বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
শেষ ধাপে ২০ উপজেলায় ভোট চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৯টায় এই ভোট গ্রহণ শুরু হয়, একটানা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আজ মোট ২০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৪টিতে ইভিএমে ভোট নেয়া হচ্ছে।

ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।

যেসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে সেগুলো হলো-শেরপুরের নকলা, নাটোরের নলডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পটুয়াখালীর রাংগাবালী, বরগুনার তালতলী, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, মাদারীপুর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, নোয়াখালী সদর, রাজশাহীর পবা, নেত্রকোণার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা।

এর মধ্যে চারটি উপজেলা অর্থাৎ গাজীপুর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, নোয়াখালী সদর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট নিচ্ছে ইসি। প্রায় ২৪ লাখ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০০ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ ধাপের নির্বাচনে দুইজন চেয়ারম্যান পদে এবং দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

শেষ ধাপে ২০ উপজেলায় ভোট চলছে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৯টায় এই ভোট গ্রহণ শুরু হয়, একটানা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আজ মোট ২০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৪টিতে ইভিএমে ভোট নেয়া হচ্ছে।

ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।

যেসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে সেগুলো হলো-শেরপুরের নকলা, নাটোরের নলডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পটুয়াখালীর রাংগাবালী, বরগুনার তালতলী, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, মাদারীপুর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, নোয়াখালী সদর, রাজশাহীর পবা, নেত্রকোণার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা।

এর মধ্যে চারটি উপজেলা অর্থাৎ গাজীপুর সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, নোয়াখালী সদর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট নিচ্ছে ইসি। প্রায় ২৪ লাখ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০০ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ ধাপের নির্বাচনে দুইজন চেয়ারম্যান পদে এবং দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ওসি মোয়াজ্জেম ঢাকায় গ্রেপ্তার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার বিকালে তাকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি সোহেল রানা। তাকে আজই আদালতে তোলা হচ্ছে।

ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোয় অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুই দিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

এশিয়াকে অস্থিতিশীল করবে রোহিঙ্গা সঙ্কট
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূলের ‘প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, এর সমাধান না হলে তা পুরো এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। শনিবার তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে নাভরুজ প্যালেসে কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়া-সিআইসিএ’র পঞ্চম সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে যে  গণহত্যা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা জাতিগত নির্মূলের একটি ‘টেক্সট বুক এক্সাম্পল’ এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর ২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার আগে গত কয়েক দশকে এসেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা কেউ ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্ভয়ে বসবাসের পরিবেশ তৈরি না করার মধ্য দিয়ে প্রত্যাবসনে মিয়ানমারের অনাগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে। সিআইসিএ’র সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বলেন, রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক তাদের পূর্বপুরুষের ভিটা থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা তাদের জনগণকে আশ্রয় দিয়েছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা সহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ এ সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি এখন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, এটা যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে পুরো এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য সিআইসিএসহ সংশ্লিষ্টদের সমর্থন ও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারে কাজ করে সিআইসিএ। কাজাখস্তানের রাজধানী নূর সুলতানে এই সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত।

২৭টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। দেশগুলো হল- আফগানিস্তান, আজারবাইজান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চীন, মিশর, ভারত, ইরান, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। এছাড়া বেলারুশ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্র এর পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।

জাতিসংঘ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম, লিগ অব আরব স্টেটস, অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপ, পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি অব দ্য টার্কিক স্পিকিং কান্ট্রিজ এর সিআইসির পর্যবেক্ষক। এশিয়াভিত্তিক এই সংস্থার বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছে তাজিকিস্তান। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব করেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ। এর প্রথম সম্মেলন হয় ২০০২ সালে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ এই ফোরামের সদস্য হয়।

সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বর্তমান সময়ে এশিয়ার দেশগুলো বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে জোরপূর্বক দেশান্তর, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদের মত নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য সমন্বিত উগ্যোগ নিতে হবে। এশিয়ার নিরাপত্তা বর্তমানে সুরক্ষিত নয়, কারন নিয়মবর্হিভূত অভিবাসন,মাদক চোরাচালান, সীমানা বিরোধ, জাতিগত দ্বন্দ্ব, বিছিন্নতাবাদ,অর্থনৈতিক সমস্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মত সমস্যা এখানে দৃশ্যমান। কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং উদ্যোগের উপর এশিয়ার স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোটগত নিরাপত্তার ধারণা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিআইসিএ’র ক্ষমতা বা শক্তি বাড়াতে হবে।

সিআইসএ সদস্যদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে এ অঞ্চলের বিদ্যমান বিবাদ, এশিয়ার নিরাপত্তা ও সহযোগিতার সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এশিয?ার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা অপরিহার্য। আমরা সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারি।

চক্রান্ত মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যারা আমাদের সমর্থন দেয়নি, তাদের নানা রকম চক্রান্ত থাকবে। কিন্তু সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য সব সময় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতেও হবে। সব সময় সচেতন থাকতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সে-এসএসএফের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসএসএফের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন,  দেশি ও বিদেশি চক্রান্ত মোকাবেলায় সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, নানা ধরনের প্রতিকূল অবস্থা বারবার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্ত চক্রান্ত মোকাবেলা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ। এইটুকু বলবো, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের এসএসএফ সব সময় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, এসএসএফের আনুগত্য ও উচ্চমানের পেশাদারিত্ব- এটা আমাকে গর্বিত করেছে। দক্ষ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সব সময় সমুন্নত রেখেছে।

উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি যেমন আমাদের উন্নয়নের যাত্রাকে আরও সুন্দর ও দ্রুত করে, একইভাবে যারা অপরাধী তাদেরও সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে। প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন সেদিক থেকেও আমাদের সব সময় যুগোপযোগী থাকতে হবে। প্রযুক্তিকে যেন আমরা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারি। আর মন্দ কাজে যারা ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারি।

তিনি বলেন, এসএসএফ এর মতো একটা প্রতিষ্ঠান, তাদেরকে সব সময় আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সেইসঙ্গে যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো সরঞ্জামাদিও দরকার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যত রকমের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বা রাজনৈতিক সহিংসতা আসুক না কেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিটি সংস্থা, দেশের জনগণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগুলো মোকাবেলা করেছে বলেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আমরা অব্যাহত রাখতে পেরেছি।

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে, যদি সততার সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা যায় তবে একটা দেশকে উন্নত করা যায়। আর সেটা আমরা এক দশকে প্রমাণ করেছি। তিনি বলেন, যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন অনেকে বিশ্বাস করতে চায়নি যে বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে বা পারবে। আজকে কিন্তু আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরে গেছি।  শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা না হলে কিন্তু দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নপূরণ করতে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একটা স্বপ্নপূরণে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ফিরে এসেছি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি-যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছি সেদিন থেকেই যে, আমি আমার মৃত্যুকে হাতে নিয়েই ফিরে এসেছি। বলতে গেলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই এসেছি। যে কোনো মুহূর্তে হয়তো আমাকে হত্যা করা হতে পারে, মারা যেতে পারি, সেটা জেনেই কিন্তু আমি এসেছি। তিনি বলেন, কেন এসেছি, তার কারণ হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যে স্বপ্নটা জাতির পিতা দেখেছিলেন বাংলাদেশকে ঘিরে, দেশের মানুষকে ঘিরে। যে বাংলাদেশের মানুষকে তিনি সুখী-সমৃদ্ধশালী করবেন। তাদের জীবন উন্নত করবেন। দুঃখ দারিদ্র্যের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেবেন। সেই চিন্তাটাই তিনি করেছিলেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ করা কর্তব্য হিসেবে আমি নিয়েছি।

দেশে ফিরে আসার পর বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হওয়ার কথা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। সত্য কথা বলতে কখনো দ্বিধা করেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয়ও করি না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং এসএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি পেইন্টিং ও ছবির বই তুলে দেন এসএসএফ মহাপরিচালক। পরে এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনের অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

ঈদযাত্রায় ২৫৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৯৮
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল ফিতরে সারাদেশে সড়ক-মহাসড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ২৫৬টি দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত ও ৮৬০ জন আহত হয়েছেন বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এরমধ্যে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৮৪৯ জন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা পরিসংখ্যান-২০১৯ অনুযায়ী এ তথ্য জানান সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

ইকোসকে বিপুল ভোটে বিজয়ী বাংলাদেশ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : জাতিসংঘের ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ-ইকোসক’ এর সদস্য পদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে ১৯১ ভোটের মধ্যে ১৮১ ভোট পেয়ে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাড়াও তিন বছর মেয়াদে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বিজয়ী হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নেন্দা এপসিনোসা গার্সেজের সভাপতিত্বে গোপন ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২২ মেয়াদে জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম ইকোসকে তার অবস্থান নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ ও এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিপুল ভোটে এই বিজয় তারই বৈশ্বিক স্বীকৃতি বলে মন্তব্য করেন সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

ফল ঘোষণার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিশ্ব সংস্থাটিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপনের প্রাক্কালে এই বিজয় বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক অনন্য উপহার।

তিনি বলেন, টেকসই উত্তরণ নিশ্চিতে ইকোসকের এই সদস্যপদ লাভ আমাদেরকে আরও সামনে এগিয়ে নেবে। এছাড়া এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নেও এই বিজয় নতুন গতি আনবে।

তিনি আরও বলেন, ইকোসকের সদস্যপদের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইকোসকের আওতাধীন বিভিন্ন ফোরাম, কমিশন, কমিটি, নির্বাহী বোর্ড ও আঞ্চলিক ফোরাম যেমন ইউএনএসকাপের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।

ইকোসকে আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিন বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ।

কদম ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক...
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবেগময় গান ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান; কিংবা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই ধ্রুপদী পঙিক্ত ‘গভীর গর্জন করে সদা জলধর/উথলিল নদ-নদী ধরনীর উপর’-মনে করিয়ে দিল আবারও সবুজ সমারোহে হাজির হয়েছে বর্ষাকাল।

বাদল দিনে প্রথম কদম ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক পঞ্জিকার হিসেবে আজ শনিবার পহেলা আষাঢ়। মানে বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন। আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল অর্থাৎ বর্ষা ঋতু। এ ঋতুর প্রধান বৈশিষ্ট্য বৃষ্টি ঝরা আকাশ, কর্দমাক্ত মাঠ, নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা পানিতে পরিপূর্ণ হওয়া ইত্যাদি।

জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরম— আম, জাম, কাঁঠাল পাকার সময়। জ্যৈষ্ঠের দমফাটা গরম যেমন অস্বস্তিকর তার বিপরীতে আছে বাহারি ফলের সমাহারে মনভোলানো প্রকৃতি। এসময়টায় বাজারে প্রায় সব ধরনের ফল পাওয়া যায়। কবির ভাষায় ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। জ্যৈষ্ঠের মধুমাস পেরিয়ে গাছে গাছে কদম ফুল ফোটে। জানিয়ে দেয় আষাঢ় আসছে। রুদ্র গ্রীষ্মের দাবদাহন শেষে প্রকৃতির রানি চিরসুন্দর শ্যামলী বর্ষার আগমনে ঘটে। কিন্তু এবছর বৃষ্টির তেমন কোনো দেখা নেই। গরম পড়ছে অবিরাম। সবাই যেন মন প্রাণ উজাড় করে সৃষ্টিকর্তার কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছে।

‘বর্ষার দূত’ কদম ফুল এরই মধ্যে ফুটতে শুরু করেছে। বর্ষার রূপ-ঐশ্বর্যে মুগ্ধ অনেক কবিই বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বতন্ত্র।

জামরুলপ্রকৃতিতে ফুল ও ফলের সমাহার নিয়ে বর্ষা আসে। বাহারি ফুলের সুবাসে মুখরিত হয় প্রকৃতি। ফুলে ফুলে শোভিত হয় চারপাশ।

বর্ষা মানেই কর্দমাক্ত রাস্তা আর গাঁয়ের দস্যি ছেলেদের কদম ফুলকে ঘিরে হৈ হুল্লোড়। বর্ষাকে স্বাগত জানাতে এরই মধ্যে কদম ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রকৃতি। ঋতুচক্রের আবর্তনে অনেক আগেই কদম ফুল জানান দিয়েছে আষাঢ়ের আগমন বার্তা। তৃষ্ণায় কাতর বৃক্ষরাজি বর্ষার অঝোর ধারায় ফিরে পাবে প্রাণের স্পন্দন।

বর্ষা মানেই যেনো বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল। বৃষ্টির সঙ্গে কদমের ভালোবাসা খুবই নিবিড়। শুধু তাই নয়, প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশজুড়েও রয়েছে কদমের পংক্তিমালা। তবে, নাগরিক উঠোনে সেই কদমের ঘ্রাণ, এখন অনেকটাই যেনো অতীত। নেই আর আগের মতো বিত্ত-বৈভব।  

কদম ছাড়াও বর্ষায় ফোটা ফুলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বকুল, কলমি ফুল, স্পাইডার লিলি, দোলনচাঁপা, সুখদর্শন, ঘাসফুল, শাপলা, সন্ধ্যামালতি, কামিনী, গুল নার্গিস, দোপাটি, অলকানন্দ।

নানামুখী সৌন্দর্য ও তাৎপর্যের পাশাপাশি বর্ষায় কিছুটা বিপদের ঝুঁকিও রয়েছে। ভারি বর্ষণ বা পাহাড়ি ঢলে ভেসে যেতে পারে গ্রামের পর গ্রাম। তৈরি হতে পারে নদী ভাঙন। ভেসে যেতে পারে বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের। সে কারণে বন্যাপ্রবণ সমতল এলাকার মানুষ আতঙ্কে পার করে বর্ষাকাল। শুধু তাই নয়, অথৈ জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে পাবে কৃষকের আবাদি ফসলের জমিটি। আবার অতিবৃষ্টির কারণে শহুরে নাগরিকের রয়েছে জলাবদ্ধতার শিকার হওয়ার ঝামেলা। কিছু বিপদের কথা বাদ দিলে সব মিলিয়েই ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষা নিয়ে আসে স্বস্তি ও শান্তির অনুভূতি। ফুলে ফলে কিংবা বৃক্ষজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অপরূপ প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য।

আষাঢ় বাংলা সনের তৃতীয় মাস। এটি বর্ষা মৌসুমে অন্তর্ভুক্ত দুই মাসের প্রথম মাস। আর নামটি এসেছে পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্রে সূর্যের অবস্থান থেকে।

৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে আ হ ম মুস্তফা কামালের অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেট। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবেও বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। এর আগে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিদেশী কূটনীতিকবৃন্দ এবং দেশের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরবর্তীতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। পরে অর্থমন্ত্রী অসুস্থতা অনুভব করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট উপস্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রী গত কয়েক দিন বাজেট নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করায় সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদে যোগ দেন।

সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত ২০১৯-২০১২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

দেশের ৪৮তম বাজেট আজ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাধীন বাংলাদেশে তাজউদ্দিন আহমেদ ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে ১৯৭২ সালে যে যাত্রার সূচনা করেছিলেন, সেই পথ ধরে বাংলাদেশের ৪৮তম বাজেট নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ এই শিরোনামে আজ বিকেল ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা একাদশ বাজেট। আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম বাজেট।

এবারের বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এই বাজেটে ঘাটতি থাকবে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। মোট বাজেটের অংশ হিসেবে এটি ২৭.৭৯  শতাংশ আর জিডিপির অনুপাত হিসেবে ৫ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই ঋণ নেয়া হবে ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আর ঋণের সুদের জন্য আগামী অর্থবছরে ব্যয় করা হবে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের জন্য গুনতে হবে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। আর বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার রয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন ব্যর্থতার কারণে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর পরও নতুন বাজেটের আকার ১৮.২২ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে, এই বাজেটে যারা কর দেন তাদের জন্য থাকবে সুসংবাদ। আগামী অর্থবছরে তাদের কর কমিয়ে দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে যারা কর দেন না তাদেরকে করের আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণাও থাকবে। এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন সমস্যাকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থবিভাগ। এজন্য সরকার সামাজিক

নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারে অন্তত একজন করে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিটি উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা হবে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটনোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া বাজেটে রাস্তাঘাট, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন উন্নয়ন, করকাঠামোর পুনর্বিন্যাস, আর্থিক ও শিক্ষা খাতের সংস্কারে পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির সুখবর দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ সমাপ্ত করতে থাকছে বিশেষ নির্দেশনা।

সূত্র জানায়, বিদেশে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির জন্য সরকারি বেসরকারি উভয় পক্ষেই জোর তৎপরতা চালাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারিভাবে যদি কেউ নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে তাহলে তাদেরকে বিভিন্ন রেয়াতি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এমন ঘোষণা থাকবে আসন্ন বাজেটে।

আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হচ্ছে। যদিও চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি খাতের বাম্পার ফলন আর উচ্চ রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে সরকার। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের অনুমোদন নিতে হবে। বাজেট ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক হবে।

সরকারি সার কারখানায় জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতিতে গ্যাস অপচয়
                                  

বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারি সার কারখানাগুলোর জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে সার উৎপাদনে বাড়তি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত দুই বছরে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড সার উৎপাদন করেছে ৩ লাখ ১২ হাজার টন। কারখানা দুটি সাড়ে ১৯ হাজার এমএমসিএফ গ্যাস ব্যবহার করে ওই পরিমাণ সার উৎপাদন করেছে কারখানা দুটি। অথচ পরিমাণ গ্যাস দিয়ে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন সার উৎপাদন করা সম্ভব। ওই হিসেবে সার কারখানা দুটিতে ব্যবহৃত গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশই অপচয় হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা গড়ে ২৩-২৫ লাখ টনের মধ্যে থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ১০ লাখ টনের নিচে। বিসিআইসির অধীন সার কারখানাগুলো চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। তবে ইউরিয়া সার দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে ব্যবহার করা গেলে খরচ কমানো সম্ভব। আর বিদেশে থেকে প্রতি টন সার আমদানিতে ১৮০-৩০০ ডলার খরচ হলেও দেশে উৎপাদনে খরচ হবে মাত্র ১০০ ডলার। সেক্ষেত্রে দেশের গ্যাস সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। চলমান কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। তাছাড়া ওসব কারখানা সংস্কার করে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

সূত্র জানায়, ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডে বর্তমানে দৈনিক ৬৪ দশমিক ৭ এমএমসিএফ বা বার্ষিক ১৯ হাজার ৪১০ এমএমসিএফ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যা দিয়ে দৈনিক মাত্র ১ হাজার ৫০ টন বা বার্ষিক ৩ লাখ ১৫ হাজার টন সার উৎপাদন হচ্ছে। অথচ একটি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির সার কারখানায় একই পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন বা বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার টন সার উৎপাদন করা সম্ভব। অর্থাৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাত্র ৩৪ শতাংশ দক্ষভাবে ব্যবহার করছে কারখানা দুটি। বাকি প্রায় ৬৬ শতাংশই অপচয় হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, দেশের সার কারখানাগুলোর সক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের দ্বিতীয় ইউরিয়া সার কারখানা ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (ইউএফসিএল) বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৪ লাখ ৭০ হাজার টন। কারখানাটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ১৯৭০ সালে নরসিংদী জেলার ঘোড়াশালের পলাশে স্থাপিত হয়। ৪ লাখ ৭০ হাজার টন সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ২ লাখ টনের কাছাকাছি। আর পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড কারখানাটি চায়না-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নরসিংদী জেলার পলাশে স্থাপিত হয়। ওই ফ্যাক্টরির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৯৫ হাজার টন। ফলে দুটি কারখানার সক্ষমতা বছরে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে ৩ লাখ টনের কিছু বেশি।

এদিকে এ বিষয়ে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম এবং ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতি. দায়িত্ব) মো. রাজিউর রহমান মল্লিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি একই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সচিব মো. আসাদুর রহমানও।

জুলাইয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’-স্লোগানে আগামী জুলাই মাসে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালন করবে সরকার। এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ, মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলেও অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে তা শিগগিরই নির্ধারণ করে জানানো হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মৎস্য সপ্তাহের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয় বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

কর্মসূচি অনুযায়ী মৎস্য সপ্তাহের প্রথমদিন সকালে ঢাকা মহানগরে র‌্যালি বের করা হবে। এদিন প্রেস ব্রিফিং করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এদিন ঢাকায় পাঁচ দিনের এবং প্রতি জেলায় তিনদিনের ‘মৎস্য মেলা’ শুরু হবে। ঢাকা ও ময়মনসিংহে পৃথক পৃথক ‘প্রযুক্তি মেলা’ ও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সপ্তাহ চলাকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার যথাক্রমে বঙ্গভবন, গণভবন ও জাতীয় সংসদের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। ধানমন্ডি লেক, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক ও পুকুরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ লেক ও পুকুরে পোনা অবমুক্ত করা হবে।

এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন পুকুর, মুক্ত জলাশয়, হাওর-বাওরেও পোনা ছাড়া হবে। মৎস্য সপ্তাহের অংশ হিসেবে ঢাকা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যালি, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সভা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামানোর পরিকল্পনা সরকারের : প্রধানমন্ত্রী
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেগম রওশন আরা মান্নানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সংস্থা। কমিশন নিরপেক্ষভাবে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করে। বর্তমানে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দপ্তরে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসছে। দুদক প্রাতিষ্ঠানিক টিমের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির স্বরূপ এবং কারণ উদঘাটন করে তা প্রতিরোধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে সুপারিশ প্রেরণ করে। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরসমূহ তাদের প্রতিষ্ঠানে সংগঠিত দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে। দুদকের এরূপ কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে দুর্নীতির মাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধে কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে। এ কর্মকৌশলের আওতায় দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণশুনানি আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের সৎ ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, ‘স্কুল-কলেজের সততা সংঘ’ গঠন এবং ‘সততা স্টোর’ স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে সাধারণ জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের জনগণের কল্যাণে এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তা ছাড়া, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর।

মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার বলছে বাংলাদেশের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া বাংলাদেশ।  বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে কূটনীতিকদের সহায়তা চান তিনি।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে দেশটি থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে কয়েক বছর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান নেয় আরও চার লাখের মতো রোহিঙ্গা।

মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্ট হয়। তারপরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তালবাহানা করছে দেশটি। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার কূটনীতিকদের নিয়ে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ভারত, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রাজিল, ফিলিস্তিন প্রভৃতি মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপানের ফিউচার এশিয়া সম্মেলনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া। আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। তারা আমাদের বন্ধু। তাদের নিয়েই নিয়মের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া দরকার। কিন্তু এ রকম ডাহা মিথ্যা আমরা কেমন করে কতো হজম করতে পারি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ফিরে যাক, এটাই আমরা চেয়েছি। বরং মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও কথা রাখছে না। আমরা তাদের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল। দুই বছরের মধ্যে এটা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। তারপরে বলা হলো, ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রক্রিয়া শুরু করবে। সেটাও হয়নি। কিছুদিন আগে মিয়ানমারে চতুর্থ যৌথ সম্মেলনে গেলাম, তখন আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। বোধ হয় প্রক্রিয়াটা শুরু হলো। কিন্তু সেটাও হয়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটা তারা রাখছে না। রাখাইনে ৮০০টি গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটি গ্রামের পরিস্থিতি ভালো দেখিয়ে বলছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশি কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছি। এ বিষয়ে তারা কী করবে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা তাদের সহায়তা চেয়েছি।

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট আজ
                                  

আফজাল হোসাইন : ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবং সর্বোচ্চ অঙ্কের ঘাটতির সাথে ব্যতিক্রমী একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন হতে যাচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায়  জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যা ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ সরকারের  টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালেরও এটি প্রথম বাজেট।

এবারের বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এই বাজেটে ঘাটতি থাকবে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। মোট বাজেটের অংশ হিসেবে এটি ২৭.৭৯  শতাংশ আর জিডিপির অনুপাত হিসেবে ৫ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই ঋণ নেয়া হবে ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আর ঋণের সুদের জন্য আগামী অর্থবছরে ব্যয় করা হবে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের জন্য গুনতে হবে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। আর বিদেশী ঋণের সুদ ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার রয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন ব্যর্থতার কারণে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর পরও নতুন বাজেটের আকার ১৮.২২ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে, এই বাজেটে যারা কর দেন তাদের জন্য থাকবে সুসংবাদ। আগামী অর্থবছরে তাদের কর কমিয়ে দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে যারা কর দেন না তাদেরকে করের আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণাও থাকবে। এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন সমস্যাকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থবিভাগ। এজন্য সরকার সামাজিক  নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারে অন্তত একজন করে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিটি উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করা হবে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটনোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া বাজেটে রাস্তাঘাট, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন উন্নয়ন, করকাঠামোর পুনর্বিন্যাস, আর্থিক ও শিক্ষা খাতের সংস্কারে পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির সুখবর দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ সমাপ্ত করতে থাকছে বিশেষ নির্দেশনা।

সূত্র জানায়, বিদেশে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির জন্য সরকারি বেসরকারি উভয় পক্ষেই জোর তৎপরতা চালাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারিভাবে যদি কেউ নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে তাহলে তাদেরকে বিভিন্ন রেয়াতি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এমন ঘোষণা থাকবে আসন্ন বাজেটে। আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হচ্ছে। যদিও চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি খাতের বাম্পার ফলন আর উচ্চ রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে সরকার। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। আর বর্তমান সরকারের টানা ১১তম এবং আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনকালের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট এটি। বাজেট পেশের সময় বক্তৃতাসহ ১২টি বাজেট ডকুমেন্ট সংসদ সদস্যের হাতে দেওয়া হবে। তবে ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে বাজেট ডকুমেন্টসের সংখ্যা হতে পারে ২৬টি।

বাজেটের আকার : আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে আকার চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের বড় একটি অংশ যাবে পরিচালন খাতে। এতে ব্যয় হবে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবর্তক ব্যয় হবে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। যার একটি বড় অংশ ব্যয় হবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। আগামী অর্থবছরে এডিপি খাতে ব্যয় হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। আবর্তক খাতের আরও একটি অংশ ব্যয় হবে সুদ পরিশোধে। অর্থাৎ বিদেশ থেকে নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হবে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা।

ব্যয়ের আরেকটি খাত হচ্ছে এডিপিবহির্ভূত প্রকল্প। এ খাতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি স্কিমে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। আর কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি মূলধনী খাতে ব্যয় হবে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা, খাদ্য হিসাবে ৩০৮ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৯৩৭ কোটি টাকা।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা : বাজেট প্রস্তাবে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় হবে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। চলতি বছর মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, এটি জিডিপির ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআর কর রাজস্ব পরিমাণ ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্ব পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। কর ব্যতীত আয় হবে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ আগামী বছরে দাঁড়াবে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

এডিপি আকার : আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৫৬৪টি। এরমধ্যে কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৬টি, জেডিসিএফ প্রকল্প ১টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে ৮৯টি ও বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩৫৮টি।

অন্যদিকে, অসমাপ্ত প্রকল্প সমাপ্ত করার জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ধরা হয়েছে ৩৫৫টি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প ৬২টি। বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৪২টি এবং নিজম্ব অর্থায়নে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। বরাদ্দসহ অনুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৪১টি।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে এডিপি ধরা হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। এবারের এডিপিতে সর্বাধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহণ ও শিক্ষা খাতকে।

ঘাটতি : বিশাল আকারের বাজেটে বাড়বে ঘাটতিও। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণের বরাবরের মতো সরকারকে অভ্যন্তরীন কিছু উৎসের ওপর নির্ভর করতে হবে। এজন্য বাড়ানো হচ্ছে ব্যাংক ঋণের পরিকল্পনা। অন্যদিকে কমিয়ে আনা হচ্ছে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা। এতে বাজেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ সরকারকে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ অপেক্ষাকৃত কম টাকা গুনতে হবে। তবে বেসরকারি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। তাদের মতে, সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাবে। ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীন উৎসব থেকে ঋণ নেওয়া হবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি : আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জন হবে- এমন প্রত্যাশা থেকেই আগামী অর্থবছরের এ লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি রফতানি ও রাজস্ব আয়ের গতিশীলতার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সহায়ক হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। যা প্রবৃদ্ধি অর্জনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

মূল্যস্ফীতি : ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কম থাকবে। অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকবে। ফলে দেশের ভেতর পণ্যের দাম বাড়বে না- এমন আশা থেকেই নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

করকাঠামোতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন : নতুন ভ্যাট আইন-২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এরজন্য করকাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনার কথা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ের শুল্ক কাঠামো। যেমন গাড়ী, বিলাসবহুল পণ্য, প্রসাধনী চকলেট এ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে করকাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের স্বার্থে কর্পোরেট করহার কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সরাসরি ভোক্তাকে আঘাত এমন কোন খাতে কর বাড়ানো হবে না। কর দিতে গিয়ে কোন ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হবে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

সংস্কারের ঘোষণা : আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট হবে সংস্কারমুখী। ব্যাংক ও ভ্যাট খাতে থাকছে ব্যাপক সংস্কার। অর্থবছরের শুরুতেই নতুন ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন (২০১২)’ কার্যকরের ঘোষণা থাকছে। সংস্কারের আওতায় থাকবে ব্যাংকসহ পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচি খাতও। তবে জনগণকে রাখা হবে ভ্যাট ও করের চাপ মুক্ত। খুব বেশি কর চাপানো হবে না। কর্পোরেটসহ ক্ষেত্র বিশেষে কর হার কমানো হবে। ঘোষণা থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির। ইতিমধ্যে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কিছু ননএমপিও শিক্ষকের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোকেত পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরের এমপিও আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাড়বে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা : সুবিধা বঞ্চিত, হতদরিদ্র, বিধবা, অসচ্ছল মানুষ, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় সব ধরনের ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে আগামী বাজেটে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ১৩ লাখ মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে মোট সুবিধভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮৯ লাখ মানুন। যা চলতি বাজেটে ছিল প্রায় ৭৬ লাখ। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ : আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটেও কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) সাদা করার সুযোগ থাকছে। ১০ শতাংশ কর দিয়ে শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করা যাবে। তবে এ সুযোগ তারাই পাবেন, যারা শুধু উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে বিনিয়োগ করবেন। আগামী এক বছরের জন্য এ সুযোগ দেওয়া হবে। এখন শুধু ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রেরণে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রবাসীরা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন তার ওপর ২ শতাংশ হারে এ সুবিধা দেওয়া হবে। এজন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকছে।

বাজেট অধিবেশন বসছে আজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন বসছে আজ মঙ্গলবার। বিকেল পাঁচটায় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে ১৩ জুন বৃহস্পতিবার। বাজেট উত্থাপনের পর আগামী ২৭ বা ২৯ জুনের মধ্যে সাধারণ আলোচনা শেষ করে অর্থ বিল পাস হবে। এরপর ৩০ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে। এ অধিবেশন কতদিন চলবে তা কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। আজ মঙ্গলবার অধিবেশন শুরুর একঘণ্টা আগে এ কমিটির বৈঠক হবে।

জানা গেছে, আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আসছে বাজেট আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। এ বাজেটে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই দিককে সমান গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহার আর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আয়-ব্যয় তথা প্রবৃদ্ধির সুষম বণ্টনে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন বাজেটের আকার কিছুটা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেয়ার আগে এর আকারেও পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী। যার পরিমাণ তিন লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে ছিল তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। আয়-ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতিও হবে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড়। যার পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি।

চলতি অর্থবছরের বাজেট চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ধীরে ধীরে নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই আগামী বাজেটে আয়কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হচ্ছে।

বাজেট অধিবেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাজেট অধিবেশন হওয়ায় সংসদ সচিবালয় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। বাজেট পেশের দিন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতিসহ বিশিষ্টজনেরা সংসদে উপস্থিত থাকেন। এ জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়। এবারও তা করেছে সংসদ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাজেট ইনফরমেশন হেল্প ডেস্ক। এ ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এমপিরা।

জানা গেছে, এটি চলমান একাদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। এর আগে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২৪ এপ্রিল। মাত্র পাঁচ কার্যদিবস চলা এ অধিবেশন শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধা : সারাদেশে অসন্তোষ
                                  

বিশেষ প্রতিনিধি : ‘একটি জরুরী ঘোষণা : সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও যে সকল ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে স্ব স্ব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ক্ষমা প্রার্থনা করে আবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে সরকার গণতদন্তের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির দায়ে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করাসহ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গৃহীত যাবতীয় সরকারী সুবিধা আদায় করবে। এ নির্দেশ পালনকারীদের ক্ষমা প্রদর্শনসহ গৃহীত সরকারী সুবিধাদি আদায় অথবা শাস্তি প্রদানের বিষয়টি নমনীয় ভাবে বিবেচনা করা হবে। উল্লেখ্য যে, নির্দিষ্ট সময়ের পর অমুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করা হবে না।’

‘ধরা যাক- এমন একটি সরকারী গণবিজ্ঞপ্তি সত্যই প্রিন্ট, ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়া এবং মাইকিং করে দেশব্যাপী প্রচার করা হলো। এর ফলাফল কি হতে পারে।  বাস্তব কারণেই আশা করা যায়, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখানো বিতর্কিত ব্যক্তিরা এতে হুড়মুড় করে ক্ষমা চাইতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। কারণ ওই ব্যক্তিরা খুব ভাল করেই জানেন, সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা একাত্তর সালেই চিনে রেখেছেন প্রতিটি ইউনিয়নবাসী। কাজেই ইউনিয়ন-ওয়ারী গণতদন্ত হলে তারা নিশ্চিত ধরা খাবে।’

‘দ্বিতীয়ত. মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এ বিতর্কিত ব্যক্তিরা নাম লিখিয়েছে স্রেফ লাভের আশায়। একমাত্র স্বার্থ ছাড়া কোন আদর্শ নেই তাদের। সেটা থাকলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তারা নামই লিখাতেন না। সুতরাং লাভের এই ‘মালে গণিমত’ হজমের আশ্বাস পেলে এবং ধরা পড়লে শাস্তির ভয়ে এরা ক্ষমা চাইতে উদ্বুদ্ধ হবেন। পক্ষান্তরে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার হারাবার কিছুই নেই, সে রুখে দাঁড়াবে মাথা উঁচু করে।  কথা হলো, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকা এ শয়তানগুলো তাড়াতে সরকার উদ্যোগ নেবেন কি-না সেটাই হচ্ছে গুরুতর প্রশ্ন।’

অনেকটা এভাবেই- একনাগাড়ে নিজের আঞ্চলিক ভাষা-ভঙ্গিতে কথাগুলো বলছিলেন বৈশাখের কড়া রোদে পাটক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত পাবনার দুর্গম চর রাজধরদিয়ার পোড় খাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ খাঁ। সারা জীবন পদ্মা-যমুনায় মাছ ধরে আর পরের জমিতে কৃষিকাজে নিজের কালো শরীর রোদে পুড়িয়ে অঙ্গার করেছেন অক্ষরজ্ঞানহীন আব্দুল মজিদ। তিনবছর আগে সোনালী ব্যাংকের দেয়া সহজ শর্তের ২ লাখ টাকা ঋণ পেয়ে অভাবের সংসারে সামান্য স্বচ্ছলতা এনেছেন পরিশ্রমী এ বীর মুক্তিযোদ্ধা। এখন শরীর আর চলে না। মজিদের আক্ষেপ, সরকারের টাকা কি এতই সস্তা যে যাকে-তাকে বিলাতে হবে, তাও আবার মুক্তিযোদ্ধার নাম করে! মজিদ বলেন, ভাই রে- এর কি কোন বিহিত নাই?

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেশের জনগণ তৈরী করে দিয়েছেন আস্ত একটা মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকা নামের একটি অধিদপ্তর। কিন্তু ভারমুক্ত হয়নি অমুক্তিযোদ্ধায় ভারাক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা। বরং মন্ত্রণালয় গড়ার পর থেকে বিভিন্ন উসিলায় তালিকায় বেড়েছে অমুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা। এ ঘটনায় দারুণ অসন্তোষ বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ গোটা দেশবাসীর মনে।

মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এখনো উদ্যোগী হলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নির্ভূল করা অসম্ভব কাজ নয় মোটেই। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধা চেনেন না- তারা চেনেন তালিকা। আর সে তালিকায় ঘাপটি মেরে বসে আছে প্রায় লাখ-খানেক অমুক্তিযোদ্ধা। এ আবর্জনা পরিষ্কারে মোটেই আগ্রহী নয় মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা এখন ‘সাত নকলে আসল খাস্তা’য় পরিণত হয়েছে।

গত ২৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেন সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান- এমপি। সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থে উত্থাপিত সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ১৫ দফা দাবীর ৭(খ) তে ‘সঠিক যাচাই বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত তালিকার গেজেট অবিলম্বে প্রকাশ করা’র দাবী জানানো হয়।

মুক্তিযোদ্ধার এই ‘যাচাই বাছাই’ এবং নির্ভরযোগ্য তালিকার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের একসময়কার আলোচিত মহাসচিব নইম জাহাঙ্গীর দীর্ঘ আলাপচারিতায় দৈনিক স্বাধীন বাংলাকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যতদিন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখভাল করেছে- ততদিন অমুক্তিযোদ্ধা শব্দের অস্তিত্বই ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা নন, এমন ব্যক্তি তখন সংসদের ত্রিসীমানায় আসবার সাহসও পেতেন না। অমুক্তিযোদ্ধা শব্দের উৎপত্তি হয়েছে মন্ত্রণালয়, জামুকা তথা আমলারা আসার পর। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের তথাকথিত যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটাই অমুক্তিযোদ্ধা বান্ধব, ভিজিএফ’র কার্ড বিতরণের তালিকা করার মত। এতে অমুক্তিযোদ্ধা বাড়ছে এবং বাড়তেই থাকবে।

কিভাবে এ অবস্থা এড়ানো যায়- এমন প্রশ্নে নইম জাহাঙ্গীর বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়- মুক্তিযোদ্ধা যাচাই করার কাজটি সম্পূর্ণভাবে সরকারী এজেন্সিগুলোর হাতে ন্যস্ত করতে হবে। যেমন হয়েছিল এরশাদ যমানায়, মুক্তিযোদ্ধার জাতীয় তালিকা তৈরীর সময়। তখন কোন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাকে ইন্টারভিউতে ডাকাও হয়নি, অথচ তালিকাটা প্রায় নির্ভূলভাবে করা সম্ভব হয়েছিল। সাবেক মহাসচিব বলেন, জাতীয় তালিকা করেছিল সরকার নিজে, উপযুক্ত সরকারী লোকজন দিয়ে। তাতে অমুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে এমন অভিযোগ গত ৩২ বছরে কেউ করেননি, যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান মন্ত্রী সে তালিকার নামও মুখে আনেন না।

নইম জাহাঙ্গীরের অভিমত, বিদ্যমান গেজেট এবং তালিকা নির্বিশেষে অমুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ জারি করা প্রয়োজন। এতে যতদূর সম্ভব অমুক্তিযোদ্ধা মুক্ত তালিকা পাওয়া যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আগ্রাসন মুক্তির পর চীন-ভিয়েতনাম-যুগোশ্লাভিয়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামীর মিথ্যা দাবীদারদের গুলি করে মারা হয়েছিল।

অপর এক প্রশ্নে নইম জাহাঙ্গীর জানান, জেনারেল এম এ জি ওসমানী জীবদ্দশায় জানিয়েছিলেন, মুক্তিবাহিনীতে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজারের মত এবং বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে তখন অবস্থান করছিল প্রায় ২৫-৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, এখন মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারী ভাতা নিচ্ছে প্রায় ২ লাখ ব্যক্তি এবং তালিকায় ঢোকার জন্য অপেক্ষা করছে আরও প্রায় লাখ দেড়েক। এটা জাতির সাথে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে নিদাবুণ প্রতারণা, নিন্দার-কষ্টের এক নির্মম চিত্র। এটা চলতে পারে না।

মুক্তিযুদ্ধে ‘এস ফোর্স’ প্রধান ও অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশের প্রথম সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ ক’বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার জানামতে মুক্তিবাহিনীর অনুমিত সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সম্পর্কীত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেছিলেন, তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধা থাকলে সেটা ভালভাবে খুঁজে দেখা দরকার। ‘অস্ত্রহাতে যারা যুদ্ধ করেছেন তারাই মুক্তিযোদ্ধা, এখন ঘরে বসে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা যাবে না। যুদ্ধের সাথে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের নিয়ে করতে হবে তালিকা’- বলেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ ওঅর হিরো।
মুক্তিযোদ্ধার গেজেট এবং তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধা বিতাড়নে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধে পাবনায় আগত প্রথম এফ এফ কোম্পানী কমান্ডার, হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী-সংগঠক কাজী সদরুল হক সুধা দৈনিক স্বাধীন বাংলাকে বলেন, মন্ত্রণালয় আন্তরিক হলে মুক্তিযোদ্ধার নির্ভরযোগ্য তালিকা করা অসম্ভব কোন কাজ নয়। এজন্য প্রথমেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিশেষ কোন তালিকার প্রতি ভালবাসা পরিহার করতে হবে। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয় অমুক্তিযোদ্ধা আমদানীর জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দোষারোপ করেন- যা সত্যও বটে। অপরদিকে, মুক্তিযোদ্ধার মাষ্টার তালিকা গণ্য করেন মুক্তিবার্তা (লাল বই) যা বাস্তবে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতেই তৈরী। সুধা বলেন, গেজেটভূক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই করতে চাইছে মন্ত্রণালয়, ভাল কথা। কিন্তু লাল বইতে যে অমুক্তিযোদ্ধা রয়েছে তাদের ব্যপারে পদক্ষেপ নেবার উদ্যোগদেখা যাচ্ছে না। এটা পরস্পর বিরোধী এবং বিভ্রান্তিকর। এ সবকিছুর সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ এ আইনজীবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর প্রশাসনবিহীন বিধস্ত দেশটি পাহার দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের প্রায় প্রতি ইউনিয়নে তাদের ক্যাম্প ছিল। ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন এখনো। প্রশাসনকে দিয়ে ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা খূঁজে নিয়ে তাদের সাহায্যে ইউনিয়ন-ওয়ারী মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই ও চুড়ান্ত করলে তালিকা নিয়ে সৃষ্ট অব্যবস্থার একটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য সমাধান আসতে পারে।  

জামুকার অনুমোদনবিহীন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক গেজেটভূক্ত অমুক্তিযোদ্ধার সনদ-ভাতা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গত ফেব্রুয়ারীতে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন সম্পর্কে পরে আর কিছু জানানো হয়নি। সম্প্রতি, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখাতে অনলাইনে আবেদন করা ১ লাখ ৩৪ হাজার আবেদনকারীর অনিষ্পন্ন যাচাই-বাছাই নিস্পত্তিতে হাত দিয়েছে মন্ত্রণালয় যাতে ‘১০%’ নামে একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। গেজেট এবং লাল বইয়ের অমুক্তিযোদ্ধা নিয়ে দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিটিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চলমান বাদানুবাদ এবং আলোচনায় এই ‘১০%’  নতুন করে জ্বালানী ঢেলেছে বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযোদ্ধারা।


   Page 1 of 247
     জাতীয়
শেষ ধাপে ২০ উপজেলায় ভোট চলছে
.............................................................................................
ওসি মোয়াজ্জেম ঢাকায় গ্রেপ্তার
.............................................................................................
এশিয়াকে অস্থিতিশীল করবে রোহিঙ্গা সঙ্কট
.............................................................................................
চক্রান্ত মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে
.............................................................................................
ঈদযাত্রায় ২৫৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৯৮
.............................................................................................
ইকোসকে বিপুল ভোটে বিজয়ী বাংলাদেশ
.............................................................................................
কদম ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক...
.............................................................................................
৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট
.............................................................................................
দেশের ৪৮তম বাজেট আজ
.............................................................................................
সরকারি সার কারখানায় জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতিতে গ্যাস অপচয়
.............................................................................................
জুলাইয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ
.............................................................................................
দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামানোর পরিকল্পনা সরকারের : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার
.............................................................................................
ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট আজ
.............................................................................................
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধা : সারাদেশে অসন্তোষ
.............................................................................................
ছয় শতাধিক চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ
.............................................................................................
ভূমি সেবা সপ্তাহ শুরু আজ
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার প্যারোল!
.............................................................................................
শ্রীমঙ্গল ঘুরে গেলেন ৫৩ দেশের রাষ্ট্রদূত
.............................................................................................
জনগণ উন্নয়ন চায়, শান্তি চায়: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
হাসপাতাল ছাড়লেন ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
অগ্নিঝুঁকিতে ঢাকার হাসপাতাল
.............................................................................................
এবার শপথ নিলেন মোকাব্বির খান
.............................................................................................
অটিজম প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে যা আছে
.............................................................................................
তিন দিনের সফরে ব্রুনাই যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর ১৫ নির্দেশনা
.............................................................................................
চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে
.............................................................................................
পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার আদেশ বহাল
.............................................................................................
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাধীনতার সুফল পৌঁছাতে কাজ করছে সরকার
.............................................................................................
প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
.............................................................................................
স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস
.............................................................................................
এক মিনিট নীরব থাকবে বাংলাদেশ
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই
.............................................................................................
তৃতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোট চলছে
.............................................................................................
পদ্মাসেতুতে বসছে নবম স্প্যান
.............................................................................................
দ্বিতীয় দিনে সড়কে শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি চলছে
.............................................................................................
জাতির পিতার ঐক্যের ডাক আজও প্রাসঙ্গিক
.............................................................................................
রমজানে পণ্যবাজার নজরদারির উদ্যোগ
.............................................................................................
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী, ৩১ প্রকল্পের উদ্বোধন
.............................................................................................
সোমবার কেবিনে নেয়া হতে পারে ওবায়দুল কাদেরকে
.............................................................................................
৭৮ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে
.............................................................................................
খুলে দেওয়া হয়েছে শ্বাসনালীর নল, কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
এমপি হিসেবে সুলতান মনসুরের শপথ
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
.............................................................................................
নকল প্রসাধনী কিনে ঠকছেন ক্রেতারা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft