শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শিল্প সাহিত্য
  কোভিড-১৯ ও একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ভাঙন
  13, April, 2020, 9:27:16:PM
তানজিলা

আমি ভাত খাবোনা। জয় খুব জিদ ধরলো।
কেন খাবিনা ? খেতে হবে। নাবিলাও জিদ ধরলো।
প্রতিদিন আলুর ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে আমার ভালো লাগেনা। সকালেও আলু ভাজি দিয়ে রুটি খাওয়ালে। জানি রাতেও আলুর ভর্তা।
জয় সত্যি বলছে। কয়েকদিন থেকে নাবিলাদের খাবার রুটিনে ডাল আর আলু থাকে। কোনোদিন নাম মাত্র তেল দিয়ে আলু ভাজি , কোনোদিন ভর্তা। মাঝে মধ্যে একটু শাক ভাজি। পেঁয়াজ কেনা তাদের কাছে এক ধরণের বিলাসিতা। তাই পেঁয়াজ ছাড়াই সব রান্না হয় ।
জয়ের এমন কথা শুনে সবার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। নাবিলার চোখ জলে ছলছল করে উঠলো।

ওকে কেন একটা মাছ ভাজি করে দিলেনা ? রহমান সাহেব তার স্ত্রী সালেহাকে বললেন।রহমান সাহেব জানেন ঘরে কোনো মাছ নেই। তবুও নিজেকে সান্তনা দিতে মিথ্যা অভিনয় করলেন ।

আমার মনে ছিলোনা। রাতে দিবো। সালেহা বেগমও এই অভিনয়ের মানে বুঝতে পেরে জবাব দিলেন।
বাবলু চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু জয়ের এমন কথা আর নাবিলার কান্ড দেখে তার গলা দিয়ে ভাত নাম ছিলোনা। না খেয়েই হাত ধুয়ে উঠে পড়লো। নিজেকে সবসময় তার একটা অপদার্থ মনে হয়। কারণ এখনো সে বাবার টাকায় চলছে। অনেক চেষ্টা করেও কোনো জব মিলাতে পারছেনা।কেউ কেউ বললো কিছু টাকা ম্যানেজ করে দিতে পারলে হয়তো একটা জব জুটেও যেতে পারে। কিন্তু তাদের সেই সামর্থ্য নেই। পরিচিত অনেকের দ্বারে ঘুরেও কোনো লাভ হলোনা। জব দিবে বলেও আর দেয়নি।
টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে মাঝে মধ্যে জয়ের জন্য চকোলেট আর চিপস নিয়ে আসতো। কিন্তু করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সর্বত্র লকডাউন চলছে। সবাই হোম কোয়ারেন্টাইন মানছে। তাই তার টিউশনগুলো চলে যায়। টিউশনের বাসগুলো থেকে জানালো সবকিছু স্বাবাবিক হওয়ার আগে পর্যন্ত তারা বাচ্চাদের পড়াবেনা।
ইতিরও কান্নায় চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। রিফাত প্লেটে ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। তার খিদে যেন মরে গেছে। সে এবার এইচএস সি পরীক্ষার্থী। কিন্তু তার মোটেই পরীক্ষা দেয়ার ইচ্ছে নেই।
একদিনতো সাহেলা বেগমকে বলে বসলো ,
মা আমি পরীক্ষা দিবো না। আমাকে দিয়ে না পড়াশোনা হবেনা। তারচেয়ে বরং আমি পাড়ার মোড়ে একটা টেইলার্সের দোকান দিবো ।
এটা কি বলছিস তুই ? তোর বাবা শুনলে কিরকম রাগ করবে বুজতে পারছিস। হঠাৎ রিফাতের মুখে এমন কথা শুনে সত্যি খুব অবাক হলেন। কারণ রিফাত পড়াশুনায় খুবই ভালো। সবসময় ক্লাসে ফার্স্ট বয় ছিল। এসএসসিতেও তার গোল্ডেন এ প্লাস ।
ধুর বাবা বেশি বুঝে। এসব পড়াশুনা করে হবেটা কি ? ভাইয়া এখনো কিছু করতে পেরেছে ?
পারেনি বলে কি পারবেনা ? চাকরি-বাকরি কি অতো সহজ ? সময় হলে দেখিস ঠিকই পেয়ে যাবে।
মা , তুমিওনা বাবার মতো হয়ে গেসো। কিচ্ছু বুঝনা।
তুই পড়াশুনায় অনেক ভালো। তোর বাবার ইচ্ছে তোকে ডাক্তার বানাবে। এখন যদি তুই এমন কথা বলিস তোর বাবা তো মরেই যাবে।
বাবার এখনই যে অবস্থা। আমি কবে ডাক্তার হবো আর তোমাদের সবাইকে ভালো রাখবো। বলো ?
পারবি বাবা। একটু ধর্য্য ধর। তোর বাবার কষ্টটা সার্থক হবে।
বাবা যদি নাই থাকে আমার ডাক্তার হয়ে কি লাভ বলো। রিফাত কেঁদে দিলো। সালেহা বেগম ছেলেকে সান্তনা দিবেন কি নিজেই কেঁদে ফেললেন।
তবুও ভয়ে ভয়ে একদিন সালেহা বেগম রহমান সাহেবকে বললেন।
রিফাত বলছে সে নাকি পরীক্ষা দিবেনা।
পরীক্ষা দিবেনা! তো করবেটা কি ? রহমান সাহেব খুব রেগে গেলেন।
এতো রাগছো কেন ? ঠান্ডা মাথায় কথাটা শুনো।
মাথা ঠান্ডা হওয়ার মতো কোনো কথা বলেছো ?
আচ্ছা এখন বুজিয়ে বলছি। সে পাড়ার মোড়ে একটা টেইলার্সের দোকান দিতে চায়। সংসারে অবস্থা তো ভালো নয়।
তাই ?
সালেহা বেগম মাথা নেড়ে হা জানালেন।
বাহ্ বেশ ভালোতো। আমার ছেলের মাথায় এতো বুদ্ধি ! আগেতো জানতামনা।
আপনি রাজি ! সালেহা বেগম বিশ্বাস করতে পারছেননা রহমান সাহেব এতো সহজে রাজি হয়ে যাবেন।
রহমান সাহেব খেতে খেতে সালেহা বেগমের দিকে আড়ো চোখে তাকালেন। তারপর বললেন ,
শুনো। টেইলার্স হতে হলে তো দোকান ভাড়া নিতে হবে। মেশিন লাগবে। টাকা পয়সার ব্যাপার আছে। তারচেয়ে ওকে বলো মেথড় হতে। তাহলে শুধু বালতি আর ঝাড়ু হলেই চলবে। আমারও সমাজে শুনাব বাড়বে। কারণ তখন লোকে আমাকে দেখিয়ে বলবে ,
ওই দেখ , মেথড়ের বাপ্ যায়।
ছেলেটা সংসারের হাল ধরতে চাইলো। এতে দোষের কি ?
কেন ? আমি কি মরে গেছি নাকি ?
কি যাতা বলছেন ! সংসারের টানাটানির কথা আপনি জানেনা? সালেহা বেগম খুব রেগে গেলেন ।
কিন্তু রহমান সাহেব হেসে দিলেন।
বাহ্ এখনো দেখছি আমার প্রতি তোমার টান আছে। মরে যাবার কথা বলতেই কেমন ফোঁস করে উঠলে।
আপনার কি কোনো লাজ লজ্জা নেই ? ঘরে ছেলে মেয়েরা আছে সেদিকে কোনো খেয়াল আছে ? সালেহা বেগম খুব লজ্জা পেলেন।
থাকবেনা কেন ? ওরাতো আমাদের দেখেই শিখবে কিভাবে একটা ফ্যমিলি ভালো রাখতে হয় । কয়দিনপর ওদের সংসার হবে। আমি যদি তোমার সাথে দুর্ব্যাবহার করি , আমার ছেলেরাও ঠিক তেমনি তাদের বৌয়ের সাথে দুর্ব্যাবহার করবে। বুঝতে পেরেছো?
ঠিক বলছেন, এমন করেতো কখনো ভাবিনাই। সালেহা বেগম রহমান সাহেবের কোথায় মুগ্ধ হলেন।
দেইখো, নতুন করে আবার আমার প্রেমে পরে যেওনা যেন। প্রেমে পড়লে তো তোমার মধ্যে এক ধরণের পাগলামি দেখা দেয়।
রহমান সাহেব সালেহা বেগমকে নিয়ে মজা করতে লাগলেন।
আজকে কি আপনার মাথায় ভূত ভর করসে ? এমন রং তামাশা শুরু করেছেন ?
মাঝে মাঝে একটু করলে দোষ কি। সালেহা বেগমের কপট রাগে রহমান সাহেব মজা পেয়ে হাসতে লাগলেন।
 
বাবা মায়ের এমন খুনসুটি দেখে, নাবিলা ,বাবলু, ইতি এবং রিফাত দরজায় উঁকি দিয়ে দেখলো। তাদের এমন বদমেজাজি বাবা মনে মনে এতো বড়ো প্রেমিক ! অথচ কখনো তারা বুজতেই পারেনি। সংসারের টানাপোড়নে বাবার প্রেমিক হৃদয় তাদের কাছে অজানায় থেকে গেলো। তাই আজ তাকে এমন প্রেমিকের মতো কথা বলতে দেখে তারা সবাই বিস্মিত।
শোনো, তোমাকে একটা কথা বলি। রহমান সাহেব সালেহা বেগমকে বললেন।
ওরে বলো পৃথিবীতে যত মানুষ বড়ো হয়েছে , সবাই অনেক কষ্ট করে বড়ো হয়েছে। এইযে স্টিভ জবস , আইনস্টানই আরো কত আছে। তাদের কথা বাদ দিলাম আমাদের জাতীয় কবি নুজরুল ইসলাম কত কষ্ট করে বড়ো হয়েছেন। ছোট বেলায় সবাই তাকে দুঃখু মিয়া বলে ডাকতো। অথচ আজ মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে ভালোবসে।
সালেহা বেগম একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন।
বড়ো হতে হলে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সোনা যেমন পুড়ে পুড়ে খাঁটি হয় , তেমন করে মানুষকেও দুঃখ-কষ্ট সয়ে খাঁটি হতে হয়। বুঝেছো?
আমি বুঝে কাজ নেই। আপনার ছেলেকে আপনি বুঝান।
কেন? তুমি বুঝতে পারোনা ।
না। আপনার ছেলেও আপনার মতোই। তারে যদি আমি এইগুলা বলি, সে আমারে শুনাবে,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় ...
অ। রহমান সাহেবের মুখ শুকিয়ে গেলো।
রহমান সাহেব একটা বেসরকারি কোম্পানিতে তিনি সামান্য বেতনের চাকুরী করেন। যা পান তাতে তার পোষায় না।তবুও তিনি জীবন যুদ্ধে হার না মানা যোদ্ধা। কষ্টে করে ছেলে মেয়েকে তিনি পড়াশুনা করাচ্ছেন ।জীবনে তার একটাই চাওয়া। তার ছেলে মেয়েরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
 
এবার আসি নাবিলার গল্পে ।
নাবিলা অনার্স শেষ করারপর হাবিবের সাথে বিয়ে হয় তার আগে। তাদের ছয়মাসের প্রেম ছিল। হাবিব একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে । ছয় বছর তাদের ভালোই কাটছিলো। কিন্তু হঠাৎ হাবিব অন্য একটা মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। তাই নাবিলা জয়কে নিয়ে বাবার বাসায় চলে আসে।
 
হাবিবের সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার পর এক পরিচিতের মাধ্যমে একটা বেসরকারি হাই স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পায়। যা টাকা পায় তাতে তার নিজেরই ঠিকমতো চলেনা। তারউপর করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার দরুন স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো। স্কুল থেকে জানালো স্কুল বন্ধ থাকাকালীন তাদের কোনো বেতন দেয়া হবেনা।
 
এদিকে হাবিবও আর তাদের কোনো খোঁজ নেয়নি নাবিলা শুনেছে হাবিব আবার বিয়ে করেছে। অথচ রাগ করে চলে আসার সময় নাবিলা ভেবেছে হাবিব তাকে আটকাবে নয়তো পরে এসে তাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু ভাঙা কাঁচ কি আর জোড়া লাগে !
 
ইতি মার্স্টাসে পড়ছে। নিজের হাত খরচ এবং ফ্যামিলিকে সাহায্য করার উদ্দেশে অনলাইন নিজে একটা বিজনেস করছিলো। কিন্তু সেটাও করোনা ভাইরাসের জন্য আপাতত বন্ধ করে দিতে হলো। অন্যদেরমতো সেও কর্মহীন হয়ে পড়ে। নীরব দর্শকের মতো সংসারের দুরাবস্থা দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। খুব বেশি হলে কেঁদে মন একটু হালকা করার যায়। কিন্তু জয়কে নিয়ে মুশকিল। এতটুকু বাচ্চাকে কি করে বোঝাবে তারা !
সেদিন বললো ,
খামণি তুমি কেন এখন আর আমার জন্য কেক নিয়ে আসোনা। নাবিলার চেয়ে জয় ইতিকে বেশি পছন্দ করে। কারণ ডিপ্রেশনে থাকায় নাবিলা কারণে অকারণে জয়কে মারে।
আব্বু , তুমি তো জানোনা শহরে বিশাল একটা দৈত্ত আসছে। সে কেক খেতে পছন্দ করছে। আমি যদি তোমার জন্য কেক নিয়ে আসি। তাহলে তো সে তোমাকে নিয়ে যাবে। আমি কি আমার সোনাবাবুকে হারিয়ে যেতে দিতে পারি ?
জয় মাথা নেড়ে না দেখায়।
এইতো আমার আব্বুটা কত্ত লক্ষী। দৈত্যটা চলে গেলেই আমি তোমাকে এত্ত এত্ত কেক আর চকোলেট কিনে দিবো। ঠিক আছে বাবা?
মামা চিপস আনবেতো ?
হ্যা , নিশ্চয় আনবে । আমার এত্ত সুইট, লক্ষী বাবার জন্য কেউ কি চিপস না এনে পারবে ?
তাহলে নাঈম কেন চিপস , চকোলেট সবকিছু খায়। ইতির মুখ খানিকটা ম্লান হয়ে যায়।
নাঈমতো জানেনা দৈত্য এগুলা পছন্দ করে। এগুলা খেতে দেখলে দৈত্যটা তাকে নিয়ে যাবে ।
তাহলে আমি তাকে নিষেধ করে দিবো।
না বাবা। তুমি কিছু বলোনা। ওর আম্মু খুব রাগ করবে। খালামণি বুঝিয়ে বলবো ।
আচ্ছা ঠিক আছে। জয় খুব মন খারাপ করে বললো।
তাহলে দৈত্যটা কবে যাবে ?
এইতো বাবা আর কিছুদিন পরেই চলে যাবে। তখন তোমার যা ইচ্ছে খেতে পারবে।
নাঈমদের বাসায় যেতে পারবো ?
পারবেতো।
আমি আর নাঈম ছাদে গিয়ে খেলা করতে পারবো?
অবশ্যই পারবে।
স্কুলেও যেতে পারবো ?
হ্যাঁ বাবা। স্কুলে যাবে। সব বন্ধুদের সাথে খেলা করবে।
কত্ত মজা হবে। জয় হাত তালি দেয়।
ইতির " Life is Beautiful " মুভির কথা মনে পড়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় অসহায় গুইডো নিজের ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ছেলের কাছ থেকে সত্য ঘটনা আড়াল করে। ছেলেকে বুঝায় পুরো ঘটনা একটা খেলা। এমনকি মৃত্যুর আগেও ছেলেকে কিছুই বুঝতে দেয়নি।
ইতির নিজেকেও এখন তেমন অসহায় মনে হচ্ছে । প্রতিদিন এই গল্প , সেইগল্প বলে জয়কে বুঝতে হয় !
 
 
ঘরের চাল-ডাল পুরিয়ে আসছে দেখে সালেহা বেগম তার গহনাগুলো বেচতে চাইলেন।
আমার কাছে এই কয়টা গহনা আছে। দেখেনতো এইগুলা বেচা যায় কিনা।
বলছো কি ? তোমারতো এই কয়টা গহনা। এগুলা বেচলে কি করে হবে। তাছাড়া এখনতো সোনার দামও কমে গেছে ।
যাই হোক। আমার আর এখন এসব পরতে ভালো লাগেনা। আপনার মা আমাকে এইগুলা দিসিলো। তাই ভাবলাম আমিও ছেলেদের বৌদের দিয়ে যাবো।
কিন্তু এখন যা অবস্থা। আগে আমরা ছেলে-মেয়েরা বেঁচে থাকুক। তাছাড়া আপনার ঔষধগুলো শেষ হয়ে গেসে।
তোমার ঔষধ আছেতো ?
আমি এখন ঠিক আছি। আমার না হলেও চলবে।
সংসারের টানাটানি পড়েই থাকে। তারউপর ঔষধ কেনার বাড়তি খরচ তাদের জীবন আরো দুর্বিষহ করে তোলে।
কেন শুধু শুধু মিথ্যা বলছো ? তুমি না থাকলে ছেলে-মেয়েগুলার কি হবে?
সালেহা বেগমের মুখ কালো হয়ে গেলো।
ছেলে-মেদের জন্য তোমাকে সুস্থ থাকতে হবে। ভালো থাকতে হবে। বুঝেছো?
সালেহা বেগম অন্যান্য সময়ের মতো এখনো একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়লেন। এছাড়া যেন তার আর কিছু বলার নেই , করার নেই ।
ঠিক আছে। তাহলে কিছু দাও। সবটা বেচার দরকার নেই। দেখো আর কয়দিনের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। রহমান সাহেব বললেন।
গহনা বিক্রি করে আসার সময় একজন রহমান সাহেব রোগ-পটকা রিকশাওয়ালাকে নিলেন। তার রিকশার কোনো দরকার ছিলোনা। তবুও নিলেন। কারণ রিক্সাওয়ালাকে পানসে মুখে বসে থাকতে দেখে তার মায়া হলো। তাই রিকশায় উঠলেন। কিন্তু সে যেভাবে রিকশা চালাচ্ছে রহমান সাহেবের মনে হচ্ছে তিনি ভ্যান গাড়িতে করে যাচ্ছেন। বরং তারচেয়ে আরো স্লোওলী চালাচ্ছে।
ভাড়া কেমন পাচ্ছেন ? রহমান সাহেব কখনো রিক্সাওয়ালাদের তুমি বা তুই করে বলেননা। সে ছোট হলেও ।
ভারা এখন আর পামু ক্যামনে। সব তো বন্ধ হইয়া গেসে। মানুষজনও নাই।
সংসার চলে কিভাবে?
ভারা পাইলে চলে। নইলে উপোস থাকে অয়।
ওহ , রহমান সাহেবের মন খারাপ হয়ে গেলো ! বাসায় কে কে আছে ?
পোলা-মাইয়া চারটা। আমার মা আছে , বো আছে। তারা সব গেরামে থাহে।
বাহ্। আমরাও চারজন ছেলে মেয়ে । ছোট ছেলেটা খুব ব্রিলিয়ান্ট । ইচ্ছে আছে তাকে ডাক্তারি পড়াব। বাকিরাও খুব ভাল। বলা চলে সোনার টুকরো। বুঝলেন ?
রিকশাওয়ালা হ্যাঁ না কিছু বললো না । তার ভাব এমন যে সে ভাড়া নিলো টাকা পাওয়ার জন্য।ভাড়া পেলেই হলো। রহমান সাহেবের ছেলে-মেয়ে সোনার টুকরো, না রুপার টুকরো তা বুঝে তার কোনো কাজ নেই ।
আপনার ছেলেমেয়রা পড়াশুনা করতো ?
হ । করে । রহমান সাহেবের বকবকানিতে রিকশাওয়ালা খানিকটা বিরক্ত।
দুপুরে খাবার খেয়েছেন ?
না , এহনো খাইনাই। রহমান সাহেব খেয়াল করলেন রিক্সাওয়ালার কণ্ঠে যেন জোর নেই। কথা বলতেও তার কষ্ট হচ্ছে।
বাসার সামনে আসার পর রহমান সাহেব রিকশাওয়ালাকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বললেন,
এর চেয়ে আমার আর এখন বেশি সামর্থ্য নেই। এই টাকাগুলা রাখেন। বাড়িতে পাঠিয়ে বলেন চাল-ডাল কিনে নিতে।
রিকশাওয়ালা এমনটা ভাবতেই পারেনি। তার মনে হচ্ছে সে স্বপ্ন দেখছে। টাকাগুলো নেয়ার সময় তার হাত কাঁপছিলো। তাই দেখে রহমান সাহেব বললেন,
আরে ঠিক আছে। আপনি এখনো কিছু খাননি। তাড়াতাড়ি কিছু খেয়ে নিন।
 
বাসায় আসারপর সালেহা বেগম ঔষধের প্যাকেট চেক করে দেখলেন। রহমান সাহেব নিজের জন্য ঔষধ নিয়ে আসেননি।
আপনার ঔষধ কই ?
আমি ঠিক আছি আমার এখন ঔষধ লাগবেনা। রহমান সাহেবের এমন কথা শুনে সালেহা বেগমের সন্দেহ হলো ।
সত্যি করে বলেনতো কাকে টাকা দিয়ে আসলেন ? সালেহা বেগম জানেন রহমান সাহেব কারো কষ্টের কথা শুনলে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননা। পকেটে টাকা থাকলে দিয়ে দেন।
না মানে , আসার সময় একটা রিক্সাওয়ালার সাথে .. রহমান সাহেব আমতা আমতা করে বললেন।
থেমে গেলেন কেন সালেহা। বেগম চোখ রাঙিয়ে রহমান সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছেন ।
তুমি রাগ করো কেন? কয়দিন থেকে তো সব বন্ধ! বেচারা কোনোও ভাড়া পায়না তাই কিছু টাকা দিয়ে দিলাম ।
কত টাকা দিলেন ?
এই হাজার পাঁচেক। শুনে সালেহা বেগমের খুব রাগ হলো।
যাহোক। আজকেতো সত্যিটা বললেন। সালেহা বেগমের ভয়ে রহমান সাহেব কাউকে টাকা দিলেও বলতেন না। বাসায় এসে এমনভাব করতেন যেন তার পকেট থেকে টাকা হারিয়ে গেছে । নয়তো চুরি হয়ে গেছে। পরে অবশ্য মনের ভুলে পরে সব বলে ফেলতেন।
এই দেখ , কবে তোমাকে বলিনা? পরে হলেওতো বলি।
তা সব টাকা দিয়ে দিলেই পারতেন।
আহা এমনভাবে বলছো কেন। বেচারা রিকশা যেন টেনে চালাতে পারেনা। দেখে খুব মায়া হলো ।
তাতো হবেই। সংসারতো আপনি চালাচ্ছেন না।
রাগ করো না। কয়দিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে।
তা নাহয় বুজলাম। আপনার ঔষধ ? কতদিন থেকে আপনার হার্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। সেদিকে খেয়াল আছে ?
আমি ঠিক আছি।আমার এখন না হলেও চলবে। যেখানে মানুষ খাবার পায়না সেখানে ঔষধ খাওয়া আমার কাছে এক ধরনের বিলাসিতা !
 
সালেহা বেগম রাগ করতে গিয়েও রাগ করতে পারলেননা। কারণ রহমান সাহেব এমনই অদ্ভুত। সমাজের মানুষ তাকে বোকা আর বেকুব বলবে।এই সমাজের কাছে তার মনুষ্যত্বের কোনো মূল্য হয়তো নেই। কিন্তু সালেহা বেগমের কাছে তার মূল্য অনেক। তাইতো বাবার পছন্দ করা বড়োলোক ছেলেকে বিয়ে না করে তিনি রহমান সাহেবের কাছে চলে আসলেন। কারণ সমাজের চোখে এই অদ্ভুত, বোকা আর বেকুপ মানুষটাকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন !
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থামছেনা। লকডাউনও শেষ হচ্ছেনা। এর মধ্যে রহমান সাহেব হঠাৎ একদিন বাসা থেকে উধাও। সারাদিন গেলো তার কোনো খোঁজ নেই। বাবলু থানায় গেলো। সব আত্মীয় স্বজনের বাসায় খোঁজ নিলো। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছেনা।
সন্ধ্যার পর অথাৎ বাবলুর ফোন একটা অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। রহমান সাহেব ফোন করেছেন ।
হ্যালো , বাবলু । আমি তোর বাবা বলছি। শুনে বাবলু যেন নিশ্বাস ফিরে পেল। চিৎকার দিয়ে সালেহা বেগমকে ডাকলো ,
মা মা , বাবা ফোন করেছে । তার চিৎকার শুনে তারা সবাই এসে জড়ো হলো বাবলুর রুমে। সবাই যেন শুনতে পায় তাই বাবলু লাউড স্পিকার দিলো।
ও পাশ থেকে রহমান সাহেবকে খুক খুক করে কাশছেন।
হ্যালো , তুমি কই আছো ? সারাদিন তোমার কোনো খোঁজ নেই। আমরা সবাই চিন্তায় অস্থির হয়ে গেছি। সালেহা বেগম বাব্লুর হাত থেকে ফোন প্রায় কেড়ে নিয়ে বললেন।
এতো চিন্তা করোনা। আমি ঠিক। এক বন্ধুর বাসায় দরকারে আসলাম। আটকা পড়ে গেছি। বাসায় আর যেতে পারিনি।
কোন বন্ধুর বাসায় গেসো ? আমরাতো সব জায়গায় খোঁজ নিলাম।
আরে তুমি চিনবেনা। আমার ছোট বেলার বন্ধু ।
আগেতো কখনো বলোনি। নাকি কিছু লুকাচ্ছ ? সালেহা বেগমের মনে খটকা লাগলো।
তোমাদের কাছে কখনো কিছু লুকাতে পারি ? এতো চিন্তা করছো কেন। আমি কয়েকদিনের মধ্যে চলে আসবো। রহমান সাহেব আবার খুক খুক করে কাশতে লাগলেন।
তোমার কি হয়েছে ? এমন কাশছ কেন ?
আরে কিছু হয়নি ।একটু ঠান্ডা লাগেছে আর কি।
সাবধানে থাকতে পারোনা ?
সালেহা বেগমকে একটু উদ্বিগ্ন হতে দেখে রহমান সাহেব একটু হাসলেন।
আচ্ছা থাকবো। তারপর আবারও কাশতে লাগলেন। কণ্ঠ শুনে মনে হচ্ছে তার গলাটা বসে গেছে । ঠান্ডা লেগেছে ।
শুনো, আমার জিনিজপত্র কিছু ধরোনা । আর বাসার সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে নিও।
কেন ? এমন কথা শুনে এক অজানা আশংকায় সালেহা বেগমের বুকের ভেতর ধক করে উঠলো ।
আরে এমনি। এখনতো পরিস্থিতি ভালোনা। তাই একটু সাবধানে থাকবে আর কি। ওদের সবার দিকে নজর রাইখো। লাইনটা কেটে গেলো। শত চেষ্টা করেও আর সেই নাম্বারে সংযোগ পাওয়া গেলোনা। একদিন দুদিন করে পেরিয়ে যাচ্ছে। কোনো অচেনা নম্বর থেকে রহমান সাহেবের আর ফোন আসেনা।
 
জয় সবাইকে কাঁদতে দেখতে নাবিলাকে জিজ্ঞেস করল। মামনি তোমরা সবাই কাঁদছো কেন ? নানুভাই কোথায় গেছে ?
তোমার জন্য বড়ো একটা মাছ আনতে গেছে। তুমিনা মাছ ভাজি দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করো নাবিলা চোখের পানি মুছে বলল।
তাহলে তোমরা সবাই কাঁদছো কেন ? এমনি বাবা ।
রহমান সাহেব করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। বুজতে পেরে তিনি পরিবারের সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে নেন। সবাইকে কিছু না বলে এক বন্ধুর সাহায্যে একটা হসপিটালে চলে আসেন। তার সেই বন্ধুকে বাসায় কিছু জানাতে নিষেধ করেন। এটাও বলেন তিনি যদি মারা যান তাহলে যেন বাসায় না জানায়। তার কারণে ফ্যামিলির সবাই করোনায় আক্রান্ত হোক তিনি তা চাননা । তিনি ভাবেন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাবেন। কিন্তু তার আর বাসায় ফিরে যাওয়া হলোনা।
 
বেশ কয়েকদিন পর রহমান সাহেবের বন্ধু বাবলুকে জানায় তার বাবা করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং তার ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়। বাবলুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। বদ মেজাজি বাবার জন্য তার মনটা হুহু করে কেঁদে উঠল। চোখের সামনে ভেসে উঠে শুকনো ছিপছিপে দেহের একজন মানুষ তাদেরকে ভালো রাখার জন্য দিনরাত ছুটে চলতেন। ঠোঁটে তার হাসি থাকলেও মুখে রাজ্যের বিষাদ এসে ভর করতো। মাঝে মাঝে পাঞ্জাবির নিচটায় কুঁচকে থাকতো সবসময়। আয়রন করার টাকাও তার কাছে থাকতোনা। এই লোকডাউনের মধ্যেও তাদের মুখে অন্য জুটাতে জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিজে বের হতেন। অথচ তাদের কাউকে বাসা হতে বের হতে দিতেননা।
এককান দুকান করে রহমান সাহেবের কথা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে । তাই মানুষজন, আত্মীয়-স্বজন সবাই আতঙ্কে বাব্লুদের কাছ থেকে সরে যেতে থাকে। যেন তাদের দেখা মাত্রই তারা সবাই করোনায় আক্রান্ত হবে । এমনকি বাড়িওয়ালা তাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বলল।
সাহেলা বেগম রহমান সাহেবের ছবির সামনে বসে কাঁদতে লাগলেন।
সবসময় বলেছে বিপদে মানুষকে সাহায্য করলে তারাও তোমাকে বিপদে সাহায্য করবে। মানুষ না করলে আল্লাহ করবে। এখন সবাই কই ? এসে দেখে যাও আমরা কি পরিস্থিতিতে আছি।
বাবলু জব না পেলে খুব মন খারাপ করতো। তখন রহমান সাহেব সাহস দিয়ে বলতেন , মনোবল কখনো হারাবেনা ।নিশ্চয় ভালো কিছু হবে।
নাবিলার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন , জীবনে অনেক ঝড় আসবে। তাই বলে কি এভাবে ভেঙে পড়লে হবে ? জীবন মানেই যুদ্ধ। সামনে থেকে লড়াই করে যেতে হবে। জিততে হবে। বাবার এমন অনুপ্রেণায় সে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো শক্তি পায়।
ঘরে চাল- ডাল পুরিয়ে আসতে দেখলে সালেহা বেগমের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তো।তখন রহমান সাহেব বলতেন,
চিন্তা করোনা। আর কিছুদিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
হয়তো তাই। আর কিছু দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। থমকে যাওয়া পৃথিবী আবার কর্মচঞ্চল হয়ে পড়বে । নতুন সূর্য উঠবে কিন্তু বাবলু-নাবিলাদের মতো মধ্যবিত্ত ভাঙা পরিবারগুলো হয়তো আর উঠে দাঁড়াতে পারবেননা ।
 
প্রিতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বটবৃক্ষের মতো একজন থাকেন। যিনি তার ছায়ায় সবাইকে অনেক যত্নে আগলে রাখেন। শত ঝড়ে নিজে ভেঙে পড়লেও তাদের বিন্দু মাত্র ক্ষতি হতে দেননা । সূর্যের প্রচন্ড তাপে নিজে জলে-পুড়ে মরলেও কাউকে এর আঁচ লাগতে দেননা। সেই বটবৃক্ষ হঠাৎ হারিয়ে গেলে তার ছায়াতলের মানুষেরা ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ে। ভীষণ !


   শেয়ার করুন
   আপনার মতামত দিন
     শিল্প সাহিত্য
গল্পের মধ্যে গল্প
.............................................................................................
গল্প : সুখ
.............................................................................................
আজ আমার রাতের খাবার নেই
.............................................................................................
পথশিশুর স্বপ্ন
.............................................................................................
বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের অবদান
.............................................................................................
কবি নয়, কবিতা হতে চাই
.............................................................................................
হায়রে বাঙালি
.............................................................................................
চিবুকের কালো তিল
.............................................................................................
মা দিবসে কবি আলম হােসেনের অসাধারণ কবিতা
.............................................................................................
বল্টু
.............................................................................................
দানেই সুখ!
.............................................................................................
অতি চালাকের গলায় দড়ি
.............................................................................................
কোভিড-১৯ ও একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ভাঙন
.............................................................................................
জসিম উদ্দিনের ‘কবর’ কবিতাটি করোনা ভার্সনে রূপান্তর!
.............................................................................................
ঘুমহীন হৃদয়
.............................................................................................
অনুশোচনা
.............................................................................................
জাতীয় কবি নজরুলের প্রয়াণ দিবস আজ
.............................................................................................
একাকিত্বে বহুত্ব
.............................................................................................
কাপালিকের দেশে
.............................................................................................
চলতি বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত
.............................................................................................
ময়মনসিংহে সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত হলেন ৪ গুণীজন
.............................................................................................
প্রথম মৃত্যু
.............................................................................................
শুভংকরের ফাঁকি
.............................................................................................
বউ যেভাবে ঘরে আসে
.............................................................................................
মধ্যরাতের কথা
.............................................................................................
বাঙালির রক্তের বন্ধন ও জাতি-পরিচয়
.............................................................................................
মোহময়ী পিরামিড
.............................................................................................
৮২তম জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি আল মাহমুদ
.............................................................................................
পাবনা বইমেলা সাহিত্যকে সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
প্রসঙ্গ: ঐতিহাসিক জ্বীনের মসজিদ
.............................................................................................
তেহরানে প্রথম বিশ্বের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন
.............................................................................................
একলা মানুষ
.............................................................................................
নৈশভোজে আসছিস্ তো
.............................................................................................
স্বপ্ন ছিলো
.............................................................................................
ফেরা
.............................................................................................
ডি.লিট ডিগ্রি পাচ্ছেন হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেন
.............................................................................................
বিশ্ববিখ্যাত ১০ নারীর জীবনীগ্রন্থ
.............................................................................................
কবি রফিক আজাদ আর নেই
.............................................................................................
পরপারে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি রফিক আজাদ
.............................................................................................
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শামস সাইদ এর দুটি কিশোর উপন্যাস
.............................................................................................
ঘুম আছে স্বপ্ন নেই
.............................................................................................
নীলফামারীতে পাল আমলের নিদর্শন পাওয়া গেছে
.............................................................................................
কবি শামসুর রাহমানের ৮৭তম জন্মদিন
.............................................................................................
ম্যান বুকার পেলেন জ্যামাইকার মারলন জেমস
.............................................................................................
১৪ অক্টোবর সরদার ফজলুল করিম দর্শন পদক
.............................................................................................
স্মরণ : ছোটোলোকের বাবা ॥ মোঃ আতিকুর রহমান ॥
.............................................................................................
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: জীবন, সাহিত্য ও দর্শন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT