বুধবার, ১৫ জুলাই 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   রাজনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০১৯ সালের এই দিনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এরশাদ বাংলাদেশের একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দেশ পরিচালনাকে অনেকেই সামরিক একনায়তন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীতে বেশ কিছু উপদলে বিভক্ত হয়। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৩০ সালের ২০ মার্চ অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এরশাদ। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসেন। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এরশাদ। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালে এরশাদ গ্রেফতার হন। ১৯৯১ সালে জেলে অভ্যন্তরীণ থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এরপর ১০ ও সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হন। তিনি চলতি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।

এরশাদ ১৯৫৬ সালে রওশন এরশাদকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে রয়েছে, নাম রহগীর আল মাহি শাদ এরশাদ। ২০০০ সালে এরশাদ বিদিশাকে বিয়ে করেন। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরশাদ বিদিশাকে তার প্রথম বিয়ে গোপন রাখার জন্য তালাক দিয়েছিলেন, যে বিয়ে তাদের বিয়ের সময়েও বিদ্যমান ছিল। এই সংসারেও এরশাদের এক ছেলে রয়েছে, নাম এরিক এরশাদ। এছাড়া আরমান এরশাদ ও জেবিন নামে এক ছেলে ও এক মেয়েকে এরশাদ দত্তকও নিয়েছিলেন।

এদিকে, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টি দেশব্যাপী নানান কর্মসূচি পালন করবে। মঙ্গলবার সকালে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রংপুরে এরশাদের সমাধি জিয়ারত করে দুপুরে ফিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল ও বনানীর পৃথক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জিএম কাদের। সকাল ১১টায় গুলশানে রওশন এরশাদ বাসভবনে মিলাদ মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে এরশাদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টায় কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের প্রতিকী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিকেলে প্রেসিডেন্ট পার্কে স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল ১০টায় কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও মহানগর জাপার নেতারা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পযর্ন্ত কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাবলার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কোরআন খতম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার পক্ষ থেকে বাদ আছর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শ্যামপুর-কদমতলীর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মন্দিরে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০১৯ সালের এই দিনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এরশাদ বাংলাদেশের একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দেশ পরিচালনাকে অনেকেই সামরিক একনায়তন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীতে বেশ কিছু উপদলে বিভক্ত হয়। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৩০ সালের ২০ মার্চ অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এরশাদ। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসেন। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এরশাদ। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালে এরশাদ গ্রেফতার হন। ১৯৯১ সালে জেলে অভ্যন্তরীণ থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এরপর ১০ ও সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হন। তিনি চলতি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।

এরশাদ ১৯৫৬ সালে রওশন এরশাদকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে রয়েছে, নাম রহগীর আল মাহি শাদ এরশাদ। ২০০০ সালে এরশাদ বিদিশাকে বিয়ে করেন। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরশাদ বিদিশাকে তার প্রথম বিয়ে গোপন রাখার জন্য তালাক দিয়েছিলেন, যে বিয়ে তাদের বিয়ের সময়েও বিদ্যমান ছিল। এই সংসারেও এরশাদের এক ছেলে রয়েছে, নাম এরিক এরশাদ। এছাড়া আরমান এরশাদ ও জেবিন নামে এক ছেলে ও এক মেয়েকে এরশাদ দত্তকও নিয়েছিলেন।

এদিকে, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টি দেশব্যাপী নানান কর্মসূচি পালন করবে। মঙ্গলবার সকালে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রংপুরে এরশাদের সমাধি জিয়ারত করে দুপুরে ফিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল ও বনানীর পৃথক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জিএম কাদের। সকাল ১১টায় গুলশানে রওশন এরশাদ বাসভবনে মিলাদ মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে এরশাদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টায় কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের প্রতিকী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিকেলে প্রেসিডেন্ট পার্কে স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল ১০টায় কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও মহানগর জাপার নেতারা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পযর্ন্ত কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাবলার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কোরআন খতম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার পক্ষ থেকে বাদ আছর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শ্যামপুর-কদমতলীর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মন্দিরে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আ.লীগ নেতা লিটনের মৃত্যুতে আতাউর রহমান শামীমসহ সর্ব ইউরোপিয়ান আ.লীগের শোক
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহসিন খান লিটনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ। গতকাল রাতে রাজধানীর মিরপুরে নিজ গাড়িতে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান লিটন (ইন্নালিল্লাহি.....রাজিউন)।
 
মহসিন উদ্দিন খান লিটনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, লিটনের মৃত্যুতে ইউরোপ আওয়ামী পরিবার হারালো একজন দক্ষ ও পরিক্ষীত সংগঠককে। ইউরোপের রাজনীতিতে লিটনের অভাব অপূরণীয়। একইসাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।

শোক বার্তায় স্বাক্ষর করেন, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী অনিল দাসগুপ্ত ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি প্রফেসর আবুল হাসেম, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কেএম লোকমান হোসেন, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শামীম হক, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া, তুরস্ক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের বাংলাদেশ সমন্বয়ক এম এ ফারুক প্রিন্স, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামাল দেওয়ান সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, মোহসিন খান লিটনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন।

এক শোকবার্তায় আতাউর রহমান শামীম বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরীক্ষিত সহযোদ্ধা মোহসিন খান লিটনের অকাল মৃত্যুতে দলের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়। তিনি লিটনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

কুরবানি নিয়ে একটি মহল জাতিকে বিভ্রান্ত করছে: ইসলামী আন্দোলন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: কুরবানির উদ্দেশ্য আল্লাহর সুন্তুষ্টি। আর সেই কুরবানিটা হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর সুন্নাত হিসেবে মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব বিধান হয়ে এসেছে। কুরবানি নিয়ে একটি মহল জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। কুরবানি যার ওপর ওয়াজিব তাকে অবশ্যই কুরবানি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ ও সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন- স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটবাজার, ব্যবসা, বাণিজ্য অফিস, যাতায়াত ইত্যাদি করা গেলে শরীয়তের এই বিধানও পালন করা যাবে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ নেই। কুরবানির বিধান বছরে একবারই করা হয়। এই বিধানের বিকল্প বিধান কিংবা এটি বিলম্বিত করার কোন সুযোগ শরীয়তে নেই। কুরবানির মতো হজের টাকাও অন্য ভালো কাজে দান করার সুযোগ নেই। গত কয়েকদিনে বিখ্যাত আলেমরা এই মত দিয়েছেন। এটাই শরীয়তের বিধান।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যারা আগ বাড়িয়ে কুরবানি নিয়ে মনগড়া মত দিচ্ছেন। এমনকি কোথাও কোথাও কুরবানী করা যাবেনা নোটিশ দেয়ার মতো কাজ করছেন এগুলো থেকে বিরত থাকা উচিত। শরীয়তের বিধান নিয়ে এমন মনগড়া কিছু করার সুযোগ নেই। যাদের উপর কুরবানি ওয়াজিব তিনি উট গরু মহিষ এগুলোর যে কোন একটিকে ৭ জনে মিলে কুরবানি করতে পারেন। ছাগল দুম্বা হলে একটি করতে পারেন।

আমির হোসেন আমু ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে। তিনি সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রবীণ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ১৪ দলের সমন্বয়ক মুখপাত্রের দায়িত্ব দিয়েছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ২৩ দফার ভিত্তিতে বাম প্রগতিশীল জোট ১১ দল, আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ন্যাপ মিলে ১৪ দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে থেকে রাজপথে জোট সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় ছিল এসব দল। শুরুতে এই জোটের সমন্বয়ক ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিল।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এলে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পান দলটির প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তিনি কয়েকটি বৈঠকও করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম।

করোনাভাইরাস ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি গত ১৩ জুন মারা যান। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির আগ পর্যন্ত জোটের মুখপাত্র হিসেবে মোহাম্মদ নাসিমই ১৪ দলের বৈঠক আয়োজনসহ বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আসছিলেন।

উপনির্বাচন পেছানোর দাবি বিএনপির
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: আসন্ন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে উপনির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের করা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে বিএনপি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানায় দলটি।

নির্বাচন কমিশন থেকে বের হয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই কমিশনের কাছে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। কমিশন নির্বাচন না পেছালে আমরা এতে অংশগ্রহণ করব না।

ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে সিইসি বরাবর লেখা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীগের এক চিঠিও হস্তান্তর করেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ওই চিঠিতে  ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আগামী ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদের বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু আপনি অবহিত আছেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জাতীয় সংসদের দুটি আসনে আগামী ১৪ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত। আমরা নির্বাচন কমিশনের উল্লিখিত উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি।

চিঠিলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে প্রতিদিন করোনায় হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ম মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন সময় স্বাস্থ্যবিধির কথা বিবেচনা না করে নির্বাচন আয়োজন গ্রহনযোগ্য নয়।

বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর ও চরম হুমকি স্বরূপ। সে কারণে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা এ দুটি উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় কমিশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এর আগে গত রবিবার (৫ জুলাই) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর-৪ ও বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি।

বিএনপি পূর্ণিমার রাতেও অমাবস্যার অন্ধকার দেখে: কাদের
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে বিএনপি তাদের চিরাচরিত নালিশের রাজনীতি আঁকড়ে ধরে আছে এবং এই করোনাকালেও তারা আজগবি তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের কথা শুনে মনে হয় পূর্ণিমার রাতেও বিএনপি অমবস্যার অন্ধকার দেখতে পায়।

ওবায়দুল কাদের আজ সোমবার তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের সময় এসব কথা বলেন। বিএনপিকে বিভাজন ও বৈরিতার রাজনীতি পরিহার করে করোনা প্রতিরোধের লড়াইয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

কাদের বলেন, বিএনপি দুর্নীতিতে পরপর ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। বিএনপির মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা হাস্যকর। লুটপাটের জন্যই নির্বাচন ও রাজনীতিতে জনগণের কাছে তারা প্রত্যাখ্যাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান এবং তার ব্যক্তিগত সততা দেশ-বিদেশে সমাদৃত ও প্রশংসিত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুর্নীতিবাজ যেই হোক, শেখ হাসিনা সরকার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিতে অটল।

যশোর ও বগুড়ার উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সরকারের এতে কোন হাত নেই। করোনাকালেও সাংবিধানিক বাধ্যবাদকতার কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দিনদিন সরকার সুরক্ষা সামগ্রীর পরিমাণ বাড়াচ্ছে, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, ডাক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি করছে জানিয়ে বলেন, সরকারের সমন্বিত ও দক্ষতার করণেই এসব হচ্ছে। অথচ বিএনপির কার্যক্রম শুধু বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

সীমান্ত হত্যায় সরকারের নীরবতায় প্রশ্ন তুলেছেন রিজভী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিএসএফ। বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনও চালায় বিএসএফ। বর্তমান সরকার এতই নতজানু যে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ করতে পারে না। উল্টো বিএসএফে গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের অভিযুক্ত করছে।

রিজভী বলেন, গত তিন মাসে তারা ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে। গত ২ জুলাই তারা একজনকে হত্যা করছে। গতকালও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন জাহাঙ্গীর আলমকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ভয়ঙ্কর অমানবিক মনুষ্যত্বহীন ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এই বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী চুপ কেন ? সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই। নতজানু সরকার কোন প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না।

রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই একপেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশিরা। বর্তমান সরকার কতটুকু নতজানু যে, এর আগে আমরা দেখেছি- বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিএসএফ এর হত্যাকাণ্ডের কোন প্রতিবাদ না করে বরং তাদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদেরই অভিযুক্ত করেছে। গত তিন মাসে বিএসএফ কর্তৃক সকল হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঢাকা শহরে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছে না। সবাই ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষরা করোনার আঘাতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, এর ওপর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। শ্রমিক ছাঁটাই আর চাকরিচ্যুতির হিড়িক পড়ে গেছে দেশব্যাপী। চাকরি হারিয়ে আত্মহত্যা করছে মানুষ। এক নজীরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে মধ্য ও স্বল্প আয়ের মানুষ। সরকারের লোকেরা এই সংকটগুলোর নজর না দিয়ে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিরোধী দলের ওপর ঝাঁকবেধে আক্রমণ শুরু করেছে। সেখানে শুধু মিথ্যা কথার ফুলঝুরি নয়, চলছে গুম, মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের হিড়িক।

রিজভী বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছেন। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন। করোনায় সয়লাব জনগণ কী মরণদশায় ভুগছে এগুলি উপলব্ধি করার ক্ষমতা তাদের নেই। যদি থাকতো তাহলে করোনা পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি ধার্য করতো না, এই মহামারির মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করতো না, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের দাপটে সাধারণ মানুষের দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতো না, পাটকল বন্ধ ও পাটশ্রমিকদের ছাঁটাই করতো না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, ‘গতকাল তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের পাশে না থেকে ঘরে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করছে বিএনপি নেতারা। প্রতিদিন ঘরে বসে শুধু সমালোচনা করে। তথ্যমন্ত্রীর মতো উদ্ভট ও ডাহা মিথ্যা কথা বলার মতো লোক বাংলাদেশে আর কতজন আছেন তা আমার জানা নেই। তার চোখে মুখে মিথ্যার ঝলক বেরিয়ে আসে। তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই-আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা কে মাঠে আছে, কে জনগণের পাশে আছে?’

তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, আমরা তো দেখছি-আপনাদের এমপি মানবপাচারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে গ্রেপ্তার হচ্ছে। অবশ্য জনগণ দেখছে-আপনাদের জনপ্রতিনিধিদের খাটের তল থেকে, মাটির তল থেকে, গ্যারেজের ভেতর থেকে শুধু চালের বস্তা, তেলে বস্তা বের হচ্ছে। এগুলি জনগণের টাকায় সরকারি ত্রাণ। আর আপনাদের দেখছি-সেলফ লকডাউনে থেকে বিরোধী দল ও মতের মানুষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে। আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এই দুঃসময়ে বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে কোটি কোটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি নেতারা আইসোলেশনে থেকে সরকারের দোষ ধরে: তথ্যমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির অনেক নেতা ঘরের মধ্যে আইসোলেশনে থেকে শুধু প্রেস ব্রিফিং করে আর সরকারের দোষ ধরে। তিনি বলেন, ‘ জনগণের সহায়তায় তারা এগিয়ে আসেনি। সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাই মানুষের পাশে আছে।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা ঘরে বসে বসে শুধু সমালোচনা করছেন, তারা কিন্তু ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ ও সরকারের কেউ কিন্তু বসে নেই। আক্রান্ত হলে কি হতে পারে সেটিও আমি জানি, তাই আমি নিজেও বসে নেই। সব প্রস্তুতি নিয়েই কিন্তু মাঠে কাজ করছি। এই সময়ে দেশের মানুষ যখন আক্রান্ত, তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোন কারণ নেই।’

হাছান মাহমুদ আজ দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি প্রদান ও বন্যহাতির আক্রমণে মৃত ব্যক্তির পরিবারে সরকারের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহানুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, মুজিবুল হক হিরু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তাহের।

অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে চিকিৎসা ব্যবস্থার খোঁজ খবর নেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার আরো উন্নতি ও আধুনিকায়নে নানা উদ্যোগের কথা জানান।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়ে ড.হাছান বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন । আমরা নির্দেশনা মেনে জনগণের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। সেই কারণে আমাদের দলের বহু নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেক নেতা মারা গেছেন। মৃত্যু যেকোন সময় হতে পারে, তাই বলে জনগণের এই দূর্দশার সময় বসে থাকবো সেটা হতে পারেনা।’

হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য, যাতে খাদ্যের সংকট না হয়, গরীব মানুষের অনুবিধা না হয় সেজন্য নানাভাবে তিনি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

ক্রমান্বয়ে দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার সামর্থ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন মাসের বেশি দূর্যোগে বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে খাদ্যের অভাব হয়নি। খাদ্যের অভাবে কোন মানুষ মারা যায়নি। খাদ্যের জন্য কোন জায়গায় হাহাকার নাই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গুনিয়ার ৬০ হাজারের বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এখনো সেই ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। এর বাইরে আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও হাজার হাজার মানুষকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। যতদিন এই পরিস্থিতি থাকবে, সরকার জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বলেন, ‘করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার পৃথিবীতে সর্বনিম্ন যে কয়টি দেশে আছে তারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে এখন করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ১.২৫ শতাংশ। ভারতে সেটি ৩ শতাংশের বেশি, পাকিস্তানে ২ শতাংশের বেশি। ইউরোপ আমেরিকার দেশ গুলোতে ৫ থেকে ১৬ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করছেন বলে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার অনেক দেশের চেয়ে কম।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতে করোনা রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে সেখানে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। আরো বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে সেটিকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিতসহ আধুনিকায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এখন আমরা উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করছি। চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে যেসব অসুবিধা ছিল তারমধ্যে অনেকগুলো ইতিমধ্যে দুর করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ব্যবস্থা আরো ভাল হবে। আগের সংকট ও হা-হুতাশ অনেকটা কেটে গেছে। নতুন ভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সেগুলোতে যাতে করোনা পরবর্তি স্বাভাবিক সময়েও ভালো মতে চিকিৎসা দেয়া যায় সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের উপজেলা পর্যায়ে পর্যন্ত সমস্ত স্বাস্থ্য সেবাকে ঢেলে সাজানোর কর্মসুচি সরকার হাতে নিয়েছে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাঙ্গুনিয়াতেও অনেক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মনে রাখতে হবে আমার সুরক্ষা আমার হাতে। আমি যদি সচেতন না হই সরকার কিংবা ডাক্তারসহ অন্য কেউ আমাকে সুরক্ষিত করতে পারবেনা। সেজন্য আমার সুরক্ষা আমার হাতে এটি মাথায় রেখেই আমাদেরকে করোনা ভাইরাসের সময় জীবন এবং কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। অসচেতন থাকলে যে কেউ যেকোন সময় আক্রান্ত হতে পারেন।

সূত্র : বাসস

বিশ্বের গরিব দেশেও করোনা পরীক্ষা ফ্রি: রিজভী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: বিশ্বের সবথেকে গরিব দেশগুলোতেও করোনা পরীক্ষায় কোনো টাকা নেয়া হয় না জানিয়ে দেশে করোনা টেস্টের ফি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বলেছেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষায় কি নির্ধারণ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সারাদেশে বিনামূল্যে করোনাভাইরাস টেস্টের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মরণঘাতী করোনা মহামারির ভাইরাস পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি আরোপ করার সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকট চরমে। মানুষের ঘরে খাবার নেই। হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অসহায়ভাবে পথে-ঘাটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষাও হচ্ছে নামমাত্র। এরমধ্যে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। মহামারির চিকিৎসা কখনো ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয় না। করোনা মহামারীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রের। বিশ্বের কোথাও সরকারিভাবে কোভিড টেস্টে অর্থ নেয়া হয় না। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কোভিড টেস্টের রেকর্ড দক্ষিণ কোরিয়ার। তারা দিনে ১ লাখের উপর মানুষের কোভিড টেস্টও করেছে। এমনকি এন্টিবডি টেস্টও করেছে। তাদের সমস্ত টেস্টই বিনা মূল্যে করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গরিব দেশ আফগানিস্থানে কোভিড টেস্ট বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এমনকি বিশ্বের সবচয়ে গরিব দেশ পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসো কোভিড টেস্ট বিনামূল্যে করা হয়।

বিশ্বের সবচয়ে গরিব দেশ পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসো এবং দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গরিব দেশ আফগানিস্তানেও কোভিড টেস্ট বিনামূল্যে করা হয় উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের নেতা মন্ত্রীরা প্রায়শঃই দাবি করে বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ নাকি রোল মডেল। কিসের জন্য বাংলাদেশ মডেল? স্বীকার করতেই হবে বাংলাদেশ এখন দুর্নীতির জন্য সারা বিশ্বের কাছে মডেল। কারণ এরা যেমন ‘স্বর্ণের মেডেল’ থেকে স্বর্ণ চুরি করে আবার করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের চাল চুরি ও নকল মাস্কের ব্যবসা করতেও রোল মডেল হয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, আমাদের প্রতিবেশী কোনো দেশেই টেস্ট করাতে ফি নেয় না। উপরন্তু প্রায় প্রতিটা দেশের সরকার স্বেচ্ছাসেবীদের ঘরে ঘরে পাঠাচ্ছে নমুনা সংগ্রহে। টেস্ট করাতে জনগণকে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী এই মহামারিকেও বানিয়েছে মুনাফা অর্জনের উপলক্ষ। এরা কতটা অমানবিক তার নিকৃষ্টতম প্রমান এই ফি ধার্য। যেখানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং সব বিশেষজ্ঞ করোনা সংক্রমণ রোধে টেস্ট বৃদ্ধি করাকেই প্রধান অবলম্বন বলছেন, সেখানে টেস্ট করাতে ফি ধার্য্যের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা উপসর্গ থাকার পরও করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন না। তাদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন করা যাবে না। এতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকবে। লাশের মিছিল কেবল দীর্ঘতর হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ, মানুষের আয়ের উৎস থেমে গেছে। এমনিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকার নির্ধারিত সাড়ে ৩ হাজার টাকায় কোভিড টেস্ট করছে না। যে যার মতো ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। সরকার তা নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টাই করছে না, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমস্ত মনোযোগ দুর্নীতি আর লুটপাটে। একটি হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সদের খাবার-দাবারের বিল ২০ কোটি টাকা দেখালেও অভিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন কোন দুর্নীতি হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এই ২০ কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা এখনও শোনা যায়নি। সরকার চারিদিক থেকেই শুধু স্বল্প আয়ের মানুষেরই পকেটে হাত দিচ্ছে। এমনিতেই করোনার অভিঘাতে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ, এর ওপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও পানির মূল্য বৃদ্ধিতে তারা দিশেহারা, এর সাথে করোনা টেষ্টের ফি ২০০ টাকা ধার্য করে সরকার এখন ভ্যাম্পেয়ারের ন্যায় রক্তচোষার ভূমিকায়।

তিনি বলেন, কোনো নাগরিক যদি টাকার অভাবে করোনাভাইরাস টেস্ট করতে না পেরে নিজ দেহে করোনাভাইরাস বহন করে বেড়ায় তাহলে একজন নাগরিক শুধু নিজেরই ক্ষতি করছেন না তিনি অন্যের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। এ কারণেই বিষয়টি নাগরিকদের দায়-দায়িত্বের উপর ছেড়ে না দিয়ে বরং এটি রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব, জনস্বার্থে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে নাগরিকদের বিনামূল্যে করোনা ভাইরাস টেস্ট করানোর সুযোগ সহজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এই সরকার নিজেরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেনা। বিরোধী দল কিংবা বিশেষজ্ঞদের মতামতকেও তোয়াক্কা করছেনা। জনগণের দল বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা করোনা পেন্ডামিক ইস্যুতে সরকারকে বরাবরই সহযোগিতা করতে চেয়েছি। সঠিক পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার সেগুলো কানে নেয়নি।

পর্যায়ক্রমে ঈদের ছুটি দিতে বিজেএমইএ-বিকেএমইএ’র প্রতি কাদেরের আহ্বান
                                  

স্বাধীন বাংলা: করোনা সংক্রমণের বিস্তাররোধে তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্প সমূহ ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানে বিজেএমইএ এবং বিকেএমইএ’র প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমি সংক্রমণের বিস্তাররোধে তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শ্রমঘন শিল্পসমূহ ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানে বিজিএমই এবং বিকেএমই এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকগণ বরাবরের মতো এবারও সহমর্মিতার নজির স্থাপন করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার তার সংসদ ভবনস্থ সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক আনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান।

ঈদ উল আযহার তিনদিন আগে থেকে সড়ক মহাসড়কে পণ্যবাহি ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, কৃষি, শিল্প ও রপ্তানীমুখী পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ত্রাণ, জ্বালানী, ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্যসহ জরুরী সার্ভিস এর আওতামুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে পরে ৮ দিন সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘন্টা খোলা রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফিটনেস বিহীন যানবাহন কোরবানির পশুরহাটে চলাচলে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোরবানীর পশুবাহী যানবাহণ সাধারণত ধীরগতিতে চলে, এ সকল পরিবহন মহসড়কে নষ্ট হয়ে পড়লে তৈরি হয় যানজট। তাই ফিটনেস বিহীন যানবাহনে কোরবানীর পশু পরিবহন থেকে বিরত থাকুন। ইতোমধ্যে ফিটনেস বিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে ব্যবসস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশুরহাটের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে আবারও স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কের উপরে কিংবা আশপাশে পশুরহাট বসানো যাবে না। প্রয়োজনে এবছর কমসংখ্যক হাট বসানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইনে পশু বেচা-কেনার বিষয়টিও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি কোরবানি ঈদ কেন্দ্রিক অর্থনীতির সাথে অনেক মানুষের জীবন ও জীবিকা সংযুক্ত, পশুপালন, এ্যনিম্যাল ফার্মিং, পশুর চামড়া রপ্তানিসহ ঈদ-অর্থনীতি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি জীবনের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের যে অবস্থান তা এগিয়ে নিতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানান।

বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং শিক্ষার্থীরা মেসে থাকছে ভাড়া নিয়ে, তাদের মালপত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সংকটে অনেকের আয় কমেছে, হারিয়েছে চাকরি, আবার কেউ-কেউ পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন,এমন পরিস্থিতিতে একে অপরের প্রতি সমব্যথী হতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণখাতের অধিকাংশ ঋণগ্রহিতা প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী করোনার আকস্মিক অভিঘাত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবনযাপনে ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব, অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে চলছে, অন্যদিকে ঋণগ্রহিতাদের অনেকে ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের উপর কিস্তি শোধের বাড়তি চাপ-জীবনযুদ্ধ থেকে তাদের ছিটকে দিতে পারে, ভেঙে দিতে পারে মনোবল। শেখ হাসিনা সরকার অর্থনীতির প্রতিটি খাতকে চাঙা রাখতে বাজেটে প্রণোদনাসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানায় তিনি।

সূত্র : বাসস

মৌলভীবাজারে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ
                                  

কাইয়ুম সুলতান, মৌলভীবাজারঃ স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পি সি আর ল্যাব স্থাপনসহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬ দফা দাবি নিয়ে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বৃহস্পতিবার  (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজার চৌমুহনা এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বাসদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক এড. মইনুর রহমান মগনুর সভাপতিত্বে ও সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জহরলাল দত্তের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিলিমেষ ঘোষ বলু, বাসদ জেলা শাখার সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, যুব ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলার আবু রেজা সিদ্দিকী ইমন, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি সুবিনয় রায় শুভ, ছাত্র ফ্রন্ট জেলা শাখার  সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দী।

এ সময় বক্তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে জনজীবন আজ বিপন্ন। মানুষের মৌলিক অধিকার হলো চিকিৎসা। তাই বিনা মূল্যে সকল নাগরিকের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে।
 এছাড়াও বক্তারা মৌলভীবাজারে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করার দাবি জানান।

বাজেট প্রত্যাখ্যান করলো বিএনপি
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: গরীব মারার বাজেট, স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্ব দেয়া হয়নি, তড়িঘড়ি করে বাজেট পাশের অভিযোগ এনে বর্তামান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  আজ বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

‘জনগণের কাছে ন্যূনতম জবাবদিহিহীন, আমলাচালিত, ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত’-যোগ করেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে এদেশের জনগণের মাঝে সীমাহীন হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই বাজেটে জনগণের নাভিশ্বাস সৃষ্টি হবে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এবারের বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়ার বাজেট। এই বাজেট করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বাজেট। এই বাজেট কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট। এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট।

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার বাজেট অধিবেশন ছিল অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর পুরো অধিবেশনজুড়ে এর ওপর আলোচনা করে থাকেন সংসদ সদস্যরা। তবে এবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে খুব সীমিত আকারে, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ড।

এবার সম্পূরক ও মূল বাজেটের ওপর সব মিলিয়ে পাঁচ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংকটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় খুব বেশি না বাড়িয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ৬.২৭ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, যা নিয়মানুযায়ী আগেই অনুমোদন করা হয়েছে।

এবার পরিচালন ব্যয় (ঋণ, অগ্রিম ও দেনা পরিশোধ, খাদ্য হিসাব ও কাঠামোগত সমন্বয় বাদে) ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধেই যাবে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ১৯ শতাংশ।

করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণ: কঠোর সমালোচনায় বিএনপি
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: মহামারী করোনাভাইরাসের টেস্টে সরকারি ফি নির্ধারণে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে যদি জনগণের সরকার থাকত এটি (টেস্টের জন্য পরীক্ষার ফি নির্ধারণ) করত না। সরকারি চিকিৎসা পৃথিবীর বহুদেশে এমনকি ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অনেকটা ফ্রি ছিল। আর উন্নত দেশগুলোতে প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে আছে- এই মহামারীর মধ্যে মানুষ না খেয়ে আছে, একমুঠো আহারের জন্য আজকে নিরন্ন অসহায় কর্মহীন মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। অথচ করোনা টেস্টের জন্য ২০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান সেখানেও করোনা টেস্টে ২০০ টাকা নেয়া হয় না। কত বড় গণবিরোধী, গণশত্রু হতে পারে এই সরকার।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে গুম হওয়ার দুই পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিতে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে যদি একজন রিকশাওয়ালাকে তার করোনা টেস্ট করতে যেতে হয়, একজন ভ্যানওয়ালাকে করোনা টেস্ট করতে যেতে হয়, একজন মজুর, একজন কৃষি শ্রমিক তারা সারাদিন কাজ করার পর হয়তো ১০০ থেকে ২০০ টাকা ইনকাম করতে পারেন, তাও পারেন না, কারও ৬০/৭০ টাকা ইনকাম হয়। তিনি ২০০ টাকা দিয়ে করোনা টেস্ট করাবেন কী করে?

তিনি বলেন, যখন এই মহামারীর সময়ে মানুষকে খাদ্য দেয়া দরকার, মানুষের জিনিসপত্রের দাম কমানো দরকার; ঠিক এই সময়ে তারা (সরকার) সুযোগ পেয়ে গেছে। করোনার সময়ে মানুষ আর মিছিল করতে পারবে না; এই সময়ে যত পারিস বাড়াও– বিদ্যুতের দাম, তেলের দাম বাড়াও, গ্যাসের দাম বাড়াও। কী পরিমাণ একটা জুলুমবাজ সরকার, রক্ত শোষণকারী সরকার ক্ষমতায় আছে।

রিজভী বলেন, একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে জনগণকে টার্গেট করেছে ওরা। আমরা যে বলি গণদুশমনের সরকার। সেই গণদুশমন আক্ষরিকভাবে এটা সত্য। না হলে তো এখন গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত। সেটি না করে তারা আরও বৃদ্ধি করছে। এই মহামারীর মধ্যে তো হাজার হাজার লোক নিয়ে নামতে পারবে না। অতএব এই সময়ে করে নাও।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উত্তরের গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ, আজিজুর রহমান মোছাব্বির, মিজানুর রহমান মিজান, রাসেল রহমান প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট প্রত্যাখান করে বিএনপির এমপিদের বিক্ষোভ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : আজ থেকে কার্যকর হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় জাতীয় সংসদের বাইরে এই বিক্ষোভ করেন তারা।

বিক্ষোভ অংশ নেন বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৬ আসনের জিএম সিরাজ, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বিক্ষোভে বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলেন, শুধু একদিন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা হয়েছে। সমালোচনা এড়ানোর জন্য বাজেট আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বাজেট পাশ করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বাজেটের ওপর যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটি গ্রহণ করা হয়নি।

তারা বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে আলোচনা ছাড়া কোনও বাজেট পাশ হয়নি। জনগণের সামনে আমরা এই বাজেট প্রত্যাখান করছি।

জাতীয় পার্টি থেকে নোমানকে অব্যাহতি
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. নোমানকে জাপার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ ও পদবী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১(১)-এর ক ধারা মোতাবেক নোমানকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রোববার মো. নোমানের অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। এ আদেশ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। ইউএনবি

সরকার প্রথম থেকেই করোনা মহামারিকে উপেক্ষা করছে: ফখরুল
                                  

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে। টেস্ট করতে পারছে না, কোনো টেস্ট হচ্ছে না। এরপরেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেব গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের যে কিট উদ্ভাবন করলেন সেই কিটকে তারা (সরকার) নাকচ করে দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যের কথা, আমাদের সরকার প্রথম থেকেই এই ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারিকে উপেক্ষা করেছে, অবহেলা করেছে। ঢাকা শহরকে গ্রীন জোন করে কতগুলো অঞ্চলকে ভাগ করা হয়েছে এবং সেগুলোতে তারা কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু একমাত্র পূর্ব রাজাবাজার ছাড়া সেটা কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদলের উদ্যোগে ‘হোমিওপ্যাথিক করোনাভাইরাস প্রতিষেধক ওষুধ বিতরণ’ কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মেয়র গতকাল বলেছেন, কালবিলম্ব না করে এখনি অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আমার মনে হয় সরকার জানেও না তারা কি করবেন, কি করতে চাচ্ছেন।

বাংলাদেশে আজকে যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তাতে দেখা যাচ্ছে গোটা হেলথ সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। আমরা বরাবর বলে এসেছি সরকার স্বাস্থ্য খাতে চরম অবহেলা করার জন্য, তাদের উদাসীনতা জন্য এবং কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পরে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণে আজকে বাংলাদেশের সবচেয়ে করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ অধিদফতরে যারা আছেন তারা একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, কোভিড-১৯ এ সারা বিশ্বে পাঁচ লাখের অধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে এবং আমাদের দেশের লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, প্রায় দুই হাজারের উপরে মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো তারা দেশে রেড জোন, ইয়োলো জোন এবং গ্রিন জোন করা হবে। ঢাকা শহরকে গ্রীন জোন করে কতগুলো অঞ্চলকে ভাগ করা হয়েছে এবং সেগুলোতে তারা কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু একমাত্র পূর্ব রাজাবাজার ছাড়া সেটা কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর যে একটা গাইডলাইন দিবে সেটাও তারা দিতে পারছে না। গোটা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করার জন্য যে একটি রোডম্যাপ, একটি প্রতিরোধ পরিকল্পনা তার সবটাই এখানে অনুপস্থিত। কয়েকদিন আগে চীনা বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন এবং তারা একই কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে সবকিছু এলোমেলো, কোথায় রোগ আছে সেটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ তারা চিহ্নিত করতে পারছেন না এবং সেটা চিহ্নিত করার মতো কোনো ব্যবস্থা তাদের কাছে নেই।

তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলা করার জন্য প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে একটা প্যাকেজ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই প্যাকেজ প্রণোদনাটি ছিল ব্যাংক ঋণ। কিন্তু এই মুহূর্তে সরকারের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন ছিলো মানবিক দিকে। সাধারণ ছুটির কারণে এবং বৈশ্বিক মহামারির কারণে যেসব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে, তাদের বেঁচে থাকার জন্য যে ন্যূনতম টাকা প্রয়োজন, সেটাও সরকার পৌঁছাতে পারেনি। মাত্র আড়াই হাজার টাকার একটি অনুদান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫০ লাখ মানুষকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটাও পুরোপুরি দলীয়করণ করার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরিভাবে পৌঁছায়নি।


   Page 1 of 84
     রাজনীতি
এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আ.লীগ নেতা লিটনের মৃত্যুতে আতাউর রহমান শামীমসহ সর্ব ইউরোপিয়ান আ.লীগের শোক
.............................................................................................
কুরবানি নিয়ে একটি মহল জাতিকে বিভ্রান্ত করছে: ইসলামী আন্দোলন
.............................................................................................
আমির হোসেন আমু ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র
.............................................................................................
উপনির্বাচন পেছানোর দাবি বিএনপির
.............................................................................................
বিএনপি পূর্ণিমার রাতেও অমাবস্যার অন্ধকার দেখে: কাদের
.............................................................................................
সীমান্ত হত্যায় সরকারের নীরবতায় প্রশ্ন তুলেছেন রিজভী
.............................................................................................
বিএনপি নেতারা আইসোলেশনে থেকে সরকারের দোষ ধরে: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
বিশ্বের গরিব দেশেও করোনা পরীক্ষা ফ্রি: রিজভী
.............................................................................................
পর্যায়ক্রমে ঈদের ছুটি দিতে বিজেএমইএ-বিকেএমইএ’র প্রতি কাদেরের আহ্বান
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ
.............................................................................................
বাজেট প্রত্যাখ্যান করলো বিএনপি
.............................................................................................
করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণ: কঠোর সমালোচনায় বিএনপি
.............................................................................................
বাজেট প্রত্যাখান করে বিএনপির এমপিদের বিক্ষোভ
.............................................................................................
জাতীয় পার্টি থেকে নোমানকে অব্যাহতি
.............................................................................................
সরকার প্রথম থেকেই করোনা মহামারিকে উপেক্ষা করছে: ফখরুল
.............................................................................................
অপরাধী ক্ষমতাবান হলেও ছাড় নয়: কাদের
.............................................................................................
সরকারের মনোভাব ইতিবাচক, লন্ডন যেতে পারবেন খালেদা জিয়া
.............................................................................................
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন, বিএনপিকে কাদের
.............................................................................................
করোনায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর মৃত্যু
.............................................................................................
৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে আ.লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন
.............................................................................................
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা
.............................................................................................
৭২ বছরে আওয়ামী লীগ
.............................................................................................
আবদুল আলীম নকি ঢাকা উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী
.............................................................................................
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় ৫শ’পরিবারের মাঝে বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবের খাদ্য বিতরণ
.............................................................................................
নাসিমের মৃত্যুতে শোক জানালেন মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বড় ভুল: ড. কামাল
.............................................................................................
ছুটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী : রিজভী
.............................................................................................
অসহায়দের তালিকা করে ত্রাণ দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি কাদেরের নির্দেশ
.............................................................................................
একটি মহল উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে: কাদের
.............................................................................................
করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা গুম করছে সরকার : রিজভী
.............................................................................................
সাংবাদিকদের কথা বলতে দিন, প্রধানমন্ত্রীকে ডা. জাফরুল্লাহ
.............................................................................................
ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির রাজনীতি : ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জাসদের
.............................................................................................
পোশাক কারখানা চালুর ব্যাখ্যা দিলেন কাদের
.............................................................................................
বিভেদের রাজনীতি করোনাকে আরও বিধ্বংসী করে তুলবে : ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়া
.............................................................................................
‘জাতীয় টাস্ক ফোর্স’ গঠনের দাবি বিএনপির
.............................................................................................
ভিপি নূরুল হক নূরের ত্রাণ বিতরণ
.............................................................................................
সেনাবাহিনী দিয়ে তালিকা প্রণয়ন ও ত্রাণ বিতরণের প্রস্তাব মোশাররফের
.............................................................................................
রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক-ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ dailyswadhinbangla
.............................................................................................
দেশে করোনা রোগীর চেয়ে ত্রাণের চাল চোর বেশি ধরা পড়ছে: রিজভী
.............................................................................................
ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ শুভঙ্করের ফাঁকি: বিএনপি
.............................................................................................
৮৭ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ প্রণোদনার প্রস্তাব বিএনপির
.............................................................................................
মাশরাফির মানবিকতা
.............................................................................................
করোনা পরিস্থিতি: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাকিরের বৌভাত স্থগিত
.............................................................................................
মুজিববর্ষে নব উদ্যমে কাজ শুরু করেছি : ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
ভোটের ফল বাতিল চেয়ে ইশরাকের মামলা
.............................................................................................
ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচন বাতিল চেয়ে তাবিথের মামলা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft