শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শিল্প সাহিত্য
  পাবনা বইমেলা সাহিত্যকে সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
  26, February, 2017, 1:03:43:PM

হাসান আলী

প্রতি বছর মাসব্যাপি পাবনা বইমেলা ও পুস্তক প্রদর্শনী আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ পশ্চিম বাংলার সাথে সৃষ্টি করছে সাংস্কৃতিক বন্ধন। দীর্ঘদিনের বিভক্ত দুই বাংলার সীমানা পেরিয়ে লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আগমনের ফলে নতুন মাত্রায় যোগ হবে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। যার উপলক্ষ পাবনা বইমেলা। পাবনায় সর্বপ্রথম একুশে বইমেলা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ‘পাবনা বইমেলা’ শুরু হয়। এরপর থেকে গত ৫ বছর ধরে বইমেলার আয়োজন করে আসছে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী।
ঐতিহ্য সম্মৃদ্ধিময় পাবনা জেলায় বহুকাল আগে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অসংখ্য কবি সাহিত্যিকের আবির্ভাব ঘটেছে। যাদের অবদানে আমাদের সাহিত্য হয়ে উঠেছে সম্মৃদ্ধ। প্রতিবছর ভাষার মাসব্যাপি পাবনা বইমেলা আমাদের ভাষা, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতীয়তাবোধকে বিকশিত করার একটা উত্তম প্রেরণা যোগাচ্ছে। উজ্জীবিত হচ্ছে নবীন-প্রবীণ লেখক, সাহিত্যিক ও নতুন প্রজন্ম। পাবনা হয়ে উঠেছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। পাবনার আলো-বাতাসে ভাসে সত্যিজ্ঞানের আলো। সেই আলোয় আলোকিত হয় পাবনার মানুষের সাহিত্যমন।

পাবনায় অসংখ্য নদী, বিল, হাওড়, বাওড়, মাটি, জল, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, পশু-পাখি, মসজিদ, প্রাচীন মন্দির, শিক্ষালয় ও স্থাপত্যশিল্প সাহিত্য বিকাশের যেমন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তেমনি এ জেলায় জন্ম নিয়েছে অসংখ্য কবি, সাত্যিতিক, শিল্পী, সাধক ও বাউল। তারাই গড়েছে সাহিত্যের গৌরবময় ইতিহাস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুষ্টিয়ার শিলাইদহ থেকে পদ্মা ও ইছামতি নদী বয়ে শাহজাদপুর কুঠিবাড়ী যাতায়াতের ইতিহাস রয়েছে আমাদের সাহিত্যে। সাহিত্য ও সাংস্কৃতি গবেষণায় অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চায়নে পাবনা বনমালী ইনস্টিটিউট (বর্তমান বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র) এবং শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র সৎসঙ্গ ধর্মজ্ঞান সাধনার একটি তীর্থস্থান।

বাংলা সাহিত্যে ইতিহাসের গর্ভে জন্ম নিয়েছে পাবনা জেলার অসংখ্য দেশ বরেণ্য শিল্পী-সাহিত্যিক। ইতিহাসের গর্ভে তাদের নাম মেলে। তাদের মধ্যে মধ্যযুগের অঙ্কুত আচার্য, উনবিংশ শতকের প্রথম দিকের কৃষ্ণকিশোর রায়, শশধর রায়, প্রসন্নময়ী দেবী, প্রমথ চৌধুরী, রজনীকান্ত সেন, প্রিয়ম্বদা দেবী, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, অম্বুজাসুন্দরী দাশগুপ্ত, রাধাচরণ চক্রবর্তী, আবুল হাশেম, বন্দে আলী মিয়া, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, গুপ্তপ্রসাদ সেন, বিহারীলাল গোস্বামী, শচীন্দ্র মোহন সরকার, আবু লোহানী, শেখ আব্দুল গফুর জালালী, সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা সিরাজী, জ্যোতি-রিন্দ্র মৈত্র, মণীন্দ্র রায়, বাণী রায় চৌধুরী, ওসমান, আব্দুল গণি হাজারী, মযহারুল ইসলাম, তরুণ সান্যাল, আনন্দ বাগচী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, জিয়া হায়দার, জাহান-আরা বেগম, ওমর আলী, মহাদেব সাহা, ফজলে খোদা, মাকিদ হায়দার, জুল-ফিকার মতিন, দাউদ হায়দার প্রমুখ সাহিত্যিকদের নাম পাওয়া যায়। সাহিত্যের ক্ষেত্রে এঁদের বিশেষ অবদানে সম্মৃদ্ধি পেয়েছে পাবনা। এ বছর কবি ওমর আলী মরনোত্তর একুশে পদক (২০১৭) পাওয়ায় গর্বিত পাবনাবাসী।

বর্তমান পাবনায় লেখক ও সাহিত্যিদের মধ্যে বিশেষ করে যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলেন, সাইদ হাসান দারা, মজিদ মাহমুদ, খান সুরুজ্জামান, প্রফেসর মনোয়ার হোসেন জাহেদী, আখতার জামান, এনামূল হক টগর চৌধুরী, কবি সোহানী হোসেন, মানিক মজুমদার, মরিয়ম বেলারুশী, মোঃ সজীব আলী, আতাউর রহমান, আসাদুর রহমান রূপম, আল আমিন হোসেন খান, নিন্দুক বিশ্বাস, মোঃ মহসিন আলী, সিফাত রহমান সনম, সমীর আহম্মেদ, জুলকার নাঈন, শফিক লিটন, সমতোষ রায়, মুখলেছ মুকুল, গোবিন্দলাল হালদার,  রেহেনা সুলতানা শিল্পী, আলমগীর কবির হৃদয়, কথা হাসনাত, লতিফ জোয়াদ্দার, সরদার নজরুল, রিংকু অনিমেক, আদ্যনাথ ঘোষ, মেহজাবিন খান, সাহাব উদ্দিন আকাশ, খান আনোয়ার হোসেন, ক্যাপ্টেন (অবঃ) ডাঃ সারওয়ার জাহান ফয়েজ, এড. আজিজিুল হক, করুণা নাসরিন, আব্দুস সালাম, ইদ্রিস আলী, ইদ্রিস আলী মধু, মুহা. আব্দুস শুকুর, আছাদ আলী প্রমুখ সাহিত্যিকগণ কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ঔপন্যাস ইত্যাদী সাহিত্য সাধনায় বিশেষ বিশেষ গুণের অধিকারী। শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র একজন বড়মাপের সাধক ছিলেন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অগণিত ভক্ত তার।

সম্প্রতি পাবনার কয়েকজন লেখকের আলোচিত কিছু সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ড. আব্দুল আলীমের পাবনা জেলা সম্পর্কিত গ্রন্থের মধ্যে ‘পাবনা অঞ্চলের লোক সংস্কৃতি’,‘বন্দে আলী মিয়া: কবি ও কাব্যজন’, ‘পাবনায় ভাষা আন্দোলন’, ‘সূচীত্রা সেন’, ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস: পাবনা জেলা’, ‘পাবনার ইতিহাস’, মোঃ জহুরুল ইসলাম বিশুর ‘পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা’, রবিউল ইসলাম রবির ‘পাবনা ১৯৭১’ এবং সাইদ হাসান দারার ইতিহাস ভিত্তিক গবেষণাধর্মী ২৫ টি উপন্যাস গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে, ‘অপারেশন সার্চলাইট’, ‘উপাখ্যান: মুজিব-ইয়াহিয়া-ভুট্টো এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’, ‘১৯৭১: একটি পূর্ব ঘোষিত গণহত্যার ঘটনাপুঞ্জি’, ‘১৯৭১: দিনপুঞ্জি, ‘৭১ উপাখ্যান’, ‘সৈনিকটি এসেছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে’, ‘থিয়েটার:স্টার্ন রিয়েন ফোর্সমেন্ট’, ‘প্রণয়ে হলুদ উপাখ্যান’, ‘সাত বীর শ্রেষ্ট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’। এর আগে প্রকাশিত হয়েছে রাধারমন সাহার ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’। পাবনায় আরও অনেক লেখক, সাহিত্যিক আছেন তাদের নাম এবং প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকা অল্প সময়ে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
বিগত বছর কয়েক পাবনা বইমেলা ও পুস্তক প্রদর্শনীতে লেখক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের শ্রেণি পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। রাজধানী ঢাকার পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে পাবনার এ বইমেলা। প্রতি বছরের মতো এবারের ২০১৭ এর বইমেলা ও পুস্তক প্রদর্শনী ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে আনষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন পাবনাসহ দেশ-বিদেশের মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বইমেলায় এসে নানা অনুষ্ঠান উপভোগ এবং পছন্দের বই সংগ্রহ করছেন।

এ বছর পাবনার স্থানীয় ৪ টি প্রকাশনী থেকে ৭৭ টি নতুন বই প্রকাশিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত প্রকাশনী মালিকগণ। এর মধ্যে মহীয়সী প্রকাশ ৪৫ টি বই, রূপম প্রকাশনীর ২৪ টি বই, উত্তরণ প্রকাশনীর ৭ টি বই, নীলাকাশ প্রকাশনীর ১ টি বই প্রকাশিত হয়ে পাবনা বইমেলার স্টলগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। পাঠকেরা বিভিন্ন স্টল থেকে তাদের পছন্দের বই কিনছেন। প্রতিবছর বইমেলা ও পুস্তক প্রদর্শনীতে লেখক, কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ঔপন্যাসিকদের যেমন লিখনীর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তেমনি বই প্রকাশনার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে। এবারের বইমেলায় পাবনাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের নামি দামী লেখকদের প্রচুর বই স্টলগুলোতে বিক্রি করছেন স্টল মালিকেরা।

প্রতিদিন বিকেল থেকেই কবি, সাহিত্যিক, লেখক, লেখিকা, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ী, সরকারি, বেসরকারি চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মিলনমেলা মহোৎসবে পরিণত হয়।

মেলা চত্বরে দেখা যায়, স্টলগুলোতে পাঠকদের বই কেনার ভিড়। বই কিনতে আসা কয়েকজন পাঠক এড. কামরুল হাসান বলেন, এবারের বইমেলায় স্টলগুলোতে মনে হচ্ছে বইয়ের সংগ্রহ কিছুটা কম এবং দামেও বেশি। একজন গৃহিনী সালমা খাতুন বলেন, পাবনা বইমেলা আমাকে বই কিনতে আকৃষ্ট করেছে। আমি তিন দিন মেলায় এসে পছন্দের বিশেষ করে ধর্মীয় বই কিনেছি।

কয়েকজন বইপ্রেমি বলেন, প্রতিবছর পাবনায় মাসব্যাপি বইমেয় নতুন ও পুরাতন সবরকম বই কেনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিগত বছরের তুলনায় এবারের বইমেলায় অনেক নতুন ও পুরাতন লেখকের প্রকাশিত বই পাঠকদের আকৃষ্ট করেছে। প্রকাশনীর নতুন বইয়ের প্রতি আমাদের আকর্ষণ বেশি। আমরা বইমেলায় এসে অনেক সময় ঢাকার প্রকাশনীর কোন কোন নতুন বই পাই না। ঢাকার প্রকাশনীর নতুন বই যাতে পাবনা বইমেলার স্টলগুলোতে পাওয়া যায় সে দিকে মেলা কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দেওয়া সুপারিশ করেন তারা।

বইমেলায় স্টল মালিকদের মধ্যে পাঠশালা বইঘর মালিক শিশির ইসলাম, বিকিনিকি মার্ট বইঘরের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান আরজু, প্রজন্ম একুশে বইঘরের মালিক সামসুল সাব্বির, আলোক বর্তিকা পাঠচক্র বইঘর মালিক সুবর্ণা নদী বলেন, এবারের বইমেলায় গণিত বিজ্ঞান, বিদেশি বইয়ের বাংলা অনুবাদ, সায়েন্সফিকশন, ডিটেকটিভ, প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক বইয়ের পাঠকদের চাহিদা বেশি। সেই সাথে শিশুদের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিদিন বিকেল থেকে মেলা মঞ্চে শুরু হয় শিশু শিল্পীদের নৃত্য ও সংগীতানুষ্ঠান। রাত ৮ টা হতে শুরু হয় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা। এ সভায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক-ছাত্র, সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ আলোচনা সভায় অংশ নেন। সভায় সঞ্চলনার দায়িত্ব পালন করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বইমেলা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ড. মোঃ হাবিবুল্লাহ এবং এড. মোসফেকা জাহান কণিকা। সঞ্চালকগণ আলোচনা সভায় চমৎকার উপস্থাপন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে সংগীতানুষ্ঠান ও পরে নাট্য প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা, অভিনয় ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগীতার মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচী সমাপ্ত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বইমেলা সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহ্বায়ক সংগীত শিল্পী প্রলয় চাকী। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় সর্বশ্রেণি পেশার প্রতিনিধিসহ গুণিজনদের আগমনের জন্য আরও উম্মুক্ত করার ব্যাপারেও সুপারিশ করেছেন অনেকে।

বইমেলা সম্পর্কে সাবেক পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (৭২-৭৫) ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ,স.ম. আব্দুর রহিম পাকন অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লইব্রেরীর মাসব্যাপি বইমেলার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিঃসন্দেহে বইমেলা পাবনার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকে সম্মৃদ্ধ করেছে। বইমেলায় প্রতিদিনের সন্ধ্যাকালীন আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভাল লাগে তাই প্রায়ই এ অনুষ্ঠান দেখতে যাই। তিনি বলেন, স্থানীয় সংগীত শিল্পীদের গান ভাল লাগে। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় পাবনার বাইরের বিজ্ঞজনদের অংশগ্রহণ করালে আরও ভাল হতো। তিনি মেলা চত্বরের জায়গা স্বল্পতায় দর্শক-স্রোতাদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে শৃংখলা বজায় রাখার জন্য দুই চাকা প্রবেশ করতে না দেয়ার সুপারিশ করেন।
একই ভাবে পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাংস্কৃতিক কর্মী মাহবুব-উল-আলম মুকুল ভাষার মাসব্যাপি বইমেলা ও পুস্তক প্রদর্শনীর প্রথম উদ্যোক্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের আয়োজনে প্রথম বইমেলার ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বইমেলায় দিনে দিনে পাঠকদের আগ্রহ বাড়ছে, নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ ও আগ্রহ বিকশিত হচ্ছে। তিনি বর্তমান বইমেলা উদযাপন পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে বইমেলায় আলোচনা সভায় দেশের বড় মাপের লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক ও গুণি ব্যাক্তিদের আগমন ঘটাতে এবং আগামী বছর হতে মুক্তমঞ্চের পরিবর্তে বড় কোন স্থানে মেলার আয়োজন করার সুপারিশ করেন। বইমেলা সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহবায়ক প্রলয় চাকী বলেন, গত বছর বইমেলায় পশ্চিম বাংলার বেশ কয়েকজন লেখকের একটি টিম এসেছিলেন।

পাবনার ঐতিহ্যবাহী অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর উদ্যোগে প্রতিবছর মাসব্যাপি বইমেলা ও সপ্তাহব্যাপি পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই লইব্রেরীর সামনেই বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মুক্তমঞ্চ চত্ত্বর। এর সাথেই পশ্চিমে বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র অবস্থিত। পৌর মুক্তমঞ্চ চত্ত্বরে বইমেলার প্রস্তুতি অন্তত দু’ একমাস আগে থেকেই নেওয়া হয়। বইমেলাকে স্বার্থক ও সফল করার জন্য মেলাচত্ত্বরে বইয়ের স্টল তৈরি, মঞ্চ তৈরি, প্রতিদিনের অনুষ্ঠানসূচী কী হবে তার পরিকল্পনা তৈরি করে থাকে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী কর্তৃপক্ষ ও বইমেলা উদযাপন পরিষদ।

প্রতিদিনের নানা অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বইমেলা উদযাপন পরিষদকে উপ-কমিটি সহযোগীতা করে থাকে। বইমেলার মূলকৃতিত্ব অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লইব্রেরী কর্তৃপক্ষের। পাবনা অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু এবং মহা-সচিব পাবনার বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান। তিনি পাবনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি এবং বিটিভি পাবনা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক জোড় বাংলা’র সম্পাদক। বইমেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রফেসর শিবজিৎ নাগ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হান্নান। প্রফেসর শিবজিৎ নাগ পাবনা প্রেসকাবের বর্তমান সভাপতি। আব্দুল হান্নান পাবনা বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক। তিনি একজন সাংস্কৃতিমনা মানুষ।

পাবনা বইমেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বইমেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি  প্রফেসর শিবজিৎ নাগ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারের বইমেলার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এবার মেলাচত্বরে ৩৩ টি বইয়ের স্টল স্থাপন করা হয়েছে। পাবনার বিভিন্ন এলাকার ১১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন বইমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় দর্শণার্থীদের ভীঁড়ে জমে উঠেছে এবারের বইমেলা। আগামীতে বইমেলা আরও সুন্দর করার পরিকল্পনা আছে বলে জানান বইমেলা উদযাপন পরিষদের এ দুই শীর্ষ কর্তা।
পাবনা বইমেলার সাথে জড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী ও বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র দু’টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী এবং বনমলী শিল্পকলা কেন্দ্রের সভাপতি। তিনি পাবনা বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রকে একটি আধুনিকমানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নতুন আঙ্গীকে গড়েছেন। সেই সাথে পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গণকে বিকাশের পথে এগিয়ে নিতে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে তার পিতা স্যামসন এইচ চৌধুরী অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর পুরাতন ভবন ভেঙে সেখানে উন্নত মানের বহুতল ভবন নির্মাণ করে ঐতিতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরীর উন্নয়ন সাধন করে গেছেন। তিনি পাবনাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতার সাথে চির স্মরনীয় থাকবেন। নতুন প্রজন্মকে সত্য জানার জন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গণে স্কয়ার পরিবারের অবদান উল্লেখ করার মতো।

কেবল বাদ পড়েছে ‘পাবনার ইতিহাস ঐতিহ্য বহনকারী ‘ইছামতি নদী’র সংস্কার। যে নদীতে পাবনা জেলা ও শহরের গুরুত্ব এবং সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে। পাবনা শহর গড়ে উঠেছে যে নদীকে কেন্দ্র করে, সেই ইছামতি নদী ভাগাড় বা নরদামায় সরু খালে পরিণত হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিগত কয়েক মাস আগে পাবনার সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলন করে ‘ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে। তারা ১০ দয়া বাস্তবায়নের দাবীতে মনববন্ধন ও প্রচারপত্র বিলিসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। এ আন্দোলন সমর্থন করে বর্তমান দায়িত্বরত পাবনা জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো নদীটি সংস্কার করার জন্য পাবনাবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। নদীটি সংস্কার করা হলে পাবনার সোন্দর্য্যবৃদ্ধিসহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিকাশে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন মনে করেন সচেতন মহল।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 259        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     শিল্প সাহিত্য
চলতি বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত
.............................................................................................
ময়মনসিংহে সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত হলেন ৪ গুণীজন
.............................................................................................
প্রথম মৃত্যু
.............................................................................................
শুভংকরের ফাঁকি
.............................................................................................
বউ যেভাবে ঘরে আসে
.............................................................................................
মধ্যরাতের কথা
.............................................................................................
বাঙালির রক্তের বন্ধন ও জাতি-পরিচয়
.............................................................................................
মোহময়ী পিরামিড
.............................................................................................
৮২তম জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি আল মাহমুদ
.............................................................................................
পাবনা বইমেলা সাহিত্যকে সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
প্রসঙ্গ: ঐতিহাসিক জ্বীনের মসজিদ
.............................................................................................
তেহরানে প্রথম বিশ্বের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন
.............................................................................................
একলা মানুষ
.............................................................................................
নৈশভোজে আসছিস্ তো
.............................................................................................
স্বপ্ন ছিলো
.............................................................................................
ফেরা
.............................................................................................
ডি.লিট ডিগ্রি পাচ্ছেন হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেন
.............................................................................................
বিশ্ববিখ্যাত ১০ নারীর জীবনীগ্রন্থ
.............................................................................................
কবি রফিক আজাদ আর নেই
.............................................................................................
পরপারে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি রফিক আজাদ
.............................................................................................
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শামস সাইদ এর দুটি কিশোর উপন্যাস
.............................................................................................
ঘুম আছে স্বপ্ন নেই
.............................................................................................
নীলফামারীতে পাল আমলের নিদর্শন পাওয়া গেছে
.............................................................................................
কবি শামসুর রাহমানের ৮৭তম জন্মদিন
.............................................................................................
ম্যান বুকার পেলেন জ্যামাইকার মারলন জেমস
.............................................................................................
১৪ অক্টোবর সরদার ফজলুল করিম দর্শন পদক
.............................................................................................
স্মরণ : ছোটোলোকের বাবা ॥ মোঃ আতিকুর রহমান ॥
.............................................................................................
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: জীবন, সাহিত্য ও দর্শন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft