শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আইন - অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে অব্যাহতি

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায়   তাঁদেরকে বিচার কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক, বিচারপতি এ কে এম জহুরুল হক এবং বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকার্য থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁরা ছুটির প্রার্থনা করেন।’

তবে কী কারণে বা কী অভিযোগে তাঁদের বিচারকাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

এদিকে, আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে আমি স্বাগত জানাই।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এটি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতির বিষয়। ফলে এখন এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না তিনি।


হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে অব্যাহতি
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায়   তাঁদেরকে বিচার কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক, বিচারপতি এ কে এম জহুরুল হক এবং বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকার্য থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁরা ছুটির প্রার্থনা করেন।’

তবে কী কারণে বা কী অভিযোগে তাঁদের বিচারকাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

এদিকে, আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে আমি স্বাগত জানাই।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এটি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতির বিষয়। ফলে এখন এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না তিনি।


গ্রেনেড হামলায় দণ্ডিতরা কে কোথায়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচ- শব্দে শ্রবণশক্তি হারান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মূলত আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে বিএনপি-জামায়াত তথা চার দলীয় জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ইতিহাসের নৃশংসতম এ গ্রেনেড হামলা চালায়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় ৫২ আসামির মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মোট ১১ আসামিকে। বাকি তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে।

এদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। এছাড়া তারেক রহমান এবং হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জনকে মামলার নথিতে পলাতক দেখানো হয়।  সম্প্রতি পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাইদ হাসান এবং ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার ওবায়দুর রহমান খান আদালতে আত্মসমর্পণ করায় এখন পলাতক রয়েছেন ১৬ জন।

বর্তমানে এ রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যারা : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম সবুজ, মো. উজ্জ্বল রতন, ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যারা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তারেক রহমান : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। এক-এগারোর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন তিনি এবং সেই থেকে সেখানেই আছেন। গ্রেনেড হামালা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে তাকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

লুৎফুজ্জামান বাবর : বিএনপি সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লুৎফুজ্জামান বাবর এক-এগারোর সরকার ক্ষমতাসীন হবার গ্রেপ্তার হন। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও বাবরের ফাঁসির রায় হয়েছে।

মুফতি হান্নান : উগ্র ইসলামপন্থী দল হরকাতুল জিহাদের নেতা ছিলেন তিনি। গ্রেনেড হামলা মামলার মূল আসামি। তার স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই গ্রেনেড হামলা মামলায় মোড় ঘুরে যায়। মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির পর তারেক রহমান এবং লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অনেককেই এ মামলার আসামি করা হয়। সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিন জনকে হত্যার দায়ে ২০১৭ সালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সে গ্রেনেড হামলায় ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী আহত হয়েছিলেন।

আব্দুস সালাম পিন্টু : বিএনপি সরকারের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন আব্দুস সালাম পিন্টু। তারেক রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ : জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ ছিলেন গ্রেনেড হামলা মামলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

হারিছ চৌধুরী : বিএনপি সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন হারিছ চৌধুরী। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। বর্তমানে তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নয়।

তাজুল ইসলাম : মাওলানা তাজউদ্দীন হিসেবে পরিচিত তাজুল ইসলাম আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই। গ্রেনেড হামলার পর তাকে ভুয়া পাসপোর্টের মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন বলে জানা গেছে। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে।

মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী : আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর তাকে আটক করা হয়। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম : তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক। গ্রেনেড হামলা মামলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও এখন কারাগারে আছেন।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম ডিউক : বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে। এ মামলায় দীর্ঘ সময় তিনি জামিনে থাকলেও এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।

শহিদুল হক : আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সময় পুলিশ প্রধান ছিলেন শহিদুল হক। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার।

মোহাম্মদ আশরাফুল হুদা : গ্রেনেড হামলার সময় আশরাফুল হুদা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০০৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ চার মাসেরও কম সময় পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আশরাফুল হুদা। মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফুল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

খোদাবক্স চৌধুরী : গ্রেনেড হামলার সময় অতিরিক্ত পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন খোদাবক্স চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ প্রধান হয়েছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ : বিএনপির টিকিটে কুমিল্লা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া কায়কোবাদ গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। মামলার অভিযোগপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, তিনি সৌদি আরবে পলাতক রয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এটিএম আমিন : বিএনপি সরকারের সময় তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন। পরবর্তীতে সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি ডিজিএফআই’র প্রধান হয়েছিলেন। সে সরকারের মেয়াদ শেষ হলে তিনি আমেরিকায় চলে যান। মামলার কাগজপত্রে তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম : বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান এবং এএসপি আব্দুর রশিদ বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ তিনজন বিএনপি সরকারের সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন। গ্রেনেড হামলা মামলার আরেক আসামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক হানিফ পলাতক রয়েছেন। তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের পরিচালককে তলব
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ভোক্তাদের খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন সেবা নিয়ে অভিযোগ শুনতে এবং অভিযোগ অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হটলাইন চালুতে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়ে জানতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ) শামীম আল মামুনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ২৭ আগস্ট তাকে হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

৫২ পণ্যের মান নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরাক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করার পর আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।

আদালতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে কামরুজ্জামান কচি বলেন, হটলাইন চালু করতে ৫০ লাখ টাকার বাজেট চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেই বাজেটের অর্থ এখনও তারা হাতে পায়নি।

তখন আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, হটলাইন চালু করতে এত টাকা লাগবে? তাহলে তো এর ব্যাখ্যা জানা দরকার। তখন আদালত সংস্থাটির পরিচালককে তলব করেন।

এর আগে গত ১৬ জুন ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় ও ভোক্তাদের অভিযোগ শুনতে দুই মাসের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে হটলাইন চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি হটলাইন চালুর ব্যয় বাবদ ৫০ লাখ টাকা চেয়ে গত ১৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মে ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্ন মানের ও ভেজাল রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

পরে এক রিটের শুনানি নিয়ে গত ১২ মে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে এই নির্দেশ পালন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন আদালত।

অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না করায় ধর্ষণ বাড়ছে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারায় ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় দুই আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে আদালতের লিখিত আদেশ আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর প্রকাশিত ওই লিখিত আদেশে আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ বিশেষত শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার দায় মূলত রাষ্ট্রের ওপরেই বর্তায়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।

আদালত লিখিত আদেশে আরও বলেছেন, আমাদের অভিজ্ঞতা হলো যে, ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার আসামিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেপরোয়া ও ধূর্ত প্রকৃতির। এরা ভিকটিম ও তার পরিবারের ওপরে চাপ-প্রভাব বিস্তার, আদালতে সাক্ষ্য দিতে ভয়ভীতি, প্রলোভনসহ বিভিন্ন ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করে। ক্ষেত্র বিশেষে সালিশের নামে সামাজিক বিচার করে ভিকটিম ও তার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য এবং আদালতে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এ অবস্থায় ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করছি, সরকার দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবে।

আদালত বলেন, দেশের বিভিন্ন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাসমূহ বিচারের জন্য অপেক্ষমান। এর মধ্যে ৪-৫ বছরের পুরাতন মামলার সংখ্যাও কম নয়। অভিযোগ গঠনে বিলম্ব এবং যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কয়েক মাস পরপর তারিখ পড়ছে। যদিও এই (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০) আইনের ২০(৩) ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মামলা বিচারের জন্য নথি প্রাপ্তির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে বিচার কাজ সমাপ্ত করার।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর আসামি মো. রাহেল ওরফে রায়হান এবং মো. সেকান্দার আলী জামিন বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে পর্যবেক্ষণসহ ওই আদেশ দেন।

নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশে বাধা নেই
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : নবম ওয়েজবোর্ডের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে স্থিতাবস্থা জারি করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ করতে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ।

গত ৬ আগস্ট নবম ওয়েজবোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করে হাইকোর্ট।

নবম ওয়েজ বোর্ড চূড়ান্ত করার বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ওই রিট আবেদন করেন নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি মোহাম্মদ অলীর হাইকোট বেঞ্চ স্থিতাবস্থার আদেশ দিলে গেজেট প্রকাশ আটকে যায়।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গত বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গেলে চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

সে অনুযায়ী গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেয়ায় গেজেট প্রকাশে বাধা কাটলো।

গত ৬ আগস্ট স্থিতাবস্থা জারির পাশাপাশি একটি রুলও জারি করেছিল হাইকোর্ট। অংশীজনদের (নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের-নোয়াব) আপত্তি ও সুপারিশ প্রজ্ঞাপনে বিবেচনায় না নেয়া কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য সচিব, শ্রম সচিব ও ওয়েজ বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজামুল হককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আগের দিন ৫ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই আদেশ দেন হাইকোর্ট।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২৫ জুলাই জানিয়েছিলেন, নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই রিট করায় হাইকোর্টের আদেশে তা আটকে যায়। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আশঙ্কা থেকেই রিট দায়ের করা হয়।

নবম ওয়েজ বোর্ড বিষয়ে আপিলের রায় কাল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক ও সংবাদপত্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে গেজেট প্রকাশের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সাংবাদিকদের ঠিকমতো বেতন দিতে চান না বলেই নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে স্থগিতাদেশ চেয়ে মতিউর রহমান (নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক) রিট দায়ের করেছেন বলে আপিল বিভাগকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন,‘গেজেট হওয়ার আগেই ওয়েজ বোর্ড চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা ঠিক হয়নি। সাংবাদিকদের ঠিক মতো বেতন দিতে চান না বলেই এই রিট দায়ের করেছেন মতিউর রহমান।’

এ সময় সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যম মালিকদের অস্তিত্ব নেই বলেও জানান আদালত।

তখন নোয়াবের আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘সাংবাদিকরা যদি কাজ না করেন, তাহলে সাদাকালো কাগজ বের হবে।’ এর পর আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষ করে আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করা করেছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নোয়াবের পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ।

এর আগে গত বুধবার নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনের ওপর আজ শুনানি শেষে আগামীকাল আদেশের দিন ধার্য করা হয়।

গত ৫ আগস্ট নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে স্থগিতাদেশ চেয়ে নোয়াব হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ৬ আগস্ট নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে দুই মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

ঈদের রাতে মেহেদী লাগাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশু
                                  

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোলায় ঈদের আগের রাতে মেহেদি লাগাতে প্রতিবেশির বাসায় গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১২ বছরের এক শিশু। শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়  প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতাল ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, বাবার দেওয়া মেহেদী হাতে লাগাতে রবিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে মেয়েটি প্রতিবেশী দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। এ সময় ওই প্রতিবেশীর ভাড়াটে আইনজীবীর সহকারী আল আমিন শিশুটিকে ‘কথা আছে’ বলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তার অপর সহযোগি মঞ্জুরও শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগের দিন রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বাড়ির পাশের এক নারীর কাছে হাতে মেহেদি লাগানোর জন্য যায় সে। ওই সময় ওই নারীর ভাড়াটে আল আমিন (২৫) ও তাঁর সহযোগী মঞ্জু (৩০) শিশুটিকে হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে ধর্ষণ করেন। শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। শিশুটির গোঙানির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেয়। এরপর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশুটি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তার আরও রক্তের প্রয়োজন। অভিভাবকদের রক্ত জোগাড় করতে বলা হয়েছে।


ফখরুলসহ বিএনপির চার নেতাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ চার নেতাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে হেনস্তা বা গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেন আদালত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম ছাড়া অপর তিন নেতা হলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মঙ্গলবার শীর্ষ চার নেতার আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদন শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন এ জে মোহাম্মাদ আলী।

এর আগে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বুয়েটের বহিষ্কৃত শিক্ষক হাফিজুর রহমান রানা ও ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক ভূঁইয়া।

মামলায় বাদী তার অভিযোগে বলেন, চলতি বছরের ২৩ জুলাই বুয়েটের বহিষ্কৃত শিক্ষক হাফিজুর রহমান রানা তাকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে ১৫ আগস্ট আইএস দিয়ে বাদীসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এছাড়াও বোমা মেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিক্ষেত্র উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন করা হবে নতুন বাংলাদেশ।

তারেক রহমান আইএসের সঙ্গে চুক্তি করেছেন দাবি করে বাদী এবি সিদ্দিকী আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। এরপর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

হাইকোর্টে মিন্নির জামিন শুনানি পেছাল
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন পিছিয়ে বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম।

ওইদিন এ মামলায় আদালত ‘বিস্তারিত শুনবেন’ বলে শুনানির দিন পেছানো হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।  এর আগে গতকাল সোমবার মিন্নির জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

২৬ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড মঙ্গলবার ২ জুলাই ভোরে জেলা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন নিহত হন। এর মধ্যে কয়েকজন আসামিও গ্রেফতার হন।

পরে ১৬ জুলাই সকালে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওইদিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পরদিন ১৭ জুলাই বিকেলে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শুনানি শেষে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু ওইদিন মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

পুলিশি হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ : তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারের অভিযোগে আদালতে তোলার পর এক নারী খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি ও চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। ওই নারীর অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে তাকে আটক করে রেল পুলিশের সদস্যরা।

রাতে রেলওয়ে থানায় রেখে তাকে ‘পালাক্রমে ধর্ষণ করেন’ ওসি ওসমান গনি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এএসআই নাজমুল এবং কনস্টেবল মিজান ও হারুন। মাদক আইনের এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার ওই তরুণীকে খুলনার মহানগর হাকিম আতিকুস সামাদের আদালতে তোলে রেলওয়ে পুলিশ। সেখানেই মেয়েটি বিচারকের সামনে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এ ঘটনায় পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার এক নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা।

তিনি বলেন, খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্যদের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরের নজরে এসেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ বিষ?য়ে অনুসন্ধান করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ২ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেনাপোল থেকে খুলনাগামী একটি কমিউটার ট্রেনে এক নারী এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ওই নারীকে গ্রেফতার করে। ওইদিন রাতেই খুলনা রেলওয়ে থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়। ৩ আগস্ট সকালে ওই নারীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তিনি বিচারকের সামনে জিআরপি থানায় তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এরপর আদালতের বিচারক তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগীর বড় বোন জানান, তার বোনের শ্বশুর বাড়ি সিলেটে ও বাবার বাড়ি খুলনার ফুলবাড়িগেট এলাকায়। তাদের মা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে দেখতে খুলনায় এসেছে বোন। বোন নিজে অসুস্থ থাকায় বৃহস্পতিবার যশোরে ডাক্তার দেখাতে যান। পরদিন শুক্রবার খুলনায় আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে জিআরপি পুলিশের ওসি ওসমান গনি তার বোনকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন। এরপর আরও চারজন পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেন। পরে শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

তিনি আরও জানান, আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর তার বোন জিআরপি থানায় তাকে গণধর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আবেদন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। সোমবার সকালে তার পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না জামিন আবেদন করেন।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ শুনানি হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পরদিন ১৭ জুলাই বিকেলে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শুনানি শেষে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু ওইদিন মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ জুলাই প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে ওইদিনই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এরপর ২৩ জুলাই মিস কেস দাখিল করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে ফের জামিনের আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নথি তলব করে ৩০ জুলাই এ জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। শুনানির পর ৩০ জুলাই জামিন নাকচ করে দেন আদালত।

মশার ওষুধ আনতে গড়িমসি : সচিবকে তলব
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : এডিশ মশা নির্মূলে নতুন ওষুধ আনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে আদালতে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ।

এর আগে শুনানিতে বিশেষ বিমানে করে মশা নিধনের নতুন ওষুধের নমুনা আজকের মধ্যে দেশে আসবে বলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আইনজীবীরা আদালতকে জানান। একইসঙ্গে ওই নমুনা ওষুধের কার্যকারিতার বিষয়ে মহাখালীর একটি ল্যাবরেটরিতে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা চালানো হবে বলেও তারা আদালতকে অবহিত করেন। শুনানির একপর্যায়ে ডেঙ্গু মশা নিধনে বিদেশ থেকে কার্যকরী ওষুধ আনতে গড়িমসি করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তলব করেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ২৫ জুলাই ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিয়ে এডিস মশা নির্মূল ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে ওই সময়ের মধ্যে ওষুধ ব্যবহার করে মশা নিধন হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছিলেন আদালত।

কিন্তু মশা নিধনে কার্যকরী ফল না পাওয়ায় গত ৩০ জুলাই এডিস মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ কবে দেশে আসবে, তা সরকার এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দুটার মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় ওষুধের বিষয়ে দুই সিটির আইনজীবীরা হাইকোর্টকে বিষয়টি অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী বাদে বাকিরা রাষ্ট্রের চাকর: হাইকোর্ট
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নয়, বাকিরা সবাই রাষ্ট্রের চাকর বলে মত মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার যুগ্ম-সচিবের জন্য মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুতে করা এক রিটের মন্তব্যে আদালত এ কথা বলেন।

এ সময় অতিরিক্ত সচিবের নিচে নন, এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিতাস ঘোষের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনপ্রশাসন সচিবের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন।

এর আগে মঙ্গলবার তিতাস ঘোষের মৃত্যুতে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট আবেদন করেন মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটসের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহিরুদ্দিন লিমন।

আবেদনে তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ ছাড়া যে কোনো মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরি পারাপার নির্বিঘ্ন করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

নৌসচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, যুগ্ম-সচিব আবদুস সবুর মণ্ডল, মাদারীপুরের ডিসি, পুলিশ সুপার, কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসাইন মিয়া ও কাঁঠালবাড়ি থানার ওসিকে রিট আবেদনে বিবাদি করা হয়।

মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া নড়াইলের কালিয়া পৌর এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষকে (১১) নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরিতে ওঠে।

কিন্তু সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত সবুর মণ্ডলের গাড়ির জন্য তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত ১১টার দিকে ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা করে। তার আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যায় তিতাস।

তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএর কর্তাদের অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সরকারি জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও ফেরি দ্রুত ছাড়তে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া তিতাসের মৃত্যুর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ও তদন্তে কমিটি করেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শাহ হাবিবুর রহমান হাকিম।

তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এবার জজ আদালতে মিন্নির জামিন নাকচ
                                  

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন জজ আদালতেও নাকচ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপরে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বরগুনার বরগুনার জেলা ও দয়েরা জজ আদালতের বিচারক মো.আসাদুজ্জামান এ আদেশ দেন। এর আগে জেলা হাকিম আদালতে মিন্নির জামিনের আবেদন নাকচ হয়।

গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন; তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে।

সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

তবে শ্বশুর অভিযোগ তোলার পর মিন্নি তা অস্বীকার করে পাল্টা বলেছিলেন, দুলাল শরীফ ‘ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায়’ পড়ে তাকে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ কথা বলছেন।

এরপর গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় সেদিন মিন্নিকেই কথা বলার সুযোগ দেন বিচারক। মিন্নি তখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমার স্বামী রিফাত শরীফ। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। হত্যাকাণ্ডে আমি জড়িত নই। এ মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।”

রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে, তা নিয়ে রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়। এর পেছনে প্রভাবশালী কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন একজন সংসদ সদস্য।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

এরপর ২২ জুলাই মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আবদেন করা হলে তা ফেরত দেয় আদালত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক আটক
                                  

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম(৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে তাকে করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ জুলাই বিকালে শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন শফিকুল। ওইদিনই শিশুটির পরিবার থানায় মামলা করে। ঘটনার পর থেকে শফিকুল পলাতক ছিলেন।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান থাকায় বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিপণন পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক এ তথ্য নিশিত করেছেন। তিনি বলেন, সব পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন, সংগ্রহ ও বিপণন বন্ধে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন আমরা সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে শিগগিরই আবেদন করব।

এর আগে রোববার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান সিসা, অ্যান্টিবায়োটিক থাকায় ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন, সংগ্রহ ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। পাঁচ সপ্তাহের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ কেনা ও বিক্রয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন আদালত।

হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। ওই দিন আদালতের শুনানিতে বিএসটিআইর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার অনীক আর হক, ও আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল জিনাত হক।

১৪ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- আফতাব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্ট লিমিটেড, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আমেরিকান ডেইরি লিমিটেড, বাংলাদেশ মিল্ক প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড, বড়ো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড ফুডস লিমিটেড, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোজেক্ট, ডেনিশ ডেইরি ফার্ম লিমিটেড, ইছামতি ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস, ইগলু ডেইরি লিমিটেড, প্রাণ ডেইরি লিমিটেড, উত্তরবঙ্গ ডেইরি লিমিটেড, শীলাইদহ ডেইরি, পূর্ববাংলা ডেইরি ফুড ইন্ড্রাস্ট্রিজ এবং তানিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস।

গত ১৪ জুলাই এক আদেশে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী সব ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান আছে কিনা, তা এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করতে চারটি ল্যাবকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।  

চারটি ল্যাব হলো- ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার। এরপর চার সংস্থার প্রতিবেদন হাতে পায় বিএসটিআই। এগুলো আদালতে জমা দেয় বিএসটিআই। এছাড়া নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তৈরি করা (বিসিএসআইআর ও পরমাণু শক্তি কমিশনের ল্যাবে পরীক্ষা করা) ১১ কোম্পানির দুধ পরীক্ষার প্রতিবেদনও আদালতে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে উপস্থাপন করা হয় ঢাবি অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের প্রতিবেদনও।

গত বছরের ১৬ মে বাণিজ্যিকভাবে পাস্তুরিত দুধ সম্পর্কে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিস রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) একটি গবেষণা বাংলানিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওইসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তানভীর আহমেদ। এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ২১ মে এক আদেশে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসচিব এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এ আদেশের পর গত ২৫ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। কিন্তু কোনো শুনানির আগেই সেদিন তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে আশঙ্কাজনক বা ক্ষতিকর কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটিশনের (বিএসটিআই) দেওয়া প্রতিবেদনে আদালত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন- গণমাধ্যমে সংস্থাটির আইনজীবীর দেওয়া এমন বক্তব্যে ৯ জুলাই অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

ওইদিন আদালতের আদেশ ছাড়া দুধ নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিজ্ঞাপন প্রচার না করতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কিছু খাদ্যের গুণগতমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। এরপর দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও পাস্তুরিত দুধের ১০ নমুনার সবক’টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে বলে ১৩ জুলাই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, ঢাবির বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তার এ প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর আদালত চারটি ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশ দেন।


   Page 1 of 75
     আইন - অপরাধ
হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে অব্যাহতি
.............................................................................................
গ্রেনেড হামলায় দণ্ডিতরা কে কোথায়
.............................................................................................
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের পরিচালককে তলব
.............................................................................................
অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না করায় ধর্ষণ বাড়ছে
.............................................................................................
নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশে বাধা নেই
.............................................................................................
নবম ওয়েজ বোর্ড বিষয়ে আপিলের রায় কাল
.............................................................................................
ঈদের রাতে মেহেদী লাগাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশু
.............................................................................................
ফখরুলসহ বিএনপির চার নেতাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
.............................................................................................
হাইকোর্টে মিন্নির জামিন শুনানি পেছাল
.............................................................................................
পুলিশি হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ : তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
.............................................................................................
হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আবেদন
.............................................................................................
মশার ওষুধ আনতে গড়িমসি : সচিবকে তলব
.............................................................................................
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী বাদে বাকিরা রাষ্ট্রের চাকর: হাইকোর্ট
.............................................................................................
এবার জজ আদালতে মিন্নির জামিন নাকচ
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক আটক
.............................................................................................
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ
.............................................................................................
জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ১১ ছাত্রীকে ধর্ষণ, ‘বড় হুজুর’ গ্রেফতার
.............................................................................................
গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ডের অভিযোগপত্র দাখিল
.............................................................................................
খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার
.............................................................................................
৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
.............................................................................................
কালকিনিতে পবিত্র কুরআন নিয়ে কটুক্তি করায় কলেজছাত্র আটক
.............................................................................................
নোয়াখালী ডিএসবি পরিদর্শক বরখাস্ত
.............................................................................................
ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা : সাঈদীসহ ১০৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
.............................................................................................
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর ওষুধ চাই : হাইকোর্ট
.............................................................................................
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ : ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে ২ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
.............................................................................................
আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই: ওয়াসার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট
.............................................................................................
রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার
.............................................................................................
মাদারীপুরে সাড়ে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
.............................................................................................
১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
.............................................................................................
আদালতে মিন্নির আবেদন নামঞ্জুর
.............................................................................................
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার আবেদন
.............................................................................................
প্রত্যেকের পরিবারকে কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রিট
.............................................................................................
আদালতে খুন : বিচারকদের নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে রিট
.............................................................................................
পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের
.............................................................................................
জাহালম কাণ্ডে সব পক্ষের সমন্বয়হীনতা রয়েছে
.............................................................................................
অরিত্রীর আত্মহত্যা: দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
.............................................................................................
আজহারের আপিলের রায় যেকোনো দিন
.............................................................................................
জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক এমপি রানা
.............................................................................................
রানার জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
.............................................................................................
দুই মাস ঋণ পাবেন না খেলাপিরা
.............................................................................................
ওয়াসার পানিতে মল ও ব্যাকটেরিয়া : পদক্ষেপ জানতে চান হাইকোর্ট
.............................................................................................
রিফাত হত্যার অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে
.............................................................................................
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ
.............................................................................................
রণদা প্রসাদ হত্যায় মাহবুবুরের ফাঁসির আদেশ
.............................................................................................
লাইসেন্সবিহীন দুধ কোম্পানির তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নিয়ে আপিল বিভাগের নো অর্ডার
.............................................................................................
অহিদুজ্জামান হত্যায় চারজনের যাবজ্জীবন
.............................................................................................
সাবেক এমপি রানার জামিন
.............................................................................................
মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ছয় মাসের জামিন
.............................................................................................
আজ সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে মোয়াজ্জেমকে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft