বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে কারণে যৌন শক্তি বাড়ানোর ঔষধের দিকে ঝুঁকছে আরব তরুণরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কায়রোর কেন্দ্রস্থলের ঐতিহাসিক এলাকা বাব আল-শারিয়ায় নিজের কবিরাজি দোকানে কবিরাজ রাবি আল-হাবাশি আমাদের যে জিনিস দেখাচ্ছিলেন, সেটিকে তিনি বলেন তার "যাদুকরী মিশ্রণ।"


কামোদ্দীপক ঔষধ এবং প্রাকৃতিক যৌন শক্তি-বর্ধক বিক্রি করে মিস্টার হাবাশি মিশরের রাজধানীতে বেশ নাম করেছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি তার ক্রেতাদের চাহিদায় একটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।

"এখন বেশিরভাগ পুরুষ নীল বড়ি কিনতে চায়, যেটা তারা পশ্চিমা কোম্পানিগুলো থেকে পায়," বলছিলেন তিনি।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণ আরব পুরুষরা এখন আরও বেশি হারে সিলডানাফিল (বাণিজ্যিকভাবে ভায়াগ্রা নামে পরিচিত), ভারডেনাফিল (লেভিট্রা, স্ট্যাক্সিন) এবং টাডালাফিলের (সিয়ালিস) মতো ঔষধ ব্যবহার করছে।

কিন্তু গবেষণায় এরকম প্রমাণ মেলার পরও মিশর এবং বাহরাইনের রাস্তায় বিবিসি যত তরুণের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের বেশিরভাগই যৌন সমস্যার কারণে এরকম ঔষধ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। অনেকে বলেছেন তারা এই ঔষধের নামও শোনেননি।

এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেউ কেউ তো প্রথমে এটা নিয়ে কথাই বলতে চাননি, কারণ, তাদের মতে, এটি `সমাজের নীতি-নৈতিকতার বিরুদ্ধে‌।`

কিন্তু ২০১২ সালের এক গবেষণায় যেটা বলা হচ্ছে, আরব বিশ্বে কামোদ্দীপক এবং ধ্বজভঙ্গের ঔষধের মাথাপিছু ব্যবহারের দিক থেকে মিশরের অবস্থান দুনম্বরে। সবার শীর্ষে আছে সৌদি আরব।

এই গবেষণা রিপোর্ট নিয়ে খবর বেরিয়েছিল সৌদি সংবাদপত্র আল-রিয়াদে। এতে বলা হয়েছিল, সৌদিরা তখন যৌন শক্তি বর্ধক ঔষধের পেছনে বছরে খরচ করতো দেড়শো কোটি ডলার। সৌদি আরবে তখন এরকম ঔষধের ব্যবহার ছিল রাশিয়ার তুলনায় দশগুণ বেশি। অথচ রাশিয়ার জনসংখ্যা সৌদি আরবের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

অতি সম্প্রতি `আরব জার্নাল অব ইউরোলজি‌`র এক গবেষণার ফলে দেখা যাচ্ছে, ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তরুণ সৌদি পুরুষ তাদের জীবনে কোন না কোন সময়ে ভায়াগ্রার মতো ঔষধ ব্যবহার করেছে।

মিশরের অবস্থান এখনো বেশ উপরের দিকেই। ২০২১ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেখানে বছরে পুরুষত্বহীনতার ঔষধ বিক্রি হয় ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। এটি মিশরের পুরো ঔষধের বাজারের ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

পুরুষের ওপর চাপ

স্বাভাবিকভাবেই এরকম বড় একটা ব্যবসায় ভাগ বসাতে চেয়েছে অনেকে। মিশরের মুদি দোকানগুলোতে ২০১৪ সালে `আল-ফানকুশ‌` নামের একটি যৌন শক্তি বর্ধক ঔষধ চকোলেট বার হিসেবে বিক্রি হচ্ছিল। আল-ফানকুশের দাম ছিল এক মিশরীয় পাউন্ড (পাঁচ সেন্ট)। তবে বাজারে আসার কিছুদিনের মধ্যেই আল-ফানকুশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল। স্থানীয় গণমাধ্যমে বেরিয়েছিল যে আল-ফানকুশ শিশুদের কাছেও বিক্রি করা হচ্ছিল। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী এই কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার করে।

পুরুষত্বহীনতার ঔষধ তরুণদের চেয়ে বয়স্ক পুরুষদের কাছেই বেশি বিক্রি হয়। তবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সেখানে এ ধরণের ঔষধ মূলত ব্যবহার করে ২৫ হতে ৪৫ বছর বয়সীরা।

ইয়েমেনে ২০১৫ সালে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় তারপর থেকে সেখানে আনন্দ-ফুর্তি করার পার্টিতে তরুণ পুরুষরা ঔষধ হিসেবে ভায়াগ্রা এবং সিয়ালিসের ব্যবহার শুরু করে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর থেকে ধারণা পাওয়া যায়। ইয়েমেনের এই গৃহযুদ্ধ চলছে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি সমর্থিত সরকারের মধ্যে।

তিউনিসিয়ার মোহাম্মদ সফাক্সি ইউরোলজি এবং রিপ্রোডাক্টিভ সার্জারি প্রফেসর। তিনি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঔষধগুলোকে `উদ্দীপক` হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই, কারণ এগুলো মূলত বয়স্কদের মধ্যে যে ধরণের সমস্যা দেখা যায়, তার চিকিৎসার জন্য।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যৌন বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞের মতে, তরুণ আরবরা যে এরকম পুরুষত্বহীনতার ঔষধ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে, তার মূলে আছে সেখানকার বিদ্যমান সংস্কৃতি।

"এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যাবে তরুণ আরব পুরুষরা আরও বড় যে সমস্যায় ভুগছে, সেটাই এর মূলে", বলছেন শিরিন আল ফেকি। তিনি একজন মিশরীয়-ব্রিটিশ সাংবাদিক। আরব বিশ্বের যৌন সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে একটি বই লিখেছেন- "সেক্স এন্ড দ্য সিটাডেল: ইন্টিমেট লাইফ ইন এ চেঞ্জিং আরব ওয়ার্ল্ড।"

২০১৭ সালে জাতিসংঘের সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে যে বড় সমীক্ষা হয়েছিল, সেটির উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, সেখানে দেখা গেছে প্রায় সব পুরুষই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, কিভাবে তারা তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণ যোগাবে সেটা নিয়ে চিন্তিত। এই জরিপে অনেক পুরুষই বলেছিল, একজন পুরুষ হিসেবে তাদের ওপর কী প্রচণ্ড চাপ।

অন্যদিকে নারীদের মন্তব্য ছিল, "পুরুষরা আর আগের মতো পুরুষ নেই‍।"

শিরিন আল ফেকি বলেন, "পুরুষ বলতে কী বোঝায় সেটা যেহেতু এখন চাপের মুখে আছে এবং এখানকার পুরুষত্বের সংস্কৃতিতে যেহেতু যৌন ক্ষমতার বিষয়টি এত দৃঢ়ভাবে প্রোথিত, তাই যৌনতায় কে কত পারদর্শী, সেটার ওপর এখন আরও বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।"

মিজ আল ফেকি এজন্যে অবশ্য পর্নোগ্রাফিকেও দায়ী করছেন। তার মতে, এসব দেখে যৌন-ক্রিয়া সম্পর্কে যেসব ভুল ধারণা এবং প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে, সেটার কারণেই এখন পুরুষদের যৌন সক্ষমতার ওপর অনেক বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।

"পুরুষত্ব বলতে আসলে কি বোঝায়, কোনটা আসলে স্বাভাবিক- এসব পর্নোগ্রাফি তরুণদের মধ্যে সেই ধারণাটাই পাল্টে দিচ্ছে," বলছেন তিনি।

যৌন চাহিদার জন্য ঔষধের ব্যবহার আরব সমাজে একটি সাম্প্রতিক ব্যাপার বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে আরব ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, যৌন বল-বর্ধক ঔষধের ব্যবহার এখানকার জন সংস্কৃতিরই অংশ ছিল।

ইবনে কাইয়িম আল-জাজিয়া ছিলেন চতুর্দশ শতকের এক গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক গবেষক এবং লেখক। তিনি তার কয়েক খণ্ডের বই `অনন্ত জীবনের পাথেয়‌` বইতে যৌন কামনা বাড়ানোর ভেষজ ঔষধ কিভাবে তৈরি করতে হবে তার বিস্তারিত প্রস্তুত প্রণালি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

শিরিন আল ফেকি বলেন, আরব এবং ইসলামী ঐতিহ্যে মনে করা হয়, "পুরুষের চাইতে নারীর যৌন তাড়না অনেক বেশি, অনেক বেশি শক্তিশালী", অন্যদিকে পুরুষরা মনে করে এর সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য তাদের "যৌন পারদর্শিতা বাড়ানো দরকার‍।"

অটোমান সাম্রাজ্যে এই ধারণার বেশ প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান প্রথম সেলিমের শাসনকাল ছিল ১৫১২ হতে ১৫২০ সাল পর্যন্ত। তার অনুরোধে লেখক আহমেদ বিন সুলেইমান একটি বই লেখেন, যেটির নাম "শেখ‌`স রিটার্ন টু ইয়ুথ", অর্থাৎ "শেখের তারুণ্যে প্রত্যাবর্তন।" এটি আসলে যৌন রোগের চিকিৎসা এবং নারী-পুরুষের যৌন কামনা বাড়ানোর জন্য নানা ধরণের ভেষজ ঔষধ প্রস্তুত প্রণালীর এক এনসাইক্লোপিডিয়া।

শত শত বছর পর অনেক আরব তরুণ এখনো এরকম ঔষধই খুঁজছে এবং এবং এই ঔষধের বাজারও বেশ রমরমা। বিবিসি

যে কারণে যৌন শক্তি বাড়ানোর ঔষধের দিকে ঝুঁকছে আরব তরুণরা
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কায়রোর কেন্দ্রস্থলের ঐতিহাসিক এলাকা বাব আল-শারিয়ায় নিজের কবিরাজি দোকানে কবিরাজ রাবি আল-হাবাশি আমাদের যে জিনিস দেখাচ্ছিলেন, সেটিকে তিনি বলেন তার "যাদুকরী মিশ্রণ।"


কামোদ্দীপক ঔষধ এবং প্রাকৃতিক যৌন শক্তি-বর্ধক বিক্রি করে মিস্টার হাবাশি মিশরের রাজধানীতে বেশ নাম করেছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি তার ক্রেতাদের চাহিদায় একটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।

"এখন বেশিরভাগ পুরুষ নীল বড়ি কিনতে চায়, যেটা তারা পশ্চিমা কোম্পানিগুলো থেকে পায়," বলছিলেন তিনি।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণ আরব পুরুষরা এখন আরও বেশি হারে সিলডানাফিল (বাণিজ্যিকভাবে ভায়াগ্রা নামে পরিচিত), ভারডেনাফিল (লেভিট্রা, স্ট্যাক্সিন) এবং টাডালাফিলের (সিয়ালিস) মতো ঔষধ ব্যবহার করছে।

কিন্তু গবেষণায় এরকম প্রমাণ মেলার পরও মিশর এবং বাহরাইনের রাস্তায় বিবিসি যত তরুণের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের বেশিরভাগই যৌন সমস্যার কারণে এরকম ঔষধ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। অনেকে বলেছেন তারা এই ঔষধের নামও শোনেননি।

এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেউ কেউ তো প্রথমে এটা নিয়ে কথাই বলতে চাননি, কারণ, তাদের মতে, এটি `সমাজের নীতি-নৈতিকতার বিরুদ্ধে‌।`

কিন্তু ২০১২ সালের এক গবেষণায় যেটা বলা হচ্ছে, আরব বিশ্বে কামোদ্দীপক এবং ধ্বজভঙ্গের ঔষধের মাথাপিছু ব্যবহারের দিক থেকে মিশরের অবস্থান দুনম্বরে। সবার শীর্ষে আছে সৌদি আরব।

এই গবেষণা রিপোর্ট নিয়ে খবর বেরিয়েছিল সৌদি সংবাদপত্র আল-রিয়াদে। এতে বলা হয়েছিল, সৌদিরা তখন যৌন শক্তি বর্ধক ঔষধের পেছনে বছরে খরচ করতো দেড়শো কোটি ডলার। সৌদি আরবে তখন এরকম ঔষধের ব্যবহার ছিল রাশিয়ার তুলনায় দশগুণ বেশি। অথচ রাশিয়ার জনসংখ্যা সৌদি আরবের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

অতি সম্প্রতি `আরব জার্নাল অব ইউরোলজি‌`র এক গবেষণার ফলে দেখা যাচ্ছে, ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তরুণ সৌদি পুরুষ তাদের জীবনে কোন না কোন সময়ে ভায়াগ্রার মতো ঔষধ ব্যবহার করেছে।

মিশরের অবস্থান এখনো বেশ উপরের দিকেই। ২০২১ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেখানে বছরে পুরুষত্বহীনতার ঔষধ বিক্রি হয় ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। এটি মিশরের পুরো ঔষধের বাজারের ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

পুরুষের ওপর চাপ

স্বাভাবিকভাবেই এরকম বড় একটা ব্যবসায় ভাগ বসাতে চেয়েছে অনেকে। মিশরের মুদি দোকানগুলোতে ২০১৪ সালে `আল-ফানকুশ‌` নামের একটি যৌন শক্তি বর্ধক ঔষধ চকোলেট বার হিসেবে বিক্রি হচ্ছিল। আল-ফানকুশের দাম ছিল এক মিশরীয় পাউন্ড (পাঁচ সেন্ট)। তবে বাজারে আসার কিছুদিনের মধ্যেই আল-ফানকুশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল। স্থানীয় গণমাধ্যমে বেরিয়েছিল যে আল-ফানকুশ শিশুদের কাছেও বিক্রি করা হচ্ছিল। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী এই কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার করে।

পুরুষত্বহীনতার ঔষধ তরুণদের চেয়ে বয়স্ক পুরুষদের কাছেই বেশি বিক্রি হয়। তবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সেখানে এ ধরণের ঔষধ মূলত ব্যবহার করে ২৫ হতে ৪৫ বছর বয়সীরা।

ইয়েমেনে ২০১৫ সালে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় তারপর থেকে সেখানে আনন্দ-ফুর্তি করার পার্টিতে তরুণ পুরুষরা ঔষধ হিসেবে ভায়াগ্রা এবং সিয়ালিসের ব্যবহার শুরু করে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর থেকে ধারণা পাওয়া যায়। ইয়েমেনের এই গৃহযুদ্ধ চলছে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি সমর্থিত সরকারের মধ্যে।

তিউনিসিয়ার মোহাম্মদ সফাক্সি ইউরোলজি এবং রিপ্রোডাক্টিভ সার্জারি প্রফেসর। তিনি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঔষধগুলোকে `উদ্দীপক` হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই, কারণ এগুলো মূলত বয়স্কদের মধ্যে যে ধরণের সমস্যা দেখা যায়, তার চিকিৎসার জন্য।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যৌন বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞের মতে, তরুণ আরবরা যে এরকম পুরুষত্বহীনতার ঔষধ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে, তার মূলে আছে সেখানকার বিদ্যমান সংস্কৃতি।

"এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যাবে তরুণ আরব পুরুষরা আরও বড় যে সমস্যায় ভুগছে, সেটাই এর মূলে", বলছেন শিরিন আল ফেকি। তিনি একজন মিশরীয়-ব্রিটিশ সাংবাদিক। আরব বিশ্বের যৌন সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে একটি বই লিখেছেন- "সেক্স এন্ড দ্য সিটাডেল: ইন্টিমেট লাইফ ইন এ চেঞ্জিং আরব ওয়ার্ল্ড।"

২০১৭ সালে জাতিসংঘের সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে যে বড় সমীক্ষা হয়েছিল, সেটির উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, সেখানে দেখা গেছে প্রায় সব পুরুষই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, কিভাবে তারা তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণ যোগাবে সেটা নিয়ে চিন্তিত। এই জরিপে অনেক পুরুষই বলেছিল, একজন পুরুষ হিসেবে তাদের ওপর কী প্রচণ্ড চাপ।

অন্যদিকে নারীদের মন্তব্য ছিল, "পুরুষরা আর আগের মতো পুরুষ নেই‍।"

শিরিন আল ফেকি বলেন, "পুরুষ বলতে কী বোঝায় সেটা যেহেতু এখন চাপের মুখে আছে এবং এখানকার পুরুষত্বের সংস্কৃতিতে যেহেতু যৌন ক্ষমতার বিষয়টি এত দৃঢ়ভাবে প্রোথিত, তাই যৌনতায় কে কত পারদর্শী, সেটার ওপর এখন আরও বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।"

মিজ আল ফেকি এজন্যে অবশ্য পর্নোগ্রাফিকেও দায়ী করছেন। তার মতে, এসব দেখে যৌন-ক্রিয়া সম্পর্কে যেসব ভুল ধারণা এবং প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে, সেটার কারণেই এখন পুরুষদের যৌন সক্ষমতার ওপর অনেক বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।

"পুরুষত্ব বলতে আসলে কি বোঝায়, কোনটা আসলে স্বাভাবিক- এসব পর্নোগ্রাফি তরুণদের মধ্যে সেই ধারণাটাই পাল্টে দিচ্ছে," বলছেন তিনি।

যৌন চাহিদার জন্য ঔষধের ব্যবহার আরব সমাজে একটি সাম্প্রতিক ব্যাপার বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে আরব ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, যৌন বল-বর্ধক ঔষধের ব্যবহার এখানকার জন সংস্কৃতিরই অংশ ছিল।

ইবনে কাইয়িম আল-জাজিয়া ছিলেন চতুর্দশ শতকের এক গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক গবেষক এবং লেখক। তিনি তার কয়েক খণ্ডের বই `অনন্ত জীবনের পাথেয়‌` বইতে যৌন কামনা বাড়ানোর ভেষজ ঔষধ কিভাবে তৈরি করতে হবে তার বিস্তারিত প্রস্তুত প্রণালি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

শিরিন আল ফেকি বলেন, আরব এবং ইসলামী ঐতিহ্যে মনে করা হয়, "পুরুষের চাইতে নারীর যৌন তাড়না অনেক বেশি, অনেক বেশি শক্তিশালী", অন্যদিকে পুরুষরা মনে করে এর সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য তাদের "যৌন পারদর্শিতা বাড়ানো দরকার‍।"

অটোমান সাম্রাজ্যে এই ধারণার বেশ প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান প্রথম সেলিমের শাসনকাল ছিল ১৫১২ হতে ১৫২০ সাল পর্যন্ত। তার অনুরোধে লেখক আহমেদ বিন সুলেইমান একটি বই লেখেন, যেটির নাম "শেখ‌`স রিটার্ন টু ইয়ুথ", অর্থাৎ "শেখের তারুণ্যে প্রত্যাবর্তন।" এটি আসলে যৌন রোগের চিকিৎসা এবং নারী-পুরুষের যৌন কামনা বাড়ানোর জন্য নানা ধরণের ভেষজ ঔষধ প্রস্তুত প্রণালীর এক এনসাইক্লোপিডিয়া।

শত শত বছর পর অনেক আরব তরুণ এখনো এরকম ঔষধই খুঁজছে এবং এবং এই ঔষধের বাজারও বেশ রমরমা। বিবিসি

ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
এই রোদ এই বৃষ্টি। আবহাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে জ্বর-সর্দি। সম্প্রতি দেশে ভাইরাল ফিভারের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আবার করোনাভাইরাস সংক্রমণেরও নতুন ঢেউ প্রবেশ করেছে।

এ অবস্থায় করোনা না ডেঙ্গু, নাকি মৌসুমি জ্বর— এ নিয়ে দ্বিধায় রোগী ও তার স্বজনরা। চিকিৎসকরা বলছেন, এই মুহূর্তে জ্বর এলে বাসায় বসে থাকার সুযোগ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করাতে হবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

আরিফ মাহমুদ পেশায় বেসরকারি চাকরিজীবী। গত দুই দিন ধরে তিন বছরের শিশুসহ তার পরিবারের তিন সদস্যই সর্দি-জ্বরে ভুগছে। সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে এখনও নেননি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ। চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খাচ্ছি। তবে এখনও কোনো হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা করানো হয়নি। দেখছি পরিচিত আরও কয়েকটি পরিবারেও এরকম সর্দি-জ্বর হয়েছে। এখন বুঝতে পারছি না সেটি সাধারণ জ্বর-সর্দি নাকি করোনা না ডেঙ্গু। আজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে পরীক্ষা করাব।

শুধু আরিফ মাহমুদের পরিবার নয়, জ্বর-সর্দির রোগী এখন ঘরে ঘরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের নতুন ঢেউ প্রবেশ করেছে। এই ঢেউয়ে সংক্রমণ দ্রুতগতিতে চূড়ার দিকে যাচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদন বলছে, গত এক মাসে আগের মাসের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। এ অবস্থায় যারা জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছেন বা হননি সবাইকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি মাস্কের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

দ্রুত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে করোনা না ডেঙ্গু
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুস সবুর খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন তো ঋতু পরিবর্তন হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে দিনের বেলায় প্রচুর গরম, আবার তার ভেতরে হঠাৎ বৃষ্টি চলে এলো। কেউ কেউ একটু বৃষ্টিতেও ভিজল, ফলে হঠাৎ প্রচুর গরম থেকে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। তাছাড়া বাইরের প্রচণ্ড গরম থেকে ফিরে অনেকে বাসায় বা অফিসে গিয়ে এসির নিচে বসে যান। এই যে তীব্র গরম আর হঠাৎ ঠান্ডার একটা সংমিশ্রণ হয়েছে এখান থেকেই জ্বর-সর্দি চলে আসতে পারে।

তিনি বলেন, কমন কোল্ড সবসময়ই হতে পারে। কিন্তু এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু জ্বর এবং কোভিড-১৯ সংক্রমণ। এখন জ্বর হলে এটা ডেঙ্গু, করোনা নাকি সাধারণ সর্দি-কাশি সেটা বুঝতে মানুষ সময় নিচ্ছে। আমার মনে হয়, যেকোনো জ্বর-সর্দিতেই যদি কোভিড আর ডেঙ্গু পরীক্ষাটা করে ফেলা যায়, তাহলে আর কোনো দ্বিধাই থাকবে না। শুরুতেই যদি পরীক্ষাটা করে নেওয়া যায়, তাহলে পরে জটিলতা তৈরি হয় না।

করোনা সংক্রমণ আরেকটু বাড়বে
দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ডা. সবুর খান বলেন, করোনা সংক্রমণ হয়ত আরেকটু বাড়বে। তার কারণ হলো সামনে ঈদ। ঈদে যাতায়াত হবে, হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বে, হাটে পশু বেচাকেনা হবে। যার ফলে সংক্রমণের হার এখন যেখানে ১৫ শতাংশে চলে গেছে, কিছুদিনের মধ্যে হয়ত সেটা আরেকটু ওপরে উঠবে। কিন্তু খুব বেশি উঠবে না এটাও ঠিক।

তিনি বলেন, আমরা অসংখ্য মানুষকে টিকা দিয়েছি, এমনকি এখনও দিচ্ছি। তাছাড়া কিছু লোকজনের দেহে তো আগে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এন্টিবডি তৈরি হয়ে আছে, ফলে এবার হয়ত গতবারের মতো আক্রান্তের হার ৩০ শতাংশের আশপাশে যাবে না।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের জন্য একটি ভালো দিক হলো এ বছর করোনা আক্রান্ত হয়ে হসপিটালাইজড রোগীর সংখ্যা কিন্তু এত বেশি না। কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে অধিকাংশ শয্যাই ফাঁকা পড়ে আছে। সবকিছু মিলিয়ে আশা করছি সংক্রমণটা সহনীয় মাত্রাতেই থেকে যাবে।

নিয়ম-শৃঙ্খলায় শিথিলতা, ভারতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিই কারণ
দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও এমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, করোনাভাইরাস একটি মিউটেন্ট ভাইরাস, এটি খুব দ্রুতই তার চরিত্র বদলায় এবং নতুন রূপ ধারণ করে। আর বর্তমানে সংক্রমণ যেটি বাড়ছে সেটিও ওমিক্রনের দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্টের (বিএ-৪, বিএ-৫) প্রভাবে৷ এই দুটি এক হয়ে অনেক সংক্রমণশীল হয়ে উঠেছে, একজন থেকে এটি ১০ জনে ছড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, তিন সপ্তাহ আগেও তো আমরা ভালো ছিলাম। দেশে সংক্রমণের হার অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন সেটি লাফিয়ে বাড়ছে। কারণ মানুষের মধ্যে একটি শিথিলভাব চলে এসেছে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে কেউই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছে না, মাস্ক পরে না, এসব কারণেই সংক্রমণটা আবার বাড়ছে। আরেকটি কারণ হলো— ভাইরাসটি যেহেতু দ্রুত সংক্রমণশীল, এটি কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সে হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশে বাড়লে আমাদের দেশে বাড়ার একটি বড় ঝুঁকি থেকেই যায়। কারণ তাদের সীমান্তে আমাদের প্রচুর যাতায়াত হয়। বৈধ-অবৈধভাবে জলপথ, স্থলপথ ও বিমান পথে নিয়মিত মানুষ আসা-যাওয়া করে। ফলে সংক্রমণটি ভারত থেকে খুব সহজেই আমাদের দেশেও চলে আসতে পারে।

টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের দেহে কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে
ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ওমিক্রন এমন একটি ভ্যারিয়েন্ট, যেখানে প্রচলিত টিকাগুলো খুব বেশি কাজ করছে না। তাছাড়া যারা এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন, টিকার অ্যাকশন কিন্তু লংটাইম কাজ করে না। বড় জোর এটি একজন মানুষকে ৬ থেকে ৯ মাস সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তার মানে আমাদের দেহে টিকার কার্যকারিতা কিন্তু আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। অ্যান্টিবডি কমে যাওয়ার কারণেও কিন্তু করোনা সংক্রমণটা আবারও বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিলেও বুস্টার ডোজে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের গাফিলতিভাব চলে এসেছে। দেশে বুস্টার ডোজ কার্যক্রম শুরুর দীর্ঘদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি মানুষ সেটি নেয়নি। টিকা নেওয়ার ব্যাপারেও মানুষের মধ্যে একটা গাফিলতিভাব চলে এসেছে। সবমিলিয়েই সংক্রমণের ঝুঁকিটা বাড়িয়ে তুলছে।

করোনা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘চিন্তিত’

দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ‘চিন্তিত’ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, করোনা এখন ঊর্ধ্বমুখী। আমরা কিছুটা চিন্তিত তবে শঙ্কিত নই। আমরা প্রস্তুত আছি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের হাসপাতালের উন্নয়ন চলমান আছে। হাসপাতালে তেমন রোগী নেই। রোগী এলে চিকিৎসা দেওয়ার পূর্ণ ব্যবস্থা আছে। তবে সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও রোগীদের মধ্যে তেমন কোনো জটিলতা নেই। কারণ আমরা দেশের টার্গেট করা প্রায় সবাইকেই টিকার আওতায় এনেছি। যে কারণে সংক্রমণ এক শতাংশের নিচে চলে এসেছিল। আমাদের মৃত্যু প্রায় শূন্যের কোটায়। কিন্তু এখন আবার সংক্রমণের হার ১৫ শতাংশে উঠে এসেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, করোনায় মন্ত্রণালয়ের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের সচেতন হতে হবে। সবাইকেই মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

করোনায় মৃত্যু ২৯ হাজার ১৬০ জনের, আক্রান্ত প্রায় ২০ লাখ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৬০ জনে। গতকাল (২ জুলাই) নতুন করে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও করোনায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ জনে। গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।

পেটে ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করেন ডাক্তার, ৭ মাস পর অপসারণ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
পেটে অসহ্য ব্যথা সুফিয়া আকতারের দুই মাস ধরে । সাত মাস আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। বাঁচেনি সেই সন্তানও। এরপর থেকেই সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকের কাছে গেলে আলন্ট্রাসনোগ্রাম করে জানান পেটে টিউমার রয়েছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাতে টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার করেন ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের ডা. শাহ আলম। কিন্তু টিউমার নয়, পেট থেকে অপসারণ করা হয় ব্যান্ডেজ! কক্সবাজার শহরের বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে ৭ মাস আগে সুফিয়া আকতার (২৮) নামে এক গর্ভবতী নারীর সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক ডা. তাজিনা শারমিন। সেই সময় পেটে ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেন তিনি। সেই ব্যান্ডেজ বৃহস্পতিবার রাতে বের করা হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।

এর আগে চিকিৎসকের প্রাথমিক সন্দেহ ছিল পেটে টিউমার হয়েছে। তাই কয়েক দফা দেখানোর পর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসক আরও নিশ্চিত হন পেটে টিউমার হয়েছে। তাই তাকে দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাতে অপারেশনের পর পেট থেকে টিউমারের পরিবর্তে বের হয়ে আসে ‘ব্যান্ডেজ’। ভুক্তভোগী নারী সুফিয়া আকতার উখিয়ার রত্নপালং ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার জিয়াউদ্দিনের স্ত্রী।

ভুক্তভোগী সুফিয়া আকতারের ভাগিনা সাইমুম উদ্দিন নয়ন জানান, ৭ মাস আগে তার খালা সুফিয়ার সিজার করেন জেনারেল হাসপাতালের ডা. তাজিনা শারমিন। পরে ১৫ দিন পর ওই নবজাতক মারা যায়। দুই মাস আগে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন সুফিয়া। ব্যথা বেড়ে গেলে প্রথমে উখিয়ার কোটবাজারের ওরিয়ন হাসপাতালে ডা. সামিয়াকে দেখানো হয়। এসময় সামিয়া ডা. শাহ আলমের কাছে রেফার করেন। কিন্তু তারা ডা. শাহ আলমকে না দেখিয়ে ডা. তাজিনা শারমিনের কাছে নিয়ে যান। ডা. তাজিনা শারমিন রক্ত জমাট বেঁধেছে দাবি করে ১ মাসের ওষুধ দেন সুফিয়াকে। সেই ওষুধ সেবন করার পরও সুস্থ না হওয়ায় আবারও তাকে দেখানো হয়।

এবার ডা. তাজিনা শারমিন আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ডা. ওসমানুর রশিদের কাছে রেফার করেন। সেই আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট দেখে ডা. তাজিনা শারমিন ধারণা করেন তার পেটে টিউমার হয়েছে এবং সেটি দ্রুত অপারেশন করে বের করতে হবে। কিন্তু তাজিনা শারমিনের প্রতি আস্থা হারিয়ে তারা ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ডা. শাহ আলমের কাছে যান। পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিকেলে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপারেশন করে পেট থেকে টিউমারের পরিবর্তে বের করেন ব্যান্ডেজ। ব্যান্ডেজ পঁচে তার পেটে ইনফেকশন হয়েছে বলে চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী সুফিয়া আক্তার এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক তাজিনা শারমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ডা. তাজিনা শারমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, রোগীর পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। যোগাযোগ করলে অবশ্যই আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতাম।
কিন্তু দুই মাস আগে রক্ত জমাট বেঁধেছে ধারণা করে ওষুধ দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. তাজিনা ফোন কেটে দেন।

এদিকে রোগীর স্বজন নয়ন অভিযোগ করে বলেন, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন করে বের করা ব্যান্ডেজ প্রথমে রোগীর স্বজনদের দেখালেও পরে গায়েব করে ফেলে। তবে ওই সময় তিনি ব্যান্ডেজের ভিডিও ধারণ করে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যান্ডেজটি ক্লিনারেরা ফেলে দিয়েছে দাবি করে গণমাধ্যমের সামনে আনতে অপারগতা প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক শাহ আলমের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’

মূত্রত্যাগের পরেও প্রস্রাবের প্রবল বেগ? এই লক্ষণে সাবধান
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
মূত্রত্যাগের পরেও আরও কিছুটা প্রস্রাবের বেগ আসা প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। সময় মতো ধরা পড়লে এর চিকিৎসা সম্ভব।

প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের অন্যতম প্রধান ক্যানসারগুলির মধ্যে অন্যতম। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় মতো ধরা পড়লে প্রায় ৭৮ শতাংশ রোগীই দশ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন। কিন্তু মুশকিল হল, অনেক সময়েই এই ক্যানসারের লক্ষণগুলি উপেক্ষা করেন মানুষ। আর তাতেই বেড়ে যায় ক্যানসার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন আসা কখনও কখনও প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। পর্যাপ্ত জল না পান করা এবং বেলাগাম জীবনযাত্রার মতো কারণেও অস্থায়ী ভাবে একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই এই ধরনের সমস্যাকে উপেক্ষা করাই যেন দস্তুর।

কোন কোন লক্ষণ বিপদের সঙ্কেত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করে প্রস্রাবের বেগ আসা, ঘন ঘন মূত্র ত্যাগের প্রবণতা, ধীরগতির মূত্রপ্রবাহ এবং প্রস্রাব শেষ হয়ে গেলেও প্রস্রাব করার প্রয়োজনের অনুভূতি প্রোস্টেট ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অর্থাৎ, মূত্রত্যাগের পরে ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষের’ অনুভূতি বোধ করলে এক জন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।

প্রোস্টেট ক্যানসারের অন্যান্য লক্ষণ

১। প্রস্রাব করতে সমস্যা

২। প্রস্রাবে রক্ত

৩। বীর্যে রক্ত

৪। হাড়ের ব্যথা

৫। অকারণে ওজন কমে যাওয়া

৬। লিঙ্গ শিথিলতা

ফের করোনার সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
তিন সপ্তাহ ধরে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। টানা ছয় দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি ধরা পড়ছে। করোনার এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সংক্রমণে এমন ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহে দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ প্রবেশ করবে। এই সময়টায় পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৭ শতাংশের বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এর আগে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলাকালে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংক্রমণের হার ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৭৪ জনের, যা প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ৮৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তবে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত তিন সপ্তাহে দুজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক খবর।

এদিকে শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে মঙ্গলবার দুজনের শরীরে ভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ. ৪/৫ শনাক্তের তথ্য দিয়েছেন। দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। চতুর্থ ঢেউয়ের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, ‘সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে তাতে বলা যায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই দেশে ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হবে। এর শুরুটা হবে রাজধানী ঢাকায়। এরপর চট্টগ্রাম এবং ধীরে ধীরে সারা দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।’

নমুনা পরীক্ষা অনেক কম হচ্ছে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া যথাসময়ে টিকা নিয়ে নিতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক দূরত্ব। আর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মোশতাক হোসেন আরও বলেন, ‘অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশিসহ করোনার অন্যান্য উপসর্গে ভুগলেও নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এখন স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা টেস্ট করার সক্ষমতা অনেক বেশি। নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেই সহজে নমুনা পরীক্ষা করানো যায়। সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে হবে। জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি যে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ মানতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দেশে কয়েক দিন ধরে করোনা সংক্রমণ ও শনাক্ত হার বাড়ছে। তবে করোনা শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাটা আরও বেশি হবে। কারণ অনেকের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাচ্ছেন না।

‘ভারত, চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডেও করোনা রোগী বাড়ছে। বুস্টার ডোজ নিয়েও মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতে মনে হচ্ছে দেশ এখন করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে প্রবেশের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে।

‘এই ঢেউ কতটা ছোট রাখা যায় সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমে একটি জিনোম সিকোয়েন্সিং বা রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দরকার। তাতে বোঝা যাবে বর্তমান ধরন কোনটি। দ্বিতীয়ত, কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তা জানা জরুরি। যেমন- কেউ টিকা নেননি, কেউ হয়তো এক ডোজ নিয়েছেন, কেউবা দ্বিতীয় ডোজ এবং বুস্টার সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ টিকার শেষ ডোজ থেকে সংক্রমণ হওয়া পর্যন্ত সময় হিসাব করতে হবে। এসব তথ্য জানা গেলে পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত টিকার আওতায় আনা অথবা আরেকটি বুস্টার ডোজ লাগবে কি না তা জানা যাবে। উৎস নির্ণয় করতে পারলে সংক্রমণে লাগাম টানা সম্ভব হবে। ১২ বছরের নিচের শিশুরা টিকা পায়নি। ফলে তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে।’

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, ‘সংক্রমণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত এক সপ্তাহ ধরে যে হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, এটি চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত।

‘রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একজন রোগী শনাক্ত হলে অন্তত পাঁচজন শনাক্তের বাইরে থাকে। এ হিসাবে অনেক সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের বাইরে রয়েছে। কিন্তু বড় একটি জনগোষ্ঠী টিকা নেয়ায় মারাত্মক আক্রান্ত কম হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কম হচ্ছে। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক মৃত্যু তিন থেকে পাঁচের ঘরে চলে যাবে। এটি প্রতিরোধে এখনই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা নেয়া জরুরি।’

দেশে করোনা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর ২০ জুন অর্থাৎ দীর্ঘ চার মাস পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশ (১০ দশমিক ৮৭) ছাড়িয়ে যায়। তার আগের দিন এই হার ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সবশেষ মঙ্গলবার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই মুহূর্তে আরেকটি ঢেউসহ রোগী বৃদ্ধির শঙ্কা জাগাচ্ছে। পরীক্ষা বাড়লে শনাক্তও বাড়বে।

এদিকে মঙ্গলবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ.৪/৫ শনাক্ত হয়েছে।

যবিপ্রবির গবেষক দল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির একজন করোনা টিকার বুস্টার ডোজ এবং অন্যজন দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন। ইঅ.৪/৫ সাব-ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনে ওমিক্রনের মতোই মিউটেশন দেখা যায়। তবে তার সঙ্গে এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো স্পাইক প্রোটিনের ৪৫২ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডে মিউটেশন থাকে। এ ছাড়া এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ৪৮৬ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডেও মিউটেশন দেখা যায়।

করোনার এই নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জেনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। টিকা নেয়া ব্যক্তিরাও ‌এতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

‘আগামী দিনে এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট বর্তমানে সংক্রমণশীল অন্যান্য সাব-ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ জন্য মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী করোনার কোনো ঢেউ চলার সময় শনাক্তের হার পর পর দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যাবে। আবার করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধরা হবে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের অধিকাংশেরই মালিক ডাক্তার ও রাজনীতিক
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সারাদেশে অলিগলিতে চিকিৎসা সেবার নামে অবাধে অবৈধ ব্যবসা করে যাচ্ছে অসংখ্য অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের মালিক স্থানীয় এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, টেকনিশিয়ানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিভিন্ন সময় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়া হলেও তা কাজে আসেনি। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা প্রভাবশালী। স্বাস্থ্য প্রশাসনকে তারা পাত্তা দেন না। ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে তাদের সখ্যতা থাকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা একাকার হয়ে অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও অবৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে তারা ঐক্যবদ্ধ। স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করেই তারা তাদের রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকেন অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিকের কাছ থেকে। এছাড়া এতো হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনের মতো জনবলও নেই স্বাস্থ্য প্রশাসনে।

গত ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে তিন দিনের মধ্যে অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা জারির পর গত ২৮ মে থেকে অভিযান শুরু হয়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত আছে। চলমান অভিযানের ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট সূত্র স্থানীয়রা জানান, বেশিরভাগ অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবার কোথাও পৌর মেয়রও মালিক। তারা কোন কিছুরই তোয়াক্কা করেন না। অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক তালাবদ্ধ করা হলেও পরদিন তা আবার চালু করা হয়। আর সরকারি হাসপাতালে রোগী গেলে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। অথচ সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা আছে। যা অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেই। তারপরও সেখানে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে ৫০ ভাগ কমিশন পান এক শ্রেণীর ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ কর্মচারীরা। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও রোগীদের অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠিয়ে সেখানে অপারেশন করেন একই ডাক্তার। অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিকরা ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধিদের বলেন, লেখালেখি করে কোন লাভ হবে না। আমাদের সাথে স্বাস্থ্য প্রশাসনের যোগাযোগ আছে। তাদের আমরা নিয়মিত উত্কোচ দেই।


৮৮২ ক্লিনিক-হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ৮৮২ ক্লিনিক-হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ নীলফামারী জেলায় প্রায় ২০০ অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর অধিকাংশের মালিক সরকারি হাসপাতালের এক শ্রেণীর ডাক্তার, কর্মচারী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। কোথাও আবার ডাক্তারের স্ত্রীরাও মালিক। অভিযান চালালে কিছুদিন এসব অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধ থাকলেও আবার চালু হয়ে যায়। কুড়িগ্রামেও দুই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা যৌথভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের মালিক। বরগুনায় ৬টা অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক তালাবন্ধ করার পরদিন আবার খোলা হয়েছে। ভোলায় অধিকাংশ অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিক রাজনৈতিক নেতা, সরকারি হাসপাতালের এক শ্রেণীর ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক শ্রেণীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এসব অধিকাংশ অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনার নেপথ্যে রয়েছেন। সারাদেশের অধিকাংশ অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরর মালিক প্রভাবশালীরা। অতি সম্প্রতি ভোলায় ডা. রায়হানুল হক নামক একজন চিকিত্সক কম টেস্ট লেখেন বলে তাকে অপদস্থ করা হয়, এক পর্যায়ে তাকে বের করে দেওয়া হয়। আবার সরকারি হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারীও রোগী ভাগিয়ে অবৈধ হাসপাতালে পাঠানোর দালালি করে আসছেন। রংপুরে অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে ৯৯টি। মাসের পর পর এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মাসোহারা দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে আসছে। এগুলো বন্ধ করা হলে, কয়েকদিন পরে আবার চালু করা হয়। সরকারী উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ৩১ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে প্রায় ৮০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত এসব ওষুধের ৯৫ ভাগই রোগীরা পায় না। সরকারি হাসপাতালের এসব ওষুধ বাইরে পাচার হয়ে যায়। হাসপাতালের আশপাশের ওষুধের দোকানে ওই সব ওষুধ পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতেই অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় ১১ হাজার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদের কারণে যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত না হয় সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে হেনস্তা করা নয়, স্বাস্হ্যসেবার মান বাড়ানো।’ বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে মানহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া, অথবা সতর্ক করে দেয়া যাতে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে নিতে পারে। বেসরকারি খাতের হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্লাড ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জনগণ যেন প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এছাড়া বান্দরবান প্রতিনিধি, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা, তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা ও বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে অভিযানসহ হাসপাতালগুলোর সার্বিক চিত্র পাঠিয়েছেন।

অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সারাদেশে সব অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ের পর নিবন্ধনহীন কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. বেলাল হোসেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বুধবার (২৫ মে) অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যারা সিদ্ধান্ত মানবে না, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন জানতে চাইলে বেলাল হোসেন বলেন, যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি, সেগুলো অবৈধ। আমাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের পর যদি নিবন্ধনহীন কেউ কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মনিটরিং ও সুপারভিশন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো
১. আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে হবে। অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

২. যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন গ্রহণ করেছে কিন্তু নবায়ন করেনি, তাদের নিবন্ধন নবায়নের জন্য একটি সময়সীমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নবায়ন না করলে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

৩. বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অপারেশন করার সময় এনেস্থেসিয়া দেওয়া ও ওটি অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ডাক্তার ছাড়া অন্যদের রাখা হলে সেসব প্রতিষ্ঠান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধনের আবেদন করেছে তাদের লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে। লাইসেন্স পাওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

উল্লেখ্য, অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে অনুমোদিত ও আবেদন করা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) বিশ্ব থাইরয়েড দিবস-২০২২ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ এন্ড্রোক্রাইন সোসাইটি ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লক থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বটতলা প্রদক্ষিণ করে টিএসসি হয়ে ডি ব্লকে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রার শুরুতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি দিবসের উদ্দেশ্য হল জনগণকে সচেতন করা। আজ বিশ্ব থাইরয়েড দিবসের উদ্দেশ্যও তাই। থাইরয়েড নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পার্শ্ববর্তী বারডেমসহ অন্যান্য মেডিক্যাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ থাইরয়েড জনিত রোগ মোকাবিলা করতে হবে।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, নার্সিং ও মেডিক্যাল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, হোমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন শাহ, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক হোসেন,সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ রাসেল, এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহাজাদা সেলিম প্রমুখসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ এন্ড্রোক্রাইন সোসাইটি ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেলি ফুলের উপকারিতা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক

আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেলি ফুলের উপকারিতা অনেক। এটি শুধু সৌন্দর্য                 বৃদ্ধিই করে না, আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুন কাজ করে।

আমাদের সকলের প্রিয় ফুল বেলি। এটি দেখতে যেমন অনেক সুন্দর ,এর ঘ্রাণ আরো সুন্দর। বেলি ফুলের সুগন্ধ চারিদিকে মহিত করে। এটি জুঁই ফুলের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এই ফুলের গাছ খুব একটা রড় হয় না। এটা প্রায় এক মিটার মত লম্বা হয় । এবং এর ডালডালা ও পাতায় চারিদিকে ছেয়ে যায়। এটি বাড়ির আঙ্গিনায়,বেলকনিতে টবে,তাছাড়া বাণিজিক ভাবে মাঠেও বেলি ফুলের চাষ করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বিয়ে, অনুষ্টানে, এই ফুল ব্যবহার করায় এর চাহিদা প্রচুর পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেলি ফুরের ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। আর এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করছে।

বেলি ফুল ঔষধি গুণ হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক কাজে লাগে। আর এই ঔষধ সম্পন্ন পার্শপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। বাজারের যে ঔষধ সেবন করা হয় তার অনেক ধরনের পার্শপ্রতিক্রিয়া থাকে। কিন্তু বেলি ফুলের তৈরি পথ্য খেলে কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া কাজ করে না।তবে এই ফুলের আকার ও গড়ন অনুসারে কয়েকটি প্রকারভেদে ভাগ করা হয়েছে। এবং এটি কয়েকটি থোকায় থোকায় গ্রীস্ম ও বর্ষায় কালে ফোঁটে। বেলি ফুলের চাষ সাধারনত কলম ও শিকড় থেকে করা হয়। বেলি ফুল তেলের জন্য একটি ভাল উৎস এবং এটি আজও সুগন্ধি শিল্পের উদ্দেশ্যে চাষ করা হচ্ছে। বেলি ফুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিই।

শ্বাসকষ্ট রোধ
শ্বাসকষ্ট রোধে বেলি ফুল দারুন কাজ করে। আর এই জন্য বেলির মূল ভালোকরে সিদ্ধ করতে হবে। এবং এই সিদ্ধ করা ক্বাথ সেবন করলে শ্বাসকষ্টে উপকার পাওয়া যায়।

বুকের কফ বা সর্দি

বুকের কফ বা সর্দি বসলে বেলি ফুলের মূল এবং কচি পাতা থেঁতো করে খেলে এটি দ্রুত ভালো হয়।

কৃমির প্রভাব

আমাদের সকলের কম বেশি কৃমির প্রভাব দেখা যায়। আর কৃমি থেকে মুক্তি পেতে বেলি ফুল চূর্ণ করে গরম পানির সাথে সেবন করতে হবে । তাহলে অতি সহজে পেটের কৃমি দূর হবে।

ক্ষত সারাতে

বিভিন্ন সময় আমাদের ক্ষত দেখা দেয়। আর ক্ষত সারাতে এটি দুর্দান্ত কাজ করে। এই ফুলের পাতা পিষে ক্ষত স্থানে লাগালে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

বমি বমি ভাব

আমাদের অনেকের বমি বমি ভাব লাগে আর এটি দূর করতে বেলি ফুলের মূল থেঁতো করে এর সঙ্গে আতপ চাল ধোয়া পানি ও সামান্য পরিমানে চিনি মিশিয়ে খেতে হবে।

ঘুমের সমস্যা
ঘুমের সমস্যা দূর করতে বেলির পাতা বেটে পানিতে গুলিয়ে সেবন করুন ঘুম ভালো হয়।

বেলজিয়ামে ২১ দিনের মাঙ্কিপক্স কোয়ারেন্টাইন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
করোনাভাইরাস বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন লকডাউন প্রথা চালু করতে বিশ্ব মানব সমাজকে বাধ্য করেছে এখান থেকেই এই কোয়ারেন্টাইন লকডাউনের প্রথা বিশ্ববাসির সঙ্গী হতেে চলেছে।

মাঙ্কিপক্স ঠেকাতে বিশ্ব যাচ্ছে কোয়ারেন্টাইন লকডাউন মত পরিস্থিতিতে। যেটা বেলজিয়াম থেকে শুরু হচ্ছে।

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারি এখনও শেষ হয়নি। আর এরমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আরেক সংক্রামক ভাইরাস মাঙ্কিপক্স। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

মাঙ্কিপক্স কী করোনাভাইরাস মহামারির মতোই ভয়ানক হয়ে উঠবে? এমন আশঙ্কার মধ্যেই রোববার ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণ মোকাবিলায় ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন বিধি জারি করেছে বেলজিয়াম। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হবে, তাদের তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলজিয়ামে এখনও পর্যন্ত চারজনের শরীরে ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের প্রত্যেকেই ইউরোপের এই দেশটির বন্দরনগরী অ্যান্টওয়ার্প-এ আয়োজিত এক সাম্প্রতিক উৎসবের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। অর্থাৎ আক্রান্ত চারজনই ওই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন।

আর তাই সেই উৎসব থেকেই বেলজিয়ামে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রত্যেককেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

এদিকে দেশে কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম জারি করা হলেও বেলজিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন বলেছে, তাদের দেশে মাঙ্কিপক্সের বৃহত্তর প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কম। ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণের ক্ষেত্রে এমনিতে আইসোলেশনের প্রয়োজন হয় না। তবে কোভিড সংক্রমণের পর এখন অনেকেরই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তাই সতর্ক থাকা উচিত।

‘মাঙ্কিপক্স’ মূলত গুটিবসন্ত বা চিকেনপক্স গোত্রেরই রোগ। তবে, এটি গুটিবসন্তের থেকে কম মারাত্মক, মৃত্যুর হার ৪ শতাংশেরও নিচে। বেশিরভাগ রোগীই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে, এর আগে কখনও আফ্রিকার বাইরে মহামারি আকারে এই রোগ ছড়াতে দেখা যায়নি।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পর রোববার এই রোগ শনাক্ত করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যেও। আফ্রিকার বাইরে ‘মাঙ্কিপক্সের’ এই অস্বাভাবিক বিস্তারই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বছরের পর বছর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই রোগকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এদিকে ‘মাঙ্কিপক্স’ রুখতে প্রথম দেশ হিসাবে বেলজিয়াম কোয়ারেন্টাইন জারি করলেও, বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে যুক্তরাজ্যে। রোববার ব্রিটেনে আরও ১১ জনের ‘মাঙ্কিপক্স’ পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

ফলে, সব মিলিয়ে ব্রিটেনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২০ জনে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বর্তমানে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে সে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য মাঙ্কিপক্স প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ‘নিষ্ক্রিয়তার’ জন্য ইতোমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে ব্রিটিশ সরকার।

রোববার ইসরায়েল ও সুইজারল্যান্ডও ‘মাঙ্কিপক্স’ ভাইরাস সংক্রমণের কথা নিশ্চিত করেছে। ফলে, এই ভাইরাল রোগ বর্তমানে বিশ্বের মোট ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে গত শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং সুইডেন – এই ১২টি দেশে অন্তত ৯২টি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে মাঙ্কিপক্স নিয়ে সতর্কতা জারি
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সারাবিশ্বে আতংক সৃষ্টিকারী সংক্রামক রোগ ‘মাঙ্কিপক্স’ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি স্থল, নৌ এবং বিমান বন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

করোনার মহামারি শেষ না হতেই নতুন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ‘মাঙ্কিপক্স’। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১২টি দেশে ছড়িয়েছে সংক্রামক এ রোগ।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এয়ারপোর্ট, ল্যান্ড পোর্টসহ পোর্ট আমরা সতর্কতা জারি করছি। এছাড়া এয়ারপোর্টে মেডিক্যাল অফিসারদের সতর্ক থাকতে বলেছি। সন্দেহভাজন কেউ এলে যেন তাকে চিহ্নিত করা যায় এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

মাঙ্কিপক্স বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ভাইরাসটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সারাবিশ্ব থেকে এ ব্যাধি বিষয়ে জানবো, তথ্যউপাত্ত নেবো। এরপর যদি কোনো কিছু করতে হয় অবশ্যই আমরা তা করব।’

জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জনদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অধিদপ্তরের এই পরিচালক বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। তবে যেহেতু সব জায়গায় পোর্ট নেই সেজন্য সব জায়গায় এটা এখনো তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। তবে এয়ারপোর্ট দিয়েই যেহেতু আসতে পারে তাই এ ক্ষেত্রেই আমরা সবচেয়ে বেশি সতর্কতা রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এই ছয়টি রোগই নীরব ঘাতক`! অবশ্যই সতর্ক থাকুন
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
আমাদের দেহে নানা রকম রোগব্যাধি বাসা বাঁধে। এর মধ্যে কিছু অসুখ খুব বেশি জটিল হয় না, কিছু সময় পর সেরে যায়। অন্যদিকে এমন কিছু রোগও রয়েছে যা বেশ জটিল। হাজার চেষ্টা করেও তা সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।এসব রোগের মধ্যে কিছু রোগ এমন হয় যার ফলে নানারকম উপসর্গ ও শরীরে অসুস্থতা দেখা দিয়ে থাকে।

কিন্তু এমনও কিছু রোগ আছে, যেগুলো আপনার শরীরের নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে। সাইলেন্ট কিলার বা নীরব ঘাতক ধরনের রোগগুলো শরীরের ভেতরে ভেতরে নীরব অবস্থায় ক্ষতি করতে থাকে ওবং যে কোনো সময় গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তা আকস্মিক মৃত্যুর কারণও হতে পারে। আর এসব রোগ সাধারণত সারাজীবন নিয়ে থাকতে হয়। এ ধরনের সমসা এড়াতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। ভালো খাবার খাওয়া, স্বাস্থ্যকর রুটিন বজায় রাখা ও ব্যয়াম করার মাধ্যমে এমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকা যেতে পারে।

তাই সতর্ক থাকতে জেনে নিন ৬ নীরব ঘাতক রোগ সম্পর্কে-
1. উচ্চ রক্তচাপ- উচ্চ রক্তচাপ রোগকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হচ্ছে- এটি কোনো বিশেষ লক্ষণ ছাড়াই উদ্ভূত হয়। আর শরীরে ক্ষতি হওয়ার পরে এটির পরিস্থিতি গভীরতা বুঝতে পারা যায়। এটি হার্ট ও ধমনীতে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, স্ট্রোক এবং আরও অনেক জটিল ও গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

2. করোনারি আর্টারি ডিজিজ- হৃদরোগের মধ্যে করোনারি আর্টারি ডিজিজ অন্যতম। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে হৃত্‍পিণ্ডে রক্ত ওঅক্সিজেন সরবরাহকারী করোনারি ধমনী সংকুচিত হয়ে যায়। আর এর ফলে বুকে ব্যথা (এনজাইনা) বা হার্ট অ্যাটাক হয় এবং এটিই প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। এটি এতই মারাত্মক যে, এই রোগে আক্রান্ত একজন ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিত্‍সা দেওয়ার সময়ও হার্ট ফেইলিওর এবং অ্যারিথমিয়া হতে পারে।

3. ডায়াবেটিস- প্রাথমিকভাবে ডায়াবেটিস রোগের কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। শুধু যখন রোগটি বেড়ে যায়, তখন এটি ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ঘন ঘন প্রস্রাব ও তৃষ্ণা বেশি লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস হলে তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন হার্ট, কিডনি এবং আপনার দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

4.অস্টিওপোরোসিস- অস্টিওপোরোসিস হচ্ছে একটি হাড়ের রোগ। আর এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই এটি হয়ে থাকলেও বুঝতে পারে না।কারণ এটি কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ ততক্ষণ পর্যন্ত দেখায় না; যতক্ষণ না কোনো ফ্র্যাকচারের ঘটনা ঘটে বা রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হয়। এ কারণে একে নীরব ঘাতকও বলা হয়। হাড়ের ঘনত্বকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি, এটি মুখের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।

5. স্লিপ অ্যাপনিয়া- স্লিপ অ্যাপনিয়া হচ্ছে এমন একটি গুরুতর ঘুমের ব্যাধি যেটিতে ঘুমের সময় জোরে শ্বাস নেয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এটি জোরে নাক ডাকা, দিনের বেলা চরম ক্লান্তি এবং রাতে ঘুম না হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগীরাঘুমের সময় আকস্মিক মৃত্যু এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। আর এ রোগটি হলে অনেকে বুঝতেই পারেন না। এ কারণে এটিকে নীরব ঘাতক বলা হয়।

6. ফ্যাটি লিভার- শরীরে ফ্যাটি লিভার রোগটির বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয় এবং প্রাথমিকভাবে এর কোনো উল্লেখযোগ্য চিহ্ন দেখা যায় না। এ কারণে এটি শরীরে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে। এ রোগটি হলে তার শেষ পর্যায়ে সিরোসিস হতে পারে এবং যকৃতের দাগ (ফাইব্রোসিস) এর চূড়ান্ত পর্যায়ে হতে পারে।

মৃত্যু নেই, শনাক্ত নেমেছে ৪ জনে
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে কারো মৃত্যু হয়নি। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জন অপরিবর্তিত থাকল। এছাড়া একই সময়ে সারা দেশে আরও ৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৭৪৭ জনে। বাংলাদেশে এরচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হয়েছিল সেই মহামারীর শুরুর দিকে, ২০২০ সালের ২ এপ্রিল, সেদিন দুজন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। । এছাড়া আজ  শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৫ মে)  বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ২১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দেশের ৬৪ জেলায় ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকার একজন কক্সবাজারের বাসিন্দা। গত একদিনে ভাইরাসটি থেকে ২৫৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৮ জন।

উল্লেখ্য,  দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।  ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।  ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।

টিকা নিয়ে টিআইবি’র প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
করোনাভাইরাসের টিকাসহ স্বাস্থ্যখাত নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর  প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টিআইবি প্রতিবেদন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রত্যাখ্যান করেন।


সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ সাইফুল হাসান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম  প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন।


জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা নিয়ে আমাদের কাজ খুবই ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ)। আমাদের কেনাকাটা পুরোটা স্বচ্ছ। কিন্তু টিআইবি অস্বচ্ছ কাজ করেছে। করোনা প্রতিরোধে টিকা কেনাকাটা নিয়ে টিআইবি’র  দেওয়া তথ্য ভিত্তিহীন।  দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে টিআইবি এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে।’


স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিআইবির প্রতিবেদন সম্পর্কে আরও বলেন, আমরা অবশ্যই এটা প্রত্যাখ্যান করি। একটা সংস্থা তাদের মতামত প্রকাশ করতেই পারে। যেহেতু এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, তাই আমরা সব সময় আইনি ব্যবস্থার পক্ষে না।


টিআইবি খুবই ইনট্রান্সপারেন্ট (অস্বচ্ছ) কাজ করেছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরিপ প্রসঙ্গে করোনার সবশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।


এসময় তিনি বলেন, যেখানে ডাব্লিউএইচও চাহিদা অনুযায়ী একটি দেশের ৭০ ভাগ মানুষের টিকার আওতায় আনার কথা বলেছে, সেখানে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৭৫ ভাগ জনসংখ্যাকে অর্থাৎ প্রায় ১৩ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় এনেছে। বুস্টার ডোজই দেয়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষকে।


প্রতিবেদনে টিআইবি একটার পর একটা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, টিআইবি রিপোর্টে জরিপ করা হয়েছে মাত্র ১৮০০ মানুষের উপর। স্বাস্থ্যখাত টিকা দিয়েছে ১৩ কোটি ডোজ। তাহলে কোথায় ১৩ কোটি মানুষ আর কোথায় মাত্র ১৮০০ জন মানুষের জরিপের ফলাফল। সেই জরিপও করা হয়েছে ফোনে ফোনে কথা বলে।
টিআইবি প্রতিবেদনের অসংলগ্ন তথ্যগুলি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, “টিআইবি বলেছে, দেশের ৭.৮ ভাগ মানুষ করোনায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। ৭.৮ ভাগ মানুষ মানে তো দেড় লাখ মানুষ। দেশে করোনায় ৩০ হাজারের কম মানুষ মারা গেছে অথচ তারা বলছেন ৭.৮ ভাগ মানুষ মারা গেছেন বিনা চিকিৎসায়। টিকা ব্যবস্থাপনায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।”


তিনি বলেন, আমরা কেবল নিজেদের কেনা ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছি। এর সাথে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ টিকা যেগুলি সরকার বিনামূল্যে পেয়েছে সেগুলির মূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। ক্রয়কৃত ও উপহার হিসেবে পাওয়া টিকার মূল্য ধরেই ৪০ হাজার কোটি টাকা বলা হয়েছে।


জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকাদানে দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোন কোন জায়গায় ৬৬-৬৭ টাকা করে ঘুষ দিয়ে টিকা নিতে হয়েছে। ৬৬-৬৭ টাকা আজকাল কাউকে এমনি এমনি দিলেও নিতে চায় না। অথচ এটি প্রচার করা হলো দুর্নীতি হিসেবে। ল্যাব সংখ্যা কম, চিকিৎসা সেবা পায়নি মানুষ। অক্সিজেন ঘাটতি ছিল, আইসিইউ সংকট সহ আরো নানা বিষয়ে জরিপে বলা হয়েছে, যার কোনটিই সত্য নয়।’


তিনি বলেন, টিআইবি স্বাস্থ্যখাতের অর্জনকে ম্লান করে দিতেই এই রিপোর্ট করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে যখন দেশে বিদেশে সবাই প্রশংসা করছে তখন তারা এরকম মনগড়া ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি পড়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকেই ইনট্রান্সপারেন্ট মনে হয়েছে। স্বাস্থ্যখাত টিআইবি’র এই প্রতিবেদন টোটালি প্রত্যাখান করছে।

দেশে প্রথম প্রতিস্থাপিত হার্ট ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব প্রতিস্থাপন
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো বুক না কেটে হার্টে ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওর্টিক ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট (টিএভিআর) পদ্ধতিতে পুরনো অ্যাওর্টিক ভাল্বের ভেতরে নতুন ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

২০১১ সালে ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বুক কেটে অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১১ বছর পর সম্প্রতি তার শ্বাসকস্ট তীব্র হতে থাকে। বুক কেটে ভাল্ব প্রতিস্থাপন ব্যক্তিদের পুনরায় প্রতিস্থাপিত ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব স্থাপনে আর্থিক খরচ কোটি টাকার বেশি হয়। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়ে রোগীর পরিবার।

এদিকে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এমন অবস্থায় তাকে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকারের নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয় তার। টিমটি সিদ্ধান্ত নেয়, বুক না কেটে পূর্বের প্রতিস্থাপিত ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব প্রতিস্থাপনের। টিএভিআর ভাল্ব প্রতিস্থাপন পদ্ধতিতে ওই ব্যক্তির হার্টে অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়।

ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার জানান, জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে টিএভিআর পদ্ধতিতে বুক কেটে ভাল্ব প্রতিস্থাপিত এক ব্যক্তিকে নতুন করে বুক না কেটেই পূর্বের প্রতিস্থাপিত স্থানে নতুন ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে গত ১৭ এপ্রিল অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করা হয়। দেশে এই প্রথম পূর্বে ভাল্ব প্রতিস্থাপিত ব্যক্তিকে নতুন করে বুক না কেটে নতুন ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ডা. প্রদীপ বলেন, সাধারণত হার্টে বুক কেটে টিস্যু অ্যাওর্টিক প্রতিস্থাপন করলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই এটি আবার তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। এর চিকিৎসা বিদেশে হলেও ব্যয় হয় কোটি টাকার উপরে। বুক কাটা এমন ব্যক্তি বহু রয়েছেন, যারা অসুস্থতার ভুগছেন। আমরা এমন অপারেশন একের পর এক করে যাব।

কম খরচে এমন অপারেশন করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর বিদেশে নয়, বাংলাদেশেই এমন অপারেশন করা যাবে।’
 
অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপনে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে জানিয়ে ডা. প্রদীপ বলেন, রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না। রোগী তিন দিন পরে হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে যেতে পারে এবং সাত দিনের মধ্যে কাজে যোগ দিতে পারে।  যেসব রোগী ১০-১৫ বৎসর আগে টিস্যু অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করেছে, তাদের অনেকের ভাল্ব কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তারা খুব সহজে হার্টের এই নতুন চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবে। এতে রোগীদের সুবিধাসহ অনেক টাকাও সাশ্রয় হবে।

এই অ্যাওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপনে ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার জানান, সরকারি হাসপাতালে কম খরচ। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে ১০ লাখের মতো খরচ হবে।

ঢাকায় ২৩ লাখ মানুষ কলেরার টিকা পাবেন
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
রাজধানী ঢাকায় ২৩ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (১৩ এপ্রিল) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বছর দেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই ডোজের এই টিকা কর্মসূচির প্রথম ডোজ দেওয়া হবে মে মাসে। ২৩ লাখ ডোজ টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে জুনে। তিনি আরও বলেন, প্রথম ধাপে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ এই পাঁচটি এলাকায় টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, টিকা কার্যক্রম নিয়ে আমরা এখনও কাজ করছি।

এই টিকা গ্রহণ করতে হলে আলাদা কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট তারিখ ও কেন্দ্র বাছাই হলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। নিকটস্থ কেন্দ্রে গেলেই যে কেউ টিকা নিতে পারবেন।হাসপাতালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে এই চিকিৎসক বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, মুখে খাওয়ার স্যালাইন, আইভি স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি চাহিদা অনুয়ায়ী হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৫২৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, হাসপাতালগুলোতে ৫০০ মিলি ব্যাগ আইভি স্যালাইন মজুত আছে ৩ লাখ ৩০ হাজারটি, ১০০০ মিলি ব্যাগ আছে ৪ লাখ।

এছাড়াও ১০০০ মিলি ব্যাগের আরও ১ লাখ ৬০ হাজার আইভি স্যালাইন শিগগিরই ক্রয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ডায়রিয়া প্রকোপ রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে খাবার স্যালাইন গ্রহণের পাশাপাশি নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।


   Page 1 of 27
     স্বাস্থ্য
যে কারণে যৌন শক্তি বাড়ানোর ঔষধের দিকে ঝুঁকছে আরব তরুণরা
.............................................................................................
ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি
.............................................................................................
পেটে ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করেন ডাক্তার, ৭ মাস পর অপসারণ
.............................................................................................
মূত্রত্যাগের পরেও প্রস্রাবের প্রবল বেগ? এই লক্ষণে সাবধান
.............................................................................................
ফের করোনার সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত
.............................................................................................
অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের অধিকাংশেরই মালিক ডাক্তার ও রাজনীতিক
.............................................................................................
অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ
.............................................................................................
সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
.............................................................................................
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেলি ফুলের উপকারিতা
.............................................................................................
বেলজিয়ামে ২১ দিনের মাঙ্কিপক্স কোয়ারেন্টাইন
.............................................................................................
বাংলাদেশে মাঙ্কিপক্স নিয়ে সতর্কতা জারি
.............................................................................................
এই ছয়টি রোগই নীরব ঘাতক`! অবশ্যই সতর্ক থাকুন
.............................................................................................
মৃত্যু নেই, শনাক্ত নেমেছে ৪ জনে
.............................................................................................
টিকা নিয়ে টিআইবি’র প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
.............................................................................................
দেশে প্রথম প্রতিস্থাপিত হার্ট ভাল্বে নতুন করে ভাল্ব প্রতিস্থাপন
.............................................................................................
ঢাকায় ২৩ লাখ মানুষ কলেরার টিকা পাবেন
.............................................................................................
২২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত, মৃত্যু নেই
.............................................................................................
দেশে বুস্টার ডোজ পেলেন ১ কোটি ৫ লাখ মানুষ
.............................................................................................
রাজধানীতে ডায়রিয়া বৃদ্ধি, ঘণ্টায় ৬০ রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে
.............................................................................................
পাইলস কখন হয়, প্রতিরোধের উপায়
.............................................................................................
বছরে তামাকজনিত রোগে মারা যায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ
.............................................................................................
৫৬টি শূন্যপদ নিয়ে চলছে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
.............................................................................................
কমেছে করোনায় মৃত্যু-আক্রান্ত
.............................................................................................
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘হ-য-ব-র-ল’
.............................................................................................
বিশ্বে একদিনে করোনা শনাক্ত ৩৬ লাখ
.............................................................................................
বিশ্বে একদিনে শনাক্ত পৌনে ২০ লাখ, মৃত্যু ৫ হাজার
.............................................................................................
বিশ্বজুড়ে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ২১ লাখের অধিক
.............................................................................................
২৪ ঘন্টায় সাড়ে ১৮ লাখ শনাক্ত, মৃত্যু ৩৩০৬ জনের
.............................................................................................
ওমিক্রনের তান্তব: একদিনেই আক্রান্ত ২১ লাখ
.............................................................................................
বিশ্বজুড়ে আবারো বাড়ছে করোনায় মৃত ও শনাক্ত
.............................................................................................
২৪ ঘন্টায় করোনায় ৪৬৪৬ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শাবিপ্রবি ছাত্রীর খাবার উদ্ভাবন
.............................................................................................
ডেল্টা-ওমিক্রনের রূপান্তরে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ডেলমিক্রন’র সন্ধান
.............................................................................................
বুস্টার ডোজ দিয়েও মহামারি ঠেকানো যাবে না: ডব্লিইএইচও
.............................................................................................
যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর করোনায় মৃত্যু পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর
.............................................................................................
ফরিদপুর হাসপাতালে ১০ মিনিটে ৪ রোগীর মৃত্যু!
.............................................................................................
খুলনার আরও ২২ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল: ৪ আইসিইউ বেডের দু’টি অকেজো, সর্বত্র অব্যবস্থাপনা
.............................................................................................
করোনা : রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১৯ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
বগুড়ায় হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৭ জনের মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১১
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে নিহত ২
.............................................................................................
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
.............................................................................................
চীনের দ্বিতীয় টিকাও ডব্লিউএইচওর অনুমোদন পেল
.............................................................................................
করোনা প্রতিরোধে ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’ উদ্ভাবন
.............................................................................................
‘টিকা দেওয়া মারাত্মক ভুল, এতে শক্তি বাড়ছে কোভিডের’
.............................................................................................
পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম
.............................................................................................
করোনার ভারতীয় ধরন নিষ্ক্রিয় করতে পারে কোভ্যাক্সিন
.............................................................................................
বিএসএমএমইউতে স্থাপন করা হচ্ছে ২০ হাজার লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন ট্যাংক
.............................................................................................
আগামী মাসের শুরুতে ২১ লাখ টিকা পাবে বাংলাদেশ
.............................................................................................
করোনাভাইরাস মারার মাস্ক আবিস্কার করলেন গবেষকরা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT