শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শীতের শুরুতে জকিগঞ্জের ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শীতের আগমনে গ্রামে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর উৎসব শুরু হয়। গ্রামে এখনো শীতের পিঠা বানানোর ঐতিহ্য থাকলেও শহরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে শীতের পিঠা হারিয়ে গেছেই বলা যায়। অনেকে আবার এসব ঐতিহ্যবাহী পিঠার প্রস্তুত প্রণালীও জানে না।

শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে নগরে ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। শীত পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মওসুমে গ্রামীণ বধুরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীত পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা (ধুপি পিঠা) একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর।

ঐতিহ্যবাহী ফুল পিঠা, তালের পিঠা, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, পাটিসাপটা, চিতল পিঠা, চুটকি পিঠা, পাকন পিঠা, গুরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, পাতা পিঠা, রস পিঠাসহ আরো হরেক রকমের পিঠা রয়েছে। শীতকালেই পিঠার উৎসব শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি ঘরে ঘরে নানা রকম পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামের বাড়িতে চলে পিঠার উৎসব। শুরু হয় আত্মীয়-স্বজনের মিলন মেলা।

জকিগঞ্জের গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতল পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে জকিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীন বাজারের ফুটপাতে শীত পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ভালোমানের এবং কিছু নিম্নমানের রয়েছে। ফুটপাতে পিঠা তৈরির সময় অনেক সময় ধুলোবালি মিশে যায়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

শীতের শুরুতে জকিগঞ্জের ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম
                                  

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শীতের আগমনে গ্রামে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর উৎসব শুরু হয়। গ্রামে এখনো শীতের পিঠা বানানোর ঐতিহ্য থাকলেও শহরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে শীতের পিঠা হারিয়ে গেছেই বলা যায়। অনেকে আবার এসব ঐতিহ্যবাহী পিঠার প্রস্তুত প্রণালীও জানে না।

শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে নগরে ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। শীত পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মওসুমে গ্রামীণ বধুরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীত পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা (ধুপি পিঠা) একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর।

ঐতিহ্যবাহী ফুল পিঠা, তালের পিঠা, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, পাটিসাপটা, চিতল পিঠা, চুটকি পিঠা, পাকন পিঠা, গুরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, পাতা পিঠা, রস পিঠাসহ আরো হরেক রকমের পিঠা রয়েছে। শীতকালেই পিঠার উৎসব শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি ঘরে ঘরে নানা রকম পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামের বাড়িতে চলে পিঠার উৎসব। শুরু হয় আত্মীয়-স্বজনের মিলন মেলা।

জকিগঞ্জের গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতল পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে জকিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীন বাজারের ফুটপাতে শীত পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ভালোমানের এবং কিছু নিম্নমানের রয়েছে। ফুটপাতে পিঠা তৈরির সময় অনেক সময় ধুলোবালি মিশে যায়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

সাজেক সে তো মেঘের রাজ্য
                                  

সাজেক শব্দটা মনে আসলেই প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মেঘময় এক পৃথিবী ছবি। এখানে ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতি তার রূপ বদলায়। কখনও তীব্র শীত আবার মুহূর্তেই বৃষ্টি। চোখের পলকেই চারপাশ ঘোমটা টানে সাদাকালো মেঘে। এ যেন মেঘের উপত্যকা, মেঘেদের রাজ্য আর নিজেকে মনে হয় মেঘের রাজ্যের বাসিন্দা। হয়তো মনের অজান্তেই খুঁজতে থাকবেন সাদা মেঘের পরী অথবা মেঘের মধ্যে পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে ছুটি চলা রাজপুত্রকে।

সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া কংলাক পাহাড়। চূড়ায় উঠতে উঠতে দেখতে পাবেন মিজোরাম সীমান্তের পাহাড় আর সবুজের মিতালী। কংলাকের চূড়ার উঠে চারপাশে তাকালে সত্যি সত্যি ভুলে যাবেন যে আপনি ছিলেন কোন যান্ত্রিক নগরে দূষিত বাতাস, শব্দ এবং কর্কট সমাজে জন্ম নেয়া মানুষ। আপনার মন,প্রাণ,দেহ পুলকিত হবে এক বিশুদ্ধ চিন্তা এবং অনুভূতিতে। প্রভাত এবং প্রাতঃবেলায় সূর্যদয় ও অস্ত দেখার সুখানুভূতি আপনি সারা জীবন মনে রাখবেন। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অকবিও হয়ে ওঠেন কবি, অপ্রেমিকও হয়ে ওঠে প্রেমিক, একজন সচেতনও অবচেতনে হয়ে ওঠেন উন্মাতাল। একজন বৃদ্ধও সবুজের সুরা পান করে হয়ে ওঠেন তেজদীপ্ত তরুণ।



নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর এবং জনপ্রিয় স্থান সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley) । বাংলাদেশের এই বৃহত্তম ইউনিয়নটি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। এ ইউনিয়ন ভারতের ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এর অবস্থান রাঙ্গামটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি থেকে এখানে যাতায়াত অনেক সুবিধাজনক। কারণ, খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। তাই ভ্রমণ পিপাসুগণ দিঘীনালা থেকেই সাজেক যেতে বেশি পছন্দ করেন।সময় সুযোগ পেলে ঘুরে আসতে পারেন এ নৈসর্গিক উপত্যকায়। তবে সাজেক প্রকৃতির আসল রুপ দেখার জন্য সেরা সময় হচ্ছে বর্ষাকালের শেষদিকে এবং শীতকাল।


যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি রুটে শ্যামলী, হানিফ, এস আলম, সৌদিয়া ও শান্তি পরিবহনের বাস চলাচল করে। গাবতলী, কলাবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে পরিবহণগুলোর কাউন্টার। ঢাকা থেকে বাস ছেড়ে চট্রগ্রাম রোড হয়ে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্রগ্রামের মিরসরাই হয়ে খাগড়াছড়ি শহরে পৌছায়। এতে সময় লাগে ৮ ঘণ্টার মত।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যেতে হবে খোলা জীপে করে। যা চান্দের গাড়ি নামেই পরিচিত। দুই দিনের জন্য ভাড়া করলে আপনাকে গুনতে হবে ৬৫০০-১০০০০ টাকা। চান্দের গাড়িতে আসন সংখ্যা ১২টি। সাজেক যেতে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে দীঘিনালায়। দীঘিনালা নেমে আধা ঘন্টার জন্য ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা থেকে। সাথে সেরে নিতে পারেন গোসলটাও। কারণ সাজেকে পানির বড্ড অভাব। তবে চিন্তার কিছু নেই গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য দরকারি পানি প্রতিদিন ট্রাকে করে পৌঁছে যায় সাজেকে।

তবে পানি ব্যবহারে সাজেকে আপনাকে মিতব্যয়ী হতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার। দীঘিনালায় একটি সেনানিবাস রয়েছে। এরপর বাকি রাস্তাটুকু আপনাকে যেতে হবে সামরিক বাহিনীর এসকোর্টে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছে। দীঘিনালা থেকে সেনাবাহিনীর এসকোর্ট শুরু হয় সকাল ১০ টা থেকে ১১টার মধ্যে। তাই ঐ সময়ের আগেই আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালায়। নইলে একবার সকালের এসকোর্ট মিস করলে আবার এসকোর্টে পেতে অপেক্ষা করতে হবে বিকেল অবধি।


দীঘিনালা থেকে প্রথমে যেতে বাগাইহাট, তারপর মাচালং হাট হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাবেন সাজেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যেতে মোট সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘন্টার মত। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তাধরে চলা এই ছোট জার্নিটি সাজেক ট্যুরের অন্যতম আকর্ষণ। চারদিকে শুধু পাহাড় আর হরিতের সমারোহ আপনাকে ভুলিয়ে দেবে পথের ক্লান্তি।
সাজেক বিলাস করবেন যেভাবে:-

সাজেক পৌঁছে খাওয়া দাওয়া করার পর দীর্ঘ যাত্রার শেষে আপনাকে একটু বিশ্রাম নিতেই হবে। এছাড়া সাজেকের কাঠফাটা দুপুরের রোদে না ঘোরাঘুরি করে রোদ পড়ার অপেক্ষা করাই ভাল। বিকেলে জীপে করে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সাজেক ভ্যালির আরও ভেতরে। সেখানে একটু উঁচু টিলায় উঠলেই উপভোগ করতে পারবেন সূর্যাস্ত। সাজেকের সন্ধ্যা নামে অপরূপ এক সৌন্দর্য নিয়ে। দেখবেন মেঘমুক্ত নীলাকাশ একটু একটু করে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে আর মিটিমিটি করে জ্বলে উঠছে একটি দুটি করে তারা। দেখবেন অল্পকিছুক্ষণের মধ্যে একটি দুটি থেকে সহস্র তারা আপনার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠবে। হয়ত আপনি এরকম তারা ভরা আকাশ জীবনে কখনও দেখেন নি।

সন্ধ্যার তারাভরা আকাশ দেখতে দেখতে মৃদুমন্দ হাওয়ায় চায়ের কাপে চুমুক দিলে আপনার হৃদয়ে যে অনুভূতি আসবে সেটাই হতে পারে আপনার সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ। যারা তারা দেখতে ভালবাসেন তাদের জন্য সাজেক খুবই আদর্শ একটি জায়গা। এমনকি যারা এখনও মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ দেখেননি তারাও সাজেক ভ্যালিতে এসে জীবনে প্রথমবারের মত দেখা পেতে পারেন মহাবিশ্বে আমাদের আশ্রয়স্থল আকাশগঙ্গার।

ভোরে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে হ্যালিপ্যাডে চলে যাবেন অবশ্যই। সেজন্য উঠতে হবে খুব ভোরে আর চলে যেতে হবে এক বা দুই নম্বর হ্যালিপ্যাডে। সাজেকে সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভা সাদা মেঘের উপর যখন ঠিকরে পড়ে তখন আসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।


কিছু বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন:
•সঠিক সময়ে এসকর্ট দেয়া।
•সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের ছবি তোলা যাবে না।
•স্থানীয় লোকজনের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে নিবেন।
•ছুটির দিনে কটেজ পাওয়ার ঝামেলা এড়াতে বেশ কয়েক দিন আগে (এক মাস আগে) বুকিং দিয়ে নিন।
•রবি, এয়ারটেল বা টেলিটক সিম সঙ্গে নিন।
•সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্র রাখুন।
•সঙ্গে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যান।
•সাজেকে যাবার রাস্তা অনেকটা আঁকাবাঁকা এবং উঁচুনিচু। তাই জীপের ছাদে বা মোটর সাইকেলে সতর্ক থাকুন।
•দুই থেকে তিন দিনের জন্য সাজেক গেলে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নেয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে শুধু যাওয়ার জন্যই গাড়ি নিন। আসার সময় অন্য গাড়িতে আসুন অথবা দীঘিনালা থেকে ফোন করেও গাড়ি নেয়া যাবে।


সাজেকের পাশাপাশি যা যা ঘুরতে পারেন
খাগড়াছড়ি জেলার দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝর্ণা, দেবতার পুকুর, হর্টিকালচার পার্ক, তৈদুছড়া ঝর্ণা, বিডিআর স্মৃতিসৌধ, মায়াবিনী লেক, শান্তিপুর অরণ্য কুঠির ইত্যাদি।


- মোঃ মঈনউদ্দীন
প্রথম বর্ষ,
আইন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পুরুষরা স্ত্রীর কাছে যেসব সত্য গোপন করেন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে মান অভিমান থাকেই। অনেক ক্ষেত্রেই স্ত্রী/প্রেমিকা উত্তেজিত হয়ে স্পষ্টভাবে অনেক শক্ত কথা বলে ফেলেন। আর এরকম ক্ষেত্রে পুরুষরা তার স্ত্রীকে খুশি করার জন্য কৌশলী হয়ে থাকেন। এমন কয়েকটি সত্য বিষয় রয়েছে যেগুলো পুরুষরা স্ত্রী বা প্রেমিকার থেকে গোপন করেন। চলুন বিষয়গুলো দেখে নেয়া যাক-

স্ত্রী বা প্রেমিকাকে বিরক্ত হলে:
সাধারণত মানুষের মনমানসিকতা সব সময় এক রকম থাকেনা, ভালো থাকে না। কোন কোন সময় স্ত্রী বা প্রেমিকার উপর ভীষণ বিরক্ত হলেও প্রেমিকা বা স্ত্রীকে এটি বুঝতে না দিয়ে ভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অথচ একজন নারী যখন বিরক্ত হন তখন এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে পারেন বা প্রকাশ করতে পারেন। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।

পুরুষতন্ত্রের প্রত্যাশায় ক্লান্ত:
সবকিছু সামলাতে এবং হাসিমুখে থাকতে গিয়ে বেশিরভাগ সময় পুরুষরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মানসিক টানাপড়েনের বিষয়টি তারা হাসিমুখে সামলে নেন। বেশিরভাগ সময়ই এই বিষয়টি পুরুষরা প্রকাশ করতে চান না। তবে এটি তাদেরকে মাঝে মাঝে হতাশ করে তোলে।

অন্য নারীকে আকর্ষণীয় মনে হলে:
অন্য কোনো নারীকে আকর্ষণীয় মনে হলেও এটি ভুলেও স্ত্রী বা প্রেমিকার কাছে প্রকাশ করেন না বেশিরভাগ পুরুষ। যদিও অন্য কোনো নারীকে দেখে আকর্ষণীয় মনে হতেই পারে এটি অপরাধের কিছু নেই। তারপরও ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই পুরুষরা এটি গোপন করেন।

অর্থনৈতিক সঙ্কট:
বাড়ির অর্থনৈতিক দিকটি দেখার দায়িত্ব মূলত পুরুষদের। এজন্য আর্থিক বিষয়টি নিয়ে চাপে থাকলেও পুরুষরা এটি স্ত্রীর কাছে বেশিরভাগই গোপন রাখেন। কারণ স্ত্রীর কাছে পুরুষরা তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করতে চায় না।

যৌন দক্ষতার অভাব:
যৌনতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতার অভাব বা কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা পুরুষরা গোপন করেন। তারা এই বিষয়টি একান্তই নিজের কাছে রাখতে চান। অনেক সময় স্পষ্ট বিষয় হওয়া সত্ত্বেও তারা স্ত্রীর কাছে এটি গোপন করেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল
পুরুষরা দৃঢ়চেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তাদেরও আবেগ অনুভূতি রয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তারা হাসি প্রকাশ করতে পারে। এজন্য স্ত্রী বা প্রেমিকার ওপর আস্থা না আনা পর্যন্ত বাস্তবতার বিষয়টি প্রত্যেক পুরুষই গোপন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

আঙ্গুলের নখ বলে শরীরে অসুখের উপস্থিতি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: মানুষের অজান্তে অনেক সময় শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেধে ফেলে। দীর্ঘদিন গোপনে থেকে শরীরে বিস্তার করতে থাকে ডাল পালা। তবে কোন রোগ শরীরে প্রবেশের সাথে সাথে কিছু লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে। যেসব রোগ শরীরে প্রবেশের সাথে সাথে আঙ্গুলের নখে লক্ষণ প্রকাশ করে সেগুলো নিয়ে আজকের আলোচনা।

নখের মধ্যে কিছু স্পট বা দাগ দেখা দেয়, অর্ধাচন্দ্রাকৃতির দাখ দেখা দেয়, এগুলো মূলত কোন না কোন রোগের বার্তা দিচ্ছে আপনাকে। বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক-

নখের নীচের অংশে অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগ
নখের নীচের অংশে অনেকের অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগ থাকে। এটি ফুসফুসের সমস্যার জানান দেয়। অর্থাত্ আপনার ফুসফুস বেশি অক্সিজেন রক্তে মেশাতে পারছে না। এই ধরনের নখের ক্ষেত্রে অনেক সময় নীলচে ভাবও দেখা যায়।

নখের রং ফ্যাকাসে
নখের রং যদি ফ্যাকাসে বা হলেদেটে হয়, তা হলে তা ডায়াবিটিস হওয়ার পূর্ব লক্ষণ।

নখ সহজেই ভেঙে যায়
নখ অনেক সময় অনেকের সহজেই ভেঙে যায়। এক্ষেত্রে চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা বলছেন, থাইরয়েড পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ভঙ্গুর নখ অনেক সময় হাইপোথাইরয়েডিজম এর লক্ষণ। এছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও বায়োটিনের অভাব থাকতে পারে শরীরে।

সোরিয়াসিস
সোরিয়াসিস ত্বকের সমস্যা। তবে অনেকের নখেও দেখা দেয়। সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে নখে সোরিয়াসিস হয়। নখ খুবই ভঙ্গুর হয়ে যায় এ ক্ষেত্রে।

সাদা নখের উপরে গোলাপী স্ট্রাইপ
যদি সাদা নখের উপরের ভাগে গোলাপী স্ট্রাইপ হয়, তাহলে বিষয়টি চিন্তার৷ এই ধরনের নখ মানে লিভারের গোলমাল। লিভারের আকৃতি ঠিক আছে কিনা, পরীক্ষা করানো দরকার।

কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পষ্টে ২ কিশোরের মৃত্যু
                                  

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: আনন্দ ভ্রমণে কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওরে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই কিশোরের নাম অন্তর (১৬) ও মনির (১৭)। উপজেলার গুরুই পূর্বপাড়া গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে অন্তর এবং মনির একই এলাকার আশিদ মিয়ার ছেলে।

এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের বড় মাইপাড়া হাওরে হৃদয় বিদারক এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, গতকাল কয়েক কিশোর মিলে আনন্দ ভ্রমণের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে হাওরের বের হয়। তাদের বহনকারী নৌকাটি বড় মাইপাড়া হাওর অতিক্রমকালে নুয়ে পড়া একটি বিদ্যুৎ তার সামনে পড়ে। এ সময় তার সরাতে এগিয়ে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় ৫ কিশোর। এদের মধ্যে অন্তর ও মনিরের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

আহতদের সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ফোন খরচ বাঁচিয়ে পথ শিশুদের খাবার বিতরণ!
                                  

মোঃ সজীব প্রধান: ফোন ব্যয়ের টাকা বাঁচিয়ে  ‘স্কুল অব হিডেন ট্যালেন্ট’র শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় শতাধিক চরাঞ্চলের শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে।  প্রবর্তন ফাউন্ডেশনের অন্যতম অনলাইন শিক্ষা প্লাটফরম ‘স্কুল অব হিডেন ট্যালেন্ট’র একঝাঁক শিক্ষার্থী এবং মানবতার ঘর সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে কুড়িগ্রাম জেলার থেতরাই ইউনিয়নে প্রায় দেড় শতাধিক হাফেজি পড়ুয়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে গতকাল খাবার বিতরণ করে।

পবিত্র ইদুল আজহায় যেসব শিশুরা একবেলা তৃপ্তিসহ খেতে পারেনি এবং মাসে একবারও যাদের কপালে জুটেনা ভালো খাবার এমন সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও হতভাগা শিশুদের জন্য হাত বাড়ানো চরম আত্মতৃপ্তি বলে মনে করেন স্কুল অব হিডেন ট্যালেন্টের শিশুপ্রেমি শিক্ষার্থীরা।

বস্তুত, প্রবর্তন ফাউন্ডেশন এবং স্কুল অব হিডেন ট্যালেন্ট প্রতিষ্ঠার ঊষালগ্ন থেকেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের পড়াশোনা, বাসস্থান, মানসম্মত খাদ্য এবং বিনোদনের জন্য প্রবর্তন ফাউন্ডেশন এবং স্কুল অব হিডেন ট্যালেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সাব্বির খান সায়েম সর্বদা নিবেদিত প্রাণ। করোনা ভাইরাসে গোটা পৃথিবী যখন স্তব্ধ তখনও শিশুদের সুরক্ষা এবং সুন্দর জীবনের জন্য এই সংগঠন বিভিন্ন শিশুবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় খান সায়েম বলেন, ‘আজকের শিশু আগামি দিনের ভবিষ্যত এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের কর্ণধার। কাজেই শিশুদের সুস্থ-সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। আর সে দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের বিত্ত্ববান ও সামর্থবান ব্যক্তিরা শিশুদের জন্য এগিয়ে আসবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রবাসীদের ‘ঈদ’ এর পেছনের গল্প
                                  

কাতার থেকে তাইফুর রহমান তুষার: ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। কে না জানে এ কথা, কিন্তু প্রবাসীদের জীবনে এ বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। প্রবাসীদের ঈদ উৎযাপন যেন মন খারাপের এক মহোৎসব। অনেক প্রবাসীই আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটা যেনো আরো বেশি কষ্টকর।

মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রত্যাশা আর প্রস্তুতির কমতি থাকে না। কিন্তু একের পর এক ঈদ আসে ঈদ যায়, প্রবাসীদের ঈদ কেটে যায় শুধুই নিঃসঙ্গতায়।

সকাল সকাল দল বেঁধে ছোটাছুটি করে গোসল সেরে মিষ্টি মুখে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদগাহে যাওয়া প্রবাসীদের জন্য যেন শুধুই স্মৃতি। প্রবাসীদের কাছে শত কর্মব্যস্ততার মাঝে ঈদের ছুটিতে লম্বা ঘুমই যেনো তাদের ঈদের দিনের মূল কর্মসূচি।

ঈদের নামাজ শেষে দেশে ফোন করার পর বুকের ভেতর কষ্টের তীব্রতা যেন তাদের আরও বেড়ে যায়। বুক ফাটা যন্ত্রণাকে নিয়ে বিছানায় গিয়ে চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেন অনেকে। এভাবেই কাটে প্রবাসীদের ঈদ নামের নিঃসঙ্গ বেদনার এই দিনটি।

কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে তাদের ঈদ উদজাপন নিয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে। আলাপকালে তারা জানান, ঈদ নিয়ে তাদের অনুভূতির কথা। আর তাতে উঠে এসেছে কষ্ট আর যন্ত্রণার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

কাতারের আল মনসুরায় অবস্থানরত রাজবাড়ী জেলার এক প্রবাসী সুমন হোসেন বলেন, জীবনের প্রয়োজনে প্রিয়জনদের ছাড়া একা একা ঈদ করতে হয়। সবসময়ই তো পরিবার বন্ধু বান্ধবকে মিস করি, কিন্তু ঈদের সময় সেই কষ্টটা আরো বেড়ে যায়।

ঈদের নামাজ পড়ে এসে একটা ঘুম দেই, ফোনে দেশের সবার খোঁজ নেই বুকের চাপাকান্না তো থাকেই! এই হলো প্রবাসীদের ঈদ, বললেন সম্রাট হোসেন নামে অপর এক প্রবাসী।

কাতারের দোহায় প্রবাসী ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান বলেন, ১৩ বছরের প্রবাস জীবনে প্রতিটি কুরবানীর ঈদ দেশে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করেছি। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে যাওয়া হয়নি, তারপর আবার করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ তাই এমনিতেই খুব খারাপ লাগছে। কি আর করা! ফোনেই সবার খোজ খবর নেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।
 
কাতারের দোহায় রন্ধনশিল্পী প্রবাসী আসাদুজ্জামান হেলাল স্বাধীন বাংলা’র প্রতিবেদককে বলেন, পৃথিবীতে প্রবাসের কষ্টটা একেবারেই ভিন্ন মাত্রার। এখানে সব আছে, তবুও যেন কিছুই নেই। একমাত্র প্রবাসীরাই তাদের কষ্ট অনুভব করতে পারবে।

এদিকে প্রবাসীদের কষ্টে বাড়তি মাত্রা যোগ করে দিয়েছে করোনা ভাইরাসের এই অদৃশ্য শক্তি। দীর্ঘদিন লকডাউনে কাজ না থাকায় বেতন ভাতা নিয়ে নানাবিধ সমস্যায় রয়েছেন। যার কারণে এবারের ঈদ যেন তাদের কাছে দ্বিগুন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদে গরুর মাথার মাংস রান্নার রেসিপি
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কোরবানির ঈদ মানে খানাপিনার বিশাল সমাহার। নানা পদ নানা রুচি আর স্বাদের খাবারে মৌ মৌ করে মুসলিম পরিবারের প্রতিটি ঘর। অনেকেই আছেন গরুর মাংস থেকে গরুর মাথার মাংস খেতে বেশি পছন্দ করেন। তবে যেমন তেমন করে রান্না করলে কেউ তেমন একটা পছন্দ করবে না এই খাবারটি। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক গরুর মাথার মাংস রান্নার সহজ রেসিপি-

উপকরণ : গরুর মাথার মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, টমেটো কুচি আধা কাপ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ, সরিষার তেল আধা কাপ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, তেজপাতা ২টি, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ।

প্রণালী : তেলে পেঁয়াজ বাদামী করে ভেজে হলুদ গুঁড়া, তেজপাতা, মরিচ গুঁড়া, আদা বাটা, রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা, টমেটো দিয়ে কষাতে হবে। তারপর পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন। গরম মসলা গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, জয়ফল ও জয়ত্রী গুঁড়া দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন ভাতের সঙ্গে।

পরিশ্রমের কাছে মেধা চির অসহায়
                                  

সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত ভাল ছাত্র এবং খারাপ ছাত্র শব্দগুলো সমাজে বেশ জনপ্রিয়তার সাথেই চলছে। ভাল ছাত্ররা হয় তুমুল মেধাবি আর খারাপ ছাত্ররা আমড়া কাঠের ঢেঁকি এমনটাই বিশ্বাস করেন সমাজের সিংহভাগ মানুষ।  কিন্তু এ শব্দদ্বয়ের উৎপত্তির কারণ আমার কৌতুহলী মন আজও জানতে পারেনি যদিও জানার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। তবে এতটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি যে ভাল ছাত্র খারাপ ছাত্র বলতে কোনো শ্রেণি বিন্যাস নেই। ছাত্রদের যদি শ্রেণি বিন্যাস করতেই হয় তবে পরিশ্রমি এবং অলস এ দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যুক্তিসঙ্গত।

ইতিহাসের পাতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পরিশ্রমি ছাত্ররাই সাফল্যের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে হোক সে অন্যদের তুলনায় কম মেধাবি। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো??

আমি প্রথমেই আপনাদেরকে আইনস্টাইনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি যিনি শৈশবে পড়াশোনায় ছিলেন মারাত্মক দুর্বল। কোনো কিছুই মনে রাখতে পারতেন না। ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসতেন। অহেতুক কথা বলায় ছিলেন পটু। ফেল করেছেন বারবার। কিন্তু!  পরবর্তীতে স্কুলের সেই আত্মভোলা ছেলেটিই  পৃথিবীকে অবাক করেন থিওরি অব রিলেটিভিটি দিয়ে। সবশেষে নোবেলও জেতেন তিনি।

সমাজ স্বীকৃত ভাল ছাত্ররা পড়ার সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ হয়ে গেলে রাগে মাথা খারাপ হয়ে যায় আর এমন ভাল ছাত্রদের ভালভাবে পড়ার জন্য যে বাতি আলো বিলায় তা ইতিহাসের এক খারাপ ছাত্রেরই আবিষ্কারের ফল। হ্যাঁ, আপনারা ঠিক ধরেছেন আমি টমাস এডিসনের কথাই বলছি। তিনি ছিলেন ক্লাসের সবচেয়ে দূর্বল ছাত্র। এ জন্য অবশ্য স্কুল থেকে বহিষ্কৃতও হন। আবার এই বহিষ্কৃৃত ছেলেটিই মাত্র ১১ বছর বয়সে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি বৈদ্যুতিক বাতি ছাড়াও কিন্টোগ্রাফ ও ফোনোগ্রাফ আবিষ্কার করেছেন। এরকম অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে আমি সেগুলো উল্লেখ করে বর্ণনা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না তবে যে বিষয়টি এখানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাই তা হলো পরিশ্রমের কাছে মেধা চির অসহায় অর্থাৎ নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যকে যেকোনো সময় সাফল্যকে জব্দ করা যায় আর এজন্য সমাজ স্বীকৃত ভাল ছাত্র হতে হয়না।

সর্বশেষ, আরেকটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি প্রতীয়মান করা যাক। জনৈক পণ্ডিতের স্কুল জীবনের গল্পই বলছি যিনি ক্লাসে কখনোই পড়া পারতেন না। একদিন তার শিক্ষক তাকে চরম অপমান করে ক্লাস থেকে বের করে দেন। তিনি নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি বেশ দূরে ছিল তাই ক্লান্ত হয়ে পাথরের একটি ঘাটে খানিকটা বসে বিশ্রাম নেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন গ্রামের মহিলারা মাটির কলস দিয়ে পানি নেওয়ার সময় যেখানে কলস রাখেন সে স্থানটি ক্ষয় হয়ে গর্তে রূপ ধারণ করেছে যা তাকে ভীষণ ভাবায়। তখন তিনি ভাবতে লাগলেন মাটির কলসের ঘষায় যদি পাথর ক্ষয় হতে পারে তাহলে আমি চেষ্টা করলে আমার ব্রেন কেন ধারালো হবেনা? তারপর তিনি নিরলস পরিশ্রম করে এক মাস পর ক্লাসে যান তখন তার সেই শিক্ষক তাকে আবারো পড়া জিজ্ঞেস করে অবাক হন। তাকে বইয়ের যেখান থেকেই প্রশ্ন করা হয় তিনি সেখানে থেকেই নির্বিঘ্নে জবাব দিতে থাকেন। তারপর সময়ের সাথে সাথে তিনি হয়ে ওঠেন সে সময়ের প্রথিতযশা পণ্ডিত। বস্তুত, সফলতার পথে মেধা কখনো থেমে থাকার কারণ হতে পারেনা। তাই ভাল ছাত্র, খারাপ ছাত্র কথাগুলো এখনই দাফন করুন এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দান করতে ছুটে চলুন দূর্বার গতিতে।


রচনায়ঃ মুহম্মদ সজীব প্রধান
প্রতিনিধি- দৈনিক স্বাধীন বাংলা।

ফুলের সুবাস মিষ্টি কেন ?
                                  

ফুলের মিষ্টি সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে পোকামাকড় ফুলের পরাগরেণু এবং নেক্টার নামক সুগন্ধী রসে এসে বসে। এসব পোকামাকড় আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য হলো ফুলের নিষেক কাজে সাহায্য করা। নিষেক পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বহন করার কাজে মৌমাছি এবং অন্য পোকামাকড় অনেক সাহায্য করে। যখন তারা ফুলের গন্ধে মোহিত হয়ে তার ওপর এসে বসে, তখন তাদের শরীরে পরাগরেণু লেগে যায়, যা পরে অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয় তাদের মাধ্যমেই। অনেক ফুলে  কোনরকম নেক্টার না থাকলেও দেখা যায় শুধু সুন্দর গন্ধের জন্যই পোকা এর উপর এসে বসেছে। পতঙ্গের মাধ্যমে যেসব ফুলের পরাগরেণু স্থানান্তর তথা পরাগায়ণ ঘটে, তারা সাধারণত খুবই উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়। ফলে পোকাদের আকৃষ্ট হয়ে পড়া আরো বেশি সহজ হয়ে পড়ে।

মুতাছিম বিল্লাহ রিয়াদ
শিক্ষার্থী: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

বিশ্ব বাবা দিবস আজ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : বাবা মানে নির্ভরতা। বাবা নিখাদ আশ্রয়। উত্তপ্ত সূর্যের তলে সন্তানের শীতল ছায়া। বাবা মানে ভরসা। আবার বাবা শাশ্বত, বাবা চির আপন। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তারপরও বাবার জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।

বছর ঘুরে আজ রোববার আবারও এলো বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পৃথিবীজুড়ে পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। এ বছর তৃতীয় রোববার হিসেবে আজ ২১ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি।

এ বছর দুনিয়াজুড়ে মহামারি আকারে জুড়ে বসেছে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসের কারণে অনেক সন্তান হারিয়েছেন প্রিয় জন্মদাতাকে। আর বেঁচে থাকা বাবারা আপ্রাণ লড়ছেন নিজ সন্তান ও পরিবারকে এর কবল থেকে রক্ষা করতে। আকালের এই কালে এবারের বাবা দিবস তাই পালিত হবে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। বাবাকে ঘরোয়াভাবে শুভেচ্ছার ডালিতে সিক্ত করবেন সন্তানরা।

হাদীসে আছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে নিহিত, (তিরমিযি-১৮৯৯) ।’

এছাড়া সনাতন ধর্মমতে, ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’। এর অর্থ হচ্ছে- পিতা স্বর্গ, পিতাই ধর্ম, পিতাই পরম তপস্যা। পিতাকে খুশি করলে সব দেবতা খুশি হন।

আসলে আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতেও পারে না।

কীভাবে বাবা দিবসটির প্রচলন? আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

এই নিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়- মা দিবস কয়েকশো বছর ধরে পালন করা হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাবা দিবসটি অনেক নতুন। দিবসটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হয়েছে এবং এর শুরু নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প আছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সম্ভবত গ্রহণযোগ্য গল্পটি হলো, ওয়াশিংটনের সোনোরা লুইস স্মার্ট নামের একজন নারী এই দিন উদযাপন শুরু করেন। ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা গেলে তার বাবা পরিবারটিকে বড় করে তোলেন।

১৯০৯ সালে সোনোরা গির্জার একটি বক্তব্যে মা দিবসের কথা জানতে পারেন। তখন তার মনে হলো, বাবার জন্যেও এরকম একটি দিবস থাকা উচিত।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন ধর্মযাজক তার এই আইডিয়াটি গ্রহণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবসটি পালন করা হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিক ছিল না।

১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসাবে পালন করা হবে। ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটিকে আইনে পরিণত করেন।

প্রতিটি দিনই ভালোবাসার, স্নেহময়তার,- তার পরও বিশেষ এই দিনটিতে বাবাকে বিশেষভাবে স্মরণ করবে আজ সব সন্তান। বলবে, `বাবা, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, এই পৃথিবীর আলোছায়ায় দুলে ওঠা, আকাশকে ছুঁতে চাওয়া, বুকের ভেতর নিশ্চিন্তে ঘুমানো আর পথে পথে চলতে শেখা- সব তোমার জন্যই সম্ভব হয়েছে, বাবা।` আর যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা কিছুক্ষণের জন্যে হলেও গিয়ে দাঁড়াবে তার সমাধির পাশে। বাবা অনন্তলোক থেকে সন্তানের ডাক ঠিকই শুনতে পাবেন।

বিলুপ্তির পথে মিঠাপুকুরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
                                  

মিঠাপুকুর (রংপুর)সংবাদদাতা: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এক কালে মৃৎশিল্পের সুনাম বা কদর বেশি ছিল। কিন্তু নানা প্রতিকুলতায় বর্তমানে মিঠাপুকুরের ঐতিহ্যবাহী শঠিবাড়ীতে মৃৎশিল্প বিপন্ন হতেই না হতেই ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলছে।
মিঠাপুকুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শঠিবাড়ীর দূর্গাপুর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন গ্রামে মৃৎশিল্প ছিল। মৃৎশিল্পীরা সুনিপুন ভাবে মাটির হাড়িঁ, পাতিল,বাসন-কোসন, ঢাকনা, কলসি, ছোট বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী, পেয়ালাসহ প্রভূতি তৈরি করত। তাদের তৈরি পুতুল রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় সরবরাহ হত। বর্তমানে নানা প্রতিকুলতায় ও অভাব অনাটনে কারনে রংপুরের মিঠাপুকর উপজেলার শঠিবাড়ীতে মৃৎশিল্পীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী বাপ-দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এখন মাত্র কয়েটি পরিবারের শিল্পীরা তাদের পৈত্রিক ও প্রাচীনকে ঘিরে বাপ দাদার আদি পেশা কোনোমতে আকঁড়ে ধরে আছেন। তাদের পেশার দৈন্যদশার সঙ্গে সঙ্গে সংসার জীবনে বিরাট বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাটির তৈরি তৈজ্যষপত্রের স্থান দখল করে নিয়েছে এল্যুমিনিয়াম ও প্ল্যাষ্টিকের তৈজ্যষপত্র। এল্যুমিনিয়াম ও প্লাষ্টিকের তৈজ্যষপত্র দাম বেশি হলেও অর্ধিক টেকসই হয়। কয়েক জন মৃৎশিল্পীরা এই প্রতিনিধিকে জানান, তাদের ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি তৈজ্যষপত্রের দাম কম থাকায় এখন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। তারা আরো জানান, ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি তৈজ্যষপত্র বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষার জন্য স্থানীয় এমপিসহ সরকারী, বে-সরকারী, এনজিওসহ সকল দপ্তরের প্রধানগনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা জন্য আহব্বান জানান।

ফ্লোরা ফেস্টিভ্যালঃ বাসায় বসে বাগানের রিভিউ দিন
                                  

জবি প্রতিনিধিঃ গ্রিন ফাইটিং মুভমেন্ট বাংলাদেশ (জিএফএম) এর উদ্যোগে সমগ্র দেশে অনলাইন ভিত্তিক ‘ফার্স্ট ন্যাশনাল ফ্লোরা ফেসটিভ্যাল-২০২০’ এর আয়োজন করা হয়েছে। জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় দেশের সকল মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা বাসযোগ্য দেশ উপহার দিতে এই সংগঠনের পথচলা। আর চলমান পরিস্থিতিতে বাসায় বসে নিজ বাগানের রিভিউ দেয়ার কর্মসূচি নিয়েছে তারা।

সংগঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মাহমুদ তানজীদ জানান, জীবনের সব অর্জন, আনন্দ এবং বিশেষ দিনে গাছ লাগিয়ে উদযাপনের আইডিয়া সমগ্র দেশে বিস্তার করার উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি।

ন্যাশনাল ফ্লোরা ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করতে চাইলে, আপনার ব্যাক্তিগত বাগানের ভিডিও করে পোস্ট করুন আপনার টাইমলাইনে ও সংগঠনের ফেসবুক গ্রুপে (Green Fighting Movement, Bangladesh )। পরবর্তীতে এর মধ্য থেকে বাছাইকৃত সেরা ১০জন হবেন ‘ফার্স্ট ন্যাশনাল ফ্লোরা ফেসটিভ্যাল-২০২০’ এর বিজয়ী।

নিয়মাবলি সম্পর্কে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নাবিল আহমেদ জানান, ভিডিওটির ব্যাপ্তিকাল হবে সর্বোচ্চ ৩ মিনিট। ভিডিওটির মধ্যে বাগান সম্পর্কে উপস্থাপনা, গাছগুলোর বর্ণনা, বাগানের বয়স, বাগানের ইতিহাস,বাগান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ করবে। এবং ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে #first_national_flora_festival2020 এবং #green_fighting_movement এই দুইটি হ্যাশট্যাগ ব্যাবহার করতে হবে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ভিডিও জমা দেয়ার সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি
                                  

ফিচার ডেস্ক : ফরাস বা ঝাড়শিম সিলেটে বেশ সমাদৃত সবজি। এর বীজ মুখরোচক খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। ঠিক শিমের বীজের মতো না হলেও ফরাসের বীজ অনেকটা তা-ই। শিমের বীজ গোলাকার আর এটি কিছুটা লম্বাকৃতির। এটি ফ্রান্স থেকে প্রথম সিলেটে আসে। এই জন্য এর নাম হয়েছে ফরাস। ফরাস আসলে এক ধরনের ডাল জাতীয় শস্য। ভিন্ন স্বাদের ফরাস সাধারণত মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্না করা হয়। সিলেটের আঞ্চলিক এই খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে।

মূলত ঝাড়শিমই সিলেটে ফরাস হিসিবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ডালজাতীয় শীতকালীন ফসল। এতে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ।

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়া শীতকালে শুষ্ক এবং মাটিতে রস থাকায় ফরাসের চাষ সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে ফরাস আবাদ হয়। তবে গত এক দশকে এর আবাদ বেড়েছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এ সবজি প্রচুর পরিমাণে হয়ে থাকে।

সিলেটের এমন একটি খাবারের প্রস্তুত প্রণালি দেওয়া হলো।

উপকরণ

ফরাসের বিচি : ৭৫০ গ্রাম

পেঁয়াজ কুচি : তিনটি বড় পেঁয়াজ থেকে যা হবে

কাঁচামরিচ : ৫-৬টি

গরম মশলা : ৩-৪টি এলাচ

দারুচিনি : ৪-৫ টুকরো

হলুদ গুঁড়া : আধা চা চামচ

মরিচ গুঁড়া : আধা চা চামচ (ঝাল বুঝে)

লবণ : স্বাদমতো

তেল : পরিমাণ বুঝে

ধনে পাতা : কুচি করা দুই চা চামচ

 
প্রস্তুত প্রণালি

ফরাসের বিচি ৪-৫ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। মূল রান্নার শুরুতে কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবণ যোগ করে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ, এলাচ, দারুচিনি ভেজে নিন। এরপর আদা ও রসুন দিন। পেঁয়াজের রং হলদে হয়ে এলে আধা কাপ পানি দিন। গরম হয়ে বুদবুদ বের হলে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া দিন। ভেজে তেল উপরে উঠিয়ে নিন। এবার ফরাসের বিচি দিন। ভালো করে মিশিয়ে কয়েক মিনিট মধ্যম আঁচে রেখে দিন। এবার দেড় কাপ পানি দিন। মধ্যম আঁচে ঢেকে রাখুন। ফরাস সিদ্ধ না হলে আরো পানি দিতে পারেন। এবার লবণ চেখে দেখুন। এই সময়ে ধনে পাতার কুচি দিন। এবার পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাত কিংবা রুটির সাথে বেশ ভালো লাগবে।

ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ছাত্রজীবন শেষে প্রত্যেকেই ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কারণ ইন্টারভিউ ছাড়া কর্মজীবনে প্রবেশ করার আর কোনো পথ নেই। ক্যারিয়ারে পা রাখতে গিয়ে ইন্টারভিউ নামক জটিল ও ভয়ানক জিনিসটিকে ভয় পেয়ে ছিটকে পড়তে হয় অনেককে। কিন্তু আপনি জানেন কি? ইন্টারভিউকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কীভাবে ইন্টারভিউতে ভালো করবেন এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ প্রদান করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

গবেষণা করুন : কারা আপনার ইন্টারভিউ নেবেন, তাদের পদবি কী, তারা কেমন, তাদের সম্পর্কে যতটা সম্ভব জেনে নিন। যে প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করতে চাইছেন সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। প্রতিষ্ঠানটি কি নিয়ে কাজ করে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী, এর স্বত্বাধিকারী কে বা কারা, বছরে তাদের আয়-ব্যয় কেমন, অর্থনৈতিক অবস্থা কী, প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিযোগী কারা, এসব জানুন।

বর্তমানে এসব জানার একটা ভালো উপায় হলো ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। সেটি ঘেঁটে নোট নিন, নিয়োগকর্তাদের নামগুলো জেনে নিন এবং কিছু প্রশ্ন তৈরি করুন।

ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে যখন আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে তখন এমনভাবে প্রশ্ন করুন যাতে আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহীতারা বুঝতে পারেন ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনি বেশ ভালোভাবে জানেন।

যেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকলে আপনার জন্য ইন্টারভিউ দেওয়া সহজ হবে। আপনি সহজেই তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন আর আত্মবিশ্বাসীও থাকবেন।

অনুশীলনের বিকল্প নেই : কথায় আছেÑপ্র্যাকটিস মেকস আ ম্যান পারফেক্ট অর্থাৎ অনুশীলনই একজন মানুষকে ত্রুটিহীন করে। আপনাকে কী ধরনের প্রশ্ন করা হতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং সম্ভাব্য উত্তরগুলোও ভেবে নিন।

আপনি যদি বুঝতে না পারেন আপনাকে কী ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতে পারে, ইন্টারনেটের সাহায্য নিন। ইন্টারনেটে এমন হাজারো ওয়েবসাইট আছে যেখানে ইন্টারভিউতে সাধারণত কেমন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে সেগুলোর নমুনা উত্তরসহ পাওয়া যায়।

আপনার উত্তরগুলো থিওরির মতো না হয়ে গল্পের মতো হওয়া ভালো। চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে সেগুলো যে আপনার আছে সেটি গল্পের ছলে বলুন। ‘আমি এ সব কাজ পারি’ এভাবে না বলে কাজের উদাহরণ দিতে পারেন।

কখন, কোথায়, কীভাবে আপনি আপনার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা জানান। এতে আপনার আগের কর্মক্ষেত্রে আপনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন সেটি যেমন বোঝা যাবে, তেমনি সাক্ষাৎকার গ্রহীতারা বুঝতে পারবে নতুন কাজের ক্ষেত্রে আপনি কতখানি যোগ্য।

পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন : আগে দর্শনধারী, তারপর গুণ বিচারি-পুরোনো হলেও এ কথা এক্ষেত্রে বেশ প্রযোজ্য। বুদ্ধিমান নিয়োগকর্তারা ইন্টারভিউ শুরুর তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আপনি যতই ভালো ইন্টারভিউ দিন না কেন, আপনার পোশাক পরিচ্ছদ দেখে ইন্টারভিউয়াররা যদি বিরক্ত হন, তাহলে আদতে কোনো লাভ হবে না।

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ভার্জিনিয়া ইস্টম্যান নামের এক সাবেক নিয়োগ বিশেষজ্ঞ একটা মিডিয়া কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে আসা এক চাকরি প্রার্থীকে নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এভাবেÑ

‘ও রুমে ঢোকার তিন মিনিট আগেই ওর শরীর ও মুখের তীব্র দুর্গন্ধ আমাদের রুমে ঢুকেছিল। ওর পোশাক-পরিচ্ছদ তো খারাপ ছিলই, ঠোঁটের কোণায় খাবারের অংশ লেগেছিল, আর মোজা থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। আমি জীবনে কখনো কাউকে ওরকম বিশ্রীভাবে চুল আঁচড়াতে দেখিনি।’ বলাই বাহুল্য যে ওই বেচারা চাকরিটা পায়নি।

আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য যাবেন, হতেই পারে তারা পোশাক নিয়ে অত মাথা ঘামায় না। তবুও তারা এটা অন্তত আশা করে না যে, ইন্টারভিউতে আপনি জিন্স পরে যাবেন। খালি চোখে দেখতে আরাম লাগে এমন পোশাক পরুন।

নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে সাদা রংকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। রঙিন, জবরজং পোশাকের চেয়ে হালকা রঙের পোশাক পরাই ভালো। তবে পোশাকের রং যাই হোক, সাদা বা নীল, অবশ্যই তা যেন কুঁচকানো না হয়। ইন্টারভিউয়ের পোশাক হতে হবে পরিষ্কার এবং পরিপাটি।

হ্যান্ডশেক করুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে : চাকরির ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান নিয়োগকর্তারা কিন্তু হ্যান্ডশেকের ধরন দেখেও অনেক কিছু বিবেচনা করেন। সাধারণত প্রার্থী ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার পরে প্রথমেই এটি হয়ে থাকে। একজন ইতিবাচক, আত্মবিশ্বাসী এবং পেশাদার লোক কখনোই কাঁপা কাঁপা, নিস্তেজ হাতে করমর্দন করবে না।

আবার হ্যান্ডশেকের সময় খুব বেশি শক্ত করেও হাত ধরা যাবে না। তাতে মনে হবে আপনি অন্যের ওপর জোর খাটাতে ওস্তাদ বা ব্যক্তি হিসেবে আপনি আক্রমণাত্মক এবং কর্তৃত্ববাদী।

দরকার হলে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে করমর্দন করার অনুশীলন করে নিন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন হ্যান্ডশেকের সময় আপনি তাদের হাতে বেশি চাপ দিচ্ছেন বা একেবারেই আলতো করে হাত ধরছেন কি না। ঠিকভাবে হ্যান্ডশেক করা অনুশীলন করুন।

আর ইন্টারভিউর সময় যার সঙ্গে কথা বলছেন অবশ্যই তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন। অন্যদিকে তাকানো বা নিচের দিকে তাকিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলাটা এক ধরনের অভদ্রতাই। পকেটে বা ব্যাগে অবশ্যই টিস্যু রাখবেন! মনে রাখবেন ঘামে ভেজা হাত ধরতে কেউ পছন্দ করে না!

হাসুন : যখন আপনার মাথার ভেতর অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, বুক ঢিপঢিপ করছে, নানা আশঙ্কায় নিজের নামই ভুলে যাওয়ার দশাÑতখন হাসাটা অবশ্য একটু কঠিনই। তবে হাসিমুখ হলো একটা বিশ্ব স্বীকৃত ভঙ্গি যা দ্বারা আপনি সহজেই বোঝাতে পারেন ‘আমি দিলখোলা মানুষ এবং আমি এখানে আসতে পেরে খুশি।’ তাই দরজায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মুখে হাসি রাখুন, হাসিমুখে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিন।

বডি ল্যাংগুয়েজের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, ইন্টারভিউর সময় কখনো কাত হয়ে বসবেন না। সবসময় সোজা হয়ে বসুন।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন : অ্যাড্রেনালিন আপনাকে যেমন সাফল্য এনে দিতে পারে, তেমনি ঘটাতে পারে সর্বনাশও। আপনি হয়তো সব ধরনের প্রস্তুতিই নিয়ে গেলেন, কিন্তু নার্ভাসনেসের কারণে ইন্টারভিউর সময় সবকিছুই ভুলে গেলেন কিংবা এমনভাবে আপনার হাত ঘামতে শুরু করল যে, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক অনুশীলন করাটা কোনো কাজেই এলো না!

যদি আপনার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটবার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইন্টারভিউ রুমে ঢুকবার আগে জোরে কয়েকবার শ্বাস নিন। মনে মনে ছক কষে নিন ভেতরে গেলে কি করবেন। অ্যাড্রেনালিনকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে সেটা কিন্তু আপনাকে ভালো ইন্টারভিউ দিতে সাহায্যই করবে।

বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বলেন যে, ইন্টারভিউর সময় ঘাবড়ে না গিয়ে আপনার প্রস্তুত করা উত্তরগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে ইন্টারভিউ ভালো হয়।

ক্যারিশম্যাটিক হোন : একটি ছোট কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক ডার্মট রুনি বলেন, ‘মুখোমুখি সাক্ষাৎকার আসলে একটি সুবর্ণ সুযোগ নিজেকে আরেকজনের কাছে তুলে ধরার। এখানে আপনি আরেকজনকে নিজের ব্যাপারে ভালো ধারণা দেবার সুযোগ পান, বলতে পারেন আপনার ঝোঁক বা প্যাশন কোনদিকে।’

তাই ইন্টারভিউ দিতে যাবার আগে ভাবুন, আপনার সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কোনটি? আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচি নিয়ে ভালো করে ভাবুন। ভেবে দেখুন কোন কোন কারণে আপনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। সেই সঙ্গে কাজের বিষয়ে জোর দিতে ভুলবেন না।

আপনি কেন কাজটি চান, আপনি কতটা পছন্দ করেন এ কাজ, কাজটি পেলে আপনি কতটা উপকৃত হবেন-এ বিষয়গুলো বারবার বলবেন। আপনার এ কথাগুলো ইন্টারভিউয়ারের মতামতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

খেই হারাবেন না : ইন্টারভিউয়ারদের প্রশ্ন শুনে যদি আপনার মনে হয় আপনি অথৈ সাগরে পড়েছেন, কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না, এই চাকরি পাবার কোনো সম্ভাবনাই আর নেইÑতবু ঘাবড়ে যাবেন না।

আপনার মনে হতেই পারে যে ইন্টারভিউয়াররা আপনাকে পছন্দ করছে না কিংবা এ কাজ পাবার কোনো আশা নেই, তবু ইন্টারভিউ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না। কে জানে হয়তো পরের প্রশ্নটির উত্তরই আপনি খুব ভালোভাবে দিতে পারবেন! তাই ঘাবড়ে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব প্রশ্ন মোকাবেলা করুন।

‘মামা হালিমের’ মামার খোঁজে
                                  

মেহেরাবুল ইসলাম স্বৌদীপ: রাজধানীর কলাবাগানের ঐতিহ্যবাহী ‘মামা হালিম’র নাম শোনেননি এমন রসনা প্রিয় মানুষ মেলা ভার। তাঁর তৈরি হালিম এতটাই জনপ্রিয় যে, ‘মামা হালিম’ নামেই ক্রেতা একনামে চেনেন। ‘মামা’ শব্দটির নিচে চাপা পড়ে গেছে তাঁর প্রকৃত নাম দীন মোহাম্মদ মনু।

কীভাবে তিনি ‘মামা’ পরিচিতি পেলেন? জিজ্ঞেস করতেই সযতনে রাখা অতীতের ঢাকনাটা যেন খুলে গেল। মুচকি হেসে দীন মোহাম্মদ মনু বললেন, ‘শৈশবে মামাবাড়ি থেকে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম আজমির শরিফে খাজা বাবার দরবারে। সেখান থেকে সিলেট হয়ে ঢাকা আসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘোরাফেরা করতাম। অনেকের ফুটফরমাশ খাটতাম। পরে মোহাম্মদপুর বিহারি কলোনিতে এক রেস্তোরাঁয় সাগরেদের কাজ শুরু করি।  হালিম তৈরি শিখেছি সেখানেই। সেই রেস্তোরাঁর সবাই আমাকে মামা ডাকত।’

সেই থেকে আপনি সবার ‘মামা’ হয়ে গেলেন! ‘হ্যাঁ, তা বলতে পারেন’, দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এরপর ভাগ্নেদের ভালোবেসে নিজেই হালিমের দোকান দিলাম। ১৯৭৫ সালের কথা। এই কলাবাগানের ছোট একটা ছাপড়া ঘরেই শুরু করেছিলাম।’

না, এখন আর ছাপড়া ঘর নেই। দালান উঠেছে। বেড়েছে প্রসার, আরেকটি শাখাও খুলতে হয়েছে গ্রাহকের চাপে। বয়সটাও বসে থাকেনি। এই ৬৩ বছর বয়সে ফিনফিনে পাতলা সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি পরে এখনও নিজেই ব্যবসার দেখাশোনা করেন দীন মোহাম্মদ। শুধু তাই নয়, হালিমের রেসিপিও সিক্রেট। শুধু জানালেন, তিনি যখন হালিম বিক্রি শুরু করেন তখন ঢাকায় এককভাবে হালিমের কোনো দোকান ছিল না।

‘ঢাকাই খাবার’ গ্রন্থে সাদ উর রহমান লিখেছেন, মোগল আমলে দরবারি খাবার ছিল হালিম। মোগল অধিপতি, সেনানায়ক, সুবেদারদের নাশতার প্রিয় খাবার ছিল এটি। তবে ঢাকায় কবে থেকে এর প্রচলন, কেন এর নাম হালিম হলো, কে প্রথম তৈরি করেছিল এই খাদ্য তার সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। রাজধানীবাসীর কাছে সুস্বাদু ও উপাদেয় এই খাবারের নাম বলতে গেলে সবার আগে আসে ‘মামা হালিম’-এর কথা। হালিম খেতে খুবই সুস্বাদু, পুষ্টিকর। খাবারটি এখন এতোই জনপ্রিয় যে, তারকা হোটেল থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ের অনামি রেস্তোরাঁয় এটি তৈরি হয়, বিক্রিও হয় দেদার।

আপনার তৈরি হালিমের স্বাদ অন্যদের থেকে আলাদা। কীভাবে তৈরি করেন? জানতে চাইলে দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘হালিম তৈরিতে একশ প্রকারের মশলা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নাম বলা যাবে না। আমি মারা যাওয়ার আগে দুই সন্তানের যে রাজি হবে তাকে শিখিয়ে যাব। এছাড়া আর অন্য কাউকে এই ফরমুলা বলা যাবে না।’

তবে তিনি জানালেন, প্রধানত সাত রকমের ডাল লাগবে। অড়হরের ডাল ছাড়া হালিম সুস্বাদু হবে না। আরও লাগবে সুগন্ধি চাল, মরিচ, হলুদ, ধনে, জিরা, দারুচিনি, এলাচসহ গরমমশলা, গোলমরিচ, মৌরি, মেথি ও সরিষা। তার সঙ্গে যুক্ত হবে গরু, খাসি বা মুরগির মাংস।

পরিবেশনেও রয়েছে কেরামতি। মামা নিজেই জানালেন, এসময় কাঁচামরিচ, আদা, ধনেপাতা, বেরেস্তা, শসার কুচি দিতে হবে। সবশেষে অবশ্যই এক টুকরো লেবু। নইলে হালিমের স্বাদ খুলবে না। তিন ধরনের মশলার মাত্রা ঠিক করার মধ্যেই রয়েছে হালিম তৈরির ওস্তাদি। শীত ও গরমের মৌসুমে মশলার মাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়। গরু, খাসি ও মুরগি- তিন রকমের হালিম তৈরি করেন মামা। কিন্তু মাংস যা-ই হোক, মশলাটা দিতে হবে একই পরিমাণে।

মামার দাবি, ঢাকায় হালিম জনপ্রিয় করেছেন তিনি। কর্মচারীরা কাটা-বাছাসহ অন্যান্য কাজ করলেও ডাল ও মশলা মিশ্রণের কাজটি তিনি নিজ হাতে করেন। কারণ এখানেও কিছু ওস্তাদি রয়েছে। কী রকম? জানতে চাইলে মামা বলেন, ‘স্বাভাবিক আবহাওয়া ও গরমের প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে। তখন মশলার অনুপাত কমবেশি রাখতে হয়। মরিচ ব্যবহারে থাকতে হয় সতর্ক। আজ বাজার থেকে যে মরিচ এনেছি, সেটা এক রকম ঝাল। কাল হয়তো আরেক রকম থাকবে। মরিচ ভেঙে জিভে স্পর্শ করে দেখতে হয় ঝালের তেজ। প্রতিদিন একই পরিমাণ মরিচ দেয়া যাবে না। যেসব মশলা ব্যবহার করি, বেশির ভাগ মানুষ সেগুলোর নামও জানে না।’

দীন মোহাম্মদ মনুর বাড়ি কুমিল্লা জেলার লাকসামে। স্বাধীনতার আগে মোহাম্মদপুরের বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পাশে এক বিহারির হোটেলে কাজ করতেন। এই হোটেলেই তাঁর ওস্তাদ কালা, ধলার কাছে শিখেছিলেন হালিম তৈরির কৌশল।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেরাজুল ইসলাম বাসার জন্য হালিম কিনছিলেন। তিনি বললেন, মামা হালিমের স্বাদ অতুলনীয়। শীত আসছে। এই সময় হালিম খেতে ভালো লাগে। বেইলি রোডের বাসিন্দা সায়মন বলেন, এত স্বাদের হালিম অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। প্রতিদিন তো কেনা সম্ভব হয় না, আজ এদিকে এসেছিলাম পার্সেল নিয়ে যাচ্ছি। দাম একটু বেশি হলেও স্বাদের কারণে মানুষ কিনে নিয়ে যায়।

পাত্রের আকার ও হালিমের পরিমাণ অনুযায়ী মামা হালিমের মূল্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা।


   Page 1 of 9
     ফিচার
শীতের শুরুতে জকিগঞ্জের ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম
.............................................................................................
সাজেক সে তো মেঘের রাজ্য
.............................................................................................
পুরুষরা স্ত্রীর কাছে যেসব সত্য গোপন করেন
.............................................................................................
আঙ্গুলের নখ বলে শরীরে অসুখের উপস্থিতি
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পষ্টে ২ কিশোরের মৃত্যু
.............................................................................................
ফোন খরচ বাঁচিয়ে পথ শিশুদের খাবার বিতরণ!
.............................................................................................
প্রবাসীদের ‘ঈদ’ এর পেছনের গল্প
.............................................................................................
ঈদে গরুর মাথার মাংস রান্নার রেসিপি
.............................................................................................
পরিশ্রমের কাছে মেধা চির অসহায়
.............................................................................................
ফুলের সুবাস মিষ্টি কেন ?
.............................................................................................
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
.............................................................................................
বিলুপ্তির পথে মিঠাপুকুরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
.............................................................................................
ফ্লোরা ফেস্টিভ্যালঃ বাসায় বসে বাগানের রিভিউ দিন
.............................................................................................
সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি
.............................................................................................
ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার উপায়
.............................................................................................
‘মামা হালিমের’ মামার খোঁজে
.............................................................................................
এসি ছাড়াই এসির হাওয়া!
.............................................................................................
তরমুজ খান-সতেজ থাকুন
.............................................................................................
বাঁচতে হলে জেনে নিন, বজ্রপাতের সময় ভুলেও যা করবেন না
.............................................................................................
দেশেই চাষ হচ্ছে বিদেশী ফসল ‘চিয়া’
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন আলুর চিপস
.............................................................................................
কাপাসিয়া ধাঁধার চর সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি
.............................................................................................
দিনে ৬টির বেশি সেলফি, ‘সেলফাইটিসের’ রোগী
.............................................................................................
বিলুপ্তি প্রায় চড়ুই পাখি
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে উড়োজাহাজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আরমান
.............................................................................................
নীলফামারীতে জমিদারী আমলের ইতিহাস ঐতিহ্য’র বিষ্ণুমন্দির
.............................................................................................
ফ্রান্সে চকলেটের পোশাকে ফ্যাশন শো!
.............................................................................................
অন্যরকম মানুষ ইসহাক শরিফ
.............................................................................................
গ্রামীণ ইউনিক্লো এর ঈদ কালেকশন
.............................................................................................
ঈদ কালেকশন
.............................................................................................
সিগারেটের পোড়া টুকরো দিয়ে তৈরি হবে রাস্তা!
.............................................................................................
শরীরে সুগন্ধি দীর্ঘ সময় ধরে রাখবেন যেভাবে
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন এগ নুডলস!
.............................................................................................
প্লাস্টিকের চাল বলে আসলে কিছু নেই
.............................................................................................
ঈদ রান্না: ফ্রুট প্যানাকোটা
.............................................................................................
চট্রগ্রাম-সিলেটে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা
.............................................................................................
নাশতায় মাসালা ম্যাকারনি
.............................................................................................
ইফতারে লাহোরি বিফ কাবাব
.............................................................................................
সেহরিতে মাছের রকমারি
.............................................................................................
নকল প্লাস্টিক চাল চিনবেন যেভাবে
.............................................................................................
রাতে জন্ম নেয়া শিশুরা ব্যতিক্রম হয়
.............................................................................................
উড়িষ্যায় প্রেম দিবসে যুগল ধরা পড়লেই বিয়ের হুমকি
.............................................................................................
ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকার জন্য উপহার
.............................................................................................
প্রয়োজনে ওয়াশিং মেশিন
.............................................................................................
অ্যাজমা নিরাময়ে এলাচ!
.............................................................................................
লেবুর খোসার ব্যবহার
.............................................................................................
কিডনি ভালো রাখবেন যেভাবে
.............................................................................................
চুল গজাবে রসুনের রসে
.............................................................................................
শশা খাওয়ার আগে ঘষে নিতে হয় কেন?
.............................................................................................
M দিয়ে শুরু নামের মানুষরা কেমন হয়?
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT