বুধবার, 16 অক্টোবর ২০১৯ | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ইসলামে জুয়া-বাজি সম্পূর্ণ হারাম

ইসলাম ডেস্ক : সম্প্রতি ‘ক্যাসিনো-তত্ত্ব’কে কেন্দ্র করে জুয়া শব্দটি নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি সরকার-কর্তৃক নিষিদ্ধ। সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যক্তি জুয়ার আসর জমিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। বলা বাহুল্য, মদ-জুয়া জাতীয় সবকিছু সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও নৈতিক সঙ্কট তৈরি করে। মানুষকে বহুবিধ ক্ষতির সম্মুখীন করে।

জুয়ার ইতিহাস বেশ প্রাচীন : ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও জুয়া খেলার প্রচলন ছিল। তখন লোকেরা জুয়া-বাজি ইত্যাদিতে ভীষণ অভ্যস্ত ছিল। প্রায় সময় লোকেরা তাদের পরিবার ও সম্পদের ওপর বাজি ধরতো। হেরে গিয়ে চিন্তাক্লিষ্ট ও হতাশাগ্রস্ত হতো। সে দেখতো তার সম্পদ অন্যের হাতে। ফলে বিজয়ীর সঙ্গে বিরোধ, শত্রুতা ও ক্ষোভ-দ্বন্ধ শুরু হতো। (জাদুল মাসির, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা: ৪১৮)

জুয়ার যে পদ্ধতি জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিল : জাহেলি যুগে দশ জনে সমান অঙ্ক দিয়ে একটা উট ক্রয় করতো, সেই উটের গোশত ভাগ-বাটোয়ারার জন্য জুয়ার তীর ব্যবহার করা হতো। ১০টি তীরের ৭টিতে কম-বেশি করে বিভিন্ন অংশ লেখা থাকতো এবং তিনটিতে কোনো অংশই লেখা থাকত না (এক প্রকার লটারী)। ফলে তিনজন কোনো অংশ পেত না এবং অন্য সাত জন তাদের প্রচলিত নিয়মে কম-বেশি অংশ পেত। এভাবে তারা দশ জনের টাকায় কেনা উট সাত জনে ভাগ করে নিত। বাকি তিনজন শূন্য হাতে ফিরে যেতো। (মুহাররামাতুন ইস্তাহানা বিহান্নাস, পৃষ্ঠা: ৫২)

জুয়ার বিভিন্ন ধরন ও রকম : বর্তমানে জুয়া-বাজির জন্য বিভিন্ন রকমের আসর বসে বিভিন্ন দেশে। কোথাও হাউজি আবার কোথাও সবুজ টেবিল নামে পরিচিত। ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার প্রতিযোগিতায়ও বাজি ধরা হয়। প্রাচীন পদ্ধতি ছাড়াও জুয়ার আরও বহু নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। যেমন- ফ্লাস, পাশা, বাজি রেখে ঘোড় দৌড়, তাস খেলা, চাক্কি ঘোরানো ও রিং নিক্ষেপ ইত্যাদি। এগুলোর সবই হারাম। জুয়া হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে,  শুধু নাম পরিবর্তনের কারণে বস্তু ও মূল প্রকৃতি এবং হুকুম পরিবর্তন হয় না। কাজেই প্রাচীনকালে প্রচলিত জুয়া সম্পর্কে যে হুকুম প্রযোজ্য ছিল, আধুনিককালের সব ধরনের জুয়ার ক্ষেত্রেও সেসব হুকুম সাব্যস্ত হবে।

‘ক্যাসিনো-সংস্কৃতি’ নতুন কিছু নয় : ক্যাসিনো ইটালিয়ান শব্দ। ক্যাসিনো বলতে বোঝায় যেখানে জুয়া, নাচ, গান ও বিভিন্ন খেলাধুলার সংমিশ্রণ থাকে। ১৬৩৮ সালে ইতালির ভেনিসে সর্বপ্রথম জুয়ার মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে।

জুয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন : বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ১৮৬৭ সালে প্রণীত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন দেশে এখনো প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী, কোনো ঘর-বাড়ি, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদ- বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন। এধরনের কোনো ঘরে তাস-পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে, তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদ- অথবা ১০০ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন।

পুলিশ জুয়া-সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবেন বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। (এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানও রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই এ দেশে সব রকমের রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন।)

ইসলাম জুয়াকে যেভাবে দেখে : জুয়াকে আরবিতে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়। এমন খেলাকে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়, যা লাভ ও ক্ষতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। অর্থাৎ যার মধ্যে লাভ বা ক্ষতি কোনোটাই স্পষ্ট নয়। ইসলামের আবির্ভাবের আগে ও নবী করিম (সা.)-এর আগমনের সময় তৎকালীন মক্কায় নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন ছিল। তিনি সবগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন।

ইসলামে জুয়া-বাজি ইত্যাদি স্পষ্ট হারাম : জুয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)

কোরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ-জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ-জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।

জুয়া সম্পর্কে হাদিসে যা বলা হয়েছে : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৪৫০৩; মিশকাত, হাদিস: ৪৩০৪)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ায় অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না।’ (দারেমি, হাদিস: ৩৬৫৩; মিশকাত, হাদিস: ৩৪৮৬)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ লাত-উজ্জার শপথ ইত্যাদি বললে, তবে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর কেউ যদি অন্যকে প্রস্তাব দেয়, এসো আমরা জুয়া খেলি; সে যেন (জরিমানাস্বরুপ) দান-সদকা করে। (বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০; মুসলিম, হাদিস: ১৬৪৭; তিরমিজি, হাদিস: ১৫৪৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৯৬)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবা ঘরের ভেতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলে মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হয়। (এক পর্যায়ে) ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়। উভয় প্রতিকৃতির হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী (সা.) বললেন,  আল্লাহ! ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবির বলেন। তবে ঘরের ভেতরে সালাত আদায় করেননি। (বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘বলা হতো, উটের জুয়াড়িরা কোথায়? তখন দশজন প্রতিযোগী একত্র হতো এবং জুয়ার উটটির ক্রয়মূল্য হিসেবে দশটি উটশাবক নিৰ্দ্ধারণ করতো। তারা জুয়ার পাত্রে তীর স্থাপন করে সেটিকে চক্কর দেয়াতো, তাতে একজন বাদ পড়ে নয়জন অবশিষ্ট থাকতো। এভাবে প্রতি চক্করে একজন করে বাদ পড়ে শেষে মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকতো এবং সে বিজয়ী হিসেবে তার শাবকসহ অন্যান্যের নয়টি শাবকও লাভ করতো। এতে নয়জনের প্রত্যেকে একটি করে শাবক লোকসান দিতো। এটাও একপ্রকার জুয়া।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নম্বর: ১২৭১)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তীর নিক্ষেপে বাজিধরা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।’ (ফাতহুল কাদির, হাদিস: ১২৭২)

ফুদাইল ইবনে মুসলিম (রহ.) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘আলী (রা.) বাবুল কাসর থেকে বের হলে তিনি দাবা-পাশা খেলোয়াড়দের দেখতে পান। তিনি তাদের কাছে গিয়ে তাদের ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আটক রাখেন। তাদের মধ্যে কতককে তিনি দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন। (বর্ণনাকারী বলেন, যারা অর্থের আদান-প্রদানের ভিত্তিতে খেলেছিল, তিনি তাদের রাত পর্যন্ত আটক রাখেন, আর যারা এমনি খেলেছিল তাদেরকে দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন।) তিনি নির্দেশ দিতেন, লোকজন যেন তাদের সালাম না দেয়।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১২৮০)

জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম : সব ধরনের জুয়া-বাজি ইসলামে অবৈধ। জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম। হারাম ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগি করলে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন না। তাই মুসলমান হিসেবে সব ধরনের জুয়া-বাজি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রত্যন্ত গ্রামেও বসছে জুয়ার আসর। কৃষক, তরুণ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছেন মরণনেশা জুয়ায়। এসব আসরে উড়ছে লাখ লাখ টাকা। মাদকের মতোই জুয়ার গ্রাস এখন দৃশ্যমান। এমতাবস্থায় অনৈতিক এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয়।

ইসলামে জুয়া-বাজি সম্পূর্ণ হারাম
                                  

ইসলাম ডেস্ক : সম্প্রতি ‘ক্যাসিনো-তত্ত্ব’কে কেন্দ্র করে জুয়া শব্দটি নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি সরকার-কর্তৃক নিষিদ্ধ। সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যক্তি জুয়ার আসর জমিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। বলা বাহুল্য, মদ-জুয়া জাতীয় সবকিছু সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও নৈতিক সঙ্কট তৈরি করে। মানুষকে বহুবিধ ক্ষতির সম্মুখীন করে।

জুয়ার ইতিহাস বেশ প্রাচীন : ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও জুয়া খেলার প্রচলন ছিল। তখন লোকেরা জুয়া-বাজি ইত্যাদিতে ভীষণ অভ্যস্ত ছিল। প্রায় সময় লোকেরা তাদের পরিবার ও সম্পদের ওপর বাজি ধরতো। হেরে গিয়ে চিন্তাক্লিষ্ট ও হতাশাগ্রস্ত হতো। সে দেখতো তার সম্পদ অন্যের হাতে। ফলে বিজয়ীর সঙ্গে বিরোধ, শত্রুতা ও ক্ষোভ-দ্বন্ধ শুরু হতো। (জাদুল মাসির, খণ্ড : ০২, পৃষ্ঠা: ৪১৮)

জুয়ার যে পদ্ধতি জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিল : জাহেলি যুগে দশ জনে সমান অঙ্ক দিয়ে একটা উট ক্রয় করতো, সেই উটের গোশত ভাগ-বাটোয়ারার জন্য জুয়ার তীর ব্যবহার করা হতো। ১০টি তীরের ৭টিতে কম-বেশি করে বিভিন্ন অংশ লেখা থাকতো এবং তিনটিতে কোনো অংশই লেখা থাকত না (এক প্রকার লটারী)। ফলে তিনজন কোনো অংশ পেত না এবং অন্য সাত জন তাদের প্রচলিত নিয়মে কম-বেশি অংশ পেত। এভাবে তারা দশ জনের টাকায় কেনা উট সাত জনে ভাগ করে নিত। বাকি তিনজন শূন্য হাতে ফিরে যেতো। (মুহাররামাতুন ইস্তাহানা বিহান্নাস, পৃষ্ঠা: ৫২)

জুয়ার বিভিন্ন ধরন ও রকম : বর্তমানে জুয়া-বাজির জন্য বিভিন্ন রকমের আসর বসে বিভিন্ন দেশে। কোথাও হাউজি আবার কোথাও সবুজ টেবিল নামে পরিচিত। ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার প্রতিযোগিতায়ও বাজি ধরা হয়। প্রাচীন পদ্ধতি ছাড়াও জুয়ার আরও বহু নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। যেমন- ফ্লাস, পাশা, বাজি রেখে ঘোড় দৌড়, তাস খেলা, চাক্কি ঘোরানো ও রিং নিক্ষেপ ইত্যাদি। এগুলোর সবই হারাম। জুয়া হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে,  শুধু নাম পরিবর্তনের কারণে বস্তু ও মূল প্রকৃতি এবং হুকুম পরিবর্তন হয় না। কাজেই প্রাচীনকালে প্রচলিত জুয়া সম্পর্কে যে হুকুম প্রযোজ্য ছিল, আধুনিককালের সব ধরনের জুয়ার ক্ষেত্রেও সেসব হুকুম সাব্যস্ত হবে।

‘ক্যাসিনো-সংস্কৃতি’ নতুন কিছু নয় : ক্যাসিনো ইটালিয়ান শব্দ। ক্যাসিনো বলতে বোঝায় যেখানে জুয়া, নাচ, গান ও বিভিন্ন খেলাধুলার সংমিশ্রণ থাকে। ১৬৩৮ সালে ইতালির ভেনিসে সর্বপ্রথম জুয়ার মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে।

জুয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন : বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ১৮৬৭ সালে প্রণীত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন দেশে এখনো প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী, কোনো ঘর-বাড়ি, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদ- বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন। এধরনের কোনো ঘরে তাস-পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে, তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদ- অথবা ১০০ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন।

পুলিশ জুয়া-সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবেন বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। (এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানও রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই এ দেশে সব রকমের রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন।)

ইসলাম জুয়াকে যেভাবে দেখে : জুয়াকে আরবিতে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়। এমন খেলাকে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়, যা লাভ ও ক্ষতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। অর্থাৎ যার মধ্যে লাভ বা ক্ষতি কোনোটাই স্পষ্ট নয়। ইসলামের আবির্ভাবের আগে ও নবী করিম (সা.)-এর আগমনের সময় তৎকালীন মক্কায় নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন ছিল। তিনি সবগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন।

ইসলামে জুয়া-বাজি ইত্যাদি স্পষ্ট হারাম : জুয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)

কোরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ-জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ-জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।

জুয়া সম্পর্কে হাদিসে যা বলা হয়েছে : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৪৫০৩; মিশকাত, হাদিস: ৪৩০৪)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ায় অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না।’ (দারেমি, হাদিস: ৩৬৫৩; মিশকাত, হাদিস: ৩৪৮৬)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ লাত-উজ্জার শপথ ইত্যাদি বললে, তবে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর কেউ যদি অন্যকে প্রস্তাব দেয়, এসো আমরা জুয়া খেলি; সে যেন (জরিমানাস্বরুপ) দান-সদকা করে। (বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০; মুসলিম, হাদিস: ১৬৪৭; তিরমিজি, হাদিস: ১৫৪৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৯৬)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবা ঘরের ভেতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলে মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হয়। (এক পর্যায়ে) ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়। উভয় প্রতিকৃতির হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী (সা.) বললেন,  আল্লাহ! ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবির বলেন। তবে ঘরের ভেতরে সালাত আদায় করেননি। (বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘বলা হতো, উটের জুয়াড়িরা কোথায়? তখন দশজন প্রতিযোগী একত্র হতো এবং জুয়ার উটটির ক্রয়মূল্য হিসেবে দশটি উটশাবক নিৰ্দ্ধারণ করতো। তারা জুয়ার পাত্রে তীর স্থাপন করে সেটিকে চক্কর দেয়াতো, তাতে একজন বাদ পড়ে নয়জন অবশিষ্ট থাকতো। এভাবে প্রতি চক্করে একজন করে বাদ পড়ে শেষে মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকতো এবং সে বিজয়ী হিসেবে তার শাবকসহ অন্যান্যের নয়টি শাবকও লাভ করতো। এতে নয়জনের প্রত্যেকে একটি করে শাবক লোকসান দিতো। এটাও একপ্রকার জুয়া।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নম্বর: ১২৭১)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তীর নিক্ষেপে বাজিধরা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।’ (ফাতহুল কাদির, হাদিস: ১২৭২)

ফুদাইল ইবনে মুসলিম (রহ.) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘আলী (রা.) বাবুল কাসর থেকে বের হলে তিনি দাবা-পাশা খেলোয়াড়দের দেখতে পান। তিনি তাদের কাছে গিয়ে তাদের ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আটক রাখেন। তাদের মধ্যে কতককে তিনি দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন। (বর্ণনাকারী বলেন, যারা অর্থের আদান-প্রদানের ভিত্তিতে খেলেছিল, তিনি তাদের রাত পর্যন্ত আটক রাখেন, আর যারা এমনি খেলেছিল তাদেরকে দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন।) তিনি নির্দেশ দিতেন, লোকজন যেন তাদের সালাম না দেয়।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১২৮০)

জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম : সব ধরনের জুয়া-বাজি ইসলামে অবৈধ। জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম। হারাম ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগি করলে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন না। তাই মুসলমান হিসেবে সব ধরনের জুয়া-বাজি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রত্যন্ত গ্রামেও বসছে জুয়ার আসর। কৃষক, তরুণ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছেন মরণনেশা জুয়ায়। এসব আসরে উড়ছে লাখ লাখ টাকা। মাদকের মতোই জুয়ার গ্রাস এখন দৃশ্যমান। এমতাবস্থায় অনৈতিক এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয়।

আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার আকাশ-বাতাস
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরীর আরাফাতের আকাশ-বাতাস। ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ একটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র হজ পালনের জন্যে আগে থেকেই সমবেত হয়েছেন সৌদি আরবে। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে হজ পালনের কার্যক্রম শুরু হয়। আরাফাতের ময়দানে হাজিরা জড়ো হয়ে কেউ পাহাড়ের কিনারে, কেউ অন্য কোনো সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত শুরু করেছেন।
হজ মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম সম্মেলন। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি সৌদি গেজেট ও এএফপিকে জানান, এ বছর প্রায় ২৫ লাখ মুসল্লি হজব্রত পালন করবেন। এর মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ১৮ লাখ ব্যক্তি। বাংলাদেশি রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বিনতেন বলেছেন, এবার বিভিন্ন দেশের ১৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যক্তি হজ ভিসা নিয়েছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মুসল্লি মিলে মোট ৪০ লাখ মুসল্লি শুক্রবার মিনায় ছিলেন। এরা কাল সূর্যোদয়ের পর অবস্থান নেবেন আরাফাতের ময়দানে।
শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর হাজিরা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডাবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। অবশ্য মক্কায় গিয়েই হজযাত্রীরা প্রথমে একবার পবিত্র কাবা ঘর তাওয়াফ করেন। বিদায়ী তাওয়াফের পর ইহরাম ত্যাগ করার কাজ সম্পন্ন করবেন হাজিরা। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন তারা। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যতদিন থাকবেন, ততদিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন।
বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মুসলমানরা হজ পালন করে থাকেন। ভাষা-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠীসহ অন্যান্য বাহ্যিক বৈচিত্র্য ও পার্থক্য থাকলেও আকিদা-বিশ্বাস ও ধর্মের ক্ষেত্রে সব মুসলমান এক ও অভিন্ন। সবার কণ্ঠে দৃপ্তস্বরে ধ্বনিত হয় তাওহিদের অমিয় বাণী। মানবেতিহাসের সূচনালগ্ন থেকে পবিত্র কাবাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আল্লাহবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতি। এখান থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে হিদায়াতের আলো ও দাওয়াতের পয়গাম।
সারা দিন আরাফাতে অবস্থানের পর বিকালে মুসল্লিরা পা বাড়াবেন মিনার পথে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন তারা। সেখানেই রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকবেন। এটি ওয়াজিব। এ সময়েই তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাথর সংগ্রহ করবেন, যা মিনার জামারায় প্রতীকী শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হবে।
কাবায় পরানো হবে নতুন গিলাফ : সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো আরাফাতের দিনে (৯ জিলহজ) আজ পবিত্র কাবা আচ্ছাদিত হবে নতুন গিলাফে। পবিত্র মসজিদের (মসজিদুল হারাম) ও মসজিদে নববীর সভাপতি শেখ ড. আবদুল রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইসের তত্ত্বাবধানে আজ ফজরের নামাজের পর নতুন এ গিলাফ পরানো হবে।
এবারের গিলাফটি তৈরি করা হয়েছে সিল্কের ৬৭০ কেজি সুতা, স্বর্ণের ১২০ কেজি সুতা এবং রুপার ১০০ কেজি সুতা দিয়ে। কালো জমিনের ওপর অঙ্কিত হয়েছে সোনালি আরবি হরফে কোরআনের আয়াত। বাদশাহ আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে ১৬০ শিল্পী ও কারিগর এ গিলাফটি তৈরি করেছেন।

হজ ব্যবস্থাপনায় সফলতম ইতিহাস : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবার ইতিহাসের একটি সফলতম হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

আজ রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে ‘হজ কার্যক্রম ২০১৯’ এর সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবার ইতিহাসের একটি সফলতম হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হয়েছে। এ বছর হজের খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বাবদ ১০ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য বছরের স্বাভাবিক ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর প্রকৃত হিসেবে ব্যয় বাড়েনি, বরং কমেছে।

সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি
                                  

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন: রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে আমাদের জন্য মুুক্তি। তিনি যে কাজ যেভাবে করেছেন আমাদেরও সে কাজ সেভাবে করতে হবে। তিনি যেভাবে নামাজ পড়েছেন আমাকে সেভাবে নামাজ পড়তে হবে। তিনি যেভাবে খাওয়া-দাওয়া করেছেন আমাকেও সেভাবে পানাহার করতে হবে। তিনি যেভাবে ঘর-সংসার করেছেন আমাদের সেভাবেই পারিবারিক জীবন পরিচালনা করতে হবে। প্রাত্যহিক  জীবনের সব কাজ ও ইবাদত-বন্দেগি নবীর সুন্নত অনুযায়ী হওয়া জরুরি। আল কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ উল্লে­খ করেছেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তাহলে আমি রসুলের অনুসরণ কর। তাহলে আল্ল­াহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্ল­াহ অতিশয় দয়ালু মেহেরবান।’ এ আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, আল্ল­াহর ভালোবাসার মানদ- হলো রসুলের সুন্নত পালন করা। যার মধ্যে রসুলের সুন্নত যত বেশি থাকবে সে তত বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাবে। সঙ্গে সঙ্গে এও  প্রমাণিত হলো, নবীর সুন্নত পালন করলে দুটি পুরস্কার পাওয়া যাবে। প্রথম পুরস্কার হলো আল্ল­াহ স্বয়ং তাকে ভালোবাসবেন। দ্বিতীয় পুরস্কার তার জীবনের সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন। এ দুটি পুরস্কার এমন যে, এগুলো লাভ করা গেলে আর কোনো পুরস্কারের প্রয়োজন নেই। হাদিসে সুন্নতে রসুলের অনুসরণের প্রতি ব্যাপক তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। তারপর আমাদের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং এমন হৃদয়স্পর্শী আলোচনা করলেন যে, এতে আমাদের অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল এবং অন্তর ভয়ে কম্পমান হয়ে গেল। এ অবস্থায় এক লোক বলল, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা যেন কোনো বিদায় দানকারীর উপদেশ। তাই আমাদের আরও কিছু অসিয়ত করুন। তিনি তখন বললেন, আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বন ও আমিরের আনুগত্যের অসিয়ত করছি। এমনকি আমির যদি কোনো হাবশি ক্রীতদাসও হয়। মনে রেখো! আমার পরে যারা বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে। অতএব, তোমরা আমার এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদিনের (সঠিক পথপ্রাপ্ত চার খলিফার) সুন্নতকে অবলম্বন করে থাকবে, যারা হিদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তোমরা এ সুন্নত ও আদর্শ আঁকড়ে ধরবে এবং মজবুতভাবে তা পালন করবে। ইসলামে নতুন উদ্ভাবিত যে কোনো মতাদর্শ থেকে দূরে থাকবে। কেননা, প্রতিটি নতুন মতাদর্শই বিদাত। আর প্রতিটি বিদাতই হলো পথভ্রষ্টতার কারণ। মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নতের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন।

ইয়াহুদিরা যে কারণে মাথায় টুপির মতো ‘কিপ্পা’ পরে
                                  

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মের অনুসারি মুসলিমরা টুপি পরে। ইবাদতের সবক্ষেত্রেই ধর্মপ্রাণ মুসলমান টুপি পরে। ইসলামে টুপি পরা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সার্বক্ষণিক সুন্নাত। কিন্তু ইয়াহুদিরা টুপির মতো মাথার তালুতে পরে ‘কিপ্পা’। কিন্তু তাদের ধর্ম মতে কিপ্পা পরায় রয়েছে বিশেষ কারণ? কিপ্পা পরার সে কারণই বা কী?

‘কিপ্পা’

ইহুদি ধর্মানুসারীরা টুপি পরিধান করে থাকেন। তাদের মাথার তালুতে পরার এ কিপ্পা, মাথার তুলনায় অনেক ছোট। আর তা মাথার ঠিক উপরে পেছনের দিকে পরা হয়। আর তা চুলের সঙ্গে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে রাখতে হয়। যাতে কোনো রকম মাথার তালুর পেছনের অংশ ঢেকে থাকে।

কিপ্পা পরার কারণ:

এ কিপ্পা পরার পেছনে ইয়াহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থ তালমুদে এক বিশেষ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাহলো-

‘তুমি তোমার মাথা ঢেকে রাখো,যেন আসমানের কোনো ক্রোধ ও গজব তোমার উপর পতিত না হয়।’

ধর্মীয় প্রার্থনার সময় এ কিপ্পা পরা তাদের ধর্মের আবশ্যকীয় নিয়ম। তবে অন্যান্য সময় এটা পরায় তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কিপ্পা রঙ ও শ্রেণি বিভেদ:

তবে ইয়াহুদিদের সবাই এক রঙের কিপ্পা পরতে পারে না। শ্রেণি বিশেষের মর্যাদার সঙ্গে মিল রেখেই নির্ধারিত রঙের কিপ্পা পরতে হয়। মান-মর্যাদা, মতবাদ ও স্তরের তারতম্য বিবেচনায় ব্যবহৃত হয় কিপ্পা। আর তাহলো-

>> সাদা রঙের কিপ্পা : রক্ষণশীল ও সংস্কারক মর্যাদা ও স্তরের ইয়াহুদিরা সাদা রঙের কিপ্পা পরে।
>> কালো রঙের কিপ্পা : কট্টর ইয়াহুদি ধর্মাবলম্বীরাই কালো রঙের কিপ্পা পরে। তবে যারা বিশেষভাবে ইয়াহুদি ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা কিংবা গবেষণা করে, তারও কালো রঙের কিপ্পা পরে।
>> অন্যান্য সব রঙের কিপ্পা : অন্যান্য সব সাধারণ ইয়াহুদিরা সাদা ও কালো রঙ ব্যতিত যে কোনো রঙের কিপ্পা পরতে পারে।

ইয়াহুদিরা আল্লাহর ক্রোধ ও গজব পতিত হওয়ার এ ধর্ম বিশ্বাসে বিশ্বাসী। আর এর কারণেই ইয়াহুদি জাতি তাদের নিজেদের মাথায় কিপ্পা পরে। যাতে তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে আসমানি গজ তাদের মাথায় না পড়ে।

উল্লেখ্য যে, যদিও মুসলমানদের অনেকে শুধু নামাজের সময় টুপি পরে। কিন্তু ইসলামে সব সময় টুপি পরার বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে। যা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সুন্নাত। শুধু ঘুম ও গোসলের সময় ছাড়া সব সময় মাথায় টুপি পরা সুন্নাত। অনেকে আবার টুপি মাথায় থাকা অবস্থায়ও ঘুমিয়ে পড়ে।

কাল পবিত্র আশুরা
                                  

ধর্ম ডেস্ক : ১৪৪০ হিজরির মহররম মাসের ১০ তারিখ মোতাবেক ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দেশব্যাপী পবিত্র আশুরা পালিত হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহররমের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা সভা। আরব দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র আশুরা পালিত হলেও বাংলাদেশসহ কিছু দেশে আগামীকাল মহররম পালিত হবে।

দেশে শিয়া সম্প্রদায় মুহররম মাসের প্রথম দশ দিন শোক স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করে। আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিলে হয়। আরবি ‘তাজিয়া’ শব্দটি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।

রাজধানীর হোসাইনী দালান ইমাম বাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। রাজধানীতে আশুরা উপলক্ষে বড় আয়োজন পুরান ঢাকায় হোসাইনী দালান থেকে তাজিয়া মিছিল হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হয?। হাজারও মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি পালিত হবে।

এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের সময় দা, ছোরা, কাচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও টিফিনক্যারি ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। একইসঙ্গে মিছিলে আতশবাজি ও পট্কা ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়।

পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: পবিত্র হিজরি নববর্ষ আগামীকাল বুধবার। বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হিজরি সনের শুভ সূচনা।
 
আগামীকাল বুধবার পয়লা মহররম। শুরু হবে আরবি নববর্ষ,হিজরী ১৪৪০। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে। বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষে আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন তথা কর্মসূচি পালিত হয়ে থাকে।
 
আরবি নববর্ষের অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য থাকা সত্ত্বেও উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না বললেই চলে। হিজরি বছরের শেষ মাস এবং শুরুর মাস অনেক মর্যাদা ও ফজিলতের মাস। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
 
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ১০ মহররম শুক্রবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে থাকে।
 

রোজা শুরু কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : রমজান মাসের তারিখ নির্ধারণের জন্য আজ বুধবার বৈঠক করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ১৪৩৯ হিজরি সালের রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে জানানোর অনুরোধও জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।  চাঁদ দেখা গেলে এসব নম্বরে ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭  ও ৯৫৫৮৩৩৭ ফোন করত বলা হয়েছে।

নামাজে অলসতা ভয়াবহ পাপের কারণ
                                  

ইসলাম ডেস্ক : ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজ। ঈমানের পর নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরআনে কারিমে ৮৩ বার নামাজের আলোচনা এসেছে।
নামাজ ফরজ হওয়া প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী! আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মুমিন তাদের বলুন, নামাজ কায়েম করতে।’ -সূরা ইবরাহিম: ৩১
তাছাড়া নামাজের ব্যাপারে যারা উদাসীন থাকে তাদের ব্যাপারে শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য নিজেদের নামাজের ব্যাপারে যারা থাকে গাফেল।’ -সূরা মাউন: ৪-৫
রোজ হাশরে নামাজের মাধ্যমেই হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। যার নামাজ সঠিক হবে তার অন্য আমল সঠিক বলে বিবেচিত হবে। আর যার নামাজ অসুন্দর হবে তার অন্যান্য আমল অসুন্দর বলে গণ্য হবে।
ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি একেবারে নামাজ ছেড়ে দেবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যাবে। এ মর্মে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘বান্দা ও কুফরের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো- নামাজ ত্যাগ করা।’ -সহিহ মুসলিম
যে ব্যক্তি নামাজের ব্যাপারে অলসতা করবে, চাই সে অলসতা যথাসময়ে আদায় না করার মাধ্যমে হোক বা ঘুমের মাধ্যমে হোক কিংবা শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে নামাজ আদায়ে ত্রুটির মাধ্যমে হোক, সে কাফের না হলেও তার ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে হাদিসে।
হজরত উবাদা ইবনে সামির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি অসিয়ত করেন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কাজ হলো- তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। যদিও তোমাকে টুকরা টুকরা করে ফেলা হয় বা অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ করা হয় আর ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করো না। কেননা যে ইচ্ছে করে নামাজ ছেড়ে দেয় সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।
আল্লাহতায়ালা নামাজের উপকার সম্পর্কে ইরশাদ করেন, এবং নামাজের পাবন্দি করো দিনের দুপ্রান্তে ও রাতের কিছু অংশে। নিঃসন্দেহে সৎ কাজসমূহ অসৎ কাজসমূহকে মিটিয়ে দেয়। -সূরা হূদ: ১১৪
নামাজেরব্যাপক কল্যাণসমূহের উল্লেখযোগ্য একটি হলো- নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, নামাজের পাবন্দি করো। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। -সূরা আনকাবুত: ৪৫
সূরা বাইয়্যিনাতে আম্বিয়ায়ে কেরামের দাওয়াতের দ্বিতীয় ধাপ স্বরূপ নামাজকে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহতায়ালার ইবাদত করবে এবং নামাজ কায়েম করবে।’ -সূরা বাইয়্যিনাহ: ৫
যে ব্যক্তি ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজকে সব শর্তসহ খুশু-খুজুর সঙ্গে নবীর তরিকায় আদায় করবে তার এই নামাজ তাকে সব ধরনের অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে।
আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক মুসলমানকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নবীর তরিকামতে পড়ার তওফিক দান করুন। আমিন।

পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে ইসলাম কি বলে?
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: বর্তমান সমাজে বহু ছেলে-মেয়েদের গোপনে বিয়ে করার কথা শোনা যায়। অনেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন আবার কেউ কেউ পরিবার মেনে নেবে বিধায় আগে ভাগে গোপনে বিয়ে করে। এরা মনে করেন কোনো না কোনো সময় পরিবার তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেবে। এছাড়াও অনেকে গোপনে বিয়ে করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য, পরে তারা প্রতারণার পথ বেছে নেয়। এটি নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। চলুন জেনে নেই, গোপনে বা পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে ইসলাম ধর্ম কি বলে-

এমনই একটি প্রশ্ন করা হয় দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সরাসরি ইসলাম নিয়ে প্রশ্নোত্তরমূলক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শরিফ মেটাল প্রশ্ন করুন’ এ। এই অনুষ্ঠানে কোরআন ও হাদিসের আলোকে দর্শক-শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন দর্শকের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ হাফেজ মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

প্রশ্ন: বাবা-মাকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করা ইসলামী শরিয়ত মতে জায়েজ কিনা?

উত্তর: এ বিষয়ে নবী করীম (সা.) বলেছেন, যদি কোনো নারী তার অভিভাবকের অমতে বা অভিভাবককে না জানিয়ে বিয়ে করে তার সে বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল। এটা একেবারেই উচিৎ নয়। এছাড়া বাব-মা যদি সন্তানের বিয়ের ব্যাপারে উদাসীন হন তাহলে তার বড় ভাই বা চাচার মতামত নিয়ে বিয়ে করতে পারেন। মোট কথা হচ্ছে বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের যেকোনো বয়োজ্যেষ্ঠ অভিভাবকের মতামত নিতেই হবে।



পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ ১৪ এপ্রিল
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট: আগামী ১৪ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ পালিত হবে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ্ নূরী এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ সোমবার পবিত্র জমাদিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী ১৪ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ পালিত হবে।

সভায় তথ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. মিজান-উল-আলম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মু. সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান, ঢাকা জেলার আরডিসি মো. ইলিয়াস মেহেদী, ওয়াক্ফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. ইউসুফ আলী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

এ অবস্থায়, আজ সোমবার পবিত্র জমাদিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে।

মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে চপেটাঘাত করেছিলেন যে নবী!
                                  

হযরত মূসা আ. আল্লাহর অনেক বড় প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনিই একমাত্র নবী ছিলেন যিনি দুনিয়াতেই আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। মূসা আ. এর বিষয়ে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা রয়েছে।

যেমন, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে হযরত মূসা আ. এর নিকট পাঠানো হলো।  ফেরেশতা মূসা আ. এর নিকট আসলে তিনি তাকে চপেটাঘাত করলেন। ফেরেশতার চোখ অন্ধ হয়ে গেল।

ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি এমন লোকের কাছে আমাকে প্রেরণ করেছেন যিনি মৃত্যুবরণ করছে ইচ্ছুক নন। আল্লাহ তার চুক্ষু ভালো করে দিলেন। অত:পর ফেরেশতাকে বললেন, তুমি পুনরায় তার নিকট গিয়ে তাকে একটি ষাড়ের পিঠে হাত রাখতে বল।

এরপর তাকে একথা বলো যে, যতটুকু স্থানে তার হাত পড়বে প্রতিটি পশমের বদলে তাকে এক বছর আয়ু দান করা হবে।

মুসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার প্রভু ! তারপর কি হবে ? তিনি বললেন, অবশ্যই মৃত্যু হবে। একথা শুনে হযরত মুসা আ. বললেন, তবে তো এখনই শ্রেয়। (সহিহ বুখারি, হাদীস নং ১২৫৮) হযরত মুসা আ. এর ইন্তেকালের ঘটনা।

জাহান্নামের শাস্তি শুধু উত্তপ্ত আগুন নয়, তীব্র ঠান্ডাও
                                  

হাবীব আহমদ: জান্নাত ও জাহান্নাম। দুই পথ। দুই পরিণাম। দুই বাসস্থান। নেককারদের জান্নাতের বিপরীতে অসৎ কর্মশীলদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম।
জাহান্নামের স্তর সাতটি। অন্যায় ও জুলুমের স্তর বিবেচনা করে অপরাধীদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে উপযুক্ত স্থানে। টেনে নেওয়া হবে মাথার চুল ধরে। পুলসিরাতের ওপর চলতে গিয়ে জাহান্নামিরা একে একে পরতে থাকবে ক্বারার তথা স্বীয় অবস্থানস্থলে। তন্মধ্যে যাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ইমান আছে, নির্দিষ্ট পরিমাণে শাস্তি ভোগ করার পর তারা আসবেন জান্নাতে। আর নাস্তিক, মুরতাদ কিংবা অবিশ্বাসীরা অনন্তকালের জন্যে থেকে যাবে ওখানেই। আল্লাহতায়ালা আগুনের থাম দিয়ে তাদের বাসস্থানকে এমনভাবে চারদিক থেকে আবদ্ধ করে দেবেন, যেন তিনি তাদের ভুলে গেছেন। কিন্তু অভ্যন্তরে যথারীতি চলতে থাকবে তাদের কৃতকর্মের ফলাফল।
জাহান্নামিদের শাস্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে কোরআনে কারিমে বারবার বলা হয়েছে- ‘নার’ তথা আগুন। যে আগুনের তীব্রতা গায়ের চামড়া খসিয়ে দেবে পুরোপুরি, পরক্ষণেই তা আবার পুনরায় পূর্বের রূপে ফিরে যাবে। আবারও আগুন তা খসিয়ে দেবে। তাদের আঘাত করা হবে আগুনের মুগুর দিয়ে।
এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘কখনও না! তারা নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। তুমি কি জানো হুতামা কি? (তা তো হলো) আল্লাহর প্রজ¦লিত আগুন। যা অন্তরসমূহকে গ্রাস করে। তা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। অতি উঁচু স্তম্ভসমূহে।’ -সূরা হুমাযাহ: ৪-৯
কোরআনে জাহান্নামের পানি আর ছায়ার বর্ণনাও রয়েছে। তার ধরণ হলো- তারা পানি চাইলে দেওয়া হবে গলিত সীসা আর ছায়া হবে উত্তপ্ত। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা থাকবে অতি উষ্ণ বাতাস ও গরম পানিতে। ছায়া হবে উত্তপ্ত।’ -সূরা ওয়াকিয়া: ৪২-৪৩
কোরআনের বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন আরও বহুবিধ শাস্তির কথা। আর এসব বর্ণনার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা চেয়েছেন প্রিয় বান্দাদের সতর্ক করতে। জাহান্নামের এতসব বর্ণনা থাকলেও কিন্তু কোথাও আসেনি শীতল শাস্তির বর্ণনা। তাই বলে কি শীতল কোনো শাস্তি আখেরাতে হবে না?
‘তারা সেখানে আস্বাদন করবে না শামস (উত্তপ্ততা) এবং যামহারির (শীতলতা)
এ প্রশ্নের উত্তর জানতে আসুন শুনে নেই কোরআনের একটি আয়াত। ওই আয়াতে আল্লাহতায়ালা জান্নাতিদের নিয়ামতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘তারা সেখানে আস্বাদন করবে না শামস (উত্তপ্ততা) এবং যামহারির (শীতলতা)।’ -সূরা দাহর: ১৩
কোরআনের কারিমের ব্যাখ্যাকাররা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন- গরমও নয়, ঠান্ডাও নয়। -তাফসিরে জালালাইন, সফওয়াতুত তাফাসির
আর যামহারির শব্দের অর্থ হলো- প্রচ- ঠান্ডা। -আল মুজাম আল ওয়াসিত, হাশিয়ায়ে বোখারি
তীব্র গরম এবং তীব্র শীত অনুভূত না হওয়াকে জান্নাতিদের নিয়ামত বলা হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায়, উভয় অনুভূতি জাহান্নামিদের শাস্তি হবে, যা না থাকাটা জান্নাতিদের কাছে নিয়ামত মনে হবে।
এবার আসি হাদিসের দিকে। সহিহ বোখারি ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করলো- আমার এক অংশকে অপর অংশ খেয়ে ফেলছে। তখন রাব্বে কারিম তাকে দু’বার শ্বাস নেওয়া অনুমতি দিলেন। একবার গ্রীষ্মকালে, আরেকবার শীতকালে। তোমরা গরমের যেই প্রচ-তা অনুভব করো- তা জাহান্নামের উত্তপ্ততা থেকে আর শীতের যে তীব্রতা অনুভব করো; তা জাহান্নামের শীতলতা (যামহারির) থেকে।’ -সহিহ বোখারি ও মুসলিম
বর্ণিত হাদিস দ্বারা বুঝা যায়- জাহান্নামের শাস্তিসমূহ থেকে শীতলতাও এক ধরণের শাস্তি। কিন্তু জান্নাতের আনন্দদায়ক অনুভূতি যেমন শোনেনি কোনো কান, দেখেনি কোনো চোখ, কল্পনা করেনি কোনো অন্তর, তেমনি জাহান্নামের শাস্তির কণা পরিমাণও দুনিয়াতে আমরা অনুভব করতে পারবো না। বস্তুত জাহান্নামের শাস্তির ভয়াবহতা মানুষের ধারনার বাইরে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, তবে কোরআনের কোথাও কেন শীতল কোনো শাস্তির বর্ণনা আসেনি?
এর উত্তরে আরেকটি আয়াত উল্লেখ করা যায়- ‘অবাধ্যদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট বাসস্থান। তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট স্থান। সে আস্বাদন করুক- গাসসাক্ব (পুঁজ) এবং হামিম (গরম পানি)-এর স্বাদ এবং একই আকৃতির আরও অনেক।’ সূরা সোয়াদ: ৫৫-৫৮
আয়াতে ‘একই আকৃতির আরও অনেক’ অংশের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা বলেন, উল্লিখিত আজাবের অনুরূপ অন্যান্য আজাব। যেমন- প্রচ- ঠান্ডা। অতি উষ্ণ বাতাস, জাক্কুম ভক্ষণ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শাস্তি। -সফওয়াতুত তাফসির
সুতরাং আয়াতে শীতলতার নেতিবাচক কোনো কিছু তো নেই-ই বরং পরোক্ষভাবে এর উল্লেখ রয়েছে।
আল্লামা ইবনুস সুন্নি (রহ.) ‘আমালুল লাইল ওয়াল ইয়াওম’ কিতাবে এক দুর্বল হাদিস উল্লেখ করেছেন। তা এই- সাহাবি হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রচন্ড গরমের দিনে যখন বান্দা বলে- ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। আজ কি গরম! হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।’ তখন আল্লাহ জাহান্নামকে বলেন, আমার এক বান্দা তোমার উত্তপ্ততা থেকে মুক্তি চেয়েছে। তুমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি, আমি তাকে তা থেকে মুক্তি দিলাম।’ প্রচন্ড শীতের দিনে যখন বান্দা বলে- আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। আজ কি শীত! হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের যামহারির (শীতলতা) থেকে মুক্তি দিন। আল্লাহ জাহান্নামকে বলেন- আমার এক বান্দা তোমার শীতলতা থেকে মুক্তি চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি, আমি তাকে তা থেকে মুক্তি দিলাম।
সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যামহারির কি? তিনি বললেন, একটি ঘর, যাতে কাফেরদের নিক্ষেপ করা হবে। তা দেহের এক অংশকে আরেক অংশ থেকে পৃথক করে ফেলবে।’
আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানকে জাহান্নামের আগুন ও কষ্টদায়ক শীতলতা ইত্যাদি শাস্তি থেকে মুক্তি দিন। আমিন।

ইমাম কর্তৃক নায়েব নিয়োগ করা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পীড়া যখন বেড়ে গেল, তখন একদিন বিলাল (রা) এসে আযান দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, “আবু বকরকে বলো, লোকজনকে নিয়ে জামায়াতে সালাত আদায় করতে।” তখন আমি বললাম, আবু বকর অত্যন্ত কোমলহুদয় মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে সালাতে ইমামতি করতে গেলে কান্নার দরুন লোকজনকে তিনি (কুরআনের) কিছুই শোনাতে পারবেন না। আপনি যদি তার পরিবর্তে উমারকে আদেশ করতেন, তবে ভাল হতো। আমার কথা বলার পরেও তিনি বললেন, “আবু বকরকে সালাতে ইমামতি করতে বলো।”

তারপর আমি হাফসার কাছে গিয়ে বললাম, তুমি রাসুুলুল্লাহ (সা)-কে একটু বলো যে, আবু বকর নরম দিলের মানুষ। তিনি যদি আপনার জায়গায় ইমামতি করার জন্য দাঁড়ান তবে কান্নার দরুন লোকজনকে কুরআনের কিছুই শোনাতে পারবেন না। আপনি যদি এ ব্যাপারে উমার কে আদেশ করতেন, তবে খুব ভাল হবে। হাফসা (রা) যখন তাঁকে একথা বললেন, তখন তিনি তিরষ্কারের ভংগিতেই বললেন, তোমরা তো দেখছি ইউসুফ (আ)-এর সাথীদের ন্যায় আচরণ শুরু করে দিয়েছো। আবু বকর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলো। অতঃপর আবু বকরকে (রা) যখন সালাত আদায় করা শুরু করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা) একটু আরাম বোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে পা হেঁচড়াতে-হেঁচড়াতে মসজিদে প্রবেশ করলেন।

এদিকে আবু বকর যখন নবী (সা)-এর আগমন টের পেলেন, তখন ইমামের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসার উপক্রম করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) ইশারায় আবুবকরকে স্বস্থানে অবস্থান করার আদেশ দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) মসজিদে প্রবেশ করে তার বাম পাশে বসে পড়লেন। সে সময় আবু বকর (রা) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা) বসে-বসে সালাত আদায় করছেন। আবু বকর (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সালাতের অনুসরণ করছিলেন এবং জনগণ আবু বকর (রা)-এর সালাতের অনুসরণ করছিলেন।”
(বুখারী-কিতাবুল আযান)

কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিতে পারে একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্রের: কা’বার ইমাম
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: পবিত্র কা’বা শরীফের ইমাম শাইখ সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বলেছেন, কাউকে মুরতাদ আখ্যা দেওয়া কিংবা কাফের বলা ও হত্যা করার অধিকার রাখে ইকমাত্র ইসলামি রাষ্ট্র।

পাকিস্তানের জিও নিউজের একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শাইখ সালেহ বিন আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি গোটা বিশ্বে জেহাদ ও হত্যা সংগঠিতভাবে ইসলামি দেশের ইমাম ও সরকারকে অনুসরণ করেই করা উচিত। এর বাইরে যারা জেহাদ ও হত্যা করার চেষ্টা করে তারা কখনো সফল হবে না। ইতিহাসও এ কথা বলে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কিংবা সাংগঠনিক জেহাদের কোনো অবস্থাতেই সুযোগ নেই। ইসলামি দেশ যতই দুর্বল হয়ে পড়–ক। এ দায়িত্ব সরকারের। যদি মুসলিম রাষ্ট্র দুর্বল পড়ে জেহাদ অপরিহার্য নয়। একজন মাজুর মুসলমানের ক্ষেত্রে যেমন সকল বিধান রহিত হয়ে যায় তেমনিভাবে ইসলামি দেশ থেকে কিছু কাজের দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্দশার কারণ আমরা বসে আছি। একে অপরকে সহ্য করতে পারি না, পারস্পরিক মতবিরোধ আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে। নিজেদের মাঝে ঐক্য তৈরি না করলে আরও সঙ্কটময় মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র : জিও নিউজ উর্দু

রাসুল (সা:) যে দুয়া পড়ে রাতে ঘুমাতেন
                                  

সামিউল ইসলাম: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। একবার ঘুমানোর পর যদি আর জ্ঞান না ফিরে আসে তাহলেই তো সব শেষ। আর এ সম্ভাবনা তো অসম্ভব কিছু না। বরং ধ্রুব সত্য। সুতরাং আমাদের মৃত্যু যেন আল্লাহর নাম জপতে জপতে হয় সে জন্য প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়ে গেছেন বিভিন্ন দুয়া। নিচে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার দুয়া উল্লেখ করা হলো,

হযরত হুযাইফ্হা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন,

আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া-আহইয়া। অর্থ : “হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি ও জীবন লাভ করি”।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘুম হতে উঠতেন তখন বলতেন, আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি মৃত্যুদানের পর আমার এ দেহকে পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তাঁর নিকটই ফিরে যেতে হবে”। (জামে তিরমিজি হা : ৩৪১৭ ; সুনানে ইবনে মাজাহ হাঃ ৩৮৮০; সহিহ বুখারী)


   Page 1 of 7
     ইসলাম
ইসলামে জুয়া-বাজি সম্পূর্ণ হারাম
.............................................................................................
আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার আকাশ-বাতাস
.............................................................................................
হজ ব্যবস্থাপনায় সফলতম ইতিহাস : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি
.............................................................................................
ইয়াহুদিরা যে কারণে মাথায় টুপির মতো ‘কিপ্পা’ পরে
.............................................................................................
কাল পবিত্র আশুরা
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
রোজা শুরু কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়
.............................................................................................
নামাজে অলসতা ভয়াবহ পাপের কারণ
.............................................................................................
পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে ইসলাম কি বলে?
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ ১৪ এপ্রিল
.............................................................................................
মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে চপেটাঘাত করেছিলেন যে নবী!
.............................................................................................
জাহান্নামের শাস্তি শুধু উত্তপ্ত আগুন নয়, তীব্র ঠান্ডাও
.............................................................................................
ইমাম কর্তৃক নায়েব নিয়োগ করা
.............................................................................................
কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিতে পারে একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্রের: কা’বার ইমাম
.............................................................................................
রাসুল (সা:) যে দুয়া পড়ে রাতে ঘুমাতেন
.............................................................................................
ইসলামে দৃষ্টিতে বিয়ে
.............................................................................................
ক্ষমার অতুলনীয় আদর্শ মুহাম্মদ (সা:)
.............................................................................................
যেভাবে হয় হজে এসে মৃত্যুবরণকারীদের কাফন-দাফন
.............................................................................................
আজ পবিত্র হজ
.............................................................................................
এবারের হজে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ তিনি!
.............................................................................................
‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর’
.............................................................................................
যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা শপথের মাধ্যমে কোন মুসলমানের সম্পদ দখলের শাস্তি
.............................................................................................
বিশেষ পুরস্কার রয়েছে কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য
.............................................................................................
পবিত্র হজযাত্রার প্রস্তুতিতে যেসব বিষয় মনে রাখা দরকার
.............................................................................................
মুমিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
ইতিকাফ : উদ্দেশ্য-প্রকারভেদ ও করণীয়-বর্জনীয়
.............................................................................................
বাংলাদেশ ইসলামি অর্থনৈতিক সূচকে ১৫তম
.............................................................................................
কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দুবাই গেলেন হাফেজ তরিক
.............................................................................................
সবচেয়ে লম্বা রোজা গ্রিনল্যান্ডে, ছোট চিলিতে
.............................................................................................
এক মিনিটে আদায় করার মতো কিছু আমল
.............................................................................................
পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা
.............................................................................................
ক্যাথলিক ধর্মে ঈশ্বরকে খুঁজে না পেয়ে আইরিশ নারীর ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
আয়াতুল কুরসির ফজিলত
.............................................................................................
ভোলায় ৩ দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু
.............................................................................................
রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালবাসা পোষণ ঈমানের অংশ
.............................................................................................
দারুল উলূম কানাইঘাট মাদ্রাসায় দাওয়াতে তাবলীগের তৎপরতা
.............................................................................................
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
.............................................................................................
চুয়াডাঙ্গায় ইজতেমা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
কোরআনে কারিমের গুণবাচক কিছু নাম
.............................................................................................
শিশুদেরসুন্দর জীবন গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা
.............................................................................................
দাওয়াত ও তাবলিগ ইসলামের প্রাণশক্তি
.............................................................................................
সূরা ইয়াসীন-এর ফজিলত ও আমল
.............................................................................................
নিয়াতের ওপর আমল নির্ভর করে
.............................................................................................
জামাতে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে
.............................................................................................
রিজিক বাড়ে যে সব আমলের দ্বারা
.............................................................................................
আল্লাহ তায়ালা সম্পত্তিতে নারীদের যে অধিকার দিয়েছেন
.............................................................................................
দৈনন্দিন কাজে সুন্নাতের চর্চা
.............................................................................................
সাদাকা’র সওয়াব কি শুধু ধনীরাই পাবে?
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft