বুধবার, 16 অক্টোবর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আইন - অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আদালতে সম্রাট, বাইরে সমর্থকদের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার : ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। রমনা থানার অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় বিশ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য সম্রাটকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।  রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করবেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু, একই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাজ্জাদুল হক শিহাব, তাপস পাল ও এপিপি আজাদ রহমান।

অন্যদিকে আসামির পক্ষে শুনানি করতে গাজী জিল্লুর রহমান, আব্দুল কাদেরসহ প্রায় ২৫ জনের মত আইনজীবী আদালতে উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে ৯ অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকায় সম্রাটকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে চিঠি দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। সম্রাট অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী এ বিষয় শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

৮ অক্টোবর সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

১২ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় সম্রাটকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিন আহমেদ বলেন, সম্রাটের জন্য গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সবাই তাকে দেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

এদিকে সম্রাটকে আদালতে আনার খবরে যুবলীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী সকাল থেকেই পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় ভিড় করে। আদালতের ফটকের বাইরে ও জনসন রোডে জটলা করে তারা স্লোগান তোলেন- ‘সম্রাট ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও—।

বেলা ১২টার আগে আগে সম্রাটকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জ থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। সে সময় আদালতের বাইরে তার কর্মী-সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। ৭ অগাস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে।

আদালতে সম্রাট, বাইরে সমর্থকদের ভিড়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে পুলিশ। রমনা থানার অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় বিশ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য সম্রাটকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।  রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করবেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু, একই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাজ্জাদুল হক শিহাব, তাপস পাল ও এপিপি আজাদ রহমান।

অন্যদিকে আসামির পক্ষে শুনানি করতে গাজী জিল্লুর রহমান, আব্দুল কাদেরসহ প্রায় ২৫ জনের মত আইনজীবী আদালতে উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে ৯ অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক ২০ দিনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকায় সম্রাটকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে চিঠি দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। সম্রাট অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী এ বিষয় শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

৮ অক্টোবর সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

১২ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় সম্রাটকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিন আহমেদ বলেন, সম্রাটের জন্য গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সবাই তাকে দেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

এদিকে সম্রাটকে আদালতে আনার খবরে যুবলীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী সকাল থেকেই পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় ভিড় করে। আদালতের ফটকের বাইরে ও জনসন রোডে জটলা করে তারা স্লোগান তোলেন- ‘সম্রাট ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও—।

বেলা ১২টার আগে আগে সম্রাটকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জ থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। সে সময় আদালতের বাইরে তার কর্মী-সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। ৭ অগাস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ : গাইবান্ধার পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, তাপস ক্রান্তি বল ও সাবিনা ইয়াসমীন খান মুন্নী। কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রনজু মিয়া এবং পলাতক চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আবুল হাসান।

আসামিরা হলেন- মো. রঞ্জু মিয়া, রাজাকার কমান্ডার আবদুল জব্বার (৮৬), মো. জাফিজার রহমান খোকা (৬৪), মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল (৬২) ও মো. মমতাজ আলী বেপারি মমতাজ (৬৮)।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৫ মে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন গাইবান্ধার পুলিশ রনজু মিয়াকে গ্রেফতার করে। ২৯ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক আসামি আজগর হোসেন খান মারা যাওয়ায় ৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১৮ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, একাত্তরের ১৮ অক্টোবর পাকিস্তানিদের পক্ষ নিয়ে গাইবান্ধার সদর এলাকার সাহাপাড়া ইউনিয়নের নান্দিনা, দৌলতপুর, মিরপুর, সাহারবাজার, কাশদহ, বিসিক শিল্পনগরী, ভবানীপুর ও চকগয়েশপুর গ্রামের ২১ জনকে হত্যা, শতাধিক বাড়ি-ঘর লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, ইসলাম উদ্দিন এবং নবীর হোসেনসহ সাত নিরস্ত্র মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আসামিরা সাহাপাড়া ইউনিয়নের তিন থেকে চারশ হিন্দু লোককে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করে। বিচারে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- চাওয়া হয়।

আসামিরা গাইবান্ধা সদরের নান্দিদা ও ফুলবাড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সবাই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। তাদের মধ্যে গ্রাম্য চিকিৎসক আবদুল জব্বার মণ্ডল, জাফিজার রহমান খোকা ও আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল ১৯৭১ সালের আগে থেকেই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জব্বার ও খোকা মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৯৭২ সালে গ্রেফতার হলেও তাদের কোনো বিচার হয়নি। খোকার বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহিমপুর। তিনি ১৯৭৫ সালে পুলিশে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালে অবসরে যান। মমতাজ আলী বেপারী মমতাজ ১৯৭৪ সালে কৃষি বিভাগে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১২ সালে অবসর নেন বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধ : গাইবান্ধার ৫ জনের রায় আজ
                                  

স্টাফ  রিপোর্টার : গাইবান্ধার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় জানা যাবে আজ মঙ্গলবার। এ মামলার আসামিরা হলেন- মো. রঞ্জু মিয়া, আবদুল জব্বার মণ্ডল, মো. জাসিজার রহমান খোকা, মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল ও মো. মমতাজ আলী বেপারি ওরফে মমতাজ। তাদের মধ্যে কেবল রঞ্জু মিয়া গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন; বাকিরা পলাতক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, দেশেত্যাগে বাধ্য করা ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই আসামিদের বিরুদ্ধে।

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার রায়ের জন্য আজ মঙ্গলবার তারিখ ঠিক করে দেন। এর আগে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল গত ২১ জুলাই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন মোখলেসুর রহমান বাদল। কারাগারে থাকা একমাত্র আসামির পক্ষে এবং পলাতক আসামিদের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন মোহাম্দ আবুল হাসান।

এ মামলায় মোট আসামি ছিলে ছয়জন। তাদের মধ্যে আজগর হোসেন খান মামলার তদন্ত চলাকালেই মারা যান। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বাকি পাঁচ আসামির যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন বলছে, আসামিরা সবাই গাইবান্ধা সদর উপজেলার নান্দিনা ও চক গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা। একাত্তরে তারা সবাই ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী অথবা সমর্থক। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে তারা রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখান এবং ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে যুদ্ধাপরাধ ঘটনা।

মানবতাবিরোধী অপরাধ : গাইবান্ধার ৫ জনের রায় মঙ্গলবার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার  রঞ্জু মিয়াসহ পাঁচজনের রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এ মামলায় প্রসিকিউটর ছিলেন মোখলেসুর রহমান বাদল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান।

এর আগে গত ২১ জুলাই এ মামলার শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন। মামলায় মোট আসামি ছিল ছয়জন। তাদের মধ্যে মো. রঞ্জু মিয়া গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

পলাতক আসামিরা হলেন- রাজাকার কমান্ডার আবদুল জব্বার (৮৬), মো. জাফিজার রহমান খোকা (৬৪), মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল (৬২), মো. মমতাজ আলী বেপারি মমতাজ (৬৮) ও মো. আজগর হোসেন খান (৬৬)। এদের মধ্যে আজগর হোসেন খান মারা গেছেন।

তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, ভয়-ভীতি এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের ধর্মান্তর ও দেশান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিরা গাইবান্ধা সদরের নান্দিদা ও ফুলবাড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সবাই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। আসামিদের মধ্যে মো. আবদুল জব্বার, মো. জাফিজার রহমান খোকা ও মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল ১৯৭১ সালের আগে থেকেই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জব্বার ও খোকা মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৯৭২ সালে গ্রেফতার হলেও তাদের কোনো বিচার হয়নি।

খোকার বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহিমপুর। তিনি ১৯৭৫ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালে অবসর নেন। মো. মমতাজ আলী বেপারি মমতাজ ১৯৭৪ সালে কৃষি বিভাগে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১২ সালে অবসর নেন বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অভিযোগে বলা হয়েছে।

এক মাসের মধ্যে রাজীবের দুই ভাইকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে এক মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে স্বজন পরিবহনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে, এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে স্বজন পরিবহনের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ সকালে এই আদেশ দেন।

আদালতে স্বজন পরিবহনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে গত ২০ জুন রাজীবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে বিটিআরসি ও স্বজন পরিবহনের মালিককে ২৫ লাখ টাকা করে পরিশোধ করতে বলা হয়। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আবেদনটি শুনানি হয়।

আদালতে স্বজন পরিবহনের আইনজীবী বলেন, এই মামলার রায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা লিভ টু আপিল দায়ের করব। তখন আদালত বলেন, আপনারা এক মাসের মধ্যে আগে ১০ লাখ টাকা রাজীবের পরিবারকে দিয়ে আসেন। তারপর আপনাদের আবেদন শুনব। বিআরটিসির ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি দেখবেন বলে মন্তব্য করেন আদালত।

গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান ছাত্র রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরদিন ৪ এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ১৩ দিন চিকিৎসার পর ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রাজীব। পরে রাজীবের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে। কখনও টিউশনি করে, কখনও বা পার্টটাইম কাজ করে নিজে পড়াশোনা করেছেন এবং দুই ভাইকেও বানিয়েছেন কোরআনের হাফেজ।

রিশা হত্যার রায় আজ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার।

গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস এই দিন ধার্য করেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক গত ৬ অক্টোবর রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। কিন্তু ওই দিন আসামিকে আদালতে হাজির না করায় রায়ের তারিখ পিছিয়ে যায়। বিচারক বৃহস্পতিবার নতুন করে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। অ

এ মামলায় অভিযোগপত্রের ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আদালতে রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন রিশা হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ২৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীবের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ওবায়দুল।

জবানবন্দিতে ওবায়দুল বলেন, আমি রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাই আমি তাকে ছুরিকাঘাত করি। এর আগে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এইচ এম আজিমুল হকের নেতৃত্বে ওবায়দুলকে নীলফামারী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় আনা হয়। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর দুপুরে ঢাকার কাকরাইলে স্কুলের সামনে ফুটওভার ব্রিজের ওপর রিশার পেট ও হাতে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান টেইলার্স কর্মচারী ওবায়দুল। রিশাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এ মামলায় রিশার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেয় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।

সমিতির সদস্য ফাহমিদা আক্তার রিংকি বলেন, এক বছরের মধ্যেই এ মামলার বিচার কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনজন সাক্ষীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ার কথা বলে আসামিপক্ষ তাদের সাক্ষ্য শিশু আদালতে নেওয়ার দাবি জানায়।

তিনি বলেন, তারা এজন্য হাইকোর্টেও গিয়েছিলেন। কিন্তু মামলার আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় (২২ বছর) তার বিচার জজ আদালতেই চলতে পারে বলে হাই কোর্ট আদেশ দেয়। এ কারণে মামলার বিচার শেষ করতে দেরি হয়েছে।

রিশার বাবা রমজান হোসেন বলেন, আমরা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শাস্তি না পেলে এ রকমের অপরাধ আরও ঘটবে। মেয়ে হত্যার বিচার পাব- এ আশায় তিন বছর ধরে আমরা আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। আমাদের একটাই দাবি, ওবায়েদুলের ফাঁসি চাই।

তিনি বলেন, সঠিক বিচার হলে এ রকম ঘটনা আর কেউ ঘটাতে সাহস পাবে না। আর ও (ওবায়েদুল) যদি ছাড়া পায় তাহলে আবারও অঘটন ঘটাতে পারে। আমার দুই বাচ্চার মধ্যে এখনো ভয় কাজ করে।

রিশা হত্যার রায় পেছাল
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ১০ অক্টোবর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কাশিমপুর কারাগার থেকে মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুলকে আদালতে উপস্থিত করেনি পুলিশ। এজন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ রায় ঘোষণার জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে ফুট ওভারব্রিজে রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে পাওয়া যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিশার মৃত্যু হয়।

২৪ আগস্ট রিশার মা তানিয়া রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় এবং দণ্ডবিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন। রিশার মৃত্যুর পর হত্যার অভিযোগে ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।

ঘটনার পর থেকে ওবায়দুল পলাতক ছিলেন। ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ওবায়দুলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ওবায়দুল। রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করার কথা স্বীকার করেন ওবায়দুল।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুল হককে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক আলী হোসেন। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর ‘সঠিক আদালতে বিচার না হওয়ায়’ মামলাটি ঢাকার শিশু আদালতে বদলি করা হয়। আইনি জটিলতা শেষে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে। এরপর আরো দুজন সাক্ষীসহ ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ২৫ আগস্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্মপক্ষ শুনানি করেন ওবায়দুল হক।

নিহত রিশা রাজধানীর বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার রমজান হোসেনের মেয়ে। ওবায়দুল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলের বৈশাখী টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন।

রিশা হত্যার রায় আজ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ রায় ঘোষণা করবেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৬ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে ফুট ওভারব্রিজে রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে পাওয়া যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিশার মৃত্যু হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একটা মেয়েকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। তার এমন সাজা হওয়া উচিত যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে সাহস না পায়। তার সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছি।

মামলার বাদী ও রিশার মা তানিয়া হোসেন বলেন, ঘাতক ওবায়দুল আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। পাষ- এমনভাবে আমার মেয়েটাকে ছুরিকাঘাত করেছে যে সে আর ফিরল না। একটাই দাবি, ওবায়দুলের ফাঁসি চাই। সঠিক বিচার হলে এরকম ঘটনা আর কেউ ঘটাতে সাহস পাবে না।

রিশা বাবা রমজান হোসেন বলেন, যাকে হারিয়েছি তাকে তো আর ফিরে পাব না। তবে যে আমার মেয়েকে বুক থেকে কেড়ে নিয়েছে, আমি তার সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি। আমি ওর ফাঁসি চাই।

বাদীপক্ষকে আইনি সহায়তাকারী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ফাহমিদা আক্তার রিংকি বলেন, এটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। আমরা আসামির সর্বোচ্চ সাজা আশা করছি। আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মদ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আসামি খালাস পাবে বলে আশা করছি।

২৪ আগস্ট রিশার মা তানিয়া রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় এবং দ-বিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন। রিশার মৃত্যুর পর হত্যার অভিযোগে ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।

ঘটনার পর থেকে ওবায়দুল পলাতক ছিলেন। ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ওবায়দুলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ওবায়দুল। রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করার কথা স্বীকার করেন ওবায়দুল।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুল হককে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক আলী হোসেন। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর ‘সঠিক আদালতে বিচার না হওয়ায়’ মামলাটি ঢাকার শিশু আদালতে বদলি করা হয়। আইনি জটিলতা শেষে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে। এরপর আরো দুজন সাক্ষীসহ ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। গত ২৫ আগস্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্মপক্ষ শুনানি করেন ওবায়দুল হক।

নিহত রিশা রাজধানীর বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার রমজান হোসেনের মেয়ে। ওবায়দুল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলের বৈশাখী টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন।

ভাতিজিকে ধর্ষণ করে ভিডিও ফেসবুকে!
                                  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিশুতারা গ্রামো ভাতিজীকে ধর্ষণ করে তার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে সজল মিয়া (২৫) নামে এক বখাটে চাচা। গত ৯ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। সজলের বিরুদ্ধে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত সজলকে আটক করতে পারেনি। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবার হতাশা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বখাটে সজলের উত্যক্তের কারণে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সজল সম্পর্কে ওই স্কুলছাত্রীর চাচা হয়। গত ১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে সজল একই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে সামছুল হককে (২৪) নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় সামছুল তার মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। এক পর্যায়ে সজল ও সামছুলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে সামছুল পালিয়ে যায়। তবে সজলকে আটক করা হয়।

খবর পেয়ে সজলের বাবা আওয়াল মিয়া ও মা রেজিয়া বেগম সেখানে এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা তাদের কথা থেকে সরে যায় এবং ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, ওই ছেলের কোনো ফোন নম্বরও নেই যে আমরা ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে জানব। তারপরও আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

অনলাইনে ক্যাসিনো : সেলিম প্রধান রিমান্ডে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানসহ তিনজনকে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সেলিম প্রধান ছাড়া অন্য দুইজন হলেন- রোমান ও আখতারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানির আগে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল মাদক মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পরে আদালত বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে সোমবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ নম্বর ফ্লাইটটি ছাড়ার আগমুহূর্তে সেলিম প্রধানকে আটক করা হয়। তিনি বাংলাদেশে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসায়ের মূলহোতা বলে জানায় র‌্যাব। ওইদিন তার গুলশান ও বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংক চেক ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

পরে বুধবার তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, গুলশানে সেলিম প্রধানের অনলাইন ক্যাসিনোর নেপথ্যে ছিলেন উত্তর কোরিয়ার নাগরিক মি. দো। থাইল্যান্ডে বসবাসকারী ওই ব্যক্তির মাধ্যমেই ২০১৮ সালে অনলাইন ক্যাসিনো খোলেন তিনি।

মতিঝিলের ক্লাবপাড়াগুলোতে যে কোনো ব্যক্তিই ক্যাসিনো খেলত। তবে সেলিম প্রধানের গ্রাহকরা ছিলেন সমাজের উঁচু স্তরের। সেলিম প্রধানের অনলাইন জুয়ার মূল সার্ভার ফিলিপাইনের ম্যানিলায়। তিনি সেখান থেকে অনলাইন জুয়ার কপিরাইট কিনে ঢাকায় চালাচ্ছিলেন এই অবৈধ ব্যবসা।

ম্যানিলাকেন্দ্রিক বিশ্বের কুখ্যাত বেশ কয়েক জুয়াড়ির সঙ্গেও রয়েছে সেলিম প্রধানের উষ্ণ যোগাযোগ। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ-সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন তিনি।

সম্রাট আটক!
                                  

ক্যাসিনোবিরোধী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পর থেকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছেন। মানুষের কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রাজধানী ঢাকার সম্রাট।

কেউ কেউ বলছেন, সম্রাট অবস্থান করছেন এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে। কারও কারও দাবি, সম্রাট রয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে এসেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন সম্রাট। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আটক করেছে গোয়েন্দারা। রাজধানীর বনানী থেকে গতকাল শুক্রবার তাঁকে আটক করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট চলমান ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানের শুরু থেকে তাদের নজরদারির মধ্যেই ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালিয়েছিলেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছেও তিনি ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরে কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশনে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে টানা ছয় দিন অবস্থান করেন। আর পাহারায় বসান শতাধিক যুবককে। সেখান থেকে গত রবিবার তিনি বনানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন। সর্বশেষ সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ‘যুবলীগ নেতা সম্রাট ঢাকাতেই অবস্থান করছেন এবং আমাদের নজরদারির মধ্যেই আছেন। তাঁকে আটকের বিষয়টি এখনই প্রকাশযোগ্য নয়। সবুজ সংকেত পেলেই তাঁর বিষয়টি প্রকাশ করা হবে।’

সূত্র জানায়, যুবলীগের প্রভাবশালী এই নেতা আটক বা গ্রেপ্তার এড়াতে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করে আসছিলেন। হাইকমান্ডের সঙ্গে তিনি দফায় দফায় কথাও বলেছেন। তাঁর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া প্রভাবশালীচক্র এক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই সম্রাটকে আটকের সিদ্ধান্ত নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, যুবলীগ নেতা সম্রাট গোয়েন্দা হেফাজতেই আছেন। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও গোলাম কিবরিয়া শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আর ওই দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে সম্রাট দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্রাটের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের কয়েকটি সংস্থা। আর তাঁকে জড়িয়ে ক্যাসিনো বিষয়ক তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।-সংবাদ সূত্র: কালের কন্ঠ

এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সম্রাট গ্রেফতার হয়েছে কি না শিগগির জানা যাবে।

তিনি বলেন, যুবলীগ নেতা সম্রাট হোক আর যেই হোক অপরাধ করলে তাকে আমরা আইনের আওতায় আনবো। এখানে সম্রাট বলে কথা না, যে কেউ আইনের আওতায় আসবে। আপনারা সময় হলেই দেখবেন।

যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের আমরা সব সময় সঠিক তথ্যটায় দিয়ে থাকি। চলমান যে অভিযান এটাকে আমি অভিযান বলব না, এটা সব সময় হয়ে থাকে। আমরা তথ্যভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছি। আপনারাও দেখছেন। অপরাধ ঘটছে বা যারা অপরাধ ঘটাচ্ছে এমন খবর যখন পাবো তখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষী কারাগারে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : অস্ত্র মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সাত দেহরক্ষী হলেন- দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম হাবিবুর রহমান চৌধুরী আসামিদের জামিনের আবেদনের শুনানি আগামী রোববার নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদার আসামি পক্ষে জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক এ আইনজীবীকে আগামী  রোববার জামিন শুনানি করতে অনুরোধ করলে তিনি রাজি হওয়ায় বিচারক সে দিন ধার্য করেন।

অপরদিকে, গুলশান থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আসামিদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে রিমান্ডে থাকা আসামী জি কে শামীমসহ সাত দেহরক্ষীকে আটকের সময় নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুর ডলার, জি কে শামীমের মায়ের নামে ট্রাস্ট ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখায় ২৫ কোটি টাকার করে ৪টি এবং ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক মহাখালী শাখায় ১০ কোটি টাকা করে ৪টি এফডিআর, শামীমের নামীয় ট্রাস্ট ব্যাংক কেরানীগঞ্জ শাতায় ২৫ কোটি টাকার একটি এফডিআর, জব্দ করা হয়। এছাড়া ৩৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই উদ্ধারও হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোন সদুত্তর প্রদান বা বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করার জন্য মজুদ রেখেছিল বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেদের সামনে স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন। তাই এজাহারনামীয় এ আসামিদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে অস্ত্র মামলায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুল হক সাত দেহরক্ষীকে আদালতে হাজির করে ফেরত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের মামলার ঘটনা সংক্রান্তে সুনিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যাদি মামলার তদন্তকার্যে যথেষ্ট সহায়ক হবে। তাদের দেয়া তথ্যাদি ও নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে শনিবার অবৈধ অস্ত্র ও মাদক মামলায় আলোচিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় পাঁচদিন ও মাদক মামলায় পাঁচদিন। এছাড়া সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র মামলায় চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ২০ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন শনিবার তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

শামীমের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকা!
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: কথিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের একাউন্টে ৩০০ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তারের পর এখন ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রবিবার জি কে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় বড় অংকের কয়েকটি চেক ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত (অবরুদ্ধ) করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, জি কে শামীম, তার স্ত্রী ও মা-বাবার নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে হবে। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য পাঁচ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়।

সোমবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসী ও মানিলন্ডারিং বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে বিএফআইইউ তা অনুসন্ধান করে। সম্প্রতি এসব অপরাধে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের হিসাবও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে তাদের হিসাবে টাকা জমা হবে কিন্তু উত্তোলন করতে পারবে না।

গত শুক্রবার র‌্যাব রাজধানীর নিকেতনে জি কে শামীমের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হানা দিয়ে তাকে এবং তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করে। শামীম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের মালিক তিনি। তিনি নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দিতেন। যদিও কেন্দ্রীয় যুবলীগ দাবি করছে, শামীম তাদের কেউ না।

অভিযানকালে র‌্যাব শামীমের অফিস থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র (তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি), নয় হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং মদের বোতল জব্দ করে।

কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। শনিবারে ভোরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি থানায় মামলা দুটি করা হয়।

ধানমন্ডি থানার ডিউটি অফিসার কামরুন নাহার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া মামলাটির নম্বর ২০ ও মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলার নম্বর ২১।

শুক্রবার বিকালে থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ক্লাবের অফিস রুম থেকে একহাজার পিস হলুদ রঙের ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এছাড়া একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

অভিযান শেষে শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক আশিক বিল্লাল জানান, অভিযানের সময় শফিকুলের কাছে সাত প্যাকেট হলুদ রঙের ইয়াবা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এ যাবৎকালে এ ধরনের ইয়াবা পাওয়া যায়নি। এ ইয়াবায় কোনো প্রকার গন্ধ নেই। এ নতুন আবিষ্কার।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে একটা বিদেশি পিস্তলসহ তিন রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ক্যাসিনোতে খেলার কয়েন, স্কোরবোর্ড ও ৫৭২ প্যাকেট তাস উদ্ধার করা হয়েছে। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে যেসব জিনিসপত্র পাওয়া গেছে ধারণা করা হচ্ছে আগে এ ক্লাবে ক্যাসিনো খেলা হতো।

রাজশাহীতে মা-ছেলে হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
                                  

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারায় পাঁচ বছর আগে মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড।

বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার সব আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আবুল হোসেন মাস্টার (৫২), হাবিবুর রহমান হাবিব (৪০) ও চাকরিচ্যুত বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাক (৩৫)। এর মধ্যে আবুল হোসেন মাস্টার  বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেউলা রানী রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর হাবিবুরের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামে। এছাড়া ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত চাকরিচ্যুত বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাকের (৩৫) বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ আল কাফি (২২), একই গ্রামের রুহুল আমিন (৩০), দুর্গাপুরের খিদ্রকাশিপুর গ্রামের রুস্তম আলী (২৬) এবং খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের ওরফে মনির (২৩)।

রায়ের পর আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এ বছরের এপ্রিলেই মামলাটি জেলা জজ আদালত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলাটিতে মোট ৫১ জন সাক্ষী ছিলেন। আদালত ৪৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। এরপর গত বুধবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

বাগমারার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে আকলিমা বেগম ও তার ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আকলিমার বড় ছেলে দুলাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় নানা মোড় নেয় এই জোড়া খুনের তদন্ত। তিন দফা বদল করা হয় তদন্ত কর্মকর্তা।

সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে। এরপর এই হত্যাকাণ্ডে রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে ২০১৮ সালের ৩১ মে আদালতে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন দুইজন। তারা হলেন- নিহত আকলিমার দেবর আবুল হোসেন মাস্টার এবং তার সহযোগী হাবিবুর। আর বাকি আসামিরা ভাড়াটে খুনি হিসেবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।

নৈশ প্রহরী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার
                                  

জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর পৌরসভার তিরুথা সত্যপীর উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগ পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি প্রভাবশালী চক্র এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় মো. আবুল হোসেন আবু তার ফেসবুক আইডি ‘ইকরাম আবু’ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।  যেখানে বলা হয়েছে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নৈশ প্রহরী হিসেবে মনোনিত করেছেন। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করতে বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। যা বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নৈশ প্রহরী নিয়োগ করতে স্থানীয় দুটি সংবাদপত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তারা হলেন- শ্রী গোপাল চন্দ্র রায়, মো. আলমগীর হোসেন আয়নাল, মো. তুষার, মো. সেজান মাহমুদ শিমুল, মো. লিটন মিয়া, আক্কাস আলী, উজ্জ্বল মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. মুসা  শেখ। নিয়োগ কমিটিতে ৫ জন প্রতিনিধির মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম সরকারি কাজে ঢাকায় থাকায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিরুথা সত্যপীড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগে সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও নিয়োগ কমিটির ৫ জন সদস্যের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঢাকায় অবস্থান করায় পরীক্ষা বাতিল হয়। স্থগিতকৃত নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সকলের কাছে এ মর্মে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এ নিয়োগ পরীক্ষা যেখানে নিয়োগই হলো না, সেখানে অর্থ  লেনদেনের প্রশ্নই উঠে না। টাকা পয়সা নিয়ে নিয়োগ এর বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম ফরিদ আজাদ জানান, আবুল হোসেন আবু অর্থের বিনিময়ে নৈশ প্রহরী নিয়োগের অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। বানোয়াট অভিযোগ প্রকাশ ও প্রচার করে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে। অপপ্রচারকারী মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সদর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ দাখিল করেছে।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ওয়াহেদুর রহমান পাতা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ৯ জন প্রার্থী। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন। কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি চক্র এসব গুজব ছড়াচ্ছে।
ইকরাম আবু বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা লিখেছেন তা শতভাগ সত্য। এলাকাবাসীসহ সবাই জানেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম জানান, অফিসের জরুরি কাজ থাকায় ঢাকায় চলে এসেছি। জামালপুরে গিয়ে তারিখ নির্ধারণ করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমার জানামতে কোন টাকা পয়সা লেনদেন হয়নি। আর আগামীতেও সুযোগ নেই। সরকারি নিয়মনুসারেই নিয়োগ হবে।


   Page 1 of 77
     আইন - অপরাধ
আদালতে সম্রাট, বাইরে সমর্থকদের ভিড়
.............................................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধ : গাইবান্ধার পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধ : গাইবান্ধার ৫ জনের রায় আজ
.............................................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধ : গাইবান্ধার ৫ জনের রায় মঙ্গলবার
.............................................................................................
এক মাসের মধ্যে রাজীবের দুই ভাইকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ
.............................................................................................
রিশা হত্যার রায় আজ
.............................................................................................
রিশা হত্যার রায় পেছাল
.............................................................................................
রিশা হত্যার রায় আজ
.............................................................................................
ভাতিজিকে ধর্ষণ করে ভিডিও ফেসবুকে!
.............................................................................................
অনলাইনে ক্যাসিনো : সেলিম প্রধান রিমান্ডে
.............................................................................................
সম্রাট আটক!
.............................................................................................
জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষী কারাগারে
.............................................................................................
শামীমের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি টাকা!
.............................................................................................
কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা
.............................................................................................
রাজশাহীতে মা-ছেলে হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
.............................................................................................
নৈশ প্রহরী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার
.............................................................................................
২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট গ্রহণ, পলাতক ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা
.............................................................................................
নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
.............................................................................................
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
.............................................................................................
র‌্যাবের হাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে জাল টাকাসহ আটক ১
.............................................................................................
নোয়াখালীতে শিশু এমরান খুনের রহস্য উদ্ঘাটন
.............................................................................................
জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে ব্যারিস্টার মইনুল
.............................................................................................
জামিন পাননি দুদকের সাবেক কর্মকর্তা বাছির
.............................................................................................
আদালতের এজলাস কক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শনের নির্দেশ
.............................................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধ : রাজশাহীর সামাদের মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধ : রাজশাহীর আব্দুস সামাদের রায় মঙ্গলবার
.............................................................................................
সিরাজগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার পাঁয়তারা
.............................................................................................
কাবিন থেকে ‘কুমারী’ বাদ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
.............................................................................................
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মাহি বি চৌধুরী
.............................................................................................
হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে অব্যাহতি
.............................................................................................
গ্রেনেড হামলায় দণ্ডিতরা কে কোথায়
.............................................................................................
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের পরিচালককে তলব
.............................................................................................
অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত না করায় ধর্ষণ বাড়ছে
.............................................................................................
নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশে বাধা নেই
.............................................................................................
নবম ওয়েজ বোর্ড বিষয়ে আপিলের রায় কাল
.............................................................................................
ঈদের রাতে মেহেদী লাগাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশু
.............................................................................................
ফখরুলসহ বিএনপির চার নেতাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
.............................................................................................
হাইকোর্টে মিন্নির জামিন শুনানি পেছাল
.............................................................................................
পুলিশি হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ : তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
.............................................................................................
হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আবেদন
.............................................................................................
মশার ওষুধ আনতে গড়িমসি : সচিবকে তলব
.............................................................................................
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী বাদে বাকিরা রাষ্ট্রের চাকর: হাইকোর্ট
.............................................................................................
এবার জজ আদালতে মিন্নির জামিন নাকচ
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক আটক
.............................................................................................
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ
.............................................................................................
জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ১১ ছাত্রীকে ধর্ষণ, ‘বড় হুজুর’ গ্রেফতার
.............................................................................................
গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ডের অভিযোগপত্র দাখিল
.............................................................................................
খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার
.............................................................................................
৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
.............................................................................................
কালকিনিতে পবিত্র কুরআন নিয়ে কটুক্তি করায় কলেজছাত্র আটক
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft