শনিবার, ১৬ অক্টোবর 2021 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতাদের আর দেখা মেলে না

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

হাওয়াই মিঠাই এটি একটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিঠাইয়ের নাম। এখনো এটি গ্রামের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় খাবার। এক সময় ‘হাওয়াই মিঠাই’ গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখতে পাওয়া যেতো। কিন্তু, কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় এটি এখন আর খুব বেশি দেখতে পাওয়া যায় না। তবে তা এখনো একেবারে বিলীনও হয়ে যায়নি।

হাওয়ার সঙ্গে এই মিঠাই নিমিষে বিলীন হয়ে যায় বলেই এর নাম ‘হাওয়াই মিঠাই’। বানানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখে দিয়ে খেতে হয় এটি। পেট ভরে না এ মিঠাইয়ে। তবে খেতে খুব মিষ্টি। মুখের স্বাদ মেটায় শুধু। দেখতে অনেক বড়সড় মনে হলেও নিমিষেই এটি মুখের ভেতর এসে গলে যায়। বিশেষ করে গ্রামের শিশুরা এই মিঠায়ে বেশি আনন্দ পায়। বড়রাও এর স্বাদ থেকে পিছিয়ে থাকেন না। দাম কম হওয়ায় সবার আগ্রহ থাকে এই মিঠাইয়ের প্রতি।

ঐতিহ্য গতভাবে বাংলার বিভিন্ন মেলা এবং গ্রামের পথে ঘাটে পাড়া মহল্লায় বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে দেখা পাওয়া যায় হাওয়াই মিঠাই ফেরিওয়ালাদের।

পিতল বা কাঁসার ঘন্টায় টিং টিং শব্দ তুলে শিশু-কিশোরদের দৃষ্টি কাড়ে তাঁরা। হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তাঁদের ঘিরে ধরে শিশু কিশোরের দল।

শুধুমাত্র চিনিকে তাপ দিয়ে গলিয়ে তা একটি হাতে ঘুরানো ‘যাতা’য় পিষে অল্প সময়ে তৈরি করা হয় এই ‘হাওয়াই মিঠাই’।

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌর শহরের মামুদপুর  গ্রামের মশিয়ার জানান, তিনি আজও ভুলতে পারেন না সেই ‘হাওয়াই মিঠাই’র স্বাদ। এখনো গ্রামে গ্রামে হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা আসলে তিনি তা কিনে শিশুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজা করে খান।

চার টাকা দিয়ে ‘হাওয়াই মিঠাই’ কিনে খাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে ছোট বেলায় যখন বাবা-চাচাদের সঙ্গে গ্রামের বাজারে বা মেলায় যেতাম। তখন প্রথম বায়নাটি ছিলো ‘হাওয়াই মিঠাই’ খাওয়ার। আর বেশির ভাগ সময় হাতের কাছে পেয়েও যেতাম এটি।

পৌর শহরের দয়ের পার গ্রামের  গোলাম মোস্তফা জানান, হাওয়াই মিঠাই খেতে অনেক মজা। আমাদের গ্রামে কেউ হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করতে আসলে আমি ছুটে যাই। হাওয়াই মিঠাই কিনে খাইতাম একটা- দুইটায় মন ভরে না। আমি চার-পাঁচটা খাইতাম লাজুক মুখে যোগ করে সে। তিনি আরো বলেন, খাবারটি খুবই লোভনীয়। এটি দেখলেই শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চারা এটি বেশি পছন্দ করে।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলা হতে বিরামপুরে আসা ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করছেন। আগে সারা বছরই এ ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। কিন্তু, এখন বছরে তিন থেকে চার মাস তিনি এ ব্যবসা করতে পারেন। মাঝে-মধ্যে গ্রামে মেলা বসলে এই ব্যবসা করেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, “হাওয়াই মিঠাই একটি বিশুদ্ধ সামগ্রী, ভেজাল মুক্ত হওয়ায় এটি খেতে শিশুদের কোনো ঝুঁকি নেই। শিশুরা আনন্দ সহকারে এটি খেতে পছন্দ করে। আর আমরাও আনন্দের সঙ্গে তা বিক্রি করি। শুধু শিশুরাই নয় বড়রাও আমার কাছ থেকে হাওয়াই মিঠাই কিনে খায়। আমি গ্রামে গ্রামে সারাদিন ঘুরে দুই থেকে দেড়শোর মত হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে পারি। এতে আমার আয় হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতাদের আর দেখা মেলে না
                                  

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

হাওয়াই মিঠাই এটি একটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিঠাইয়ের নাম। এখনো এটি গ্রামের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় খাবার। এক সময় ‘হাওয়াই মিঠাই’ গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখতে পাওয়া যেতো। কিন্তু, কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় এটি এখন আর খুব বেশি দেখতে পাওয়া যায় না। তবে তা এখনো একেবারে বিলীনও হয়ে যায়নি।

হাওয়ার সঙ্গে এই মিঠাই নিমিষে বিলীন হয়ে যায় বলেই এর নাম ‘হাওয়াই মিঠাই’। বানানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখে দিয়ে খেতে হয় এটি। পেট ভরে না এ মিঠাইয়ে। তবে খেতে খুব মিষ্টি। মুখের স্বাদ মেটায় শুধু। দেখতে অনেক বড়সড় মনে হলেও নিমিষেই এটি মুখের ভেতর এসে গলে যায়। বিশেষ করে গ্রামের শিশুরা এই মিঠায়ে বেশি আনন্দ পায়। বড়রাও এর স্বাদ থেকে পিছিয়ে থাকেন না। দাম কম হওয়ায় সবার আগ্রহ থাকে এই মিঠাইয়ের প্রতি।

ঐতিহ্য গতভাবে বাংলার বিভিন্ন মেলা এবং গ্রামের পথে ঘাটে পাড়া মহল্লায় বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে দেখা পাওয়া যায় হাওয়াই মিঠাই ফেরিওয়ালাদের।

পিতল বা কাঁসার ঘন্টায় টিং টিং শব্দ তুলে শিশু-কিশোরদের দৃষ্টি কাড়ে তাঁরা। হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তাঁদের ঘিরে ধরে শিশু কিশোরের দল।

শুধুমাত্র চিনিকে তাপ দিয়ে গলিয়ে তা একটি হাতে ঘুরানো ‘যাতা’য় পিষে অল্প সময়ে তৈরি করা হয় এই ‘হাওয়াই মিঠাই’।

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌর শহরের মামুদপুর  গ্রামের মশিয়ার জানান, তিনি আজও ভুলতে পারেন না সেই ‘হাওয়াই মিঠাই’র স্বাদ। এখনো গ্রামে গ্রামে হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা আসলে তিনি তা কিনে শিশুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজা করে খান।

চার টাকা দিয়ে ‘হাওয়াই মিঠাই’ কিনে খাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে ছোট বেলায় যখন বাবা-চাচাদের সঙ্গে গ্রামের বাজারে বা মেলায় যেতাম। তখন প্রথম বায়নাটি ছিলো ‘হাওয়াই মিঠাই’ খাওয়ার। আর বেশির ভাগ সময় হাতের কাছে পেয়েও যেতাম এটি।

পৌর শহরের দয়ের পার গ্রামের  গোলাম মোস্তফা জানান, হাওয়াই মিঠাই খেতে অনেক মজা। আমাদের গ্রামে কেউ হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করতে আসলে আমি ছুটে যাই। হাওয়াই মিঠাই কিনে খাইতাম একটা- দুইটায় মন ভরে না। আমি চার-পাঁচটা খাইতাম লাজুক মুখে যোগ করে সে। তিনি আরো বলেন, খাবারটি খুবই লোভনীয়। এটি দেখলেই শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চারা এটি বেশি পছন্দ করে।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলা হতে বিরামপুরে আসা ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করছেন। আগে সারা বছরই এ ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। কিন্তু, এখন বছরে তিন থেকে চার মাস তিনি এ ব্যবসা করতে পারেন। মাঝে-মধ্যে গ্রামে মেলা বসলে এই ব্যবসা করেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, “হাওয়াই মিঠাই একটি বিশুদ্ধ সামগ্রী, ভেজাল মুক্ত হওয়ায় এটি খেতে শিশুদের কোনো ঝুঁকি নেই। শিশুরা আনন্দ সহকারে এটি খেতে পছন্দ করে। আর আমরাও আনন্দের সঙ্গে তা বিক্রি করি। শুধু শিশুরাই নয় বড়রাও আমার কাছ থেকে হাওয়াই মিঠাই কিনে খায়। আমি গ্রামে গ্রামে সারাদিন ঘুরে দুই থেকে দেড়শোর মত হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে পারি। এতে আমার আয় হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

বিদেশি জাতের তরমুজ চাষে শিক্ষকের সফলতা
                                  

বরিশাল ব্যুরো :
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অন্দারমানিক ইউনিয়নে বিদেশি জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন মাষ্টার এইচ এম হাসান মাহমুদ সাঈদ। মাত্র ১০০ শতাংশ জমিতে ৫ জাতের তরমুজ চাষে ৫০ হাজার টাকা খরচে করে ২ লক্ষ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন তার তরমুজ চাষ প্রকল্প দেখতে এসে অনুপ্রানীত হচ্ছেন অনেকে। উন্নত মানের বীজের কারণে ফলন ভালো হয়েছে দাবি করেন সংশ্লষ্টিরা। বারোমাসি তরমুজ চাষ করলে অন্যান্যরা লাভবান হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে আশা কৃষি কর্মকর্তাদের।

জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামের বাসিন্দা, হাসান মাহমুদ সাঈদ এবং তার স্ত্রী মোসাম্মৎ তাহমিনা দুই জনই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাঈদ শিক্ষকতার পাশাপাশি মাছ চাষ শুরু করেন। এখন তার ৪টি পুকুর, ২টি ঘের এবং পোনা উৎপাদনের একটি হ্যাচারী রয়েছে। ঘের এবং পুকুর পাড়ে আগে থেকেই বিভিন্ন সবজীর চাষ করে আসছেন তিনি। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় একজন বীজ ব্যবসায়ীর পরামর্শে গত আষাঢ় মাসে বিদেশী জাতের ৫ ধরনের তরমুজ জাতীয় ফলের চাষ করেন তিনি।

সাঈদ জানান, হলুদ তরমুজ কানিয়া, লাল তরমুজ বেঙ্গল টাইগার, লাল তরমুজ সুইট ব্লাক, রক মেলন এরোমা সুইট, রক মেলন রিয়া জাতের এই চারা রোপনের ১ সপ্তাহের মধ্যে ফুল এবং ১০/১২ দিনের মধ্যে ফলন ধরে প্রতিটি গাছে। ২ মাস পরই ফল পরিনত এবং পাঁকা শুরু হয়। ১০০ শতাংশ জমিতে চারা রোপনসহ পরিচর্যায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় তার। ৫-৬ টন তরমুজ উৎপাদন হওয়ার আশা করেন তিনি। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ৬০-১০০ টাকা দরে। ফল বিক্রি করে ২ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন মাষ্টার এইচ এম হাসান মাহমুদ সাঈদ।

সাঈদের কৃষি শ্রমিক মো. কাদের বলেন, বিদেশী জাতের এই তরমুজ চাষে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই। বীজ ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে রেখে অঙ্কুর গজালে একটি ট্রেতে জৈব সার সহ মাটিতে পুতে দিতে হয়। ট্রেতে ১০/১২ রেখে চারা গজানোর পর নিয়মানুযায়ী পৃথক বেড তৈরী করে চারা রোপন করতে হয়। লাল ও হলুদ রংয়ের এই তরমুজ খেতেও সুস্বাধু বলে তিনি জানান।

এদিকে বিদেশী জাতের তরমুজের ব্যাপক ফলনের খবরে দেখতে আসছেন দূর-দূরান্তের অনেকেই। বিদেশী জাতের তরমুজ চাষ দেখে নিজেরাও এই ধরনের প্রকল্প করতে অনুপ্রানীত হয়েছেন বলে জানান।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উপ কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, বারোমাসি তরমুজ চাষের জন্য আমরা মাষ্টার এইচ এম হাসান মাহমুদ সাঈদকে কারিগরিসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সাঈদ বিদেশি জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে। অন্যারাও এই ফলের চাষ করলে লাভবান হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে আশা কৃষি বিভাগের।

শাপলার রাজ্য বরিশাল
                                  

বরিশাল ব্যুরো :
বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম। শাপলা রাজ্য হিসাবে পরিচিত। গ্রামের নামেই বিলের নাম সাতলা বিল। লাল আর সবুজের মাখামাখি দূর থেকেই চোখ পড়বে পর্যটকদের। কাছে গেলে ধীরে ধীরে সবুজের পটভূমিতে লালের অস্তিত্ব আরও গাঢ় হয়ে লাল শাপলার রাজ্য চোখ জুড়িয়ে দেয় জাতীয় ফুল শাপলার বাহারি সৌন্দর্য। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।

স্থানীয়রা জানান, লাল শাপলার এই রাজ্যকে পর্যটন কেন্দ্র করা এখন সময়ের দাবি। পর্যটকদের প্রশান্তি বিলানো ছাড়াও এই বিল ও তার শাপলা স্থানীয়দের অন্নেরও জোগান দেয়। সাতলার নয়াকান্দি বিল (পশ্চিম কালবিলা) ঘুরে দেখা যায়, আগাছা ঠেলে অনেকেই নৌকা নিয়ে বিলের গহিনে যাচ্ছে। বিল থেকে শাপলা তুলে জমা করছে নৌকায়। কেউবা ব্যস্ত মাছ ধরায়। বিল থেকে শাপলা তুলে অনেকে তা বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে। মাছ বিক্রি করেও সংসার চালায় অনেকে। আবার নতুন করে পেশা তৈরি করেছেন এখানকার অনেকেই। বিলে নৌকা চালিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। প্রায় ৮ বছর ধরে এ বিল নিয়ে কাজ করছেন ইসহাক খান। পেশায় একজন কৃষক হলেও তিনি এখন তার পেশা পরিবর্তন করে বিলে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সঙ্গে পর্যটক নিয়ে বিলে বিলে ঘুরছেন তিনি।

তিনি বলেন, উজিরপুরের সাতলা এবং পাশের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে বিছিয়ে আছে শাপলার বিল। বিলের সঠিক আয়তন জানা নেই কারও।

তবে স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ একর জমির ওপর প্রাকৃতিকভাবে বিলটি গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকে জীবিকার জন্য বছরের একটা বড় সময় বিলের মাছ ও শাপলার ওপর নির্ভরশীল। বরিশাল নগরী থেকে উজিরপুরের সাতলার নয়াকান্দি বিলে ঘুরতে যাওয়া আমতলী উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী নসজিব আহম্মেদ জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার ভেতরে সাতলা একটি অন্যতম স্থান। এই স্থানটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়। যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয়দের উদ্যোগ থাকে তবে তা করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘সাতলা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাতলাকে পর্যটন কেন্দ্র করার বিষয়ে পর্যটন কর্পোরেশনকে লেখা হয়েছে। যেখানে পানি, বাথরুম এর ব্যবস্থা থাকবে এ জন্য স্থানীয়ভাবে রেস্টহাউস করার চেষ্টা চলছে। পর্যটকরা যেন ঘুরে ফ্রেশ হতে পারে এ বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে সেখানে সরকারি জমি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে এবং সবার প্রচেষ্টায় পযর্টন কেন্দ্র গড়ে উঠবে।

বরিশালের আমড়া খেতে ভারি মজা!
                                  

মনির হোসেন, বরিশাল ব্যুরো:
আসেন ভাই আসেন, একটা খাইয়া যান। একবার খাইলে আরেকবার খাইতে মন চাইব। ছিইল্লা-কাইট্টা লবণ লাগাইয়া দিমু, মাত্র ৫ টাকা। এভাবেই চিৎকার করে ক্রেতাকে আমড়া খেতে আহবান জানাচ্ছিলেন  বরিশালের লঞ্চ ঘাট এলাকার  হকার রমজান মিয়া।

কথা হয় রমজান মিয়ার সাথে,তিনি একজন সিজনাল হকার। যখন যে ফলের মৌসুম, সেই ফল ফেরি করে বিক্রি করেন।

এখন আমড়ার সিজন চলছে তাই তিনি আমড়া বিক্রি করছেন। সিজনাল ফলের ব্যবসায় নাকি লাভ বেশি। বরিশালের আমড়া  অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু  ফল। নৌ, সড়ক কিংবা  সড়কপথে  রওয়ানা হলে হকারদের এসব শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত চলে ওদের ডাকাডাকি। কিছুটা বিরক্ত লাগে। তবে কাঠিতে বসানো আমড়া নিয়ে যখন আশেপাশে ছুটাছুটি করে তখন জিব্বায় জল রাখা দায়। ফলগুলোকে ওরা বিশেষভাবে কেটে পরিবেশন করে। দেখতে দারুণ! এক বিশেষ আকর্ষণ। মনে হবে, এ যেন শিল্পীর কারুকাজ। লুফে নিতে ইচ্ছে করবে বার বার। সে আমড়া বাঙালির অতি প্রিয় একটি ফলের নাম। টক-মিষ্টি মিশ্রণে ভিন্ন এক স্বাদ। কচি অবস্থায় টক। পরিপক্ক হলে খেতে বেশ লাগে। পাকা ফল খুবই মিষ্টি। আমড়ার সিংহভাগ কাঁচা খাওয়া হলেও ভর্তা, আচার, চাটনি আর পরিপক্ব ফল দিয়ে তৈরি করা যায় জুস, জেলি এবং মোরব্বার মতো লোভনীয় খাবার। গ্রামাঞ্চলের কেউ কেউ গোশতের সাথে আমড়া রেঁধে খান। ডালের সাথেও খাওয়া যায়। আমড়ার শঁশাস সাদা। পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। যে কারণে একে গোল্ডেন আপেল বলে। মাঘ-ফাল্গুনে আমড়ার মুকুল আসে। এর পরে ফল। কচি অবস্থায় ফলের বিচি নরম থাকে। পরিপক্ক হলে আঁটি বেশ শক্ত হয়।-অগ্রহায়ণে ফল পাকে। পাকা ফলের গন্ধ চমৎকার। আমড়া সারা দেশেই চাষ করা যায়। তবে বরিশালের আমড়া সারাদেশে নামকরা।

দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও পানির জন্য এর ফলন ও গুণগতমান কাক্সিক্ষত হয়। প্রসিদ্ধ হিসেবে সবাই বরিশালের আমড়া বললেও আসলে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) আমড়ার রাজধানী বলা যায়। কারণ, ওখানকার ফলন হয় সবচেয়ে বেশি। ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা এবং বরগুনায়ও আমড়া ভালো জন্মে। বাংলাদেশে দু’প্রজাতির আমড়া চাষ হয়। দেশি এবং বিলাতি। বিলাতি আমড়ার অপর নাম বরিশালের আমড়া। দেশি আমড়া খেতে টক, বিচি বড়। বিলাতি আমড়া খেতে মিষ্টি, বিচিও ছোট। ভালো ফলনের জন্য আমড়ার উচ্চফলনশীল জাত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আমড়া-১ এবং বারি আমড়া-২। বারি আমড়া-১ বারোমাসি। গাছ বামনাকৃতির হয়। তাই বাড়ির ছাদেও লাগানো যায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। নাম এফটিআইপি বাউ আমড়া-১।

বিশেষজ্ঞদের মতে পুষ্টিগুণ:
আমড়ায় পুষ্টিগুণে টইটম্বুর। ভিটামিন-সিথর পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লৌহ। লৌহের অভাবে আমাদের রক্তস্বল্পতার সৃষ্টি হয়। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় এ উপসর্গ দেখা দেয় না। অভাব বেশি হলেই কেবল শারীরিক দূর্বলতা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন অসুস্থতা এসবের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তখন বড়দের কর্মক্ষমতা কমে যায়। অপরদিকে শিশুদের মস্তিষ্ক হয় বাঁধাপ্রাপ্ত। ফলে স্কুলের পড়া সহজে শিখতে পারে না। অথচ বাচ্চাসহ বড়রা লৌহসমৃদ্ধ অন্য খাবারের পাশাপাশি আমড়া খেলে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে (আহারোপযোগী) শর্করা ১৫ গ্রাম, আমিষ ১ দশমিক ১ গ্রাম, চর্বি ০ দশমিক ১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০ দশমিক ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি১থ ১০ দশমিক ২৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি২থ ০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘সিথ ৯২ মিলিগ্রাম এবং খাদ্যশক্তি রয়েছে ৬৬ কিলোক্যালরি।

ভেষজগুণ :
আমড়ায় আছে যথেষ্ট ভেষজগুণ। কফ ও পিত্ত নিবারণের পাশাপাশি মুখে রুচি আনা এবং কন্ঠস্বর পরিষ্কারে এর ভূমিকা রয়েছে। জ¦র, সর্দি, কাশি, এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণুকে প্রতিরোধ করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ও পুঁজপড়া বাঁধা দেয়। স্ট্রোক এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে। পেকটিনজাতীয় আঁশ থাকায় বদহজম, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যে দূরীকরণে সহায়তা করে। মুখের রুচি বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধক। ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। রক্ত আমাশয় হলে আধা কাপ পানিতে ৩/৪ গ্রাম আমড়ার কষ, সেই সাথে ১ চা-চামচ গাছের রস এবং একটু চিনি মিশিয়ে খেতে হবে। ব্রণ, ফুস্কুড়ি কমাতে এবং ত্বক মোলায়েম ও উজ্জ¦ল রাখতে এর অবদান বেশ। আমড়ার পাতা, ছাল, শিকড় এবং বীজে ঔষষিগুণ আছে। পাতার তৈরি ‘চাথ জ¦র ও শরীরের ব্যথা দূর হয়। চা বানানোর জন্য পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানোর পর গুঁড়োকরে ব্যবহার করতে হবে। গাছের ছাল ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিহত করার উপাদান রয়েছে। ফলের বীজ উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর শিকড় প্রজননজনিত রোগ নিরাময়ে অবদান রয়েছে। ভেষজবিদদের মতে, আমড়ায় গর্ভপাত হওয়ার উপাদান থাকায় গর্ভবতী নারীদের এ ফল খাওয়া নিষেধ। ডায়াবেটিস রোগীরা কাঁচা আমড়া খেতে পারবেন। পাকা ফল নয়।

‘ফল খাই বল পাইথ এ কথা সবাই জানি। তারপরও প্রয়োজনমতো খাওয়া হয় না। অসচেতনতা আর প্রাপ্তির অভাবই এর কারণ। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছেশক্তি এবং পরিকল্পনা। আপনার পছন্দমতো যে কোনো ফল বাগান তৈরি করতে পারেন। চাষাবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পাশে আছেন উপজেলা কৃষি অফিসার, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা। তাই আসুন, প্রতিটি বসতবাড়িতে অন্য ফলের পাশাপাশি দুথচারটি হলেও আমড়াগাছ লাগাই। এ ব্যাপারে অপরকে ও করি উৎসাহিত।

জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জবি শিক্ষার্থীর চিত্রকর্ম
                                  

জবি প্রতিনিধি : শিল্পের বৈভবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ২৪তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব আকরাম ষড়জের `চিন্তার ঝড়` শিরোনামে একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। আকিব আকরাম ষড়জ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের (২০১৩-১৪ সেশন) ও চারুকলা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

প্রদর্শনীর নীতিমালা অনুযায়ী ২১ বছরের উর্ধে বাংলাদেশের ৭৮৬ জন শিল্পীর সহস্রাধিক শিল্পকর্মের আবেদন জমা পড়ে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় মাসব্যাপী এই চারুকলা প্রদর্শনীতে ৩২৩ জন শিল্পীর ৩৪৭টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে চিত্রকলা ১৫৭টি, ছাপচিত্র ৫৩টি, আলোকচিত্র ১৭টি, ভাস্কর্য ৪৭টি, প্রাচ্যকলা ১০টি, মৃতশিল্প ৭টি, কারুশিল্প ২০টি, গ্রাফিক ডিজাইন ৫টি, স্থাপনাশিল্প ১৮টি, নিউ মিডিয়া আর্ট ৭টি, পারফরমেন্স আর্ট ৬টি। এর মধ্যে নিউ মিডিয়া আর্ট ক্যাটাগরিতে প্রদর্শিত হয়েছে আকিব আকরাম ষড়জের চিত্রকর্মটি।

চিত্রকর্মের বিষয়ে আকিব আকরাম ষড়জ বলেন, চিত্রকর্মটি করোনা প্যানডেমিকের সময় করা। দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন আর অস্থিতিশীল অবস্থা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আর সাথে দেশে ঘটতে থাকা বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে দুশ্চিন্তা আসতো। লকডাউনে সারাদিন ঘরে বন্দী থাকা হয়েছে। দেখার মত শুধু ফোন আর কম্পিউটার স্ক্রিন ছাড়া আর কিছু ছিল না। এসময় শিল্পীর নানা ধরণের আনন্দ, দুঃখ, বিষন্নতা আর দিনভর নানা চিন্তা-দুশ্চিন্তা দিয়েই সময় কেটেছে। প্রায় ১২ মাস এত দীর্ঘ সময় লকডাউন ছিল। এসময় কোথাও যাওয়াও হয় নি। তাই এসময়টাতে কোন শৈল্পিক কাজে মনে দেয়ার একটা প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু প্যানডেমিকের মধ্যে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা আর ঘন্টায় ঘন্টায় নিউজ চলে আসাটা খুব হতাশ করতো। তখন সেইসব চিন্তা-দুশ্চিন্তা আর অনুভূতি থেকেই এই কাজটার সূচনা হয়।

তিনি আরো বলেন, কাজটা নিউ মিডিয়া পেইন্টিং। ৪২ ইঞ্চি x ৬০ ইঞ্চি তে আঁকা। এটা স্টোর্ম অফ থটস্ বা চিন্তার ঝড় সিরিজের একটা কাজ।

চিত্রকর্মটির ডিজাইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ছবিতে আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের একটা বিশাল সংমিশ্রণ রয়েছে। পেছনে সাদাকালো টেক্সচারটা আমাদের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি থেকে নেয়া। আর প্রধান মুখাবয়ব আমাদের ঐতিহ্যবাহী ট্যাপা পুতুলের আদলে করা হয়েছে।

নিজের চিত্রকর্ম শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হবার অনুভূতি জানিয়ে ষড়জ বলেন, আমি প্রথমে জেনে খুব খুশি হয়েছি যে আমার শিল্পকর্ম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে করোনা প্যানডেমিকের কারনে যে হতাশা আর বিষন্নতা পেয়ে বসেছিল তা অনেকটাই কম এসেছে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে। এখন আমি আরো শিল্পকর্ম তৈরির অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। আমি আমার বিভাগীয় শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের গাইডলাইন আমার জন্য এক অসামান্য প্রাপ্তি ছিল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জুন নির্বাচন কমিটির বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চিত্রকর্মটি চূড়ান্ত প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত হয়। এর আগে গত ২৯ জুন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ২৪তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় এবার ভার্চুয়ালি এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এক সফল গরু খামারী জিয়া উদ্দিন মজুমদার
                                  

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :
লেখাপড়া শুধু চাকরির জন্য নয়। অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে যৌবনের মূল্যবান সময় হারিয়ে হতাশার কাফনে জড়িয়ে নিজেকে ধ্বংস করেছেন। কেউ কেউ আবার আত্মহত্যা, মাদক গ্রহণসহ নানা অপরাধ কর্মে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। মূলত প্রকৃত জ্ঞানী তারাই, যারা জ্ঞান অর্জন করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছে, অংশীদার হয়েছে রাষ্ট্রের উন্নয়নে। তাদেরই একজন জিয়া উদ্দিন মজুমদার। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন গরু খামার। এতে তিনি যেমন উদ্যোক্তা হয়েছেন, তেমনি কর্মস্থান হয়েছে গ্রামের খেটে খাওয়া কয়েকজন শ্রমিকের।

চাঁদপুরের কচুয়ার ১নং সাচার ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের জিয়া উদ্দিন মজুমদার। ২০১৫ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি থেকে এমবিএ পাস করেন। বেশ কিছুদিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। অবশেষে চাকরির পিছে না ছুটে নিজেই রেনেঁসা হাসপাতাল,রেনেঁসা সমবায় সঞ্চয় ঋনদান সমিতি,রেনেঁসা মৎস খামার,ইফাজ এগ্রো ফার্ম,রেনেঁসা ফাউন্ডেশন, প্রস্তাবিত রেনেঁসা বৃদ্ধাশ্রম ও প্রস্তাবিত রেনেঁসা মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ সহ অন্যান্য ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেন। সরকার যখন বারবার তরুণদের উদ্দেশে বলছে চাকরির পেছনে না ছুটে, নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য। ঠিক তখনই নিজ বায়েক এলাকায় গড়ে তোলেন ইফাজ এগ্রো ফার্ম নামে একটি গরু খামার।

ফার্মটির পরিচালক জিয়া উদ্দিন মজুমদার বলেন, ২০১৮ সালে সাচার-গৌরিপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে বায়েক গ্রামে রাস্তার উত্তর পাশে মনোরম পরিবেশে একটি গরুর ফার্ম করা হয়। শুরুতে প্রায় বিভিন্ন জাতের শতাধিক গরু নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ৩০টি গরু রয়েছে। ওই খামারে গরুর জন্য ভালো মানের খাবার পরিবেশন করছি এবং মাঠের সবুজ ঘাস খেতে দিচ্ছি। এখানে হাইব্রিড কোনো খাবার বা ইনজেকশন পুশ করানো হচ্ছে না। তাই শারীরিক দুর্বল গরুগুলো এখন চমৎকার গঠনে বেড়ে উঠেছে। আমরা আশা করছি, আসছে কোরবানি ঈদে এসব গরু বাজারজাত করব এবং বাজারমূল্যে বিক্রি করলেও আমরা অধিক লাভবান হব।
 
ফার্মটিতে বিভিন্ন জাতের বর্তমানে ৩০টি ষাঁড় গরু রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে শাহীওয়াল, সিন্দি, বলদ, অস্ট্রেলিয়ান ও নেপালি। কমপক্ষে ২ বছর পর্যন্ত লালন পালন করা হবে এসব ষাঁড়। দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে কমমূল্যে সংগ্রহ করেছেন এসব গরু। দেশীয় খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে নিয়মিত। খামারের সব গরুই পর্যাপ্ত বয়সের হয়েছে। আসছে কোরবানি ঈদেই এগুলো বাজারজাত করা হবে বলে জানা গেছে।

খামারের উদ্যোক্তা মো. মহিউদ্দিন মজুমদার বলেন, অন্যের ফার্মে চাকরি না করে নিজেই ফার্ম তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে নিজের পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েক জনকে এই ফার্মে কর্মকংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেন, দেশে মাংসের চাহিদা মেটাতে আমরা গরু খামারের বিষয়টিই বেছে নিয়েছি। ইন্ডিয়া থেকে গরু না এলে আমাদের বাজার পূর্ণতা পেত না। এখন দেশে উৎপাদিত গরুতেই বাজার পূর্ণ হচ্ছে। আপনার জেনে ভালো লাগবে, আমাদের খামারের গরু এরই মধ্যে অনেকেই পছন্দ করে রেখেছে। ঈদে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে, শিক্ষিত তরুণা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং দেশেও মাংসের চাহিদা পূর্ণ হবে।

কচুয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের তরুণরা যখন চাকরির পেছনে ছুটছে। তখন মেঘনার তরুণরা উচ্চশিক্ষা লাভ করে গ্রামে এসে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে। শিক্ষিত তরুণদের এমন উদ্যোগ গ্রাম ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অংশীদার হচ্ছে। আমি তরুণদের বলব, তোমরা যে কোনো ভালো উদ্যোগে আমাকে কাছে পাবে। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে নিজেকে এবং সমাজকে সমৃদ্ধ করবে সেটাই প্রত্যাশা করছি

করোনায় করুণ কাহিনি
                                  

বিকেলের ফ্লাইটে যশোর যেতে হবে। স্ত্রী, পুত্র-কন্যা সবার গায়ে হাত বুলিয়ে বললাম  এইতো আগামীকালের ফ্লাইটে চলে আসবো সাবধানে থেকো। মা’র কোলন ক্যান্সারের অপারেশনের টাকা যোগাড় করতে জমি বিক্রি করে টাকা আনতে হবে। প্রথম অপারেশনের টাকা জমির বায়নার টাকা ও আমারা ভাই-বোন সবাই মিলে দিয়েছিলাম। প্রায় আট সপ্তাহ পর মা’র দ্বিতীয় অপারেশন হবে। টাকার জন্য ভাই-বোনকে কত দিবে তাই নিয়ে চিন্তা। মা এ বয়সে ঢাকা থেকে যশোর বার বার যেতে পারবে না, তাই জমিটুকু আমার আর আমার একমাত্র বোনের নামে হেবা করে দিয়েছিলেন।  সেটা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হলো।

অগ্যতা কি আর করা। সন্ধ্যায় যশোর পৌছালাম। পৌছে সবার খবর নিলাম। সবাই ভালো আছে। কিন্তু পরদিন আমার স্ত্রী ফোন দিলো তার নাকি হালকা জ্বর এসেছে। কি করবো, আমার বন্ধু ডাক্তার, তাকে ফোন দিলাম সে বললো, জ্বরের সাথে কাশি বা অন্য কোন উপসর্গ দেখা না দিলে প্যারাসিটামল খেয়ে এবং সাথে গরম মশলার চা খেয়ে তিন দিন দেখো। না সারলে এন্টিবায়োটিক শুরু করতে হবে। আমি সেই অনুযায়ী ওকে বুঝিয়ে বললাম। এই কালকে সন্ধ্যার ফ্লাইটে চলে আসবো। আরও বলেছিলাম তোমার বান্ধবি ডাক্তার তাকে (বান্ধবী) এবং অন্যদেরকেও জানাও।

আমার ছেলের মুখে শুনলাম ঐ রাতে নাকি জ্বর বেড়ে গিয়েছিল, ছেলেকে দিয়ে এন্টিবায়োটিক ও নাপা আনিয়িছিলো এবং খেতে শুরু করেছিলো। পরদিন আমার বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত নয়টা, রাস্তায় ছিলো প্রচন্ড যানজট। যাহোক বাড়িতে ফিরে আগে গোসল সেরে স্ত্রীর গায়ে হাত দিলাম, থার্মোমিটারে ৯৮.৭ উঠলো। ছেলে-মেয়ে সবাই হাসলো, বাবাকে দেখেই মা ভালো হয়ে গেছে। বললাম খেয়ে শুয়ে পড়ো, সকালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।

পরদিন সকালে মনে করলাম প্রথমে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে দেখি কি বলে। ওখানকার লেডি ডক্টর লিখে দিলো করোনা টেস্ট করতে। আমরা করোনা টেস্ট না করে ঢাকা মেডিকেলের একজন ডাক্তার দেখালাম। উনি বললো টেস্টের রেজাল্ট আসতে যে সময় লাগবে তার আগেই যে ওষুধ গুলো লিখে দিলাম শুরু করে দিন। বাসায় এসে ওষুধ শুরু করে দিলো। অক্সিমিটার কিনে আনলাম। মাঝে মাঝেই অক্সিজেন লেভেল চেক করছি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ চলছে কিন্তু জ্বর কমে না, সাথে পেট গরম করলো, বমির সাথে কাশি। অক্সিজেন লেভেল মাঝে মাঝে ৯৫-এর নিচে নেমে যাচ্ছে। দুঃচিন্তায় পড়ে গেলাম। এত রাতে কোথায় যাবো। মাথায় পানিপট্টি দিচ্ছি আর মহান আল্লাহকে ডাকছি, সকাল কখন হবে। সকালে কয়েক হাসপাতালে ফোন দিলাম। উত্তরে জানায় করোনার বেড খালি নেই। একটা এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনলাম, আল্লাহর নামে বেরিয়ে পড়লাম, দেখি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরবো- একটা উপায় হবেই। মনে হলো ওর গলব্লাডার স্টোন অপারেশন হয়েছিলো বারডেম হাসপাতালে। ওখানেই আগে যাওয়া যাক। ইমারজেন্সিতে নিয়ে গেলাম, এ্যাম্বুলেন্সকে ছাড়লাম না, যদি বেড খালি না থাকে। অক্সিজেন মেপে ৯৭ উঠলো ও ব্লাড পেশারও ভালো দেখালো। ডাক্তার ওকে ভর্তি নিতে রাজি হলো। অনুরোধ করলাম কেবিনের জন্য তিনি অনেক খোজাখুজি করে বললেন- কেবিন খালি নেই। জেনারেলের ওয়ার্ডে একটা বেড খালি আছে। আমাদের চাই চিকিৎসা। কেবিন দিয়ে কি করবো। তাড়াতাড়ি টাকা জমা দিয়ে ৬ তলায় জেনারেলের বেডে ভর্তি করে ভাড়া করা এ্যাম্বুলেন্স টাকা মিটিয়ে ছেড়ে দিয়ে ওকে নিয়ে বেডে দিলাম। এদিকে ওর বোনদেরকে জানানো হলো। ওরা একজন স্পেশাল আয়া ঠিক করে দিল ২৪ ঘন্টা পাশে থাকার জন্য। ভর্তির পরপরই চিকিৎসা শুরু হয়ে গেলো অক্সিজেন, ইনজেকশন ইত্যাদি ইত্যাদি।

হাসপাতাল থেকে নুডলস, ডিম ও স্যুপ দিলো, বসে বসে খেলো। আমাকে বললো, ‘পানি গরম করা ইলেক্ট্রনিক কেটলি আনো, মশলা গরম পানি খাবো ভালো লাগবে।’ বাড়িতে মশলা গরম পানি খেলে একটু ভালো লাগতো। সাথে সাথে নিচে গিয়ে সব কিনে দিলাম। আয়া মশলা গরম পানি দিলো, চুমুক দিতে দিতে বললো তুমি বাড়ি যাও ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে আছে। ওরা দু’জন ছাড়া বাসায় কেউ নেই। আমি দেখলাম ওর অক্সিজেন লেভেল ও ভালো আর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাত ১০টার পর আমি বাড়ি চলে এলাম। পরদিন সকালে ওকে দেখতে গেলাম, বললো আগের চেয়ে একটু ভালো লাগছে। পিঠের ব্যাথা কমেছে। পরে ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে জানতে পারলাম, আমি যশোর যাবার পর বাড়িতে কাজে বুয়া এসেছিলো, তার নাকি দু’দিন ধরে জ্বর ছিলো। তাছাড়া ৪-৫দিন আগে আমার সাথে নিউমার্কেটে গিয়েছিলো ওর বাড়িতে পরা দুটো জামার কাপড় কিনতে। কাপড় কিনে টেইলরের কাছে দিয়ে এসেছিলাম, সে জামা এখনো আনা হয়নি। জামা এনে কি করবো, পরবে যে সেই তো নেই। তাছাড়া আমি যশোর যাবো বলে তার আগের দিন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে গিয়েছিল কিছু টাকা তুলে আনতে। কোথা থেকে সংক্রান্ত হলো বুঝতেই পারিনি। গত এক বছর কত না শতর্কভাবে চলেছি। এ বছর একি সর্বনাশ হয়ে গেলো।

পরদিন তখনো অক্সিজেন চলছে। তবে একটু ভালো লেগেছিল বলেই বলেছিলো, আমার জন্য টুথব্রাশ ও টুথপেষ্ট নিয়ে আসো, দাঁত মাজবো। সঙ্গে সঙ্গে নিচে গিয়ে কিনে নিয়ে আনলাম। সকালে ডাক্তার এলেন দেখে বললেন কোভিট টেস্ট করতে হবে। ওর স্যাম্পল নিয়ে গেলো আর আমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে করোনা টেস্ট এর স্যাম্পল দিলাম। পরদিন যখন ওর রেজাল্ট পজিটিভ আসলো। ওর মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না। মুখ কালো হয়ে গেলো, কি এক অজানা আতংকে ও যেন ছটফট করতে লাগলো। কানে কম শুনছিলো, ওর কাছ গিয়ে কথা বলতে হচ্ছিলো। আমি বারবার সান্তনা দিতে থাকলাম, ভালো হয়ে যাবা, ভয় নেই। কে কার কথা শোনে। ডাক্তার বললো করোনা ওয়ার্ডে বেড খালি হলে ওখানে স্থানান্তরিত করতো হবে। ওতো কাঁদতে শুরু করলো করোনা ওয়ার্ডে যাবো না, ‘ওখানে গেলে আমি বাচবো না’। সবাই বুঝালো পজিটিভ রুগিকে এখানে রাখবে না। তাছাড়া করোনা রুগী অনেকেই তো ভালো হয়ে বাড়ি ফিরছে। অবশেষে সন্ধ্যায় বেড খালি হলে ওখানে স্থানান্তরিত করা হলো। ওর আতংকের শেয নেই, ওর অক্সিজেন লেভেল দ্রুত ওঠা নামা করছিলো। পরদিন প্রফেসর ভিজিটে এসে বললেন ওনাকে আইসিইউতে চিকিৎসা করতে হবে। দু’দিন অক্সিজেন ফ্লো বাড়িয়ে দিলেই ভালো হয়ে যাবে। রাতে সিটিস্ক্যানিং করানো হলো, রিপোর্ট ভালো না। আইসিইউ জরুরি দরকার। অন্ততপক্ষে ঢাকার ২০টি হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হলো। আমাদের জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছিলেন। ছোট ভাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে, এফসিপিএস করে এখন আমেরিকার ডালাসে চাকুরি করে। ওর ভায়রা বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিক সমিতির সদস্য। তিনিও চেষ্টা করছেন। হতাশ হয়ে পড়লাম। মহান আল্লাহকে ডেকে চলছি। পরবর্তীতে শোনা গেল ৭ম  তলায় আইসিইউতে ১টা বেড খালি হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, এবার মহান আল্লাহর রহমতে চিকিৎসা ভালোই হবে। আমার করোনার রেজাল্ট দ্রুত জানার জন্য আমাদের অফিস কলিগের বোনের সহায়তায় আমার করোনার রেজাল্ট জানতে পারলাম নেগেটিভ। পরদিন পিপিই পরে ওকে দেখতে ভিতরে গেলাম, হাতের ইশারায় বোঝাতে চেস্টা করলাম ভালো হয়ে যাবা। সে কেঁদে ফেললো। ডাক্তার আমাকে কঠিন সুরে ধমক দিয়ে বের করে দিল। আর বললো আপনি আর কখনো ভেতরে আসবেন না। কাঁদলে পেসেন্টের গলায় কফ জমে আরও মারাত্মক অবনতি হবে। আর আপনারও বয়স বেশি আপনিও ঝুকিপূর্ণ। এরপর যেকয়দিন গিয়েছি বাহিরে বসে ওর মেজো বোনের ছেলেকে দিয়ে খবর নিয়েছি। ছেলেটা আমার পাশে থেকে অনেক সাহায্য করেছে। মাত্র ৮ দিন আইসিইউতে থেকে গত ১২ই এপ্রিল আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলো না ফেরার দেশে (ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্নালিল্লাহি রাজিউন)।

এ কয়দিন ঠিক মতো খাওয়া নেই, ঘুম নেই। আমার শরীর অনেক খারাপ হয়ে পড়লো। আমার তো আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক-আলসার ছিলো। মাঝে মাঝেই ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হতে হয়। হালকা জ্বর ও পাতলা পায়খানা শুরু হলো। রাতে উঠে বার বার টয়লেট হয়েছে তা বাচ্চাদেরকে জানতে দিইনি। ওরা ওদের মা’কে দাফন দিয়ে এসে এমনিতেই অনেক কেঁদেছে। কোন খাবার মুখে দিতে পারছিল না। মেয়েটাকেতো রাতে গরম পানির ভাব নিতে হয়েছিল। বাড়িতে ফ্লাজিল আর ইমোটিল ছিলো তা খেয়ে টয়লেটে যাওয়া বন্ধ করালাম। সকালে উঠে আমার বোনের আগে চিকিৎসা করেছে সেই গ্যাস্ট্রোস্টোলজিস্ট ডাক্তারের কাছে ফোন দিলাম। উনি বললেন, আজ সকালে আছি তাড়াতাড়ি চলে আসেন। আগামীকাল থেকে লকডাউন আমি আসবো না। দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। আল্ট্রাসনোগ্রাম ও রক্তের রির্পোট দেখে কিছু ওষুধ লিখে দিলেন আর ১ মাস পর দেখা করতে বললেন। তবে ৭ দিনে ৫৬টা ক্যাপসুল খেতে হবে সাথে আরও আছে। বাড়ি এসে ওষুধ শুরু করে দিলাম। ২ দিন পর পেটে ব্যথা কমলো।

মহান আল্লাহ মনে হয় বাচ্চা দুজনকে লালনপালনের জন্য আমাকে জীবন দিয়েছেন। আমরা ৩টি মানুষ বাড়িতে আছি। করোনার ভয়ে কেউ আসেনি। আমিও মানা করেছি না আসতে। তবে আমার বিল্ডিং এর শিক্ষক মহোদয়গণ ও আবাসিক এলাকায় আর দু’জন আমার সহকর্মী আমাদের খোজখবর নিয়েছেন প্রতিনিয়ত। ওষুধ খাওয়ার ৪র্থ দিনে রাতে হঠাৎ আবারও পাতলা পায়খানা শুরু হলো। আমিতো ঘাবড়ে গেলাম। বোনকে সব বুঝিয়ে বললাম, যদি বেশি খারাপ হয় তাহলে একটা এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আমাকে কোথাও ভর্তি করে দিস। বাচ্চাদেরকে তোর ওখানে নিয়ে যাস। বার বার টয়লেট হওয়ার কথা আমার ডাক্তার ছোট ভাইকে ভাইবারে কল করে জানালাম। সে রিপোর্টগুলো দেখে বললো এটা অনেক সময় ওষুধের রিয়াকশনে হতে পারে। স্যালাইন পানি ও লিকুইড খাবার, ফল খাও বেশি করে। রাতটা দেখ সকালে না হয় ডাক্তার দেখিও। টয়লেট থেকে এসেই বার বার স্যালাইন পানি খেতে থাকলাম। সেকি করুণ অবস্থা, এরই মাঝে বোনের বাসা থেকে আনা খাবার ছেলেমেয়েদেরকে গরম করে দিচ্ছি। আমি যাউভাত আর কলা সিদ্ধ খাচ্ছি। মহান আল্লাহর রহমতে সকাল হতে হতে কিছুটা ভালো বোধ করলাম। এরই মাঝে প্রতিদিনই ওর বোনেরা এবং আমার বোন খাবার পাঠাচ্ছে। আমার শরীরটা ভালো বোধ করলাম। সবাইকে  মানা করলাম আর যেন খাবার না পাঠায়। কাজের বুয়াকে ঘরে ঢুকতে দেইনি। বাইরের কোন কিছু আর খাব না। হাসপাতালে ভর্তির আগে ও রোজার জন্য অনেক বাজার আনিয়েছিল সবাই মিলে রোজা রাখবো বলে। হায় কপাল!
 
আমি মন খারাপ করে বসে থাকি দেখে আমার মেয়ে তার ৯ম শ্রেণীর উপন্যাস গল্পের বই এনে বলে, এগুলো পড়ে তাকে বুঝিয়ে দিতে। গল্প পড়েছি বহিপীর, কাকতাড়ুয়া ইত্যাদি। আমার মনে হলো কাকতাড়ুয়ার চরিত্রে বুধা’র মতো হয়ে যাচ্ছি আমরা তিন জনে। এতিম ছেলেটি যেমন জীবনের জন্য যুদ্ধ  করেছে কখনো নিজের নাম নিজেই রেখেছে  কাকতাড়ুয়া, ছন্নছাড়া, মানিকরতন, বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধ, জয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, ইত্যাদি। আমরা তিনজন প্রতিনিয়ত মশলা চা, গরম পানি পান করছি। রাত ২টায়ও যদি একটু কাশি হলে তৎক্ষণাৎ উঠে মশলা দিয়ে গরম পানি খাচ্ছি।  তাছাড়া, গৃহস্থালির সমস্ত কাজ করছি ঘরমোছা থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়া, থালাবাসন মাজা, তরকারি কাটা, রান্না করা সবই করছি। মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন যুদ্ধ করে চলছি। কাজ শেষে হাত ধুয়ে নিচ্ছি, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নাকে দুফোঁটা এন্টাজল দিচ্ছি, প্রোভেয়ার-১০ খাচ্ছি। এভাবেই জীবনযুদ্ধ করে পার করলাম কোয়ারান্টাইন এর ১৪-১৫টা দিন।  রান্না করতে ওরা দুজনেই আমাকে সাহায্য করছে। তিনজন মানুষ এই বাড়ির মধ্যে বন্দী অবস্থায় হতাশার মাঝে কাটিয়েছি কালো দিনগুলো। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন করে বা মেসেজে পাঠিয়ে সমবেদনা জানিয়েছে।

করুণ অভিজ্ঞতা থেকে সকলকে জানাই মহামারি না যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্কভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে জীবন যাপন করাটাই উত্তম। অবশ্যই মাক্স পরে বাইরে যাবো, বাড়ি ফিরে জামাকাপড় সাবান পানিতে ভিজিয়ে, গোসল করেই তবে অন্য কাজ। তাছাড়া, বিপদে নিজেকে লুকিয়ে না রেখে অন্ততঃ সাধ্য অনুযায়ী অন্যকে সাহায্য করাটাই মানব ধর্ম।

আসুন প্রত্যেকে আমরা প্রত্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করি। সবাই সবার জন্য দোয়া করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহামারির সংকট থেকে মুক্তি দিন। মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সহায়তা করুন। আমাদের দেশকে রক্ষা করুন।  মহান আল্লাহকে প্রতিনিয়ত ডাকি - ‘ইয়া কানাবুদু ওয়া ইয়া কানাস্তাইন’।
                                                                                                                                
লেখক: হাসিবুর রহমান
কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাড়ছে লিথিয়ামের চাহিদা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে লিথিয়ামের চাহিদা বাড়ছে। ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই মৌলিক পদার্থটি। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি লিথিয়ান জমা আছে ৬টি দেশে। তারা হলো- বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং চীন। লিথিয়ামের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বে এসব রিজার্ভ বা লিথিয়ামের মজুদাগার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর আহরণ প্রক্রিয়ায় এসেছে গতি। যুক্তরাষ্ট্রে জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) মতে, ২০১৯ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মোট মজুদ আছে আট কোটি টন লিথিয়াম। আগের বছরের তুলনায় এই পরিমাণ শতকরা ৩০ ভাগ বেশি।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে এই পদার্থটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারি তৈরির কারখানাগুলোতে বৃহৎ আকারে এর কদর খুব বেশি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনএস এনার্জি। এতে বলা হয়, সামনের বছরগুলোতে লিথিয়াম আহরণের গতি অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সিলভার-সাদা এই ধাতব পদার্থটির চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সাল নাগাদ এই চাহিদা দ্বিগুনের বেশি হতে পারে।

কোথা থেকে লিথিয়াম সংগ্রহ করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে তা আলাদা করার প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণত লবণের যেসব পুল বা ক্ষেত্র আছে সেখানে সৌর বাষ্পীকরণের মাধ্যমে অথবা প্রচণ্ড শক্ত পাথর থেকে আকরিক স্পোডুমেন পৃথকীকরণ করা হয়। আরো নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করা হচ্ছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি লিথিয়ান জমা আছে বলিভিয়াতে। এখানে মজুত আছে ২ কোটি ১০ লাখ টন। বিশ্বে মোট যে পরিমাণ লিথিয়াম পাওয়া যায় তার এক চতুর্থাংশ পাওয়া যায় এই দেশটিতে। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিথিয়ামের একটি মজুদাগার হলো সালার ডি উয়ুনি সল্ট ফ্ল্যাট। মহাকাশ থেকে এটা দৃশ্যমান। ভৌগলিক কারণে এই মজুদ থেকে লিথিয়াম উত্তোলন সম্ভব হয়নি অনেকদিন। কিন্তু দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন যে, লিথিয়াম শিল্পকে উন্নত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ২০১৯ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। তার উত্তরসুরি প্রেসিডেন্ট লুইস আরচি এই পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বলিভিয়াকে বিশ্বে লিথিয়ামের রাজধানী বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এরপরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা। এখানে মজুদ আছে এক কোটি ৭০ লাখ টন লিথিয়াম। প্রতিবেশী বলিভিয়া এবং চিলির মতো, এখানে লিথিয়ামের মজুদ রয়েছে ভূপৃষ্ঠের একটি বিশাল লবণাক্ত স্তরে। সেখানে সৌর তাপে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে লিথিয়াম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ দেশটিতে সবচেয়ে বড় লিথিয়ামের মজুদ রয়েছে সালার ডেন হোমব্রে মুয়ের্তোতে। অনেক কোম্পানি আর্জেন্টিনার এই শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কিন্তু দেশটিতে আর্থিক অস্থিতিশীলতা এবং অন্যান্য ইস্যুতে এখনও যথাযথ উপায় অবলম্বন করা যায়নি লিথিয়াম সংগ্রহে।

এরপরে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চিলি। এখানে মজুদ আছে ৯০ লাখ টন লিথিয়াম। তারা সফলভাবে এই ধাতব পদার্থটি আলাদা করার উপায় বের করেছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় লিথিয়াম খনির দেশ। ওদিকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে ৬৮ লাখ টন লিথিয়াম। তবে উত্তোলন কর্মকাণ্ড নিম্ন পর্যায়ের। ২০১৯ সালে সেখানে একটিমাত্র লিথিয়াম উত্তোলনের সক্রিয় কর্মকাণ্ড ছিল নেভাদা রাজ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে লিথিয়ামের চাহিদা মেটায় আর্জেন্টিনা ও চিলি।

তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কাছে আছে ৬৩ লাখ টন লিথিয়াম। ২০১৯ সালে সেখানে উত্তোলন করা হয় ৪২ হাজার টন লিথিয়াম। এর ফলে সর্বোচ্চ লিথিয়াম পৃথক করেছে তারা ওই বছরে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চিলি। তারা ওই বছর লিথিয়াম আলাদা করেছে ১৮ হাজার টন। তালিকার ষষ্ঠ নম্বরে ৪৫ লাখ টন লিথিয়ামের মজুদ আছে চীনের। ২০১৯ সালে তারা উত্তোলন করেছে ৭৫০০ টন। এর মধ্য দিয়ে তারা ছিল লিথিয়াম উত্তোলনে তৃতীয় সর্বোচ্চ দেশ।

স্বাধীন বাংলা/ন উ আহমা

সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে বান্দরবান পাঠানোর কারণ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের সংলাপ পার্বত্য অঞ্চলের বিষয়ে জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে বিজ্ঞাপনটির প্রচার বন্ধ করার পাশাপাশি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে একটি চা-পাতার বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়ে আসছে।

যেখানে প্রভাবশালী ভূমিকায় থাকা এক ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকির স্বরে বলেন, তার কাজ না হলে "ওভারনাইট বান্দরবানে পাঠিয়ে দেবো।"

টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে প্রচারিত ওই সংলাপের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিষয়ে মানুষের মনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে, এ কারণে বিজ্ঞাপনটি বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন কমিটির সদস্যরা।

গত বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

তার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি ওইসব এলাকার চাকরি নিয়ে এ ধরণের অপপ্রচার বন্ধ করার কথা জানায়।

এ নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটির সদস্য।

কমিটির সদস্য এবং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানিয়েছেন যে, "পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এ ধরণের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অবজ্ঞার পাত্র হতে চাই না।"

কিন্তু নানা সময়ে দেখা গিয়েছে যে কোন সরকারি কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা অপরাধ করে ধরা পড়লে তার শাস্তিস্বরূপ পার্বত্য এলাকায় বদলি করা হয়, তারপর থেকেই ওই অঞ্চলগুলো `শাস্তিমূলক কর্মস্থল` হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, পার্বত্য এলাকাগুলোয় থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, বিশেষ করে যোগাযোগের ব্যবস্থা সমতলের অঞ্চলগুলোর চাইতে বন্ধুর।

নীরব পরিবেশের কারণে অনেকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্ক কাজ করে। এ কারণে বেশিরভাগ কর্মকর্তা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটির মতো জায়গায় কাজ করতে আগ্রহী হন না।

এ কারণে শাস্তিস্বরূপ এই দুর্গম এলাকাগুলোয় কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, "ধরেন, আপনার মোবাইলের চার্জারটা নষ্ট হয়ে গেল। একটা উপজেলা শহরে কিছুদূর হেঁটে গেলেই হয়তো সেটা পেয়ে যাবেন, কিন্তু পাহাড়ের বিষয়টা ভিন্ন। এখানে সব জিনিষ এতো সহজে মেলে না।"

"তাছাড়া এখানে ভালো স্কুল নেই, হাসপাতাল নেই - একারণে অনেকের পক্ষেই পরিবার নিয়ে থাকা কঠিন হয়ে যায়।"

সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে পার্বত্য এলাকায় পাঠানোর আরেকটি কারণ সেখানে অন্যান্য জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের মতো স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না।

তবে সেই দৃশ্যপট আগের চাইতে এখন অনেকটাই বদলেছে বলে জানান ওই সরকারি কর্মকর্তা।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর, ওই এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সাথে সাথে থাকা, খাওয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

"আগে তো মানুষের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিল। কিন্তু এখন পর্যটকরা আসার পর স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু আগের চাইতে উন্নত হয়েছে। এখন পাহাড়ি এলাকা রাতের বেলাতেও গমগম করে," বলেন তিনি।

থাকার সমস্যার কারণেও আগে অনেকে পার্বত্য এলাকায় বদলি হতে চাইতেন না।

এরপরও পার্বত্য অঞ্চলগুলোয় কাজ করতে না চাওয়ার আরেকটি বড় কারণ সমতলের চাইতে পাহাড়ি এলাকাগুলোয় সরকারি প্রকল্প থাকে হাতে গোনা।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন আছে। অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় ইউনিয়ন আছে মাত্র ২টি।

"স্বাভাবিকভাবে যার অধীনে এতো বেশি ইউনিয়ন, তার অধীনে মানুষ বেশি, ফলে তিনি অনেক বেশি সরকারি প্রকল্প পেয়ে থাকেন। প্রকল্প বেশি মানে কাজ বেশি, টাকা বেশি। সেই সুযোগ বা প্রভাব পাহাড়ি অঞ্চলে নেই।"

আবার চরাঞ্চল অনেক দুর্গম হলেও সেখানে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বেশি থাকে। এ কারণে চরাঞ্চলে বদলি হতে কারও আপত্তি থাকে না। যতোটা না ওই পাহাড়ি এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, "সাধারণত যাদের বিরুদ্ধে কোন সরকারি প্রকল্পের কাজে গাফিলতি বা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাদেরকেই পার্বত্য এলাকায় পদায়ন করা হয়। কারণ সেখানে বাড়তি টাকা পাওয়ার অর্থাৎ ঘুষ দুর্নীতির সুযোগ অনেক সীমিত।"

যেসব সরকারি কর্মকর্তা শাস্তি হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বদলির মুখে পড়েন, তাদের চাকরি জীবন জুড়েই এর মাসুল দিতে হয় বলে জানা গেছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, কোন সরকারি কর্মকর্তাকে পদন্নোতি দিতে গেলে যখন তার পূর্ব অভিজ্ঞতা যাচাই করা হয়, সেখানে পাহাড়ে বদলির রেকর্ড থাকলে সেটা তার ক্যারিয়ারের উন্নতিতে যথেষ্ট নেতিবাচক প্রভাবে ফেলে।

এই একটি কারণে কারও পদোন্নতির সুযোগ বাতিল হয়ে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি এলাকার মানুষ এই দেশেরই নাগরিক। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা কিছু করলে তাদেরকে পার্বত্য অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়া হয় শাস্তি হিসেবে। যা এই জায়গার জন্য অসম্মান বয়ে আনছে। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় পর্যটকরা যেভাবে ভিড় করছেন এতে অচিরেই এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

"এখন পাহাড়ি এলাকাগুলো আগের অবস্থায় নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসছে। এটা শাস্তির জায়গা হতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তারা বরং খুশি হয়েই এখানে থাকতে চাইবেন।" সূত্র : বিবিসি বাংলা

স্বাধীন বাংলা/ন উ আহমাদ

ঘরেই তৈরি করুন চিলি চিকেন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রেস্টুরেন্টে মজাদার চিলি চিকেন জনপ্রিয় এক পদ। কিন্তু স্বাস্থের কথা চিন্তা করে অনেকেই এড়িয়ে চলেন রেস্টুরেন্টের খাবার। তাদের জন্যই এই রেসিপি; জেনে নিন বাসাতেই সহজে কীভাবে তৈরি করবেন চিলি চিকেন।

উপকরণ-
মুরগি ১ কেজি (বোনলেস কিউব), চিলি ফ্লেক্স ১ টেবিল চামচ, শিমলা মরিচ লাল ২টি, শিমলা মরিচ সবুজ ২টি, ক্যাপসিকাম ১/২টি, পেঁয়াজ ফালি ১কাপ, রসুন কিমা ১ টেবিল চামচ, টমেটো পিউরি ১চা চামচ, পাপরিকা ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১চা চামচ, আদা বাটা ১চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, চিলি গার্লিক সস ২ টেবিল চামচ, গরম মশলা গুঁড়া ১চা চামচ, কাচামরিচ ফালি ৩/৪টি, গোলমরিচ আধা ভাঙা ১চা চামচ, সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ, চাট মশলা ১চা চামচ ও লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে করবেন-
মুরগির মাংস, পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও রসুন হালকা ভেজে মুরগি, টমেটো পিউরি, গরম মশলা গুঁড়া, মুরগি ও অন্য সব উপকরণ দিয়ে ভাজা ভাজা করুন।  তেল উঠে এলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন দারুণ মজার জিভে জল আনা চিলি চিকেন। 

বিলুপ্তর পথে শেরপুরের আদিবাসীদের তাঁতশিল্প
                                  

শেরপুর থেকে কাজি মাসুম:
বিলপ্ত হয়ে যাচ্ছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার তাঁতশিল্প। এক সময় গারো পাহাড়ের বিভিন্ন আদিবাসী পল্লিতে দিনরাত এসব তাঁতের খটখট আওয়াজ পাওয়া গেলেও আজ সে শব্দ তো দুরের কথা তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত কারিগর এবং তাঁতের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই ভার হয়ে উঠেছে। তবে দু’একটি গ্রামে সে তাঁতশিল্পকে ধ্বংসস্তুপের মতো পড়ে থাকতে দেখা যায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যের ধারক-বাহক তাঁত মেশিনগুলো। অথচ এক সময় এ এলাকার গারো, কোচ, ডালু, বানাই, হদি, বর্মনসহ বিভিন্ন আদিবাসী গোত্রের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্যবাহি পোষাক নিজেরাই তৈরী করে ব্যবহার করতো। যাদের তাঁত ছিলো না তারা গ্রামের ওইসব তাঁতের তৈরী করা গামছা, লুঙ্গি, মেয়েদের ওড়না, দক শাড়ী, দক মান্দা, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন পোষাক কিনে ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন তা কালের করালগ্রাসে সে ঐতিহ্য হারিয়ে বাঙালিদের পোষাক পরতে বাধ্য হচ্ছে।

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার সীমান্তের নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদীসহ জেলার সদর ও নকলা উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার আদিবাসীর বসবাস। এদের মধ্যে পাহাড়ি এলাকার আদিবাসীরা শতশত বছর ধরে তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখে নিজেদের পোষাক নিজেরাই তৈরী করে ব্যবহার করে আসছিলো। কিন্তু জীবন-জীবিকার তাগিদে এসব তাঁতশিল্প ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়া ও সুতার মূল্য বৃদ্ধি সহ নানা প্রতিকুল পরিবেশের কারণে এ এলাকার আদিবাসী বিশেষ করে গারো ও কোচ সম্প্রদায় মানুষ আরো প্রায় ৮ থেক ১০ বছর আগেই তাদের তাদের সে ঐতিহ্যের তাঁত বন্ধ করে দেয়। ফলে ওইসব আদিবাসী গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঘুন ও উলু ধরা কাঠের তাঁতগুলো এখন নিথরভাবে পড়ে আছে। আদিবাসীদের সেই ঐতিহ্যের বিলুপ্ত প্রায় কালের সাক্ষি হয়ে থাকা দু’চারটে তাঁত মেশিন এখনও চোখে পড়ে।
 
এসব এলাকায় এক সময়কার তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত গারো ও কোচ তাঁতিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখনও যদি তাদের এ ঐতিহ্য এবং শিল্পকে রক্ষা করতে চায় তবে সরকারের আশু দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যদিও অনেক আগেই এ শিল্পের কারিগররা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশার সাথে যুক্ত হয়েছে। আবার কেউ কেউ কাজের সন্ধানে ঢাকায় পরিজমিয়েছে জীবীকার তাগিদে।

জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার রাংটিয়া কোচপাড়ার জাগেন্দ্র কোচ জানান, গত ৮/১০ বছর আগে আমার ৮টি তাঁত ছিলো। এখানে আমরা আমাদের গামছা, লুঙ্গি, মহিলাদের ওড়না, দক শাড়ী, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন পোষাক বুনতাম। কিন্তু প্রথমে সুতার মূল্যবৃদ্ধির কারণ এবং পরে শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তাঁতকলগুলো চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এদিকে বাজার থেকে টেক্সটাইলের শাড়ী-লুঙ্গির দাম অনেক কম থাকায় আমাদের গোত্রের লোকজন সেই পোষাকের দিকে ঝুকে পড়ে। ফলে আমাদের এ তাঁত আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। অথচ আমাদের শতভাগ সুতার তৈরী পোষাক বিশেষ করে গামছা, লুঙ্গি, দক শাড়ী টেক্সটাইলে তৈরী পোষাকের মতো আরাম দায়ক নয়। তারপরও জীবীকার তাগিদে খরচ বাঁচাতে আমাদের এ তাঁত বন্ধ করতে হয়েছে এবং টেক্সটাইলের পোষাক পড়তে হচ্ছে।
 
একই গ্রামের তাঁতশ্রমিক প্রনব কোচ জানায়, আমিতো অনেক আগেই ঢাকায় একটি হোটেলে বাবুর্চির চাকুরি করছি। এলাকারতাঁতগুলো আবারও চালু হলে ঢাকায় আর থাকতাম না।

আদিবাসী নারী রায়তি কোচ বলেন, আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী দক শাড়ী পরা বাদ দিয়ে বাঙালিদের শাড়ী পরতে বাধ্য হইছি। এহন এ তাঁত চালু হইলে আমগো ভালো হইতো।

একই উপজেলার ভারুয়া জারুলতলা গ্রামের আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের মিত্র সাংমা বলেন, আমার ছিল ৬টি তাঁত মেশিন। প্রায় ৮ বছর আগে এখানে পোষাক তৈরী করে বিক্রি করে না পোষালে চলে যাই মধুপুর কারিতাসের একটি তাঁতশিল্পে। সেখানে মাসে ১৫ হাজার টাকায় বেতনে তাঁতের কাজে যুক্ত হই। ফলে বাড়ির এ তাঁতটি নষ্ট হয়ে পড়েছে। ভাবছি মধুপুরের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে আবারও এই তাঁতগুলোসংস্কার করে পুনোরায় কাজ শুরু করবো। কিন্তু অর্থের অভাবে কাজ ধরতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমরা যদি সরকার থেকে আর্থিক সুযোগ পাই তবে এ শিল্প ও আমাদের গারোদের ঐতিহ্য একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

আদিবাসী কোচ নেতা যোগেন কোচ বলেন, আমাদের ঐতিহ্যের তাঁত ও  পোষাক রক্ষায় এক সময় কারিতাস কিছু সহযোগীতা করলেও এখন আর কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। তবে সরকার থেকে কোন সহযোগিতা পেলে আবার আমাদের এই ঐতিহ্য ফিরে আসতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের পার্বত্য এলাকার চাকমা ও মণিপুরি তাঁত সরকারী ও বেসরকারী নানা সংস্থার সহযোগীতায় বিলুপ্তের হাত থেকে বেঁচে উঠেছে। আমরাও চাই আমাদের শেরপুরের আদিবাসীদের প্রতিসরকার ও বেসরকারী কোন সংস্থা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিক।

এ বিষয়ে শেরপুর বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা এস এম রেজুয়ানুল ইসলাম জানায়, আমরা আদিবাসীদের এতিহ্য ও তাঁত শিল্পের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করবো। তারা যদি তাদের এ শিল্পকে রক্ষায় আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা বিপণন ও ঋণ সহায়তা দিতে পারবো।

প্রযুক্তি নির্ভর দুনিয়ায় অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ‘ফ্রিল্যান্সিং’
                                  

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির কল্যাণে উন্নয়নের জোয়ারে লেগেছে নতুন হাওয়া। প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন আর শুধু উন্নত দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই, তুলনামূলকভাবে কম উন্নত দেশগুলোতেও উন্নয়নের মাত্রায় যোগ করেছে ভিন্নতা। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যেকোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গভীরভাবে তরান্বিত করে। প্রতিযোগিতামূলক এ যুগে তথ্যপ্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ দেশসমূহের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাত্রা তাই সঙ্গত কারণে উচ্চমুখী থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক ব্যতিক্রমধর্মী ফসল। ক্ষুদ্রার্থে এটি যেমন ব্যক্তির অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে পারে বৃহদার্থে সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। ফ্রিল্যান্সিং বলতে মূলত বুঝায় কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অধীনে না থেকে মুক্তভাবে কাজ করা। এ ধরণের কাজ যারা করেন, তাদের কে ফ্রিল্যান্সার বা মুক্তপেশাজীবী বলা হয়। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজগুলো প্রধানত পার্ট টাইম কাজ হয়ে থাকে। ১৯৯৮ সালে অনলাইন মার্কেটপ্লেস খোলার মধ্য দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাত্রা শুরু। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান জোগানের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর অন্যতম একটি খাত ফ্রিল্যান্সিং। দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বেড়ে চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে চাকরির বাজারের অবস্থা বেশ নাজুক। দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেও অনেককে দীর্ঘসময়ের জন্য বেকার থাকতে হচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত চাকরির ক্ষেত্র। দেশের ৪৭ শতাংশ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বেকার। অপর্যাপ্ত চাকরিক্ষেত্র, বিকল্প কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা সহ নানাবিধ কারণে দেশে বেকারত্বের হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এমতাবস্থায়, বিকল্প কর্মসংস্থানের জোগান নিয়ে হাজির হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়টি আজ আর আমাদের দেশে নতুন নয়। ফ্রিল্যান্সাররা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানি, কর্পোরেট অফিসে কাজ করার মাধ্যমে অনায়াসেই অর্থ উপার্জন করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, ফ্রিল্যান্সিং জগতের শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশি কর্মীরা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসমূহ শত শত কোটি টাকার কাজ করিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়ে।

বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারের বড় এক গন্তব্য বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান মতে, এ খাতের শতকরা ১৬ শতাংশ বাজার দখল করে আছে বাংলাদেশি কর্মীরা। দেখা যায় যে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে জড়িত বেশিরভাগ কর্মী আসছে দেশের তরুণ ও যুবসমাজ হতে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজের এমন অনেকে আছেন যারা এখন ধরাবাঁধা নিয়মের ও গতানুগতিক চাকরির থেকে স্বাধীন ভাবে অনলাইনে কাজের প্রতি বেশি আগ্রহী। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) এর এক তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার কাজ করে চলেছেন। যাদের পাঁচ লাখ কাজ করেন মাসিক আয়ের ভিত্তিতে। বিশাল এ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ তরুণ। আমাদের দেশ তারুণ্যনির্ভর দেশ। তাই তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলে অর্থনৈতিক ভাবে আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এর কাজের পরিধি বেশ ব্যাপক। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ওয়েব ডেভেলপিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, কনটেন্ট রাইটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সহ আরো অনেক কিছু এর পরিধির আওতাভুক্ত। তাছাড়া প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটকে আরো বিস্তৃত করে তুলছে। এখানে কাজগুলো ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে নিদির্ষ্ট একটি চুক্তির ভিত্তিতে হয়ে থাকে। আর সে ক্লায়েন্ট হতে পারে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। চুক্তির উপর ভিত্তি করে ক্লায়েন্টরা ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিয়ে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সারকে তার কাজটি সম্পন্ন করে চুক্তিবদ্ধ ক্লায়েন্টকে জমা দিতে হয়। এর বিনিময়ে একজন ফ্রিল্যান্সার পেয়ে যান চুক্তি অনুসারে তার কাজের পারিশ্রমিক। প্রযুক্তির সুবাধে এ কাজগুলো ফ্রিল্যান্সার ও ক্লায়েন্টরা খুব সহজে করে নিতে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে অবস্থান করেও।

বেশ মজার ব্যাপার হলো ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজগুলো ইন্টারনেট ভিত্তিক হওয়ায় এখানে কোনো ধরাবাঁধা অফিস টাইম নেই। যেকোন সময়ে, যেকোন স্থান থেকে একজন ফ্রিল্যান্সার তার সুবিধামত কাজগুলো সহজে করে ফেলতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ে পরিপাটি হয়ে তাকে কর্মক্ষেত্রে ছুটার ভাবনা ভাবতে হয় না। এতে করে যাতায়াত খরচ ও সময়ের অপচয় হয় না।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের নারীরাও এখন আর পিছিয়ে নেই। বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ রেখে চলছে একের পর এক। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজগুলো বাসায় বসে নিজেদের পছন্দমতো সময়ে করা সম্ভব, সেক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দক্ষ গৃহিণীরা তাদের কাজের ফাঁকেও এ ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারে অনায়াসেই। এতে করে নারীরা স্বনির্ভর হতে পারছে। তাদের পরিবারকে দিতে পারছেন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।  এতে করে সমাজে নারীদের সম্মান বৃদ্ধি পাচ্ছে অনেকাংশে।

বেকারত্ব লাঘবে ভূমিকা রেখে চলছে ফ্রিল্যান্সিং। দেশের কয়েক লাখ মানুষ এখন এর দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ‘গিগ ইকোনমি’র নাম আমরা অনেকে কম-বেশি শুনেছি। গিগ ইকোনমি বা গিগ অর্থনীতি হচ্ছে একধরণের খন্ডকালীন কাজের ক্ষেত্র। যেখানে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ীভাবে কর্মী নিয়োগ না করে বিশেষ কিছু শর্তসাপেক্ষে স্বল্প সময়ের জন্য কর্মী নিয়োগ দিয়ে দিয়ে থাকেন। গিগ ইকোনমিতে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশে অবস্থান। এই বিশাল অর্জনের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ভূমিকা অপরিসীম।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের বহুল সম্ভাবনা থাকলেও আমাদের দেশে এখনো সুপরিচিত হয়নি। এর প্রচারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  আমাদের দেশে কর্মীর অভাব নেই,  কিন্তু দক্ষ কর্মীর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিনামূল্যে বা সূলভ মূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি, সরকারি হস্তক্ষেপের পাশাপাশি কর্মীদের নিজ জায়গা থেকে প্রচেষ্টার দ্বারা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটের পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

লেখক- তানভীন সুইটি
শিক্ষার্থী,
অর্থনীতি বিভাগ,
৩য় বর্ষ,
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে কাঠের তৈরি এই ৫ তলা বাড়ি
                                  

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ির কাছেই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পাঁচতলা বাড়ি। বাড়ির সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে কাঠ দিয়ে। ৫ তলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচতলায় রয়েছে রেস্টুরেন্ট। আছে ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পের তৈরি নানা রকম জিনিসপত্র।

মেঝে ও দেয়ালে আছে নানা রঙের আল্পনা। রং বেরঙের পোস্টার আর ফেস্টুন দিয়ে ছবির মতো করে সাজানো হয়েছে বাড়িটি। বাড়িটি দেখার জন্য কৌতূহলী মানুষের আনাগোনা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

আব্দুর রশিদ জোয়ার্দার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির উদ্যোগে তৈরি হওয়া বাড়িটি দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির পাশে হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন। ১২ শতক জায়গায় নির্মিত পরিবেশবান্ধব ৩৫ ফুট উচ্চতার বাড়িটি প্রথম দেখায় অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, ভেতরে অসাধারণ কারুকার্য।

এতে আছে বাংলার ইতিহাস, ঐহিত্য বহনকারী নানা নিদর্শন। ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী।


২০১৮ সালে মেহগনি, কেরোসিন, শাল ও তালগাছের কাঠ দিয়ে বাড়িটি তৈরি করা হয়। ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়িটির ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাড়ির মালিক আব্দুর রশিদ জোয়ার্দার বলেন, ‘বাড়িটি মনের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে আরও ৪০-৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন।’
 
তিনি জানান, ২০ টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থীরা পুরো বাড়িটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। কাঠের তৈরি বলে বাড়িটি ঘিরে দিনদিন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কাছে এরকম বাড়ি অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে। আব্দুর রশিদ ব্যক্তি উদ্যোগে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। আরও কাজ বাকি আছে।’ ঢাকা থেকে দর্শনার্থীরা বেড়াতে এসে বলেন, ‘কুঠিবাড়িতে ঘুরতে এসে জানলাম, পাশেই একটি কাঠের তৈরি বাড়ি আছে। তাই দেখতে এলাম। বাড়িটি ঘুরে দেখলাম। নির্মাণশৈলী এবং কারুকার্য সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে।

আরো বলেন, ‘আগে শিলাইদহ এসে কুঠিবাড়ি আর পদ্মা নদী দেখে চলে যেতাম। এখন বাড়িটি দেখে মনে হচ্ছে, শিলাইদহের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পালকে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে।

বাড়ির মালিক আব্দুর রশিদ জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘এখনো অনেক জায়গা পড়ে আছে। ইচ্ছে আছে, সেখানে শিশু-কিশোরদের চিত্ত-বিনোদনের জন্য পার্ক তৈরি করার। আপাতত অর্থের কারণে পার্ক তৈরির কাজে হাত দিতে পারছি না।’

শীতের শুরুতে জকিগঞ্জের ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম
                                  

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শীতের আগমনে গ্রামে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর উৎসব শুরু হয়। গ্রামে এখনো শীতের পিঠা বানানোর ঐতিহ্য থাকলেও শহরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে শীতের পিঠা হারিয়ে গেছেই বলা যায়। অনেকে আবার এসব ঐতিহ্যবাহী পিঠার প্রস্তুত প্রণালীও জানে না।

শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে নগরে ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। শীত পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মওসুমে গ্রামীণ বধুরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীত পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা (ধুপি পিঠা) একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর।

ঐতিহ্যবাহী ফুল পিঠা, তালের পিঠা, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, পাটিসাপটা, চিতল পিঠা, চুটকি পিঠা, পাকন পিঠা, গুরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, পাতা পিঠা, রস পিঠাসহ আরো হরেক রকমের পিঠা রয়েছে। শীতকালেই পিঠার উৎসব শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি ঘরে ঘরে নানা রকম পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামের বাড়িতে চলে পিঠার উৎসব। শুরু হয় আত্মীয়-স্বজনের মিলন মেলা।

জকিগঞ্জের গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতল পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে জকিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীন বাজারের ফুটপাতে শীত পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ভালোমানের এবং কিছু নিম্নমানের রয়েছে। ফুটপাতে পিঠা তৈরির সময় অনেক সময় ধুলোবালি মিশে যায়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

সাজেক সে তো মেঘের রাজ্য
                                  

সাজেক শব্দটা মনে আসলেই প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মেঘময় এক পৃথিবী ছবি। এখানে ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতি তার রূপ বদলায়। কখনও তীব্র শীত আবার মুহূর্তেই বৃষ্টি। চোখের পলকেই চারপাশ ঘোমটা টানে সাদাকালো মেঘে। এ যেন মেঘের উপত্যকা, মেঘেদের রাজ্য আর নিজেকে মনে হয় মেঘের রাজ্যের বাসিন্দা। হয়তো মনের অজান্তেই খুঁজতে থাকবেন সাদা মেঘের পরী অথবা মেঘের মধ্যে পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে ছুটি চলা রাজপুত্রকে।

সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া কংলাক পাহাড়। চূড়ায় উঠতে উঠতে দেখতে পাবেন মিজোরাম সীমান্তের পাহাড় আর সবুজের মিতালী। কংলাকের চূড়ার উঠে চারপাশে তাকালে সত্যি সত্যি ভুলে যাবেন যে আপনি ছিলেন কোন যান্ত্রিক নগরে দূষিত বাতাস, শব্দ এবং কর্কট সমাজে জন্ম নেয়া মানুষ। আপনার মন,প্রাণ,দেহ পুলকিত হবে এক বিশুদ্ধ চিন্তা এবং অনুভূতিতে। প্রভাত এবং প্রাতঃবেলায় সূর্যদয় ও অস্ত দেখার সুখানুভূতি আপনি সারা জীবন মনে রাখবেন। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অকবিও হয়ে ওঠেন কবি, অপ্রেমিকও হয়ে ওঠে প্রেমিক, একজন সচেতনও অবচেতনে হয়ে ওঠেন উন্মাতাল। একজন বৃদ্ধও সবুজের সুরা পান করে হয়ে ওঠেন তেজদীপ্ত তরুণ।



নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর এবং জনপ্রিয় স্থান সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley) । বাংলাদেশের এই বৃহত্তম ইউনিয়নটি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। এ ইউনিয়ন ভারতের ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এর অবস্থান রাঙ্গামটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি থেকে এখানে যাতায়াত অনেক সুবিধাজনক। কারণ, খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। তাই ভ্রমণ পিপাসুগণ দিঘীনালা থেকেই সাজেক যেতে বেশি পছন্দ করেন।সময় সুযোগ পেলে ঘুরে আসতে পারেন এ নৈসর্গিক উপত্যকায়। তবে সাজেক প্রকৃতির আসল রুপ দেখার জন্য সেরা সময় হচ্ছে বর্ষাকালের শেষদিকে এবং শীতকাল।


যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি রুটে শ্যামলী, হানিফ, এস আলম, সৌদিয়া ও শান্তি পরিবহনের বাস চলাচল করে। গাবতলী, কলাবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে পরিবহণগুলোর কাউন্টার। ঢাকা থেকে বাস ছেড়ে চট্রগ্রাম রোড হয়ে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্রগ্রামের মিরসরাই হয়ে খাগড়াছড়ি শহরে পৌছায়। এতে সময় লাগে ৮ ঘণ্টার মত।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যেতে হবে খোলা জীপে করে। যা চান্দের গাড়ি নামেই পরিচিত। দুই দিনের জন্য ভাড়া করলে আপনাকে গুনতে হবে ৬৫০০-১০০০০ টাকা। চান্দের গাড়িতে আসন সংখ্যা ১২টি। সাজেক যেতে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে দীঘিনালায়। দীঘিনালা নেমে আধা ঘন্টার জন্য ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা থেকে। সাথে সেরে নিতে পারেন গোসলটাও। কারণ সাজেকে পানির বড্ড অভাব। তবে চিন্তার কিছু নেই গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য দরকারি পানি প্রতিদিন ট্রাকে করে পৌঁছে যায় সাজেকে।

তবে পানি ব্যবহারে সাজেকে আপনাকে মিতব্যয়ী হতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার। দীঘিনালায় একটি সেনানিবাস রয়েছে। এরপর বাকি রাস্তাটুকু আপনাকে যেতে হবে সামরিক বাহিনীর এসকোর্টে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছে। দীঘিনালা থেকে সেনাবাহিনীর এসকোর্ট শুরু হয় সকাল ১০ টা থেকে ১১টার মধ্যে। তাই ঐ সময়ের আগেই আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালায়। নইলে একবার সকালের এসকোর্ট মিস করলে আবার এসকোর্টে পেতে অপেক্ষা করতে হবে বিকেল অবধি।


দীঘিনালা থেকে প্রথমে যেতে বাগাইহাট, তারপর মাচালং হাট হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাবেন সাজেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যেতে মোট সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘন্টার মত। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তাধরে চলা এই ছোট জার্নিটি সাজেক ট্যুরের অন্যতম আকর্ষণ। চারদিকে শুধু পাহাড় আর হরিতের সমারোহ আপনাকে ভুলিয়ে দেবে পথের ক্লান্তি।
সাজেক বিলাস করবেন যেভাবে:-

সাজেক পৌঁছে খাওয়া দাওয়া করার পর দীর্ঘ যাত্রার শেষে আপনাকে একটু বিশ্রাম নিতেই হবে। এছাড়া সাজেকের কাঠফাটা দুপুরের রোদে না ঘোরাঘুরি করে রোদ পড়ার অপেক্ষা করাই ভাল। বিকেলে জীপে করে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সাজেক ভ্যালির আরও ভেতরে। সেখানে একটু উঁচু টিলায় উঠলেই উপভোগ করতে পারবেন সূর্যাস্ত। সাজেকের সন্ধ্যা নামে অপরূপ এক সৌন্দর্য নিয়ে। দেখবেন মেঘমুক্ত নীলাকাশ একটু একটু করে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে আর মিটিমিটি করে জ্বলে উঠছে একটি দুটি করে তারা। দেখবেন অল্পকিছুক্ষণের মধ্যে একটি দুটি থেকে সহস্র তারা আপনার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠবে। হয়ত আপনি এরকম তারা ভরা আকাশ জীবনে কখনও দেখেন নি।

সন্ধ্যার তারাভরা আকাশ দেখতে দেখতে মৃদুমন্দ হাওয়ায় চায়ের কাপে চুমুক দিলে আপনার হৃদয়ে যে অনুভূতি আসবে সেটাই হতে পারে আপনার সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ। যারা তারা দেখতে ভালবাসেন তাদের জন্য সাজেক খুবই আদর্শ একটি জায়গা। এমনকি যারা এখনও মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ দেখেননি তারাও সাজেক ভ্যালিতে এসে জীবনে প্রথমবারের মত দেখা পেতে পারেন মহাবিশ্বে আমাদের আশ্রয়স্থল আকাশগঙ্গার।

ভোরে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে হ্যালিপ্যাডে চলে যাবেন অবশ্যই। সেজন্য উঠতে হবে খুব ভোরে আর চলে যেতে হবে এক বা দুই নম্বর হ্যালিপ্যাডে। সাজেকে সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভা সাদা মেঘের উপর যখন ঠিকরে পড়ে তখন আসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।


কিছু বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন:
•সঠিক সময়ে এসকর্ট দেয়া।
•সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের ছবি তোলা যাবে না।
•স্থানীয় লোকজনের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে নিবেন।
•ছুটির দিনে কটেজ পাওয়ার ঝামেলা এড়াতে বেশ কয়েক দিন আগে (এক মাস আগে) বুকিং দিয়ে নিন।
•রবি, এয়ারটেল বা টেলিটক সিম সঙ্গে নিন।
•সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্র রাখুন।
•সঙ্গে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যান।
•সাজেকে যাবার রাস্তা অনেকটা আঁকাবাঁকা এবং উঁচুনিচু। তাই জীপের ছাদে বা মোটর সাইকেলে সতর্ক থাকুন।
•দুই থেকে তিন দিনের জন্য সাজেক গেলে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নেয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে শুধু যাওয়ার জন্যই গাড়ি নিন। আসার সময় অন্য গাড়িতে আসুন অথবা দীঘিনালা থেকে ফোন করেও গাড়ি নেয়া যাবে।


সাজেকের পাশাপাশি যা যা ঘুরতে পারেন
খাগড়াছড়ি জেলার দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝর্ণা, দেবতার পুকুর, হর্টিকালচার পার্ক, তৈদুছড়া ঝর্ণা, বিডিআর স্মৃতিসৌধ, মায়াবিনী লেক, শান্তিপুর অরণ্য কুঠির ইত্যাদি।


- মোঃ মঈনউদ্দীন
প্রথম বর্ষ,
আইন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পুরুষরা স্ত্রীর কাছে যেসব সত্য গোপন করেন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে মান অভিমান থাকেই। অনেক ক্ষেত্রেই স্ত্রী/প্রেমিকা উত্তেজিত হয়ে স্পষ্টভাবে অনেক শক্ত কথা বলে ফেলেন। আর এরকম ক্ষেত্রে পুরুষরা তার স্ত্রীকে খুশি করার জন্য কৌশলী হয়ে থাকেন। এমন কয়েকটি সত্য বিষয় রয়েছে যেগুলো পুরুষরা স্ত্রী বা প্রেমিকার থেকে গোপন করেন। চলুন বিষয়গুলো দেখে নেয়া যাক-

স্ত্রী বা প্রেমিকাকে বিরক্ত হলে:
সাধারণত মানুষের মনমানসিকতা সব সময় এক রকম থাকেনা, ভালো থাকে না। কোন কোন সময় স্ত্রী বা প্রেমিকার উপর ভীষণ বিরক্ত হলেও প্রেমিকা বা স্ত্রীকে এটি বুঝতে না দিয়ে ভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অথচ একজন নারী যখন বিরক্ত হন তখন এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে পারেন বা প্রকাশ করতে পারেন। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।

পুরুষতন্ত্রের প্রত্যাশায় ক্লান্ত:
সবকিছু সামলাতে এবং হাসিমুখে থাকতে গিয়ে বেশিরভাগ সময় পুরুষরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মানসিক টানাপড়েনের বিষয়টি তারা হাসিমুখে সামলে নেন। বেশিরভাগ সময়ই এই বিষয়টি পুরুষরা প্রকাশ করতে চান না। তবে এটি তাদেরকে মাঝে মাঝে হতাশ করে তোলে।

অন্য নারীকে আকর্ষণীয় মনে হলে:
অন্য কোনো নারীকে আকর্ষণীয় মনে হলেও এটি ভুলেও স্ত্রী বা প্রেমিকার কাছে প্রকাশ করেন না বেশিরভাগ পুরুষ। যদিও অন্য কোনো নারীকে দেখে আকর্ষণীয় মনে হতেই পারে এটি অপরাধের কিছু নেই। তারপরও ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই পুরুষরা এটি গোপন করেন।

অর্থনৈতিক সঙ্কট:
বাড়ির অর্থনৈতিক দিকটি দেখার দায়িত্ব মূলত পুরুষদের। এজন্য আর্থিক বিষয়টি নিয়ে চাপে থাকলেও পুরুষরা এটি স্ত্রীর কাছে বেশিরভাগই গোপন রাখেন। কারণ স্ত্রীর কাছে পুরুষরা তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করতে চায় না।

যৌন দক্ষতার অভাব:
যৌনতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতার অভাব বা কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা পুরুষরা গোপন করেন। তারা এই বিষয়টি একান্তই নিজের কাছে রাখতে চান। অনেক সময় স্পষ্ট বিষয় হওয়া সত্ত্বেও তারা স্ত্রীর কাছে এটি গোপন করেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল
পুরুষরা দৃঢ়চেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তাদেরও আবেগ অনুভূতি রয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তারা হাসি প্রকাশ করতে পারে। এজন্য স্ত্রী বা প্রেমিকার ওপর আস্থা না আনা পর্যন্ত বাস্তবতার বিষয়টি প্রত্যেক পুরুষই গোপন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে।


   Page 1 of 9
     ফিচার
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতাদের আর দেখা মেলে না
.............................................................................................
বিদেশি জাতের তরমুজ চাষে শিক্ষকের সফলতা
.............................................................................................
শাপলার রাজ্য বরিশাল
.............................................................................................
বরিশালের আমড়া খেতে ভারি মজা!
.............................................................................................
জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জবি শিক্ষার্থীর চিত্রকর্ম
.............................................................................................
এক সফল গরু খামারী জিয়া উদ্দিন মজুমদার
.............................................................................................
করোনায় করুণ কাহিনি
.............................................................................................
বাড়ছে লিথিয়ামের চাহিদা
.............................................................................................
সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে বান্দরবান পাঠানোর কারণ
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন চিলি চিকেন
.............................................................................................
বিলুপ্তর পথে শেরপুরের আদিবাসীদের তাঁতশিল্প
.............................................................................................
প্রযুক্তি নির্ভর দুনিয়ায় অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ‘ফ্রিল্যান্সিং’
.............................................................................................
দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে কাঠের তৈরি এই ৫ তলা বাড়ি
.............................................................................................
শীতের শুরুতে জকিগঞ্জের ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম
.............................................................................................
সাজেক সে তো মেঘের রাজ্য
.............................................................................................
পুরুষরা স্ত্রীর কাছে যেসব সত্য গোপন করেন
.............................................................................................
আঙ্গুলের নখ বলে শরীরে অসুখের উপস্থিতি
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পষ্টে ২ কিশোরের মৃত্যু
.............................................................................................
ফোন খরচ বাঁচিয়ে পথ শিশুদের খাবার বিতরণ!
.............................................................................................
প্রবাসীদের ‘ঈদ’ এর পেছনের গল্প
.............................................................................................
ঈদে গরুর মাথার মাংস রান্নার রেসিপি
.............................................................................................
পরিশ্রমের কাছে মেধা চির অসহায়
.............................................................................................
ফুলের সুবাস মিষ্টি কেন ?
.............................................................................................
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
.............................................................................................
বিলুপ্তির পথে মিঠাপুকুরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
.............................................................................................
ফ্লোরা ফেস্টিভ্যালঃ বাসায় বসে বাগানের রিভিউ দিন
.............................................................................................
সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি
.............................................................................................
ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার উপায়
.............................................................................................
‘মামা হালিমের’ মামার খোঁজে
.............................................................................................
এসি ছাড়াই এসির হাওয়া!
.............................................................................................
তরমুজ খান-সতেজ থাকুন
.............................................................................................
বাঁচতে হলে জেনে নিন, বজ্রপাতের সময় ভুলেও যা করবেন না
.............................................................................................
দেশেই চাষ হচ্ছে বিদেশী ফসল ‘চিয়া’
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন আলুর চিপস
.............................................................................................
কাপাসিয়া ধাঁধার চর সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি
.............................................................................................
দিনে ৬টির বেশি সেলফি, ‘সেলফাইটিসের’ রোগী
.............................................................................................
বিলুপ্তি প্রায় চড়ুই পাখি
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে উড়োজাহাজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আরমান
.............................................................................................
নীলফামারীতে জমিদারী আমলের ইতিহাস ঐতিহ্য’র বিষ্ণুমন্দির
.............................................................................................
ফ্রান্সে চকলেটের পোশাকে ফ্যাশন শো!
.............................................................................................
অন্যরকম মানুষ ইসহাক শরিফ
.............................................................................................
গ্রামীণ ইউনিক্লো এর ঈদ কালেকশন
.............................................................................................
ঈদ কালেকশন
.............................................................................................
সিগারেটের পোড়া টুকরো দিয়ে তৈরি হবে রাস্তা!
.............................................................................................
শরীরে সুগন্ধি দীর্ঘ সময় ধরে রাখবেন যেভাবে
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন এগ নুডলস!
.............................................................................................
প্লাস্টিকের চাল বলে আসলে কিছু নেই
.............................................................................................
ঈদ রান্না: ফ্রুট প্যানাকোটা
.............................................................................................
চট্রগ্রাম-সিলেটে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা
.............................................................................................
নাশতায় মাসালা ম্যাকারনি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT