শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জীবনশৈলী -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বর্ষায় পায়ের যত্ন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : পায়ের ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি ধকল যায় বর্ষাকালে। কারণ একটাই-বৃষ্টির পানি, কাদা ও নোংরা পানির ধকলটা সামলাতে পা দুটোর নাকানি-চুবানি খাওয়া। এ জন্যই বর্ষায় নিতে হবে পায়ের একটু বেশি যত্ন।

পায়ের ক্ষতি : নোংরা পানি তো আছেই। অনেকক্ষণ ভিজে থাকার কারণেও পায়ের ক্ষতি হয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ মোক্স খান জানালেন কিছু সমস্যার কথা। ছত্রাক সংক্রমণ কম-বেশি সবারই হতে পারে এ বর্ষায়। আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ছত্রাক জমে যেতে পারে। চামড়া লাল হয়ে চুলকাতে পারে। চুলকানো জায়গা থেকে পানি ও পুঁজ বের হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় চামড়া কুঁচকে উঠে যেতে পারে। ভেঙে যেতে পারে নখ। পাশাপাশি সংক্রমণের কারণে কালো ও হলুদ রং হয়ে যায় নখে। ত্বকে সৃষ্টি হতে পারে ফোঁড়া।

টুকটাক যত্ন : পা দুটোর প্রতি যেন আমাদের বেশি অবহেলা। কিন্তু বর্ষায় বরং পায়ের যত্নই বেশি নেওয়া উচিত। পায়ের স্মিগ্ধতার পরশ বজায় রাখতেই কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন কিউবেলা হেয়ার অ্যান্ড বিউটির কর্ণধার ফারজানা আরমান।

বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপ। বাসায় ফিরে ঝটপট পরিষ্কার হওয়ার পালা। কাপড় পাল্টানোর সময় খেয়াল করুন পায়ের পাতায়। পানির শেষ কণাটুকু মুছে নিন আলতো করে। আঙ্গুলের ফাঁকে যেন না জমে থাকে পানি। কারণ ভিজে পা থেকেই তো যন্ত্রণার শুরু। এরপর লাগিয়ে নিন কোনো ভারী ময়েশ্চারাইজার। এতে পায়ের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

এ ছাড়া এই বর্ষায় নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখতে হবে। গরমের কারণে পায়ের পাতার নিচে হিলের দিকে মরা চামড়া হয়ে থাকে। ফলে এ জায়গাটা খসখসে হয়ে যায়। পা ঘষার পাথর দিয়ে ভালোভাবে এ জায়গাটা গোসলের আগেই ঘষে নিন। একদিন পরপর করার ফলে পায়ে মরা চামড়ার আনাগোনা শেষ হয়ে যাবে।

ব্যবহার করা উচিত স্ক্রাবও। ১৫ দিনে একবার না হোক মাসে অন্তত একবার পেডিকিউর সাহায্য করে পায়ের সৌন্দর্য বজায় রাখতে। পারলারে হয়তো সব সময় যাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে অনায়াসেই করে নেওয়া যায় ঘরোয়া পেডিকিউর।

ফুটন্ত গরম পানিতে কিছু গ্রিন টি ভিজিয়ে নেওয়া হোক প্রথমে। যোগ করা যায় কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল। ১০ মিনিটের জন্য পা দুটো ডুবিয়ে দিন। চোখ বন্ধ করে আরাম করুন। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। সারা দিনের ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার হবে পা দুটোও। এরপর স্ক্রাব দিয়ে আরেকটু কোমলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন। পা ধুয়ে সবশেষে ভালো একটি ক্রিম ঘষে লাগিয়ে নিন। এখন পায়ের জন্যই বিশেষ লোশন বা ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়। বেছে নিন আপনার পছন্দমতো একটি। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন হয় ভারী ময়েশ্চারাইজার।

এ পদ্ধতি ব্যবহারে পায়ের দুর্গন্ধ অনেকাংশেই দূর হবে। সহজ পদ্ধতি আছে আরও একটি। এ ক্ষেত্রে বেবি শ্যাম্পু অথবা সোডা আছে, এমন একটি শ্যাম্পু প্রয়োজন। গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিন। এরপর তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর একটু ঘষে নিন। ব্যস, আপনার পা পরিষ্কার।

নখের সাতকাহন : বড় নখ অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এই বর্ষায় পায়ে নখগুলো রাখা যেন কষ্টকর হয়ে পড়ে। নরম হয়ে ভেঙে পড়া বা উঠে যাওয়া স্বাভাবিক একটি ঘটনায় পরিণত হয়। শুধু বর্ষার পানি নয়, খাদ্যাভ্যাসও একটি বড় ভূমিকা পালন করে এখানে। ক্যালসিয়াম আছে এমন খাবারগুলো এ সময় দরকার।

নখের ওপর হয়ে যাওয়া হলদেটে ভাব সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট করে ফেলে। এ ক্ষেত্রে বাফার দিয়ে ঘষে নখের অনেকের পায়ের নখে কাদা ঢুকে যায়। কোনো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে কাদা বের করা যাবে না। টুথব্রাশ বা পায়ের ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ঘষলেই কিন্তু ময়লাটা বের হয়ে আসবে। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, এ বর্ষায় নখটা না হয় একটু ছোটই থাকুক।

বিরত থাকা উচিত : পায়ের যেকোনো সমস্যায় নিজে ডাক্তারি না করাই ভালো। চিকিৎসক রাশেদ মোক্স খান জানান, খুব বেশি চুলকালে প্রাথমিকভাবে জলপাই তেল ব্যবহারে আরাম পাওয়া যাবে। পরে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনো ফোঁড়া হলে না খোঁচানোই ভালো। চুলকানি হলে যতটা সম্ভব কম চুলকানো উচিত। চুলকানোর ফলে নখের সাহায্যে শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও ছড়াতে পারে সংক্রামকটি। অনেকের পায়ের চামড়া উঠে যায়। এটা অযথা খোঁচানো ঠিক নয়, নির্দিষ্ট সময় পর এমনিতেই উঠে যাবে।

নিজে নিজে কোনো প্রকার ওষুধ খাবেন না, লাগাবেন তো না-ই। হিত তো হবেই না, বিপরীতই হবে। পেডিকিউরের জন্য অনেক জিনিসই বাজারে পাওয়া যায়। সঠিক ব্যবহার না জেনে ব্যবহার করবেন না।

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে : এই বর্ষায় নোংরা পানি, কাদা, আবর্জনার সঙ্গে চলতে গেলে পা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসবেই। এর থেকে রক্ষা পেতে মাঝেমধ্যেই নিতে পারেন রাশেদ মোক্স খানের দেখানো দিকনির্দেশনাটি। এক গামলা গরম পানিতে দু-তিনটা পটাশের দানা ফেলুন। হালকা বেগুনি রং ধারণ করবে। ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। এটি সাহায্য করবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রুখতে।

যাত্রায় সঠিক জুতা : বর্ষাকালে জুতার একটি বড় ভূমিকা আছে। পা বন্ধ জুতাগুলো এ বর্ষায় তুলে রাখুন। বাতাস চলাচল করতে পারবে, এমন খোলামেলা স্যান্ডেল বা জুতাই গ্রহণযোগ্য এখন। কিন্তু অফিসগামী ব্যক্তিদের এ বুদ্ধিটি কোনো কাজে লাগবে না। কারণ তাদের তো ফর্মাল ড্রেস কোডে যেতেই হবে। সে ক্ষেত্রে সুতির মোজা পরুন। বাজারে গন্ধ ছাড়া ট্যালকম পাউডার পাওয়া যায়। মোজা পরার আগে লাগিয়ে নিতে পারেন। দুর্গন্ধ কমে যাবে অনেকাংশে।

জুতা ভিজে গেলে অফিসে যাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য হলেও খুলে রাখুন। পা ও জুতা দুটোই শুকিয়ে নিন। চামড়ার জুতা বা স্যান্ডেল পরতে অভ্যস্ত অনেকেই। এ বর্ষায় চামড়া ভালোভাবে ট্যান করা হয়েছে, এমন জুতা আবশ্যক। তবে চামড়ায় ব্যবহৃত আঠা থেকেও অনেক সময় চর্মরোগ হয়। সে রকম কোনো কিছু দেখা গেলে জুতা পরিবর্তন করুন। রাবারের স্যান্ডেল থেকেও অনেকের সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাবধানতা ও সচেতনতা দুটোই কাম্য। পিছলা রাস্তাঘাটের জন্য মানানসই জুতা কেনা দরকার।

বর্ষায় পায়ের যত্ন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : পায়ের ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি ধকল যায় বর্ষাকালে। কারণ একটাই-বৃষ্টির পানি, কাদা ও নোংরা পানির ধকলটা সামলাতে পা দুটোর নাকানি-চুবানি খাওয়া। এ জন্যই বর্ষায় নিতে হবে পায়ের একটু বেশি যত্ন।

পায়ের ক্ষতি : নোংরা পানি তো আছেই। অনেকক্ষণ ভিজে থাকার কারণেও পায়ের ক্ষতি হয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ মোক্স খান জানালেন কিছু সমস্যার কথা। ছত্রাক সংক্রমণ কম-বেশি সবারই হতে পারে এ বর্ষায়। আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ছত্রাক জমে যেতে পারে। চামড়া লাল হয়ে চুলকাতে পারে। চুলকানো জায়গা থেকে পানি ও পুঁজ বের হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় চামড়া কুঁচকে উঠে যেতে পারে। ভেঙে যেতে পারে নখ। পাশাপাশি সংক্রমণের কারণে কালো ও হলুদ রং হয়ে যায় নখে। ত্বকে সৃষ্টি হতে পারে ফোঁড়া।

টুকটাক যত্ন : পা দুটোর প্রতি যেন আমাদের বেশি অবহেলা। কিন্তু বর্ষায় বরং পায়ের যত্নই বেশি নেওয়া উচিত। পায়ের স্মিগ্ধতার পরশ বজায় রাখতেই কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন কিউবেলা হেয়ার অ্যান্ড বিউটির কর্ণধার ফারজানা আরমান।

বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপ। বাসায় ফিরে ঝটপট পরিষ্কার হওয়ার পালা। কাপড় পাল্টানোর সময় খেয়াল করুন পায়ের পাতায়। পানির শেষ কণাটুকু মুছে নিন আলতো করে। আঙ্গুলের ফাঁকে যেন না জমে থাকে পানি। কারণ ভিজে পা থেকেই তো যন্ত্রণার শুরু। এরপর লাগিয়ে নিন কোনো ভারী ময়েশ্চারাইজার। এতে পায়ের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

এ ছাড়া এই বর্ষায় নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখতে হবে। গরমের কারণে পায়ের পাতার নিচে হিলের দিকে মরা চামড়া হয়ে থাকে। ফলে এ জায়গাটা খসখসে হয়ে যায়। পা ঘষার পাথর দিয়ে ভালোভাবে এ জায়গাটা গোসলের আগেই ঘষে নিন। একদিন পরপর করার ফলে পায়ে মরা চামড়ার আনাগোনা শেষ হয়ে যাবে।

ব্যবহার করা উচিত স্ক্রাবও। ১৫ দিনে একবার না হোক মাসে অন্তত একবার পেডিকিউর সাহায্য করে পায়ের সৌন্দর্য বজায় রাখতে। পারলারে হয়তো সব সময় যাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে অনায়াসেই করে নেওয়া যায় ঘরোয়া পেডিকিউর।

ফুটন্ত গরম পানিতে কিছু গ্রিন টি ভিজিয়ে নেওয়া হোক প্রথমে। যোগ করা যায় কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল। ১০ মিনিটের জন্য পা দুটো ডুবিয়ে দিন। চোখ বন্ধ করে আরাম করুন। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। সারা দিনের ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার হবে পা দুটোও। এরপর স্ক্রাব দিয়ে আরেকটু কোমলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন। পা ধুয়ে সবশেষে ভালো একটি ক্রিম ঘষে লাগিয়ে নিন। এখন পায়ের জন্যই বিশেষ লোশন বা ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়। বেছে নিন আপনার পছন্দমতো একটি। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন হয় ভারী ময়েশ্চারাইজার।

এ পদ্ধতি ব্যবহারে পায়ের দুর্গন্ধ অনেকাংশেই দূর হবে। সহজ পদ্ধতি আছে আরও একটি। এ ক্ষেত্রে বেবি শ্যাম্পু অথবা সোডা আছে, এমন একটি শ্যাম্পু প্রয়োজন। গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিন। এরপর তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর একটু ঘষে নিন। ব্যস, আপনার পা পরিষ্কার।

নখের সাতকাহন : বড় নখ অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এই বর্ষায় পায়ে নখগুলো রাখা যেন কষ্টকর হয়ে পড়ে। নরম হয়ে ভেঙে পড়া বা উঠে যাওয়া স্বাভাবিক একটি ঘটনায় পরিণত হয়। শুধু বর্ষার পানি নয়, খাদ্যাভ্যাসও একটি বড় ভূমিকা পালন করে এখানে। ক্যালসিয়াম আছে এমন খাবারগুলো এ সময় দরকার।

নখের ওপর হয়ে যাওয়া হলদেটে ভাব সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট করে ফেলে। এ ক্ষেত্রে বাফার দিয়ে ঘষে নখের অনেকের পায়ের নখে কাদা ঢুকে যায়। কোনো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে কাদা বের করা যাবে না। টুথব্রাশ বা পায়ের ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ঘষলেই কিন্তু ময়লাটা বের হয়ে আসবে। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, এ বর্ষায় নখটা না হয় একটু ছোটই থাকুক।

বিরত থাকা উচিত : পায়ের যেকোনো সমস্যায় নিজে ডাক্তারি না করাই ভালো। চিকিৎসক রাশেদ মোক্স খান জানান, খুব বেশি চুলকালে প্রাথমিকভাবে জলপাই তেল ব্যবহারে আরাম পাওয়া যাবে। পরে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনো ফোঁড়া হলে না খোঁচানোই ভালো। চুলকানি হলে যতটা সম্ভব কম চুলকানো উচিত। চুলকানোর ফলে নখের সাহায্যে শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও ছড়াতে পারে সংক্রামকটি। অনেকের পায়ের চামড়া উঠে যায়। এটা অযথা খোঁচানো ঠিক নয়, নির্দিষ্ট সময় পর এমনিতেই উঠে যাবে।

নিজে নিজে কোনো প্রকার ওষুধ খাবেন না, লাগাবেন তো না-ই। হিত তো হবেই না, বিপরীতই হবে। পেডিকিউরের জন্য অনেক জিনিসই বাজারে পাওয়া যায়। সঠিক ব্যবহার না জেনে ব্যবহার করবেন না।

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে : এই বর্ষায় নোংরা পানি, কাদা, আবর্জনার সঙ্গে চলতে গেলে পা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসবেই। এর থেকে রক্ষা পেতে মাঝেমধ্যেই নিতে পারেন রাশেদ মোক্স খানের দেখানো দিকনির্দেশনাটি। এক গামলা গরম পানিতে দু-তিনটা পটাশের দানা ফেলুন। হালকা বেগুনি রং ধারণ করবে। ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। এটি সাহায্য করবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রুখতে।

যাত্রায় সঠিক জুতা : বর্ষাকালে জুতার একটি বড় ভূমিকা আছে। পা বন্ধ জুতাগুলো এ বর্ষায় তুলে রাখুন। বাতাস চলাচল করতে পারবে, এমন খোলামেলা স্যান্ডেল বা জুতাই গ্রহণযোগ্য এখন। কিন্তু অফিসগামী ব্যক্তিদের এ বুদ্ধিটি কোনো কাজে লাগবে না। কারণ তাদের তো ফর্মাল ড্রেস কোডে যেতেই হবে। সে ক্ষেত্রে সুতির মোজা পরুন। বাজারে গন্ধ ছাড়া ট্যালকম পাউডার পাওয়া যায়। মোজা পরার আগে লাগিয়ে নিতে পারেন। দুর্গন্ধ কমে যাবে অনেকাংশে।

জুতা ভিজে গেলে অফিসে যাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য হলেও খুলে রাখুন। পা ও জুতা দুটোই শুকিয়ে নিন। চামড়ার জুতা বা স্যান্ডেল পরতে অভ্যস্ত অনেকেই। এ বর্ষায় চামড়া ভালোভাবে ট্যান করা হয়েছে, এমন জুতা আবশ্যক। তবে চামড়ায় ব্যবহৃত আঠা থেকেও অনেক সময় চর্মরোগ হয়। সে রকম কোনো কিছু দেখা গেলে জুতা পরিবর্তন করুন। রাবারের স্যান্ডেল থেকেও অনেকের সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাবধানতা ও সচেতনতা দুটোই কাম্য। পিছলা রাস্তাঘাটের জন্য মানানসই জুতা কেনা দরকার।

খুশকি থেকে বাঁচার উপায়
                                  

ভেজা আবহাওয়াতে মাথার ত্বক রুক্ষ হয়ে চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে বর্ষাকালে খুশকি হওয়ার কারণ ও দূর করার উপায় সম্পর্কে জানানো হল।

প্রসাধনী সম্পর্কে সতর্কতা
ভেজা মৌসুমে শুষ্ক মাথার ত্বক ও শুষ্ক খুশকির সমস্যা দেখা যায়। আগে কেবল শীতকালে এই সমস্যা দিত। এখন নানান প্রসাধনী ও চুলে রং ব্যবহার করার কারণে মাথার ত্বক শুষ্ক হয় এবং খুশকির সমস্যা দেখা দেয়।

ফাঙ্গাল সংক্রমণ, চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী বা মাথার ত্বকে তেল নিঃসরণের কারণে খুশকি দেখা দিতে পারে।

করণীয়
এই মৌসুমে একদিন পর পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। কিটোকোনাজল বা জিংক পারক্সাইড সমৃদ্ধ অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

ভারতীয় ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. গীতা ফ্যাজাইল্ভা পরামর্শ দেন, “মাথার ত্বক আর্দ্র রাখতে এক টেবিল-চামচ নারিকেল তেল ব্যবহারের পর অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এছাড়া নিয়মিত অন্যান্য শ্যাম্পুর অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকা গেলে খুশকির সমস্যা কম দেখা দেয়।”

প্রাকৃতিক উপাদানে ঠোঁটের যত্ন নিন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ঠোঁট কোমল ও আর্দ্র রাখতে লিপবামের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় নানান প্রাকৃতিক উপাদান। লিপবামের সাহায্যে অনেক সময় ঠোঁট সুন্দর রাখা যায় না। আবার সময় হাতের কাছে লিপবাম নাও থাকতে পারে।

তাই রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের নাম, যা ঠোঁট সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে।

নারিকেল তেল : এই তেল সংক্রমণ কমায় এবং ত্বক কোমল ও মসৃণ রাখে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে নারিকেল তেল আঙ্গুলের সাহায্য ঠোঁটে মালিশ করুন।

অ্যালো ভেরা : তাজা অ্যালো ভেরার জেল হাতে নিয়ে ঠোঁটে মালিশ করুন। শুকিয়ে আসলে তা ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট কোমল ও মসৃণ হবে।

মধু: এতে আছে ময়েশ্চারাইজার ও ক্ষত সারানোর শক্তি। এছাড়াও মধুতে আছে ব্যাক্টেরিয়া-রোধী উপাদান।

মনে রাখতে হবে : ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে চিনি দিয়ে এক্সফলিয়েট করে নিন। এতে মৃত কোষ দূর হবে। চিনির সঙ্গে তেল মিশিয়ে এক্সফলিয়েট করা যায়, এতে ত্বকের ক্ষতি হয় না। ঠোঁট শুষ্ক ও নির্জীব লাগলে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে ঠোঁটে কোমলভাব ফিরিয়ে আনা যায়।

মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রকৃতিতে রয়েছে এমন কিছু খাবার যা স্তন্যদানকারী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় পুষ্টিবিদ রুজুতা দিভাকরের দেওয়া কয়েকটি খাবারের তালিকা এখানে দেওয়া হল।

আজোয়াইন : মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে এটা সাহায্য করে।

কাঠবাদাম : কাঠবাদাম প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।  স্তন্যদানকারী মায়ের দৈনিক ১,২৫০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিল : তিলে আছে নানান স্বাস্থ্যগুণ। এর ভেষজ গুণের জন্য বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিল ডায়াবেটিসের পাশাপাশি হৃদরোগ এবং আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আর মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

হেলেঞ্চা ধরনের শাক: সন্তান জন্মদানের পরে অধিকাংশ নারীর শরীরে লৌহের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হেলেঞ্চা, হিঞ্চে, কলমিসহ বাগানে হয় এরকম ঝাঁঝাঁলো শাক। এগুলো উচ্চ লৌহ ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। তবে মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থায় এটা না খাওয়া ভালো। কেননা এটা সন্তান জন্মদানের সময় প্রভাব রাখে।

নারিকেল : এতে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং কোলেস্টেরল নেই। এতে আছে চারটা কলার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম। এছাড়াও আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং লরিক অ্যাসিড। এটা শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে যা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য জরুরি।

মেথি : মেথিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নারীদের দুগ্ধগ্রন্থিকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

সহজেই দূর করুন ঠোঁটের কালচে দাগ
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : অতিরিক্ত চা-কফি পান করেন? আপনার ঠোঁটে কালো দাগ পড়া স্বাভাবিক। যাঁরা বেশি বেশি রোদে যান বা ঠোঁটের যত্ন কম নেন, তাঁদের জন্যও ঠোঁটের কালচে দাগ সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। বাজারে অবশ্য ঠোঁটের দাগ দূর করার নানা ওষুধ স্ক্রাব পাওয়া যায়। কিন্তু তা অনেক সময় কার্যকর নয়। কিন্তু প্রাকৃতিক কিছু উপায় আছে, যাতে ঠোঁটের কালো দাগ দূর করা যায়। এ রকম কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জেনে নিন:

শসার রস : শসা ব্লেন্ড করে বা ছেঁচে রস তৈরি করুন। তুলার বল দিয়ে এই রস ঠোঁটে লাগান। ২০-৩০ মিনিট পর তা ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। শসার রস আর্দ্র রাখার পাশাপাশি ঠোঁটে সতেজ ভাব এনে দেবে।

গোলাপজল : তুলা গোলাপজলে ভিজিয়ে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে লাগান। এতে ঠোঁটে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং ঠোঁট বাড়তি যতœ পাবে। ঠোঁটের দাগও দূর হবে।

বিট : এক টুকরো বিট নিয়ে ঠোঁটে ভালো করে এর রস ঘষতে থাকুন। ১৫-২০ মিনিট পর ভালো করে তা ধুয়ে ফেলুন। বিটের রস ঠোঁটের পোড়া ও কালচে ভাব দূর করতে খুবই সহায়ক। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকে সতেজতা এনে দিতে পারে এবং ত্বক সুস্থ রাখে।

বেকিং সোডা : বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। চক্রাকারে ২-৩ মিনিট ঠোঁটে মাখুন। এরপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা ব্যবহারের ফলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে উঠবে। তাই এই মিশ্রণ ব্যবহারের পর ঠোঁটের কোনো জেল ব্যবহার করুন।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার : এক চা-চামচ পানিতে এক চা-চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার নিয়ে তুলা দিয়ে ঠোঁটে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দানকারী উপাদান হিসেবে কাজ করবে এটি।

ঘৃতকুমারী : ঘৃতকুমারীর রস চুলের যত্নের পাশাপাশি ঠোঁটের যত্নেও তাক লাগানো অবদান রাখে। ঘৃতকুমারীর পাতা ছেঁচে এর রস ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এরপর হালকা গরম পানিতে তা ধুয়ে ফেলুন। এতে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

লেবু-মধু : সারাদিন রোদে থাকার ফলে ঠোটে কালো দাগ দেখা দেয়। এ সমস্যায় যারা ভোগছেন, তারা লেবুর সাথে মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। এ মিশ্রণ কিছুক্ষণ ঠোঁটে রাখুন। এরপর ভেজা নরম কাপড় দিয়ে তা মুছে ফেলুন।

গ্লিসারিন : তুলা দিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে একটু গ্লিসারিন মাখিয়ে রাখুন। এতে ঠোঁট আর্দ্র থাকবে। শুষ্কতা দেখা যাবে না।

নারকেল তেল : একটু একটু নারকেল তেল লাগিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে রাখুন। এতে যে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, তা ঠোঁট আর্দ্র ও সবল রাখে।

বর্ষায় ত্বক সুস্থ রাখতে করনীয়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা আবহাওয়ার কারণে ত্বক বা ত্বকের খোসপাঁচড়া, ছত্রাক সংক্রমণ, স্ক্যাবিস-জাতীয় ত্বকের নানা ধরনের অসুখ হয়ে থাকে। ভেজা শরীর ভালোভাবে না মুছলে, ভেজা কাপড় ভালোভাবে না শুকিয়ে গায়ে দিলে, ঘর স্যাঁতসেঁতে ইত্যাদি কারণে ত্বকের সমস্যা হয়।

এ সময়ে যেসব চর্মরোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে ঘামাচির পরই ছত্রাকজনিত চর্মরোগ অন্যতম। কারণ, ঘর্মাক্ত এবং ভেজা শরীরই হলো ছত্রাক জন্মানোর উর্বর ক্ষেত্র।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাসুদা খাতুন বলেন, বর্ষাকালে লাগাতার বৃষ্টির কারণে প্রায়ই রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তার এসব ময়লা পানি ত্বকে লাগলে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। এ সময় ত্বক বৃষ্টি বা ঘামে ভেজা থাকলে সহজেই ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে। বৃষ্টির পানি লাগলে দ্রুত তা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে ও শরীর ভালোভাবে মুছে দিতে হবে। আর যাঁরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ততটা সচেতন নন, তাঁদেরই এই রোগগুলো বেশি হতে দেখা যায়।

ছত্রাকের আক্রমণ

শীতপ্রধান দেশের চেয়ে গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেশি লোক এই ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। রোগটির চিকিৎসা দেওয়া হলে খুব সহজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু হতাশার দিক হচ্ছে যে কিছুদিন যেতে না-যেতেই পুনরায় দেখা দেয়। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটু ভালো হওয়া মাত্রই রোগী ওষুধটি বন্ধ করে দেন। আবার যাঁরা ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁরাও কিন্তু ঠিকমতো ব্যবহার্য কাপড়চোপড় পরিষ্কার করেন না বা রাখেন না, ফলে খুব সহজেই কাপড়চোপড় থেকে পুনরায় ছত্রাক দেহে প্রবেশ করে এবং সে কারণেই রোগটি কিছুদিনের মধ্যে পুনরায় দেখা দিতে পারে।

কী কী ধরনের ছত্রাক রোগ এ সময়ে হতে পারে?

মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: ১. দাদ ২. ছুলি ও ৩. ক্যানডিডিয়াসিস। এই তিন ধরনের ছত্রাক-প্রজাতিই মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে এবং সেই আক্রমণ স্যাঁতসেঁতে, নোংরা, ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়। দাদ শরীরের যেকোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। তবে দেখা গেছে সাধারণত তলপেট, পেট, কোমর, পাছা, পিঠ, মাথা, কুঁচকি ইত্যাদি স্থানে বেশি আক্রান্ত হয়।

টিনিয়া ভারছিকলার বা ছুলিও একটি ছত্রাকজনিত রোগ। মানুষ গরমকালে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়, শীতকালে আবার এমনিতেই যেন মিলিয়ে যায়। আবার গরম এলে ঘাড়ের চামড়া ভেজা থাকে। সেখানেই সাধারণত বেশি হয়ে থাকে, যা দেখতে হালকা বাদামি, সাদা গোলাকৃতির মতো দেখা যায়। বুকে, গলার দুই পাশে ঘাড়ে, পিঠে, বগলের নিচে, এমনকি সারা শরীরে হতে পারে। এতে ত্বক দেখতে সাদা হয়। তাই অনেকেই আবার একে শ্বেতি ভাবতেও শুরু করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শ্বেতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ক্যানডিডিয়াসিসও একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, যেমন শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেছেন কিংবা যাঁদের ত্বকের ভাঁজ পানিতে অথবা ঘামে সব সময় ভেজা থাকে, তাঁদেরই রোগটি বেশি হয়; যাঁরা সব সময় পানি নড়াচড়া করেন, তাঁদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুদের জিহ্বা, নারীদের যোনিপথে এবং গর্ভবতী নারীরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এতে ত্বকের আক্রান্ত স্থান একটু লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সঙ্গে প্রচুর চুলকানি হয়ে থাকে।

ছত্রাক থেকে দূরে থাকা যায় কীভাবে?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছত্রাক সংক্রমণ প্রায় ১০০ ভাগ নিরাময় করা সম্ভব। তবে সেটা আবারও হতে পারে। কারণ ত্বকে ফাঙ্গাস বেড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সেখানে ফাঙ্গাস বেড়ে উঠতে চেষ্টা করবে। তাই ফাঙ্গাস প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সেগুলো হচ্ছে পা, আঙুলের ফাঁক, নখের গোড়া ভালো করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আর ত্বক পরিষ্কার বা ধোয়ার পর শুষ্ক টাওয়েল দিয়ে ভেজা স্থান মুছে শুষ্ক করে ফেলতে হবে। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, ঊরুসন্ধির ভাঁজ, বগল, ঘাড়, মাথার চুল ইত্যাদি পুরোপুরি শুকনা না করলে সেখানে ফাঙ্গাস বেড়ে উঠতে পারে।
 
হতে পারে ত্বকের ছোঁয়াচে রোগ

স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া ত্বকের একটি ছোঁয়াচে রোগ। যে কেউ যেকোনো সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বর্ষাকালে এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। চুলকানি হলো প্রধান উপসর্গ আর রাতে সেই চুলকানি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এমনকি ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে ঘা হতে পারে।

কীভাবে ছড়ায়?

অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে বিছানায় শুলে কিংবা ব্যবহৃত কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার করলে খুব সহজেই এ রোগ ছড়াতে পারে। কারণ, জীবাণুটি ব্যবহৃত কাপড়ের মধ্য দুই দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। শিশু-কিশোরেরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। অন্যান্য রোগও কমবেশি হয়ে থাকে। তবে কিছু সাধারণ নিয়মকানুন যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত গোসল ইত্যাদি মেনে চললে এসব রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।
 
এ সময়ের সচেতনতা

এ সময় ভারী জামা-কাপড় না পরে হালকা রঙের সুতি পাতলা জামা পরুন। ঘামে ভিজে গেলে দ্রুত পাল্টে নিন। ভেজা কাপড় পরে থাকলে ছত্রাক সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। নিয়মিত প্রয়োজনে দিনে দুবার গোসল করুন। জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার করতে পারেন। ঘামে বা বৃষ্টিতে ভিজলে ত্বক ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

এ সময় সারা দিন জুতা-মোজা না পরে বরং খোলা স্যান্ডেল পরা ভালো। তবে খালি পায়ে হাঁটবেন না। রাস্তায় এখন যত্রতত্র নোংরা পানি জমে থাকে। পায়ের ত্বককে এই নোংরা পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। কেননা, এই পানিতে রয়েছে হাজার রকমের জীবাণু। ভেজা চুল ভালো করে শুকিয়ে নিয়ে তবে বাঁধবেন, নইলে মাথার ত্বকে সমস্যা হতে পারে। বাড়িতে কারও ছত্রাক সংক্রমণ হয়ে থাকলে শিশুদের তাঁর কাছ থেকে দূরে রাখুন।

ঘুমের অভ্যাস ঠিক করতে করণীয়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রাতে সময় মতো ঘুম না আসার সমাধান মিলতে পারে অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনার মাধ্যমে। ঘুমের অভ্যাসে টুকিটাকি পরিবর্তন আনা আর সকাল বেলা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার মাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যাদের মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে থাকা আর দুপুরের কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার বদভ্যাস হয়ে গেছে তারা এই পদ্ধতির মাধ্যমে ঘুমের অভ্যাস দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনতে পারেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সকালে কাজে মনোযোগ আসবে বেশি, খাদ্যাভ্যাস হবে আরও স্বাস্থ্যকর এবং কমতে পারে হতাশাগ্রস্থতা, এমনটাই দেখা গেছে তাদের গবেষণায়।

‘স্লিপ মেডিসিন’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখানো হয়, যারা রাত জাগেন তাদের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ওষুধ কিংবা বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়াও পরিবর্তন করা সম্ভব।

গবেষণায় সহকারী লেখক, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহাম’য়ের অ্যান্ড্রু ব্যাগশ বলেন, রাতে দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস একজন মানুষের দৈনন্দিন সামাজিক কার্যকলাপে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলাফল হিসেবে আসতে পারে নানান বিপত্তি। এরমধ্যে আছে সারাদিন ঝিমানো এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকা।

গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন সাধারণ কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব কি না। এজন্য একদল মানুষকে নিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে গবেষণা চালান গবেষকরা। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় তারা সাধারণত যে সময় ঘুম থেকে ওঠেন তার দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে উঠতে এবং সকাল বেলা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার পরিমাণ বাড়াতে। ঘুমাতে যাওয়া সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনতে বলা হয় এবং সন্ধ্যা পর থেকে আলোর সংস্পর্শে আসার মাত্রা কমাতে বলা হয়।

এছাড়াও কাজের দিন এবং ছুটির দিন, সবসময়ই ঘুমের অভ্যাস একইরকম রাখতে বলেন গবেষকরা। সেই সঙ্গে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যত দ্রুত সম্ভব নাস্তা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দুপুরের খাবার প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়ানো হয় এবং সন্ধ্যা সাতটার পর রাতের খাবার খেতে বারণ করা হয়।

ব্যাগশ বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছিলাম যে ঘরে বসে সাধারণ কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ঘুমজনীত এই সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় কি না। আমাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে এবং গড় হিসেবে মানুষের ঘুমের সময় এগিয়ে এসেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। আরও খুশির ব্যাপার হল, এমনটা হওয়ার কারণে তাদের মানসিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে, ঝিমুনি কমেছে। পরিশেষে অংশগ্রহণকারীরা ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছে।

সহজে ঘুমিয়ে পড়ার কিছু উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন তাই ঘুমকে বলা হয় প্রাকৃতিক নিরাময়কারী। স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ঔষধের কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তবে ঘুম না আসা বা নিদ্রাহীনতার সবচেয়ে বড় অপরাধী হচ্ছে উদ্বিগ্নতা।

সময়মত ঘুমোতে যাওয়া, ক্যাফেইন পরিত্যাগ আর সকালের রোদটিকে উপভোগ- এই কয়েকটি অভ্যাস বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের ঘুমের অভ্যাসটি বদলে দিয়ে পরিবর্তন করা যায় তার দেহ ঘড়ি বা বডি ক্লকের। আর এতে সুস্থ থাকার মাত্রা বাড়ে।

রাতের পেঁচারা কিভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জেগে থাকে, সেটিকেই তারা উল্লেখ করছেন। গবেষকরা বলছেন, তাদের পদ্ধতি মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আনতে পারে। প্রত্যেক মানুষের ভেতর একটি দেহ ঘড়ি বা বডি ক্লক কাজ করে যা সূর্যের ছন্দ মেনে চলে। এর কারণেই মানুষের রাতে ঘুম পায়।

কিন্তু কিছু মানুষের এই দেহ ঘড়িটি অন্যদের তুলনার ধীরে চলে। কিছু মানুষ আছেন যারা ভোরে ঘুম থেকে জাগেন, কিন্তু রাত জেগে থাকা তাদের জন্যে হয় কষ্টকর। আবার এমন অনেক রাত জাগা ব্যক্তি আছেন যাদের জন্যে নয়টা-পাঁচটার কর্মজীবন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তাদের হয়ত অ্যালার্ম ঘড়ির সাহায্যে এমন সময় ঘুম থেকে জাগতে হয় যখন তাদের শরীর কাজের জন্যে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ওঠে না। গবেষকরা এমন ২১জন রাত জাগা মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন যারা গড়ে রাতে ঘুমোতে যান আড়াইটায় এবং সকাল ১০টার আগে জাগতে পারেন না।

এমন লোকদের জন্যে যেসব নির্দেশ:

# স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে জেগে উঠুন এবং বাইরে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে সকালের আলো উপভোগ করুন।

# যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রাতরাশ বা সকালের নাস্তা করুন।

# ব্যায়াম করুন শুধুই সকালে।

# প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে দুপুরের খাবার খান এবং সন্ধ্যা ৭টার পর আর কিছুই খাবেন না।

# দুপুর ৩টা পর আর কোনো ক্যাফেইন নয়।

# দুপুর ৪টার পর কোনো ঘুম বা তন্দ্রা বা ন্যাপ নয়।

# সচরাচর সময়ের ২-৩ ঘণ্টা আগে ঘুমোতে যান এবং সন্ধ্যার পর থেকে ঘরের আলো কমিয়ে রাখুন।

# প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে যান ও একই সময়ে সকালে উঠুন।

# তিন সপ্তাহ পর, এই অভ্যাস চর্চাকারী সফলভাবে তাদের দেহ ঘড়ি-কে অন্তত দুই ঘণ্টা এগিয়ে স্থানান্তর করতে পেরেছেন।

এই বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম, ইউনিভার্সিটি অব সারে এবং মনাশ ইউনিভার্সিটির গবেষণায়। ফলাফলটি প্রকাশ পায় স্লিপ মেডিসিন নামে এক জার্নালে।

এই অভ্যাস চর্চার ফলে দেখা গেছে যারা দেরী করে ঘুমোতে যান বা অনিদ্রায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে নিদ্রা ভাব, চাপ ও বিষণ্ণতা কমেছে এবং রিঅ্যাকশন টাইমের উন্নতি ঘটেছে।

ইউনিভার্সিটি অব সারের অধ্যাপক ডেবরা স্কিন বলেন, ‘সামান্য কিছু অভ্যাস চর্চার মাধ্যমে অধিক রাত জেগে থাকা ব্যক্তি তার দেহ ঘড়ি সংশোধন করতে পারেন এবং তার সার্বিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।’

তিনি বলেন যে, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীরের দেহ ঘড়ির বিচ্যুতি ঝুঁকি বাড়ায় হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের। এর অন্যতম কারণ হলো শরীর অনেক বেশি সূর্যের প্রতি ক্রিয়াশীল- অর্থাৎ দিনে শরীর অনেক বেশি কার্যক্ষম থাকে রাতের তুলনায়। অনিয়মিত ঘুম এবং জেগে ওঠা তাই শরীরের নিজস্ব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়।

এই কৌশলগুলো ঘুমের স্বাস্থ্যবিধির মতো মনে হতে পারে, তবে ব্যক্তি বিশেষে সবাই যেন নিজের শরীরকে তার স্বাভাবিক নিয়মে অভ্যস্ত করে তোলে।

অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে করনীয়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ওষুধের পেছনে বাড়তি টাকা খরচ না করে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেছে নিতে পারেন ঘরোয়া পদ্ধতি। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সম্পর্কে এখানে জানানো হল।

মধু : বাতাসে থাকা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর প্রতি শরীরকে সহনশীল বা অভিযোজিত করতে সাহায্য করে মধু। আবার অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হলে মাত্র এক চা-চামচ মধু খেলেই হাঁচি-কাশি থেকে মিলবে তাৎক্ষণিক নিরাময়। মধুতে প্রদাহরোধী উপাদানও রয়েছে, তাই অ্যালার্জিজনীত ফুসকুড়ি হলে সেখানে মধু মাখাতেও পারেন।

প্রোবায়োটিক : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার কারণে রোগজীবাণুর প্রতি তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যায়। আর তখনই অ্যালার্জি দেখা দেয়। এজন্য অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রায় ভারসাম্য বজায় রাখতে খেতে হবে শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া। দই ও টক দই অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বাড়ায় কারণ এগুলোতে থাকে ‘প্রোবায়োটিক’।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার :  এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল-চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। প্রতিদিন তিনবার এই মিশ্রণ পান করতে হবে। এই মিশ্রণ শ্লেষ্মা তৈরির প্রক্রিয়া মন্থর করে এবং ‘লিম্ফাটিক সিস্টেম’ বা লসিকানালী কার্যকর রাখে।

বাষ্প : ধুলাবালির অ্যালার্জি থেকে বাঁচার আরেকটি উপায় হল নিঃশ্বাসের সঙ্গে বাষ্প গ্রহণ করা। এজন্য একটি বড় পাত্রে ফুটানো পানি নিতে হবে এবং তা থেকে নির্গত বাষ্প নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। কমপক্ষে একটানা ১০ মিনিট বাষ্প গ্রহণ করা ভালো। এই প্রক্রিয়ায় নাকের রাস্তা আরাম পায় এবং পরিষ্কার হয়।

ভিটামিন সি : ধুলাবালির অ্যালার্জি থেকে বাঁচার সবচাইতে সহজ উপায় হলো ভিটামিন সি। কমলা, লেবু ইত্যাদি টক-জাতীয় ফল বেশি করে খেতে হবে। রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা থেকে ‘হিস্টামিন’ নির্গমন বন্ধ করে ভিটামিন সি এবং এই কণিকাকে বিষাক্ত উপাদান মুক্ত করে। নাক থেকে তরল নির্গমন এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া রোধ করে ভিটামিন সি।

তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো ধরনের ভিটামিন ‘সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হবে।

আজ ভালোবাসার দিন
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : দু’টি অনুভূতিপ্রবণ সতৃষ্ণ হৃদয়ের অব্যক্ত বিরহ এক সুরে কম্পোজিশনের নাম ভালোবাসা। গানে যেমন বলা হয়েছে- ধরিয়া রাখিও সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি তোমার প্রাসাদ-প্রাঙ্গণে।.. আদরে সোহাগে স্বপ্নের মতো দিন কাটানোর নাম ভালোবাসা, যাতে প্রিয় মানুষকে উদ্দেশ করে বারবার বলা হয়- মনে ক’রে সখী বাঁধিয়া রাখিও আমার হাতের রাখী- তোমার কনক-কঙ্কণে।

..প্রিয়জনকে কনক-কঙ্কণে বেঁধে প্রতীক্ষার ছায়া হয়ে থাকা আর তাকে মন দিয়ে- নিজ হাতে ছুঁয়ে দেওয়ার নামই তো ভালোবাসা। এক অনন্য আবেশের মৌতাতে আবিষ্ট থাকার নামই তো ভালোবাসা। হিয়ার পরশে চমকে ওঠার অনুভূতির নাম ভালোবাসা। প্রখর রোদে হিমেল হাওয়ায় শীতল হওয়ার নামই ভালোবাসা। আজ সেই অনন্য অনুভূতিকে প্রাণভরে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করার দিন। আজ সেন্ট  ভ্যালেন্টাইস স্মরণে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, হ্যাপী ভ্যালেন্টাইনস ডে।
পাহাড়সম ব্যস্ততা আর কাজের বাধা পেরিয়ে প্রিয়ার চোখে চোখ রেখে আজ বলতে হবে- শুধু তোমাকেই, হ্যাঁ- শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। আজ-কাল-পরশু.. শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শুধু তোমাকেই ভালোবাসতে চাই। জন্ম-জন্মান্তরের ভালোবাসার কথা- এ জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেব..এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেন, এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে যেন..মনে থাকবে?

তুর্কি কবি নাজিম হিকমত তার জেলখানার চিঠিতে  জীবনের শেষ সময়ের কথা উল্লেখ করে সার্থকভাবেই লিখেছিলেন- নতজানু হয়ে আমি চেয়ে আছি মাটির দিকে, উজ্জ্বল নীল ফুলের মঞ্জরিত শাখার দিকে আমি তাকিয়ে, তুমি যেন মৃন্ময়ী বসন্ত- আমার প্রিয়তমা, আমি তোমার দিকে তাকিয়ে।

তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারাবিশ্বের মতো আমাদের তরুণ সম্প্রদায় উদযাপন করছে ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসার উৎসবে মুখর আজ রাজধানী। এ উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে  গ্রামবাংলার জনজীবনেও। মুঠোফোনের খুদেবার্তা, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে বিন্দু বিন্দু কথামালা সম্মুখে দাঁড়িয়ে পরিণত হচ্ছে ভালোবাসার কথামালার সিন্ধুতে। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকলেট-ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু’ছত্র পদ্য হয়ে উঠতে পারে আজকের দিনের উপহার। আর ফুল তো রয়েছেই, রক্তরাঙা গোলাপ.. কত না হাজার ফুল। তবে ভালোবাসার দিনটি শুধুই প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান, এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারি আমরা সবাই।

ইতিহাসের তথ্যে দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদ- দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদ-ে দ-িত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেন্টাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতিবছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরাণের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এদিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয়, তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটি একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ প্রচলন করে অধূণালুপ্ত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক পত্রিকা যায়যায়দিন। এর স্বনামখ্যাত সম্পাদক শফিক রেহমান এর ব্যক্তিগত প্রষ্টোয় উৎসাহী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহনে ধীরে ধীরে দিবসটির উদযাপন জনপ্রিয় হতে হতে এখন গোটা দেশে অনাবিল আনন্দের এক অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। চিয়ার্স - মি. রেহমান, আজ শুভ কামনা আপনার জন্যও ।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: আদা সর্দি-কাশি সারাতে দারুন কাজ করে এটা অনেকেরই জানা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদায় এমন সব ঔষধি গুণ রয়েছে যা একাধিক রোগ-ব্যাধি মোকাবেলায় সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় ৮০ ক্যালরি এনার্জি, ১৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৭৫ গ্রাম ফ্যাট, ৪১৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম এবং ৩৪ মিলিগ্রাম ফসফরাস রয়েছে। নিয়মিত আদা খেলে যেসব সমস্যা দুর করা যায়-

১. হজমের সমস্যা, বুক জ্বালা কিংবা গ্যাস কমানোর জন্য আদা অত্যন্ত কার্যকরী।

২. শরীরের নানা ধরনের ব্যথা নিরাময়ে আদা দারুনভাবে প্রভাব ফেলে। আদার রসে থাকা জিঞ্জেরল ব্যথার অসুখের মতোই কাজ করে।

৩. মার্কিন গবেষকরা বলছেন, আর্থ্রাইটিস সমস্যা কমাতেও আদা কার্যকরী।  ৪. যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, ক্যানসারের কোষগুলির অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি রুখে দিতে পারে আদার রস।

৪. মাইগ্রেনের সমস্যার নিরাময়েও আদা দারুনভাবে কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিহিস্টামাইন, অ্যান্টিনসিয়া উপাদান মাথা-ধরার অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।

৫. ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও দারুন কার্যকরী আদা। এটি ক্যালরি পোড়াতে ভাল কাজ করে। তাছাড়া আদার রস কার্বোহাইড্রেট দ্রুত হজম করাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে বিপাকক্রিয়া এবং ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আদার বেশ ভূমিকা থাকে।

৬. ঠান্ডা-গরমে খুসখুসে কাশি বা সর্দির সমস্যা দূর করতে আদার রস খুবই কার্যকরী। খুসখুসে কাশিতে গলার ভেতরের অস্বস্তি কমাতে আদার জুড়ি নেই।

৭. একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াজনিত যে কোনও সংক্রমণ ঠেকাতে আদার রস খুবই কার্যকরী।

৮. বমি বমি ভাব কমাতে আদার কুচি মুখে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। সূত্র : জি নিউজ

মাত্র ১ টি এলাচ খেয়ে সুস্থ্য থাকুন
                                  

খাবার খেতে বসলে মুখে এলাচ চলে গেলে মুখের স্বাদটাই মাটি হয়ে যায় অনেকের। মনে মনে ভাবতে থাকেন এলাচ খাবারে না দিলেই কি নয়? কিন্তু সত্যিই এই এলাচ রান্নাতে না ব্যবহার করলেই নয়। কারণ রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানো এলাচের অন্যতম কাজ। কিন্তু আপনি জানেন কি রান্না ছাড়াও আপনি এলাচ খেলে তা আপনার ১০ টি শারীরিক সমস্যা দূরে রাখবে? অনেকেই হয়তো বিষয়টি জানেন না। কিন্তু প্রতিদিন মাত্র ১ টি এলাচ খাওয়ার অভ্যাস করেই দেখুন না, নানা রকম সমস্যার সমাধান পাবেন।

১) এলাচ এবং আদা সমগোত্রীয়। আদার মতোই পেটের নানা সমস্যা এবং হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এলাচ অনেক কার্যকরী। বুক জ্বালাপোড়া, বমি ভাব, পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটির হাত থেকে মুক্তি পেতে এলাচ মুখে দিন।

২) দেহের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে দিতে এলাচের জুড়ি নেই। এলাচের ডিউরেটিক উপাদান দেহের ক্ষতিকর টক্সিন পরিষ্কারে সহায়তা করে।

৩) রক্তনালীতে রক্ত জমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। এলাচের রক্ত পাতলা করার দারুণ গুনটি এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে। প্রতিদিন এলাচ খেলে রক্তের ঘনত্ব সঠিক থাকে।

৪) এলাচের ডিউরেটিক উপাদান উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম। দেহের বাড়তি ফ্লুইড দূর করে এলাচ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।

৫) মুখে খুব বেশি দুর্গন্ধ হয়? একটি এলাচ নিয়ে চুষতে থাকুন। এলাচ মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

৬) নিয়মিত এলাচ খাওয়ার অভ্যাস মুখের দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাড়ির ইনফেকশন, মুখের ফোঁড়া সহ দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

৭) গবেষণায় দেখা যায় নিয়মিত এলাচ খাওয়ার অভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এলাচ দেহে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাঁধা প্রদান করে থাকে।

৮) এলাচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকে বয়সের ছাপ, রিংকেল, ফ্রি র্যাহডিকেল ইত্যাদি পড়তে বাঁধা প্রদান করে। এলাচ ত্বকের ক্ষতি পূরণেও বেশ সহায়ক।

সূত্রঃ হেলথডাইজেস্ট

ক্যান্সারকে গুডবাই জানান মাত্র দুটি উপায়ে
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মানুষের অবহেলার কারণে ক্যান্সার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওশ স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, মস্কো, রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, কিন্তু মানুষ এই রোগে মারা যায় শুধুমাত্র উদাসীনতার কারণে।

তার মতে, মাত্র দুটি উপায় অনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। উপায়গুলো হচ্ছে:-
১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। কেননা, শরীরে চিনি না পেলে ক্যান্সার সেলগুলো এমনিতেই বা প্রাকৃতিকভাবেই বিনাশ হয়ে যাবে।

২. এরপর এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবু চিপে মিশিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম পানি পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার।

মেরিল্যান্ড কলেজ অব মেডিসিন- এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কেমোথেরাপির চেয়ে এটি হাজার গুণ ভাল।

৩. প্রতিদিন সকালে ও রাতে তিন চা চামচ অর্গানিক নারিকেল তেল খান, ক্যান্সার সেরে যাবে।

চিনি পরিহারের পর নিচের দুটি থেরাপির যেকোনো একটি গ্রহণ গ্রহণ করুন। ক্যান্সার আপনাকে ঘায়েল করতে পারবে না। তবে অবহেলা বা উদাসীনতার কোনো অজুহাত নেই।

উল্লেখ্য, ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ডা. গুপ্তপ্রসাদ গত পাঁচ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্যটি প্রচার করছেন।

সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন এই তথ্যটি শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

তিনি বলেছেন, “আমি আমার কাজটি করেছি। এখন আপনি শেয়ার করে আপনার কাজটি করুন এবং আশেপাশের মানুষকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করুন।” সূত্র: রেডিট

মুগ ডালে উজ্জ্বল ত্বক
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সুন্দর থাকতে আমরা প্রাকৃতিক নানা উপাদানের ওপর নির্ভর করি। এর মধ্যে ডাল একটি, ত্বকের যতেœ মশুর ডাল আর  বেসনের কথাই বেশি শোনা যায়। তবে মুগ ডালও কিন্তু পিছিয়ে নেই।
আমাদের ত্বক উজ্জ্বল ও দাগহীন কোমল মসৃণ রাখতে মুগ ডালও  দারুণ কাজ করে।

জেনে নিন কীভাবে ব্যবহার করতে হয়:

শুষ্ক ত্বকে : আপনার মুখের শুষ্ক ত্বক নরম ও নমনীয় করতে মুগডাল সারারাত কাঁচা দুধে ভিজিয়ে ডালের পেস্ট করে ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ১৫ মিনিট প্যাকমুখে মাখতে হবে। তারপর মুখ ধুয়ে একটা নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।

ব্রণ দূর করতে :  মুগ ডালের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ত্বকে তেল ময়লা আটকে পড়তে দেয় না। ব্রণের সমস্যায় মুগ ডাল পেস্টের সঙ্গে ঘি মিশিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে ঘষে ঘষে সারা মুখে মেখে রাখুন। ১৫ মিনিট পরে মুখ ধুয়ে নিন। ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করতে হবে।

মুখের লোম : অনেকেরই মুখে লোম থাকে, যদি লোম তুলতে কেমিক্যাল ব্লিচ ব্যবহার করেন, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর আর থ্রেডিং একটি কষ্টকরপদ্ধতি। এটা থেকে মুক্তি পেতে সারারাত ভিজিয়ে ডালের পেস্ট তৈরি করে সাথে কিছুটা চন্দন গুঁড়া ও কমলা লেবুর খোসা গুঁড়া মেশাতে হবে। প্রয়োজনে সামান্য দুধ মেশাতে পারেন। এই পেস্টটি কয়েক বার মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। দুই- তিন বার ব্যবহারের পরই আপনি মুখে মুখের লোমের পরিমাণ কমতে থাকবে।

সান ট্যান : নিয়মিত রোদে বের হলে সান ট্যান(ত্বক রোদে পোড়া) সাধারণ ঘটনা। ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করতে আস্থা রাখুন মুগ ডালে। ডাল পেস্টের সঙ্গে ঠা-া দই বা আলোভেরা জেল মেশান। তারপর সেই মিশ্রণ আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে নিন। এটা সপ্তাহে ২ দিন করলেই উপকার পাবেন।

বুঝতেই পারছেন ত্বকের মোটামুটি সব সমস্যার সমাধানই আসতে পারে মুগ ডাল ব্যবহারে। ধৈর্য ধরে প্রাকৃতিক পণ্য ব্যবহার করুন, উজ্জ্বল ত্বকে সুন্দর থাকুন।

যেসব খাবার দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রকৃতি কত সুন্দর তা দেখি আমরা চোখ দিয়ে। শুধু প্রকৃতি কেন চোখ না থাকলে আমরা কিছুই দেখতাম না। শরীরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ চোখ তাই চোখের যতœ নেওয়া খুবই জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে কম্পিউটার কিংবা মোবাইল স্ক্রিনে অতিরিক্ত চোখ রাখার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিশক্তি। চোখের যতœ না নেওয়া নিলে গ্লুকোমা, রাতকানা রোগ, চশমার পাওয়ার বেড়ে যাওয়া এবং চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এজন্য ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যেসব খাবারে ভিটামিন এ পাওয়া যায়-

১. গাজরে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে। দিনে যতটুকু ভিটামিন এ প্রয়োজন তার প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি ভিটামিনে এ থাকে একটি গাজরে। এছাড়া এতে ভিটামিন বি, কে, ফাইবার এবং ম্যাগনেশিয়ামও থাকে। ভিটামিন এ রাতকানা রোগ হতে রক্ষা করে।

২. পালং শাকেও প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। পালং শাকে ভিটামিন এ’র পাশাপাশি  আয়রনও থাকে যা চোখ ভাল রাখতে সাহায্য করে। মাত্র এক কাপ পরিমাণ পালং শাকে ১০০ শতাংশ ভিটামিন এ থাকে।

৩. আমাদের অন্যতম প্রধান ফল আম দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এক কাপ পরিমাণে আমে ৩৫ শতাংশ ভিটামিন এ রয়েছে।

৪. পেঁপেতে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান ও খনিজ থাকে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দিনে যতটুকু ভিটামিন এ প্রয়োজন তার প্রায় ২৯ শতাংশ পাওয়া যায় পেঁপে থেকে।   

ঈদ উৎসবে সাজবে ঘর
                                  

শারমিন আক্তার : নিজেদের সাজসজ্জা শেষে ঈদবাজারের ক্রেতারা অন্দরমহল সাজাতে ঢুঁ দিচ্ছেন নানান বিপণিবিতানে। ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনকে যদি খানিকটা চমকই না দেওয়া গেল, তাহলে আর নতুনত্ব থাকবে না। যে পর্দা বা বিছানার চাদর সারা বছর ঘরে শোভা পেয়েছে, ঈদের দিন সেটা ঘরে থাকলে ঈদের আমেজই আসবে না।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পোশাকের দোকানের মতোই বেশ জমজমাট ঘর সাজানোর উপকরণ বিক্রির দোকানগুলো। একই চিত্র রাজধানী জুড়ে বসা ঈদ মেলাগুলোতে। কোথাও প্রয়োজনের জিনিস পেয়ে খুশি ক্রেতারা, কোথাওবা বাড়তি দামের অভিযোগ।

রাজধানীর নিউমার্কেট-সংলগ্ন চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে গৃহস্থালি সজ্জাসামগ্রীর বেশ কিছু দোকান। দোকানগুলো রাস্তা থেকে একটু ভেতরের দিকে হলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি বিক্রিবাট্টায়। ক্রেতার আনাগোনা বেশ ভালো বলেই জানালেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু ঈদ নয় এসব জিনিসের চাহিদা সারা বছর থাকে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ে। আর ক্রেতাদের বেশির ভাগই নারী।

আছে বাড়তি দাম নেয়ার অভিযোগ। তবে তা মানতে রাজি নন এখানকার ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতা সাব্বির বলেন, ‘সারা বছর যে দামে বিক্রি হয়, এখনো সেই দামেই। দাম বাড়ে নাই। কিছু কাস্টমার আছে সিজনাল। তারা তো আর সারা বছর কেনে না। তাই তারা দাম জানে না। মিডিয়া দেখলে সবাই কয়, দাম বেশি দাম বেশি।’

এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে ঘর সাজানোর জন্য কাঠ, বাঁশ, বেতের তৈরি নানা অবয়ব, ধাতব ও কাঠ দিয়ে তৈরি রিক্সা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, গরুর গাড়িসহ বাংলার পরিচয় বহনকারী বিভিন্ন জিনিস। আছে কাঠের ফ্রেমে কারুকাজ করা আয়না। চাহিদায় সবচেয়ে এগিয়ে বাতির ফ্রেম। এ ছাড়া এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানা রঙ-ঢংয়ের হস্তশিল্প।

একই ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে রাজধানী জুড়ে ঈদ উপলক্ষে বসা মেলাগুলোতে। মেলায় বাড়তি চাহিদার জন্ম দিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরি ফুল। চাহিদা আছে বাতির ফ্রেমের। এ ছাড়া ট্যারাকোটা বা পোড়ামাটির তৈরি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রাণীর অবয়ব বিক্রি হচ্ছে এসব মেলায়। পাওয়া যাচ্ছে ফুলদানি, কলমদানি ও ফুলের টব।

মোহাম্মদপুর শ্যামলী ক্লাব মাঠে ঈদ উপলক্ষে চলছে মাসব্যাপী মেলা। মেলায় স্থান পেয়েছে গৃহস্থালি সজ্জাসামগ্রীর একাধিক দোকান। হস্তশিল্পের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে গৃহস্থালি প্রয়োজনীয় পণ্য। কোনো কোনো দোকানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি, দরজার পাপোষ, শোফার কুশনসহ নানা কিছু।

ঈদের পোশাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মোটেও পিছিয়ে নেই এসব পণ্য। মেলাগুলোতে দামের বিষয়ে তেমন কোনো আপত্তি পাওয়া গেল না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ দোকানে। সবগুলো পণ্যই বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা হারে। বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্ট মেলার বিক্রেতারা।

বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, ‘এক দামে জিনিস বিক্রি করা ভালো। কোনো দামাদামি নাই। সব একই দামের মাল। যাই নেক, ১৩০ টাকা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বাহিরে দোকান আছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রায় সারা বছর মেলা করি। ঈদের টাইমে এসব আইটেম অনেক চলে। পাপোষ সবার বাসায় আছে। ছিঁড়াটারে সারা বছর অনেকে চালায়, কিন্তু ঈদের টাইম আসলে ঠিকই পাল্টায়। আবার অনেকে এক মাসের জিনিসটাও ঈদের আগে পাল্টায়।’

সন্তুষ্ট ক্রেতারাও। সুমি আক্তার ও তার বান্ধবীরা ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন শ্যামলী ঈদ মেলায়। কেনাকাটার তালিকায় পোশাক-গহনা-কসমেটিকসের পাশাপাশি রয়েছে ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিসের নাম।

সুমি বলেন, ঈদে বাড়িতে অনেকে আসে। যারা সারা বছর আসে না। তাই সাজগোজটাও একটু বেশি। আমরা যেমন সাজি, নিজেদের ড্রেস কসমেটিকস নেয়া হয়, একইভাবে ঘরের জন্যও নেয়া হয়। পাশোষ, দরজা-জানালার পর্দা সব চেঞ্জ। কিছু প্লাস্টিকের ফুল ও ফুলদানি নিয়েছি। এগুলোও কাজে আগাবো।

এসব বিষয়ে পুরুষের মাথাব্যথা না থাকলেও ঘরণী বেশ ব্যতিব্যস্ত তার ঘর সাজাতে। ঈদে ঘরটা আর একটু পরিপাটি করে নিতে ঘর সাজানোর আলাদা বাজেট করেছেন অনেক গৃহিণী। প্রয়োজন ও শখের জায়গা থেকে অনেকে কিনছেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক ‘হ্যান্ডিক্রাফট’ বা ঘর সাজানোর উপকরণ।


   Page 1 of 18
     জীবনশৈলী
বর্ষায় পায়ের যত্ন
.............................................................................................
খুশকি থেকে বাঁচার উপায়
.............................................................................................
প্রাকৃতিক উপাদানে ঠোঁটের যত্ন নিন
.............................................................................................
মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
.............................................................................................
সহজেই দূর করুন ঠোঁটের কালচে দাগ
.............................................................................................
বর্ষায় ত্বক সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
ঘুমের অভ্যাস ঠিক করতে করণীয়
.............................................................................................
সহজে ঘুমিয়ে পড়ার কিছু উপায়
.............................................................................................
অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে করনীয়
.............................................................................................
আজ ভালোবাসার দিন
.............................................................................................
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদা
.............................................................................................
মাত্র ১ টি এলাচ খেয়ে সুস্থ্য থাকুন
.............................................................................................
ক্যান্সারকে গুডবাই জানান মাত্র দুটি উপায়ে
.............................................................................................
মুগ ডালে উজ্জ্বল ত্বক
.............................................................................................
যেসব খাবার দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
.............................................................................................
ঈদ উৎসবে সাজবে ঘর
.............................................................................................
ঈদের আগেই ঝলমলে সুন্দর চুল
.............................................................................................
ইফতারে কেন ছোলা খাবেন?
.............................................................................................
ওজন বাড়ায় না সাদা মাখন
.............................................................................................
তরমুজ খেলে হতে পারে যেসব সমস্যা
.............................................................................................
ঢেঁড়সের উপকারিতা
.............................................................................................
মোবাইল ফোনের আলো থেকে ক্যান্সার!
.............................................................................................
চাকরি ক্ষেত্রে দরকার...
.............................................................................................
এই গরমে উপকারী শসা
.............................................................................................
বৈশাখী সাজে ত্বকের যত্ন
.............................................................................................
নিজেকে সাজিয়ে তুলুন বৈশাখী সাজে
.............................................................................................
বৈশাখী সাজ
.............................................................................................
গরমে ত্বকের যত্ন
.............................................................................................
টক দই প্রতিদিন
.............................................................................................
যেসব খাবার খালি পেটে এড়ানো উচিত
.............................................................................................
চোখ কাঁপা যে ৫ রোগের ইঙ্গিত দেয়...
.............................................................................................
দৈহিক শক্তি বাড়ায় যেসব খাবার
.............................................................................................
গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব ?
.............................................................................................
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়
.............................................................................................
ত্বকের বয়স কমায় পেঁয়াজ!
.............................................................................................
দাঁতে পাথর!
.............................................................................................
যে খাবারে হতে পারে ক্যানসার!
.............................................................................................
প্রেমের সমাপ্তি ভাঙনের ভয় থেকে
.............................................................................................
প্রতিদিন সকালে কমপক্ষে ১ গ্লাস পানি
.............................................................................................
বাসি ভাতে বিষক্রিয়া!
.............................................................................................
ডালিমের উপকারিতা
.............................................................................................
সকালের নাস্তায় মাশরুম
.............................................................................................
ওজন কমানোর জাদুকরী জুস
.............................................................................................
টিভির সামনে দুই ঘণ্টার বেশি নয়
.............................................................................................
হাড় ক্ষয় রোধে...
.............................................................................................
চুলের যত্ন
.............................................................................................
চিরতরে মুখের কালো দাগ মুছে দিতে!
.............................................................................................
চায়ের ভালো মন্দ
.............................................................................................
জাপানিরা শরীরের মেদ ঝরাতে যে পানীয় পান করেন
.............................................................................................
কিশমিশ খাওয়ার উপকারিতা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft