শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ভালো ঘুমের জন্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ঘুম একটি অতি জরুরি কাজ। কাজ বলছি এজন্য, ঘুমানোর জন্যও আমাদের কিছু না কিছু করতে হয়। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ঘুম নিয়ে আমাদের মোটেও ভাবতে হয়নি। কত সহজেই না তখন ঘুমিয়ে যেতাম। খাবার পর ঘুমই ছিল প্রধান কাজ। জন্মের পর প্রথম দিকে যেখানে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুম হতো। তা ২০ বছর বয়সে এসে ৬ ঘণ্টা নেমে আসে। বয়স বাড়তে থাকলে সময়ও কমতে থাকে।

ঘুম কেন্দ্রীয় বায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেন্দ্রীয় বায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্কে) একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি আছে। এটি ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলে। আবার জেগে মানুষকে ঘুমাবার জন্য তাগাদা দেয়। শুধু ঘুমই নয়, প্রতিটি কাজের তৎপরতাও এভাবেই পরিচালিত হয়। জন্মাবার পর পরই দিনের অধিকাংশ সময় ঘুম দখল করে নেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ ঘড়িটি বিপাক ক্রিয়া হরমোনজনিত কারণে ঘুম কমিয়ে দেয়, জেগে থাকা বৃদ্ধি করে।

ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাবার জন্য আরও কিছু কারণ আছে- ধূমপান/ মদ্যপান, ২০/২২ বছর বয়সে; ছোট বাচ্চা, ২৮/২৯ বছর বয়সে; মূত্রাশয়ের ডাকে পঞ্চাশোর্ধ বয়সে। আর ক্রমে বিছানা হয়ে ওঠে কণ্টকাকীর্ণ। আর এভাবেই আমরা দিনের বেলাতেও দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকি। মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ ও উৎকণ্ঠা বোঁধ করি। এগুলো আবার শারীরিক ব্যাপক সমস্যা যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দিনের বেলায় কাজের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা ঘুমিয়ে পড়া ইত্যাদি ঘটনার জন্ম দেয়।

এখানে ৩টি বয়স বিভাগে ঘুম সহায়ক কিছু পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

২০ বছর বয়সে সুখনিদ্রার জন্য : এ বয়সে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলেই চলবে। তবে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম হলে তা পর্যাপ্ত। এক্ষেত্রে ৪টি করণীয় আছে।

১. রাত ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়ুন। জেগে থাকার অভ্যাস বাড়িয়ে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবেন না।

২. সন্ধ্যার পর আর চা পান করবেন না।

৩. রাত ১১.৩০ মিনিটের দিকে মেলাটোনিন নামক হরমোন নিরসন হয় যা আমাদের ঘুমাতে আরও গভীর করে। গবেষকরা বলছেন, রাতে ০.৩ মিলিগ্রাম মেলাটোনিন খেলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যায়।

৪. উপরের ৩টি মেনে চললে যদি আপনি যথেষ্ট ঘুমাবার সুযোগ পান। তবে সপ্তাহান্তে ছুটির আমেজে দীর্ঘক্ষণ ঘুমাবার চেষ্টা করবেন না। ঘুমালে আপনার অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ছন্দ হারাবে এবং আপনার সব বিনিয়োগ বৃথা যাবে।

৩০ বছর বয়সে সুখ নিদ্রার জন্য : গত দশকের চেয়ে সামান্য একটু বেশি ঘুম হতে পারে আপনার। তবে তা যথেষ্ট নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ ও ৪০ এর দশকে মানুষের ৮২% কম গভীর ঘুম হয়। এ সময় অগভীর ঘুম বেশি হয়। এখানে সুখনিদ্রার জন্য করণীয়-

১. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক এসিড) সমৃদ্ধ খাবার খান। এটি স্ট্রেম হরমোন কটিসোকের কার্যকারিতা হ্রাস করবে। ভিটামিন বি৫-এর উত্তম উৎস হলো ডাল, পশুর যকৃৎ, বৃক্ক, ব্যাঙের ছাতা, নারিকেল, বাদাম, বেল, তরমুজ, ডিম, শ্যাওলা জাতীয় খাদ্য গম ইত্যাদি। এতেও কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এসপিরিন খাওয়া যেতে পারে। এসপিরিন কটিসোপের নিঃসরণ কমাবে।

২. শিশুরা ঘুম ভাঙাতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের টেলিভিশন দেখার নিয়ন্ত্রণ করুন। বাচ্চারা যত টেলিভিশন দেখতে থাকবে তত তাদের নিজেদের ঘুম এলোমেলো হবে এবং বাবা-মারও ঘুমের প্রতিদিনকার ছন্দ নষ্ট হবে।

৩. প্রতিদিন ২-৩ কিলোমিটার হাঁটুন। বিকেলে হাঁটাই উত্তম। হালকা ব্যয়ামও করতে পারেন।

৫০ বছরের পরবর্তী সময়ে সুখনিদ্রা : এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই নিদ্রাহীনতায় ভোগে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০-এর বেশি বয়সের পুরুষরা তাদের প্রতি ১০ বছর অতিক্রমের জন্য ২৮ মিনিট করে কম ঘুমায়। ৬০ বছর বয়সের আগেই তাদের গভীর ঘুম উধাও হয়। ৫০ বছর বয়সের একজন মানুষের রক্তে তার ৩০ বছর বয়সের ১০ গুণ কটিসোল উপস্থিত থাকে। যা তার ঘুম হরণ করে। আবার প্রতি ২৫ জনে ১ জনের ঘুমের মধ্যে হঠাৎ খুব অল্প সময়ের জন্য শ্বাস আটকে যায় সে জেগে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রস্টেট গ্রন্থির কারণে নানাবিধ সমস্যা ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, তলপেট মূত্রাশয় ভার থাকার কারণে টান টান হয়ে থাকা। এ বয়সে গভীর ঘুমের জন্য করণীয়-

১. প্রচুর ভিটামিন বি৫ সমৃদ্ধ খাদ্য খান। রাতে শর্করা জাতীয় বেশি পরিমাণে খাবার চেষ্টা করুন। এতে কটিসোল নিঃসরণ কমবে, সোরাটোনিন নিঃসরণ বাড়বে, ঘুম আসবে।

২. ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে তার জন্য চিকিৎসা করাতে হবে।

৩. যাদের হৃদরোগের জন্য ওষুধ খেতে হচ্ছে তাদের চিকিৎসক তার অনিদ্রা বা গভীর ঘুম না হওয়ার কথাটি জানাবে অথবা অন্যান্য ওষুধ খাবার বেলাতেও ঘুমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

৪. রাতে ৩-৪ বার প্রস্রাব করতে যেতে হলে আপনার ডাক্তারকে জানান। প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এরূপ হতে পারে।

সবার জন্য করণীয় : ওষুধের দোকান থেকে নিজের ইচ্ছা মাফিক ঘুমের বড়িও কিনে খাবেন না। এতে আপনার বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে। ওষুধ সেবনে আন্তরিক হোন।

চিকিৎসক আপনাকে ওষুধ ছাড়াও ঘুমানোর জন্য কিছু কিন্তু পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন। তা অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।

ঘুমানোর সময় ও পরিবেশ যতটা সম্ভব অপরিবর্তনীয় রাখুন।

রাতের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে খাবেন। রাতে সবজি কম খাবেন শর্করা বেশি খাবেন।

শেষ কাপ চা ঘুমানোর সময় থেকে যতটা সম্ভব আগেই শেষ করুন।

ভালো ঘুমের জন্য
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ঘুম একটি অতি জরুরি কাজ। কাজ বলছি এজন্য, ঘুমানোর জন্যও আমাদের কিছু না কিছু করতে হয়। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন ঘুম নিয়ে আমাদের মোটেও ভাবতে হয়নি। কত সহজেই না তখন ঘুমিয়ে যেতাম। খাবার পর ঘুমই ছিল প্রধান কাজ। জন্মের পর প্রথম দিকে যেখানে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ঘুম হতো। তা ২০ বছর বয়সে এসে ৬ ঘণ্টা নেমে আসে। বয়স বাড়তে থাকলে সময়ও কমতে থাকে।

ঘুম কেন্দ্রীয় বায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেন্দ্রীয় বায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্কে) একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি আছে। এটি ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলে। আবার জেগে মানুষকে ঘুমাবার জন্য তাগাদা দেয়। শুধু ঘুমই নয়, প্রতিটি কাজের তৎপরতাও এভাবেই পরিচালিত হয়। জন্মাবার পর পরই দিনের অধিকাংশ সময় ঘুম দখল করে নেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ ঘড়িটি বিপাক ক্রিয়া হরমোনজনিত কারণে ঘুম কমিয়ে দেয়, জেগে থাকা বৃদ্ধি করে।

ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাবার জন্য আরও কিছু কারণ আছে- ধূমপান/ মদ্যপান, ২০/২২ বছর বয়সে; ছোট বাচ্চা, ২৮/২৯ বছর বয়সে; মূত্রাশয়ের ডাকে পঞ্চাশোর্ধ বয়সে। আর ক্রমে বিছানা হয়ে ওঠে কণ্টকাকীর্ণ। আর এভাবেই আমরা দিনের বেলাতেও দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকি। মানসিক অস্থিরতা, অবসাদ ও উৎকণ্ঠা বোঁধ করি। এগুলো আবার শারীরিক ব্যাপক সমস্যা যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দিনের বেলায় কাজের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা বা ঘুমিয়ে পড়া ইত্যাদি ঘটনার জন্ম দেয়।

এখানে ৩টি বয়স বিভাগে ঘুম সহায়ক কিছু পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

২০ বছর বয়সে সুখনিদ্রার জন্য : এ বয়সে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলেই চলবে। তবে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম হলে তা পর্যাপ্ত। এক্ষেত্রে ৪টি করণীয় আছে।

১. রাত ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়ুন। জেগে থাকার অভ্যাস বাড়িয়ে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবেন না।

২. সন্ধ্যার পর আর চা পান করবেন না।

৩. রাত ১১.৩০ মিনিটের দিকে মেলাটোনিন নামক হরমোন নিরসন হয় যা আমাদের ঘুমাতে আরও গভীর করে। গবেষকরা বলছেন, রাতে ০.৩ মিলিগ্রাম মেলাটোনিন খেলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যায়।

৪. উপরের ৩টি মেনে চললে যদি আপনি যথেষ্ট ঘুমাবার সুযোগ পান। তবে সপ্তাহান্তে ছুটির আমেজে দীর্ঘক্ষণ ঘুমাবার চেষ্টা করবেন না। ঘুমালে আপনার অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ছন্দ হারাবে এবং আপনার সব বিনিয়োগ বৃথা যাবে।

৩০ বছর বয়সে সুখ নিদ্রার জন্য : গত দশকের চেয়ে সামান্য একটু বেশি ঘুম হতে পারে আপনার। তবে তা যথেষ্ট নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ ও ৪০ এর দশকে মানুষের ৮২% কম গভীর ঘুম হয়। এ সময় অগভীর ঘুম বেশি হয়। এখানে সুখনিদ্রার জন্য করণীয়-

১. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক এসিড) সমৃদ্ধ খাবার খান। এটি স্ট্রেম হরমোন কটিসোকের কার্যকারিতা হ্রাস করবে। ভিটামিন বি৫-এর উত্তম উৎস হলো ডাল, পশুর যকৃৎ, বৃক্ক, ব্যাঙের ছাতা, নারিকেল, বাদাম, বেল, তরমুজ, ডিম, শ্যাওলা জাতীয় খাদ্য গম ইত্যাদি। এতেও কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এসপিরিন খাওয়া যেতে পারে। এসপিরিন কটিসোপের নিঃসরণ কমাবে।

২. শিশুরা ঘুম ভাঙাতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের টেলিভিশন দেখার নিয়ন্ত্রণ করুন। বাচ্চারা যত টেলিভিশন দেখতে থাকবে তত তাদের নিজেদের ঘুম এলোমেলো হবে এবং বাবা-মারও ঘুমের প্রতিদিনকার ছন্দ নষ্ট হবে।

৩. প্রতিদিন ২-৩ কিলোমিটার হাঁটুন। বিকেলে হাঁটাই উত্তম। হালকা ব্যয়ামও করতে পারেন।

৫০ বছরের পরবর্তী সময়ে সুখনিদ্রা : এ সময়ে অধিকাংশ মানুষই নিদ্রাহীনতায় ভোগে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০-এর বেশি বয়সের পুরুষরা তাদের প্রতি ১০ বছর অতিক্রমের জন্য ২৮ মিনিট করে কম ঘুমায়। ৬০ বছর বয়সের আগেই তাদের গভীর ঘুম উধাও হয়। ৫০ বছর বয়সের একজন মানুষের রক্তে তার ৩০ বছর বয়সের ১০ গুণ কটিসোল উপস্থিত থাকে। যা তার ঘুম হরণ করে। আবার প্রতি ২৫ জনে ১ জনের ঘুমের মধ্যে হঠাৎ খুব অল্প সময়ের জন্য শ্বাস আটকে যায় সে জেগে ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয় প্রস্টেট গ্রন্থির কারণে নানাবিধ সমস্যা ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, তলপেট মূত্রাশয় ভার থাকার কারণে টান টান হয়ে থাকা। এ বয়সে গভীর ঘুমের জন্য করণীয়-

১. প্রচুর ভিটামিন বি৫ সমৃদ্ধ খাদ্য খান। রাতে শর্করা জাতীয় বেশি পরিমাণে খাবার চেষ্টা করুন। এতে কটিসোল নিঃসরণ কমবে, সোরাটোনিন নিঃসরণ বাড়বে, ঘুম আসবে।

২. ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে তার জন্য চিকিৎসা করাতে হবে।

৩. যাদের হৃদরোগের জন্য ওষুধ খেতে হচ্ছে তাদের চিকিৎসক তার অনিদ্রা বা গভীর ঘুম না হওয়ার কথাটি জানাবে অথবা অন্যান্য ওষুধ খাবার বেলাতেও ঘুমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

৪. রাতে ৩-৪ বার প্রস্রাব করতে যেতে হলে আপনার ডাক্তারকে জানান। প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এরূপ হতে পারে।

সবার জন্য করণীয় : ওষুধের দোকান থেকে নিজের ইচ্ছা মাফিক ঘুমের বড়িও কিনে খাবেন না। এতে আপনার বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে। ওষুধ সেবনে আন্তরিক হোন।

চিকিৎসক আপনাকে ওষুধ ছাড়াও ঘুমানোর জন্য কিছু কিন্তু পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারেন। তা অভ্যাস করার চেষ্টা করুন।

ঘুমানোর সময় ও পরিবেশ যতটা সম্ভব অপরিবর্তনীয় রাখুন।

রাতের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে খাবেন। রাতে সবজি কম খাবেন শর্করা বেশি খাবেন।

শেষ কাপ চা ঘুমানোর সময় থেকে যতটা সম্ভব আগেই শেষ করুন।

সতর্ক বার্তা: রেনিটিডিনে ক্যান্সার উপাদান । ডেইলি স্বাধীন বাংলা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ রেনিটিডিনের মধ্যে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ওষুধটি প্রয়োগে সতর্কতা জারি করেছে। এ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের স্যান্ডোজ ‘রেনিটিডিন’ ক্যাপসুলের মধ্যে ‘এন-নিট্রোসডিমিথাইলামাইন (এনডিএমএ)’ নামে পরিবেশ দূষণজনিত উপাদানের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে তাদের এই ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারতসহ বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানি রেনিটিডিন সরবরাহ বন্ধ করার ও বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সংস্থা (এফডিএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রাথমিক পরীক্ষায় বেশ কিছু ব্র্যান্ডের রেনিটিডিনের মধ্যে এনডিএমএর উপস্থিতি পাওয়ার পর সতর্কতা জারি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন স্বাস্থ্য সেবাদাতা ও রোগীদের উদ্দেশ্যে এক সতর্কবার্তায় বলেছে, উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর স্যান্ডোজ তাদের তৈরি দুই মাত্রার রেনিটিডিন ক্যাপসুলের (১৫০ ও ৩০০ মিলিগ্রাম) ১৪টি লট বাজার থেকে স্বেচ্ছায় তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এর বাইরে অন্য কোনো রেনিটিডিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে এখনও প্রত্যাহার হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে সতর্ক করার পর, স্যান্ডোজ তাদের সব ধরণের রেনিডিটিন ওষুধ বাজারে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে এফডিএ।
সংস্থটি বলছে, স্যান্ডোজের ক্যাপসুল ছাড়া অন্য রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ সেবনে এখনই তারা বারণ করছেন না। তবে কেউ চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য কোনো কোম্পানির রেনিটিডিন সেবন করতে পারেন।

স্যান্ডোজের ক্যাপসুলে উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে কানাডার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপোটেক্স, প্রো ডক লিমিটেড, স্যানিস হেলথ ও সিভেম ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের তৈরি রেনিটিডিন জাতীয় বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে।
এর আগে কোনো কোম্পানির রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা না দেওয়া হলেও ওষুধে উচ্চমাত্রার এনডিএমএর উপস্থিতি নেই বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে বাজারে রেনিটিডিন সরবরাহ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায় হেলথ কানাডা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছেন, শুক্রবার ভারতের ওষুধ কোম্পানি স্ট্রাইডস এফডিএর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের রেনিটিডিন বিক্রি বন্ধ রেখে তাদের ট্যাবলেটে এনডিএমএর উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ভারতের ওষুধ কোম্পানি ড. রেড্ডিস ফার্মাসিউটিক্যালস ও গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন পূর্ব সতর্কতা হিসেবে তাদের রেনিটিডিন বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

নিয়ম মেনে হাঁটুন-মেদ কমান
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : নিয়ম মেনে কড়া ডায়েট হোক বা জোরদার শরীরচর্চা- সময়ের অভাব আর পদ্ধতিগত নানা জটিলতা এগুলোর প্রতি ঝুঁকতে বাধা দেয় বেশির ভাগ মানুষকেই। সবাই ভাবেন, তার চেয়ে হাঁটা ভালো। সহজ পদ্ধতি, প্রতিদিনের রোজনামচায় হাঁটার সময়ও বের করা সহজ। জিম-ফিটনেস সেন্টারে ছোটারও প্রয়োজন পড়ে না। তাই শরীরচর্চার সব উপায়ের মধ্যে হাঁটাকে আপন করে নেন অনেকেই।

পুষ্টিবিদের মতে, হাঁটাহাঁটি করুন যতটা পারেন। মাঝে মাঝে হাঁটায় শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলো সচল থাকবে। তবে এতে খুব একটা মেদ ঝরে না। মেদ ঝরাতে গেলে কিছু নিয়ম মেনে হাঁটতেই মিলবে উপকার।

নিয়মের সঙ্গে জেনে রাখা দরকার হাঁটার সময়ও। সপ্তাহে হাঁটতে হবে অন্তত ২৫০ মিনিট। গড় হিসেবে কম করে ৩৫ মিনিটের একটু বেশি। এটুকু হাঁটা শরীরের শুধু মেদ ঝরাবে তা-ই নয়, এই দীর্ঘক্ষণ হাঁটা হাঁর্টের অসুখ ভালো করে। কোলেস্টেরল কমায়। কিন্তু শুধু সময় মানলেই হবে না। জানতে হবে আরও কিছু নিয়ম।

হাঁটাহাঁটির অভ্যাস না থাকলে প্রথম দিকে এক সেকেন্ডে একটা স্টেপ, এই অঙ্কেই হাঁটতে হবে। তারপর হাঁটার অভ্যাস হলে সেকেন্ডে দুটো স্টেপের হিসেবে হাঁটতে হবে। আর অবশ্যই হাঁটতে হবে একটানা রাস্তা ধরে। বারবার থমকে, ঘন ঘন দিক বদলে হাঁটার চেয়ে টানা হাঁটায় উপকার বেশি। তাই বাড়ির ছাদে বা লনে নয়, রাস্তা ধরে হাঁটুন।

এমন কোনো রাস্তা বাছুন, যেখানে ধোঁয়া, যানজট, বড়সড় গাড়ির উপস্থিতি প্রায় নেই। গলিপথগুলো হাঁটার জন্য ভালো। বারবার হাঁটার সময় গাড়ি ঘোড়ার উপদ্রবে দাঁড়াতে হলে তা হাঁটায় বিঘœ ঘটায়। আর যানবাহনের ধোঁয়া শরীরের জন্যও ভালো নয়।

অনেকেই পোষ্য নিয়ে বেড়াতে যান। সেই অভ্যাসে রাশ টানবেন না, এতে পোষ্য কষ্ট পায়। বরং তাকে নিয়ে হাঁটার সময়টা আলাদা করে বরাদ্দ করুন। ওজন কমানোর জন্য হাঁটার সময় একা হাঁটুন। দ্রম্নত হাঁটার সঙ্গে তাল মেলাতে পোষ্যের অসুবিধা হবে ও সে তার বেড়ানো উপভোগ করবে না। আপনিও তাকে সঙ্গে নিয়ে সেকেন্ডে দুটো স্টেপের হিসেব বজায় রাখতে পারবেন না।

দল বেঁধে হাঁটতে বেরবেন না একই কারণে। অনেকেই এই সময় গল্পগাছা করতে করতে হাঁটেন। কথা না বললেও দলছুট হয়ে যাওয়ায় অনেকে হাঁঁটা শ্লথ করে ফেলেন। এই অভ্যাসগুলো কিন্তু মেদ কমানোর পথে বাধা হতে পারে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেও হাঁটবেন না। এতে হাঁটার গতি শ্লথ হয় ও হাঁপিয়ে গিয়ে বেশি দূর হাঁটা যায় না।

দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ বাড়াবে এমন কিছু ভাবতে ভাবতে হাঁটা চলবে না কিছুতেই। বরং সে সব ঠেকাতে ওই সময়টা ইয়ারফোন বা হেডফোনে গান শুনুন। এতে ফিল গুড হরমোনের জোগান যেমন বাড়বে, তেমনই হাঁটার রিদ্ম কমবে না। তবে ব্যস্ত রাস্তা, যানজটের পথে হাঁটলে হেডফোন অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।

হাতে বা পিঠে অনেক বোঝা নিয়ে হাঁটবেন না। এতে ক্লান্তি বাড়বে, বেশিক্ষণ হাঁটা সম্ভব হবে না। হাঁটার নির্দিষ্ট কোনো সময়ও নেই। সকালে সময় না পেলে বিকেলে বা সন্ধ্যায় হাঁটুন। রাতে খাওয়া-দাওয়ার পরেও হাঁটতে পারেন। তবে খুব ভরাপেটে আবার একেবারে খালিপেটে হাঁটবেন না।

পায়ে বা হাঁটুতে চোট থাকলে বা কোমরের সমস্যায় ভুগলে অবশ্যই হাঁটার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দিনে কতটুকু হাঁটলে আপনার হাঁড় ও স্নায়ু তা সইতে পারবে, তা জেনে তবেই হাঁটাহাঁটি শুরু করুন।

২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩৪ জন আক্রান্ত
                                  

কাউসার আহম্মেদ টিটু, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৪ জন রোগী। এ নিয়ে জেলার ১৩ টি উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৬ জনে। গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ১১১ জন। আক্রান্তরা বেশিরভাগই ঢাকা থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও  চিকিৎসকরা। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দুপুর একটা পর্যন্ত নতুর করে আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯ জন, ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭জন, বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিক্যাল কলেজে ২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জনসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার ক্লিনিকে আরও ২১জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জ জেলায় সর্বমোট ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। সোমবার (২৯জুলাই) সন্ধ্যা একজন রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে আরও ৫ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে বলেও জানা যায়। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।  
এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মশারি ছাড়াই একই বিছানায় অন্য রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে বলে অনেক রোগীর অভিবাবকরা অভিযোগ করেছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথমে রোগী সনাক্ত না হওয়ায় মশারী টানানো হয় নাই। কিন্তু পরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করে আলাদা করে মশারী টানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জেলা সদরের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৩ তলায় একটি পুরুষ ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, মশারী টানানো অবস্থায় এখানে অন্য রোগীর সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। ফলে মারাতœকভাবে বিঘিœত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম বলে জানান আক্রান্ত রোগীরা।
শহরের তমালতলা এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শফিকুল ইসলাম (৩৭) বলেন, আমার বোনকে ঢাকায় দেখতে গিয়ে ছিলাম তখন আক্রান্ত হই। এখানে হাসপাতালে অন্যান্য রোগীদের সাথে আমাদের গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছিনা। ডাক্তাররা আমাদেরকে অন্য রোগী ভেবে অনেক সময় গুরুত্বভাবে দেখছেন না।
করিমগঞ্জের খুদির জঙ্গল গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোমা আক্তার (৩০) বলেন, ঢাকায় ভাই বোন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আমি দেখতে গিয়ে আমিও আক্রান্ত হই। পরে কিশোরগঞ্জে এসে হাসপাতালে ভর্তি হই। তাদের মতো বেশিরভাগ রোগী জানিয়েছেন তারা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এ জ্বর জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা। অনেকে সেখানে ভর্তি হয়েও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে চলে যাচ্ছেন বাড়িতে।
আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমরা ডেঙ্গু রোগীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। রোগীদেরকে মশারী টানিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আর রোগীর অবস্থা অবনতি দেখলে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করা হচ্ছে।

পরোক্ষ ধূমপানও মৃত্যু ঘটায়
                                  

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কথাটা আমরা সবাই জানি। তবে প্যাসিভ স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপানের কথা বা তার ক্ষতির কথা খুব একটা আমলে নেই না আমরা। নিজ বাসস্থানে, রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে সবখানেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়া আশঙ্কা আছে।  ধূমপান না করলেও ধূমপানের সময় ধূমপায়ীর পাশে থাকলে একে পরোক্ষ ধূমপান বলা হয়। ধূমপানে ক্যানসার সহ বেশ কিছু রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে মারা যায় ৭০ লাখের বেশি মানুষ। আর পরোক্ষ ধূমপানে মারা যায় প্রায় ৯ লাখ মানুষ। প্যাসিভ সোম্পাকিং বা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়ের কারণে ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকা মানুষ ফুসফুসের ক্যানসার, কফ, অ্যাজমা, গলা ব্যথা, ঠান্ডা লাগা, চোখের অস্বস্তি সহ নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই যতোবার ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকবেন আপনি, ততোবার শরীরে তামাকের ক্ষতিকর সব কেমিক্যাল প্রবেশের আশঙ্কা বাড়বে।

পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো
পূর্ণ বয়স্কদের ক্ষেত্রে:

* ফুসফুসের ক্যানসার : যেসব অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন, তাদের ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা ২০-৩০ শতাংশ বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপানের ফলে ৪ হাজারের বেশি কেমিক্যালের ঝুঁকিতে থাকেন অধূমপায়ীরা। সেগুলোর মাঝে ৬৯টি কেমিক্যাল ফুসফুসের মতো ক্যানসার ঘটানোর জন্য দায়ী।

* অ্যাজমা : পরোক্ষ ধূমপানের কারণে একজন অধূমপায়ী আরো একটি বড় অসুখের ঝুঁকিতে পড়ে, তা হলো- অ্যাজমা। এতে করে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বেড়ে যায়।

* করোনারি রোগ : কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপান করোনারি রোগ বাড়িয়ে দেয়। রক্তের ধমনী সংক্রান্ত রোগ, হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে।

* শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা : পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অ্যাজমা ছাড়াও শ্বাস-প্রশ্বাসের বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়। পূর্ণ বয়স্ক ও শিশু সবার ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়। যদি আপনি পরোক্ষ ধূমপানের পরিবেশে থাকেন, তাহলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা পুরো জীবন ভোগাতে পারে আপনাকে।

* হার্ট অ্যাটাক : পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আপনার রক্তনালীতে জমাট বাঁধতে পারে। ধূমপানের ক্ষতিকর কেমিক্যাল আপনার হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে:-

* অকাল মৃত্যু : গর্ভবতীরা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বড় ঝুঁকিতে থাকেন। এতে গর্ভবতীর শরীর যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি মা ও শিশুর অকাল মৃত্যু হতে পারে ধূমপানের ক্ষতিকর কেমিক্যালের কারণে।

শিশুর ক্ষেত্রে:-

* অপরিণত শিশু : গর্ভবতীরা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অপরিণত শিশুর জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে ওই শিশুর ওজন হয় তুলনামূলকভাবে কম, যাতে অনেক সময় ওই শিশুর বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

* আকস্মিক মৃত্যু : নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে আকস্মিকভাবে মৃত্যুর একটি বিশেষ কারণ পরোক্ষ ধূমপান।

* শ্রবণ শক্তি হ্রাস : খুব ছোটবেলা থেকেই যদি কোনো শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়, তাহলে ওই শিশুর শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ধূমপানের প্রভাবে শিশুর কানে ইনফেকশন হয়ে তার শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়।

* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া : শিশুদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের একটি বড় প্রভাব হলো শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। এতে করে শিশুরা প্রায় সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি বড় ধরনের রোগের ঝুঁকিও থাকে তাদের।

ইচ্ছে হলেই ওষুধ নয়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : অসুখ হলে ওষুধ খেতে হয়। এ কথা আমরা সবাই জানি; কিন্তু সঠিক নিয়মে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকেই অনুভব করি না। ওষুধ খেতে আমরা যতটা তৎপর, ওষুধ খাওয়ার নিয়ম মানতে ততটাই উদাসীন। আমাদের এ অবহেলা জীবন রক্ষাকারী ওষুধকে করে তুলতে পারে জীবনবিনাশী বিষ।

ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই যে অনিয়মটা করি, তা হলো চিকিৎসকের পরামর্শ না নেয়া। আমরা নিজেরাই নিজেদের চিকিৎসা করি, কখনো আত্মীয়, কখনো বন্ধুর পরামর্শ নিই, কখনো চিকিৎসকের চেয়ে ওষুধ বিক্রেতার ওপর বেশি নির্ভর করি। ‘অমুক ওষুধে তমুক ভালো হয়েছিল, তাই আমিও ভালো হব’ এমন চিন্তা আমাদের মধ্যে কাজ করে। অথচ, লক্ষণ এক হলেই অসুখ এক হবে এমন কোনো কথা নেই। আবার একই রোগে একই ওষুধের মাত্রা রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড বা শক্তি বাড়ানোর জন্য ভিটামিন খাই ভাতের চেয়ে বেশি। এসবের মারাত্মক, কখনো জীবনবিনাশী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

যদিওবা কখনো (বাধ্য হয়ে) চিকিৎসকের পরামর্শ নিই, ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বেঁধে দেয়া বিধিনিষেধ মানি কম। সময়মতো ওষুধ খাওয়া, খাওয়ার আগে, না পরে তা বুঝে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, এসব আমরা খেয়াল রাখি না। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রার ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি উদাসীন থাকি। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ওষুধ বন্ধ করে দেয়া। ‘জ¦র ভালো হয়ে গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক আর কী দরকার ভেবে নিজেরাই ওষুধ বন্ধ করে দিই। আবার অন্যদিকে কয়েক দিনে জ¦র ভালো না হলে ওষুধ ঠিক নাই ভেবে তা বন্ধ করে দিই এবং অন্য চিকিৎসকের কাছে নতুন ওষুধের প্রত্যাশায় যাই। যেসব অসুখে দীর্ঘদিন বা আজীবন ওষুধ খেতে হয়, সেখানে আমরা অসুখ নিয়ন্ত্রণে এলেই তা বন্ধ করে দিই, বুঝতে চাই না যে রোগ ভালো হয়নি, নিয়ন্ত্রণে আছে কেবল। একসময় লোকমুখে ক্যান্সারের ওষুধ শুনে বাতের ওষুধ বন্ধ করার ঘটনা প্রচুর দেখা যেত। ওষুধ শুরুর মতো বন্ধ করার সময়ও আমরা নিয়ম মানি না। যেসব ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করা যায় না, তা নিজেরাই হঠাৎ বন্ধ করে দিই।

ওষুধ নিয়ে অনাচারে কী ক্ষতি হতে পারে?

প্রথম কথা, যে রোগের জন্য ওষুধ সেবন করা তার উপশম হবে না, বরং খারাপ হতে পারে। ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর আবির্ভাব এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার জীবাণুর বিরুদ্ধে এদের অকার্যকর করে দিচ্ছে। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যে রোগ শুরুতেই ভালো করা যেত, অপব্যবহারের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না, নতুন দামি ওষুধ দরকার হচ্ছে, কখনো তাতেও কাজ হচ্ছে না।

বিশেষভাবে বলা যায় যক্ষ্মার কথা, যেখানে কমপক্ষে ছয় মাস ওষুধ খেতে হয়, অথচ অনেকেই কয়েক মাস খেয়ে ভালো হয়ে গেছি মনে করে তা বন্ধ করে দেয়। তখন তা মারাত্মক মাল্টি-ড্রাগরেজিস্ট্যান্স টিবিতে পরিণত হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। আর্থিক দিকটাও বিবেচনা করা জরুরি। যে চিকিৎসা এখন সুলভে হচ্ছে, অবিবেচকের মতো ওষুধ খেলে তা পরবর্তী সময়ে ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে। শুধু জীবাণু সংক্রমণ নয়, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি অসুখেও মাঝেমধ্যে ওষুধের ব্যবহার উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।

নিয়মিত ওষুধ খেলেও যদি সেবনবিধি না মানা হয়, তবে অনেক ওষুধই অকার্যকর হয়ে যায়। খালি পেটে খাওয়ার ওষুধ ভরা পেটে খেলে তা না খাওয়ার মতোই হবে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই এক ওষুধ অন্য ওষুধের উপস্থিতিতে কাজ করে না। অজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে এসব ওষুধ একত্রে খেলে লাভ তো হবেই না, বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

মনের মতো ওষুধ খাওয়ার আরেক সমস্যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। একজন চিকিৎসক ভালোমতোই জানেন, কোনো ওষুধের কী সমস্যা আর তাই তা কাকে দেয়া যাবে, কাকে যাবে না। নিজে থেকে ওষুধ খেলে এসব বিবেচনা সম্ভব নয়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বেশি। ব্যথার ওষুধ খেয়ে পেট ফুটো হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড খেয়ে অনেকেই মারাত্মক কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হন, যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করেও অনেকে বিপদে পড়েন, বিশেষ করে স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করলে এডিসনিয়ান ক্রাইসিস হতে পারে, যা থেকে রোগী মারাও যেতে পারে।

সাধারণ ওষুধ, যার অনেক প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়, বিশেষ অবস্থায় তাও হতে পারে ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই জানি না যে ভিটামিন এ বা কৃমির ওষুধের মতো সাধারণ ওষুধ গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে। লিভারের রোগীর জন্য প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ হতে পারে ক্ষতির কারণ।

এই অবস্থার জন্য দায়ী আমরা সবাই। রোগী যেমন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাহুল্য ভাবছেন, চিকিৎসক তেমনি রোগীকে অনেক সময় সঠিক পরামর্শ দেন না। চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ দেয়ার সময় সেই ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা, তা রোগীকে বলা উচিত। তাহলে রোগীও সচেতন থাকবে ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রোগীদের যা মেনে চলা উচিত তা হলো-শুধু চিকিৎসক পরামর্শ দিলেই ওষুধ সেবন করা যাবে।

* বিশেষ অবস্থায় (যেমন গর্ভাবস্থা, লিভারের রোগ ইত্যাদি) সাধারণ ওষুধ যা প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায়, তাও চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করতে হবে।

* শুধু ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিত। কেনার সময় তার মেয়াদকাল দেখে নিতে হবে। মনে রাখবেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আপনার রোগ সারানোর পরিবর্তে ক্ষতি করতে পারে।

* চিকিৎসক ওষুধ খাওয়ার যে নিয়ম বলে দেবেন (কতটুকু ওষুধ, কতক্ষণ পরপর, কত দিন, খাবার আগে না পরে ইত্যাদি), তা মেনে সেবন করতে হবে। প্রয়োজনে তা লিখে রাখুন বা মনে রাখতে অন্যের সাহায্য নিন। নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা যাবে না।

* অনেকে একবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বারবার সেই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনেন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে প্রথম ব্যবস্থাপত্রে যে ওষুধ যত দিন খেতে বলা হয়েছে, তত দিনই খাওয়া যাবে। আবার একই অসুখ হলেও সেই একই ওষুধ কাজ নাও করতে পারে।

* সামান্য কারণেই ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই খাওয়া শুরু করবেন না।

* নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। সুস্থবোধ করলেও কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

* একই সঙ্গে অ্যালোপ্যাথিক ও অন্যান্য পদ্ধতির চিকিৎসা চালালে তা চিকিৎসককে জানানো উচিত।

* ওষুধ সব সময় আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা, শুষ্ক স্থানে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কিছুকিছু ওষুধ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়। নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

* অনেক সময় দোকানিরা প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ না দিয়ে শুধু বিক্রি করার জন্য অন্য কোম্পানির অন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন, বলেন ‘একই ওষুধ’। এ ক্ষেত্রে রোগীদের সতর্ক থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে উলিস্নখিত নামের ওষুধ কেনা উচিত।

* বাচ্চা ও বয়স্কদের বেলায় আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। তাদের বেলায় ওষুধের মাত্রা, চোখের ড্রপ বা মলম এবং ইনজেকশনের প্রয়োগবিধির (যেমন মাংসে বা শিরায়) ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এর সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ বিক্রেতার কর্তব্য প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি করা, শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থে যেনতেনভাবে যে কোনো ওষুধ বিক্রি না করা। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা, দোকানে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা ও সার্বিক তত্ত্বাবধান করা। ওষুধের অপব্যবহার, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্স থেকে নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

বিশ্ব অটিজম দিবস আজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব অটিজম দিবস আজ। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার, অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে আজ ২ থেকে ৪ এপ্রিল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নীলবাতি প্রজ্বলন করা হবে।

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বাতি প্রজ্বলন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকেই তিন দিনের এ কর্মসূচি শুরু হবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৮ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৪১৭ জন রয়েছে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দিচ্ছে সরকার। সব প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়। এটি শিশুদের মস্তিস্কের বিকাশজনিত একটি সমস্যা, যা শিশুর সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা সৃষ্টি করে। নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৭৩ কোটি টাকা। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা করা হয়। আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন সুদৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় প্রতিঘরেই ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে গেছে। দেশের অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও ডিজিটাল সেবার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অবদান রাখায় অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হবে। অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা) সুশান্ত কুমার প্রামাণিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা, অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধিতাবিষয়ক জাতীয় উপ-কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল অটিজম নিয়ে কাজ করে বিশ্বজুড়ে প্রসংশিত হয়েছেন।

আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ’। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে গর্বের। কারণ এগারো বছর আগে বাংলাদেশের উদ্যোগেই দিবসটি ‘জাতিসংঘ দিবসের’ মর্যাদা লাভ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডায়াবেটিস এখন একটি মহামারি রোগ। এই রোগের অত্যধিক বিস্তারের কারণেই সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির প্রসার ও নগরায়ণের প্রভাবে মানুষের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার স্থান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। অতিমাত্রায় ফাস্টফুড, কোমল পানীয়র মতো ক্যালরিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের ফলে বাড়ছে স্থুলতার ঝুঁকি।

প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করে একটি সুস্থ জাতি গঠনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সক্ষম হবো।’

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টিসহ নানামুখী কার্যক্রম করে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সমিতির উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশে গর্ভকালীন নারীদের বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে দেশব্যাপী সেবাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। কাজীদের মাধ্যমে নবদম্পতিদের সচেতন করতেও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করে চলেছে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবার বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিসহ (বাডাস) বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী ডায়াবেটিস সম্পর্কিত সচেতনতামূলক পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ছাড়াও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সেগুন বাগিচাস্থ বারডেম হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : নিউমোনিয়া শব্দটির সঙ্গে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। এতে ফুসফুসে ইনফেকশন হয় এবং চিকিৎসা না করালে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শীতে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই নিউমোনিয়া। তবে এ অসুখ বছরব্যাপী হতে পারে। তাই এ সম্পর্কে আমাদের যথাযথ ও পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং সচেতনতা জরুরি।

শীতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা  লাগার ফলে শিশুদের নিউমোনিয়া হতে পারে। তাই শিশুদের অতি যত্নে রাখতে হবে। শীতের মধ্যে ঠাণ্ডা  পানীয়, আইসক্রীম খাওয়া এবং গরম কাপড় না পড়ার কারণে নাক, কান, গলার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা থেকে শিশুদের নিউমোনিয়াও হয়ে যেতে পারে। যার ফলে এসময় শিশু ও বয়স্কদের বেশি রোগ ব্যধি লেগেই থাকে। তারপরও এসময় মাম্স, ভাইরাসজনিত জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুস এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগ। সংক্রমণ এবং এর পরবর্তী প্রদাহ থেকে এ রোগ হয়। নিউমোনিয়ায় জ্বর থাকে। সঙ্গে থাকে কফ এবং শ্বাসকষ্ট। দুই মাসের নিচের শিশুদের শ্বাস নেওয়ার হার মিনিটে ৬০ বারের বেশি, ২ মাস থেকে ১১ মাস ২৯ দিনের শিশুদের মিনিটে ৫০ বার বা তার বেশি এবং ১২ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুরা মিনিটে ৪০ বার তা তার বেশি শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে তাকে শ্বাসকষ্ট বলা যায়। এর সঙ্গে শিশুর বুকের পাঁজরের নিচের অংশ দেবে গেলে, তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে শিশুর এসব লক্ষণ দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক বুকের এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষা করে এটি নিশ্চিত হতে পারেন।

কিংবা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই শুধু জ্বর, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং পাঁজরের নিচে দেবে যাওয়া দেখে প্রাথমিকভাবে নিউমোনিয়া শনাক্ত করতে পারেন।

শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সর্বপ্রথম বুকের দুধ নিশ্চিত করতে হবে। বায়ুদূষণ শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। মা-বাবা কিংবা অন্যরা শিশুর সামনে ধূমপান করলে শিশুর শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হয়।

শিশুকে যারা যত্ন করেন, কোলে নেন, খাবার দেন বা আদর করেন সবারই সাবান দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া উচিত। এতে শিশুর অন্য রোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। বড়দের কারো সর্দি, কাশি বা নিউমোনিয়া হলে শিশুদের সঙ্গ এড়িয়ে চলা ভালো।

শীতের সময় শিশুকে গরম কাপড় পরালেও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কমবে। শীতে শিশুকে অযথা বাইরে নেওয়া উচিত নয়। শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সব টিকা দেওয়া উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, জিঙ্ক গ্রহণ করলে শিশুদের নিউমোনিয়া ১৪ থেকে ২৫ ভাগ কমে যায়। তাই শিশুদের জিঙ্ক ট্যাবলেট বা সিরাপ এবং জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো উচিত। সর্বোপরি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করাতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে এডিবির বরাদ্দ বাড়ছে
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : দেশের শহরগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ বাড়াতে আরও প্রায় ৯২১ কোটি টাকার (১১ কোটি ডলার) ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।

ম্যানিলাভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় নেওয়া নেওয়া একটি প্রকল্পের জন্য বাড়তি এই ঋণ অনুমোদন করেছে বলে বুধবার এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শরীরচর্চা করে না বিশ্বের একচতুর্থাৎশ মানুষ: ডব্লিউএইচও
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: বিশ্বের একচতুর্থাংশের বেশি মানুষ পর্যাপ্ত শরীরচর্চা বা কয়িক পরিশ্রম না করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
পর্যাপ্ত শরীরচর্চা না করলে হৃদরোগ, টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের মত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ এ ঝুঁকিতে আছে জানানো হয়েছে ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে।
এতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে শরীরচর্চা করার প্রবণতা কম। যদিও এশিয়ার দুইটি অঞ্চলে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে।
ডব্লিউএইচও গবেষকরা ১৬৮টি দেশে জরিপ চালিয়ে ‘দ্য লানসেট গ্লোবাল হেল্থ’ এর জন্য এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
গবেষণায় প্রায় ১৯ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে। যারা তাদের দৈনিক শরীরচর্চার তথ্য গবেষকদের দিয়েছেন।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মত উচ্চ আয়ের দেশে ২০০১ সালের তুলনায় শরীরচর্চার হার কমেছে।
ওইসব দেশে ২০০১ সালে জনগণের মধ্যে শরীরচর্চা করার হার ছিল ৩৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে যা কমে ৩২ শতাংশ হয়েছে।
নিম্ম আয়ের দেশগুলোতে অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।  উভয় সময়েই এই সংখ্যা ১৬ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ছাড়া বিশ্বজুড়ে পুরুষদের তুলনায় নারীরা শরীরচর্চা কম করে।
দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্য প্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং উচ্চ আয়ের পাশ্চিমা দেশগুলোতে পুরুষ ও নারীর মধ্যে শরীরচর্চা করার হারে ব্যবধানও অনেক বেশি।
এজন্য বিভিন্ন প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়ম কানুনকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। যেমন, সন্তান যতেœর দায়িত্ব নারীদেরই বেশি নিতে হয় এবং নানা ধর্মীয় কারণে নারীদের জন্য শরীরচর্চা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উন্নত দেশগুলোতে চাকরির ধরন এবং শখের কারণে শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করার হার কমে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করেছেন গবেষকরা। এছাড়া, ওইসব দেশে গণপরিবহনের তুলনায় গাড়ির ব্যবহার বেড়ে যাওয়াও এর কারণ বলে মনে করেন তারা।
অন্যদিকে, নিম্ম আয়ের দেশগুলোতে লোকজন হেঁটে বা গণপরিবহনে চড়ে কর্মস্থলে বেশি যাতায়াত করে।

মুখে ঘা হলে যা করণীয়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রায় দুইশত রোগের প্রাথমিক লক্ষণ মুখ গহ্বরে দৃষ্টি গোচর হয়। বর্তমানকালের  মরণঘাতী রোগ এইডস থেকে শুরু করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হূদরোগ এমনকি গর্ভাবস্থায় অনেক লক্ষণ মুখের ভিতরে প্রকাশ পায়।
যেমন একটি রোগীর মুখ পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় যে, তার মাড়িতে তীব্র প্রদাহ রয়েছে, মাড়ি ফুলেছে, তাতে পূঁজ জমা হয়েছে, মাড়ি থেকে দাঁত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সামান্য আঘাতে রক্ত বের হয়ে আসছে তবেই তাকে আমরা পেরিওডেন্টাল ডিজিজ বা মাড়ির রোগ হিসেবে বলতে পারি। অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্ত রোগীর ইতিহাস নিয়ে দেখা যায় যে, কয়েক বৎসর যাবত তাদের ডায়াবেটিস এবং তারা নিয়মিতভাবে ইনসুলিন নেন। এই সমস্ত রোগীদের ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে একটি সুন্দর বই দেয়া হয়, তাতে তার একটা মোটামুটি ইতিহাস পাওয়া যায় যেমন- তার রক্তচাপ, অন্যান্য রোগের উপস্থিতি, খাদ্যাভাস সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় উপদেশ এবং নিয়মিতভাবে তার রক্তের শর্করা পরীক্ষার ফলাফল- দেখা যায় প্রতিমাসেই তার শর্করা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রায়ই রক্তের শর্করা স্বাভাবিকের চাইতে বেশী। জেনে রাখা প্রয়োজন রক্তের শর্করার স্বাভাবিক পরিমাণ হচ্ছে-অভুক্ত অবস্থায় ৬.৪ মিঃ মোল এবং খাবার দু`ঘন্টা পর ৭.৮ মিঃ মোলের কম। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, যে সমস্ত ডায়াবেটিক রোগী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেন না তাদেরই মাড়ির রোগের প্রদাহ বা পেরিওডেন্টাল ডিজিজ অধিকমাত্রায় লক্ষ্যণীয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদেরই এই রোগ বেশী হবে।

পরীক্ষা করে দেখা গেছে যাদের মুখে ডেন্টাল প্লাক রয়েছে এবং জিনজিভাইটিস রয়েছে তাদের ডায়াবেটিস-এর কারণে মুখের এবং মাড়ির রোগ আরও বেড়ে যায় এবং প্রদাহ আরও তীব্রতর আকার ধারণ করে পরবর্তীতে দাঁতগুলো পড়ে যায় এবং ফেলে দিতে হয়। তাছাড়া আরও একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে মাড়ির প্রদাহের কারণেই ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না এবং রক্তের শর্করাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতরাং ভালোভাবে খাদ্যদ্রব্য চিবিয়ে খাওয়ার জন্য যেমন সুস্থ্য মাড়ি ও দাঁতের প্রয়োজন তেমনি ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও মাড়িকে প্রদাহমুক্ত বা সুস্থ্য রাখা প্রয়োজন। মুখের আরও একটি বিশেষ রোগ মুখের ঘা। মুখের এই ঘা নানা কারণে হতে পারে- যাদের বিভিন্ন রোগ রয়েছে যেমন- ডায়াবেটিস, হূদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, রিউমাটিক, রক্তস্বল্পতা, ক্যান্সার, এইডস ইত্যাদি।

যে সমস্ত ঘা হতে পারে সেগুলোর মধ্যে লিউকোপ্লাকিয়া, লাইকেন প্লানাস ইত্যাদি রয়েছে। যারা নিয়মিতভাবে অন্যান্য রোগের চিকিৎসার সাথে ওষুধ খান তাদের মুখেও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা রোগ প্রতিরোধক শক্তি কম হওয়ায় মুখের ঘা সাময়িকভাবে দেখা দিতে পারে- যা ওষুধ বন্ধের সাথে সাথেই নিরাময় হতে পারে। যেমন গর্ভবর্তী মায়েদের গর্ভাবস্থায় মাড়ির প্রদাহ দেখা যায় এবং গর্ভপাতের সাথে সাথেই তা নিরাময় হয়। তবে এটি সাধারণতঃ হয় হরমোনের তারতম্যের কারণে, তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মাড়িতে প্লাক জমা রয়েছে কিনা, যদি থাকে তবে তা অবশ্যই স্কেলিং করিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুখে আরও একটি ঘা সব বয়সেই হতে পারে এর নাম ‘এপথাস আলসার’। বিশেষ কোনো (বি) ভিটামিন স্বল্পতা, কোনো দুঃচিন্তা, অনিদ্রা মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদির কারণে এপথাস আলসার বেশী হয়। অনেক সময় এই ঘা আরও প্রকট হয়ে দেখা যায়। তবে উপযুক্ত সময়ে এই ঘায়ের চিকিৎসা করাতে পারলে ভালো। এই রোগের চিকিৎসা হলো দুশ্চিন্তা দূর করা, ঘুম যাতে স্বাভাবিক হয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া এবং এক ধরণের ষ্টেরয়েড জাতীয় মলম   ব্যবহার করলে স্থানীয়ভাবে ঐ স্থানে লেগে থেকে ঘা টিকে তাড়াতাড়ি শুকাতে সহায্য করে। আরও একটি কারণে মুখের ঘা দেখা দিতে পারে, সেটি ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতের ধারালো অংশ ক্রমাগতভাবে যদি জিহ্বাতে অথবা গালের মাংসে ঘষতে থাকে তবে ঐ স্থানে ঘা হতে পারে। তাছাড়া কৃত্রিম দাঁত, ক্রাউন বা মুকুট, ফিলিং মেটিরিয়াল ইত্যাদির ধারালো অংশের ঘর্ষণেও ঘা হতে পারে।

সুতরাং প্রয়োজন হবে খুব তাড়াতাড়ি ঐ সমস্ত ধারালো দাঁতের চিকিৎসা করা। যেমন ধারালো দাঁতকে যদি ঘষে একটু মসৃণ করে দেয়া যায় অথবা কৃত্রিম দাঁতের ধারালো অংশকে যদি ঘষে দেয়া যায় তবেই নিরাময় সম্ভব এর জন্য বিশেষ কোনো ওষুধের প্রয়োজন নাই। সমপ্রতি আমাদের দেশে এবং পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতে (বিশেষতঃ ভারতে) গবেষণায় দেখা যায় যে, যাদের ধূমপান এবং জর্দ্দা পান ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাদের মধ্যে মুখের ঘা খুব বেশী হয় এবং সেই সাথে মুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশী। তবে, যাদের রক্ত পরীক্ষার পর ভিটামিন স্বল্পতা পাওয়া যাবে, তাদেরকে সেই ভিটামিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেয়া যেতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ডায়াবেটিস একবার হলে তা আর কখনো ঠিক হয় না- এমন মন্তব্য পুরনো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সমীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, সতর্কভাবে সঠিক খাবার খেলে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? ওষুধ না খেয়েও কীভাবে ডায়াবেটিস দূরে রাখা যায় সেটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে ওজন কমানো : জার্মান ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ প্রফেসর স্টেফান মার্টিন জানান, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে অতিরিক্ত ওজন কমানোর মাধ্যমে ডায়াবেটিস শতকরা ৯০ ভাগ কমানো সম্ভব, যদি সে রোগীর ডায়াবেটিসে ভোগার সময়কাল চার বছরের কম হয়ে থাকে?

নুডলস এড়িয়ে চলুন : নুডলস বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের শর্করা রক্তে চিনির মাত্রা মুহূর্তের মধ্যে বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীরের কোষে ইনসুলিন হরমোন ছড়িয়ে পড়ে? এ কারণে ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে নুডলস এড়িয়ে চলুন।

প্রতিদিন ৬০০ ক্যালোরি : ২০০ ডায়াবেটিস রোগী নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীরা কড়া ডায়াটিং করে, অর্থাৎ দিনে মাত্র ৬০০ ক্যলোরি প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ওষুধ সেবন বন্ধ করতে পেরেছেন? তাছাড়া দীর্ঘ তিন মাস শর্করাজাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে শুধু প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়েও একই ফল পাওয়া গেছে?

তিন বেলা প্রোটিন : তিন সপ্তাহ ধরে তিন বেলা প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে অবশ্যই রক্তে চিনির মাত্রা কমে যাবে বলে জানান বিশেষজ্ঞ স্টেফান মার্টিন? মাছ, মুরগি, ডিম, মটরশুটি এবং দুধজাতীয় খাবারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন?

খেতে পারেন বাদাম : ডায়াবেটিস রোগীকে প্রতিদিন একমুঠো বাদাম, আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। কারণ, বাদামের ম্যাগনেশিয়াম ইনসুলিনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখে?

সবজি ও বিভিন্ন সালাদ পাতা : সবজি ও বিভিন্ন সালাদ পাতায় ক্যালোরি নাই বললেই চলে? তবে এতে থাকা পানি পেট ভরায় এবং খুব ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে? সালাদের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিলে অনেকক্ষণ খিদেও পায় না? তাই প্রচুর সালাদ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা?

স্ট্রবেরি, আপেল : এসব ফলে অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক কম শর্করা রয়েছে? কাজেই ওজন কমাতে এবং ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনো চিন্তা না করে এ ধরনের ফল যত খুশি খাওয়া যায়?

বাইরের কেনা খাবার একেবারেই বাদ রাখুন : ডায়াসবেটিস রোগীর এক প্লেট খাবারের অর্ধেকটাই হতে হবে সালাদ বা সবজি? আর বাকি অর্ধেকে চার ভাগের তিন ভাগ প্রোটিনযুক্ত খাবার আর এক ভাগ থাকতে পারে শর্করাজাতীয় খাবার? বাইরের কেনা খাবার একেবারেই বাদ রাখুন?

এই নিয়মগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব সহজ হবে।

যখন তখন ঘুমের ওষুধ নয়
                                  

স্বাস্থ্য ডেস্ক : সাধারণত এনেস্থেসিয়া এবং নিদ্রাহীনতায় ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে অপ্রয়োজনে ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত ঘুমের ওষুধের ব্যবহার ক্ষতিকর।
ঘুমের ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:

লম্বা সময় ধরে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করলে ঘুমের ওষুধের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। পরে সময়মতো ঘুমের ওষুধ গ্রহণ না করলে বা গ্রহণ না করতে চাইলে উইথড্রোয়াল সিমটোম দেখা যায়। এ কারণে অস্থিরতা এবং অনিদ্রা রোগ থেকে খিঁচুনি ও মৃত্যু পর্যন্ত্ম হতে পারে।

অ্যালকোহল বা মদে আসক্ত ব্যক্তিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে ঘুমের ওষুধ সেবন করলে আকস্মিক মৃত্যু ঘটতে পারে।

ঘুমের ওষুধের ক্ষেত্রে এমনটিও পরিলক্ষিত হয়েছে যে যেই রোগ কমানোর জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তা ওষুধ খাবার পর আরও বেড়ে গেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাটিকে বলা হয় `প্যারাডক্সিক্যাল রিঅ্যাকশন`।

অনেক ঘুমের ওষুধ নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যধিক ব্যবহার করলে স্মৃতিবিলোপ ঘটতে পারে।

লম্বা সময় ধরে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করলে একসময় ঐ একই ডোজ আর একই কার্যক্ষমতা দেখাতে পারে না। তখন ওষুধের কাক্সিক্ষত কার্যক্ষমতা পেতে হলে ডোজ বৃদ্ধি করতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই বিষয়টিকে বলা হয় `ড্রাগ টলারেন্স`। ঘুমের ওষুধের ডোজ বা মাত্রা ইচ্ছামতো বাড়ালে মৃত্যু পর্যন্ত্ম হতে পারে।

রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালে পরের দিন ঘুমঘুম ভাব থেকে যায়। এ সমস্যাটি গাড়িচালক ও সম্পর্কিত পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক।

ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালে (বিশেষত আধা-চেতনার ক্ষেত্রে) অনেকের মধ্যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া, আচরণ, আবেগ, উপলব্ধি ও স্বপ্ন পরিলক্ষিত হয়। হয়তো ঘুম থেকে জেগে রোগী এসব মনে করতে পারবেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিষয়টিকে বলা হয় `প্যারাসোমনিয়া`।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ঘুমবিষয়ক গবেষক শন ইউংস্টেইট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এর কাছে দাবি করেন `ঘুমের ওষুধ খুবই ক্ষতিকর। ইহা দৈনিক এক প্যাকেট সিগারেট ধূমপানের সমান ক্ষতিকর`।

নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধ খুবই প্রয়োজনীয় একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ওষুধ ক্রয়, বিক্রয় ও সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ।

জেনে নিন ক্যান্সারের পূর্বাভাস
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: কোনো অসুখ হলে আমাদের শরীরই নানা রকম সংকেতের মাধ্যমে তা জানান দেয়। মানুষের যত রকম ক্যান্সার হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীর সে সম্পর্কে কোন না কোন পূর্বসংকেত দেয়। কিছু লক্ষণ দেখে আপনি সন্দেহ করতে পারবেন যে আপনার দেহে হয়তো ক্যান্সার হয়ে থাকতে পারে।

কি লক্ষণ সেগুলো? চিকিৎসকেরা বলছেন সেই সংকেত মূলত সাতটি।

তাই সেটিকে বলাও হয় ক্যান্সারের সাতটি সতর্ক চিহ্ন। জেনে নেয়া যাক কি সেগুলো।

ক্স হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে শুরু করেছে কিন্তু তার তেমন কোন ব্যাখ্যা নেই।

ক্স হজম ও মল-মূত্র ত্যাগের অভ্যাসে কোন ধরনের পরিবর্তন হওয়া। যেমন ডাইরিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য। যেমন আপনার হয়ত কোষ্ঠকাঠিন্য নেই কিন্তু সেটিই হচ্ছে ইদানীং। অথবা পাতলা পায়খানা।

ক্স সারাক্ষণ জ্বর বা খুসখুসে কাশি যা ঠিক যাচ্ছেই না।

ক্স শরীরের কোথাও কোন পিণ্ড বা চাকার উপস্থিতি।

ক্স ভাঙা কণ্ঠস্বর যা কোন চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে না।

ক্স তিল বা আঁচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন।

ক্স শরীরের কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ।

মোটা দাগে এই উপসর্গ বা শরীরের সংকেতের কোন একটি যদি দু থেকে তিন সপ্তাহ ধরে থাকে আর সেগুলোর সাধারণ চিকিৎসায় না কমে যায় - তবেই ক্যান্সার শব্দটি মাথায় রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

তবে তাই বলে উপরের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটা দেখা দিলেই নিশ্চিত হয়ে ধরে নেবেন না আপনার ক্যান্সারই হয়েছে।

কিন্তু সাবধান থাকতে তো আর দোষ নেই। তাই একটু না হয় ঘুরেই আসুন ডাক্তারের চেম্বার থেকে।

সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল

ঘুমের ওষুধ অপ্রয়োজনে নয়
                                  

স্বাধীন বাংলা স্বাস্থ্য: সাধারণত এনেসথেসিয়া এবং নিদ্রাহীনতায় ঘুমের ওষুধ ব্যাবহার করা হয়। তবে অপ্রয়োজনে ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যাবস্থাপত্র ব্যাতিত ঘুমের ওষুধের ব্যাহার ক্ষতিকর।

ঘুমের ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:
লম্বা সময় ধরে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ ব্যাবহার করলে ঘুমের ওষুধের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। পরে সময়মত ঘুমের ওষুধ গ্রহণ না করলে বা গ্রহণ না করতে চাইলে উইথড্রোয়াল সিমটোম দেখা যায়। একারণে অস্থিরতা এবং অনিদ্রা রোগ থেকে খিঁচুনি ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
অ্যালকোহল বা মদে আসক্ত ব্যাক্তিরা নিয়মবহির্ভূত ভাবে ঘুমের ওষুধ সেবন করলে আকস্মিক মৃত্যু ঘটতে পারে।
ঘুমের ওষুধের ক্ষেত্রে এমনটিও পরিলক্ষিত হয়েছে যে যেই রোগ কমানোর জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে তা ওষুধ খাবার পর আরও বেড়ে গেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাটিকে বলাহয় ‘প্যারাডক্সিক্যাল রিঅ্যাকশন’।
অনেক ঘুমের ওষুধ নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যধিক ব্যাহার করলে স্মৃতিবিলোপ ঘটতে পারে।
লম্বা সময় ধরে ঘুমের ওষুধ ব্যাবহার করলে একসময় ঐ একই ডোজ আর একই কার্যক্ষমতা দেখাতে পারেনা। তখন ওষুধের কাক্সিÿত কার্যক্ষমতা পেতে হলে ডোজ বৃদ্ধি করতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই বিষয়টিকে বলাহয় ‘ড্রাগ টলারেন্স’। ঘুমের ওষুধের ডোজ বা মাত্রা ইচ্ছেমত বাড়ালে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালে পরের দিন ঘুমঘুম ভাব থেকে যায়। এ সমস্যাটি গাড়ি চালক ও সম্পর্কিত পেশাজীবিদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক।
ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালে (বিশেষত আধা-চেতনার ক্ষেত্রে) অনেকের মধ্যে অস্বাভাবিক নড়াচড়া, আচরণ, আবেগ, উপলব্ধি ও স্বপ্ন পরিলক্ষিত হয়। হয়তো ঘুম থেকে জেগে রোগী এসব মনে করতে পারবেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিষয়টিকে বলা হয় ‘প্যারাসোমনিয়া’।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ঘুমবিষয়ক গবেষক শন ইউংস্টেইট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এর কাছে দাবি করেন ‘ঘুমের ওষুধ খুবই ক্ষতিকর। ইহা দৈনিক এক প্যাকেট সিগারেট ধুমপানের সমান ক্ষতিকর’।
নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধ খুবই প্রয়োজনীয় একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যাবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ওষুধ ক্রয়, বিক্রয় ও সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
লেখক: প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি অনুষদের শিক্ষার্থী।


   Page 1 of 14
     স্বাস্থ্য
ভালো ঘুমের জন্য
.............................................................................................
সতর্ক বার্তা: রেনিটিডিনে ক্যান্সার উপাদান । ডেইলি স্বাধীন বাংলা
.............................................................................................
নিয়ম মেনে হাঁটুন-মেদ কমান
.............................................................................................
২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩৪ জন আক্রান্ত
.............................................................................................
পরোক্ষ ধূমপানও মৃত্যু ঘটায়
.............................................................................................
ইচ্ছে হলেই ওষুধ নয়
.............................................................................................
বিশ্ব অটিজম দিবস আজ
.............................................................................................
আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
.............................................................................................
শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
.............................................................................................
স্বাস্থ্য খাতে এডিবির বরাদ্দ বাড়ছে
.............................................................................................
শরীরচর্চা করে না বিশ্বের একচতুর্থাৎশ মানুষ: ডব্লিউএইচও
.............................................................................................
মুখে ঘা হলে যা করণীয়
.............................................................................................
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়
.............................................................................................
যখন তখন ঘুমের ওষুধ নয়
.............................................................................................
জেনে নিন ক্যান্সারের পূর্বাভাস
.............................................................................................
ঘুমের ওষুধ অপ্রয়োজনে নয়
.............................................................................................
নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতা
.............................................................................................
ক্যান্সার প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার করেছে কিউবার বিজ্ঞানীরা
.............................................................................................
২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত
.............................................................................................
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ‘যুগান্তকারী’ ওষুধ
.............................................................................................
শীতে শিশুর যত্ন
.............................................................................................
ক্যান্সার রোগ নয়, ব্যবসা!
.............................................................................................
কালোজিরার উপকারিতা
.............................................................................................
আগুনে পোড়া ক্ষত সারাতে ভিটামিন ডি
.............................................................................................
শিশুর জ্বর হলে যা করবেন
.............................................................................................
মেরুদন্ডের সমস্যায় করণীয়
.............................................................................................
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ...
.............................................................................................
হার্ট ভাল রাখতে ৪টি জরুরি বিষয়
.............................................................................................
ভারতে হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় ১৬ শিশুর মৃত্যু
.............................................................................................
রোবটের সাহায্যে মানুষের দাঁতে অস্ত্রোপচার
.............................................................................................
প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ২২ হাজার নারী!
.............................................................................................
স্ট্রোক হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ থেকে
.............................................................................................
‘সুপার ম্যালেরিয়া’ ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়
.............................................................................................
ঘুমন্ত অবস্থায় যেভাবে চর্বি গলে ওজন কমবে!
.............................................................................................
শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, এলার্জি হলে যা করবেন
.............................................................................................
ওজন কমাতে ক্যালসিয়াম
.............................................................................................
চুমু স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ভালো বা মন্দ
.............................................................................................
ক্যান্সার এড়াতে করনীয়
.............................................................................................
পিরিয়ডের ব্যথায় সহজে মুক্তি পেতে
.............................................................................................
যুবতীর পেট থেকে ৭৫০ গ্রাম চুল!
.............................................................................................
বায়োপসি করালে কি ক্যানসার বাড়ে?
.............................................................................................
ক্যানসার-হৃদরোগে মৃত্যু ঠেকাবে যে ওষুধ
.............................................................................................
হঠাৎ হাতের কব্জিতে ব্যথা
.............................................................................................
রক্তের অভাব দূর করতে কৃত্রিম রক্ত!
.............................................................................................
রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ার কারণ
.............................................................................................
ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ভয়ঙ্কর
.............................................................................................
চোখের ভেতরে থেকে ৮টি পাথর অপসারণ
.............................................................................................
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও প্রতিকার
.............................................................................................
ত্বকের ক্যানসার সারাবে যে সবজি
.............................................................................................
ক্যানসারের সেল নষ্ট করবে ভিটামিন সি!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft