শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মাছ-মুরগীর খাবারের নামে আমদানি হচ্ছে শূকরের বর্জ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাছ-মুরগির খাবারের আড়ালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে আমদানি করা হচ্ছে শুকরের বর্জ্যসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বস্তু। মাছ-মুরগির খাবারের আড়ালে আনা এসব চালান জব্দ করেছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এসব বস্তু আমদানি করা হচ্ছে ভিয়েতনাম, বেলজিয়াম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার উপ-কমিশনার অনুপম চাকমা জানান, গতকাল পর্যন্ত ১৫টি চালানে শূকরসহ গবাদিপশুর বর্জ্যযুক্ত মাছের খাবার পাওয়া গেছে। আরও অন্তত ৩০টি চালানের নমুনা পরীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, মাছের খাবারের নামে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ও নিষিদ্ধ পণ্য যারা আমদানি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১৮টি চালানে আমদানি নিষিদ্ধ মিট অ্যান্ড বোন মিল পাওয়া গেল। এসব চালানে পণ্যের পরিমাণ দুই হাজার ৭১১ মেট্রিক টন। গত ২৪ জুলাই প্রথম দফায় তিনটি চালানে আসা ৮৫ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি এক হাজার ৪০৯ টন মাছের খাবারে শূকরের বর্জ্য পাওয়া যায়। এরপর নড়েচড়ে বসে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি চালানের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কাস্টম হাউসের নিজস্ব পরীক্ষাগার ছাড়াও ঢাকার আইসিডিডিআর বি, চট্টগ্রামের পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে এসব চালানের নমুনা পাঠানো হয়। এবার কয়েকটি চালানের ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়। এসব নমুনা পরীক্ষায় গতকাল পর্যন্ত ১৫টি চালানে ক্ষতিকর বর্জ্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

জব্দকৃত ১৫টি চালানের মধ্যে ১৩টি আমদানি হয় ভিয়েতনাম থেকে। বাকি দুটি বেলজিয়াম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা। এসব চালানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ৩০ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি তিন লাখ ৭৫ হাজার কেজি চালানটির আমদানিকারক রাজশাহীর ফিশটেক বিডি লিমিটেড। ভাসমান মাছের খাবার হিসেবে ভিয়েতনাম থেকে এ চালানটি আমদানি করে তারা।

চালানটি খালাসের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের এশিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। একই আমদানিকারকের নামে আনা ছয় টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি ৭৫ হাজার কেজি আরও একটি চালান জব্দ করা হয়। ১২ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি এক লাখ ৫০ হাজার কেজি মাছের খাবার আমদানি করে সিরাজগঞ্জের মিশাম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ প্রতিষ্ঠানটিরও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের এশিয়া এন্টারপ্রাইজ। এ দুটি চালানসহ আটক চালানের মধ্যে মোট ছয়টি চালান খালাসের দায়িত্বে রয়েছে এশিয়া এন্টারপ্রাইজ।

জব্দকৃত চালানের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের একোয়াটেক অ্যাগ্রো লিমিটেডের ১০ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি এক লাখ আট হাজার কেজি মাছের খাবার। এ চালানটির ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়েছে। ঢাকার এডভান্স অ্যাগ্রোর ১০ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি মাছের খাবারের পরিমাণ এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ কেজি। এছাড়া গাজীপুরের কোয়ালিটি ফিডসের আনা দুই লাখ কেজি, পাবনার আর আর পি অ্যাগ্রো ফার্মসের ২৭ হাজার কেজি, ঢাকার ইন্টার অ্যাগ্রোর ৭০ হাজার কেজি, ম্যাগনিফাই অ্যাগ্রোর ২৬ হাজার কেজি, ময়মনসিংহের ভিএনএফ অ্যাগ্রোর ৫০ হাজার কেজি, কক্সবাজারের এমকেএ হ্যাচারীর ২১ হাজার কেজি চালানে ক্ষতিকর বর্জ্য পাওয়া যায়।

উন্নত দেশগুলোতে শূকর ও গবাদিপশুর বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রফতানি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানায়, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে অনেক সময় অ্যানথ্রাক্স, মেডকাউসহ বিভিন্ন মারাত্মক মহামারি আক্রান্ত শূকর ও গবাদিপশুকে মেরে ক্রাশ করা হয়। এরপর এসব বর্জ্য সার ও পশুখাদ্য হিসেবে অনুন্নত দেশে রফতানি করা হয়।

দাম কম হওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশের আমদানিকারকেরা মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে এসব পণ্য নিয়ে আসে। ফলে এসব বর্জ্যে ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিক, টেনারি উপজাত ও মেলামাইনের মিশ্রণ থাকার আশঙ্কা থেকে যায়। এসব খাবার খেয়ে মাছ ও মুরগির বাচ্চা দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করে। এসব মাছ এবং মুরগি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

মাছ-মুরগীর খাবারের নামে আমদানি হচ্ছে শূকরের বর্জ্য
                                  

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাছ-মুরগির খাবারের আড়ালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে আমদানি করা হচ্ছে শুকরের বর্জ্যসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বস্তু। মাছ-মুরগির খাবারের আড়ালে আনা এসব চালান জব্দ করেছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এসব বস্তু আমদানি করা হচ্ছে ভিয়েতনাম, বেলজিয়াম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার উপ-কমিশনার অনুপম চাকমা জানান, গতকাল পর্যন্ত ১৫টি চালানে শূকরসহ গবাদিপশুর বর্জ্যযুক্ত মাছের খাবার পাওয়া গেছে। আরও অন্তত ৩০টি চালানের নমুনা পরীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, মাছের খাবারের নামে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ও নিষিদ্ধ পণ্য যারা আমদানি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১৮টি চালানে আমদানি নিষিদ্ধ মিট অ্যান্ড বোন মিল পাওয়া গেল। এসব চালানে পণ্যের পরিমাণ দুই হাজার ৭১১ মেট্রিক টন। গত ২৪ জুলাই প্রথম দফায় তিনটি চালানে আসা ৮৫ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি এক হাজার ৪০৯ টন মাছের খাবারে শূকরের বর্জ্য পাওয়া যায়। এরপর নড়েচড়ে বসে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি চালানের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কাস্টম হাউসের নিজস্ব পরীক্ষাগার ছাড়াও ঢাকার আইসিডিডিআর বি, চট্টগ্রামের পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে এসব চালানের নমুনা পাঠানো হয়। এবার কয়েকটি চালানের ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়। এসব নমুনা পরীক্ষায় গতকাল পর্যন্ত ১৫টি চালানে ক্ষতিকর বর্জ্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

জব্দকৃত ১৫টি চালানের মধ্যে ১৩টি আমদানি হয় ভিয়েতনাম থেকে। বাকি দুটি বেলজিয়াম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা। এসব চালানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ৩০ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি তিন লাখ ৭৫ হাজার কেজি চালানটির আমদানিকারক রাজশাহীর ফিশটেক বিডি লিমিটেড। ভাসমান মাছের খাবার হিসেবে ভিয়েতনাম থেকে এ চালানটি আমদানি করে তারা।

চালানটি খালাসের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের এশিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। একই আমদানিকারকের নামে আনা ছয় টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি ৭৫ হাজার কেজি আরও একটি চালান জব্দ করা হয়। ১২ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি এক লাখ ৫০ হাজার কেজি মাছের খাবার আমদানি করে সিরাজগঞ্জের মিশাম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ প্রতিষ্ঠানটিরও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের এশিয়া এন্টারপ্রাইজ। এ দুটি চালানসহ আটক চালানের মধ্যে মোট ছয়টি চালান খালাসের দায়িত্বে রয়েছে এশিয়া এন্টারপ্রাইজ।

জব্দকৃত চালানের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের একোয়াটেক অ্যাগ্রো লিমিটেডের ১০ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি এক লাখ আট হাজার কেজি মাছের খাবার। এ চালানটির ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়েছে। ঢাকার এডভান্স অ্যাগ্রোর ১০ টিইইউএস কন্টেইনার ভর্তি মাছের খাবারের পরিমাণ এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ কেজি। এছাড়া গাজীপুরের কোয়ালিটি ফিডসের আনা দুই লাখ কেজি, পাবনার আর আর পি অ্যাগ্রো ফার্মসের ২৭ হাজার কেজি, ঢাকার ইন্টার অ্যাগ্রোর ৭০ হাজার কেজি, ম্যাগনিফাই অ্যাগ্রোর ২৬ হাজার কেজি, ময়মনসিংহের ভিএনএফ অ্যাগ্রোর ৫০ হাজার কেজি, কক্সবাজারের এমকেএ হ্যাচারীর ২১ হাজার কেজি চালানে ক্ষতিকর বর্জ্য পাওয়া যায়।

উন্নত দেশগুলোতে শূকর ও গবাদিপশুর বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রফতানি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানায়, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে অনেক সময় অ্যানথ্রাক্স, মেডকাউসহ বিভিন্ন মারাত্মক মহামারি আক্রান্ত শূকর ও গবাদিপশুকে মেরে ক্রাশ করা হয়। এরপর এসব বর্জ্য সার ও পশুখাদ্য হিসেবে অনুন্নত দেশে রফতানি করা হয়।

দাম কম হওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশের আমদানিকারকেরা মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে এসব পণ্য নিয়ে আসে। ফলে এসব বর্জ্যে ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিক, টেনারি উপজাত ও মেলামাইনের মিশ্রণ থাকার আশঙ্কা থেকে যায়। এসব খাবার খেয়ে মাছ ও মুরগির বাচ্চা দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করে। এসব মাছ এবং মুরগি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি শুরু
                                  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: দুই দিন বন্ধ থাকার পর ফের আগের নিয়মেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। ঈদুল আজহা, বাংলাদেশের জাতীয় শোকদিবস ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসে টানা ৬ দিন আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত শনিবার থেকে বন্দরে আমদানি রফতানি চালু হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা স্থলবন্দরে ইলেক্ট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই) সিস্টেম (ইনিস্টল) চালু করতে না পারার কারণে আমদানি-রফতানির কাগজ অনলাইনে দাখিল প্রক্রিয়াকরণ জটিলতার কারণে আখাউড়া দিয়ে বন্ধ ছিল বাণিজ্য। দক্ষ জনবল ছাড়াই আগরতলা শুল্ক বিভাগে নতুন সংযোগ হওয়া ইডিআই পদ্ধতির কারণে সংকটে দুই দেশের বাণিজ্য। আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান খলিফা বলেন, সোমবার বিকেল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর আবার আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে মাছ রফতানি শুরু হবে। আগরতলা স্থলবন্দরে নতুন প্রযুক্তি ইলেক্ট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই) সিস্টেম চালু করেছিল। এই পদ্ধতির জটিলতার কারণে গত দুইদিন মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি বন্ধ ছিল।
আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা শান্তি বরণ চাকমা বলেন, মাছ রফতানি আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হবে। কিন্ত অন্যান্য পণ্য সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। আগরতলা স্থলবন্দরে ইলেক্ট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই) সিস্টেম (ইনিস্টল) না হওয়ায় গত দুই কোন পণ্য রফতানি হয়নি। এনালক পদ্ধতিতে (আগের নিয়মে) আবার রফতানি শুরু হয়েছে।

রেমিট্যান্সের পালে মধ্যপ্রাচ্যের হাওয়া
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে নানা উদ্যোগে বৈধ পথে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছবে মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশ থেকে ৯৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে মোট রেমিট্যান্সের ৫৯ শতাংশই এসেছে আরবের এ দেশগুলো থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৯৬ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ওই সব দেশে থাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বা ১১১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে ৬টি হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বরাবরের মতো গেল অর্থবছরেও সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৩১১ কোটি ডলার। যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে অন্য দেশগুলো হচ্ছে আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৪ কোটি ডলার। তৃতীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৪ কোটি ২৮ লাখ ডলার। চতুর্থে থাকা কুয়েত থেকে এসেছে ১৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে পঠিয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ওমান থেকে এসেছে ১০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, কাতার থেকে ১০২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার এবং বাহরাইন থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৭ কোটি ডলার।
রেমিট্যান্সের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এরপরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠান এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আসে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

ঈদে মসলার বাজারে আগুন!
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : সাধারণত প্রতিবছরই রোজা বা কোরবানি ঈদ এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। তবে এবার এখনও সেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ ব্যবসায়ীরা উৎসবের ২০-২৫ দিন আগে পণ্যের দাম অল্প অল্প করে বাড়িয়ে রেখেছেন। নিত্যপণ্যের দাম না বাড়লেও গরম মসলার বাজার গরম। এ পণ্য আমদানিনির্ভর বলে কেউ সেভাবে এর দাম নিয়ে মাথাও ঘামায় না। বাজার ঘুরে একাধিক ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ আসার বেশ আগে থেকেই গরম হয়ে আছে গরম মসলার বাজার। কোরবানির সময় চাহিদা বেশি থাকার সুযোগকে কাজে লাগান ব্যবসায়ীরা। এবার রোজার ঈদের পরই গরম মসলার দাম বাড়িয়েছেন তারা। কারণ ওই সময়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনও সংস্থার কিংবা গণমাধ্যমের নজরদারি থাকে না। এই সুযোগটি নিয়েছেন মসলা ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আদা-রসুন ব্যবসায়ীরাও। চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন ও আমদানি হয়েছে বলে এবার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটি নিতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক থেকে দেড় মাস আগে যে এলাচ প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে তা এখন পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার  ৮০০ টাকায়। আর এলাকার খুচরা বিক্রেতারা নিম্নমানের এলাচ বিক্রি করছেন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। তবে শুধু এলাচ নয়, এভাবে বেড়েছে মসলা জাতীয় সব পণ্যের দাম।

বাজারে থাইল্যান্ড ও বার্মার আদা ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও আদা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা করে। এটিও দুই সপ্তাহ আগে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে। রসুন দেশি ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৬০ টাকা ১৭০ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও এগুলো ১০০ থেকে ১১০ এবং ভারতীয় রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

লবঙ্গের কেজি পাইকারি বাজারে ৮শ থেকে ৯শ টাকা,  দারুচিনির কেজি পাইকারি পর্যায়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, গোল মরিচ পাইকারি বাজারে ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকায়, জিরা ৩৪০ থেকে ৩৯০ টাকা পর্যন্ত, আলু বোখারা পাইকারি বাজারে ৪০০ টাকা, কাঠ বাদাম ৮০০ টাকা কেজি প্রতি, কাজু বাদাম ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া তেজপাতা পাইকারিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিটি পণ্যের দাম ৫০, ১ শত ও ২ শত টাকা কেজিপ্রতি বেড়েছে।

জ্বালানি আনতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেলে সোনারগাঁওয়ের হল রুমে এ চুক্তি সই হয়।

রাশিয়ান নিউক্লিয়ার ফুয়েল সাপ্লাই কোম্পানি-টিভিইএল’র সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন। বাংলাদেশের পক্ষে পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ও টিভিইএল’র কমার্শিয়াল ডিরেক্টর ফেদর শকোলভ চুক্তিপত্রে সই করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাশিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল পর্যন্ত এখানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে রাশিয়া।

এ বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, রুশ সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এখন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে। রাশান ফেডারেশনের নির্ধারিত সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টিভিইএল জয়েন্ট স্টক কোম্পানির’ কাছ থেকে এই ইউরেনিয়াম কেনা হবে। ২০২৭ সাল থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রিলোড করা হবে নিউক্লিয়ার ফুয়েল। সে সময় এসব ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে চারটি ধাপ বিবেচনা করা হবে। এগুলো হচ্ছে- ইউরেনিয়ামের দাম, কনভারশন সার্ভিস (প্রক্রিয়াকরণ খরচ), এনরিচমেন্ট সার্ভিস, ফুয়েল ফেব্রিকেশন। এই চার ধাপের কাজ আলাদা আলাদাভাবে নির্ধারণ হবে। এই কাজ সমন্বয় করে মোট মূল্য নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ১০ বছর পরপর এই দাম মূল্যায়ন করা হবে।

আমদানি-রফতানি ব্যয় বাড়বে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি আইসিডি ব্যবহারের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। আমদানি-রফতানিকারকরা এর বিরোধিতা করলেও আজ থেকে তা কার্যকর হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) পক্ষ থেকে বর্ধিত মাশুল কার্যকরের বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও ব্যবহারকারীদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আইসিডি মালিকদের ওই সংগঠন কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বর্ধিত মাশুল বা চার্জ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। তবে আইসিডি ব্যবহারকারীরা এ সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তাদের মতে, মন্ত্রণালয় ও আমদানি-রফতানিকারকদের পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে বর্ধিত মাশুল কার্যকর করা হচ্ছে। বিকডা এবং আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বেসরকারি আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী মাশুল বাড়ানোর এখতিয়ার বিকডার নেই। কারণ তাতে আমদানি-রফতানি ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা। ইতিমধ্যে আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ীরা বর্ধিত মাশুল স্থগিত চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাল্টা চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাছাড়া বিকডার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত বাতিলের পদক্ষেপ নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কাস্টমস কমিশনারকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাইভেট আইসিডির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রফতানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই হ্যান্ডলিং হয়। রফতানিকারকরা ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানে পণ্য বন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা আইসিডিগুলোতে এনে বোঝাই করে। পরে সেখান থেকে রফতানি কনটেইনার বন্দরে নিয়ে জাহাজে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যার জন্য সংশ্লিষ্ট আইসিডি রফতানিকারকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে মাশুল নিয়ে থাকে। আর আমদানি পণ্যের ২১ শতাংশ বন্দর থেকে আইসিডিতে নেয়া হয়। শুল্কায়ন শেষে সেগুলো আমদানিকারকরা নিয়ে যায়। তাছাড়া আইসিডিগুলো খালি কনটেইনারও সংরক্ষণ এবং পরিবহন করে থাকে।

সূত্র আরো জানায়, ২০১৬ সালের আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী আইসিডির মাশুল নির্ধারণের দায়িত্ব ট্যারিফ কমিটির। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া মাশুল বাড়ানো যাবে না। প্রথমদিকে ট্যারিফ কমিটি ছিল না। এ সুযোগে আইসিডি মালিকরাই মাশুল নির্ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে ট্যারিফ কমিটি গঠিত হলেও ওই কমিটির যৌক্তিকতা নিয়ে বিকডা বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তোলে। পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলে বিকডা চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১৯টি আইসিডিতে বর্ধিত মাশুল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিল। তাতে আপত্তি জানায় ওসব আইসিডির মাধ্যমে পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার মুখে তখন মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে বিকডা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তখন বলা হয়েছিল- মাশুল বৃদ্ধির বিষয়টি যৌক্তিক কিনা তা ট্যারিফ কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে। কিন্তু ট্যারিফ কমিটির কাজ চলমান থাকাবস্থায়ই আবারো বর্ধিত মাশুল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে বিকডা।

এদিকে বিকডার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্ধিত মাশুল কার্যকরের বিষয়টি জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিটিকে ২৫ জুলাই ই-মেইলে এবং ২৮ জুলাই ডাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে মাশুল বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। খালি কনটেইনারের ৪টি, রফতানি কনটেইনারের ৬টি ও আমদানি কনটেইনারের ২টি ক্যাটাগরি মিলিয়ে ১২টি ক্যাটাগরিতে হ্যান্ডলিং মাশুল বাড়ানো হয়েছে। যা আগের মাশুলের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। আইসিডিগুলো চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে মাশুল বাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় দর বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে বিকডাকে অনুরোধ করা হয়। ওই কারণে তখন দর বাড়ানো হয়নি। ওই সময় বলা হয়েছিল- দরবৃদ্ধির বিষয়টি ট্যারিফ কমিটির মাধ্যমে বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আইসিডির ট্যারিফ নির্ধারণে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি ও চট্টগ্রাম বন্দরের অধীন তিনটি কমিটি করা হয়েছে, যাতে সেবাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু গত চার মাসে ট্যারিফ কমিটির কর্মকাণ্ডে বিকডা হতাশ। ওই কমিটি মাশুল নির্ধারণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। এ অবস্থা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। তাই বর্ধিত ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্দেশে বিকডা আগামী ১ আগস্ট থেকে বর্ধিত মাশুল কার্যকর করতে যাচ্ছে, যা গত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার কথা ছিল।

অন্যদিকে আইসিডি ব্যবহারকারী বিভিন্ন পক্ষ বলছে, আইসিডি মালিকপক্ষ একতরফাভাবে মাশুল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটা বেআইনি। আমদানি-রফতানিকারকরা এ ঘোষণা মানবে না। এর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে পাল্টা চিঠি দিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বিকডার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিষয়ে একটি নীতিমালাও রয়েছে। আইসিডি কর্তৃপক্ষ চাইলেই তাদের ইচ্ছেমতো মাশুল বাড়াতে পারে না। মাশুল বাড়ানোর পেছনে যদি কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, তাহলে তা তুলে ধরতে পারে। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে।

ট্যারিফ কমিটিও এ নিয়ে কাজ করছে। তারা ট্যারিফ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে নেয়া একতরফা সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না। কারণ এ মুহূর্তে মাশুল বাড়ালে আমদানি-রফতানি ব্যয় বাড়বে। তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে ব্যবসা ব্যয় কমানোর কথা বলছেন, সেখানে তারা তা বাড়াতে পারে না। বিকডা যেন বাড়তি মাশুল কার্যকর করতে না পারে সে জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে ব্যবসায়ীদেও পক্ষ থেকে শিগগিরই চিঠি পাঠানো হবে। তবে ইতিমধ্যে আইসিডির মাশুল বৃদ্ধির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বিকডার এ সিদ্ধান্ত বাতিলের পদক্ষেপ নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কাস্টমস কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন বিজিএমইএ।

বিকডা সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলেন, বিশাল বিনিয়োগ এবং অপারেশনাল ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি আইসিডি আর্থিক রুগ্নতার মধ্যে রয়েছে। আইসিডির সেবাগুলোর বিপরীতে বর্তমানের সেবামাশুল বিশাল অঙ্কের অপারেশনাল ব্যয় এবং আইসিডির সামগ্রিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়।

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, কিছু নিয়ম-কানুনের ভিত্তিতে আইসিডিগুলো ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে। যদিও তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিন্তু তাদেরকে তো একটি সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীন থেকে কাজ করতে হবে।

ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ
                                  

বিশেষ প্রতিনিধি : বিদ্যুতের পর এবার ভারত থেকে জ্বালানি তেলও আমদানি করা হবে। মূলত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভারত থেকে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে বাংলাদেশ। আর ওই তেল আনার জন্য মাটির নিচ দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।

ভারতের শিলিংয়ের নুমালীগড় রিফাইনারি (এনআরএল) থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে এ পেট্রোলিয়াম আনা হবে। ওই লক্ষ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন (আইবিএফপিএল) নামের একটি প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা যায়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু বতর্মানে দেশে বিদ্যমান গ্যাস সঙ্কটের কারণে দিন দিন পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। আগামী ২০২১ সালের পর দেশের পুরনো বিভিন্ন ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন কমতে থাকবে। পাশাপাশি দেশে আর কোনো নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধিও অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন, যা গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপোগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। চাঁদপুরে অবস্থিত তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর তিনটি ডিপোতে জ্বালানি তেলের বর্তমান চাহিদা প্রায় ১ দশমিক ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। চট্টগ্রামে প্রধান স্থাপনা থেকে কোস্টাল ট্যাংকারযোগে বর্তমানে গোদনাইল, ফতুল্লা ও চাঁদপুরে জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।

সূত্র জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানির ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারির শিলিগুড়িস্থ মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পাবর্তীপুর ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওই প্রেক্ষাপটে ৩০৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকার জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখলের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে মেঘনা পেট্রোলিয়াম এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। বাস্তবায়নে তিন বছর লাগবে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি, ও শিল্প খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে। দেশের উন্নয়ন কাজে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি মোকাবেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্প কারখানাও স্থাপিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা ৫ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। তাছাড়া নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কৃষি সেচ মওসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই সময় জ্বালানি তেলের চাহিদা আরো বাড়ে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় নৌপথে ও রেলপথে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। নৌপথে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও চিলমারী, রেলপথে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো, রংপুর ডিপো, নাটোর, রাজশাহী, হরিয়ানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, পার্বতীপুর ডিপোতে আইবিএফপিএল প্রকল্পের রিসিভ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৬ হাজার ৭৬১ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৬টি ট্যাংক নির্মাণ করা হবে। সেজন্য ১৮৭ দশমিক ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ১২৬ দশমিক ১৪ একর জমি হুকুম দখল করা হবে। তাছাড়া সৈয়দপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহ করার জন্য ১২ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ৮ একর জমি হুকুম দখল করা হবে। ওই প্রকল্পের জন্য মোট ১৯৯.৩৪ জমি অধিগ্রহণ ও ১৩৪.১৪ একর জমি হুকুম দখল করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুরে স্থাপিতব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহের জন্য প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শাখা পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বার্ষিক প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল প্রয়োজন হবে। ডিজাইন অনুুযায়ী আইবিএফপিএলের মাধ্যমে বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেন ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে পার্বতীপুর ডিপোতে আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে পার্বতীপুর ডিপোর চাহিদা দৈনিক প্রায় ১৫ শ’ মেট্রিক টন। রংপুর বিভাগ ও তৎসংলগ্ন রংপুর ও চিলমারী ডিপোর দৈনিক চাহিদা ৫০০ মেট্রিক টন।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি উইং বলছে, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব তহবিলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ ও অনুমোদন পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিকল্পনা বিভাগের পরিপত্রের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অর্থ বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের কোনো ছাড়পত্র ডিপিপির সাথে সংযুক্ত করা হয়নি। লিক্যুইডিটি সার্টিফিকেট ছাড়া কিভাবে প্রকল্প প্রস্তাব করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ মূল প্রকল্প অর্থাৎ আইবিএফপিএল প্রকল্পটির ধরন, প্রকৃতি ও মেয়াদকাল সম্পর্কে প্রকল্পের ডিপিপির পটভূমিতে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল একটি জটিল প্রক্রিয়া। দুই বছরে এ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা আদৌ বাস্তবসম্মত নয়।

৩১ জুলাই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন গভর্নর
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: আগামী বুধবার নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি (মনিটরিং পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করা হবে। মূলত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি করতেই নতুন এ মুদ্রানীতি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমেছে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে। এটি সর্বশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় পাঁচ শতাংশ কম। যদিও গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংকের কাছে ঋণ বিতরণ করার মতো টাকা না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চাহিদা মতো আমানত না পাওয়ায় ব্যাংকগুলো ঋণ বাড়াতে পারছে না।’ ব্যাংকগুলোতে এখন অর্থের টানাটানি চলছে বলেও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। আগের বছরের জুনের শেষে যা ছিল ৯ লাখ ৭ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।
কয়েকটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের বছর হওয়ায় ব্যাংকগুলো সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করেছে। এর সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের বছরে ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের লাগাম টানতে গত বছরের জানুয়ারিতে ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) এবং সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকেই ব্যাংক খাতে তৈরি হয় তারল্যের সংকট।

মানিকগঞ্জে বেস্ট ইলেকট্রনিক্স এর শো-রুম উদ্বোধন
                                  

নেহায়েত হাসান সবুজ: মানিকগঞ্জে ইলেকট্রনিক পন্য সেবা প্রতিষ্ঠান বেস্ট ইলেকট্রনিক্স এর প্রথম শো রুম উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে শহরের রজনী সুপার মার্কেটে এ শো রুম উদ্বোধন করেন বেস্ট ইলেকট্রনিক্স এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ আসাদুজ্জামান।
এসময় অনন্যের মাঝে বেস্ট ইলেকট্রনিক্স এর বিক্রয় শাখার ডিজিএম আব্দুল মান্নান, টিএসও তুষার বিস্বাস, প্রোডাক্ট ডেভলপার কর্মকর্তা ইমরান খান, মানিকগঞ্জ শো-রুমের ম্যানেজার দেবাশীষ কুমার বিস্বাস, রজনী সুপার মার্কেটের পরিচালক নীতিশ কুমার মন্ডল, শো রুমটির সেলস্ এক্সিকিউটিভ নিকুঞ্জ বিহারী মন্ডল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে উদ্বোধন, কেক কাটা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, সারা দেশে বেস্ট ইলেকট্রনিক্স এর প্রায় ১২৮ টি শাখা রয়েছে। এর মাঝে মানিকগঞ্জ শাখা আগামী দিনে অন্যতম শো-রুম হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

রাজস্ব আয় বাড়াতে জেলা ও উপজেলায় কমিটি চান ডিসিরা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রাজস্ব আয় বাড়াতে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তিনি বলেন, এ কমিটি করলে তারা আয়কর বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। রাজস্ব বোর্ড বলেছে- এটা ভালো প্রস্তাব। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে এর ভেতরে কী আছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হবে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, অর্থ বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের নিয়ে এ অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন।

ড. মসিউর রহমান বলেন, ডিসিদের প্রস্তাব ছিল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করা, ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিয়ে। তাহলে তারা আয়কর বাড়াতে সহায়তা করতে পারেন। রাজস্ব বোর্ড এটা ভালো প্রস্তাব বলে মনে করে। তবে প্রস্তাবের ভেতরে ডিটেইলস কী আছে আগে সেটা তাদের জানা দরকার।

তিনি বলেন, রাজস্ব বিভাগের প্রস্তাব সরকারের কাছে আছে। প্রস্তাবটি হলো তাদের কর্মকর্তা বাড়ানো এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তাদের অফিসার নিয়োগ করা। এই দুটির সঙ্গে একটি সমন্বয় করা প্রয়োজন হবে। সে মুহূর্তে তারা এই বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসকেরা যে সব বিষয় উত্থাপন করেছেন, তারমধ্যে বেশিরভাগ হলো ঋণ ও সরকারের ব্যয় বরাদ্দ কিভাবে মানুষের কাজে লাগানো যায় এবং দ্রুত দক্ষতার সঙ্গে বিতরণ করা যায়। এর কতগুলো করা সম্ভব। তবে কিছু করা সম্ভব নয়, বাজেট বা হিসাব নিকাশ নিয়ে সমস্যা আছে।  

তিনি বলেন, সরকারি করর্মকর্তারা মানুষের প্রতি যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তা প্রশংসনীয় ও ব্যবহারের নতুন দিক। মানুষের কল্যাণের জন্য নিয়মকানুন বাধা হয়ে দাঁড়ালে তা পরীক্ষা করা ও যতদূর সম্ভব পরিবর্তন হওয়া দরকার।

ঋণ বিতরণ নিয়ে ডিসিরা কী ধরনের সমস্যা মোকাবেলার কথা জানিয়েছেন- এ প্রশ্নে মসিউর বলেন, সমস্যা হয় মূলত কৃষি ঋণ এবং নারী উদ্যোক্তা ঋণে।

তিনি বলেন, ব্যাংকে যে পরিমাণ বরাদ্দ থাকে ওই ব্রাঞ্চ হয়ত সে পরিমাণে ঋণ দিতে পারে না। যেসব তথ্য ও শর্ত পূরণ করতে হয় মহিলারা সেসব সব সময় দিতে পারেন না। সেই শর্ত হল তার একটি সার্টিফিকেট লাগবে, তার একজন গ্যারান্টার লাগবে। তারপরে সবাই জানেন আমাদের গ্রামের গবীর মহিলাদের প্রায় কারও জমি নেই বা জমি থাকলেও তার বাবা, ভাই, স্বামী না থাকলে স্বামীর ভাইদের অনুমতি বা সমর্থন সে এগুলোর কোনো কিছু করতে পারে না। ফলে মহিলাদের জন্য যে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার মত থাকে সেগুলো দেওয়াতে অসুবিধা হয়ে যায়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত না, আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, ঠিকানাসহ অনেক তথ্য দিতে হয়। ডিসিদের প্রস্তাব হল একটু সহজ করা।

ডিসিদের অনুকূলে এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ এবং ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আলোচনা প্রসঙ্গে মসিউর বলেন, এটা আজকে আসেনি, কারণ এটা তো গতকালই চেয়েছে। প্রস্তাব হিসেবে সরকারের নথিতে আসবে তারপরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে, তারপরে বোঝা যাবে কী করবে, এটা আজকের আলোচনায় আসেনি।

বকেয়ার ভারে আর্থিক সঙ্কটে নেসকো
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ার কারণে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো। বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানিটি অনেক চেষ্টা করেও ওই বকেয়া বিল আদায় করতে পারছে না। বারবার তাগিদেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে কোম্পানিটির ১৪৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নেসকো মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার নতুন এই কোম্পানিটি গঠন করেছিল। তার আগে ওসব এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়নর বোর্ড (বিপিডিবি) বিদ্যুৎ বিতরণ করতো। বর্তমানে সরকার বিদ্যুৎ বিতরণের পর বিল আদয়ে কোম্পানিটিকে একটি লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে। ওই লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হলে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস আটকে যায়। কিন্তু নেসকোর বেশিরভাগ বিল সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পড়ায় তারা কঠোর হতে পারছে না। কারণ ওসব প্রতিষ্ঠান সরকারি সেবা দিয়ে থাকে। আর ওসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে সাধারণ মানুষই ভোগান্তিতে পড়বে। সাধারণত গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। তাতে গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল সময় মতো পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে কাউকে কোন তোয়াক্কাই করে না।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে চলবে, কিভাবে তাদের আর্থিক সংস্থান হবে সে বিষয়ে প্রতি বছর খাত হিসেব করে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়ার পরও কিছু প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিলের অর্থ অন্য খাতে খরচ করে ফেলে। ওসব প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক নিরীক্ষা করা হলে তা সম্ভব হতো না। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব থেকে বেশি বকেয়া থাকে। বছরের পর বছর এই অনিয়ম বহাল রয়েছে। তাতে বিদ্যুত খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নেসকো বিদ্যুৎ বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছে। ওই প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিষয়টি অবহিত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে সম্প্রতি একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বিদ্যুত বিভাগ কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে কত বকেয়া রয়েছে তা তুলে ধরা হয়।

সূত্র আরো জানায়, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো পিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। আবার পিডিবি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর যেভাবে বিতরণ কোম্পানিকে পিডিবির কাছ থেকে নেয়া বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হয়, একইভাবে পিডিবিকেও বিদ্যুত উৎপাদনকারীর বিল পরিশোধ করতে হয়।

একই সঙ্গে গ্যাস ও কয়লার জন্য পেট্রোবাংলাকে এবং তরল জ্বালানির জন্য বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকেও (বিপিসি) অর্থ পরিশোধ করতে হয়। দেশে তরলীকৃত এলএনজি আমদানি হওয়ার কারণে এখন চাইলেও পেট্রোবাংলা পিডিবির কাছে অর্থ বকেয়া রাখতে পারে না। এলএনজি কেনার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোবাংলাকে বিল পরিশোধ করতে হয়। ফলে কোথাও বিপুল অর্থ আটকে থাকলে তার বিকল্প সংস্থান করা সবার জন্যই কষ্টকর। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখছে। তাতে বিদ্যুত-জ্বালানির আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৪৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পাওনা রয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ বিল অনাদায়ী থাকায় নেসকো আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। সঙ্গতকারণে এসব বকেয়া বিল পরিশোধে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরে বাড়লো পেয়াঁজের দাম
                                  

আব্দুল আজিজ, হিলি (দিনাজপুর) থেকে : ভারতের সরকার পেয়াঁজ রফতানিতে ইনসেনটিপ বা প্রণোদনা প্রত্যাহার করায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দুই দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেয়াঁজের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৭ টাকা।

পেয়াঁজের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম জানান, গত বুধবার ভারতীয় সরকার ইনসেনটিপ বা প্রণোদনা প্রত্যাহার করায় পেয়াঁজ আমদানি করতে এখন ১ রুপি বেশি দিতে হচ্ছে। আবার নতুন অর্থবছরের বাজেটে পেঁয়াজের উপর বাংলাদেশ সরকার শুল্ক (এটি ট্যাক্স) নির্ধারণ করেছে। তাই পেয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে, পেয়াঁজ আমদানিতে সরকার ৫% শুল্ক বা এটি ট্যাক্স নির্ধারণ করায় হিলি শুল্ক স্টেশনে বাড়ছে সরকারের রাজস্ব আয়। চলতি সপ্তাহের দুই দিনে ১ হাজার ৬শ ৫৬ মেট্রিক টন পেয়াঁজ আমদানি হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ২শ ৩১ টাকা ।

হিলি কাষ্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সরকার নতুন বাজেট ঘোষণার পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে পেয়াঁজ আমদানিতে (৫% এটি ট্যাক্স) নির্ধারণ করে সরকার। এই ট্যাক্স নির্ধারনের পর ১৫ই ও ১৬ ই জুন এই বন্দর দিয়ে ১৬শ ৫৬ মেট্রিক টন পেয়াঁজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ২শ ৩১ টাকা।

রফতানি আয়ে সুখবর চলছেই
                                  

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৩৭৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। গতকাল সোমবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এর মূল কারণ, দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতেরও আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আর ইতিবাচক এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। এ সময়ে আয় হয়েছে তিন হাজার ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সমেয়ের তুলনায় রফতানি এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১১ মাসে রফতানি আয় ছিল তিন হাজার ৩৭২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মে মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্য ছিল ৩৪৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মে মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে এ আয় হয়েছিল ৩৩২ কোটি ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে মোট রফতানি আয়ে পোশাকের অবদান ৮৪ শতাংশের বেশি। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৯ শতাংশেরও বেশি হবে। আলোচিত সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় এসেছে ৩ হাজার ১৭৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল ২ হাজার ৮১২ কোটি ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বড় খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৮৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। এদিকে আলোচিত সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। পাট ও পাটজাত খাত থেকে মে মাস শেষে রফতানি আয় এসেছে ৭৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ৭ দশমকি ৪৯ শতাংশ কমেছে।

উপজেলায় নতুন কর অফিস
                                  

বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করের আওতা বাড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই লক্ষ্যে বর্তমানে ৮২ উপজেলায় কর অফিস থাকলেও নতুন করে ২শ উপজেলায় আয়কর অফিস করা হবে। মূলত কর আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকা উপজেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি  এনবিআর ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের মতো কর বিভাগেও গোয়েন্দা বিভাগ চালু, উৎসে কর আদায় ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী করতে আলাদা বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন, অনলাইন ট্যাক্স ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ই-টিআইএন) সংখ্যা ৩৬ লাখের কিছু বেশি। তার মধ্যে গত তিন বছরেই নতুন করে করের খাতায় নাম লিখিয়েছেন ১৫ লাখের ওপরে। অবশ্য তার বেশিরভাগই চাকরিজীবী। করযোগ্যদের করের আওতায় আনতে গত ৩ বছরে সরকার বাজেটে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে টিআইএনধারী বেড়েছে। তবে সরকার মনে করছে ১৬ কোটি মানুষের দেশে অন্তত এক কোটি মানুষের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে। যদিও ওই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান কিংবা গবেষণা নেই।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান করদাতা ও আয়কর আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে কর কাঠামোয় সংস্কারের জন্য এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এনবিআর। ওই ইতিমধ্যে এদেশে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে যথাযথ কর আদায় ও ট্রান্সফার প্রাইসিং ব্যবস্থা তদারকির লক্ষ্যে বিশেষায়িত ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্স ইউনিটসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি প্রস্তাব সম্বলিত প্রতিবেদন এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কর হার বাড়ানোর চাইতে করের আওতা বাড়াতে এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই লক্ষ্যে কর প্রশাসনকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী জুনে বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী কর বিভাগের সংস্কার ও সম্প্রসারণের এ ঘোষণা দিতে পারেন।

এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন এইডের তথ্যানুযায়ী দেশে বর্তমানে কর দেয়ার সামর্থ্য রাখেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। কিন্তু দেশে টিআইএনধারী বাড়লেও ওই হারে প্রকৃত করদাতা বাড়ছে না। ৩৬ লাখ টিআইএনধারী হলেও গত করবর্ষে ১৮ লাখের মতো আয়কর বিবরণী দাখিল করেছেন। অর্থাৎ বাদবাকি ১৮ লাখ টিআইএনধারীর তথ্য এনবিআর জানতে পারেনি। তবে ওসব টিআইএনধারীর বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেছে এনবিআর। ওই লক্ষ্যে সেকেন্ডারি সোর্সকে কাজে লাগাচ্ছে এনবিআর। তার অংশ হিসেবে বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ), বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ, ভূমি নিবন্ধন অফিসসহ এ ধরনের অন্যান্য সূত্র থেকে তথ্য নিচ্ছে কর বিভাগ। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কাছে থাকা তথ্য ভান্ডার পরীক্ষা করেও নতুন করদাতা চিহ্নিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, যাদের করযোগ্য আয় আছে, তাদের চিহ্নিত করে কর আদায় করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে এনবিআর। সেজন্য আধুনিক কর প্রশাসন প্রয়োজন। উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস বিস্তৃত করা হলে করযোগ্য ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সহজ হবে। আর অন্যান্য দেশের ন্যায় কর কাঠামোকে শক্তিশালী, অনলাইনভিত্তিক করা তথা কর ফাঁকি রোধে যা করা প্রয়োজন এনবিআর চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি দেয়া প্রস্তাবে তা তুলে ধরা হয়েছে।

বড় ঋণখেলাপিদের চাপে রাখার উদ্যোগ
                                  

বিশেষ প্রতিনিধি : ব্যাংকের বড় ঋণখেলাপিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে বিশেষ তদারকির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১শ কোটি টাকা বা তার বেশি খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করতে ব্যাংকে আলাদা সেল গঠন করা হবে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে খেলাপি গ্রাহকের নাম-পরিচয় ছাড়াও ব্যবসার ধরন, কতদিন ধরে খেলাপি, খেলাপি হওয়ার কারণসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হবে। আর ওসব ঋণখেলাপিকে বিশেষ তদারকির আওতায় এনে ঋণ আদায়ে আলাদা সেল গঠন বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাস্কফোর্স  সেলে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত তদারকির ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সেল আদায় অগ্রগতি, ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের যোগাযোগ এবং সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখবে। প্রয়োজন হলে সময়ে-সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবে।

বর্তমানে ব্যাংকভিত্তিতে খেলাপি ঋণের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। তাছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কার কাছে কী পরিমাণ পাওনা রয়েছে, তার তথ্য নেয়া হয়। যদিও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এসব তথ্য আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাক্ষরিত এমওইউতে শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয়া হয়। প্রতি ত্রৈমাসিকে আদায় অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হলেও প্রত্যেক গ্রাহককে আলাদা তদারকি করা হয় না। এখন সব ব্যাংকের শতকোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের আলাদাভাবে তদারকির আওতায় রাখা হবে।

সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৩২১ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। অবলোপন করা ঋণও খেলাপি ঋণ। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় ঋণখেলাপিদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে। তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কী হবে, তা দেখার বিষয়। সাধারণভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এমন ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা দেয়া হয়। পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন বা সুদ মওকুফসহ নানা সুবিধা দেয়া হয়। অনেক সময় ঋণখেলাপিরা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে। এভাবে আইনি দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয়। ওসব সমস্যা নিরসন করতে না পারলে শুধু তদারকি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে লাভ হবে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীলদের মতে, ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা হলো প্রভাবশালী বড় ঋণখেলাপিরা। নানা উপায়ে তারা ব্যাংকের টাকা ফেরত না দিলেও প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে চলেন। এখন একটা দাবি উঠেছে, ঋণখেলাপিদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কমানো হোক। আইন সংস্কারের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তখন তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা সহজ হবে। তাছাড়া বড় খেলাপিদের আলাদাভাবে তদারকি করা হলে ব্যাংকের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। ব্যাংকগুলোও তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার কথা বলে গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারবে।

নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই খেলাপি ঋণ নিয়ে সরব। বিভিন্ন বৈঠকে তিনি বলেছেন, আগামীতে খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না; বরং কমবে। তাছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়া অসাধু ব্যবসায়ীদের তিনি সাবধান করেছেন।

ডলার নিয়ে কাড়াকাড়ি
                                  

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তীব্র চাহিদায় মার্কিন ডলার নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো আমদানি ও বিদেশী ঋণের দায় মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ফলে চাহিদা তীব্র হওয়ায় মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্মিলিতভাবে কোনো উপায় বের না করলে ডলার নিয়ে সঙ্কট আরো বাড়বে। যা বাড়িয়ে দিতে পারে বৈদেশিক বাণিজ্যের খরচ। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মাত্র এক বছর আগে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের এক ডলারের কিনতে খরচ হতো ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা। আর গত ১২ ফেব্রুয়ারি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডলারের তুলনায় টাকার মান কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। তার অন্যতম কারণ ব্যাংকগুলোর হাতে বিদেশী ঋণের দায় ও আমাদনি খরচ মেটানোর তো পর্যাপ্ত ডলার নেই। কারণ ব্যাংকের লাগামহীন অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে বিদেশী ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৯ শতাংশ। অথচ প্রাপ্তির খাতায় রফতানি আয় ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং রেমিটেন্স ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ডলারের সঙ্কট এতোটাই তীব্র যে ইতোমধ্যেই আমদানি ঋণপত্রের দায় কিংবা বিদেশী ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এক ব্যাংকের গ্রাহকের রফতানি বিল বেশি মূল্যে হাঁকিয়ে নিচ্ছে অন্য ব্যাংক। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই অভিযোগে বেশ কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডলার নিয়ে এমন অবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাফেদার দ্রুত সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। অস্থিতিশীলতার জন্য চিহ্নিত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করা উচিত বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


   Page 1 of 30
     অর্থ-বাণিজ্য
মাছ-মুরগীর খাবারের নামে আমদানি হচ্ছে শূকরের বর্জ্য
.............................................................................................
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি শুরু
.............................................................................................
রেমিট্যান্সের পালে মধ্যপ্রাচ্যের হাওয়া
.............................................................................................
ঈদে মসলার বাজারে আগুন!
.............................................................................................
জ্বালানি আনতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই
.............................................................................................
আমদানি-রফতানি ব্যয় বাড়বে
.............................................................................................
ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ
.............................................................................................
৩১ জুলাই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন গভর্নর
.............................................................................................
মানিকগঞ্জে বেস্ট ইলেকট্রনিক্স এর শো-রুম উদ্বোধন
.............................................................................................
রাজস্ব আয় বাড়াতে জেলা ও উপজেলায় কমিটি চান ডিসিরা
.............................................................................................
বকেয়ার ভারে আর্থিক সঙ্কটে নেসকো
.............................................................................................
হিলি স্থলবন্দরে বাড়লো পেয়াঁজের দাম
.............................................................................................
রফতানি আয়ে সুখবর চলছেই
.............................................................................................
উপজেলায় নতুন কর অফিস
.............................................................................................
বড় ঋণখেলাপিদের চাপে রাখার উদ্যোগ
.............................................................................................
ডলার নিয়ে কাড়াকাড়ি
.............................................................................................
জেনিথ লাইফের সাথে কমিউনিটি হেলথ কেয়ারের চুক্তি
.............................................................................................
ফিলিপাইনের সাবেক ব্যাংক ব্যবস্থাপক দোষী সাব্যস্ত
.............................................................................................
আজ বাণিজ্য মেলা শুরু
.............................................................................................
দক্ষিণ এশিয়ার ২য় অর্থনীতির বাংলাদেশ
.............................................................................................
চারদিন ছুটির কবলে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর
.............................................................................................
তারল্য সংকটে ব্যাংক
.............................................................................................
ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট যাবে প্রতিদিন
.............................................................................................
জামালপুরে চার দিনব্যাপি আয়কর মেলা শুরু
.............................................................................................
সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা
.............................................................................................
ব্যবসা সংস্কারে বাংলাদেশের অগ্রগতি
.............................................................................................
জেনিথ ইসলামী লাইফের এজিএম অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু
.............................................................................................
সিলেট-ঢাকা রুটে ইউএস-বাংলার অতিরিক্ত ফ্লাইট শুরু
.............................................................................................
চামড়া নিচ্ছে না বিদেশীরা
.............................................................................................
কর ফাঁকির আশঙ্কা বাড়ছে
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরি: সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট ফিলিপাইনের আদালতে উঠছে বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
নিয়ন্ত্রণহীন ডলারের দাম
.............................................................................................
রমজান উপলক্ষে ইউএস বাংলা’র বিশেষ প্যাকেজ
.............................................................................................
গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে কর্মীদের আরো আন্তরিক হওয়ার আহবান
.............................................................................................
আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ নিয়ে ইউএস-বাংলা
.............................................................................................
পেঁয়াজ-রসুনের গায়ে আগুন
.............................................................................................
হিলিতে বেড়েছে যাত্রী ও রাজস্ব, বাড়েনি সেবার মান
.............................................................................................
ব্যাংক এশিয়ায় চাকরির নিয়োগ
.............................................................................................
হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা
.............................................................................................
বড় ঋণখেলাপিদের ছবি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে
.............................................................................................
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিষদ থেকে শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার পদত্যাগ
.............................................................................................
সুদের হার কমছে না সঞ্চয়পত্রে
.............................................................................................
আমদানী নেই তবু স্বর্ণে ভরা দেশ
.............................................................................................
‘সরকারি সংস্থাগুলোর আমানতের ৫০ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হবে’
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরি ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’: এফবিআই
.............................................................................................
কাল আখাউড়া স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে
.............................................................................................
বাংলাদেশকে ১৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
বিশ্ব অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ : পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
কৃষকের কলার কাঁটা ‘আলু’
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft