শনিবার, ২২ জানুয়ারী 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বৈদ্যুতিক বিবর্তনে বিলুপ্ত গ্রামীণ হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপি

মোঃ তারিকুর রহমান :
এক সময় রাতের আঁধারে বিয়ে বাড়ি, জন্মদিন, ধর্মসভা, যাত্রাগান সহ গ্রামীণ সকল অনুষ্ঠানের আলোর একমাত্র উৎস ছিল এই হ্যাজাক লাইট যা কালের বিবর্তনে, বৈদ্যুতিক সাফল্যের কারণে আজ বিলুপ্তির পথে পুরনো ঐতিহ্যবাহী আলো দানকারী বস্তুটি। বিলুপ্ত প্রায় হারিকেন ও কুপি নামে আরো দুটি আলো দানকারী বস্তু। সবই চলত কেরোসিন তেলের মাধ্যমে। কুপির ব্যবহার কিছুটা এখনো পাওয়া যায় ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনে চরাঞ্চলে নতুন নতুন বসতি গুলোতে যেখানে বিদ্যুতের আলো নদী ভাঙ্গনের সাথে পাল্লা দিয়ে পৌঁছতে পারেনা, সেসব বাড়িতে। এর সবগুলোই আজ নতুন প্রজন্মের কাছে যেন শায়েস্তা খাঁর আমলের ইতিহাসের মত। প্রত্যন্ত গ্রামবাংলার প্রায় অনেক ঘরেই থাকতো হ্যাজাক লাইট। বাড়িতে ছোট-বড় কোন অনুষ্ঠান হলে সকালবেলায় শুরু হত দৌড়-ঝাপ। সন্ধ্যেবেলায় আলো দেয়ার জন্য ব্যবহার হত এই হ্যাজাক লাইট, চলে তাকে জ্বালানোর প্রস্তুতি। সাধারণত সবাই এ বস্তুকে জ্বালাতে পারতো না। সেরকম বিশেষ ব্যক্তিকে সেদিন পরম সমাদরে ডেকে আনা হতো। সেদিন তাঁর চাল-চলন থাকতো বেশ দেমাগি।

এই লাইট জ্বালানোর প্রস্তুতিটাও ছিল দেখার মত, অনেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতো তার কর্মযজ্ঞ, বাড়ির কচি-কাচারা এমনকি বড়রাও হ্যাজাক লাইট প্রজ্জ্বলন প্রস্তুতি দেখতে গোল হয়ে বসত। এরপর তিনি হ্যাজাকে তেল আছে কিনা পরীক্ষা করে নিয়ে শুরু করতেন পাম্প করা। একবার একটা পিন দিয়ে বিশেষ পয়েন্টে খোঁচাখুঁচি করা হত। তারপর একটা হ্যাজাকের নব ঘুরিয়ে কিছু জ্বলন্ত কাগজ তার সংস্পর্শে আনতেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠত। তখন শুরু হতো এই লাইটের গোড়ায় বিশেষ পদ্ধতিতে পাম্প দেওয়া। ক্রমেই হ্যাজাকের মাঝখানের ম্যান্টল থেকে বেশ উজ্জ্বল আলো বেরনো শুরু হত যা দেখতে প্রায়ই এখনকার বৈদ্যুতিক এলইডি বাল্ব এর আলোর মতো মনে হতো । আলো জলার সঙ্গে সঙ্গেই একটা বুকে কাপঁন ধরানো আওয়াজ তৈরি হত। আবার মাঝে মাঝে হ্যাজাকের ওপর দিয়ে দুম করে আগুন জ্বলে উঠত। আবার কখনও বা গোটাটাই নিভিয়ে যেত। সফলভাবে হ্যাজাক জ্বালানোর পর সেই ব্যক্তির মুখে ফুটে উঠত এক পরিতৃপ্তির হাসি। আর হ্যাজাকের সেই উজ্জ্বল আলোয় কচিকাচারা চলে যেত এক আনন্দের জগতে।

গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীনতম আলোর সরঞ্জাম হ্যাজাক লাইট। বিয়ে-শাদি, পূজা -পার্বণ, যাত্রাপালা, এমন কি ধর্ম সভায়ও ভাড়া দেওয়া হত এই হ্যাজাক লাইট।

কেমন ছিল হ্যাজাক?
দেখতে অনেকটা হ্যারিকেনের মতোই কিন্তু আকারে বেশ বড়। আর প্রযুক্তিও ভিন্ন রকম, জ্বলে পাম্প করে চালানো সাদা কেরোসিনের কুকারের মতো একই প্রযুক্তিতে। চুলার বার্নারের বদলে এতে আছে ঝুলন্ত একটা সলতে। যেটা দেখতে প্রায় ১০০ ওয়াটের সাদা টাংস্টেন বাল্বের মতো। এটি অ্যাজবেস্টরে তৈরি। এটা পুরে ছাঁই হয়ে যায় না। পাম্প করা তেল একটা নলের ভিতর দিয়ে গিয়ে স্প্রে করে ভিজিয়ে দেয় সলতেটা। এটা জ্বলতে থাকে চেম্বারে যতক্ষণ তেল আর হাওয়ার চাপ থাকে ততক্ষণ। তেলের চেম্বারের চারিদিকে থাকে চারটি বোতাম। একটি পাম্পার। একটি অ্যাকশন রড়। একটি হাওয়ার চাবি। আর একটি অটো লাইটার বা ম্যাচ। অ্যাকশন রডের কাজ হচ্ছে তেল বের হওয়ার মুখটা পরিষ্কার রাখা । হাওয়ার চাবি দিয়ে পাম্পারে পাম্প করা বাতাসের চাপ কমানো বা বাড়ানো হয়।
একবার হাওয়া দিলে জ্বলতে থাকে কয়েক ঘন্টা আর দের থেকে দুই লিটার তেলে জ্বলত সারা রাত। বর্ষার শুরতে এবং শীতের শুরুতেই যখন নদী-নালায় পানি কমতে থাকে তখন রাতের বেলায় হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে অনেকে মাছ শিকার করে। তবে এটা চলে বছরে মাত্র মাস দুয়েক। এই বাতির ব্যবহার অতি প্রাচীন। সাধারণত বাতি বলতে বুঝায় কুপি, টর্চ লাইট, হ্যারিকেন ও হ্যাজাক। বাতি হল সেই সরঞ্জাম যা অন্ধাকার দূর করতে ব্যবহার করা হয়। প্রাচীনকালে আগুনের ব্যবহারের মাধ্যমে বাতির প্রচলন হয়। প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে সবখানেই। ফিলামেন্ট বাতির বদলে এলইডি বাতির চলও নতুন নয়। তবে এলইডির সঙ্গেও এখন যুক্ত হয়েছে নানা রকম প্রযুক্তির বাতিও হয়েছে স্মার্ট। বাজার ঘুরে জানানো হচ্ছে বাসা-বাড়ি, অফিস, কারখানার নানারকম বাতির খোঁজ। হ্যাজাক লাইট মেরামতকারি রমেশ চন্দ্র দাস এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ২০ বছর আগে হ্যাজাকের ব্যবহার যতেষ্টো ছিল। তখন হ্যাজাক লাইট ঠিক করে আয় ভাল হত।

দিনে ৪-৫টি করে মেরামত করে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতাম। কিন্তু বর্তমানে হ্যাজাক লাইট নেই বললেই চলে। তাই এখন পেশা পরিবর্তন করে বাইসাইকেল(দিচক্রযান) এর মেরামতের কাজ করি। হ্যাজাক লাইটের ‘বানা’র কাজ হচ্ছে তেল সাপলাই দেওয়া, পিন: তেল বন্ধ করা এবং খোলা, মাটিরছিদ্র, ভেপার: তেল সাপলাই দিয়ে ম্যান্ডলে দেয়, ম্যাকজিনে ম্যান্ডল বাধা হয়, ম্যাকজিন তেল সাপলাই দেয়, চিমনি/কাচের কাজ হচ্ছে আলো বৃদ্ধি করা এবং এর নিচের অংশে সংযুক্ত স্টিলের তৈরি বিশেষ পাত্রে তেল ধরে দের থেকে দুই কেজি। এই তেল দিয়ে প্রায় সারা রাত চলে যেতো । সবার ঘরে না থাকায় অনেক সময়, প্রায় ৪০ বছর আগে এসব লাইট এক রাতের জন্য ১২৫-১৫০ টাকা করে ভাড়াও দেওয়া হত জৈষ্ঠ থেকে ফাল্গুন মাস পর্য়ন্ত মাছ শিকারের জন্য বলেও জানান- বর্তমানে হ্যাজাক ব্যবহার কারী , মজিবর রহমান( ৬০) ও আয়নাল হক( ৪৫)।

আরেকটি ছিল হারিকেন, তুলনামূলকভাবে এটি একটি ঘরে আলো দানকারী ক্ষমতার বস্তু হিসেবে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে ছিল এর ব্যবহার, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা, ঘর আলোকিত করা, কিংবা অন্ধকারে সেকালে আলোর উৎস মানেই প্রত্যেকটা ঘরেই ছিল এই হারিকেন নামক বস্তুটি, কিন্তু তাও আজ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। এটাও কেরোসিন দিয়েই জালানো হত, আগুন জ্বালানোর জন্য বিশেষ মেকানিজমে তৈরি আধা ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি সাইজের ফিতা দিয়ে নিচের তেল রাখার পাত্র থেকে টেনে উপরে আলো জ্বালানোর এক পদ্ধতি। বৈদ্যুতিক পাখার রেগুলেটর এর মত এর আলো বাড়ানো কমানোর জন্য এনালগ পদ্ধতির একটি চাকাও ছিল যা দিয়ে আলো বাড়ানো যেত এবং কমিয়ে রেখে মানুষ ঘুমিয়ে পড়তো। হ্যাজাক ও এই হাড়িকেন উভয়টির ক্ষেত্রে চারিদিকে বাতাস অপরিবাহী কাচের তৈরি বিশেষ চিমনি ছিল । এই হারিকেন ও আজকাল তেমন একটা দেখা যায় না বললেই চলে।

কুপি ছিল সর্বশেষ গ্রামীণ পরিবেশের রান্নাঘরের একটা ঐতিহ্যবাহী আলো দানকারী বস্তু, এই কুপি এবং হ্যারিকেন এর মধ্যে পার্থক্য ছিল তৎকালীন গ্রামের ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে পার্থক্যকারী একটি আলোর উৎস। গ্রামীণ পরিবেশে তুলনামূলক সম্পদশালীদের ঘরে হারিকেন দেখা গেলেও কুপির দেখা মিলত দরিদ্র পরিবার গুলোতে। তবে রান্নাঘর গুলোতে গ্রামের বিত্তশালীরাও সুবিধার জন্য এই কুপির ব্যবহার করত। এটি শুধুমাত্র মাথায় সলতে দিয়ে নিচের পাত্র থেকে তেল টেনে জ্বালানোর একটা সহজ পদ্ধতির যন্ত্রবিশেষ।
যুগের আবর্তে আজ এর সবগুলোই বিলুপ্ত প্রায়। শহুরে পরিবেশ গ্রামীন পরিবেশের মধ্যে বৈদ্যুতিক আলোর কারণে এখন আর তেমনটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। গ্রামে বিদ্যুৎ চলে আসার পর থেকে হ্যাজাকের কদর তেমনটা নেই, হারিকেন ও আর লাগেনা, আর কুপির ব্যবহারও নেই বললেই চলে। এভাবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়ের জনপ্রিয় প্রাচীনতম আলোর উৎস হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপি । শায়েস্তা খানের আমলে ১ টাকায় ১ মণ ধান পাওয়া গেলে বা একটা গরু মিললেও এখন যেমন তার পুরোটাই ঐতিহাসিক ঘটনা মনে হয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঠিক তেমনই মনে হবে এই হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপির গল্পগুলোও। নতুন প্রজন্মের কাছে আজ সেগুলো সবই শায়েস্তা খাঁর আমলের মতই যেন ইতিহাস।

বৈদ্যুতিক বিবর্তনে বিলুপ্ত গ্রামীণ হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপি
                                  

মোঃ তারিকুর রহমান :
এক সময় রাতের আঁধারে বিয়ে বাড়ি, জন্মদিন, ধর্মসভা, যাত্রাগান সহ গ্রামীণ সকল অনুষ্ঠানের আলোর একমাত্র উৎস ছিল এই হ্যাজাক লাইট যা কালের বিবর্তনে, বৈদ্যুতিক সাফল্যের কারণে আজ বিলুপ্তির পথে পুরনো ঐতিহ্যবাহী আলো দানকারী বস্তুটি। বিলুপ্ত প্রায় হারিকেন ও কুপি নামে আরো দুটি আলো দানকারী বস্তু। সবই চলত কেরোসিন তেলের মাধ্যমে। কুপির ব্যবহার কিছুটা এখনো পাওয়া যায় ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনে চরাঞ্চলে নতুন নতুন বসতি গুলোতে যেখানে বিদ্যুতের আলো নদী ভাঙ্গনের সাথে পাল্লা দিয়ে পৌঁছতে পারেনা, সেসব বাড়িতে। এর সবগুলোই আজ নতুন প্রজন্মের কাছে যেন শায়েস্তা খাঁর আমলের ইতিহাসের মত। প্রত্যন্ত গ্রামবাংলার প্রায় অনেক ঘরেই থাকতো হ্যাজাক লাইট। বাড়িতে ছোট-বড় কোন অনুষ্ঠান হলে সকালবেলায় শুরু হত দৌড়-ঝাপ। সন্ধ্যেবেলায় আলো দেয়ার জন্য ব্যবহার হত এই হ্যাজাক লাইট, চলে তাকে জ্বালানোর প্রস্তুতি। সাধারণত সবাই এ বস্তুকে জ্বালাতে পারতো না। সেরকম বিশেষ ব্যক্তিকে সেদিন পরম সমাদরে ডেকে আনা হতো। সেদিন তাঁর চাল-চলন থাকতো বেশ দেমাগি।

এই লাইট জ্বালানোর প্রস্তুতিটাও ছিল দেখার মত, অনেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতো তার কর্মযজ্ঞ, বাড়ির কচি-কাচারা এমনকি বড়রাও হ্যাজাক লাইট প্রজ্জ্বলন প্রস্তুতি দেখতে গোল হয়ে বসত। এরপর তিনি হ্যাজাকে তেল আছে কিনা পরীক্ষা করে নিয়ে শুরু করতেন পাম্প করা। একবার একটা পিন দিয়ে বিশেষ পয়েন্টে খোঁচাখুঁচি করা হত। তারপর একটা হ্যাজাকের নব ঘুরিয়ে কিছু জ্বলন্ত কাগজ তার সংস্পর্শে আনতেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠত। তখন শুরু হতো এই লাইটের গোড়ায় বিশেষ পদ্ধতিতে পাম্প দেওয়া। ক্রমেই হ্যাজাকের মাঝখানের ম্যান্টল থেকে বেশ উজ্জ্বল আলো বেরনো শুরু হত যা দেখতে প্রায়ই এখনকার বৈদ্যুতিক এলইডি বাল্ব এর আলোর মতো মনে হতো । আলো জলার সঙ্গে সঙ্গেই একটা বুকে কাপঁন ধরানো আওয়াজ তৈরি হত। আবার মাঝে মাঝে হ্যাজাকের ওপর দিয়ে দুম করে আগুন জ্বলে উঠত। আবার কখনও বা গোটাটাই নিভিয়ে যেত। সফলভাবে হ্যাজাক জ্বালানোর পর সেই ব্যক্তির মুখে ফুটে উঠত এক পরিতৃপ্তির হাসি। আর হ্যাজাকের সেই উজ্জ্বল আলোয় কচিকাচারা চলে যেত এক আনন্দের জগতে।

গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীনতম আলোর সরঞ্জাম হ্যাজাক লাইট। বিয়ে-শাদি, পূজা -পার্বণ, যাত্রাপালা, এমন কি ধর্ম সভায়ও ভাড়া দেওয়া হত এই হ্যাজাক লাইট।

কেমন ছিল হ্যাজাক?
দেখতে অনেকটা হ্যারিকেনের মতোই কিন্তু আকারে বেশ বড়। আর প্রযুক্তিও ভিন্ন রকম, জ্বলে পাম্প করে চালানো সাদা কেরোসিনের কুকারের মতো একই প্রযুক্তিতে। চুলার বার্নারের বদলে এতে আছে ঝুলন্ত একটা সলতে। যেটা দেখতে প্রায় ১০০ ওয়াটের সাদা টাংস্টেন বাল্বের মতো। এটি অ্যাজবেস্টরে তৈরি। এটা পুরে ছাঁই হয়ে যায় না। পাম্প করা তেল একটা নলের ভিতর দিয়ে গিয়ে স্প্রে করে ভিজিয়ে দেয় সলতেটা। এটা জ্বলতে থাকে চেম্বারে যতক্ষণ তেল আর হাওয়ার চাপ থাকে ততক্ষণ। তেলের চেম্বারের চারিদিকে থাকে চারটি বোতাম। একটি পাম্পার। একটি অ্যাকশন রড়। একটি হাওয়ার চাবি। আর একটি অটো লাইটার বা ম্যাচ। অ্যাকশন রডের কাজ হচ্ছে তেল বের হওয়ার মুখটা পরিষ্কার রাখা । হাওয়ার চাবি দিয়ে পাম্পারে পাম্প করা বাতাসের চাপ কমানো বা বাড়ানো হয়।
একবার হাওয়া দিলে জ্বলতে থাকে কয়েক ঘন্টা আর দের থেকে দুই লিটার তেলে জ্বলত সারা রাত। বর্ষার শুরতে এবং শীতের শুরুতেই যখন নদী-নালায় পানি কমতে থাকে তখন রাতের বেলায় হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে অনেকে মাছ শিকার করে। তবে এটা চলে বছরে মাত্র মাস দুয়েক। এই বাতির ব্যবহার অতি প্রাচীন। সাধারণত বাতি বলতে বুঝায় কুপি, টর্চ লাইট, হ্যারিকেন ও হ্যাজাক। বাতি হল সেই সরঞ্জাম যা অন্ধাকার দূর করতে ব্যবহার করা হয়। প্রাচীনকালে আগুনের ব্যবহারের মাধ্যমে বাতির প্রচলন হয়। প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে সবখানেই। ফিলামেন্ট বাতির বদলে এলইডি বাতির চলও নতুন নয়। তবে এলইডির সঙ্গেও এখন যুক্ত হয়েছে নানা রকম প্রযুক্তির বাতিও হয়েছে স্মার্ট। বাজার ঘুরে জানানো হচ্ছে বাসা-বাড়ি, অফিস, কারখানার নানারকম বাতির খোঁজ। হ্যাজাক লাইট মেরামতকারি রমেশ চন্দ্র দাস এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ২০ বছর আগে হ্যাজাকের ব্যবহার যতেষ্টো ছিল। তখন হ্যাজাক লাইট ঠিক করে আয় ভাল হত।

দিনে ৪-৫টি করে মেরামত করে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতাম। কিন্তু বর্তমানে হ্যাজাক লাইট নেই বললেই চলে। তাই এখন পেশা পরিবর্তন করে বাইসাইকেল(দিচক্রযান) এর মেরামতের কাজ করি। হ্যাজাক লাইটের ‘বানা’র কাজ হচ্ছে তেল সাপলাই দেওয়া, পিন: তেল বন্ধ করা এবং খোলা, মাটিরছিদ্র, ভেপার: তেল সাপলাই দিয়ে ম্যান্ডলে দেয়, ম্যাকজিনে ম্যান্ডল বাধা হয়, ম্যাকজিন তেল সাপলাই দেয়, চিমনি/কাচের কাজ হচ্ছে আলো বৃদ্ধি করা এবং এর নিচের অংশে সংযুক্ত স্টিলের তৈরি বিশেষ পাত্রে তেল ধরে দের থেকে দুই কেজি। এই তেল দিয়ে প্রায় সারা রাত চলে যেতো । সবার ঘরে না থাকায় অনেক সময়, প্রায় ৪০ বছর আগে এসব লাইট এক রাতের জন্য ১২৫-১৫০ টাকা করে ভাড়াও দেওয়া হত জৈষ্ঠ থেকে ফাল্গুন মাস পর্য়ন্ত মাছ শিকারের জন্য বলেও জানান- বর্তমানে হ্যাজাক ব্যবহার কারী , মজিবর রহমান( ৬০) ও আয়নাল হক( ৪৫)।

আরেকটি ছিল হারিকেন, তুলনামূলকভাবে এটি একটি ঘরে আলো দানকারী ক্ষমতার বস্তু হিসেবে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে ছিল এর ব্যবহার, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা, ঘর আলোকিত করা, কিংবা অন্ধকারে সেকালে আলোর উৎস মানেই প্রত্যেকটা ঘরেই ছিল এই হারিকেন নামক বস্তুটি, কিন্তু তাও আজ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। এটাও কেরোসিন দিয়েই জালানো হত, আগুন জ্বালানোর জন্য বিশেষ মেকানিজমে তৈরি আধা ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি সাইজের ফিতা দিয়ে নিচের তেল রাখার পাত্র থেকে টেনে উপরে আলো জ্বালানোর এক পদ্ধতি। বৈদ্যুতিক পাখার রেগুলেটর এর মত এর আলো বাড়ানো কমানোর জন্য এনালগ পদ্ধতির একটি চাকাও ছিল যা দিয়ে আলো বাড়ানো যেত এবং কমিয়ে রেখে মানুষ ঘুমিয়ে পড়তো। হ্যাজাক ও এই হাড়িকেন উভয়টির ক্ষেত্রে চারিদিকে বাতাস অপরিবাহী কাচের তৈরি বিশেষ চিমনি ছিল । এই হারিকেন ও আজকাল তেমন একটা দেখা যায় না বললেই চলে।

কুপি ছিল সর্বশেষ গ্রামীণ পরিবেশের রান্নাঘরের একটা ঐতিহ্যবাহী আলো দানকারী বস্তু, এই কুপি এবং হ্যারিকেন এর মধ্যে পার্থক্য ছিল তৎকালীন গ্রামের ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে পার্থক্যকারী একটি আলোর উৎস। গ্রামীণ পরিবেশে তুলনামূলক সম্পদশালীদের ঘরে হারিকেন দেখা গেলেও কুপির দেখা মিলত দরিদ্র পরিবার গুলোতে। তবে রান্নাঘর গুলোতে গ্রামের বিত্তশালীরাও সুবিধার জন্য এই কুপির ব্যবহার করত। এটি শুধুমাত্র মাথায় সলতে দিয়ে নিচের পাত্র থেকে তেল টেনে জ্বালানোর একটা সহজ পদ্ধতির যন্ত্রবিশেষ।
যুগের আবর্তে আজ এর সবগুলোই বিলুপ্ত প্রায়। শহুরে পরিবেশ গ্রামীন পরিবেশের মধ্যে বৈদ্যুতিক আলোর কারণে এখন আর তেমনটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। গ্রামে বিদ্যুৎ চলে আসার পর থেকে হ্যাজাকের কদর তেমনটা নেই, হারিকেন ও আর লাগেনা, আর কুপির ব্যবহারও নেই বললেই চলে। এভাবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়ের জনপ্রিয় প্রাচীনতম আলোর উৎস হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপি । শায়েস্তা খানের আমলে ১ টাকায় ১ মণ ধান পাওয়া গেলে বা একটা গরু মিললেও এখন যেমন তার পুরোটাই ঐতিহাসিক ঘটনা মনে হয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঠিক তেমনই মনে হবে এই হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপির গল্পগুলোও। নতুন প্রজন্মের কাছে আজ সেগুলো সবই শায়েস্তা খাঁর আমলের মতই যেন ইতিহাস।

বাহারি ফুলে রঙ্গিন ইবি ক্যাম্পাস
                                  

ইবি প্রতিনিধি :
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতির স্বর্গরাজ্যে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসটি তার অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য সকলের কাছেই পরিচিত। শীত মৌসুমে রঙ-বেরঙের ফুলের সৌরভে ক্যাম্পাসটি যেন স্বর্গীয় রূপ ধারণ করেছে। ইট পাথরের তৈরি ভবনগুলোর সামনে দ্যুতি ছড়াচ্ছে বাহারি রকমের ফুল। নজড়কাড়া এসব ফুলের স্নিগ্ধতা মুগ্ধ করছে সকলকে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, প্রশাসন ভবন এলাকা, প্রকৌশল অফিস, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং বিভিন্ন হল ও একাডেমিক ভবনসমূহের সামনে দেখা মিলছে বাহারি ফুলের সমারোহ। ছাত্রীহল এলাকায় রাস্তার দুই ধার দিয়ে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ফুলের সারি। এর মধ্যে রয়েছে গাঁদা, ডালিয়া, জিনিয়া, গোলাপ, রঙ্গন, জারবিরা, জবা, ঝাউ, হাসনাহেনা, বেলি, ফায়ারবল, নয়নফুল, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগঝুটি সহ আরো আছে কসমস, জুঁই, চামেলি, টগর, বেলি, ক্রিসমাস ও পাতাবাহারসহ নানান জাতের ফুল। এসব ফুলের মন মাতানো সৌন্দর্যে সুশোভিত গোটা ক্যাম্পাস। দেখলে মনে হবে যেন শিল্পীর রঙ তুলিতে আঁকা নয়ন জুড়ানো কোনো ছবি। ক্লাস শেষে কিংবা অবসর সময় কাটাতে ফুল বাগানের পাশে খোশ গল্পে মেতে উঠছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের কেউ গল্পের অগোচরে প্রেয়সীর খোপায় ফুল গুজে দিচ্ছে আবার কেউবা প্রিয় মানুষটিকে ফুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করছে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের অপার এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন হাজারও পেশার মানুষ। সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা মেতে উঠছে সেলফিতে। ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রাণের এই ক্যাম্পাস ছেড়েছি ৯ বছর হলো। হৃদয়ের আর্কাইভে এখনও ক্যাম্পাসের স্মৃতিগুলো জীবন্ত। কাজের ফাকে একটু সময় পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসি এখানে। এই শীত মৌসুমে ফোটা ফুলগুলোর জন্য ক্যাম্পাসটা আরও সুন্দর লাগছে। লোক-প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিফা তাসনিন বলেন, ফুলের চাদরে মোড়ানো ক্যাম্পাস এক মায়াবি রূপ ধারন করেছে। ক্যাম্পাসের এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ। সারা বছর ইবির বুকে ফুটে থাকুক এমন হাজারো নয়নয়ভিরাম ফুল।

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্প
                                  

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর দাপটে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দিনাজপুরের বিরামপুরে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের কদর একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি। এক সময় গ্রামীণ জনপদে মানুষ গৃহস্থালি কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাশের সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হলেও এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্পটি। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হত বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে চিরচেনা চিত্র।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর, মির্জাপুর, মুকুন্দপুর, বিশ্বনাথপুর ও কেটরাহাটসহ কয়েকটি গ্রামে মাহালী পরিবার ঐতিহ্য ধরে রাখাসহ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেতের শিল্পকে আকড়ে ধরে রেখেছেন একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। সরেজমিনে দেখা যায়, মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর কদর দিন দিন বেড়ে যাওয়া এই কুটির শিল্পের চাহিদা এখর আর নেই। তাছাড়াও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। বাজার গুলো দখল করেছে প্লাস্টিক ও এ্যালুম্যানিয়াম। দেখা মিলে না আর বাঁশ ঝাড়। তাছাড়াও প্লাস্টিক পণ্য টেকসই ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ মেলামাইন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর ওপর।

জানা যায়, এক সময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থাথী ও সৌখিন পণ্যসামগ্রী। বাঁশ ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এসব পণ্য বিক্রি করেই চলতো তাদের জীবন যাপন। এখনো গ্রামীণ উৎসব ও মেলা গুলোতে বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি খাল, চাটাই, খালুই, ধামা, টোনা, পাল্লা, মোড়া, বুক সেল্ফ কদাচিৎ চোখে পড়ে। যেখানে তালপাতার হাত পাখারই কদর নেই, সেখানে এসব পণ্য পাওয়ায় ভাগ্যের ব্যাপার। যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্তশিল্পের চাহিদা। মূল্যবৃদ্ধি, বাঁশ-বেতের দুষ্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে প্লাস্টিক, সিলভার ও মেলামাইন জাতীয় হালকা টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে গ্রামীণ হস্তশিল্পের পণ্যকে হটিয়ে দিয়েছে। চাঁদপুর গ্রামের বাঁশ-বেত শিল্প বিক্রি করতে আসা চিত্তরঞ্জন পাহান বলেন, বাঁশ-বেত শিল্পের দুর্দিনে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক পরিবার এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছে। অনেকে এ পেশা বদলে অন্য পেশায় গেলেও পূর্বপুরুষের হাতেখড়ি পেশাকে কিছুতেই ছাড়তে পারেননি ।

হলুদ চাদরে ঢেকে আছে মাঠ
                                  

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদঃ
প্রকৃতির ষড় ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেমনি প্রকৃতির রূপ বদলায়, তেমনি বদলায় ফসলের মাঠ। এখন হলুদ চাদরে ঢাকা  দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপলোর মাঠ। মাঠ জুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। দুচোখ যেদিকে যায়, সেদিকে শুধু মন জুড়ানো সরিষা ফুলের মনোরম দৃশ্য। গাঢ় হলুদ বর্ণের সরিষার ফুলে ফুলে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের জন্য গুনগুন করছে। চলছে মধু আহরণের পালা। মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে মাঠে নেমেছে। শীতের শিশির সিক্ত মাঠভরা সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। মানুষের মনকে পুলকিত করছে। সরিষার খেতগুলো দেখে মনে হয় কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। এখন শুধু দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে। সরিষা প্রধানত আবাদ হয় দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে তথা বিশেষ করে নদী বিধৌত এলাকায়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দু-একটি চাষ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা হয়। সেচ ও সার লাগে কম তা ছাড়া সরিষার পাতা একটি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াঘাট উজেলায় এ বছর ১১৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন কৃষকেরা। গত বছর চাষ হয়েছিল ৩৩৫ হেক্টর জমিতে।এর মধ্যে কিছু কিছু জমিতে মধু আহরণের জন্য চাষিরা মধু সংগ্রহের বাক্স বসিয়েছেন। তেল, বীজ, মধুর পাশাপাশি কৃষকরা সরিষা থেকে উন্নত গো-খাদ্যও তৈরি করতে পারবে বলে আশাবাদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গা, নারায়ণপুর, রামপাড়া, সাতপাড়া, গোবিন্দপুর, গুাগাছী, ঘনকৃঞ্চপুর, মারুপাড়া, ভর্নাপাড়া, চাঁদপাড়া, কুমুরিয়া, রামনগর, খাইরুল, বুলকীপুর ইউনিয়নের কৃঞ্চরামপুর, জয়রামপুর, কলাবাড়ী, বিন্যাগাড়ী, রঘুনাথপুরসহ উপজেলার ও বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ জুড়ে হলুদে ছেয়ে গেছে।

কৃষক সামসুল ইসলাম বলেন, সরিষা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমি ২ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। আশা করছি এবার সরিষা চাষে লাভবান হতে পারব।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ এখলাস হোসেন সরকার বলেন, সরিষা প্রধানত আবাদ হয় দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে তথা বিশেষ করে নদী বিধৌত এলাকায়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে দু-একটি চাষ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপন করা যায়। সেচ ও সার লাগে কম তা ছাড়া সরিষার ঝরে পড়া পাতা ফুল একটি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উপজেলার সকল প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ সরিষার বীজ, সার, বিনামুল্যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরিষা চাষে খরচ কম হওয়ার কারণে সরিষা চাষ করে খুবই লাভবান হওয়া যায়। সরিষা থেকে ভালোমানের তেল উৎপাদন হয়। সরিষা থেকে তৈরী খৈল গরুর খাদ্য হিসেবে খাওয়ানো হয়। এতে প্রচুর পুষ্টি থাকে। এবার ১১৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গতবার সরিষা চাষ করা হয়েছিল ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে ৩৩৫ হেক্টর জমিতে বেশী সরিষা চাষ হয়েছে।

ধার করা ক্যামেরায় বানানো সিনেমাটি জিতলো কান চলচ্চিত্র পুরস্কার
                                  

রাবি প্রতিনিধি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাহি আবদুল্লাহ। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনেকে এই সময়টা অলসভাবে কাটালেও একটু ব্যতিক্রম রাহি। এক রাতে লিখেন ছোট্ট একটি গল্প। নিজের ক্যামেরা না থাকায় বন্ধুর থেকে ধার করা ক্যামেরায় গল্পটাকে রূপ দেয় সিনেমায়। এভাবেই ‘টেনর’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করেন তরুণ নির্মাতা রাহি আবদুল্লাহ। সিনেমাটি ইতোমধ্যে জিতেছে ফ্রান্সের কান ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল পুরস্কার। তার নির্মিত ‘টেনর’ তাকে এনে দিয়েছে ‘বেস্ট ইয়াং ফিল্ম মেকার’-এর স্বীকৃতি। রাহি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুরুটা যেভাবে:
করোনা মহামারির কারণে হঠাৎ বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাড়িতে চলে আসে রাহি। এক রাতে লিখেন ‘টেনর’ নামক গল্প। ইচ্ছে হলো গল্পটা দিয়ে সিনেমা বানানোর। এর আগেও এমন শর্টফ্লিম বানিয়েছে সে। প্রথমেই সমস্যা বাঁধলো সিনেমা বানানোর খরচ নিয়ে। কোথায় পাবে সিনেমা বানানোর খরচ? শেষ পর্যন্ত দুজন যৌথ্যভাবে এগিয়ে আসেন।

ধার করা ক্যামেরায় শুটিং:
সিনেমা শুট কারার জন্য প্রয়োজন ভালো মানের ক্যামেরা। কিন্তু টিমের কারো ক্যামেরা ছিলো না। আর এদিকে সারাদেশ লকডাউন, বাইরে থেকে ক্যামেরা নিয়ে এসে শুট কারার অবস্থাও ছিলো না। তাই এক বন্ধুর ক্যামেরা ধার করে কাজ শুরু করে। অর্ধেক কাজ শেষ হতেই সেই ক্যামেরা ব্যক্তিগতকাজে নিয়ে যায় বন্ধুটি। আরেক বন্ধুর থেকে ধার করেন ক্যামেরা। রাহি বলেন, প্রথমে এক বন্ধুর থেকে ক্যামেরা ধার করি। সেটা বন্ধু ব্যক্তিগত কাজে বগুড়াতে পাঠিয়ে দেয়। তারপর আরো একটি সাধারণ ক্যামেরা ধার করি। যেটা দিয়ে কোনোরকম ভিডিও করা যায়।

কাজের অভিজ্ঞতা:
‘টেনর’ তৈরির কাজ শুরু হয় লকডাউনে। চোর-পুলিশ খেলার মাধ্যমে শেষ করেন সিনেমার কাজ। রাহি বলেন, বাড়ি থেকে শুটিং স্পট ছিলো প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে। চোর-পুলিশ খেলার মধ্যমে শুটিং করি। খুব সকালে শুটিং স্পটে চলে যেতাম। কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে ৫টা বেজে যেতো। এভাবে টানা ১২দিন শুট করি।

এক পর্যায়ে সিনেমা বানানোর জন্য যে বাজেট ছিলো তা শেষ হয়ে যায়। শঙ্কা ছিলো কাজ শেষ করা নিয়ে। রাহি বলেন, প্রতিদিন শুটিং স্পটে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া, ভাড়া সবমিলিয়ে যে বাজেটটা পেয়েছিলাম তা শেষ হয়ে যায়। টিমের একজনের সহযোগিতায় কাজটা শেষ হয়।

ভিডিও সম্পাদনায় বিপত্তি:
ভিডিও সম্পাদনার জন্য ছিলো না ভালো ডিভাইস। যা ছিলো তা দিয়ে ভিডিও সম্পাদন করার মতো অবস্থা নেই। এদিকে আবার ভিডিও সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে ঝামেলা হয়। রাহি বলেন, টিমের এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় সম্পাদনার কাজে আমি নিজেই হাত দেই। শেষ সম্পাদনাটা আমি করি। টানা চাররাত না ঘুমিয়ে কাজটা শেষ করি। এটাকে শেষ বলা যায় না, কোনো রকম ভিডিওটা দাঁড় করিয়ে ফ্যাস্টিভ্যালে জমা দেই।

আঞ্চলিক সিনেমা ‘টেনর’:
‘টেনর’ স্বপ্লদৈর্ঘ্য সিনেমাটি রংপুরের ভাষাকে কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে কুড়িগ্রামের ভাষা। সিনেমাটিতে রয়েছে একটি বাউল গান। যাকে রংপুরের ভাষায় ‘ভাওয়াইয়া’ সংগীত বলা হয়। নির্মাতা রাহি বলেন, আমাদের দেশে বরিশালের ভাষার প্রচুর নাটক হয়। কিন্তু রংপুরের ভাষায় হয় না। আমি চেয়েছি আমার অঞ্চলের ভাষাটা আর্কাইভ হয়ে থাকুক। তাই আঞ্চলিক ভাষায় সিনেমাটি নির্মাণ করা।

কান চলচ্চিত্র পুরস্কার:
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ফ্রান্সের কান ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কারে মনোনিত হয় ‘টেনর’। রাহি আবদুল্লাহর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটি তাকে এনে দিয়েছে ‘বেস্ট ইয়াং ফিল্ম মেকার’-এর স্বীকৃতি। নভেম্বর মাসে রাহির ‘টেনর’ ছাড়াও আরো একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র এই পুরস্কার লাভ করে। সম্প্রতি কান ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নভেম্বর মাসে নির্বাচিত সেরা চলচ্চিত্রগুলোর নাম প্রকাশ করেছে।

রাহি বলেন, প্রতিমাসে হাজার হাজার সিনেমা সাবমিট হয় কান ফেস্টিভ্যালে। এর মধ্যে প্রতি বছরে ২০-২৫টি সিনেমাকে তারা অ্যাওয়ার্ড দেয়। সেখানে আমার সিনেমা পুরস্কার পাওয়া সত্যিই আনন্দের। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেই সিনেমাটি বানানো। কখনো ভাবিনি সিনেমাটি আন্তর্জাতিক দর্শন দেখবে। মূলত গল্পের কারণে সিনেমাটা বাইরের দেশেও সাড়া পেয়েছে। ইতোমধ্যে ‘টেনর’ পেয়েছে মোট ৭টি পুরস্কার। এছাড়াও জায়গা করে নিয়েছে দেশ-বিদেশের ৪১টি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

সাতক্ষীরায় হলুদ চাষে কৃষকের বাম্পার ফলনের আশা
                                  

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:


সাতক্ষীরায় এবার হলুদের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে এবার ২ হাজার ২৫৬ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ বৃদ্ধি পেয়ে জেলার ১১ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে। হলুদের সমারোহে সজ্জিত সরিষার ফুলে দুলছে জেলার প্রয় এক লাখ ৯০ হাজার কৃষকের স্বপ্ন। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দিগন্তজোড়া মাঠ এখন হলুদ আর হলুদ। জেলায় প্রকৃতি সেজেছে হলুদ বরণ সাজে’।

সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর হেক্টর প্রতি গড় ১৪০ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলার সাত উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

সাতক্ষীরা সদরে ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন, কলারোয়ায় ৬ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন, তালায় ৫০০ হেক্টর জমিতে ৭০০ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ৯৭০ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ৪৯০ হেক্টর জমিতে ৬৮৬ মেট্রিক টন, আশাশুনিতে ২১০ হেক্টর জমিতে ২৯৪ মেট্রিক টন ও শ্যামনগরে ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ মেট্রিক টন। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এবার জেলার এক হাজার ১৯ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কম হয়েছে।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ২২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কমে যেয়ে ৩ হাজার ৪২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কমে ৬হাজার ৬হেক্টর, দেবহাটায় ১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কমে ৯৬০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১৯৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কমে ২৯৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ২০হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কমে যেয়ে ১৯০ হেক্টর ও শ্যামনগরে কৃষিবিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কমে ৫০ হেক্টর জমিতে এবার সরিষার চাষ হয়েছে। তবে, জেলার সাত উপজেলার ভিতরে ছয় উপজেলা সরিষা চাষে কৃষিবিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পিছিয়ে থাকলেও বাকি একটি উপজেলা তালায় কৃষিবিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের মতো এবারও সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কারণ হিসেবে অসময়ের বৃষ্টি, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করছে কৃষি বিভাগ।

তালার কৃষক রহিম বক্স জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। আশা করছেন ভালো ফলন পাবেন। কলারোয়ার কৃষক রবিউল হাসান ও আরশাদ আলী জানান তারা দুইজন পাশপাশি সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তারা এবারও আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা করছেন।

সরজমিনে জেলার কলারোয়া, সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের আবাদকৃত জাতের মধ্যে রয়েছে বারি-৯, ১৪, ১৫ ও ৪, টরি-৭ ও স্থানীয় জাত। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে বারি-১৪ ও ১৫ জাতের সরিষার চাষ। সরিষার জমিতে ফুলে ফুলে মৌমাছি মধু আহরণ করছে। চারিদিকে প্রকৃতির বুকে সুন্দরের আগুন। প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে। রাস্তার দুই পাশে সরিষার হলুদ ফুলে ভরা দিগন্তজাড়া মাঠ। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে আসে। মন চায় সে হলুদের মাঝে হারিয়ে যেতে। মাঠ ভরা সরিষা ক্ষেতের হলুদ মাঠে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে মৌমাছিরা মনের আনন্দে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। যেন হলুদের মাঠে কৃষকের স্বপ্ন খেলা করে। তবে আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষকরা।

প্রচারবিমুখ এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘মেজর ওয়াকি’
                                  

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
মেজর (অব.) আলী ওয়াকি উজ-জামান। স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন ভারতের কৈলাশ শহর সাব-সেক্টর কমান্ডার। তিঁনি ১৯৭১ এর ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজার সীমান্ত এলাকায় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মুক্তিবাহিনী সংগঠিত ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সফল নেতৃত্ব দিয়ে তিঁনি মিত্র বাহিনীর ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশ শহর সংলগ্ন হওয়ায় এটি কৈলাশ শহর সাব- সেক্টর নামকরণ করা হয়। যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে অবশ্য এর নাম মৌলভীবাজার করা হয়। মেজর আলী ওয়াকি উজ্জামান এই সাব সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।

কৈলাশ শহর সাব-সেক্টরে যোগদানের পর চুড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত তিঁনি কুলাউড়া উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের নৌখোঁজার দখল ধরে রাখতে সক্ষম হন। নৌখোঁজার অবস্থান ছিল উভয় পক্ষের কাছে এ অঞ্চলের ভৌগলিক ও কৌশলগত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর নেতৃত্বে ৭১ সালে শমসেরনগর চা কারখানায় পাক সেনা ক্যাম্প আক্রমন, সিলেটের নাইরপুল এলাকায় টেলিফোন ডিপি পাওয়ার স্টেশন ধ্বংস, কমলগঞ্জ মনু ব্রীজ দখলের মতো সফল অভিযানের নেতৃত্ব দেন এই সামরিক অফিসার। যুদ্ধকালিন গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অঞ্চল নৌখোঁজা এলাকার দখল ধরে রাখার কৃতিত্বের জন্য তিঁনি মিত্র বাহিনীর প্রশংসা অর্জন করেন। ৪নং সেক্টর কমান্ডার চিত্ত রঞ্জন দত্ত মেজর (অব.) আলী ওয়াকি উজ-জামান  সম্পর্কে তার আত্ম জীবনীতে বলেছেন-‘ কৈলাশ শহর সাব-সেক্টর কমান্ডার লে. ওয়াকিউ উজজামান নয় মৌজায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এত বড় একটি এলাকা মুক্ত ও  দখল ধরে রাখার জন্য এই তরুণ অফিসারকে প্রশংসা না করে পারা যায় না। এই সাব সেক্টর ডিসেম্বরের দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ মুক্ত করে সিলেটের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল এবং ভারত যখন যুদ্ধ ঘোষনা করলো তখন এই সাব সেক্টর ভারতের ৫৯ ভারতীয় বিগ্রেডের সঙ্গে সিলেটে প্রবেশ করেছিল’।

কৈলাশ শহর সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার কুলাউড়া থানার শরিফপুর ইউনিয়নের নৌখোঁজা সীমান্তে একটি কাস্টম পোস্ট ছিল। নৌখোঁজার নয়টি গ্রাম দখল করে সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার স্থাপন করে এলাকাটি শত্রু মুক্ত রাখার কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠায় আলী ওয়াকি উজ্জামানের দুঃসাহসিকতার পরিচয়।

মেজর আলী ওয়াকিউজ জামান ১৯৪৯ সালের ১৩ এপ্রিল ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জন্মগ্রহন করেন। গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। বাবা সুবেদার মেজর (অবঃ) নাইমুজ্ জামান চৌধুরী পাকিস্তানী আর্মি অফিসারের চাকুরীর সুবাদে তিঁনি চট্টগ্রাম ফৌজদারহাট ক্যান্টঃ পাবলিক স্কুল, কক্সবাজার সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট এবং পরবর্তিতে রাওয়ালপিন্ডির একটি কলেজে পড়াশুনা করেন। কুমিল্লা ক্যান্টঃ স্কুল থেকে এসএসসি, রাওয়ালপিন্ডি গভর্মেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং সেখান থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ২৫ মার্চের পরবর্তি পরিস্থিতিতে পাক আর্মি অফিসারদের নজর এড়িয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মেজর আলী ওয়াকি উজ্জামানের পরিবার ভারতের করিমগঞ্জের মাদ্রাসায় স্থাপিত একটি শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে মুক্তি বাহিনীতে নাম লেখান। ভারতের মূর্তি ক্যাম্পে দীর্ঘ সময় সামরিক প্রশিক্ষন গ্রহন করে কমিশন লাভ করেন। এরপর ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তিনি পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা ও একাধিক দু:সাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। সিলেট শহরে পাক বাহিনীর সামরিক তথ্য সংগ্রহ ও নাইরপুল টেলিফোর একচেঞ্জ ডিপি বক্স ধ্বংসের মতো দু:সাহসিক আলোচিত অভিযানের সফল নেতৃত্ব দেন। ভারতের মূর্তি ক্যাম্পে গেরিলা ও গোয়েন্দা সামরিকে পরবর্তিতে তাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ নং সেক্টরে সংযুক্ত করে সাব সেক্টর মর্যদায় ভারতের কৈলাশ শহর সাব সেক্টরে প্রেরণ করা হয়।

ব্যক্তি জীবনে খুবই আত্মপ্রচারণা বিমূখ। বর্তমানে আমেরিকা বসবাস করছেন। সম্প্রতি দেশে এসছেন পারিবারিক কাজে। পায়ে যুদ্ধের ক্ষত চিহ্ন। চলাফেরা করেন হুইল চেয়ারে। গত ১৫ ডিসেম্বর সিলেট নগরীর সেনপাড়া বাসভবনে কথা হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে। যুদ্ধের প্রসঙ্গ আসতেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। বলেন, ‘সে অনেক কথা। আব্বা বাঙ্গালি মিলিটারী অফিসার ছিলেন- যে কারণে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে ভাষনের পর পাক সেনা কর্মকর্তাদের বাসায় আনাগোনা বেড়ে যায়। এটা খুবই উদ্বেগের ছিল। সবকিছু বিবেচনায় ভেতরে ভেতরে আব্বা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। কিন্তু  সেই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়াটা ছিল দু:সাহসিক চ্যালেঞ্জ। সব কিছু উপক্ষো করে অনেক ঝড় ঝাপটা পেড়িয়ে আব্বা আমাদের ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে গেলেন। ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে ভারতের করিমগঞ্জ শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিলাম। কিন্তু কে জানতে সেখানে আমাদের জন্য আরেক বিপদ অপেক্ষা করছিল। বাবা পাক আর্মি অফিসার হওয়ায় ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দাদের নজর বন্দী ছিলাম অনেকদিন। তবে, শরনার্থী শিবিরে মানুষের দুর্দশা দেখে প্রচন্ড ঘৃণা থেকে জন্ম নেয়া প্রতিশোধের আভিপ্রায়ে হানাদারদের রুখে দাঁড়াবার জন্য উদ্গ্রিব হয়ে পড়ি। অনেক দিনের লালিত ইচ্ছা জন্মভুমি পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানী হায়েনাদের কবল থেকে মুক্ত করার। আব্বা মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর মায়ের চোখে পানি রেখে আমি মুক্তিবাহীনিতে যোগ দিলাম। পরর্বিতে মিত্র বাহিনীর ইকো সেক্টর হেড-কোয়ার্টার ও ভারতীয় ডিভিশন হেড কোয়ার্টারের অপারেশন বিভাগ থেকে গেরিলা ও গোয়েন্দা বিষয়ক বিভিন্ন রণ কৌশলের উপর  সামরিক প্রশিক্ষণ ও কমিশন্ড লাভ করি’।

তিনি বলেন, ‘৯ মাসের মরনপণ যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একজন যোদ্ধা হিসেবে গর্বে বুকটা ভরে উঠে। পাশাপাশি যুদ্ধে হারানো অনেক সহযোদ্ধাকে মনে পড়ে’। তিনি বলেন, ‘এটুকু প্রত্যাশা- এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আমরা যেন কখনো ভুলে না যাই’।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মেজর আলী ওয়াকি উজ্জামান দেশ গঠনে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আহবানে বাংলাদেশ সেনাবহিনীতে যোগদেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৮ বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র প্রতিষ্ঠিাতা এ্যাডজুটেন্ড ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-৭৩ সালে সৈয়দপুর ১৭ বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র কোয়ার্টার মাষ্টার নিযুক্ত হন। এসময় তিনি নওগাঁ জেলার আত্রাই এলাকায় নকশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেন। ৭৪ সালে যশোর ১২ বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র অধীন কমান্ডো ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। এসময় শিপাহী বিপ্লব দমনে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট’এ সংযুক্ত করা হয় তাঁকে। রংপুর ২৪ বেঙ্গল রেজিমেন্ট’র উপ-প্রধান অধিনায়ক, সৈয়দপুর আর্মি এডুকেশন এডমিনিষ্ট্রেশন ইনষ্টিটিউট এর প্রশাসক ও প্রশিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিঁনি। ১৯৮৩ সালে সেনাবহিনী থেকে অবসরে আসেন। ব্যক্তি জীবনে ২ পুত্র সন্তানের জনক মেজর আলী ওয়াকিউজ জামান ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টের নাগরিকত্ব লাভ করলে কনিষ্ঠ ছেলে ওয়াসিমুজ জামান রণি ও গৃহিনী স্ত্রী ফৌজিয়া জামান সমেত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ সাজে বিস্তীর্ণ মাঠ
                                  

মিলন শেখ, সিরাজগঞ্জঃ
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ সরিষা ফুলের হলুদ পশরা সাজিয়ে প্রকৃতিকে অপরূপ সৌন্দর্যে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। প্রকৃতি সেজেছে হলুদ রঙের সমারোহে। মৌমাছি, প্রজাপতির অবিরাম খেলায় গ্রামীণ জনপদকে আরো মনোমুগ্ধকর করেছে। এই অপরূপ দৃশ্য যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে আকৃষ্ট করে তোলে।

চাষের সময় ও খরচ দুটোই কম হওয়ায় কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় সরিষা চাষ। গত কয়েক বছরে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে এ শস্যটির ফলনও আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনে দিনে বাড়ছে সরিষার চাষ। এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে। ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১২ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে বেশী সরিষা চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটেতে শুরু করেছে এক সপ্তাহ আগেই।

ঠিক সেই সময় মেতে উঠেছে মধু সংগ্রহে মৌয়ালরা। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে এসব জমির পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন পেশাদার মৌয়ালরা। ওইসব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি বের হয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন পর্যন্ত মধু সংগ্রহে শাহজাদপুরে এসেছে ৫টি মৌ-খামারী। ৫ টি মৌ খামারে ৭৫১ টি মৌ-বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শাহজাদপুরের টেটিয়ার কান্দা মাঠে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহকারী মো. ইমরান সরকার মৌয়াল জানান, তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পোষা মৌমাছির ১০০টি বাক্স নিয়ে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করছেন। তিনি এ বছর প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৭০ থেকে ৩১০ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারছেন। এখানে সরিষার ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করে তিনি অধিক লাভবান হয়েছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে বারি, টরি, ও বিনার উদ্ভাবিত সরিষার জাতগুলোর ফলন বেশি। এ কারণে চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন সরিষা চাষে। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দস ছালাম বলেন, বোরো ধান রোপণের আগে একটি বাড়তি অর্থকরি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করে শাহজাদপুরের কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। আবার ওইসব সরিষার ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে লাভবান হচ্ছন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পেশাদার মৌয়ালরা। অন্য অঞ্চল থেকে আসা মৌ চাষিদের আমরা নিরাপত্তা সহ সকল প্রকার সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

মেহেদী পরিয়ে আয় করছেন নুসরাত মারিয়া
                                  

মাদারীপুর প্রতিনিধি :
ছোটবেলা থেকেই মেহেদী পরার প্রতি খুব বেশি ঝোঁক ছিলেন নুসরাত জাহান মারিয়ার। সেই আগ্রহ থেকেই আজ তিনি সফলভাবে মেহেদী পরিয়ে আয় করছেন। মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজির হাওলা গ্রামের কাজী দেলোয়ার হোসেন ও শিক্ষিকা নুরজাহান বেগমের মেয়ে নুসরাত জাহান মারিয়া। অর্নাস চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। পড়াশুনার পাশাপাশি শখের বশে মেহেদী পরানোর কাজ করছেন মারিয়া।
 
নুসরাত জাহান মারিয়া বলেন, মেহেদী ছাড়া যেন ঈদই পরিপূর্ণ হতো না। তাই প্রতি বছর চাঁদরাতেই পাশের বাসার এক বড় আপুর কাছে মেহেদী পরতে যেতাম। আশেপাশের আরো অনেকেই যেতো ওই আপুর কাছে। একবছর ঈদে সেই আপুর কাছে গিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা বসে থাকার পরেও সিরিয়াল পাচ্ছিলাম না। তখন বিরক্ত হয়ে বাসায় চলে এসে আম্মুকে বললাম ‘এখন কি করব আমি’। আম্মু বলল নিজে নিজেই চেষ্টা করো। যেমন হয় হবে। সে বারই আমি প্রথম নিজে নিজে মেহেদী পরি। দেখলাম যে ওই প্রথমবারই সেই বড় আপুর চেয়ে আমি ভালো ডিজাইন করলাম। তারপর থেকে আমাকে আর অন্য কারো কাছে মেহেদী পরতে যেতে হয়নি। বরং আশেপাশের অনেকেই তখন আমার কাছে আসত মেহেদী পরতে। এভাবেই অনেক বছর পার হয়ে গেলো। তারপর থেকে আমি যখনই নিজের হাতে মেহেদী পরতাম সেটা আমার ফেসবুকে আপলোড করতাম। এরপর হঠাৎ একদিন এক পরিচিত বড় আপু আমাকে কল দেন তার এক কাজিনের বিয়েতে মেহেদী পরানোর জন্য। কিন্তু একটা ব্যক্তিগত কারণে সেদিন মাদারীপুরের বাইরে যেতে হয়েছিল বলে কাজটা করতে পারিনি। আপু আমাকে ফেসবুক পেজও খুলতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি খুব একটা পাত্তা দেইনি। আর মেহেদীটাকে আমি সবসময় শখ হিসেবেই দেখতাম। ব্যবসায়ীক দিক থেকে কখনো বিবেচনা করিনি।

নুসরাত মারিয়া আরো বলেন, ২০২০ সালে যখন করোনা ভাইরাসের কারণে প্রথম লকডাউন শুরু হলো তখন সারাদিন ঘরে শুয়ে বসে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। তখনই আমার হাজবেন্ড মাসুদুর রহমান একদিন আমাকে বলল ‘তুমিতো মেহেদী নিয়ে একটা পেজ করতে পারো’। সে আমাকে খুব অনুপ্রেরণা দিল। সাহস জোগালো। আমিও খেয়াল করলাম আশেপাশের অনেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনলাইন ব্যাবসা করছেন। কিন্তু মেহেদী পরানোর কাজ নিয়ে মাদারীপুরে তেমন কোনো পেজ নেই। তখনই ‘মেহেদী আটস্ বাই মারিয়া’ (Mehendi arts by Maria) নাম দিয়ে একটা পেইজ করে নিলাম। এরপর থেকেই শুরু হলো মেহেদী নিয়ে আমার ব্যবসায়ীক জীবন। মাদারীপুরের বিভিন্ন জায়গায় থেকে বিভিন্ন সময় পেজে মেসেজ আসে। অনেকসময় ফোনকলও আসে। প্রথম দিক থেকে যাতায়াত নিয়ে একটু ভয়ে ছিলাম। কিন্তু হাজবেন্ড যেহেতু সাপোর্টে ছিল সে-ই আমাকে সবসময় ক্লায়েন্টের বাসায় পৌঁছে দিত। কাজ শেষ হওয়ার আগে গিয়ে নিয়ে আসত। এভাবেই আমি আজ অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার পেয়ে আয় করছি। কোন দিন ভাবিনি শখটা একদিন আয়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে। সবই সম্ভব হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে।
 
নারী উন্নয়ন সংস্থা নকশি কাথার সদস্য তানমিরা সিদ্দিকা জেবু বলেন, করোনাকালীন সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। তেমনি ভাবেই একটি ভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন নুসরাত জাহান মারিয়া। সে আজ ‘মেহেদী আটস্ বাই মারিয়া’ (Mehendi arts by Maria) নামে অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার পেয়ে ব্যবসা করছেন।

কুমড়ার বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত গৃহিনীরা
                                  

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কুমড়ার বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত গৃহিণীরা। শীতকালীন রসনা বিলাসের অন্যতম সুস্বাদু খাদ্য কুমড়ার বড়ি। এখন শুধু গ্রাম অঞ্চলেই নয়, শহরেও কুষ্টিয়ার তৈরি কুমড়ার বড়ির চাহিদা বেশি।

এই কুমড়া বড়ির চাহিদা থাকায় জেলার বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবেও বড়ি তৈরি হচ্ছে। দেশব্যাপী কুমড়া বড়ির চাহিদা থাকায় কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুমড়ার আবাদ হয়ে থাকে। এ কুমড়ো দিয়েই তৈরি করা হয় বড়ি।

প্রায় ২ যুগ ধরে এ বড়ি তৈরি করে কুষ্টিয়ার ৫ শতাধিক পরিবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারাবছর ছাড়াও শীত মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকায় কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কুষ্টিয়ার জগতি ও লাহিনীর ‘কুমড়া বড়ি পল্লীর’ সকলে। সেখানে শুরু হয়েছে শীতকালীন রসনা বিলাসের জন্য অন্যতম সুস্বাদু খাদ্য ‘কুমড়া বড়ি’ বানানোর ধুম।

শীতকালীন সব ধরনের তরকারিতে বাড়তি স্বাদ আনয়নের জন্য কুমড়া বড়ির কদর এখন গ্রাম ছাড়িয়ে শহরেও সমাদৃত হয়ে সমভাবে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষেরই নিত্যদিনের খাবারে তরকারীর অতি প্রিয় অনুষঙ্গ এ কুমড়া বড়ি।

মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের আলেয়া খাতুন বলেন, পাকা ও পরিণত চালকুমড়া কুঁরে তার সাথে মাস কালাই কিংবা কালাই বেঁটে পাঁচফড়ং ও কালোজিরা দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয় এই কুমড়া বড়ি।

কুমড়া বড়ি তৈরিতে বেশ পরিশ্রম ও ঝক্কি ঝামেলাও পোহাতে হয় বাড়ির বৌ-ঝিদের। আবার বড়ি তৈরির পর যদি তীব্র রোদ কিংবা তাপ না থাকে তাহলে হাড়ভাঙা খাটুনি আর দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম সবই বৃথা যায়। কেননা বড়ি বানানোর পর যত দ্রুত তা রোদের তাপে শুকানো যায় ততই সুস্বাদু হয় এই কুমড়া বড়ি।

একই এলাকার আয়েশা খাতুন জানান, বছরে একবার এই কুমড়া বড়ি তৈরি করে থাকি। নিজেদের খাওয়া এবং মেয়ে জামাইর বাড়িতেতে পাঠানো লাগে। এবারও বাড়ীর আঙ্গিনায় লাগানো চালকুমড়া সংগ্রহ করে মাসকলাই মিশিয়ে এ কুমড়া বড়ি তৈরি করেছি।

অতি যতেœর সাথে গ্রামের নারীরা কুমড়া বড়ি তৈরি করে। জগতি এলাকার আনোয়ারা বলেন, এ ব্যবসায় সারাবছর চললেও ৬ মাস ভালো চলে। তবে পরিশ্রমের তুলনায় তারা তেমন মূল্য পান না।

কুষ্টিয়ার তৈরি কুমড়ার বড়ি এখন গ্রামের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে শহরে এমনকি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর কাঁচা বাজারেও স্থান করে নিয়েছে।

কুষ্টিয়ার তৈরি বড়ি জেলার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিনই বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এখানকার তৈরি বড়ি অত্যান্ত ভালো ও সুস্বাদু হওয়ায় দিনদিন বেড়েই চলেছে কুষ্টিয়ার কুমড়া বড়ির চাহিদা।

হাট-বাজারে পিঠা উৎসব
                                  

আশিক পন্ডিত, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:

পিঠা মানেই নবান্নের উৎসব। কবি গুরুর ভাষায়, অগ্রহায়ণে তোর ভরা ক্ষেতে কি দেখেছি মধুর হাসি। নতুন ধান মানেই, নতুন চাল। চাল মানে অন্ন। নতুন ধানের উৎসব বলে এর নাম নবান্ন। এই নবান্ন উৎসব বাঙালির চিরাচরিত এক অনাবদ্য, হৃদয়গ্রাহ্য উৎসব। যা বাঙলার ঘরে ঘরে নতুন প্রাণ, নতুন খুশি ও আনন্দের জোয়ার বয়ে দেয়। এদিকে শীত এলেই গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে পিঠাপুলির উৎসব শুরু হয়। তা-ই বলা চলে পিঠার ঋতু শীতকাল।  বাংলার অকৃত্রিম খাবারের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে পিঠা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি প্রায় বিলীন।

দুধের স্বাদ ঘোলে মিঠানোর মতোই হাটে বাজারে মানুষ আসে পিঠার স্বাদ নিতে। তাই এখন হাটে বাজারে শীতের শুরুতে পিঠা বিক্রেতাদের দেখা মেলে। কথা হয় বোরহানউদ্দিনের পৌর এলাকার হাওলাদার মার্কেটের মৌসুমি পিঠা ব্যবসায়ী মোঃ হাসেম (৫২) এর সাথে। তিনি বলেন, এবারও পিঠা  বিক্রিতে নেমেছেন। হাওলাদার মার্কেট ফুটপাতেই দোকান বসিয়েছেন তিনি। প্রায় চার বছর হলো তিনি শীত মৌসুমে পিঠার ব্যবসা করে আসছেন। বছরের অন্য সময় ফল বিক্রি করে সংসার চালান এ ব্যবসায়ী। শীত মমৌসুমে প্রতিদিন ৩৫০০ টাকা থেকে ৩৮০০ টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। অনেক চাকরিজীবীরা পিঠা কিনতে আসে।

সরেজমিনে গতকাল (২১ নভেম্বর) রোববার সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন বাজারের পোস্ট অফিস, খেয়াঘাট সহ  বিভিন্ন এলাকায় পিঠা বিক্রির  এমন চিত্রই দেখা গেছে।

এমন একটা সময়ে আমরা অবস্থান করছি, যখন বাংলার গ্রামাঞ্চলেও শহুরে জীবনের প্রভাব বেশ দৃশ্যমান। গ্রামীণ সংস্কৃতির অনেক কিছুই ভুলতে বসেছে আমাদের গ্রাম-বাংলা। শীত মৌসুমে  পিঠা তৈরির সংস্কৃতি ও চর্চা আর আগের মতো নেই।

মোঃ সুমন মিয়া একজন হোটেল ব্যবসায়ী।  তিনিও শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি প্রতিদিন ১৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পিঠা বিক্রি করেন।

প্রতিবেদককে পিঠা কিনতে আসা মোঃ রহমাতুল্লাহ ও আরিফ হোসেন বলেন, বাসা বাড়িতে এখন আগের মতো আর পিঠা তৈরির দৃশ্য দেখা যায় না। তাই বাজার থেকে কিনে নিয়ে যাই।

বরিশালে শীতের আগামনে ভাপা পিঠা বিক্রির ধুম
                                  

বরিশাল ব্যুরো: নানা রকমের মজার পিঠার বাংলাদেশ। পিঠা এ দেশের ঐতিহ্যবাহী একরকম খাবার। পিঠা ছাড়া বাঙালির ঐতিহ্য ভাবাই যায় না। শীতের আবহাওয়া খুব একটা না বোঝা গেলেও বরিশালে জমে উঠতে শুরু করেছে শীতকালিন নানান রকমে পিঠার ব্যবসা। গ্রাম থেকে শহরের আনাচে-কানাচে, মোড়ে মোড়ে, রাস্তার ফুটপাতে এখন চোখে পড়ছে পিঠা বিক্রির দৃশ্য। এর স্বাদ নিতেও ভুল করছেন না মানুষ। চালের গুড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই পিঠা। মূলত আমন ধান থেকে চাল করে সেই চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় শীতের পিঠা। গ্রামের মেঠোপথ, ঘোমটা পড়া কুয়াশা, সকালের খেজুরের রস, সূর্যের কোমল মিষ্টি রোদ, আর মায়ের হাতের পিঠা মনে করিয়ে দেয় গ্রামে ফেরার কথা। বিভিন্ন এলাকার পিঠার তারতম্য থাকায় গ্রাম বাংলায় ভিন্ন ভিন্ন পিঠা ভিত্তিক সংস্কৃতিও রয়েছে। আর শীতের আনাগোনায় যেনো পিঠার আধিক্য অনেকাংশেই বেড়ে যায়। তবে সেই আক্ষেপ এখন আর থাকছে না। ঐ ভাবে শীত না পড়লেও  নগরীর অলি-গলিতে এখনই পাওয়া যাচ্ছে শীতের পিঠা। শীতের পিঠার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভাপা, চিতাই, শীতে সব জায়গাতেই ভাপা ও চিতাই পিঠার এবং পাটিসাপতা পিঠার আধিক্য বেশি থাকলেও রাস্তাঘাটে ভাপা পিঠাই বিক্রি হতে দেখা যায়। কার্তিক মাস চলে গেলেও ঠান্ডার দেখা মেলেনি বরিশাল অঞ্চলে। তেমন একটা ঠান্ডার দেখা না মিললেও শীতের পিঠা তৈরি ও বিক্রি থেমে নেই। ক্রেতারা ভীড় করছে পিঠার দোকানে। সন্ধ্যা হলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাজির হচ্ছেন অনেকেই। আবার কেউ আসছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শীতকালিন পিঠা খেতে নগরীর সিএন্ডবি রোড চৌমাথা,নথুল্লাবাদ এলাকায় পিঠা খেতে আসা মোঃ খাইরুল ইসলাম নোমান মোল্লা ও সাকিল সিকদার বলেন, শীত চলে আসছে। আর পিঠাও বিক্রিও শুরু হয়েছে, তাই  পিঠা খেতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে। তবে মনে হচ্ছে এখনও পুরাপরি স্বাদ পাচ্ছিনা। গত বছর এই ধরণের পিঠা এবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। নাজিরেরপুল এলাকায় পিঠা খেতে আসা এনামুল নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন, সন্ধ্যার সময় কিছু খেতে ইচ্ছা করে। গ্যস্টিকের সমস্যা তাই অন্য কিছু না খেয়ে বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খেতে আসি। এ বছরে আমি আজ প্রথম পিঠা খেলাম, খুব ভালো লাগলো। এদিকে, শীত মৌসুমকে ঘিরে এই বিভিন্ন পদের পিঠা বিক্রি করে সাবলম্বি হচ্ছেন অনেক নারী-পুরুষ। তেমনি নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার মোঃ সোহাগ ও জেলাখানার মোড় এলাকায় কালাম হোসেন তারা  প্রতিবছর শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে দিনে প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা আয় করেন।এ ছাড়া আরিফ দিনমজুরের কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় মুন্সিগ্রেজ ও সদর রোডে এলাকায়  ভ্রাম্যমান ভ্যানে করে ভাপাপিঠা বিক্রি করেন। ফুলবানু নামের আরেক শীতকালিন পিঠা ব্যবসায়ি তিনি গ্রাম থেকে এসে শহরে প্রতি বছর পিঠা বিক্রি করেন।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতাদের আর দেখা মেলে না
                                  

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

হাওয়াই মিঠাই এটি একটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিঠাইয়ের নাম। এখনো এটি গ্রামের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় খাবার। এক সময় ‘হাওয়াই মিঠাই’ গ্রামাঞ্চলে বেশি দেখতে পাওয়া যেতো। কিন্তু, কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় এটি এখন আর খুব বেশি দেখতে পাওয়া যায় না। তবে তা এখনো একেবারে বিলীনও হয়ে যায়নি।

হাওয়ার সঙ্গে এই মিঠাই নিমিষে বিলীন হয়ে যায় বলেই এর নাম ‘হাওয়াই মিঠাই’। বানানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখে দিয়ে খেতে হয় এটি। পেট ভরে না এ মিঠাইয়ে। তবে খেতে খুব মিষ্টি। মুখের স্বাদ মেটায় শুধু। দেখতে অনেক বড়সড় মনে হলেও নিমিষেই এটি মুখের ভেতর এসে গলে যায়। বিশেষ করে গ্রামের শিশুরা এই মিঠায়ে বেশি আনন্দ পায়। বড়রাও এর স্বাদ থেকে পিছিয়ে থাকেন না। দাম কম হওয়ায় সবার আগ্রহ থাকে এই মিঠাইয়ের প্রতি।

ঐতিহ্য গতভাবে বাংলার বিভিন্ন মেলা এবং গ্রামের পথে ঘাটে পাড়া মহল্লায় বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে দেখা পাওয়া যায় হাওয়াই মিঠাই ফেরিওয়ালাদের।

পিতল বা কাঁসার ঘন্টায় টিং টিং শব্দ তুলে শিশু-কিশোরদের দৃষ্টি কাড়ে তাঁরা। হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তাঁদের ঘিরে ধরে শিশু কিশোরের দল।

শুধুমাত্র চিনিকে তাপ দিয়ে গলিয়ে তা একটি হাতে ঘুরানো ‘যাতা’য় পিষে অল্প সময়ে তৈরি করা হয় এই ‘হাওয়াই মিঠাই’।

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌর শহরের মামুদপুর  গ্রামের মশিয়ার জানান, তিনি আজও ভুলতে পারেন না সেই ‘হাওয়াই মিঠাই’র স্বাদ। এখনো গ্রামে গ্রামে হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা আসলে তিনি তা কিনে শিশুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজা করে খান।

চার টাকা দিয়ে ‘হাওয়াই মিঠাই’ কিনে খাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে ছোট বেলায় যখন বাবা-চাচাদের সঙ্গে গ্রামের বাজারে বা মেলায় যেতাম। তখন প্রথম বায়নাটি ছিলো ‘হাওয়াই মিঠাই’ খাওয়ার। আর বেশির ভাগ সময় হাতের কাছে পেয়েও যেতাম এটি।

পৌর শহরের দয়ের পার গ্রামের  গোলাম মোস্তফা জানান, হাওয়াই মিঠাই খেতে অনেক মজা। আমাদের গ্রামে কেউ হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করতে আসলে আমি ছুটে যাই। হাওয়াই মিঠাই কিনে খাইতাম একটা- দুইটায় মন ভরে না। আমি চার-পাঁচটা খাইতাম লাজুক মুখে যোগ করে সে। তিনি আরো বলেন, খাবারটি খুবই লোভনীয়। এটি দেখলেই শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চারা এটি বেশি পছন্দ করে।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলা হতে বিরামপুরে আসা ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করছেন। আগে সারা বছরই এ ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। কিন্তু, এখন বছরে তিন থেকে চার মাস তিনি এ ব্যবসা করতে পারেন। মাঝে-মধ্যে গ্রামে মেলা বসলে এই ব্যবসা করেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, “হাওয়াই মিঠাই একটি বিশুদ্ধ সামগ্রী, ভেজাল মুক্ত হওয়ায় এটি খেতে শিশুদের কোনো ঝুঁকি নেই। শিশুরা আনন্দ সহকারে এটি খেতে পছন্দ করে। আর আমরাও আনন্দের সঙ্গে তা বিক্রি করি। শুধু শিশুরাই নয় বড়রাও আমার কাছ থেকে হাওয়াই মিঠাই কিনে খায়। আমি গ্রামে গ্রামে সারাদিন ঘুরে দুই থেকে দেড়শোর মত হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে পারি। এতে আমার আয় হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

বিদেশি জাতের তরমুজ চাষে শিক্ষকের সফলতা
                                  

বরিশাল ব্যুরো :
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অন্দারমানিক ইউনিয়নে বিদেশি জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন মাষ্টার এইচ এম হাসান মাহমুদ সাঈদ। মাত্র ১০০ শতাংশ জমিতে ৫ জাতের তরমুজ চাষে ৫০ হাজার টাকা খরচে করে ২ লক্ষ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন তার তরমুজ চাষ প্রকল্প দেখতে এসে অনুপ্রানীত হচ্ছেন অনেকে। উন্নত মানের বীজের কারণে ফলন ভালো হয়েছে দাবি করেন সংশ্লষ্টিরা। বারোমাসি তরমুজ চাষ করলে অন্যান্যরা লাভবান হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে আশা কৃষি কর্মকর্তাদের।

জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামের বাসিন্দা, হাসান মাহমুদ সাঈদ এবং তার স্ত্রী মোসাম্মৎ তাহমিনা দুই জনই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাঈদ শিক্ষকতার পাশাপাশি মাছ চাষ শুরু করেন। এখন তার ৪টি পুকুর, ২টি ঘের এবং পোনা উৎপাদনের একটি হ্যাচারী রয়েছে। ঘের এবং পুকুর পাড়ে আগে থেকেই বিভিন্ন সবজীর চাষ করে আসছেন তিনি। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় একজন বীজ ব্যবসায়ীর পরামর্শে গত আষাঢ় মাসে বিদেশী জাতের ৫ ধরনের তরমুজ জাতীয় ফলের চাষ করেন তিনি।

সাঈদ জানান, হলুদ তরমুজ কানিয়া, লাল তরমুজ বেঙ্গল টাইগার, লাল তরমুজ সুইট ব্লাক, রক মেলন এরোমা সুইট, রক মেলন রিয়া জাতের এই চারা রোপনের ১ সপ্তাহের মধ্যে ফুল এবং ১০/১২ দিনের মধ্যে ফলন ধরে প্রতিটি গাছে। ২ মাস পরই ফল পরিনত এবং পাঁকা শুরু হয়। ১০০ শতাংশ জমিতে চারা রোপনসহ পরিচর্যায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় তার। ৫-৬ টন তরমুজ উৎপাদন হওয়ার আশা করেন তিনি। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ৬০-১০০ টাকা দরে। ফল বিক্রি করে ২ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন মাষ্টার এইচ এম হাসান মাহমুদ সাঈদ।

সাঈদের কৃষি শ্রমিক মো. কাদের বলেন, বিদেশী জাতের এই তরমুজ চাষে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই। বীজ ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে রেখে অঙ্কুর গজালে একটি ট্রেতে জৈব সার সহ মাটিতে পুতে দিতে হয়। ট্রেতে ১০/১২ রেখে চারা গজানোর পর নিয়মানুযায়ী পৃথক বেড তৈরী করে চারা রোপন করতে হয়। লাল ও হলুদ রংয়ের এই তরমুজ খেতেও সুস্বাধু বলে তিনি জানান।

এদিকে বিদেশী জাতের তরমুজের ব্যাপক ফলনের খবরে দেখতে আসছেন দূর-দূরান্তের অনেকেই। বিদেশী জাতের তরমুজ চাষ দেখে নিজেরাও এই ধরনের প্রকল্প করতে অনুপ্রানীত হয়েছেন বলে জানান।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উপ কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, বারোমাসি তরমুজ চাষের জন্য আমরা মাষ্টার এইচ এম হাসান মাহমুদ সাঈদকে কারিগরিসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সাঈদ বিদেশি জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে। অন্যারাও এই ফলের চাষ করলে লাভবান হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে আশা কৃষি বিভাগের।

শাপলার রাজ্য বরিশাল
                                  

বরিশাল ব্যুরো :
বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম। শাপলা রাজ্য হিসাবে পরিচিত। গ্রামের নামেই বিলের নাম সাতলা বিল। লাল আর সবুজের মাখামাখি দূর থেকেই চোখ পড়বে পর্যটকদের। কাছে গেলে ধীরে ধীরে সবুজের পটভূমিতে লালের অস্তিত্ব আরও গাঢ় হয়ে লাল শাপলার রাজ্য চোখ জুড়িয়ে দেয় জাতীয় ফুল শাপলার বাহারি সৌন্দর্য। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলা পাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।

স্থানীয়রা জানান, লাল শাপলার এই রাজ্যকে পর্যটন কেন্দ্র করা এখন সময়ের দাবি। পর্যটকদের প্রশান্তি বিলানো ছাড়াও এই বিল ও তার শাপলা স্থানীয়দের অন্নেরও জোগান দেয়। সাতলার নয়াকান্দি বিল (পশ্চিম কালবিলা) ঘুরে দেখা যায়, আগাছা ঠেলে অনেকেই নৌকা নিয়ে বিলের গহিনে যাচ্ছে। বিল থেকে শাপলা তুলে জমা করছে নৌকায়। কেউবা ব্যস্ত মাছ ধরায়। বিল থেকে শাপলা তুলে অনেকে তা বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে। মাছ বিক্রি করেও সংসার চালায় অনেকে। আবার নতুন করে পেশা তৈরি করেছেন এখানকার অনেকেই। বিলে নৌকা চালিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। প্রায় ৮ বছর ধরে এ বিল নিয়ে কাজ করছেন ইসহাক খান। পেশায় একজন কৃষক হলেও তিনি এখন তার পেশা পরিবর্তন করে বিলে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সঙ্গে পর্যটক নিয়ে বিলে বিলে ঘুরছেন তিনি।

তিনি বলেন, উজিরপুরের সাতলা এবং পাশের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে বিছিয়ে আছে শাপলার বিল। বিলের সঠিক আয়তন জানা নেই কারও।

তবে স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ একর জমির ওপর প্রাকৃতিকভাবে বিলটি গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকে জীবিকার জন্য বছরের একটা বড় সময় বিলের মাছ ও শাপলার ওপর নির্ভরশীল। বরিশাল নগরী থেকে উজিরপুরের সাতলার নয়াকান্দি বিলে ঘুরতে যাওয়া আমতলী উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী নসজিব আহম্মেদ জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার ভেতরে সাতলা একটি অন্যতম স্থান। এই স্থানটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়। যদি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয়দের উদ্যোগ থাকে তবে তা করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘সাতলা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাতলাকে পর্যটন কেন্দ্র করার বিষয়ে পর্যটন কর্পোরেশনকে লেখা হয়েছে। যেখানে পানি, বাথরুম এর ব্যবস্থা থাকবে এ জন্য স্থানীয়ভাবে রেস্টহাউস করার চেষ্টা চলছে। পর্যটকরা যেন ঘুরে ফ্রেশ হতে পারে এ বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে সেখানে সরকারি জমি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে এবং সবার প্রচেষ্টায় পযর্টন কেন্দ্র গড়ে উঠবে।

বরিশালের আমড়া খেতে ভারি মজা!
                                  

মনির হোসেন, বরিশাল ব্যুরো:
আসেন ভাই আসেন, একটা খাইয়া যান। একবার খাইলে আরেকবার খাইতে মন চাইব। ছিইল্লা-কাইট্টা লবণ লাগাইয়া দিমু, মাত্র ৫ টাকা। এভাবেই চিৎকার করে ক্রেতাকে আমড়া খেতে আহবান জানাচ্ছিলেন  বরিশালের লঞ্চ ঘাট এলাকার  হকার রমজান মিয়া।

কথা হয় রমজান মিয়ার সাথে,তিনি একজন সিজনাল হকার। যখন যে ফলের মৌসুম, সেই ফল ফেরি করে বিক্রি করেন।

এখন আমড়ার সিজন চলছে তাই তিনি আমড়া বিক্রি করছেন। সিজনাল ফলের ব্যবসায় নাকি লাভ বেশি। বরিশালের আমড়া  অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু  ফল। নৌ, সড়ক কিংবা  সড়কপথে  রওয়ানা হলে হকারদের এসব শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত চলে ওদের ডাকাডাকি। কিছুটা বিরক্ত লাগে। তবে কাঠিতে বসানো আমড়া নিয়ে যখন আশেপাশে ছুটাছুটি করে তখন জিব্বায় জল রাখা দায়। ফলগুলোকে ওরা বিশেষভাবে কেটে পরিবেশন করে। দেখতে দারুণ! এক বিশেষ আকর্ষণ। মনে হবে, এ যেন শিল্পীর কারুকাজ। লুফে নিতে ইচ্ছে করবে বার বার। সে আমড়া বাঙালির অতি প্রিয় একটি ফলের নাম। টক-মিষ্টি মিশ্রণে ভিন্ন এক স্বাদ। কচি অবস্থায় টক। পরিপক্ক হলে খেতে বেশ লাগে। পাকা ফল খুবই মিষ্টি। আমড়ার সিংহভাগ কাঁচা খাওয়া হলেও ভর্তা, আচার, চাটনি আর পরিপক্ব ফল দিয়ে তৈরি করা যায় জুস, জেলি এবং মোরব্বার মতো লোভনীয় খাবার। গ্রামাঞ্চলের কেউ কেউ গোশতের সাথে আমড়া রেঁধে খান। ডালের সাথেও খাওয়া যায়। আমড়ার শঁশাস সাদা। পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। যে কারণে একে গোল্ডেন আপেল বলে। মাঘ-ফাল্গুনে আমড়ার মুকুল আসে। এর পরে ফল। কচি অবস্থায় ফলের বিচি নরম থাকে। পরিপক্ক হলে আঁটি বেশ শক্ত হয়।-অগ্রহায়ণে ফল পাকে। পাকা ফলের গন্ধ চমৎকার। আমড়া সারা দেশেই চাষ করা যায়। তবে বরিশালের আমড়া সারাদেশে নামকরা।

দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও পানির জন্য এর ফলন ও গুণগতমান কাক্সিক্ষত হয়। প্রসিদ্ধ হিসেবে সবাই বরিশালের আমড়া বললেও আসলে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) আমড়ার রাজধানী বলা যায়। কারণ, ওখানকার ফলন হয় সবচেয়ে বেশি। ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা এবং বরগুনায়ও আমড়া ভালো জন্মে। বাংলাদেশে দু’প্রজাতির আমড়া চাষ হয়। দেশি এবং বিলাতি। বিলাতি আমড়ার অপর নাম বরিশালের আমড়া। দেশি আমড়া খেতে টক, বিচি বড়। বিলাতি আমড়া খেতে মিষ্টি, বিচিও ছোট। ভালো ফলনের জন্য আমড়ার উচ্চফলনশীল জাত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আমড়া-১ এবং বারি আমড়া-২। বারি আমড়া-১ বারোমাসি। গাছ বামনাকৃতির হয়। তাই বাড়ির ছাদেও লাগানো যায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। নাম এফটিআইপি বাউ আমড়া-১।

বিশেষজ্ঞদের মতে পুষ্টিগুণ:
আমড়ায় পুষ্টিগুণে টইটম্বুর। ভিটামিন-সিথর পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লৌহ। লৌহের অভাবে আমাদের রক্তস্বল্পতার সৃষ্টি হয়। যদিও প্রাথমিক অবস্থায় এ উপসর্গ দেখা দেয় না। অভাব বেশি হলেই কেবল শারীরিক দূর্বলতা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন অসুস্থতা এসবের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তখন বড়দের কর্মক্ষমতা কমে যায়। অপরদিকে শিশুদের মস্তিষ্ক হয় বাঁধাপ্রাপ্ত। ফলে স্কুলের পড়া সহজে শিখতে পারে না। অথচ বাচ্চাসহ বড়রা লৌহসমৃদ্ধ অন্য খাবারের পাশাপাশি আমড়া খেলে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে (আহারোপযোগী) শর্করা ১৫ গ্রাম, আমিষ ১ দশমিক ১ গ্রাম, চর্বি ০ দশমিক ১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০ দশমিক ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি১থ ১০ দশমিক ২৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘বি২থ ০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-‘সিথ ৯২ মিলিগ্রাম এবং খাদ্যশক্তি রয়েছে ৬৬ কিলোক্যালরি।

ভেষজগুণ :
আমড়ায় আছে যথেষ্ট ভেষজগুণ। কফ ও পিত্ত নিবারণের পাশাপাশি মুখে রুচি আনা এবং কন্ঠস্বর পরিষ্কারে এর ভূমিকা রয়েছে। জ¦র, সর্দি, কাশি, এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণুকে প্রতিরোধ করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ও পুঁজপড়া বাঁধা দেয়। স্ট্রোক এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে। পেকটিনজাতীয় আঁশ থাকায় বদহজম, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যে দূরীকরণে সহায়তা করে। মুখের রুচি বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধক। ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। রক্ত আমাশয় হলে আধা কাপ পানিতে ৩/৪ গ্রাম আমড়ার কষ, সেই সাথে ১ চা-চামচ গাছের রস এবং একটু চিনি মিশিয়ে খেতে হবে। ব্রণ, ফুস্কুড়ি কমাতে এবং ত্বক মোলায়েম ও উজ্জ¦ল রাখতে এর অবদান বেশ। আমড়ার পাতা, ছাল, শিকড় এবং বীজে ঔষষিগুণ আছে। পাতার তৈরি ‘চাথ জ¦র ও শরীরের ব্যথা দূর হয়। চা বানানোর জন্য পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানোর পর গুঁড়োকরে ব্যবহার করতে হবে। গাছের ছাল ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিহত করার উপাদান রয়েছে। ফলের বীজ উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর শিকড় প্রজননজনিত রোগ নিরাময়ে অবদান রয়েছে। ভেষজবিদদের মতে, আমড়ায় গর্ভপাত হওয়ার উপাদান থাকায় গর্ভবতী নারীদের এ ফল খাওয়া নিষেধ। ডায়াবেটিস রোগীরা কাঁচা আমড়া খেতে পারবেন। পাকা ফল নয়।

‘ফল খাই বল পাইথ এ কথা সবাই জানি। তারপরও প্রয়োজনমতো খাওয়া হয় না। অসচেতনতা আর প্রাপ্তির অভাবই এর কারণ। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছেশক্তি এবং পরিকল্পনা। আপনার পছন্দমতো যে কোনো ফল বাগান তৈরি করতে পারেন। চাষাবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পাশে আছেন উপজেলা কৃষি অফিসার, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা। তাই আসুন, প্রতিটি বসতবাড়িতে অন্য ফলের পাশাপাশি দুথচারটি হলেও আমড়াগাছ লাগাই। এ ব্যাপারে অপরকে ও করি উৎসাহিত।


   Page 1 of 10
     ফিচার
বৈদ্যুতিক বিবর্তনে বিলুপ্ত গ্রামীণ হ্যাজাক, হারিকেন ও কুপি
.............................................................................................
বাহারি ফুলে রঙ্গিন ইবি ক্যাম্পাস
.............................................................................................
হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্প
.............................................................................................
হলুদ চাদরে ঢেকে আছে মাঠ
.............................................................................................
ধার করা ক্যামেরায় বানানো সিনেমাটি জিতলো কান চলচ্চিত্র পুরস্কার
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় হলুদ চাষে কৃষকের বাম্পার ফলনের আশা
.............................................................................................
প্রচারবিমুখ এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘মেজর ওয়াকি’
.............................................................................................
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ সাজে বিস্তীর্ণ মাঠ
.............................................................................................
মেহেদী পরিয়ে আয় করছেন নুসরাত মারিয়া
.............................................................................................
কুমড়ার বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত গৃহিনীরা
.............................................................................................
হাট-বাজারে পিঠা উৎসব
.............................................................................................
বরিশালে শীতের আগামনে ভাপা পিঠা বিক্রির ধুম
.............................................................................................
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতাদের আর দেখা মেলে না
.............................................................................................
বিদেশি জাতের তরমুজ চাষে শিক্ষকের সফলতা
.............................................................................................
শাপলার রাজ্য বরিশাল
.............................................................................................
বরিশালের আমড়া খেতে ভারি মজা!
.............................................................................................
জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জবি শিক্ষার্থীর চিত্রকর্ম
.............................................................................................
এক সফল গরু খামারী জিয়া উদ্দিন মজুমদার
.............................................................................................
করোনায় করুণ কাহিনি
.............................................................................................
বাড়ছে লিথিয়ামের চাহিদা
.............................................................................................
সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে বান্দরবান পাঠানোর কারণ
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন চিলি চিকেন
.............................................................................................
বিলুপ্তর পথে শেরপুরের আদিবাসীদের তাঁতশিল্প
.............................................................................................
প্রযুক্তি নির্ভর দুনিয়ায় অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ‘ফ্রিল্যান্সিং’
.............................................................................................
দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে কাঠের তৈরি এই ৫ তলা বাড়ি
.............................................................................................
শীতের শুরুতে জকিগঞ্জের ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম
.............................................................................................
সাজেক সে তো মেঘের রাজ্য
.............................................................................................
পুরুষরা স্ত্রীর কাছে যেসব সত্য গোপন করেন
.............................................................................................
আঙ্গুলের নখ বলে শরীরে অসুখের উপস্থিতি
.............................................................................................
কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পষ্টে ২ কিশোরের মৃত্যু
.............................................................................................
ফোন খরচ বাঁচিয়ে পথ শিশুদের খাবার বিতরণ!
.............................................................................................
প্রবাসীদের ‘ঈদ’ এর পেছনের গল্প
.............................................................................................
ঈদে গরুর মাথার মাংস রান্নার রেসিপি
.............................................................................................
পরিশ্রমের কাছে মেধা চির অসহায়
.............................................................................................
ফুলের সুবাস মিষ্টি কেন ?
.............................................................................................
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
.............................................................................................
বিলুপ্তির পথে মিঠাপুকুরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
.............................................................................................
ফ্লোরা ফেস্টিভ্যালঃ বাসায় বসে বাগানের রিভিউ দিন
.............................................................................................
সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি
.............................................................................................
ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার উপায়
.............................................................................................
‘মামা হালিমের’ মামার খোঁজে
.............................................................................................
এসি ছাড়াই এসির হাওয়া!
.............................................................................................
তরমুজ খান-সতেজ থাকুন
.............................................................................................
বাঁচতে হলে জেনে নিন, বজ্রপাতের সময় ভুলেও যা করবেন না
.............................................................................................
দেশেই চাষ হচ্ছে বিদেশী ফসল ‘চিয়া’
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন আলুর চিপস
.............................................................................................
কাপাসিয়া ধাঁধার চর সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি
.............................................................................................
দিনে ৬টির বেশি সেলফি, ‘সেলফাইটিসের’ রোগী
.............................................................................................
বিলুপ্তি প্রায় চড়ুই পাখি
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে উড়োজাহাজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আরমান
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT