বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
প্রতারকদের প্রশ্রয় নয়

প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নানা পর্যায়ের নজরদারির কারণে এরইমধ্যে ছোট-বড় অনেক প্রতারককে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রতারণার নানা কাহিনিও বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু তার পরও থেমে নেই প্রতারকচক্রের কারসাজি।

প্রতারকচক্র নানা ছুতায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই প্রতারকদের কখনো ক্ষমতাসীন দলের নেতা সাজতে দেখা যায়। কখনো তাদের পরিচয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা; এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়েও অনেকে প্রতারণা করে থাকে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি বা ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বসিয়েও প্রতারণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে প্রচার করেও কেউ কেউ প্রতারণার ফাঁদ পাতে। এদের অনেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে শুরু করেছে প্রতারণা।

উদাহরণস্বরূপ, গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এক বাবা ও তার ছেলের বিষয়ে তথ্য রয়েছে। বলা হচ্ছে, এই বাবা ও ছেলে মিলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, পুলিশপ্রধানসহ বিশিষ্টজনের নাম ভাঙিয়ে অনেক মানুষকে বিপাকে ফেলছেন। দুটি ব্যাংকে তাঁদের হিসাবে প্রায় শতকোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। ছেলের বিরুদ্ধে ধানম-ি ও পল্টন থানায় প্রতারণা, মতিঝিল থানায় অস্ত্র ও মাদক এবং উত্তরা থানায় অপহরণসহ হত্যা মামলা রয়েছে।

এত অভিযোগের পরও জামিনে মুক্ত থেকে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বাবা ও ছেলে; এমনকি তাঁদের কবলে পড়ে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপারও খুইয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। গত বছর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকার দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিবারও তাঁদের খপ্পরে পড়ে খুইয়েছে কয়েক লাখ টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নারীর বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রতারণার অনেক অভিযোগ।

পুলিশের গোয়েন্দারা সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে তাঁর তদবির ও বহুরূপী প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। খবরে প্রকাশ, তাঁর বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিনটি হত্যা, অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের কর্মী হিসেবে তিন মাস পিয়নের কাজ করেছিলেন এমন এক প্রতারক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব, কখনো উপসচিব, কখনো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক, আবার বর্তমান আওয়ামী লীগ সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

প্রতারকদের কৌশলের অন্ত নেই। দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ বিভিন্ন টোপ ফেলে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। রাজনৈতিক দলের লোক পরিচয়ে অবৈধ প্রভাব খাটায়। আবার ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও অনেকের নৈকট্য রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো সংসদ সদস্যই যেন চেষ্টা না করেন, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চললে প্রতারকদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে যাবে বলে আমরা মনে করি। ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় যতদিন না আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়া বন্ধ হবে না, ততদিন প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। তাই প্রতারকদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।

প্রতারকদের প্রশ্রয় নয়
                                  

প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নানা পর্যায়ের নজরদারির কারণে এরইমধ্যে ছোট-বড় অনেক প্রতারককে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রতারণার নানা কাহিনিও বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু তার পরও থেমে নেই প্রতারকচক্রের কারসাজি।

প্রতারকচক্র নানা ছুতায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই প্রতারকদের কখনো ক্ষমতাসীন দলের নেতা সাজতে দেখা যায়। কখনো তাদের পরিচয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা; এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়েও অনেকে প্রতারণা করে থাকে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি বা ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বসিয়েও প্রতারণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে প্রচার করেও কেউ কেউ প্রতারণার ফাঁদ পাতে। এদের অনেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে শুরু করেছে প্রতারণা।

উদাহরণস্বরূপ, গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এক বাবা ও তার ছেলের বিষয়ে তথ্য রয়েছে। বলা হচ্ছে, এই বাবা ও ছেলে মিলে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, পুলিশপ্রধানসহ বিশিষ্টজনের নাম ভাঙিয়ে অনেক মানুষকে বিপাকে ফেলছেন। দুটি ব্যাংকে তাঁদের হিসাবে প্রায় শতকোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। ছেলের বিরুদ্ধে ধানম-ি ও পল্টন থানায় প্রতারণা, মতিঝিল থানায় অস্ত্র ও মাদক এবং উত্তরা থানায় অপহরণসহ হত্যা মামলা রয়েছে।

এত অভিযোগের পরও জামিনে মুক্ত থেকে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বাবা ও ছেলে; এমনকি তাঁদের কবলে পড়ে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপারও খুইয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। গত বছর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকার দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিবারও তাঁদের খপ্পরে পড়ে খুইয়েছে কয়েক লাখ টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নারীর বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রতারণার অনেক অভিযোগ।

পুলিশের গোয়েন্দারা সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে তাঁর তদবির ও বহুরূপী প্রতারণার তথ্য পেয়েছেন। খবরে প্রকাশ, তাঁর বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিনটি হত্যা, অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের কর্মী হিসেবে তিন মাস পিয়নের কাজ করেছিলেন এমন এক প্রতারক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব, কখনো উপসচিব, কখনো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক, আবার বর্তমান আওয়ামী লীগ সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

প্রতারকদের কৌশলের অন্ত নেই। দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিসহ বিভিন্ন টোপ ফেলে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। রাজনৈতিক দলের লোক পরিচয়ে অবৈধ প্রভাব খাটায়। আবার ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও অনেকের নৈকট্য রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো সংসদ সদস্যই যেন চেষ্টা না করেন, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চললে প্রতারকদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে যাবে বলে আমরা মনে করি। ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় যতদিন না আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়া বন্ধ হবে না, ততদিন প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। তাই প্রতারকদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।

আত্মহত্যা ও বিবিধ আলোচনা
                                  

ইকবাল হাসান:
একজন মানুষের জন্ম এই পৃথিবীর কোথায় হবে এটা যেমন সে ঠিক করতে পারে না তেমনি কখন তার মৃত্যু হবে সেটাও সে ঠিক করতে পারে না। যদি সে  তার মৃত্যু ঠিক করে ফেলে সেটা আত্মহত্যার মাধ্যমেই শুধু সম্ভবত। বিভিন্ন ধর্মে আত্মহত্যা নিয়ে অনেক কিছুই বলা হয়েছে। সবাই এটাকে নিরুৎসাহিত করলেও সময়ের পরিবর্তনে বেড়েই চলছে।
একজন ব্যক্তি নিজেকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত কোন পর্যায়ে নিতে পারে সেটা একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন! কিন্তু কিছুটা ধারণা রয়েছে! আমরা যখনই কোন জিনিসের ভালো দিক এবং খারাপ দিকগুলো আলাদা করতে পারি তখনই ওই জিনিসকে ভালোবাসতে শিখি। আমরা একটা মাছের কথা উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারি। মাছ একজন ভোক্তার কাছে তখনই প্রিয় হবে যখন সে মাছের মাংস থেকে কাঁটা আলাদা করতে পারবে, বুঝতে পারবে কোনটা খেতে পারবে কোনটা খেতে পারবে না। তেমনি কাউকে ভালোবাসা, বিশেষত নিজেকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে নিজের  ভিতরের কোনটা ভুল, কোনটা সঠিক যখন বুঝতে পারবে কেউ তখন সে নিজের গুরুত্ব নিজের কাছে অনুধাবন করতে পারবে। যদি এরকম না হয় তাহলে কোনটা খাবারের যোগ্য কোনটা খাবারের যোগ্য না বুঝতে পারবো না; নিজের ভিতরে কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ বুঝতে পারবো না; তখন নিজেকে একজন আপাদমস্তক খারাপ মানুষ বলেই মনে হবে। তখনই মানসিক অবসাদ এসে মনের দরজায় ধাক্কা দেয়। স্বাভাবিকভাবে, কখনো কখনো আমরা ভালো-মন্দ বুঝতে পারবো না তখন সেই ছোটবেলার মতো বাবা-মা-ই যদি আবার শিক্ষকের ভূমিকায় আসে তাহলে আমরা আবার নিজের গুরুত্ব নিজের কাছে ফিরে পাবো। এক্ষেত্রে, বাবা-মার জায়গায় যে কেউ হতে পারে।
জীবনের সফলতার মাঝে ব্যর্থতা আসবে, এটা চিরন্তন সত্য। অনেক সময় ব্যর্থতা আমাদের হিতাহিত জ্ঞান লোপ করিয়ে দেয়। কোনটা নিজের জন্য ভালো হবে, কোনটা মন্দ হবে সেটাই বুঝতে পারি না। লোকিক একটা কথা আছে, ‘পাগলেও নিজের ভালো বুঝে।’ অর্থাৎ, ব্যর্থতা আমাদের অনেক সময় পাগল কিংবা তারও নীচের কাতারেই দাঁড় করিয়ে দেয়। তখন যদি কেউ কাঁধে হাত রেখে ভরসা দেয়, বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব যদি পাশে এসে দাঁড়ায় নতুন করে সাহস পাওয়া যায় বাকি থাকা জীবনটা বাঁচতে। কিন্তু সমস্যাটা এখানেই! এই ব্যর্থ সময়ে, দুঃসময়ে কাছের মানুষগুলোকে পাওয়া যায় না, যাদের কাছে  নিঃসংকোচে সবকিছু বলে দেয়া যায়। কারণ, মিথ্যা এই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই মিথ্যা। বেশিভাগ মানুষই আজীবন প্রকৃত বন্ধু পায় না, ঘিরে থাকে দুধের মাছি দিয়ে। যখনই দুঃসময় আসে তখন দুধের মাছি উড়াল দিতে পারলেও দুধের মালিক  দুধটুকু আর ফেলে দিতে পারেন না। তিনি তার কষ্ট করে কামানো মানসিক অবসাদে কেনা দুধটুকু একটু একটু করে খেতে থাকেন আর মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকেন।
মানুষের এই অবস্থাকে বলা হয় ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদগ্রস্ততা। সে সময় একজন কাছে মানুষের খুব প্রয়োজন। নিজের সকল ক্লান্তি, নৈরাশা দূর করতে একটা বিরতি দরকার সেই বিরতি না পেয়ে একজন চূড়ান্ত বিরতিতে যাওয়ার পরিকল্পনায় মগ্ন হয়।
এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রতি লাখে ৩৯ দশমিক ৬ জন আত্মহত্যা করে। মানুষ নানা কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন এর মধ্যে ডিপ্রেশন, ব্যক্তিত্বে সমস্যা, গুরুতর মানসিক রোগ বা স্বল্পতর মানসিক রোগ। তাছাড়া মাদকাসক্তি, এনজাইটি, অপরাধ বোধ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, দাম্পত্য কলহ, প্রেম-কলহ, অভাব অনটন, দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা, যৌন নির্যাতন, মা-বাবার ওপর অভিমান, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, প্রেমে ব্যর্থ ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেন। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে কারণ থাকে অজানা।
সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা সংঘটিত হয় ডিপ্রেশন বা বিষন্নতার জন্য। ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি যা একজন মানুষকে সবার অজান্তে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় তিনশ মিলিয়ন ডিপ্রেশনের রোগী রয়েছেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৫ জনের ১ জন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের ডিপ্রেশন বা এনজাইটিতে ভুগছেন। বিশ্বের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মৃত্যুর প্রধান কারন ডিপ্রেশন জনিত আত্মহত্যা। ডিপ্রেশন বেশি দেখা যায় মধ্য ও নি¤œ আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশের শতকরা ১৮ থেকে ২০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো প্রকারের ডিপ্রেশন বা এনজাইটিতে ভুগছেন। পরিবারের অনেকে হয়তো জানেন-ই না যে, তারা ডিপ্রেশনের রোগী। আমাদের অনেকেই আছেন ডিপ্রেশন সম্পর্কে অজ্ঞ এবং কেউ কেউ ডিপ্রেশন রোগই মনে করেন না।
ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদকে রোগ মনে না করা কিংবা পরিবারে কেউ আক্রান্ত সেটা না জানার মতো বিষয়গুলো আসে পরিবারের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক কি রকম তার উপর! আমাদের দেশে সন্তানদের সাথে বাবা-মার দূরত্ব থাকে খুব ছোট থেকেই। যত বড় হতে থাকে সন্তানের সাথে ততই বাড়তে থাকে দূরত্বের পরিমান। এতে সন্তানের খারাপ সময়ে তাকে ভরসা দেয়ার মত অবস্থায় থাকেন না বাবা-মা। এছাড়া, অষ্টাদশ শতাব্দীতে হওয়া শিল্প বিপ্লবের ফলে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে ভেঙে একক পরিবারে রূপ নেয়। ফলে, অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরা দীর্ঘসময় ধরে বদ্ধ কামড়ায় আটকে থাকে। তারা ঘুরতে পারে না, তাদের বাবা-মায়েদের লালন-পালন যেভাবে হয়েছে কিংবা যে পরিবেশে হয়েছে সে পরিবেশ পায় না। উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে তাদের শারীরিক ও মাসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্ত হয়। একক পরিবার হয়ে যাওয়ায় বাবা-মা দুজনেই অনেক ক্ষেত্রে কাজে বের হয়। ফলে, সন্তান নিঃসঙ্গ অবস্থায় বেড়ে ওঠে। তার সমস্যার কথা তাদের আর বলা হয় না! হয়তো সন্তানটি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে কিন্তু দুরত্ব ও একাকী বড় হওয়ার দরুন সে আর বাবা-মায়ের কাছাকাছি ঘেঁষতে সাহস পায় না। একদিন মনের বিরুদ্ধেই মনকে শান্ত করতে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসকে নিশ্চিন্তে থামিয়ে দেয়।
বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ পুরুষ ও নারী আত্মহত্যা করে, যা যেকোনো যুদ্ধে নিহতের চেয়েও অনেক বেশি। অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১ জন নারী বা পুরুষ আত্মহত্যা করছেন। মানুষের এই আত্মহত্যার পিছনে অনেক কারণ থাকলেও বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া আত্মহত্যাগুলো ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে মানসিক অবসাদগ্রস্ততা ও প্রেমজনিত ব্যাপার সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়া ও অন্যান্য কারণও জড়িত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে যতগুলো আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
গত এক দশকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনের ইতি টেনেছেন। মানসিক বিপর্যয় সইতে না পেরে সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট এ মিছিলে যোগ দেন বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তোরাবি বিনতে হক। এছাড়াও বিভিন্ন সময় প্রেমজনিত সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ, শিক্ষাজীবন নিয়ে হতাশা, একাকিত্ব, চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় নানা বিষন্নতার কারণে আত্মহননের মতো পথ বেছে নিয়েছেন আরও ৯ শিক্ষার্থী। শুধু শাবিপ্রবি নয় বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বড় আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন আত্মহত্যা করেছেন। এরকম আত্মহনন শহরের মোড়ে মোড়ে ঘটে যায় কিন্তু মৃত্যুর পরও লাশের সংখ্যা গুনতে থাকা মানুষের মাঝে আত্মার দুঃখ দেখার মানুষ কই!
মৃত্যুর পর অনেকেই বলে থাকে সে ভীরু, এই জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াতে চেয়েছে তাই মরেছে; আবার অনেকে বলে, আত্মহত্যা মহাপাপ কিংবা আত্মহত্যা সমাধান নয়। এই কথাগুলো একজন মানসিক অবসাদগ্রস্ত রোগী কখনো বুঝবে না। সে বেঁচে থাকার সময় মানুষ পায়নি কথা বলার, তার দুঃখগুলো ভাগ করে নেয়ার তাই তাকে আত্মহত্যার দিকে যেতে হলো! আমাদের সবার উচিত আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর খোঁজ নেয়া। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডুবে থাকল নিজের বন্ধুকে মৃত্যু কূপ থেকে টেনে তোলাই দেখতে হবে! তরুণরা আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের কন্ঠ শত অন্যায়ের প্রতিবাদ। আজ তারাই যদি তাদের শ্বাস রোধ করে মরে যেতে চায় তাহলে আগামীর বাংলাদেশের কি হবে। সরকারকে এই বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত। গবেষণা করা উচিত কেন তারা মৃত্যুকে বেছে নিচ্ছে, কেন হতাশায় ভুগছে। এবং এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার উপায় কি? পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে মনোবিজ্ঞানীর কাছে যাওয়ার রীতি থাকলেও আমাদের দেশে এর রীতি নেই। তাই, অনেকে জীবনের ইতি টানে চুপিসারে। আমাদের সবার এ বিষয়ে কথা বলা উচিত আগ্রহ সহকারে যতটা আগ্রহ নিয়ে একজন আত্মহত্যাকারী মৃত্যুর আগে বলতে চায়!

-শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
                                  

দেশে যখন কোনও নতুন আইন প্রণয়ন বা কার্যকর হয় তখন সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষের জন্য তা অন্তরায় হয়ে ওঠে। নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি তারই একটি উদাহরণ। এটি কার্যকরের আগে দুই সপ্তাহ দেওয়া হলে তা এ সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। নতুন আইনটির কার্যকারিতা শুরু হতে না হতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এর বিরোধীতা শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশের কয়েকটি জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা হঠাৎ করেই গাড়ি বন্ধ করে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা, যা মোটেই কাম্য নয়।

গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছর ৫ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় সড়ক পরিবহন আইন এবং ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাসের পর গত ৮ অক্টোবর গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন আইন কার্যকর উপলক্ষে ইতোমধ্যে রোড শো, প্রচারপত্র বিলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে নতুন আইনকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারছে না পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাছাড়া বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়া আইন কার্যকর করা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত চালক দায়ী; তবে এর পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতি ও দুর্নীতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, মালিকদের অতি মুনাফালোভী প্রবণতা, রাস্তার আশপাশে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি, মহাসড়কে নসিমন-করিমন ও সিএনজিসহ অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণও দায়ী। বস্তুত দেশের সড়ক-মহাসড়ক কবে আমাদের জন্য নিরাপদ হবে, তা কারও জানা নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছে।

এ অবস্থায় নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় এমন বিধান থাকা উচিত, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের নিহত, আহত বা পঙ্গু হওয়া থেকে রক্ষা করবে। দুঃখজনক হল, দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও দুর্ঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা কেউ দিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনবে এবং ইতোমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে।

আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এককথায় ভয়াবহ। একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করে। তবে শুধু শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশিমতো যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের ওপর ম্যাক্সি-টেম্পোস্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাটবাজার স্থাপন এবং পথচারীদের অসচেতনতাও সড়কপথে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এসব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সড়কপথের সংস্কার ও উন্নয়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর দিতে হবে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরে বাধা সৃষ্টি মোটেই কাম্য নয়। যারা বলছে, এই আইন তাদের জন্য অনেক কড়াকড়ি হয়েছে -তাদেরকে বুঝতে হবে আইন মানেই বাধ্যবাধকতা। তাই জনস্বার্থে নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলতে হবে। যারা এর বিরোধীতা করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই না, সড়কে আর একটিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক।

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
                                  

গত বৃহস্পতিবার ভোরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বাস থেকে তিনজনকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয় দেওয়া একদল লোক। এরপর শুক্রবার রূপগঞ্জ থানায় তাঁদের লাশ পায় স্বজনরা। তিনজনকে কারা, কেন খুন করেছে সে রহস্যের কিনারা করতে না পারলেও রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসা মাকে আনতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন দুই ভাই। সঙ্গে ছিলেন এক বন্ধু, তাঁদের তিনজনকেই ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগের মেস থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকা কলেজ ও স্থানীয় মাদরাসার দুই শিক্ষার্থীকে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের কোনো খোঁজ মিলছে না। এই পাঁচজনের পরিবার গত শনিবার ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে ঢাকার পুরানা পল্টন থেকে শনিবার রাতে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়েছে এ বিষয়ে তারা কিছু জানে না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। যেখানে বলা হয়েছে, আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে এর কারণ জানাতে হবে। বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোনে বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তাঁর পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনা কি মানা হচ্ছে? একের পর এক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে একধরনের ভীতির সঞ্চার হবে। যাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আইনের চোখে তাঁরা অপরাধী হলেও আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার তো সবারই আছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে। এ ধরনের ঘটনা অন্য কোনো দেশে কি ঘটে থাকে? একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো শাখা থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে এর সুযোগ নিতে পারে দুর্বৃত্তরাও। দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ব্যাপারে স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। পরিচয় না দিয়ে এভাবে আটক করা বা তুলে নেওয়ার ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কেউ দুর্বৃত্তদের ব্যবহার করতে পারে। সামনে নির্বাচন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও সক্রিয় হয়ে ডিবির ওপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারে। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। মানতে হবে আদালতের নির্দেশনা।

প্রতিদিন ১৫ জন নিহত দুর্ঘটনায়
                                  

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাগুলো কেন হচ্ছে, কারা এজন্য দায়ী, তা শনাক্ত করে দায়ীদের শাস্ত্মি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের মনোযোগ ও তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণেই এ দেশের মানুষ আপনজন হারিয়ে চোখের পানি ঝরাচ্ছে আর নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, কেবল ফেব্রম্নয়ারিতেই সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড়ে ১৫ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এক মাসে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে গড়ে ১৩টি। এ ছাড়া ফেব্রম্নয়ারিতে রেল দুর্ঘটনায় ২২ জন ও নৌ দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এই চিত্র কোনোভাবেই সুখকর নয়। দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহনের চালকদের অসতর্কতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে। এ ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ নজরদারির অভাব রয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে ক্ষুদ্র যানবাহনের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, সকল টার্মিনালসহ বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক অসন্ত্মোষসহ সড়ক পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অন্যদিকে মানুষ মোবাইলফোনে কথা বলতে বলতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্ত্মা পারাপার হচ্ছে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্ত্মা পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাঁটা পড়ে বা বাসের চাকায় পিষ্ট হওয়ার ঘটনা দেশে অনেক রয়েছে। এগুলো অসচেতন মানুষের কাজ। এটা এক ধরনের আত্মহত্যার চেষ্টার শামিল। সম্প্রতি এমন ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য বেড়েই চলছে।
বাংলাদেশে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে আট হাজার জন নিহত হন বলে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যাত্রীকল্যাণ সমিতি নামের একটি সংগঠন। তবে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকদের অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। একই মত সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়েরও।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্ঘটনা আর অপমৃত্যুর দেশে কেন পরিণত হবে আমাদের এ দেশটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রশিক্ষণই নয়, চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে নজর দিতে হবে। সড়কপথে যেমন মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে তেমনি বাড়ছে নৌরম্নটেও। সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে হলে দোষীদের তাৎক্ষণিক শাস্ত্মি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকেও সড়কপথে ভ্রমণ ও রাস্ত্মা পারাপারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাস্ত্মা পারাপার হওয়ার সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন লাগিয়ে কথা বলা। জনগণ সচেতন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তার আগে নতুন আইন প্রয়োজন। পরিকল্পিত ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে এমন মর্মান্ত্মিক মৃত্যু রোধ করতে।

খুন-খারাবি চলছেই
                                  

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে হয়। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো অন্তত সে কথাই বলছে। নিখোঁজের সাত মাস পর সাভার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ব্যবসায়ীর কঙ্কাল। রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে একজনের প্রায় কঙ্কাল হয়ে যাওয়া একটি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলায় পৃথক ডাকাতির ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভোরে ডাকাতের ছোড়া গুলিতে তিন গ্রামবাসী নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। একই জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় হামলা চালিয়ে দুই সহোদরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘর্ষে তিন সহোদর ভাইসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত ২৫ থেকে ৩০ জন। খুলনায় অস্ত্রের মুখে এক ঘের ব্যবসায়ীকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অপহরণকারীদের গুলিতে আহত হয়েছেন তাঁর ভাই। অন্যদিকে নিখোঁজের সংখ্যাও বাড়ছে। বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনাও। একটি রাজনীতিক দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে। আবার শিশু ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত পেয়েও পুলিশ মামলা নিতে নারাজ, এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

একই দিনে গণমাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত ঘটনা থেকে দেশের সচেতন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন উঠতে পারে, হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটল কেন? কেন খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না? বন্ধ হচ্ছে না নৃশংস অমানবিকতা? এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ যে আরো তীব্র হবে, এটাই স্বাভাবিক। ধারণা করা যেতে পারে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ-প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধÑকোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। সামান্য কারণেই যখন খুনের ঘটনা ঘটছে তখন বলতে হবে, মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। আবার এলাকাবিশেষে সত্যিকার অর্থেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি অসহায়? এ প্রশ্ন এসেছে ফরিদপুরে ডাকাতির ঘটনায়। এলাকাবাসীর বক্তব্য, সেখানে নৌপথে আসা ডাকাতদের উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে। ডাকাতরা আসে দ্রুতগতিসম্পন্ন স্পিডবোটে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। নিরীহ গ্রামবাসীকে জীবন দিতে হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌপথে ডাকাতরা এসে ডাকাতি করে। যেখানে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে, সেখানে আগে থেকেই কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? নৌপথে ডাকাতির ঝুঁকি যেখানে আছে, সেখানে তো আগে থেকেই থানার পুলিশের টহল কিংবা নৌ পুলিশ মোতায়েন করা যেত! বিষয়টি কবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসবে?

আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তত অবনতি হতে পারেÑবিষয়টি মাথায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, কর্তৃপক্ষ সব দিক বিবেচনায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।    

রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে
                                  

মিয়ানমার একদিকে বিশ্বের চোখে ধুলা দিতে সমঝোতা, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াসহ নানা ধরনের কথা বলছে, অন্যদিকে মিয়ানমারে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বিতাড়িত করতে ব্যাপক নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রাতে কারফিউ থাকে।
কেউ ঘর থেকে বেরোলেই গুলি করে হত্যা করে। ঘরে ঢুকে যুবতী মেয়েদের তুলে নিয়ে যায়। রাখাইন যুবকরা রোহিঙ্গাদের ঘরে থাকা চাল-ডালসহ সব খাদ্যবস্তু ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি রোহিঙ্গাদের গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি পর্যন্ত নিয়ে যায়। এভাবে রোহিঙ্গাদের বাধ্য করা হয় বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে। এখনো মিয়ানমারে আছেন কিংবা সদ্য পালিয়ে এসেছেন এমন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মোবাইলে ও সরাসরি কথা বলে। সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের গোপনে করা অনেক ছবি ও ভিডিও এসেছে তাঁর হাতে। সেগুলোতে লুটপাট ও নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে। মিয়ানমার সরকার তাহলে কিসের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে? এমন অবাধে লুটপাট ও নির্যাতন বন্ধ না হলে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আবার প্রাণ দিতে সেখানে ফিরে যাবে কি? রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের নূন্যতম আন্তরিকতা থাকলে তারা তো আগে সেখানে চলমান সেনা অভিযান, লুটপাট ও নির্যাতন বন্ধের উদ্যোগ নিত। ফলে মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ থেকে যায় এবং পুরো বিষয়টিকে ছলচাতুরী বলেই মনে হয়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে মিয়ানমার সরকারকে নূন্যতম গুরুত্ব দিচ্ছে না, তাও এখন স্পষ্ট। দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার, নিরাপত্তা দেওয়ার ও আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। আনান কমিশনের সুপারিশে স্পষ্টতই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির সেনাপ্রধান বলে চলেছেন, রোহিঙ্গারা সে দেশের কোনো জাতিগোষ্ঠী নয়, তারা বাঙালি। তাদের মিয়ানমারে থাকার কোনো অধিকার নেই। সেনাপ্রধানের সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন দেখা যায় এখনো চলমান সেনা অভিযানে এবং অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বিতাড়িত করতে নেওয়া নানা কৌশলে। সেনাবাহিনীর সমর্থনে রাখাইনের উগ্রপন্থী বৌদ্ধরাও রোহিঙ্গা নিপীড়নে অংশ নিচ্ছে। এ অবস্থায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এমন আশা করা কতটা যুক্তিসংগত হবে?
সে ক্ষেত্রে সমাধানের জন্য আমাদের জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেই যেতে হবে। দৃশ্যত চীন-রাশিয়া এখন মিয়ানমারকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ভারতেরও রয়েছে মৃদু সমর্থন। এই দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি অনেক সামাজিক সমস্যাও তৈরি করছে। কক্সবাজারের জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সম্ভাবনা প্রায় ধ্বংসের পথে। এই সমস্যাগুলো নিয়েও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক।

সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র
                                  

অবসরপ্রাপ্ত সচিব, যুগ্ম সচিবসহ উচ্চপদস্থ ১২ কর্মকর্তা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের কাছে কয়েক কোটি টাকা খুইয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকও আছেন।
সংবাদমাধ্যেমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রতারিত অনেকে তাঁদের অবসর ভাতার সব অর্থ সরল বিশ্বাসে তুলে দিয়েছেন এই প্রতারকদের হাতে। কেউ কেউ জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। টাকা দেওয়ার কিছুদিন পরই সবার কাছে স্পষ্ট হয়, তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এই প্রতারকচক্রের কেউ ভারতীয় নাগরিক সেজে, কেউ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেজে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, এই প্রতারকচক্র প্রথমে জাতীয় দৈনিকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আকৃষ্ট করত। যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর অনেককে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হতো। অংশীদার হওয়ার জন্য অনেকেই তাঁদের অবসরকালীন পেনশনের সব টাকা তুলে দিয়েছেন এই চক্রের হাতে। এর কিছুদিন পরই দেখা গেছে, নির্ধারিত অফিসটি নেই। টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারকচক্র হাওয়া হয়ে গেছে; এমনকি তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। এখন পর্যন্ত ১২ জন প্রতারিত হয়েছেন বলে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। এই তালিকা আরো বড় হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।  
প্রতারণার এই কৌশল অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। অবসর জীবনে সব মানুষই সক্রিয় থাকতে চান। বাংলাদেশে চাকরির বাজার সীমিত থাকায় এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে প্রতারকচক্র। দেশে সমিতি করার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া এনজিও বা বেসরকারি সংগঠন খুলে বেকার তরুণদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অতীতে অনেক ‘হায়-হায় কম্পানি’ উধাও হয়ে গেছে। রাজধানীতেও এমন অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের নির্দিষ্ট কোনো অফিস নেই। একেক সময় একেক জায়গায় অফিস খুলে বসে তারা মানুষের সর্বস্ব নিয়ে উধাও হয়েছে। একটি প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। কিন্তু এমন আরো অনেক চক্র এখনো সক্রিয়। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকার খুচরা দোকানিরা বেপরোয়া
                                  

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিন মন্ত্রীর বৈঠকের পর পাইকারি বাজার ও মিলগেটে চালের দাম কমেছে কিন্তু খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। অতি মুনাফার লোভে খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভোক্তাদের পকেট কাটছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিমত। চালের বাজারে অস্থিরতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোনো তৎপরতাও দৃশ্যমান নয়। ফলে ভোক্তাদের এখনো বেশি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫ দিনের মধ্যেই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। প্রশাসনের এত চেষ্টার পরও খুচরা বাজারে দাম না কমায় ক্রেতারা হতাশ।

কয়েক মাস থেকেই চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। দুই দফায় বন্যা ও ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণে এবার উৎপাদন কম হয়েছে। সরকারের মজুদে টান পড়ায় বাজারে সংকট দেখা দেয়। বাড়তে থাকে চালের দাম। সরকারের পক্ষ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমানো হয় আমদানি শুল্ক। এখন বড় ব্যবসায়ীরাও চাল আমদানির জন্য এলসি খুলছেন। ওএমএস কর্মসূচি চালু হয়েছে। মহানগর থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলায় ট্রাকে চাল, আটা বিক্রি করা হচ্ছে। এখানেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমছে না। চাল আমদানি বা ওএমএসের প্রভাব না পড়ায় খুচরা বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। খুচরা ব্যবসায়ীদের যুক্তি, যেসব চাল আগে বেশি দামে কেনা হয়েছে, সেসব চাল কম দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হবে। যে কারণে তাঁরা এখনই কম দামে চাল বিক্রি করতে পারছেন না। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাজারে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির দেশে গড়ে উঠেছে বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, যারা বাজার নিয়ন্ত্র্রণ করে। দেশে একটি প্রতিযোগিতা কমিশন ও প্রতিযোগিতা আইন থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়নি। বাজারে দর-কষাকষির কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যায়নি। কম দামে পণ্য প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করা যায়নি বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায়। টিসিবির কার্যক্রম শুধু চোখে পড়ে রোজার মাসে। বছরের বাকি সময় বাজার থাকে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে।
   
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকারের বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। স্থায়ী বিকল্প বাজারব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে এমনিতেই প্রতিযোগিতা গড়ে উঠবে। নিষ্ক্রিয় হবে সিন্ডিকেট। সেই সঙ্গে খুচরা বাজারে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।

চাল নিয়ে কারসাজি
                                  

চালের বাজার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। শুল্ক কমিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করা হলেও বাজারে তার প্রভাব নেই। বাজারে চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাচ্ছে না। দাম আরো বাড়তে পারে, এমন গুজবও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে এর প্রতিকার না হলে অচিরেই চালের বাজার সাধারণের আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত এপ্রিলে হাওরে বন্যার পর সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। এরপর কয়েক দফায় সারা দেশই বন্যার কবলে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় অঞ্চল। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয় ধানে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের প্রধান ফসল বোরো। প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয় আউশ।
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাঠে থাকা আমনও। বন্যা ও অন্যান্য কারণে এবার ১০ লাখ টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ দিতে গিয়ে সরকারের চালের ভা-ার প্রায় শূন্য হয়ে যায়। মজুদ নেমে আসে এক লাখ টনের নিচে। নাজুক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার চালের বেসরকারি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে আনার পর বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়তে থাকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেসরকারি পর্যায়ে দেশে চাল এসেছে প্রায় পাঁচ লাখ ২০ হাজার টন। আরো ১৭ লাখ টন চাল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। কিন্তু এর পরও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, মিলাররা চাল আটকে রেখে দিচ্ছেন, চাহিদামতো সরবরাহ করছেন না। বাজারে নানা রকম গুজবও ছড়ানো হচ্ছে। চালের দাম বাড়ার জন্য মিল মালিকদের দায়ী করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এক শ্রেণির মিল মালিক ও ব্যবসায়ী চাল নিয়ে চালবাজি করছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘চাল নিয়ে দেশকে একটা বিভ্রাটের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ’ চালের মজুদ রেখে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীও। জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, চালের মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই।
চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরও বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, কোরবানির ঈদের পর গত দুই সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে ছয় থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গুদাম বা বাড়িতে মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, ভারতে চালের রপ্তানি মূল্যবৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর ঘটনা থেকে বলা যায়, চালের বাজার নিয়ে নতুন করে কারসাজি করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে কি সরকারকে সংকটে ফেলার ষড়যন্ত্র, নাকি মুনাফার লোভ? যা-ই হোক না কেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু আমদানি করলেই হবে না, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, খোলাবাজারে চাল বিক্রিসহ নানাভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ বাড়াতে হবে।

প্রতারণা সৌদি আরবেও
                                  

বাংলাদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হজ যাত্রা নিয়ে এবারও অভিযোগের অন্ত নেই। আগের সব অভিযোগ এবারও নতুন করে এসেছে গণমাধ্যমে। সংবাদ মাধ্যেমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, পবিত্র হজব্রত পালন শেষে এবার বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজিদের। এক হজযাত্রী মক্কা থেকে টেলিফোনে স্বজনদের জানিয়েছেন, তাঁকে হোটেলে রেখে পালিয়েছে হজ এজেন্সির লোক। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়েরও কাউকে পাননি। হজে যাওয়ার আগেই অনেক হজযাত্রীকে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। হজব্রত পালনের পর নতুন করে আবার কেন বিড়ম্বনায় পড়তে হবে? সেখানে কাক্সিক্ষত সেবা কেন পাওয়া যাবে না? কেন প্রতারিত হতে হবে ওই পবিত্র ভূমিতে?
সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশে এখন এমন অনেক প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে, যাদের মূল ব্যবসা হজ। হজ ব্যবস্থাপনা অন্য দশটি সাধারণ ব্যবসার মতো নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের ভাবমূর্তি, সর্বোপরি মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও অনুভূতি। কাজেই এ ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ব্যবস্থাপনা হতে হবে সম্পূর্ণ আলাদা।
কিন্তু সব হজ এজেন্সি যে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে, তা নয়। অনেক হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণা ও অনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার নানা অভিযোগ। এবারও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৬৭ জন হজে যেতে পারেননি। বাতিল হয়েছে ২৯টি হজ ফ্লাইট। অভিযোগ পেয়ে ১৮টি হজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিবছরই হজের সময় হাজিদের সঙ্গে কিছু হজ এজেন্সির নানা রকম প্রতারণার খবর আসে। হজযাত্রীদের যে ধরনের বাড়িতে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সৌদি আরবে নেওয়া হয়, সেখানে নিয়ে তা করা হয় না। রাখা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের ঘরে, গাদাগাদি করে। পবিত্র কাবা শরিফের কাছাকাছি বাড়ি ভাড়ার কথা বলে তাঁদের রাখা হয় দূরবর্তী কোনো স্থানে। গাড়ির কথা বললেও সেখানে গাড়ি দেওয়া হয় না। ফলে বয়স্ক হাজিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গাইডের অভাবেও অপরিচিত জায়গায় হাজিদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিঃসন্দেহে এগুলো অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।
হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে যারা অনৈতিক বাণিজ্য করতে চায়, তাদের কঠোর শাস্তি বিধানের কোনো বিকল্প নেই।

বেড়েছে চাল আমদানি, উৎপাদন বাড়াতে হবে
                                  

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এতদিন আমরা এটাই জেনে এসেছিলাম। বিষয়টি নিয়ে সরকার গর্ব করত, গর্ব ছিল আমাদেরও। ওই সময়ে সরকার চাল রপ্তানির চিন্তা-ভাবনাও করেছিল। কিন্তু গত বছর থেকে উল্টো সংবাদ আমরা শুনতে পেলাম। সরকার চাল আমদানি করতে যাচ্ছে। আর এবার আরও স্পষ্ট হলো বিষয়টি। দেশে যে কোনো সময়ে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় সরকার চাল আমদানি শুরু করেছে। অবাক ব্যাপার যে প্রচুর পরিমাণ চাল আমদানি করেও চালের উচ্চমূল্য ঠেকানো যাচ্ছে না। দেশের উত্তরাঞ্চলে চলছে বন্যা। বন্যার অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম কমাচ্ছে না। চালের কেজি যে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে, সেই উচ্চমূল্য থেকে আর কমছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, চাল আমদানি শুরু হলে চালের দাম প্রতি কেজি ৬ টাকা করে কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, চালের দাম কমেনি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এর কারণ কী? চাল আমদানির প্রভাব বাজারে পড়ছে না কেন?
এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, কৃষকের ধানের দাম যাতে কমে না যায় সে বিষয়টি বিবেচনা করে অতিরিক্ত চাল আমদানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমদানি করতে হবে, করেন। কিন্তু অতিরিক্ত আমদানি করবেন না। কৃষকের ধানের দামের বিষয়টিও চিন্তা করতে হবে। অতিরিক্ত আমদানি করলে কৃষকের ধানের দাম পড়ে যাবে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষকের যাতে সমস্যা না হয় সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই আমদানি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যথার্থ।
এরই মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের একাধিক চালান বাংলাদেশে এসেছে। দেশ যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে সে জন্য সরকার বেশ সচেতন। হাওরে অকাল বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরকারি গুদামের মজুদ কমে আসার প্রেক্ষাপটে সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রবল বন্যা দেখা দেয়ায় সরকারকে আরও চাল আমদানি করতে হচ্ছে। দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত, এটা সত্য। এই সময়ে দেশে যাতে খাদ্যসংকট দেখা না দেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে আর যাই হোক এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক সংবাদ নয়।
উল্লেখ্য, গত মার্চের শেষ দিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের ছয় জেলার ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়। ওই সময় থেকেই বাড়ছে চালের দাম। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, এ দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। ভাতনির্ভর বাঙালি যদি চাহিদামতো চাল কিনতে না পারে কিংবা কিনতে হয় উচ্চমূল্যেথ তবে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী? আমাদের কথা হচ্ছে, চাল যদি আমদানি করতে হয়, তা হলে দামও কমাতে হবে। বন্ধ করতে হবে ব্যবসায়ীদের কারসাজি। করতে হবে কৃষক স্বার্থ সংরক্ষণ। কারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি দেশে ধানের উৎপাদন বাড়াতে হবে। উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারের কার্যকর ও পরিকল্পিত পদক্ষেপই কেবল পারে খাদ্যোৎপাদন আগের পর্যায়ে নিয়ে যেতে।

শ্রমঘন শিল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিন
                                  

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছেÑএটা যেমন সত্যি, একইভাবে সত্যি, দেশটাকে এগিয়ে নিচ্ছে এ দেশের মানুষ। সেটি আমরা স্বীকার করি আর না করি, দুনিয়া স্বীকার করছে। হংকং থেকে প্রকাশিত এশিয়া টাইমস লিখেছে, বাংলাদেশের এই উন্নতির মূলে রয়েছে পোশাকশিল্প। চীন যেখানে পিছিয়ে পড়ছে, বাংলাদেশ সেখানে তাদের মজবুত অবস্থান ধরে রেখেছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ফিন্যানশিয়াল টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সাফল্য প্রমাণ করে যে অন্যান্য দেশও চীনের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ’ তাদের মতে, দক্ষ-অদক্ষ শ্রমই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। চীন বা অন্যান্য দেশ অটোমেশনে অধিক মনোযোগ দিয়েও বাংলাদেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারছে না।

‘তলাবিহীন ঝুড়ি’, ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ’Ñআরো কত নামেই না ডাকা হতো বাংলাদেশকে। খুব বেশিদিন আগেরও কথা নয়। এসব অপবাদ ঝেড়ে ফেলে বাংলাদেশ এখন ‘এশিয়ার উদীয়মান বাঘ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আগের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা তকমা যারা দিয়েছিল, তারাই এখন বাংলাদেশের এই নতুন পরিচয় তুলে ধরছে।

জাতি হিসেবে এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বাংলাদেশের জিডিপি ক্রমেই বাড়ছে। দারিদ্র্যের হার দ্রুত কমছে। এক দশক আগেও দারিদ্র্যের হার যেখানে ছিল, তা থেকে এখন সেই হার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। শিল্পায়নের জন্য অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি ছিল সবচেয়ে বড় বাধা। বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করছে। শিক্ষার হার বাড়ছে। কারিগরি দক্ষতা বাড়ছে। পুরুষের পাশাপাশি কর্মশক্তি হিসেবে নারীরাও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হওয়ায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই দ্রুত বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয় যে হারে বাড়ছে তাতে আশা করা যায়, কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। শুধু পোশাক খাত নয়, অন্যান্য খাতেও রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। আর এই অগ্রগতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশের মানুষ বা বিপুল জনশক্তি। শ্রম তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য হওয়ায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এসব কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশকে আরো কিছুদিন শ্রমঘন শিল্পায়নের দিকেই অধিক মনোযোগ দিতে হবে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে হবে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ কেটে যাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক কর্মকা- চালানোর সুযোগ পেয়েছে। সেই বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের জন্য উন্নত দেশ হওয়া মোটেও কঠিন কোনো বিষয় থাকবে না।
উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, গণতন্ত্রের বিকাশ, সুশাসন বজায় রাখা এবং দুর্নীতির লাগাম টানা। আমরা আশা করি, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তেমন সদিচ্ছার প্রমাণ দেবেন।

গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে হত্যা
                                  

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে চারজন নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত দুজনই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, গরু চুরি করতেই তারা ওই এলাকায় এসেছিল। প্রকাশিত সংবাদে বলা হচ্ছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলি ইউনিয়নের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামে মধ্যরাতের পর একটি ট্রাক ঘোরাঘুরি করছিল। গ্রামবাসী ট্রাকটিকে ধাওয়া করলে চালকসহ আরোহীরা সবাই পাশের খালে ঝাঁপ দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন পিটুনি দিলে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, চরজুবিলি ইউনিয়নে বেশ কিছুদিন থেকেই গরু চুরির ঘটনা ঘটে আসছে।
প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন পাহারার ব্যবস্থা করেছে। অর্থাৎ স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় গরু চুরির উপদ্রব বন্ধ করতে পারেনি। এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্যকর্মে অবহেলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। গরুচোর সন্দেহে ধরার পরই গণপিটুনির ঘটনা বলে দিচ্ছে, এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল।


কিন্তু তাই বলে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনো কাম্য না। ধাওয়া খেয়ে পিকআপ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এ থেকেই বোঝা যায়, ওই পিকআপের আরোহীরা কেউই সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিল না। তারা খালে ঝাঁপ দিয়েছেল, তাদের ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া সমীচীন ছিল। দেশে আইন আছে, সে আইনে তাদের বিচার হতো। এখন এ বিষয়ে মামলা হবে। আবার এই মামলা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা স্থানীয় থানা যেন কোনো বাড়াবাড়ি না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।


আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে কোথাও কোথাও জনরোষ সৃষ্টি হয়। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবিলিতেও তেমনটি ঘটেছে। জনরোষের কারণেই গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। তবে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অনুচিত কাজ। দেশের কোথাও যেন এমন উদাহরণ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আশা করব, সুবর্ণচরের উদাহরণ কোথাও সৃষ্টি হবে না। কেউই আইন নিজের হাতে তুলে নেবে না।

ইয়াবার বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
                                  

ইয়াবার ভয়াবহতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বলাই বাহুল্য। আর এমনটিও যখন সামনে আসে, এই মরণ নেশা দেশের তরুণ সমাজকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে, তখন স্বাভাবিতভাবেই এর ভয়াবহতা অনুমান করা যায়। এ ছাড়া চাহিদা এবং তরুণদের টার্গেট করে মাদক পাচারকারীরা ইয়াবাকে পুঁজি করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এমন বিষয়ও আলোচিত। ফলে পরিস্থিতি যেন এমন হয়ে উঠেছে যে, ইয়াবার মরণ নেশায় ছেয়ে যাচ্ছে দেশ। আমরা মনে করি সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তারে রোববার দীর্ঘ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, গত বছর প্রায় তিন কোটি পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ছাড়া জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধবিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেকোং নদ দিয়ে এর আশপাশের এলাকা এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জব্দকৃত অধিকাংশ ইয়াবাই মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। যখন এমন বিষয়ও উঠে এসেছে, ২০০০ সাল থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসতে শুরু করে। আর এখন এসব অঞ্চল ছাড়াও বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা! তখন এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আমরা মনে করি, সরকার সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ইয়াবার বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিদারুল আল রাশেদ, যে কক্সবাজারে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে একটি মাদক চিকিৎসাকেন্দ্র চালাচ্ছেন। তার ওই সংস্থাটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যা ন্যাশনাল গোলস টু বি অবটেইনড অ্যান্ড রিটেইনডের (এনওএনজিওআর) অংশ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়া এবং ব্যাপকভাবে ইয়াবা আসক্তির বিষয়টির তিনি চাক্ষুষ প্রমাণ, এমন বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, ২০০২ সালে অনানুষ্ঠানিক একটি জরিপ চালিয়ে তার মাধ্যমে শুধু কক্সবাজার জেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ মাদকাসক্ত বলে জানা গেলেও, সে সময় কেউই ইয়াবা সেবন করত না। তাদের নেশার প্রধান উপকরণ ছিল গাঁজা এবং হেরোইন। কিন্তু ২০০৭ সালে যেন দেশে ইয়াবার বন্যা বয়ে গেল! সবখানে সহজেই ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছিল। ২০১৬ সালে তারা যখন আবারও একটি জরিপ চালায়, তখন ওই অঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মাদকাসক্ত এবং এদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগই ইয়াবা সেবন করে!

আমরা বলতে চাই, শুধু সিএনএনেই নয়, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায়ও ইয়াবাসংক্রান্ত যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেও একটি ভয়ানক বাস্তবতাই স্পষ্ট হয়। মূলত ইয়াবা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এমন বিষয় বার বার আলোচনায় এসেছে। ফলে সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে নেয়া কর্তব্য যে, একটি দেশের তরুণ সমাজ ধংসের দিকে ধাবিত হতে থাকলে তা পুরো দেশ ও জাতির জন্য কতটা উৎকণ্ঠাজনক হতে পারে।

আমরা মনে করি, ইয়াবার মরণ ছোবলে দেশের তরুণ সমাজ আজ যেভাবে অধপাতে যাচ্ছে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংগত কারণেই ইয়াবাসহ সব মাদকদ্রব্য পাচার বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এটাও আমলে নিতে হবে যে, ইয়াবার ভয়াল থাবায় অনেক পরিবার যেমন নিঃস্ব হয়ে গেছে, তেমনি বিশেষজ্ঞরা এমনটিও বলেছেন, অনেক উঠতি বয়সীদেরও বিপথে যাওয়ার পেছনে ইয়াবার ছোবল দায়ী। ফলে ইয়াবার বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিশ্চিত করবেন এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

দক্ষ কর্মীর অভাব
                                  

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ হলেও ৭১ লাখ মানুষের নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। প্রতিদিন বাড়ছে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। সরকারি চাকরিতে তিন লাখ শূন্য পদে নিয়োগ আটকে আছে। আবার কর্মখালি থাকলেও দেশে দক্ষ কর্মীর অভাব থাকায় বিদেশ থেকে কর্মী আনা হচ্ছে। দেশে কর্মমুখী শিক্ষার অভাব আছে বলেই এমনটি হচ্ছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। আবার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব নেই দেশে। কিন্তু প্রশ্ন আছে মান নিয়ে। ফলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে না। বিদেশে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আসা অনেকেরই অন্য রকম স্বপ্ন থাকে। যাঁরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান তাঁদের মধ্যে এই স্বপ্ন আরো বেশি।
কিন্তু পাস করে বের হতে না হতেই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে যান তাঁরা। মনের মতো চাকরি অনেকেই পান না। দেশের প্রায় সব শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন বিসিএস। কিন্তু যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সবাই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন না। কারণ আসনসংখ্যা সীমিত। ফলে যোগ্যতা থাকার পরও অনেককেই বঞ্চিত হতে হয়।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে আজকের দিনে তরুণদের মধ্যে যে হতাশা রয়েছে, তা তৈরি হতো না। প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু এই বাড়তি জনসংখ্যা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। দেশের বাইরে বাংলাদেশের জনশক্তির সুনাম রয়েছে। কিন্তু বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি এখন পর্যন্ত উপেক্ষিত। উচ্চশিক্ষিতদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের কী সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে, তা নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা আছে বলে মনে হয় না। আবার দেশে প্রতিবছর কতজন তরুণের কোন কোন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে, তা নিয়েও কোনো জরিপ নেই। অথচ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর নতুন নতুন বিভাগ খোলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হচ্ছে। উজ্জ্বল মুখ নিয়ে ভর্তি হওয়া তরুণদের মুখেই পাঁচ বছর পর হতাশার ছায়া। আগে থেকে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই অবস্থা তৈরি হতো না। উদাহরণ হিসেবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আগামি ১৫ বছরের মধ্যে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব অঞ্চলে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে এসব এলাকায় কাজ পাওয়া যাবে, তা নিয়ে কি কোনো জরিপ আছে? অন্যদিকে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ধরনের শৈথিল্য দেখা যায়, তা অনভিপ্রেত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি নিয়োগ হয় না। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্যেরও। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার।

দেশের জনশক্তি সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে সবার আগে কর্মমুখী শিক্ষার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে বেকার সমস্যার সমাধান হবে না। কর্মমুখী শিক্ষা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  


   Page 1 of 2
     সম্পাদকীয়
প্রতারকদের প্রশ্রয় নয়
.............................................................................................
আত্মহত্যা ও বিবিধ আলোচনা
.............................................................................................
দুর্ঘটনা প্রতিরোধই কাম্য
.............................................................................................
ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
.............................................................................................
প্রতিদিন ১৫ জন নিহত দুর্ঘটনায়
.............................................................................................
খুন-খারাবি চলছেই
.............................................................................................
রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে
.............................................................................................
সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র
.............................................................................................
ঢাকার খুচরা দোকানিরা বেপরোয়া
.............................................................................................
চাল নিয়ে কারসাজি
.............................................................................................
প্রতারণা সৌদি আরবেও
.............................................................................................
বেড়েছে চাল আমদানি, উৎপাদন বাড়াতে হবে
.............................................................................................
শ্রমঘন শিল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিন
.............................................................................................
গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
ইয়াবার বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
.............................................................................................
দক্ষ কর্মীর অভাব
.............................................................................................
শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: নজিরবিহীন বর্বরতা
.............................................................................................
অবাধ লুটপাট বিমানে
.............................................................................................
অস্থিরতা বিদেশি শ্রমবাজারে
.............................................................................................
বেড়েই চলেছে ধর্ষণ গণধর্ষণ: সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি
.............................................................................................
আবারও বাড়ল গ্যাসের দাম
.............................................................................................
অস্থির চালের বাজার
.............................................................................................
নিঝুম দ্বীপে নৈরাজ্য
.............................................................................................
অর্থ প্রেরণ-বিতরণ সহজ হোক
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
.............................................................................................
এমপি লিটন হত্যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত
.............................................................................................
দুর্নীতি কর আহরণে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT