বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শিল্প সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আধার রাতের একটুকরো আলো

মা  ঘরে কি খাওয়ার কিছু আছে থাকলে একটু খেতে দাও মা খুব ক্ষুধা লাগছে (ক্ষুধায় কাতর হয়ে বললো আনিকা)।
মা বললেন, একটু ধৈর্য ধর না মা, এইতো শ্রাবণ আইলো বলে। এই বলে মুখে আঁচল দিয়ে কেঁদে উঠলো।
আজ তিনদিন হলো ঘরে আগুন জ্বলে না। পাড়া প্রতিবেশীরাও খোঁজ খবর নেয় না। সারাদিন খেটে খেটেও কেউ চারডো ভাত পর্যন্ত দেয় না।
এর মধ্যে ই শ্রাবণ বাড়িতে এসে মাকে বলল,
-মা ও মা দেখে যাও ঐ পারায় একজনের বাড়ি কাজ কইরা এই কয়ডো হানি চাল দিছে।
রান্ধন চরাও আজকে খুব তৃপ্তি করে খামু।
রাহেলা বেগম বললেন,
-হো বাপ, তুই পুকুরে ডুব দিয়া আয় আমি রান্ধন চড়াই। এই বলে চলে যায়।
শ্রাবণ ও ডুব দিতে চলে যায়।

এবার পরিচয় আসি
আমি শ্রাবণ, আমার একটা বোন আর মাকে নিয়ে থাকি। আমার বাবা মারা গেছে আজ থেকে তিন বছর আগে। তার একটা রোগ ছিল তার পিছনে ই আমাদের যা ছিল সব ফুরে গেছে। এখন আমরা একদিন খাই তো দুই তিন দিন খাইতে পারি না। আমি কালো বলে কেউ আমারে পছন্দ করে না। কেউ কাজও দিতে চায় না। এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না।
পরিচয় দেওয়া শেষ।
এই দিকে জমিদার বাড়িতে
-কি ব্যাপার মামনি তুমি নাকি খাবার খাওনি কিন্তু কেন? আয়নাল বললেন (যিনি পরির বাবা)।
পরি বললো,
-আব্বু আমি কতো দিন পর গ্রামে এসেছি। আমি গ্রামটা ঘুরে দেখবো। বাট তোমরা তো রাজি হচ্ছো না তাই আমি খাবার খাব না।
আয়নাল বলল,
-কে আমার মামনীকে নিষেধ করেছে। তোমাকে তোমার রতনা আপু পুরা গ্রাম ঘুরিয়ে আনবে- কথা দিলাম।
পরি খুশি হয়ে বলল,
-ধন্যবাদ আব্বু এই বলে খাবার খেতে যাই।

এবার পরিচয় আসা যাক
ইনি গল্পের নায়িকা পরি, বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে। জমিদারের চোখের মনি। সবাই খুব ভালোবাসে। লেখাপড়ার জন্য শহরে থাকে মামার বাসায়। অনেক দিন পর গ্রামে আসলো। নাম যেমন সুন্দর দেখতে ও তেমন সুন্দর। পরিচয় দিতে দিতে খাওয়া শেষ হলো।
শ্রাবন বাড়িতে গিয়ে মা বোনকে নিয়ে আলু ভর্তা, শাক ভাজি দিয়ে ভাত খেল তৃপ্তি সহকারে। খেয়ে দেয়ে চলে গেল কাজে চাল নিয়ে আসার সময় বলেছিল,
আজকে সারাদিন আমার বাড়িতে কাজ করন লাগবো।
শ্রাবণকে দেখে বাড়ির মালিক বললেন,
-চাল নিয়ে যাওনের সময় তো তাড়াতাড়ি ই গেলি, এহন আসতি এতো টাইম লাগলো কেন? এই বলে কয়েকটা গালি দিয়ে চলে গেল।
শ্রাবণ এখন আর কাঁদে না, আর কষ্ট ও পায়না, ওর সব সহ্য হয়ে গেছে।
কিন্তু এই কথা পরি শুনে বলল,
রতনা আপু এই ছেলেটাকে এতো নিম্ন ভাষায় গালিগালাজ করছে কেন?
ওদের এটা প্রত্যেক দিনের রুটিন হয়ে গেছেরে পরি। সবাই ওদের গালিগালাজ করে।
পরি বলল,
তাহলে কাজ করে কেন আপু?
রতনা বলল,
তাহলে ওরা খাবে কি! ওদের এই কথা শুনে সারাদিন কাজ করেও তো পয়সা পায় না। একদিন খাইতো আরেক দিন খেতে পায় না।
পরি অবাক হয়ে বলল,
তাহলে গ্রামের মানুষ ওদের সাহায্য করতে পারে না। আর আব্বুর কাছেও তো সাহায্য চাইতে পারে কি বা আমাদের বাসায় কোন কাজ দিতে পারে?
রতনা বলল,
 হের মায়ে মামুর কাছে গিছিলো কিন্তু মামু কোন কাজ দেয়নাই গ্রামের কেউ ওদের দেখতে পারে না।
পরি অবাক হয়ে বলল,
আমার আব্বু এরকম করে সবার সাথে?
রতনা বলল,
হয়তো পরি তোমার খারাপ লাগবে তাও বলছি মামু শুধু দেখেন কার কি আছে এই দেখে সাহায্য করেন। যদি কিছু টাকা থাকে তাকেই সব কিছু দিয়ে সাহায্য করেন। আর এদের মতো গরিবদের সাহায্য করে কি লাভ হয়বো বলো।
পরি বলল,
এদের ক্ষেত্রেই কেন এরকম করে?
রতনা একটু অবাক হয়ে যায়
বাবা আর মেয়ের মধ্যে কত পার্থক্য।
তারপর বলল,
আসলে যাদের একটু হলেও টাকা আছে তারা নিজেরাও ভোট দিবে। আরেক জনকে ও ভোট দেওয়ার জন্য বলবে কিন্তু শ্রাবণ এর মতো গরিবরা তো আর তা পারবে না।
পরি আর কিছু বলতে পারে না তার আব্বু এরকম তা সে জানতো না কেমন যেন মায়া লাগছে ছেলেটার উপর। পরি এখনও দেখেনি শ্রাবণকে। তাই রতনাকে নিয়ে কাজের জায়গায় যাই। ঐখানে গিয়ে শ্রাবণকে দেখে মনে মনে বলল কালো তাও কি মায়াময় চেহারা এই ছেলেকে সবাই ঘৃণা করে।
পরি সামনে গিয়ে বলল,
তোমার নাম কি?
শ্রাবণ বলল,
আমার নাম শ্রাবণ।
পরি অবাক হয়ে বলল,
তুমি শুদ্ধ ভাষা জানো?
শ্রাবণ বলল,
হুম মেম সাহেব অল্প অল্প পড়েছি এই আরকি।
পরি বলল,
তুমি কোন ক্লাসে পড়?
শ্রাবণ বলল,
ম্যাডাম ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ছি তার পর আব্বায় মারা গেল। এখন সংসারটা আমার ই সামলান লাগবো তাই পড়াশোনা বাদ দিছি।
পরি বলল,
তোমাকে সবাই এভাবে বকা দেয় তুমি প্রতিবাদ করো না কেন?
শ্রাবণ বলল,
গরিবদের জন্য প্রতিবাদ করে কি হবে পাইনা একদিন ভালো করে ভাত এহন যদি প্রতিবাদ করি আমাদের না খেয়ে মরা লাগবো। আর মেম সাহেব আমাদের সবার কথা শুনে শুনে অভ্যাস হয়া গেছে।
পরি আর কিছু না বলে রতনা কে নিয়ে ঐখানে থেকে চলে যায়।
পথের মধ্যে পরি রতনাকে বলল,
রতনা আপু শ্রাবণদের বাড়ি কোন দিকে?
রতনা বলল,
কেন পরি তুমি কি ঐ বাড়ি যাওয়ার কথা বলতাছো? মামু কিন্তু প্রচুর রেগে যাবে জানতে পারলে।
পরি বলল,
তুমি চুপ কর আপু আর আমাকে নিয়ে যাও আমি কাউকে ভয় পাই না। আমি ওদের একটু দেখবো।
রতনা পরিকে নিয়ে যায়। এখানে গিয়ে দেখে শ্রাবণের বোন তার মায়ের মাথার বিল দিচ্ছে। পরি ভিতরে গিয়ে শ্রাবণের মাকে সালাম দেয়। শ্রাবণ এর মা সালামের উত্তর নিয়ে মুগ্ধ
হয়ে তাকিয়ে থাকে এতো সুন্দর চেহারা মাইয়াটা কে।
চিন্তা ভাবনার মাঝেই রতনা বলল,
আন্টি পরি জমিদারের নাতনী আর চেয়ারম্যান এর মেয়ে।
শ্রাবণের মা বললো,
বস মা বস তোমাগো মতো তো আমাদের চেয়ার নাই কোনে বসতে দিমু কও যদি পিড়িতে একটু বসতে?
পরি বলল,
আন্টি আপনি এতো ব্যস্ত হবেন না আমি একটু গ্রাম ঘুরতে বের হয়েছি। তাই এখানে দিয়ে যাওয়ার সময় একটু বাড়িতে উঠলাম। রাগ করেছেন আন্টি?
শ্রাবণের মা বললেন,
আরে পাগল মেয়ে রাগ করবো কেন। আমি তো খুশি হইছি, বহুত খুশি। আমার বাড়িতে তো একটা কাক পক্ষিও উঁকি দেয় না মইরা গেছি না বাইচা আছি। বস তোমাঘরে কিছু খাইতে দিয় গরিব এর ঘরে কিছু ই নায় রে মা। এই বলে উঠে যাইতে ধরলে পরি আটকিয়ে বলল,
আন্টি অন্য সময় খাব আজকে একটু আড্ডা দেব আপনার সাথে কেমন আন্টি?
রতনা অবাক হয়ে যাচ্ছে যতো এই মেয়ে টিকে দেখছে। ওর বাপ খোঁজ খবর নেয় না আর তার মেয়ে সেই বাড়িতে ই কি সুন্দর সবার সাথে হাসা হাসি করছে।
এই দিকে শ্রাবণের মাও তাই ভাবছে ভেবে দির্ঘ শ্বাস ফেলে। মানুষ সত্যিই অদ্ভুত এক প্রাণি।
পরি আনিকাকে বলল,
তুমি কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়ছো আনিকা?
আনিকা বলল,
এইতো আপু সেভেন পর্যন্ত পড়ছি। তার পর আমার খরচ বাড়লো তাই পড়াশোনা বাদ দিয়া দিছি। এমতেই ভাইয়ে সারাদিন খেটে তাও একদিন খাচ্ছি যদি পড়াশোনা করি তাহলে না খেয়েই মরন লাগবো আপু।
পরির শুনে খুব কষ্ট হয় মানুষ কতো কষ্ট করছে। তার পর বলল,
তোমার চাচারা নাই?
তখন শ্রাবণের মা বলল,
অভাগা যায় যে দিকে কপাল পুড়ে সে দিকে মা।
শ্রাবণের বাপ মরনের পর তারা সেই যে আছিলো আর হের পর আহে নাই।
আমাগোরে বাড়িতে আইলো হে গরো তো আবার অমঙ্গল হবে। নেও মা এই টুকুন চিরা খাও তোমরা। এর পর ওরা কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যায়।

পরি রাতে শুয়ে থেকে ভাবতে থাকে কি করা যায় এটা তো ভালো ভাবে ই বুঝতে পারছে তার বাবা কোন সাহায্য করবে না শ্রাবণ দের। হঠাৎ পরির কিছু মনে হওয়ায় ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

পরের দিন সকালে শ্রাবন ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করে আল্লাহ তায়ালার কাছে কান্নাকাটি করে বলে,
আল্লাহ তুমি রিযিক দাতা, তুমি দয়াময়, তুমি অসীম ক্ষমতাশীল, তুমি আমাদের সবাইকে হেফাজত কর। আল্লাহ আমি যে হালাল উপার্জন করে আমার মা বোন এর মুখে দিতে পারি আল্লাহ। আমিন বলে মোনাজাত শেষ করে কাজের জন্য বাহিরে যাই।

এই দিকে পরি ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে সাদে হাঁটাহাঁটি করার সময় হঠাৎ নিচে চোখ যায় দেখে শ্রাবণ কোথাও যাচ্ছে।
তাই জিজ্ঞেস করল,
তুমি কোথায় যাচ্ছ শ্রাবণ?
শ্রাবণ বলল,
মেম সাহেব, এই তো কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম যদি কোথাও কাজ পাই।
তখন পরি বলল,
তোমাদের আর কষ্ট করতে হবে না শ্রাবণ।
আচ্ছা শ্রাবণ তুমি কি শহরে যেতে চাও?
শ্রাবণ বলল,
আমি শহরে গিয়ে কি করবো মেম সাহেব, কে আমাকে কাজ দিবে?
পরি বলল,
তোমাকে এই টেনশন করতে হবে না শ্রাবণ, তুমি শুধু রাজি হলেই হবে।
শ্রাবণ বলল,
আমি শহরে গেলে আমার মা বোনকে কে দেখবে, ওরা তো নিঃস্ব হয়ে যাবে?
পরি বলল,
তোমাকে কি আমি বলেছি মা বোনকে রেখে যেতে, ওরাও যাবে তুমি কোন টেনশন করো না।
শ্রাবণ বলল,
কিন্তু শহরে থাকার মতো আমার তো টাকা পয়সা নাই। গ্রামেই একদিন খাইতো তিন দিন খাইতে পাই না, আমার সাথে কি মজা করছেন মেম সাহেব?
পরি বলল,
আমাকে কি তোমার এমন মনে হচ্ছে। আমি তোমার জন্য কিছু না কিছু করবো প্রমিজ।
কিন্তু তোমাদের শহরে যাওয়ার কথা কাউকে বলবে না।
এই দিকে কাউকে আসতে দেখে পরি ভেতরে চলে যায়।
শ্রাবণ ও অবাক হয়ে কাজ খুঁজতে চলে যায়।

পরি বাসায় গিয়ে রতনা কে এই বাসায় আসার জন্য খবর পাঠায়।
আধা ঘন্টার মধ্যে রতনা আসে।
রতনাকে রুমে নিয়ে গেল গিয়ে বলল,
রতনা আপু তুমি কি আমার জন্য কিছু করবে?
রতনা বলল,
তুমি বলবে আমি করবো না এটা একটা কথা হলো?
পরি হাসি দিয়ে বলল,
তাহলে একটা দেশী মুরগী আর তিন কেজি চাউলের ব্যবস্থা করে দাও আপু। সাথে সব মসলা ইত্যাদি ইত্যাদি আমি শ্রাবণদের ভাষায় নিয়ে যেতে চাই, কিন্তু লুকিয়ে।
রতনা অবাক হয়ে বলল,
এতো কিছু দিয়ে তুমি কি করবে পরি আর মামু জানতে পারলে খুব রেগে যাবে?
পরি হেসে বলল,
সেই জন্য ই তো তোমাকে বলছি কিছু একটা কর আর এই নাও দুই হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে যা হবে সব কিনে আনাবে আজকে দুপুরে আমরা শ্রাবণদের বাসায় খাব।
রতনা আর কিছু বলল না।

এদিক দিয়ে পরির মা যাওয়ার সময় সব শুনতে পায়।
তাই ভিতরে মেয়ের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেয়ে বলল,
জানিস মা আজকে আমার খুব ভালো লাগছে অন্তত বাপের মতো নির্দয় আমার মেয়ে হবে না যা করবি সাবধানে মা। আর কোন কিছুর জন্য যদি আমাকে প্রয়োজন হয় বলবি। আমি সাহায্য করবো। এই বলে তিনি চলে যান।
রতনাও চলে যায়।
এক ঘন্টার মধ্যে সব কিছু যোগাড় করে লুকিয়ে শ্রাবণদের বাড়ি হাজির হয় দু’জন।
বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখে আনিকা ঝাড়ু দিচ্ছে।
তাই বলল,
আনিকা- আন্টি কই?
একটু ডেকে দাও না।
আনিকা আচ্ছা বলে রুমে গিয়ে ওর মাকে ডেকে আনে।
এতো সকালে চেয়ারম্যান এর মেয়েকে দেখে অবাক হয়ে বলল,
কি ব্যাপার মা, কিছু অয়ছে এতো সকালে আমার বাসায় কেন?
পরি বলল,
আন্টি আমি কি আপনার মেয়ে না। তাহলে মেয়ের আসতে কি সময় অসময় আছে। আজকে আমি আপনার হাতের রান্না খাবো খুব ইচ্ছে হয়েছে।
এই বলে ব্যাগ হাতে দেয়। কিন্তু শ্রাবণের মা ব্যাগের ভেতর জিনিস দেখে অনেক না করছে কিন্তু পরির এক কথা।
যদি আমাকে মেয়ে ভাবেন তাহলে নিতেই হবে আর কি করার।
শ্রাবণের মা তাড়াতাড়ি বাটা ঘোসা করে রান্না উঠায় দেয়।

এগারোটার দিকে শ্রাবণ কোন কাজ না পেয়ে গোমরা মুখ করে বাড়িতে আসে।
বাড়ির ভিতরে থেকে তার মা সহ কিছু মেয়ের হাসির শব্দ শুনে অবাক হয়ে যায়।
কতোদিন এরকম হাসি খুশি দেখে না তার মা-বোনকে।
ভেতরে গিয়ে আরো অবাক হয়ে যায় এতো চেয়ারম্যান এর মেয়ে।
কোন রকম নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল,
মেম সাহেব আপনি এখানে?
পরি বলল,
হুম, শ্রাবণ সাহেব আজকে একটু আন্টির হাতের রান্না খাবো তাই আসলাম।
শ্রাবণ ভাবনায় পড়ে যায় তার জানামতে ঘরে কিছু নাই, কি দিয়ে খাওয়াবে।
তারপর দেখে রান্না ঘর থেকে শব্দ আসছে। রান্না ঘরে গিয়ে তো আর অবাক হয়ে বলল,
মা তুমি মুরগী চাউল কোথায় পেলে?
শ্রাবণের মা বললেন,
আর বলিস না বাবা, পরি মা আমাদের জন্য আনসে। কতো না করলাম হুনলো না, নাকি আমার রান্না খাবে।
শ্রাবণ আর কিছু না বলে গোসল দিতে চলে যায়।
আর পরির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজকে তো অনাহারে ই কাটতো তাদের।
আসলে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।

এই দিকে চেয়ারম্যান বাড়িতে
কি ব্যাপার পরির মা পরিকে দেখছি না যে কোথায় গেছে?
পরির মা একটু ভয় পেয়ে গেলেন, কিন্তু প্রকাশ করলেন না
তিনি বললেন, আপনি ই তো গ্রাম ঘুরতে বললেন তাই রতনাকে নিয়ে খাবার খেয়ে বের হয়েছে।
দুপুরে রত্নাদের বাড়ি খাবে।
আয়নাল হক আর কিছু বললেন না রতনা আছে দেখে নিশ্চিত হলেন।
রান্না ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
পরির মাও শান্তির নিশ্বাস ছাড়লেন।

 

লেখক: আদিবা চৌধুরী

আধার রাতের একটুকরো আলো
                                  

মা  ঘরে কি খাওয়ার কিছু আছে থাকলে একটু খেতে দাও মা খুব ক্ষুধা লাগছে (ক্ষুধায় কাতর হয়ে বললো আনিকা)।
মা বললেন, একটু ধৈর্য ধর না মা, এইতো শ্রাবণ আইলো বলে। এই বলে মুখে আঁচল দিয়ে কেঁদে উঠলো।
আজ তিনদিন হলো ঘরে আগুন জ্বলে না। পাড়া প্রতিবেশীরাও খোঁজ খবর নেয় না। সারাদিন খেটে খেটেও কেউ চারডো ভাত পর্যন্ত দেয় না।
এর মধ্যে ই শ্রাবণ বাড়িতে এসে মাকে বলল,
-মা ও মা দেখে যাও ঐ পারায় একজনের বাড়ি কাজ কইরা এই কয়ডো হানি চাল দিছে।
রান্ধন চরাও আজকে খুব তৃপ্তি করে খামু।
রাহেলা বেগম বললেন,
-হো বাপ, তুই পুকুরে ডুব দিয়া আয় আমি রান্ধন চড়াই। এই বলে চলে যায়।
শ্রাবণ ও ডুব দিতে চলে যায়।

এবার পরিচয় আসি
আমি শ্রাবণ, আমার একটা বোন আর মাকে নিয়ে থাকি। আমার বাবা মারা গেছে আজ থেকে তিন বছর আগে। তার একটা রোগ ছিল তার পিছনে ই আমাদের যা ছিল সব ফুরে গেছে। এখন আমরা একদিন খাই তো দুই তিন দিন খাইতে পারি না। আমি কালো বলে কেউ আমারে পছন্দ করে না। কেউ কাজও দিতে চায় না। এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না।
পরিচয় দেওয়া শেষ।
এই দিকে জমিদার বাড়িতে
-কি ব্যাপার মামনি তুমি নাকি খাবার খাওনি কিন্তু কেন? আয়নাল বললেন (যিনি পরির বাবা)।
পরি বললো,
-আব্বু আমি কতো দিন পর গ্রামে এসেছি। আমি গ্রামটা ঘুরে দেখবো। বাট তোমরা তো রাজি হচ্ছো না তাই আমি খাবার খাব না।
আয়নাল বলল,
-কে আমার মামনীকে নিষেধ করেছে। তোমাকে তোমার রতনা আপু পুরা গ্রাম ঘুরিয়ে আনবে- কথা দিলাম।
পরি খুশি হয়ে বলল,
-ধন্যবাদ আব্বু এই বলে খাবার খেতে যাই।

এবার পরিচয় আসা যাক
ইনি গল্পের নায়িকা পরি, বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে। জমিদারের চোখের মনি। সবাই খুব ভালোবাসে। লেখাপড়ার জন্য শহরে থাকে মামার বাসায়। অনেক দিন পর গ্রামে আসলো। নাম যেমন সুন্দর দেখতে ও তেমন সুন্দর। পরিচয় দিতে দিতে খাওয়া শেষ হলো।
শ্রাবন বাড়িতে গিয়ে মা বোনকে নিয়ে আলু ভর্তা, শাক ভাজি দিয়ে ভাত খেল তৃপ্তি সহকারে। খেয়ে দেয়ে চলে গেল কাজে চাল নিয়ে আসার সময় বলেছিল,
আজকে সারাদিন আমার বাড়িতে কাজ করন লাগবো।
শ্রাবণকে দেখে বাড়ির মালিক বললেন,
-চাল নিয়ে যাওনের সময় তো তাড়াতাড়ি ই গেলি, এহন আসতি এতো টাইম লাগলো কেন? এই বলে কয়েকটা গালি দিয়ে চলে গেল।
শ্রাবণ এখন আর কাঁদে না, আর কষ্ট ও পায়না, ওর সব সহ্য হয়ে গেছে।
কিন্তু এই কথা পরি শুনে বলল,
রতনা আপু এই ছেলেটাকে এতো নিম্ন ভাষায় গালিগালাজ করছে কেন?
ওদের এটা প্রত্যেক দিনের রুটিন হয়ে গেছেরে পরি। সবাই ওদের গালিগালাজ করে।
পরি বলল,
তাহলে কাজ করে কেন আপু?
রতনা বলল,
তাহলে ওরা খাবে কি! ওদের এই কথা শুনে সারাদিন কাজ করেও তো পয়সা পায় না। একদিন খাইতো আরেক দিন খেতে পায় না।
পরি অবাক হয়ে বলল,
তাহলে গ্রামের মানুষ ওদের সাহায্য করতে পারে না। আর আব্বুর কাছেও তো সাহায্য চাইতে পারে কি বা আমাদের বাসায় কোন কাজ দিতে পারে?
রতনা বলল,
 হের মায়ে মামুর কাছে গিছিলো কিন্তু মামু কোন কাজ দেয়নাই গ্রামের কেউ ওদের দেখতে পারে না।
পরি অবাক হয়ে বলল,
আমার আব্বু এরকম করে সবার সাথে?
রতনা বলল,
হয়তো পরি তোমার খারাপ লাগবে তাও বলছি মামু শুধু দেখেন কার কি আছে এই দেখে সাহায্য করেন। যদি কিছু টাকা থাকে তাকেই সব কিছু দিয়ে সাহায্য করেন। আর এদের মতো গরিবদের সাহায্য করে কি লাভ হয়বো বলো।
পরি বলল,
এদের ক্ষেত্রেই কেন এরকম করে?
রতনা একটু অবাক হয়ে যায়
বাবা আর মেয়ের মধ্যে কত পার্থক্য।
তারপর বলল,
আসলে যাদের একটু হলেও টাকা আছে তারা নিজেরাও ভোট দিবে। আরেক জনকে ও ভোট দেওয়ার জন্য বলবে কিন্তু শ্রাবণ এর মতো গরিবরা তো আর তা পারবে না।
পরি আর কিছু বলতে পারে না তার আব্বু এরকম তা সে জানতো না কেমন যেন মায়া লাগছে ছেলেটার উপর। পরি এখনও দেখেনি শ্রাবণকে। তাই রতনাকে নিয়ে কাজের জায়গায় যাই। ঐখানে গিয়ে শ্রাবণকে দেখে মনে মনে বলল কালো তাও কি মায়াময় চেহারা এই ছেলেকে সবাই ঘৃণা করে।
পরি সামনে গিয়ে বলল,
তোমার নাম কি?
শ্রাবণ বলল,
আমার নাম শ্রাবণ।
পরি অবাক হয়ে বলল,
তুমি শুদ্ধ ভাষা জানো?
শ্রাবণ বলল,
হুম মেম সাহেব অল্প অল্প পড়েছি এই আরকি।
পরি বলল,
তুমি কোন ক্লাসে পড়?
শ্রাবণ বলল,
ম্যাডাম ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ছি তার পর আব্বায় মারা গেল। এখন সংসারটা আমার ই সামলান লাগবো তাই পড়াশোনা বাদ দিছি।
পরি বলল,
তোমাকে সবাই এভাবে বকা দেয় তুমি প্রতিবাদ করো না কেন?
শ্রাবণ বলল,
গরিবদের জন্য প্রতিবাদ করে কি হবে পাইনা একদিন ভালো করে ভাত এহন যদি প্রতিবাদ করি আমাদের না খেয়ে মরা লাগবো। আর মেম সাহেব আমাদের সবার কথা শুনে শুনে অভ্যাস হয়া গেছে।
পরি আর কিছু না বলে রতনা কে নিয়ে ঐখানে থেকে চলে যায়।
পথের মধ্যে পরি রতনাকে বলল,
রতনা আপু শ্রাবণদের বাড়ি কোন দিকে?
রতনা বলল,
কেন পরি তুমি কি ঐ বাড়ি যাওয়ার কথা বলতাছো? মামু কিন্তু প্রচুর রেগে যাবে জানতে পারলে।
পরি বলল,
তুমি চুপ কর আপু আর আমাকে নিয়ে যাও আমি কাউকে ভয় পাই না। আমি ওদের একটু দেখবো।
রতনা পরিকে নিয়ে যায়। এখানে গিয়ে দেখে শ্রাবণের বোন তার মায়ের মাথার বিল দিচ্ছে। পরি ভিতরে গিয়ে শ্রাবণের মাকে সালাম দেয়। শ্রাবণ এর মা সালামের উত্তর নিয়ে মুগ্ধ
হয়ে তাকিয়ে থাকে এতো সুন্দর চেহারা মাইয়াটা কে।
চিন্তা ভাবনার মাঝেই রতনা বলল,
আন্টি পরি জমিদারের নাতনী আর চেয়ারম্যান এর মেয়ে।
শ্রাবণের মা বললো,
বস মা বস তোমাগো মতো তো আমাদের চেয়ার নাই কোনে বসতে দিমু কও যদি পিড়িতে একটু বসতে?
পরি বলল,
আন্টি আপনি এতো ব্যস্ত হবেন না আমি একটু গ্রাম ঘুরতে বের হয়েছি। তাই এখানে দিয়ে যাওয়ার সময় একটু বাড়িতে উঠলাম। রাগ করেছেন আন্টি?
শ্রাবণের মা বললেন,
আরে পাগল মেয়ে রাগ করবো কেন। আমি তো খুশি হইছি, বহুত খুশি। আমার বাড়িতে তো একটা কাক পক্ষিও উঁকি দেয় না মইরা গেছি না বাইচা আছি। বস তোমাঘরে কিছু খাইতে দিয় গরিব এর ঘরে কিছু ই নায় রে মা। এই বলে উঠে যাইতে ধরলে পরি আটকিয়ে বলল,
আন্টি অন্য সময় খাব আজকে একটু আড্ডা দেব আপনার সাথে কেমন আন্টি?
রতনা অবাক হয়ে যাচ্ছে যতো এই মেয়ে টিকে দেখছে। ওর বাপ খোঁজ খবর নেয় না আর তার মেয়ে সেই বাড়িতে ই কি সুন্দর সবার সাথে হাসা হাসি করছে।
এই দিকে শ্রাবণের মাও তাই ভাবছে ভেবে দির্ঘ শ্বাস ফেলে। মানুষ সত্যিই অদ্ভুত এক প্রাণি।
পরি আনিকাকে বলল,
তুমি কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়ছো আনিকা?
আনিকা বলল,
এইতো আপু সেভেন পর্যন্ত পড়ছি। তার পর আমার খরচ বাড়লো তাই পড়াশোনা বাদ দিয়া দিছি। এমতেই ভাইয়ে সারাদিন খেটে তাও একদিন খাচ্ছি যদি পড়াশোনা করি তাহলে না খেয়েই মরন লাগবো আপু।
পরির শুনে খুব কষ্ট হয় মানুষ কতো কষ্ট করছে। তার পর বলল,
তোমার চাচারা নাই?
তখন শ্রাবণের মা বলল,
অভাগা যায় যে দিকে কপাল পুড়ে সে দিকে মা।
শ্রাবণের বাপ মরনের পর তারা সেই যে আছিলো আর হের পর আহে নাই।
আমাগোরে বাড়িতে আইলো হে গরো তো আবার অমঙ্গল হবে। নেও মা এই টুকুন চিরা খাও তোমরা। এর পর ওরা কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যায়।

পরি রাতে শুয়ে থেকে ভাবতে থাকে কি করা যায় এটা তো ভালো ভাবে ই বুঝতে পারছে তার বাবা কোন সাহায্য করবে না শ্রাবণ দের। হঠাৎ পরির কিছু মনে হওয়ায় ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

পরের দিন সকালে শ্রাবন ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করে আল্লাহ তায়ালার কাছে কান্নাকাটি করে বলে,
আল্লাহ তুমি রিযিক দাতা, তুমি দয়াময়, তুমি অসীম ক্ষমতাশীল, তুমি আমাদের সবাইকে হেফাজত কর। আল্লাহ আমি যে হালাল উপার্জন করে আমার মা বোন এর মুখে দিতে পারি আল্লাহ। আমিন বলে মোনাজাত শেষ করে কাজের জন্য বাহিরে যাই।

এই দিকে পরি ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে সাদে হাঁটাহাঁটি করার সময় হঠাৎ নিচে চোখ যায় দেখে শ্রাবণ কোথাও যাচ্ছে।
তাই জিজ্ঞেস করল,
তুমি কোথায় যাচ্ছ শ্রাবণ?
শ্রাবণ বলল,
মেম সাহেব, এই তো কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম যদি কোথাও কাজ পাই।
তখন পরি বলল,
তোমাদের আর কষ্ট করতে হবে না শ্রাবণ।
আচ্ছা শ্রাবণ তুমি কি শহরে যেতে চাও?
শ্রাবণ বলল,
আমি শহরে গিয়ে কি করবো মেম সাহেব, কে আমাকে কাজ দিবে?
পরি বলল,
তোমাকে এই টেনশন করতে হবে না শ্রাবণ, তুমি শুধু রাজি হলেই হবে।
শ্রাবণ বলল,
আমি শহরে গেলে আমার মা বোনকে কে দেখবে, ওরা তো নিঃস্ব হয়ে যাবে?
পরি বলল,
তোমাকে কি আমি বলেছি মা বোনকে রেখে যেতে, ওরাও যাবে তুমি কোন টেনশন করো না।
শ্রাবণ বলল,
কিন্তু শহরে থাকার মতো আমার তো টাকা পয়সা নাই। গ্রামেই একদিন খাইতো তিন দিন খাইতে পাই না, আমার সাথে কি মজা করছেন মেম সাহেব?
পরি বলল,
আমাকে কি তোমার এমন মনে হচ্ছে। আমি তোমার জন্য কিছু না কিছু করবো প্রমিজ।
কিন্তু তোমাদের শহরে যাওয়ার কথা কাউকে বলবে না।
এই দিকে কাউকে আসতে দেখে পরি ভেতরে চলে যায়।
শ্রাবণ ও অবাক হয়ে কাজ খুঁজতে চলে যায়।

পরি বাসায় গিয়ে রতনা কে এই বাসায় আসার জন্য খবর পাঠায়।
আধা ঘন্টার মধ্যে রতনা আসে।
রতনাকে রুমে নিয়ে গেল গিয়ে বলল,
রতনা আপু তুমি কি আমার জন্য কিছু করবে?
রতনা বলল,
তুমি বলবে আমি করবো না এটা একটা কথা হলো?
পরি হাসি দিয়ে বলল,
তাহলে একটা দেশী মুরগী আর তিন কেজি চাউলের ব্যবস্থা করে দাও আপু। সাথে সব মসলা ইত্যাদি ইত্যাদি আমি শ্রাবণদের ভাষায় নিয়ে যেতে চাই, কিন্তু লুকিয়ে।
রতনা অবাক হয়ে বলল,
এতো কিছু দিয়ে তুমি কি করবে পরি আর মামু জানতে পারলে খুব রেগে যাবে?
পরি হেসে বলল,
সেই জন্য ই তো তোমাকে বলছি কিছু একটা কর আর এই নাও দুই হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে যা হবে সব কিনে আনাবে আজকে দুপুরে আমরা শ্রাবণদের বাসায় খাব।
রতনা আর কিছু বলল না।

এদিক দিয়ে পরির মা যাওয়ার সময় সব শুনতে পায়।
তাই ভিতরে মেয়ের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেয়ে বলল,
জানিস মা আজকে আমার খুব ভালো লাগছে অন্তত বাপের মতো নির্দয় আমার মেয়ে হবে না যা করবি সাবধানে মা। আর কোন কিছুর জন্য যদি আমাকে প্রয়োজন হয় বলবি। আমি সাহায্য করবো। এই বলে তিনি চলে যান।
রতনাও চলে যায়।
এক ঘন্টার মধ্যে সব কিছু যোগাড় করে লুকিয়ে শ্রাবণদের বাড়ি হাজির হয় দু’জন।
বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখে আনিকা ঝাড়ু দিচ্ছে।
তাই বলল,
আনিকা- আন্টি কই?
একটু ডেকে দাও না।
আনিকা আচ্ছা বলে রুমে গিয়ে ওর মাকে ডেকে আনে।
এতো সকালে চেয়ারম্যান এর মেয়েকে দেখে অবাক হয়ে বলল,
কি ব্যাপার মা, কিছু অয়ছে এতো সকালে আমার বাসায় কেন?
পরি বলল,
আন্টি আমি কি আপনার মেয়ে না। তাহলে মেয়ের আসতে কি সময় অসময় আছে। আজকে আমি আপনার হাতের রান্না খাবো খুব ইচ্ছে হয়েছে।
এই বলে ব্যাগ হাতে দেয়। কিন্তু শ্রাবণের মা ব্যাগের ভেতর জিনিস দেখে অনেক না করছে কিন্তু পরির এক কথা।
যদি আমাকে মেয়ে ভাবেন তাহলে নিতেই হবে আর কি করার।
শ্রাবণের মা তাড়াতাড়ি বাটা ঘোসা করে রান্না উঠায় দেয়।

এগারোটার দিকে শ্রাবণ কোন কাজ না পেয়ে গোমরা মুখ করে বাড়িতে আসে।
বাড়ির ভিতরে থেকে তার মা সহ কিছু মেয়ের হাসির শব্দ শুনে অবাক হয়ে যায়।
কতোদিন এরকম হাসি খুশি দেখে না তার মা-বোনকে।
ভেতরে গিয়ে আরো অবাক হয়ে যায় এতো চেয়ারম্যান এর মেয়ে।
কোন রকম নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল,
মেম সাহেব আপনি এখানে?
পরি বলল,
হুম, শ্রাবণ সাহেব আজকে একটু আন্টির হাতের রান্না খাবো তাই আসলাম।
শ্রাবণ ভাবনায় পড়ে যায় তার জানামতে ঘরে কিছু নাই, কি দিয়ে খাওয়াবে।
তারপর দেখে রান্না ঘর থেকে শব্দ আসছে। রান্না ঘরে গিয়ে তো আর অবাক হয়ে বলল,
মা তুমি মুরগী চাউল কোথায় পেলে?
শ্রাবণের মা বললেন,
আর বলিস না বাবা, পরি মা আমাদের জন্য আনসে। কতো না করলাম হুনলো না, নাকি আমার রান্না খাবে।
শ্রাবণ আর কিছু না বলে গোসল দিতে চলে যায়।
আর পরির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজকে তো অনাহারে ই কাটতো তাদের।
আসলে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।

এই দিকে চেয়ারম্যান বাড়িতে
কি ব্যাপার পরির মা পরিকে দেখছি না যে কোথায় গেছে?
পরির মা একটু ভয় পেয়ে গেলেন, কিন্তু প্রকাশ করলেন না
তিনি বললেন, আপনি ই তো গ্রাম ঘুরতে বললেন তাই রতনাকে নিয়ে খাবার খেয়ে বের হয়েছে।
দুপুরে রত্নাদের বাড়ি খাবে।
আয়নাল হক আর কিছু বললেন না রতনা আছে দেখে নিশ্চিত হলেন।
রান্না ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
পরির মাও শান্তির নিশ্বাস ছাড়লেন।

 

লেখক: আদিবা চৌধুরী

সোনারগাঁওয়ে কিশোর তুহিন হত্যার আসামী বাবা ও দুই ছেলে গ্রেফতার
                                  

রমজান হাসান, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মাদকের চালান দেখে ফেলায় তুহিন নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় পলাতক তিন আসামী বাবা ও দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব সদস্যরা। গত শুক্রবার রাতে চাঁদপুরের সদরের রঘুনাথপুর ভাঙ্গাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার মোস্তফা (৫৫) ও তার দুই ছেলে রনি (২০) ও আল আমিন (২৫)। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব উল্লেখ করে, গত ২৪ আগস্ট সোনারগাঁওয়ে পিরোজপুর এলাকায় কিশোর তুহিনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মোঃ মনির বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মাদকের চালান দেখে ফেলায় পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে তার ছেলে ভিকটিম তুহিনকে হত্যা করা হয় মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত তুহিন মিয়া সোনারগাঁওয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি গ্রামের মনিরহোসেনের ছেলে। সে ঝাউচর এলাকায় তার মামা নুরুল হুদার কাছে থেকে তার আসবাবপত্রের দোকানে কাজ করত। একই এলাকায় পার্শ্ববর্তী হিরাঝিল হোটেলে গ্রেফতারকৃত রনি এবং আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল। তারা গত ২২ আগস্ট ফেনসিডিলের কার্টুন হোটেলের পাশের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিম তুহিন তা দেখে ফেলে এবং ওই ঘটনাটি পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবে বলে জানায়।

বিষয়টি আসামীরা জানতে পারলে তারা ভিকটিম তুহিনকে এলোপাথারী মারধর করে এবং মাদকের বিষয়ে কাউকে কিছু বললে হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট ভিকটিম রাতের খাবার খেয়ে দোকানে ঘুমাতে যায় ও পরদিন ২৪ আগস্ট দোকান খোলার পর তুহিনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকেই আসামীরা তাদের হোটেল বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তাদেরকে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‌্যাব।

২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২২’ সমাপ্ত
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
পর্যালোচনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে ‘২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২২’। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ বিকাল ৫টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার এবং প্রদর্শনীর শিল্পকর্ম বিষয়ে পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন শিল্পী জাহিদ মুস্তফা।

অতিথিদের আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় জয়দ্বীপ পালিত নৃত্য পরিচালনায় ‘জয় বাংলা জয় বাংলা বইলারে..’ গানের সাথে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু নৃত্যশিল্পীবৃন্দ জয়দ্বীপ পালিত নৃত্য পরিচালনায় পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য বীরপুরুষ।

উল্লেখ্য, জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি ২, ৩, 4, ৫, ৬ ও ভাস্কর্য গ্যালারিতে ২৭ জুলাই থেকে 9 সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ‘২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২২’ এর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। প্রদর্শনী চলে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এ বছর নবীন (বয়স ২১-৩৫ বছর) ১০১৯ জন শিল্পীর ২০৩৮টি শিল্পকর্ম জমা পড়ে। এরমধ্যে থেকে শিল্পকর্ম নির্বাচক মন্ডলী ৩৫৬ জন শিল্পীর ৪২২টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত করেন। চিত্রকলা, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, গ্রাফিক ডিজাইন, আলোকচিত্র, স্থাপনাশিল্প, পারফরমেন্স আর্ট, নিউ মিডিয়া আর্টসহ চারুশিল্পের প্রায় সকল মাধ্যমের শিল্পকর্ম বিদ্যমান। ‘২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২২’ এর গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় সংযোজন বিশেষ কিউরেটেড প্রদর্শনীর আয়োজন। বিশেষ এ কিউরেটেড প্রদর্শনীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

২৭ জুলাই বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২২ এর উদ্বোধন ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

শিল্পকলায় ১০ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ১০ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব। দলীয় নৃত্য, একক নৃত্য, লোকনৃত্যের শৈল্পিকতার সঙ্গে দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানের সুরের সংমিশ্রণে গতকাল সন্ধ্যায় একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শুরু হয় এ উৎসব। প্রথম দিনের পরিবেশনায় অনন্যা প্রজ্ঞা পরিবেশন করেন ‘সুন্দর সুবর্ণ’। অণ্বেষা রওশনের লোকনৃত্য ‘কান্দুরী’; অপূর্বা ইসলামের ভরতনাট্যম ‘গোকূল’, হিয়া মেহজাবীনের ‘সেদিন আর কত দূরে’ এবং টাপুর সাহা পরিবেশন করেন একক শিশু নৃত্য ভরতনাট্যম ‘শিবকৃত্ত নাম’।

এছাড়া ওয়ার্দা রিহাব পরিবেশন করেন একক নৃত্য ‘শিবস্তুতি’। অমিত চৌধুরীর পরিবেশনায় ছিল ‘নরসিংহ কৌতুবাম’, অনিক বোসের দেশাত্মবোধক পরিবেশনা ‘মোর বীণা ওঠে কোন সুরে বাজি’, রাফিয়া খন্দকার রোজার ওডিসি নৃত্য ‘মেঘপল্লবী’, প্রান্তিক দেবশিব ভরতনাট্যম ‘তাণ্ডব’ মুগ্ধ করে দর্শকদের। শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের আয়োজনে দশ দিনব্যাপী এ উৎসব চলবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা পর্ব।

উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক সোহাইলা আফসানা ইকো। এতে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দিলরুবা সাথী। অনুষ্ঠানটি একাডেমির ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

হুমায়ুন আজাদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
আজ ১২ আগস্ট। লেখক, ভাষাবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে জার্মানির মিউনিখ শহরে তিনি মারা যান।

২০০৪ সালে সন্ত্রাসী হামলার পর ড. হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ও ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। ওই বছরের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের কামারগাঁয়ে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন আজাদ। যেটি বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার অন্তর্গত। জন্মের পর নাম ছিল হুমায়ুন কবীর।

১৯৬৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় এই লেখকের। সেখানে কিছুদিন থাকার পর ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে। একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি ঢাকায় ফিরে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে।

হুমায়ুন আহমেদের রাজনৈতিক লেখালেখি ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার সূচনা হয় আশির দশকেই। আশির দশকের শেষভাগ থেকে হুমায়ুন আজাদ সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। এ সময় তিনি খবরের কাগজ নামীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় সম্পাদকীয় নিবন্ধন লিখতে শুরু করেন। সামরিক শাসনের বিরোধিতা দিয়ে সূচনা হয় তার রাজনৈতিক লেখালেখি।

উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে লেখার কারণে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের বাসায় ফেরার পথে ঘাতকেরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার সিএমএইচে নেওয়া হয়। পরে থাইল্যান্ডে চিকিৎসায় তিনি খানিকটা সুস্থ হন।

ওই বছরই ৭ আগস্ট বিখ্যাত জার্মান কবি হাইনরিখ হাইনের ওপর গবেষণা বৃত্তি নিয়ে জার্মানি যান তিনি। ১১ আগস্ট রাতে একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর হঠাৎ শরীর খারাপ হয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই ভাষাবিজ্ঞানী।

তসলিমাকে চিনতেই পারছেন না পরিচিতরাও
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
তাঁর রূপের নাকি বারোটা বেজে গেছে। চেনা-পরিচিত যাঁরা ছিলেন কেউ নাকি আজকাল আর তাঁকে দেখলেও চেনেন না। তসলিমা নাসরিন নিজেই জানালেন এলিয়েনের জীবন যাপন করছেন তিনি।

ভারত হোক বা বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তান, যে কোনও বিতর্কে তসলিমার ফেসবুক পোস্ট বাঁধাধরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা বিষয়ে নিজের মন্তব্য ছুড়ে দেন তিনি, কখনও কুণ্ঠাবোধ করেন না। বরং `ঠোঁটকাটা` হিসেবে তাঁর পরিচিতি আছে। কিন্তু সম্প্রতি নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন এই বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন, সেই ফেসবুকেই।

তসলিমা সোমবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেরই চারটি ছবি পোস্ট করেছেন। সে ছবিগুলিতে তাঁর চেহারার শীর্ণতা চোখে পড়ার মতো। গত কয়েক বছরে অনেকখানি ওজন ঝরিয়ে ফেলেছেন তসলিমা, ছবিতেই তা স্পষ্ট।

এই ছবির সঙ্গেই ক্যাপশনে তসলিমা লিখেছেন, রূপের বারোটা বেজেছে। ২৪ কিলো ওজন কমার পর ত্বকের বিকট রিংকল ফুটে বেরোচ্ছে চারদিক থেকে। বয়সও তো কম হলো না বাপু! এখন আয়নায় আর নিজেকে চিনতে পারি না।

তাহলে কি বিদেশে খুব খারাপ আছেন তসলিমা? তাঁর শরীর মন সব কি খারাপ হয়েছে?

না, তা নয়। ওই পোস্টে তসলিমা জানিয়েছেন, তিনি দারুণ ভাল আছেন। মেজাজ ফুরফুরে। লিভার ভাল আছে, রক্তচাপ নেই, ডায়াবেটিসও উবে গেছে এক্কেবারে। `বিন্দাস` আছেন তসলিমা।

এরপরেই তিনি জানিয়েছেন চেনা-পরিচিতরা আর এখন তাঁকে দেখলেও চিনতে পারেন না। তা অবশ্য একরকমভাবে উপভোগই করছেন দেশ থেকে বিতাড়িত এই লেখিকা। জানিয়েছেন, এতে তিনি এলিয়েনের মতো জীবন যাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার:

চতুর্দশ জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার রাজধানীর বিউটি বোর্ডিং এর শহীদ স্মৃতি উদ্যানে চতুর্দশ জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের চেয়ারম্যান কবি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেছেন সাহিত্যসমৃদ্ধ জাতি গঠনে কবি দের ভূমিকা অগ্রগণ্য, যা পৃথিবীর সকল সুসভ্য জাতির শিল্প সাহিত্যের ইতিহাসের পাতায় চির উজ্জ্বল রবির আলোর মতো।

বক্তব্যে তিনি বাঙালি জাতির এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বর্ণনা করে জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া রাজা গৌড় শশাঙ্ক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শিল্প সাহিত্য ইতিহাস বর্ণনা করেন।

কবি এবিএম সোহেল রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি সুখের উল্লাসে পরিবেশন করেন কবি সুবর্ণা অধিকারী। এছাড়াও হামদ, নাত ও গজল পরিবেশন করেন শিল্পীবৃন্দ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের পরিচালক কবি নাহিদ রোকসানার সভাপতিত্বে ও কবি হাসিনা মমতাজের সঞ্চালনায় কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন কবি আব্দুল আজিজ চৌধুরী, কবি আব্দুল হামিদ সরকার, কবি মাহবুব ই এলাহী, ভারত থেকে আগত কবি কামনা দেব, কবি সন্ধ্যা বোস, কবি মিতা চ্যাটার্জি, কবি সরস্বতী দাস সহ কবি শেখ এ ইসলাম, কবি উম্মে হাবিবা সূচনা, ড. শরীফ সাকি কবি পূর্নিমা রাজ, কবি মহিউদ্দিন চৌধুরী, অমিতাভ চক্রবর্তী,  কবি শামছুল হক শামীম, কবি রাজেন দাস,  কবি সুপ্রীতি বিশ্বাস, কবি জারিফা সুলতানা, কবি রিমি কবিতা, বলিষ্ঠ প্রবীন কবি ও আবৃতিকার বদরুল আহসান খান, কবি তরুণ হালদার, কবি  স্বান্তনা মজুমদার, কবি হেলেন আরা সিডনি, কবি আতাউল ইসলাম সবুজ, কবি মোর্শেদা চৌধুরী এ্যানী,  কবি এস এম নজরুল ইসলাম, কবি আবুল হোসেইন হেলালী, কবি সাইফুল ইসলাম, কবি এম বাহাদুর,  বাউল কবি বেলাল, কবি মিয়া আসলাম প্রধান, মো. তাজুল ইসলাম, কবি নরুল মোমেন খান, কবি শাহনাজ শারমিন মুনু, কবি আফরোজ নীলা, কবি ধ্রুবক রাজ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় শতাধিক কবি অংশ নেন।

তৃতীয় পর্বে সংবর্ধিত অতিথিদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের চেয়ারম্যান কবি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও পরিচালক কবি নাহিদ রোকসানা। মানপত্র পাঠ করেন কবি সুবর্ণা অধিকারী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘সাহিত্য সম্ভার’র এবং কবি হাসনা হেনা রচিত Bangabandhu our Great poem- এর  মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন উদযাপন কমিটির সদস্য দের মধ্যে ‘জাতীয় কবি স্মৃতি পদক’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

কবি সৈয়দা রিমি কবিতার পরিচালনায় সান্ধ্যকালীন এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শাহ আবদুল করিমের কালজয়ী গান পরিবেশন করেন ওস্তাদ দিলদার হোসেন মুক্তার। লালনগীতি, নজরুল গীতি সহ অনেক রকম গানে প্রানবন্ত হয়ে ওঠে মঞ্চ।

কবি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর কন্ঠে সৈয়দ শাহ নুর শাহের গানে কন্ঠ মেলান সকল শিল্পীবৃন্দ। সুরের মূর্ছনায় পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অন্যপথে পথ
                                  

____///-_সিফাত হালিম

একটু সাহস করে হয়তো বলেছিল,

আমি কিন্তু শুনিনি, বন্ধুদের ভিড়,
বদলা নেবার দিনটাতে নানান না জানা,
তার তো মুখস্থ কথা।
কতজনে জানতে চায়,
গড়গড় বলেই চলে গ্যাছে দূরে,
এরচেয়ে বড় কিছু কী হয় স্মৃতির?
কী চেয়েছিল? বিদায়? হয়তো,
বাহরে খ্যালাধুলা।
অমনি হাত পেতে নিই হীন মতলব,
খুব স্বাভাবিক য্যানো ?
আমার তো এইরকম কিছু নেই অর্জন,
যা আমার ব্যক্তিগত,
শুধু কিছুটা বিষাদ পাওয়া ছাড়া।

বিশ্বসাহিত্য পরিক্রমা : উর্দু সাহিত্য
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সাহিত্যের সাথে মানুষের ইতিহাস, প্রথা, সংগ্রাম ও সম্প্রীতির গভীর যোগসূত্র রয়েছে, এজন্য সার্বিক সমাজচিত্রের শিল্পরূপকে উদ্ভাবনের প্রয়োজনে আমরা সাহিত্যকে দর্পণ বিবেচনা করি। সাহিত্য একটি নির্দিষ্ট ভাষিক অঞ্চলের সংস্কৃতির অনিবার্য অনুষঙ্গ এবং সংস্কৃতির গতিশীল ধারাবাহিকতার নিবিড় পাঠ। মানুষের জীবনের সাথে গভীর প্রচ্ছন্নতায় যে শিল্প নিরন্তর খেলা করে সাহিত্য হচ্ছে সেই অনাবিষ্কৃত শিল্পের প্রমিত ভাষণ। আমরা গভীর অনুভূতি ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে সাহিত্যিকদের রচনা এবং উচ্চারণকে অবলম্বন করে মনোভাব প্রকাশ করে থাকি। আমাদের বাংলা সাহিত্য বহু কবি-লেখকের অনেক মূল্যবান ঐশ্বর্যে শোভায় পরিপূর্ণ। তেমনি পৃথিবীর দেশে দেশে, বিভিন্ন ভাষায় রয়েছে অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক এবং তাঁদের অভিনব রচনাসম্ভার। সেসব পাঠে- অনুধাবনে-পর্যালোচনায় আমাদের সৃষ্টিশীলতা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব-সাহিত্যের অনন্য ও আলোকিত অংশ এবং এর সৌন্দর্যকে শিল্পসমঝদার ও সাহিত্যপ্রেমীদের সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন ‘বিশ্বসাহিত্য পরিক্রমা’। এই আয়োজনের লক্ষ্য, আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার সাথে সম্পৃক্ত সভ্যজনদের সাথে বিশ্বসাহিত্যের পরিচয় ও মেলবন্ধন সৃষ্টি করা এবং শিল্পের মানুষের বিশেষ উৎকর্ষ সাধন করা। এটি একটি নিয়মিত কর্মসূচি এবং এতে ধারাবহিকভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার এবং অঞ্চলের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

৩০ জুন ২০২২ সন্ধ্যা ৭.৩০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনলাইনে ‘বিশ্বসাহিত্য পরিক্রমা’ অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্ব অনুষ্ঠিত হয় উর্দু সাহিত্য নিয়ে । আলোচনার মধ্যে উঠে এসেছে উর্দু ভাষা-সাহিত্যের অতীত ও বর্তমান চর্চা এবং বাংলাদেশে উর্দু সাহিত্যের অবস্থান সম্পর্কে। এ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক জাভেদ হুসেন, আলোচনা করেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক মুম রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো: আছাদুজ্জামান। বক্তব্যে ওঠে আসে, ‘উর্দু সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশ।

এ ভাষায় লিখেছেন: মির্জা গালিব, মুহাম্মদ ইকবাল, মীর তাকি মীর, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, আমির খসরু, শাহাদাত হাসান মান্টু এবং আলতাফ হোসেন হালী-সহ অনেক গুণী কবি- লেখক। বাংলা সাহিত্যেও উর্দু সাহিত্যের প্রভাব রয়েছে।’ বিশ্বসাহিত্য পরিক্রমা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা কবি সৌম্য সালেক। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বিশ্বসাহিত্য পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয় আরবী, ফার্সি, ফরাসি, এস্পেনিয়ল এবং ইংরেজি ভাষার সাহিত্য নিয়ে।

সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনে শিল্পকলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলা সেলাকোভিচ এর আগমন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলা সেলাকোভিচকে অভ্যর্থনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। নিকোলা সেলাকোভিচ জাতীয় চিত্রশালার ১ ও ২ নং গ্যালারিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে প্রদর্শনী, বাউলকুঞ্জ , ৭ মার্চ এর ভাষনের উপর নির্মিত রিলিপ ভাষ্কয ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাম্প্রতিক কাযক্রমের উপর নির্মিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজনে শুরু হয় অনূষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্ব। শুরুতেই মেহরাজ হক তুষার এর পরিচালনা, লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনা এবং একাডেমির নৃত্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সমেবেত নৃত্য ‘সহজ মানুষ’। একাডেমির শিশু সঙ্গীত ও নৃত্যদলের পরিবেশনায় ‘আমরা সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী’। গানের কথা ও সুরঃ লিয়াকত আলী লাকী সঙ্গীত পরিচালনায় ছিল ইবনে রাজন। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন একাডেমির নৃত্যশিল্পীদল। নৃত্যটি পরিবেশিত হয় মেহরাজ হক তুষার এর পরিচালনা, লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায়। গানের কোরিওগ্রাফীতে ছিলেন ইয়াসমীন আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কিমিয়া অরিন।

 

 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঝিকুটের আলোচনা সভা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ সংগঠন ঝিকুটের আয়োজনে ‘সাহিত্য সমাজে সমকালীন বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৮তলায় হলরুমে গতকাল শনিবার বিকাল ৫ টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ঝিকুট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পরিষদ গঠনের পর ইফতারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আলোচনা সভায় ঝিকুট এর উপদেষ্টা শহিদুল ইসলাম এফসিএমএ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী। ঝিকুট এর সমন্বয়ক সিফাতুল্লাহ’র সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, গবেষক ও সম্পাদক ইমরান মাহফুজ।
 
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিকুট এর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম বাবুল ও ঝিকুট এর উপদেষ্টা আরশাদ হোসেন আকাশ। এছাড়া অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার রবীন্দ্র গবেষক ড. মুহাম্মদ জমির হোসেন, লেখক ও শিক্ষক শাহানা আফরোজ, ঝিকুট এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মাওলা।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, সংগঠক, শিক্ষক ও লেখক আশরাফ ইকবাল, ঝিকুট এর প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ কাদের, ব্রিটেনিয়া লেবেল বিডি লি. এর সিএফও রফিকুল ইসলাম, টিআইবির প্রোগ্রামার মাহবুব আলম সোহাগ, এমবিএ টাইমস এর বার্তা প্রধান শাহ মোহাম্মদ খালিদ, ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী মিরাজুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জামাল উদ্দিন চৌধুরীর কন্যা আজমা চৌধুরী, কবি, সংগঠক ও প্রকাশক মাসুম মুনাওয়ার, কবি ও গল্পকার মারুফ কামরুল, সমাজ সেবক আসলাম বেপারী, সমাজ সেবক মো. সুমন, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলন মিয়া।

ঝিকুট এর সদস্যদের মধ্যে আফসানা হাই তন্দ্রা, হাসনা হেনা আফরিন সম্পা, মো. সাইফুল ইসলাম, এড. নয়ন মিয়া, সাইয়্যেদুল বাসার, রাজু মোল্লা, শেখ রুপু, সানজিদা হায়াত, রোজাসহ সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সমাজ কর্মী, সংগঠক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফিরে আসুক আবারও মুজিব
                                  



আমি চাই আবারও জন্মাক মুজিববৃক্ষ
এই বাংলা মায়ের ভূমে,
আমি চাই আবারও হাঁকুক বিজয় হুঙ্কার
বাংলা হতে মহাবিশ্ব ব্যোমে।

আমি চাই আবারও উদুক মুজিবমিত্র
ভয়াল এ দীর্ঘ রজনী শেষে,
আমি চাই আবারও উঠুক শাওন শশী
নিশিতের এই নিশি নিঃশেষে।

আমি চাই আবার হিমাংশু হাসুক জাতির
এই ভাগ্য দ্যুলোক জুড়ে,
আমি চাই আবার স্বাধীনতা সুর ভাসুক
এই সোনার ভূলোক ঘিরে।

আমি চাই সহস্র স্লোগানে মুখরিত হোক
আজ বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চেয়ে,
আমি চাই আবারও আসুক বিজয় মিছিল
সেই সত্তরের নৌকা না’য়ে।

আমি চাই আবারও হোক উত্তাল জনস্রোত
ওই রেসকোর্স ময়দানে,
আমি চাই সুরের মোহনায় হোক উদ্বেলিত
আবার হ্যামিলনের বাঁশি শুনে।

আমি চাই আবারও উঠুক তর্জনী তাঁর
শোষকের পাহাড় চিঁড়ে,
আমি চাই ধ্বনিত হোক এই গগণ পবন
আবার মর্মভেদী হুঙ্কারে।

আমি চাই আবারও আসুক একাত্তরের
ভূবন বিজয়ী সে ভাষণ,
আমি চাই আবারও বাজুক সেই দামামা
এই বাংলার সারা গগণ।

আমি চাই রাজনীতির কবি মহাকাব্য রচুক
এই বাংলার প্রতি নীড়ে,
আমি চাই আবারও ফিরুক হাজার মুজিব,
ফিরে আসুক বারে বারে।


এইচ এম মুস্তাফিজ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বইমেলায় আসছে সাজ্জাদ চিশতির ‘আমাদেরও আছে একজন শেখ হাসিনা’
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট:
এবারের ২১শে বই মেলায় আসছে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন চিশতির কলাম সংকলন ‘আমাদেরও আছে একজন শেখ হাসিনা’। বইটি প্রকাশ করছে উষার দুয়ার প্রকাশনী, স্টল নং- ৩৩।  সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন চিশতি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিতভাবে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও অনলাইনে কলাম লিখে থাকেন। সেসব প্রকাশিত কলাম নিয়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে এই বইটি। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে কাজ করছেন রাইজিং বিডিতে।

সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন চিশতির পিতা বীর মুক্তিযুদ্ধা অধ্যক্ষ আবু তাহের ভূঁইয়া। যিনি বিএলএফ’র একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সাংবাদিক, কলামিষ্ট, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ। শুধু তাই নয়, তিনিই ছিলেন ফেনীতে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক।

এদিকে পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সাজ্জাদ হোসেন চিশতিও বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বর্তমানে তিনি সদস্য, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন( বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে), ফেনী সাংবাদিক ফোরাম, আজীবন সদস্য- ঢাকাস্থ ফেনী সমিতি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান।

দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে গণমাধ্যম জগতে তিনি কাজ করেছেন দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে। সাজ্জাদ হোসেন চিশতি কাজ করছেন কলকাতা টিভি, কুমিল্লা ২৪ টিভি, ডেইলি অবজারভার, সমকাল, দৈনিক আজকালের খবর, যুগান্তর, দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ, আমাদের সময় ডট কম, মানবকন্ঠ, দৈনিক আমাদের নতুন সময়, দৈনিক বাংলাদেশের খবর, দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য মিড়িয়ায়।

এছাড়াও সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন চিশতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য। তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট :

 ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯-২০২০ পেয়েছেন  প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আফসান চৌধুরী সহ ছয়জন প্রবীণ ও নবিন লেখক। বাংলা সাহিত্যের প্রসার ও লেখকদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে গত এক দশক যাবৎ লেখক ও সাহিত্যিকদের সম্মাননা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক ও দৈনিক সমকাল। এটি ছিল এ পুরস্কারের দশম আয়োজন।

২০১৯ সালের জন্য প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর ‘দীক্ষাগুরুর তৎপরতা’ গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শ্রেণীতে, হেলাল হাফিজ তাঁর ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ গ্রন্থের জন্য কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণীতে এবং মোজাফ্ফর হোসেন তাঁর ‘পাঠে বিশ্লেষণে বিশ্বগল্প : ছোটগল্পের শিল্প ও রূপান্তর’ গ্রন্থের জন্য ‘হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’ বিজয়ী হন।   

২০২০ সালের জন্য আফসান চৌধুরী তাঁর ‘১৯৭১ গণনির্যাতন - গণহত্যা কাঠামো, বিবরণ ও পরিসর’ গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শ্রেণীতে, মোহাম্মদ রফিক তাঁর ‘পথিক পরান’ গ্রন্থের জন্য কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণীতে এবং রন্জনা বিশ্বাস তাঁর ‘বাংলাদেশের লোকধর্ম’ গ্রন্থের জন্য ‘হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’ বিজয়ী হন।   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন ও দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন। দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।   

‘প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ’ এবং ‘কবিতা ও কথাসাহিত্য’ এ দু’ই শ্রেণীতে বিজয়ী প্রত্যেকে পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা করে পান এবং ‘হুমায়ূন আহমেদ তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’ বিজয়ী পান এক লাখ টাকা। প্রত্যেক বিজয়ীকে ক্রেস্ট ও সম্মননাপত্রও প্রদান করা হয়।
 
এই পুরস্কার বাংলাদেশের সাহিত্যিক, পাঠক ও প্রকাশক মহলে অনেক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিন শ্রেণীতে ২০১৯ সালে জন্য ৪৯৬টি এবং ২০২০ সালে ৫২৭টি বই জমা পড়েছিল। সেলিনা হোসেন, খালিকুজ্জামান ইলিয়াস, বিশ্বজিৎ ঘোষ ও আবিদ আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড প্রতি বছরের জন্য সেরা তিনটি করে বই নির্বাচন করেন।

সাহিত্য প্রসারের এ উদ্যোগ সম্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, “এই পুরস্কারটি ইতিমধ্যে দেশের সাহিত্য জগতে একটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। এই পুরস্কার দেশের লেখক ও সাহিত্যিকদের বিশেষ করে তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করছে। আর পাঠকরা পাচ্ছে রুচিশীল বই পড়ার সুযোগ। দেশের তরুণ উদীয়মান এবং প্রতিভাবান লেখকদের সৃষ্টিশীল কাজের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অবির্ভূত হয়েছে এ পুরস্কার। আমরা এই সাহিত্য পুরস্কারের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।”

এই পুরস্কার দেশের সাহিত্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে পরিণত করার জন্য একসাথে কাজ করবে ব্র্যাক ব্যাংক এবং সমকাল। লেখক সম্প্রদায়ের কাছে এ পুরস্কার হবে অনেক আকাঙ্খার ও গর্বের।

“হোমার-সাগরে হিমালয়” কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার :
জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে কবি ও কথাসাহিত্যিক সুজন দেবনাথের কাব্যগ্রন্থ ‘হোমার-সাগরে হিমালয়’ এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টায় অনিকেত রাজেশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি লেখক, গবেষক গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন গীতিকার, সুরকার অলক দাশগুপ্ত।

সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান উঠোন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত রায়, ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মজুমদার বিপ্লব, সালমা শবনম, মিসবাহ রাবিন ও সিফাত বন্যা।  

সংগীত পরিবেশন করেন অলক দাশগুপ্ত, ফারহানা রহমান কান্তা, মারুফ হোসেন, বর্ষা রাহা, শাহানাজ আক্তার, হুমায়রা ফাহমিদা।

‘হোমার-সাগরে হিমালয়’ কবি ও কথাসাহিত্যিক সুজন দেবনাথ-এর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। উল্লেখ্য, গ্রীক সভ্যতার শুরুর দিকের মহান দার্শনিক সক্রেটিস-এর সময় নিয়ে তাঁর রচিত উপন্যাস ‘হেমলকের নিমন্ত্রণ’ পাঠক মহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব।

সামাজিক দূরত্ব নাকি শারীরিক দূরত্ব?
                                  

মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকে কখনো ‘শারীরিক দূরত্ব’ আবার কখনো ‘সামাজিক দূরত্ব’ প্রত্যয় দুটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এটি নিয়ে যে কোন মতপার্থক্য নেই এমনটি নয়। ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে এটি শারীরিক দূরত্ব, সামাজিক দূরত্ব নয়। সুক্ষ্ম কিন্তু বিশ্লেষণধর্মী বিষয় দু’টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক দূরত্ব বলতে সাধারণত বিভিন্ন গোষ্ঠী  বা শ্রেণি একে অপরের থেকে দূরত্বে অবস্থান করা বুঝায়। সামাজিক দূরত্ব বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করতে ভারতীয় জাতিভেদ প্রথার উদাহরণ যথেষ্ট হবে। ভারতীয় বর্ণপ্রথা অনুযায়ী নিম্ন শ্রেণির মানুষ, অর্থাৎ বৈশ্য ও শুদ্র, উচ্চ শ্রেণিতে থাকা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে না। তাদের উচ্চ ও নিম্ন বর্ণের মধ্যে বিয়ে, আদান প্রদান তো নেই বরং এমনও নিয়ম আছে নিম্ন বর্ণের কোন ব্যক্তির ছায়া যদি উচ্চ বর্ণের কেউ মাড়ায় তবে তাকে গোসল করার মাধ্যমে পবিত্র হতে হবে। এখানে নিম্ন বর্ণ এবং উচ্চ বর্ণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তাকে সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক দূরত্ব বলেছেন।

অন্যদিকে শারীরিক দূরত্ব বলতে কোন একজন ব্যক্তি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করা বোঝায়। যেমন সাধারণত আমাদের পরিবারে কারো ফ্লু হলে সে সদস্য থেকে আমরা কিছুটা দূরত্ব মেনে চলার চেষ্টা করি। এটি কেবলমাত্র কিছু সময়ের জন্য ব্যক্তি থেকে দূরে অবস্থান করা বুঝায়, যা সামাজিক দূরত্ব নয় বরং শারীরিক দূরত্ব।

আলোচ্য দুটি বিষয়ের মধ্যে যুক্তিশীল পার্থক্য তুলে ধরেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর সামাজিক দূরত্ব কথাটি খুব বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মহামারি প্রেক্ষিতে ব্যবহারের জন্য কথাটি সামাজিক দূরত্ব নয় বরং শারীরিক দূরত্ব হবে। অর্থাৎ মহামারি থেকে রক্ষা পেতে আমাদেরকে শারীরিক নৈকট্য পরিহার করতে হবে। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে তিন বা চার ফুট দূরে অবস্থান করতে হবে। এক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব কথাটি ব্যবহার করতে হবে। কারণ সমাজবিজ্ঞানে সামাজিক দূরত্ব বলতে, একটি বর্ণ থেকে অন্য একটি বর্ণ কিংবা একটি গোষ্ঠী থেকে অন্য একটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরী করা বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ  সাদা-কালো ভেদাভেদ কিংবা উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈষম্য। সামাজিক দূরত্ব এটা নয় যে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তি থেকে অসুস্থতা বা কোন শারীরিক সমস্যার কারণে দূরে অবস্থান করবে। তবে ক্ষুদ্র অর্থে সামাজিক দূরত্ব বলা যেতে পারে, যখন আমরা খুব বেশি ভিড়ের মধ্যে যাচ্ছি না অথবা বাসে, ট্রেনে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছি। তবে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাকল্পে এটি শারীরিক দূরত্ব, সামাজিক দূরত্ব নয়। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে এটি হওয়া উচিত শারীরিক দূরত্ব, সামাজিক নয়। আলোচ্য প্রত্যয়টি সামাজিক দূরত্ব হওয়া উচিত নয় তার অন্যতম একটি কারণ সামাজিক দূরত্ব আমাদেরকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করবে, মানসিকভাবে একাকীত্ব সৃষ্টি করবে এটা কাম্য নয়। আমাদের উচিত শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। বৈশ্বিক মহামারির এ সময়ে  আমরা যদি সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করি তাহলে আমরা বিভিন্ন গ্রুপ, দল, সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বো। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি হলে ক্রমে আমাদের সামাজিক সংহতি নষ্ট হতে শুরু করবে। ‘শারীরিক দূরত্ব’ কথাটি আমরা সাধারণত তখনই ব্যবহার করি যখন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে।

সুতরাং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব কথাটি সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা মহামারি থেকে খুব শীঘ্রই একেবারে মুক্ত হওয়া যাবে কথাটি বলা শক্ত। হয়তো অন্য ভাইরাসগুলোর সাথে যেভাবে মানিয়ে চলতে হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সাথে সেভাবে চলতে হবে। তাই সামাজিক দূরত্ব প্রত্যয়টি সর্বদা ভুলভাবে ব্যবহৃত হতে থাকলে সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে। তাই মহামারি প্রেক্ষিতে সামাজিক দূরত্ব কথাটি ব্যবহার করা ঠিক হবে না, শারীরিক দূরত্ব কথাটি ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সঠিক শব্দটি নির্বাচন করতে হবে।’

মুতাসিম বিল্লাহ মাসুম
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


   Page 1 of 5
     শিল্প সাহিত্য
আধার রাতের একটুকরো আলো
.............................................................................................
সোনারগাঁওয়ে কিশোর তুহিন হত্যার আসামী বাবা ও দুই ছেলে গ্রেফতার
.............................................................................................
২৩তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০২২’ সমাপ্ত
.............................................................................................
শিল্পকলায় ১০ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব
.............................................................................................
হুমায়ুন আজাদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
তসলিমাকে চিনতেই পারছেন না পরিচিতরাও
.............................................................................................
জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
অন্যপথে পথ
.............................................................................................
বিশ্বসাহিত্য পরিক্রমা : উর্দু সাহিত্য
.............................................................................................
সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনে শিল্পকলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
.............................................................................................
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঝিকুটের আলোচনা সভা
.............................................................................................
ফিরে আসুক আবারও মুজিব
.............................................................................................
বইমেলায় আসছে সাজ্জাদ চিশতির ‘আমাদেরও আছে একজন শেখ হাসিনা’
.............................................................................................
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক
.............................................................................................
“হোমার-সাগরে হিমালয়” কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
সামাজিক দূরত্ব নাকি শারীরিক দূরত্ব?
.............................................................................................
শুভ্রতার প্রতীক শরৎকাল
.............................................................................................
করোনা পরাজিত যুবরাজ
.............................................................................................
আত্মজা
.............................................................................................
ছাত্র জীবনে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা প্রয়োজন
.............................................................................................
বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
.............................................................................................
এবার করোনায় আক্রান্ত তসলিমা নাসরিন
.............................................................................................
পড়ালেখার উদ্দেশ্য কি চাকুরী জোগাড় মাত্র?
.............................................................................................
গল্পের মধ্যে গল্প
.............................................................................................
গল্প : সুখ
.............................................................................................
আজ আমার রাতের খাবার নেই
.............................................................................................
পথশিশুর স্বপ্ন
.............................................................................................
বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের অবদান
.............................................................................................
কবি নয়, কবিতা হতে চাই
.............................................................................................
হায়রে বাঙালি
.............................................................................................
চিবুকের কালো তিল
.............................................................................................
মা দিবসে কবি আলম হােসেনের অসাধারণ কবিতা
.............................................................................................
বল্টু
.............................................................................................
দানেই সুখ!
.............................................................................................
অতি চালাকের গলায় দড়ি
.............................................................................................
কোভিড-১৯ ও একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ভাঙন
.............................................................................................
জসিম উদ্দিনের ‘কবর’ কবিতাটি করোনা ভার্সনে রূপান্তর!
.............................................................................................
ঘুমহীন হৃদয়
.............................................................................................
অনুশোচনা
.............................................................................................
চলতি বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত
.............................................................................................
ময়মনসিংহে সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত হলেন ৪ গুণীজন
.............................................................................................
প্রথম মৃত্যু
.............................................................................................
শুভংকরের ফাঁকি
.............................................................................................
বউ যেভাবে ঘরে আসে
.............................................................................................
মধ্যরাতের কথা
.............................................................................................
বাঙালির রক্তের বন্ধন ও জাতি-পরিচয়
.............................................................................................
মোহময়ী পিরামিড
.............................................................................................
৮২তম জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি আল মাহমুদ
.............................................................................................
পাবনা বইমেলা সাহিত্যকে সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
প্রসঙ্গ: ঐতিহাসিক জ্বীনের মসজিদ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT