বুধবার, ৮ এপ্রিল 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কালোজিরা ৮টি অসুখ থেকে দূরে রাখে

স্বাস্থ্য ডেস্ক : কালোজিরা আমরা সকলেই চিনি। নিমকি বা কিছু তেলে ভাজা খাবারে ভিন্ন ধর্মী স্বাদ আনতে কালোজিরা বেশি ব্যবহার করা হয় থাকে। এছারা অনেকেই কালজিরার ভর্তা খেয়ে থাকেন। অনেকে আবার কালোজিরা খেতে পছন্দ করেন না। কিন্তু কালোজিরার ব্যবহার খাবারে একটু ভিন্নধর্মী স্বাদ আনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাতে কালোজিরার অনেক ব্যবহার হয়। কালোজিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে আছে ফসফেট, আয়রন, ফসফরাস। এছাড়াও কালোজিরা আমাদের দেহকে রক্ষা করে অনেক ধরনের রোগের হাত থেকে। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে : কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ : কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। এতে করে কালোজিরা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ : কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপ কে বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এবং দেহের কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চরক্ত চাপ হ্রাস করে শরীরে রক্ত চাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।

যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি : কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে।

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি : কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হত। এতে করে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির হয়। যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বাডড়য়ে তুলতে সাহায্য করে।

হাঁপানী রোগের উপশম : যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমসসায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম হবে।

রিউমেটিক এবং পিঠেব্যথা দূর : কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি : শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা।

কালোজিরা ৮টি অসুখ থেকে দূরে রাখে
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : কালোজিরা আমরা সকলেই চিনি। নিমকি বা কিছু তেলে ভাজা খাবারে ভিন্ন ধর্মী স্বাদ আনতে কালোজিরা বেশি ব্যবহার করা হয় থাকে। এছারা অনেকেই কালজিরার ভর্তা খেয়ে থাকেন। অনেকে আবার কালোজিরা খেতে পছন্দ করেন না। কিন্তু কালোজিরার ব্যবহার খাবারে একটু ভিন্নধর্মী স্বাদ আনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসাতে কালোজিরার অনেক ব্যবহার হয়। কালোজিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে আছে ফসফেট, আয়রন, ফসফরাস। এছাড়াও কালোজিরা আমাদের দেহকে রক্ষা করে অনেক ধরনের রোগের হাত থেকে। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে : কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ : কালোজিরা ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। এতে করে কালোজিরা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ : কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপ কে বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এবং দেহের কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চরক্ত চাপ হ্রাস করে শরীরে রক্ত চাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।

যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি : কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে।

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি : কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হত। এতে করে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির হয়। যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বাডড়য়ে তুলতে সাহায্য করে।

হাঁপানী রোগের উপশম : যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমসসায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম হবে।

রিউমেটিক এবং পিঠেব্যথা দূর : কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি : শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা।

জ্বর হলেই করোনা আতঙ্ক নয়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : জ্বর হলেই কি তাহলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে বলে আপনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বেন? নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলবেন? ছুটে যাবেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা করাতে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না। তার কোনো দরকার নেই। তাতে অযথা মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলা হবে। কারণ, মৌসুম বদলালে অনেকেরই জ্বর, সর্দি, কাশি হয়।

তবে বর্তমানে করোনাভাইরাস নিয়ে পুরো বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন তখন বাড়তি সতর্কতা নিশ্চয়ই প্রয়োজন। তবে জ্বর হলে প্রথমেই করোনা আতঙ্কে না থেকে নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি পরামর্শগুলো মেনে চলুন :
 
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বর হলে-

* স্যুপ, হারবাল চা, কফি, মধু দিয়ে গরম পানি বারবার পান করুন।

* শরীরের অতিরিক্ত তাপ হলেই আমরা জ্বর বলি। সিজনাল জ্বর হলেও থার্মোমিটার দিয়ে নিয়মিত জ্বর মেপে একটি ছক করে লিখে রাখুন।

* হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে বারবার শরীর মুছে নিন। এতে জ্বরের তাপ কমবে।

*  ঠাণ্ডা সর্দিতে আমাদের নাক চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, টিস্যু দিয়ে বারবার নাক মোছার ফলে অনেক সময় নাকের চামড়া ছিলে যায়। এজন্য নাক বেশি ঘষা যাবে না। নাকে ক্রিম ব্যবহার করুন।

* ভিটামিন সি জাতীয় ফল লেবু, কমলা, পেঁপে, পেঁয়ারা, আমলকি বেশি বেশি খান। ঠাণ্ডা কমবে আর খাবার খেতেও রুচি হবে।

* অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে হাত সব সময় পরিষ্কার করতে হবে।

* দাঁত মাজার ব্রাশ, চিরুনি, তোয়ালে এগুলো আলাদা রাখতে হবে।

* কাশি ও হাচিঁ দেওয়া সময় রুমাল ব্যবহার করুন।

*  হাত দিয়ে ঘন ঘন নাক অথবা চোখ চুলকানো যাবে না।

* নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।

* পরিবারের কেউ ঠাণ্ডা জ্বরে আক্রান্ত হলে অন্যদের সাবধানে রাখুন। ভাইরাল ফেভারের সময় আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা না করাই ভালো।

* আর বৃদ্ধদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাদের জন্য নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

উপসর্গগুলো দ্রুত সমাধান না হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

যে ৮ সমস্যা থাকলে করোনার ঝুঁকি বেশী
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বিশ্বের ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বুধবার বাংলাদেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। আর বিশ্বে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৮ হাজার ২২৫ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৫৬৯ জন।

মৌসুমি ফ্লুর চেয়ে করোনাভাইরাস ১০ গুণ বেশি মারণঘাতী। আর আগে থেকেই যাদের শরীরে কিছু সমস্যা রয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের ঝুঁকি বেশিÑ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিচের ৮টির মধ্যে কোনো সমস্যা নিজের সঙ্গে মিলে গেলে বাড়তি সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা

ডায়াবেটিস : ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যারা অন্যদের তুলনায় তাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাজ্যের ডায়াবেটিস চিকিৎসক ডন হওয়ার্থ বলেন, করোনায় ডায়াবেটিসে ভুগতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক।

তিনি আরও বলেন, যদি কারো ডায়াবেটিস থাকে এবং কাশি হয়, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়; তাহলে ব্লাড সুগার মাঝেমাঝেই পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

হার্টের সমস্যা : করোনা আক্রান্ত হলে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের তালিকায় দুই নম্বরে রয়েছে হার্টের রোগীরা। কারণ, হার্টের সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের ইমিউন সিস্টেম এমনিতেই দুর্বল হয়ে থাকে। ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের শরীর শক্তিশালীভাবে তা প্রতিরোধ করতে পারে না।

অ্যাজমা : ফুসফুসের বাইরে ও ভেতরে বাতাস যাতায়াতে সাহায্য করে আস্ট্রা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু অ্যাজমা রোগীরা এমনিতেই এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়, করোনাভাইরাস তাদের ঝামেলা আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যাজমা রোগীদের ইনহেলার ব্যবহার করা উচিত। সচেতন না হলে প্রাণহানি ঘটতে পারে।

ফুসফুসে সমস্যা কিংবা যক্ষ্মা হলে : ফুসফুসে সমস্যা থাকলে কিংবা যক্ষ্মা হলে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।

ক্যান্সার : ক্যান্সারের রোগীরা করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। আর আক্রান্ত হলে সেরে ওঠা অনেক বেশি কঠিন। তাদের দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকে সহজে কাবু করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না করোনাভাইরাস।

পাকস্থলীর সমস্যা : যাদের হজমে সমস্যা আছে এবং পাকস্থলী নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন, করোনাভাইরাস তাদের কাছে যমদূতের মতো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন, এ সময় তাদের বাড়তি সচেতন থাকা দরকার। করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার মতো ইমিউন সিস্টেম এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিদের নেই।

দুর্বল ইমিউন সিস্টেম : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলার মতো কোনো ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। একে প্রতিরোধ করার একমাত্র উপায় ইমিউন সিস্টেম। এজন্য প্যারাসিটামল না খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।  তবে যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল, তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ধূমপান : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যদের তুলনায় ধূমপায়ীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি। সে কারণে এই দুঃসময়ে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

করোনা সংক্রমণে প্রচুর বিশ্রাম ও পানি পান করুন
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : চীনের উহান শহর থেকে বিস্তার শুরু করে বিশ্বের ১১৫টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। গত বুধবার এই ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।  চীনে করোনার প্রভাব কিছুটা কমলেও ইতালি-ইরানসহ বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

বুধবার পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে নিহত হয়েছেন ৪৬৩৩ জন। অপরদিকে ৬৮ হাজার ২৮৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ২৯৩ জন।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্যানডেমিক বা বিশ্ব মহামারীকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন- ‘নতুন রোগের বিশ্বব্যাপী বিস্তার’। রোগটির ভৌগলিক বিস্তার, রোগের গুরুতর প্রকৃতি, সমাজের উপর এর প্রভাব সব মিলিয়ে এটি নির্ধারণ করা হয়।

‘প্যানডেমিক’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘প্যান’ আর ‘ডেমস’ থেকে, যা নির্দেশ করে এটি বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে আক্রমণ করেছে।

কভিড ১৯ এর নিরাময় নাই, এর জন্য টিকাও নাই। তবে আমেরিকার জাতীয় স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট বলেছে, টিকা বের হতে বছর খানেক লাগতে পারে।

ভাল করে বার বার নিয়মিত হাত ধোয়া হল প্রতিরোধ ব্যবস্থা। মৃদু করোনা সংক্রমণের চিকিৎসা ফ্লুর মতো। প্রচুর বিশ্রাম, পানি পান, ব্যথা হলে ওষুধ। গুরুতর হলে হাসপাতালের যন্ত্রপাতির সাহায্য লাগে, শ্বাসকষ্ট বেশি হলে শ্বাসক্রিয়া চালু রাখার জন্য লাগতে পারে ভেনটিলেটার।

করোনা থেকে আপনার সন্তানকে বাঁচাতে করণীয়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বিশ্ববাসীর কাছে এখন আতঙ্কের নাম প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসে  প্রতিদিন যেমন বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তেমনি দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

এমন পরিস্থিতিতে জেনে নিন আপনার সন্তানকে কিভাবে সুস্থ্য রাখবেন ।

ভারতের মুম্বাইয়ে ক্লাউড নাইন হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিনয় জোশী বলেছেন, কিছু বেসিক হাইজিন মানতে হবে, আতঙ্ক ছড়িয়ে লাভ নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। হাতের দুই পৃষ্ঠ খুব ভালো করে ধুতে হবে। আঙুলের খাঁজ যাতে ভালোভাবে পরিষ্কার হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

* স্কুলে বা পড়তে যাওয়ার সময় অথবা বাইরে গেলে আপনার সন্তানকে ভালো হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাথে রাখতে বলুন।

* সহপাঠীর জ্বর হলে খুব বেশি কাছে না ঘেঁষাই ভালো, এই সময়ে হ্যান্ড শেক যেন না করে।

* যে সব দেশে করোনার আক্রমণ হচ্ছে, সদ্য সে দেশ থেকে ফিরলে আপনার সন্তানকে প্রথম কয়েকদিন স্কুলে পাঠাবেন না।

* স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্লাসরুমের টেবিল চেয়ার পরিচ্ছন্ন রাখুন। মেঝে, দেওয়াল, বাথরুম পরিষ্কার করা হোক জীবাণুনাশক দিয়ে।

* হাঁচি-কাশি হলে সন্তানদের মুখে মাস্ক পরার পরামর্শ দিন।

* বাইরে ঘুরতে গেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন। পরিচ্ছন্ন হোটেলে ওঠার চেষ্টা করবেন। মশলাদার খাবার খাবেন না। মাংস খাওয়ার সময় বিশেষ করে সতর্ক হোন।

* জ্বর হলে জন্মদিন বা এরকম কোনও অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

করোনা নাকি সাধারণ ফ্লু, বুঝবেন কীভাবে
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাস মূলত সাধারণ সর্দি-কাশি বহনকারী গ্রুপ। এই গ্রুপের ভাইরাস বছর দশেক আগেও এত ভয়াবহ ছিল না। আমরা প্রত্যেকেই এর প্রকোপে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগেছি। আবার সুস্থও হয়ে গিয়েছি নিজের নিয়মে। তবে জিনগত মিউটেশনের ফলে এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এতই মারাত্মক হয়ে উঠল যে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘২০১৯ এনসিওভি’ নাম নিয়ে আসা এই ভাইরাস ইতিমধ্যেই ত্রাসের জন্ম দিয়েছে বিশ্বব্যাপী। এই ভাইরাস থেকে ছড়িয়ে পড়া রোগের নাম কোভিড-১৯। বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আতঙ্কিত মানুষজন।

কিন্তু সত্যিই কি এতটা ভয় পাওয়ার মতো কিছু হয়েছে? সাধারণ জ্বর-হাঁচি-সর্দি-কাশি হলেই আতঙ্কে গৃহবন্দি হওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে কি? সাধরাণ সর্দি-কাশি নাকি করোনা বোঝার উপায় কিছু আছে কি?

এ বিষয়ে বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর-সর্দি-হাঁচি-কাশি হলে এত দিন যা করছিলেন তাই করবেন। ঘরে শুয়ে-বসে বিশ্রাম নেবেন। হালকা খাবার খাবেন। পানি খাবেন পর্যাপ্ত। দরকার মতো প্যারাসিটামল, কাশির ওষুধ খাবেন। নরমাল স্যালাইন ড্রপ দেবেন নাকে। হাঁচি-কাশির সময় পরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করবেন। শিশু, বয়ষ্ক ও গর্ভবতীদের থেকে দূরে থাকবেন। এটুকু করলেই ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমেই ভাইরাসকে কাবু করা যাবে। তখন বুঝতে হবে এটা সাধারণ ফ্লু-ই ছিল।

কিন্তু আশপাশে করোনাভাইরাসে রোগী নেই তা কী করে বোঝা যাবে? হাঁচি-সর্দি নিয়ে তো অনেকেই ঘুরে বেড়ান। তাঁদের কারও যদি এই সংক্রমণ হয়ে থাকে ও তিনি যদি আপনার কাছে এসে হেঁচে-কেশে দেন, তা হলে সমস্যা হতেই পারে!

কলকাতার বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ সুমিত সেনগুপ্তের মতে, এই ভাইরাস যদি ১০০ জনকে সংক্রামিত করে তার মধ্যে ১০-১৫ কি ২০ জনের অবস্থা জটিল হয়। বিপদ হয় দু-এক জনের। বাকি ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষের সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতো উপসর্গ হয়। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলে তা নিজের নিয়মেই কমে যায়। তবে এঁরা অসুস্থ শরীরে রোগ ছড়াতে পারে। কিন্তু তাতেও উদ্বেগের কিছু নেই। প্রথমত, রোগ হলেও ৮০-৮৫ শতাংশ সম্ভাবনা যে আপনি প্রথম প্রথম অসুখটা টেরও পাবেন না। কাজেই রোগ হচ্ছে এমন কোনও জায়গায় যদি সফর না করে থাকেন, তা হলে নূন্যতম সচেতনতা মেনে চললেই হবে।

বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। কারও যদি হার্ট-লাং-কিডনি-লিভারের ক্রনিক অসুখ না থাকে, বা কোনও অসুখ বা ওষুধের কারণে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে না যায় কিংবা বয়স খুব বেশি না হয়, তা হলে অত ভয়ের নেই। সে ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা যেতে পারে। তার পর যদি দেখা যায় উপসর্গ কমার বদলে বাড়ছে, প্রবল জ্বর উঠছে বা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, রক্তচাপ কমে মাথা ঘুরছে, প্রলাপ বকতে শুরু করছেন, তা কিন্তু বিপদের লক্ষণ।-সূত্র আনন্দবাজার

করোন আতঙ্কে নওগাঁয় হাসপাতাল ছেড়ে পালালো রোগীরা!
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার আব্দুল খালেকের সিঙ্গাপুর ফেরত হতভাগা ছেলে মেহেদী হাসানকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে নওগাঁ সদও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালে অবস্থানরত বিভিন্ন রোগীরা আতঙ্কে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। অনেকে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগের চেষ্টা করছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মেহেদীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অপ্রীতিকর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত শুক্রবার মেহেদী হাসান সিঙ্গাপুর থেকে তার গ্রামের বাড়িতে আসেন। করোনাভাইরাস সন্দেহে মেহেদী হাসান হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংবাদ পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছে। অনেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পুরো হাসপাতালে এখন সেবিকা ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে হাসপাতালে মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার মা হাসিনা খাতুন রয়েছেন।

মেহেদী হাসানের মা হাসিনা খাতুন বলেন, মেহেদী সিঙ্গাপুর থেকে গত শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে আসে। গত দুইদিন সে ভালই ছিল। হঠাৎ করে রোববার রাত থেকে জ্বর, সর্দি ও মাথা ব্যথা শুরু হয়। সোমবার বিকালে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে দেখালে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে নওগাঁ হাসপাতালে নিয়ে আসি। মেহেদীর আগে থেকে নাকে পলিপাস ছিল। মাঝে মধ্যেই নাক বন্ধ হয়ে মাথা ব্যথা ও সর্দি হতো। এসি মাইক্রোতে করে ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসার কারণে তার হয়তো পলিপাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ডাক্তাররা ছেলের পরীক্ষার জন্য রক্ত নিয়ে গেছে। এখন জ্বর কমেছে। করোনা বলে কোনো সন্দেহ করছেন না তিনি।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মুনির আলী আকন্দ বলেন, করোনার যে উপসর্গ (জ্বর, সর্দি, কাশি) তার মধ্যে সবই আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত না। পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি।

হাঁপানী বা এ্যাজমা চিকিৎসায় হোমিও
                                  

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ :

হাঁপানী একটি দুরারোগ্য ব্যাধি, এ্যাজমা  হচ্ছে ক্রনিক এবং জীবনসংশয়ী মারাত্মক একটি ফুসফুসের রোগ, আমাদের দেশে হাঁপানি রোগ হিসাবে পরিচিত, এই রোগে সাধারণত কাশির সাথে বুকে ঘড়ঘড় শব্দ এবং শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়ে থাকে। পাক-ভারত উপমহাদেশে এটি অতি প্রাচীন রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এই রোগটি সম্পর্কে প্রথম ধারনা পাওয়া যায়। বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে এসে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পরিক্ষা নিরীক্ষার পর ও এলোপ্যাথিতে হাঁপানীর কোন স্থায়ী চিকিৎসা আজো আবিস্কৃত হয়নি। রোগটিকে শুধু  চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। কিন্তু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সেটিকে পূর্ণ আরোগ্য করা যায়। আজ  হাঁপানী নিয়ে কলাম লিখেছেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট হোমিও গবেষক ডা. এম এ মাজেদ, তার প্রবন্ধে লেখেন..  আমাদের দেশের হাঁপানির  সঠিক কোন পরিসংখান জানা না থাকলেও আমেরিকায় প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষ অ্যাজমায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ১০ মিলিয়নই (এর মধ্যে তিন মিলিয়ন শিশুও আছে) ভুগছেন অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমায়। তাই বলা যায় আমাদের দেশেও অ্যাজমার প্রকোপ কম নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের মাধ্যমে এ রোগীরা অ্যাজমার তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
আবার পৃথিবীর মধ্যে বেশ কিছু দ্বীপে এই রোগের প্রকোপ খুব বেশি,যেমন -এিস্তা- দে-কুনে নামক দ্বীপ এর বাসিন্দাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৪৬ ভাগের ও বেশী মানুষ এই রোগের শিকার ছিল,আর একটি দ্বীপ যার নাম করিলিস্কি সেখানে ও প্রায় শতকরা ২০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ এই রোগে ভুগে থাকে। অনুরুপে পৃথিবীতে অনেক দেশে আছে যেখানে এই রোগীর হার খুবই কম যেমন -জাম্বিয়া,নাইজেরিয়া,কেনিয়া ইত্যাদি।
হাঁপানী এমন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি যাতে একবার আক্রান্ত হলে দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে রোগীকে সারা জীবন কাটাতে হয়,হাঁপানী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো সামাজিক বা পারিবারিক আনন্দ উল্লাসে যোগদান করতে পারে না,পারে না কোন পরিশ্রমের কাজে অংশ নিতে, তাকে অনেক সময় গৃহবন্দী অবস্থা দিন কাটাতে হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেএেই ঠান্ডা আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্ষার ঠান্ডায়, শীতের ঠান্ডায় রোগ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ব্রংকিয়াল হাঁপানী শীতকালে বাড়ে। শীতের ঠান্ডা রোগীর অসহ্য। শীতকালে নাকে একটুখানি ঠান্ডা বাতাস বা কুয়াশা প্রবেশ করলেই প্রথমে হাঁচি নাকঝরা ও পরে শ্বাসকষ্ট দেয়া দেয়।বর্ষা কালে দু এক ফোটা বৃষ্টির পানি গায়ে পড়লে, খোলা জানালার পাশে রাতে ঘুমালে, ভেজা বাতাসে ভ্রমণ করলে রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায়
★এ্যাজমার ২ প্রকারঃ-
* একিউট এ্যাজমাঃ-তীব্রতা অনুসারে এ্যাজমা-  তীব্র হাঁপানি এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ আকস্মিকভাবে সংকুচিত হয় ও শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্টের সৃষ্টি করে।
 * ক্রনিক এ্যাজমাঃ-দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি এতে ঘন ঘন এ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
★কারণ -* এলার্জিক এ্যাজমা  সাধারণত কোন এলার্জেন বা এন্টিজেন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। যেমন- ফুলের রেণু, বিভিন্ন প্রাণীর লোম, মাইট ও ধুলাবালি ইত্যাদি। ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয় ও হাপানী দেখা দেয়। একে এটোপিক এ্যাজমা বা এলার্জিক এ্যাজমাও বলা হয়।
* নন এলার্জিক এ্যাজমা এ ধরনের এ্যাজমা এলার্জি ঘটিত নয় বরং ধূমপান, রাসায়নিক দ্রব্য, জীবাণুর সংক্রমণ, মানসিক চাপ, অট্টহাসি, অধিক ব্যায়াম, এস্পিরিন জাতীয় ঔষধ সেবন, খাদ্য সংরক্ষণকারী উপাদান, পারফিউম, অত্যাধিক ঠান্ডা, গরম, আর্দ্র ও শুষ্ক বাতাসের কারণে দেখা দেয়।
★বিভিন্ন প্রকারের এ্যাজমাঃ-
* মিশ্র এ্যাজমাঃ-এক্ষেত্রে রোগী পূর্বোক্ত এলার্জিক ও নন-এলার্জিক দু`ধরনের এ্যাজমাতেই ভোগেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রকোপ বেড়ে যায়।
* রাত্রিকালীন এ্যাজমাঃ-এ ধরনের হাঁপানি রাতের বেলা, বিশেষতঃ রাত ২ টা থেকে ৪ টার মধ্যে আক্রমণ করে। রোগীর শারীরিক দুর্বলতার জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। এমনকি দিনের বেলায় স্বল্পকালীন নিদ্রা যায়। রাত্রিকালীন এ্যাজমা গুরুত্বের সহিত নেয়া উচিত কারণ এ ক্ষেত্রে রেসপিরেটরী এরেস্ট হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
* ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমাঃ-এটি মূলত: এক ধরনের এলার্জিক রিএ্যাকশন যাতে শ্বাসকষ্ট ও বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয়। শ্বাসনালীর চারপাশের পেশী ও মিউকাস মেমব্রেনসমূহের সংকোচন দেখা দেয়। শ্বাসনালীর সংক্রমণ, বায়ুবাহিত এলার্জেন, খাদ্যের এলার্জেন ও অত্যধিক মানসিক চাপ এর প্রধান কারণ।* কার্ডিয়াক এ্যাজমাঃ-
হৃদপিন্ড যখন তার স্বাভাবিক রক্ত সংবহন হারিয়ে ফেলে তখন পালমোনারি ইডিমা বা ফুসফুসে পানি জমে বায়ুনালীকে সংকুচিত করে ফেলে এবং হাঁপানি সৃষ্টি হয়। এটি অত্যন্ত মারাত্মক। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা পর এটি আক্রমণ করে কারণ শুয়ে থাকলেই ফুসফুসে পানি জমে। শ্বাসকষ্টে রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং কিছুক্ষণ বসে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
* ব্যায়ামজনিত এ্যাজমাঃ-এ ধরনের এ্যাজমা ব্যায়ামকালীন সময়ে অথবা ব্যায়ামের কিছুক্ষণ পর থেকে শুরু হয়। বিশেষতঃ শীতকালে এ ধরণের সমস্যা বেশি হয়।
* পেশাগত এ্যাজমাঃ-অকুপেশনাল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যাজমা সাধারণত: চাকরি নেবার কয়েক মাস থেকে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে দেখা দেয়। সাধারণত কর্মস্থল ত্যাগ করার সাথে সাথে বা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে লক্ষণসমূহ কমে যায়। ‘স` মিলের গুড়া, রাসায়নিক ধোঁয়া, সর্বদা ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশ, সিমেন্ট কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, আটা ও মসলার মিল, রাইস মিল, জুট মিল, স্পিনিং মিল, রংয়ের কারখানা, রাসায়নিক সার কারখানা, ফটোকপি মেশিন, ড্রাইভিং, পোল্ট্রি ফার্ম, বেডিং স্টোর ইত্যাদিতে কর্মরত শ্রমিকরা এ ধরনের হাপানিতে বেশি আক্রান্ত হন।
* মওসুমি এ্যাজমাঃ-মওসুমি এ্যাজমা সাধারণত: বিশেষ ঋতুতে দেখা দেয়। যেমন- কারো কারো গরমে এ্যাজমা বাড়ে, কারো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফুল বাগানে এ্যাজমা বাড়ে। গাছ, ঘাস, ফুলের রেণু ইত্যাদিতেও এ্যাজমা বাড়ে।
* নীরব এ্যাজমাঃ-এ ধরনের হাঁপানির আক্রমণ অত্যন্ত  ভয়াবহ ও জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। কোনরূপ পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই বা বুকে হালকা শব্দ করেই আক্রমণ করে।
* কফ ভেরিয়েন্ট এ্যাজমাঃ-এ ধরনের এ্যাজমা দীর্ঘমেয়াদী ও বিরক্তিকর কাশিযুক্ত হয়ে থাকে।
★এ্যাজমা রোগীর প্রাথমিক লক্ষণঃ-
 *বুকে সাঁই সাঁই বা বাঁশির মত শব্দ হওয়া, *শ্বাস কষ্ট হওয়া,*বুকে চাপ অনুভব করা,
 *দীর্ঘ মেয়াদী কাশিতে ভুগতে থাকা, *ব্যায়াম করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া,★সাধারন লক্ষণসমূহঃ*শীতকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
* ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, * কাশির সাথে কফ নির্গত হওয়া,* গলায় খুসখুস করা ও শুষ্কতা অনুভব করা,* রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া
 *নাড়ীর গতি দ্রুত হওয়া,*কথা বলতে সমস্যা হওয়া,*সর্বদা দুর্বলতা অনুভব করা,*দেহ নীল বর্ণ ধারণ করা।
★ এ্যাজমা রোগীকে  কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হবেঃ-১- বিছানা ও বালিশ প্লাস্টিকের সিট দিয়ে ঢেকে নিতে হবে বা বালিশে বিশেষ ধরনের কভার লাগিয়ে নিতে হবে।২-ধুলো ঝাড়াঝাড়ি করা চলবে না।৩-ধোঁয়াযুক্ত বা খুব কড়া গন্ধওয়ালা পরিবেশে থাকা চলবে না।৩-আলো-হাওয়া যুক্ত, দূষণমুক্ত খোলামেলা পরিবেশ থাকা দরকার। কারণ স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ফাঙ্গাল স্পোর অনেক সময় হাঁপানির কারণ হয়।৪- হাঁপানি রোগীর আশেপাশে ধূমপান বর্জনীয় ও মশার কয়েল জ্বালানো যাবে না।৫- অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্যও হাঁপানি রোগীরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে পরিশ্রমের ঝুঁকি নেয়া উচিত।৬ -হালকা খাওয়া-দাওয়া করা উচিত যাতে হজমের কোনও অসুবিধে না হয়। কারণ, বদহজম এবং অম্বল থেকেও হাঁপানি হতে পারে। যে খাবারে এ্যালার্জি আছে তা বর্জন করে চলতে হবে।৭-প্রয়োজনে স্থান ও পেশা পরিবর্তন করতে হবে। শুধু নিয়ম মেনে চললেই এই ধরনের রোগীর শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ভাল থাকেন।
হাঁপানি রোগীর খাদ্য ও পথ্য
★ এ্যাজমা রোগীর খাবারঃ-১-কুসুম গরম খাবার।
  ২- মওসুমি ফলমূল।৩-ছাগলের দুধ (তেজপাতা, পুদিনা ও কালোজিরা সহ)।৪- আয়োডিন যুক্ত লবণ ও সৈন্ধব লবণ।৫-মধু, স্যুপ, জুস।
  ৬-কালোজিরার তেল৭-আদা ও পুদিনার চা।
★এ্যাজমা রোগীর নিষিদ্ধঃ- ১- মিষ্টি দধি ও মিষ্টান্ন২-ফ্রিজের কোমল পানীয়৩-আইসক্রীম, ফ্রিজে রাখা খাবা ৪-ইসুবগুল ও গ্রেবী জাতীয় খাবার ৫-কচুর লতি, তিতা জাতীয় খাবার ৬-পালং শাক ও পুই শাক, মাসকলাই, মাটির নীচের সবজি যেমন-গোল আলু, মিষ্টি আলু, শালগম, মুলা, গাজর ইত্যাদি। এছাড়াও ইলিশ মাছ, গরুর গোশত, চিংড়ী মাছ ৭-পাম অয়েল, ডালডা ও ঘি।
 ৮-অধিক আয়রনযুক্ত টিউবঅয়েলের পানি।
★ এ্যাজমা  রোগী যেই সব জামা কাপড় পরিধানও ব্যবহার করবেঃ- ১-কটন জাতীয় নরম ঢিলে-ঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে।
২-সিল্ক, সিনথেটিক, পশমি কাপড় পরিধান না করাই উত্তম।৩ পাতলা বালিশ ও নরম বিছানায় শোয়া উচিত।৪-বাসস্থান শুষ্ক ও পর্যাপ্ত সূর্যের আলো-বাতাস সম্পন্ন হওয়া উচিত।
★এ্যাজমা কারণ-তত্ত্বঃ-
অত্যন্ত শুষ্ক, উত্তপ্ত বা কলুষিত এবং জলীয় বাষ্পপূর্ণ আবহাওয়া ইহার কারণ মধ্যে গণ্য । বংশগত অর্থাৎ পূর্বপুরুষগণের এই ব্যাধি, এই রোগৎপত্তির একটি প্রধান কারণ । ধুলা, অশ্বগবাদির দেহের গন্ধ বা পুস্পের রেনুযুক্ত বায়ু অথবা খাদ্য বিশেষের সংক্ষুব্ধতাবশতঃ তদ্বারা এই রোগের উদ্ভব হইতে পারে । নাসিকামধ্যস্থ ঝিল্লির প্রদাহ, নাসিকামধ্যস্থ অর্বুদ  টনসিলের বিবৃদ্ধি, এডিনয়েড,  রোগের আক্রমণ প্রবণতা বৃদ্ধি করে ।
★হোমিওসমাধানঃহোমিওপ্যাথি মতে তিনটি রোগ-বীজ হল সব রকম অসুস্থতার কারণ। সোরা, সাইকোসি,  সিফিলিস,সোরা -সাইকোসিস বা সোরা -সাইকোসিস-সিফিলিস মিশ্রভাবে এ্যাজমা রোগের জন্য দায়ী।বর্তমান যুগের এই মিশ্র রোগ -বীজকে অনেকে টিউবারকুলার মায়াজম নামে নামকরণ করে থাকে,   এই জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কে ডা.হানেমানের নির্দেশিত হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি অনুসারে সঠিক রোগীলিপি করণের মাধ্যমে যদি চিকিৎসা করা যায় তাহলে  এ্যাজমা সহ  যে কোন  জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ভিওিক লক্ষণ সমষ্টি নির্ভর ও ধাতুগত ভাবে চিকিৎসা দিলে   আল্লাহর রহমতে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।  চিকিৎসা বিজ্ঞানে চিরন্তন সত্য বলে কিছুই নেই । কেননা একসময় আমরা শুনতাম যক্ষা হলে রক্ষা নেই , বর্তমানে শুনতে পাই যক্ষা ভাল হয়। এ সবকিছু বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ফসল । এজমা  চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। সামগ্রিক উপসর্গের ভিত্তিতে ওষুধ নির্বাচনের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করা হয়। এটিই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে রোগীর কষ্টের সমস্ত চিহ্ন এবং উপসর্গগুলি দূর করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের অবস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়। বিবিসি নিউজের ২০১৬ তথ্য মতে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করে আরোগ্য লাভ করে, আবার ইদানিং অনেক নামদারি হোমিও চিকিৎসক বের হইছে,তাঁরা এজমা রোগীকে  কে পেটেন্ট টনিক, মিশ্র প্যাথি দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকে তাদের কে ডা.হানেমান শংকর জাতের হোমিওপ্যাথ বলে থাকেন,রোগীদের কে মনে রাখতে হবে, হাঁপানী  কোন সাধারণ রোগ না, তাই সঠিক চিকিৎসা পাইতে হইলে   অভিজ্ঞ চিকিৎকের পরামর্শ নিন।
লেখক: ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি
কো-চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
ইমেইল: drmazed96@gmail.com
 মোবা: ০১৮২২৮৬৯৩৮৯

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : চীনে ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত ১৩২ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন।

চীনের গণমাধ্যম সিনহুয়ায় এক বিশেষজ্ঞের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করতে পারে। চীন ছাড়াও ১৮টি দেশের ৭৮ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

করোনা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশান নয়। কাজেই এ্যান্টিবায়োটি ওষুধে এই রোগ নিরাময়যোগ্য নয়।

নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে বুলেটিন প্রকাশ করেছে তা নিচে তুলে ধরা হলো-

১. যত বেশী পারেন আপনার কণ্ঠনালীকে আর্দ্র করে রাখুন। কোনো অবস্থাতেই কণ্ঠনালী শুষ্ক হতে দেয়া যাবে না।

২. তৃষ্ণা পেলেই পানি পান করুন। কণ্ঠনালী  শুষ্ক থাকলে দশ মিনিটেই আপনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

৩. ৫০ থেকে ৮০ সিসি হালকা গরম পানি পান করুন (বড়দের জন্য)। ৩০ থেকে ৫০ সিসি ছোটদের জন্য।

৪. যখনই আপনি মনে করছেন- আপনার কন্ঠনালী শুষ্ক হয়ে আসছে, অপেক্ষা না করে দ্রুত পানি পান করুন।

৫. সবসময় হাতের কাছে বিশুদ্ধ পানি রাখুন।

৬. একবারে প্রচুর পানি পান করে লাভ নেই। বরং অল্প অল্প বিরতিতে অল্প অল্প পান করে কণ্ঠনালীকে সব সময় আদ্র করে রাখুন।

৭. মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত এই নিয়মগুলো মেনে চলুন।

৮. জনাকীর্ণ জায়গা থেকে দূরে থাকুন।

৯. ট্রেন, বাস এবং যেকোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশানে মাস্ক পরুন।

১০. ভাজা পোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন।
 
১১. যে সব খাবারে প্রচুর ভিটামিন সি আছে সেই খাবারগুলো বেশী করে খান।

লক্ষণসমূহ :

১. ঘন ঘন ঊচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর।

২. জ্বরের পর দীর্ঘায়িত কাশি।

৩. শিশুদের হওয়ার প্রবণতা বেশী।

৪. বয়ষ্কদের শারীরিক অসুস্থতাবোধ করা, মাথাব্যথা, বিশেষ করে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে ভোগা ।

এ রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত হওয়ার আগে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিন।

করোনাভাইরাস কী ও যেভাবে ছড়ায়
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : চীনে মারাত্মক আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এমনকি বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায়ও শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ভয়াবহ এই ভাইরাস ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বন্দরে জারি করা হয়েছে সতর্ক অবস্থা। এই ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ যেন দেশে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে বন্দরে বন্দরে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ভাইরাসে চীনে মারা গেছে ১০৬ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৯৩ জন।

আসুন জেনে নিই করোনাভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়:-

কি ধরনের ভাইরাস এটি : করোনাভাইরাস এক ধরনের ভাইরাস যার কারণে শ্বাসকষ্টসহ, ঠান্ডাজনিত নানা ধরনের শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়। মিডল ইস্ট রেসপাইরেটরি সিনড্রম বা মার্স এবং সিভিয়ার একুউট রেসপাইরেটরি সিন্ড্রম বা সার্সও করোনাভাইরাস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

কখন ধরা পড়ে : প্রথমে চীনে ২০০২ সালে বিড়াল থেকে মানবশরীরে এই ভাইরাস (সার্স) সংক্রমণের কথা জানা যায়। পরে ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের উটের শরীর থেকে মানবদেহে এ ধরনের ভাইরাসের (মার্স) সংক্রমণের বিষয়টিও ধরা পড়ে। বর্তমানে চীনে এটি নতুন রূপে দেখা দিয়েছে।

লক্ষণ কী : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণত যে লক্ষণগুলো ধরা পড়ে তা হল শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দিকাশি। পাশাপাশি নিউমোনিয়া, কিডনিতে সমস্যাসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।

মানুষ থেকে মানুষে কি সংক্রমিত হয় : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

চিকিৎসা কী : রোগটি একেবারেই নতুন হওয়ায় এখনও এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তবে এ ভাইরাস সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট শারীরিক সমস্যায় সাধারণ চিকিৎসাই প্রদান করা হয়ে থাকে। সবচেয়ে জরুরি হল রোগীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা।

কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন : এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কম আসা, হাত পরিষ্কার রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও নিরাপদ খাবারের উপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা : রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা একটু বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আর তাই তাদেরকে যথাযথভাবে সংক্রমণনিরোধী বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে।

সরকারের করণীয় কি : এ রোগের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকারকে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলছে। এ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগীর সন্ধান পাওয়া মাত্র তাদেরকে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র: ডয়েচে  ভেলে

শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যে খাবার
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : প্রয়োজনীয় সকল উপাদানই মিলবে ভোজ্য উৎস থেকে। শীত কালে ঠান্ডা কাশি ও নানা রকমের ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। একটু সতর্ক থাকলে এবং সঠিক খাবার খেলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

পুষ্টি বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে শীতকালে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে এমন উপকারী কিছু খাবারের নাম ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানা যায়।

লেবুজাতীয় ফল : সকল সমস্যারই একটি সমাধান আছে, আর তার যথার্থ প্রমাণ পাওয়া যায় প্রকৃতির কাছেই। শীতকালে ঠান্ডা কাশির সমস্যা যেমন বেড়ে যায় তার সমাধান ও পাওয়া যায় এই ঋতুর লেবুজাতীয় ফল থেকে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায় এবং ঠান্ডা নিরাময়ে অবদান রাখে। এধরনের ফলের মধ্যে কমলা, আঙ্গুর, লেবু ইত্যাদি উল্ল্যেখযোগ্য।

ক্যাপ্সিকাম : ‘ক্যাপ্সিকাম’ বিশেষ করে লাল ‘ক্যাপ্সিকাম’ উচ্চ ভিটামিন সি এবং ‘বিটা ক্যারোটিন’ সমৃদ্ধ যা ঠান্ডা কাশির ভাইরাস দূর করতে খুব ভালো কাজ করে এবং পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। ‘বিটা ক্যারোটিন’ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে।

রসুন : রসুন কেবল খাবারের স্বাদই বাড়ায় না বরং এতে আছে চমৎকার ঔষধি গুণ। রক্তচাপ কমাতে, হজম ক্রিয়া উন্নত করতে রসুন ভালো কাজ করে। রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পরিচিত কারণ এতে আছে ঘনিভূত সালফার সমৃদ্ধ উপাদান ‘অ্যালকাইলিন’।

আদা : আদাতে আছে ঠান্ডা, কাশি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা। এর প্রদাহনাষক উপাদান ঠান্ডা সারাতে খুব ভালো কাজ করে। আদাতে থাকা ‘জিঞ্জারেল’ এবং ‘শাওগেল’ নামক উপাদান ‘রাইনোভাইরাস’ ধ্বংস করতে সহায়তা করে। এর ফলে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে যায়। তাই শীতকালে সুস্থ্য থাকতে খাদ্য তালিকায় আদা যোগ করা ভালো।   

পালং শাক : পালং শাক ভিটামিন সি ও ‘বিটা ক্যারোটিন’ সমৃদ্ধ এবং এতে আছে নানা রকম ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’। পালং শাক শরীরের সংক্রমণ বিরোধী শক্তি বাড়ায় এবং এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ফলাফল হিসেবে শরীর সুস্থ্য থাকে সবসময়। পালং শাকের পুষ্টিগুণ ঠিক রাখতে তা কম রান্না করা উচিত।

ব্রকলি : ব্রকলি ভিটামি সি সমৃদ্ধ, এছাড়াও এতে আছে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন- ভিটামিন এ এবং ই যা, রোগ প্রতরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ব্রকলি উচ্চ আঁশ ও ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ সমৃদ্ধ এবং এটা শীতকালের পুষ্টিকর খাবার হিসেবেও খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখা যায়। তবে ব্রকলির সর্বচ্চ গুণাগুণ পেতে তা খুব বেশি রান্না না করাই ভালো।

দই : দইয়ে যথেষ্ট পডিরমাণ ভিটামিন ডি থাকে এবং চর্বির মাত্রা কম থাকে এমন দই ব্যাক্টেরিয়া সমৃদ্ধ যা ঠান্ডার ভাইরাস ধ্বংস করে বলে কয়েকটি গবেষণা থেকে জানা গেছে। যে সকল ভাইরাস ঠান্ডার জীবাণূ ধ্বংস করে তাদের বলা হয় উপকারী ব্যাকটেরিয়া, এটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে।

রোটা ভাইরাসের ঝুঁকিতে শিশুরা
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : শীতে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় সাধারণ সর্দিজ¦রে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সাধারণ সর্দিজ¦র, রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুিঁক থাকে বেশি। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে এবং শিশুদের খাবার খাওয়ানোর আগে ভালো করে হাত ধোয়ার মাধ্যমে রোটা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই চার মাসে রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের হার বেশি থাকে। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ ভাগই এই সময়ে হয়। ৬ থেকে ২৪ মাস বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় রোটা ভাইরাসে। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম আলমগীর বলেন, শীত মৌসুম নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। এই সময়টা ‘কমন কোল্ড’ বা সাধারণ সর্দিজ¦রের মৌসুম। তবে এই সময়ের জ¦রকে অনেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভেবে ভুল করে থাকেন। সাধারণ সর্দিজ¦রে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হলেও অনেকে তা না জেনেই সেবন করে থাকেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শীতে ভাইরাসজনিত কারণে তিনটি সংক্রামক রোগ হয়ে থাকে। মানুষ সচেতন হলে এই তিন সংক্রামক রোগ থেকে প্রতিরোধ পাওয়া সম্ভব। রোগ তিনটি হলো-সাধারণ সর্দিজ্বর, রোটা ভাইরাস এবং নিপাহ ভাইরাস।

আইইডিসিআর এর ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী পরিচালক ড. মনজুর হোসেন খান বলেন, যেসব শিশু বস্তি এলাকায়, ডে কেয়ার সেন্টার, এতিমখানায় থাকে তাদের রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তিনি জানান, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১০ হাজার ৮১৬ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ৬ হাজার ৫২৮ জন শিশু অর্থাৎ ৬০ ভাগ শিশুর রোটা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ জন শিশুর রোটা ভাইরাসে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ডায়রিয়া আক্রান্ত প্রতি চার জন শিশুর একজন রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

শীতকালীন মৌসুমে শিশুরা এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। বিশ্বে শিশু মৃত্যুর চতুর্থ কারণ ডায়রিয়া। রোটা ভাইরাস পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। নবজাতক এবং শিশুরা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয়। শীত যত বেশি পড়ে, রোটা ভাইরাসে শিশুর আক্রান্তের হারও তত বেড়ে যায়।

মনজুর হোসেন খান বলেন, তিন মাস থেকে দুই বছরের শিশুরা বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়। ৬ থেকে ১২ মাসের শিশুরা সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বড়োরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে, সেটার পরিমাণ খুবই কম। শরীরে ভাইরাস যাওয়ার পর দুই-তিন দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। জ¦র, বমি, তলপেটে ব্যথা, পানির মতো পায়খানা হতে পারে। বারবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

শিশুরা ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে আসে। এ সময় তাদের একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়ায়। এমনকি ডায়রিয়া হওয়ার আগেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাবার আগে এবং পরে হাত না ধুয়ে খেলে, হাতে এই ভাইরাস থাকা অবস্থায় হাত মুখে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই রোগ ছড়ায়।

অধ্যাপক মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যেহেতু শিশুরা নিজেদের সুরক্ষা নিজেরা নিতে পারে না, তাই তাদের মা-বাবা বা অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তারা শিশুর খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকলে, খাওয়ার আগে শিশুর হাতটা ধুয়ে দিলে, অনেকাংশে এই রোগ প্রতিরোধ হবে। বিশেষ করে এতিমখানায় অনেক শিশু একসঙ্গে থাকে। তাদের কারো একজনার ডায়রিয়া হলে সেটি অন্যান্যের মধ্যেও ছড়ায়। বাড়িতে যতটা না এই ভাইরাস ছড়ায়। তার চেয়েও বেশি ছড়ায়, শিশু যখন বাইরে খেলতে যায় তখন। এ ক্ষেত্রে শিশুর পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি, খাবার এবং হাতের স্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে বাতাসে থাকতে পারে। রোটা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার চিকিৎসাই এ ক্ষেত্রে দেয়া হয়। হাত ধুয়ে খাবার খাওয়া এবং খাবার গরম করে খাওয়ার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভালো ঘুমের জন্য
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ঘুম একটি অতি জরুরি কাজ। কাজ বলছি এজন্য, ঘুমানোর জন্যও আমাদের কিছু না কিছু করতে হয়। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ঘুম নিয়ে আমাদের মোটেও ভাবতে হয়নি। কত সহজেই না তখন ঘুমিয়ে যেতাম। খাবার পর ঘুমই ছিল প্রধান কাজ। জন্মের পর প্রথম দিকে যেখানে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুম হতো। তা ২০ বছর বয়সে এসে ৬ ঘণ্টা নেমে আসে। বয়স বাড়তে থাকলে সময়ও কমতে থাকে।

ঘুম কেন্দ্রীয় বায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেন্দ্রীয় বায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্কে) একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি আছে। এটি ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলে। আবার জেগে মানুষকে ঘুমাবার জন্য তাগাদা দেয়। শুধু ঘুমই নয়, প্রতিটি কাজের তৎপরতাও এভাবেই পরিচালিত হয়। জন্মাবার পর পরই দিনের অধিকাংশ সময় ঘুম দখল করে নেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ ঘড়িটি বিপাক ক্রিয়া হরমোনজনিত কারণে ঘুম কমিয়ে দেয়, জেগে থাকা বৃদ্ধি করে।

ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাবার জন্য আরও কিছু কারণ আছে- ধূমপান/ মদ্যপান, ২০/২২ বছর বয়সে; ছোট বাচ্চা, ২৮/২৯ বছর বয়সে; মূত্রাশয়ের ডাকে পঞ্চাশোর্ধ বয়সে। আর ক্রমে বিছানা হয়ে ওঠে কণ্টকাকীর্ণ। আর এভাবেই আমরা দিনের বেলাতেও দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকি। মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ ও উৎকণ্ঠা বোঁধ করি। এগুলো আবার শারীরিক ব্যাপক সমস্যা যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দিনের বেলায় কাজের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা ঘুমিয়ে পড়া ইত্যাদি ঘটনার জন্ম দেয়।

এখানে ৩টি বয়স বিভাগে ঘুম সহায়ক কিছু পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

২০ বছর বয়সে সুখনিদ্রার জন্য : এ বয়সে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলেই চলবে। তবে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম হলে তা পর্যাপ্ত। এক্ষেত্রে ৪টি করণীয় আছে।

১. রাত ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়ুন। জেগে থাকার অভ্যাস বাড়িয়ে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবেন না।

২. সন্ধ্যার পর আর চা পান করবেন না।

৩. রাত ১১.৩০ মিনিটের দিকে মেলাটোনিন নামক হরমোন নিরসন হয় যা আমাদের ঘুমাতে আরও গভীর করে। গবেষকরা বলছেন, রাতে ০.৩ মিলিগ্রাম মেলাটোনিন খেলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যায়।

৪. উপরের ৩টি মেনে চললে যদি আপনি যথেষ্ট ঘুমাবার সুযোগ পান। তবে সপ্তাহান্তে ছুটির আমেজে দীর্ঘক্ষণ ঘুমাবার চেষ্টা করবেন না। ঘুমালে আপনার অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ছন্দ হারাবে এবং আপনার সব বিনিয়োগ বৃথা যাবে।

৩০ বছর বয়সে সুখ নিদ্রার জন্য : গত দশকের চেয়ে সামান্য একটু বেশি ঘুম হতে পারে আপনার। তবে তা যথেষ্ট নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ ও ৪০ এর দশকে মানুষের ৮২% কম গভীর ঘুম হয়। এ সময় অগভীর ঘুম বেশি হয়। এখানে সুখনিদ্রার জন্য করণীয়-

১. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক এসিড) সমৃদ্ধ খাবার খান। এটি স্ট্রেম হরমোন কটিসোকের কার্যকারিতা হ্রাস করবে। ভিটামিন বি৫-এর উত্তম উৎস হলো ডাল, পশুর যকৃৎ, বৃক্ক, ব্যাঙের ছাতা, নারিকেল, বাদাম, বেল, তরমুজ, ডিম, শ্যাওলা জাতীয় খাদ্য গম ইত্যাদি। এতেও কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এসপিরিন খাওয়া যেতে পারে। এসপিরিন কটিসোপের নিঃসরণ কমাবে।

২. শিশুরা ঘুম ভাঙাতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের টেলিভিশন দেখার নিয়ন্ত্রণ করুন। বাচ্চারা যত টেলিভিশন দেখতে থাকবে তত তাদের নিজেদের ঘুম এলোমেলো হবে এবং বাবা-মারও ঘুমের প্রতিদিনকার ছন্দ নষ্ট হবে।

৩. প্রতিদিন ২-৩ কিলোমিটার হাঁটুন। বিকেলে হাঁটাই উত্তম। হালকা ব্যয়ামও করতে পারেন।

৫০ বছরের পরবর্তী সময়ে সুখনিদ্রা : এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই নিদ্রাহীনতায় ভোগে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০-এর বেশি বয়সের পুরুষরা তাদের প্রতি ১০ বছর অতিক্রমের জন্য ২৮ মিনিট করে কম ঘুমায়। ৬০ বছর বয়সের আগেই তাদের গভীর ঘুম উধাও হয়। ৫০ বছর বয়সের একজন মানুষের রক্তে তার ৩০ বছর বয়সের ১০ গুণ কটিসোল উপস্থিত থাকে। যা তার ঘুম হরণ করে। আবার প্রতি ২৫ জনে ১ জনের ঘুমের মধ্যে হঠাৎ খুব অল্প সময়ের জন্য শ্বাস আটকে যায় সে জেগে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রস্টেট গ্রন্থির কারণে নানাবিধ সমস্যা ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, তলপেট মূত্রাশয় ভার থাকার কারণে টান টান হয়ে থাকা। এ বয়সে গভীর ঘুমের জন্য করণীয়-

১. প্রচুর ভিটামিন বি৫ সমৃদ্ধ খাদ্য খান। রাতে শর্করা জাতীয় বেশি পরিমাণে খাবার চেষ্টা করুন। এতে কটিসোল নিঃসরণ কমবে, সোরাটোনিন নিঃসরণ বাড়বে, ঘুম আসবে।

২. ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে তার জন্য চিকিৎসা করাতে হবে।

৩. যাদের হৃদরোগের জন্য ওষুধ খেতে হচ্ছে তাদের চিকিৎসক তার অনিদ্রা বা গভীর ঘুম না হওয়ার কথাটি জানাবে অথবা অন্যান্য ওষুধ খাবার বেলাতেও ঘুমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

৪. রাতে ৩-৪ বার প্রস্রাব করতে যেতে হলে আপনার ডাক্তারকে জানান। প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এরূপ হতে পারে।

সবার জন্য করণীয় : ওষুধের দোকান থেকে নিজের ইচ্ছা মাফিক ঘুমের বড়িও কিনে খাবেন না। এতে আপনার বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে। ওষুধ সেবনে আন্তরিক হোন।

চিকিৎসক আপনাকে ওষুধ ছাড়াও ঘুমানোর জন্য কিছু কিন্তু পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন। তা অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।

ঘুমানোর সময় ও পরিবেশ যতটা সম্ভব অপরিবর্তনীয় রাখুন।

রাতের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে খাবেন। রাতে সবজি কম খাবেন শর্করা বেশি খাবেন।

শেষ কাপ চা ঘুমানোর সময় থেকে যতটা সম্ভব আগেই শেষ করুন।

সতর্ক বার্তা: রেনিটিডিনে ক্যান্সার উপাদান । ডেইলি স্বাধীন বাংলা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ রেনিটিডিনের মধ্যে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ওষুধটি প্রয়োগে সতর্কতা জারি করেছে। এ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের স্যান্ডোজ ‘রেনিটিডিন’ ক্যাপসুলের মধ্যে ‘এন-নিট্রোসডিমিথাইলামাইন (এনডিএমএ)’ নামে পরিবেশ দূষণজনিত উপাদানের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে তাদের এই ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারতসহ বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানি রেনিটিডিন সরবরাহ বন্ধ করার ও বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সংস্থা (এফডিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রাথমিক পরীক্ষায় বেশ কিছু ব্র্যান্ডের রেনিটিডিনের মধ্যে এনডিএমএর উপস্থিতি পাওয়ার পর সতর্কতা জারি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন স্বাস্থ্য সেবাদাতা ও রোগীদের উদ্দেশ্যে এক সতর্কবার্তায় বলেছে, উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর স্যান্ডোজ তাদের তৈরি দুই মাত্রার রেনিটিডিন ক্যাপসুলের (১৫০ ও ৩০০ মিলিগ্রাম) ১৪টি লট বাজার থেকে স্বেচ্ছায় তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এর বাইরে অন্য কোনো রেনিটিডিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে এখনও প্রত্যাহার হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে সতর্ক করার পর, স্যান্ডোজ তাদের সব ধরণের রেনিডিটিন ওষুধ বাজারে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে এফডিএ।
সংস্থটি বলছে, স্যান্ডোজের ক্যাপসুল ছাড়া অন্য রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ সেবনে এখনই তারা বারণ করছেন না। তবে কেউ চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য কোনো কোম্পানির রেনিটিডিন সেবন করতে পারেন।

স্যান্ডোজের ক্যাপসুলে উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে কানাডার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপোটেক্স, প্রো ডক লিমিটেড, স্যানিস হেলথ ও সিভেম ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের তৈরি রেনিটিডিন জাতীয় বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে।
এর আগে কোনো কোম্পানির রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা না দেওয়া হলেও ওষুধে উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নেই বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে বাজারে রেনিটিডিন সরবরাহ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায় হেলথ কানাডা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছেন, শুক্রবার ভারতের ওষুধ কোম্পানি স্ট্রাইডস এফডিএর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের রেনিটিডিন বিক্রি বন্ধ রেখে তাদের ট্যাবলেটে এনডিএমএর উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ভারতের ওষুধ কোম্পানি ড. রেড্ডিস ফার্মাসিউটিক্যালস ও গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তাদের রেনিটিডিন বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

নিয়ম মেনে হাঁটুন-মেদ কমান
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : নিয়ম মেনে কড়া ডায়েট হোক বা জোরদার শরীরচর্চা- সময়ের অভাব আর পদ্ধতিগত নানা জটিলতা এগুলোর প্রতি ঝুঁকতে বাধা দেয় বেশির ভাগ মানুষকেই। সবাই ভাবেন, তার চেয়ে হাঁটা ভালো। সহজ পদ্ধতি, প্রতিদিনের রোজনামচায় হাঁটার সময়ও বের করা সহজ। জিম-ফিটনেস সেন্টারে ছোটারও প্রয়োজন পড়ে না। তাই শরীরচর্চার সব উপায়ের মধ্যে হাঁটাকে আপন করে নেন অনেকেই।

পুষ্টিবিদের মতে, হাঁটাহাঁটি করুন যতটা পারেন। মাঝে মাঝে হাঁটায় শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো সচল থাকবে। তবে এতে খুব একটা মেদ ঝরে না। মেদ ঝরাতে গেলে কিছু নিয়ম মেনে হাঁটতেই মিলবে উপকার।

নিয়মের সঙ্গে জেনে রাখা দরকার হাঁটার সময়ও। সপ্তাহে হাঁটতে হবে অন্তত ২৫০ মিনিট। গড় হিসেবে কম করে ৩৫ মিনিটের একটু বেশি। এটুকু হাঁটা শরীরের শুধু মেদ ঝরাবে তা-ই নয়, এই দীর্ঘক্ষণ হাঁটা হাঁর্টের অসুখ ভালো করে। কোলেস্টেরল কমায়। কিন্তু শুধু সময় মানলেই হবে না। জানতে হবে আরও কিছু নিয়ম।

হাঁটাহাঁটির অভ্যাস না থাকলে প্রথম দিকে এক সেকেন্ডে একটা স্টেপ, এই অঙ্কেই হাঁটতে হবে। তারপর হাঁটার অভ্যাস হলে সেকেন্ডে দুটো স্টেপের হিসেবে হাঁটতে হবে। আর অবশ্যই হাঁটতে হবে একটানা রাস্তা ধরে। বারবার থমকে, ঘন ঘন দিক বদলে হাঁটার চেয়ে টানা হাঁটায় উপকার বেশি। তাই বাড়ির ছাদে বা লনে নয়, রাস্তা ধরে হাঁটুন।

এমন কোনো রাস্তা বাছুন, যেখানে ধোঁয়া, যানজট, বড়সড় গাড়ির উপস্থিতি প্রায় নেই। গলিপথগুলো হাঁটার জন্য ভালো। বারবার হাঁটার সময় গাড়ি ঘোড়ার উপদ্রবে দাঁড়াতে হলে তা হাঁটায় বিঘœ ঘটায়। আর যানবাহনের ধোঁয়া শরীরের জন্যও ভালো নয়।

অনেকেই পোষ্য নিয়ে বেড়াতে যান। সেই অভ্যাসে রাশ টানবেন না, এতে পোষ্য কষ্ট পায়। বরং তাকে নিয়ে হাঁটার সময়টা আলাদা করে বরাদ্দ করুন। ওজন কমানোর জন্য হাঁটার সময় একা হাঁটুন। দ্রম্নত হাঁটার সঙ্গে তাল মেলাতে পোষ্যের অসুবিধা হবে ও সে তার বেড়ানো উপভোগ করবে না। আপনিও তাকে সঙ্গে নিয়ে সেকেন্ডে দুটো স্টেপের হিসেব বজায় রাখতে পারবেন না।

দল বেঁধে হাঁটতে বেরবেন না একই কারণে। অনেকেই এই সময় গল্পগাছা করতে করতে হাঁটেন। কথা না বললেও দলছুট হয়ে যাওয়ায় অনেকে হাঁঁটা শ্লথ করে ফেলেন। এই অভ্যাসগুলো কিন্তু মেদ কমানোর পথে বাধা হতে পারে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেও হাঁটবেন না। এতে হাঁটার গতি শ্লথ হয় ও হাঁপিয়ে গিয়ে বেশি দূর হাঁটা যায় না।

দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ বাড়াবে এমন কিছু ভাবতে ভাবতে হাঁটা চলবে না কিছুতেই। বরং সে সব ঠেকাতে ওই সময়টা ইয়ারফোন বা হেডফোনে গান শুনুন। এতে ফিল গুড হরমোনের জোগান যেমন বাড়বে, তেমনই হাঁটার রিদ্ম কমবে না। তবে ব্যস্ত রাস্তা, যানজটের পথে হাঁটলে হেডফোন অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।

হাতে বা পিঠে অনেক বোঝা নিয়ে হাঁটবেন না। এতে ক্লান্তি বাড়বে, বেশিক্ষণ হাঁটা সম্ভব হবে না। হাঁটার নির্দিষ্ট কোনো সময়ও নেই। সকালে সময় না পেলে বিকেলে বা সন্ধ্যায় হাঁটুন। রাতে খাওয়া-দাওয়ার পরেও হাঁটতে পারেন। তবে খুব ভরাপেটে আবার একেবারে খালিপেটে হাঁটবেন না।

পায়ে বা হাঁটুতে চোট থাকলে বা কোমরের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই হাঁটার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দিনে কতটুকু হাঁটলে আপনার হাঁড় ও স্নায়ু তা সইতে পারবে, তা জেনে তবেই হাঁটাহাঁটি শুরু করুন।

২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩৪ জন আক্রান্ত
                                  

কাউসার আহম্মেদ টিটু, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৪ জন রোগী। এ নিয়ে জেলার ১৩ টি উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৬ জনে। গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ১১১ জন। আক্রান্তরা বেশিরভাগই ঢাকা থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও  চিকিৎসকরা। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দুপুর একটা পর্যন্ত নতুর করে আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯ জন, ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭জন, বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিক্যাল কলেজে ২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জনসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার ক্লিনিকে আরও ২১জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জ জেলায় সর্বমোট ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। সোমবার (২৯জুলাই) সন্ধ্যা একজন রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে আরও ৫ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে বলেও জানা যায়। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।  
এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মশারি ছাড়াই একই বিছানায় অন্য রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে বলে অনেক রোগীর অভিবাবকরা অভিযোগ করেছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথমে রোগী সনাক্ত না হওয়ায় মশারী টানানো হয় নাই। কিন্তু পরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করে আলাদা করে মশারী টানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জেলা সদরের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৩ তলায় একটি পুরুষ ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, মশারী টানানো অবস্থায় এখানে অন্য রোগীর সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। ফলে মারাতœকভাবে বিঘিœত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম বলে জানান আক্রান্ত রোগীরা।
শহরের তমালতলা এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শফিকুল ইসলাম (৩৭) বলেন, আমার বোনকে ঢাকায় দেখতে গিয়ে ছিলাম তখন আক্রান্ত হই। এখানে হাসপাতালে অন্যান্য রোগীদের সাথে আমাদের গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছিনা। ডাক্তাররা আমাদেরকে অন্য রোগী ভেবে অনেক সময় গুরুত্বভাবে দেখছেন না।
করিমগঞ্জের খুদির জঙ্গল গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোমা আক্তার (৩০) বলেন, ঢাকায় ভাই বোন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আমি দেখতে গিয়ে আমিও আক্রান্ত হই। পরে কিশোরগঞ্জে এসে হাসপাতালে ভর্তি হই। তাদের মতো বেশিরভাগ রোগী জানিয়েছেন তারা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এ জ্বর জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা। অনেকে সেখানে ভর্তি হয়েও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে চলে যাচ্ছেন বাড়িতে।
আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমরা ডেঙ্গু রোগীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। রোগীদেরকে মশারী টানিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আর রোগীর অবস্থা অবনতি দেখলে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করা হচ্ছে।


   Page 1 of 14
     স্বাস্থ্য
কালোজিরা ৮টি অসুখ থেকে দূরে রাখে
.............................................................................................
জ্বর হলেই করোনা আতঙ্ক নয়
.............................................................................................
যে ৮ সমস্যা থাকলে করোনার ঝুঁকি বেশী
.............................................................................................
করোনা সংক্রমণে প্রচুর বিশ্রাম ও পানি পান করুন
.............................................................................................
করোনা থেকে আপনার সন্তানকে বাঁচাতে করণীয়
.............................................................................................
করোনা নাকি সাধারণ ফ্লু, বুঝবেন কীভাবে
.............................................................................................
করোন আতঙ্কে নওগাঁয় হাসপাতাল ছেড়ে পালালো রোগীরা!
.............................................................................................
হাঁপানী বা এ্যাজমা চিকিৎসায় হোমিও
.............................................................................................
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়
.............................................................................................
করোনাভাইরাস কী ও যেভাবে ছড়ায়
.............................................................................................
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যে খাবার
.............................................................................................
রোটা ভাইরাসের ঝুঁকিতে শিশুরা
.............................................................................................
ভালো ঘুমের জন্য
.............................................................................................
সতর্ক বার্তা: রেনিটিডিনে ক্যান্সার উপাদান । ডেইলি স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
নিয়ম মেনে হাঁটুন-মেদ কমান
.............................................................................................
২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩৪ জন আক্রান্ত
.............................................................................................
পরোক্ষ ধূমপানও মৃত্যু ঘটায়
.............................................................................................
ইচ্ছে হলেই ওষুধ নয়
.............................................................................................
বিশ্ব অটিজম দিবস আজ
.............................................................................................
আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
.............................................................................................
শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
.............................................................................................
স্বাস্থ্য খাতে এডিবির বরাদ্দ বাড়ছে
.............................................................................................
শরীরচর্চা করে না বিশ্বের একচতুর্থাৎশ মানুষ: ডব্লিউএইচও
.............................................................................................
মুখে ঘা হলে যা করণীয়
.............................................................................................
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়
.............................................................................................
যখন তখন ঘুমের ওষুধ নয়
.............................................................................................
জেনে নিন ক্যান্সারের পূর্বাভাস
.............................................................................................
ঘুমের ওষুধ অপ্রয়োজনে নয়
.............................................................................................
নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা
.............................................................................................
ক্যান্সার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার করেছে কিউবার বিজ্ঞানীরা
.............................................................................................
২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত
.............................................................................................
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ‘যুগান্তকারী’ ওষুধ
.............................................................................................
শীতে শিশুর যত্ন
.............................................................................................
ক্যান্সার রোগ নয়, ব্যবসা!
.............................................................................................
কালোজিরার উপকারিতা
.............................................................................................
আগুনে পোড়া ক্ষত সারাতে ভিটামিন ডি
.............................................................................................
শিশুর জ্বর হলে যা করবেন
.............................................................................................
মেরুদন্ডের সমস্যায় করণীয়
.............................................................................................
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ...
.............................................................................................
হার্ট ভাল রাখতে ৪টি জরুরি বিষয়
.............................................................................................
ভারতে হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় ১৬ শিশুর মৃত্যু
.............................................................................................
রোবটের সাহায্যে মানুষের দাঁতে অস্ত্রোপচার
.............................................................................................
প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ২২ হাজার নারী!
.............................................................................................
স্ট্রোক হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ থেকে
.............................................................................................
‘সুপার ম্যালেরিয়া’ ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়
.............................................................................................
ঘুমন্ত অবস্থায় যেভাবে চর্বি গলে ওজন কমবে!
.............................................................................................
শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, এলার্জি হলে যা করবেন
.............................................................................................
ওজন কমাতে ক্যালসিয়াম
.............................................................................................
চুমু স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ভালো বা মন্দ
.............................................................................................
ক্যান্সার এড়াতে করনীয়
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft