শনিবার, ২ জুলাই 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
মানসম্মত সেবা (ভয়েস কল ও ইন্টারনেট) দিতে না পারায় দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)।

বুধবার দুপুরে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের পর বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা গ্রামীণফোনে পাঠিয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে না গ্রামীণফোন। গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে অপারেটরটি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা চেষ্টা করেও গ্রামীণফোনের সেবার মান ভালো করার কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তারা গ্রাহক বাড়াবে, কিন্তু সেবার মান বাড়াবে না- এটা হতে দেওয়া যাবে না। যতদিন না তারা সেবার মান ভালো করবে এবং তা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হবে ততদিন গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, অপারেটরটি মানসম্মত সেবা দিতে পারছে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সিম বিক্রি করতে পারবে না।

বিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা (চলতি বছরের মে পর্যন্ত) আট কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।

গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
মানসম্মত সেবা (ভয়েস কল ও ইন্টারনেট) দিতে না পারায় দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)।

বুধবার দুপুরে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের পর বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা গ্রামীণফোনে পাঠিয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে না গ্রামীণফোন। গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারলেই নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে অপারেটরটি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা চেষ্টা করেও গ্রামীণফোনের সেবার মান ভালো করার কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি। তারা গ্রাহক বাড়াবে, কিন্তু সেবার মান বাড়াবে না- এটা হতে দেওয়া যাবে না। যতদিন না তারা সেবার মান ভালো করবে এবং তা সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত না হবে ততদিন গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, অপারেটরটি মানসম্মত সেবা দিতে পারছে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সিম বিক্রি করতে পারবে না।

বিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা (চলতি বছরের মে পর্যন্ত) আট কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।

একনেকে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩৪১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

 

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ; মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ; কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ (আর-৭৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কি.মি. রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ; চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়ীয়া-পাথরঘাটা মহাসড়কের (জেড-৮৭০১) পিরোজপুর অংশের জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত বেইলি সেতুর স্থলে পিসি গার্ডার সেতু ও আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ; কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ (১.৬০ কি.মি. থেকে ৩২ কি.মি. পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ; জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত); বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত); ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস) এর ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সম্প্রসারণ; কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন।

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম, এবার সমন্বয়ের দাবি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
ভোজ্য তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধা ও বিশ্ববাজারে মূল্য কমে যাওয়ার পরও দেশের বাজারে দাম না কমায় অবিলম্বে দেশে ভোজ্য তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

শুক্রবার (২৪ জুন) সকালে সংবাদ মাধ্যমে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভোজ্য তেল আমদানিতে ভ্যাট ছাড়, এলসি কমিশন ও এলসি মার্জিন প্রত্যাহারে পর এপ্রিলে এসব সুবিধা নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি আমদানি করেছেন বড় মিল মালিক ও আমদানিকারকরা। গত রমজানের ঈদের পর ৫ মে দেশে ভোজ্যতেলের দাম সরকার পুনঃনির্ধারণ করেছিল। ওই সময়ে সয়াবিনের দাম লিটার প্রতি রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়ে ৩৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এরপর বিগত ৯ জুন কোনো কারণ ছাড়াই মিল পর্যায়ে ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম মিলগেটে ১৮০ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৮২ টাকা ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম মিলগেটে ১৯৫ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৯৯ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক লিটারের খোলা পাম অয়েলের (সুপার) দাম মিলগেটে ১৫৩ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১৫৫ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫৮ টাকা করা হয়। এ ক্ষেত্রে সয়াবিনের দাম বাড়ানো হয়েছে লিটারপ্রতি ৫-৭ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগতভাবে দাম কমার পরও দেশে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী একাধিকবার দাম সমন্বয়ের আশ্বাস দিলেও সে আশ্বাসের ফল নেতিবাচকই এসেছে। তিন মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ২০০-৪৯০ ডলার কমলেও দেশে তার বিপরীতে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এক মাসে দু’দফায় প্রতি লিটার সয়াবিনে দাম বাড়িয়েছেন ৫১ টাকা।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৭৬৫ ডলার। ২০২০ সালে দাম ছিল ৮৩৮ ডলার এবং ২০২১ সালে সয়াবিনের টনপ্রতি দাম ছিল এক হাজার ৩৮৫ ডলার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে একপর্যায়ে তা বেড়ে যায়। মার্চে বিশ্ববাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম হয় এক হাজার ৯৫৬ ডলার। এপ্রিলে তা কমে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম হয় এক হাজার ৯৪৭ ডলার। আর বর্তমানে টনপ্রতি এক হাজার ৪৬৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যখন বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়তি, তখন পণ্যটি আমদানিতে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ওই সুবিধা নিয়ে আমদানি কারা তেল দেশের বাজারে এলে দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভোক্তারা তার কোনো সুফল পায়নি। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে তার বিপরীতে বাড়ানো হচ্ছে? যা শুধুমাত্র ব্যবসায় সুশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, ব্যবসায়িক নীতি নৈতিকতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। এর ফলে ভোক্তারা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

দাম বৃদ্ধির পর্যালোচনা করে দেখা যায়- গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম পাঁচবার উঠানামা করে। এর মধ্যে তিন দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারসাজিতে অক্টোবরের শেষ দিক থেকে বেসামাল হয় ভোজ্য তেলের বাজার। ফলে অক্টোবরে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৩৬ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন লিটার ১৬০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সে সময় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে সময়ও বেঁধে দেওয়া দামে ভোজ্য তেল বাজারে পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম বাড়াতে যতটুকু আগ্রহী, দাম কমলে কমাতে তেমন আগ্রহী না হওয়ার কারণে ভোজ্য তেলের বাজারে এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় আমদানিকারকরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পর দীর্ঘদিনেও দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম সমন্বয় হয় না, যা খুবই দুঃখজনক। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমলে ব্যবসায়ীদের উল্টো সুর বেশি দামে কেনা বা রেট বেশিসহ নানা অজুহাত।

দেশে তিন মাসে কোটিপতি বেড়েছে ১৬শ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
করোনার সময় সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন মুখ থুবরে পরেছে। এর আচ পরেছে বাংলাদেশেও, সেই সংকট মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি। সামগ্রিক অর্থনৈতিক এই গতির সঙ্গে বাড়ছে দেশের কোটিপতির সংখ্যা। চলতি বছরের তিন মাসে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১৬০৩টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সে সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০২২ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশে কোটিপতি হসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩ হাজার ৫৯৭টিতে। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ৯৭৬টি। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতি হিসাবধারীর (ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা বেড়েছে এক হাজার ৬২১টি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৭৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৩। যাদের হিসাবে জমা ছিল ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালের মার্চ আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৫২ হাজার। তাদের হিসাবে জমা ছিল ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।

২০২১ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার বেশি আমানতের হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৪ হাজার ২৭২টি। ২০২২ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫৯৭টিতে। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৯ হাজার ৩২৫টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চে দেশে যখন করোনা হানা দেয় তখন ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখার হিসাবের সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। মহামারি চলাকালে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেই কোটিপতি হিসাবের ওই অংক এক লাখ ছাড়ায়। ২০২২ সালের মার্চ শেষে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫৯৭টিতে। এ হিসাবে মহামারির ২৪ মাসে দেশে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ২০ হাজার ৯৭২টি।

পাকিস্তানে পেট্রলের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
পাকিস্তানে রেকর্ড বৃদ্ধি পেট্রলের দাম। প্রতিলিটার পেট্রলের দাম ২৪.০৩ রুপি বাড়িয়ে ২৩৩.৮৯ রুপি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মিফতা ইসমাইল এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা করেন। মন্ত্রী জানান, পেট্রলে ভর্তুকি হ্রাস করতে এই রেকর্ড দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) থেকে পাকিস্তানে লিটারপ্রতি পেট্রল ২৩৩.৮৯ রুপি, ডিজেল ২৬৩.৩১ রুপি, কেরোসিন ২১১.৪৩ রুপি, হালকা ডিজেল ২০৭.৪৭ রুপিতে ক্রয় করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার দাম না বাড়ানোর কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। তিনি বলেন, ইমরান খান ভর্তুকি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে পেট্রলের দাম হ্রাস করেছিলেন। বর্তমান সরকার ওসব সিদ্ধান্তের জ্বালা পোহাচ্ছে। বর্তমানে পাকিস্তান সরকার প্রতিলিটার পেট্রলে ২৪.০৩ রুপি, ডিজেলে ৫৯.১৬ রুপি, কেরোসিন তেলে ৩৯.৪৯ রুপি লোকসান দিচ্ছে। তিনি বলেন, মে মাসে এই ক্ষতির পরিমাণ ১২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বেসামরিক সরকার পরিচালনার ব্যয়ের চেয়েও বেশি। উল্লেখ্য, বেসামরিক প্রশাসনের পরিচালনাগত ব্যয় ৪০ মিলিয়ন রুপি।


এদিকে পেট্রলের দাম বৃদ্ধিকে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তারাএই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করবে বলে ঘোষণা করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) আয়োজিত এক কর্মশালার শেষে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মূল্য সমন্বয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে এখনও কিছু নির্ধারিত হয়নি। সম্প্রতি প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর এই ইঙ্গিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, যেভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়ছে সেটা খুব অস্বাভাবিক। আমাদের চিন্তা করতে হবে এই অবস্থা কতদিন চলবে। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। দাম পরিবর্তন করবো কিনা, কোথায় সমন্বয় করবো বা আদৌ করবো কিনা এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি। এরপর সরকারের কাছে প্রস্তাব করবো। তিনি বলেন, লোকসানের দায় কে নেবে? আমাদের গ্রাহকরা আছেন, যারা জ্বালানি পরিবহন করেন তাদের ওপর কোনও চাপ পড়ুক তাও আমরা চাই না। আমরা চাই সমন্বয় করতে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিপিসি প্রতিদিন শতকোটি টাকা লোকসান গুনছে। আমরা আসলে কত এই লোকসান করবো?

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট করে। বাড়লে বাড়ায়, কমলে কমায়। আমার এই মুহূর্তে সেদিকে যাবো কিনা সেটা চিন্তার বিষয়। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে ভারতের সঙ্গে এখন আমাদের তেলের দামের অর্ধেক পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে। সে তুলনায় এখনও আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি। আমরা কতটা বাড়াবো সে জায়গাটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। যাত্রীদের ওপর কী ইফেক্ট হবে, পরিবহনে কী ইফেক্ট পড়বে সব আমাদের ভাবতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ থেকে জানা গেছে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে লিটার প্রতি ডিজেলের দাম অনেক কম। জুনে আমাদের ডিজেলের লিটার প্রতি দাম যেখানে ৮০ টাকা, সেখানে ভারতে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। একইভাবে পাকিস্তানে ৯৪ টাকা, নেপালে ১১৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১০১ টাকা। এছাড়া সবচেয়ে বেশি এখন হংকংয়ে। দেশটিতে ২০৫ দশমিক ৫২ টাকায় ডিজেল বিক্রি হচ্ছে (ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৯২ টাকা ধরে এ হিসেব করা হয়)।

১০ লাখ টন গম রপ্তানির অনুরোধ ভারতকে
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে প্রতিবেশি দেশ ভারত। কিন্তু ঘোষণা দেয়ার আগেই বাংলাদেশি আমদানিকারকরা ঋণপত্র(এলসি) খুলেছিলেন ভারত থেকে গম আমদানির জন্য। হঠাৎকরে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড’র (ডিজিএফটি) গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় আটকে যায় ১০ লখা টন গম আমদানি। এরই প্রেক্ষিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এলসিকৃত ১০ লাখ টন গম ছঅড়ের অনুরোধ জানায় নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন।

শনিবার (১১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঠানো চিঠির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতি বছর ৬৭ লাখ টন গম আমদানি করে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ থেকে ১৩ লাখ টন গম সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সরকার। আর ৫০ লাখ টনের বেশি গম বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয় ভারত থেকে।

গত ২৫ মে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর গত ১৩ মের আগে ইস্যু হওয়া এলসিগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে বাংলাদেশ, যেখানে ওই ১০ লাখ টন গম আমদানির কথা উল্লেখ রয়েছে।

গত ১৩ মে অনেকটা হঠাৎ করেই গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)। তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া ওই নিষেধাজ্ঞায় বৈশ্বিক গম সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট আরও তীব্র হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে ডিজিএফটি জানায়, ১৩ মে’র আগে গমের জন্য যেসব ঋণপপত্র (এলসি) ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর চালান পাঠানো যাবে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ হবে না।

পরে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনও নিশ্চিত করে, বাংলাদেশে ভারতের গম রপ্তানিতে কোনো বাধা নেই। পাশাপাশি, অন্য যেসব দেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারতীয় গম আমদানি করতে ইচ্ছুক, সেসব দেশের সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষেও গম রপ্তানি চলবে।

তবে এরপরও নানা জটিলতায় ভারতে বাংলাদেশমুখী গমের বহু চালান আটকে রয়েছে। গত ২ জুন কলকাতাভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, গম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না শত শত ভারতীয় ট্রাক। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থলবন্দরে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আনুমানিক চার লাখ টন গম নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেগুলো। ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গমবোঝাই ট্রাকগুলোকে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এরপর ৯ জুন টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে গম রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বাংলাদেশে আসতে পারছে না মালবাহী ১২টি ট্রেন। এসব ট্রেনের মোট ৫০৪টি ওয়াগনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টন গম রয়েছে।

মধ্য ও নিম্নবিত্তের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের যে প্রত্যাশা সেটির প্রতিফলন হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট প্রস্তাবনায় বিগত সময়ের নানা অর্জনকে তুলে ধরেছেন। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার কথা বলেছেন। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ কী ভাবে মোকাবিলা করবেন তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা তিনি উল্লেখ করেন নি। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, করপোরেট কর হার কমানো, আমদানি বিকল্প পণ্য উত্সাহিত করার মতো নানা পদেক্ষপ নিয়েছেন। এগুলো ভালো উদ্যোগ। এর সুবিধা বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিতে পারলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো নিতে পারবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি। বাজেটে এই খাতের জন্য তেমন উদ্যোগ নেই।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোবাবিলার কথা বলেছেন কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়নি। কোন পদ্ধতিতে তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন সেগুলো সুস্পষ্ট নয়।

বাজেট আগের ধারাবাহিকতায় প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘাটতির লক্ষ্য পূরণে সরকারকে ব্যাংক ঋণ নির্ভর হতে হবে। সরকার ব্যাংক ঋণ বাড়ালে সেটি ব্যক্তি ঋণে প্রভাব ফেলে। এর প্রভাবে বিনিয়োগ সংকুচিত হতে পারে।

সর্বজনীন ‘পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করবে সরকার
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সরকারিভাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানান তিনি।

এ সময় জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

পেনশন প্রসঙ্গে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় বৃদ্ধকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে একটি সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের অঙ্গীকার করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে সরকার কর্তৃক প্রণীত জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রে একটি ব্যাপকভিত্তিক সমন্বিত অংশগ্রহণমূলক পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আমি সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি, সরকার আগামী অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকার আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও একই সুযোগ রাখা হচ্ছে।

এবারের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন। এর আগে দুপুর ১২টার কিছু পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়।

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সয়াবিন তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৭ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার নূরুল হকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৮৫ টাকা। আর বোতলজাত এক লিটার সয়াবিনের সর্বোচ্চ খুচরা দাম হবে ২০৫ টাকা।

এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হবে সর্বোচ্চ ৯৯৭ টাকা। এক লিটার খোলা পাম তেলের দাম হলো ১৫৮ টাকা। এর আগে গত ৫ মে তেলের দাম বাড়ানো হয়। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সেদিন জানানো হয়, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়। ৫ লিটারের বোতলের দাম ৭৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৯৮৫ টাকা।

নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সেদিন জানানো হয়।

সংসদে জাতীয় বাজেট পেশ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
দেশের অর্থনীতিতে এখনও করোনার প্রভাব রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চলছে সংকট। ফলে পণ্যমূল্যে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে চলতি হিসাবে রেকর্ড ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কমে গেছে রেমিট্যান্স। এতে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতি। আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ তেমন একটা চোখে পড়েনি। বিশেষত মূল্যস্ম্ফীতি মোকাবিলায় বাজেটে জোরালো পদক্ষেপ নেই; বরং উল্টো জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ। ডলার সংকটের কথাও বলেছেন। তবে প্রধান এ দুটি সংকট মোকাবিলায় বাজেটে তেমন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই। আবার মূল্যস্ম্ফীতির চাপ মোকাবিলায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে জোরালো সমর্থনের উদ্যোগ নেই। গরিব মানুষের জন্য সরকারের ভাতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাড়েনি। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে কম দামে চাল পাওয়ার সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর কোনো ঘোষণা দেননি। আবার এই চালের কেজি ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা আগের মতো ৫০ লাখই রয়ে গেছে। অন্যদিকে মূল্যস্ম্ফীতির চাপের কারণে সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর যে দাবি ছিল, সেদিকেও দৃষ্টি দেননি অর্থমন্ত্রী। মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভর্তুকি ছাড়া বিশেষ কোনো কৌশল বাজেটে নেই।

অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রয়োজনীতার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো হবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেননি। রপ্তানি খাতকে এর আগে দেওয়া বিভিন্ন সহায়তার উদাহরণ দিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে যখন তৈরি পোশাকের অর্ডার কমে আসছে, তখন রপ্তানি খাতে উৎসে কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে রপ্তানি খাত আরও সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। আগে থেকে পোশাক খাতে করপোরেট কর কম ছিল। এবার অর্থমন্ত্রী অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাতে করপোরেট কর কমিয়ে সমতা এনেছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আমদানি সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীতার কথা বলেছেন। অথচ বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাতের প্রাক্কলন আগের মতোই আছে। ফলে বিনিয়োগে জোর দেওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর অভিপ্রায় নিয়ে সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠবে। অন্যদিকে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বাড়ানো হয়েছে, যা মূল্যস্ম্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমদানিনির্ভর এবং কম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যয় বন্ধ করা বা স্থগিত রাখা হবে। তবে কম গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী নয় এমন বেশ কিছু প্রকল্প এডিপিতে রয়েছে। রাজনৈতিক বা অন্য কারণে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও মূল্যস্ম্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

বিনিয়োগের জন্য করপোরেট করে ছাড়সহ কিছু কর সংক্রান্ত উদ্যোগ থাকলেও ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সংস্কারমূলক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। কর্মসংস্থানের জন্য প্রণোদনা ও নীতি সহায়তারও ঘাটতি আছে। রপ্তানির জন্য লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নেই। বর্তমানে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানি বাজারে বেশ কিছু ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি প্রশমনে এ খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে দেশের ৫১তম বাজেট পেশ করেন। এটি অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের চতুর্থ এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৪তম বাজেট। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম `কভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন`। বাজেট বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্টের কালরাত্রির সব শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। দ্বিতীয় অধ্যায়ে `শেখ হাসিনা :এক ফিনিক্স পাখির গল্পগাথা` শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের বিভিন্ন অর্জনের তথ্য দেন।

আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রাক্কলিত ব্যয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। যদিও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ব্যয়ের প্রাক্কলন চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকা বেশি হলেও অর্থনীতির আকার বিবেচনায় একে সম্প্রসারণমূলক বা উচ্চাভিলাষী না বলে কিছুটা রক্ষণশীল বলা যেতে পারে। তবে আগামী অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের দিকে বিশেষত, ব্যাংকের দিকে নির্ভরতা বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়লে সরকারের ঋণের কারণে উদ্যোক্তারা যদি পর্যাপ্ত ঋণ না পান, তাহলে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে।

বাজেট বরাদ্দের অংশ হিসেবে কৃষি ও শিক্ষায় আগের বছরের চেয়ে বরাদ্দ বেড়েছে। বেশিরভাগ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজেট কিংবা জিডিপির অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের চেয়ে কম। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। শিক্ষা খাতে মাত্র ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যদিও অর্থমন্ত্রী অগ্রাধিকারের মধ্যে এ দুটি খাতের নাম উল্লেখ করেছেন।

কভিডের প্রভাব কি কেটে গেছে :অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, করোনার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে দেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেছে। অথচ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সাম্প্রতিক সময়ে বলেছে, বিশ্বব্যাপী কভিড থেকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জরিপ বলছে, মানুষের আয়, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কভিডের প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। সম্প্রতি পিপিআরসি ও বিআইজিডির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কভিডের কারণে এখনও দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ আগের অবস্থায় যেতে পারেননি। কভিড ও মূল্যস্ম্ফীতির প্রভাবে দেশের তিন কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে নতুন দরিদ্রদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তিনি দারিদ্র্যের হারের যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা কভিডের আগের।

ব্যবসায়ীরা কেউ খুশি, কেউ নন :বাজেটের বিভিন্ন কর, শুল্ক্ক ও ভ্যাট প্রস্তাবে ব্যবসায়ীদের কারও কারও জন্য সুখবর আছে। আবার দুঃসংবাদও আছে কোনো কোনো শ্রেণির জন্য। রপ্তানি বিলের ওপর উৎসে কর বাড়ানো হয়েছে, যা রপ্তানিকারকদের বিপাকে ফেলবে। তবে পোশাকের মতো অন্যান্য রপ্তানি খাতের করপোরেট কর কমিয়ে আনার পদক্ষেপ স্বস্তিদায়ক। বেশ কিছু পণ্যে নতুন করে শুল্ক্ক ও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। আবার কিছু ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে উৎসে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎসে কর কমানো হয়েছে। নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপের জন্য কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে করপোরেট কর কমানো হয়েছে, যা বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে `দায়মুক্তি` ঘোষণা সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করবে।

আয়ের লক্ষ্যমাত্রা :আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদানসহ মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব সংগ্রহ ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটে যা ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ছিল। নতুন অর্থবছরে মোট কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের যে প্রবণতা রয়েছে, তাতে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ব্যয় পরিসংখ্যান :আগামী অর্থবছরে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। সংশোধিত বাজেটে যা কমিয়ে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।

ঘাটতি :আগামী অর্থবছরে অনুদানসহ ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হবে। অনুদানসহ বাজেট ঘাটতি হবে জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আর অনুদান বাদে ঘাটতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ নিতে চায় ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিতে চায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

সংসদের পরিস্থিতি :করোনাভাইরাস মহামারি কাটিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক পরিবেশে এবার বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে। অবশ্য করোনাকালের বিগত দুটি বাজেট অধিবেশনের মতো এবারও দর্শক গ্যালারিতে কোনো অতিথিকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। সর্বত্র ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ সভায় বাজেট অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংসদকক্ষে একসঙ্গে হেঁটে ঢোকেন সংসদনেতা শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

গম নিয়ে বাংলাদেশমুখী ১২ ট্রেন আটকে রেখেছে ভারত
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক

ভারতে গম রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বাংলাদেশে আসতে পারছে না মালবাহী ১২টি ট্রেন। এসব ট্রেনের মোট ৫০৪টি ওয়াগনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টন গম রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ দেশে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশে আসতে ট্রেনগুলোর বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। সে কারণেই কয়েকদিন ধরে আটকে রয়েছে সেগুলো। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুন) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যেসব রপ্তানিকারক এসব গমের চালান বাংলাদেশে পাঠাতে চান, তারা ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের (ডিজিএফটি) অধীন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোর কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ (আরসি) পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি পণ্যবোঝাই আটকেপড়া ওয়াগনগুলো নিয়ে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয়। এ ধরনের ওয়াগনগুলোতে সাধারণত সারসহ অন্যান্য জিনিসও পরিবহন করা হয়।

ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, ট্রেন চলাচল শুরুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জোর প্রচেষ্টা চলছে, যেন অন্য মালামাল বহনের জন্য খালি ওয়াগনগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়।
ভারত সরকারের সূত্র বলেছে, জালিয়াতির আশঙ্কা দূর করতে পরামর্শক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সব ঋণপত্র (এলসি) যাচাই করা হচ্ছে এবং তারপরে আরসি ইস্যু করা হবে।


গত ১৩ মে বাধাহীন গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পরপরই যোগ্য রপ্তানিকারকদের জন্য আরসি ইস্যু করার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোকে কঠোরতা অনুসরণের নির্দেশ দেয় ডিজিএফটি। তবে কিছু অসাধু রপ্তানিকারক আরসি’র জন্য ১৩ মে বা তার আগে ইস্যু করার তারিখসহ ভুয়া এলসি জমা দিচ্ছে, এমন খবর পাওয়ার পর গত ৩০ মে নতুন নির্দেশিকা জারি করে ডিজিএফটি।

ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, প্রয়োজনে সব এলসি সশরীরে যাচাই করবে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ, তা সে এরই মধ্যে অনুমোদিত হোক বা প্রক্রিয়াধীন। দরকার হলে এই কাজে কোনো পেশাদার সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। সশরীরে যাচাইয়ের সময় প্রাপক ব্যাংকের বৈধতা বা অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে, গত ২ জুন কলকাতাভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, গম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না শত শত ভারতীয় ট্রাক। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থলবন্দরে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আনুমানিক চার লাখ টন গম নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেগুলো। ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গমবোঝাই ট্রাকগুলোকে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃষ্টির কারণে গমগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। সেটি হলে কোটি কোটি রুপি লোকসান গুনতে হবে তাদের। গত ১৩ মে অনেকটা হঠাৎ করেই গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)। তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া ওই নিষেধাজ্ঞায় বৈশ্বিক গম সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট আরও তীব্র হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে ডিজিএফটি জানায়, ১৩ মে’র আগে গমের জন্য যেসব ঋণপপত্র (এলসি) ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর চালান পাঠানো যাবে। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ হবে না।

পরে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনও নিশ্চিত করে, বাংলাদেশে ভারতের গম রপ্তানিতে কোনো বাধা নেই। পাশাপাশি, অন্য যেসব দেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারতীয় গম আমদানি করতে ইচ্ছুক, সেসব দেশের সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষেও গম রপ্তানি চলবে।

মানিকগঞ্জের মরিচ যাচ্ছে বিদেশে: বছরে আয় ৪০ কোটি টাকা
                                  

মোঃ আল মামুন:

কাঁচা মরিচ চাষে খ্যাতি অর্জন করেছে মানিকগঞ্জ। েেলার প্রায় সবক’টি উপজেলায় এই মরিচের আবাদ হয়ে থাকে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে মানিকগঞ্জের কাঁচা মরিচ রপ্তানি করে সুনাম অর্জন করেছে। মরিচ বিদেশের মাটিতে রপ্তানি হওয়াতে আবাদ অনেকাংশে বেড়েছে এই অঞ্চলে।

আবহাওয়া ও অনুকূল পরিবেশ হওয়াতে জেলায় প্রতি বছরই মরিচের ফলন ভালো হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, কুয়েত ও সৌদি আরবে রফতানি হচ্ছে মানিকগঞ্জের মরিচ। মরিচের মূল্য ও চাহিদা নির্ভর করে বিমানের উপর। কারণ সঠিক সময়ে বিমানের কার্গো বুকিং এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ে এই মরিচের বাজার দর উঠা-নামা করে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলা ৭০ হেক্টর, সিংগাইর ৬৫ হেক্টর, সাটুরিয়া ৪০ হেক্টর, ঘিওর ৩০০ হেক্টর, দৌলতপুর ৫৫ হেক্টর, শিবালয় ১২০০ হেক্টর ও হরিরামপুরে ১২৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। সদর উপজেলা ৯০ হেক্টর, সিংগাইর ৮০ হেক্টর, সাটুরিয়া ৪৭ হেক্টর, ঘিওর ৩৩০ হেক্টর, দৌলতপুর ৫৩ হেক্টর, শিবালয় ১০২৬ হেক্টর ও হরিরামপুরে ১৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার বরঙ্গাইল বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পযর্ন্ত কৃষক তার জমি থেকে মরিচ তুলে নিয়ে আসেন। এ বাজারের আড়ৎদাররা মরিচ ক্রয় করে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। অনেক পাইকার এই মরিচ ক্রয় করে এক্সপোর্টারের মাধ্যমে দেশের বাহিরে পাঠান। প্রথমে মরিচ ক্রয় করে আড়তে রাখেন পরে কাগজের কাটুনে করে ৫ থেকে ৯ কেজির প্যাকেট করেন। মরিচ রপ্তানি করার আগে প্রতিটি কাটুনে এক্সপোর্টারের স্টিকার বসানো হয়, তার পর গাড়ী যোগে বিমানবন্দরের নিয়ে যাওয়া হয়।

বরঙ্গাইল পাইকারী আড়তের মেসার্স তাজ বাণিজ্যলয়ের তাজ উদ্দিন বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে কিছু দিন আগেও কারেন্ট মরিচ ছিলো যা দুবাইতে বেশ চাহিদা ছিলো। এখন বিন্দু মরিচের চাহিদা বেশি হওয়াতে এই মরচিগুলো মালেশিয়া ও সৌদি আরবে যাচ্ছে। আমরা যারা আড়তদার আছি তাদেরকে আড়ৎদারি দিয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টন মরিচ এক্সপোর্টাররা নিয়ে যায় ঢাকায় এবং সেখান থেকে বিমানে করে বিভিন্ন দেশে যায়।

বরঙ্গাইল পাইকারি আড়তের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিদ্দীক মোল্লা বলেন, এই বরঙ্গাইল আড়ৎ দেশের মধ্যে অন্যতম কারণ এই আড়তের কাঁচা মরিচ বিদেশের রপ্তানি হয়। রপ্তানি হলে আমাদের প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা আয় হয়। এই অঞ্চলের কাঁচা মরিচ বিদেশে রপ্তানি শুরু হওয়ার পরপরই আবাদ যেমন বেড়েছে ঠিক তেমনি কৃষক লাভবান হচ্ছে।

মালেশিয়ায় মরিচ রপ্তানিকারক সুমাইয়া এন্ড ব্রাদার্সের এমডি মিরাজ-উল ইসলাম বলেন, এই জেলা থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে দশ টন মরিচ বিদেশে যাচ্ছে বিমানের কার্গোতে করে। আমাদের দেশ থেকে গার্মেন্স সামগ্রীর পাশাপাশি যদি প্যারিসিবল সামগ্রীর জন্য আরো কিছু বিমানে যায়গা করে দিতো তবে ভালো হতো । বিমানে যান্ত্রীক ত্রুটি হয় বা সিডিউল  বিপর্যয় হয় এটা যদি আগের দিন জানিয়ে দিতে পারে তবে আমাদের লোকসানের পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে। হঠাৎ করে বললে আমাদের লোকাল বাজারে কম দামে মরিচগুলোকে বিক্রয় করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বলেন, কারেন্ট মরিচ শেষ হলেই বিন্দু মরিচ চলে আসে বাজারে। এই জেলা থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের মরিচ দেশের বাহিরে যাচ্ছে। স্থানীয় চাষীরা আমাদের কালেকশন সেন্টারে নিয়ে আসে এবং বাকিটা একটি মিডিয়া ঢাকাতে নিয়ে যায়। এছাড়া বরঙ্গাইল আড়তে এসেও অনেক এক্সপোর্টাররা নিয়ে যায়। মরিচের বাজার দর কি বিমানের ভাড়ার উপর কিছুটা নির্ভর করে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, যেহেতু তেলের দাম বেড়ে গেছে সে জন্য বিমানের ভাড়াও হয়তো বেড়েছে। তবে কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু ভর্তুকি দিতো তবে আমাদের দেশ থেকে অনেক পন্য বিদেশে রপ্তানি হতো বলেও মন্তব্য করেন এই উপ-পরিচালক।

পেট্রোবাংলার জন্য নতুন আইনের খসড়া সংসদে
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার জন্য নতুন আইনের খসড়া সংসদে তোলা হয়েছে। রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন বিল-২০২২’ উত্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বিলটি ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলে পেট্রোবাংলার অনুমোদিত মূলধন বাড়ানো হয়েছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি টাকা। খসড়া আইনে এটি পাঁচ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। আর পরিশোধিত মূলধন করা হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। করপোরেশনের চেয়ারম্যানসহ ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ থাকবে বলে বিলে বলা হয়েছে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, করপোরেশন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি, বিপণন, রপ্তানি ও ব্যবস্থাপনা করবে। বিদ্যমান আইন যখন করা হয়, এলএনজি বা সিএনজির ধারণা ছিল না।

১৯৮৫ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কর্পোরেশন (বিওজিসি) ও বাংলাদেশ মিনারেল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনকে (বিএমইডিসি) একীভূত করে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ করপোরেশন (বিওজিএমসি) গঠন করা হয়।

১৯৮৯ সালে এ করপোরেশনকে ‘পেট্রোবাংলা’ নামে সংক্ষিপ্তভাবে নামকরণ করা হয়। নতুন খসড়া আইনে ‘পেট্রোবাংলা’ নামটি রাখা হয়েছে।

নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এ আইনে কোম্পানি গঠন করতে হবে কোম্পানি আইন অনুযায়ী। করপোরেশন তার অধীনস্ত শেয়ার বা স্বত্ব ধারণ করতে পারবে। করপোরেশন সরকারি অনুমোদনক্রমে ব্যাংকে মেয়াদি আমানত বা অন্য কোনো জ্বালানি সংশ্লিষ্ট লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে। করপোরেশন সরকারের অনুমোদন নিয়ে বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে বলে বিলে বিধান রাখা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, করপোরেশন সরকারের অনুমোদন নিয়ে এবং শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন কোম্পানিতে থাকা সরকারি শেয়ার কেনা-বেচা ও অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করতে পারবে।

অপার সম্ভাবনাময় ‘সীউইড’
                                  

দুলাল কৃষ্ণ নন্দী, পটুয়াখালীঃ সামুদ্রিক নোনা জলে উৎপাদিত ‘সীউইড’ সুষম খাবার হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি করতে হবে। এটি উৎপাদন করে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পারলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ সাবলম্বি হবে, দেশ হবে সমৃদ্ধ। ২০১৯ সাল থেকে আমরা উৎপাদন শুরু করেছি। আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বহির্বিশে^ও রপ্তানী করে অর্থনৈতিকভাবে দেশ সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে বলে দাবি করেছেন মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

শুক্রবার দুপুরে মৎস্য গবেষনা ইনন্সিটিটিউট মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটায় আয়োজিত একদিনের ‘সীউইড’ মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রী সীউইড উৎপাদন প্রসঙ্গে বলেন, কুয়াকাটা-কলাপাড়ার সকল ব্যবসায়ী ও হোটেল-মোটেল মালিকসহ স্থানীয় জনসাধরণকে সচেতন করা ও উদ্বুদ্ধকরার মাধ্যমে সীউইউ উৎপাদন এবং খাওয়ার অভ্যস্তকরণে মানুষের আমিষের ঘাটতি মেটাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বাড়ানোর জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগে আমরা এই খাবারকে গুরুত্ব দিতাম না। আগে দেশে গড় আয়ু বেশি ছিলো না। এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের সচেতনতার কারণে।

কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোমস এর মিলনাতনে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, দেশের কিছুসংখ্যক মানুষ দেশের উন্নয়ন দেখছেন না। তারা উন্নয়নের সুবিধা নিবেন, কিন্তু প্রসংশা করতে জানেন না। তারা সবসময় চোরাবালিতে গুপ্ত পথ খুঁজে ক্ষমতায় যেতে চায়। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলে দেশের টাকায় পদ্মাসেতু হয়েছে। আগামী ২৫ জুন এই সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা অর্থনৈতিকভাবে পাল্টে যাবে। এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতার দ্বার প্রান্তে। উপকূলীয় অঞ্চল উন্নয়ন হচ্ছে আওয়ামী লীগেরই আমলে। এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার অর্থনৈতিক ভাবে দেশকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

উদ্বোধনী সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, উপকুলীয় জনগোষ্ঠীর বিশেষত মৎস্যজীবি ও জেলে সম্প্রদায়, গৃহিনীরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি উপকৃত হবেন। মৎস্যজীবি ও জেলে সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই সীউইড উৎপাদনের মাধ্যমে। গৃহিনীরা পারিবারিক পুষ্টি বিশেষত দৈনন্দিন খাবারে অপুষ্টির অভাব দূরীকরণে ‘সীউইড’জাত খাদ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এমনকি কুয়াকাটাসহ অত্র অঞ্চলের হোটেল মোটেল, রেষ্টুরেন্টে এবং রপ্তানী বাণিজ্যে সীউইডই বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এবং এর মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা সভায় উপস্থাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এস, এম রাকিবুল আহসান, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনা পারভীন সীমা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ বৃন্দ।

মোবাইলেই ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
মোবাইলে সহজে ঋণ দিতে ১০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ’ নামে এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ’ এর এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণের সহজলভ্যতা, ব্যাংকগুলোকে উৎসাহ প্রদান ও ব্যাংকের তহবিল ব্যয় হ্রাস করে স্বল্প সুদ বা মুনাফায় ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ দিতে ১০০ টাকার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।

স্কিমের নাম ‘ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ’। এ তহবিল থেকে ডিজিটাল মাধ্যম (ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপস, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ই-ওয়ালেট ইত্যাদি) ব্যবহার করে তফসিলি ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠন করা এ স্কিমের অংক ১০০ কোটি টাকা। মেয়াদ হবে ৩ বছর। প্রথম পর্যায়ে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে চাহিদা বিবেচনায় এ পুনঃঅর্থায়নের অংক বাড়ানো হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলো এ তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা শিডিউল অব চার্জেস সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালায় বর্ণিত চার্জ বা ফি ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংক। ব্যাংক এবং গ্রাহক উভয় পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৬ মাস।


   Page 1 of 50
     অর্থ-বাণিজ্য
গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
একনেকে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন
.............................................................................................
বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম, এবার সমন্বয়ের দাবি
.............................................................................................
দেশে তিন মাসে কোটিপতি বেড়েছে ১৬শ
.............................................................................................
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি
.............................................................................................
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত
.............................................................................................
১০ লাখ টন গম রপ্তানির অনুরোধ ভারতকে
.............................................................................................
মধ্য ও নিম্নবিত্তের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ
.............................................................................................
সর্বজনীন ‘পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করবে সরকার
.............................................................................................
লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম
.............................................................................................
সংসদে জাতীয় বাজেট পেশ
.............................................................................................
গম নিয়ে বাংলাদেশমুখী ১২ ট্রেন আটকে রেখেছে ভারত
.............................................................................................
মানিকগঞ্জের মরিচ যাচ্ছে বিদেশে: বছরে আয় ৪০ কোটি টাকা
.............................................................................................
পেট্রোবাংলার জন্য নতুন আইনের খসড়া সংসদে
.............................................................................................
অপার সম্ভাবনাময় ‘সীউইড’
.............................................................................................
মোবাইলেই ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে
.............................................................................................
এবার দুধের দাম বাড়াল মিল্ক ভিটা
.............................................................................................
৫টি উপশাখা চালু করলো ব্র্যাক ব্যাংক
.............................................................................................
হোমনায় নীল ময়ূরের বাণিজ্যিক খামার
.............................................................................................
বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি
.............................................................................................
বাজেটের আগেই বাড়ল সিগারেটের দাম
.............................................................................................
দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপের পথে সাতক্ষীরার আম
.............................................................................................
বাগদা চিংড়ি পেলো জিআই সনদ
.............................................................................................
ভারতের গম রপ্তানি নিষিদ্ধের কারণ
.............................................................................................
নানা সমস্যায় জর্জরিত বাঘাবাড়ি নৌবন্দর
.............................................................................................
বাজার চড়া সবজিসহ রসুন-ডিমের দাম
.............................................................................................
বাজারে বসেই কচুর লতি বিক্রি করছেন কৃষক অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক
.............................................................................................
বাজারে রসুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
.............................................................................................
ব্যস্ত বেনাপোল বন্দর, বাণিজ্য ও যাতায়াত বেড়েছে
.............................................................................................
বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষের সতর্কতা জার্মানির
.............................................................................................
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে চায় মার্কিন ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
২৪০ টাকাতেও মিলছে না, সয়াবিন তেল গেল কোথায়
.............................................................................................
চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ ভোজ্যতেল পৌঁছেছে
.............................................................................................
সবজির দাম বেড়েছে পেঁপের কেজি ৮০ কাঁচামরিচ ১২০
.............................................................................................
এপ্রিলে রেমিট্যান্স এলো ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি
.............................................................................................
দেশেই তৈরি হবে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল
.............................................................................................
বেনাপোল বন্দরে যাত্রীর চাপ
.............................................................................................
কমল সোনার দাম
.............................................................................................
বিকাশ-রকেটে লেনদেন সীমা বাড়ল
.............................................................................................
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যতবার খুশি লেনদেন
.............................................................................................
পোশাক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি বিজিএমইএর
.............................................................................................
পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধ করছে ইন্দোনেশিয়া
.............................................................................................
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু ১০ মে
.............................................................................................
এসএমই খাতের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে ব্র্যাক ব্যাংক-রবি
.............................................................................................
খাদ্যদ্রব্য অবৈধ মজুদ করলে জেল ৫ বছর, জরিমানা ১০ লাখ
.............................................................................................
ঈদের কেনাকাটায় বিদেশি পণ্যের খোঁজে ক্রেতারা
.............................................................................................
উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প
.............................................................................................
জব্দকৃত শাড়ি, থ্রি-পিস প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে
.............................................................................................
অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগারে
.............................................................................................
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT