শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার ফাউন্ডেশন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় মন্ত্রী হাসপাতালের কার্যক্রম ও  রোগী সেবার মান এবং অন্যান্য দিক পর্যালোচনা করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যেহেতু হাসপাতালটি একটি অলাভজনক ও দাতব্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সাহায্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

এরপর মন্ত্রী উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভা কক্ষে হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ এর কর্মরত উর্ধ্বতন চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সভাপতি ডঃ এ.কে মুবিন, সেক্রেটারি ডাঃ জাহানারা আলাউদ্দিন,  কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির ও ডঃ শওকত আলী, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডঃ শামসুল হুদা। এছাড়া  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক, কান, গলা বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ বেলায়েত, অধ্যাপক ডাঃ জোয়ার্দার, ও ডাঃ কামরুল হাসান তরফদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার ফাউন্ডেশন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় মন্ত্রী হাসপাতালের কার্যক্রম ও  রোগী সেবার মান এবং অন্যান্য দিক পর্যালোচনা করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যেহেতু হাসপাতালটি একটি অলাভজনক ও দাতব্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সাহায্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

এরপর মন্ত্রী উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভা কক্ষে হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ এর কর্মরত উর্ধ্বতন চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সভাপতি ডঃ এ.কে মুবিন, সেক্রেটারি ডাঃ জাহানারা আলাউদ্দিন,  কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির ও ডঃ শওকত আলী, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডঃ শামসুল হুদা। এছাড়া  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক, কান, গলা বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ বেলায়েত, অধ্যাপক ডাঃ জোয়ার্দার, ও ডাঃ কামরুল হাসান তরফদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি ডিসেম্বর মাসেই চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম। ইতিমধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর সব কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। এখন সময় নির্ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়েই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তিন ধরনের ফির বিধান রেখে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ পাসপোর্টের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না। এমনকি ছবি সংযোজন ও তা সত্যায়ন করারও দরকার হবে না। তবে পাসপোর্ট পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি থাকতে হবে। তাছাড়া ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদকাল, বিতরণের ধরন অনুসারে ভ্যাট ছাড়া সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে পাসপোর্টের জরুরি ফি ভ্যাটসহ তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ছয় হাজার ৯০০ টাকা।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাই মাসেই ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই বর্তমানে প্রচলিত মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) বই সঙ্কট দেখা দেয়। ফলে সারা দেশে জরুরি পাসপোর্ট পেতেও বিলম্ব হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে পাসপোর্ট বই সংগ্রহ করেছে। সেগুলো দিয়ে এখনো এমআরপির কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এ পাসপোর্ট চালুর জন্য অনেক আগেই জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তাদের কারিগরি সহযোগিতায় ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যাও হবে দুই ধরনের, ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বিতরণের পদ্ধতি তিন ধরনের হবে। যথা- সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি।

দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য সঠিক থাকলে ২১ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। আর জরুরিভাবে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। অতি জরুরি পাসপোর্ট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেয়া হবে।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি ফি পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি সাত হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি পাঁচ হাজার টাকা, জরুরি ফি সাত হাজার টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা। তাছাড়া ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি ফি সাত হাজার ৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি সাত হাজার টাকা, জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২ হাজার টাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

এদিকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ আজহারুল হক জানান, ডিসেম্বর মাসে ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তারিখ যেদিন পাওয়া যাবে সেদিনই উদ্বোধন করা হবে। ই-পাসপোর্ট ও এমআরপি দুটিই চালু থাকবে। নাগরিকরা যে ধরনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবে, তাদের সেই পাসপোর্টই সরবরাহ করা হবে।

তিন বিভাগে তেল বিক্রি বন্ধ দ্বিতীয় দিনে
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : জ্বালানি তেল বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা বীমা চালুসহ ১৫ দফা দাবিতে দেশের তিন বিভাগে পেট্রোল পাম্পে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মত রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির ডাকে ২৬ জেলায় অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির কারণে তেলে চালিত যানবাহন একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ২৬ নভেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রতন।

সে অনুযায়ী তিন বিভাগের সব জেলায় রোববার সকাল থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর শ্রমিকরা তেল উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় ২৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ফলে প্রথম দিনে রোববার যানচলাচলে তেমন প্রভাব না পড়লেও আজ (সোমবার) থেকে প্রায় অচল হয়ে যেতে পারে তিন বিভাগের সড়কপথ। সেই সঙ্গে বিপর্যস্ত হবে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। তেল উত্তোলন করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সব ধরনের পরিবহন চালকরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। আজও ট্যাংকলরিগুলোকে ডিপো ও বিভিন্ন পেট্রলপাম্পের সামনে অলসভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে তিন বিভাগে তেল সরবরাহে বিঘœ ঘটবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ছাড়াও কৃষিজমিতেও পানি সেচ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পেট্রলপাম্প বন্ধের সুযোগে অতিরিক্ত দামে খোলা তেল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

যদিও ধর্মঘটের কারণে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমেশ চন্দ্র ঘোষ। তিনি জানান, বেশিরভাগ বাস ঢাকা থেকে তেল নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে গিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারে। তবে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওয়ের মতো বেশি দূরত্বের দু-একটি গন্তব্যে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ১৫ দফা দাবি পূরণে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা দাবি না মানায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক অমীমাংসিত দাবিসমূহ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছে। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ফিলিং স্টেশন তথা জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন দফতর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধান। যা মেনে নিয়ে জ্বালানি ব্যবসা আদৌ সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুলনা বিভাগের সব জেলায় এবং বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে। আর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে তেল সরবরাহ করা হয় সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে। ধর্মঘটের কারণে এই দুই স্থানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে গতকালের মতো আজও তেল উত্তোলন, বিপণন ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ডিলার ডিস্ট্রিবিউটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-মহাসচিব ও খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রলপাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রলপাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রলপাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্ট্রোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রলপাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত অন্য দফতর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দফতর ব্যতীত সরকারি অন্যান্য দাফতরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদেরকে অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রলপাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রলপাম্পের পাশে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা। এই ১৫টি দাবিতে আমরা ধর্মঘট পালন করছি।

মাগুরার মেসার্স জামান দত্ত ফিলিং স্টেশনের মালিক সঞ্জয় দত্ত জানান, বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ১৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের সব পাম্পে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চলমান ধর্মঘটের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হলেও আমরা ব্যবসায়ীরাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তাই ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছি।

মেহেরপুর মাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন আঙ্গুর জানান, এটি কেন্দ্রের সীদ্ধান্ত। আজ দুপুরে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে তেল বিক্রয় শুরু হবে।

ধর্মঘটের বিষয়ে রংপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, সরকার গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সিদ্ধান্তে ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমাজের এই ‘অসুস্থতাগুলো’ দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর ধরে দেশ শাসনকারীদের অপকর্মের কারণে অনেক ময়লা ও আবর্জনা জমে গেছে এবং মানুষের চরিত্রে ভাঙন ধরেছে।

স্পেনের স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় হোটেল ভিলা মাগনায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। খবর বাসসের

স্পেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজেকে বাংলাদেশের জনগণের ‘সার্বক্ষণিক কর্মী’ হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জনসাধারণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণের একজন সার্বক্ষণিক কর্মী। আমি বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি যাতে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার মানুষ আমাদের কাজের সুফল পেতে পারে।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, এক শ্রেণির মানুষ ঘুষ-দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে, সন্ত্রাস করে, লোকজনের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবন-যাপন করতে চায় এবং তারা বলতে চায় যে ‘মুই কি হনুরে’। তিনি বলেন, কিন্তু আমরা চাই জনগণের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতা থাকবে না এবং সমাজের এই অসুস্থতা নির্মূল করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অসৎ পথে থেকে ‘বিরিয়ানি’ খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে থেকে ‘নুন-ভাত’ খাওয়া অনেক ভাল। আমরা জাতির জনকের কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই শিক্ষা দিতে হবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি থেকে খেলাধুলা সকল ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাম শুনলে অন্যান্য দেশের মানুষ এখন বাংলাদেশকে সম্মান করে। কিন্তু তারা আগে জানতো যে বাংলাদেশ হচ্ছে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ ও দুর্নীতির দেশ।

তিনি আরো বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ , মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এই অভিযান চলবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু এখন সে দুর্নাম ঘুচে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের অদম্য অগ্রগতি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যাতে বাংলাদেশকে আর কখনও পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়। তিনি বলেন, আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি যাতে আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর জীবন লাভ করে।

সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। রোববার (১ ডিসেম্বর) সকালে সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এই আইন মেনে চলতে পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

এসময় নিসচার প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক পরিবহন আইন কারও বিপক্ষে নয়, সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষার জন্যই এই আইনের বাস্তবায়ন করা জরুরী।

স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য করযোগ্য সবাইকে কর দিতে হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট:স্থিতিশীল উন্নয়ন চাইলে অবশ্যই কর জিডিপির অনুপাত বাড়াতে হবে। আর এজন্য করযোগ্য সবাইকে কর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ থাকলেও কর দেন মাত্র ১ শতাংশ। এটি গৌরবের বিষয় নয়। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম সংখ্যক মানুষ কর দেন।

আয়কর দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শনিবার তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি এনবিআরের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব, পল্টন হয়ে আবার এনবিআরের সামনে এসে শেষ হয়।

এবারের জাতীয় আয়কর দিবস-২০১৯ এর স্লোগান হচ্ছে- ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর।’ আর প্রতিপাদ্য ‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন।’ রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরেও জাতীয় আয়কর দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লাইনের সংস্কারসহ বাড়ছে ট্রেনের গতি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার। আর এই সামান্য গতিবেগে ট্রেন ছুটতে গিয়েও হরহামেশা ঘটছে দুর্ঘটনা। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারত কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ চীনে ট্রেনের গতি ১০০-৩৮০ কিলোমিটার। এমন পরিস্থিতিতে রেললাইন ব্যাপক সংস্কারসহ ট্রেনের গতি বাড়াতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শম্ভুকগতিতে নয়, দেশে ট্রেন চলাচলের গতি অন্তত ১৬০ কিলোমিটারে উন্নীত করতেও উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারা বিশ্বেই ট্রেন এখন অন্যতম যানবাহন। এদেশের মানুষের কাছেও ট্রেন জনপ্রিয়। কিন্তু মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ট্রেনসেবা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মানুষের জানমালেরও ক্ষতি হচ্ছে। এমন অবস্থায় রেলের প্রতি আস্থা ফেরাতে এবং রেলসেবার মান আরো বাড়াতে গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করাতে পারলে তা হবে দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সূত্র জানায়, পুরো রেললাইনকেই ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। রেললাইনে নতুন করে অত্যাধুনিক স্লিপার বসানো, রেললাইন সংস্কার, ডাবল লাইনে উন্নীতকরণসহ নানা কাজও হাতে নিতে যাচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বিগত ২০১৬-১৭ সালে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথের গতি বাড়াতে কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সবকয়টি রুটেই আগের চেয়ে ১০-৩০ কিলোমিটার গতি বাড়ানো হয়েছিল।

এর মধ্যে পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর লাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০ কিলোমিটার। লালমনিরহাট-বুড়িমারী লাইনে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৮০ কিলোমিটার। পার্বতীপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম লাইনে ঘণ্টায় ৯৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১০৫ কিলোমিটার, চাটমোহর ভাঙ্গুড়া সেকশনে ৫০ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৮০ কিলোমিটার, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-জয়দেবপুর সেকশনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১০০ কিলোমিটার, ও দৌলতপুর-যশোর সেকশনের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটারে বাড়ানো হয়। কিন্তু গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এক বছরও টেকেনি। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের করুণ দশা তৈরি হলে আগের গতিতে ফিরিয়ে আনা হয় ট্রেন। এমনকি কোথাও কোথাও আগের চেয়েও গতি কমিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ জানান, দেশের ট্রেনের গতি ১৬০ কিলোমিটারে উন্নীত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় সে ধরনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে এই ধরনের বার্তা আমাদের কাছে এসেছে। সে অনুযায়ী কাজ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

সাত জঙ্গির ফাঁসি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিন বছর আগে ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ইতিহাসের নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ২২ জনকে হত্যার দায়ে সাত জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো- রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম, রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মোহাম্মদ হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে সাগর, মামুনুর রশিদ রিপন, শরিফুল ইসলাম খালেদ। আর খালাস পেয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

গুলশান হামলার তদন্তে মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও তাদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার আটজনকেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়। রায় শুনে তাদের কারও চেহারাতেই অনুশোচনার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। তাদের একজন উচ্চস্বরে বলতে থাকে, আল্লাহু আকবর, আমরা কোনো অন্যায় করিনি।

এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের আদালতে নেয়া হয়। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে দুপুর ১২টার দিকে আসামিদের আদালতে তোলা হয়। আদালতে তোলার সময় আসামি আসলাম হোসেন ভি চিহ্ন দেখান। তাদের মধ্যে অধিকাংশের মুখেই হাসি ছিল। আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীও হাসিমুখে ছিলেন। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে, সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায় ঘোষণা শেষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু এ কথা জানান। তিনি বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ রায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে কেউ এ রকম নৃশংস কাজ করার সাহস পাবে না। হলি আর্টিজান হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। জঙ্গিরা বিক্ষিপ্তভাবে পরিকল্পনা করে এ হামলা চালিয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তারা এ কাজ করেছে।

অন্যদিকে, রায় সন্তোষজনক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, রায়ের প্রতি আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আদালতকে বারবার বলেছি যে, রাষ্ট্রপক্ষ যেসব সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করেছেন, তা থেকে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন। কিন্তু আজকে বিচারক যে রায় দিলেন, তাতে আমরা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।

বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে আদালত পাড়াসহ রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো সড়কে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে পুলিশ। সাদা পোশাকেও তৎপর ছিল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করে পুলিশ।

গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। মামলা দায়ের করার পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক হুমায়ুন কবির।

একই বছর ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি ছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া হলি আর্টিসানে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত পাঁচ হামলাকারী হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

আলোচিত এ মামলায় আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে আটজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া ৭ আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ

রাকিবুল ইসলাম রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম : নিষিদ্ধ সত্তার সদস্য পদ গ্রহণ, সমর্থন, অর্থ গ্রহণ, হামলায় জড়িতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচিত করা এইচএসসি পাস। হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী জঙ্গিদের প্রশিক্ষক। বসুন্ধরার যে বাসা থেকে হামলাকারীরা হোলি আর্টিজানের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন, সে বাসায় যাতায়াত ছিল। ২০১৪ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে পড়ার সময় জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। পরের বছর ঢাকায় চলে আসেন। মোট ছয়টি বাসায় ছিলেন। ২৭ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে গুরুতর আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারির হামলা ছিল প্রকৃত ইসলাম কায়েমের একটি দৃষ্টান্ত।

রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম :  নিষিদ্ধ সত্তার সদস্য পদ গ্রহণ, সমর্থন, অর্থ গ্রহণ, পরিকল্পনা হামলায় জড়িতদের সহায়তা, ঘটনাস্থল রেকি, সার্বিক বিষয়ে অবগত থেকে হত্যাকা-ে সহায়তা সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলম হোলি আর্টিজানে হামলাকারী খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বলকে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের ‘ইসাফা’ গ্রুপের প্রধান। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণের পর সক্রিয়ভাবে জেএমবিতে যুক্ত হন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানাধীন বোনারপাড়ার একটি বাসায় তামিম চৌধুরী, মেজর জাহিদ, সারোয়ার জাহান মানিক, তারেক, মারজান, শরিফুল ইসলাম খালিদসহ তিনি আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেন। ওই পরিকল্পনা বৈঠকেই সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় তামিম চৌধুরী ওরফে তালহাকে। হলি আর্টিজানে হামলাকারী সরবরাহ করেছেন।

মোহাম্মদ আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ : নিষিদ্ধ সত্তার সদস্য পদ গ্রহণ, সমর্থন, অর্থ লেনদেন, হামলাকারীদের তুলে নিয়ে প্রশিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও বোমা ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া, ঘটনাস্থল রেকি করা, অস্ত্র বহন করে নিয়ে আসা। মোটের ওপর হামলার পরিকল্পনায় অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়া হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। এসএসসি পাস। ২০১৪ সালের ১ রমজান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলাম খালেদের হাতে হাত রেখে বায়াত নেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নব্য জেএমবিতে যোগদান। হামলাকারীদের ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে তুলে নিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য পৌঁছে দেন। তাঁদের প্রস্তুত করে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন সরবরাহ করেন। হলি আর্টিজান বেকারি রেকি করেন। বসুন্ধরায় হামলাকারীদের অবস্থানের জন্য বাসা ভাড়ার সন্ধান করেন।

আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ : শুরা সদস্য হয়ে টাকা গ্রহণ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পদার্থ সংগ্রহ, তৈরি ও সরবরাহ করে হোলি আর্টিজান বেকারির হত্যাকাণ্ডে সহায়তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, জেএমবিতে যুক্ত ২০০২ সাল থেকে। সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী ছিলেন। নওগাঁর আত্রাইতে বোমা বানানোর সময় হাত উড়ে যায়। তাঁর সরবরাহকৃত অস্ত্র ও গ্রেনেড গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারির হামলায় ব্যবহার হয়েছিল। ২০১৬ সালের মে মাসে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন। মিরপুরের একটি বাসায় তামিম চৌধুরী ও বাশারুজ্জামান চকলেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ। সেখানেই গুলশানে বড় হামলার পরিকল্পনা। এ জন্য লোক সংগ্রহ, অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ছোট মিজান ও আসলামকে অস্ত্র বুঝিয়ে দেন।

মোহাম্মদ হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে সাগর : নিষিদ্ধ সত্তার সমর্থন, সদস্য পদ গ্রহণ, অর্থ গ্রহণ, হামলার জন্য অস্ত্র গ্রেনেড সরবরাহ করে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচিত করা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, ঝিনাইদহে অবস্থানের সময় হলি আর্টিজানে হামলায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী নিবরাস ও মোবাশ্বেরের সঙ্গে সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় হামলা ও প্রস্তুতি হিসেবে টার্গেট কিলিং সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। হলি আর্টিজানে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র নিজেদের জিম্মায় রেখেছিলেন। হোলি আর্টিজানে হামলার ২০-২২ দিন আগে তামীম আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশে একটি কালো ব্যাগে করে হাদিসুর চারটি গ্রেনেড ঝিনাইদহ থকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ওই গ্রেনেড হলি আর্টিজান বেকারির হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

মামুনুর রশিদ রিপন : দাখিল পাস। জেএমবির দায়িত্বশীল নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। সারোয়ার জাহান, ডাক্তার নজরুল ও অন্যদের নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক উদ্বুদ্ধকরণ মিটিং ও সদস্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রাখেন। তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সারোয়ার জাহানদের সঙ্গে মিলে আইএসপন্থী নব্য জেএমবি গঠনে যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের মে মাসে জয়পুরহাটে বৈঠক করে আইএস ভাবাদর্শ অনুসারে কাজের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজার কলেজ মোড়সংলগ্ন একটি বাড়িতে সারোয়ার জাহান মানিক, নুরুল ইসলাম মারজান, আসলাম হোসেন ওরফে।‌ রেশ, বাশারুজ্জামান চকলেট, মেজর (অব) জাহিদ, রাজীব গান্ধী, শরিফুল ইসলাম খালেদ, রায়হানুল কবির রায়হানদের সঙ্গে বৈঠক। ওই বৈঠকেই ঢাকার হোলি আর্টিজানে হামলার প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়ে যায়। হাদিসুর রহমান সাগরের সঙ্গে তিনটি একে-২২ রাইফেল, গুলি, চারটি গ্রেনেড, দুটি ৭.৬২ পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি মারজানের মাধ্যমে তামিম আহমেদ চৌধুরীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

শরিফুল ইসলাম খালেদ : সদস্য পদ গ্রহণ, সমর্থন, অর্থ লেনদেন, প্রশিক্ষণে সহায়তা, হামলা পরিকল্পনায় অংশ নিয়ে হামলাকারীদের যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়াসহ হত্যাকা-ে সহায়তা ও প্ররোচিত করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল নিজ বিভাগের অধ্যাপককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজার কলেজ মোড়ে হামলার পরিকল্পনা বৈঠকে হাজির ছিলেন।

জনবল আছে পদায়ন নেই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আন্তঃদাপ্তরিক সমন্বয়ের অভাবে কোন কাজেই লাগছেন না ডিপ্লোমাধারী ২২’শ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর। দেশের জনস্বাস্থ্য সেক্টরে সুফল পাওয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলা এ দক্ষ-জনবলের পেছনে সরকারের বিপুল অংকের বিনিয়োগ এতে করে ভেস্তে যেতে বসেছে।

জনগণের খাদ্যসহ স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, উন্নত দেশের ধ্যান-ধারণায় বর্জ্য অপসারণ ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার উপর তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে প্রশিক্ষিত হন ২২’শ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর। ডিপ্লোমাধারী এ জনবল তৈরীতে সরকার বিনিয়োগ করে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু কাজের ক্ষেত্র তৈরী না করায় বা পদ সৃজনের অভাবে প্রশিক্ষিত এ দক্ষ জনবল বাস্তবে জনগণের কোন কাজেই লাগছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে ২৫ লাখের বেশি ব্যবসায়িক খাদ্য-স্থাপনা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক না-থাকায় এগুলোকে নিরন্তর তদারকির অধীনে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। ভেজালের সম্প্রসারণ ও ভেজালকারীর দৌরাত্ব্য বেড়েই চলছে। খাদ্যসংশ্লিষ্ট রোগের পরিমাণও বাড়ছে। অথচ এ ২২শ’ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে  নিবন্ধিত থাকলেও পদ রয়েছে মাত্র ৫৫৬ জন। ১৯৭৩ সালে তৈরী এ জনবল কাঠামো দিয়েই দেখভাল চলছে খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

এ ব্যাপারে ওয়াকেবহাল সূত্র জানায়, দেশে খাদ্য উৎপাদন, মজুত ও বিপনন, সরকারী-বেসরকারী জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভেজালের ধরণ-ধারণ বিবেচনায় নিলে বর্তমানে ৬ হাজারের বেশী স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক একসাথে কাজে নামানোর প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বা জরুরী প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে ২২’শ জনবল থাকলেও তাদের কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তদুপরি নানা অসঙ্গতিসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখা কর্তৃক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে উপরোক্ত স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপ ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীদের জন্য বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ফুড সেফটি) ইন সার্ভিস কোর্সে ছাত্র ভর্তির আবেদন আহবান করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিগত ৪৬ বছর যাবৎ স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের পদের সংখ্যা না-বাড়লেও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর তৈরী করার স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপ ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা কোর্স অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত ৭টি ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)’তে স্যানিটারী ইন্সপেক্টরশীপ কোর্স চালু রাখার বিপরীতে প্রতি বছর সরকারের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর ফিড-ব্যাক শূন্য। সরকারের এই ব্যয়কে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িয়ে তুলতে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে আবার চালু করা হচ্ছে ফুড সেফটি (ইন সার্ভিস)  কোর্স। কারণ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণয়ন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে খাদ্যভেজাল নিয়ন্ত্রণ কাজের একক দায়-দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের উপর বর্তানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম সমগ্রদেশে কার্যকর করতে হলে জরুরী ভিত্তিতে কয়েক হাজার দক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্যভেজাল নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট সেক্টরে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে ২২’শর অধিক স্যনিটারী ইন্সপেক্টর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে পদায়নের প্রতীক্ষায় থাকলেও বিগত ৫/৬ বছর যাবত স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাজের সমন্বয়, যথাযথ উদ্যোগ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এদের নিয়োগ বা পদায়ন সম্ভব হচ্ছে না। বঙ্গভবন, গণভবন, হাইকোর্টসহ কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন, অনেকগুলো পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও অন্যান্য অনেক সরকারী-বেসরকারী জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ খাদ্যস্থাপনা নিরন্তর তদারকির জন্য কোন পরিদর্শকও নেই।

রাজধানীর সবুজবাগে ট্রাফিক সচেতনতামূলক প্রচারণা
                                  

স্বাধীন বাংলা: ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে জনসচেতনতার জন্য সবুজবাগ ট্রাফিক জোন এলাকায় বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের নিয়ে আলোচনা সভা, পথসভা ও র‌্যালির করা হয়েছে।
সড়কে ট্রাফিক শৃংঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে গত ২১ তারিখ থেকে ট্রাফিক সচেতনতা পক্ষ শুরু করার পর সবুজবাগ ট্রাফিক জোন হতে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় সবুজবাগ ট্রাফিক জোন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালি সহ সচেতনতামূলক পথ সভার আয়োজন করে।

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি। বুধবার কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই বিসিএসের মাধ্যমে মোট দুই হাজার ১৬৬টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা ৫ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

৪১তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নেয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষাতে প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেয়া হবে।

প্রশাসন ক্যাডারে ৩২৩ জন, পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জন, পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহা হিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেয়া হবে।

এছাড়া পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে দুজন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ দেয়া হবে।

হলি আর্টিজান মামলার রায় : রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি করছে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সতর্ক প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জানা গেছে, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নেয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে কূটনৈতিক এলাকাতেও। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার আদালত পাড়া পরিদর্শন করেছেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সে সময় রায় উপলক্ষে ঢাকার আদালত পাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানায় ডিএমপি। এছাড়া প্রয়োজন মনে হলে রায় ঘোষণার পরও নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে হলি আর্টিজান হামলার রায়কে সামনে রেখে র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের বলেন, হলি আর্টিসান হামলার মামলার ঘটনায় নিম্ন আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রায়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পরও এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। প্রয়োজন মনে হলে যে কয়দিন নিরাপত্তা জোরদার রাখা দরকার সে কয়দিনই রাখা হবে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরকে দায়িত্ব পালনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার মামলার রায় উপলক্ষে ঢাকার আদালত পাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন। তিনি বলেন, হলি আর্টিজান মামলার রায় উপলক্ষে ডিএমপির দুই অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার আদালত এলাকা পর্যাবেক্ষণ করেছেন। তারা বিশেষ নিরাপত্তার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও হামলার কোনো আশঙ্কা নেই, তবে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।

ঢাকা মহানগর আদালতের হাজতখানার ওসি মঈনুল ইসলাম বলেন, হাজাতখানা থেকে এজলাসে আসামিদের আনা নেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকার আদালত পাড়া পরিদর্শন করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউল আলম ও কৃষ্ণ পদ রায়। পরিদর্শন শেষে তারা আদালত পাড়ার বিশেষ নিরাপত্তায় লালবাগ ডিভিশন ও আদালতের ডিসি প্রসিকিউশনকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। অস্ত্রের মুখে বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।

চুক্তি বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (জিসিএম) বাস্তবায়ন করতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সরাকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল মঙ্গলবার হোটেল ইন্টার-কন্টিনেল্টালে জিসিএম নিয়ে একটি কর্মশালায় এমন কথা বলেন তারা। বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের মাইগ্রেশন নেটওয়ার্ক এই কর্মশালার আয়োজন করে। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা আন্তর্জাতিকভাবে অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয় নিয়ে একসাথে আলোচনায় বসেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ‘নিউ ইয়র্ক ডিক্লারেশন ফর রিফিউজিস অ্যান্ড মাইগ্রেন্টস’ গ্রহণ করে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র এটাও অনুভব করে যে, বিশ্বব্যাপী মানুষের চলাফেরা এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য একটি ব্যাপক উদ্যোগ ও কাঠামো প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, দায়িত্ব-বন্টন, বৈষম্যহীনতা, এবং মানবাধিকারের মানদ-ের ওপর ভিত্তি করে ২০১৮ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

যেখানে বলা হয়, অভিবাসনের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সুবিধা বাড়ানোর জন্য একটি সহযোগিতামূলক মানুষিকতা প্রয়োজন। যেটি একজন ব্যক্তির অভিবাসন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। একই সাথে চুক্তিটি কোনো একটি অভিবাসী গোষ্ঠীর নিজ দেশ, যে দেশ দিয়ে যাচ্ছেন ও যেখানে যাচ্ছেন তার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবে।  বৈশ্বিক এই চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হলেও এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে করণীয় বিষয় নিয়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং অন্য যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত ধারণা থাকা দরকার।

এই পটভূমিতে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। যেখানে জিসিএম নিয়ে সবশেষ পরিস্থিতি, বিষয়টি নিয়ে সামাজীকিকরণ বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।  কর্মশালাটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মাইগ্রেশন নেটওয়ার্কের সদস্য, উন্নয়ন অংশীদার, এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, অভিবাসন বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যাযে সব সময় সরব থেকেছে। তবে অভিবাসন বিষয়ে এখনও আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। বিশেষ করে সমন্বয়, সুশাসন ও জিসিএম বাস্তবায়নে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিবাসন নিয়ে অনেক উদ্বেগ ও উত্তাপ আছে।  আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অভিবাসন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, যেহেতু জিসিএম বাস্তবায়নে রাষ্ট্রগুলো সম্মত হয়েছে, তাই আমাদের সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আমারা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে পারি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অফ মিশন এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের মাইগ্রেশন নেটওয়ার্কের কো-অর্ডিনেটর গিওরগি গিগাউরি বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের সুবিধার্থে সকল স্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জিসিএম-এর উদ্যেশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক এই চুক্তিতে যে নির্দেশন নীতি আছে সেগুলো আমাদের মানতে হবে।  জিসিএম বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অভিবাসী, নাগরিক সমাজ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত এবং অভিবাসন সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

জিসিএম-এর ২৩ টি লক্ষ্য রয়েছে। এটি বিশ্বের সর্বপ্রথম আন্ত:সরকারি সমঝোতা ভিত্তিক চুক্তি। যা সবক্ষেত্রে অভিবাসনকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দেখা হয়। সবক্ষেত্রে, সব জায়গায় অভিবাসীদের সুরক্ষা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিতে কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। চুক্তিটি বিশ্বব্যাপী অভিবাসন বিষয়ে সহযোগিতা, সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চর্চা ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকেই করা হয়েছে। যেটি বাস্তবায়নে সব রাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো বলেন, জিসিএম আন্তর্জাতিক অভিবাসন উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই চুক্তি বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। একইসাথে জিসিএম-এর মাধ্যমে যাতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিবসান বিষয়ক সমস্যা সমাধানে সবাইকে জিসিএম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জিসিএম সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বস্তবায়নে উদ্যোগ, পরবর্তীতে করণীয় এবং ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা পদ্ধতি কী হবে এবং বিশ্বব্যাপী জিসিএম-এর সমন্বয় পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হয় এই কর্মশালায়। এছাড়া বাংলাদেশে জাতিসংঘ অভিবাসী নেটওয়ার্ক-এর অধীনে মানবপাচার রোধে একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের পথচলা শুরু হয় এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

বাড়ছে সড়কের গতি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : শহরের যানজট কমিয়ে নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে আন্তঃজেলা সড়কগুলো চারলেন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব আন্তঃজেলা সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হবে। নিরাপদ সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি সড়কে যেন গতি নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে জোর দিচ্ছে সরকার।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।  একনেক বৈঠকে সড়ক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণ নিয়ে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোতে মোট খরচ হবে সাত হাজার ৩১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দুই হাজার ৭৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে চার হাজার ২১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা খরচ হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের এখন প্রধান দুটি লক্ষ্য সড়ক উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। সেই জন্য এই একনেকে ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটিই হচ্ছে সড়কের। আমরা সড়কের জাল বিস্তার করেছি। এখল সুফল পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী চান আরও গতি। সড়ক সংস্কার করা সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, বাঁক সোজা করা এবং পুরনো লক্কর-ঝক্কর সেতু বাতিল করে নতুন সেতু নির্মাণ করা। এছাড়া আন্তঃজেলা সড়কগুলো চারলেন করা হবে। এজন্য যা যা করার সব করা হবে। এছাড়া, সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়নের আরেক রাজা বিদ্যুৎ। তাই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসনের কত শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, তার অনুশাসন নিয়ে যে বই প্রকাশ করা হয়েছে এতেই তিনি খুশি হয়েছেন। তাছাড়া এগুলোর বাস্তবায়ন তো যখনই তিনি অনুশাসন দেন তখনই শুরু হয়ে যায়। এটা শতাংশ হিসেবে বলা যাবে না যে, এখন পর্যন্ত কত শতাংশ অনুশাসন বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে এসব অনুশাসন অবশ্য পালনীয়। প্রকল্প পরিচালকদের এগুলো মেনেই কাজ করতে বলা হবে। সেই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি প্রক্রিয়াকরণ করার সময় এসব অনুশাসন মিলিয়ে দেখবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, পলবাড়ি-দড়াটানা-মনিহার-মুড়ালী জাতীয় মহাসড়ক এর মনিহার হতে মুড়ালী পর্যন্ত চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ১৩১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বগুড়া-সারিয়াকান্দি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন এবং বাঙ্গালী নদীর উপর আড়িয়ারঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ হবে ২৪০ কোটি টাকা। মাগুরা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বাঁক সরলীকরণসহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ফেনী আলোকদিয়া-ভালুকিয়া-লস্করহাট-ছাগলনাইয়া জেলা মহাসড়কটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। নাটোর রোড হতে রাজশাহী বাইপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২০৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ঢাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

ঢাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিড সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ প্রকল্পটি উদ্যোগী মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ লিমিটেড-পিজিসিবি।

এ প্রকল্পের আওতায় ২২ কিলোমিটার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ১৪৪ কিলোমিটার ২৩০ লাইন, ২৪২ কিলোমিটার ১৩২ কেভি লাইন, ২টি ৪০০ কেভি উপকেন্দ্র, ৩টি ২৩০ কেভি উপকেন্দ্র, ১০টি ১৩২ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ২০টি ১৩২ কেভি সম্প্রসারণ করা হবে। ঢাকা বিভাগের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, কালিগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ভাঙ্গা, শিবচর, মাদারীপুর সদর ও মোকসেদপুর উপজেলা; বরিশাল বিভাগের ভোলা সদর, ঝালকাঠি সদর, মির্জাগঞ্জ, পিরোজপুর সদর, রাজাপুর ও ভা-ারিয়া উপজেলা; খুলনা বিভাগের বাগেরহাট সদর, কচুয়া, রূপসা, ভাটিয়াঘাটা, কেশবপুর, মনিরামপুর, কালিগঞ্জ, মহেশপুর, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, রাজৈর, গাংনী, মেহেরপুর সদর, সাতক্ষীরা সদর ও তালা উপজেলা; রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলা এবং রংপুর বিভাগের বীরগঞ্জ, কাহারোল, খানসামা, হাতিবান্ধা, ডিমলা, ডোমার ও নীলফামারী সদর উপজেলা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ডেসকো একটি স্বতন্ত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে ডেসকো এলাকার ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদার একটি সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই সমীক্ষা মোতাবেক ২০৩০ সালে ঢাকার ডেসকো এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হবে। এ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ডেসকো এলাকায় দুটি ৪০০ কেভি এবং একটি ২৩০ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

সূত্রটি আরও জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার শিল্প-বাণিজ্যের আরও উন্নয়ন আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বরিশাল এলাকায় তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ফলে কয়েক বছরের মধ্যে প্রকল্পের আওতাধীন দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকহারে বাড়বে। অন্যদিকে খুলনা শহর একটি শিল্প এলাকা। এ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেজা খুলনা এলাকায় বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুলনা ও বরিশাল এলাকার ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় দুটি ২৩০ কেভি, ৮টি১৩২ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট ২৩০ কেভি এবং ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া রংপুর বিভাগের আওতাধীন হাতিবান্ধা উপজেলায় লালমনিরহাট গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে এ এলাকায় সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হলে হাতিবান্ধা এলাকায় শিল্পায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে হাতিবান্ধা ও ডোমার এলাকায় একটি করে মোট দুটি ১৩২ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট ২৩০ কেভি ও ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পিজিবিসি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

সৌদি থেকে দেশে আনা হচ্ছে হবিগঞ্জের হোসনাকে || স্বাধীন বাংলা
                                  

স্বাধীন বাংলা: ভাগ্য পরিবর্তনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে মাত্র ২০ দিন আগে সৌদি আরবের নাজরান শহরের গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে দেশ ছাড়েন হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার মুজিবুর রহমানের মেয়ে হোসনা আক্তার। সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠান হোসনা আক্তার। অবশেষে সেই হোসনা আক্তারকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে গৃহকর্মী হোসনা আক্তারকে উদ্ধারের পর পুলিশের নজরদারিতে এবং সেইফহোমে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিরাপদে আছেন। তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে জেদ্দা কনস্যুলেটের ফলোআপ অব্যাহত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দা কনস্যুলেট হোসনা আক্তারকে উদ্ধারের জন্য নাজরান পুলিশকে জানায়। হোসনা আক্তার সৌদি রিক্রুটিং অফিস ‘রুয়াদ নাজরানের’ (লাইসেন্স নং- ৩৯১৮৬১৮) মাধ্যমে প্রায় তিন মাস আগে সৌদি আরব যান। তার কর্মস্থল ছিল সৌদি আরবের নাজরান শহরে, যা জেদ্দা থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে।

হোসনার পারিবারিক সূত্র জানায়, মাত্র ২০ দিন আগে দালাল শাহীন মিয়া ও প্রস্তাবিত রিক্রুটিং এজেন্সি আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশনের প্রলোভনে পড়ে এজেন্সি আল-সারা ওভারসিসের (আরএল-৭৫২) মাধ্যমে সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হোসনা। তবে গত ৬ নভেম্বর সৌদি যাওয়ার পর থেকে সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে তার অভিযোগ।

ভিডিও বার্তায় হোসনা তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান স্বামী শফিউল্লাহর কাছে। ভিডিও বার্তায় হোসনা বলেন, ‘দালাল ভালো কাজের কথা বলে আমারে সৌদি পাঠাইছে। আমি এসে দেখি, ওরা আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। আমার ওপর অত্যাচার করে। আমি আসছি ১০-১২ দিন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি বলেছি, আমি আর থাকব না। এটা শুনে ওরা আরও অত্যাচার করছে। অফিসে (রিক্রুটিং এজেন্সি) ফোন দিয়েছি, অফিসও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। তোমরা যেভাবে পারো আমারে বাঁচাও। এরা আমাদের বাংলাদেশেও পাঠাতে চায় না। আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’

ভারতীয় সীমান্তে ‘পুশ ইন’ সম্পর্কে কিছু জানেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোরর্ট: গত এক মাসে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দুই শতাধিক লোককে বিজিবি আটক করেছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়, এনআরসি আতঙ্কে ভারতীয় এ সব নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ৩৩তম সিএসিসিআই সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি কিছু জানি না, পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। তবে সরকারিভাবে আমার কাছে এ নিয়ে কোনো খবর নেই।’

ড. মোমেন বলেন, পুশ ইনের খবর মিডিয়া থেকে শুনছি, এখনও সরকারিভাবে জানি না। পত্র-পত্রিকায় যা বের হয় এর কিছু সত্য, কিছু মিথ্যা আর কিছু অতিরঞ্জিত। আমাদের জানতে হবে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, বিশেষ করে ফেসবুকে অনেক কিছু বের হয়। সরকারিভাবে না জানলে আমার বক্তব্য দেয়া ঠিক হবে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমি ঠিক বুঝি না, (এনআরসির আতঙ্কটা আমাদের হবে কেন? এনআরসির তালিকা করতে প্রায় ৩৪ বছর লেগেছে। এখনও অনেক প্রক্রিয়া বাকি আছে। আর ভারতীয় সরকার বারবার আমাদের ওয়াদা দিয়েছে, ভারতের এনআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা বাংলাদেশে কোনোভাবেই প্রভাব ফেলবে না। পত্র-পত্রিকায় দেখছি, কিছু লোকজনকে ভারত পুশ করছে অথবা এনআরসির ভয়ে তারা আসছে। আমি জানি না কেন। এটা নিয়ে আমাদের আলাপ-আলোচনা করতে হবে। তবে সব দেশে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ছোটখাটো লেগেই থাকে, দেন-দরবার থাকে। তবে বড় নিউজটা হচ্ছে আমাদের বড় বড় যতগুলো সমস্যা আমরা মোটামুটি আলোচনার মধ্যে শেষ করেছি, শুধু শেষ করেছি তাই না, অত্যন্ত পরিপক্বভাবে শেষ করেছি। আমাদের উভয় দেশের মধ্যে যে ট্রাস্ট, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট অ্যান্ড কনফিডেন্স, সেটা খুব কম দেশের মধ্যে থাকে। ভারতীয় সরকারকে আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করতে চাই।



   Page 1 of 263
     জাতীয়
ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ
.............................................................................................
তিন বিভাগে তেল বিক্রি বন্ধ দ্বিতীয় দিনে
.............................................................................................
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য করযোগ্য সবাইকে কর দিতে হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান
.............................................................................................
লাইনের সংস্কারসহ বাড়ছে ট্রেনের গতি
.............................................................................................
সাত জঙ্গির ফাঁসি
.............................................................................................
জনবল আছে পদায়ন নেই
.............................................................................................
রাজধানীর সবুজবাগে ট্রাফিক সচেতনতামূলক প্রচারণা
.............................................................................................
৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
.............................................................................................
হলি আর্টিজান মামলার রায় : রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা
.............................................................................................
চুক্তি বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
.............................................................................................
বাড়ছে সড়কের গতি
.............................................................................................
সৌদি থেকে দেশে আনা হচ্ছে হবিগঞ্জের হোসনাকে || স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
ভারতীয় সীমান্তে ‘পুশ ইন’ সম্পর্কে কিছু জানেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
চাল-পেঁয়াজে অস্থিরতা
.............................................................................................
চট্টগ্রামে বন্য হাতির আক্রমণে ৩ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ
.............................................................................................
শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
.............................................................................................
সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ
.............................................................................................
টাঙ্গাইলে এনজিও কর্মীর লাশ উদ্ধার, আটক ২
.............................................................................................
গণপরিবহনের দেখা মিলছে না রাজধানীতে
.............................................................................................
বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে পণ্যবাহী যানবাহন
.............................................................................................
রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিভিন্ন জেলায় বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
.............................................................................................
ধর্মঘটে বাস শ্রমিকরা
.............................................................................................
ভাইরাল হওয়া সেই সুমি সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
রেল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে
.............................................................................................
কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬
.............................................................................................
সদরঘাট থেকে নৌযান চলাচল শুরু
.............................................................................................
স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর জন্মদিন আজ ॥ দৈনিক স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ : মোংলা-পায়রায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত
.............................................................................................
জাবি উপাচার্যের দুর্নীতি প্রমাণে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ : ডিএমপি কমিশনার
.............................................................................................
‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ সড়ক আইন
.............................................................................................
পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
.............................................................................................
প্রশ্নফাঁসের গুজব রটালে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
ভয় শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নাই: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সাকিবের পাশে আছি: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
রাজধানীতে ছাত্রী ও বরগুনায় ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
.............................................................................................
দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
.............................................................................................
প্রাথমিক শিক্ষকদের সমাবেশে পুলিশের বাধা
.............................................................................................
সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে
.............................................................................................
ভৌগলিক কারণেই প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বিজিবির পাল্টা গুলিতে বিএসএফ সদস্য নিহত
.............................................................................................
বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft