বুধবার, ৮ এপ্রিল 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি

ফিচার ডেস্ক : ফরাস বা ঝাড়শিম সিলেটে বেশ সমাদৃত সবজি। এর বীজ মুখরোচক খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। ঠিক শিমের বীজের মতো না হলেও ফরাসের বীজ অনেকটা তা-ই। শিমের বীজ গোলাকার আর এটি কিছুটা লম্বাকৃতির। এটি ফ্রান্স থেকে প্রথম সিলেটে আসে। এই জন্য এর নাম হয়েছে ফরাস। ফরাস আসলে এক ধরনের ডাল জাতীয় শস্য। ভিন্ন স্বাদের ফরাস সাধারণত মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্না করা হয়। সিলেটের আঞ্চলিক এই খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে।

মূলত ঝাড়শিমই সিলেটে ফরাস হিসিবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ডালজাতীয় শীতকালীন ফসল। এতে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ।

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়া শীতকালে শুষ্ক এবং মাটিতে রস থাকায় ফরাসের চাষ সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে ফরাস আবাদ হয়। তবে গত এক দশকে এর আবাদ বেড়েছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এ সবজি প্রচুর পরিমাণে হয়ে থাকে।

সিলেটের এমন একটি খাবারের প্রস্তুত প্রণালি দেওয়া হলো।

উপকরণ

ফরাসের বিচি : ৭৫০ গ্রাম

পেঁয়াজ কুচি : তিনটি বড় পেঁয়াজ থেকে যা হবে

কাঁচামরিচ : ৫-৬টি

গরম মশলা : ৩-৪টি এলাচ

দারুচিনি : ৪-৫ টুকরো

হলুদ গুঁড়া : আধা চা চামচ

মরিচ গুঁড়া : আধা চা চামচ (ঝাল বুঝে)

লবণ : স্বাদমতো

তেল : পরিমাণ বুঝে

ধনে পাতা : কুচি করা দুই চা চামচ

 
প্রস্তুত প্রণালি

ফরাসের বিচি ৪-৫ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। মূল রান্নার শুরুতে কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবণ যোগ করে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ, এলাচ, দারুচিনি ভেজে নিন। এরপর আদা ও রসুন দিন। পেঁয়াজের রং হলদে হয়ে এলে আধা কাপ পানি দিন। গরম হয়ে বুদবুদ বের হলে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া দিন। ভেজে তেল উপরে উঠিয়ে নিন। এবার ফরাসের বিচি দিন। ভালো করে মিশিয়ে কয়েক মিনিট মধ্যম আঁচে রেখে দিন। এবার দেড় কাপ পানি দিন। মধ্যম আঁচে ঢেকে রাখুন। ফরাস সিদ্ধ না হলে আরো পানি দিতে পারেন। এবার লবণ চেখে দেখুন। এই সময়ে ধনে পাতার কুচি দিন। এবার পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাত কিংবা রুটির সাথে বেশ ভালো লাগবে।

সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি
                                  

ফিচার ডেস্ক : ফরাস বা ঝাড়শিম সিলেটে বেশ সমাদৃত সবজি। এর বীজ মুখরোচক খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। ঠিক শিমের বীজের মতো না হলেও ফরাসের বীজ অনেকটা তা-ই। শিমের বীজ গোলাকার আর এটি কিছুটা লম্বাকৃতির। এটি ফ্রান্স থেকে প্রথম সিলেটে আসে। এই জন্য এর নাম হয়েছে ফরাস। ফরাস আসলে এক ধরনের ডাল জাতীয় শস্য। ভিন্ন স্বাদের ফরাস সাধারণত মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্না করা হয়। সিলেটের আঞ্চলিক এই খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে।

মূলত ঝাড়শিমই সিলেটে ফরাস হিসিবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ডালজাতীয় শীতকালীন ফসল। এতে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ।

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়া শীতকালে শুষ্ক এবং মাটিতে রস থাকায় ফরাসের চাষ সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে ফরাস আবাদ হয়। তবে গত এক দশকে এর আবাদ বেড়েছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এ সবজি প্রচুর পরিমাণে হয়ে থাকে।

সিলেটের এমন একটি খাবারের প্রস্তুত প্রণালি দেওয়া হলো।

উপকরণ

ফরাসের বিচি : ৭৫০ গ্রাম

পেঁয়াজ কুচি : তিনটি বড় পেঁয়াজ থেকে যা হবে

কাঁচামরিচ : ৫-৬টি

গরম মশলা : ৩-৪টি এলাচ

দারুচিনি : ৪-৫ টুকরো

হলুদ গুঁড়া : আধা চা চামচ

মরিচ গুঁড়া : আধা চা চামচ (ঝাল বুঝে)

লবণ : স্বাদমতো

তেল : পরিমাণ বুঝে

ধনে পাতা : কুচি করা দুই চা চামচ

 
প্রস্তুত প্রণালি

ফরাসের বিচি ৪-৫ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। মূল রান্নার শুরুতে কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবণ যোগ করে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ, এলাচ, দারুচিনি ভেজে নিন। এরপর আদা ও রসুন দিন। পেঁয়াজের রং হলদে হয়ে এলে আধা কাপ পানি দিন। গরম হয়ে বুদবুদ বের হলে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া দিন। ভেজে তেল উপরে উঠিয়ে নিন। এবার ফরাসের বিচি দিন। ভালো করে মিশিয়ে কয়েক মিনিট মধ্যম আঁচে রেখে দিন। এবার দেড় কাপ পানি দিন। মধ্যম আঁচে ঢেকে রাখুন। ফরাস সিদ্ধ না হলে আরো পানি দিতে পারেন। এবার লবণ চেখে দেখুন। এই সময়ে ধনে পাতার কুচি দিন। এবার পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাত কিংবা রুটির সাথে বেশ ভালো লাগবে।

ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার উপায়
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ছাত্রজীবন শেষে প্রত্যেকেই ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কারণ ইন্টারভিউ ছাড়া কর্মজীবনে প্রবেশ করার আর কোনো পথ নেই। ক্যারিয়ারে পা রাখতে গিয়ে ইন্টারভিউ নামক জটিল ও ভয়ানক জিনিসটিকে ভয় পেয়ে ছিটকে পড়তে হয় অনেককে। কিন্তু আপনি জানেন কি? ইন্টারভিউকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কীভাবে ইন্টারভিউতে ভালো করবেন এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ প্রদান করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

গবেষণা করুন : কারা আপনার ইন্টারভিউ নেবেন, তাদের পদবি কী, তারা কেমন, তাদের সম্পর্কে যতটা সম্ভব জেনে নিন। যে প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ করতে চাইছেন সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। প্রতিষ্ঠানটি কি নিয়ে কাজ করে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী, এর স্বত্বাধিকারী কে বা কারা, বছরে তাদের আয়-ব্যয় কেমন, অর্থনৈতিক অবস্থা কী, প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিযোগী কারা, এসব জানুন।

বর্তমানে এসব জানার একটা ভালো উপায় হলো ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। সেটি ঘেঁটে নোট নিন, নিয়োগকর্তাদের নামগুলো জেনে নিন এবং কিছু প্রশ্ন তৈরি করুন।

ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে যখন আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে তখন এমনভাবে প্রশ্ন করুন যাতে আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহীতারা বুঝতে পারেন ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনি বেশ ভালোভাবে জানেন।

যেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকলে আপনার জন্য ইন্টারভিউ দেওয়া সহজ হবে। আপনি সহজেই তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন আর আত্মবিশ্বাসীও থাকবেন।

অনুশীলনের বিকল্প নেই : কথায় আছেÑপ্র্যাকটিস মেকস আ ম্যান পারফেক্ট অর্থাৎ অনুশীলনই একজন মানুষকে ত্রুটিহীন করে। আপনাকে কী ধরনের প্রশ্ন করা হতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং সম্ভাব্য উত্তরগুলোও ভেবে নিন।

আপনি যদি বুঝতে না পারেন আপনাকে কী ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতে পারে, ইন্টারনেটের সাহায্য নিন। ইন্টারনেটে এমন হাজারো ওয়েবসাইট আছে যেখানে ইন্টারভিউতে সাধারণত কেমন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে সেগুলোর নমুনা উত্তরসহ পাওয়া যায়।

আপনার উত্তরগুলো থিওরির মতো না হয়ে গল্পের মতো হওয়া ভালো। চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে সেগুলো যে আপনার আছে সেটি গল্পের ছলে বলুন। ‘আমি এ সব কাজ পারি’ এভাবে না বলে কাজের উদাহরণ দিতে পারেন।

কখন, কোথায়, কীভাবে আপনি আপনার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা জানান। এতে আপনার আগের কর্মক্ষেত্রে আপনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন সেটি যেমন বোঝা যাবে, তেমনি সাক্ষাৎকার গ্রহীতারা বুঝতে পারবে নতুন কাজের ক্ষেত্রে আপনি কতখানি যোগ্য।

পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন : আগে দর্শনধারী, তারপর গুণ বিচারি-পুরোনো হলেও এ কথা এক্ষেত্রে বেশ প্রযোজ্য। বুদ্ধিমান নিয়োগকর্তারা ইন্টারভিউ শুরুর তিরিশ সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আপনি যতই ভালো ইন্টারভিউ দিন না কেন, আপনার পোশাক পরিচ্ছদ দেখে ইন্টারভিউয়াররা যদি বিরক্ত হন, তাহলে আদতে কোনো লাভ হবে না।

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ভার্জিনিয়া ইস্টম্যান নামের এক সাবেক নিয়োগ বিশেষজ্ঞ একটা মিডিয়া কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে আসা এক চাকরি প্রার্থীকে নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এভাবেÑ

‘ও রুমে ঢোকার তিন মিনিট আগেই ওর শরীর ও মুখের তীব্র দুর্গন্ধ আমাদের রুমে ঢুকেছিল। ওর পোশাক-পরিচ্ছদ তো খারাপ ছিলই, ঠোঁটের কোণায় খাবারের অংশ লেগেছিল, আর মোজা থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। আমি জীবনে কখনো কাউকে ওরকম বিশ্রীভাবে চুল আঁচড়াতে দেখিনি।’ বলাই বাহুল্য যে ওই বেচারা চাকরিটা পায়নি।

আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য যাবেন, হতেই পারে তারা পোশাক নিয়ে অত মাথা ঘামায় না। তবুও তারা এটা অন্তত আশা করে না যে, ইন্টারভিউতে আপনি জিন্স পরে যাবেন। খালি চোখে দেখতে আরাম লাগে এমন পোশাক পরুন।

নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে সাদা রংকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। রঙিন, জবরজং পোশাকের চেয়ে হালকা রঙের পোশাক পরাই ভালো। তবে পোশাকের রং যাই হোক, সাদা বা নীল, অবশ্যই তা যেন কুঁচকানো না হয়। ইন্টারভিউয়ের পোশাক হতে হবে পরিষ্কার এবং পরিপাটি।

হ্যান্ডশেক করুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে : চাকরির ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান নিয়োগকর্তারা কিন্তু হ্যান্ডশেকের ধরন দেখেও অনেক কিছু বিবেচনা করেন। সাধারণত প্রার্থী ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার পরে প্রথমেই এটি হয়ে থাকে। একজন ইতিবাচক, আত্মবিশ্বাসী এবং পেশাদার লোক কখনোই কাঁপা কাঁপা, নিস্তেজ হাতে করমর্দন করবে না।

আবার হ্যান্ডশেকের সময় খুব বেশি শক্ত করেও হাত ধরা যাবে না। তাতে মনে হবে আপনি অন্যের ওপর জোর খাটাতে ওস্তাদ বা ব্যক্তি হিসেবে আপনি আক্রমণাত্মক এবং কর্তৃত্ববাদী।

দরকার হলে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে করমর্দন করার অনুশীলন করে নিন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন হ্যান্ডশেকের সময় আপনি তাদের হাতে বেশি চাপ দিচ্ছেন বা একেবারেই আলতো করে হাত ধরছেন কি না। ঠিকভাবে হ্যান্ডশেক করা অনুশীলন করুন।

আর ইন্টারভিউর সময় যার সঙ্গে কথা বলছেন অবশ্যই তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন। অন্যদিকে তাকানো বা নিচের দিকে তাকিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলাটা এক ধরনের অভদ্রতাই। পকেটে বা ব্যাগে অবশ্যই টিস্যু রাখবেন! মনে রাখবেন ঘামে ভেজা হাত ধরতে কেউ পছন্দ করে না!

হাসুন : যখন আপনার মাথার ভেতর অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, বুক ঢিপঢিপ করছে, নানা আশঙ্কায় নিজের নামই ভুলে যাওয়ার দশাÑতখন হাসাটা অবশ্য একটু কঠিনই। তবে হাসিমুখ হলো একটা বিশ্ব স্বীকৃত ভঙ্গি যা দ্বারা আপনি সহজেই বোঝাতে পারেন ‘আমি দিলখোলা মানুষ এবং আমি এখানে আসতে পেরে খুশি।’ তাই দরজায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মুখে হাসি রাখুন, হাসিমুখে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিন।

বডি ল্যাংগুয়েজের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, ইন্টারভিউর সময় কখনো কাত হয়ে বসবেন না। সবসময় সোজা হয়ে বসুন।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন : অ্যাড্রেনালিন আপনাকে যেমন সাফল্য এনে দিতে পারে, তেমনি ঘটাতে পারে সর্বনাশও। আপনি হয়তো সব ধরনের প্রস্তুতিই নিয়ে গেলেন, কিন্তু নার্ভাসনেসের কারণে ইন্টারভিউর সময় সবকিছুই ভুলে গেলেন কিংবা এমনভাবে আপনার হাত ঘামতে শুরু করল যে, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক অনুশীলন করাটা কোনো কাজেই এলো না!

যদি আপনার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটবার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইন্টারভিউ রুমে ঢুকবার আগে জোরে কয়েকবার শ্বাস নিন। মনে মনে ছক কষে নিন ভেতরে গেলে কি করবেন। অ্যাড্রেনালিনকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে সেটা কিন্তু আপনাকে ভালো ইন্টারভিউ দিতে সাহায্যই করবে।

বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বলেন যে, ইন্টারভিউর সময় ঘাবড়ে না গিয়ে আপনার প্রস্তুত করা উত্তরগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে ইন্টারভিউ ভালো হয়।

ক্যারিশম্যাটিক হোন : একটি ছোট কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক ডার্মট রুনি বলেন, ‘মুখোমুখি সাক্ষাৎকার আসলে একটি সুবর্ণ সুযোগ নিজেকে আরেকজনের কাছে তুলে ধরার। এখানে আপনি আরেকজনকে নিজের ব্যাপারে ভালো ধারণা দেবার সুযোগ পান, বলতে পারেন আপনার ঝোঁক বা প্যাশন কোনদিকে।’

তাই ইন্টারভিউ দিতে যাবার আগে ভাবুন, আপনার সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কোনটি? আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচি নিয়ে ভালো করে ভাবুন। ভেবে দেখুন কোন কোন কারণে আপনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। সেই সঙ্গে কাজের বিষয়ে জোর দিতে ভুলবেন না।

আপনি কেন কাজটি চান, আপনি কতটা পছন্দ করেন এ কাজ, কাজটি পেলে আপনি কতটা উপকৃত হবেন-এ বিষয়গুলো বারবার বলবেন। আপনার এ কথাগুলো ইন্টারভিউয়ারের মতামতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

খেই হারাবেন না : ইন্টারভিউয়ারদের প্রশ্ন শুনে যদি আপনার মনে হয় আপনি অথৈ সাগরে পড়েছেন, কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না, এই চাকরি পাবার কোনো সম্ভাবনাই আর নেইÑতবু ঘাবড়ে যাবেন না।

আপনার মনে হতেই পারে যে ইন্টারভিউয়াররা আপনাকে পছন্দ করছে না কিংবা এ কাজ পাবার কোনো আশা নেই, তবু ইন্টারভিউ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না। কে জানে হয়তো পরের প্রশ্নটির উত্তরই আপনি খুব ভালোভাবে দিতে পারবেন! তাই ঘাবড়ে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব প্রশ্ন মোকাবেলা করুন।

‘মামা হালিমের’ মামার খোঁজে
                                  

মেহেরাবুল ইসলাম স্বৌদীপ: রাজধানীর কলাবাগানের ঐতিহ্যবাহী ‘মামা হালিম’র নাম শোনেননি এমন রসনা প্রিয় মানুষ মেলা ভার। তাঁর তৈরি হালিম এতটাই জনপ্রিয় যে, ‘মামা হালিম’ নামেই ক্রেতা একনামে চেনেন। ‘মামা’ শব্দটির নিচে চাপা পড়ে গেছে তাঁর প্রকৃত নাম দীন মোহাম্মদ মনু।

কীভাবে তিনি ‘মামা’ পরিচিতি পেলেন? জিজ্ঞেস করতেই সযতনে রাখা অতীতের ঢাকনাটা যেন খুলে গেল। মুচকি হেসে দীন মোহাম্মদ মনু বললেন, ‘শৈশবে মামাবাড়ি থেকে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম আজমির শরিফে খাজা বাবার দরবারে। সেখান থেকে সিলেট হয়ে ঢাকা আসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘোরাফেরা করতাম। অনেকের ফুটফরমাশ খাটতাম। পরে মোহাম্মদপুর বিহারি কলোনিতে এক রেস্তোরাঁয় সাগরেদের কাজ শুরু করি।  হালিম তৈরি শিখেছি সেখানেই। সেই রেস্তোরাঁর সবাই আমাকে মামা ডাকত।’

সেই থেকে আপনি সবার ‘মামা’ হয়ে গেলেন! ‘হ্যাঁ, তা বলতে পারেন’, দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এরপর ভাগ্নেদের ভালোবেসে নিজেই হালিমের দোকান দিলাম। ১৯৭৫ সালের কথা। এই কলাবাগানের ছোট একটা ছাপড়া ঘরেই শুরু করেছিলাম।’

না, এখন আর ছাপড়া ঘর নেই। দালান উঠেছে। বেড়েছে প্রসার, আরেকটি শাখাও খুলতে হয়েছে গ্রাহকের চাপে। বয়সটাও বসে থাকেনি। এই ৬৩ বছর বয়সে ফিনফিনে পাতলা সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি পরে এখনও নিজেই ব্যবসার দেখাশোনা করেন দীন মোহাম্মদ। শুধু তাই নয়, হালিমের রেসিপিও সিক্রেট। শুধু জানালেন, তিনি যখন হালিম বিক্রি শুরু করেন তখন ঢাকায় এককভাবে হালিমের কোনো দোকান ছিল না।

‘ঢাকাই খাবার’ গ্রন্থে সাদ উর রহমান লিখেছেন, মোগল আমলে দরবারি খাবার ছিল হালিম। মোগল অধিপতি, সেনানায়ক, সুবেদারদের নাশতার প্রিয় খাবার ছিল এটি। তবে ঢাকায় কবে থেকে এর প্রচলন, কেন এর নাম হালিম হলো, কে প্রথম তৈরি করেছিল এই খাদ্য তার সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। রাজধানীবাসীর কাছে সুস্বাদু ও উপাদেয় এই খাবারের নাম বলতে গেলে সবার আগে আসে ‘মামা হালিম’-এর কথা। হালিম খেতে খুবই সুস্বাদু, পুষ্টিকর। খাবারটি এখন এতোই জনপ্রিয় যে, তারকা হোটেল থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ের অনামি রেস্তোরাঁয় এটি তৈরি হয়, বিক্রিও হয় দেদার।

আপনার তৈরি হালিমের স্বাদ অন্যদের থেকে আলাদা। কীভাবে তৈরি করেন? জানতে চাইলে দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘হালিম তৈরিতে একশ প্রকারের মশলা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নাম বলা যাবে না। আমি মারা যাওয়ার আগে দুই সন্তানের যে রাজি হবে তাকে শিখিয়ে যাব। এছাড়া আর অন্য কাউকে এই ফরমুলা বলা যাবে না।’

তবে তিনি জানালেন, প্রধানত সাত রকমের ডাল লাগবে। অড়হরের ডাল ছাড়া হালিম সুস্বাদু হবে না। আরও লাগবে সুগন্ধি চাল, মরিচ, হলুদ, ধনে, জিরা, দারুচিনি, এলাচসহ গরমমশলা, গোলমরিচ, মৌরি, মেথি ও সরিষা। তার সঙ্গে যুক্ত হবে গরু, খাসি বা মুরগির মাংস।

পরিবেশনেও রয়েছে কেরামতি। মামা নিজেই জানালেন, এসময় কাঁচামরিচ, আদা, ধনেপাতা, বেরেস্তা, শসার কুচি দিতে হবে। সবশেষে অবশ্যই এক টুকরো লেবু। নইলে হালিমের স্বাদ খুলবে না। তিন ধরনের মশলার মাত্রা ঠিক করার মধ্যেই রয়েছে হালিম তৈরির ওস্তাদি। শীত ও গরমের মৌসুমে মশলার মাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়। গরু, খাসি ও মুরগি- তিন রকমের হালিম তৈরি করেন মামা। কিন্তু মাংস যা-ই হোক, মশলাটা দিতে হবে একই পরিমাণে।

মামার দাবি, ঢাকায় হালিম জনপ্রিয় করেছেন তিনি। কর্মচারীরা কাটা-বাছাসহ অন্যান্য কাজ করলেও ডাল ও মশলা মিশ্রণের কাজটি তিনি নিজ হাতে করেন। কারণ এখানেও কিছু ওস্তাদি রয়েছে। কী রকম? জানতে চাইলে মামা বলেন, ‘স্বাভাবিক আবহাওয়া ও গরমের প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে। তখন মশলার অনুপাত কমবেশি রাখতে হয়। মরিচ ব্যবহারে থাকতে হয় সতর্ক। আজ বাজার থেকে যে মরিচ এনেছি, সেটা এক রকম ঝাল। কাল হয়তো আরেক রকম থাকবে। মরিচ ভেঙে জিভে স্পর্শ করে দেখতে হয় ঝালের তেজ। প্রতিদিন একই পরিমাণ মরিচ দেয়া যাবে না। যেসব মশলা ব্যবহার করি, বেশির ভাগ মানুষ সেগুলোর নামও জানে না।’

দীন মোহাম্মদ মনুর বাড়ি কুমিল্লা জেলার লাকসামে। স্বাধীনতার আগে মোহাম্মদপুরের বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পাশে এক বিহারির হোটেলে কাজ করতেন। এই হোটেলেই তাঁর ওস্তাদ কালা, ধলার কাছে শিখেছিলেন হালিম তৈরির কৌশল।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেরাজুল ইসলাম বাসার জন্য হালিম কিনছিলেন। তিনি বললেন, মামা হালিমের স্বাদ অতুলনীয়। শীত আসছে। এই সময় হালিম খেতে ভালো লাগে। বেইলি রোডের বাসিন্দা সায়মন বলেন, এত স্বাদের হালিম অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। প্রতিদিন তো কেনা সম্ভব হয় না, আজ এদিকে এসেছিলাম পার্সেল নিয়ে যাচ্ছি। দাম একটু বেশি হলেও স্বাদের কারণে মানুষ কিনে নিয়ে যায়।

পাত্রের আকার ও হালিমের পরিমাণ অনুযায়ী মামা হালিমের মূল্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা।

এসি ছাড়াই এসির হাওয়া!
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রচন্ড গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই সময় শরীর জুড়াতে হিম শীতল ঘরে ঠাইঁ নেনে অনেকে। যাদের ঘরে এসি আছে তারাই কেবল ঠান্ডা হাওয়া গায়ে মাখতে পারেন। কিন্তু যাদের ঘরে এসি নেই তাদের কি হবে? আপনি যদি বুদ্ধি খাঁটান হবে এসি ছাড়াই পেতে পারেন এসির হাওয়া। জেনে নিন সেই কৌশল।

০১. গরমে তাপমাত্রার পারদ এখন ক্রমশ উর্দ্ধমুখী৷ মে, জুন মাসে গরম আরও বাড়বে৷ ভাবছেন অফারে একটা এসি এ বার কিনে নিতেই হবে। না হলে আর রক্ষে নেই! কিন্তু ইলেকট্রিক বিল! সেটার কী হবে? এসি ঘরের তাপমাত্রা কমালেও ইলেকট্রিক বিল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। তাই ঝটপট জেনে নিন এমন কিছু উপায়, যাতে আপনার ঘর এসি ছাড়াই থাকবে ঠান্ডা!

০২. ঘরে ভেন্টিলেটর থাকলে, ভালে করে সেটিকে পরিষ্কার করে রাখুন৷
 
০৩. প্রয়োজন ছাড়া ঘরের আলো একদম জ্বালাবেন না৷ ঘরে টিউব লাইট ব্যবহার করুন৷ সম্ভব হলে কম আলোর এলইডি আলো ব্যবহার করুন।
 
০৪. ঘরের জানলা যদি কাচের হয়, তাহলে মোটা পর্দা দিয়ে ঢেকে দিন৷ পর্দার রং গাঢ় হওয়া চাই। কারণ, গরমে হালকা রঙের পর্দায় তাপ আটকানোর ক্ষেত্রে মোটেই কার্যকরী নয়৷
 
০৫. বাজারে উপলব্ধ খেসের পর্দা কিনে নিয়ে এসে জানলায় লাগিয়ে দিন৷ সুযোগ মতো মাঝে মাঝে সেটিকে জল দিয়ে ভিজিয়ে দিন৷
 
০৬. ঘরের মধ্যে ছোট বা বড় টবে গাছ রাখুন৷ দেখবেন এর ফলে ঘর বেশ খানিকটা ঠান্ডা অনুভব করবেন৷
 
০৭. ঘর মোছার সময় জলের মধ্যে বেশ খানিকটা পরিমাণ নুন ঢেলে নিন৷ নুন জল দিয়ে ভিজে ভিজে করে ঘর মুছতে পারলে  ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে৷

তরমুজ খান-সতেজ থাকুন
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রচণ্ড গরমে প্রাণ জুড়াতে তরমুজের শরবতের জুড়ি নেই। গ্রীষ্ম না আসলেও বাজারে এসেছে সবুজ তরমুজ।

গরমে প্রাণ জুড়াতে ঠান্ডা ঠান্ডা মিষ্টি স্বাদের তরমুজ খেতে ভালোবাসেন সবাই। বাইরে গাঢ় সবুজ আর ভেতরে টকটকে লাল রঙের আকর্ষণীয় এই ফলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ।

তরমুজ দেহের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি আমাদের ত্বকও সুন্দর রাখে। ভিটামিন এ, বি, সি সমৃদ্ধ তরমুজ ত্বককে সজীব করে, পাশাপাশি উজ্জ্বল ও নরম রাখে। তাই নির্দ্বিধায় এই ফলটি ব্যবহার করা যায় রূপচর্চার কাজে।

তরমুজ হার্টের জন্য খুবই উপকারি। রক্তবাহী ধমনীকে নমনীয় ও শীতল রাখে। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

কিডনির জন্য বেশ উপকারি ফল তরমুজ। ডাবের পানির যে গুণাগুণ, তরমুজেও রয়েছে সেই গুণাগুণ। কিডনি ও মুত্রথলিকে বর্জ্যমুক্ত করতে সহায়তা করে।

পানিশূন্যতা জাতীয় সমস্যা প্রতিরোধ করে তরমুজ। একই সঙ্গে রক্তচাপ কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

বাঁচতে হলে জেনে নিন, বজ্রপাতের সময় ভুলেও যা করবেন না
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে বজ্রপাত। অতি বজ্রপাতের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিকারের ব্যবস্থা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বজ্রপাতের ছোবল থেকে বাঁচতে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
বজ্রপাতের সময় বাসা-বাড়ির মধ্যে থাকলে এর প্রভাব থেকে কিছুটা বাঁচা যায়। তবে রাস্তায় কিংবা খোলা মাঠে থাকাকালীন এমন পরিস্থিতি সামনে পড়লে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন? বজ্রপাতের সময় ভুলেও করবেন না এই ৭টি কাজ ;-
১. বজ্রপাতের সময় উঁচু গাছপালার কাছাকাছি থাকবেন না। কারণ ফাঁকা জায়গায় কোনো যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই গাছ থেকে কমপক্ষে ৪ মিটার দূরত্বে অবস্থান করতে হবে।
২. ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা, উঁচু জায়গায় কিংবা টিনশেডের বাড়িতে না থাকাই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনো পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া যায়।
৩. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব গাড়ি থেকে বেরিয়ে পাকা কোনো বাড়ির ছাউনি কিংবা বারান্দায় অবস্থায় নেওয়া।

৪. বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজসহ সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ রাখা। বজ্রপাতের আভাস পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন।
৫. বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে আহত হন।
৬. নদীতে নৌকায় অবস্থান করলেও পানি থেকে সরে আসতে হবে এবং নৌকার ছাউনিতে ঢুকে পড়তে হবে।

৭. বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার আছে এসব জায়গায় যাবেন না বা কাছাকাছি থাকবেন না।

দেশেই চাষ হচ্ছে বিদেশী ফসল ‘চিয়া’
                                  

জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল,ময়মনসিংহ: চিয়া। এটি একটি তৈলজাত ফসলের নাম। নামটির সাথে পরিচিত নয় বাংলাদেশের মানুষ। কারণ এটি বাংলাদেশে চাষ হত না। ফসলটির উৎপত্তি মেস্কিকোতে। যা বৈজ্ঞানিক নাম Salivia hispanica L.    ইহা একটি বর্ষজীবি, বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। এটিতে রয়েছে ১৫-২৫ ভাগ প্রোটিন, ৩৪ ভাগ লিপিড, ২৪ ভাগ ফাইবার এ্যাশ ৪-৫ ভাগ ও শক্তিশালী এন্টিঅক্্িরডেন্ট সমৃদ্ধ। এছাড়াও এ ফসলে রয়েছে শরীরের জন্য রয়েছে ওমেগা-৩ যা একটি অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। বর্তমানে ফসলটি বাংলাদেশে চাষ শুরুতে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যপক ড. মো. আলমগীর হোসেন। ২০১০ সালে মালয়েশিয়ায় পোস্ট-ডক্টরেট করার সময় চিয়া বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে অদ্যবধি চিয়া নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এই গবেষক। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই আমরা কৃষক বান্ধব চিয়া চাষ পদ্ধতি ও বীজ উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করেছি। খুব শীঘ্রই আমরা ‘বাউ চিয়া’ নামে একটি জাত অবমুক্তকরণের মাধ্যম কৃষক পর্যায়ে চিয়া চাষ সম্প্রসারণে আশাবাদী।

অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চিয়া হলো মিন্ট প্রজাতির উদ্ভিদ। এটি প্রধানত মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় জন্মায়। চিয়া বীজ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ আমিষ, চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আঁশ থাকে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন। মানবদেহে চিয়া বীজের কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, চিয়া বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের শরীরের কোলেস্টরল কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও চিয়া বীজের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের করে দিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। দেশীয় আবহাওয়ায় চিয়ার চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১০ সালে চিয়া বীজ দেশে নিয়ে আসি। এরপর বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগীয় মাঠে ৪ বছর ধরে চিয়া বীজের অভিযোজন পরীক্ষা করা হয়। অভিযোজন পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর ৩ বছর ধরে চিয়া বীজের চাষাবাদ নিয়ে গবেষণা করা হয়। ২০১৭ সালে দেশের পাবনা, বগুড়া, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ ও চারঞ্চলে চিয়া চাষে ব্যপক সফলতা আসে। রবিশস্য হিসেবে এটি বাংলাদেশে চাষ করা যায়। ফসল ঘরে উঠাতে ৯০দিন সময় লাগে। বেশি ফলনের জন্য ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে চাষ করতে হবে। তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও বোনা যেতে পারে। ফসলটি সব রকম মাটিতে এটি চাষ করা যায়। জমি তিন থেকে চারটি চাষ দিয়ে মাটি ঝুড়ঝুড়া করে নিতে হবে। এই উদ্ভিদের পোকা-মাকড় ও রোগবালাই খুবই কম হওয়ায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ২ টন উৎপাদন লাভ করা সম্ভব।

বাংলাদেশে চিয়ার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. জাকির হোসেন বলেন, চিয়া বীজ শুকনো অবস্থাতেই খাওয়া যায়। তবে চিয়া বীজকে বিভিন্ন খাবার যেমন দই,পুডিং বা বিস্কিটের সাথে যোগ করে এর চাহিদা বাড়ানো যেতে পারে।

‘বাউ-চিয়া’ জাত উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘খুব শীঘ্রই এই জাতটি অবমুক্তকরণের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে নেয়া হবে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চিয়া চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদুল করিম, মো. আরিফ সাদিক পলাশ এবং আহাদ আলম শিহাব।   

ঘরেই তৈরি করুন আলুর চিপস
                                  

লাইফস্টাইল ডেস্ক : চিপস খেতে বাচ্চারা খুব পছন্দ করে। অনেক সময় বড়রাও এর স্বাদ পেতে পিছপা হন না। তবে বাইরের অস্বাস্থ্যকর চিপস খাওয়ার চেয়ে ঘরেই তৈরি করুন সুস্বাদু আলুর চিপস।

উপকরণ: বড় আকারের আলু- ৪ টি, লবণ- ৩ টেবিল চামচ, পানি, তেল- ভাজার জন্য, লবণ ও গোলমরিচ- পরিমাণমতো।

প্রণালি: প্রথমে আলু ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এরপর ফুড প্রসেসর বা স্লাইসার বা ছুরি দিয়ে কেটে পাতলা গোল গোল স্লাইস করে কেটে নিন আলুগুলো।

সব আলু কাটা না হওয়া পর্যন্ত আলুগুলো পানিতে চুবিয়ে রাখুন যাতে কেটে রাখা আলু বাদামী রঙ ধারণ না করে। এরপর আলুগুলো ছেঁকে পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন।

তারপর একটি বোলে পানি নিয়ে এতে ৩ টেবিল চামচ লবণ দিয়ে তাতে আলু ডুবিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট।

এরপর পানি ছেঁকে ফেলে দিয়ে আলুগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে করে আলুর গায়ের অতিরিক্ত স্টার্চ সরে যাবে।

কিচেন পেপার বা কিচেন তোয়ালে দিয়ে আলুর চিপসগুলো চেপে চেপে ভালো করে শুকনো করে নিন।

এবার প্যানে তেল গরম হয়ে এলে এতে অল্প অল্প করে আলুর চিপসগুলো ডুবো তেলে লালচে সোনালী করে ভেজে তুলুন। কিচেন পেপার বা টিস্যু পেপারে তুলে রাখুন। এরপর উপরে লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়ো ছিটিয়ে যেকোন সস বা চাটনির সাথে পরিবেশন করুন সুস্বাদু মুচমুচে আলুর চিপস।

কাপাসিয়া ধাঁধার চর সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি
                                  

আশরাফুল ইসলাম শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর ফাইভ স্টার ফ্রেন্ডস এর শাখার সাথে ২০ জন ভ্রমণ পিপাসু নিয়ে ৮ মার্চ বৃহস্পতিবার নদীর প্রেমে নৌপথে ছুটে চলি ঢাকার পাশেই গাজীপুরের কাপাসিয়া ধাঁধার চরে। বহুদিন আগেই নাম শুনে তার বুকে পা রাখার ইচ্ছে জাগে মনে। সাত সকালে বের হয়ে শ্রীপুরের বরমী থেকে কাপাসিয়ার রানীগঞ্জ শীতলক্ষ্যার জলে নেচে গেয়ে পৌঁছাই বেলা ২.৩০ মিনিটে।

শ্রীপুর ফাইভ স্টার ফ্রেন্ডস এর আয়োজনে সারাটা দিন ছিলো মন মাতানো গানের আয়োজন, চরে যাওয়ার পর হৈ চৈ করে শুরু হয় ফুটবল খেলা, নদীতে সাতার কাটার উল্লাস মেতে উঠেন সবাই, সব শেষে চলে পুরষ্কার বিতরনের পর্ব, এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর ফাইভ স্টার ফ্রেন্ডস ক্লাবের এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক টি আই সানি নোমান গ্রুপের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ শামীম আহম্মেদ মৃধা, ফয়সাল মৃধা, ফজলুল হক মৃধা, সাদ্দাম মৃধা, সিডেফ মানবাধিকার সংস্থা গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মোকছেদুর রহমান আসিফ, সাধারন সম্পাদক আবু হানিফ, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম আকাশ, আশিকুর রহমান সবুজ, জহিরুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম, শেখ ছফির আহম্মেদ সাগর, আব্দুর রহিম প্রমুখ।

গাজীপুরের কাপাসিয়ার কাছে ব্রহ্মপুত্র নদ আর শীতলক্ষা নদীর মোহনায় দ্বীপের মতো এ চর। প্রায় দু’শ বছর আগে জেগে ওঠা নৌকা আকৃতির এ চরের নাম দেওয়া হয়েছে “ধাঁধার চর”। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা আর জীববৈচিত্রের এ ধাঁধার চর মনোরম পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে এমনটি মনে করেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

নদীর দু-কূলের বীজতলার সবুজ আর নানা বর্ণ ধারণ করা সবজি¦ ক্ষেতের ভিতর দিয়ে উঠি চরের বুকে। বরই বাগান, পেয়ারা বাগান, কলা, মূলা, সরিষা, মিষ্টি আলু সহ নানা রকম ফল-মূল আর সবজি¦ দেখে মনে হলো কৃষকের স্বর্গ রাজ্য। এ যেন এক ভিন্ন জগৎ, সবুজের মাঝে একখন্ড দ্বীপ। শীতলক্ষ্যার বুকে অপার সম্ভাবনা নিয়ে জেগে উঠা প্রকৃতির এক অপরূপ নিদর্শন। সত্যিই ধাঁধার চর যেন সৌন্দর্যের গোলক ধাঁধা। স্থানীয়রা অনেকে এটাকে মাঝির চর নামেও ডাকে।

যোগাযোগ- ঢাকার মহাখালী হতে ভাওয়াল পরিবহনে কাপাসিয়ার রানীগঞ্জ বাজার। এছাড়া গুলিস্থান থেকে প্রভাতি বনশ্রীতে কাপাসিয়া বাজার, সেখান থেকে সিএনজি বা অটোতে রানীগঞ্জ বাজার। খেয়াঘাট থেকে ইঞ্চিন নৌকায় ধাঁধার চর । মোট কথা গাজীপুর চৌরাস্তা বা রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা অথবা কাপাসিয়া বাজার আসলে সহজেই চলে যাবেন ধাঁধার চর। তবে এসব এলাকাতেই দুপুরের খাবার জোগার করে নেওয়া ভাল। প্রাইভেট কার বা মোটর সাইকেল হলে তো কথাই নেই। দিনে আসবেন দিনে যাবেন। রাতে থাকলে সস্তায় হোটেল পাবেন গাজীপুরেই।

ভ্রমনপ্রেমীরা জীবনের একটি দিন এই নদীর বুকেই জেগে ওঠা টাইটানিকের বুকে উৎস্বর্গ করতে পারেন। ধাঁধার চরে এখনও সেভাবে পর্যটকদের পদচারণা নেই সুতরাং ভালো হবে যদি স্থানীয় কাউকে সঙ্গে রাখেন । তাতে ঘুরে বেড়ানো যথেষ্ট নিরাপদ।

দিনে ৬টির বেশি সেলফি, ‘সেলফাইটিসের’ রোগী
                                  

মিজানুর রহমান: মোবাইল ফোনে সেলফি তোলা অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু কত প্রিয় হলে তা ‘নেশা’ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত? গবেষকরা জানিয়েছেন, সেলফি তোলার আসক্তি সত্যি সত্যিই একটা ‘সমস্যা’। আপনি যদি দিনে ৬টির বেশি সেলফি তোলেন এবং তা সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করার তাড়না বোধ করেন - তাহলে আপনার ‘ক্রনিক সেলফাইটিস’ হয়েছে।
 
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের থিয়াগারাজার স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট মিলে একটি জরিপ করে এমনটি জানিয়েছেন। এখন কথা হলো ৬টির বেশি সেলফি তুললে যদি ‘সেলফাইটিস’ হয়েছে বলা হয় - তাহলে জুনায়েদ আহমেদকে কি বলা যাবে?
 
বাইশ বছর বয়স্ক জুনায়েদ আহমেদ থাকেন ইংল্যান্ডের এসেক্স কাউন্টিতে। প্রতিদিন প্রায় ২০০টি সেলফি তোলেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার বা অনুসারী আছে ৫০ হাজার। তিনি কখন সেলফি পোস্ট করবেন সেই সময়টাও ঠিক করেন খুব ভেবে চিন্তে - যাতে যত বেশি সম্ভব ‘লাইক’ পাওয়া যায়। যদি কোন সেলফি ৬০০-র কম লাইক পায় তাহলে সেটা তিনি ‘ডিলিট’ করেন বা মুছে দেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি সেলফিতে আসক্ত।

এরকম আরো দু চারজনের সাথে কথা বলেছেন বিবিসির সংবাদদাতা বেটা শাহ। এদের একজন ড্যানি বোম্যান। বয়স ২৩। তিনিও সেলফি তুলে সোশাল মিডিয়ায় দিতে দিতে আসক্তির শিকার হয়েছিলেন।
 
তিনি আয়নার সামনে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাটিয়েছেন, ক্রমাগত সেলফি তোলার জন্য। আর সব ছবিতেই তিনি তার চেহারার ত্রুটি খুঁজে পেতেন। তিনি একসময় আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। এর পর রিহ্যাবে যান। তিনি মনে করেন তার দেহ নিয়ে হীনমন্যতার সমস্যা তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা ছিল।
 
ব্রিটেনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক রয়াল সোসাইটি এখন সরকার ও সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা এমন ব্যবস্থা করে যাতে একটানা দু ঘণ্টা অনলাইনে কাটালেই তার ফোনে একটা বার্তা দিয়ে তাকে সতর্ক করা হয়। সোসাইটি বলছে, সামাজিক মাধ্যম কিভাবে তরুণদের ওপর প্রভাব ফেলছে, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা এবং দুশ্চিন্তা তৈরি করছে - তা নিয়ে গবেষণার পর তারা এ আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বিলুপ্তি প্রায় চড়ুই পাখি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : চড়ুই পাখি এখন বিলুপ্ত প্রায়। হঠাৎ হঠাৎ দেখা মেলে। তেমনই দেখা মিললো মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাশবাড়িয়া হাটের উপর বকুল ফুল গাছে এক ঝাঁক। সন্ধা নামলে এলাকার মানুষ চড়ুইয়ের গান শুনতে ভিড় করে।

চড়ুই পাখি গ্রাম বাংলার সুপরিচিত পাখি। অনেকে একে বাউই বলে ডাকে। এই পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার। খাবারের তালিকায় রয়েছে শস্যদানা, ফল, কচি ঘাসের ডগা, বীজ, ছোট কীটপতঙ্গ ও ফুলের কুঁড়ি। এদের ইংরেজি নাম হাউজ স্প্যারো বাংলায় গৃহস্খালি চড়ুই। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে। তবে গেছো চড়ুই একটি বিরল পাখি। সচরাচর এই পাখির ঝাঁক চোখে পড়ে না আগের মতো। দিন দিন এই পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাতি চড়ুই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। পাখির মাংস খুব সুস্বাদু বলে অনেক পাখিদের শিকারির শিকার হয়ে বাজারেও বিক্রি হতে হয়।

খোলা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে এই চড়ুই পাখির দল এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। আর পাতি চড়ুই আমাদের গ্রাম বাংলার ঘর-বাড়ি ও শহরের ইমারতের গর্তে অতি সহজে চোখে পড়ে। এরা সাধারণত শহরের ইমরাতের গর্তেই বসবাস করতে বেশি পছন্দ করে। গৃহে বসবাসকারী পাতি চড়ুই খুবই মানুষ ঘেঁষা। কিন্তু এরা অনেকটা চালাক এবং মানুষের কাছ থেকে একটু দূরে থাকতে চায়। কাছে গেলেই এরা গাছের মগ ডালে চলে যায়। বিশেষ করে ধারে কাছে যদি বরই গাছ থাকে। দলের একটি উড়াল দিলে বাকিগুলোও একে একে উড়ে যায়।

পথচারীদের ফেলে দেওয়া চীনা বাদামের দানা খেতে পিচঢালা সড়কেও নামে। ঘাসের মধ্যেও পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায়। জোড়া পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে গ্রামের মাঠের কাছে ঝোপ-জঙ্গলে নদীর ধারে গ্রামের ঘরের চালের ওপরে দল বেঁধে থাকে। সব সময় একই সুরে ডাকে। ঝোপালো গাছে অথবা ঘরের চালের ভিতর বাসা করে সাধারণত মার্চ থেকে আগস্ট এই ছয় মাসে ছয়টি ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটাতে সময় লাগে ১৩ থেকে ১৫ দিন। বাচ্চারা উড়তে শিখলে বড়দের সঙ্গে তারা মাঠে যায় খাবার খেতে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এ পাখি ইন্দোনেশিয়া, ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, ও মিয়ানমারে রয়েছে।

গোপালগঞ্জে উড়োজাহাজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আরমান
                                  

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রামের কিশোর আরমানুল ইসলাম। উড়োজাহাজ বানিয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। শুধু প্লেন দেখতে নয়, তাকে দেখতেও প্রতিদিন ভিড় করছেন আশ পাশের গ্রামের মানুষ। আরমানুল ইসলাম জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের মো: হাফিজুর রহমান সমাদ্দারের একমাত্র ছেলে। তিনি একই উপজেলার রামদিয়া এস কে কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

২০০১ সালের ১ আগস্ট রাজবাড়ী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আরমান। বাবার চাকরির সুবাদে ২০১৭ সালের বাগেরহাট জেলার বেতাগা ইউনাইটেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। তার বাবা বর্তমানে বাগেরহাটের মংলায় ব্র্যাক এনজিও’তে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও আরমানুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে জানালেন তার কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরমানের এ আবিষ্কার দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল প্লেন বানানোর। আর তাই তখন থেকেই সোলা দিয়ে ছোট ছোট প্লেন বানিয়ে উড়ানোর চেষ্টা করতেন আরমান। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন একটি প্লেন বানানোর মনস্থির করেন আরমান। কিন্তু অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে পেরে উঠেনি। এসএসসি পাস করার পর গ্রামের বাড়িতে চলে আসতে হয় তাকে। আর তাই বাড়ির পাশের রামদিয়া এস কে কলেজে ভর্তি হওয়া। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে পরিবার থেকে তাকে প্লেন বানানোর জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা দেয়। আর এ টাকার একটি বড় অংশ দেন তার দাদি হাফিজা বেগম। বাকি টাকা দেন তার বাবা এবং তার সহযোগী সিতারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাসিয়া আকতারের বাবা দুবাই প্রবাসী এনামুল হক।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয় আরমানুলের প্লেন বানানোর কাজ। সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টার পর অবশেষে গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলক আকাশে উড়ে তার প্লেন। ওই দিনই বাড়ির পাশের মাঠে উড়ানো হয় প্লেনটি। উড্ডয়নের পর প্রায় ১৫ মিনিট আকাশে উড়তে সক্ষম হয় তার প্লেনটি। এরপর একই মাঠে অবতরণ করা হয় এটি। বিপুল সংখ্যক মানুষ তার প্লেনটি আকাশে উড়া দেখতে ভিড় করেন। হতবাক হয়েছেন তারা এ কিশোরের আবিষ্কার করা প্লেন আকাশে উড়তে দেখে।
ক্ষুদে উদ্ভাবক আরমানুল ইসলাম দাবি করলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চীন ও আমেরিকার মতো উন্নত প্রযুক্তির মনুষ্যবিহীন প্লেন ও ড্রোন বানাতে পারবেন তিনি, যা গোয়েন্দা কাজে, সেনাবাহিনীর কাজের ক্ষেত্রে এবং  ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছা ভবিষ্যতে পাইলট বা ড্রোন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তবে সরকারের সহযোগিতা আমার খুব প্রয়োজন। কারণ, আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা নাই যে, আমাকে এ সব কাজে সহযোগিতা করবে।
আরমানুল ইসলাম আরো জানালেন, তার আবিষ্কৃত প্লেনটির ওজন ৮’শ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৩৬ ইঞ্চি ও উইং ৫০ ইঞ্চি। প্লেনটিতে ব্র্যাশ লেস ডিসি মটর ব্যবহার করা হয়েছে। মটরের স্পিড কন্ট্রোল করার জন্য ইলেকট্রিক স্পিড কন্ট্রোলের সঙ্গে আরো ৪টি সারভো মটর লাগানো হয়েছে। ইলেকট্রিক স্পিড কন্ট্রোল মেইন মটরকে কন্ট্রোল করে। সারভো মটর এলোরন অ্যালিভেটর এবং রাডার কন্ট্রোল করে। প্লেনটিতে সিক্স চ্যানেলের একটি প্রোগ্রামেবল রিমোট সংযোজন করা হয়েছে। প্লেনটি দেড় কিলোমিটার রেঞ্জে চলতে পারে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করলে রেঞ্জ আরো বাড়ানো সম্ভব বলেও দাবি আরমানের।

তার সহযোগী জাসিয়া আকতার বলেন, আরমান ভাইয়ের খুব শখ ছিল একটা প্লেন বানিয়ে আকাশে উড়ানোর। বিষয় গুলো সে আমার সঙ্গে শেয়ার করত। এরপর আমিও তার এ কাজে সহযোগিতা করার ইচ্ছা পোষণ করি। তারপর তার সঙ্গে পে¬ন বানাতে কাজ করি। তিনি আরো জানান, প্লেন আকাশে উড়ার পর তার খুব ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে সে দেশের জন্য কাজ করতে চায় বলেও জানায় জাসিয়া।
আরমানের মা রেহানা পারভীন বলেন, ছোটবেলা থেকে ছেলের সৃজনশীল কাজের প্রতি অনেক ঝোঁক। স্কুল জীবনে বিভিন্ন সময় বিজ্ঞান মেলায় সে অনেক কিছু উদ্ভাবন করেছে। তাতে পুরস্কারও পেয়েছে। আর ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল একটি পে¬ন বানানোর। কিন্তু তার জন্য যে টাকার প্রয়োজন, তা দেওয়ার সামর্থ আমাদের ছিল না। পরে ওর দাদু, বাবা ও জাসিয়ার বাবার সহযোগিতায় টাকা জোগাড় হয়। তিনি আরো বলেন, গত নভেম্বর মাসে ওই টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে প্লেন বানানোর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা হয়। বাড়িতে এসে দুই সপ্তাহ লেগেছে প্লেনটি বানাতে। সত্যিই আমি গর্বিত।

রামদিয়া এস কে কলেজের শিক্ষার্থী শেখ হাসান ও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আরমান অনেক মেধাবী ছেলে। সে অনেক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে প্লেন বানিয়েছে। এই কলেজের ছাত্র হিসেবে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।
কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান নিত্যানন্দ রায় বলেন, আমরা যখন জানতে পারলাম ছেলেটি একটি প্লেন বানাতে চায়। তখন তাকে প্লেন বানানোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে কলেজের পক্ষে যে সব সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল তা করেছি। পরে শুনতে পারলাম ছেলেটি একটি প্লেন বানিয়েছে এবং আকাশে উড়িয়েছে। এতে আমরা গর্বিত।

কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা অভিভূত। এ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আরমানুল ইসলাম প্লেন বনিয়েছে। আর সেই প্লেন একই কলেজ মাঠে উড়িয়েছে। সত্যিই অনেক ভাল লেগেছে। আমরা কলেজ থেকে যতটুকু সম্ভব তার পড়াশোনার পাশাপাশি তার বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে সহায়তার চেষ্টা করব।

নীলফামারীতে জমিদারী আমলের ইতিহাস ঐতিহ্য’র বিষ্ণুমন্দির
                                  

হামিদা আক্তার, নীলফামারী থেকে: ইতিহাস ঐতিহ্য’র জমিদার শাসন কিংবা প্রথা এখন শুধুই স্মৃতি আর ইতিহাস সমৃদ্ধ। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে যেন এক কল্পনা। কিন্তু এই তো সে দিন মাত্র এক দেড়’শ বছর পূর্বেই আমার ঠাঁকুর দা ছিলেন এই অঞ্চলের জমিদার। তৎকালীণ রঙ্গপুর (রংপুর) মহুকুমার রাজা রাম মোহন পুরো রংপুরে জমিদারী শাসন চালাতেন। আমার বাবাও দেখেছেন সে জমিদারী। ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ইতিহাস খ্যাত ঐতিহাসিক একটি মন্দিরের খোঁজ খবর নিতে গিয়েই একান্তে আলাপ চারিতায় উল্লেখিত কথাগুলি বলছিলেন নীলফামারীর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের তরণীবাড়ী বাবুপাড়া গ্রামের জমিদার স্বর্গীয় ধর্মনারায়ণ রায় বসুনীয়ার নাতী স্বর্গীয় জোগেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র ৮২ বছর বয়সী ধীরেন্দ্রনাথ রায়। দীর্ঘক্ষন একান্ত আলাপে ধর্মনারায়ণ রায় তৎকালীণ সময়ের কিছু কথা তিনি এভাবেই বলেন-আমার ঠাঁকুরদা ধর্মনারায়ণ ছিলেন এ অঞ্চলের জমিদার। তিনি প্রায় ২ হাজার একর জমির জমিদারী দেখতেন। আর আমার ঠাঁকুরদাকে দেখাশুনার ভার ছিলো রাজা রামহন রায়ের একান্ত ও আস্থাভাজন হিসাবরক্ষক স্বর্গীয় বাবু উপেন্দ্রনাথের উপড়। তিনি রংপুর থেকেই ঠাঁকুরদার এ জমিদারী দেখাশুনা করতেন।

১২০৪ বঙ্গাব্দে (অনু:) প্রায় ২’শ ২০ বছর আগে ঠাঁকুরদার জমিদারী আমলেই নির্মিত হয় নির্মাণ শৈলীর এই কৃষ্ণ মন্দিরটি। তিনিই নিার্মণ করেন এই মন্দির। তিনি জানান, তৎকালীণ সময়ে এই বিষ্ণু মন্দিরটি পরিচালনায় আমার ঠাঁকুর দা ঠাঁকুরের নামে উৎসর্গ করেন প্রায় এক’শ একর জমি। কালের পরিবর্তনে জমিগুলি এখন আর মন্দিরের নামে নেই। ধীরে ধীরে দেবত্ত্বরের নামে উৎসর্গীয় এই জমিগুলি স্থানীয়দের কাছে বিক্রি ও বেদখল হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সে সময়ে মন্দিরের ভক্তদের জন্য মন্দিরের পার্শ্বেই খনন করা হয় প্রায় ৫’শ থেকে ৬’শ ফুট গভীর তিনটি ইন্দ্রিরা (কুয়া)। এই ইন্দ্রিগুলি থেকেই জ্বল তুলে ভক্তবৃন্দ জ্বলপান করতেন। যেগুলি এখনও কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে এখানেই। বর্তমানেও ইন্দ্রিগুলির গভীরতা রয়েছে প্রায় ১’শ থেকে ২’শ ফুট । মন্দিরটি অনেক পুরনো হলেও এখনও কোন সংস্কার ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ঐতিহ্য’র শতশত বছরের স্বাক্ষী হয়ে। মন্দিরটির প্রবেশ দ্বারে রাখা হয়েছে দুইটি সিড়ি। মন্দিরের চারি দিকে নির্মাণ শৈলীতে রয়েছে গনেশ ঠাঁকুরের মূর্তি। বেশকিছু নির্মাণ শৈলী রয়েছে মন্দিরের গাঁয়ে।  অনেক পুরনো হওয়ায় ধীরে ধীরে ভেঙ্গে পড়ছে সেগুলি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে বলেন, মন্দিরটি সরকারের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের আওতায় নেওয়া হলে হয়ত মন্দিরটি ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে আরো হাজারও বছর ধরে। সেই সাথে মন্দিরটি সংস্কারের দাবীও করেন তিনি।  


ফ্রান্সে চকলেটের পোশাকে ফ্যাশন শো!
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: সম্প্রতি ফ্রান্সের প্যারিসে হয়ে গেল একটি ফ্যাশন শো। এই শহরে ফ্যাশন শো নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু সর্বশেষ এই ফ্যাশন শো’টির বিশেষত্ব ছিল, এর পোশাকগুলো তৈরী করা হয়েছিল চকলেট ব্যবহার করে।
 
অদ্ভুত এই ফ্যাশন শো দেখতে অগণিত মানুষ ভিড় করে। তারা পোশাক থেকে চকলেট নিয়ে স্বাদ গ্রহণের সুযোগ না পেলেও চকলেটের ঘ্রাণে তাদের মন ভরেছে। এই ফ্যাশন শো’র মডেলরা চকলেট ড্রেস পরে ক্যাটওয়াক করেন। ফ্যান্সের নামীদামি ফ্যাশন ডিজাইনারদেরও পোশাক পরে মডেলরা এই শোতে অংশ নেয়।

 


 
এমনকি দেশটির বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটি মডেলদেরও চকোলেট ব্যবহার করে তৈরী এসব পোশাক পরে ক্যাটওয়াকে অংশ নিতে দেখা যায়। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই শোয়ের আয়োজন করা হয়। খবর এনডিটিভি

অন্যরকম মানুষ ইসহাক শরিফ
                                  

মো:আরিফ হোসেন: বরিশালে টানা ৩৫ বছর কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। অবসর নেওয়ার পর এখন তিনি পরিচিত হকার হিসেবে! এই পরিচিতিতে আনন্দ পান তিনি। এক বছর ধরে অবসরপ্রাপ্ত এই কলেজশিক্ষক প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংবাদপত্র বিলি করেন। এ নিয়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে ছিল তীব্র আপত্তি। বিদ্রুপও করেছেন অনেকে। কিন্তু এই কলেজশিক্ষক সবকিছু তুচ্ছ করে কাজটি করেই চলেছেন। প্রতিদিন আড়াই শর বেশি পত্রিকা বিক্রি করেন তিনি। ইসাহাক শরিফ নামের এই অন্য রকম মানুষটির বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়। এত কাজ থাকতে কেন এমন কাজ বেছে নিলেন? প্রশ্ন করতেই মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘কোনো কাজেই অগৌরব নেই, কাজের মধ্যে যদি আনন্দ পাওয়া যায়, সততা থাকে, সেটাই হলো প্রকৃত কাজ।’ আর্থিক অসচ্ছলতা নেই, তবু কেন হকারি করছেন? বললেন, ‘দেখুন, অর্থের জন্য এটা করি তা নয়। এখানে বড় ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ হিসেবে আমার যে দায়িত্ব তা কতটুক করতে পারছি আমি। পত্রিকা বিলি করে যে টাকা আয় হয় তার বেশির ভাগই গ্রাহকদের বকেয়া বাবদ কেটে দিই। তবু তো কিছু মানুষ সংবাদপত্র পড়ল। সংবাদপত্র হলো সমাজের আয়না। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রতিদিনকার হালনাগাদ তথ্য মানুষের জানা উচিত। এতে মানসিক সুস্থতা আসে, সামাজিক স্থিরতা আসে। জ্ঞান শুধু বইয়ের মধ্যে নয়, জ্ঞান ছড়িয়ে আছে পৃথিবীজুড়ে। এ জন্যই দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিই।’ ইসাহাক শরিফের মতে, ‘পাঠে মনোযোগী হলে নবীনেরা বিভ্রান্ত হবে না, মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। পত্রিকায় ভালো-মন্দ সব খবর আছে। এতে ভালো-মন্দের তফাতটা বুঝতে পারে মানুষ। আমাদের সমাজ ও চিন্তাকে সুস্থির, সাবলীল ও ইতিবাচক করতে হলে জ্ঞান ও তথ্যের বিকল্প নেই।’ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নে ১৯৪৯ সালে জন্ম ইসাহাক শরিফের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর করার পর বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। কলেজের পাশেই তাঁর মায়ের নামে রয়েছে জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ইসাহাক শরিফ দুই ছেলেমেয়ের বাবা। দুজনই উচ্চশিক্ষিত, চাকরিরত। স্ত্রী হাফিজা বেগম আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি করছেন। কথা প্রসঙ্গে বললেন, অবসর গ্রহণের পর বাকি জীবনে কিছু একটা করা দরকার। তা ছাড়া প্রত্যেক মানুষেরই একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। ঠিক করলেন প্রত্যন্ত এলাকায় পত্রিকা বিলির কাজ করবেন তিনি। এতে যেমন নবীন-প্রবীণ সব শ্রেণির মানুষের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে, তেমনি ঘাম ঝরিয়ে নিজেকে সুস্থ রাখা যাবে। কখনো যানবাহনে করে, কখনো হেঁটে তিনি প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পত্রিকা হাতে ছুটে বেড়ান। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি এই কাজ করেন। ইসাহাক শরিফের স্ত্রী হাফিজা বেগম এখন মানিয়ে নিয়েছেন স্বামীর এ কাজ। তিনি বলেন, ‘অবসর সময়ে তিনি (ইসাহাক শরিফ) এখন মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এটা করছেন। অবসর সময়ে তিনি এটা করে শান্তি পাচ্ছেন—এটাই আনন্দের কথা।’ দেহেরগতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, বছরখানেক আগে স্যারের বগলে পত্রিকার বান্ডিল দেখে বিস্মিত হই। তাঁকে এ কাজ করতে বারণ করি। কিন্তু তিনি শোনেননি। এখন বুঝি আমরাই ভুলের মধ্যে ছিলাম। এখন স্যারকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। এমন সাদামনের মানুষেরা আসলেই দেশের সম্পদ।’ ইসাহাক শরিফ বলেন, ‘একটি আকাক্ষক্ষা আছে আমার। সেটা হলো, একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার করা। একটি যানবাহনে টেবিল-চেয়ার, বই-সংবাদপত্র থাকবে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এই পাঠাগার জ্ঞান বিলাবে। এ জন্য আমার সচ্ছল আত্মীয়স্বজনের কাছে সহায়তা চাইব। তাঁরা সহায়তা না দিলে পথে নামব। এটাই এখন আমার বাকি জীবনের স্বপ্ন।


গ্রামীণ ইউনিক্লো এর ঈদ কালেকশন
                                  

উৎসব উদযাপনে নতুন পোশাক সবসময় আনন্দের মাত্রাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎসবের আনন্দকে নতুন মাত্রা দিয়ে, উৎসবকে আরও আলোকিত করতে গ্রামীণ ইউনিক্লো নিয়ে এসেছে সবার জন্য ঈদ কালেকশন। সব মানুষের চাহিদাকে বিবেচনা করে গ্রামীণ ইউনিক্লো নিয়ে এসেছে শার্ট, টি- শাট, পোলো- শাট, জিনস-প্যান্ট, চিনো- প্যান্টস ও মেয়েদের অনেক ডিজাইনের কামিজ ও ক্যাজুয়াল র্শার্ট। এছাড়াও ছেলেদের বক্সার-ব্রিফ, ট্যাংক-টপ ও মেয়েদের পালাজ্জো, লেগিংস, ওমেন পেন্সিলপ্যান্ট। আরামদায়ক ও ট্রেন্ডি এসব পোশাক মিলবে সাশ্রয়ী মূল্যে।

ছেলেদের শার্ট পাওয়া যাবে ৯৯০ টাকা থেকে ১৪৯০ টাকার মধ্যে, মেয়েদের কামিজ পাওয়া যাবে ১৬৯০ টাকা থেকে ১৯৯০ টাকার মধ্যে, মেয়েদের ক্যাজুয়াল শার্ট কালেকশন পাওয়া যাবে ১১৯০টাকা থেকে ১২৯০টাকায় । ছেলেদের বিভিন্ন জিনস পাবেন ১৫৯০ টাকায়। এছাড়াও কিছু পোশাক মিলবে হ্রাসকৃত মূল্যে।


   Page 1 of 8
     ফিচার
সিলেটি খাবার ফরাসের বিচি
.............................................................................................
ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার উপায়
.............................................................................................
‘মামা হালিমের’ মামার খোঁজে
.............................................................................................
এসি ছাড়াই এসির হাওয়া!
.............................................................................................
তরমুজ খান-সতেজ থাকুন
.............................................................................................
বাঁচতে হলে জেনে নিন, বজ্রপাতের সময় ভুলেও যা করবেন না
.............................................................................................
দেশেই চাষ হচ্ছে বিদেশী ফসল ‘চিয়া’
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন আলুর চিপস
.............................................................................................
কাপাসিয়া ধাঁধার চর সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি
.............................................................................................
দিনে ৬টির বেশি সেলফি, ‘সেলফাইটিসের’ রোগী
.............................................................................................
বিলুপ্তি প্রায় চড়ুই পাখি
.............................................................................................
গোপালগঞ্জে উড়োজাহাজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আরমান
.............................................................................................
নীলফামারীতে জমিদারী আমলের ইতিহাস ঐতিহ্য’র বিষ্ণুমন্দির
.............................................................................................
ফ্রান্সে চকলেটের পোশাকে ফ্যাশন শো!
.............................................................................................
অন্যরকম মানুষ ইসহাক শরিফ
.............................................................................................
গ্রামীণ ইউনিক্লো এর ঈদ কালেকশন
.............................................................................................
ঈদ কালেকশন
.............................................................................................
সিগারেটের পোড়া টুকরো দিয়ে তৈরি হবে রাস্তা!
.............................................................................................
শরীরে সুগন্ধি দীর্ঘ সময় ধরে রাখবেন যেভাবে
.............................................................................................
ঘরেই তৈরি করুন এগ নুডলস!
.............................................................................................
প্লাস্টিকের চাল বলে আসলে কিছু নেই
.............................................................................................
ঈদ রান্না: ফ্রুট প্যানাকোটা
.............................................................................................
চট্রগ্রাম-সিলেটে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা
.............................................................................................
নাশতায় মাসালা ম্যাকারনি
.............................................................................................
ইফতারে লাহোরি বিফ কাবাব
.............................................................................................
সেহরিতে মাছের রকমারি
.............................................................................................
নকল প্লাস্টিক চাল চিনবেন যেভাবে
.............................................................................................
রাতে জন্ম নেয়া শিশুরা ব্যতিক্রম হয়
.............................................................................................
উড়িষ্যায় প্রেম দিবসে যুগল ধরা পড়লেই বিয়ের হুমকি
.............................................................................................
ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকার জন্য উপহার
.............................................................................................
প্রয়োজনে ওয়াশিং মেশিন
.............................................................................................
অ্যাজমা নিরাময়ে এলাচ!
.............................................................................................
লেবুর খোসার ব্যবহার
.............................................................................................
কিডনি ভালো রাখবেন যেভাবে
.............................................................................................
চুল গজাবে রসুনের রসে
.............................................................................................
শশা খাওয়ার আগে ঘষে নিতে হয় কেন?
.............................................................................................
M দিয়ে শুরু নামের মানুষরা কেমন হয়?
.............................................................................................
তরমুজ ফল না সবজি
.............................................................................................
বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন!
.............................................................................................
রান্নাঘরে যে কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে
.............................................................................................
ঘরে বসে তৈরি করুন ইটালিয়ান পাস্তা
.............................................................................................
ইলিশ মাছের সুস্বাদু কাবাব!
.............................................................................................
সম্পূর্ণ নতুন একটি “চাইনিজ” খাবারের রেসিপি!
.............................................................................................
সরিষার উপকারিতা...
.............................................................................................
কিভাবে তৈরি করবেন আলুবোখারার চাটনি
.............................................................................................
এই কাজগুলো করুন বয়স ২৫ হবার আগেই
.............................................................................................
সুখে থাকার রহস্য!
.............................................................................................
যে খাবারগুলো এনার্জি ড্রিংকের মতো কাজ করে
.............................................................................................
কোঠরে ঢুকে যাওয়া চোখের যত্ন
.............................................................................................
বাসায় পোলাও জর্দা রান্না করবেন যেভাবে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft