শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জীবনশৈলী -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শীতকালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের উপায়

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : শীতকালে অ্যাজমা ও আলার্জি রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। কেননা, অন্য মৌসুমের তুলনায় শীতকালে এসব রোগীদের বেশি ভুগতে হয়।

দ্য আমেরিকান কলেজ অব অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজি (এসিএএআই) শীতে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার প্রকোপ থেকে বাঁচতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে।

ফ্লুর টিকা নিন : অ্যাজমা থাকলে আপনার জন্য এ পরামর্শটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হচ্ছে, অ্যাজমা ও ফ্লু উভয়েই শ্বাসতন্ত্রের রোগ। অ্যাজমা রোগীদের ফ্লু হলে তারা ঘনঘন তীব্র অ্যাজমা অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি জীবননাশক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ফায়ারপ্লেস থেকে দূরে থাকুন : শীতকালে ঠান্ডা তাড়াতে অনেকে বাইরের উন্মুক্ত স্থানে বিভিন্ন জিনিস বা আবর্জনা একত্রিত করে আগুন জ্বালিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের ফায়ারপ্লেস অ্যাজমা রোগীদের জন্য ভালো নয়। অগ্নিকূণ্ডের ধোঁয়া অ্যাজমা অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

হাত ধোয়ার প্রবণতা বজায় রাখুন : আপনার নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলে ভালো, কিন্তু না থাকলে বাইরে থেকে ঘরে আসামাত্র হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ অভ্যাসে কোল্ড ও ফ্লুর ভাইরাস দূর হয়ে যায়। এসব ভাইরাস অ্যাজমা ও অ্যালার্জির উপসর্গকে আরো খারাপ করে। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি, যা আপনাকে বিভিন্ন মারাত্মক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন : এটা ঠিক যে শীতকালে বাইরের চেয়ে ঘরের অ্যালার্জেন দ্বারা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ কারণে আপনার অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের অ্যালার্জি থাকলে প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। ডাস্ট মাইটের (ধুলোর কীট) মতো অ্যালার্জেন দূর করতে নিয়মিত ম্যাট্রেস ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের বেসমেন্ট ও বাথরুমের স্যাঁতসেতে জায়গায় ছত্রাকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পোষা প্রাণীর শরীর থেকে খসে পড়া আঁইশ, লালা ও মূত্রের একটি প্রোটিন অ্যালার্জিতে ভোগায় বলে শীতকালে এগুলোর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

ফার্নেস ফিল্টার ব্যবহার করুন : ফার্নেস ফিল্টার ঘরের বাতাসের মান নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। ডিভাইসটি ঘরের ভেতরের অনাকাঙ্ক্ষিত নোংরা বা ধুলো দূর করে এগুলোর রিসার্কুলেটিং প্রতিরোধ করে। ঘরের বাতাস থেকে নোংরা বা ধুলোর পরিমাণ কমলে অ্যালার্জির প্রবণতাও কমে যায়। আপনার ঘরের বাতাস থেকে অ্যালার্জেন দূর করতে এমইআরভি-১১ বা ১২ ফিল্টার বেছে নিন। প্রতি এক থেকে তিন মাসে ফার্নেস ফিল্টার পরিবর্তন করা ভালো।

চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন : ঠিক কি কারণে আপনাকে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার উপসর্গে ভুগতে হচ্ছে জানতে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন। টেস্টের মাধ্যমে চিকিৎসক ভোগান্তির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারেন এবং এ সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে সঠিক চিকিৎসা করতে পারেন।

শীতকালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের উপায়
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : শীতকালে অ্যাজমা ও আলার্জি রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। কেননা, অন্য মৌসুমের তুলনায় শীতকালে এসব রোগীদের বেশি ভুগতে হয়।

দ্য আমেরিকান কলেজ অব অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজি (এসিএএআই) শীতে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার প্রকোপ থেকে বাঁচতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে।

ফ্লুর টিকা নিন : অ্যাজমা থাকলে আপনার জন্য এ পরামর্শটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হচ্ছে, অ্যাজমা ও ফ্লু উভয়েই শ্বাসতন্ত্রের রোগ। অ্যাজমা রোগীদের ফ্লু হলে তারা ঘনঘন তীব্র অ্যাজমা অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি জীবননাশক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ফায়ারপ্লেস থেকে দূরে থাকুন : শীতকালে ঠান্ডা তাড়াতে অনেকে বাইরের উন্মুক্ত স্থানে বিভিন্ন জিনিস বা আবর্জনা একত্রিত করে আগুন জ্বালিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের ফায়ারপ্লেস অ্যাজমা রোগীদের জন্য ভালো নয়। অগ্নিকূণ্ডের ধোঁয়া অ্যাজমা অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

হাত ধোয়ার প্রবণতা বজায় রাখুন : আপনার নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলে ভালো, কিন্তু না থাকলে বাইরে থেকে ঘরে আসামাত্র হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ অভ্যাসে কোল্ড ও ফ্লুর ভাইরাস দূর হয়ে যায়। এসব ভাইরাস অ্যাজমা ও অ্যালার্জির উপসর্গকে আরো খারাপ করে। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি, যা আপনাকে বিভিন্ন মারাত্মক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন : এটা ঠিক যে শীতকালে বাইরের চেয়ে ঘরের অ্যালার্জেন দ্বারা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ কারণে আপনার অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের অ্যালার্জি থাকলে প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। ডাস্ট মাইটের (ধুলোর কীট) মতো অ্যালার্জেন দূর করতে নিয়মিত ম্যাট্রেস ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের বেসমেন্ট ও বাথরুমের স্যাঁতসেতে জায়গায় ছত্রাকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পোষা প্রাণীর শরীর থেকে খসে পড়া আঁইশ, লালা ও মূত্রের একটি প্রোটিন অ্যালার্জিতে ভোগায় বলে শীতকালে এগুলোর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

ফার্নেস ফিল্টার ব্যবহার করুন : ফার্নেস ফিল্টার ঘরের বাতাসের মান নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। ডিভাইসটি ঘরের ভেতরের অনাকাঙ্ক্ষিত নোংরা বা ধুলো দূর করে এগুলোর রিসার্কুলেটিং প্রতিরোধ করে। ঘরের বাতাস থেকে নোংরা বা ধুলোর পরিমাণ কমলে অ্যালার্জির প্রবণতাও কমে যায়। আপনার ঘরের বাতাস থেকে অ্যালার্জেন দূর করতে এমইআরভি-১১ বা ১২ ফিল্টার বেছে নিন। প্রতি এক থেকে তিন মাসে ফার্নেস ফিল্টার পরিবর্তন করা ভালো।

চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন : ঠিক কি কারণে আপনাকে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার উপসর্গে ভুগতে হচ্ছে জানতে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন। টেস্টের মাধ্যমে চিকিৎসক ভোগান্তির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারেন এবং এ সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে সঠিক চিকিৎসা করতে পারেন।

শীতে চুলের রুক্ষতা দূর করার উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শীতে ত্বকের সঙ্গে চুলও রুক্ষ হয়। আবহাওয়ার শুষ্কতা, বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি কম ইত্যাদি কারণে চুলের গোড়া রুক্ষ হয় ও ফেটে যায় সহজে। এই সমস্যা কেবল লম্বা চুলের মানুষদের ক্ষেত্রেই ঘটে তা নয়, শীতে চুল পড়া বা রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন কম-বেশি অনেকেই।

মূলত ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও শীতে কিছুটা যত্নের অভাবেই চুলের এমন দফারফা অবস্থা হয়। শীতের সময় নিয়ম মেনে শ্যাম্পু বা চুলের যত্নে অনীহা দেখা যায় অনেকের মধ্যেই। আর তাতেই সমস্যার সূত্রপাত।

শীতে চুলের মসৃণতা ধরে রাখতে অনেকে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার মিস্ট ব্যবহার করেন। তবে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির হেয়ার মিস্ট চুলের ক্ষতি করতে পারে। এজন্য খুব সহজে বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন শীতের স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য হেয়ার মিস্ট।

একবার তৈরি করে নিলে একটানা চার-পাঁচ দিন চুলের যত্নে এই মিস্ট ব্যবহার করতে পারবেন। চলুন দেখে নেয়া যাক মিস্ট তৈরির উপাদান ও পদ্ধতি সম্পর্কে।

গ্রিন টি মিস্ট : এই মিস্টের প্রধান উপকরণ চা পাতা। চায়ের লিকার এমনিতেই চুলের সেরা কন্ডিশনার। তাই চুলের রুক্ষতা দূর করার পাশাপাশি এই মিস্ট চুলকে নরম করে। আধ কাপ গ্রিন টি, এক কাপ পানি, দু’ফোঁটা পিপারমিন্ট অয়েল, এক চা চামচ টি ট্রি অয়েল ও এক চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে একটি পুরনো শ্যাম্পুর স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন।

টি ট্রি অয়েল অ্যান্টিফাঙ্গাল হওয়ায় খুশকির সমস্যাও দূরে থাকে। নারকেল তেল চুলে পুষ্টিগুণের জোগান দেবে। প্রতিদিন গোসলের পর মিস্ট লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ভাল করে চুল ধুয়ে নিলেই চুলের লাবণ্য ও আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

অ্যালোভেরা মিস্ট : ঘন ঘন চুলে আর্দ্রতা কমে গেলে ভরসা রাখতে পারেন অ্যালোভেরা মিস্টে। আধা কাপ অ্যালোভেরা রস, এক কাপ পানি, এক চা চামচ জোজোবা অয়েল ও এক চা চামচ নারকেল তেলেই এই মিস্ট বাজিমাত করবে। এই মিশ্রণ শ্যাম্পুর বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রতি দিন গোসলের পর মিস্ট লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ভাল করে চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যবহার করুন।

শীতে খুশকি দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : প্রকৃতিতে শীতের হাওয়া লেগে গেছে। এই সময়ে ত্বকের বিশেষ যতœ নিতে হয়। চুলেরও আলাদা করে যতœ নিতে হয়। না হয় ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চুলেও খুশকি দেখা দেয়।

শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণেই চুলে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত দূষণের ফলেও মোটামুটি সারা বছর এ সমস্যা লেগেই থাকে।

অত্যধিক চুল ঝরা, রুক্ষ চুল, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশনের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী এ খুশকি। তাই খুশকির সমস্যার সমাধানে সঠিক সময়ে তৎপর না হলে মাথা ভরা চুল ঝরে গিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই তালু হয়ে যেতে পারে।

খুশকির সমস্যা থেকে বাঁচতে আমরা নানা উপাদান ব্যবহার করে থাকি। এসবের কোনোটা উপকারী আবার কোনোটা চুলের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে।

ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করেও খুশকির সমস্যার সমাধান করা যায়। এগুলোর খরচও কম। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। আসুন জেনে নিই চিকিৎসা ছাড়াই খুশকির সমস্যার সমাধান করার কয়েকটি উপায়।

খুশকি তাড়াবে টকদই : খুশকির সমস্যা থেকে বাচঁতে টকদই অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। খুশকি দূর করতে মাথার ত্বকে টকদই দিয়ে ভালোভাবে মালিশ করুন। এরপর মিনিট দশেক রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই ভাবে চুলে টকদই ব্যবহার করুন।

ভালো ফল দেয় মেথি : ২-৩ চামচ মেথি সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। ছেঁকে নেওয়া জল ফেলে দেবেন না। এবার মেথি বাটা চুলের গোঁড়ায় মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে দিন। এরপর শুকিয়ে গেলে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার পর মেথি ভেজানো জল দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। এভাবে সপ্তাহে দু’বার মেথি ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা দ্রুত দূর হবে।

সহজলভ্য লেবুর রস : ২ চামচ পাতি লেবুর রস সামান্য জলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ভালভাবে মালিশ করুন। মিনিট পাঁচেক চুলের গোড়ায় ভালভাবে মালিশ করার পর চুল ধুয়ে নিন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত ২ বার এই ভাবে পাতি লেবু ব্যবহার করুন।

নারকেল তেলে খুশকি দূর : নারকেল তেল চুলের যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য উপাদান। খুশকির প্রকোপ কমাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া চুলে গোড়ার আদ্রতা বজায় রেখে খুশকি এবং ‘স্ক্যাল্প ইনফেকশন’ এর আশঙ্কাও অনেকটাই কমিয়ে দেয় নারকেল তেল। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার চুলের গোড়ায় সামান্য উষ্ণ নারকেল তেলের মালিশ করলে ফল পাবেন হাতেনাতে।

কার্যকরী পেঁয়াজের রস : ২টি পেঁয়াজ ভাল করে বেটে এক মগ জলে মিশিয়ে নিন। এবার পেঁয়াজের রস মেশানো ওই জল মাথায় লাগিয়ে ভাল করে মালিশ করুন। কিছু ক্ষণ পর উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

ঝলমলে চুল পাওয়ার উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সুন্দর ত্বক পেতে যেমন ত্বকের যত্ন নিতে হয় তেমনি সুস্থ, সুন্দর ও ঝলমলে চুল পেতে হলে পরিচর্যা দরকার হয়। সুন্দর ড্রেস আর জুতার সঙ্গে নিজেকে সাজাতে ঝলমলে ও সুন্দর চুলের জুড়ি নেই। চুল বাধা সুন্দর হলে আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে। সুন্দর চুলের আকাঙ্ক্ষা কার নেই বলুন। তবে বিভিন্ন কারণে চুল মলিন হয়ে পড়তে পারে।

চুলের উজ্জ্বলতা ফেরাতে ঘরেই তৈরি করতে পারবেন এই প্যাকগুলো।

মেথি-অলিভ অয়েল : বাজারে মেথি ও অলিভ ওয়েল সহজলভ্য। দুটি জিনিস কিনে এনে ঘরেই তৈরি করতে পারবেন এই হেয়ার প্যাক। অলিভ অয়েলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হেয়ার ফলিকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। বাটিতে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে মেথিগুঁড়ো মেশান। এই মিশ্রণ চুলে ও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে হালকা শ্যাম্পু ও সামান্য উষ্ণ জল দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন।

কলা-আমলকি-আমন্ড অয়েল : একটা পাকা কলা ভালো করে পেস্ট করে নিন। তাতে ১ টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল এবং ২ টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়ো মেশান। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

দই-অলিভ অয়েল-ডিম : ২ টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে একটা ডিম ও ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। এই প্যাক স্ক্যাল্প ও চুলে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। সামান্য উষ্ণ জল ও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে কন্ডিশনারও লাগাতে পারেন।

আমলকি-নারকেল তেল-অ্যালোভেরা : ২ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ আমলকি গুঁড়ো মেশান। এর মধ্যে অ্যালোভেরা জেল মেশান সব শেষে। স্ক্যাল্প ও চুলে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

সহজলভ্য জিনিস দিয়ে ঘরে তৈরি এই প্যাকগুলো আপনার চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনবে। এছাড়া উজ্জ্বলতাও ফিরে আসবে আগের মতোই।

চুলের যত্নে জেনে নিন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : চুলের যত্ন না নিলে সেটি হয়ে যায় রুক্ষ এবং বিবর্ণ। সারাবছর অনেকেরই লেগে থাকে চুলের সমস্যা। কিন্তু একটু সচেতন থাকলে এবং কিছু টিপস মাথায় রাখলে আপনার চুল নিয়মিতই থাকবে সুন্দর আর নজরকাড়া।

বেণি বাঁধুন : চুলের ক্ষতি কম করতে যতটা সম্ভব চুল আলগা বেণি বেঁধে রাখুন। যারা দ্রুত চুল লম্বা করতে চান, তারা বেণি বেঁধে রাখলে উপকার পাবেন। বাঁধা অবস্থায় চুলে ঘর্ষণজনিত ক্ষতি কম হয়, চুল কোমল আর মসৃণ থাকে। তবে খুব শক্ত বেণি বাঁধবেন না, তাতে টান পড়ে চুলের গোড়া আলগা হয়ে যেতে পারে।

স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন : হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল স্টাইলিংয়ে চুল সাময়িকভাবে দেখতে সুন্দর লাগলেও এসব পদ্ধতি চুলের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে দেয়। তাই খুব প্রয়োজন না হলে এড়িয়ে চলুন স্টাইলিং। বরং ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল কার্ল বা ওয়েভ করে নিতে পারেন। তাতে স্টাইলিং খুব বেশি সময় স্থায়ী হবে না, কিন্তু বাড়তি কোনো ক্ষতিও হবে না।

ঠান্ডা পানি ব্যবহার : হালকা গরম পানিতে চুল পরিষ্কার করলে চুলের কিউটিকল খুলে যায় এবং শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার চুলের গভীরে ঢুকতে পারে। কিন্তু একেবারে শেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেবেন, যাতে খোলা কিউটিকল আবার বন্ধ হয়ে যায়। না হলে চুল খুব রুক্ষ আর বিবর্ণ দেখাবে।

তেল ব্যবহার : চুলে তেল ব্যবহার করা যতই অসুবিধার কাজ হোক না কেন, আপনার চুলে পুষ্টি জোগাতে এর বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত একদিন স্ক্যাল্প আর চুলে ঘষে ঘষে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাখুন। তেল মেখে অন্তত আধঘণ্টা অপেক্ষা করবেন, যাতে তেলের পুষ্টি চুলের গভীরে শুষে যেতে পারে। তারপর শ্যাম্পু করে নিন।

অযথা এক্সপেরিমেন্ট নয় : নতুন হেয়ার কালার বা হেয়ার স্টাইল বাজারে এলেই তা অনুসরণ করবেন না। চুলের উপর যত পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন, তত বেশি ক্ষতি হবে চুলের। নিয়মিত তেল মাখুন, শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন, মাসে একদিন স্পা করান, শুধু এটুকুতেই নরম, মোলায়েম থাকবে আপনার চুল।

ত্বকের যত্নে দুধের ব্যবহার
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : দুধের পুষ্টি যেমন শরীরের জন্য ভালো তেমনি সরাসরি ব্যবহারে ত্বক হয় কোমল। দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। যা শরীরের জন্য উপকারী। স্থাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বকের জন্য প্রতিদিন দুধ পানের পাশাপাশি শরীরে বাহ্যিক ভাবেও ব্যবহার করা যায়।

রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ত্বকে দুধের ব্যবহার সম্পর্কে জানানো হল।

ভালো পরিষ্কারক : ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে দুধ বেশ উপকারী। এটা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে। এক চামচ দুধ ত্বকে ভালোভাবে মালিশ করুন। পরে ভেজা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলুন।

বয়সের ছাপ দূর করে : দুধে আছে ল্যাক্টিক অ্যাসিড যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কোষকলা উৎপাদন করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক দেখতে টানটান লাগে। ভালো ফলাফলের জন্য কাঁচা দুধ ফেইসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করুন।
 
রোদপোড়া-ভাব কমায় : ত্বকে খুব বেশি রোদপোড়া-ভাব থাকলে তা দূর করতে দুধ ব্যবহারের জুড়ি নেই। দুধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আর্দ্রতা রক্ষা : কাঁচা দুধে ল্যাক্টিক অ্যাসিড থাকায় তা ত্বক খুব ভালো ভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। ঠাণ্ডা দুধে তুলার বল ডুবিয়ে ত্বকে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া যাবে?
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক: যত সুস্বাদু খাবারই হোক, এক চিমটি লবণের অভাবে তা মুহূর্তেই বিস্বাদ হতে বাধ্য। লবণ এমনই এক উপাদান যা খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়লে স্বাদের পাশাপাশি ঘাটতি পড়বে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থেও। অর্থাৎ, লবণ আপনাকে প্রতিদিন খেতে হবেই। আবার পরিমাপের থেকে বেশি খেলে আর দেখতে হবে না, ব্লাড প্রেশার সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে তার হাত ধরে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা ছুটে আসবে তখনই।

কী? বুঝতে পারছে না কী করবেন? এই পরিস্থিতিতে আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে ঠিক কতটা লবণ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত এবং কীভাবে সেই মাত্রার মধ্যে নিজেদের ডায়েটকে বেঁধে রাখা সম্ভব।

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দিনে দুই গ্রাম মতো লবণ খাওয়ার অনুমতি দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যাদের রক্তচাপ একটু বেশি, তাদের ক্ষেত্রে দেড় গ্রামের মধ্যেই ব্যাপারটাকে বেঁধে রাখা ভালো। আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই লবণের পরিমাণ স্থির করুন, কারণ সোডিয়াম বা লবণ হচ্ছে আপনার শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেকট্রোলাইট।

আমাদের শরীরে স্বাভাবিক ফ্লুইড ব্যালান্স বজায় রাখতে গেলে সোডিয়াম একান্ত প্রয়োজনীয়, তা আপনার নার্ভ ও পেশির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঘাম এবং মূত্রের মাধ্যমে বাড়তি সোডিয়াম শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের মূত্রে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত হয় না বলেই তা খাওয়া নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

মনে রাখবেন, আপনি যত প্যাকেটবন্দি প্রক্রিয়াজাত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করেন, তার প্রত্যেকটির মধ্যেই থাকে সোডিয়াম। তাই প্রসেসড খাবার ও বোতলবন্দি পানীয় থেকে দূরে থাকতে না পারলে বাড়তি সোডিয়ামের হাত থেকে কখনওই মুক্তি পাবেন না।

রেস্তোরাঁর খাবার, ফাস্ট ফুড ইত্যাদিকেও সুস্বাদু করে তোলার জন্য প্রচুর পরিমাণে লবণ মেশানো হয়। বাইরের খাওয়া বন্ধ করলেও বাড়তি লবণের চাপ থাকে না।
প্রচুর পানি পান করুন, ব্যায়াম করুন, খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল ও শাকসবজি। তা হলেই আর লবণ আপনাকে বিন্দুমাত্র বিব্রত করতে পারবে না।
যারা রান্না করা খাবারের উপরে কাঁচা লবণ ছড়িয়ে খান, তারা সাবধান হোন। এই অভ্যাসটি আদৌ আপনার কোনো কাজে লাগবে না, বরং এর কারণে সমস্যা বাড়তে পারে।

সম্পর্ক সুন্দর রাখতে চুমু তুলনাহীন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: চুমু এমনই এক অনুভূতির প্রকাশ, অনেক বেশি ভালো না বাসলে যা সম্ভব না। প্রিয়জনের চোখে চোখ রেখে যেমন পড়ে ফেলা সম্ভব হাজার পাতার উপন্যাসসম অনুভূতি, তেমনই একটি চুমু দিয়েও অনেককিছু বোঝানো সম্ভব। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে চুমু তুলনাহীন।

এদিকে বিজ্ঞান বলছে, চোখে চোখ রেখে চুমু খাওয়ার গুণ অনেক। সোয়াইন ফ্লুয়ের সম্ভাবনা কমে যায়। শুধু এটুকুই নয়। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমুতে ডুবে গেলে অনেক রকম রোগ অসুখ থেকে দূরে থাকা যায়।

জেনে নিন-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: চুমু খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। জন্মগত চোখের সমস্যা দূর হয়। এছাড়াও আরও বেশ কিছু জন্মগত জটিল রোগও সেরে যায়। ঠোঁটের সংস্পর্শে সাইটোমেগালোভাইরাস শরীরের নানা উপকার করে। তাই বলা হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই অভ্যাস রাখলে হবু সন্তানের জিনগত কোনো ত্রুটি থাকে না।

ক্যালোরি খরচ: পাঁচ মিনিট টানা চুমু খেতে হবে। তবেই ঝরবে ক্যালোরি। এবং তা মোটামুটি ১০ মিনিট ট্রেডমিলে ছোটার সমান।

সম্পর্ক গভীর করে: চুমু যেকোনো সম্পর্ককে আরও গভীরে যেতে সাহায্য করে। ঠোঁট, চিবুক, জিভে জিভ ঠেকিয়ে গভীর চুমুতে শরীরে হরমোনের তারতম্য হয়। ফলে আপনি আপনার প্রিয়জনের একটা গন্ধ পান। সেখান থেকেই তৈরি হয় গভীর বন্ধন। এমনটাই কিন্তু বিজ্ঞানই বলছে। এছাড়াও মন তরতাজা থাকে।

স্ট্রেস দূর করে: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে না চাইতেই সৃষ্টি হয় নানা ধরনের চাপ। বাড়ি কিংবা অফিস সব জায়গাতেই নানা সমস্যায় ভুগতে হয়। সেক্ষেত্রে একটু চুমু খেলে শরীর থেকে ফিল গুড হরমোন নির্গত হয়। যা আপনাকে স্ট্রেস ফ্রি রাখবে। এমনকি তা আপনাকে রোমান্টিকও করে তুলবে।

মুখের পেশি শক্ত থাকে: যারা দীর্ঘদিন ধরে চুমু নিয়মিত চুমু তাদের মুখের চামড়া দীর্ঘদিন টানটান থাকে। চিবুক শক্ত থাকে। গবেষণা বলছে চুমু খাওয়ার সময় মুখের ৩০টি পেশি একসঙ্গে সক্রিয় থাকে।

রান্নাঘরের উপকরণেই ত্বক হবে উজ্জ্বল
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : দিনভর পরিশ্রম আবার পার্লারে যাওয়ার সময়-অর্থ কোনটাই নেই, এর জন্য কী মুখখানা সুন্দর হবে না? এমনটাই তো ভাবছেন! এরকম আর ভাবতে হবে না, আপনার রান্নাঘরের উপকরণেই মিলবে ঝকঝকে উজ্জ্বল ত্বক। যা ফেসিয়ালের চেয়েও উজ্জ্বল হবে।

চলুন জেনে নিই সেসব জিনিস ও তার ব্যবহার সম্পর্কে-

গোলমরিচ: ত্বক ও চুলের পাশাপাশি মেটাবলিজিম বাড়িয়ে ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে গোলমরিচ। ব্রণ ও বলিরেখা হঠিয়ে দিতে পারে। সপ্তাহে একদিন গোলমরিচ দিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। গোলমরিচ গুঁড়ো করে দুধ ও বেসন মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে গলায় হাতে লাগিয়ে ১০ -১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

আদা: রান্নাকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি আদা ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে। আমাদের ত্বকের প্রধান শত্রু বেগুনি আলো মানে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি। এর প্রভাবে একদিকে ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে। অন্যদিকে অকালে বলিরেখা পড়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। এসবেরই সমাধান রয়েছে আদায়।

আদার রস এবং শুকনো গুঁড়ো দুইই ত্বকের ক্ষতি সারিয়ে দেয়। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের জন্য এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় টোনার। ত্বকের দাগ ছোপ এমনকি কাটা দাগও হালকা করে দিতে পারে। একচামচ আদার রসের সঙ্গে একচামচ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে মুখে, গলায়, হাতে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে দু’তিন দিন আদার রস বা শুকনো আদার গুঁড়োর সঙ্গে অল্প ছোলার বেসন, দুধ ও মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই ত্বকের ঝকঝকে ভাব ফিরে আসবে।

ভাত : ভাত খাওয়ার আগে অল্প ভাত সরিয়ে রাখুন। ভাতের সঙ্গে পাতিলেবুর রস, কফি পাউডার আর চিনি মিশিয়ে মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। মুখে হাতে গলায় লাগিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। অল্প পানি হাত করে নিয়ে স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। বলিরেখা পড়বে না, আর ম্যাড়ম্যাড়ে ভাব কেটে গিয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে ত্বক।

ভাতের মাড় : মাড় ঠান্ডা করে অল্প মধু আর সামান্য লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ব্রাশে করে মুখে গলায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। বাকিটা ফ্রিজে রেখে দিন। ৩/৪ দিন ব্যবহার করতে পারবেন। এ পদ্ধতি ত্বকের রুক্ষতা কাটিয়ে মোলায়েম করবে।

আলু: টুকরো করে কেটে আলু বেটে নিন। আলুর এই পেস্ট মুখসহ শরীরের অনাবৃত অংশে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন কেমন গ্ল্যামার বেড়েছে!

পাকা পেঁপে: এই ফল খেতে ভালই লাগে। পেঁপের খোসা ব্লেন্ড করে নিয়ে মুখে হাতে গলায় লাগিয়ে রাখুন। কিছু ক্ষণ পরে ধুয়ে নিন। ত্বক হবে ঝকঝকে।

তবে এসব রূপচর্চার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। রোজ ৮–১০ গ্লাস পানি অবশ্যই পান করতে হবে। এছাড়া ত্বক ও চেহারা ঠিক রাখতে সঠিক ঘুমও অত্যন্ত জরুরী।

হলুদ: সৌন্দর্যের অপার রাজত্বের নাম হলুদ। রূপচর্চার ইতিহাসে এই উপাদানটি চিরন্তন। তাই হলুদকে পরীক্ষিত ভেষজ উপাদান বলা হয়ে থাকে। এর অনেক গুণাগুণ রয়েছে। হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে।

এক চা চামচ হলুদের রস, এক চা চামচ দুধ, এক চা চামচ বেসন ও আধা চা চামচ চন্দন গুঁড়ো এক সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ – ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক ফর্সা করবে। দুধ ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর করবে। কাঁচা হলুদ, মসুর ডাল এক সাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। হলুদের গুঁড়ো ও লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

অ্যাসিডিটি দূর করার উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : অম্বল বা অ্যাসিডিটি থেকে পেট-বুকের জ্বালাভাব দূর করতে আদা, লেবু কিংবা মধু বেশ কার্যকর। খাবারে অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বা খাবার ঠিক মতো হজম না হলে ‘গ্যাস্ট্রিক ফ্লুইড’ বা পাচক রস খাদ্যনালী দিয়ে উপরে উঠে আসে। যেখান থেকে পেটে সমস্যা, গলা-বুকে জ্বালাভাবে তৈরি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় অ্যাসিড রিফ্লাক্স। খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কয়েকটি খাবারের তালিকা এখানে দেওয়া হল যা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অম্বর সারাতে সাহায্য করে।

আদা: এটা অ্যাসিড দূর করতে সহায়ক। আদা চকলেটের মতো চুষে খেতে পারেন। অথবা গরম পানিতে আদার গুঁড়া মিশিয়ে বা তাজা আদার টুকরা পানিতে ফুটিয়ে পান করা যেতে পারে। এমনকি খাবারেও আদা দিয়ে খেতে পারেন। গর্ভবতী হয়ে থাকলে বা রক্ত চাপ কম থাকলে পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়া উচিত। দিনে এক গ্রাম আদা খাওয়াই যথেষ্ট।

লেবু: লেবু অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরের পিএইচ’য়ের ভারসাম্য বজায় রাখে। পুষ্টিকর অ্যাসিড পেটে বাইকার্বোনেট সৃষ্টি করে যার ফলে পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড দূর হয়। এজন্য লেবু নানাভাবে ব্যবহার করা যায়। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে লেবু টুকরা করে কেটে লবণ দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এট তাৎক্ষনিক স্বস্তি দেবে। তাছাড়া এক কাপ পানিতে বা সোডার মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। লেবু ছাড়াও অন্যান্য সিট্রাস বা টক ফল যেমন- আঙ্গুর, কমলা এমনকি কিউই ফলও সমান উপকার করে।

ডিমের সাদা অংশ: এর ভিটামিন বি সিক্স শরীরের কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকে সাহায্য করে যা অ্যাসিড কমায়। ভিটামিন বি সিক্স সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে ডিমের সাদা অংশ সেরা। এছাড়াও মটর, ছোলা, বিট, কটিজ পনির, কলা ও মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন বি সিক্স পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশপাশি কম কার্বোহাইড্রেইট যুক্ত খাবার অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

মধু: এতে রয়েছে ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস রোধী প্রাকৃতিক উপাদান। যা হজম পক্রিয়াতে সাহায্য করে, ব্যাক্টেরিয়া ধবংস করে। এটা পেটের নানান সমস্যা যেমন- আলসার থেকে দূরে রাখে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা কমায়।

চা কতটুকু পান করা উচিত?
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বিশ্বে যত জনপ্রিয় পানীয় আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো চা। প্রতিদিন চা পানে স্বাস্থ্যের অনেক উপকার হয়। যে ব্যক্তি নিয়মিত চায়ের কাপে চুমুক দেন, তিনি তার শরীরের প্রত্যেকটি অর্গানকে সহযোগিতা করেন। চিনি বা সুইটেনারমুক্ত চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের রোগ, ক্যানসার ও ক্রনিক রোগ প্রতিরোধ করে এবং শরীরের কোষ মেরামতে ভূমিকা রাখে।
ওহাইওর অর্থোপেডিক সার্জন অ্যান্থনি কৌরি বলেন, ‘চা আসে ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামক উদ্ভিদ থেকে, যেখানে ক্যাটেচিন (এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট অথবা ইজিসিজি) নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল দূর করে এবং প্রদাহ উপশম করে।’
চা কতটুকু পান করা উচিত? প্রতিদিন কতটুকু চা পান করা উচিত তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা হয়েছে। আপনি ক্যাফেইন ওভারডোজ না করে চা পান থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে পারেন। ডা. কৌরি বলেন, ‘গ্রিন টি থেকে সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে তিন থেকে চার কাপ পান করতে পারেন।’ অধিকাংশ গবেষণার আলোকে এটা বলা যায় যে, সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে অতিরিক্ত চা পান না করাই ভালো, প্রতিদিন চা পান ৪ কাপের মধ্যে সীমিত রাখুন।
কোন চা সবচেয়ে ভালো?
যখন চা নির্বাচন করবেন তখন নিশ্চিত হোন যে আপনার পছন্দের চায়ে কোনো চিনি বা সুইটেনার নেই। এমনকি কিছু ফ্লেভারড টি-তে কোনো ক্যালরি না থাকলেও কৃত্রিম সুইটেনার ও প্রিজারভেটিভ থাকে। ইতোমধ্যে তৈরিকৃত চা কেনার পরিবর্তে নিজে চা বানানোর চেষ্টা করুন। ডা. কৌরি বলেন, ‘চা পাতাকে যত বেশি প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এটির ক্যাটেচিন তত অকার্যকর হয়। গ্রিন টি হলো তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত চা এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা সবচেয়ে বেশি।’

চায়ের যত উপকারিতা

* কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমে : প্রাণঘাতী রোগ ক্যানসার প্রতিরোধের অন্যতম সহজ উপায় হলো চা পান করা। গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চায়ের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও কিছু উপাদান কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের অন্তর্গত ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ফ্যাকাল্টির নিউট্রিশনাল অ্যান্ড লাইফস্টাইল সাইকিয়াট্রির পরিচালক উমা নাইডু বলেন, ‘চা পানে স্কিন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের চা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।’

* ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত হয় : নিয়মিত ব্ল্যাক টি পানে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যায়। কিন্তু আপনি কিভাবে চা তৈরি করছেন তার ওপর ভিত্তি করে উপকারিতার মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। ডা. নাইডু বলেন, ‘হট ব্ল্যাক টি ত্বকের ক্যানসার স্কোয়ামাস কার্সিনোমা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে এবং এই চা আইসড টি বা ঠান্ডা চায়ের চেয়ে বেশি উপকার করতে পারে। এছাড়া ব্রুয়িং টাইমও (গরম পানিতে চা পাতাকে কতক্ষণ রাখা হচ্ছে বা সিদ্ধ করা হচ্ছে) ম্যাটার করে।’

* টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে : প্রতিদিন ব্ল্যাক টি পান করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়, কারণ এটি খাবার খাওয়ার পর রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ব্ল্যাক টি সুক্রোজ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর রক্ত শর্করা কমাতে পারে। এভাবে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ হয়।

* দাঁত মজবুত হয় : সারাদিন চা পান করলে আপনার দাঁতে দাগ হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে চা পান আপনার দাঁতকে মজবুত করতে পারে। জার্নাল অব ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল প্যাথোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, গ্রিন টি’র অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ইফেক্ট রয়েছে যা আপনার মুখে ক্যাভিটি-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া হ্রাস করতে পারে। এর ফলে ক্যাভিটি প্রতিরোধ হবে অথবা ইতোমধ্যে সৃষ্ট ক্যাভিটি আরো বড় হতে পারবে না।

* হার্টের উপকার হয় : চায়ের প্রদাহবিরোধী উপাদান রক্তনালিকে শিথিল ও পরিষ্কার রাখতে পারে, যার ফলে হার্টের ওপর চাপ কমে। ডা. কৌরি বলেন, ‘চায়ের ক্যাটেচিন প্রদাহ হ্রাস করে- এভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধমনীগুলোতে প্লেকের গঠন বাধাপ্রাপ্ত হয়।’ ডা. নাইডু হার্টের উপকারসাধনের জন্য প্রতিদিন তিন কাপ ব্ল্যাক টি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন।

* অ্যালঝেইমারস রোগের ঝুঁকি কমে : অ্যালঝেইমারস হলো একটি স্নায়ুতাত্ত্বিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের কোষ মারা যাওয়ার কারণে স্মৃতিশক্তি ধ্বংস হয় ও জ্ঞান বা চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা হ্রাস পায়। একসময় খুব সহজ কাজ করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। একারণে অ্যালঝেইমারস রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা এবং এ রোগ প্রতিরোধের জন্য লাইফস্টাইলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। ডা. নাইডু বলেন, ‘গ্রিন টি স্ট্রেস হ্রাস করে এবং শরীর ও মনকে রিলাক্স করে। এ চায়ের পলিফেনলস মস্তিষ্কের কোষকে ড্যামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করে। এসবকিছু অ্যালঝেইমারস রোগ প্রতিরোধে অবদান রাখে।’

* ভালো ঘুম আনে : যদি আপনার ঘুম না আসার কারণে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করার প্রবণতা থাকে, তাহলে বিছানায় যাওয়ার পূর্বে এককাপ চা পান করতে পারেন। ডা. নাইডু বলেন, ‘পূর্ব এশিয়ার ভেষজ চা ইনসমনিয়া বা অনিদ্রায় সহায়ক হতে পারে।’ ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন রিসার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণা সাজেস্ট করছে যে, হালকা থেকে মাঝারি ইনসমনিয়ায় ভোগা লোকেরা চা পান করলে ভালো ঘুম আসতে পারে, যার ফলে জীবনের মান বৃদ্ধি পাবে।

* মনোযোগের দৈর্ঘ্য বাড়ে : চায়ের ক্যাফেইন মনোযোগ ও সচেতনতা বাড়াতে পারে। ডা. নাইডু বলেন, ‘চায়ের অনন্য অ্যামাইনো অ্যাসিড এল-থিয়েনাইন মস্তিষ্কের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। এটি মস্তিষ্ক শিথিলায়নের মাধ্যমে মনোযোগের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে। তাই খুব মনোযোগের প্রয়োজন আছে এমন কাজের পূর্বে চা পান করলে পারফরম্যান্স ভালো হবে।’ আপনার কোনো কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হলে চা পানের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

* বিপাক দ্রুত করে : আপনার বিপাক দ্রুত করতে চান? তাহলে চা পানের কথা ভাবুন। ডা. কৌরি বলেন, ‘চায়ের ক্যাফেইন মেন্টাল অ্যাকুইটি বা মনের তীক্ষ্ণতা যেমন বৃদ্ধি করে তেমনি বিপাকও বাড়াতে পারে। এটি চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে- প্রতিদিন ১০০ ক্যালরি পর্যন্ত।’ কিন্তু অতিরিক্ত চা পান করে ক্যাফেইন ওভারডোজ করবেন না। এককাপ গ্রিন টি-তে প্রায় ৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। ডা. কৌরি প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন খেতে নিষেধ করছেন।

আজ থেকে শুরু হোক চা পান

আপনার ইতোমধ্যে চা পানের অভ্যাস থাকলে আপনাকে অভিনন্দন, কারণ আপনার স্বাস্থ্যের কিছু না কিছু উপকার হয়েছে। যদি আপনার এ পানীয় পানের অভ্যাস না থাকে, তাহলে এ প্রতিবেদনে আলোচিত উপকারিতাগুলো বিবেচনা করে আজই এককাপ চা পান করে ফেলুন। এটা মনে রাখা ভালো যে, পরিমিত চা পানে অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক লোকের কোনো ক্ষতি হয় না। ডা. কৌরি বলেন, ‘যেসব লোক নিয়মিত গ্রিন টি পান করেছেন তারা এর বিপরীত গ্রুপের লোকদের (অর্থাৎ যারা চা পান করেননি) তুলনায় স্বাস্থ্যবান ছিল। চা হলো পানের জন্য খুব নিরাপদ পানীয়- এটি তখনই সমস্যার কারণ হতে পারে, যখন আপনি মাত্রা ছাড়িয়ে পান করবেন।’

চা পানের কিছু খারাপ প্রভাব

* আয়রন শোষণে ব্যাঘাত ঘটায় : চায়ের ক্যাটেচিন আপনার শরীরের আয়রন শোষণের ক্ষমতায় নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এর মানে হলো, যথেষ্ট আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সত্ত্বেও আপনার শরীরে আয়রনের ঘাটতি হতে পারে এবং আপনি রক্তস্বল্পতায় ভুগতে পারেন। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। ডা. কৌরি বলেন, ‘অধিকাংশ সুস্থ লোকের ওপর এ ধরনের প্রভাব পড়ে না, কিন্তু আয়রন ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতায় ভোগা লোকদের প্রচুর পরিমাণে গ্রিন টি পান থেকে বিরত থাকা উচিত।’ শিশু, গর্ভবতী নারী ও কিডনি রোগের ইতিহাস থাকা লোকদের গ্রিন টি সীমিত করতে হবে।

* রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে : অতিমাত্রায় চা পান করলে ছোটখাট ক্ষত থেকেও প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অথবা কালশিটের প্রবণতা বেড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার বিভারলি হিলসের বোর্ড-সার্টিফায়েড প্লাস্টিক সার্জন মিশেল লি বলেন, ‘অতি চা পানে কালশিটে ও রক্তক্ষরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আমি আমার সকল রোগীদেরকে সার্জারির দুই-তিন সপ্তাহ পূর্ব থেকে চা পান না করতে পরামর্শ দিই।’

* ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে পারে : চায়ের উপকারিতা অসীম মনে হলেও এ পানীয় পানে কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমতে পারে। ডা. কৌরি বলেন, ‘চায়ের ক্যাটেচিন হার্ট ও ব্লাড প্রেশারের কিছু ওষুধে হস্তক্ষেপ করে কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। তাই আপনি এসব ওষুধ সেবন করতে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।’

নিজেই যখন সমস্যার কারণ
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সঙ্গীকে দোষ দেওয়ার আগে নিজেকেও একবার ঝালিয়ে নিন। সম্পর্কে নিজের দোষগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নিজের ভুলগুলো বোঝার চাইতে সঙ্গীকে দোষারোপ করে নিজেকে নির্দোষ বানিয়ে এড়িয়ে যাওয়া খুবই সহজ।

‘আমি আর পারছি না। তোমার সঙ্গে থেকে মনে হচ্ছে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলছি। যেন আমি এক ঝড়ের মাঝে আছি যার কোনো শেষ নেই।’ এই ধরনের কথাগুলো তিক্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নয়। একটি সম্পর্ক ধরে রাখার পেছনে অনেক কিছু করতে হয়। আর আপনি নিজেই যদি হন স্বার্থপর, নিজের অবস্থান নিয়ে দ্বন্দ্বে ভোগেন তবে আপনার সম্পর্কে থাকার যোগ্যতা নেই। সবসময় নিজের কথাই যদি চিন্তা করেন তবে আরেকজন মানুষ কীভাবে আপনার উপর নির্ভরশীল হবে?

কীভাবে বুঝবেন সমস্যা আপনার মাঝে? সম্পর্কবিষয়ক এক ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অবলম্বনে জানানো হলো এমন কিছু উপায়।

প্রিয় উত্তর ‘না’: সম্পর্ক শুধু প্রাপ্তি দিয়ে টেকে না, তার জন্য ত্যাগও স্বীকার করতে হয়। পরিস্থিতি যাই হোক, আপনার সিদ্ধান্ত যদি বেশিরভাগ সময় নেতিবাচক হয় তবে সমস্যাটা আপনার। আপনার সঙ্গীর আবদার যতই অসঙ্গতিপূর্ণ বা বিরক্তিকর হোক না কেনো, আপনার তা শোনা উচিত। সঙ্গীর প্রতি আপনার মানসিকতা উদার হওয়া চাই।

অন্তর্ঘাতি চিন্তাভাবনা: সঙ্গীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত কলহ বাঁধলে এবং আপনার মাথায় যদি সবসময় তাকে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা ঘুরপাক খায় তবে ঠা-া মাথায় চিন্তা করেতে হবে এমনটা কেনো হচ্ছে? আপনার সঙ্গী আসলে কী করেছে? একটি সুখী সম্পর্কে আপনার নেতিবাচক চিন্তাভাবনা অন্তর্ঘাতি পরিস্থিতি ডেকে আনলে অবশ্যই সেখানে আপনিই দায়ী।

সঙ্গীর ওপর দায়িত্ব চাপানো: ঘরের কাজ, বাইরের কাজ এবং সম্পর্ক ধরে রাখার কাজ সবকিছুই দায়িত্ব এবং তা দুজনেরই। সম্পর্ক থেকে নিজের জন্য সবকিছু নেওয়াটা সহজ, এমনকি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন না যে আপনিই এমনটা করছেন। যদি নিজে বসে থেকে সঙ্গীকে এটা ওটা করতে বলেন এবং বিনিময়ে নিজে কোনো সাহায্য না করেন তবে আপনি একজন ভালো সঙ্গী নন। ভাবতে হবে সঙ্গীর জন্য আপনি প্রতিদিন কী করতে পারেন, তা যত সামান্যই হোক না কেনো। কারণ সেটাই হবে আপনার প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

অনুভূতি চেপে রাখা: নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সঙ্গীকে না জানানো সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। ব্যাপারগুলো নিয়ে আলাপ করতে হয়ত আপনার ভালো লাগে না, কিন্তু যখন আপনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন, আপনার উপায় নেই। আলাপ করতেই হবে, পালিয়ে বাঁচতে চাইলেই বিপদ ডেকে আনা হবে। আর সেই পরিস্থিতির জন্য আপনিই দায়ী হবেন।

ভুল স্বীকার না করা: সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল নিজের দোষ স্বীকার করা। আপনি যদি নিজের কাজের দায়ভার নিতে না পারেন তবে সম্পর্ক টিকবে না এটাই স্বাভাবিক। আর ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া মানসিক পরিপক্কতার পরিচয় দেয়। যদি নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে না পারেন তবে আপনার সম্পর্কে যাওয়া উচিত নয়।

অপরের সামনে সঙ্গীর বদনাম: সঙ্গীর সামনে সবকিছু ঠিকঠাক আছে এমন ভান করলেন আর তার আড়ালে গিয়ে বন্ধুদের সামনে তার খারাপ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন, এবার নিজেই চিন্তা করে দেখুন সঙ্গীকে আপনি কতটা ভালোবাসেন। এমনটা যদি কেউ আপনার সঙ্গে করে, তাকে কি আপনি ভালোবাসতে পারবেন?

আন্ততুষ্টির জন্য নাটকীয়তা: শুধু রোমাঞ্চের জন্য হাতে ধরে সমস্যা তৈরি করা বিকৃত মানসিকতা। যদি মনে করেন এতে সম্পর্কের উত্তেজনা প্রবল হচ্ছে তবে সেই উত্তেজনার আগুনে সম্পর্কটাই ঝলসে যেতে পারে মুহূর্তেই।

পুরানো ঘটনা ভুলতে না পারা: পুরানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার তিক্ততা সৃষ্টি করার কারণ হল নিজের সম্পর্কের প্রতি আপনার প্রবল নিরাপত্তাহীনতা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পুরানো সমস্যাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর তাতে ব্যর্থ হলে সম্পর্ক ক্রমেই ভেঙে পড়বে। ভুলে গেছেন বললে আসলেই ভুলে যান, আর ভুলতে না পারলে তা নিয়ে আলোচনা করুন।

সততায় ভয়: আপনার সঙ্গী যদি আপনার সামনে কঠিন সত্যগুলো তুলে ধরতে ভয় পায় তবে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না, ক্রমশ ঘোলাটে হবে। তাই এই সময়গুলোতে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ আপনার রাগের কারণে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা অপ্রিতিকর হলে ভুগতে হবে দুজনকেই।

পরিবর্তন চান সঙ্গীর মাঝে, নিজের মাঝে নয়: সম্পর্কে দুজন মানুষ একে অপরের মত করে পরিবর্তীত হবে, এটাই স্বাভাবিক। দুজনের মাঝেই মানিয়ে নেওয়ার ও নিজেকে বদলে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে, শর্তহীনভাবে। সঙ্গীকে পুরোপুরি নিজের মতো করে বদলে নেবেন এমন মন মানসিকতা নিয়ে সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব।

বর্ষায় পায়ের যত্ন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : পায়ের ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি ধকল যায় বর্ষাকালে। কারণ একটাই-বৃষ্টির পানি, কাদা ও নোংরা পানির ধকলটা সামলাতে পা দুটোর নাকানি-চুবানি খাওয়া। এ জন্যই বর্ষায় নিতে হবে পায়ের একটু বেশি যত্ন।

পায়ের ক্ষতি : নোংরা পানি তো আছেই। অনেকক্ষণ ভিজে থাকার কারণেও পায়ের ক্ষতি হয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ মোক্স খান জানালেন কিছু সমস্যার কথা। ছত্রাক সংক্রমণ কম-বেশি সবারই হতে পারে এ বর্ষায়। আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ছত্রাক জমে যেতে পারে। চামড়া লাল হয়ে চুলকাতে পারে। চুলকানো জায়গা থেকে পানি ও পুঁজ বের হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় চামড়া কুঁচকে উঠে যেতে পারে। ভেঙে যেতে পারে নখ। পাশাপাশি সংক্রমণের কারণে কালো ও হলুদ রং হয়ে যায় নখে। ত্বকে সৃষ্টি হতে পারে ফোঁড়া।

টুকটাক যত্ন : পা দুটোর প্রতি যেন আমাদের বেশি অবহেলা। কিন্তু বর্ষায় বরং পায়ের যত্নই বেশি নেওয়া উচিত। পায়ের স্মিগ্ধতার পরশ বজায় রাখতেই কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন কিউবেলা হেয়ার অ্যান্ড বিউটির কর্ণধার ফারজানা আরমান।

বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপ। বাসায় ফিরে ঝটপট পরিষ্কার হওয়ার পালা। কাপড় পাল্টানোর সময় খেয়াল করুন পায়ের পাতায়। পানির শেষ কণাটুকু মুছে নিন আলতো করে। আঙ্গুলের ফাঁকে যেন না জমে থাকে পানি। কারণ ভিজে পা থেকেই তো যন্ত্রণার শুরু। এরপর লাগিয়ে নিন কোনো ভারী ময়েশ্চারাইজার। এতে পায়ের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।

এ ছাড়া এই বর্ষায় নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখতে হবে। গরমের কারণে পায়ের পাতার নিচে হিলের দিকে মরা চামড়া হয়ে থাকে। ফলে এ জায়গাটা খসখসে হয়ে যায়। পা ঘষার পাথর দিয়ে ভালোভাবে এ জায়গাটা গোসলের আগেই ঘষে নিন। একদিন পরপর করার ফলে পায়ে মরা চামড়ার আনাগোনা শেষ হয়ে যাবে।

ব্যবহার করা উচিত স্ক্রাবও। ১৫ দিনে একবার না হোক মাসে অন্তত একবার পেডিকিউর সাহায্য করে পায়ের সৌন্দর্য বজায় রাখতে। পারলারে হয়তো সব সময় যাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে অনায়াসেই করে নেওয়া যায় ঘরোয়া পেডিকিউর।

ফুটন্ত গরম পানিতে কিছু গ্রিন টি ভিজিয়ে নেওয়া হোক প্রথমে। যোগ করা যায় কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল। ১০ মিনিটের জন্য পা দুটো ডুবিয়ে দিন। চোখ বন্ধ করে আরাম করুন। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। সারা দিনের ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার হবে পা দুটোও। এরপর স্ক্রাব দিয়ে আরেকটু কোমলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন। পা ধুয়ে সবশেষে ভালো একটি ক্রিম ঘষে লাগিয়ে নিন। এখন পায়ের জন্যই বিশেষ লোশন বা ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়। বেছে নিন আপনার পছন্দমতো একটি। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন হয় ভারী ময়েশ্চারাইজার।

এ পদ্ধতি ব্যবহারে পায়ের দুর্গন্ধ অনেকাংশেই দূর হবে। সহজ পদ্ধতি আছে আরও একটি। এ ক্ষেত্রে বেবি শ্যাম্পু অথবা সোডা আছে, এমন একটি শ্যাম্পু প্রয়োজন। গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিন। এরপর তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর একটু ঘষে নিন। ব্যস, আপনার পা পরিষ্কার।

নখের সাতকাহন : বড় নখ অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এই বর্ষায় পায়ে নখগুলো রাখা যেন কষ্টকর হয়ে পড়ে। নরম হয়ে ভেঙে পড়া বা উঠে যাওয়া স্বাভাবিক একটি ঘটনায় পরিণত হয়। শুধু বর্ষার পানি নয়, খাদ্যাভ্যাসও একটি বড় ভূমিকা পালন করে এখানে। ক্যালসিয়াম আছে এমন খাবারগুলো এ সময় দরকার।

নখের ওপর হয়ে যাওয়া হলদেটে ভাব সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট করে ফেলে। এ ক্ষেত্রে বাফার দিয়ে ঘষে নখের অনেকের পায়ের নখে কাদা ঢুকে যায়। কোনো কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে কাদা বের করা যাবে না। টুথব্রাশ বা পায়ের ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ঘষলেই কিন্তু ময়লাটা বের হয়ে আসবে। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, এ বর্ষায় নখটা না হয় একটু ছোটই থাকুক।

বিরত থাকা উচিত : পায়ের যেকোনো সমস্যায় নিজে ডাক্তারি না করাই ভালো। চিকিৎসক রাশেদ মোক্স খান জানান, খুব বেশি চুলকালে প্রাথমিকভাবে জলপাই তেল ব্যবহারে আরাম পাওয়া যাবে। পরে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনো ফোঁড়া হলে না খোঁচানোই ভালো। চুলকানি হলে যতটা সম্ভব কম চুলকানো উচিত। চুলকানোর ফলে নখের সাহায্যে শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও ছড়াতে পারে সংক্রামকটি। অনেকের পায়ের চামড়া উঠে যায়। এটা অযথা খোঁচানো ঠিক নয়, নির্দিষ্ট সময় পর এমনিতেই উঠে যাবে।

নিজে নিজে কোনো প্রকার ওষুধ খাবেন না, লাগাবেন তো না-ই। হিত তো হবেই না, বিপরীতই হবে। পেডিকিউরের জন্য অনেক জিনিসই বাজারে পাওয়া যায়। সঠিক ব্যবহার না জেনে ব্যবহার করবেন না।

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে : এই বর্ষায় নোংরা পানি, কাদা, আবর্জনার সঙ্গে চলতে গেলে পা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসবেই। এর থেকে রক্ষা পেতে মাঝেমধ্যেই নিতে পারেন রাশেদ মোক্স খানের দেখানো দিকনির্দেশনাটি। এক গামলা গরম পানিতে দু-তিনটা পটাশের দানা ফেলুন। হালকা বেগুনি রং ধারণ করবে। ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। এটি সাহায্য করবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রুখতে।

যাত্রায় সঠিক জুতা : বর্ষাকালে জুতার একটি বড় ভূমিকা আছে। পা বন্ধ জুতাগুলো এ বর্ষায় তুলে রাখুন। বাতাস চলাচল করতে পারবে, এমন খোলামেলা স্যান্ডেল বা জুতাই গ্রহণযোগ্য এখন। কিন্তু অফিসগামী ব্যক্তিদের এ বুদ্ধিটি কোনো কাজে লাগবে না। কারণ তাদের তো ফর্মাল ড্রেস কোডে যেতেই হবে। সে ক্ষেত্রে সুতির মোজা পরুন। বাজারে গন্ধ ছাড়া ট্যালকম পাউডার পাওয়া যায়। মোজা পরার আগে লাগিয়ে নিতে পারেন। দুর্গন্ধ কমে যাবে অনেকাংশে।

জুতা ভিজে গেলে অফিসে যাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য হলেও খুলে রাখুন। পা ও জুতা দুটোই শুকিয়ে নিন। চামড়ার জুতা বা স্যান্ডেল পরতে অভ্যস্ত অনেকেই। এ বর্ষায় চামড়া ভালোভাবে ট্যান করা হয়েছে, এমন জুতা আবশ্যক। তবে চামড়ায় ব্যবহৃত আঠা থেকেও অনেক সময় চর্মরোগ হয়। সে রকম কোনো কিছু দেখা গেলে জুতা পরিবর্তন করুন। রাবারের স্যান্ডেল থেকেও অনেকের সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাবধানতা ও সচেতনতা দুটোই কাম্য। পিছলা রাস্তাঘাটের জন্য মানানসই জুতা কেনা দরকার।

খুশকি থেকে বাঁচার উপায়
                                  

ভেজা আবহাওয়াতে মাথার ত্বক রুক্ষ হয়ে চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে বর্ষাকালে খুশকি হওয়ার কারণ ও দূর করার উপায় সম্পর্কে জানানো হল।

প্রসাধনী সম্পর্কে সতর্কতা
ভেজা মৌসুমে শুষ্ক মাথার ত্বক ও শুষ্ক খুশকির সমস্যা দেখা যায়। আগে কেবল শীতকালে এই সমস্যা দিত। এখন নানান প্রসাধনী ও চুলে রং ব্যবহার করার কারণে মাথার ত্বক শুষ্ক হয় এবং খুশকির সমস্যা দেখা দেয়।

ফাঙ্গাল সংক্রমণ, চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী বা মাথার ত্বকে তেল নিঃসরণের কারণে খুশকি দেখা দিতে পারে।

করণীয়
এই মৌসুমে একদিন পর পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। কিটোকোনাজল বা জিংক পারক্সাইড সমৃদ্ধ অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

ভারতীয় ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. গীতা ফ্যাজাইল্ভা পরামর্শ দেন, “মাথার ত্বক আর্দ্র রাখতে এক টেবিল-চামচ নারিকেল তেল ব্যবহারের পর অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এছাড়া নিয়মিত অন্যান্য শ্যাম্পুর অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকা গেলে খুশকির সমস্যা কম দেখা দেয়।”

প্রাকৃতিক উপাদানে ঠোঁটের যত্ন নিন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ঠোঁট কোমল ও আর্দ্র রাখতে লিপবামের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় নানান প্রাকৃতিক উপাদান। লিপবামের সাহায্যে অনেক সময় ঠোঁট সুন্দর রাখা যায় না। আবার সময় হাতের কাছে লিপবাম নাও থাকতে পারে।

তাই রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের নাম, যা ঠোঁট সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে।

নারিকেল তেল : এই তেল সংক্রমণ কমায় এবং ত্বক কোমল ও মসৃণ রাখে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে নারিকেল তেল আঙ্গুলের সাহায্য ঠোঁটে মালিশ করুন।

অ্যালো ভেরা : তাজা অ্যালো ভেরার জেল হাতে নিয়ে ঠোঁটে মালিশ করুন। শুকিয়ে আসলে তা ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট কোমল ও মসৃণ হবে।

মধু: এতে আছে ময়েশ্চারাইজার ও ক্ষত সারানোর শক্তি। এছাড়াও মধুতে আছে ব্যাক্টেরিয়া-রোধী উপাদান।

মনে রাখতে হবে : ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে চিনি দিয়ে এক্সফলিয়েট করে নিন। এতে মৃত কোষ দূর হবে। চিনির সঙ্গে তেল মিশিয়ে এক্সফলিয়েট করা যায়, এতে ত্বকের ক্ষতি হয় না। ঠোঁট শুষ্ক ও নির্জীব লাগলে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে ঠোঁটে কোমলভাব ফিরিয়ে আনা যায়।

মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রকৃতিতে রয়েছে এমন কিছু খাবার যা স্তন্যদানকারী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় পুষ্টিবিদ রুজুতা দিভাকরের দেওয়া কয়েকটি খাবারের তালিকা এখানে দেওয়া হল।

আজোয়াইন : মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে এটা সাহায্য করে।

কাঠবাদাম : কাঠবাদাম প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।  স্তন্যদানকারী মায়ের দৈনিক ১,২৫০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিল : তিলে আছে নানান স্বাস্থ্যগুণ। এর ভেষজ গুণের জন্য বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিল ডায়াবেটিসের পাশাপাশি হৃদরোগ এবং আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আর মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

হেলেঞ্চা ধরনের শাক: সন্তান জন্মদানের পরে অধিকাংশ নারীর শরীরে লৌহের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হেলেঞ্চা, হিঞ্চে, কলমিসহ বাগানে হয় এরকম ঝাঁঝাঁলো শাক। এগুলো উচ্চ লৌহ ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। তবে মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থায় এটা না খাওয়া ভালো। কেননা এটা সন্তান জন্মদানের সময় প্রভাব রাখে।

নারিকেল : এতে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং কোলেস্টেরল নেই। এতে আছে চারটা কলার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম। এছাড়াও আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং লরিক অ্যাসিড। এটা শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে যা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য জরুরি।

মেথি : মেথিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নারীদের দুগ্ধগ্রন্থিকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।


   Page 1 of 19
     জীবনশৈলী
শীতকালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের উপায়
.............................................................................................
শীতে চুলের রুক্ষতা দূর করার উপায়
.............................................................................................
শীতে খুশকি দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে
.............................................................................................
ঝলমলে চুল পাওয়ার উপায়
.............................................................................................
চুলের যত্নে জেনে নিন
.............................................................................................
ত্বকের যত্নে দুধের ব্যবহার
.............................................................................................
প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া যাবে?
.............................................................................................
সম্পর্ক সুন্দর রাখতে চুমু তুলনাহীন
.............................................................................................
রান্নাঘরের উপকরণেই ত্বক হবে উজ্জ্বল
.............................................................................................
অ্যাসিডিটি দূর করার উপায়
.............................................................................................
চা কতটুকু পান করা উচিত?
.............................................................................................
নিজেই যখন সমস্যার কারণ
.............................................................................................
বর্ষায় পায়ের যত্ন
.............................................................................................
খুশকি থেকে বাঁচার উপায়
.............................................................................................
প্রাকৃতিক উপাদানে ঠোঁটের যত্ন নিন
.............................................................................................
মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
.............................................................................................
সহজেই দূর করুন ঠোঁটের কালচে দাগ
.............................................................................................
বর্ষায় ত্বক সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
ঘুমের অভ্যাস ঠিক করতে করণীয়
.............................................................................................
সহজে ঘুমিয়ে পড়ার কিছু উপায়
.............................................................................................
অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে করনীয়
.............................................................................................
আজ ভালোবাসার দিন
.............................................................................................
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদা
.............................................................................................
মাত্র ১ টি এলাচ খেয়ে সুস্থ্য থাকুন
.............................................................................................
ক্যান্সারকে গুডবাই জানান মাত্র দুটি উপায়ে
.............................................................................................
মুগ ডালে উজ্জ্বল ত্বক
.............................................................................................
যেসব খাবার দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
.............................................................................................
ঈদ উৎসবে সাজবে ঘর
.............................................................................................
ঈদের আগেই ঝলমলে সুন্দর চুল
.............................................................................................
ইফতারে কেন ছোলা খাবেন?
.............................................................................................
ওজন বাড়ায় না সাদা মাখন
.............................................................................................
তরমুজ খেলে হতে পারে যেসব সমস্যা
.............................................................................................
ঢেঁড়সের উপকারিতা
.............................................................................................
মোবাইল ফোনের আলো থেকে ক্যান্সার!
.............................................................................................
চাকরি ক্ষেত্রে দরকার...
.............................................................................................
এই গরমে উপকারী শসা
.............................................................................................
বৈশাখী সাজে ত্বকের যত্ন
.............................................................................................
নিজেকে সাজিয়ে তুলুন বৈশাখী সাজে
.............................................................................................
বৈশাখী সাজ
.............................................................................................
গরমে ত্বকের যত্ন
.............................................................................................
টক দই প্রতিদিন
.............................................................................................
যেসব খাবার খালি পেটে এড়ানো উচিত
.............................................................................................
চোখ কাঁপা যে ৫ রোগের ইঙ্গিত দেয়...
.............................................................................................
দৈহিক শক্তি বাড়ায় যেসব খাবার
.............................................................................................
গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রস্রাব ?
.............................................................................................
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়
.............................................................................................
ত্বকের বয়স কমায় পেঁয়াজ!
.............................................................................................
দাঁতে পাথর!
.............................................................................................
যে খাবারে হতে পারে ক্যানসার!
.............................................................................................
প্রেমের সমাপ্তি ভাঙনের ভয় থেকে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft