মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   মানবাধিকার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ফেব্রুয়ারিতে ৪৮ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার

আমীর হামজা: ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করে দেশের অন্যতম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

সংস্থার মাসিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এ চিত্র উঠে আসে। এ মাসে শিশু নির্যাতন ও হত্যা এবং ধর্ষনের ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গেছে । এছাড়াও নারী ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ, পারিবারিক ও সামাজিক কোন্দলে আহত ও নিহত, আত্মহত্যা, গৃহকর্মী নির্যাতন ও খুন, নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলি ছিল উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নভেম্বর মাসের মনিটরিং-এ পাওয়া তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়:

ধর্ষণ: ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৭ জন নারী ও শিশু । এদের মধ্যে শিশু ২০ জন। ১৭ জন নারী। ৭ জন নারী গণধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩ জনকে। এই মাসে সাভারে এক পোশাককর্মী ধর্ষণের শিকার হয়। সিলেটে এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

আত্মহত্যা: ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করে ৩৮ জন । এদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, অভিমান, রাগ ও যৌন হয়রানী, পরীক্ষায় খারাপ ফল, এমনকি পছন্দের পোশাক কিনতে না পারার কারনেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ।

শিশু হত্যা: ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ শিশুকে হত্যা করা হয় । নবাবগঞ্জে ৮ বছরের এক শিশুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মাসে ঢাকায় ৫ শিশু হত্যার শিকার হয়।

পারিবারিক কলহ: পারিবারিক কলহে ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হন ৩৫ জন, এদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন ,নারী ২৫ জন।। বিভিন্ন কারণে এ মাসে স্বামীর হাতে নিহত হন ১৮ জন নারী, আহত হয় ৭ জন। পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাগ, পরকীয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে এই সব মৃত্যু সংগঠিত হয় বলে জানা গেছে।

সামাজিক অসন্তোষ: সামাজিক অসন্তোষের শিকার হয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হয়েছেন ৮ জন। আহত হয়েছেন ৩২৯ জন। বেশীর ভাগ ঘটনাই ঘটে জমি জমা, দুই গ্রামের খেলা নিয়ে সংঘর্ষ বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

খুন: ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত হন ৪৪ জন ও আহত হয় ৫৫ জন। এই মাসে বরিশালে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্ততরা। টাঙ্গাইলে পাওনা টাকা চাওয়ায় এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে এক দুর্বৃত্ত।

অন্যান্য ঘটনা: ফেব্রুয়ারি মাসে মাদকের প্রভাবে বিভিন্ন ভাবে নিহতের সংখ্যা ৩ জন, আহত হয় ২ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় এ মাসে নিহত হয় ১৪০ জন ও আহত ২২৭ জন। তাছাড়া পানিতে ডুবে, অসাবধানবশত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, মৃত্যুবরণ করেছে ৩৩ জন। গণপিটুনিতে নিহত হয় ৬, আহত হয় ৭ জন। ক্রসফায়ার নিহত হয় ৮ জন। এদের মধ্যে পুলিশের হাতে ৭ জন ও র‌্যাব এর হাতে ১ জন। তাছাড়া ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী কর্তৃক নিহত হয় ১ জন, আহত হয় ৪ জন। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ৪ জনের। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দমন অভিযানের নামে গণ-গ্রেফতার করা হয় ১৮৫৮ জনকে। এ মাসে নিখোঁজ হয় ১০ জন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মনে করে, মানবাধিকার লংঘন অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে অন্যদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গিকার তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে । আইনের সঠিক প্রয়োগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন, অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নৈতিক অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সিলিং, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ভালো কাজের জন্য পুরষ্কার, সামাজিক সংগঠন গুলোর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম স্কুল কলেজগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করে সংস্থাটি।



ফেব্রুয়ারিতে ৪৮ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার
                                  

আমীর হামজা: ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করে দেশের অন্যতম মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

সংস্থার মাসিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এ চিত্র উঠে আসে। এ মাসে শিশু নির্যাতন ও হত্যা এবং ধর্ষনের ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গেছে । এছাড়াও নারী ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ, পারিবারিক ও সামাজিক কোন্দলে আহত ও নিহত, আত্মহত্যা, গৃহকর্মী নির্যাতন ও খুন, নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলি ছিল উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নভেম্বর মাসের মনিটরিং-এ পাওয়া তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়:

ধর্ষণ: ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৭ জন নারী ও শিশু । এদের মধ্যে শিশু ২০ জন। ১৭ জন নারী। ৭ জন নারী গণধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩ জনকে। এই মাসে সাভারে এক পোশাককর্মী ধর্ষণের শিকার হয়। সিলেটে এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

আত্মহত্যা: ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করে ৩৮ জন । এদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, অভিমান, রাগ ও যৌন হয়রানী, পরীক্ষায় খারাপ ফল, এমনকি পছন্দের পোশাক কিনতে না পারার কারনেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ।

শিশু হত্যা: ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ শিশুকে হত্যা করা হয় । নবাবগঞ্জে ৮ বছরের এক শিশুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মাসে ঢাকায় ৫ শিশু হত্যার শিকার হয়।

পারিবারিক কলহ: পারিবারিক কলহে ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হন ৩৫ জন, এদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন ,নারী ২৫ জন।। বিভিন্ন কারণে এ মাসে স্বামীর হাতে নিহত হন ১৮ জন নারী, আহত হয় ৭ জন। পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাগ, পরকীয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে এই সব মৃত্যু সংগঠিত হয় বলে জানা গেছে।

সামাজিক অসন্তোষ: সামাজিক অসন্তোষের শিকার হয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হয়েছেন ৮ জন। আহত হয়েছেন ৩২৯ জন। বেশীর ভাগ ঘটনাই ঘটে জমি জমা, দুই গ্রামের খেলা নিয়ে সংঘর্ষ বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

খুন: ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত হন ৪৪ জন ও আহত হয় ৫৫ জন। এই মাসে বরিশালে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্ততরা। টাঙ্গাইলে পাওনা টাকা চাওয়ায় এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে এক দুর্বৃত্ত।

অন্যান্য ঘটনা: ফেব্রুয়ারি মাসে মাদকের প্রভাবে বিভিন্ন ভাবে নিহতের সংখ্যা ৩ জন, আহত হয় ২ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় এ মাসে নিহত হয় ১৪০ জন ও আহত ২২৭ জন। তাছাড়া পানিতে ডুবে, অসাবধানবশত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, মৃত্যুবরণ করেছে ৩৩ জন। গণপিটুনিতে নিহত হয় ৬, আহত হয় ৭ জন। ক্রসফায়ার নিহত হয় ৮ জন। এদের মধ্যে পুলিশের হাতে ৭ জন ও র‌্যাব এর হাতে ১ জন। তাছাড়া ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী কর্তৃক নিহত হয় ১ জন, আহত হয় ৪ জন। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ৪ জনের। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দমন অভিযানের নামে গণ-গ্রেফতার করা হয় ১৮৫৮ জনকে। এ মাসে নিখোঁজ হয় ১০ জন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মনে করে, মানবাধিকার লংঘন অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে অন্যদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গিকার তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে । আইনের সঠিক প্রয়োগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন, অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নৈতিক অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সিলিং, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ভালো কাজের জন্য পুরষ্কার, সামাজিক সংগঠন গুলোর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম স্কুল কলেজগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করে সংস্থাটি।



অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নারী চিকিৎসককে গণধর্ষণ
                                  

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে এক নারী চিকিৎসককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার ওই নারী চিকিৎসক ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী ওই চিকিৎসক বাদী হয়ে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। র‌্যাবের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের আরশাদ মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা (২০), সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের মৃত মুন্নাফ সরদারের ছেলে হান্নান সরদার (৩০) ও একই মৃত আবুল মোল্লা ছেলে রানা মোল্লা (২৫) ক্র গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওই চিকিৎসক জানান, তিনি ঢাকা থেকে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এসে নেমে ফরিদপুরে যাওয়ার গাড়ি খুঁজতে থাকেন। এ সময় এক অটোরিকশা চালক তাকে বলেন, ‘এখান থেকে ফরিদপুরের গাড়ি পাওয়া যাবে না। আমার অটোতে ওঠেন শিবরামপুর গেলে ফরিদপুরের গাড়িতে উঠিয়ে দেবো।’ এ সময় ওই চিকিৎসক অটোরিকশায় ওঠেন।

অটোরিকশায় চালক ছাড়াও আরো দুইজন যুবক বসা ছিল। অটোটি গোয়ালন্দ মোড়-শিবরামপুরের মাঝামাঝি নির্জন জায়গায় পৌঁছালে সেটি দাঁড় করিয়ে চালকসহ তিনজন এবং অজ্ঞাত আরো ৩-৪ জন মিলে রাস্তার পাশে নিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে। ওই সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে যুবকরা অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, ওই ঘটনায় আজ দুপুরে চিকিৎসক নিজেই বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ওসি জানান।

৫ সন্তানের জনকের ঠাই হল রাস্তায়
                                  

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের রাস্তায় পড়ে থাকা শতবর্ষী অসুস্থ বৃদ্ধ মনতাজ আলী। কাছে যেতেই বললেন, ‘মানুষের বৃদ্ধ হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ? আমার ঘর-সংসার, ছেলে-মেয়ে সব থাকার পরও আজ আমি রাস্তায় পড়ে রয়েছি। সারাদিন জোটেনি কোন খাবার। নেই কোন আশ্রয়। কে তোমরা বাবা! জীবনের এই শেষ সময়ে আমার শুধু একটু আশ্রয় চাই। স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা কেউ তো ঘরে রাখতে চায় না।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বয়সের ভারে অচলএই বৃদ্ধের স্ত্রী ও ৫ ছেলেমেয় আছে। কিন্তু জীবনের ঘানি টানতে টানতে আজ বয়সের কাছে হেরে যাওয়া বৃদ্ধ মনতাজ আলীকে আজ কেউ নিতে চায় না। তাই তারা রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। অথচ বড় ছেলে আব্দুল আজিজ মরুর নিংগইন পেট্রোল পাম্পের পার্শ্বে সকাল সন্ধ্যা চলনবিল হোটেলে খাবারের যেন কোন অন্ত নেই।

প্রতিবেশী ছবেজান বেওয়া ও হাসিনা বেগম জানান, সোমবার বিকালে পৌর শহরের চাঁদপুর বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে শতবর্ষী এই বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে তারা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে ভ্যান যোগে বড় ছেলে আব্দুল আজিজ মরুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কেউ তাকে আশ্রয় দিতে চায় না। মরুর ছেলে শুভ হোসেন তাদের মারপিট করে বের করে দিয়েছে। পরে মেয়ে মোমেনা বেগম ও মেজ ছেলে মস্তাকের বাড়িতে নিয়ে গেলেও তারা কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। পরে রাত ৮টায় ওই বৃদ্ধকে সিংড়া থানার গেটে ফেলে রেখে চম্পট দেয় ভাড়া করা ভ্যানচালক।

এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক শাহেদ আলী অসুস্থ শতবর্ষী মনতাজ আলীকে উদ্ধার করে সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। থানা থেকে রাতেই ওই বৃদ্ধের ছেলেদের খবর দেয়া হলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ছেলের দেখা পাওয়া মেলেনি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ভর্তিকৃত কমেদ আলীসহ অন্যান্য রোগীরা জানান, সকাল থেকেই দেখছি এই অসুস্থ বৃদ্ধের কেউ আসেনি। কেউ কোন খবর ও নেয়নি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টার্ফ নার্স মনোয়ারা বেগম জানান, এই বৃদ্ধের আত্মীয় স্বজনের এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই। চিকিৎসার সেবার পাশাপাশি সকালে হাসপাতাল থেকে একটি রুটি, কলা ও ডিম দেয়া হয়েছে।

গাজীপুরে শিশু ধর্ষণ, আ.লীগ নেতার বাধায় মামলা দিতে পারছে না পরিবার
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশুধর্ষণের ঘটনায় কাড়িহাতা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মুজিবুর রহমানের বাধা প্রদানের কারণে মামলা করতে পারছেনা ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার। শিশুটির পিতা এ অভিযোগ করেছেন।

ধর্ষণের শিকার শিশুটি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি বলেন, মুজিবুর রহমানের ভাতিজা শরীফ (২১) গত ১৭ অক্টোবর তার মেয়েকে খেলার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।  পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা গিয়ে উদ্ধার করে।

ঘটনার পর মুজিবুর রহমান আমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মামলা করতে নিষেধ করেন। ‘বাড়াবাড়ি কোরো না’ বলে হুমকি দেন। তিনি সমাজিকভাবে এর মীমাংসা করবেন বলে জানান। কিন্তু একাধিকবার শালিসের তারিখ দিলেও তা তিনি করেননি।”

মুজিবুর রহমান হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও মীমাংসা করবেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলব।”

হাসপাতালের চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, “শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। শেষ না হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

কাড়িহাতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল আলম মোড়ল ঘটনাটি শুনেছেন জানিয়ে বলেন, “এ ব্যাপারে আইনগত যত সহযোগিতা দরকার তা আমি করব।”

রংপুরে ডিবির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ
                                  

রংপুর প্রতিনিধি: এবার রংপুরে এক লাখ টাকা না পেয়ে রাসেল নামের এক পাট ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে। কাউনিয়া উপজেলার হলদীবাড়ি গ্রামের বাড়ি থেকে শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাতে রাসেলকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের এসআই বাবুল, এসআই গোলাম মোরশেদ এবং কনস্টেবল শহীদ রাসেলকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে তার বোনকে ফোন করে রাতেই এক লাখ টাকা নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। টাকা নিয়ে না গেলে তার লাশ পাওয়ারও হুমিকি দিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। কিন্তু তিনি এ টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হন। রবিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে গিয়ে রাসেলের লাশ দেখতে পান তার পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, রাসেলের মৃত্যুর খবরে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে গেলে পুলিশ তড়িঘড়ি করে লাশ হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নামিয়ে হাসপাতালের ‘ডেড হাউসে’ নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখে।

তবে ডিবি পুলিশ বলছে, রাসেল একজন মাদক ব্যবসায়ী ও হেরোইনসেবী। আটক করে থানায় আনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, রাসেলকে ডিবি পুলিশের এসআই বাবুল ও গোলাম মোরশেদ এবং কনস্টেবল শহীদ আটক করেছিলেন।

নিহত রাসেলের ছোট বোন সোহানা মনি অভিযোগ করেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার বড় ভাই রাসেলকে গ্রামের বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ ধরে তাদের অফিসে নিয়ে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর আশরতপুর এরশাদনগর এলাকার তার (সোহানা) শ্বশুরবাড়িতে দেয়াল টপকে বাসায় ঢুকে ডিবি পুলিশ। তারা বাড়ির মালামাল তছনছ করে। সোহানা বলেন, ‘ডিবি পুলিশ জানায় আমার বাড়িতে মাদক আছে। কিন্তু তল্লাশি করে কিছুই পাওয়া যায়নি। পরে তারা জানায় ভাইকে (রাসেল) তারা ধরে নিয়ে ডিবি অফিসে আটকে রেখেছে। তাকে মুক্ত করতে চাইলে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে। রাতের মধ্যে এ টাকা না দিতে পারলে লাশ পাওয়া যাবে বলেও তারা হুমকি দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর রাতে আবারও পাশের বাড়ির এক নারীর মোবাইলে ফোন করে আমাকে ওই টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে তারা ভাইয়ের (রাসেল) সঙ্গে আমার কথা বলিয়ে দেয়। সে সময় ভাই বলেন, এক লাখ টাকা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসো কিন্তু আমরা টাকা জোগাড় করতে পারিনি। পরে সকালে মামাতো বোন সীমাকে সঙ্গে নিয়ে ডিবি অফিসে গেলে আমাকে কোতয়ালী থানায় যেতে বলা হয়। থানায় গেলে জানানো হয়, ভাই অসুস্থ, তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে।’

নিহত রাসেলের মামাতো বোন সীমা জানান, রাসেল মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন না। তিনি পাটের ব্যবসা করতেন। পুলিশ অন্যায়ভাবে তাকে ধরে নিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে। এ টাকা না দেওয়ায় অমানুষিক নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রংপুর ডিবি পুলিশের ওসি শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কয়েকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর শফিক বলেন, ‘রাসেল মাদকসেবী। তাকে কোনও নির্যাতন করা হয়নি, টাকাও দাবি করা হয়নি। তার নামে বেশ কয়েকটি মাদক আইনে মামলা রয়েছে।’

নির্যাতনে মৃত্যুর খবরে দুপুর ২টার দিকে রংপুর পুলিশ লাইনের ভেতরে অবস্থিত ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে গেলে সেখানে দুজন কনস্টেবল ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঢাকায় থাকায় এ বিষয়ে কথা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘রাসেল মাদকসেবী। হেরোইন সেবনের কারণে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে সে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাসেল, তার বাবা ও বোনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রয়েছে। তার পরও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্ত করা হবে।’

যশোরে মামলা তুলে না নেওয়ায় শিক্ষককে গাছে বেধে নির্যাতন
                                  

তরিকুল ইসলাম মিঠু,যশোর: যশোরে ছিনতাই মামলা তুলে না নেওয়ায় মধ্যযুগীয় কায়দায় মশিয়ার রহমান (৩৫) নামে একজন স্কুল শিক্ষককে নির্যাতন করেছে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলার চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের গয়ড়া গ্রামে।

আহত মশিয়ার রহমান চৌগাছা গয়ড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন খানের ছেলে এবং উপজেলার ছোট কাকুড়িয়া ডিভাইন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

স্থানীয়রা জানান, মশিয়ারের একটি বোনকে বিয়ে দেওয়া হয় শার্শার গোকর্নে। সে দীর্ঘ দিন ধরে গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি পায়ে পচ্চন ধরে। গত মাসের শেষের দিকে বোনের ভারতে চিকিৎসার জন্য এক লাখ টাকা নিয়ে মশিয়ার নিজ বাড়ি থেকে শার্শায় যাচ্ছিলেন। এসময়ে তিলেকপুর বাজার আসলে কয়েকজন যুবক তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

এঘটনায় মশিয়ার এলাকার পাঁচ থেকে ছয় জনকে আসামী করে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চৌগাছা থানা পুলিশ একজনকে আটক করে জেলা হাজতে পাঠান। ছিনতাই মামলার বাকি আসামীরা বিভিন্ন সময়ে মামলা তুলে নিতে মশিয়ারকে হুমকি ধামকী দিয়ে আসছিল বেশ কিছু দিন ধরে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে ১০টার দিকে মশিয়ার স্কুলের ক্লাস নেওয়ার ফাঁকে চা খেতে দোকানে আসে। এসময়ে মেম্বার আতাউলের নেতৃত্বে এলাকার মুন্তাজ আলী, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে শুকুর আলী, ইসলামের ছেলে মজনু, মংলার ছেলে রোস্তম, মজনুর ছেলে শামীম, শামসুলের ছেলে শামনুর মশিয়ার উপরে আক্রমণ করে।

এসময়ে পাশে থাকা তার ভাইপো হৃদয় দৌড়ে আসলে তাকে তারা পিটিয়ে আহত করে। পরে মশিয়ারকে তারা ধরে দড়ি দিয়ে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করেন এবং পূর্বের মামলা তুলে নিতে বলে।

নির্যাতনে শিকার শিক্ষক বলেন, আমার পথরোধ করে মামলা তুলে নিতে বলে। মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে তাকে দড়ি দিয়ে একটি গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করে। পরে পুলিশ আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

স্বরুপদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নরুল কদরের কাছে শিক্ষককে গাছে বেধে নিযাতনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানের ইউপি সদস্য ইউপি সদস্য আতাউল হকের সাথে শিক্ষক মশিয়ারের দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক কোন্দল রয়েছে। শিক্ষক মশিয়ার বিএনপির একানিষ্ট সমর্থক। অপর দিকে ইউপি সদস্য আতাউল হক বর্তমান সরকার সমর্থিত মেম্বার। বেশ কিছু দিন আগে মশিয়ারের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় মেম্বার আতাউলের লোকজন। ওই ঘটনায় মশিয়ার আতাউলের লোকজনের নামে ছিনতাই মামলা করেন। মামলা করার জের ধরে আতাউলের নেতৃত্বে ইন্তাজ আলী, শুকুর আলী, মুন্তজ আলীসহ দশ থেকে বার জনের একটি সন্ত্রাসী দল মশিয়ারকে ধরে একটি গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করে এবং মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মশিয়ারকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বিষয়টি নিয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম আহম্মেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষক মশিয়ারের সাথে এলাকার কয়েক জন লোকের সাথে টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা হয়। বেশ কিছু দিন আগেও টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় এমন ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও শিক্ষক মশিয়ারকে থানায় মামলা করলে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠান। সকালে শিক্ষককে গাছে বেধে পিটানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নির্যাতনের শিকর হওয়া শিক্ষকের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করেনি। মামলা করলে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে অভিযান চারাবে বলে তিনি জানান।

ডিমলার প্রতিবন্ধি ফিরোজ বাঁচতে চায়
                                  

হামিদা আক্তার, ডিমলা প্রতিনিধি, নীলফামারী: নাম তার ফিরোজ রহমান। পঞ্চইন্দ্রিয়ই অনুভূতিহীন। ১৭ বছর বয়সী বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধি একটি কিশোর। গরীর বাবা-মায়ের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। ফলে যে বয়সে ফিরোজকে টকবকে এক যুবক হওয়ার কথা ছিলো, সে বয়সে আজ ফিরোজ শিশুই রয়ে গেছে। ১৭ বছর বয়সী এই যুবকটি তার শারীরিক বৃদ্ধি না হওয়ায় শিশু হয়ে বাবা-মায়ের কোলে চড়ে রয়েছে সার্বক্ষণিক। মা-বাবাও নিরুপায় হয়ে পুত্র সন্তানকে ফেলে দিতে না পেরে এক রকম ঘানিই টানছেন ১৭টি বছর ধরে।

বহুমাত্রিক শিশুটির জন্মগত ইতিহাস জানতে গিয়ে তার বাবা-মা জানায়, বহু কষ্টের পরেই আমাদের কোল জুড়ে আলো করে পৃথিবীতে আসে এই পুত্র সন্তানটি। তার জন্ম ২০০০ সালের ৪ঠা জুলাই। জন্মের পরপরেই ভুল করে নাড়ী কাটে তৎকালীন সময়ে থাকা একজন ধাত্রী। ভুল করে নাড়ী কাটায় এবং সেই ভুলের কারনেই আর স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি শিশুটি। নাড়ী কাটতে গিয়ে পেটে সাথে লেগে থাকা মাংস ও কেটে ফেলে ধাত্রী। ফলে সেই ঘা শুকাতে লেগে যায় শিশু ফিরোজের আড়াই বছর। সে থেকে তার বাবা-মা পুত্র সন্তান ফিরোজকে সুস্থ্য করতে ছুটে বেড়িয়েছে শত শত ডাক্তার-কবিরাজের কাছে। ঝাঁড়-ফুক করিয়েছে নানা জনেরও কাছে। কিন্তু না, শিশু ফিরোজ আর ফিরে আসতে পারেনি তার স্বাভাবিক জীবনে। ১৭টি বছর ধরেই প্রতিবন্ধি ফিরোজকে কোলে নিয়েই মা ফিরোজা বেগম করছে সাংসারিক ও চা- স্টলের নানা কাজ। শিশু ফিরোজ ভালো মত খেতেও পারতো না। ফলে স্বাভাবিক ভাবে বেড়েও উঠতে পারেনি। সামান্য কিছু খেয়েই দিন কাটিয়ে কোন মতে বেঁচে আছে ফিরোজ।
 
নীলফামারীর ডিমলায় বালাপাড়া ইউনিয়নের রুপাহারা গ্রামের অসুস্থ্য প্রতিবন্ধি ফিরোজের বাবা ওয়াজেদ আলী, মা ফিরোজা বেগম দীর্ঘ ১৭টি বছর ধরে দিনাতিপাত করছে অসুস্থ্য পুত্রকে কোলে নিয়েই। পুত্রকে স্বাভাবিক জীবনে দেখার বাসনায় সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে বিভিন্ন ডাক্তার-কবিরাজের হাতে তুলে দিয়েছে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু কিছুই হয়নি। সব কিছু হারিয়ে শুধু ভিটে মাটি টুকু সম্বল করে পরিবারটি ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চা-স্টলে চলছে তাদের জীবন ও জীবিকা। ফিরোজকে শিশুর মত কোলে নিয়েই প্রতিনিয়ত কাটছে মায়ের জীবন। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ নেই বাবা-মায়ের। ফলে প্রতিবন্ধি সে ধীরে ধীরে এগিয়ে হচ্ছে মৃত্যুর দিকে।

শিশুটিকে দেখে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনুপ কুমার রায় জানান, শিশুটি জন্মের পর থেকেই তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে ফিরোজের বৃদ্ধিতে বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। ১৭ বছর বয়সী ফিরোজের বাবা-মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় সঠিক চিকিৎসাও করাতে পারেনি শিশুটির। তবে ভালোভাবে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা গেলে হয়ত ফিরে আসতো ফিরোজের স্বাভাবিক জীবন।
 
বাবা-মায়ের আকুতি কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি ফিরোজের চিকিৎসায় হাত বাড়িয়ে আর্থিক সহায়তা করতো তহলে হয়ত ফিরোজকে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনা সম্ভব হত।

বড়লোকের ছেলে সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লাগাতার ধর্ষণ
                                  

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর কালুখালীতে এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) বড়লোকের ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাগাতার ২৫ দিন গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল সোমবার রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওই ছাত্রী।  

অভিযুক্তরা হলেন কালুখালী উপজেলার চরকাটাবাড়ীয়া গ্রামের মৃত কাশেম মোল্লার ছেলে কুদরত মোল্লা ওরফে কুতুবদ্দিন (২৫) ও দাদশী (মিরকী) গ্রামের সামছুলের ছেলে জাকির ওরফে সবুজ (৩০)।

মামলার এজাহারে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে প্রতিবেশী কুতুবদ্দিন মাঝে মধ্যেই তাকে বড়লোকের ছেলের সাথে বিয়ে দেবে বলে প্রলোভন দেখাত। তার ফেলা ফাঁদে জড়িয়ে যায় ওই ছাত্রী। বড়লোকের ছেলের সাথে বিয়ে দিতে গেলে টাকা প্রয়োজন বলেও জানায় কুতুবদ্দিন। তার কথায় প্রলুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা বাবার গচ্ছিত ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা চুরি করে সে। এরপর গত ১১ আগস্ট রাত ৯টার দিকে কুতুবদ্দিন ওই টাকাসহ তাকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে তার বন্ধু জাকির ওরফে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে তারা দুই বন্ধু বড়লোকের ছেলের সাথে বিয়ে দেবে বলে ওই টাকা তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়। এরপর সবুজের ঘরে মেয়েটিকে আটকে রেখে প্রতিরাতেই তারা দুজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। সেই সাথে চলতে থাকে পাশবিক নির্যাতন। এভাবে ওই বাড়িতে ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করার পর তাকে ফরিদপুর জেলার মধুখালীতে সবুজের এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও আটকে রেখে সবুজ তাকে ধর্ষণ করতে থাকে।  

একপর্যায়ে কুতুবদ্দিন ও সবুজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওই ছাত্রী কান্নাকাটি করা শুরু করলে গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তারা মোবাইল ফোনে ওই ছাত্রীর বাবাকে জানায় বেলগাছি রেলস্টেশনে তাকে পাওয়া গেছে। এ খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বেলগাছি স্টেশনে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পরে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিচারের কথা হয়। কিন্তু সেটি না হওয়ায় ওই ছাত্রী গতকাল সোমবার আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি কালুখালী থানায় রেকর্ড করার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

গোপালগঞ্জে ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার, মামলায় গ্রাম্য মাতব্বরদের বাধা
                                  

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী। এ ঘটনায় মামলা করার কথা বলা হলে গ্রাম্য মাতব্বর ও ধর্ষকদের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই স্কুল ছাত্রীর পিতাকে নানা ধরণের হুমকি দেয়া হয়।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (১৫ আগস্ট) ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী শুয়া গ্রাম মন্দির থেকে নাম কীর্তন গান শুনে বাড়ী ফেরার পথে শুয়া গ্রামের খোকন বৈদ্যর ছেলে অনিক বৈদ্য (১৯), রামগোবিন্দ বৈদ্যর ছেলে দিপংকার বৈদ্য (২৫), নির্মল বৈদ্যর ছেলে রনি বৈদ্য (১৮) ও তারন বৈদ্যর ছেলে শিমুল বৈদ্য (১৯) শুয়াগ্রাম ব্রীজের উত্তর পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার পর ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা মামলা করার পদক্ষেপ নিলে ধর্ষকদের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা ধরণের হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে শুয়াগ্রামের বৈদ্য বাড়ীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কয়েকবার সালিশ বৈঠক করে। সালিশ বৈঠক থেকে ওই ছাত্রীর পিতাকে মামলা করতে নিষেধ করা হয়।

ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা বলেন, গত সোমবারও (২১ আগস্ট) শুয়াগ্রামের বৈদ্য বাড়ীতে সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠক থেকে আমাকে নানা ধরণের হুমকি দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হাফিজ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ঘরে ঢুকে অসহায় কিশোরীকে ধর্ষণ, আটক ১
                                  

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: জেলার জীবননগরে সোনিয়া নামে অসহায় এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশের অভিযুক্ত ইমরানের মাকে আটক করেছে। জীবননগর উপজেলা গয়েশপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষক একই গ্রামের দিলবারের ছেলে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই কিশোরীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে ইমরান। এ সময় কিশোরী চিৎকার করলে তার হাতে কোপ দেয়। কিশোরীর চিৎকারে তার  দাদিসহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং ঘরে তালা মেরে দেয়। পরে খবর পেয়ে ইমরানের বাবা, বড় ভাই জাহিদুল ও তার বন্ধু পাকু, ফুটান, রুবেল, রিংকু, বাবলুসহ বেশ কয়েকজন দলবন্ধ হয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ইমরানকে নিয়ে চলে যায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর গয়েশপুর গ্রামের মসজিদ পাড়ার দিলবারের ছেলে ছেলে প্রবাস ফেরত ইমরান (২৮) ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে টাকার গরমে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে মোটা অংকের টাকা দিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের জোগসাজসে বিষয়টি ধামাপাচা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় কিশোরী বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিক্তিতে ধর্ষক ইমরানকে না পেয়ে তার মাকে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক বলেন, নির্যাতিতা কিশোরী বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ইমরানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে তার মাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

পালিত মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে বাবা
                                  

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাসনে পালিত মেয়েকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ধর্ষক বাবা রফিককে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষক বাবা রফিক চরফ্যাসন বাজরের কলেজ রোডস্থ ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী।

মঙ্গলাবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯/১ ধারায় চরফ্যাসন থানায় মামলাটি দায়ের করেন ধর্ষিতার মা। বুধবার পুলিশ মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি ধর্ষক পালক বাবা রফিককে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। অভিযুক্ত ধর্ষক রফিক চরফ্যাসন পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডস্থ মতিন সড়কের মৃত শাহ আলম মিকারের ছেলে। অপরদিকে ধর্ষিতা আমিনাবাদ ইউনিয়নের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

মামলার বিবরণ ও ধর্ষিতার ভাষ্যমতে, রফিকের চরফ্যাসন বাজারস্থ কলেজ রোডের ইলেক্ট্রনিক্স দোকানে ঘড়ি কিনতে এসে মেয়েটির সাথে রফিকের পরিচয় হয়। এ সময় রফিকের মেয়ে সন্তান নাই জানিয়ে মেয়েটির মায়ের কাছে তাকে পালক নেয়ার প্রস্তাব দেয়। গত রমজানের আগে কোন একদিন রফিক তার স্ত্রীকে নিয়ে আমিনাবাদ ইউনিয়নের তালুকদার চৌমহনী সংলগ্ন মেয়েটির বাড়ি গিয়ে তার মায়ের কছে মেয়েটিকে পালক নেয়ার জন্য বলে এবং মেয়েটির সকল দ্বায়িত্ব তারা নিজের বলে জানায়। মেয়টির মা নিজেদের সংসারের অভাব অনটনের কথা চিন্তা করে রফিক এবং তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।

মেয়েটিকে তাদের সন্তান হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেয়। কিছু দিন যাওয়ার পর রফিকের স্ত্রী পালিত মেয়েকে ঘরে রেখে ঢাকায় বেড়াতে গেলে এই সুযোগে রফিক নিজ ঘরেই পালিত মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পালিত মেয়েটি নিজের ইজ্জতের কথা ভেবে ঘটনাটি গোপন রাখে।

গত সোমবার রফিক তার পালিত মেয়েকে নিয়ে মুখারবান্দা এলাকায় তার (রফিক) সৎ মা’র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক বিছানায় রাত্রিযাপনকালে সন্দেহ থেকে আটকের সূত্রধরে গোপন কান্ডটি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে রফিকের স্ত্রী ও সন্তানরা পালক মেয়েটির উপর চড়াও হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়।

চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ ম.এনামুল হক জানান, ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করেছি। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ভোলা পাঠানো হয়েছে।

ছেলের প্রহারে হাসপাতালে মা
                                  

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ছেলের কাছে খাবার চাওয়ার অপরাধে এক নরপিশাচ ছেলে তার জন্মধাত্রী মাকে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে। মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এক মা তাসলেমা খাতুন (৯৮) ক্ষুধার্ত অবস্থায় এক মুঠো খাবারের জন্য নিজ সন্তান বদিরউদ্দীন ও  সন্তানের বৌয়ের কাছে যান। কিন্তু খাবার পান নি। উপরন্তু খাবার চাওয়ার অপরাধে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এ সময় বৃদ্ধ মাকে ছেলে মারপিট করে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

গ্রামবাসী বৃদ্ধ আহত তাসলেমা খাতুনকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে হরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

গ্রামবাসীরা জানান, ডাঙ্গীপাড়া এলাকার মৃত সফিরউদ্দীনের স্ত্রী বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন। স্বামী মারা যায় ৩০ বছর আগে। মারা যাওয়ার সময় তার স্বামী দুই ছেলে দুই মেয়ে রেখে যায় এবং দুই ছেলের নামে ৩ একর ৩০ শতাংশ জমি দিয়ে যায়।

বড় ছেলের ছেলে (নাতি) ভুল বুঝিয়ে বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুনের কাছ থেকে জমিগুলো দলিল করে নেয়। বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন চোখে ঠিক মতো দেখেন না, কানে তেমন শোনেন না কথাও ঠিকমতো বলতে পারেন না বয়সের ভারে। এই অবস্থায় তাকে প্রায় নির্যাতন করতো বৃদ্ধের ছেলে ও বউমা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন ক্ষুধার্ত ছিলেন। তখন তিনি বড় বউমার কাছে ভাত চাইতে গেলে গালিগালাজ শুরু করে বৌমা। পরে ছেলে বদিরউদ্দীন ভাত চাওয়ার জন্য বৃদ্ধা মায়ের মুখে আঘাত করে। ঘটনাস্থলে বৃদ্ধা মায়ের বাম চোখের নিচের অংশ রক্তাক্ত হয়ে যায়। পরে ছেলে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় নিজ মাকে।

এই বিষয়ে বৃদ্ধা মায়ের ছোট ছেলে হরিপুর উপজেলা শাখার বিআরডিবির কর্মচারী মোসলেমউদ্দীন (সুধু) মুঠো ফোনে বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। এভাবে মাকে মারধোর করা ঠিক হয়নি।

হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

থানায় অভিযোগ দেওয়ায় পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে থানায় অভিয়োগ দায়েরের জেরে রাজধানীর বনানীর একটি বস্তিতে এক পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষিতা পোশাক শ্রমিক বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।

ধর্ষিতার খালাতো বোন জানান, কয়েকদিন আগে থেকে বনানী এলাকার জুনায়েদসহ কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এই ঘটনায় গত দুই দিন আগে বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করে সে। থানায় অভিযোগের কথা জানতে পেরে শনিবার রাতে জুনায়েদ, সোহাগ, রাকিব ও নায়েব আলী বনানীর বস্তিতে তার নিজের ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে রবিবার সকালে বস্তির লোকজন টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েটি বর্তমানে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গঙ্গাচড়ায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, থানায় মামলা
                                  

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় লাল মিয়া (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের উত্তর কোলকোন্দ গ্রামে।

এলাকাবাসী, প্রত্যদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারী ঘটিত ঘটনার জের ধরে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্য হোদা মিয়ার পুত্র মিল্টনের সাথে পার্শ্ববর্তী আলেকিশামত গ্রামের অপি মিয়ার পুত্র সাফিনুরের কয়েকদিন আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মিমাংসার জন্য গত বুধবার রাতে জনৈক শহির আলীর বাড়িতে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সালিশী বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের ছেলেকে শাসানোর জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সালিশী বৈঠক শেষ হওয়ার মুহুর্তে অতর্কিত ভাবে অপি মিয়ার লোকজন লাল মিয়ার উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এতে লাল মিয়া গুরুতর আহত হলে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ওই রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১টার দিকে লাল মিয়া মারা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ইউ.পি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সালিশে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড় ভাই ইউ.পি সদস্য হোদা মিয়া। তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একটি সূত্র জানায়, নিহত লালের বুকের ডান পার্শ্বে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সোহবার আলী রাজু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়। তাকে হয়রানি করার জন্য এ ষড়যন্ত্র চলছে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানা ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে লাবলু মিয়া বাদী হয়ে শাফিনুরসহ ১২ জনকে আসামী করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও বলেন লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিষয়টি জানা যাবে।

কোটালীপাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা
                                  

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ধরে গনধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সপর্দ করেছে এক যুবককে।

ঘটনার বিবরনে জানা গেছে আজ সকাল ৮টায় কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (বালিয়াভাঙ্গা হাইস্কুল) এর ৮ম শ্রেণির ছাত্রী বালিয়াভাঙ্গা নওশের মুন্সির বাড়ী হতে প্রাইভেট পড়ে বাড়ীর যাবার পথে উপজেলার সিতাইকুন্ড গ্রামে মোতালেব শেখের লম্পট ছেলে তাওহিদ শেখ (২৩) মুখে টেপ লাগিয়ে, ব্যাটারী চালিত ভ্যানে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় উনশিয়া মোড়ে গেলে জনতার সন্দেহ হলে অপহরণকারী তাওহিদকে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সপর্দ করে জনতা। পরে ওই ছাত্রীকে কোটালীপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোস্তাফিজ বলেন, ঘটনা সত্যতা পেয়েছি, মামলার  প্রস্তুতি চলছে।

রাজধানীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: রাজধানীর শ্যামপুরে এক প্রতিবন্ধী (১৩) কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করেছে। ধৃত ধর্ষকের নাম মীর সেলিম (৫০)। ধর্ষণের ঘটনাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটলেও পারিবারিক সূত্রে আজ বুধবার জানা গেছে।  

আজ দুপুরে ওই কিশোরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে শ্যামপুর থানা পুলিশ।  

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী তার পরিবারের সঙ্গে শ্যামপুর এলাকায় বসবাস করে।  

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সেলিম তাদের বাসায় গিয়ে ওই কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করে কিশোরীর পরিবার।  এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে সেলিমকে গ্রেফতার করা হয় বলেও জানান ওসি।


   Page 1 of 2
     মানবাধিকার
ফেব্রুয়ারিতে ৪৮ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার
.............................................................................................
অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নারী চিকিৎসককে গণধর্ষণ
.............................................................................................
৫ সন্তানের জনকের ঠাই হল রাস্তায়
.............................................................................................
গাজীপুরে শিশু ধর্ষণ, আ.লীগ নেতার বাধায় মামলা দিতে পারছে না পরিবার
.............................................................................................
রংপুরে ডিবির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ
.............................................................................................
যশোরে মামলা তুলে না নেওয়ায় শিক্ষককে গাছে বেধে নির্যাতন
.............................................................................................
ডিমলার প্রতিবন্ধি ফিরোজ বাঁচতে চায়
.............................................................................................
বড়লোকের ছেলে সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লাগাতার ধর্ষণ
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার, মামলায় গ্রাম্য মাতব্বরদের বাধা
.............................................................................................
ঘরে ঢুকে অসহায় কিশোরীকে ধর্ষণ, আটক ১
.............................................................................................
পালিত মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে বাবা
.............................................................................................
ছেলের প্রহারে হাসপাতালে মা
.............................................................................................
থানায় অভিযোগ দেওয়ায় পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণ
.............................................................................................
গঙ্গাচড়ায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, থানায় মামলা
.............................................................................................
কোটালীপাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা
.............................................................................................
রাজধানীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ
.............................................................................................
রাজধানীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা
.............................................................................................
৫ বছরের শিশুর ধর্ষিত, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আটক
.............................................................................................
লালমনিরহাটে চকলেটের লোভ দেখিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ
.............................................................................................
মেহেরপুরে ৫ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা
.............................................................................................
মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন
.............................................................................................
খালেদা, তারেককে দায়ী করলেন শামসুদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে
.............................................................................................
সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ‘তৎপর’ নয় বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্র
.............................................................................................
নীলাদ্রির শরীরে ১৪টি কোপের চিহ্ন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft