বুধবার, ১৫ জুলাই 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
লটকনের বাম্পার ফলন: নরসিংদীতে চাষীর মুখে আনন্দের হাসি

আলমগীর পাঠান: বাম্পার ফলনে অধিক লাভের আশায় নরসিংদীর সুস্বাদু লটকন চাষীরা। এক সময়ের জংলী ফলের দীর্ঘ ১২ বছরে কদর বেড়েছে শতগুণ। ঝোপ-ঝাড়ে গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরে থাকতো এ ফল। তবে সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ ফলের পুষ্টিগুণ সবার জানা হয়ে গেছে। তাই কদরসহ বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এই লটকন। নরসিংদী জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল রংয়ের মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়।

জানা যায়, মানুষের শরীরে ভিটামিন ‘সি’ এর চাহিদা মেটায় এই লটকন। ছোট এ ফলটি ভিটামিন ‘বি-টু’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। যা এই করোনাকালে আমাদের সবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বাংলাদেশের লটকন চাষের একমাত্র বৃহত্তর এলাকা নরসিংদী জেলা। কারণ এ অঞ্চলের লটকন অন্য যে কোনো জেলা থেকে মিষ্টি এবং রসালো হয়ে থাকে। এখানকার বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে ফলটির ফলন ভালো হয়। সেজন্য এ জেলার মানুষজন লটকনের বাণিজ্যিক চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে বলে প্রতিবছরই বাড়ছে এর উৎপাদন। লটকন চাষ করে ভাগ্যবদল হয়েছে হাজারো কৃষকের। এবার ফলন ভালো হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ন্যায্য মূল্য নিয়ে বিপাকে চাষীরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লটকন গাছ সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণের উপযুক্ত সময়। বর্ষার শেষের দিকে মানে ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। লটকনের গাছ ঝোপের মতো হয়ে থাকে। প্রতিবছর মাঘ-ফাল্গুনে লটকনগাছে মুকুল আসা শুরু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে এ ফল পরিপক্ক হয়ে থাকে। এটি চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। স্ত্রী গাছ লাগিয়ে দিলেই হয়। সময়ে সময়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গোড়ার চারদিকে জৈব সার দিলে ফলন ভালো হয়। পিঁপড়া বা পোকামাকড়ের হাত থেকে ফল বাঁচাতে ছত্রাকনাশক দিতে হয়। এদিকে মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসে লটকনের বাজার।

এ বিষয়ে মরজাল বাজারের লটকন ব্যবসায়ী কাওসার, এস আলম ও আমান সাথে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদীর লটকন ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এই লটকন রফতানি করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, প্রকারভেদে পাইকারি মণ প্রতি দাম ওঠে ১ হাজার ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

মরজাল রাজাবাড়ি গ্রামের লটকন চাষী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, কম খরচে লাভজনক ফসলের মধ্যে একমাত্র ফল হলো লটকন। লটকন বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বেশি পড়লেও পরবর্তী সময়ে বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। সে তুলনায় লাভ বেশি হয়। কখনও কখনও এত বেশি ফল আসে যে গাছের ডাল পর্যন্ত দেখা যায় না। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। মোট ৫ বিঘা জমিতে লটকন চাষ করে ভেবে ছিলাম ৩ লক্ষ টাকা লাভ হবে কিন্তু পরিচর্যার অভাবে ফলন কম হওয়ায় দেড় লক্ষ টাকা লাভ হয়েছে। তবে লটকন ফল বিক্রি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না তেমন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও লটকনের ফল ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেওয়া যায়। পাইকাররা বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আমলাব ইউনিয়নের রুমেল বলেন, তিনি মোট ৫ একর জমিতে লটকন চাষ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এ ফল চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিক্রির জন্য কোনো টেনশন করতে হয় না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লটকন কাঁচা থাকা অবস্থায় বাগান থেকেই কিনে নেন। তিনি প্রতি বছর এই লটকন থেকে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লাভবান হয়ে থাকেন। তাছাড়া শিবপুর ও মরজাল বাজারেও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা আসেন লটকন নিতে।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিম উর রউফ খান বলেন, চলতি মৌসুমে ১৭৫ হেক্টর জমিতে লটকন বাগান করা হয়েছে। রোপণের তিন বছরের মধ্যে ফলন আসে এ গাছে। ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না। ফল সংগ্রহের ৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা ও আকার বাড়ে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এখানকার সু-স্বাদু এ লটকন ফল। কিন্তু এ বছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে লটকন দেশের বাইরে রপ্তানি করার সম্ভবনা নিয়ে সংসয় থাকলেও এখন দেশে আমদানী রফতানিতে স্বাভাবিক হচ্ছে। তাই দেশের বাইরে লটকন রপ্তানি করতে পারবে ব্যবসাীরা।

লটকনের বাম্পার ফলন: নরসিংদীতে চাষীর মুখে আনন্দের হাসি
                                  

আলমগীর পাঠান: বাম্পার ফলনে অধিক লাভের আশায় নরসিংদীর সুস্বাদু লটকন চাষীরা। এক সময়ের জংলী ফলের দীর্ঘ ১২ বছরে কদর বেড়েছে শতগুণ। ঝোপ-ঝাড়ে গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরে থাকতো এ ফল। তবে সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ ফলের পুষ্টিগুণ সবার জানা হয়ে গেছে। তাই কদরসহ বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এই লটকন। নরসিংদী জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল রংয়ের মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান, তাই এখানে লটকনের ভালো ফলন হয়।

জানা যায়, মানুষের শরীরে ভিটামিন ‘সি’ এর চাহিদা মেটায় এই লটকন। ছোট এ ফলটি ভিটামিন ‘বি-টু’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। যা এই করোনাকালে আমাদের সবার শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বাংলাদেশের লটকন চাষের একমাত্র বৃহত্তর এলাকা নরসিংদী জেলা। কারণ এ অঞ্চলের লটকন অন্য যে কোনো জেলা থেকে মিষ্টি এবং রসালো হয়ে থাকে। এখানকার বেলে ও দো-আঁশ মাটিতে ফলটির ফলন ভালো হয়। সেজন্য এ জেলার মানুষজন লটকনের বাণিজ্যিক চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে বলে প্রতিবছরই বাড়ছে এর উৎপাদন। লটকন চাষ করে ভাগ্যবদল হয়েছে হাজারো কৃষকের। এবার ফলন ভালো হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ন্যায্য মূল্য নিয়ে বিপাকে চাষীরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লটকন গাছ সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণের উপযুক্ত সময়। বর্ষার শেষের দিকে মানে ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও গাছ লাগানো যায়। লটকনের গাছ ঝোপের মতো হয়ে থাকে। প্রতিবছর মাঘ-ফাল্গুনে লটকনগাছে মুকুল আসা শুরু হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে এ ফল পরিপক্ক হয়ে থাকে। এটি চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। স্ত্রী গাছ লাগিয়ে দিলেই হয়। সময়ে সময়ে একটু পরিচর্যা করতে হয়। গোড়ার চারদিকে জৈব সার দিলে ফলন ভালো হয়। পিঁপড়া বা পোকামাকড়ের হাত থেকে ফল বাঁচাতে ছত্রাকনাশক দিতে হয়। এদিকে মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসে লটকনের বাজার।

এ বিষয়ে মরজাল বাজারের লটকন ব্যবসায়ী কাওসার, এস আলম ও আমান সাথে কথা বলে জানা যায়, নরসিংদীর লটকন ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এই লটকন রফতানি করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, প্রকারভেদে পাইকারি মণ প্রতি দাম ওঠে ১ হাজার ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা। যা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

মরজাল রাজাবাড়ি গ্রামের লটকন চাষী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, কম খরচে লাভজনক ফসলের মধ্যে একমাত্র ফল হলো লটকন। লটকন বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বেশি পড়লেও পরবর্তী সময়ে বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। সে তুলনায় লাভ বেশি হয়। কখনও কখনও এত বেশি ফল আসে যে গাছের ডাল পর্যন্ত দেখা যায় না। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। মোট ৫ বিঘা জমিতে লটকন চাষ করে ভেবে ছিলাম ৩ লক্ষ টাকা লাভ হবে কিন্তু পরিচর্যার অভাবে ফলন কম হওয়ায় দেড় লক্ষ টাকা লাভ হয়েছে। তবে লটকন ফল বিক্রি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না তেমন। স্থানীয় বাজার ছাড়াও লটকনের ফল ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেওয়া যায়। পাইকাররা বাগান থেকেই লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আমলাব ইউনিয়নের রুমেল বলেন, তিনি মোট ৫ একর জমিতে লটকন চাষ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এ ফল চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিক্রির জন্য কোনো টেনশন করতে হয় না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লটকন কাঁচা থাকা অবস্থায় বাগান থেকেই কিনে নেন। তিনি প্রতি বছর এই লটকন থেকে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লাভবান হয়ে থাকেন। তাছাড়া শিবপুর ও মরজাল বাজারেও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা আসেন লটকন নিতে।

নরসিংদীর বেলাব উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিম উর রউফ খান বলেন, চলতি মৌসুমে ১৭৫ হেক্টর জমিতে লটকন বাগান করা হয়েছে। রোপণের তিন বছরের মধ্যে ফলন আসে এ গাছে। ফল দেয় টানা ২০ থেকে ৩০ বছর। লটকন গাছের রোগবালাই তেমন দেখা যায় না। ফল সংগ্রহের ৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা ও আকার বাড়ে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এখানকার সু-স্বাদু এ লটকন ফল। কিন্তু এ বছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে লটকন দেশের বাইরে রপ্তানি করার সম্ভবনা নিয়ে সংসয় থাকলেও এখন দেশে আমদানী রফতানিতে স্বাভাবিক হচ্ছে। তাই দেশের বাইরে লটকন রপ্তানি করতে পারবে ব্যবসাীরা।

নরসিংদীতে সবজির ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি
                                  

আলমগীর পাঠান, বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি: দেশে লকডাউনের ফলে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সবজির ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনছিলেন নরসিংদী জেলার কৃষকরা। এতে অনেক কৃষক সবজির বাগান পরিচর্যা বন্ধ করে দেয়া, এমন কী কেউ কেউ বাগান কেটে ফেলেন। লকডাউন তুলে নেয়ার পর থেকে নরসিংদীর পাইকারী বাজারগুলোতে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। এতে সবজির ন্যায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।

কৃষকরা জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নরসিংদীর পাইকারী সবজির বাজার বেলাবো উপজেলার বারৈচা, নারায়ণপুর, রায়পুরার জঙ্গী শিবপুর, শিবপুর উপজেলা সদর, সিএন্ডবি বাজার, পালপাড়া বাজারে ক্রেতা না থাকায় বিপাকে পড়েন কৃষকরা। ক্রেতার অভাবে ব্যাপক দরপতন ঘটে সবধরনের শাক-সবজির। গণপরিবহন সংকটের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা সবজির বাজারে না আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। করোনার এই পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি বিক্রি করতে গিয়ে রিকশাভ্যানের ভাড়াও উঠাতে পারছিলেন না কৃষকরা। সবজির উৎপাদন খরচ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে কৃষকদের।  

গত ৩১ মে থেকে লকডাউন তুলে নেয়ার পর নরসিংদীর পাইকারী বাজারগুলোতে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির দাম। সবধরনের সবজির ন্যায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এতে নতুন করে ফসলী জমির পরিচর্যা বাড়িয়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (০৫ জুন) জেলার অন্যতম পাইকারী সবজির হাট জেলার বেলাব উপজেলার বারৈচা বাজারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে বাজারে আসার আগেই কৃষকদের ঘিরে ধরছেন পাইকারী ক্রেতারা। দরদামে মিললে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বাজারে প্রবেশের আগে সড়কেই। দেশব্যাপী খুচরা বাজারে সবজির চাহিদা বাড়ায় ক্রেতারাও সবধরনের সবজি কিনছেন। ৩১ মে লকডাউন তুলে নেয়ার ঘোষণা আসার পর থেকে প্রতিদিনই সবধরনের সবজির দাম বাড়ায় খুশি কৃষকরা। তবে সবজির বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

পাইকারী ক্রেতা ও কৃষকরা জানান, শুক্রবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা বাজারে কাকরুল প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা, চিচিংগা প্রতি কেজি ২০ টাকা, ঢেড়শ প্রতি কেজি ২০টাকা, বরবটি কেজি ২৫ টাকা, বেগুন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি, লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধরনের শাক-সবজিরও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে।

শাক-সবজির এমন দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের লোকসান কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

সমন্বিত সবজি চাষে সচ্ছল কৃষক
                                  

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে রায়গঞ্জে একই জমিতে একসঙ্গে একাধিক ফসলের চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতা পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। মরিচের সঙ্গে ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি, বেগুনের সঙ্গে মরিচ, আলুর সঙ্গে মরিচ, মুলা, পালংক শাক ও ধনিয়া পাতা ইত্যাদি একযোগেই চাষাবাদ করছেন চাষিরা। অপরদিকে আলুর ক্ষেতে মাচায় শিম বা লাউ চাষও করা হচ্ছে।

তাদেরই একজন কৃষক আব্দুল লতিফ। তিনি বাড়ির পাশের জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। একই জমিতে তিনি রোপণ করেছেন মরিচের চারাও। তিনি জানান, একসঙ্গে একই জমিতে দুই ধরনের সবজি চাষ করলেও ফলনে কোনো প্রভাব পড়েনি। বেগুন আর মরিচ দুটোরই ফলন ভালো হয়েছে। লতিফের মতো সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আরো অনেকে কৃষক একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করছেন।

কৃষকরা জানান, অন্যান্য সবজির চেয়ে বেগুন বেশ লাভজনক। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বিঘা প্রতি ৬০/৭০ মণ বেগুন উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতিমণ বেগুন পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়। বেগুনের সঙ্গে মরিচ চাষ করলে বাড়তি কিছু আয় হয়। বেগুন গাছের ফাঁকে ফাঁকে যদি মরিচের আবাদ করা যায় তাতে প্রতি বিঘাতে ৬/৭ মণ কাঁচা মরিচ উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা।

এছাড়াও সদর উপজেলার জগৎগাঁতী, বাগবাটি, রতনকান্দি ও বহুলী এলাকাতেও একইভাবে একসঙ্গে একাধিক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। এতে একটা ফসলে লোকসান হলেও দ্বিতীয় ফসলে লাভ হবেই। এ কারণে কৃষকের লোকসানের সম্ভাবনা নেই।

কৃষকরা বলেন, জমিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে চাষাবাদে লাভ আসবেই। আগের দিনে কৃষকেরা এক ধরনের ফসল চাষে অভ্যস্ত ছিল। বর্তমানে সেটা আর নেই। বেশিরভাগ চাষিই একাধিক ফসল চাষে লাভবান হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুর হক জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুমে সিরাজগঞ্জের অধিকাংশ কৃষক একইসঙ্গে একাধিক ফসল চাষ করছে। সেক্ষেত্রে কৃষি বিভাগও তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। একাধিক ফসল চাষে কৃষকের যেমন বেশি মুনাফা হয় তেমনি জমির উর্বরতা শক্তিও বাড়ে।

উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : আমন ও বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী তিনটি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এগুলো হলো রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান ৯০ ও বোনা আমনের জাত ব্রি ধান ৯১ এবং বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান ৯২। ব্রি ধান ৯০-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি পাঁচ টন। এ ফলন আমন মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে হেক্টরে এক থেকে ১.৪ টন বেশি। ব্রি ধান ৯১-এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২.৩৭ টন যা স্থানীয় জাত ফুলকরির চেয়ে ১.৫ টন বেশি। আর বোরো জাত ব্রি ধান ৯২-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন।

তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টর প্রতি ৯.৩ টন ফলন দিতে সক্ষম। জাতীয় বীজ বোর্ডের বুধবারের সভায় নতুন এ জাতগুলো চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, নতুন উদ্ভাবিত জাত ব্রি ধান ৯০-এ আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর দানার আকৃতি ব্রি ধান ৩৪-এর মতো হালকা সুগন্ধযুক্ত। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার। এ জাতের গড় জীবনকাল ১১৭ দিন, যা ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে ২১ দিন আগাম। এর চাষাবাদের জন্য সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের মতোই, তবে ইউরিয়া সারের পরিমাণ এতে কিছুটা কম প্রয়োজন হয়। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.২ শতাংশ এবং প্রোটিন ১০.৩ শতাংশ। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ১২.৭ গ্রাম। ব্রি ধান ৯০ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর কা- শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া ও ফুল প্রায় এক সঙ্গে ফোটে বিধায় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। এর গড় ফলন পাঁচ টন হলেও উপযুক্ত পরির্চযায় এটি সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

আশা করা হচ্ছে, নতুন উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুঁড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে। নতুন উদ্ভাবিত অপর বোনা আমনের জাতটি হলো ব্রি ধান ৯১। এ জাতের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো, এর পাতা গাঢ় সবুজ রঙের ও ডিগপাতা খাড়া। গাছের চারা বেশ লম্বা ও দ্রুত বর্ধনশীল। এ জাতের ধানগাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। এটি মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলঙ্গেশন গুণ সম্পন্ন অর্থাৎ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিু। এ জাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরে হেলে পড়লেও গাছের কা- শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। এটি মুড়ি ফসল হিসেবে চাষ উপযোগী। এর গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন যা স্থানীয় জলি আমন ধানের জাতের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগাম। এর এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৬ গ্রাম। এর ভাত ঝরঝরে ও সাদা। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়।

স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা জলি আমনের জাতের মধ্যে আছে মানিকগঞ্জ অঞ্চলে দীঘা, দুধবাওয়াইলা, ঝিঙ্গাশাইল, ভেপা; ফরিদপুর অঞ্চলে বাইল্যা দীঘা, খইয়ামটর এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ফুলকুড়ি, কাইত্যা বাগদার ইত্যাদি। এসব স্থানীয়জাত থেকে ব্রি ধান ৯১ হেক্টরে অন্তত এক টন ফলন বেশি দেয়। এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে মোট ধান উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী অপর জাতটি ব্রি ধান ৯২। এ ধান চাষে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করেও ব্রি ধান ২৯-এর সমান ফলন পাওয়া যায়।

সেজন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে যেখানে পানির স্তর নিচে নেমে যায় সেখানে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। ড. মো. শাহজাহান কবীর আরো জানান, ব্রি ধান ৯২ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯-এর সমান অর্থাৎ ১৫৬-১৬০ দিন। এ জাতের কা- শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া। এ ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতার উপরে থাকে। এর চাল লম্বা ও সোজা। এ জাত হেক্টরে গড়ে ৮.৪ টন ফলন দেয়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরে ৯.৩ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৭ সেন্টিমিটার। এ জাতের গাছের কা- শক্ত। তাই গাছ লম্বা হলেও হেলে পড়ে না। এর দানা লম্বা ও চিকন। এর পাতা হালকা সবুজ রঙের। ডিগপাতা খাড়া এবং ব্রি ধান ২৯-এর চেয়ে প্রশস্ত। এ ধান পাকার সময় কা- ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩.৪ গ্রাম। এ জাতের ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬ ভাগ। ব্রির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

দিনাজপুরে ধান কাটা শুরু
                                  

মো. নূর ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আমন ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ধান কেঁটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চলতি মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে।
জেলায় বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা যায়, বাংলা সনের আশ্বিন শেষ কার্তিক শুরু হতে না হতেই চারিদিকে আগাম জাতের আমন ধান কাঁটা শুরু হয়েছে। তবে যে সকল মাঠ উচু এবং আগাম জাতের আলু রোপন করার মতো জমি। সেই সকল জমিতে আগাম জাতের আমন ধান কাঁটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। সেই সাথে গৃহিনীরাও বাড়ির আঙ্গিনা ও উঠান তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তা সাথে কথা হলে তিনি জানান, কৃষকেরা গত বছরের চেয়ে সঠিক সময়ে ধান চাষ করায় বর্তমান মৌসুমে আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অভয়নগরে বোরো বীজ ধানের সংকট
                                  

অভয়নগর থেকে সিরাজুল ইসলাম: অভয়নগর উপজেলা ৮টি ইনিয়নে বোরো মৌসুমের শুরুতে বীজ ধানের সংকট দেখা দিয়েছে প্রকট ভাবে। কৃষকরা বীজ ধান না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। নওয়াপাড়া বাজারের সব বীজ ডিলারদের ঘরে খোজ নিয়ে জানা যায় প্রতিদিন শতাধিক কৃষক বীজ ধান কিনতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। সময়মতো বীজ না পেলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ ব্যহত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আমন ধান কাটার পরে বোরো মৌসুমের বীজ তলা তৈরীর কাজ শুরু হয়ে যায়। কিছু জমিতে সরিষার চাষ হয়ে থাকে। সরিষা ওঠার পরে বোরো ধানের চাষ করা হয়। এ ব্যাপারে ডিলার আব্দুর রব জানান, আমি অগ্রিম টাকা দিয়েছি বীজ ধানের জন্য ব্যাবীলন কোম্পানীকে। তারা আমার টাকা ফেরত দিয়েছে। আর জানিয়েছে বীজ ধান নেই। ডিলার ওসমান গণি জানান, আমার ঘরে অল্প কিছু মদিনা ওয়ান হাইব্রিড ধানের বীজ আছে। হিরা কোম্পানী, এসিআই কোম্পানী, লালতীর কোম্পানী, গ্রীনল্যান্ড কোম্পানীর সকল হাইব্রিড ধানের বীজের সংকট বলে জানিয়েছে। যার ফলে উন্নতমানের ধানের বীজ কৃষকের মাধ্যমে সাপ্লাই করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা, যাতে অতি সত্তর হাইব্রীড উন্নতমানের ধানের বীজ ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে কোম্পানীর কয়েকজন মার্কেটিং সেলস্ ম্যান জানান, হাইব্রীড ধান কিছু আছে আমরা বেছে বেছে কিছু ডিলারদের সাপ্লাই দিচ্ছি।

লংগদুতে কৃষি প্রনোদনা প্রদান
                                  

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির লংগদুতে ২০১৮-১৯ মৌসুমে উফশী আউশ ও নেরিকা আউশ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৭০ জন কৃষকের মাঝে প্রনোদনা হিসেবে ধানবীজ ও সার বিতরণ করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজনে সকালে এ সকল উপকরণ বিতরণ উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন,বর্তমান সরকার কৃষি বান্বব সরকার। এ সরকার কৃষকদের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক,সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিলন কান্তি দত্ত, স্থানীয় কৃষক ও ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

সভা শেষে অতিথিবৃন্দ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৭০ জন কৃষান কৃষাণির মাঝে প্রতি জনকে সল্প মেয়াদী ফলনশীল ৫ কেজি ধানবীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিওপি সার বিতরণ করেন। এছাড়াও এসকল ধানবীজ রোপনের পরবর্তী সময়ে আগাছা পরিষ্কার ও সেচ প্রদানের জন্য কৃষকদের স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে ৫০০ ও ১০০০ টাকা হারে প্রদান করা হবে।

হাওরে ছত্রাকজনিত ব্লাস্টের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক
                                  

ছাতক (সুনামগঞ্জ): হাওরের কৃষকের নিশ্বাস দীর্ঘ হচ্ছে। গত বার চৈত্র মাসে সম্পূর্ণ বোরো ধান গাছ পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। ধান গাছ পঁচে পানি বিষাক্ত হয়ে মরে মাছ, মরে হাঁস। বাতাসে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে দেখা দেয় অসূখ। ধান হারিয়ে কৃষক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েন। গত বছরের দূর্যোগের পর কৃষকরা মাথা তুলে দাঁড়াতে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এখনও। অনেক হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও কিছু কিছু হাওরের ধানে ছত্রাকজনিত ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। হাওরের জমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগটি। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জের ছাতক, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-২৮ ধানে ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। ধানের শীষ বের হলেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ধান গাছ। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাওরের জমিতে এ রোগটি। আক্রান্ত জমির ধান গাছে কৃষকরা ছত্রাকনাশক ট্রুপার স্প্রে নাশক ব্যবহার করেও ধানের গাছ রোগ মুক্ত হচ্ছেনা।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর পানিতে ফসল ডুবেছে। এর আগের বছর গেল শিলাবৃষ্টিতে। এবছর ধানের ব্লাস্ট রোগ সব অর্জন ম্লান করে দিতে পারে।
ছাতকের হলদিউরা গ্রামের কৃষক সিরাজ উদ্দিন জানান, ব্লাস্ট রোগে ব্রি-২৮ ধান আক্রান্ত হওয়ায় মরে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা বলেন, ব্রি-২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগটি দেখা দিয়েছে। রোগটি প্রতিরোধ ও বিস্তাররোধে কৃষকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ নিয়ে বিপাকে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক
                                  

মাদারীপুর থেকে ফোরকান আহম্মেদ: দেশের আপদকালীন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঋণ গ্রহীতা কৃষক এবং ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনেক ব্যাংক কর্মকর্তার দায়িত্বে ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ বিতরণ এবং প্রদত্ত ঋণ আদায় না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা পেনশনে গিয়েও ঋণ আদায় না হওয়ায় তারা তাদের চাকুরী শেষের ন্যায্য পাওনা তুলতে না পেরে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় নি¤œ আয়ের কৃষকদের দুঃখ দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ইং সনের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিতরণকৃত ৫০০০/- টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন ৪ দলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে ৫,০০০/- টাকার কৃষি ঋণ গ্রহণের আগ্রহ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ইং সনের ভয়াবহ বন্যার কারণে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্যে কৃষি ঋণ বিতরণে উদারনীতি গ্রহণ করে এবং কোন রকম দলিল পর্চা বন্ধক ছাড়াই ক্ষুদ্র চাষী বা প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে কৃষি ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনালী ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায় ঐসময় তলিয়ে যাওয়া সড়কের ৩/৪ ফুট পানিতে লাইনে দাড়ানো মানুষের মাঝেও কৃষি ঋণ বিতরণে বাধ্য হন ব্যাংক কর্মকর্তারা। তখন সরকারের নির্দেশ ছিল ছবিসহ কোন প্রাপ্তিক চাষী ঋণ নিতে আসলেই তাকে ঋণ দিতে হবে। দারুন আর্থিক সংকটে থাকা কৃষকরা অতীতের মতই জাতির পিতার উত্তরসূরী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেও পূর্বের সরকারের ন্যায় গরীব কৃষকদের ৫০০০/-টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেবেন বলে আশা করেছিল।
উল্লেখ্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই একমাত্র নেতা যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে দিয়েছিলেন। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী জননেত্রী শেখ হাসিনাও পূর্বেকার সরকার প্রধানদের মতো প্রান্তিক চাষীদের ক্ষুদ্র ঋণ সুদসহ মওকুফ করবেন এটা আশা করা সাধারণ মানুষের অমূলক নয়। ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক কর্মকর্তাগণের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক ঋণ গ্রহীতার ছবি বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেকে মারা যাওয়ায় অথবা স্থান পরিবর্তন করায় তাদেরকে নির্ধারিত স্থানে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উপমহাদেশের পেছনের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হক প্রজাস্বত্ত্ব আইন পাশ করে জমির উপর কৃষকের মালিকানা কায়েম করে অমর হয়ে আছেন। ১৯২২ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভারতীয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভায় যোগদান শেষে আসাম রাজ্যে ফিরে গিয়ে ‘লাঙল যার জমি তার’ শ্লোগান তুলে ইতিহাস হয়ে রয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে অমর হয়ে আছেন।
জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরী দেশমাতা শেখ হাসিনা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দুঃখী কৃষকদের প্রত্যাশা দেশরতœ শেখ হাসিনা কৃষক ও ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপদ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ সুদসহ মওকুফ করে খেটে খাওযা মানুষগুলোকে আরো উৎসাহ নিয়ে কাজ করার তথা নিরলস শ্রমের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেবেন।

ছাতকে টমেটো চাষে সফল ‌‌টমেটো বক্কর
                                  

নুর উদ্দিন, ছাতক থেকে: ছাতকে টমেটো চাষ করে সফলতা দেখিয়েছেন উদ্যমী শিক্ষিত বেকার যুবক আবু বক্কর। সফল চাষি হিসেবে টমেটো বক্কর নামেই এলাকায় সু-পরিচিত পেয়েছেন। এবছর প্রায় তিন একর জমিতে টমেটো, শিম, নাগা মরিচ, বেগুন, মিষ্টি লাউসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। সবজি বিক্রয়ে দামও ভাল পাচ্ছেন।

উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বিলপার গ্রামের মৃত ছ‌মির উ‌দ্দি‌নের পু্ত্র আবু বক্কর ফ‌তেহপুর কা‌মিল মাদ্রাসা থে‌কে এম এম পাশ ক‌রেন। চাকুরীর পিছ‌নে দৌড়াতে দৌড়াতে তার স্বপ্ন বিফল হয়ে বেকার হয়ে পড়েন। এতে নিজের প্রতি আস্তা হারিয়ে ফেলেন। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। অসহায় বোঁধ করতেন। অভাবের কারণে রাতে ঘোম হতোনা। কিন্তু জীবনের হাল ছাড়েননি। নিজ পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বার বার। সামান্য পুঁজি দিয়ে পরিত্যক্ত জমি লিজ নি‌য়ে সর্বপ্রথম টমেটো চাষ শুরু করেন। এরপর আরো বিভিন্ন সবজি চাষ শুরু করেন। সবজি চাষে মনোযোগী হলে দেখতে পান টমেটো চাষে সফলতা শতভাগ সম্ভব। এরপর টমেটো চাষের মাধ্যমে অভাব-অনটন দূর করে সফলতা অর্জন করে হন স্বাবলম্বী। তিন কন্যা এক ছেলে সন্তান নি‌য়ে ভালই চলছে দিনপাত।

স‌রেজ‌মিন  গিয়ে দেখা যায় টমেটো, শিম, নাগা ম‌রিছ, বেগুন, কলা, লেবু চাষ করেছেন। গরু, হাঁস পালন ও পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। জমিটিকে কিছুতেই ফেলে রাখছেন না এই উদ্যমী কৃষক। দেখা যায়, টমেটো গাছের নিচেই করলা গাছ লাগিয়েছেন। টমেটো গাছগুলো ফলন ধরে শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে করলা।

আবু বক্কর জানান, পরিশ্রমের ফলে সবজি চাষে সফলতা পেয়েছেন। এবছর প্রায় তিন একর জায়গায় টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। সবজি বিক্রয়ে দামও ভাল পাচ্ছেন।

শিক্ষিত অনেক যুবক চাকুরী না পেয়ে বেকার হয়ে আছে। তাদের প্রতি তিনি বলেন, বেকার না থেকে কৃষি কাজে মনোযোগী হয়ে সঠিক শ্রমের মাধ্যমে শতভাগ সফলতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছাতক উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা  পল্লব ভট্রাচায্য বলেন, আবু বক্কর নিচু জমিতে টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে সফলতা দেখিয়েছেন। শ্রমের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনীয় তা দেখিয়েছেন।

পলাশে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ
                                  

তারেক পাঠান: চারদিকে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। শুরু হয়ে গেছে আমন ফসলকে ঘরে তোলার কাজ। কৃষক-কৃষানিরা এখন দারুণ ব্যস্ত ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে। উপজেলার গ্রামগুলোতে কেবল সোনালী ধানের হাতছানি। আমনের আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার পলাশ উপজেলায় তিন হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে।  প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে চার থেকে ৫ টন করে ফলন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন কৃষি অফিস। ব্রি- ৪৯, ৬২ ও বিনা- ৭ জাতের ধানের পাশাপাশি এবার প্রথম বারের মতো ব্রি- ৫২ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে । উচ্চ ফলনশীল ব্রি- ৫২ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে উপজেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান কৃষি অফিস। পলাশ উপজেলায় প্রথম বারের মতো ব্রি- ৫২ জাতের ধান আবাদ করে ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানান।

এই তো কয়েক দিন আগে নবান্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমন ধান কাটা উদ্বোধন করেন,পলাশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ। ‘ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কি দেখেছি মধুর হাসি’ এমন নয়ন জুড়ানো সোনালী ধানের আভায় ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। পল্লী কবির ভাষায় বলা যায়, আমার বাড়ি যাইও ভ্রমর বসতে দেব পিঁড়ে জল পান যে করতে দেব শালি ধানের চিড়ে...। ইতিমধ্যে উপজেলার অনেক এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। চারদিকে সবুজের সমারোহ আর সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ জানান দিচ্ছে নবান্নের বার্তা। বাঙ্গালীর চিরায়ত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব একটি। পিঠা-পায়েস, পুলি-ফিরনি, নতুন ধানের চিড়া আর বিন্নি ধানের খই ইত্যাদি তৈরিতে গ্রামীণ বধূরাও ব্যস্ত থাকেন ফসল ঘরে তোলার পর থেকে। বাড়িতে নতুন আত্মীয়-কুটুম আর নবান্নের উৎসবে মাতোয়ারা। কৃষকদের মতে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে, যা প্রত্যাশা করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে হতাশা রয়েছে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে। ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে তাদের এ হাসি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমিক খরচ, সার, পানি, কীটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের। তার উপর ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়। তাই কৃষকদের দাবি, সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে  খোলা বাজারে ধান সংগ্রহ করুক।

গোপালগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি
                                  

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মে হেমন্তে সোনালী ধানের মিষ্টি গন্ধে মেতে উঠেছে বাংলার জনপদ। মাঠে মাঠে এখন রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষান-কৃষানীরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নির্বিঘেœ ধান কাটা-মাড়াই কাজ করছে কৃষক। কৃষি বিভাগের দাবি, ধান উৎপাদনের এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওযার সম্বাবনা রয়েছে।

গোপালগঞ্জে এবার অনেক জমিতেই রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। মাঠে মাঠে পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে। ধান কাটাতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকের আঙিনা ভরে উঠছে সোনালি ধানে, মুখে ফুটেছে উঠেছে হাসির ঝিলিক। ফসলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠছে সারা বাড়ি। উঠানে ছড়ানো সোনালি ধান। সাথে আনন্দের বন্যা। কয়েক দিন পরে ঘরে ঘরে হবে নবান্ন উৎসব। কন্যা-জায়া-জননীর ব্যস্ততা এখন দিনরাত।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দিঘারকুল গ্রামের কৃষক দয়াল চন্দ্র বালা জানান, তিনি আট বিঘা জমিতে চাষ করেছেন আমন ধানের। ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সব ধান ঘরে চলে আসবে।
কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামের কৃষক রতন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তিন বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করে ছিলাম। ফলন ভাল হয়েছে। দামও পেয়েছি ভাল। প্রতি বছর ধান উঠার সময় দাম পড়ে যায়। কিন্তু এবার দাম পড়েনি। এ জন্য কৃষকদের খুব বেশি লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাঠে মাঠে আমন ধান কাটা উৎসব শুরু হয়েছে। এরপর নতুন ধানের চালের গুড়ায় ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব হবে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী বলেন, জেলায় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা আগামী দুই/তিন সপ্তাহের মধ্যে সব ধান ঘরে তুলতে পারবে। অকালে ভারি বর্ষণে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হলেও এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বরিশালের সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প এখন কৃষকের গলার কাঁটা
                                  

বরিশাল প্রতিনিধি: একই জমিতে একাধিকবার ধান চাষ আর মৎস্য চাষের সম্ভাবনা নিয়ে বরিশালের বিল অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, নেদারল্যান্ড ও রাজস্ব খাতের ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গ্রহণ করা সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প এখন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তাদের অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ ও নামকাওয়াস্তে তা বাস্তবায়নের কারণে কৃষকের ভাগ্য বদল না হলেও অপচয় আর লুটপাট হয়েছে সরকারের কয়েক কোটি টাকা। বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চল তথা বৃহত্তর ফরিদপুরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চলের কৃষক ও মৎস্যজীবিদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তৎকালীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সেচ ও কৃষি মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ১৯৭৩-৭৪ সালে ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে বরিশাল ইরিগেশন এ- ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট” প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিলো একই জমির বহুমূখী ব্যবহার। যেমন, একই জমিতে দু’বার ধান চাষ ও পরবর্তীতে মাছ চাষ করে এলাকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এ লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, রাজস্ব খাত ও নেদারল্যান্ডের আর্থিক সহায়তায় ৪৩ কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় বরাদ্দ ধরে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশী কৃষক ও মৎস্যজীবি। ওই সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইউব আলী মিয়া জানান, প্রথমদিকে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কাল রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে রব সেরনিয়াবাত শহীদ হন। এর ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে। পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের নামকরণ হয় বরিশাল ইরিগেশন প্রজেক্ট” (বিআইপি)। সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় থেকে অদৃশ্য কালো থাবায় বিলীন হয়ে যায় পূর্বের মূল নকশা। যার হদিস আজও মেলেনি। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় বারের গ্রহণ করা প্রকল্প বিআইপিও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিআইপি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলেও খাদ্য শষ্যে বিলাঞ্চলে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পরতো। কিন্তু রাজনৈতিক অদুরদর্শীতা ও পূর্ববর্তী সরকারের ওপর নেতিবাচক মনোভাব সর্বোপরি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে দ্বিতীয়বার গ্রহণ করা বিআইপি প্রকল্প জনগণের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী এ প্রকল্পে পাউবো প্রকৌশলীদের অসৎ উদ্দেশ্য ও অদুরদর্শীতার কারণে পানি নিস্কাসনের জন্য বাঁধের বিভিন্নস্থানে নির্মিত স্লুইজ গেট, ইনলেট-আউটলেটগুলো নির্মানে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কৃষক ও মৎস্যজীবিসহ বন্যার আপদকালীন সময়ে নদীতে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ জনগনের কোন উপকারেই আসেনি। সূত্রমতে, জনস্বার্থে মুল প্রকল্পটি তিনটি পোল্ডারে ভাগ করা হয়। যে তিনটি পোল্ডারে ভাগ করে প্রথমপর্যায়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল সেগুলো ছিলো- গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, কালকিনি উপজেলার ৭৩ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে ১নং পোল্ডার। যারমধ্যে পয়সারহাট-রামশীল-চৌদ্দমেধা প্রকল্পের অবস্থান। ২নং পোল্ডারে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুর উপজেলার সাথে বানারীপাড়ার একাংশ নিয়ে ২৯ বর্গ কিলোমিটার। ৩নং পোল্ডারে যুক্ত করা হয়েছিলো, উজিরপুর উপজেলার সাথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ৪২ বর্গ কিলোমিটার। সর্বমোট তিনটি পোল্ডারে ১৪৪ বর্গ কিলোমিটার প্রকল্পের আওতায় নিয়ে যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের জন্য ৭২ বর্গ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়। সূত্রে আরও জানা গেছে, অব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে ২নং পোল্ডারের বাগধা থেকে সাতলা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এবং বরিশাল অংশের পয়সা থেকে সাতলা পশ্চিম পাড় নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে চার দশক ধরে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প। এ প্রকল্পের অভ্যন্তরে অব্যবস্থাপনায় নির্মান করা স্লুইজ গেট ও ইনলেট-আউটলেটগুলো দিয়ে শুস্ক মৌসুমে পানি সেচ দেয়া ও বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাসন হয়না। ফলে শুস্ক মৌসুমে সেচ সমস্যা ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল উৎপাদন চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। দায়সারাভাবে আপদকালীন সময়ে কোন রকম মেরামতের মাধ্যমে খুড়িয়ে চলছে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ। দ্বিতীয় দফায় গ্রহণ করা ‘বরিশাল ইরিগেশন প্রজেক্ট’ বিআইপিও সম্পূর্ন রুপে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরইমধ্যে সর্বশেষ প্রকল্পের নামকরণ করা হয় ‘কোষ্টাল এ্যামব্যাকমেন্ট প্রজেক্ট’ বা সিইপি। কবে, কখন, কিভাবে এই প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্বয়ং কর্মকর্তারাই তা জানেন না। কোন রকম আউটপুট ছাড়াই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লি¬ষ্ট প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা ও প্রথম পর্যায়ের (বিআইএলএএমপি) প্রকল্পের সুপারিশকারীদের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা আইউব আলী মিয়া উল্লেখ করেন। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পাউবো’র অফিস ব্যবস্থাপনা ও তাদের নৈতিকতা প্রশ্নাতীত। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলীসহ পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে রয়েছে চরম অবহেলা। গৌরনদী অফিসে কর্মকর্তারা না বসায় মাদকাসক্ত, জুয়ারী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে অফিসটি। আগৈলঝাড়ার অফিসটি অনেক আগেই ভাড়া দেয়া হয়েছে। সাতলা অফিস ভাড়া দেয়ায় সেখানে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রামশীল স্লুইজ গেট দেখভাল করার জন্য নির্মিত ভবনটি জুয়ারী ও নারীদের সম্ভ্রমহানীর নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। গৌরনদী অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে ২/৩ জন নিন্ম শ্রেনীর কর্মচারীরা থাকেন। অফিসের কর্মকর্তারা মাস শেষে খাতায় স্বাক্ষর করে বিল নিয়ে চলে যায়। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পাউবো’র ১, ২ ও ৩নং পোল্ডারে সাতলা-বাগধা-রামশীল-কাফুলাবাড়ি প্রকল্পের অধীনে চারটি প্রকল্পে গত বছর প্রায় একশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে অপরিকল্পিতভাবে নামেমাত্র কাজ করা হলেও জনগণের ভাগ্যে এতটুকু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। রামশীল স্লুইজ গেটের দায়িত্বে থাকা এসও নিখিল হালদার গেট পারাপারের সময় মৎস্যজীবি মাঝিমাল্লাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে তার লোক দিয়ে নৌকা প্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারিত আদায় করছেন। কাজীরহাট-জঙ্গলপট্টি-গয়নাঘাটায় (গৌরনদী) দুই কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি স্লুইজ গেট নির্মিত হলেও সেচ কাজে জনগণ তাতে কোন সুফল পায়নি। চাষীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারের সময় ক্ষমতাসীন নেতাদের বিত্তবান করা আর ঠিকাদার ও পাউবো’র বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য পাউবো বিভিন্ন অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণ করে নামেমাত্র বাস্তবায়ন করেছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও অপচয় হচ্ছে। চাষীরা আরও জানান, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকল্পের অভ্যন্তরের খালগুলো মরে যাওয়ায় চাষাবাদে শুস্ক মৌসুমে পানির অভাবে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আশাতীত ফসল হচ্ছেনা। বেড়িবাঁধের পাশের জলাশয় গুলো সরকারী ভাবে লিজ না দিয়ে পাউবো’র অসাধু কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাগজপত্র বিহীন লিজ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অফিস চত্বর এবং প্রকল্পের রাস্তায় বিভিন্ন প্রজাতের গাছ বিক্রি করে ওই কর্মকর্তারা ফুলে ফেঁপে উঠলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের। আর্থিকভাবে তারা লাভবান হলেও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বরিশালে আমড়ার বাম্পার ফলন
                                  

মো: আরিফ হোসেন: চলতি বছরে বরিশাল অঞ্চলে বাস্পার ফলন ফলেছে বাংলার ঋতু ফল আমড়া। ভাল ফলন হলেও গাছ মালিকদের মুখে তেমন কোন হাসী মুল্য না থাকার কারনে। যেকারনে অধিক ফলন হলেও লোকসানের আশংকা করছেন কৃষকরা। টক-মিষ্টি জাতিয় সুস্বাদু বিভিন্ন প্রকার আমড়ার জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত হচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর জেলা।

কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, এইসব জেলায় আমড়া চাষের জন্য ব্যবহার হচ্ছে ১ হাজার ৩৩৯ হেক্টর জমি। আর চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ৮’শ ৪৭ মেট্রিকটন আমড়া। যা গতবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। এরমধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৬৪০ মেট্রিকটন আমড়া। পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলায় উৎপাদন হয়েছে ১৫৯ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৪৬৫ মেট্রিকটন আমড়া। এই অঞ্চলের মধ্যে এই দুই এলাকাতেই উৎপাদন সবচেয়ে বেশী। আমড়া গাছে ফুল আসে মাঘ ও ফাল্গুন মাসে। আমড়ার সময় হচ্ছে আষাড় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত।  আমড়া পাইকারী ক্রয়-বিক্রয়ের বাজার হচ্ছে ঝালকাঠী, ভীমরুলি ও পিরোজপুর, স্বরূপকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠি। এসব বাজার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আমড়া সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বরিশাল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানিয়েছেন, এবছর এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে আমড়ার। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন। তিনি আরো জানিয়েছেন,বিপুল পরিমান উৎপাদনের কারনে আমড়ার বাজার দর কিছুটা কম। স্বরূপকাঠীর পাইকারী ব্যবসায়ী আলমগীর জানিয়েছেন, ফলন বেশী হলেও দর গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। সঙ্গত কারনে কৃষকরা লোকসানের আশংকা করছেন। গত বছর ছিল প্রতি মন ১৮০০ টাকা। এবার ১১০০ টাকা। জিন্দাকাঠী এলাকার কৃষক গোকুল মজুমদার জানান, গত বছর ৩ একর জায়গায় উৎপাদিত আমড়া বিক্রি করেছি ১৫ লক্ষ টাকায়, একই জমিতে এবার ফলন বেশী হলেও বিক্রি করেছি মাত্র ১০ লক্ষ টাকার আমড়া।আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠী এলাকার কৃষকরা জানান, স্থানীয় পাইকারী বাজারে প্রতিমন আমড়া বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছে ১৮০০-২০০০ টাকায়।

ফরিদুল আলম স্বরূপকাঠীর একজন পাইকারী ব্যবসায়ী। তিনি জানান, এবছর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে ১৫-১৬ হাজার মন আমড়া পাঠিয়েছেন। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উৎপাদিত ফসলের সুফলটুকু ভোগ করে ফরিয়া, দালাল বা মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

পার্বতীপুরে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
                                  

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ২০১৭-১৮ রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে সরিষা, গম, ভুট্টা, মুগডাল ও বিটি বেগুন চাষে প্রনোদনা কর্মসূচি আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পার্বতীপুরের আয়োজনে উপজেলা কৃসি অফিস চত্তরে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২২০৫জন কৃষকের মাঝে এসব বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির, বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তারুল আলমসহ আরো অনেকে।

কৃষি অফিসার আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির বলেন, এবার উপজেলায় প্রনোদনা কর্মসূচি আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২২০৫জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে এসব বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরিষা ৫৯৫জন, গম ৮০৫, ৭১৫, মুগডাল-৮০ ও ভিটি বেগুন ১০জনের মধ্যে প্রদান করা হবে।  

বর্তমান সরকার কৃষকের পরম বন্ধু। এ কারণেই আজ আমরা দেশের চাদিা মিটিয়ে বিদেশে চাল রপ্তানী করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধান মন্ত্রীর আন্তরিকতায় উত্তরাঞ্চলের বন্যার পরেও আজ কোন প্রকার চিহ্ন মাত্র নেই বলে এসময় উল্লেখ্য করেন বক্তারা ।

পার্বতীপুরে আগাম হাইব্রীড এসিআই আমন ধান কাটা শুরু
                                  

আব্দুল্লাহ আল মামুন,পার্বতীপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে  আমন ধান কেটে উদ্বোধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১২ টায় উপজেলার ৩নং রামপুর ইউনিয়নের জমির হাট পাইপ পাড়া গ্রামের মৃত চয়েন উদ্দীনের ছেলে মোঃ আসাদুজ্জামানের প্রায় ১ হেক্টর জমির এ সি আই হাইব্রীড (মন্ডল) আমন ধান কেটে উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরফদার মাহমুদুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলহাজ্ব আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশান কবির, উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহানারা বেগম ও বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোক্তারুল আলম প্রমুখ। এ বছর পার্বতীপুর উপজেলায় হাইব্রীড আমন ধান ৮শত ২০ এবং বিনা-৭ সহ অন্যান্য ৬ শত ২০ হেক্টর জমিতে আগাম আবাদ হয়েছে। এসব আগাম আমন ধান কেটে কৃষক ও কৃষানীরা রবি শষ্য ও শাক সবজী আবাদ করবেন বলে জানান কৃষকেরা। কৃষকরা এসব শাক সবজী উপজেলার চাহিদা মিটাতে পারবে বলে বলে আশা করা হচ্ছে। আগাম আমন ধান ভালো ফলার কারণে কৃষকের মুখে হাঁসি দেখা যাচ্ছে।                   


   Page 1 of 4
     কৃষি
লটকনের বাম্পার ফলন: নরসিংদীতে চাষীর মুখে আনন্দের হাসি
.............................................................................................
নরসিংদীতে সবজির ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি
.............................................................................................
সমন্বিত সবজি চাষে সচ্ছল কৃষক
.............................................................................................
উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
.............................................................................................
দিনাজপুরে ধান কাটা শুরু
.............................................................................................
অভয়নগরে বোরো বীজ ধানের সংকট
.............................................................................................
লংগদুতে কৃষি প্রনোদনা প্রদান
.............................................................................................
হাওরে ছত্রাকজনিত ব্লাস্টের আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক
.............................................................................................
ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ নিয়ে বিপাকে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক
.............................................................................................
ছাতকে টমেটো চাষে সফল ‌‌টমেটো বক্কর
.............................................................................................
পলাশে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে সোনালী হাসি
.............................................................................................
বরিশালের সাতলা-বাগধা সেচ প্রকল্প এখন কৃষকের গলার কাঁটা
.............................................................................................
বরিশালে আমড়ার বাম্পার ফলন
.............................................................................................
পার্বতীপুরে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
.............................................................................................
পার্বতীপুরে আগাম হাইব্রীড এসিআই আমন ধান কাটা শুরু
.............................................................................................
পাট নিয়ে বিপাকে নীলফামারীর চাষিরা
.............................................................................................
পাটের মূল্য ২হাজার ৫শত টাকার দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন
.............................................................................................
পাটের বাম্পার ফলন: পাবনায় ফিরে আসছে পাটের হারানো ঐতিহ্য
.............................................................................................
ছাতকের মানিকপুরে লিচুর বাম্পার ফলন
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় লিচু উৎপাদনে বিপর্যয়; চাষীরা বিপাকে
.............................................................................................
ভুরুঙ্গামারীতে কৃষক ফলন দিবস অনুষ্টিত
.............................................................................................
নিম্নমানের বীজ: ডিমলায় সহস্রাধিক বিঘা জমিতে ভুট্টার গাছ আছে, দানা নেই
.............................................................................................
নোয়াখালীর হাতিয়া ও সূবর্ণচরে অর্ধলক্ষ হেক্টর রোপা আমন নষ্ট
.............................................................................................
ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সোনালী ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ
.............................................................................................
পাবনায় এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
.............................................................................................
ছাতকের লিচুর গ্রাম মানিকপুর: বাম্পার ফলনে খুশি চাষীরা
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে পাউবো’র দূর্নীতিতে তলিয়ে গেছে ২হাজার কোটি টাকার ফসল
.............................................................................................
দেশে আলুর বাম্পার ফলন কোটি টন উৎপাদন সম্ভাবনা
.............................................................................................
ধানের দাম কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা
.............................................................................................
নাটোরে মসুরের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
বোদায় পিয়াজ চাষ বৃদ্ধি পেয়ে
.............................................................................................
চন্দনাইশে আলুর বাম্পার ফলন
.............................................................................................
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বারটি গ্রামে বোরো আবাদ অনিশ্চিত
.............................................................................................
মানসম্মত রেনুর ঘাটতি: গলদার উৎপাদন ব্যাহত
.............................................................................................
আমন ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই
.............................................................................................
কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবিতে মানববন্ধন
.............................................................................................
শেষ সময়ে আলুর দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
.............................................................................................
আধুনিক বোরো ধানের চাষ
.............................................................................................
ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর কলাকৌশল
.............................................................................................
ঝালকাঠিতে আমন ধানে পাতাবটা পোকার আক্রমণ
.............................................................................................
ধান গাছে পোকা: কৃষকের মাথায় হাত
.............................................................................................
কুড়িগ্রামের আদর্শ খামারী প্রকৃতি প্রেমিক আব্দুল হামিদ
.............................................................................................
শীতের সবজিতেই ঘুরে দাঁড়াতে চান বগুড়ার কৃষকরা
.............................................................................................
ঝিনাইগাতীর উত্তরে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
.............................................................................................
বোরো চাল উৎপাদনে রেকর্ড
.............................................................................................
কলার বাম্পার ফলনে চাষী লতিফের পরিবারে আনন্দের বন্যা
.............................................................................................
দেড় লাখ হেক্টর জমির শস্য পানির নিচে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft