বুধবার, ১৫ জুলাই 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কুরবানি নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের ভাবনা

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে পবিত্র ঈদুল আজহা সন্নিকটে। করোনায় পশু জবেহ না করে কুরবানির টাকা দান করা যাবে কি? করোনার এ সংকটকালীন সময়ে কুরবানি নিয়ে মতামত জানিয়েছে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ। দেওবন্দের অনলাইন ফতোয়া সাইট এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মী উৎসব ঈদ। ঈদুল ফিতরে মুমিন মুসলমান ফিতরা আদায় করেন। আর ঈদুল আজহায় সামর্থবান কিংবা নিসাব পরিমান সম্পদের মালিকরা পশু কুরবানি করে থাকেন। আর তা সম্পদশালীদের জন্য ওয়াজিব বা আবশ্যক কাজ।

চাঁদ দেখা সপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই কিংবা ১ আগস্ট অনুষ্ঠি হবে এ ঈদ। আর এ দিন মুসলিম উম্মাহ পশু জবেহের মাধ্যমেই পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কুরবানি।

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে এ সময়ে কুরবানি না করে এ অর্থ গরিব-অসহায়দের মাঝে দান করার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সম্পর্কে দেশ-বিদেশের অনেক ইসলামিক স্কলার তাদের মতামত সুস্পষ্ট করেছেন।

দারুল উলুম দেওবন্দও তাদের অনলাইন ফতোয়া সাইটে মতামত তুলে ধরেছে। কুরবানির পশু জবাই না করে সে অর্থ অন্যদের মাঝে বিতরণ সম্পর্কে তারা জানিয়েছে যে,-
`পশু কুরবানির বিকল্প নেই৷ কুরবানি না করে তার অর্থ দান করা যাবে না।`

তবে কেউ যদি কুরবানির জন্য নির্ধারিত দিনে কোনো কারণে কুরবানি আদায় করতে সক্ষম না হয় তবে কুরবানির সমপরিমাণ অর্থ গরিব-অসহায়দের মাঝে বিতরণ করতে হবে বলেও জানিয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দ।

তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কুরবানি বিধান পালন করতে হবে। কুরবানি পরবর্তী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছে দারুল উলুম দেওবন্দ।

ঈদের নামাজ পড়া সম্পর্কে দারুল উলুম দেওবন্দ আরও ঘোষণা করে যে, ঈদুল আজহার নামাজও মুসলিমরা বাড়িতেই আদায় করবে। যেভাবে ঈদুল ফিতরের নামাজ ভারতের মুসলিমরা বাড়িতে আদায় করেছিল। দারুল উলুম দেওবন্দের শরিয়াহ কাউন্সিল সবার প্রতি তা পালনে উদ্বাত্ত আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পশু কুরবানির মাধ্যমে এ ইবাদত চালু করেছিলেন৷ বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়েও তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম কুরবানি আদায়ে কোনো মুমিন মুসলমানেরই বিরত থাকা ঠিক নয়।

কেননা কুরবানি নাম ইবাদতের মাধ্যমে মুমিন মুসলমান মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে থাকে। এ ইবাদতের মাধ্যমেই মুমিন মুসলমানের সঙ্গে মহান আল্লাহর নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়। কেননা কুরবানির পশুর রক্ত, গোশ্ত বা হাড় কোনো কিছুই মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং মানুষের কুরবানির করার নিয়ত বা মনের সংকল্পই মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছে। তাই এ ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা সহজে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানি আদায় করে তার নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। গরিবদের মাঝে অর্থ সাহায্যের নামে কুরবানি থেকে বিরত থাকা থেকে হেফাজত করুন। কুরবানি করে গোশ্ত ও চামড়ার অর্থ বিতরণ করে গরিব-অসহায়দের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সূত্র: আমাদের সময়

কুরবানি নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের ভাবনা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে পবিত্র ঈদুল আজহা সন্নিকটে। করোনায় পশু জবেহ না করে কুরবানির টাকা দান করা যাবে কি? করোনার এ সংকটকালীন সময়ে কুরবানি নিয়ে মতামত জানিয়েছে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ। দেওবন্দের অনলাইন ফতোয়া সাইট এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মী উৎসব ঈদ। ঈদুল ফিতরে মুমিন মুসলমান ফিতরা আদায় করেন। আর ঈদুল আজহায় সামর্থবান কিংবা নিসাব পরিমান সম্পদের মালিকরা পশু কুরবানি করে থাকেন। আর তা সম্পদশালীদের জন্য ওয়াজিব বা আবশ্যক কাজ।

চাঁদ দেখা সপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই কিংবা ১ আগস্ট অনুষ্ঠি হবে এ ঈদ। আর এ দিন মুসলিম উম্মাহ পশু জবেহের মাধ্যমেই পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কুরবানি।

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে এ সময়ে কুরবানি না করে এ অর্থ গরিব-অসহায়দের মাঝে দান করার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সম্পর্কে দেশ-বিদেশের অনেক ইসলামিক স্কলার তাদের মতামত সুস্পষ্ট করেছেন।

দারুল উলুম দেওবন্দও তাদের অনলাইন ফতোয়া সাইটে মতামত তুলে ধরেছে। কুরবানির পশু জবাই না করে সে অর্থ অন্যদের মাঝে বিতরণ সম্পর্কে তারা জানিয়েছে যে,-
`পশু কুরবানির বিকল্প নেই৷ কুরবানি না করে তার অর্থ দান করা যাবে না।`

তবে কেউ যদি কুরবানির জন্য নির্ধারিত দিনে কোনো কারণে কুরবানি আদায় করতে সক্ষম না হয় তবে কুরবানির সমপরিমাণ অর্থ গরিব-অসহায়দের মাঝে বিতরণ করতে হবে বলেও জানিয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দ।

তবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কুরবানি বিধান পালন করতে হবে। কুরবানি পরবর্তী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছে দারুল উলুম দেওবন্দ।

ঈদের নামাজ পড়া সম্পর্কে দারুল উলুম দেওবন্দ আরও ঘোষণা করে যে, ঈদুল আজহার নামাজও মুসলিমরা বাড়িতেই আদায় করবে। যেভাবে ঈদুল ফিতরের নামাজ ভারতের মুসলিমরা বাড়িতে আদায় করেছিল। দারুল উলুম দেওবন্দের শরিয়াহ কাউন্সিল সবার প্রতি তা পালনে উদ্বাত্ত আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পশু কুরবানির মাধ্যমে এ ইবাদত চালু করেছিলেন৷ বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়েও তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম কুরবানি আদায়ে কোনো মুমিন মুসলমানেরই বিরত থাকা ঠিক নয়।

কেননা কুরবানি নাম ইবাদতের মাধ্যমে মুমিন মুসলমান মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে থাকে। এ ইবাদতের মাধ্যমেই মুমিন মুসলমানের সঙ্গে মহান আল্লাহর নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়। কেননা কুরবানির পশুর রক্ত, গোশ্ত বা হাড় কোনো কিছুই মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং মানুষের কুরবানির করার নিয়ত বা মনের সংকল্পই মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছে। তাই এ ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা সহজে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানি আদায় করে তার নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। গরিবদের মাঝে অর্থ সাহায্যের নামে কুরবানি থেকে বিরত থাকা থেকে হেফাজত করুন। কুরবানি করে গোশ্ত ও চামড়ার অর্থ বিতরণ করে গরিব-অসহায়দের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সূত্র: আমাদের সময়

জার্মানিতে মুসলিমরা পাচ্ছেন ডিজিটাল ধর্মীয় সেবা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: জার্মানির মুসলিমদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, করোনাভাইরাসকেন্দ্রিক এই দুর্যোগের সময়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ডিজিটাল যোগাযোগ বেড়েছে, বিশেষ করে মসজিদে যারা নিয়মিত আসতেন তাদের মাঝে।

‘আমরা ডিজিটাল সেবা দিতে গিয়ে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি,’ বার্তা সংস্থা ইপিডিকে জানান কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী আয়মান মাজিয়েক। কাউন্সিল যেই ডিজিটাল সেবাটি দিচ্ছে তাতে ইমামদের বক্তব্য ও ধর্মোপদেশ ছাড়াও রয়েছে প্রশ্ন ও উত্তরের অংশ। শুধু তাই নয়, এই সেবা তরুণদের সাহায্য নিয়ে বয়স্করা একসঙ্গে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ধর্মীয় তথ্যসেবা গ্রহণ করছেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদগুলো এখন পুরোপুরি বন্ধ। মাজিয়েক জানিয়েছেন, কাউন্সিলের অধীনে জার্মানিতে ৩৫টি সংগঠনের প্রায় ৩০০টির মতো মসজিদ আছে। অন্যান্য উপাসনালয়ের মতো মসজিদেও নামাজ আদায় বা প্রার্থনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খ্রিস্টানরা যেমন খালি চার্চ থেকে শুধু পুরোহিতের মন্ত্র লাইভ প্রচার করেন এবং ঘর থেকে তা অন্যরা অনুসরণ করেন, তেমনটি মুসলিমদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় কারণে এখনও করা যাচ্ছে না।

‘এই বিকল্প আসলে সম্ভব নয়,’ বললেন মাজিয়েক। তিনি জানান, সংগঠনের ভেতর ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামিক স্কলাররা এ নিয়ে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন না। শুক্রবারের জুম্মার নামাজ শুধু মসজিদেই করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তবে সাধারণ মানুষ এই ডিজিটাল আলোচনা ও ধর্মোপদেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে বলে জানান মাজিয়েক।

মাজিয়েক মনে করেন, করোনাভাইরাস সৃষ্টিকর্তার কোনো সাজা নয়, তবে একটা পরীক্ষা। ‘সাজা নয়, এটি সৃষ্টিকর্তার একটি পরীক্ষা যে, এত বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কেমন করে সহানুভূতি, দানশীলতা, ধৈর্য্য ও ক্ষমার মানসিকতা ধরে রাখতে হয়’।

তিনি বলেন, মহামারির সময় কোনো এলাকার সুরক্ষা বা পৃথকীকরণ করার বিষয়ে নবীর নির্দেশনা আছে। সেগুলো বাস্তবসম্মত। ইসলামের বিশ্বাসও অন্ধভাবে ধংস হয়ে যাওয়া সমর্থন করে না। ডিডাব্লিউ

কুরআনের সেই পাণ্ডুলিপি বিক্রি হলো ৭৩ কোটি টাকায়
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: ১৫শ শতাব্দীতে মিং রাজবংশের সময়ে এক ধরণের চাইনিজ পেপারে সোনার প্রলেপে লেখা কুরআনের অনেক মূল্যবান সেই পাণ্ডুলিপিটি ৭০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ৭৩ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার।

বিশেষ ধরনের চাইনিজ পেপারে লিখিত সাড়ে ৫শ বছরের পুরনো কুরআনের দৃষ্টিনন্দন ‘তিমুরিদ কুরআন’-এর পাণ্ডুলিপিটি দেখতে যেমন অনিন্দ্য সুন্দর তেমনি আকর্ষণীয়। সুন্দর ও নিখুঁতভাবে লিখিত কুরআনের এ পাণ্ডুলিপি দেখলেই আবেগে অশ্রু ঝরবে, হৃদয়ে অন্য রকম এক শিহরণ জাগ্রত হবে।

গত ২৬ জুন শুক্রবার লন্ডনের ক্রিশ্চিয়াস নিলাম সেন্টারে `তিমুরিদ কুরআন`-এর এ পাণ্ডুলিপি বিক্রির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল । দেখতে চমৎকার লোভনীয় দৃষ্টিনন্দন এ পাণ্ডুলিপিটি সেখানে নিলামে ৭০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।

নিলাম বিশেষজ্ঞরা আগেই ধারণা করেছিলেন যে, এ পাণ্ডুলিপিটি ৮০০ ডলার থেকে বিট শুরু হবে। যা ১.২ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অবশেষে তা ৭০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৭.৩ মিলিয়ন) তথা ৭৩ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হলো।

বহু শতাব্দী ধরে কুরআনের এ পাণ্ডুলিপিটি দেখতে স্বচ্ছ ও নিখুঁত। এটির রঙ ও উজ্জ্বলতা এখন অক্ষুন্ন রয়েছে। অনন্য মাত্রায় লেখা আশ্চর্যজনক ক্যালিগ্রাফিতে সাজানো কুরআনের পুরো পাণ্ডুলিপি। বিশেষ ধরনের চীনা কাগজে লিখিত কুরআনের এই পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা এবং প্রচ্ছদে স্বর্ণের কাজ করা রয়েছে।

মহিমান্বিত রজনী: লাইলাতুল কদর
                                  

মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিক
হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী লাইলাতুল কদর। উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আল্লাহর প্রেমে সিক্ত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত অর্জনের এক বিশেষ সুযোগের রাত লাইলাতুল কদর। ‘শবে কদর’ শব্দটি ফারসি। শব অর্থ রাত বা রজনী আর কদর অর্থ মহিমান্বিত, সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদরের অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। যে রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। ইরশাদ হচ্ছে- ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ জিবরাইল (আ:)-সহ সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা পর্যন্ত (সুরা:কদর,আয়াত-১:৫)। প্রতিবছর রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা লাইলাতুল কদরের রাত। ইরশাদ হচ্ছে- ‘শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ (সুরা:কদর,আয়াত-৩)।
রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। শবে কদর কোরআন নাজিলের রাত। এ রাতেই প্রথম মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ:)-এর মাধ্যমে রাসুল (সা:)-এর প্রতি কোরআন অবতীর্ণ হয়। ইরশাদ হচ্ছে- ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারি ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে’ (সুরা:বাকারা,আয়াত-১৮৫)। শবে-কদর এমন এক রাত, যে রাতে সৃষ্টজীবের পূর্ণ এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক প্রাণির রিযিক, জীবিকাসহ সর্বপ্রকার কাজ-কর্ম নির্ধারণ করা হয় বলে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বা পরিমাপ নির্ধারণী রাত বলা হয়। রাসুল (সা:)-এরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর কাছ থেকে বড় শুভফল লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার পেছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। এ রাতে বান্দার প্রতি আল্লাহর নূর বর্ষিত হয়। ফেরেশতাগণ এবং জিবরাঈল (আ:) এ রাতে যমীনে অবতরণ করেন। এ রাতের কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয় না (ইবনে মাজাহ ও মিশকাত)।
মহিমান্বিত এ রজনীতে সমস্ত কুমন্ত্রনা, শয়তানি ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত, অকেজো শয়তানের সমস্ত কাজ। উবাই ইবনে কা’ব (রা:) বলেন, ‘শয়তান এ রাতে কাউকে ক্ষতি বা রুগ্ন করতে পারে না, অথবা কোন বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে না এবং কোন যাদুকর তার যাদু কার্যকর করতে পারে না’। রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন- ‘ফেরেশতারা এ রাতে রহমত, বরকত ও প্রশান্তি নিয়ে অবতরণ করেন’। আবার কারো কারো মতে, ‘আল্লাহ এ বছরে যে সকল বিষয়ে নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন ফেরেশতারা তা নিয়ে অবতরণ করেন’। রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানসহকারে ও সওয়াবের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে (রাত্রি জাগরত করবে), তার পেছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে’(বুখারি)। আবু বকর (রা:) ও আবব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:)-থেকে বর্ণিত এবং হাদিস থেকেও এই তথ্যসহ কোনো কোনো ইসলামী মনীষী নিজস্ব ইজতিহাদ, গবেষণা, বিশ্লেষণের মাধ্যামে রমজানের ২৭ তারিখের রাতে (২৬ রমজানের রাতে) শবে কদর হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। কিন্তু রাসুল (সা:) এটাকে সুনির্দিষ্ট করেননি; বরং কষ্ট করে খুঁজে নিতে বলেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরিচয় এভাবেই দিয়েছেন- ‘তাঁরা রাত্রি যাপন করে রবের উদ্দেশে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে’ (সুরা: ফুরকান,আয়াত- ৬৪)।
মহিমান্বিত এ রাতকে আল্লাহ রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লুকিয়ে রেখেছেন। বান্দাহ বিনিদ্র রজনী কাটাবে, সবর করবে এর মধ্যে খুঁজে পাবে সম্মানিত রাত, পাবে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত; ফেরেশতার অদৃশ্য মোলাকাতে সিক্ত হবে তার হৃদয়, আপন রবের ভালোবাসায় হবে সে উদ্বেলিত। এ যেন দীর্ঘ বিরহের পর আপনজনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। এ দীর্ঘ প্রতিক্ষার কষ্ট-বিরহের মাধ্যমে রব তার বান্দাহকে আরো আপন করে নেন। কাজেই শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে মশগুল হতে হবে। প্রতিটি রাতকেই লাইলাতুল কদর মনে করতে হবে। তাহলে লাইলাতুল কদর হাতছাড়া হবে না। আল্লাহর প্রিয় বান্দাহদের একটি গুণ। ‘তাদের পার্শ দেশ বিছানা থেকে পৃথক থাকে (তারা শয্যা গ্রহণ করে না ; ও ইবাদতে মশগুল থাকেন)। তারা দোযখের ভয়ে এবং রহমতের আশায় তাদের প্রভুকে ডাকতে থাকে এবং আমি যা দিয়েছি তা থেকে দান করে থাকে। কেউ জানে না। তাদের আমালের পুরস্কারস্বরূপ (আখিরাতে) তাদের জন্য কী জিনিস গোপনে রাখা হয়েছে’ (সুরা: সিজদা, আয়াত- ১৬:১৭)।
আবু হুরায়রা (রা:)-হতে বর্ণিত, রাসুল (সা:)-এরশাদ করেন- ‘স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রমজানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর’ (মুসলিম)। রাসুল (সা:) এরশাদ করেন- ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদরকে অনুসন্ধান করো। (মুসলিম)। রমজানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলোই ( অর্থাৎ ২০, ২২, ২৪, ২৬ ও ২৮ শে রোজার দিবাগত রাত ) হলো শেষ দশকের বেজোড় রাত। রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতের মধ্যে কোনো একদিন লাইলাতুল কদর। তবে হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায় আবহাওয়া বা ঝলমলে একটি প্রাশান্তির রাত হবে সেদিন। এই রাতটি হবে খুবই শান্ত ও শান্তিময়। এই রাত শেষে সকালটি হবে প্রশান্তির। এ রাতে প্রত্যেক বস্তুকে সেজদারত অবস্থায় দেখা যাবে। প্রতিটি স্থান হবে বেহেস্তী আলোয় আলোকিত। সবচেয়ে সুস্পষ্ট নিদর্শন হচ্ছে, এই রাতের ইবাদত অন্তরে তৃপ্তি জোগাবে। এটি ভাগ্য বা মহিমান্বিত রজনী যা দোয়া কবুলের রাত। এ রাতেই আল্লাহ আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন। আয়েশা (রা:) রাসুল (সা:)-কে জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসুল! (সা:)-আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুল (সা:) বলেন; তুমি বলবে, অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন’ (ইবনে মাযাহ)।
কদরের আমল : নফল নামাজ, তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামায। বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও দরুদ পড়া, তাওবা-ইস্তিগফার, দোয়া-কালাম, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, কবর জিয়ারত করা বিশেষ করে পিতা-মাতার জন্য ও সব মোমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। বান্দা তার প্রভুর কাছে চায়। আল্লাহ এতে ভীষণ খুশি হন। আল্লাহ তার বান্দার প্রতি এতটাই অনগ্রহশীল যে, তিনি তাঁর কাছে না চাইলে অসস্তুষ্ট হন। ‘যে আল্লাহর কাছে কিছু চায় না আল্লাহ তার ওপর রাগ করেন’ (তিরমিজি)। রাসুল (সা:)- এরশাদ করেন- ‘তোমাদের পরওয়ারদিগার লজ্জাশীল ও দাতা; লজ্জাবোধ করেন যখন তাঁর বান্দা তাঁর কাছে দু’হাত ওঠায়, তখন তা খালি ফিরিয়ে দিতে’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, বায়হাকি)। হে তামাম সৃষ্টির ¯্রষ্ঠা তোমার দরবারে গোজারিশ আমাদের এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: প্রাবন্ধিক

বিষণ্ণ পৃথিবীতে মুক্তির মাস রমজান
                                  

মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিক: রমজান শব্দটি আরবি রমজ ধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ পুড়িয়ে ফেলা, দহন করা, জ্বালিয়ে দেয়া। সারা বছর আমাদের শরীর এবং মনের ওপর যে আবর্জনার আস্তর জমে তা পুড়িয়ে ফেলে সুস্থতা আর শুদ্ধতার সন্ধান দেয় রমজান। রোজা হচ্ছে দ্বিমুখী- দেহশুদ্ধি এবং অন্তরশুদ্ধি। না খেয়ে থাকাটা রোজার একটা অংশ। রোজার আরেকটি অংশ হলো- গীবত, রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা, ঈর্ষা অর্থাৎ যে অন্যায় মানুষের মনকে কলুষিত করে তা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখা। রোজার দ্বারা মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহন সহ সংযমী করে।

বিশ্বে ইতিহাসে এবারের রমজান মুসলিমদের কাছে ভিন্ন রকম এক চিত্র নিয়ে হাজির। যখন সমস্ত পৃথিবী করোনা ভাইরাস নামের মহামারীতে আক্রান্ত। এ মহামারী ইতিমধ্যে প্রথম মহাযুদ্ধের চেয়েও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আরও কত জীবন কেড়ে নেবে সে আশঙ্কায় ভুগছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারীর দরুন সবাই এখন ঘরবন্দি। দেশে দেশে চলছে লকডাউন ও কারফিউ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে মাসখানেক ধরে। পৃথিবীর ব্যস্ততম স্থানগুলোতে বিরাজ করছে পিনপুন নীরবতা। নেই মানুষের কোলাহল ও পদচারণ। এমন বিমর্ষ ও অচেনা বিষণ্ন পৃথিবীতে বছর ঘুরে ফিরে এলো রমজান। এই দুঃসময়ের মধ্যেও কোটি কোটি মুসলমান রোজা পালন করছেন মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি এবং মর্যাদাপূর্ণ অবশ্যপালনীয় ইবাদত রোজা। রোজা যে মানবদেহের জন্য কল্যাণকর তা আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করে। রমজান একটি পবিত্র মাস। রমজানের রোজা মুসলমানদের উপর ফরজ। ইরশাদ হচ্ছে- ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল’ (সূরা বাকারার, আয়াত ১৮৩)

রমজানের আগমনে খুলে দেয়া হয়েছে জান্নাতের সব দুয়ার। বন্ধ হয়ে গেছে জাহান্নামের সবক’টা দরজা। শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে শেকলে। এ মাসে একটি রজনী রয়েছে- যা অন্য হাজার মাসের থেকেও উত্তম। যে এ মাসের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে যেন (জীবনের) সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’ রাসুল (সা.) তাঁর সাহাবিদের রমজানের সুসংবাদ শোনাতেন। রমজানের মর্যাদার কথা বলতেন। ইবাদত ও সাধনায় মনোযোগী হওয়ার উপদেশ দিতেন। বেশি বেশি নেকি অর্জনে উৎসাহ জোগাতেন। আমাদের কর্তব্য হল, ইবাদতের বসন্তকাল রমজান মাস কে যথার্থ মূল্যায়ন করা। তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া। রমজান মাস দুহাত ভরে পাওয়ার মাস কারণ, আমরা যদি এর উপযুক্ত মূল্য দিতে না পারি, জান্নাত লাভের এমন সুযোগকেও হাতছাড়া করে ফেলি, রাসুল (স) বলেছেন, যে জীবনে রমজান মাস পেল কিন্তু তার ভুল-ত্রুটি অন্যায় পাপাচার থেকে বেরিয়ে আসতে পারল না, নিশ্চয়ই এ জগতে তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কে হতে পারে! রোজাকে আল্লাহ নিজের দিকে সম্বোধিত করে বলেছেন, ‘মানুষের সব আমল তাঁর জন্য; তবে রোজা ছাড়া। কেননা তা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়ে বেশি সুগন্ধিযুক্ত’ (বুখারি)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রোজা ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ তা ত্রুটিযুক্ত করা হয়’ (সুনানে নাসায়ি)। সে জন্য রোজার মাধ্যমে মানুষ আত্মসংযমের শিক্ষা পায়। এ সংযম মানুষকে শুদ্ধচারী হওয়ার পথ দেখায়। এছাড়া তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা এবং এটা রোজার অন্তর্নিহিত প্রধান তাৎপর্য। কেননা ঘরে খাদ্য থাকতেও রোজা পালনের সময় সেই খাদ্য গ্রহণ থেকে মুমিনরা দূরে থাকে। আল্লাহর প্রতি ভয় তাদের দীর্ঘ সময় খাদ্য ও পানীয় থেকে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।

রমজান মাসে মহান প্রভু তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে প্রত্যেকটি ভালো কাজের সওয়াব বা বরকত ৭০ গুণ বা তার বেশি পরিমাণ দিয়ে থাকেন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ মাস খাদ্য সংযমের মাস, পরিমিতিবোধের মাস, আত্ম উপলব্ধির মাস। কিন্তু বেনিয়াদী পুঁজিবাদীদের দিয়ে প্রভাবিত হয়ে আমরা অনেকে ভোগের উৎসবে মেতে উঠি। সংযমী হয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধির চেয়ে খাবারে, কেনাকাটায় বা আচরণে অসংযম, আসক্তি বা অস্থিরতা এখন দৃশ্যমান। আমরা যেন এ অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত না হই। আমরা যত সংকটেই পড়ি না কেন, মহামারী করোনার বিপদ-আপদ পেরিয়ে শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আমরা যেন সিয়াম সাধনা থেকে বঞ্চিত না হই।
আমরা ইবাদতের মাধ্যমে এ মাসের দিন-রাতগুলো কাটানোর প্রস্তুতি নেব। দ্বিগুণ উৎসাহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমল করব। জীবনকে সুন্দর অর্থবহ পরিতৃপ্তিময় ও বিকশিত করার জন্যে রোজার বিকল্প নাই। এ মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতের, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন দোজখের আগুন থেকে পরিত্রাণ লাভের। এ মাসে যে ব্যক্তি তার অধীনদের কাজ হালকা করে দেয়, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন এবং দোজখ থেকে নাজাত দান করেন। আমরা করোনার এই দুঃসময়ে গবির-দুঃখীরা যাতে সাহরি ও ইফতারের তৌফিক লাভ করে তা নিশ্চিত করতে তাদের পাশে দাঁড়াব। আল্লাহর কাছে বিশ্ববাসীকে করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে মাফ করার প্রার্থনা জানাব। আল্লাহ রমজানে আমাদের প্রতি তাঁর রহমতের কুদরতী হাত বাড়াবেন- আমরা এমন আশা করতে চাই।

লেখক: প্রাবন্ধিক

১৪০০ বছর পর এবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদে আকসা মুসল্লি শূন্য
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদে আকসা প্রতিষ্ঠার পর অর্থাৎ ১৪০০ বছর পর এবার পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লি শূন্য। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জামাতে নামাজ পড়েন এবং ২০ রমজান থেকে সেখানে মুসল্লির সংখ্যা লাখও ছাড়িয়ে যায়। তবে এ বছর সব হিসাব বদলে দিল মহামারি করোনাভাইরাস।

তবে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পাঁচ ওয়াক্তেই আল আকসায় যথারীতি আজান দেওয়া হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিস্তিনে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে রোজা। তবে করোনা মহামারির কারণে দেশটিতে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধ স্কুল-কলেজ, রেস্টুরেন্ট, বিনোদনকেন্দ্র। স্থগিত করা হয়েছে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ও।

পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা আম্মার বাকির বলেন, ‘কোনো মুসল্লি নেই, কোনো মানুষ নেই। ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর আল-আকসা মসজিদ বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।’

আল-আকসার পরিচালক শেখ ওমর আল-কিসোয়ানি বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত ১৪০০ বছরের মধ্যে প্রথমবার নেওয়া হয়েছে। এটা খুবই কঠিন, এতে সবার মনেই কষ্ট হচ্ছে।’

মহামারির কারণে গত ২২ মার্চ আল-আকসা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় বন্ধ ঘোষণা করে জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিল। গত ১৬ এপ্রিল তারা জানায়, এ নিষেধাজ্ঞা এবারের রমজান মাসজুড়েও অব্যাহত থাকবে। সবাইকে তারাবিহর নামাজ বাড়িতেই আদায় করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজহারীর জন্য অঝোরে কাঁদলেন আরেক বক্তা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান সময়ের আলোচিত-সমালোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর জন্য অঝোরে কাঁদলেন আরেক বক্তা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশারের বাড়িও কুমিল্লায়।

গত শনিবার আবুল কালাম আজাদ বাশারের ওয়াজ মাহফিলের একটি ভিডিও ইউটিউবে দেখা যায়, তিনি মিজানুর রহমান আজহারীর প্রসঙ্গ তুলে কেঁদে ফেলেন।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার ওয়াজের মধ্যে বলেন, আমাদের কুমিল্লার কৃতি সন্তান। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বক্তার মাহফিল শোনার জন্য এত যুবক একসঙ্গে একত্রিত হয়েছে আমার জানা নেই। এ দেশের যুবকরা সিনেমা দেখা ছেড়ে দিয়েছে। তারা ফুটবল ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিয়েছে। ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী পর্যন্ত এখন আমার আজহারীর মাহফিল শোনার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে। যে যুবকদের আমি পারিনি সিনেমা হল থেকে ফেরাতে, আমি পারিনি তাদের ক্রিকেট খেলার মাঠে থেকে কোরআনের তাফসির মাহফিলে আনতে। কিন্তু আমার এক ভাই, আল্লাহর এক বড় নেয়ামত উনার মাহফিলে এক হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার যুবক লাখ লাখ একত্রিত হচ্ছে।

বাশার আরও বলেন, কোরআনের কথা শুনতে যদি যুবক যায়, কোনো ছাত্র যখন টুপি মাথায় দিয়ে মাদ্রাসায় যায় আমার অন্তরে আনন্দের হিন্দোল বয়ে যায়। যখন মসজিদের দিকে মুসল্লি যায়, আনন্দে আমার অন্তর লাফায়। মাহফিলে যখন যুবকরা যায়, কথা ছিল আনন্দে আমার মন লাফাবে। কিন্তু কেন যায়, আজকে আমার আজহারীর বিরুদ্ধে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। হয় তো আমার এই প্রিয় ভাইটিকে এই মাঠে কথা বলতে দেবে না। আলেমরা পেছন থেকে জামা টেনে ধরে, এটা কেমন চরিত্র।



সূত্র: সমকাল

এশার পর বিতর নামাজ পড়া আবশ্যক
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: বিতর নামাজ পড়া মুমিন মুসলমানের জন্য আবশ্যক। ইশা নামাজ আদায় করার পর এ নামাজ পড়তে হয়। ৩ রাকাআতের এ নামাজ পড়ার পর রয়েছে ছোট্ট একটি তাসবিহ। যা মহান রাব্বুল আলামিনের প্রশংসামূলক তাসবিহ।

বিতর নামাজে মুমিন মুসলমান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগানের পর তার কাছে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভে অনেক দোয়া করে থাকে। এ প্রশংসা ও কামনা-বাসনাগুলো দোয়া কুনুতে ভরপুর। বিতর নামাজ শেষে এ তাসবিহ পড়তেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-

হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের নামাজের সালাম ফেরানোর পর (৩ বার) এই দোয়া পড়তেন-
سُبْحَانَ المَلِكِ الْقُدُّوْس
উচ্চারণ : ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’
অর্থ : ‘পূতপবিত্র রাজাধিরাজ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি’(মিশকাত)

তাই মুমিন মুসলমানের উচিত সুন্নাতের অনুসরণে বিতর নামাজের পর ছোট্ট এ তাসবিহটি ৩ বার পড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম অনুসরণ ও অনকুরণে আল্লাহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিতর নামাজের পর উল্লেখিত ছোট্ট তাসবিহটি যথাযথ পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইসলামে জুয়া-বাজি সম্পূর্ণ হারাম
                                  

ইসলাম ডেস্ক : সম্প্রতি ‘ক্যাসিনো-তত্ত্ব’কে কেন্দ্র করে জুয়া শব্দটি নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি সরকার-কর্তৃক নিষিদ্ধ। সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যক্তি জুয়ার আসর জমিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। বলা বাহুল্য, মদ-জুয়া জাতীয় সবকিছু সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও নৈতিক সঙ্কট তৈরি করে। মানুষকে বহুবিধ ক্ষতির সম্মুখীন করে।

জুয়ার ইতিহাস বেশ প্রাচীন : ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও জুয়া খেলার প্রচলন ছিল। তখন লোকেরা জুয়া-বাজি ইত্যাদিতে ভীষণ অভ্যস্ত ছিল। প্রায় সময় লোকেরা তাদের পরিবার ও সম্পদের ওপর বাজি ধরতো। হেরে গিয়ে চিন্তাক্লিষ্ট ও হতাশাগ্রস্ত হতো। সে দেখতো তার সম্পদ অন্যের হাতে। ফলে বিজয়ীর সঙ্গে বিরোধ, শত্রুতা ও ক্ষোভ-দ্বন্ধ শুরু হতো। (জাদুল মাসির, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা: ৪১৮)

জুয়ার যে পদ্ধতি জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিল : জাহেলি যুগে দশ জনে সমান অঙ্ক দিয়ে একটা উট ক্রয় করতো, সেই উটের গোশত ভাগ-বাটোয়ারার জন্য জুয়ার তীর ব্যবহার করা হতো। ১০টি তীরের ৭টিতে কম-বেশি করে বিভিন্ন অংশ লেখা থাকতো এবং তিনটিতে কোনো অংশই লেখা থাকত না (এক প্রকার লটারী)। ফলে তিনজন কোনো অংশ পেত না এবং অন্য সাত জন তাদের প্রচলিত নিয়মে কম-বেশি অংশ পেত। এভাবে তারা দশ জনের টাকায় কেনা উট সাত জনে ভাগ করে নিত। বাকি তিনজন শূন্য হাতে ফিরে যেতো। (মুহাররামাতুন ইস্তাহানা বিহান্নাস, পৃষ্ঠা: ৫২)

জুয়ার বিভিন্ন ধরন ও রকম : বর্তমানে জুয়া-বাজির জন্য বিভিন্ন রকমের আসর বসে বিভিন্ন দেশে। কোথাও হাউজি আবার কোথাও সবুজ টেবিল নামে পরিচিত। ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার প্রতিযোগিতায়ও বাজি ধরা হয়। প্রাচীন পদ্ধতি ছাড়াও জুয়ার আরও বহু নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। যেমন- ফ্লাস, পাশা, বাজি রেখে ঘোড় দৌড়, তাস খেলা, চাক্কি ঘোরানো ও রিং নিক্ষেপ ইত্যাদি। এগুলোর সবই হারাম। জুয়া হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে,  শুধু নাম পরিবর্তনের কারণে বস্তু ও মূল প্রকৃতি এবং হুকুম পরিবর্তন হয় না। কাজেই প্রাচীনকালে প্রচলিত জুয়া সম্পর্কে যে হুকুম প্রযোজ্য ছিল, আধুনিককালের সব ধরনের জুয়ার ক্ষেত্রেও সেসব হুকুম সাব্যস্ত হবে।

‘ক্যাসিনো-সংস্কৃতি’ নতুন কিছু নয় : ক্যাসিনো ইটালিয়ান শব্দ। ক্যাসিনো বলতে বোঝায় যেখানে জুয়া, নাচ, গান ও বিভিন্ন খেলাধুলার সংমিশ্রণ থাকে। ১৬৩৮ সালে ইতালির ভেনিসে সর্বপ্রথম জুয়ার মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে।

জুয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন : বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ১৮৬৭ সালে প্রণীত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন দেশে এখনো প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী, কোনো ঘর-বাড়ি, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদ- বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন। এধরনের কোনো ঘরে তাস-পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে, তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদ- অথবা ১০০ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন।

পুলিশ জুয়া-সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবেন বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। (এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানও রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই এ দেশে সব রকমের রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন।)

ইসলাম জুয়াকে যেভাবে দেখে : জুয়াকে আরবিতে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়। এমন খেলাকে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়, যা লাভ ও ক্ষতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। অর্থাৎ যার মধ্যে লাভ বা ক্ষতি কোনোটাই স্পষ্ট নয়। ইসলামের আবির্ভাবের আগে ও নবী করিম (সা.)-এর আগমনের সময় তৎকালীন মক্কায় নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন ছিল। তিনি সবগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন।

ইসলামে জুয়া-বাজি ইত্যাদি স্পষ্ট হারাম : জুয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)

কোরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ-জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ-জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।

জুয়া সম্পর্কে হাদিসে যা বলা হয়েছে : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৪৫০৩; মিশকাত, হাদিস: ৪৩০৪)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ায় অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না।’ (দারেমি, হাদিস: ৩৬৫৩; মিশকাত, হাদিস: ৩৪৮৬)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ লাত-উজ্জার শপথ ইত্যাদি বললে, তবে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর কেউ যদি অন্যকে প্রস্তাব দেয়, এসো আমরা জুয়া খেলি; সে যেন (জরিমানাস্বরুপ) দান-সদকা করে। (বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০; মুসলিম, হাদিস: ১৬৪৭; তিরমিজি, হাদিস: ১৫৪৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৯৬)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবা ঘরের ভেতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলে মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হয়। (এক পর্যায়ে) ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়। উভয় প্রতিকৃতির হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী (সা.) বললেন,  আল্লাহ! ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবির বলেন। তবে ঘরের ভেতরে সালাত আদায় করেননি। (বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘বলা হতো, উটের জুয়াড়িরা কোথায়? তখন দশজন প্রতিযোগী একত্র হতো এবং জুয়ার উটটির ক্রয়মূল্য হিসেবে দশটি উটশাবক নিৰ্দ্ধারণ করতো। তারা জুয়ার পাত্রে তীর স্থাপন করে সেটিকে চক্কর দেয়াতো, তাতে একজন বাদ পড়ে নয়জন অবশিষ্ট থাকতো। এভাবে প্রতি চক্করে একজন করে বাদ পড়ে শেষে মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকতো এবং সে বিজয়ী হিসেবে তার শাবকসহ অন্যান্যের নয়টি শাবকও লাভ করতো। এতে নয়জনের প্রত্যেকে একটি করে শাবক লোকসান দিতো। এটাও একপ্রকার জুয়া।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নম্বর: ১২৭১)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তীর নিক্ষেপে বাজিধরা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।’ (ফাতহুল কাদির, হাদিস: ১২৭২)

ফুদাইল ইবনে মুসলিম (রহ.) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘আলী (রা.) বাবুল কাসর থেকে বের হলে তিনি দাবা-পাশা খেলোয়াড়দের দেখতে পান। তিনি তাদের কাছে গিয়ে তাদের ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আটক রাখেন। তাদের মধ্যে কতককে তিনি দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন। (বর্ণনাকারী বলেন, যারা অর্থের আদান-প্রদানের ভিত্তিতে খেলেছিল, তিনি তাদের রাত পর্যন্ত আটক রাখেন, আর যারা এমনি খেলেছিল তাদেরকে দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন।) তিনি নির্দেশ দিতেন, লোকজন যেন তাদের সালাম না দেয়।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১২৮০)

জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম : সব ধরনের জুয়া-বাজি ইসলামে অবৈধ। জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম। হারাম ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগি করলে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন না। তাই মুসলমান হিসেবে সব ধরনের জুয়া-বাজি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রত্যন্ত গ্রামেও বসছে জুয়ার আসর। কৃষক, তরুণ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছেন মরণনেশা জুয়ায়। এসব আসরে উড়ছে লাখ লাখ টাকা। মাদকের মতোই জুয়ার গ্রাস এখন দৃশ্যমান। এমতাবস্থায় অনৈতিক এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয়।

আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার আকাশ-বাতাস
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরীর আরাফাতের আকাশ-বাতাস। ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ একটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র হজ পালনের জন্যে আগে থেকেই সমবেত হয়েছেন সৌদি আরবে। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে হজ পালনের কার্যক্রম শুরু হয়। আরাফাতের ময়দানে হাজিরা জড়ো হয়ে কেউ পাহাড়ের কিনারে, কেউ অন্য কোনো সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত শুরু করেছেন।
হজ মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম সম্মেলন। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি সৌদি গেজেট ও এএফপিকে জানান, এ বছর প্রায় ২৫ লাখ মুসল্লি হজব্রত পালন করবেন। এর মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ১৮ লাখ ব্যক্তি। বাংলাদেশি রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বিনতেন বলেছেন, এবার বিভিন্ন দেশের ১৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যক্তি হজ ভিসা নিয়েছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মুসল্লি মিলে মোট ৪০ লাখ মুসল্লি শুক্রবার মিনায় ছিলেন। এরা কাল সূর্যোদয়ের পর অবস্থান নেবেন আরাফাতের ময়দানে।
শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর হাজিরা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডাবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। অবশ্য মক্কায় গিয়েই হজযাত্রীরা প্রথমে একবার পবিত্র কাবা ঘর তাওয়াফ করেন। বিদায়ী তাওয়াফের পর ইহরাম ত্যাগ করার কাজ সম্পন্ন করবেন হাজিরা। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন তারা। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যতদিন থাকবেন, ততদিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন।
বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মুসলমানরা হজ পালন করে থাকেন। ভাষা-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য বাহ্যিক বৈচিত্র্য ও পার্থক্য থাকলেও আকিদা-বিশ্বাস ও ধর্মের ক্ষেত্রে সব মুসলমান এক ও অভিন্ন। সবার কণ্ঠে দৃপ্তস্বরে ধ্বনিত হয় তাওহিদের অমিয় বাণী। মানবেতিহাসের সূচনালগ্ন থেকে পবিত্র কাবাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আল্লাহবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতি। এখান থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে হিদায়াতের আলো ও দাওয়াতের পয়গাম।
সারা দিন আরাফাতে অবস্থানের পর বিকালে মুসল্লিরা পা বাড়াবেন মিনার পথে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন তারা। সেখানেই রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকবেন। এটি ওয়াজিব। এ সময়েই তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাথর সংগ্রহ করবেন, যা মিনার জামারায় প্রতীকী শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হবে।
কাবায় পরানো হবে নতুন গিলাফ : সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো আরাফাতের দিনে (৯ জিলহজ) আজ পবিত্র কাবা আচ্ছাদিত হবে নতুন গিলাফে। পবিত্র মসজিদের (মসজিদুল হারাম) ও মসজিদে নববীর সভাপতি শেখ ড. আবদুল রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইসের তত্ত্বাবধানে আজ ফজরের নামাজের পর নতুন এ গিলাফ পরানো হবে।
এবারের গিলাফটি তৈরি করা হয়েছে সিল্কের ৬৭০ কেজি সুতা, স্বর্ণের ১২০ কেজি সুতা এবং রুপার ১০০ কেজি সুতা দিয়ে। কালো জমিনের ওপর অঙ্কিত হয়েছে সোনালি আরবি হরফে কোরআনের আয়াত। বাদশাহ আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে ১৬০ শিল্পী ও কারিগর এ গিলাফটি তৈরি করেছেন।

হজ ব্যবস্থাপনায় সফলতম ইতিহাস : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবার ইতিহাসের একটি সফলতম হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

আজ রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে ‘হজ কার্যক্রম ২০১৯’ এর সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবার ইতিহাসের একটি সফলতম হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হয়েছে। এ বছর হজের খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বাবদ ১০ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য বছরের স্বাভাবিক ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর প্রকৃত হিসেবে ব্যয় বাড়েনি, বরং কমেছে।

সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি
                                  

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন: রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে আমাদের জন্য মুুক্তি। তিনি যে কাজ যেভাবে করেছেন আমাদেরও সে কাজ সেভাবে করতে হবে। তিনি যেভাবে নামাজ পড়েছেন আমাকে সেভাবে নামাজ পড়তে হবে। তিনি যেভাবে খাওয়া-দাওয়া করেছেন আমাকেও সেভাবে পানাহার করতে হবে। তিনি যেভাবে ঘর-সংসার করেছেন আমাদের সেভাবেই পারিবারিক জীবন পরিচালনা করতে হবে। প্রাত্যহিক  জীবনের সব কাজ ও ইবাদত-বন্দেগি নবীর সুন্নত অনুযায়ী হওয়া জরুরি। আল কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ উল্লে­খ করেছেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তাহলে আমি রসুলের অনুসরণ কর। তাহলে আল্ল­াহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্ল­াহ অতিশয় দয়ালু মেহেরবান।’ এ আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, আল্ল­াহর ভালোবাসার মানদ- হলো রসুলের সুন্নত পালন করা। যার মধ্যে রসুলের সুন্নত যত বেশি থাকবে সে তত বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাবে। সঙ্গে সঙ্গে এও  প্রমাণিত হলো, নবীর সুন্নত পালন করলে দুটি পুরস্কার পাওয়া যাবে। প্রথম পুরস্কার হলো আল্ল­াহ স্বয়ং তাকে ভালোবাসবেন। দ্বিতীয় পুরস্কার তার জীবনের সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন। এ দুটি পুরস্কার এমন যে, এগুলো লাভ করা গেলে আর কোনো পুরস্কারের প্রয়োজন নেই। হাদিসে সুন্নতে রসুলের অনুসরণের প্রতি ব্যাপক তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। তারপর আমাদের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং এমন হৃদয়স্পর্শী আলোচনা করলেন যে, এতে আমাদের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল এবং অন্তর ভয়ে কম্পমান হয়ে গেল। এ অবস্থায় এক লোক বলল, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা যেন কোনো বিদায় দানকারীর উপদেশ। তাই আমাদের আরও কিছু অসিয়ত করুন। তিনি তখন বললেন, আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বন ও আমিরের আনুগত্যের অসিয়ত করছি। এমনকি আমির যদি কোনো হাবশি ক্রীতদাসও হয়। মনে রেখো! আমার পরে যারা বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে। অতএব, তোমরা আমার এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদিনের (সঠিক পথপ্রাপ্ত চার খলিফার) সুন্নতকে অবলম্বন করে থাকবে, যারা হিদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তোমরা এ সুন্নত ও আদর্শ আঁকড়ে ধরবে এবং মজবুতভাবে তা পালন করবে। ইসলামে নতুন উদ্ভাবিত যে কোনো মতাদর্শ থেকে দূরে থাকবে। কেননা, প্রতিটি নতুন মতাদর্শই বিদাত। আর প্রতিটি বিদাতই হলো পথভ্রষ্টতার কারণ। মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নতের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন।

ইয়াহুদিরা যে কারণে মাথায় টুপির মতো ‘কিপ্পা’ পরে
                                  

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মের অনুসারি মুসলিমরা টুপি পরে। ইবাদতের সবক্ষেত্রেই ধর্মপ্রাণ মুসলমান টুপি পরে। ইসলামে টুপি পরা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সার্বক্ষণিক সুন্নাত। কিন্তু ইয়াহুদিরা টুপির মতো মাথার তালুতে পরে ‘কিপ্পা’। কিন্তু তাদের ধর্ম মতে কিপ্পা পরায় রয়েছে বিশেষ কারণ? কিপ্পা পরার সে কারণই বা কী?

‘কিপ্পা’

ইহুদি ধর্মানুসারীরা টুপি পরিধান করে থাকেন। তাদের মাথার তালুতে পরার এ কিপ্পা, মাথার তুলনায় অনেক ছোট। আর তা মাথার ঠিক উপরে পেছনের দিকে পরা হয়। আর তা চুলের সঙ্গে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে রাখতে হয়। যাতে কোনো রকম মাথার তালুর পেছনের অংশ ঢেকে থাকে।

কিপ্পা পরার কারণ:

এ কিপ্পা পরার পেছনে ইয়াহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থ তালমুদে এক বিশেষ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাহলো-

‘তুমি তোমার মাথা ঢেকে রাখো,যেন আসমানের কোনো ক্রোধ ও গজব তোমার উপর পতিত না হয়।’

ধর্মীয় প্রার্থনার সময় এ কিপ্পা পরা তাদের ধর্মের আবশ্যকীয় নিয়ম। তবে অন্যান্য সময় এটা পরায় তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কিপ্পা রঙ ও শ্রেণি বিভেদ:

তবে ইয়াহুদিদের সবাই এক রঙের কিপ্পা পরতে পারে না। শ্রেণি বিশেষের মর্যাদার সঙ্গে মিল রেখেই নির্ধারিত রঙের কিপ্পা পরতে হয়। মান-মর্যাদা, মতবাদ ও স্তরের তারতম্য বিবেচনায় ব্যবহৃত হয় কিপ্পা। আর তাহলো-

>> সাদা রঙের কিপ্পা : রক্ষণশীল ও সংস্কারক মর্যাদা ও স্তরের ইয়াহুদিরা সাদা রঙের কিপ্পা পরে।
>> কালো রঙের কিপ্পা : কট্টর ইয়াহুদি ধর্মাবলম্বীরাই কালো রঙের কিপ্পা পরে। তবে যারা বিশেষভাবে ইয়াহুদি ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা কিংবা গবেষণা করে, তারও কালো রঙের কিপ্পা পরে।
>> অন্যান্য সব রঙের কিপ্পা : অন্যান্য সব সাধারণ ইয়াহুদিরা সাদা ও কালো রঙ ব্যতিত যে কোনো রঙের কিপ্পা পরতে পারে।

ইয়াহুদিরা আল্লাহর ক্রোধ ও গজব পতিত হওয়ার এ ধর্ম বিশ্বাসে বিশ্বাসী। আর এর কারণেই ইয়াহুদি জাতি তাদের নিজেদের মাথায় কিপ্পা পরে। যাতে তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে আসমানি গজ তাদের মাথায় না পড়ে।

উল্লেখ্য যে, যদিও মুসলমানদের অনেকে শুধু নামাজের সময় টুপি পরে। কিন্তু ইসলামে সব সময় টুপি পরার বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে। যা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুন্নাত। শুধু ঘুম ও গোসলের সময় ছাড়া সব সময় মাথায় টুপি পরা সুন্নাত। অনেকে আবার টুপি মাথায় থাকা অবস্থায়ও ঘুমিয়ে পড়ে।

কাল পবিত্র আশুরা
                                  

ধর্ম ডেস্ক : ১৪৪০ হিজরির মহররম মাসের ১০ তারিখ মোতাবেক ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেশব্যাপী পবিত্র আশুরা পালিত হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহররমের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা সভা। আরব দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র আশুরা পালিত হলেও বাংলাদেশসহ কিছু দেশে আগামীকাল মহররম পালিত হবে।

দেশে শিয়া সম্প্রদায় মুহররম মাসের প্রথম দশ দিন শোক স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করে। আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিলে হয়। আরবি ‘তাজিয়া’ শব্দটি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।

রাজধানীর হোসাইনী দালান ইমাম বাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। রাজধানীতে আশুরা উপলক্ষে বড় আয়োজন পুরান ঢাকায় হোসাইনী দালান থেকে তাজিয়া মিছিল হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হয?। হাজারও মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি পালিত হবে।

এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের সময় দা, ছোরা, কাচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও টিফিনক্যারি ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। একইসঙ্গে মিছিলে আতশবাজি ও পট্কা ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়।

পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: পবিত্র হিজরি নববর্ষ আগামীকাল বুধবার। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হিজরি সনের শুভ সূচনা।
 
আগামীকাল বুধবার পয়লা মহররম। শুরু হবে আরবি নববর্ষ,হিজরী ১৪৪০। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে। বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষে আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন তথা কর্মসূচি পালিত হয়ে থাকে।
 
আরবি নববর্ষের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য থাকা সত্ত্বেও উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না বললেই চলে। হিজরি বছরের শেষ মাস এবং শুরুর মাস অনেক মর্যাদা ও ফজিলতের মাস। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
 
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ১০ মহররম শুক্রবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে থাকে।
 

রোজা শুরু কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রমজান মাসের তারিখ নির্ধারণের জন্য আজ বুধবার বৈঠক করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ১৪৩৯ হিজরি সালের রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে জানানোর অনুরোধও জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।  চাঁদ দেখা গেলে এসব নম্বরে ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭  ও ৯৫৫৮৩৩৭ ফোন করত বলা হয়েছে।


   Page 1 of 7
     ইসলাম
কুরবানি নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের ভাবনা
.............................................................................................
জার্মানিতে মুসলিমরা পাচ্ছেন ডিজিটাল ধর্মীয় সেবা
.............................................................................................
কুরআনের সেই পাণ্ডুলিপি বিক্রি হলো ৭৩ কোটি টাকায়
.............................................................................................
মহিমান্বিত রজনী: লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
বিষণ্ণ পৃথিবীতে মুক্তির মাস রমজান
.............................................................................................
১৪০০ বছর পর এবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদে আকসা মুসল্লি শূন্য
.............................................................................................
আজহারীর জন্য অঝোরে কাঁদলেন আরেক বক্তা
.............................................................................................
এশার পর বিতর নামাজ পড়া আবশ্যক
.............................................................................................
ইসলামে জুয়া-বাজি সম্পূর্ণ হারাম
.............................................................................................
আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার আকাশ-বাতাস
.............................................................................................
হজ ব্যবস্থাপনায় সফলতম ইতিহাস : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি
.............................................................................................
ইয়াহুদিরা যে কারণে মাথায় টুপির মতো ‘কিপ্পা’ পরে
.............................................................................................
কাল পবিত্র আশুরা
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
রোজা শুরু কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়
.............................................................................................
নামাজে অলসতা ভয়াবহ পাপের কারণ
.............................................................................................
পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে ইসলাম কি বলে?
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ ১৪ এপ্রিল
.............................................................................................
মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে চপেটাঘাত করেছিলেন যে নবী!
.............................................................................................
জাহান্নামের শাস্তি শুধু উত্তপ্ত আগুন নয়, তীব্র ঠান্ডাও
.............................................................................................
ইমাম কর্তৃক নায়েব নিয়োগ করা
.............................................................................................
কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিতে পারে একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্রের: কা’বার ইমাম
.............................................................................................
রাসুল (সা:) যে দুয়া পড়ে রাতে ঘুমাতেন
.............................................................................................
ইসলামে দৃষ্টিতে বিয়ে
.............................................................................................
ক্ষমার অতুলনীয় আদর্শ মুহাম্মদ (সা:)
.............................................................................................
যেভাবে হয় হজে এসে মৃত্যুবরণকারীদের কাফন-দাফন
.............................................................................................
আজ পবিত্র হজ
.............................................................................................
এবারের হজে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ তিনি!
.............................................................................................
‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর’
.............................................................................................
যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা শপথের মাধ্যমে কোন মুসলমানের সম্পদ দখলের শাস্তি
.............................................................................................
বিশেষ পুরস্কার রয়েছে কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য
.............................................................................................
পবিত্র হজযাত্রার প্রস্তুতিতে যেসব বিষয় মনে রাখা দরকার
.............................................................................................
মুমিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
ইতিকাফ : উদ্দেশ্য-প্রকারভেদ ও করণীয়-বর্জনীয়
.............................................................................................
বাংলাদেশ ইসলামি অর্থনৈতিক সূচকে ১৫তম
.............................................................................................
কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দুবাই গেলেন হাফেজ তরিক
.............................................................................................
সবচেয়ে লম্বা রোজা গ্রিনল্যান্ডে, ছোট চিলিতে
.............................................................................................
এক মিনিটে আদায় করার মতো কিছু আমল
.............................................................................................
পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা
.............................................................................................
ক্যাথলিক ধর্মে ঈশ্বরকে খুঁজে না পেয়ে আইরিশ নারীর ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
আয়াতুল কুরসির ফজিলত
.............................................................................................
ভোলায় ৩ দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু
.............................................................................................
রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালবাসা পোষণ ঈমানের অংশ
.............................................................................................
দারুল উলূম কানাইঘাট মাদ্রাসায় দাওয়াতে তাবলীগের তৎপরতা
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
.............................................................................................
চুয়াডাঙ্গায় ইজতেমা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
কোরআনে কারিমের গুণবাচক কিছু নাম
.............................................................................................
শিশুদেরসুন্দর জীবন গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft