অধিবাসীরা নিজ দেশকে নিজ পরিবার ভাবে আর দেশের  সকল কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে, তাদের মধ্যে বিশ্বাস আর ন্যায়পরায়ণতা ছিল উল্লেখ করার মত। আমাদের দেশের নাগরিকদেরও এমন হতে হবে যাতে করে ভিন্ন সকল রাষ্ট্র আমাদের দেখে মুগ্ধ হয়।
লেখক
সুমাইয়া বিনতে হোসাইন
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউপি নির্বাচন : দলীয় প্রতীক তৃণমূলে দলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে!
                                  

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহী অঞ্চলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সবাই নৌকা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যেকোন মূল্যে নৌকা পেলেই বিজয় এই মানসিকতা সৃষ্টির পর নেতারা আর কর্মীদের খেয়াল রাখার প্রয়োজন মনে করছেন না। এতে তৃণমুলে দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক ও সংগঠনের প্রতি খেয়াল না রেখে তারা হাতে গোনা দু’একজন নেতাকে ম্যানেজ করতে শুরু করেছে মহা কর্মযজ্ঞ।

আওয়ামী লীগের দুর্দিনের পরীক্ষিত-আদর্শিক ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-সমর্থকদের দিকে তাদের তাকানোর সময় নেই, দরকারও নেই। কেউ কেউ বলছেন, এলাকার ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা বোকামী ছাড়া কিছুই নয় এরই মধ্যে তার প্রমাণ তারা পেয়ে গেছে। এলাকায় যতোই জনপ্রিয়তা থাক নেতার সুপারিশ ব্যতিত নৌকা কপালে জুটছে না। অধিকাংশক্ষেত্রে ভাই-ভাতিজা, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, কর্মচারী এমনকি তল্পীবাহকদের যোগ্যতা কম বা না থাকলেও  বিভিন্ন দলীয় সংগঠনের মূল পদে বসিয়ে ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে যেকোনো কৌশলে নির্বাচিত করে নিয়ে আশা হচ্ছে। এতে আদর্শিক, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ অনেক জনপ্রিয় নেতৃত্ব রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হতে বাধ্য হচ্ছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

অথচ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বেগবানসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও সম্মানিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু একশ্রেণীর লোভী মুনাফাখোর রক্ত পিপাসু কথিত নেতা এ মহৎ উদ্যোগকে কলঙ্কিত করে চলছে বলে মনে করছে তৃণমূলের কর্মীসমর্থকরা।

স্থানীয় সূত্র বলছে- বিভিন্ন সরকারি ভাতা, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ত্রাণের চাল, মানবিক সহায়তা এবং রাস্তাঘাটসহ উন্নয়ন বরাদ্দের বড় অংশই যথাযথভাবে ব্যয় করছেন না এসব নির্বাচিতদের অনেকেই। এতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন অনেকটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এসব কারণে উন্নয়ন, সেবা ও সহযোগিতা বঞ্চিত হচ্ছে কম বেশী প্রায় প্রতিটি এলাকার জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। জনগণ বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ; দলীয় নেতাকর্মীরাও গুরুত্বহীন ও ক্ষুব্ধ। এই বঞ্চনা ও ক্ষুব্ধতা নৌকা প্রতীক এবং দলীয় হাইকমান্ডের দিকে দিনে দিনে ধাবিত হচ্ছে। গর্বের নৌকা মার্কা হারিয়ে ফেলতে বসেছে তার ওজন ও ঐতিহ্য বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে খুব কম প্রার্থীই আছেন যারা জনকল্যাণে বা নেতাকর্মীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার চেষ্টা করেন। কারণ, এখন জনসমর্থন,  উন্নয়ন এবং দলীয় নেতা কর্মীদের পাশে থাকার খুব একটা দরকার নেই; শুধু প্রয়োজন যে কোন কায়দায় নৌকাটা নিজের করে নেয়া। তাই তারা হন্যে হয়ে ছুটছে টাকা কামিয়ে নৌকা হাসিল করতে। এই প্রতিযোগিতায় বাড়ছে গ্রুপিং কোন্দল এবং রাজনৈতিক অশান্তি; বিনষ্ট হচ্ছে দলীয় ঐক্য ও সংহতি এমনটি অভিমত তৃণমুলের। এভাবে অনেক এলাকাতেই আওয়ামী লীগকে অজনপ্রিয় করে দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছে তৃণমুল। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টিকটক এবং সামাজিক অবক্ষয়
                                  

 

আরিফা আক্তার

অতিমাত্রায় টিকটক নামক অ্যাপস এর ব্যবহার একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। ২০১৭ সালে  বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স কিশোরদের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ মিউজিক্যালি কিনে নেয় এবং নাম দেয় টিকটক। যদিও টাইম টাইপাসের  জন্য এই অ্যাপসটি তৈরি  করা হয় কিন্তু বর্তমানে এটি একটি ব্যধিতে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি মানুষের মধ্যে বিশেষ করে উঠতি বয়সের শিশুর কিশোরীদের মধ্যে এই আচার-ব্যবহার বিপুলভাবে বেড়েছে।

প্রত্যেক মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হলো অন্যের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলা। অতীতে মানুষ নিজের মেধা, বুদ্ধি, আচার-আচরণ ও ব্যক্তিত্ব না দর্শনগত উপস্থাপনার মাধ্যমে অন্যের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করত। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরীর জন্য প্রযুক্তিগত পন্থাকে ব্যবহার করা হয়। এসকল পন্থার মধ্যে অন্যতম হলো মোবাইল অ্যাপস টিকটক। এই অ্যাপস এর মাধ্যমে ১৫ সেকেন্ডের যেকোনো  ভিডিও তৈরি করা যায় এবং যা খুব সহজে অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা যায়। অন্য কারো তৈরি করা কোন গান বা অভিনয়ের মধ্যে ঠোঁট মিলিয়ে নিজের অভিনয়শৈলী  প্রকাশ করা যায় টিকটকের মাধ্যমে।

টিকটক একটি মোবাইল অ্যাপস হলেও এর নেতিবাচক  দিক অনেক বেশি। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের বাস্তবতা থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে টিকটক। শুধু তাই নয় তাদের মধ্যে উগ্রত,  অশালীনতা, অশ্লীলতা, কল্পনাপ্রবনতার মতো বিভিন্ন জটিল মানসিক রোগ তৈরি করছে। যারা ক্রমাগত এই অ্যাপস ব্যবহার করে তাদের মধ্যে বিশেষ মানসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। অতিরিক্ত টিকটকের ব্যবহারের ফলে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বাস্তবতার প্রতি বিমুখতা, মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক অবনতির মত ভয়ানক জটিল মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে।

টিকটক অ্যাপস এর ব্যবহারের কারণে এমন কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে যার ফলে ভিডিও আপলোডকারীকে জীবনের ইতি টানতে হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আপলোডকারী বিভিন্ন ধরনের হয়রানি শিকার হয়েছে। কিছুদিন আগে ভারতীয় এক যুবক মেয়েদের পোশাক পরে মেয়েদের রূপে অভিনয় করে ভিডিও আপলোড করে । সাধারণ মানুষজন ছেলেটিকে মেয়ে রূপে দেখে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মজা করতে থাকে। সবার মজা এমন একটি পর্যায় চলেযায় যা ছেলেটি শেষপর্যন্ত না নিতে পেরে আত্মহত্যার পথে চলে যায়। ইয়েঙ্ক নামে চায়নার লাইভ স্ট্রিমিং গার্ল তার সুরেলা কন্ঠে লাইভ গান গেয়ে টিকটকে ভিডিও বানিয়েছিল এবং লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল। যখন ইয়েঙ্কে চায়নার জাতীয় সঙ্গীত একটু ভিন্নভাবে গেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। যেটি চায়নার মানুষ খুবই অপছন্দ করে এবং তাকে জাতীয় সংগীতের অবমাননার দায়ে পাঁচ দিন জেল খাটতে হয়েছিল। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের চিফ মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি ছেলে টিকটকের ভিডিও প্রদান করে। সেই ভিডিওটির এডিটিং  দেখে মনে হয়েছিল চিফ মিনিস্টার কিছুটা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় আছে কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই নয়। এই ভিডিওতে চিফ মিনিস্টারের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য বিভিন্ন ধারায় ছেলেটাকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল। চায়নাতে মার্সিডিজ  বেঞ্জ গাড়ির লোগো খুলে ফেলার ট্রেন্ড  তৈরি হয়েছিল  টিকটকের মাধ্যমে। এসব ভিডিও দেখে অনেকে অন্যের গাড়ির লোগো  চুরি করা শুরু করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হুয়োং নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এসব উদাহরনের মাধ্যমে টিকটকের ভয়াবহতা আন্দাজ করা যায়। সব ক্ষেত্রে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে মজা করার আগে ভেবে নিতে হবে সবকিছুর একটি পরিসীমা রয়েছে। সীমা ছাড়িয়ে কোনকিছু করলে তা সবসময় অকল্যাণ বয়ে আনে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যা কিছুই প্রকাশ করা হয় না কেন তা ডিলিট করে দিলেও পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সেটা থেকে যায়। পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে কেউ-না-কেউ ওকে ডাউনলোড করে রাখতে পারে এবং সময় মতো ব্যবহার করতে পারে। তাই এ ধরণের মানসিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি  বর্তমানে টিকটক অ্যাপ এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বর্তমানের বাজারমূল্য ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

 

লেখক - আরিফা আক্তার
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প
                                  

 

নাজমুন নাহার জেমি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক  শিল্প যাত্রা শুরু করে ষাটের দশকে। তবে সত্তরের দশকের শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। পোশাক শিল্প তৈরি পোশাক বা আরএমজি (Ready Made Garments) নামে সমধিক পরিচিত। সুবিন্যস্ত কারখানায় বৃহদায়তনে ব্যাণিজ্যিক ভিত্তিতে পোশাক উৎপাদনের ঘটনা বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত নতুন। ষাটের দশকের শুরু পর্যন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে ক্রেতাদের সরবরাহকৃত এবং তাদেরই নির্দেশিত নকশা অনুযায়ী স্থানীয় দর্জিরা পোশাক তৈরি করতো। শুধুমাত্র শিশুদের জামাকাপড় এবং পুরুষদের পরিধানযোগ্য গেঞ্জি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে ষাটের দশক পর্যন্ত তৈরি পোশাক শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারও ছিল না বললেই চলে। সত্তরের দশকের শেষার্ধ থেকে মূলত একটি রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। তৈরি পোশাক শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের আয় বৃদ্ধি পায় ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন আসে। খাতটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এবং তা বৈদেশিক  মুদ্রা অর্জন ও জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য মোট রপ্তানিতে ৫০% অবদান রেখে রপ্তানি আয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিল। আশির দশকের শেষার্ধে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আয়কে অতিক্রম করে পোশাক শিল্প রফতানি আয়ে প্রথম স্থানে চলে আসে। ১৯৯৯ সালে এই শিল্পখাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয় ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোকের, যার শতকরা প্রায় ৮০ জন মহিলা। তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের সাথে সাথে বস্ত্র, সুতা, আনুষাঙ্গিক উপকরণ, প্যাকেটজাতকরণের উপকরণ ইত্যাদি শিল্পেরও সম্প্রসারণ হতে থাকে। এতদ্ব্যতীত পরিবহন, ব্যাংকিং, শিপিং এবং ইন্সুরেন্স সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর সবটাই অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। এ ধরনের নতুন পরোক্ষ-কর্মসংস্থান মূলত পোশাক শিল্প কর্তৃক সৃষ্টি যার সুবিধাভোগী মোট ২,০০,০০০ শ্রমজীবী।

তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ বাংলাদেশের সমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছে। পরোক্ষভাবে এই যে সেবাখাতে প্রায় আড়াই লাখের মতো মানুষের কর্মসংস্থান হয়। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও তৈরি পোশাক শিল্প সাড়ে ২২ লাখ নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রার লক্ষণীয় পরিবর্তন সাধন করেছে এবং তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন পরিবারে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন আনয়নে সক্ষম হয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের কারণে এসব নারী শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকরির সুবিধাদি ভোগকারী, বাবা, ভাই এবং স্বামীর ঐতিহ্যগত পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধন করেছে। অধিকাংশ শ্রমজীবী নারী এখন বিয়ে এবং সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও অংশ গ্রহণ করতে পারছে। সমাজের বাল্যবিবাহ কমেছে, সেই সাথে হ্রাস পেয়েছে জন্মহার। শ্রমজীবী মেয়েরা তাদের ছোট ছোট ভাইবোনদের যত্ন নিচ্ছে এবং স্কুলে পাঠাচ্ছে। ফলে দেশে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তৈরি পোশাক শিল্পখাতের সম্প্রসারণ নতুন উদ্যোক্তাদল সৃষ্টি করছে যারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী বেসরকারি খাত গড়ে তুলেছে। এই উদ্যোক্তাদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা নারী। বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ` বৈশাখী ` ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন একজন নারী। বর্তমানে তৈরি পোশাক কারখানায় অনেক নারী ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত।

শুরুতে এই শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প সম্পূর্ণভাবেই আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ভর ছিল। এই নির্ভরশীলতার কারণে পরিস্থিতি ছিল খুবই নাজুক। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশি মালিকেরা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয় এবং পরিস্থিতির উন্নতি হয়। স্থানীয় উদ্যোগত্তারা পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পের বিকাশ ঘটায় এবং স্থানীয়ভাবেই দক্ষতা বৃদ্ধি করে মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য সুতা ও কাপড় উৎপাদন শুরু করে। দ্রুত পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প গড়ে ওঠার কারণে এই শিল্প আর আগের মতো কাঁচামাল আমদানির উপর নির্ভরশীল নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক বৃহৎ বহুস্তরবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ পোশাক কারখানা গড়ে উঠেছে। এ সমস্ত কারখানা সুতাকাটা, বয়ন, রং,প্রক্রিয়াজাত এবং ক্যালেন্ডারিংসহ অন্যান্যকাজ সম্পন্ন করে। তাছাড়া এ সমস্ত রপ্তানিযোগ্য কাপড় স্থানীয় কারখানায়ও বিক্রি হয়। এই কারখানাসমূহে বিদেশি ক্রেতাদের নকশা অনুযায়ী কেটে মোড়কে ভরে নির্ধারিত ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়। পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প গড়ে উঠার ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান পূর্বের তুলনায় আরও সংহত হয়েছে।

কম উৎপাদন খরচের কারণেই বাংলাদেশ বিদেশি ক্রেতার কাছে ক্রমবর্ধমান আকর্ষণীয় ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। কম খরচের সুযোগ গ্রহণ করতেই তারা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি করে। এত কিছু সত্ত্বেও নতুন কারখানাসমূহ চলতি পুঁজির জন্য প্রচন্ড সমস্যায় পড়ে। এই সময় ব্যাক- টু- ব্যাক এল.সি (লেটার অব ক্রেডিট বা আস্থাপত্র) লেনদেনের জন্য উদ্ভাবিত নতুন পন্থার অবদানে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। ব্যাক- টু- ব্যাক এল.সি চলতি মূলধনের সমস্যা লাঘব করে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য মানসম্পন্ন কাপড় আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

 

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

করোনায় বেকারদের অবস্থা শোচনীয়
                                  

সুরাইয়া ইয়াসমিন তিথি
করোনা মহামারির ধাক্কায় বিপর্যস্ত বেকারত্ব সমাজ। নিরবে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে গ্রাজুয়েটধারী ও উচ্চ শিক্ষা অর্জনকারী বেকাররা। এমনকি অনেক বেকার দেউলিয়া হয়ে ঘুরে ফিরে সুইসাইডকে বেছে নিয়েছে। কাজ না পাওয়ার হতাশা আর দুর্ভাবনায় কেউ আত্মঘাতী হতে চাইলে তাকে বাঁচিয়ে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বেকার যারা এখন তাদের চাকরির খুব প্রয়োজন, তাদের জীবনটা এই মহামারির কারণে একটা অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কোন কাজ নেই, যতদিন যাচ্ছে পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের মলিন চেহারা সেই হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই দেশে বেকারত্বের হার অনেক। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেই সংকট আরো বেড়েছে। করোনার কারণে এখন অনেকই চাকরিচ্যুত হওয়া শুরু করেছে। করোনার কারণে কতদিন কারখানা বন্ধ থাকবে, তা কেউ বলতে পারে না। আর যারা পরিবহন শ্রমিক, রিকশা শ্রমিক, দোকানের শ্রমিক বা অন্যান্য ইনফরমাল খাতের শ্রমিক, তারা তো বেকার হয়ে বসে আছে। খোদ রাজধানীতেই কয়েক লাখ বাস শ্রমিক এখন বেকার।

মহামারির কারণে গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সবকিছুই আটকে আছে। কোন সার্কুলার নাই, কোন চাকরির পরীক্ষা নেই। এই মহামারি কবে শেষ হবে, কবে আবার চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হবে তা কেউ জানে না। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যুবক-যুবতী, যাঁরা ‘উচ্চশিক্ষিত’ কিন্তু বেকার। চাকরি না পাওয়ার ফলে নিজেদের পরিবারের গলগ্রহ ভাবতে ভাবতে তাঁদের মনে যে হতাশা ও গ্লানি জমে ওঠে, তা দুঃসহ। হতাশা তাঁদের মা-বাবাকেও ছাড়ে না। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত ছেলের বেকারত্ব মা-বাবার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত মেয়ের বেকারত্বের সমাধান তাঁরা পেয়ে যান মেয়েটিকে সচ্ছল কোনো পাত্রের হাতে তুলে দিতে পারলে এই হলো শেষ পরিণতি। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ কর্মচ্যুত হবেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে, করোনার কারণে বাংলাদেশে চাকরি হারানোর তালিকায় যুক্ত হতে পারেন অন্তত দেড় কোটি মানুষ। এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই খারাপ খবর। কারণ এই দেড় কোটি মানুষ চাকরি হারালেও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে অন্তত ৫ কোটি মানুষ।

করোনা ভাইরাস মহামারি কবে শেষ হবে, তা এখনো সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মহামারির কারণে আর্থিক মন্দা বহাল থাকবে আরো কিছুদিন। যার প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পড়বে চাকরির বাজারেও। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছেন, এরকম তরুণ-তরুণীরা তাদের কর্মজীবন শুরু করা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। দীর্ঘায়িত হতে পারে বেকারত্বের সংকট। বেকারত্ব সমস্যা স্বাভাবিক সময়েই অধিকাংশ দেশের জন্যই মাথাব্যথার কারণ। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় সরকারকে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। করোনা ভাইরাস দরিদ্র্যকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে আর সেই সাথে আছে বেকারত্ব। তাই অর্থনীতির গতি ফেরাতে কর্মসংস্থানে জোর দিতে হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করছে কর্তৃপক্ষ। কারিগরি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হয়। তখন চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে না ছুটে নিজেই নিজের কর্ম স্থির করা সম্ভব হয়। বাইরের দেশেও কারিগরি দক্ষ শ্রমের মূল্যায়ন বেশি। কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করতে হবে। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে খরচ করতে পারলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকার এ ধরনের কর্মসূচি প্রণয়ন করতে পারেন তাহলে বেকারত্বের রুপরেখা কিছুটা কমতে পারে।

অবক্ষয়ের নতুন ফাঁদ ‌টিকটক
                                  

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির অগ্রসরতার যুগে সোশ্যাল মিডিয়া বিনোদন ও যোগাযোগের মাধ্যম কে করেছে সহজ ও সহজলভ্য। অবসর সময় কাটানোর একমাত্র সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া। টিকটক অ্যাপ (tiktok app) ও  এমন একটি সোশ্যাল মিডিয়া যার মাধ্যমে শর্ট ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করা যায় ।বলতে গেলে এটা কিছুটা ইউটিউব এর মতো।
 
পরিচিত ফিল্মী ডায়লগ বা গানের সঙ্গে নিজেরা অভিনয় করে মজার মজার ভিডিও বানানো যায় । তবে ১৫ সেকেন্ডের থেকে বড় ভিডিও বানানো যায় না এই অ্যাপে, আর নিজের স্বর ব্যবহার করতে পারবেন না, যাকে বলা হয় ‘লিপ সিঙ্ক, অর্থাৎ ঠোঁট নাড়া।

এসব ভিডিওতে মান কিংবা বক্তব্য কিছুই মূখ্য নয়,কিন্তু বর্তমানে তারকাখ্যাতি পাওয়ার  জন্য উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের ভিডিও তে প্রাধান্য পাচ্ছে যৌনতা সহিংসতার মত ভয়ংকর বিষয়।

টিকটক লাইকির প্রতিযোগীতায় আছেন চিত্রনায়িকা থেকে শুরু করে সাধারন শিক্ষার্থী সহ সব বয়সের নারী পুরুষ।সব মিলিয়ে এ এক অন্য জগত।যেসব কিশোর কিশোরীরা রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেতে চান তাদের জন্য এসব এপ যেন আলাদিনের চেরাগ।

এই ভিডিও গুলো শ্যুট করা হয় গ্রুপ করে যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কিশোর গ্যাং।প্রতিদ্বন্দী গ্রুপগুলোকে টেক্কা দিতে দল ভারি করছে গ্রুপগুলো,গ্রুপে ফলোয়ার বাড়ানোর নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দ্বন্দ্বে।ঢাকার রাস্তায় বা বিভিন্ন পিকনিক স্পটে গ্যাং নিয়ে করছে শ্যুটিং।দর্শনার্থীরা কোন অভিযোগ করলে উলটো ঝামেলার সৃষ্টি করে বলে এমন অভিযোগ পেয়েছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।তারকা হবার নেশায় অপরাধের অন্ধকারে ডুবসাঁতার কাটছে কিশোর কিশোরীরা।

যদিও ১৩ বছরের বেশি বয়সীদেরই এই অ্যাপ ব্যবহার করার কথা, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এর থেকে কমবয়সীরাও টিকটক ব্যবহার করছে এবং তাদের সংখ্যাটা বেশ বড়।রাতারাতি তারকা হওয়ার নেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কর্মকান্ডে।

পুলপার্টি সহ নানা ধরনের  আয়োজন করা হয় বিভিন্ন টিকটক লাইকি গ্রুপ গুলোর উদ্যোগে।পুলপার্টির আড়ালে চলে দেহ ব্যবসা।টার্গেট করা হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর কিশোরী ,এছাড়াও চলে মাদক ব্যবসা, নারী পাচার এবং ধর্ষনের মত অপরাধ।বর্তমানের আলোচিত ঘটনাগুলর বেশিরভাগ এর সূত্রপাত ঘটছে টিকটকারদের কেন্দ্র করে।

ফেসবুক বা টুইটারে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলোতে যেমন নীল টিক চিহ্ন দেওয়া থাকে, টিকটকের ক্ষেত্রে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলিতে কমলা চিহ্ন দেওয়া হয়।যার ফলোয়ার যত বেশি ফলোয়ার  টাকাও পাচ্ছে তত বেশি।জনপ্রিয়তা ও টাকার লোভে কিশোর কিশোরীরা আকর্ষিত হচ্ছে খুব সহজেই।

প্রাইভেসির একটা সমস্যা রয়েছে এই অ্যাপে। মাত্র দুই ধরণের প্রাইভেসি সেটিং আছে  আপনার বানানো ভিডিও হয় শুধু আপনি দেখতে পাবেন, অথবা তা সব অ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। মাঝামাঝি কোনো জায়গা নেই।এই অ্যাপটির মাধ্যমে যে কেউ আপনাকে ফলো করতে বা মেসেজ করতে পারে।এর ফলে বন্ধু বানানোও সহজ হয়ে যাচ্ছে,পরিচিতি বাড়ছে
অসামাজিক মনোবৃত্তির মানুষরা তাই সহজেই কমবয়সী ব্যবহারকারী, বিশেষ করে ছোট মেয়েদের প্রলোভন দেখাতে পারে।

তথ্য-প্রযুক্তি পত্রিকা ‘গ্যজেট ব্রিজ’এর সম্পাদক সুলভ পুরি মনে করেন, অ্যাপটি তো অন্তত এটুকু করাই উচিত, যাতে ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ টিকটক ব্যবহার না করতে পারে, তা সুনিশ্চিত করা।

 এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই ধরণের বেশিরভাগ অ্যাপই আজকাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে কাজ করে। তাই একবার এইসব অ্যাপে নিজের যে কোনও তথ্য আপনি দেবেন, সেগুলো চিরকালের মতো তাদের কাছে থেকে যাবে।

সমাজ অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন টিকটক লাইকির মত এপ গুলো নতুন প্রজন্মের কিশোর কিশোরীদের মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বড় কারন যার পরিনতি হতে পারে ভয়াবহ। এই ধরনের সংস্কৃতির সাথে যদি তারা অভ্যস্ত হয় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের নেতৃত্ব বড় হয়ে উঠবে অসুস্থ প্রজন্ম হিসেবে,এই গোষ্ঠী কিভাবে দেশের বা বিশ্বের নেতৃত্বে যাবে তা নিয়ে সংকিত।অনেকদূর এগুলোও টিকটক কালচার এখনও প্রাথমিক অবস্থায় আছে বাংলাদেশে।সরকার যদি এখনও ব্যবস্থা না নেয় তবে এটি একটি বড় ধরনের আচরন গত অসুস্থতা হিসেবে পরিনত হবে

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন পর্নগ্রাফি এপগুলো সফলভাবে বন্ধ হলেও সেক্সচুয়াল ইন্টারেকটিভ এপগুলোর ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা স্পষ্ট।

ব্যক্তিগত সচেতনতা,পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান,প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি এবং কঠোর আইন এর প্রয়োগ এর কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশী আইনে অবৈধ,সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে তার বিরুদ্ধে আইন নেয়া অত্যাবশকীয়। সার্বভৌমত্ত ,অখন্ডতা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা তিন বিষয় বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত বন্ধ করেছে এসব এপ।

দেশের নিরাপত্তা কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য,পরিবারের সকল সদস্যদের উচিত কিশোরদের দিকে বিশেষ নজর দেয়া এছাড়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব এসকল বিদেশী এপ এর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনে অবৈধ,সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা।  নতুন প্রজন্মের সুস্থ  মানসিকতা ও নিরাপত্তার সাথে বেড়ে উঠার অঙ্গীকার হোক আমাদের সকলের।

আনন্যামা নাসুহা, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্র, আইন এবং রোজিনারা
                                  

মাহবুবুল আম্বিয়া :
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম- যার প্রাণশক্তি এর কর্মীগণ। রাষ্ট্রের প্রথম স্তম্ভ নির্বাহী বিভাগ- যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। একে নজরদারীতে রাখে দ্বিতীয় স্তম্ভ পার্লামেন্ট; আর পার্লামেন্টকে নজরে রাখে তৃতীয় স্তম্ভ বিচার বিভাগ।

এই তিনটি রাষ্ট্রীয় স্তম্ভ ঠিকমত কাজ করছে কি-না সেটাই নজরে রাখে গণমাধ্যম। সে কারণে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে গণমাধ্যমকে বিবেচনা করা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ তথা গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে।

গণমাধ্যম কর্মীরা রাষ্ট্র, ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের শত্রু নন। দেশ-জনগণ বা বৃহৎ অর্থে অবদমিত মানুষজনের পক্ষে  কলম ধরেন সাংবাদিক। এক্ষেত্রে অনুরাগ-বিরাগ নয়, নিরাসক্ততাই সাংবাদিকের পবিত্র অস্ত্র। সেটা বেঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের জন্যও রয়েছে প্রতিকারের আইনসংগত উপায়- প্রেস কাউন্সিল।

কিন্তু আইনসঙ্গত পথ এড়িয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষিত কক্ষে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহীগণ সংঘবদ্ধভাবে সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনাকে অবিশ্বাস্য অশ্রাব্য উপায়ে নিগ্রহ এবং তা চলমান রেখেছেন। নিঃসন্দেহে এই পদক্ষেপ রাষ্ট্র প্রদত্ত ক্ষমতার বেআইনী প্রয়োগ, এক বেপরোয়া সন্ত্রাস।

সরকার তার ভাষায় সৎ নিয়তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আপত্তি উপেক্ষা করেছিল। তখন বিশেষভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এর কোন অপপ্রয়োগ দেশে ঘটবে না। কিন্তু সেই আইনের সূত্র ধরে ইতোমধ্যে বেশকিছু দেশ কাঁপানো অঘটন আমাদের দেখতে হয়েছে। তখন থেকেই মূলত রাষ্ট্রের দুর্নীতিবাজ নির্বাহীগণ এবং কর্মীবৃন্দ একজোট হয়েছেন বেপরোয়া দুর্নীতিতে। নিজেদের দুর্বৃত্তপনা গোপনে রাখতে এবং সাংবাদিকের নজর আড়াল করতে তারা সরকারের করা বিশ্ব-বিখ্যাত ডিজিটাল এ্যাক্টসহ অফিসিয়াল সিক্রেট এ্যাক্টের অপব্যবহার করে আসছে গণমাধ্যমকর্মী নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রেটিং প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থানের পর্যায়ক্রমিক অধগমন অব্যাহতই আছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গণমাধ্যম দমনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনগুলো এ মুহুর্তে বিশ্বের ভয়ঙ্করতম আইন।

গণস্বার্থে গণস্বার্থবিরোধী গণমাধ্যম সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন বা বাতিল করা এখন সময়ের দাবী। এই দেশ এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থের চাইতে চোর-বাটপার দুর্বৃত্তের স্বার্থ কোনভাবেই বড় হতে পারে না।

রোজিনা ইসলামকে গলা চেপে ধরা মানে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ- গণমাধ্যমকে গলাটিপে হত্যা চেষ্টার নামান্তর। প্রজাতন্ত্রের নির্বাহীগণ দেশের মালিক জনগণকে জবাবদিহিতে বাধ্য; জনগণের পক্ষে দায়িত্বপালনকারী গণমাধ্যমকর্মীর গলায় হাত দেবার ধৃষ্টতা পূরনো অনেক কথা মনে করিয়ে দেয়।  এখন বিশ্ব মিডিয়ায় রোজিনার নির্যাতন-নিপীড়ন সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক সরকার কতটুকু সুনাম কুড়াচ্ছে তা হয়তো সময়ই বলবে।

পূনশ্চঃ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আলমারীগুলো তো স্বাস্থ্যখাতের বিখ্যাত শাহেদ-মিঠুদের সুকীর্তির ইতিবৃত্তে ঠাসা। ওগুলো রাষ্ট্রের কোন সিক্রেট ডকুমেন্ট হতে পারে না। ওগুলোই আড়ালে রেখেছিলেন নির্বাহীগণ- যা ছিল রোজিনার টার্গেট। তাহলে অফিসিয়াল সিক্রেট এ্যাক্টে মামলা হলো কিভাবে?

লেখক- নির্বাহী সম্পাদক
      দৈনিক স্বাধীন বাংলা।

পথশিশুরাও মানুষ
                                  

পথশিশুরা সাধারণত টোকাই নামেই পরিচিত। জন্মগতভাবে কেউই পথশিশু বা টোকাই নামে পরিচিত না বা টোকাই নামে জন্মগ্রহণ করে না। এই শিশুদের পথশিশু বা টোকাই নামের পিছনে লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ কাহিনী। এই পথশিশুরা বেশির ভাগই তৈরি হয় পারিবারিক কলহের কারণে। বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ, সংসারে অতিরিক্ত অভাব, বাবা-মায়ের দূরারোগ্য ব্যাধি কারণে শিশুরা অল্প বয়সে রাস্তায় নেমে আসে। আবার কখনোও দেখা যায় যে শিশুদের চুরি করে নিয়ে এসে রাস্তায় ছেড়ে দেয় ভিক্ষা করে অর্থ উপার্জনের জন্য। অনেককে এ কাজে বাধ্য করা হয়, অনেক অবৈধ সন্তানও বড় হয় যারা হচ্ছে টোকাই বা পথশিশু। তাদের থাকা, খাওয়া, ঘুমানোর কোনো জায়গা থাকে না। তারা রাস্তায়, পার্কে, বাস স্টেশন, রেল স্টেশন বা খোলা কোনো জায়গায় থাকে। তবে এদের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। পথেই কাটে তাদের সারাটা জীবন।

আবার পথশিশুদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত হয়ে যায় এবং মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে তারা রাস্তাতেই মারা যায়। আবার কেউ পাচারের শিকার হয়ে যায়। যারা পাচারের শিকার হয়, তাদের অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিক্রি করে দেয়া হয় এবং নির্যাতনেরও শিকার হয়ে থাকে। যারা মেয়ে তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং যৌনকর্মী হতে তাদেরকে বাধ্য করা হয়।

বর্তমান করোনাকালীন সময়ে পথশিশুদের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউন থাকার কারণে রাস্তায় লোকজনের চলাচল কমে যাবার কারণে তাদের আরো বেশি অসুবিধা হচ্ছে, ঠিকমতো খেতেও পারছে না। কারণ পথশিশুদের একটা বিরাট অংশ ভিক্ষা করে খায় আবার কিছু অংশ ফুল, বেলুন, চকলেট ইত্যাদি বিক্রি করে চলে। লোকজন কম থাকার কারণে তারা এসব করতে পারছে না। অনাহারে চলছে তাদের জীবন।

করোনা কালীন সময়ে বা অন্যান্য যে কোনো সময়ে আমরা দেখতে পাই কিছু পথশিশু তাদের মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে বা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। তারপর সেখান থেকে তাদের জীবন পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। তারা সরকারি ভাবে এমনকি বেসরকারিভাবেও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু অন্যান্য পথশিশু যারা ভাইরাল হচ্ছে না তাদের কথা কেউ ভাবছে না। তারা কোনো সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছে না। তাদের জীবনের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা তার কোনো খবর কেউ রাখছে না। তাদের জন্যও প্রয়োজন স্থায়ীভাবে কোনো কিছু করা, তাদের সুষ্ঠু জীবন যাপনের ব্যবস্থা করা। তারাও সমাজের অন্যদের মতো মানুষ। পথশিশু ভেবে তাদেরকে অবহেলা অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। পথশিশুদের পূণর্বাসন ও জীবনমানের উন্নয়ন যত তাড়াতাড়ি করা যাবে ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলকর হবে। কারণ প্রতিনিয়ত পথশিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এই বিরাট সংখ্যক পথশিশু জাতির জন্য হুমকিস্বরুপ হতে পারে। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে এ বিরাট অংশ জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ না হয়ে আশির্বাদ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে ঢাকা শহরে অনেক বেসরকারি এবং কিছু সরকারি উদ্যোগ আছে এই পথশিশুদের জন্য। কোনো সংগঠন তাদের খাবার দিচ্ছে, পোশাক দিচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছে আবার অনেক সংগঠন তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও করে থাকেন। তবে দিনশেষে তাদের আবার সেই পথেই নামতে হয়। কারণ এসকল উদ্যোগগুলোর কোনোটাই টেকসই নয়। এভাবে কাজ করলে পথশিশুদের কোনো উন্নতি করা যাবে না। কারণ তাদের প্রয়োজন শিক্ষা, থাকার স্থায়ী জায়গা, খাবারের ব্যবস্থা সর্বোপরি তাদের প্রয়োজন হচ্ছে মৌলিক চাহিদা। আর বর্তমান মহামারীর সময়ে তাদের চাই নিরাপত্তা। সরকারকেই তাদের জন্য কিছু একটা করতে হবে। একমাত্র সরকারের তত্ত্বাবধানেই পথশিশুদের জীবন বদলে যেতে পারে এবং তাদের জীবনের উন্নতি হবে। দেশের কল্যাণের জন্য হলেও পথশিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই এ সম্পর্কে সরকারকে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক ঃ কবিতা রাণী মৃধা
          রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও চর উন্নয়ন
                                  

প্রাচীনকালে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো নদীকে কেন্দ্র করে। এর প্রধান কারণ কৃষিকাজ। আদিম মানুষ যখন কৃষিকাজের ধারণা পেল তখন তার অনুভব করলো পানির। আর তখন থেকেই মানব সভ্যতা গড়ে উঠতে শুরু করল নদীকে কেন্দ্র করে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মানব সভ্যতার প্রধান জীবিকা হল কৃষিকাজ। কৃষিকাজ বাংলাদেশের মানুষের প্রধান জীবিকা। দেশের শতকরা ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। কৃষি বাংলার মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।  

কৃষিকাজ করে দেশের হাজার হাজার কৃষক তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম উজার করে উৎপাদন করে ধান, গম, পাট, তিল, তিসিসহ নানা রকম সবজি। ফসলের মাঠের সোনার ফসলে লেগে থাকে কৃষকের ভালোবাসা এবং দিনরাত একাকার করে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটানোর প্রতিচ্ছবি। কি বৃষ্টি, কি ঝড় ফসলের মাঠ তাদের সঙ্গী। একটি ঘরে আনার পর কৃষকের মনে আকতে থাকে আরেকটি ফসলের ছবি। এভাবেই তারা সারাবছর গায়ের ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের জন্য ফসল উৎপাদন করে।

কৃষকের উৎপাদিত ফসল পাট আমাদের অর্থকরী ফসল। যাকে আমরা সোনালী আঁশ হিসেবেও চিনি। পাটের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত প্রতিটি অংশই আমরা ব্যবহার করতে পারি। পাট শাক অত্যন্ত উপকারী এবং উপাদেয়। কমবেশি সব মানুষই এটা পছন্দ করে। তেমনি করে পাটকাঠি প্রতিটি বাঙালী নারীর রান্নাঘরে নিত্যদিনের জ্বালানি। গ্রামগঞ্জে ঘরের বেড়া ও ছাউনিতে এটা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক যুগে পাটকাঠির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় পারটেক্সের ফার্নিচার তৈরিতে। অপরদিকে যে জিনিসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল পাটের আঁশ। পাটের আশের নানামুখী ব্যবহার রয়েছে যেমনঃ পাটের ব্যাগ, মোরা, ঘর সাজানোর উপাদান ইত্যাদি। পাটের তৈরী জিনিস পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। পরিবেশ রক্ষায় পাট সন্দেহাতীতভাবে আমাদের অনেক বড় অর্জন। পাটের চাহিদা বিদেশে অনেক বেশি। তাই আমরা যদি পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করে পাটের উৎপাদন বাড়াতে পারি তাহলে বাড়তি পাট বিদেশে রপ্তানী করে আমরা অর্জন করতে পারি বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে পাট উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে কৃষকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজ উপাদান হলো আখ। আখ কমবেশি আমাদের সবার কাছে পরিচিত। আখের রস সুপরিচিত এবং সুপেয় পানীয়। আখের তৈরী গুড় এবং চিনি না হলে আমাদের একদিনও যেন চলে না। আখ উৎপাদন করা হয় সাধারণত বালু মাটিতে। আমরা আখ উৎপাদনে সম্ভাবনাময় দেশ। অথচ প্রতিবছর অন্য দেশ থেকে বিষেশ করে ভারত থেকে আমদানি করি কোটি কোটি টাকার চিনি। এককালে আমরা নাকি চিনি উৎপাদনে ছিলাম সেরা। বর্তমানে আখ চাষের সেরাত্ব আমরা হারিয়েছি। এখন প্রতি বছর চিনির জন্য চেয়ে থাকতে হয় অন্য দেশের দিকে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে বাংলাদেশের সুগার মিল কর্পোরেশন চালু হয়। সে সময় দেশে ৭২টি চিনিকল ছিলো। যার মধ্যে ৫৯টি চিনিকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কর্পোরেশনের অধীনে রয়েছে ১৫টি চিনিকল। যার মধ্যে ৬টি চিনিকল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তারমানে চিনি উৎপাদন চলবে মাত্র ৯টিতে। উৎপাদিত চিনি ১৭ কোটি মানুষের জন্য অতি সামান্য। এতে দেখা দিবে ঘাটতি এবং প্রতি বছর অন্য দেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হবে। এতে করে আমাদের দেশের কষ্টার্জিত টাকা চলে যাবে অন্যদেশের হাতে।

আমাদের অর্থকরী ফসল পাট ও আখসহ আরো যে কৃষিজ উপাদান রয়েছে যেগুলোর উৎপাদন বাড়াতে হবে। যদি আমরা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে চাই। আখ ও পাট দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ফসল। যা আমরা হেলায় হারাচ্ছি। আখ সাধারণত উৎপাদিত হয়ে থাকে বালু মাটিতে এবং পাট উৎপাদিত হয় নদীকেন্দ্রিক অঞ্চলে। বালুময় মাটি ও নদী একত্রে আমরা পেয়ে থাকি চর অঞ্চলে। তাই দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে আমাদের আগে বাঁচাতে হবে চর অঞ্চলকে।

বাংলাদেশের ৭০০টিরও বেশি অসংখ্য নদী রয়েছে। এ সমস্ত নদীর বুকে জেগে ওঠে ছোট-বড় অসংখ্য চর। চর অঞ্চলে বিভিন্ন রকমের ফল মাটি থাকে। যার কারণে সেখানে উৎপাদিত হয় হরেক রকমের ফসল। চরের মানুষ দিনরাত এক করে কাঠফাটা রোদে পুড়ে উৎপাদন করে এ সমস্ত ফসল। চরাঞ্চলে সাধারণত সারা বছর ধরে চলে ফসল উৎপাদনের কাজ। তাই বলা যায়, তারাই মূলত দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান চালিকাশক্তি। সেজন্য তাদের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। চর জেগে ওঠে নদীর বুকে এবং সেখানে উৎপাদিত হয় ফসল। ফসল মাড়াই করা শেষে সেগুলো বিক্রি করার সময় চরাঞ্চলের মানুষ পড়ে চরম ভোগান্তিতে। নদীতে নৌকা যোগে তাদের ফসল বাজারে আনতে হয় অক্লান্ত পরিশ্রম করে। কিন্তু তারা তাদের ন্যায্যমূল্য পায়না। যার কারণে কাটে না তাদের দুঃখ কষ্ট। চর অঞ্চলে মানুষের ফসল উৎপাদন প্রধান প্রতিবন্ধকতা নদীকেন্দ্রিক জটিলতা। নদীর বুকে সামান্য চরে চলে তাদের ফসল উৎপাদনের কাজ। মাটির বুক চিরে মাঠে ফসলের সোনালী হাসি ফুটলেও হাসি ফোটে না কেবল চরের মানুষের মুখে। তাদের সব সময় সংকায় কাটতে হয়। এর বিশেষ কারণ নদী ভাঙ্গন এবং বন্যা। যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।চরের মানুষ তাদের সবটুকু দিয়ে ফসল উৎপাদন করে কিন্তু নদী ভাঙ্গন এবং বন্যা তাদের স্বপ্নে আঘাত হানে। নদী ভাঙ্গনের ফলে যে কেবল তারা তাদের ফসল হারায় তার নয়, তাদের হারাতে হয় ঘরবাড়িও। এই নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য প্রয়োজন যথাযথ ব্যবস্থা। নদীর পাড় বাঁধাই করা সম্ভব হলে চরাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির এবং দুশ্চিন্তা কমবে। এছাড়াও সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত চরের মানুষের নূন্যতম শিক্ষার দিকে। কারণ যথাযথ শিক্ষার অভাবে তারা তাদের ফসলের পরিচর্যার ব্যাপারে কম অভিহিত। শিক্ষার হার বাড়লে তারা নিজেরাই নিজেদের উন্নত করতে পারবে তাদের অঞ্চলকে। এছাড়াও খেয়াল রাখতে হবে কৃষকের ন্যায্যমূল্য, নদী ভাঙ্গন এবং উপযুক্ত শিক্ষার দিকে। এসবের করণেই চরাঞ্চলের মানুষ পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়াও কিছু কিছু অর্থকরী ফসল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে ন্যায্য মূল্যের অভাবে। দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে চরাঞ্চলের বিকল্প নাই। আর সেজন্য দরকার চর অঞ্চলের উন্নয়ন এবং উন্নয়নের জন্য দরকার সরকারের বিশেষ দৃষ্টি।

লেখক- রোকাইয়া মাহজাবিন(শিক্ষার্থী)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

নির্ভীক পদচারণার ৫০ বছর
                                  

বছর ঘুরে মার্চ মাস এলেই বাঙালির মনে এক মিশ্র অনুভূতি সৃষ্টি হয়। একদিকে স্বাধীনতা অর্জনের সুখকর অনুভূতি, অন্যদিকে এই অর্জনের পেছনে আত্মত্যাগের ইতিহাস। তবে স্বাধীনতা অর্জনের গৌরবময় অনুভূতি যেন সবকিছু ছাপিয়ে যায়, মনের অজান্তেই তৈরি করে গৌরবের বিশাল সোপান। ১৯৭১ থেকে ২০২১, পেরিয়ে গেছে বাঙালি জাতির নির্ভীক পদচারণার ৫০ টি বছর। এই পঞ্চাশ বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাঙালিকে দিতে হয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার পরীক্ষা। এভাবেই নির্ভীক পদচারণায় বাঙালি সুপরিচিতি লাভ করেছে বিশ্বের দরবারে।

স্বভাবগতভাবেই মানুষ স্বাধীনচেতা। তাই কেউ যদি সেই স্বাধীনতায়  হস্তক্ষেপ করে তাহলে চেতনা রক্ষা এবং আত্মপরিচয় তুলে ধরার তাগিদে হলেও মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে,  ছিনিয়ে আনে নিজের অধিকার। ঠিক তেমনি আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে বাঙালি জাতি ঝাপিয়ে পড়েছিল স্ব অধিকার ছিনিয়ে আনার সংগ্রামে, মেতে উঠেছিল স্বাধীকার চেতনায়। আর এই চেতনার উজ্জীবন ই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য অর্জনে শক্তির যোগান দিয়েছিল। লাখ লাখ মানুষের জীবন এবং মা বোনের সম্ভ্রম বিসর্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালী পায় নতুন এক পরিচয়।

স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তীতে মার্চ মাস আমাদের কাছে এক বিশেষ অর্থ বহন করছে। এই বছরকে ঘিরে পরিকল্পনার শেষ ছিলনা কিন্তুু করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সব পরিকল্পনার অবসান ঘটিয়েছে, জয়ের উল্লাসে মেতে উঠার বদলে অদৃশ্য শত্রুর কবলে আতঙ্কিত দিনযাপন করছে সকলে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী কে ঘিরে বাঙালির মনের ক্যানভাসে যেই চিত্র আকাঁ ছিল তা কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছে করোনা সংক্রমণের জন্য। জয় স্বভাবতই আনন্দের বিষয় আর সেই জয় যদি হয় নিজের জাতির স্বাধীনতা অর্জনের তাহলে সেটি আরো বেশি অর্থবহ হয়ে উঠে।   এবছর স্বাস্থ্যবিধী মেনে চলে হয়তো স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হবে কিন্তু মনের কোঠায় আজন্ম সর্বকালের সব বাঙালি শ্রেষ্ঠ দিনটি উদযাপন করবে নিজেদের হৃদয়ে।

স্বাধীনতা সবসময় জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে অবস্থান করে আর সেই স্বাধীনতা যদি হয় নিজের জাতির স্ব অধিকার রক্ষার তাহলে সেটি আরোও গৌরবের তবে বরাবরের মতোই স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা কঠিন কারন প্রতিনিয়ত সেই অর্জিত স্বাধীনচেতা মানুষদের প্রমাণ করতে হয় যে শুধুমাত্র বছরের একটি দিন না বাকি দিনগুলোও সমুন্নত থাকবে এদেশের মানচিত্র  এবং গৌরবগাঁথা। তখন একই সাথে জাতির সামনে থাকে বিভিন্ন সংকট সহ নাম না জানা হাজারো শত্রু তাই সেসব কিছুকে দূর করে স্বাধীনতা রক্ষা করা আরো বেশি সাহসিকতার কাজ। সকল ধরনের সংকট অতিক্রম করে বাঙালি জাতি বিশ্বের দরবারে সুপরিচিতি লাভ করবে স্বাধীনতার মাসে এটিই কাম্য।

সর্বত্র জয় হোক বাংলা ভাষার
                                  

বাঙালী জাতি বীরের জাতি। বাঙালি জাতির জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন ৮ ফাল্গুন। শোকে বিহ্বল, গৌরবে দীপ্ত এক অনন্য দিন। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিধন্য মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভাষা আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি নিজস্ব সত্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা। পাকিস্তাানি শাসকদের হুমকি-ধমকি, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারা ভেঙে মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে পথে নেমে এসেছে ছাত্র, শিক্ষক, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী অসংখ্য মানুষ। বসন্তের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তারা বজ্রনির্ঘোষ কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছে, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। পলাশে-শিমুলে রক্তিম হয়ে আছে বাংলার দিগন্ত। গুলি চালানো হলো মিছিলে। তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দেয় ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার ও শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে আজ থেকে ৬৯ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির।
ভাষাকে নিয়ে ভাবার ইতিহাসটা আরও আগের। ১৯৪০ সালে পাকিস্তানের লাহোরে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে পৃথক রাষ্ট্রগঠনসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে একটি প্রস্তাব করা হয়। যা ইতিহাসে ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে খ্যাত। ১৯৪৭ সালে শুধুমাত্র ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয়। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুইটি রাষ্ট্র। পাকিস্তানের আবার দুইটি ভাগ ছিল পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) আর পশ্চিমে পশ্চিম পাকিস্তান । পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই দুই পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয় দুরত্ব। পশ্চিম পাকিস্তানে সকল উন্নতি সাধিত হয়। আর পূর্ব পাকিস্তান হতে থাকে অবহেলিত। পূর্ব পাকিস্তানে সকল দাবি-দাওয়া ভুলুন্ঠিত করতে প্রথমেই তারা আঘাত হাতে ভাষার উপর। ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল কায়েদে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করেন। সেই সময়ে উপস্থিত ছাত্ররা না, না, বলে প্রতিবাদ করে। এভাবেই চলতে সাথে মনের সাথে মাতৃভাষার যুদ্ধ। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালে। ১৯৫২ সালের জানুয়ারী মাসে খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় আসেন। ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা কি হবে সেটা পূর্ব বাংলার জনগনই নির্ধারণ করবে। কিন্তু উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ৩১ জানুয়ারি গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ’। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপি ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই দিবসের কর্মসূচিকে সফল করতে ৪ ফেব্রুয়ারি ‘হরতাল এবং ১১ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি পতাকা দিবস পালিত হয়। ৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ ও বন্দী মুক্তি’ দাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও  আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহম্মদ অমরণ অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। সকল ন্যায্য অধিকারের দাবিতে বাঙালীরা যখন ঐক্যবদ্ধ তখন ২০ ফেব্রয়ারি নুরুল আমিনের ক্ষমতাসীন মুসলীম লীগ সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলায় ৮ই ফাল্গুন মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রনেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করে। সেদিন হাতে ছিল প্লাকার্ড । মুখে ছিল শ্লোগান। “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”। পুলিশ বেষ্টনী ভেদ করে অসংখ্য দলে বিভক্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলতে থাকে পরিষদ ভবনের দিকে। শান্তিপূর্ণ মিছিলটি মেডিক্যাল কলেজের সামনে এলে  পুলিশ সেদিনের সেই মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। রাজপথে শহীদ হন জব্বার, শফিউর, রফিক, বরকতসহ নাম না জানা আরও অনেকে।

পাকিস্তানি দুঃশাসন ও শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিসত্তা বিনির্মাণের প্রথম সোপান ছিল ভাষা আন্দোলন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সেদিনের সেই ভাবনা, সেদিনের সেই চেতনা পরবর্তী সকল আন্দোলনে যুগিয়েছে প্রেরণা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৬ ছয়দফা, ১৯৬৯-গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় সবই ভাষা আন্দোলনের ফসল। সেদিন যে বাঙালী জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি হয়েছিল তা বাঙালীর সকল আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। আন্দোলন ছাড়া যে বিজয় হয় না তা ভাষা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছিল। পাকিস্তানীরা যে পূর্ব বাংলার উন্নতি বা সমৃদ্ধি চায় না তা বোঝা গিয়েছিল ভাষা আন্দোলন থেকে। তাই বলা হয় ভাষা আন্দোলনের মাঝে স্বাধীনতার বীজ লুকায়িত ছিল। বাঙালীর অদম্য মনোবল দেখে, বাঙালীর ভাষার জন্য আন্দোলন দেখে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। আজ আমরা যে শহীদ মিনারে একত্রিত হয়, ফুল দেই সেটি উদ্বোধন হয়েছিল ভাষার মাস ২৪ ফেব্রুয়ারি মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে। ভাবতেই কষ্ট হয় আজ আমরা যে মা, মা বলে প্রাণ জুড়াই, শিশুর মুখে হাসি ফোটে, সে ভাষাকে পেতে কতই না কষ্ট করতে হয়েছে রফিক-জব্বারকে। তাঁরা না জাগলে আজ কোন ভাষায় মাকে ডাকতে হতো? আসলে কি এতো মিষ্টি হতো? আসলে কি মা উর্দুতে বলে শান্তি পেতাম? আমার মনে হয় না। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষার জন্য রাজপথ রঞ্জিত করেছিল। তবে একটি দুঃখের বিষয় দুঃখের ইতিহাসের সাথে বলতে হয় যে বাংলার জন্য জীবন দিল রফিক-শফিকসহ অনেকে অথচ আমরা কিন্তু সেই বাংলাকে কমই মনে রাখছি। আজ ১০০ জনকে বাংলা তারিখ ধরেন ৯৫ জন পারবে বলে মনে হয় না। আজ একুশে ফেব্রুয়ারি বলছি সেটা কোন ভাষা? ধরে নিলাম আর্ন্তজাতিকতায় একুশে ফেব্রুয়ারি বলা হচ্ছে তবে জাতীয় দিবসগুলোতো আমাদের নিজস্ব। কেন সেগুলোকে ইংরেজিতে প্রচলন করা হলো? আমরা কি বাংলাতে জনপ্রিয় করতে পারতাম না? বাংলাতে করলে কি মুখস্থ হতো না? ভেবে দেখা দরকার। ভেবে দেখা দরকার এই বাংলাকে যারা বিকৃত করছে। কারণ বাংলাকে বিকৃত করলে কষ্ট হবে ভাষা শহীদদের। সেই সাথে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার চাই। চাই বাংলার ব্যাপক প্রচলন। আজকে দেশে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বেড়ে যাচ্ছে। তারা কি বাংলার ইতিহাস তারা কি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানবে? প্রশ্ন রাখতে চাই??

বাংলা একটি ভাষার নাম। একটি চেতনার নাম। বাংলা সারা বিশ্বের অহংকার। কেননা পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালীরাই প্রথম ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল। তাই ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন দাবি আদায়ের শিক্ষা দেয়, ভাষা আন্দোলন অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয় এই শিক্ষা দেয়। যা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে দরকার সর্বসময়, সর্বকালে। ভাষা আন্দোলনের গল্প বদলে দিতে পারে জীবনকে। বাড়িয়ে দিতে পারে দেশপ্রেম। তাই নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে হবে। জানতে হবে সকলের। সর্বত্র জয় হোক বাংলা ভাষার। শুদ্ধচর্চা ও বাংলার সর্বত্র ব্যবহারই পারে শহীদদের চেতনা অক্ষুন্ন রাখতে। শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের সকল সাফল্যে প্রেরণার যোগান দিয়ে যাক। বাংলার ব্যবহারে সতর্ক দৃষ্টি থাকুক দায়িত্বশীল মানুষের। আসুন বাংলাকে বেশি বেশি ভালবাসি। বাংলার ভান্ডার সমৃদ্ধ করি।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বাঙালির চেতনা ও প্রেরণার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি
                                  

‘মা’ শব্দটি যতটা মধুর, আবেগময়। মাতৃভাষা ও ঠিক তেমনি আমাদের আবেগ অনুভূতির আশ্রয়কেন্দ্র। শিশু জন্মের পর তার নিজের অজান্তেই আয়ত্ত করে নেয় এই মধুর বুলি, তাই  এর সংযোগ আমাদের আত্মার সাথে, অস্তিত্বের সাথে। নিজের অজান্তেই রপ্ত করে ফেলা অনুভূতির আশ্রয়কেন্দ্রে আঘাত মেনে নেয়া কখনোই সম্ভব নয়। তাইতো বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে এনেছিল অস্তিত্বের অধিকার বাংলা ভাষার সম্মান।

ভাষা শব্দটি আক্ষরিক বিবেচনায় ছোট একটি শব্দ হলেও এর তাৎপর্য অমূল্য আর একুশের আত্মত্যাগের মহানুভবতায় বাঙালির ক্ষেত্রে সেটি আরও ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এর সাথে জড়িত আছে আবেগ, অনুভূতি, সংগ্রাম। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালির বাংলা ভাষাকে উপেক্ষিত করা হলে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঝাপিয়ে পড়ে রফিক, শফিক সহ আরো নাম না জানা ভাইয়েরা। প্রথমবারের মতো প্রানের বিনিময়ে অর্জিত হয় ভাষার সম্মান। তাই একুশ আামাদের বাঙালির চেতনা ও প্রেরণার প্রতীক।

ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম, একটি সমাজের ঐতিহ্যের বাহক। আর সেই ভাষাই যদি অবহেলিত হয়, সেই ভাষাকেই যদি ছিনিয়ে আনতে হয় তাহলে এরচেয়ে বড় আত্মত্যাগ দ্বিতীয়টি হতে পারেনা। সে কথা বিবেচনা করে ১৯৯৯ সালে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, ২০১০ সালে জাতিসঙ্গের সাধারণ পরিষদ ‘এখন’ থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসাবে পালিত হবে’ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।বাংলা পায় বিশ্বব্যাপী পরিচিতি, অম্লান হয়ে ওঠে বাঙালির আত্মত্যাগ।

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন বলি দেওয়া হলেও বাংলা ভাষা আজও পায়নি তার প্রাপ্য সম্মান কারন বাংলা ভাষা এখনও সমাদৃত হতে পারেনি প্রতিটি ক্ষেত্রে। অর্জনের চেয়ে যেমন রক্ষা করা কঠিন তেমনি ভাষাকে ছিনিয়ে আনতে পারলেও আমরা যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারিনি। এর পেছনে বহু কারন বিদ্যমান থাকলেও অন্যতম একটি হল তরুণ সমাজের অনীহা। সেদিনের তরুণেরা চেতনার টানে উজ্জীবিত হলেও আজকের তরুণ সমাজ পশ্চিমা সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে বাংলার থেকে অন্য ভাষার ব্যবহারকে আধুনিকতার অংশ হিসেবে নিচ্ছে। যার কারনে প্রতিনিয়ত বিকৃত হচ্ছে বাংলা। অস্তিত্বের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি আমরা।

প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই সকলের প্রানে স্পন্দন আসে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। কিন্তু এই সম্মান শুধু বাহ্যিকভাবে প্রদর্শন না করে আত্মিক অনুভবের জাগরন ঘটাতে হবে। এই চেতনা শুধু ভাষার মাসেই ধারন করলে চলবেনা। মনে-প্রাণে লালন পালন করতে হবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে সচেষ্ট থাকতে হবে, বাংলা ভাষাকে বিকৃত হওয়া থেকে বাচাঁতে হবে। তাহলেই পরিতৃপ্ত হবে শহীদেরা, ব্যর্থ হবেনা তাঁদের আত্মত্যাগ। বাংলা ভাষা পাবে প্রাপ্য সম্মান।

 

- নাজিয়া আফরিন

   শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ

  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ চাই
                                  

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান সময়ের আলোচিত ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। এ দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষ, ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে হাজারো স্বপ্ন। পত্রিকার পাতা খুললেই এ সভ্যতার প্রমাণ মেলে। সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ আমাদের নিরাপত্তার প্রধান হুমকি। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ফলে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে দূর্বিষহ জীবন যাপন করাছে। দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটছে কিন্তু দূর্ঘটনা কমছে না।  
সড়কপথ হয়ে উঠেছে বিপদজনক। সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মহামারী রূপ নিয়েছে। বলা চলে এটি একটি জাতীয় দুর্যোগ। একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে।
 
প্রতিটি জীব বা প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে। কিন্তু নিশ্চয়ই পথের বলি হয়ে কেউ মরে চায় না। এদেশে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সড়ক-মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া নিরাপদ নয়। কেননা, কখন চাকার নিচে চাপা পড়ে সে শঙ্কায় থাকতে হয়। নিজের সচেতনতা নিজেরই হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। বাস, ট্রাক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাইক দুর্ঘটনাও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণ, যুবকদের অনেকে শখের বশে বেপরোয়া হয়ে বাইক চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হতে হয়। আর প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষকে নানা কাজে বাইরে যেতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। পথে দুর্ঘটনার ভয় থাকলেও একপ্রকার জানবাজি রেখেই চলতে হয়। কোন উপায় নেই। গাড়িচালকদের কথা আর কী বলব? যেভাবেই হোক অপর গাড়িকে ওভারটেক করে এগুতে হবে’-এমন মানসিকতা নিয়েই তারা গাড়ি চালান অনেক চালক।

অপ্রশস্ত পথ ব্যবস্থাও বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। দেশে মানুষের প্রয়োজনে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গাড়ি রাস্তায় নামছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে ওই পরিবারকে। কোন কোন দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা আরও করুণ, আরও শোচনীয়। বিষয়গুলো আমাদের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন কর্তৃপক্ষকে নিহত ও আহত হওয়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করতে হবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা। আমরা সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল কবে থামবে? আর কত প্রাণ ঝরবে? মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া সড়কগুলোকে যেভাবেই হোক নিরাপদ করতে হবে সকলের জন্য।

বিশেষ করে গাড়ি চালকদের মাঝে সচেতনতা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইলে কথা বলা। আইনে পরিবর্তন এনে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বিধান কার্যকর করতে হবে। রাস্তায় যেন কোন ধরনের ফিটনেসবিহীন যান চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। রাস্তার মাঝে গাড়ি ঘোরানোর মতো অন্যায়কে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যানবাহনের বেপরোয়া গতি। নেশা করে যেন কোন চালক গাড়ি চালাতে না পারে সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। পাল্লা দিয়ে ‘ওভারটেকিং’ করা বন্ধ করতে হবে। চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে ড্রাইভারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কোন অযোগ্য ও অদক্ষ চালক যেন লাইসেন্স না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গাড়ি চালকদের জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে ভালো হয়।  সবচেয়ে জরুরি হলো কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি।

সড়ক দুর্ঘটনা হয় না এমন দেশ নেই। কিন্তু দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি যত কমিয়ে আনা যায় সেটিই লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, সময়ের সমষ্টি হলো জীবন। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। আসুন সড়ক আইন মেনে চলি, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরি। দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 
লেখকঃ সিনথিয়া সুমি
শিক্ষার্থী
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে পর্যটন শিল্প হতে পারে অন্যতম হাতিয়ার
                                  

যেদিন থেকে বুঝতে শিখি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ। সেদিন থেকে সবচেয়ে বেশি যে বাক্যের সাথে পরিচয় ঘটে তা হলো -সুজলা, সুফলা,চিরসবুজ  আমাদের এই বাংলাদেশ।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশ যেখানে নদ, নদী, ফুল,ফল, পাখি,  পাহাড়, খাল বিলে পরিপূর্ণ। সেদিন থেকেই বুঝতে পারি এই দেশই পারে ভ্রমণ পিপাসুদের তৃষ্ণা মেটাতে।

তখন থেকে কেন জানি হাইস্কুল না মাড়াতেই মাথায় চেপে বসে কিভাবে এই দেশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এবং সবার সামনে মেলে ধরা যায় এদেশের সকল রূপ বৈচিত্র্য। তাই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের সুযোগটা পরিপূর্ণ কাজে লাগাতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়টায় হয়ে ওঠে প্রথম পছন্দ।

তবে আশেপাশ থেকে শুরু হয় প্রশ্ন ছুড়াছুড়ি- এটা আবার কি বিষয়। কেন পড়বে এই বিষয়ে? এই বিষয়ের ভবিষ্যত কোথায়?

সেদিন আমি জোর দিয়ে বলতে পারিনি কেন পর্যটনের উপর আমার এত আগ্রহ। সবাইকে বলতে পারাটা যদিও সহজ ছিলো তবে এর অবস্থান বোঝাতে পারাটা মোটেও সহজ ছিলো না। আমাদের পর্যটন শিল্পের উপর অপার সম্ভাবনা থাকলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়েও ব্যার্থ হয়েছি কাঙ্খিত সফলতা অর্জনে।  

বর্তমানে  মানুষের পর্যটনের প্রতি বিশেষ চাহিদা লক্ষণীয়। বেশ কয়েক বছর ধরে হালাল পর্যটন, বিনোদন পর্যটন, রিলিজিয়াস পর্যটন, ব্যাবসায় পর্যটন, চিকিৎসা পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে দেশ বিদেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে ছুটে চলেছে উচ্চবিত্ত পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। উক্ত বছরে কোভিড ১৯ এর জন্য যখন সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায় তখন রীতিমতো পর্যটন কেন্দ্র ঝুঁকিতে পড়ে যায়। আশ্চর্য বিষয় হলো লকডাউন ছেড়ে দেওয়ার পরপরই কোভিড ১৯ এর তোয়াক্কা না করেই ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে।
 
দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে যেমন সাজেক ভ্যালী, কক্সবাজার, কুয়াকাটা সহ বিভিন্ন ভ্রমণ স্পটে মানুষের ভীড় জমলেও তা অন্যান্য বছরের ন্যায় যথেষ্ট কম। কোভিড ১৯ এর ফলে যখন সব মানুষ গৃহবন্দি ঠিক ঐ মুহুর্তে প্রকৃত যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে করোনার এর সময়ে  প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল ক্ষতি হয় ট্যুরিজম খাতে। এই বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুধু সরকার নয় বরং গোটা দেশের মানুষকে নজর দিতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে।   

পর্যটন এর মত সম্ভবনাময় এই খাতের দিকে আমরা বরাবরই সঠিক পরিচর্যার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছি। অনেকাংশেই এই খাতে পিছিয়ে আছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায়।

পর্যটন খাতে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ এই খাতে নেই পর্যাপ্ত দক্ষ মানবসম্পদ ব্যাবস্থাপনা, নেই উক্ত বিষয়ের প্রতি সঠিক গবেষণা, পরিকল্পনা প্রণয়ণে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই খাতের উন্নয়নে ব্যাংক লোন পাওয়া দুষ্কর।
 
এছাড়াও পর্যটন খাতের উন্নতির জন্য সর্বপ্রথম যেদিকে নজর দেওয়া প্রয়েজন তা হলো উন্নতমানের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করা। এত বেশি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভ্রমণের কথা মাথায় আসলে কেউ মেয়ে হিসাবে ঝুঁকি আছে বলে বাঁধা  দেবে না।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে তবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর যতদূর সম্ভব খারাপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় অস্থিতিশীল রাজনীতি, হরতাল, বন্যা, খরা এসকল প্রচারণা  করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না করে বরং দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং হাজার বছরের পুরানো ঐতিহ্য এর রূপ তুলে ধরতে হবে। বাঙালির আতিথেয়তার ঘাটতি ছিলো না কখনো। আর এই অতিথিপরায়ণতার জন্য এদেশের মানুষেরা বরাবরই ছিলো জনপ্রিয়।

বাংলাদেশের এখন যে ১৭ টা এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জন করতে হবে তার ৮,১২,ও ১৪ সরাসরি পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত। তাই যতদ্রুত সম্ভব এই বিষয় মাথায় রেখে পর্যটন খাতের ঘাটতি গুলো খতিয়ে দেখতে হবে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে পর্যটন খাতকে টেকসই উন্নয়নে অন্তভুর্ক্ত করতে।

এই খাতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রদান করে মজবুত অর্থনীতির খুঁটি স্বরুপ দাড় করাতে হবে। জেলা ভিত্তিক পুরস্কার এর ঘোষণা দিতে হবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরিচর্চা ও পরিবর্ধন এর জন্য। সরকারি ও বেসরকারি ভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলতে হবে পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি।

এই বিষয়ে শিক্ষারত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের থেকে বিভিন্ন আইডিয়া,বা  মতামত  সংগ্রহ করতে হবে যা আধুনিকতার সাথে এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা বা মেগা প্রজেক্ট এর পরিকল্পনা যাতে এই শিল্প খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে।  

পর্যটন খাতের উপর যারা শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে জ্ঞান অর্জন করছে এমন দক্ষ জনশক্তির নিয়োগ ঘটাতে হবে। হাতে কলমে প্রতিক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন এর  জনশক্তিকে আরো মজবুত করে তুলতে হবে। পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত সকল জনশক্তির মধ্যে সু -সম্পর্ক গড়ে তুলে সবাইকে চেইন অব কমান্ড এর মধ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে৷

দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক গোষ্ঠীকে প্রতিযোগী নয় বরং সহযোগী মনোভাব পোষণ করতে হবে। সর্বোপরি পর্যটন এর মহাপরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়নে দেশের সকল নাগরিককে সততার পরিচয় দিতে হবে। সব স্তর থেকে এই শিল্পের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।

লক্ষ্য রাখতে হবে বাড়ির পাশের প্রকৃতিক সৌন্দর্যের উপর। আজ যা অবহেলিত কাল তা হতে পারে পর্যটনের অনেক বড় কেন্দ্র। তাই দেশের সমস্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পরিচর্চা করতে হবে। প্রকৃতি দুই হাত ভরে দিয়েছে আমাদের সৌন্দর্যের ছোঁয়া যার যত্ন নেওয়া আমাদের কর্তব্য। পদ্মবিলের পদ্মফুল হোক বা কাঁশবনের কাঁশফুল সবকিছুকে মূল্যায়ন করতে হবে। স্থির চিত্র ধারণের আনন্দে দুই হাতে এসব সৌন্দর্য নষ্ট করা হতে বিরত থাকতে হবে। সবাই সচেতন হলে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠবে প্রধান হাতিয়ার।

 

আঁখি খানম
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি  ম্যানেজমেন্ট।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যাল, বাংলাদেশ।
প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চা
                                  

অদৃশ্য এক অণুজীব নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় সারাবিশ্ব আজ আতঙ্কিত, জনজীবন বিপর্যস্ত, স্কুল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত, অফিস-আদালতের কাজে গতিহীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পুরো অর্থনীতির চাকো যেন থমকে দাড়িয়েছে। এমন সময় “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা”এর মত আমাদের দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে আরেক ভয়াবহ ও জঘন্যতম ব্যাধি -ধর্ষণ।

পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের খবর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবকিছুতেই দেখতে পাই ধর্ষণ, গণধর্ষণ, শিশুধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতামূলক নানাবিধ আচরণ। ইদানীং দেশে ধর্ষণ যেন এক নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। সংবাদপত্র খুললেই চোখে পরে প্রতিদিন  ৪-৫টা ধর্ষণের খবর। সারাদেশে প্রায় অবাধে ঘটে চলছে এ নৃশংস অপরাধ। শেষ কোথায় এ জঘন্যতম অপরাধের? এর কি কোনো শেষ নেই?

ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে, স্কুল কলেজ মাদ্রাসাসহ সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র- কোনো জায়গাতেই আজ নারীরা নিরাপদ নয়। পশুর চেয়ে হিংস্র ও বর্বর একদল হায়েনা তাদের যৌনক্ষুধা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে নারীদের চারপাশে। নারী মাত্রই যেন তাদের যৌান ক্ষুধা মেটানোর মাধ্যম। ভোগের লালসায় উন্মাদ এসব পশুদের বর্বরতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোনো বয়সী নারী ও কন্যাশিশু। সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে গেলে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধুকে বখাটে শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে ধর্ষণ, ডাকাতি করতে এসে ঘরে ঢুকে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় খাগড়াছড়িতে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলীতে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৩৭ বছর বয়সী গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে বর্বরযুগীয় উপায়ে নির্যাতন, ২০১৬ সালে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সোহাগী জাহান তনু নামের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা, এসব ঘটনা আমাদের আতঙ্কের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, মনসিকভাবে অসুস্থ করে তুলছে দিন দিন। নারীর নিরাপত্তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। নারীরা কি আদৌ নিরাপদ? কোথায় আসলে নারীদের নিরাপত্তা?

আফসোসের বিষয় ধর্ষণের জন্য ধর্ষককে দায়ী না করে বরং দায়ী করা হচ্ছে ধর্ষণের শিকার নারীকে, তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা, মেলামেশাকে। একশ্রেণীর মানুষ নারীর পোষাককে দায়ী করছে ধর্ষণের জন্য। আদতে ধর্ষণের সত্যতা যাচাইয়ে পাওয়া যায় না যে ধর্ষণের জন্য পোষাক ই দায়ী। পোষাক ই যদি ধর্ষণের জন্য দায়ী হয়, তবে কেন ২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়? কেন ওযু করতে বেরিয়ে ৭২ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়? মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে কেন ধর্ষণ করা হয়? মানসিক ভারসাম্যহীন রাস্তার ধারে থাকা অসুস্থ মেয়েটিকেও কেন ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে? এসব ঘটনার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পোষাক দায়ী নয়। বরং যারা ধর্ষণের জন্য পোষাকরে দোহাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন, তারা ধর্ষণের জন্য প্রকৃত দোষী ধর্ষককে দায়ী না করে, ধর্ষণের প্রতিবাদ না করে, ধর্ষিতার প্রতি সহযোগী মনোভাব পোষণ না করে ধর্ষণের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিতে ভুমিকা পালন করছেন, পরোক্ষভাবে ধর্ষকদের উৎসাহিত করছেন। নারীর পোষাকের দোহাই দিয়ে তাকে ধর্ষণ করার অধিকার কারো নাই।

ভয়াল এ কালো মিছিলের ইতি টানতে প্রয়োজন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে, বদলে যেতে পারে ক্রমবর্ধমান এ ধর্ষণের চিত্রও। মেয়েরা একা কোথায় যেতে পারবে না, সন্ধ্যার পর বাইরে থাকতে পারবে না, ছেলে বন্ধুদের সাথে মেশা যাবে না, যাচ্ছে তাই পোষাক পরিধান করা যাবে না, সর্বোপরি মেয়েরা ছেলেদের মত স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে না বলে যেসব বিশ্বাস আমাদের সমাজে বদ্ধমূল হয়ে আছে, সেসব বিশ্বাস ঝেড়ে ফেলে নারী-পুরুষ উভয়ের সম-অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পরস্পরের প্রতি সহর্মমিতা, পারস্পারিক সৌাহার্দ্য, সহযোগী মনোভাব বাড়াতে হবে।

পরিবার থেকে ছেলে মেয়ে উভয়কে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। পরিবার ও সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। কোনো ধর্মেই অপরাধকে ছোট করে দেখা হয় না। ধর্ষক যে ই হোক না, হোক কোনো ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা বিত্তবান কেউ বা দলীয় পরিচয়ধারী কেউ, ধর্ষক মাত্রই দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠ বিচারব্যবস্থার অধীনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত ও কার্যকর করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করে সকল মানুষের জন্য আইন সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আইনী সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ধর্ষিতা নারী যেন কোনো ধরণের হয়রানির শিকার না হয়ে সুবিচার পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তাছাড়া মেয়েদের আত্মরক্ষার মৌলিক কৌশলগুলো শিখে রাখা উচিত যেন কোনো পরিস্থিতে নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করতে পারে।

পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও ধর্ষণের মত সামাজিক ব্যাধিকে রুখতে সহায়তা করবে। নারীকে ভোগ ও লালসা পূরণের সামগ্রী হিসেবে না ভেবে একজন মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখতে হবে। পরিবার থেকেই যৌনতা বিষয়ক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌনতা নিয়ে প্রচলিত ট্যাবু দূরীকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে যৌনতা বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। যৌনতা বিষয়ক শিক্ষার অভাবও পরোক্ষভাবে ধর্ষণকে প্রভাবিত করে। যৌনতা এক ধরণের সহজাত প্রবৃত্তি। সব ধরনের প্রাণীর ই এ প্রবৃত্তি বিরাজমান এবং যৌন চাহিদা পূরনের বৈধ উপায়ও রয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- ধর্ষণ কখনো যৌনতা পূরণ করতে পারে না। এটি শুধু ক্ষমতাসীনতা, অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক ও বিকৃত কামপ্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ।

সর্বোপরি কঠোর আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত ও দ্রুত কার্যকর করা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নৈতিক শিক্ষা, মূল্যবোধ চর্চা দ্বারা ধর্ষণ নামক ব্যাধির একেবারে নির্মূল সম্ভব না হলেও তা অনেকাংশেই কমে যাবে এবং সুস্থ সমাজ গঠিত হবে।

তানভীন সুইটি
অর্থনীতি বিভাগ
৩য় বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল: লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ ও গৃহীত পদক্ষেপ
                                  

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড় মূল্যায়ন করে আগামী ডিসেম্বরে ফলাফল প্রদানের ঘোষণা প্রদান করে শিক্ষামন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিকল্প ছিল না বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

আমাদের জীবনে যতগুলো পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে, তার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ও ভিত এখানেই গড়ে ওঠে। এইচএসসি ও সমমানের এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় মূলত শিক্ষার্থীর অর্জনটা কোন অবস্থায় আছে সেটি যাচাইয়ের জন্য। দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কিংবা ভবিষ্যৎ চাকরি বাজারে এইচএসসির রেজাল্ট কতটা প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে তা সহজেই অনুমেয়। করোনা ভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং এখনো এটি নিয়ন্ত্রণে না আসার দরুন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও বাতিল ঘোষণা করল সরকার। পরীক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে দেখছে ইতিবাচক দিক হিসেবে আবার কেউ দেখছে নেতিবাচক হিসেবে।

প্রত্যকে জিনিসের-ই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে।  উচ্চমাধ্যমিকের  পরীক্ষা বাতিলের  ইতিবাচকতা হলো-
প্রথমত- এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের একটা উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। কেননা, তারা একটা  দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল যে পরীক্ষা আদৌ হবে?  কি হবে না?  দেশে এখনও করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। এই ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও শিক্ষাখাতের কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধকোটি মানুষ দৈনিক পরীক্ষা গ্রহণের কাজে বের হতে হতো। এখানে যদি ১ শতাংশও আক্রান্ত হয়,  তাহলে সংখ্যাটি দাঁড়াবে  প্রায় ৫০ হাজার। সুতারাং সরকার এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যবিধি কতটা নিশ্চিত করতে পারতো তা প্রশ্নবিদ্ধ। তাই পরীক্ষার চেয়ে জীবনের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের কাছে বেশি জরুরি। দ্বিতীয়ত- ১৪ লাখ শিক্ষার্থীকেই এবার শতভাগ পাশ করানো হবে। পরীক্ষা হলে নিশ্চয়ই কখনো শতভাগ পাশ হতো না, এদিক দিয়ে যাদের প্রস্তুতি খারাপ ছিল তারা সুবিধা পেয়েছে অর্থাৎ মন্দের ভাল হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক দিক বিচার করতে গেলে বলতে হবে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের উপর দীর্ঘমেয়াদী একটা প্রভাব ফেলবে। এক্ষেত্রে রাইজিং শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য ফলাফল থেকে বঞ্চিত হবে। অনেক শিক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসির তুলনায় প্রস্তুতি বেশ ভাল ছিল। যার ফলাফল হয়ত অনেক ভাল করার কথা ছিল কিন্তু সে সেই সুযোগটি হারালো। এমনও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক রয়েছে যারা জেএসসি পরীক্ষাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। কেননা, এটি বাচ্চাদের জন্য খুবই আরলি এক্সাম। সেক্ষেত্রে এই ফলাফল দিয়ে কিভাবে মূল্যায়ন হবে? তাছাড়া বিভাগ পরিবর্তনের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। সবমিলিয়ে এদের মূল্যায়ন কতটা ন্যায্য হবে? বলা চলে তা প্রশ্নবিদ্ধ!

লাভ-ক্ষতির হিসাব যতটুকুই হোক না কেন এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামীতে যে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং সেগুলো মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ও তারিত্ব সিদ্ধান্তও নিতে হবে।  প্রথমত- বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নানা ধরণের সমস্যা তৈরি হবে। উচ্চমাধ্যমিক ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই বুয়েটে কে কে পরীক্ষা দিতে পারবে তা নির্ধারিত হয়। সেক্ষেত্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হারহামেশাই বাড়বে। আর বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ ও মূল্যায়ন- দুটি ক্ষেত্রেই বুয়েট কর্তৃপক্ষকে পড়তে হবে নতুন জটিলতায়। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় এইচএসসি ফলাফলের ওপর নির্ধারিত নম্বর থাকে । এবার তাহলে নম্বর বন্টন নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থী যেমন বিপাকে পড়বে তেমনি বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নও উঠতে পারে ।  দ্বিতীয়ত- বিভাগ পরিবর্তন করে যারা ভাল ফলাফলের আশায় অন্য বিভাগে ভর্তি হয়েছে সেক্ষেত্রে তাদের জন্য স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে মূল্যায়ন কতটা সাফল্যমন্ডিত করা যায় তা সুস্পষ্ট করতে হবে। তৃতীয়ত- যেহেতু ইতিহাসে এই প্রথম শতভাগ পাশ করানো হবে সেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাড়বে ব্যাপক হারে । সেক্ষেত্রে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান ধরে রাখতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।  চতুর্থত- চাকরি বাজারে ২০২০ ব্যাচের সঠিক মূল্যায়ন হবে তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। পঞ্চমত- বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীরা যেন হয়নানির স্বীকার না হয় সেদিকেও সুদৃষ্টি দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নে জেএসসি ও এসএসসির সাথে কলেজ পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণে এইচএসসির ফলাফল মূল্যায়ন করা যায় কি না সে বিষয়ে সরকার কে ভেবে দেখতে হবে।  অন্ত্যত এবারের জন্য   বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচিত হবে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ সমন্বয়ের নম্বর তুলে দেয়া এবং একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বিষয়ভিত্তিক যে দুচারটি প্রশ্ন থাকে তার পরিমাণ বাড়িয়ে  দেওয়া। এতে করে পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা যায়। সুতারাং পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো অতিক্রম করতে পারলে তা হবে যুগান্তকারী।
মোহম্মদ শাহিন
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


   Page 1 of 11
     উপসম্পাদকীয়
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পূর্বশর্ত স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন
.............................................................................................
ইউপি নির্বাচন : দলীয় প্রতীক তৃণমূলে দলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে!
.............................................................................................
টিকটক এবং সামাজিক অবক্ষয়
.............................................................................................
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প
.............................................................................................
করোনায় বেকারদের অবস্থা শোচনীয়
.............................................................................................
অবক্ষয়ের নতুন ফাঁদ ‌টিকটক
.............................................................................................
রাষ্ট্র, আইন এবং রোজিনারা
.............................................................................................
পথশিশুরাও মানুষ
.............................................................................................
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও চর উন্নয়ন
.............................................................................................
নির্ভীক পদচারণার ৫০ বছর
.............................................................................................
সর্বত্র জয় হোক বাংলা ভাষার
.............................................................................................
বাঙালির চেতনা ও প্রেরণার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ চাই
.............................................................................................
দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে পর্যটন শিল্প হতে পারে অন্যতম হাতিয়ার
.............................................................................................
প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চা
.............................................................................................
এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল: লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ ও গৃহীত পদক্ষেপ
.............................................................................................
সুনীল অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন
.............................................................................................
নারীবাদ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
.............................................................................................
সামাজিক অবক্ষয়ের ব্যাপকতায় কলুষিত সমাজ ব্যবস্থা
.............................................................................................
আসুন মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি
.............................................................................................
শোক সন্তপ্ত ১৫ই আগস্টঃ একটি কালো অধ্যায়
.............................................................................................
হৃদয়ের নিভৃত কন্দরে বঙ্গবন্ধু অমলিন
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার শেষ কোথায়
.............................................................................................
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কতটুক প্রস্তুত বাংলাদেশ?
.............................................................................................
লাশের দেশ বাংলাদেশ
.............................................................................................
কোরবানীর আনন্দ উদযাপন হোক প্রতিবেশীদের নিয়ে
.............................................................................................
স্বাস্থ্যখাতের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে
.............................................................................................
কৃষক বাঁচলে, বাঁচবো আমরা
.............................................................................................
বাংলা একাডেমির আধুনিকায়ন প্রয়োজন
.............................................................................................
মুখোশের আড়ালে আমরা সবাই হাওয়াই মিঠাই
.............................................................................................
করোনাভাইরাস ও আমরা
.............................................................................................
করোনা বাস্তবতায় ভার্চুয়াল কোর্ট বনাম অ্যাকচুয়াল কোর্ট
.............................................................................................
ইসরায়েলি দখলদারিত্বে অস্তিত্ব সংকটে ফিলিস্তিন
.............................................................................................
চীন সীমান্তে নাস্তানাবুদ অথচ বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি, ভারত কি চায়?
.............................................................................................
পূর্বাভাসহীন শত্রুর তান্ডবে বিধ্বস্ত বিশ্ব
.............................................................................................
করোনা মোকাবেলায় অতন্দ্র প্রহরী “গণমাধ্যম”
.............................................................................................
জিপিএ ফাইভ ও উচ্চ শিক্ষাই মেধাবী নির্ণয়ের মাপকাঠি নয়
.............................................................................................
আসুন, অসহায়দের মুখে হাসি ফোটাই
.............................................................................................
কি হবে বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের শিক্ষকদের!
.............................................................................................
৭ই জুন স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনে উত্তরণের দিবস
.............................................................................................
নিউ নর্মাল, বদলে যাওয়া পৃথিবী
.............................................................................................
পরিবেশ রক্ষায় আমরা কতটা সচেতন?
.............................................................................................
বাড়ছে জনসংখ্যা, কমছে মানুষ
.............................................................................................
অস্তিত্ব রক্ষায় বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা
.............................................................................................
গণতন্ত্র বনাম ‘বুট-থেরাপী’
.............................................................................................
গণতন্ত্র বনাম ‘বুট-থেরাপী’
.............................................................................................
করোনা রোগীদের প্রতি অমানবিক আচরণ কেন ?
.............................................................................................
কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের চাকায় পিষ্ট বঙ্গবন্ধুর ‘দাওয়াল’
.............................................................................................
বিধি নিষেধ কতটা যৌক্তিক
.............................................................................................
কৃষিই বাঁচাতে পারে বাংলাদেশকে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT