মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পারিবারিক কলহে আত্মহত্যা করেছেন সালমান শাহ : পিবিআই

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই।

হত্যা মামলাটির তদন্ত শেষে সোমবার ধানমন্ডিতে সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন ডাকে পিবিআই। সেখানে চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পিবিআই প্রধান বলেন, ২০১৬ সালে পিবিআই তদন্ত শুরু করে। প্রায় ২৫ বছর আগের ঘটনা তাই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের জবানবন্দি গ্রহণ করতে বেশি সময় লেগেছে। ১৬৪ ধারায় ১০ জনের জবানবন্দি নিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই নতুন করে আলামত হিসেবে একটি ফ্যান জব্দ করেছে, ধারনা করা হয় ওই ফ্যানেই আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস, নিজস্বতার কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ওঠেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই ছিল সুপারহিট।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকা-ে জড়িত থাকতে পারেন

মামলাটি এরপর র‌্যাব তদন্ত করে। তবে র‌্যাবের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তখন থেকে পিবিআই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায়।

পারিবারিক কলহে আত্মহত্যা করেছেন সালমান শাহ : পিবিআই
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই।

হত্যা মামলাটির তদন্ত শেষে সোমবার ধানমন্ডিতে সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন ডাকে পিবিআই। সেখানে চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পিবিআই প্রধান বলেন, ২০১৬ সালে পিবিআই তদন্ত শুরু করে। প্রায় ২৫ বছর আগের ঘটনা তাই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের জবানবন্দি গ্রহণ করতে বেশি সময় লেগেছে। ১৬৪ ধারায় ১০ জনের জবানবন্দি নিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই নতুন করে আলামত হিসেবে একটি ফ্যান জব্দ করেছে, ধারনা করা হয় ওই ফ্যানেই আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস, নিজস্বতার কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ওঠেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই ছিল সুপারহিট।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকা-ে জড়িত থাকতে পারেন

মামলাটি এরপর র‌্যাব তদন্ত করে। তবে র‌্যাবের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তখন থেকে পিবিআই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায়।

সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়ায়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাডেজির এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ঘটে যায় স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রাস্তা জুড়ে পড়ে ছিল পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া মানুষের দেহের অংশবিশেষ, আটকে থাকা পোড়া গাড়ির কঙ্কাল। পোড়া ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে অঙ্গার হওয়া ৬৭ জনের লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। চারজন মারা যান চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তবে এক বছর পরও তিনটি লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। যাদের অবহেলা আর লোভে আগুনের এত ভয়াবহতা, সেই ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখিও করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে আজ নানা কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা শোকের দিনটি পালন করছেন।

সেদিনের ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে অহেদ ম্যানশন ভবনে আগুন লাগে। প্রথম থেকে তৃতীয়তলা পর্যন্ত ছিল বিভিন্ন মার্কেট এবং গোডাউন। সেখানে কেমিক্যাল ছিল। ক্ষণে ক্ষণে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

ধোঁয়ার কুণ্ডুলিতে পুরো চকবাজার এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে ছোটাছুটি করতে থাকেন। ভবনের আগুন পড়ে ছড়িয়ে আশপাশের ভবনেও। এ সময় যারা ভবনের ভেতর এবং চুরিহাট্টার রাস্তায় কিংবা দোকান, হোটেলে ছিলেন তারা আগুনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, দমকল বাহিনীর ৩৭টি ইউনিটের নিরলস চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৩টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল বেলা শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। রাস্তা বা দোকান. হোটেল বা ভবনের কক্ষ থেকে একে একে বের হয়ে আসতে থাকে পোড়া লাশ। বিভৎস পুড়ে চেনার উপায় নেই। অনেক মাংস পুড়ে কঙ্কাল হয়ে যায়। অনেকেই নিখোঁজ ছিলেন। যাদের খোঁজে স্বজনেরা ভিড় করছিলেন। তাদের আহাজারিতে চুড়িহাট্টার বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এখনও সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি অনেককে তাড়া করে।

সেই রাতে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৭ জন নানা পেশার শ্রমিক ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চার শিশুসন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তার স্ত্রী হাজেরা বেগম। ওই সময় চুড়িহাট্টার অদূরে ইসলামবাগে ভাড়া বাসায় থাকলেও বাসা ভাড়া কমাতে এখন কামরাঙ্গীরচরে বসবাস করেন তিনি। হাজেরা বেগম বলেন, শুরুর দিকে ধারদেনা করে চলেন। আর পেরে উঠছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সংসার চালাতে খেলনা তৈরির একটি কারখানায় কাজ নিয়েছেন।

সেই রাতে আগুনে পুড়ে যান দুই ভাই মাসুদ রানা (৩৮) ও মাহবুবুর রহমান রাজু (৩৪)। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত যে ভবন থেকে, সেই ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচতলায় ‘এম আর টেলিকম সেন্টার’ নামের দোকান চালাতেন তারা। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির ঘোষকামতা গ্রামে তাদের বাড়ি। মৃত্যুর ২৬ দিন আগে বিয়ে করেছিলেন রাজু। তিন মাস আগে তার স্ত্রী এক ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। রানা-মাসুদের বৃদ্ধ বাবা বাসিন্দা সাহেব উল্লাহ মিয়া বলেন, অনেক কষ্ট করে তাদের এত বড় করেছি, আর এভাবে চলে গেল। কীভাবে কী করব বুঝতে পারছি না। রাজুর ছোট ছেলে আর তার স্ত্রীরই বা কি ভবিষ্যৎ?

তিনি বলেন, আমার এত কষ্ট ঘোচাবে কে? তারাতো আমার বড় ভরসা ছিল। তাদের ছোট এক ভাই রয়েছে, সে সবেমাত্র পড়াশুনা শেষ করেছে। কিন্তু এত বড় দুই ছেলে এভাবে চলে গেল, এর চেয়ে বড় আর কি কোনো কষ্ট আছে?

যাদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২০’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই বেসরকারি সম্মাননা পদকপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেন তিনি।

এবার যারা একুশে পদক পেলেন:
ভাষা আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে হাজি আক্তার সরদার (মরণোত্তর), আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার।

এ ছাড়া ‘গবেষণা’য় একুশে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার প্রতি বছরের মতো এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, পুরস্কারের অর্থ এবং একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের একুশে পদক বিজয়ী হিসেবে ২০ ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাব্বানীর প্রতিবাদ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: বিদ্যুৎ বিলের বিভিন্ন চার্জ নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। এবার এ বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদেও (ডাকসু) জিএস গোলাম রাব্বানী প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন তিনি।

আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে রাব্বানী বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সেবার মান বা মূল্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলে জনস্বার্থে সেটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আবশ্যক মনে করি।

তিনি বলেন, নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উচিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া। না হলে বিল পেপারের ওপরে লাল হরফে লেখা দেশপ্রেমের বাণী আপনারা কতটা ধারণ করেন, সেটি নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠবে বৈকি!

স্ট্যাটাসে ডাকসু জিএস ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ডিমান্ড চার্জটা কী? কেন ডিমান্ড চার্জের নামে এই ৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে? এই টাকাটার গন্তব্যস্থল কোথায়?

রাব্বানী আরও বলেন, মিটার তো গ্রাহকের টাকায় কেনা। নিজের টাকায় মিটার কিনে মাসিক ১০ টাকা ভাড়া দিতে হবে কেন? এভাবে কত দিন মিটার ভাড়া দিতে হবে? দু-এক মাস নাকি প্রতি মাসেই? নাকি আজীবন?

‘সরকার নিচ্ছে ভ্যাট, আর পল্লী বিদ্যুৎ নিচ্ছে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, বিলম্ব মাসুল ইত্যাদি।’

তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের অধিকাংশ গ্রাহক নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সাধারণ মানুষ! তো, তারা এহেন শোষণ আর কতদিন সহ্য করবে? বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, শ্রদ্ধেয় অগ্রজ নসরুল হামিদ বিপু ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কচুরিপানা খেতে বলেননি মন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: কচুরিপানা খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেননি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বরং তিনি গবেষকদের বলেছেন- কিভাবে কচুরিপানা খাবার উপযোগী করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা করার জন্য। গতকাল পরিসংখ্যান বিভাগের গবেষণা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি কচুরিপানার প্রসঙ্গ টেনে গবেষকদের এ পরামর্শ দেন। এ সময় অডিয়েন্স থেকে ‘গরু কচুরিপানা খায়’ বলে একজন আওয়াজ করলে মন্ত্রী হাস্যরসের সঙ্গে বলেন- ‘গরু কচুরিপানা খেতে পারলে আমরা পারবো না কেন’। এ বিষয়ে আপনারা গবেষণা করবেন। গবেষকদের মাথা থেকে নতুন নতুন উদ্ভাবন বেরিয়ে আসে।

মন্ত্রী তার পুরো বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। কাঠালের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনের কথা বলেছেন। পোস্ট হারভেস্ট লস কমানো নিয়ে গবেষণা করতে বলেছেন। এক পর্যায়ে কচুরিপানার প্রসেঙ্গ তিনি গবেষকদের খাবার উপযোগী করা যায় কি না সে ব্যাপারে গবেষণা করতে বলেছেন।

এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের ডাইরেক্টর  (ডেপুটি সেক্রেটারী) বানসুরি এম ইউসুফ লিখেছেন-
“উন্নত বিশ্বে, বিশেষকরে জাপানে আপনি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে ভাতের প্যাকেট কিনলে অনেকক্ষেত্রে ভাতের দলার উপর একটি সবুজ প্রলেপ দেখতে পাবেন। এই প্রলেপসহ ভাত খেতে হয়।

আরও অনেক রান্নাকরা শুকনা খাবার এই সবুজ প্রলেপে মোড়ানো থাকে।

এই প্রলেপ কি? এটি সিম্পলি সামুদ্রিক কচুরিপানার পেস্ট দিয়ে তৈরী আস্তরণ।

সামুদ্রিক মাছ এবং উদ্ভিদে বিদ্যমান প্রচুর পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড (পুফা)কে মানুষের শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ‘এসেনশিয়াল ফ্যাটি’ এসিড বলা হয়।

এই এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিডের জন্যই কচুরিপানার একটা অংশকে খাবার উপযোগী করে তা দিয়ে বিভিন্ন খাবারের আস্তরণ দেয়া হয়।

সো, কচুরিপানা শুধু গরু না, মানুষও খায়। এ নিয়ে ট্রল করার কিছু নেই।”

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। আব্দুর রহিম নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারী মন্তব্য করেছেন- কচুরিপানা যে কোন পরিবেশেই জন্মাতে পারে, এমনকি বিষাক্ত পানিতেও এরা জন্মায়। কচুরিপানা অতিমাত্রার দূষণ ও বিষাক্ততা সহ্য করতে পারে। মার্কারী ও লেডের মত বিষাক্ত পদার্থ এরা শিকড়ের মাধ্যমে পানি থেকে শুষে নেয়। তাই পানির বিষাক্ততা ও দূষণ কমাতে কচুরিপানার চাষ অত্যন্ত উপকারী। পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে কচুরিপানা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ভেষজ চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আর আমাদের দেশে কৃষি জমিতে কচুরিপানা সার হিসেবে ব্যবহূত হয়। তাই কচুরিপানাই হয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
তারেক রহমান নামে অপর একজন লিখেছেন- কচুরিপানাকে আমরা এক বহিরাগত জলজ আগাছা বলেই জানতাম। এ দেশের জল থেকে কচুরিপানা নির্মূলের চেষ্টাও কম হয়নি। কিন্তু সময় ও অর্থের অপচয় ছাড়া তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত সে চেষ্টা বাদ দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন চেষ্টা। কীভাবে একে আপন করে নিয়ে নিজেদের কাজে লাগানো যায় তারই চেষ্টা। তখনই জানা গেছে, যাকে আমরা এতদিন ক্ষতিকর আগাছা বলে ভাবছিলাম তার মধ্যেই রয়েছে অসাধারণ সব গুণ। সত্যি কথা বলতে কি, এই সব গুণের দৌলতে কচুরিপানাই হয়তো আগামী দিনে হয়ে উঠবে আমাদের অমূল্য সম্পদ।

উল্লেখ্য, একসময়ে মাশরুমকে ব্যাঙের ছাতা হিসেবে চিহ্নিত করে ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যরুপে দেখা হতো। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর উপকারিতা প্রমাণিত হওয়ায় আজ ব্যাপক সমাদৃত। তদ্রুপ, আজকের সহজলভ্য কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার দুয়ার।

 

মেয়াদের বালাই নেই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মোহাম্মদপুর সংলগ্ন বেড়িবাঁধের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শ’য়ের উপর গরু-মহিষের দুগ্ধ খামার, যেখানে দুধ উৎপাদন ছাড়াও প্রতিদিন উৎপাদিত হয় বিপুল পরিমাণ দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য- বিভিন্ন ধরণের মিষ্টিসহ দই, ঘি, মাঠা এবং নানা প্রকার বেকারী সামগ্রী। এর সাথে কিছু খামারে সারা বছর উৎপাদন ও বিক্রি করা হয় মধু, সরিষার তেল, সুগন্ধি চাল, বিভিন্ন প্রকার ডালসহ রকমারি খাদ্যপণ্য।

কিন্তু এ খামারগুলোর উৎপাদিত পণ্য বছরের পর বছর দেদারছে বিক্রি হচ্ছে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদের কোন উল্লেখ ছাড়াই। খামার মালিকদের অনেকেই জানেন না তাদের পণ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকা আইন-বিরুদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য। এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক করারও যেন কেউ নেই। এ নিয়ে সচেতন ক্রেতারা প্রশ্ন তুললে উল্টো খামার মালিকদের ধমক খেতে হয় ক্রেতাদের। এভাবেই চলে আসছে এ খামারগুলোর পণ্য উৎপাদন কারবার।

খোদ রাজধানী- যেখানে জনবসতির মধ্যে গরুর খামার থাকাই উচিৎ নয়, সেখানে খামার করে মেয়াদ উল্লেখ ছাড়াই খামারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করছে খামারীরা ভ্রুক্ষেপহীনভাবে। এ অবস্থা কম-বেশি সারা দেশেই। যত্রতত্র বেকারী, সেমাই কারখানা এবং অন্যান্য নিত্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হচ্ছে কোন রাখঢাক ছাড়াই।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত পণ্য ও খাদ্যপণ্য বিপণনের আগে মেয়াদের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হয়। বিভিন্ন দেশে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বাংলাদেশেও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে মেয়াদ বসানো বাধ্যতামূলক। তবে সেটা অনেকটাই কাগুজে কথা। জোরালো নজরদারি না থাকায় অনুমানের ভিত্তিতে মেয়াদ ও উৎপাদনের তারিখ বসানোর অভিযোগ রয়েছে। কারণ অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে দেশজুড়ে। এই সব হাতুড়ে উৎপাদকদের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞের মতামতে সেলফ লাইফ স্টাডি করে পণ্যে মেয়াদ বসানোর আশা করা কল্পনারও বাইরে।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই খাদ্যপণ্য অনুমোদন ও মেয়াদ রাখার বিষয়টি নির্ধারণ করলেও কীভাবে এসব দেয়া হচ্ছে তা খুব একটা খোঁজ রাখেন না বলে অভিযোগ আছে। যদিও তারা পণ্যে মেয়াদ উল্লেখের বিষয় নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা নিয়মিত এসব বিষয় তদারকি করেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের সেলফ লাইফ স্টাডির সঙ্গে পণ্যের মানের ভিন্নতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- জানান কর্মকর্তারা।

দেশে মোড়কজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে মেয়াদ ও উৎপাদনের তারিখ বসাতে কোনো নিয়মনীতিরই তোয়াক্কা করছে না উৎপাদক ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেকটা আন্দাজের ওপরেই তারা পাস্তুরিত দুধ, বেকারি পণ্য, পোল্ট্রি মুরগির মাংসসহ নানা খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ বসাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কিসের ভিত্তিতে এই মেয়াদের দিন নির্ধারণ করছে তা জানতে মাঠে নেমেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমন অবস্থায় এবার পণ্যে মেয়াদ দেয়ার বিষয়টি দেখভালে মাঠে নেমেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ভেজাল, মানহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি রোধে কাজ করে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে নির্দেশনাপত্র। আলাদা করে সবাইকে দিতে হবে খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা গবেষণার ওপর দেয়া হয় তার সেলফ লাইফ স্টাডি রিপোর্ট।

বিশেষ করে দুধ, বিস্কুট কেকসহ অন্যান্য বেকারি আইটেম, জুস, পোল্ট্রি, মাংস এবং রান্নার জন্য প্রস্তুত থাকে এমন পণ্যের প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হচ্ছে এই চিঠি। আগামী ৭ মার্চের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
জানা যায়, নির্ধারিত তারিখের পর প্রতিবেদন পেয়ে তদন্ত করা হবে। কিসের ভিত্তিতে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান পণ্যে মেয়াদ দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসলেই কোনো বিশেষজ্ঞ আছে কি না সেসব দেখার পর ভুয়া প্রমাণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই বলেও জানানো হয়। আরও জানা যায়, দেশে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেয়া হলো। উন্নত বিশ্বে এ বিষয়টি অবশ্যই পালন করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে কে কীভাবে তারিখ বসিয়ে দিচ্ছে খোঁজও নাই। এতে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এটাই সবটুকু নয়, এসব পণ্যের মধ্যে যেগুলো ফ্রিজে রেখে বিক্রি করতে হয় তা নির্ধারিত তাপমাত্রায় রাখা হয় কি না সেদিকটাও তদারকি করবে প্রতিষ্ঠানটি। পণ্যের বিক্রেতার ফ্রিজিং তাপমাত্রা-১৮ ডিগ্রির ওপরে রাখার নিয়ম। কিন্তু কোথাও এটা মানা হয় কি না তাও দেখা হবে।

জানা গেছে, খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেয়। আর সেই মান বজায় থাকে কিনা তা মনিটরিং করার দায়িত্বও তাদের। বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ১৮১টি পণ্যের বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগে। এর মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্য ৭৬টি।

উন্নত দেশগুলোতে হুট করে কোনো পণ্য বাজারে আনা সম্ভব হয় না। আমাদের এখানে পণ্য বাজারে আনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্বে পণ্যে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দিয়ে থাকে।বাজার থেকে মাঝে মাঝেই এসব পণ্য সংগ্রহ করে তাদের সেলফ লাইফ স্টাডি অনুযায়ী মান ঠিক আছে কি না সেটা পরীক্ষা করা দরকার। সেখানে ভেজাল পেলে ব্যবস্থা নেয়াও জরুরী। রাজধানীতে এই কাজ করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা আছেন মাত্র ২৫ জন যা প্রয়োজনের তুলনায় যে অপ্রতুল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মলম পার্টি, পাতি নেতা নিয়ে কাজ করতে হয় : সিইসি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, গুলিস্তান মহল্লায় হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়, কিছুদিন পরে দেখা গেল যে সেও একজন নেতা। এরপর পাতি নেতা, উপনেতা, পূর্ণ নেতা তারপর কমিশনার হয়ে যায়।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৪৯ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষে রোববার আয়োজিত ১২ দিনব্যাপী এক কর্মশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয়, আমেরিকা এমন করে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিতে এইরকম হয়। আমাদের এখানে হয় না কেন? সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসেছিল, আমি অত্যন্ত নিচুগলায় বললাম কানেকানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপরে। ইউ মাস্ট থিঙ্ক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। সেটা সে কী অবস্থায়, তার ওপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে মলম পার্টি, ব্যাগ টানা পার্টি, ক্যাসিনো মেম্বার ও পকেটমার নিয়ে কাজ করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ...দেখা গেল যে একবার এই যে গুলিস্তানে, মহল্লায়, যারা এই যে হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়। কিছুদিন পর হয়তো দেখা গেলো, নেতা, পাতি নেতা, উপ-নেতা তারপর পূর্ণ নেতা। তারপর কমিশনার। এগুলোওতো আমাদের দেখতে হয়। হু নোজ যে একদিন এমপি হবেন না তিনি। সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।

নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। এই দায়িত্ব আর কারো উপর দেওয়া হয়নি। তার মানে সমাজের সর্বস্তরের সংমিশ্রণগুলো, তার সবগুলো আপনারা একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করার উপায় হলো চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। আর আপনাদের ব্যক্তিত্ব।

চীনে মাস্ক-গ্লাভস পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও হাত মোজা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এ ভাইরাস শনাক্তে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে পাঁচশ কিট উপহার দেওয়া হয়েছে।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে পাঁচশ কিট উপহার দেওয়া হয়েছে। এসব কিট দিয়ে ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে কিটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩১২ জনকে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট গিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি তাদের দেশে ফেরত আনে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে বিমানের ওই পাইলটদের আর প্রবেশ করতে দিচ্ছে না অন্য দেশ। এতে বিপাকে পড়েছে বিমান।

তিনি আরো বলেন, চীনের বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ আরো ১৭১ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের আরো কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার পর দেশে ফেরার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, চীন সরকারকে মাস্ক, গ্লাভস উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনা রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চিঠি হস্তান্তর করেন।

ড. মোমেন বলেন, তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনা নাগরিকদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যেকোনও ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।

চিঠি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ভাইরাসের আক্রমণে স্বজন হারানো চীনা পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। চীন সরকার কর্তৃক দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সঠিকভাবে সেবা প্রদানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। চীন দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি চিঠিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ড. মোমেন বলেন, একমাত্র সিঙ্গাপুর ছাড়া কোথাও কোনো বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। এছাড়া এই ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের চীনা প্রজেক্ট ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না।

বাড়ি ফিরলেন উহানফেরত ৩১২ বাংলাদেশী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশি ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে থাকার পর বাড়ি ফিরে গেছেন।

রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পৃথকভাবে ভাগ হয়ে হজ ক্যাম্প ছাড়েন ১১২ বাংলাদেশি। এর আগে শনিবার ঘরে ফেরেন ২০০ বাংলাদেশি।

শনিবার আশকোনা হজ ক্যাম্পে তাদের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রাতে প্রত্যেককে স্বাস্থ্য সনদ ও সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়া শেষে অনেকে রাতেই বাড়ি ফিরেন। বাকিরা রোববার সকালে ফিরে যান। তবে বাড়ি ফিরে গেলেও প্রত্যেককেই আইডিসিআর’র সাথে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ না করতে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানিয়েছে আইইডিসিআর। এতে বলা হয়, উহান ফেরত যাত্রীদের ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা সব পক্ষের পেশাগত নৈতিক দায়িত্ব। এ কারণে কোয়ারেন্টাইন সমাপনী কার্যক্রম সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়নি।

গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবণ করবেন আশাবদ ব্যক্ত করে বিজ্ঞপ্তিতে স্পর্শকাতর জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলয় সাংবাদিক ও সংশ্নিষ্ট মহলকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, উহান ফেরতদের বিষয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। করোনা সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করলে তারা সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, হজ ক্যাম্পে কোয়েরান্টাইনে থাকা কারও শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমস্ত গাইডলাইন অনুসরণ করে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তারা সবাই সুস্থ আছেন। এ কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি চীনের উহান থেকে দেশে আসেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। এরপর তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্প ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশকে গড়ার জন্য আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ যে আজ এগিয়ে যাচ্ছে সেজন্য এই বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তারা যে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের এই দায়িত্ব পালন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি সবাই একযোগে এভাবে দায়িত্ব পালন করি, সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর হবে আলোকিত। প্রতিটি গ্রাম হবে সমৃদ্ধ। গ্রামপর্যায় পর্যন্ত আমরা শহরের সব সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেব।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপির ৪০তম জাতীয় সমাবেশ এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ পাবে। শহরে সাধারণ মানুষ যেমন নাগরিক সুবিধা পায়, গ্রামের মানুষও সেই নাগরিক সুবিধা পাবে। প্রতিটি গ্রাম হবে শহরের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগর।

পাশাপাশি একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল। কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের আম্রকাননে ওই সরকার গঠন হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এই বাহিনী গঠন করেছিলেন। এই বাহিনী জাতীয় নির্বাচন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মূল, বিমানবন্দর ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় তারা জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করছে। বিশেষ করে বিএনপি যখন অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে তখন এই বাহিনী সারাদেশে বিএনপিকে দমন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আনসার বাহিনীর যে কোনো সমস্যার সমাধানে আমাদের সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এই বাহিনীর উৎকর্ষতা সাধনে যত প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা দরকার তা করেছে। এই বাহিনীর জাতীয় পতাকা ছিল না। তাদের জাতীয় পতাকা প্রদান, স্বাধীনতা পদক প্রদান, তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বাহিনীর জন্য একটি ব্যাঙ্ক করে দেয়া হয়েছে। এখান থেকে তারা যখন ইচ্ছে তখন ঋণ নিতে পারেন। ঝুঁকি ভাতাও প্রবর্তন করেছে আমাদের এই সরকার।

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি সফিপুরে এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উপস্থিত ছিলেন।

বেলা পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি সফিপুরে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংগীতের সুর বেঁজে ওঠে। এরপর খোলা জিপে করে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে আবার ফিরে যান অভিবাদন মঞ্চে। সেবামূলক ও সাহসীকতাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪৩ জনকে পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : চীনে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।  তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাস যাতে দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিক বিবেচনা করে সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন করোনাভাইরাস চায়নাতে একটা মহামারি আকারে ছড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে এবং সংক্রমিত হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজারের বেশি। আমরা আনন্দের সঙ্গে এটুকু বলতে পারি যে, বাংলাদেশে এখনো কোনো করোনাভাইরাসের রোগী আমরা পাইনি। করোনাভাইরাস যাতে দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিক বিবেচনা করে আমরা সব ব্যবস্থা হাতে নিয়েছি। ঢাকায় তিনটি হাসপাতালকে আমরা তৈরি রেখেছি যেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে। ডাক্তার নার্সদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রিটমেন্ট প্রটোকলও ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি বুকলেটের মাধ্যমে। এই বুকলেটটি সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

পাঁচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নসহ পাঁচটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, ১৮টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন, শতভাগ বিদ্যুতায়িত ৭টি জেলা, ১টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এব রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, এর ওপর একটি ভিডিওচিত্র পরিবেশন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম। বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর উপস্থাপনা এবং ভিডিওচিত্র পদর্শন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : চারদিনের সরকারি সফর শেষে ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ৭টা ৫৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ইতালির স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে মিলান মালপেঁসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে।

ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান সিকদার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

ইতালির রাজধানী রোম থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মিলান এসে পৌঁছান। এর আগে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিওসিপে কঁ’তের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের সরকারি সফরে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রোম যান।

ইতালি সফরকালে ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন পালাজো চিগিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে, তিনি রোমের ভায়া ডেল অ্যান্টারাইড এলাকার বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেন।

ইতালির ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল তার অবস্থানকালীন হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পার্কো দ্য প্রিনসিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পা’তে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ৬ ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসে’র সঙ্গে ভ্যাটিক্যান সিটিতে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ইতালির শাখার উদ্যোগে পার্কো দ্য প্রিনসিপি গ্রান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পা’তে আয়োজিত এক সংবর্ধনাতেও অংশগ্রহণ করেন।

বিদেশে যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় : প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : বিদেশে যাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়, প্রবাসীদের সেভাবে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনাদের আচার-আচরণ, ব্যবহার সব কিছুতে যেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। প্রত্যেক উপজেলা থেকে আরও ১ হাজার করে লোক প্রবাসে পাঠাতে সরকার একটা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

ইতালি সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রোমের পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেলে ইতালি আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানির প্রসঙ্গ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমি জানি যে, প্রবাসী কেউ যদি দেশে যায় বিমানবন্দরে মাঝে মধ্যে খুব হয়রানির শিকার হতে হয়। আসলে আমাদের দেশের কিছু মানুষের চরিত্রই খারাপ। যেই শুনে বাইরে থেকে আসবে তখন ভাবে একটু চাপ দিলে বোধহয় ডলার পাওয়া যাবে।

ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখবেন ঘুষ যে দেয় সেও যেমন অপরাধী আর যে নেয় সেও অপরাধী। যে নেয় শুধু সে অপরাধী নয়, যারা দেয় তারাও অপরাধী।’

ডিজিটাল পাসপোর্টের পর এখন ই-পাসপোর্ট চালুর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন ই-পাসপোর্টের যুগ। আমরা ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছি। যাতে কেউ আর ধোঁকায় না পড়ে। সে ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি।

তিনি বলেন প্রত্যেকটা জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছি। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন ধরা পড়ে। ধরা পড়া শুধু না, তথ্য সরাসরি আমার কাছে চলে আসে।

দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের ‘যে কোনো জাতির সঙ্গে’ প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশ এখন অর্জন করেছে। এ দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ শতাংশ এখন নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হয়।

বাংলাদেশ নিয়ে অতীতে বিদেশিদের নেতিবাচক মনোভাবের ছিল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটা অবস্থা ছিল এক সময়, বাংলাদেশ শুনলে আগেই বলত ওহৃ বাংলাদেশ ওখানে তো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, মানুষ খেতে পায় না, দুর্ভিক্ষ লেগে থাকে। বাংলাদেশটাকে একটা হেয়`র চোখে দেখতো। যেটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক ছিল। যেটা আমাদের জন্য কষ্টের ছিল।

আর  এক সময়ের ‘দাতা দেশগুলোও’ এখন বাংলাদেশকে আর ‘ভিক্ষা দিতে’ না এসে বরং ‘উন্নয়ন সহযোগী’ মনে করে সহযোগিতা করতে আসে মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, কারো কাছে আমরা ভিক্ষা চাই না। আমরা নিজেরা পারি সেটা প্রমাণ করেছি।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক চেয়েছিল আমাদেরকে বদনাম দিতে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। তারপর বলেছিলাম ওটা আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করব। আজকে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করছি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলেছিলেন। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। আমরা আজকে সেখানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বিরোধী দলে থাকতেই তার প্রতিজ্ঞা ছিল, কোনোদিন সরকার গঠন করার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, এমনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব... যে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে, সেই বাংলাদেশ শুনলে যেন মানুষ বলে... নাহ বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। আজকে মুজিববর্ষে এসে এইটুকু দাবি করতে পারি, আমরা কিন্তু বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে সেই জায়গায় আনতে সক্ষম হয়েছি।

প্রবাসীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের জনগণ মাথা উঁচু করে চলবে। সেই মাথা উঁচু করে চলবার মতনই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আপনাদেরকেও সেভাবে আপনাদের আচার-আচরণ ব্যবহার- সবকিছুতে সেটা বজায় রাখতে হবে। যেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।

আর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে, আমার কিন্তু বয়স হয়ে গেছে। আমার কিন্তু ৭৩ বছর বয়স, এটা মাথায় রাখতে হবে। কাজেই আগে যখন অল্প বয়স ছিল অনেক ঘুরেছি। এখন আর এত সম্ভব না। তারপরও কাজ অনেক বাকি রয়ে গেছে। কাজেই যতটুকু সময় পাই, ততটুকু সময় দেশের কাজ করার চেষ্টা করি। যত দ্রুত এই দেশটাকে উন্নত করতে চাই। সেজন্য সকলের সহযোগিতা চাই।

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদার, ইতালী আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিস ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চাহিদা বেড়েছে মাস্কের, দাম আকাশ ছোঁয়া
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত না হলেও আতঙ্কে চাহিদা বেড়েছে ফেস মাস্কের। আর এই সুযোগে মজুদ সংকট দেখিয়ে লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মাস্ক বিক্রেতারা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথমদিকে অনেকে ৫০০ থেকে এক হাজার এমনকী দুই হাজার মাস্ক পর্যন্ত কিনে নিয়েছেন। আর যেসব কোম্পানি থেকে তারা এগুলো কিনতেন সেসব কোম্পানি থেকে এখন আর সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, এর আগে যেসব সার্জিক্যাল মাস্ক তারা বিক্রি করতেন, সেগুলো বেশিরভাগই ছিল চীনের আর ভারতের। কিন্তু সেগুলো এখন আর আসছে না।

গত মাসে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস ব্যাপক সংক্রমণের পর তা বৈশ্বিক খবরে রূপ নেয়। কয়েকদিনের মধ্যে চীনের সব অঞ্চলে ছড়ানোর পর বিশ্বের আরও ২৫টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিক এবং উহান থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের পরীক্ষা করে ভাইরাস সংক্রমণ ধরা না পড়লেও গত বছরের ডেঙ্গুর ঝড় পেরিয়ে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ভাইরাসও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সার্জিক্যাল আইটেমের মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে মাস্কের খোঁজ করছেন ক্রেতারা। দোকানে মাস্ক পাওয়া গেলেও তার দাম আকাশ ছোঁয়া। আবার বেশির ভাগ দোকানে পাওয়াই যাচ্ছে না। আতঙ্কিত মানুষ মাস্ক কিনতে ঘুরছেন মার্কেট থেকে মার্কেটে।

শাহবাগের ওষুধ মার্কেটের নিউ পপুলার ফার্মেসিতে মাস্ক কিনতে আসেন বেসকরারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ফজলুল করিম আশিক। কিন্তু সেখানে মাস্ক না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ৮-১০টি ফার্মেসি ঘুরেছি, কোথাও মাস্ক পাইনি। এখন বোধ হয় এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ওষুধটিও পাওয়া যাবে, কিন্তু পাঁচ টাকার মাস্ক পাওয়া যাবে না। কিছুটা ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সময়ে ৮০ টাকার অয়েন্টমেন্টের দাম বেড়ে হলো হাজার টাকা, সেটাও পাওয়া যায়নি। আর করোনা নিয়ে যতোই আতঙ্ক বাড়ছে ততোই বাজার থেকে উধাও হচ্ছে ফেস মাস্ক।

বেল-ভিউ ফার্মার সত্ত্বাধিকারী রিপন সামাদ বলেন, দেশে ফেস মাস্কের চাহিদা বছর জুড়ে থাকে ১০ হাজারের মতো। কিন্তু এখন হঠাৎ করে সেই চাহিদা দুই থেকে তিন লাখে ঠেকেছে। ডিমান্ড বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার থেকে মাস্ক নাই হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে অনেকে এসে যত দামই হোক না কেন মাস্ক চেয়েছেন। অথচ আমরা দিতে পারিনি। আমরাই তো পাচ্ছি না, দেব কোথা থেকে।

ইতালির পথে প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তের আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক সফরে ইতালির রোমের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বুধবার  দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-১২০১’ ভিভিআইপি ফ্লাইটে রোমের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৪টায় রোমের ফিয়ামিকিনো বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন।

বিমানবন্দরে সংবর্ধনা শেষে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় নিয়ে যাওয়া হবে। ইতালি সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।

একই দিন সন্ধ্যায় পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় বাংলাদেশ কমিউনিটির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। একদিন পর বুধবার সকালে রোমের ভায়া ডেল’ এন্টারটাইড এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সরি ভবনের উদ্বোধন করবেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কন্টির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন পালাজো চিগিতে এক আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন।

দুই শীর্ষ নেতা সম্মেলনে বৈঠক করে তাদের দ্বিপক্ষীয় সার্বিক ইস্যুগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরে ইতালীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় তার হোটেল স্যুটে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী পরে পার্কো দে প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে শেখ হাসিনা পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ওইদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ট্রেনে করে রোম থেকে ইতালির মিলান শহরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় তিনি সেখানে পৌঁছবেন।

মিলান সফরের সময় তিনি এক্সেলসিয়ার হোটেল গালিয়ায় অবস্থান করবেন। শুক্রবার  স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আমিরাতের একটি ফ্লাইটে মিলান মালপেন্সা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার দুবাই হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন।


   Page 1 of 270
     জাতীয়
পারিবারিক কলহে আত্মহত্যা করেছেন সালমান শাহ : পিবিআই
.............................................................................................
সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়ায়
.............................................................................................
যাদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রাব্বানীর প্রতিবাদ
.............................................................................................
কচুরিপানা খেতে বলেননি মন্ত্রী
.............................................................................................
মেয়াদের বালাই নেই
.............................................................................................
মলম পার্টি, পাতি নেতা নিয়ে কাজ করতে হয় : সিইসি
.............................................................................................
চীনে মাস্ক-গ্লাভস পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
বাড়ি ফিরলেন উহানফেরত ৩১২ বাংলাদেশী
.............................................................................................
আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে
.............................................................................................
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
পাঁচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিদেশে যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় : প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
চাহিদা বেড়েছে মাস্কের, দাম আকাশ ছোঁয়া
.............................................................................................
ইতালির পথে প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
করোনাভাইরাস আতঙ্ক
.............................................................................................
চীনাদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করল সরকার
.............................................................................................
অমর একুশে বইমেলা শুরু আজ
.............................................................................................
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ভোটের প্রচার
.............................................................................................
চীন ফেরত নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ
.............................................................................................
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকবে বৃহস্পতিবারও
.............................................................................................
চীন ভ্রমণ না করার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
.............................................................................................
প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি
.............................................................................................
চীনে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
আ.লীগের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট ৮৫ আর বিএনপির ৬ শতাংশ
.............................................................................................
রেলসহ একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মাঘের শীতেও ঘাম ঝরছে প্রার্থীদের
.............................................................................................
সীমান্ত হত্যায় নতুন উদ্বেগ
.............................................................................................
দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত
.............................................................................................
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
.............................................................................................
পদ্মা সেতুতে বসল ২২তম স্প্যান
.............................................................................................
পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান বসছে আজ
.............................................................................................
ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল ৪ জনের
.............................................................................................
আজ থেকে ফের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে ॥ দৈনিক স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
‘মতিউরসহ ৬ জন গ্রেপ্তার’ শীর্ষক ভুল শিরোনামে সংবাদ প্রকাশে দুঃখ প্রকাশ
.............................................................................................
ভারতের সিএএ পাশের প্রয়োজন ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বুধবার চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেবা
.............................................................................................
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শেষ
.............................................................................................
স্মার্ট ঢাকা সিটি গড়তে চান আতিক
.............................................................................................
ধর্ষকদের ক্রসফায়ার ব্যক্তিগত মতামত: কাদের
.............................................................................................
সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়তে পারে
.............................................................................................
জাপায় ফের দেবর-ভাবির লড়াই
.............................................................................................
বিকেলে সিলেট যাচ্ছেন পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
ইভিএম দিয়ে ভোট চুরি করা যায়: তাবিথ
.............................................................................................
তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল
.............................................................................................
শ্যামলীতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
.............................................................................................
ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft