বুধবার, ৮ এপ্রিল 2020 | বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আন্তর্জাতিক -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত বদল ভারতের

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জর্জরিত গোটা বিশ^। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশে^র সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকায়ও দেখা দিয়েছে সংকট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা চিকিৎসার উপাদান হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরকায় সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে আবদার করেছিলেন। প্রথমে সম্মত হলেও পরে ভারত তার অবস্থান থেকে সরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাষায় ভারতকে শায়েস্তা করার হুঙ্কার দেন। তিনি বলেন- হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরিকাকে রফতানি না-করা হলে ভারতকে তার ফল ভুগতে হবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাষায় এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত ওই ওষুধ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে তুলে নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের হানায় যে সব দেশগুলির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ তাদেরকে এরকম ২৬টি ড্রাগ সরবরাহ করা হবে - তবে সেটা করা হবে ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজস্ব প্রয়োজন মিটিয়েই। ভারত আগে দেশের অভ্যন্তরীণ ও সেই সঙ্গে নেপাল-বাংলাদেশ-ভুটান-শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর চাহিদা থেকে থাকলে সেটা আগে মেটানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

যেহেতু হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এখন ভারতেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, তাই সেই ওষুধটির রফতানিতে ভারত নিজেও দ্বিধায় ভুগছে বলে তারা অনেকেই মনে করছেন।

বস্তুত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকরী ওষুধ বলে পরিচিত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের চাহিদা সারা দুনিয়া জুড়েই হঠাৎ করে সাঙ্ঘাতিক বেড়ে গেছে-কারণ করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই ওষুধটি বেশ ভাল কাজ করছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

এই ওষুধটি ভারতেও বিপুল পরিমাণে কাজে লাগতে পারে, এই বিবেচনায় বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ড্রাগ রফতানিকারী এই দেশটি গত মাসে আচমকাই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-সহ মোট ২৬টি ড্রাগ রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

এতে প্রচন্ড চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি গত বেশ কিছুদিন ধরে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের হয়ে জোরালো সওয়াল করে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোমবারের ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ভারত যদি এই নিষেধাজ্ঞা না-তোলে তাহলে আমি অবাকই হব, কারণ আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভাল। তারা বহু বছর ধরে আমাদের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা নিয়েছে। আমাদের ওষুধের জোগান যাতে পাঠানো হয়, সেটা বলতে আমি রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথাও বলেছি। যদি তারা না-পাঠায় - তাহলে ঠিক আছে, কিন্তু আমরাও সে ক্ষেত্রে পাল্টা আঘাত করব। কেন করব না?’

কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের দুটি বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, ইপকা ল্যাবরেটরিজ ও জাইডাস ক্যাডিলা আমেরিকার কাছ থেকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বিপুল পরিমাণ অর্ডার পেয়েছিল।

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সেই চালান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি যে এই ভাষায় দিল্লিকে হুমকি দেবেন কূটনৈতিক মহলও তা ভাবতে পারেনি।

আজ মঙ্গলবার এমনিতেই ভারতের ওই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার কথা ছিল - এবং মি ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির ঘন্টাকয়েকের মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়ে দেন, ‘আমেরিকা-সহ যেসব দেশ করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় বিপন্ন অবস্থানে আছে তাদেরকে ভারত ওই ওষুধ সরবরাহ করবে।’

এদিকে ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের মহাপরিচালক ড: বলরাম ভার্গব এর মধ্যেই জানিয়েছেন, ভারতে যে সব ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত আছেন কিংবা বাড়িতেও যদি কেউ করোনা পজিটিভ রোগীর সেবা-শুশ্রূষায় রত থাকেন - শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে তারা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সুপারিশ করছেন।

‘আর এই চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ঠ মজুত ভারতে আছে’ বলেও ড: ভার্গব দাবি করেছেন।

যদিও ভারতে পাড়ার ফার্মেসি বা সাধারণ ওষুধের দোকানগুলোতেও এখন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন অমিল - তার পরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি ভারতকে একরকম মেনে নিতেই হল।

এই ধরনের ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের যে নানা আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও আছে, সেটাও এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে স্বীকার করা হল বলে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন।

ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বহু বছর ধরে য্ক্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড: স্বাতী মাহেশ্বরী বলছিলেন, ‘জয়পুরের সওয়াই মান সিং হাসপাতালে যে দুজন কোভিড-পজিটিভ রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে, তাদেরও কিন্তু এই ক্লোরোকুইন দেওয়া হয়েছিল - সঙ্গে আরও কিছু ড্রাগ।’

‘আসলে ক্লোরোকুইন ও তার বিভিন্ন ডেরিভেটিভ ভারতীয় ডাক্তাররা গত সত্তর বছর ধরে প্রেসক্রাইব করে আসছেন - শুধু ম্যালেরিয়া নয়, আরও নানা রোগেও।’

‘এই ওষুধটাকে তারা হাতের তালুর মতো চেনেন বলেই এই সঙ্কটের সময় এটা রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের একটা সংশয় কাজ করেছে বলে আমার ধারণা’, বলছিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ভারত অবশ্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মার্কিন চালানে আপাতত আর কোনও বাধা সৃষ্টি করছে না।

ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত বদল ভারতের
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জর্জরিত গোটা বিশ^। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশে^র সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকায়ও দেখা দিয়েছে সংকট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা চিকিৎসার উপাদান হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরকায় সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে আবদার করেছিলেন। প্রথমে সম্মত হলেও পরে ভারত তার অবস্থান থেকে সরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাষায় ভারতকে শায়েস্তা করার হুঙ্কার দেন। তিনি বলেন- হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরিকাকে রফতানি না-করা হলে ভারতকে তার ফল ভুগতে হবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাষায় এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত ওই ওষুধ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে তুলে নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের হানায় যে সব দেশগুলির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ তাদেরকে এরকম ২৬টি ড্রাগ সরবরাহ করা হবে - তবে সেটা করা হবে ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজস্ব প্রয়োজন মিটিয়েই। ভারত আগে দেশের অভ্যন্তরীণ ও সেই সঙ্গে নেপাল-বাংলাদেশ-ভুটান-শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর চাহিদা থেকে থাকলে সেটা আগে মেটানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

যেহেতু হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এখন ভারতেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, তাই সেই ওষুধটির রফতানিতে ভারত নিজেও দ্বিধায় ভুগছে বলে তারা অনেকেই মনে করছেন।

বস্তুত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকরী ওষুধ বলে পরিচিত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের চাহিদা সারা দুনিয়া জুড়েই হঠাৎ করে সাঙ্ঘাতিক বেড়ে গেছে-কারণ করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাতেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই ওষুধটি বেশ ভাল কাজ করছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

এই ওষুধটি ভারতেও বিপুল পরিমাণে কাজে লাগতে পারে, এই বিবেচনায় বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ড্রাগ রফতানিকারী এই দেশটি গত মাসে আচমকাই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-সহ মোট ২৬টি ড্রাগ রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

এতে প্রচন্ড চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি গত বেশ কিছুদিন ধরে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের হয়ে জোরালো সওয়াল করে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোমবারের ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ভারত যদি এই নিষেধাজ্ঞা না-তোলে তাহলে আমি অবাকই হব, কারণ আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভাল। তারা বহু বছর ধরে আমাদের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা নিয়েছে। আমাদের ওষুধের জোগান যাতে পাঠানো হয়, সেটা বলতে আমি রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথাও বলেছি। যদি তারা না-পাঠায় - তাহলে ঠিক আছে, কিন্তু আমরাও সে ক্ষেত্রে পাল্টা আঘাত করব। কেন করব না?’

কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের দুটি বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, ইপকা ল্যাবরেটরিজ ও জাইডাস ক্যাডিলা আমেরিকার কাছ থেকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বিপুল পরিমাণ অর্ডার পেয়েছিল।

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সেই চালান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি যে এই ভাষায় দিল্লিকে হুমকি দেবেন কূটনৈতিক মহলও তা ভাবতে পারেনি।

আজ মঙ্গলবার এমনিতেই ভারতের ওই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার কথা ছিল - এবং মি ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির ঘন্টাকয়েকের মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়ে দেন, ‘আমেরিকা-সহ যেসব দেশ করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় বিপন্ন অবস্থানে আছে তাদেরকে ভারত ওই ওষুধ সরবরাহ করবে।’

এদিকে ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের মহাপরিচালক ড: বলরাম ভার্গব এর মধ্যেই জানিয়েছেন, ভারতে যে সব ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত আছেন কিংবা বাড়িতেও যদি কেউ করোনা পজিটিভ রোগীর সেবা-শুশ্রূষায় রত থাকেন - শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে তারা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সুপারিশ করছেন।

‘আর এই চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ঠ মজুত ভারতে আছে’ বলেও ড: ভার্গব দাবি করেছেন।

যদিও ভারতে পাড়ার ফার্মেসি বা সাধারণ ওষুধের দোকানগুলোতেও এখন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন অমিল - তার পরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি ভারতকে একরকম মেনে নিতেই হল।

এই ধরনের ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের যে নানা আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও আছে, সেটাও এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে স্বীকার করা হল বলে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন।

ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বহু বছর ধরে য্ক্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড: স্বাতী মাহেশ্বরী বলছিলেন, ‘জয়পুরের সওয়াই মান সিং হাসপাতালে যে দুজন কোভিড-পজিটিভ রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে, তাদেরও কিন্তু এই ক্লোরোকুইন দেওয়া হয়েছিল - সঙ্গে আরও কিছু ড্রাগ।’

‘আসলে ক্লোরোকুইন ও তার বিভিন্ন ডেরিভেটিভ ভারতীয় ডাক্তাররা গত সত্তর বছর ধরে প্রেসক্রাইব করে আসছেন - শুধু ম্যালেরিয়া নয়, আরও নানা রোগেও।’

‘এই ওষুধটাকে তারা হাতের তালুর মতো চেনেন বলেই এই সঙ্কটের সময় এটা রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের একটা সংশয় কাজ করেছে বলে আমার ধারণা’, বলছিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ভারত অবশ্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মার্কিন চালানে আপাতত আর কোনও বাধা সৃষ্টি করছে না।

করোনা নিয়ে মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ সুদাইসের উপদেশ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: সমগ্র বিশ্ব মরণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার অংশ হিসেবে মুসলমানদের প্রধান দুই মসজিদে সাধারন মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। রোববার (৬ এপ্রিল) মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট ও মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ ড. আব্দুর রহমান সুদাইস মদিনার মসজিদে নববীতে এশার নামাজের ইমামতি করেন।

নামাজের পর তিনি বর্তমান বিপর্যস্ত বিশ্বের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করেন। তার বয়ান নিচে তুলে ধরা হলো-

বর্তমান বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সারা বিশ্ব আজ ধেয়ে আসা একটি মহাবিপদে আপতিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক মহা পরীক্ষা।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। (সূরা বাকারা-১৫৫)

দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের হারামাইনের এই পবিত্র ভূমিও আজ এ মুসিবতের অনুপ্রবেশ ও বিস্তার থেকে মুক্ত নয়। এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকাই বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। (সূরা আল ক্বমার- ৪৯)

যে কোনো মুসিবত আল্লাহর নির্দেশে আপতিত হয়। যেগুলো তার মহিমান্বিত বাণীতে সুবিদিত হয়েছে, আল্লাহ্ ইরশাদ করেন, পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (সূরা হাদীদ- ২২)

শুনে রেখ! তারই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরা আরাফ- ৫৪)

তাই, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবার উচিত আল্লাহর প্রতি ঈমানকে দৃঢ় করা এবং তার ওপর ইতিবাচক ধারণা পোষন করা। আল্লাহ আমাদের বরকতদাতা, তিনিই মহান। সঙ্গে এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করা উচিত যে, আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠ রূপে ফিরে যাওয়া ব্যতীত আমাদের আর কোন গন্তব্য নেই।

সমগ্র মুসলিম জাতির কর্তব্য হল এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সুরক্ষার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করা এবং এটিকে প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া। হারমাইনের পবিত্র এই দেশটিও শরীয়তের মূলনীতি বিবেচনায় নানা ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। মনে রাখতে হবে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরক্ষাই উত্তম।

সবমিলিয়ে নিজেদের সুস্থতার প্রতি সচেতন হতে হবে। কেননা আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যেকই যার যার স্থানে দায়িত্বশীল। নিজেদের অধীনস্থদের বিষয়ে আমরা নিজেরা প্রশ্নের সম্মুখীন হবো। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা উচিত। এটিই শরীয়তের দাবি।

কোয়ারেন্টিনের এই উদ্ভাবন শরীয়তের আলোকেই সাব্যস্ত। আল্লাহ বলেন, আর তোমরা তোমাদের নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। (সূরা বাকারা-১৯৫)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সূরা নিসা- ২৯)

আর আমরা কোনো ধরণের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নিজেদের মাঝে আশাবাদের জাগরণ সৃষ্টি করব। ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই এই শঙ্কা কেটে যাবে।

তাই আমাদের জন্য উচিত হল অধিক পরিমাণে দোয়ায় মনযোগী হওয়া। কেননা এটি মুমীনের হাতিয়ার। আল্লাহ বলেন, তোমাদের পালকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তাতে সাড়া দেবো। (সূরা মুমিন-৬০)

আর আমাদের আল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করা উচিত। আল্লাহর ইরশাদ, আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গাম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম; যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে। এরপর তাদের কাছে যখন আমার আজাব আসলো, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করলো না? (সূরা আনআম- ৪২-৪৩)

আর এটি সুবিদিত এবং পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়ম যে, মুসিবতে আল্লাহমুখী হলে তা তিনি দূরীভূত করে দেন।

আর আমরা এখন মহিমান্বিত রমজানের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। তাওবা ও ইস্তেগফারের মধ্য দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং আগত মাসকে বরণ করে নেয়া এখন আমাদের প্রধান কাজ।

করোনা আক্রান্ত বরিস জনসনের অবস্থার অবনতি
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১১ দিন আগে প্রাণসংহারী নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বরং তা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় রোববার রাতে সেন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রধানমন্ত্রী জনসনকে। করোনা পজেটিভ আসার ১০দিন পর তার শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা এবং তীব্র কাশির কারণে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পরিবর্তে এই মুহূর্তে করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্বে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জনসনের করোনায় আক্রান্তের ঘটনা পুরো ব্রিটিশ সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের একেবারে শীর্ষস্থানীয় নেতার করোনায় আক্রান্তের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস লক্ষণে তিনি ভুগছেন। তার কাশি, উচ্চ তাপমাত্রা সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী বরিস জনসনের দেহে ১১ দিন আগে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। কিন্তু তার ক্রমাবনতি হওয়া সরকারের জন্য একটি মারাত্মক আঘাত। যদি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে সহসাই কাজে যোগ দিতে পারবেন না।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিন দোরিস প্রথম কোনো মন্ত্রী হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হলেও তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। নাদিনের মতে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘুমানো প্রয়োজন এবং সুস্থ হওয়া দরকার।

জনসনের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও সেলফ আইসোলেশনে আছেন। তার অন্তঃসত্ত্বা হবু স্ত্রী ৩২ বছর বয়সী কেরি সিমন্ডসের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও তিনি এখন আগের চেয়ে ভালো আছেন।

২৬শে মার্চ করোনাভাইরাস ধরা পড়ে বরিস জনসনের। কিন্তু এতে যে তিনি গুরুত্বর অসুস্থ নন, এমনটা দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি ভিডিও পোস্ট করে জানান দেন ভাল আছেন। কিন্তু ওইসব ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে বিধ্বস্ত। তার চেহারাই বলে দিচ্ছিল তিনি ভাল নেই।

আইসিইউতে নেয়ার আগে তিনি টুইটারে আশা জাগানিয়া একটি বার্তা পোস্ট করেছেন সোমবার। তাতে বলেছেন, গত রাতে আমার চিকিৎসকদের পরামর্শে আমি হাসপাতালে এসেছি কিছু নিয়মিত পরীক্ষার জন্য। এখনও আমার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো আছে। আমি প্রফুল্ল আছি। আমার টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কারণ, আমরা সবাই মিলে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা সবাইকে নিরাপদ রাখবো। এরপরই তাকে আইসিইউতে নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সারাবিশ্ব থেকে তার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে পাঠানো বার্তা আসতে থাকে।

তিন মাস পর চীনে নতুন মৃত্যু নেই
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণসংহারী নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃত্যু ও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও  চীনের মূল ভূখণ্ডে তিন মাস পর নেই নতুন মৃত্যু।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর গতকাল সোমবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো এ রোগে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ মঙ্গলবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য দিয়েছে।

বিশ্বে মৃত্যু ও আক্রান্ত রোগী বাড়লেও চীনে মার্চ মাস থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তবে বিদেশফেরতদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়টি মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির জন্য। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বিদেশফেরত ব্যক্তি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার চীনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। যা রোববারের তুলনায় সাতজন কম। নতুন আক্রান্তদের সবাই বিদেশফেরত।

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সবমিলিয়ে ৮১ হাজার ৭৪০ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭৭ হাজার ১৬৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩৩১ জনের।

আইসিইউতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: করোনায় আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে হাসপাতালের আইসিউইতে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় বরিস জনসন জানিয়েছিলেন যে, তার শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি। ১০ দিন আগে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ার পর থেকেই আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। করোনা পজেটিভ আসার পরেও গত কয়েক দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন জনসন।

আইসোলেশনে থাকার ১০ দিন পরেও তার শরীরে করোনার লক্ষণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এক সপ্তাহের বেশি কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে তা থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এরআগে, দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিন দোরিস করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

কাশ্মীরে গোলাগুলিতে ৩ সেনাসহ নিহত ১২
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে পৃথক ঘটনায় স্বাধীনতাকামী ৯ গেরিলা ও ভারতীয় ৩ সেনা নিহত হয়েছেন। রোববার ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজ।

ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানান, রোববার ভোরে সেনাবাহিনীর গুলিতে পাঁচ গেরিলা নিহত হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত কাশ্মীরের কার্যকর সীমান্ত হিসেবে পরিচিত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসি কাছাকাছি উত্তরাঞ্চলীয় কেরান এলাকায় ওই পাঁচ গেরিলা নিহত হন। সংঘর্ষে তিন সেনা নিহত এবং কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি বাহিনী এবং স্বাধীনতাকামী গেরিলাদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় কুলগামে বন্দুকযুদ্ধের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ লড়াই হয়। সেখানে শনিবার চার গেরিলা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাঘের শরীরে করোনার হানা
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। অদৃশ্য এ ভাইরাসে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছের প্রায় ৭০ হাজার জন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না পশুরাও।

মানুষের পর এবার বাঘের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানার একটি বাঘ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ৬ এপ্রিল সোমবার ওই চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১৬ মার্চ থেকে চিড়িয়াখানাটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এরমধ্যেই এ সংক্রমণের ঘটনা ঘটলো। সেখানকার আরও কয়েকটি প্রাণীর মধ্যেও এ ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, মানুষের মাধ্যমে কোনও প্রাণীর শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ এটাই প্রথম।

সম্প্রতি নাদিয়া নামের চার বছর বয়সী মালায়ান বাঘটির শুষ্ক কাশি দেখা দেয়। আগের মতো খেতেও চাইছিল না। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে আইওয়ার ভেটেরিনারি সার্ভিস ল্যাবরেটরিতে নেওয়া হয়। সেখানে তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। বাঘটি তার রক্ষণাবেক্ষণকারীর মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে বলে মনে করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চার বছরের নাদিয়ার বোন আজুল, দুটি আমুর বাঘ এবং তিনটি আফ্রিকান সিংহের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। তবে দৃশ্যত তারা এখন সুস্থ। তারপরও সেগুলোকে আইসোলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় প্রধান পশু চিকিৎসক পল ক্যালি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এই প্রথম আমরা জানলাম একজন মানুষ একটি প্রাণীকে সংক্রমিত করেছে এবং প্রাণীটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ সংক্রমণ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল অন্য চিড়িয়াখানাগুলোকেও অবগত করতে চান বলে জানান পল ক্যালি।

চিড়িয়াখানার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাদিয়া নামের বাঘটিকে যথেষ্ট সাবধানতার সঙ্গে বাইরে পরীক্ষা করানো হয়েছে। এ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান করোনাভাইরাসের চলমান গতিপ্রকৃতি অনুধাবনে বিশ্ববাসীকে সহায়তা করবে। সূত্র : বিবিসি ও সিএনএন।

করোনা আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন হাসপাতালে
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের বাসা থেকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তা প্রকাশ করেনি ডাউনিং স্ট্রিট কর্তৃপক্ষ।

গত মাসে পরীক্ষায় জনসনের দেহে করোনাভারাস শনাক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনে আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। কিন্তু ১০ দিন পার হওয়ার পরও শরীরে জ্বর থাকায় পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার বলে মনে করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এরপর জনসনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এখনও করোনার লক্ষণ বিদ্যমান। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এটি পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, কারণ পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ার ১০ দিন পরও প্রধানমন্ত্রী ভাইরাসটির লক্ষণ বহন করছেন ।

পরীক্ষায় তার দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তা ২৭ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জনসন। তারপর থেকে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে আইসোলেশনে ছিলেন এবং শুক্রবারও শরীরে জ্বর থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।  

করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১১৬৫ জনের মৃত্যু
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের নতুন তান্ডবস্থলে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন, ইতালি এবং স্পেনের পর একদিনে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যার তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৬৫ জন।  খবর ওয়ার্ল্ডওমিটারের।

গতকাল আরও ২৫ হাজার ২৯ জন করোনা আক্রান্তের রোগী সনাক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ৩ লাখ ৩৭ হাজার। রবিবার সহস্রাধিক মৃত্যুর আগে দেশটিতে গত শুক্রবার ১ হাজার ১৬৯ এবং শনিবার ১ হাজার ৩৪৪ জন করোনা রোগী মারা গেছে। বর্তমানে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬১৮ জন।

দেশটির একটি অঙ্গরাজ্য বাদে সব অঙ্গরাজ্যেই করোনায় মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিপর্যস্ত জনবহুল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য।

নিউইয়র্কে রবিবার করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আরও ৫৯৪ জন প্রাণ হারান। গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো রোববার করোনা নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ নিয়ে নিউইয়র্কে মৃতের সংখ্যা এখন ৪ হাজার ১৫৯। বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১২ লাখ ৭৩ হাজার।

যুক্তরাজ্যে পিপিই সঙ্কট: পলিথিন পরে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তাররা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীতে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। রোগীর অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসক-নার্সদের ওপর চাপ বাড়ছে। সঙ্কট দেখা দিয়েছে ডাক্তার-নার্সদের পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট পিপিই’র।    এমতাবস্থায় পলিথিন দিয়ে পিপিই বানিয়েই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) চাহিদার তুলনায় কম থাকায় দেশটির ডাক্তাররা পলিথিন পরেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। দেশটিতে আইসিইউ বাড়াচ্ছে সরকার। তবে তাদের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কম থাকায় নিজেদের বাঁচাতেই এ উদ্যোগ।

নাম না প্রকাশ করা শর্তে যুক্তরাজ্যের এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, দেশটিতে খাদের কিনারায় থাকা একটি হাসপাতালের আইসিইউ কোভিড-১৯ রোগীতে পরিপূর্ণ। ওই হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্যকর্মী, রোগীর বিছানা, সাধারণ এন্টিবায়োটিক ও ভেন্টিলেটরের অভাব আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস ১৪-১৫ এপ্রিলের মধ্যে বড় আঘাত হানবে। বিশ্লেষকদের ভাষায় যেটাকে বলা হচ্ছে ‘পিক টাইম’।

খবরে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত সুরক্ষা দেয়া সরঞ্জামের অভাব প্রকট, এমনও হয়েছে যে পিপিইর অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তির থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো দূরত্বে থেকে কাজ করছেন চিকিৎসকরা; যেখানে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে ২ মিটার হতে হবে ন্যূনতম দূরত্ব।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই ডাক্তার জানিয়েছেন, মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তাদের জীবনে সেটা এখনই ভাবাচ্ছে। তারা এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন। নিজেদের পিপিই নিজেরাই তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, এটা বাস্তব চিন্তা, নিবিড় চিকিৎসা যে সব নার্স দিচ্ছেন তাদের এটা এখনই প্রয়োজন। তারা যেখানে কাজ করছেন সেখানে ভাইরাস অ্যারোসলের মতো করে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের বলা হচ্ছে খুব সাধারণ টুপি পরতে যেটায় ছিদ্র আছে। যেটা কোনো সুরক্ষাই দিচ্ছে না। এটা প্রচণ্ড রকমের ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কর্মীরা বিনের ব্যাগ ও অ্যাপ্রোণ পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা পহেলা এপ্রিল ১০ লাখ মাস্ক বিতরণ করেছে বলে জানিয়েছে এনএইচএস। তবে সেখানে মাথার সুরক্ষা ও গাউনের কথা বলা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব লন্ডনের হেলথ কেয়ার সহকারী থমাস হারভে, সেন্ট্রাল লন্ডনের প্রফেসর মোহাম্মদ সামি সৌশা, দক্ষিণের ড. হাবিব জাইদি, পশ্চিম লন্ডনের ড. আদিল এল তাইয়ার এবং লেস্টারের ড. আমজেদ এল হাওরানি মারা গেছেন।

কেউ এগিয়ে আসেনি; পিতার মরদেহ মেয়েদের কাঁধে
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে কাঁপছে পুরো বিশ^। করোনার কাছে মানবতা হার মেনেছে।  করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সামাজিক দূরত্বের কারণে এবার মৃত্যুর পর এক ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিল না কেউ। অবশেষে নিরুপায় চার মেয়ে তাদের পিতার মরদেহ কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ভারতে আলিগড়ে। মৃত সঞ্জয় কুমার লকডাউনের কারণে ওষুধ না পেয়ে যক্ষ্মা রোগে মারা যান। কিন্তু করোনা আতঙ্কে এলাকার কেউ তার শেষকৃত্যে না এলে অসহায় চার মেয়ে পিতার লাশ কাঁধে তুলে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আলিগড়ের নুমাইশ ময়দানের চা-হেলিংয়ের বাসিন্দা ছিলেন বছর ৪৫ এর সঞ্জয় কুমার। পেশা চা বিক্রেতা হলেও বেশ কিছুদিন ধরে যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ এনেই কোনও রকমে নিজের রোগের মোকাবিলা করছিলেন সঞ্জয়। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে, আর চার মেয়ে অভাবের কারণেই পড়াশোনা ছেড়ে ঘরের কাজ করে।

তবে চরম দারিদ্রতার মধ্যেও কারও সাহায্য নেননি সঞ্জয় কুমার। সম্প্রতি তার শরীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। সরকারি হাসপাতালেও ওষুধের সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। শেষরক্ষা হয়নি আর। অবশেষে মারা গেলেন তিনি।

করোনায় মৃত্যু ৬৪৭৪৭, আক্রান্ত ১২ লাখ ৩ হাজার মানুষ
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী ১২ লাখ ৩ হাজার ১৮৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৬৪ হাজার ৭৪৭ জনের। এ রোগে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে প্রায় আড়াই লাখ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও এখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় সবার ওপরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৪৫৪ জনের।

মৃতের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৬২। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জন।

মৃতের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৯৪৭ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৮ জন।

করোনাভাইরাসে ফ্রান্সে মোট ৭ হাজার ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর দেশটিতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ জন। এ নিয়ে ফ্রান্সে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ হাজার ৯৫৩।

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮৮ জনে। এর মধ্যে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনের মূল ভূখ-ে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৬৬৯ জন। আর মারা গেছেন ৩ হাজার ৩২৯ জন।  তবে এখন চীনে এই হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। যে উহান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে সেখানের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

কেউ নিরাপদে নেই : ইমরান খান
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া করোনাভাইরাসে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এ ভাইরাসে অন্যান্য দেশের মত পাকিস্তানেও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ৪১ জন মারা গেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলছেন, কেউ নিরাপদে নেই । নিউ ইয়র্কের অবস্থা দেখুন যেখানে সব ধনী মানুষের বসবাস, তবুও তারা করোনা প্রতিরোধ করতে পারছে না।  

করোনা পরবর্তীতে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে এই নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ইমরান খান বলেন, জনগণকে রক্ষা করার জন্য এরই মধ্যে সাধ্যমত সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

পাঞ্জাব সরকার করোনা প্রতিরোধে কী কী সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তা পর্যবেক্ষণে লাহোর সফর করেছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষের বসবাস পাঞ্জাবে।

প্রতি ঘন্টায় নিউ ইয়র্কে মারা যাচ্ছে ২৩ জন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনার ভয়াল থাবায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৬২৮ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৫৩ হাজার ১৬ জন। করোনা মোকাবেলায় কার্যকর তেমন কিছুই করতে পারছেনা উন্নত দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রতি ঘন্টায় মারা যাচ্ছেন ২৩ জন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইতালি ও স্পেনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। করোনা মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলো যেভাবে হিমশিম খাচ্ছে তাতে দরিদ্র দেশগুলো মৃত্যুপুরী হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারীর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নিউ ইয়র্ক। সেখানে ব্যাপক হারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে কোভিড-১৯। নিউ ইয়র্কে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬২ জন মারা গেছে, প্রতি ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছে ২৩ জন। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে তিন হাজার ২১৮ জন মারা গেছে করোনায়। মোট আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৪৭৬ জনে। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন গভর্নর কুমো। অন্তত আরো দুই সপ্তাহ এভাবে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকবে বলে আশঙ্কা গভর্নরের। যুক্তরাষ্ট্রের মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশই নিউ ইয়র্ক শহরের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে- করোনা চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুই লাখ ৪০ হাজার ১২০ জন। আট লাখ ৫১ হাজার ২৬৮ জন চিকিৎসাধীন এবং ৩৯ হাজার ৯৪৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর বিবিসি

এদিকে, গত শুক্রবার জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, করোনার মহামারী এখনো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পৌঁছায়নি। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো সঙ্ঘাতকবলিত দেশগুলোতে সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে। এমতাবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছি। এটি জরুরি প্রয়োজন। ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, লিবিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইয়েমেনের তরফ থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বানে সাড়া দেয়া হয়। তবে ঘোষণা ও কাজে পরিণত করার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লড়াই আরো তীব্র হয়েছে। করোনা মহামারী মোকাবেলায় দরিদ্র দেশগুলোকে আরো বেশি সহায়তা দিতে উন্নত দেশ এবং বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

করোনায় মৃতদের স্মরণে শোক, স্তব্ধ পুরো চীন
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শোক পালন করেছে চীন। শোক প্রকাশের জন্য দেশটির নাগরিকরা তিন মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যে যেখানে ছিলেন, দাঁড়িয়ে গিয়ে পালন করেন তিন মিনিটের নিরবতা। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো চীন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ৩ হাজার ৩২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রতি শোক প্রকাশ করতে শনিবার শোক দিবস পালন করা হয়।

নিরবতা পালন শেষে বেজে উঠে গাড়ি, ট্রেন, জাহাজের হর্ণ। আকাশে ছড়িয়ে পড়ে প্লেন থেকে বাজানো সাইরেন। দেশব্যাপী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

যে শহর থেকে প্রথম করোনা ছড়িয়ে পড়ে, সেই উহানের সমস্ত রাস্তাঘাটে ট্রাফিক বাতি লাল করে রাখা হয়। তিন মিনিটের জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া হয় শহর এলাকার পুরো ট্রাফিক সিস্টেম।

চীনা সরকার জানিয়েছে, `শহীদদের` প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলা করতে ১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়।

করোনায় আক্রান্ত সিএনএনের উপস্থাপিকা ব্রুক বাল্ডউইন
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  এবার প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের উপস্থাপিকা ব্রুক বাল্ডউইন । শুক্রবার এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি নিজেই এ খবর দিয়েছেন।

সিএনএন জানায়, একদিন আগে থেকে তার করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি টেস্ট করেন। শুক্রবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বাল্ডউইন লেখেন, আমি ঠিক আছি। এটা হঠাৎ করেই গতকাল দুপুরে এসেছে। সর্দি, ব্যথা, জ্বর।

বাল্ডউইন সিএনএন এর দ্বিতীয় উপস্থাপক যার করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। ক্রিস কুয়োমো নামে আরেক উপস্থাপকেরও করোনা ধরা পড়ে চলতি সপ্তাহের প্রথমে।  

ব্রুক বাল্ডউইন কাজ করেন সিএনএন এর নিউইয়র্ক সিটির অফিসে। তিনি সব নিয়মকানুন মেনে চলছেন এবং শিগগিরই সুস্থ হয়ে আবার পর্দার সামনে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।


   Page 1 of 137
     আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত বদল ভারতের
.............................................................................................
করোনা নিয়ে মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ সুদাইসের উপদেশ
.............................................................................................
করোনা আক্রান্ত বরিস জনসনের অবস্থার অবনতি
.............................................................................................
তিন মাস পর চীনে নতুন মৃত্যু নেই
.............................................................................................
আইসিইউতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
.............................................................................................
কাশ্মীরে গোলাগুলিতে ৩ সেনাসহ নিহত ১২
.............................................................................................
বাঘের শরীরে করোনার হানা
.............................................................................................
করোনা আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন হাসপাতালে
.............................................................................................
করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১১৬৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যে পিপিই সঙ্কট: পলিথিন পরে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তাররা
.............................................................................................
কেউ এগিয়ে আসেনি; পিতার মরদেহ মেয়েদের কাঁধে
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ৬৪৭৪৭, আক্রান্ত ১২ লাখ ৩ হাজার মানুষ
.............................................................................................
কেউ নিরাপদে নেই : ইমরান খান
.............................................................................................
প্রতি ঘন্টায় নিউ ইয়র্কে মারা যাচ্ছে ২৩ জন
.............................................................................................
করোনায় মৃতদের স্মরণে শোক, স্তব্ধ পুরো চীন
.............................................................................................
করোনায় আক্রান্ত সিএনএনের উপস্থাপিকা ব্রুক বাল্ডউইন
.............................................................................................
ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৩ হাজার ৮২
.............................................................................................
করোনায় প্রাণহানী বেড়ে ৫৯ হাজার ২০৩
.............................................................................................
চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত ১, কোয়ারেন্টাইনে ১৮
.............................................................................................
ভারতে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
এবার একমাসের লকডাউনে সিঙ্গাপুর
.............................................................................................
লকডাউন না মানলে গুলি করে হত্যা, রদ্রিগো দুতার্তের হুঁশিয়ারি
.............................................................................................
নির্দেশনা মেনে চলুন, সামনে কঠিন সময় : ট্রাম্প
.............................................................................................
করোনার ঝুঁকিতে দিল্লির তাবলিগ জামাতের ৯ হাজার মানুষ
.............................................................................................
এশিয়ার বৃহত্তম ধারাভি বস্তিতে করোনার হানা
.............................................................................................
করোনায় আক্রান্ত ৯ লাখ ৩৬ হাজার, মৃত্যু ৪৭২৪৯
.............................................................................................
করোনার কাছে হেরে গেলেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী গীতা রামজি
.............................................................................................
এখনই হজ বাতিল করতে চায় না সৌদি আরব
.............................................................................................
হাউছিদের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের বিমান হামলা
.............................................................................................
তিন মাসে করোনায় ৪২৩৩৯ প্রাণহানী
.............................................................................................
করোনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা : জাতিসংঘ মহাসচিব
.............................................................................................
মৃত্যুতে চীনকে ছাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
.............................................................................................
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ে মমতার কবিতা
.............................................................................................
করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ৩৭৮১৪, আক্রান্ত প্রায় ৮ লাখ
.............................................................................................
সৌদিতে করোনায় সাভারের যুবকের মৃত্যু, যোগাযোগ করেনি স্বজনরা
.............................................................................................
দিল্লিতে মসজিদের ভেতরে কোয়ারেন্টাইনে ১২০০ মুসল্লি
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু লাখ ছাড়াতে পারে, ট্রাম্পের আশঙ্কা
.............................................................................................
তথ্য গোপন করেছে চীন, উহানেই প্রাণ হারিয়েছে ৪২ হাজার মানুষ
.............................................................................................
করোনাভাইরাসে স্পেনের রাজকুমারীর মৃত্যু
.............................................................................................
করোনার অবসাদে জার্মান মন্ত্রীর আত্মহত্যা
.............................................................................................
করোনায় আক্রান্ত ট্রুডোর স্ত্রী সুস্থ
.............................................................................................
বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু ৩০৮৮০ জনের, আক্রান্ত ৬ লাখের অধিক
.............................................................................................
লকডাউনে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে রাস্তায় মৃত্যু
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ১ লাখ ৪ হাজার ছাড়িয়েছে
.............................................................................................
লকডাউন না মানায় ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!
.............................................................................................
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে
.............................................................................................
বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত ৫ লাখের অধিক
.............................................................................................
করোনায় যুক্তরাজ্যের কূটনীতিকের মৃত্যু
.............................................................................................
চীনের আগে ইতালিতে করোনা ছড়িয়েছিল!
.............................................................................................
করোনাভাইরাসে কাশ্মীরে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Nytasoft