মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বহুল প্রত্যাশিত ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইশতেহারে ১৪ প্রতিশ্রুতি ও ৩৫ অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু চমকও রাখা হয়েছে। এতে ক্ষমতায় গেলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি-গণফোরাম-জেএসডি-নাগরিক ঐক্য-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলে ইশতেহার ঘোষণায় বলা হয়েছে।

যেসব অঙ্গীকার দেয়া হয়েছে-
ইশতেহারে ৩৫টি অঙ্গীকারের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেনের পক্ষে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে আছে-

ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে;

নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেয়া। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে মুক্তভাবে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা;

সংসদ হবে দুই কক্ষের। উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ সৃষ্টি করা হবে;

সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে (ফ্লোর ক্রসিং) পরিবর্তন আনা হবে;

সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী;

রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে;

মিথ্যা মামলায় সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমাণ না হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে;

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে। বর্তমান সরকারের আমলের দুর্নীতি তদন্ত করে তার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে;

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা;

কর্মক্ষেত্রে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর ওপর বাচিক কিংবা শারীরিক যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স;

জাতীয় ঐক্য গড়া, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানসহ ঐক্যফ্রন্টের ১৪ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন ড. কামাল হোসেন।

এর আগে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে উঠেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এর পর শুরু হয় ইশতেহার ঘোষণা।

ইশতেহারের শুরুতে বলা হয়েছে-একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে।

বলা হয়, দেশের সব নাগরিকের কল্যাণে সরকার পরিচালনা করবে ঐক্যফ্রন্ট। এ পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐকমত্য। সবার অন্তর্ভুক্তি (অন্তর্ভুক্তি) ও যে কোনো রকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা।

বলা হয়- ‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত এ নীতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা করা হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের হাতে দেয়া হবে।

ইশতেহার ঘোষণার আগে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সূচনা বক্তব্য দেন। তার পক্ষে ইশতেহার পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

এর আগে জোটের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ইশতেহার ঘোষণার কথা বললেও পরে তা স্থগিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

ইশতেহার তৈরির জন্য ঐক্যফ্রন্ট ৬ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে রাখা হয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বহুল প্রত্যাশিত ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইশতেহারে ১৪ প্রতিশ্রুতি ও ৩৫ অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু চমকও রাখা হয়েছে। এতে ক্ষমতায় গেলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি-গণফোরাম-জেএসডি-নাগরিক ঐক্য-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলে ইশতেহার ঘোষণায় বলা হয়েছে।

যেসব অঙ্গীকার দেয়া হয়েছে-
ইশতেহারে ৩৫টি অঙ্গীকারের ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেনের পক্ষে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে আছে-

ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে;

নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেয়া। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে মুক্তভাবে মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা;

সংসদ হবে দুই কক্ষের। উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ সৃষ্টি করা হবে;

সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে (ফ্লোর ক্রসিং) পরিবর্তন আনা হবে;

সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী;

রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে;

মিথ্যা মামলায় সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমাণ না হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে;

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে। বর্তমান সরকারের আমলের দুর্নীতি তদন্ত করে তার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে;

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা;

কর্মক্ষেত্রে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর ওপর বাচিক কিংবা শারীরিক যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স;

জাতীয় ঐক্য গড়া, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানসহ ঐক্যফ্রন্টের ১৪ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন ড. কামাল হোসেন।

এর আগে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে উঠেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এর পর শুরু হয় ইশতেহার ঘোষণা।

ইশতেহারের শুরুতে বলা হয়েছে-একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে।

বলা হয়, দেশের সব নাগরিকের কল্যাণে সরকার পরিচালনা করবে ঐক্যফ্রন্ট। এ পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐকমত্য। সবার অন্তর্ভুক্তি (অন্তর্ভুক্তি) ও যে কোনো রকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা।

বলা হয়- ‘প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত এ নীতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা করা হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের হাতে দেয়া হবে।

ইশতেহার ঘোষণার আগে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সূচনা বক্তব্য দেন। তার পক্ষে ইশতেহার পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

এর আগে জোটের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ইশতেহার ঘোষণার কথা বললেও পরে তা স্থগিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

ইশতেহার তৈরির জন্য ঐক্যফ্রন্ট ৬ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে রাখা হয়।

খালেদা জিয়ার আপিলের সিদ্ধান্ত বিকালে
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: প্রার্থিতা ফেরত পেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি করলেও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্ব পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার তিনটি পৃথক আপিল একইসঙ্গে শুনানি করে কমিশন। পরে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না দিয়ে ইসি এটিকে পেন্ডিং করে। আজ শনিবার বিকাল ৫টায় আবারও শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে কমিশন থেকে জানানো হয়।
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার জমা দেওয়া ফেনী-১ এবং বগুড়া ৬ ও ৭ এই তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ একই হওয়ায় কমিশন একইসঙ্গে শুনানি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে দুপুর ১২ টা ৩৮ মিনিটে শুরু হয়ে ২২ মিনিট চলে শুনানি। শুনানির সময় সিইসি নূরুল হুদা খালেদার আইনজীবীকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরতে বলেন।
নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামও বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় জানতে চান আইনজীবীর কাছে। শুনানি শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে রায় পরে জানানো হবে।
তিনি বলেন, ৩৮৫, ৪৭৮ ও ৪৪০ আপিল আবেদন পেন্ডিং রাখা হল। কমিশন পুনর্বিবেচনা করে শুনানি গ্রহণ করে বিকাল ৫টায় রায় দেবে। ইসির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে, কারাবন্দি খালেদা জিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না।
তবে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ মনোভাব দেখালে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন খালেদা জিয়া এমনটা আশা করছেন তার আইনজীবীরা।
খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা হয়।
তবে তিনি দণ্ডিত হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন।
গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার মতোই মামলার কারণে বিএনপির চারজন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও যশোরের সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আপিল করেও তারা প্রার্থিতা ফেরত পাননি।

এলাকায় যাচ্ছে নির্বাচন সামগ্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যালট পেপার ছাপানো বাদে সব নির্বাচন সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে ভোটগ্রহণের এসব সামগ্রী। প্রথমদিনে যাচ্ছে ৩২টি জেলার সামগ্রী, বাকি জেলাগুলোতে  রবিবার (৯ ডিসেম্বর) পাঠানো হবে। আর  ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানান, যেসব  নির্বাচনি সামগ্রী প্রস্তুত হয়েছে আমরা তা বিতরণ শুরু করেছি। অনেকগুলো জেলায় ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
ব্যালট পেপার পাঠনো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যালট পেপার ছাপানোর সময় এখনও আসেনি। প্রতীক বরাদ্দের পর কোন আসনে কতজন প্রার্থী থাকবে, সেটা চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যালট পেপার ছাপানো শুরু হবে। এরপর সেটা পর্যায়ক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে।’
জানা গেছে,  শনিবার সকাল থেকে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের অধীনস্ত ৩২ জেলায় নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এরমধ্যে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র, নির্দেশিকা, ফরম ও প্যাকেট গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, নির্বাচনি সামগ্রী যেমন—স্টাম্প প্যাড, অফিসিয়িাল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, লাল গালা, অমোচনীয় কালির কলম, ব্যাগ, চার্জার লাইট, ক্যালকুলেটর, স্টেপলার মেশিন ও স্টেপলার পিন ইত্যাদি নির্বাচন ভবনের গোডাউন থেকে বেলা একটার মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব কিছুই প্রস্তুত করা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরের দিন ব্যালট পেপার মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে। ব্যালটে সবার নাম পৃথকভাবে উল্লেখ থাকবে, তাই এগুলো মুদ্রণে একটু সময় লাগবে। তবে ভোটগ্রহণের সাতদিন আগে থেকে সেগুলো নির্বাচনি এলাকায় পাঠানো শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

আজ শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা
                                  

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাচাই-বাছাইয়ে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, আজ শনিবার তাদের আপিল-নিষ্পত্তির শেষ দিন। আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা তারা হলেন- গণফোরামের নাঈম জাহাঙ্গীর (জামালপুর-৩), খেলাফত মজলিশের আব্দুল কাইয়ুম খান (নেত্রকোণা-১), একে এম লুৎফর রহমান (ময়মনসিংহ-১), চৌধুরী মোহাম্মদ ইসহাক (ময়মনসিংহ-৬), শাহ মফিজ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মোরশেদ সিদ্দিকী (চট্টগ্রাম-৯), বিএনপির এম মোরশেদ খান (চট্টগ্রাম-৮), বিএনপির জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন (চাঁদপুর-৪)।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টা থেকে বাকি ২৩৩ জনের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।
সূত্র আরো জানায়, এর আগের দুই দিনের আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফেরত পান ১৫৮ জন। আর বাতিল বা খারিজ হয়ছে ১৪১ জনের আপিল।

উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গতকাল উৎসবমুখর পরিবেশে লোকে-লোকারণ্য ছিল সারা দেশের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়। নির্বাচনে অংশগ্রনেচ্ছু প্রার্থী, সমর্থক এবং উৎসুক মানুষের ভীড়ে অফিস এবং আশপাশের সড়কে সারাদিন উপচেপড়া ভীড় দেখা গেছে।

রাজধানীতে সেন্ট্রাল ঢাকার সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গতকাল সকাল ৯টায় মনোনয়পত্র নেওয়া শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকসহ ভীড় করে সেগুন বাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার অফিসে। বিপুল জনসমাগমে সরগরম হয়ে ওঠে কমিশনার বিল্ডিং এলাকা। ঢাকা মহাগরীর ১৫টি আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ৫ থেকে ৭ জনের বেশি কর্মী-সমর্থক সঙ্গে না আনতে ইসির পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানেননি।

বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়পত্র জমা দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তার আগে বিএনপির সাইফুল আলম নিরব প্রতিনিধির মাধ্যমে এবং আনোয়ারুজ্জামান নিজে উপস্থিত হয়ে ঢাকা-১২ আসনের জন্য মনোনয়পত্র জমা দেন।

বিএনপি এ আসনে নিরবকেই মনোনয়ন দিয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহারা খাতুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে তিনি ‘শতভাগ আশাবাদী’। বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেক খান এবং বিএনপির আবদুস সালাম মনোনয়পত্র জমা দেন। এ আসনে সালামের সঙ্গে আতাউর রহমান ঢালীকেও মনোনয়নের প্রত্যয়ন দিয়ে রেখেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আসলামুল হক ঢাকা-১৪, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ঢাকা-১৬, একেএম রহমউল্লাহ ঢাকা-১১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

ঢাকা-১০ আসনের বর্তমান সাংসদ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, সারাদেশে নির্বাচনের উৎসব মুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি আশা করি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নষ্ট হওয়ার মত কোনো কাজ সরকার করবে না।

বর্তমান এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানককে ডিঙিয়ে ঢাকা-১৩ আসনের মনোনয়ন পাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে আমি রাজপথে ছিলাম। এ কারণে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণ আজ নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ, নৌকাকে বিজয়ী করতে জনগণ মাঠে নেমেছে।

একই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। আমার নির্বাচনী এলাকা মোহাম্মদপুর, আদাবরে আমার আর কোনো কর্মীকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে সালাম বলেন, তিনি যেন মুক্তি পেয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারেন। আমরাও মানুষের কাছে বলব, আপনার একটি ভোটে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে।

মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে নৌকার প্রার্থী সাদেক খানের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে সালাম বলেন, আমি উনাকে বলেছি, নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির স্বার্থে প্রয়োজনে আমরা এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে যার যার দলের পক্ষে ভোট চাইব।
আব্দুস সালাম ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ঢাকা-১৭ আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

গতকাল সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজমের দফতরে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন,‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো লক্ষণই নেই। একের পর এক বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ হয়তো চাচ্ছে আমরা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে চলে আসি। কিন্তু আমরা শেষবিন্দু পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকতে চাই। সরকার যতই হুমকি দেখাক না কেন বিএনপি নির্বাচনী মাঠে থাকবে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা নেয়া শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম বলেছেন, রিটার্নিং অফিসাররা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। আমরা শুধু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানবো। কমিশনের নির্দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে আমাদের ১৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটের ১৫ টিম এবং সিটি কর্পোরেশনের ২টি টিম মাঠে কাজ করছে। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তারা একেকজন অনেক সমর্থক নিয়ে কার্যালয়ে এসে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। বিশেষ করে সরকারদলীয় প্রার্থীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আজম বলেন, আমি যেহেতু আমার রুমের বাইরে যেতে পারিনি, বাইরের অবস্থা বলতে পারবো না। কিন্তু আমার রুমে যারা এসেছেন আমার মনে হয়েছে তাদের সমর্থক ৫-৭ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ঢাকা ও রংপুরে এরশাদের মনোনয়ন দাখিল : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে ঢাকা-১৭ এবং রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। দুপুরে স্ব-স্ব এলাকায় তার প্রতিনিধিরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস.এম. ফয়সল চিশতী। তিনি আরও জানান, বেলা ১২টার দিকে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রংপুর-৩ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙা। এছাড়া ময়মনসিংহ-৪ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ। লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বদিকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন স্ত্রী শাহিনা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিতর্কিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিনা আক্তার চৌধুরী। স্বামী আবদুর রহমান বদিকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল দুপুরে কক্সবাজারের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন শাহিনা আক্তার। এ সময় শাহিনার সঙ্গে আবদুর রহমান বদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী ও জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল প্রমুখ। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে নানা বিতর্কের জন্ম দেন এমপি আবদুর রহমান বদি। এসব বিতর্কের কারণে এবার আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পাননি তিনি। এবার কক্সবাজার-৪ আসনের জন্য দলের ২২ জন নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুরও ছিলেন।

খোকাসহ চারজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিং ইজারা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে একই মামলায় অপর তিন আসামিকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাদেক হোসেন খোকাকে ২০ লাখ টাকা ও অপর তিন আসামিকে দশ লাখ করে টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে অপর একটি মামলায় সাদেক হোসেন খোকার কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন।

মামলার অপর তিন আসামি এ মামলায় জামিনে ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তারা হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

মামলার অপর তিন আসামি হলেন, বনানীর ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন নকি, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও গুডলার্ক কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থাপক এইচ এম তারেক।

গত ১২ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ওইদিন রায় প্রস্তুত করা সম্ভব না হওয়ায় তা পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ধার্য করা হয়।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সের বেজমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালের দরপত্র আহ্বান করেন। অংশগ্রহণ করা ৪টি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা অপরাপর আসামিদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সাল হতে ফেব্রুয়ারি ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতি করেছেন।

এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলাটিতে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় সাদেক হোসেন খোকাকে পৃথক ধারায় ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালত। একইসঙ্গে ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও সাত মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে সাদেক হোসেনের ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা করার নির্দেশ দেন আদালত।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোার্ট : একাদশ জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি)। এ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়েও তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ডেমোক্রেসি সাপোর্ট ও ইলেকশন কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।  

বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে না। ফলে নির্বাচনের প্রক্রিয়া বা পরবর্তী ফলাফল নিয়েও কোনো মন্তব্য করবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনও বাংলাদেশে যাবে না।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলছে, তাদের কোনো সদস্যকে ইপির পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা বা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সুতরাং আমাদের কোনো সদস্য যদি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন, তবে তা কোনোভাবেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাষ্য হবে না।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ নিয়ে গৃহীত এক প্রস্তাবে নির্বাচনের বিষয়ে এ সংস্থার অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচন ‘শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছতার সঙ্গে’ হবে বলে আশা প্রকাশ করে সেখানে সব রাজনৈতিক পক্ষকে ‘সহিংসতা ও উসকানির পথ’ পরিহারের আহ্বান জানানো হয়।

গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, নির্বাচন হতে হবে এমনভাবে যাতে ‘জনগণের ইচ্ছার’ যথার্থ প্রতিফলন ঘটে।

আসনের ফয়সালা হয়নি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আসন বন্টনের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। গতকাল আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বৈঠক শেষে ড. কামাল হোসেন বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে এখন জোটগতভাবে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। আপাতত দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। তবে আসন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা জোটগতভাবে হচ্ছে না। আলাদা আলাদা হচ্ছে। পরে বসে এগুলোকে সমন্বয় করা যাবে। তিনি আরও বলেন, সময়স্বল্পতার জন্য এখন দলীয়ভাবে হচ্ছে। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশন ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঐক্যফ্রন্ট মেনে নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, না মেনে নিলে কী করা যাবে? সংসদ নির্বাচন তো এ কারণে আমরা বাদ দেব না। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অসুস্থতার কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করবেন না।

ফখরুল বলেন, আপাতত জোটগতভাবে নয়, দলীয়ভাবে মনোনয়ন জমা দেবেন ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। পরে আলোচনা সাপেক্ষে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করে বাকিদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন ফখরুল। আসন বণ্টন নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর সাথে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, জোটের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইশতেহারে দলগুলোর যাতে সামঞ্জস্য থাকে সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে এত কথা বলার পরেও কমিশন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি রাখেনি, এটা দুঃখজনক। কমিশনের একজনের আত্মীয় নির্বাচন করছে, যা সন্দেহের উদ্রেক (প্রথম পৃষ্ঠার পর) করছে।

অপরদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল এবং নতুন মিত্র ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের ৬০টির বেশি আসন দেয়া হবে না । তিনি বলেন, শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

‘নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে বিচারিক আদালতে কোনো ব্যক্তির দুই বছর বা তার বেশি মেয়াদে সাজা হলে ওই দ-ের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না’- হাইকোর্টের এমন আদেশে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে প্রতিহত করার জন্যই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। সরকার আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন থেকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে প্রতিহত করতে চায়।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দ্বিতীয় দিনের মত ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে বিএনপি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে গত সোমবার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি বিভাগের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যয়নের চিঠি দেওয়ার পর গতকাল দুপুরের দিকে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

যাদের মনোনয়নের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত প্রার্থী এবং পুরনো নেতাদেরই প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। জরুরি অবস্থার সময় সংস্কারপন্থী পরিচিতি পেয়ে যারা দলের মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়েছিলেন, তাদেরও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ২০০১-২০১৮ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণে বিতর্কিতরাও মনোনয়ন পাচ্ছেন। অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অধিকাংশ আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। মারা গেছেন এমন নেতাদের আসনে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যায়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।

৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। আর ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাহার করা যাবে। আগের দিনের মত গতকালও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রত্যায়নের চিঠি নিতে গুলশান কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় এই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রত্যায়নের চিঠি ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, ফরিদপুর বিভাগের কেউ কেউ চিঠি নিয়ে গেছেন। গতকাল ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও ঢাকা অঞ্চলের প্রার্থীদের প্রত্যায়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা দাখিলের শেষ দিন আজ বুধবার। বিকাল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং তা পূরণ করে জমা দেয়া যাবে। সরাসরি ছাড়াও এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়া যাবে।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ  বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালন করতে হবে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনও ধরনের শোডাউন করা যাবে না।

ইসি’র পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় সাত জনের বেশি লোক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভিড় করতে পারবেন না। প্রার্থীদের পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের অনুকূলে এই টাকা জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা ইউনিয়নভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি প্রতিটি ৫শ’ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবেন।

আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে কোনও প্রার্থী জনসভা, মিছিল, মিটিং করতে পারবেন না। কেবল পথসভা করতে পারবেন। প্রার্থীদের পোস্টার হতে হবে সাদাকালো। প্রতিটি পোস্টারের নিচে পোস্টারের সংখ্যা, প্রেসের ঠিকানা, প্রকাশকের নাম দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ বিধি মানা না হলে সেসব পোস্টার নির্বাচন কমিশনের কাছে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। পোস্টারের সাইজ হতে হবে সর্বোচ্চ ২৩ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটার ছাড়া কাউকে পোলিং এজেন্ট করা যাবে না। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে পোলিং এজেন্টদের দুই কপি ছবি এবং নামের তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামা আকারে আটটি তথ্য দিতে হবে। ব্যয়ের উৎসের বিবরণী, আয়কর রিটার্নের কপি জমা দিতে হবে। মনোনয়ন ফরমে কোনও ভুল হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীকে সতর্কতার সঙ্গে মনোনয়নপত্র পূরণ করতে হবে। মনোনয়ন দাখিলের আগে প্রার্থীকে অবশ্যই যে কোনও তফসিলি ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনের সমুদয় ব্যয় এ অ্যাকাউন্ট থেকেই করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের নম্বর, ব্যাংক ও শাখার নাম মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করতে হবে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং অফিসার এবং কমিশনে জমা দিতে হবে। এছাড়া, ব্যক্তিগত খরচের হিসাব ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে হবে।

কোনও প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। লিখিত ছাড়া কোনও এজেন্টের অভিযোগ কমিশন আমলে নেবে না। কোনও ভোটার ব্যালট পেপার ব্যালট বাক্সে না ফেলে বাইরে নিয়ে এলে কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া, অন্য কোননোভাবে কোনও ব্যালট পেপার বাইরে চলে এলে ওই ব্যালট পেপার যে প্রদর্শন করবেন, কমিশন তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী: সিইসি
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর জেলায় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর টিম থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তবে এ টিম ছোট হবে বলেও জানান তিনি। এজন্য তাদের সঙ্গে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় তিনি একথা জানান।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বিতীয় দফা বৈঠক ডাকা হবে।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর একটি ছোট টিম আপনাদের সঙ্গে দেখা করবে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রতি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম থাকবে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।

সিইসি বলেন, বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা আমাদের কাছে একটি তালিকা পাঠিয়েছেন। আমরা দেখেছি, যেমন মনে করেন, আমার কাছে প্রথম দিন তারা প্রায় চার-পাঁচ হাজার লোকের একটি তালিকা পাঠিয়েছেন। সেই মোকদ্দমাগুলো ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ ও ২০১৫ সালের, যা তফসিলের আগে।

প্রত্যেক দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী-মাস্তান, সে যে দলের হোক না কেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই থাক না কেন, সেটি কোনো ব্যাপার নয়। যদি এমন থেকে থাকে, তবে তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করবেন।

তিনি বলেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলে মামলা নেয়ার দরকার নেই, তাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। যেন তারা কোনো রকম সংগঠিত হতে না পারে, নির্বাচন ভণ্ডুল করতে যাতে তারা কোনো প্রস্তুতি নিতে না পারে।

পক্ষপাতিত্ব করলে শাস্তির ব্যবস্থা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যা যা করা প্রয়োজন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোট নিয়ে আজ শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শাহাদত বলেন, এই নির্বাচন ও সকল নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, আপনারা প্রত্যেকে দল-মত নির্বিশেষে আপনারা আপনাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন।

তিনি বলেন, আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো রকমের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া যায়, সেটা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এবার নিবন্ধিত দলের বাইরেও অনেক অনিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এতে আমরা আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মসূচির অধীনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার ও ইএমএস, সিআইএমএস ও আরএমএস সফটওয়্যার বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

নির্বাচন পেছাবে না, ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন: ইসি
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: সংসদ নির্বাচন এক মাস পেছানোর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে ইসি। আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের আলোচনার পর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, “জানুয়ারিতে আইনি ও সাংবিধানিক কিছু বিষয় রয়েছে। ঐক্যফ্যন্টের দাবির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের ভোট পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এবং চার নির্বাচন কমিশনার বৃহস্পতিবার সকালে ওই বৈঠকে অংশ নেন বলে জানান সচিব।
নির্বাচন কমিশন প্রথম দফার তফসিলে ২৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ঠিক করলেও নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট।
এরপর ইসি নির্বাচন পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ঠিক করে পুনঃতফসিল দিলেও তাতে আপত্তি জানায় বিএনপি ও তাদের শরিকরা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এড়িয়ে ‘ভোট চুরির’ নির্বাচন করতেই নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে নির্বাচন আরও পেছানোর দাবি নাকচ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সেদিন সাফ জানিয়ে দেন, ভোটের তারিখ ৩০ ডিসেম্বরের পরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এরপর ঐক্যফ্রন্ট বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত জানায়। জোটের প্রতিনিধিরা বুধবার বিকালে প্রায় দুই ঘণ্টা আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট। নির্বাচন চলাকালে কমিশনের সহোযোগিতা পাবেন বলেই তারা আশা করছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমি সামগ্রিকভাবে একটা কথা বলি, আমাদের নির্বাচনে থাকা না থাকা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণের ওপর।”
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার সন্ধ্যায় কমিশনে গিয়ে জানিয়ে আসে, ভোট এক ঘণ্টাও পেছানো যাবে না।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। ভোট হবে ৩০ ডিসেম্বর।
নির্বাচন না পেছানোর যুক্তি তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, “জানুয়ারিতে ইসির অনেক সাংবিধানিক দায়িত্ব আছে। যথেষ্ট সময় নিয়ে করতে হবে এগুলো। ভোটের গেজেট প্রকাশ, শূন্য আসনে উপ নির্বাচন, স্থগিত কেন্দ্রে তদন্ত, পুনঃভোট ও তার গেজেট প্রকাশ, সাংসদদের শপথ- এসব রয়েছে।”
তাছাড়া জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমায় ৩০-৪০ লাখ লোকের জমায়েত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যস্ত থাকতে হবে বলেও যুক্তি দেন তিনি।
হেলালুদ্দীন বলেন, “সব দিক বিবেচনা করে ৩০ ডিসেম্বরের পরে ভোট পেছানো যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবসম্মত নয় বলে কমিশন মনে করে।”
নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে- ঐক্যফ্রন্টের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ইসি সচিব বলেন, “কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কমিশন নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। অন্য কারো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তবে স্টেক হোল্ডার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে থাকেন।”
ইসি সচিবের সঙ্গে যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান ও খোন্দকার মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সেনা মোতায়েন ভোটের সপ্তাহ থেকে দশদিন আগে: ইসি সচিব
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: জাতীয় সংসদ নির্বচনের এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন আগে সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, “নির্বাচনের এক সপ্তাহ বা দশ দিন আগে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা থাকতে হবে, সে অনুযায়ী আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”

এ সময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসি সচিব বলেন, কোথায় প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেটা এখন থেকে ঠিক করে রাখতে হবে। এবং যেখান থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এখন থেকে ঠিক করে রাখতে রাখতে হবে। আর কোথায় থেকে নির্বাচনী মালামাল সরবরাহ করা হবে। সেখানে নিরাপত্তা যোরদার এখন থেকেই করতে হবে বলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন ইসি সচিব।

 

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে ফেলাসহ মাঠের পরিবেশের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ইসি সচিব।

এ সময় তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাহসিকতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার


বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে এলেও নির্বাচন কমিশন তাতে সাড়া দেয়নি।

গত ৮ নভেম্বর প্রথম দফা তফসিল ঘোষণার দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, এবার সেনা মোতায়েন হবে আগের মতোই। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না।

তিনি বলেন, “নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে যথা-প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”

৩০ ডিসেম্বর ভোট রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

ঐক্যবদ্ধ না হলে নেত্রীকে ‘বেটে খাওয়ালেও’ নির্বাচনে জেতা যাবে না
                                  

বিশেষ সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোন্দলের কারণে নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়ে সরকার গঠন করতে না পারলে দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দেবেন। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না হলে শেখ হাসিনাকে ‘বেটে খাওয়ালেও’ নির্বাচনে জেতা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
গতকাল সকালে গণভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী চার হাজার ২৩ জনের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার বক্তব্যে শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এতে জয়ের গুরুত্ব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামনে তুলে ধরেন। নৌকাকে বিজয়ী করতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অনেক প্রার্থী আছে। অনেক জায়গায় প্রার্থীর ভোট আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের ভোট কম। আবার অনেক জায়গা আছে যেখানে আওয়ামী লীগের ভোট আছে, কিন্তু প্রার্থীর ভোট কম। আমাদের সেই প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে যে জিততে পারবে। কিন্তু এমন যদি হয়, একজনকে প্রার্থী দিলাম আর ১৫ জন মিলে বললেন, আয়, এবার একটা শিক্ষা দেব। তাহলে কিন্তু হবে না। তখন কী হবে? আমরা সরকার গঠন করতে পারব না। আসবে কারা? এটা নিয়ে সন্দেহ আছে? তাদের আসতে দেবেন?’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘যারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত, যারা খুনি, তারা যদি ক্ষমতায় আসে তবে দিন-রাত পরিশ্রম করে যা অর্জন করেছি সব শেষ হয়ে যাবে, সব শেষ হয়ে যাবে। আর তা যদি করেন তবে আমাকে আর পাবেন না। এটা আমি বলে দিচ্ছি। আমি আওয়ামী লীগের পদ ছেড়ে চলে যাব। বাংলাদেশকে কষ্ট করে উন্নয়নের এই জায়গায় নিয়ে এসেছি। ওরা ক্ষমতায় এসে এটা ধ্বংস করুক চাই না। এ জন্য সবাই কথা দিয়ে যান যাকে মনোনয়ন দেব, সবাই এক হয়ে তাকেই জেতাবেন। অনেকের মধ্যে ক্ষোভ আছে, রাগ আছে। জনগণের মধ্যে যার ভোট বেশি তাকেই মনোনয়ন দেব। যত বড় নেতাই হোক, জনগণের মধ্যে যদি ভোট না থাকে তবে তাকে মনোনয়ন দেব না। কিন্তু যাকেই দেব তাকে জিতিয়ে আনতে হবে।’

প্রতিটি সিটের মূল্য আছে
জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি আসনে জয়লাভ জরুরি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি সিটের মূল্য আছে। এটা সবার মনে রাখতে হবে। ১৯৯১ সালে, ২০০১ সালের কথা মনে করেন। অনেকেই ভেবে ছিল- উন্নয়ন করেছি, আমরা তো সিট পাবই। একটা সিট না পেলে কী হবে। এমনটা কিন্তু অনেকেই ভেবেছিল। মনে করে দেখেন। সেই রাজার পুকুরে দুধ ঢালার ঘটনার মতো। এবার সেই অবস্থার যেন সৃষ্টি না হয়। এটা মনে রাখবেন। কারণ পর পর আমরা দুইবার ক্ষমতায়। এটা আমাদের থার্ড টাইম। সব মিলিয়ে চারবার। সুতরাং প্রতিটি সিটকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের নাটাই তারেকের হাতে, নির্বাচন আর পেছানো যাবে না
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সংলাপ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, ‘আমি কিন্তু সবার সঙ্গে বসেছি। যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে তাদের সঙ্গেও কিন্তু বসেছি। কাউকে বাদ দেইনি। আমি আওয়ামী লীগ সভাপতি, জাতির পিতার কন্যা সে জন্য আমি সবার সঙ্গেই বসেছি। একুশে আগস্টের হত্যাকারী, জাতির পিতার খুনি সবার সঙ্গেই বসেছি। তাদের বলে দিয়েছি, নির্বাচনে আসেন শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। জোর করে ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা আমাদের নাই।’ তিনি বলেন, ‘তারা (ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছে নির্বাচন পেছানোর। কমিশন নির্বাচন পিছিয়েছে। তবে আমি বলব, আর কিন্তু নির্বাচন পেছানো যাবে না। কারণ এদের মতলব আমি বুঝতে পারছি না। এই ঐক্যফ্রন্ট ঘুড়ির মতো উড়ছে, নাটাই কিন্তু এদের হাতে নেই। নাটাই তারেক জিয়ার হাতে। একুশে আগস্টের সাজাপ্রাপ্ত, মানি লন্ডারিংয়ের সাজাপ্রাপ্ত তারেকের হাতেই কিন্তু এরা উড়ছে। এত বিলাসিতার সঙ্গে তারেক চলে কিভাবে? জিয়াউর রহমান তো ভাঙা স্যুটকেস ছাড়া আর কিছুই রেখে যান নাই। তাহলে এত বিলাসিতার জীবন আসে কোথা থেকে সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন।’

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের মনোনয়ন  দেওয়া হবে না
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদ, পৌর মেয়র, সিটি করপোরেশনে অনেককে মনোনয়ন দিয়েছি। তাঁরা ইতিমধ্যেই জিতেছেন। তাঁদের আর দরকার নেই।’

এত প্রার্থী তো নেতৃত্বের ব্যর্থতা
বিপুলসংখ্যক নেতার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অনেক আসনে ৫২টা, ২১টা, ১৫টা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ হয়েছে। খুব ভালো কথা। আমি খুব খুশি হয়েছি। না হলে দলের ফান্ডে এতগুলো টাকা জমত কিভাবে! ১১ কোটির বেশি টাকা জমা পড়েছে, খুব ভালো কথা, দলের লাভ হয়েছে। তবে এর খারাপ দিকটা আপনারা কি উপলব্ধি করতে পারেন? আমি যদি বলি, নেতৃত্বের ব্যর্থতা। আপনারা সবাই প্রার্থী হয়েছেন। একজন নেতৃত্ব দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারেন নাই বলেই তো এত প্রার্থী। আপনারা বলেন তো এত প্রার্থী, কার কী যোগ্যতা আছে, আমি কিভাবে হিসাব করব?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্যবার আমরা সবাইকে ডাকি, কথা বলি। কিন্তু এবার তো চার হাজার। আপনারাই বলেন, এত ক্যান্ডিডেটের সঙ্গে কি বসা সম্ভব? সবার সঙ্গে বসতে চাইলে তো দুই মাস লেগে যাবে। আগে ডেকেছি যাতে তারা মনের কথা বলতে পারে। কিন্তু এবারে এত প্রার্থী হওয়ায় সম্ভব হলো না।’

জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে
মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনোনয়ন তো আমরা এমনি এমনি দিই না। আমার কাছে সার্ভের রিপোর্ট আসে। প্রথম বছর থেকেই তো আমরা সার্ভে করছি। প্রত্যেক বছর সার্ভের রিপোর্ট আসছে। আমি সেগুলো দেখছি। এত কিছুর পর তো আমরা একজনকে বাছাই করছি। এরপর আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাড়া করে সার্ভে করেছি। এখনো করছি। গতকালও একটা রিপোর্ট এসেছে। অনেক কিছু বিবেচনা করেই আমরা মনোনয়ন দেব। আওয়ামী লীগে অনেক নেতাই যোগ্য। আমি কাউকে অযোগ্য বলি না। আমার দলের নেতাদের যদি আমি ভালো না বলি তবে অন্যরা বলবে না। কিন্তু সবাইকে মনোনয়ন দিতে পারব না। এক আসনে একজনকে দেব। আপনাদের মাথায় রাখতে হবে, অনেক কিছু হিসাব করেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। অমুক জনপ্রিয়, এটা মুখে বললেই হয় না। নির্বাচন একটা অঙ্কের মতো।’

জরিপের কাজের নমুনা বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সার্ভেতে অনেক কৌশল থাকে। যেমন—একজন এমপির জয়প্রিয়তা জানার জন্য কিছু প্রশ্ন করা হলো। এমপির নাম কী? এমপি কেমন? উত্তরে যদি নাম বলতে পারে তাহলে বোঝা যায় এমপিকে চেনে। কেউ উত্তরে বলল খুব ভালো, কেউ বলল মোটামুটি, কেউ বলল ভালো নয়, কেউ চুপ থাকল। এখন যারা চুপ থাকল, যারা ভালো না বলল, এদের যোগ করলেই তো বোঝা যায় আমার এমপির অবস্থা কেমন। এভাবেই তো বেরিয়ে আসে জনপ্রিয়তা কেমন। বিভিন্ন পেশার মানুষ, এক-দুইজন নয়, কয়েক হাজার হিসাব করে আমরা রিপোর্ট তৈরি করি। প্রতিদিন আমরা কাজ করছি। গতকালও রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছি। আমরা কষ্ট করছি। যে প্রার্থী দেব সেই প্রার্থী জিতবে যদি আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি। আর যদি বলেন, দেখি, প্রার্থী দিয়েছে, জিতুক। তাহলে তো জিতবে না। এটা হলো বাস্তব।’

রেহানা এখনো লন্ডনে বাসে অফিসে যায়
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা নিজের পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমার সন্তানদের আমি লেখাপড়া শিখিয়েছি। ওদের বলেছি, লেখাপড়াই তোমাদের সম্পদ। আমি অন্য কিছু দিয়ে যেতে পারব না। আমাদের জীবন মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ওদের ওভাবেই গড়ে তুলতে পেরেছি। আমি ও আমার বোনের পরিবারের সবাই এভাবেই গড়ে উঠেছে। রেহানা এখনো বাসে চড়ে লন্ডনে অফিসে যায়, ঘোরাফেরা করে। আমাকে তো অনেকেই দেখেছেন। ছাত্রজীবনেও দেখেছেন, এখনো দেখছেন। আমরা নিজেদের জন্য রাজনীতিতে আসিনি। দেশের মানুষের জন্য এসেছি। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার জন্য এসেছি। চেয়েছি আওয়ামী লীগ হবে বাংলাদেশে এক নম্বর পার্টি। আর কিছু চাইনি।’

এই নির্বাচন হলো তরুণ প্রজন্মের জন্য
তরুণসমাজকে আকৃষ্ট করার দিকে গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তরুণসমাজের বিশাল ভোট। তাদের কথা ভাবতে হবে। তারা কিন্তু হাতের মধ্যে একটা মোবাইল ফোন নিয়ে বিশ্বকে দেখে। তাদের কথা ভাবতে হবে। এটা অন্য কোনো দল করবে না। এটা আওয়ামী লীগ করবে। এই নির্বাচন হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের জন্য।’

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা বক্তব্য শেষ করেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতার কয়েকটি লাইন দিয়ে—‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান...এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন মামলা, গ্রেফতার ৬৫
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ও  পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে প্রধান আসামি করে বুধবার পল্টন থানায় এসব মামলা করা হয়।  এ পর্যন্ত মামলায় অন্তত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে দায়ের করা মামলাগুলোতে আব্বাস ছাড়াও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ‘অজ্ঞাত’ আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। পল্টন থানায় দায়ের করো মামলাগুলোর নম্বর হচ্ছে- ২১, ২২ ও ২৩।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হোসেন মামলা ও সকাল পর্যন্ত ৬৫ জন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট, হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলার, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সড়কে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্যেই বুধবার ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান নিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

অন্যদিকে, নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষিপ্ত মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। জ্বালিয়ে দেয়া পুলিশের পিকআপ ভ্যানটির নম্বর ২৩১১। পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গাড়িটি ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে।

পুরো ঘটনাকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে বিনা উসকানিতে তার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম  বলেছেন,  বিনা উসকানিতে কেবল ইস্যু তৈরির জন্য এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের  সংঘর্ষের ঘটনাকে নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপির পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

ফিরতে অনিচ্ছুক রোহিঙ্গারা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন আজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফায় উখিয়ার জামতলী ও টেকনাফের উনচিপ্রাং শরণার্থী শিবির থেকে ২২৬০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন ১৫০ জন করে ১৫ দিনে প্রথম ধাপের এই প্রত্যাবাসন শেষ হবে। প্রত্যাবাসন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যাম্প দুটিতে নিরাপত্তা জোরদারসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি নন রোহিঙ্গারা। এমনকি  প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকায় থাকা অনেক রোহিঙ্গা ঘর ছেড়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। বরাবরের মতোই রোহিঙ্গারা বলছেন, দেশে ফেরার আগেই নাগরিকত্বসহ তাদের নানা দাবি-দাওয়া পূরণ না করলে তারা কিছুতেই মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না। এদিকে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল বাশেলেট বলেছেন, রাখাইনে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে ফেরত পাঠানো হলে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ওই জনগোষ্ঠীর জীবন ফের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ ড. মো. শফিক উদ্দিন জানান, এই ক্যাম্প থেকে প্রথম দফায় ১২১ পরিবারের প্রায় পাঁচশো রোহিঙ্গার নাম তালিকায় রয়েছে। প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের ঘরে ঘরে গিয়ে বোঝানো হচ্ছে। ক্যাম্পের ইমাম, মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক, ব্লক উন্নয়ন কমিটির লোকজনকে নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হয়েছে। টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। শফিক উদ্দিন আরো বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বান্দবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম ও টেকনাফের কেরুনতলী সীমান্তে দুটি ট্রানজিট ক্যাম্পও তৈরি করা হয়েছে।
ক্যাম্পে কর্মরত একটি বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তালিকায় নাম আছে এটি জানার পর থেকেই রোহিঙ্গারা ঘর থেকে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘরে নতুন কোনো মানুষ যাচ্ছে দেখলেই তারা লুকিয়ে পড়েন। নানা দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের অজুহাতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তালিকায় নাম আছে জানিয়ে জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পের রহিম মোস্তফা (৫০) বলেন, আমরা সেখানে যাব না। আরাকানে যারা আছে তাদের এখনো নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি, এখন আমরা কিভাবে যাব? আগে তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেখাতে হবে। বার্মা এর আগেও আমাদের এনভিসি কার্ড দিয়েছে। এই কার্ডের বদলে নাগরিকত্ব কার্ড দিবে বললেও দেয়নি।
বুক চাপড়ে একই ক্যাম্পের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হাবিবা খাতুন বলেন, এখানে মারা গেলে কিছু না হলেও জানাজা পড়া যাবে, ওখানে জানাজাও পড়া যাবে না। অনেক নির্যাতনের পর আমরা এখানে তোমাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে আমাদের মেরে ফেললে মেরে ফেলো তবুও সেখানে যাব না।
মিয়ানমারের রাখাইনের বলিবাজার থেকে এসে আশ্রয় নেওয়া রহিম মোস্তফা বলেন, সেখানে নিয়ে গিয়ে আমাদের কাঁটাতারের বেড়ার ঘেরায় বন্দি করে রাখবে। আমাদের যদি বাড়ি-ঘর, ভিটে-মাটি ফিরিয়ে দিয়ে সেখানে নিয়ে যেত তাহলে যেতাম। এখন আমরা কোথায় যাব?
মিশেল বাশেলেট তার বিবৃতিতে বলেন, শরণার্থীদের বলপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে তা হবে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’। বাশেলেটের তার বিবৃতিতে কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা দুই রোহিঙ্গার আত্মহত্যা চেষ্টার কথা জানিয়ে বলেন,  আমরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মুখে দেখছি আতঙ্ক আর ভয়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তারা।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত নমুনা। সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়েছে, হয়ত গণহত্যাও।
বাশেলেট বলেন, যেখানে জবাবদিহিতার লেশমাত্র নেই, যেখানে সহিংসতা এখনও থামেনি, সেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর অর্থ হবে তাদের আবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের চক্রের মধ্যে ছুড়ে ফেলা। এই জনগোষ্ঠী দশকের পর দশক ধরে ওই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের খবর এখনও আসছে মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গুম আর গণগ্রেপ্তারের খবর। বাশেলেট জানান, এক লাখ ৩০ হাজারের মত রোহিঙ্গা এখন রাখাইনে সরকারি আশ্রয় শিবিরে আছে। বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য রেখায় আছে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা। এই জনগোষ্ঠী এখনরও চলাফেরা ও অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে তবেই রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার। এদিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে কূটনীতিকদের এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের হাই কমিশনার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।


   Page 1 of 237
     জাতীয়
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার আপিলের সিদ্ধান্ত বিকালে
.............................................................................................
এলাকায় যাচ্ছে নির্বাচন সামগ্রী
.............................................................................................
আজ শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা
.............................................................................................
উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিল
.............................................................................................
খোকাসহ চারজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
.............................................................................................
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
.............................................................................................
আসনের ফয়সালা হয়নি
.............................................................................................
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ
.............................................................................................
১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী: সিইসি
.............................................................................................
পক্ষপাতিত্ব করলে শাস্তির ব্যবস্থা
.............................................................................................
নির্বাচন পেছাবে না, ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন: ইসি
.............................................................................................
সেনা মোতায়েন ভোটের সপ্তাহ থেকে দশদিন আগে: ইসি সচিব
.............................................................................................
ঐক্যবদ্ধ না হলে নেত্রীকে ‘বেটে খাওয়ালেও’ নির্বাচনে জেতা যাবে না
.............................................................................................
নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন মামলা, গ্রেফতার ৬৫
.............................................................................................
ফিরতে অনিচ্ছুক রোহিঙ্গারা
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর ‘লেটস টক’ স্থগিত
.............................................................................................
আজ ইসিতে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট
.............................................................................................
ভােট চুরি করতেই ৩০ ডিসেম্বর তফসিল: বিএনপি
.............................................................................................
সুষ্ঠু নির্বাচন করে ইতিহাস সৃষ্টি করব: সিইসি
.............................................................................................
পুনঃতফসিল ঘোষণা, ভোট ৩০ ডিসেম্বর
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার ফরম কিনে বিএনপির মনোনয়ন বিক্রি শুরু
.............................................................................................
নির্বাচনে যাবে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট
.............................................................................................
পলিথিন আগ্রাসন
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন ও তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না
.............................................................................................
ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ খরচ ১০ টাকা
.............................................................................................
৩০ নভেম্বরের আগে নির্বাচনী প্রচারনা নয়
.............................................................................................
কারা-আদালতে খালেদা জিয়া
.............................................................................................
আজ সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা
.............................................................................................
সংলাপে দু’পক্ষই অনড়
.............................................................................................
রাজনৈতিক সমঝোতার আপ্রাণ চেষ্টা
.............................................................................................
সংলাপে অংশ নিতে গণভবনের পথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
.............................................................................................
তফসিল পেছানোর সুযোগ নেই, তবে…
.............................................................................................
সংলাপের রেজাল্ট দেবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সংসদ প্লাজায় তরিকুলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
২০-২৭ ডিসেম্বর মধ্যে নির্বাচন
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ এরশাদের সংলাপ
.............................................................................................
সোহরাওয়ার্দীতে আলেমদের ‘শোকরানা মাহফিলে’ প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মাউশি’র মহাপরিচালকের মৃত্যুতে বিইআরএফ এর শোক
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
.............................................................................................
রবিবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুক্রবার
.............................................................................................
দেশটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে
.............................................................................................
সংলাপ শুরু
.............................................................................................
গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
.............................................................................................
তফসিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ৪ নভেম্বর: সিইসি
.............................................................................................
৩২১ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন
.............................................................................................
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ বিকালে
.............................................................................................
দেশব্যাপী জেএসসি পরীক্ষা শুরু
.............................................................................................
আদালত বর্জন করে বিক্ষোভে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা
.............................................................................................
রাজনীতিতে স্বস্তির হাওয়া
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft